রাজনৈতিক ভাষ্যকার : ভারতের কলামিস্ট সুনিতা পাল অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে লিখছেন। সন্ত্রাস ও তথাকথিত ইসলামী মৌলবাদীদের ব্যাপারে সব সময় তাকে অতি উৎসাহী দেখা গেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি ও �জনপ্রিয়তাও' প্রধানত সে কারণে। কিন্তু পিলখানা হত্যাকান্ডের পর আওয়ামী লীগ বিরোধিতার মুখে পড়ে। এর কারণ, বিডিআরের কথিত বিদ্রোহের আড়ালে সেনা অফিসারদের হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে সুনিতা পাল প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু লিখে চলেছেন। এসব লেখায় প্রকাশিত হচ্ছে ঘটনার নানা বিশ্লেষণ ও তথ্য। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, সুনিতা পালের অনুসন্ধানী রিপোর্টগুলোর নিখুঁত বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসছে, হত্যাকান্ডের সঙ্গে সরকার ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ ক'জন �রাঘব-বোয়ালেরও' সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাকরিরত কারো কারো ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ধরিয়ে দিয়েছেন তথ্যসূত্রও। দিন-তারিখ ও সময় ধরে ধরেই এসব তথ্য সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে চলেছেন তিনি। সুনিতা পালের রিপোর্টগুলো ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হচ্ছে বলে সারাবিশ্বের মানুষের কাছেই মুহূর্তে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে বিশেষ করে আওয়ামী ঘরানার �চক্ষুশূলে' পরিণত হয়েছেন এই ভারতীয় এ কলামিস্ট। মাত্র সেদিনের মিত্রকে আওয়ামী লীগ ঘরানা এখন ভয়ংকর শত্রু মনে না করে পারছে না। রাজনীতিতে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আওয়ামী লীগ ঘরানা কেবলই রাজনৈতিকভাবে বিরোধিতা করার মধ্যে থেমে যায়নি। সুনিতা পালের বিরুদ্ধে সুসংগঠিত প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি দলটি তার সঙ্গে অনৈতিক পন্থায় সমঝোতা করার পদক্ষেপও নিয়েছে বলে সুনিতা ওয়েবসাইটে প্রকাশ। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সুনিতা পালকে আর্থিক সুবিধার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ কথাটাও সুনিতা পাল নিজেই জানিয়েছেন। �টাকা দিয়ে নৈতিকতা কেনা?' শিরোনামে এক রিপোর্টে ১২ এপ্রিল সুনিতা পাল এমন একজনের ই-মেইলে পাঠানো বার্তার বিবরণী দিয়েছেন- যিনি আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার �নির্দেশে' আর্থিক সুবিধা প্রস্তাবটি পেশ করেছেন। ওই বার্তা প্রেরক সুনিতা পালকে লিখেছেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পিলখানা হত্যাকান্ড সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য তার কাছে পৌঁছে দেয়া হবে এবং সেগুলোর ভিত্তিতে তাকে লিখতে হবে। প্রতি লেখার জন্য কত টাকা তাকে দিতে হবে সে কথাও জানতে চেয়েছেন ওই বার্তা প্রেরক। রিপোর্টে উল্লেখ না করলেও বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, সুনিতা পাল ঠিকই ওই বার্তা প্রেরককে চিনতে পেরেছেন। সে জন্যই তিনি ব্যক্তিটি যে সত্যিই আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষে ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছেন সে কথাও বিশ্বাস করেছেন। কিন্তু মুশকিল হলো, অর্থ বিনিময় দেয়ার এই প্রস্তাব সুনিতা পালকে দারুণভাবে আহত করেছে। প্রস্তাবটিকে তার কাছে একই সাথে কৌতূহলোদ্দীপক, হাস্যকর ও বিস্ময়কর মনে হয়েছে। তিনি স্তম্ভিত হয়েছেন, কারণ পিলখানা হত্যাকান্ড নিয়ে তিনি লিখছেন তার বিবেকের তাড়নায়, অর্থ বা খ্যাতির জন্য নয়। আর সে কারণেই আওয়ামী পক্ষে দেয়া আর্থিক সুবিধার প্রস্তাব সম্পর্কেও তিনি বিশ্বাবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন- �তথ্য বোমার' বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। বার্তা প্রেরকের কিছু তথ্যও তার মনে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। যেমন ওই বার্তা প্রেরক তাকে জানিয়েছেন, সিআইডি নাকি ইতোমধ্যে �যথেষ্ট প্রমাণ' পেয়েছে যে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলেন! শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নাকি বিএনপি ও জামায়াতের জড়িত থাকার ব্যাপারেও সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে! শেখ হাসিনার সরকারকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই নাকি পিলখানার হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। এটা নাকি বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ছিল!
আরো কিছু কথাও রয়েছে ওই ই-মেইল বার্তায়। কিন্তু সুনিতা পালের কাছে অনেক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ঘুষের প্রস্তাবটি। একেই তিনি রিপোর্টের বিষয়বস্তু বানিয়েছেন। সচেতন সকল মহলে আলোড়নও উঠেছে একই কারণে। সুনিতা পালের এই রিপোর্টটিও যথারীতি অ্যামেরিকান ক্রনিকলে প্রকাশিত হয়েছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৌঁছে গেছে সারা পৃথিবীতে। বিশ্ববাসী এখন একথাই জানবে যে, সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয়দের কয়েকজন সত্যি হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলেন বলেই আওয়ামী লীগ ঘরানার পক্ষ থেকে সুনিতা পালকে ঘুষের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।এটা নিঃসন্দেহে সমগ্র জাতির জন্য লজ্জার বিষয়। সরকার ও আওয়ামী লীগের তাই বিষয়টি পরিষ্কার করা দরকার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

