somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"ওপার বাংলার ইভটিজাররা বোধকরি একটু বেশীই বেপরোয়া"

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৫:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ (১৬ ফেব্রুয়ারি) আনন্দবাজার পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদনটি পড়ে মনে হচ্ছে দুই বাংলার ইভটিজারদের চরিত্র বা চৈতন্যগত কোন পার্থক্য নেই। তবে ইভটিজিংয়ের চরমতায় দাদারাই হয়ত এগিয়ে। মানে আমি বলতে চাচ্ছি- ওপার বাংলার ইভটিজাররা বোধকরি একটু বেশীই বেপরোয়া। আর ওপারের ডিএম, এসপিসহ সব পুলিশ দাদাদের চরিত্রও দেখছি আমাদের ডিসি, এসপিসহ সব পুলিশ ভাইদের মতই। তবে তারা বোধহয় একটু বেশীই কর্তব্য পরায়ণ (!!!)। আমার একথা বিশ্বাস না হলে ওই প্রতিবেদনটি পড়ে দেখুন।


ভাইকে খুন করছে মদ্যপেরা, দু’পা দূরেই
ডিএম বাংলোর গেটে মাথা কুটলেন দিদি


অরুণাক্ষ ভট্টাচার্য • কলকাতা

জেলার সর্বময় কর্তার বাংলোর লোহার গেট ধরে প্রাণপণে ঝাঁকিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। আকুল গলায় চিৎকার করছিলেন, ‘বাঁচান। আমার ভাইকে বাঁচান।’

ফটক পেরিয়ে অসহায় দিদির আর্তি পৌঁছয়নি ‘ডিএম সাহেবের’ কানে। জেলাশাসকের ওই বাংলোর ক’হাত দূরে থাকা পুলিশ সুপারও তা শুনতে পাননি। কিন্তু যাঁরা শুনেছিলেন, তাঁরাও এগিয়ে গেলেন না। বাইশ বছরের মেয়েটির আর্তনাদ শুনেও নির্লিপ্ত রইলেন ডিএম এবং এসপি বাংলোর নিরাপত্তায় মোতায়েন রক্ষীরা।

আর সেই সুযোগে তিন মদ্যপ যুবক রাস্তায় ফেলে পিটিয়ে-কুপিয়ে মেরে ফেলল দিদি’র কিশোর ভাইকে! এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের তালিকা থেকে কাটা পড়ে গেল একটা নাম। ১৬ বছরের রাজীব দাসের অপরাধ, সে দিদির শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করেছিল। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বারাসতে।

রাত পৌনে বারোটা নাগাদ দিদি রিঙ্কুকে সাইকেলের সামনের রডে বসিয়ে বারাসত স্টেশন থেকে বাণীকণ্ঠ নগরের বাড়িতে ফিরছিল রাজীব। রোজকার মতো। রোজ রাতে ধর্মতলায় অফিস সেরে দিদি শিয়ালদহে এসে ট্রেন ধরেন। বারাসত পৌঁছানোর একটু আগে ভাইকে ফোনে জানিয়ে দেন। ভাই চলে আসে স্টেশনে। দু’জনে সাইকেলে বাড়ি
ফেরেন। বাবা তপন দাসের চায়ের দোকান। মা গায়ত্রীদেবী কয়েকটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। রিঙ্কু-রাজীবের মাঝে এক বোন, তাঁর বিয়ে হয়ে গিয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ প্রধানত দিদিই চালান।

এবং দিদি জানাচ্ছেন, সোমবারই মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড হাতে পেয়েছিল ভাই। পেয়ে খুব খুশি ছিল। এতটাই যে, রাত সাড়ে এগারোটায় তিনি স্টেশনে নামামাত্র সেই খবরটাই তাঁকে দিয়েছিল। সাইকেলে চড়ে ফেরার পথে তাই নিয়েই ভাই-বোনে টুকরো-টুকরো কথা হচ্ছিল। রাস্তা ভেসে যাচ্ছিল জোরালো নিয়নের আলোয়। তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় যেন একটু বেশি ফাঁকা ফাঁকা। বিশেষত বারাসতের ‘ভিআইপি জোনে’ পথ তখন প্রায় জনশূন্য।

কিছু দূরে ডিএম-এসপি’র বাংলো। স্টেশন ছাড়ালে ডান হাতে জেলা পরিষদ অফিস। বাঁ দিকে সমবায় ব্যাঙ্ক। দু’রাস্তার মোড় থেকে একটা চলে গিয়েছে কাছারি ময়দানের দিকে। ডান দিকের পথ ধরে ৫০ মিটার গেলে তিন রাস্তার মোড়ে নেতাজির মূর্তি। তার এক পাশে জেলা আদালত। মুহুরিদের ছোট ছোট সেরেস্তার সারি এখানে রাস্তার উপরে চলে এসেছে। সন্ধে পর্যন্ত যেখানে আইন-আদালতের কাজ চলে। আর রাত নামলেই চোলাই মদের ঠেক-সহ নানা দুষ্কর্মের আখড়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।

রাজীব জোরে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। পারেনি। ছেলেগুলো দৌড়ে এসে ধরে ফেলে। তখনও রিঙ্কু রডে বসে। তাঁকে দেখে একটা ছেলে জড়ানো গলায় বলে, “রাতে প্রেম করে ফেরা হচ্ছে? ভ্যালেনটাইন্‌স ডে!” এক জনের হাতে তখনও ধরা মদের গ্লাস। রিঙ্কু জানিয়েছেন, তাঁর মনে হয়েছিল, ছেলেগুলো বয়সে তাঁর ছোট। প্রতিবাদ করে তিনি বলেন, “তোমরা ছোট ছেলে। এ ভাবে কথা বলছ কেন? ও আমার ছোট ভাই। আমাকে স্টেশন থেকে নিতে এসেছে।” শুনে ওরা বলে, “ভাই! সত্যি? প্রমাণ দাও।” হতবাক দিদির পাল্টা প্রশ্ন, “রাস্তায় দাঁড়িয়ে কী ভাবে প্রমাণ করব, ও আমার ভাই? আমাদের সঙ্গে বাড়িতে চলো। প্রমাণ পেয়ে যাবে।” কিন্তু মদ্যপেরা যুক্তিতে কান দেয়নি। তারা দাবি করতে থাকে, ভাই-বোনের সম্পর্কের ‘প্রমাণ’ রাস্তায় দাঁড়িয়েই দিতে হবে। এবং সেই কথা চালাচালির ফাঁকে তারা রিঙ্কুর গায়ে হাত দেয়। ভাই তখন প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ শুনে এক জন গ্লাসের মদ উপুড় করে ঢেলে দেয় দিদির গায়ে। রাজীব চেঁচিয়ে ওঠে, “বড়দা, এ কী করছেন!”

মাধ্যমিক আর দেওয়া হল না রাজীবের। তার মৃত্যুর খবর আসার পরে শোকার্ত পরিবার। — সুদীপ ঘোষ
পরে রিঙ্কু জানিয়েছেন, ওই ‘বড়দা’ ডাক শুনেই যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করে তিন জন। রিঙ্কুকে ছেড়ে তারা রাজীবকে রাস্তায় ফেলে মারতে শুরু করে। অকথ্য গালিগালাজ করে বলতে থাকে, “আমরা তোর কীসের বড়দা?” রিঙ্কু বাধা দেওয়ার বিফল চেষ্টা করেন। উল্টো দিক থেকে সাইকেল-ভ্যানে চেপে জনা তিনেক লোককে আসতে দেখে ছুটে যান। ভ্যান দাঁড় করিয়ে চালকও চেঁচিয়ে বলেন, “কে তোরা? ওকে মারছিস কেন?” রিঙ্কু জানিয়েছেন, শুনে এক দুর্বৃত্ত এগিয়ে আসে। হাতে তখন তার খোলা রিভলভার। বাঁট দিয়ে ভ্যানচালকের মাথায় কয়েকটা বাড়ি মারে। লাথি মেরে বলে, “বাঁচতে চাস তো সরে পড়।”

আরোহীদের নিয়ে সাইকেল-ভ্যান চলেই যাচ্ছিল। কিন্তু এক বয়স্ক যাত্রীর পায়ে পড়ে যান রিঙ্কু। বলেন, “কাকু, আমাদের ফেলে চলে যাবেন না। ভাইকে বাঁচান।” ভ্যান চলে গেলেও রিঙ্কুর পাশে থেকে যান অপরিচিত সেই ব্যক্তি। তিনি-ই বলেন, “চলো, লোক ডেকে আনি।” দু’জনে ছুট লাগান যশোহর রোডের দিকে। রাজীবকে তখনও এলোপাথাড়ি মেরে চলেছে মদ্যপের দল। রিঙ্কু ও ওই ব্যক্তি (যাঁর নাম-পরিচয় জানা যায়নি) জেলাশাসকের অফিস, জেলা জজের বাংলো পেরিয়ে পৌঁছে যান জেলাশাসকের বাংলোর সামনে। ঠিক তার উল্টো দিকে পুলিশ সুপারের বাংলো। ঘটনাস্থল দূরত্ব বড়জোর চারশো মিটার। রাত সেই পৌনে বারোটায় ডিএম এবং এসপি যে যার বাংলোর ভিতরে। বাইরে টহল দিচ্ছে সিপাইয়ের দল। ডিএমের বাংলোর গেটের সামনে মোতায়েন দুই বন্দুকধারী উর্দিপরা সিপাই। তার লোহার গেট ধরে ঝাঁকাতে থাকেন রিঙ্কু। চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আমার ভাইকে বাঁচান।”

শব্দ শুনে এগিয়ে আসেন দুই উর্দিপরা রক্ষী। রিঙ্কু তাঁদের বলেন, “আমার ভাইকে ওরা রাস্তায় ফেলে মারছে! দয়া করে একটু চলুন।” রিঙ্কু জানিয়েছেন, সিপাইরা বাংলোর ‘ডিউটি’ ফেলে তাঁর সঙ্গে যেতে চাননি। বরং থানায় ফোন করার পরামর্শ দেন। রিঙ্কু থানার ফোন নম্বর জানেন না শুনে এক সিপাই ভিতরে গিয়ে নম্বরও এনে দেন। সঙ্গী বয়স্ক ব্যক্তিটি মোবাইল থেকে থানার নম্বর ডায়াল করতে থাকেন।

ঠিক তখনই ঘাড় ঘুরিয়ে রিঙ্কু দেখতে পান স্টেশনের দিক থেকে দু’টো ছেলে একটি সাইকেল-ভ্যান নিয়ে আসছে। কাছে আসতে রিঙ্কু দেখতে পান, ভ্যানে শুয়ে তাঁর ভাই, পেট থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে। সারা শরীর রক্তে মাখামাখি। রাজীবকে একটু দূরে বারাসত মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ‘প্রাথমিক চিকিৎসা’ সেরে ডাক্তারবাবুরা ছেলেটিকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন আরজিকরে। মঙ্গলবার সকালে যেখান থেকে রিঙ্কুর কাছে খবর আসে, ভাই আর নেই।

কার দোষে ঘটল এমনটা? বাংলোর রক্ষীদের? নাকি হাসপাতালের? যেখানে ওটি থাকতেও রাজীবকে বারাসত থেকে কলকাতায় পাঠানো হল? নাকি সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার গাফিলতি? যার দুর্বলতার সুযোগে সেরেস্তায় মদ্যপান করে শ্লীলতাহানি, এমনকী খুন করতেও হাত কাঁপে না দুষ্কৃতীদের? কী বলেন প্রশাসকেরা?

উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক বিনোদ কুমার এ দিন বলেন, “রাতে কোনও মহিলার চিৎকার আমি শুনতে পাইনি। ঘটনার কথা সকালে জেনেছি। পুলিশকে বলেছি ব্যবস্থা নিতে। দেখা হচ্ছে, সিপাইরা কেন গেলেন না।” জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার মহম্মদ হুসেন মির্জার বক্তব্য, “মেয়েটির (রিঙ্কুর) অভিযোগ পেয়েছি। ওখানে রাতে পুলিশের টহলদারি গাড়ি থাকে। আচমকাই ঘটনাটি ঘটেছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।” পুলিশ সুপার রাহুল শ্রীবাস্তব বিশেষ প্রশাসনিক কাজে এ দিন সকাল থেকে বারাসতের বাইরে ছিলেন। ফিরেই পূর্ণ গতিতে তদন্ত শুরু করেছেন। এ দিন রাতে তিনি নিজেই চলে যান বারাসত থানায়। বিশাল বাহিনী রিঙ্কুকে নিয়ে বারাসত স্টেশন থেকে ওই রাস্তা ধরে যাতায়াত করে। কোথায় কোথায়, কোন কোন ঘটনা ঘটেছে, তা বিস্তারিত ভাবে পুলিশকে জানান রিঙ্কু। তাঁর বয়ানের ভিত্তিতে তিন অভিযুক্তের ছবি আঁকায় পুলিশ। ঘটনাটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ অভিহিত করে এসপি বলেন, “ডিএম বাংলোর পাশে আর একটা গেট রয়েছে। সেখানে ভোটযন্ত্র রাখার ঘর। সেখানেও পাহারায় পুলিশ ছিল। রিঙ্কুদেবী কোন গেট ধরে ঝাঁকিয়েছেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়।” তবে এসপি এ-ও বলেন, “দু’গেটেই পুলিশ ছিল। মানবিকতার খাতিরে ওঁদের উচিত ছিল মেয়েটির সঙ্গে যাওয়া। কেন যাননি, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

যারা ওই রাতে সেরেস্তায় বসে মদ্যপান করছিল, ধরে নেওয়া যায়, তারা বারাসতেরই বাসিন্দা। এক জনের চোখে আঁচিল দেখেছিলেন রিঙ্কু। মঙ্গলবার সারা দিনেও পুলিশ তাদের খুঁজে পায়নি। শুধু রাস্তায় পড়ে থাকা রাজীবের মোবাইল ও সাইকেলটি তুলে নিয়ে গিয়ে থানায় জমা করা হয়েছে। কিন্তু জখম রাজীবকে উদ্ধার করেছিল কারা?

জানা গিয়েছে, রাজীবকে আধমরা করে ফেলে রেখে ছেলে তিনটে পালায়। পেটে ছুরি খাওয়া অবস্থায় কিশোরটি কোনও মতে উঠে তিন রাস্তার মোড় ছেড়ে স্টেশনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। মাঝপথে উপুড় হয়ে পড়ে যায়। এ দিকে শেষ ট্রেনে বারাসতে নেমে সাইকেল-ভ্যানে বাড়ি ফিরছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা প্রসেন দাস। রাজীবকে তিনি চিনতেন। অত রাতে ওকে পড়ে থাকতে দেখে প্রথমে ভেবেছিলেন, বুঝি পেটে ব্যথার জন্য ও ভাবে উপুড় হয়ে রয়েছে। কাছে গিয়ে সোজা করতেই দেখেন, রাজীবের পেট থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে, গলা থেকে ছিটকে আসছে একটানা গোঙানি। সঙ্গে সঙ্গে ওকে ভ্যানে তুলে বারাসত হাসপাতালের দিকে রওনা দেন প্রসেন। মাঝপথে দেখা হয় রিঙ্কুর সঙ্গে।

কলোনির মধ্যে রিঙ্কুদের একতলা বাড়ি ঘিরে এ দিন সকাল থেকে চাপচাপ ভিড়। বনমালীপুর সন্তোষ ভট্টাচার্য মেমোরিয়াল স্কুলের ছাত্র রাজীবের সঙ্গে এ বছরে মাধ্যমিকে বসার কথা ছিল নয়ন হালদার, সম্রাট ভৌমিকদের। প্রিয় বন্ধুর ঘরে ঢুকে কান্না চাপতে পারেনি ওরা। মা গায়ত্রীদেবী ক্রমাগত কেঁদে চলেছেন। পড়শি মিনতি দে প্রশ্ন করে যাচ্ছেন, “জীবনটা নিয়ে নেওয়ার মতো কি অপরাধ করেছিল ছেলেটা? এর পরে কোন ভরসায় মানুষ বাইরে বেরোবে?” পুর-কর্তৃপক্ষ কী বলেন?

বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা সুনীল মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “সেরেস্তায় বসে মদ্যপানের কথা প্রশাসনকে বহু বার বলা হয়েছে। কেউ কানে তোলেনি।” এ দিনই কাছারি ময়দানে তৃণমূলের সভা ছিল। সেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সৌগত রায় বলেন, “এই ঘটনায় প্রমাণ, প্রশাসন কত অকর্মণ্য।” তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো হয়েছে। রাজীবের পরিবারকে অর্থসাহায্য দেওয়া হবে।”

কিগো ভাই, আমি কি ভুল বলেছিলাম। মূল প্রতিবদেনটির সাথে আরো একটি পার্শ্ব-প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। সেটিও তুলে দিচ্ছি আপনাদের জন্য।


কোনও কিছুর ওপরেই আর আস্থা নেই

রিঙ্কু দাস


ভাই একটা কম্পিউটার চেয়েছিল আমার কাছে। বলেছিল, “বড়দি, এই আবদারটা রাখ। আর জ্বালাব না তোকে।” আমি হাসতাম। বলতাম, ‘‘তোর জ্বালানো কোনও দিন বন্ধ হবে না!”

টাকা জমাচ্ছিলাম ওর কম্পিউটার কেনার জন্য। কিন্তু সেটার যে আর দরকার হবে না, আর যে কোনও দিন কোনও আবদারই করার সুযোগ পাবে না ও, সেটা জানব কী ভাবে? সোমবার রাতেও যখন ওর সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলাম, তখনও কম্পিউটার নিয়েই বকবক করে যাচ্ছিল ও। কত স্বপ্নের কথা! আমি চুপচাপ শুনে যাচ্ছিলাম। রোজই তাই শুনি। আমাদের ভাই-বোনের একেবারে নিজস্ব সময় ওটা। আর ওই ‘নিজস্ব সময়ে’ই সব কিছু শেষ হয়ে গেল।

আমার অফিস ধর্মতলায়। একটা কল সেন্টারে কাজ করি। বাড়ি ফিরতে রোজ রাত সাড়ে ১১টা বেজে যায়। স্টেশন থেকে আমাদের বাড়ি প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা। অত রাতে ওই রাস্তাটা যাতে আমাকে একা ফিরতে না হয়, তাই ভাই আমাকে নিতে আসত। ওর সাইকেলের সামনে বসে দু’জনে গল্প করতে করতে ফিরতাম। কালও (সোমবার) কাছাকাছি পৌঁছে বাড়িতে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছিলাম। ও স্টেশনে চলে এসেছিল। ক’দিন পরেই ওর মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু। ও স্কুল থেকে অ্যাডমিট কার্ড এনেছে, সেটাও জানাল।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ অফিসের সামনের রাস্তায় এমনিতেই অনেক আলো। কাল (সোমবার) বোধহয় কাছাকাছি একটা বিয়েবাড়িও ছিল। তাই অত রাতেও রাস্তা মোটেই অন্ধকার ছিল না। কাছারির সামনে দেখলাম কয়েকটা ছেলে রাস্তায় বসেই মদ খাচ্ছে। কত আর বয়স হবে? বড় জোর আঠারো-উনিশ বছর। আমি সাইকেলের সামনে বসেছিলাম। আমাদের দেখেই ওরা সাইকেলটা থামাতে বলল। ভাই সেই কথার তোয়াক্কা না করে সাইকেল নিয়ে এগোতেই তাড়া করে এসে আমাদের

রাস্তা আটকাল। অশ্লীল গালিগালাজ করছিল সকলেই। একজন তার হাতের মদের গ্লাসটা উপুড় করে দিল আমার গায়ে। কুৎসিত ইঙ্গিত করে ভাইকে দেখিয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘‘এ কে? তোর ভ্যালেন্টাইন?” ভয়ে আমার গলা থেকে আওয়াজ বেরোচ্ছিল না। কোনও মতে বললাম, “আমার ভাই।” ওরা বলল, “ওরকম ভাই আমরা অনেক দেখেছি।” আমি বললাম, “বিশ্বাস না হয়, আমাদের বাড়ি চলো।” ওদের গালাগালের বহর আরও বেড়ে গেল। আমার হাত ধরেও টানাটানি শুরু করল একজন। আমি বললাম, “তোমরা আমার ভাইয়ের মতো। কেন এরকম করছো?” ভাইও ক্রমাগত বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। ও-ও বলল, “বড়দা, কী করছেন?”

ব্যস, এ বার ওরা আমাকে ছেড়ে ভাইকে নিয়ে পড়ল। শুরু হল বেধড়ক মার। একজন বলল, “আমাদের দেখে তোর ‘দাদা’ বলে মনে হচ্ছে?” প্রথমে ঘুঁষি, চড়-থাপ্পড়। তার পরে রাস্তায় ফেলে সকলে মিলে মারতে শুরু করল ওকে। অত হিংস্র ভাবে মানুষ মানুষকে মারতে পারে! আমি চিৎকার করছিলাম, “বাঁচাও। ওরা ভাইকে মেরে ফেলছে।”

একটা ভ্যান রিকশ আসছিল ওই দিকেই। আমার চিৎকার শুনে চালক ভ্যানটা থামাতেই তার মাথায় রিভলবারের বাঁট দিয়ে মারে ওরা। ভয়ে চালক ভ্যানটা নিয়ে এগিয়ে যেতেই ভ্যানের এক যাত্রীর পা ধরে ঝুলে পড়ি আমি। বলি, “কাকু, আমার ভাইটা মরে যাবে। ওকে বাঁচান।”

উনি ভ্যান থেকে নেমে পড়েন। তত ক্ষণে আমি জেলা শাসকের বাংলোর দিকে দৌড়চ্ছি। প্রায় ৩০০ মিটার পথ। ভ্যানের ওই যাত্রীও আমার সঙ্গেই ছিলেন। বাংলোয় যে পুলিশ কর্মীরা পাহারায় ছিলেন, তাঁদের কাছে কাঁদতে কাঁদতে সব বললাম। কিন্তু ওঁরা বললেন, “আমাদের এখন এখানে ডিউটি। আমরা যেতেপারব না। আপনি থানায় ফোন করুন।” আমি বললাম, “থানা থেকে পুলিশ আসতে আসতে আমার ভাই মরে যাবে। তা ছাড়া, আমার কাছে থানার নম্বরও নেই।”

ওঁরা নম্বরটা দিলেন, কিন্তু কেউ এক বারও উঠে এসে দেখার চেষ্টা করলেন না, পরিস্থিতিটা কী। বোঝার চেষ্টা করলেন না, কেন অত রাতে একটি মেয়ে ওই ভাবে কাঁদতে কাঁদতে তাঁদের কাছে দৌড়ে এল।

যা-ই হোক, ভ্যানের ওই যাত্রী যখন তাঁর মোবাইল থেকে থানায় ফোন করছেন, তখনই দেখলাম আমাদের এলাকার দুটি ছেলে একটা ভ্যানে চাপিয়ে আমার ভাইকে নিয়ে আসছে। রক্তে গোটা শরীর ভেসে যাচ্ছে। ওই ছেলেরা জানাল, ফাঁকা রাস্তায় ওকে ওই অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ওরা তুলে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে।

আমি তখনই বুঝতে পেরেছিলাম, ভাই আর বাঁচবে না। ওই অমানুষিক মার খেলে কেউ বাঁচে না। ক্রমশ সব কিছু ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিল আমার কাছে। এখনও সব ঝাপসা। ভাই চলে গেলেও বাবা-মা তো আছেন। সংসারকে সচল রাখতে আমাকে খুব তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে। কিন্তু সেই ‘আমি’টা বোধহয় অন্য কেউ। এই পৃথিবীর কোনও কিছুর ওপরেই যার আর কোনও আস্থা নেই, এমন একটা মানুষ।

প্রসঙ্গ : এপারের ইভটিজিং

আসুন ভাইয়েরা, এবার এপারের চিত্রপটটাও একটু বোঝার চেষ্টা করি। গত বছরের ১১ তম মাস মানে নভেম্বরের চিত্রটা থেয়াল করলেই বোধকরি বিষয়টা সহজেই বোঝা যাবে।

নভেম্বর মাসে সারাদেশে ধর্ষণের শিকার হয় মোট ৩১ জন। যার মধ্যে ১৩ জন নারী ও ১৮জন শিশু। এ ক্ষেত্রে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৯টি। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১০ জনকে। প্রায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীন দলের সমর্থনপুষ্টরা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ৬ নভেম্বর রংপুরের পীরগঞ্জে এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের চিত্র ভিডিও করে তা প্রচার করে স্থানীয় বখাটেরা।
৯ নভেম্বর বরিশালের উজিরপুরে এক কিশোরীকে চিকিৎসার নামে বারো দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে জনৈক ভণ্ড ফকির।
১০ নভেম্বর লালমনিরহাটে ৩ বছরের অবুঝ শিশু ধর্ষণের শিকার হন এক নরপিশাচের হাতে।
১৭ নভেম্বর বাগেরহাটে ছবি আক্তার নামে এক গৃহবধুকে যুব ও শ্রমিক লীগের শুভ, মিজান, মল্লিক ও খোকা গণধর্ষণের পরে বিষ প্রয়োগে নির্মমভাবে হত্যা করে।
২২ নভেম্বর বাহুবলে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। একই দিন পাবনায় বখাদেরে হাতে গণধর্ষণের শিকার হয় এক কিশোরী। পরে আজিজুল নামে এক ধর্ষক গণপিটুনিতে নিহত হয়।
ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন

একই সাথে নভেম্বর মাসে ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়ার ২২৫টি ঘটনা পত্রিকায় এসেছে। এর মধ্যে ৩ জন তরুণী ইভটিজিং এর অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেন। ইভটিজিংয়ের ঘটনার প্রতিবাদ করায় প্রাণ দিতে হয় ৫ জনকে। ইভটিজাদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী।
যার মধ্যে, ১ নভেম্বর বগুড়ার শেরপুরে ইভটিজিংয়ের অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে স্কুলছাত্রী রূপালী রানী (১৫) ।
৪ নভেম্বর চট্টগ্রামে আটক ইভটিজারকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় ছাত্রলীগ ক্যাডারা।
৬ নভেম্বর কুমিল্লায় পূজা অনুষ্ঠানে ইভটিজার ছোট ভাইয়ের পক্ষ নিলে গণপিটুনিতে নিহত হয় ছাত্রলীগ নেতা জাকির। এর জের ধরে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর ও সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘরে হামলা করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।
৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে বখাটেরা উত্যক্ত করলে তার প্রতিবাদ করায় ৬ সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।
৮ নভেম্বর কুমিল্লার মুরাদনগরে ইভটিজার ছেলের বখাটেপনা থামাতে না পেরে নিরূপায় হয়ে আত্মহত্যা করে এক অসহায় মা।
১৯ নভেম্বর দিনাজপুরে ব্র্যাক স্কুলের ৫ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী শাবনুরের ইভটিজিংয়ের বিচার চাওয়ায় বখাটেরা তার পরিবারের সদস্যদেরকে মারধর করে। ঘটনার অপমান সইতে না পেরে ক্ষোভে আত্মহত্যা করে শাবনুর।

এক মনোবিজ্ঞানীর বিশ্লেষন

মেয়েদেরকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারিরীক ও মানসিকভাবে হয়রানি করা বা ইভটিজিং নিয়ে সা¤প্রতিক সময়ে ব্যপকভাবে আলোচনা হচ্ছে। ইভটিজিং এখন শুধু যৌন হয়রানীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যৌন নির্যাতন এবং হত্যার মত ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। আইন ও শালিস কেন্দ্রের এক রিপোর্টে বলা হচ্ছে এই বছরের প্রথম নয় মাসে অন্তত ২৫ জন নারী যৌন হয়ররানির শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আরও ১৭ জন, যাদের মধ্যে ১ জন মহিলাও রয়েছেন, খুন হয়েছেন দুস্কৃতিকারীদের প্রতিবাদ করতে গিয়ে। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির গবেষণায় দেখা গেছে ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সী শতকরা প্রায় ৯০ জন নারী যেীন হয়রানির শিকার হয়। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে ‘ইভ টিজিং’ নামক সমাজিক ব্যাধিটির ব্যাপকতা। কারণ বিশ্লেষণ করলে যে বিষয়গুলো অনায়াসে আমাদের চোখে আসে তা হল পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যাবস্থা, রাজনৈতিক দুরাবস্থা, আইনের শাসনের অভাব ইত্যাদি। কিন্তু এসব মৌলিক সমস্যা তো নতুন করে আবির্ভাব হয়নি। তাহলে সা¤প্রতিক সময়ে ইভটিজিং এর তীব্রতা এতটা বৃদ্ধি পেল কেন? এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর খোঁজা হয়েছে এই লেখায়।
স্বাধীনতার পর ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ খ্যাত বাংলাদেশে অর্থনৈতিকভাবে অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সে অনুপাতে শিক্ষিতের হার বাড়লেও শিক্ষার মান একেবাড়েই বাড়েনি। বিভিন্ন উপায়ে মানুষের হাতে টাকা এসেছে ফলে ধনী লোকের সংখ্যা বেড়েছে কিন্তু সুশিক্ষিত জনবল গড়ে উঠেনি। এই অসম বিকাশের অন্যতম একটি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হল ‘ইভটিজিং’ এর মতো ঘটনা।
দ্বিতীয় যে বিষয়টি ভাবনার কারণ তা হল, তথ্যপ্রযুক্তি তথা মোবাইল ফোনের অবাধ ব্যাবহার। তথ্যপ্রযুক্তির এই অগ্রগতিকে অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য অনেকেই সাধুবাদ জানালেও সুশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর অভাবে এর নেতিবাচক দিকটাই আমাদের বেশি নাড়া দিচ্ছে। কর্পোরেট কোম্পানিগুলো শুধু মুনাফার লোভে সামাজিক দ্বায়িত্ব ভূলে গিয়ে ইঁদুরদৌড়ে মেতে উঠেছে। ‘রাতভর কথা’, ‘বিরামহীন কথা’ ইত্যাদি প্যাকেজ দিয়ে তারা আমাদের কিভাবে উপকার করছে তা বোধগম্য হচ্ছে না। এসব রাতভর সস্তা কথার প্রলোভন দেখানোর মুল টার্গেট যে তরুন সমাজ তা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু কি কথা বলবে ছেলে-মেয়েরা রাত ভর? আর কার সাথেই বা বলবে এত কথা? আর এজন্যই সম্ভবত এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে প্রায় বলে থাকে “দোস্ত, একটা নাম্বার হবে নাকি?” এই নাম্বারটা অবশ্যই কোনো একটা মেয়ের। এরপর যদিও একটা নাম্বার পাওয়া গেল, অপর পক্ষ কি প্রস্তুত কথা বলার জন্য? দু’ এক কথার পর বাগবিতন্ডা। এর পরবর্তী দৃশ্য কি হবে তার জন্য খুব বেশি ভাবতে হচ্ছে না। চোখ রাখুন সিনেমা আর নাটক তথা সিরিয়ালের দিকে। সব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখানো হচ্ছে তাতে। আর এভাবেই জন্ম হচ্ছে হাজারো ‘স্ট্রিট রোমিও’র। যারা কিনা পরে ভয়ানক ভিলেনে রূপান্তরিত হচ্ছে।
তৃতীয় কারণটিও প্রথম দুটির সাথে স¤র্পকিত। আর তা হল দেশীয় নিজস্ব সংস্কৃতিক পরিচয়ের বিকাশের অভাব। তথাকথিত অত্যাধুনিক বিশ্ব আর বিশ্বায়নের সাথে আমরা একাত্বতা প্রকাশ করে ভিনদেশী সংস্কৃতির অবাধ গলাধঃকরণ নিশ্চিত করেছি। দিনশেষে দেখা যাচ্ছে আমাদের অপ্রস্তুত তরুণ সমাজে তার বদহজম শুরু হয়েছে। ভালোমন্দের পরিশোধন করতে না পেরে তারা সবই অবাধে গ্রহণ করার চেষ্টা করছে কিন্তু ঠিকভাবে পেরে উঠছে না। ফলে তৈরি হচ্ছে হিংস্্র ও পশুসুলভ আচরণের। বলি হচ্ছে শত শত কোমলমতি মেয়ে। আর এক্ষেত্রেও প্রভাবকের ভুমিকায় রয়েছে সেই কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। ‘দুই মাস ওদেরেকে ডিস্টার্ব করবেন না, প্লিজ’ আওয়াজে টিভি রেডিওতে মাতম তোলার কোনো ইতিবাচক দিক কি আছে?
‘ইভটিজিং’ এ আক্রান্তদের শারিরীক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেও ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পরে। তারা ভয়, উদ্বেগ্যতা (অহীরবঃু), দঃুশ্চিন্তা, আত্মহত্যার প্রবণতা, অসহায়ত্ব, হতাশা, আত্মসম্মান বোধের হ্রাস ইত্যাদি মানসিক সমস্যায় ভুগতে থাকে। যেহেতু পরিবার বা স্কুলে এ ব্যাপারে সাধারণত তারা পর্যাপ্ত মনো-সামাজিক সহযোগিতা পায়না বা পাবার ব্যাবস্থাও নেই, সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে প্রকট হতে থাকে।
অত্যন্ত ভয়ানক হয়ে উঠা এই ব্যাধির দ্রুত প্রতিরোধ করার জন্য কঠোর শাস্তির বিধানের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতৈক্য একান্ত অপরিহার্য। ক্ষতিগ্রস্থদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবার ব্যাবস্থা করাও জরুরী। সেই সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সামাজিক বিকাশে ব্যাবসায়ী, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যম, বুদ্ধিজীবী সহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের যে দ্বায়িত্ব রয়েছে সে সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। এ কথা অতীব সত্য যে, আজ যদি আমরা আমাদের মেয়েদের সহায়তা না করতে পারি, দিনশেষে আমরা সবাই চরম অসহায়ত্বের মধ্যে পড়ব।

১১টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×