somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... "না কবিতা না চিঠি, হয়ত আত্ম-উপলব্ধি"
প্রিয় বাবা,
তুমিও আসলে তাদের মতই বর্ণচোরা কবি,
যাদের ললাটের ভাঁজে জমে থাকা কাব্যেরা
লুকানোই থাকে; কেউ ঠিক বুঝতে পারেনা
হয়ত কবি নিজেও না; তবু তারা এমনই..

১৫ মাঘ ১৪১৮
মগবাজার, ঢাকা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29530828 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29530828 2012-01-28 17:00:31
"অডিও ইন্ডাস্ট্রির নৈরাজ্যের ব্যাপারে কি কিছুই করার নেই?"

চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য থেকে শুরু করে গান-কবিতা, গল্প-উপন্যাস বা নাটক-চলচ্চিত্রের উৎকর্ষতা তথা শিল্প-সাহিত্য আর সাংস্কৃতিক চর্চা বিকাশের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এখন আর কেউ কোনো প্রশ্ন তোলে না। কিন্তু এসবের সাথে জড়িত মানুষগুলোর অসহায়ত্ব বা এ সেক্টরের নৈরাজ্য নিয়েও আর কেউ ভাবতে চায় না, এমনকি রাষ্ট্রও না। অথচ এক সময় রাজা-বাদশাহরা তথা রাষ্ট্র সরাসরি এই সেক্টরের পৃষ্ঠেপাষকতা করত। অবশ্য এখন তো অবশ্য সব বাণিজ্যিকিকরণের যুগ। জাতির ঐতিহ্য-মননকে সারা দুনিয়ার সামনে তুলে ধরার এই সৃষ্টিশীল ক্ষেত্রগুলোও পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের করায়ত্তে চলে গেছে। তাদের সিন্ডিকেটই গড়ে তুলেছে এক একটি ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি। যেসব ইন্ডাস্ট্রির অনুমোদন ছাড়া কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক বা চলচ্চিত্র নির্মাতা হতে চাওয়ার ইচ্ছেকে এখন বোকামী বা 'আঁতেলেকচুয়াল' ভাবা হয়। তাদের মর্জির বাইরে কেউ এসে গান বা কবিতা শুনিয়ে যাবে বা একটা নাটক-চলচ্চিত্র দেখিয়ে যাবে, এমনটা তারা হতে দেবে না। অর্থাৎ শুধু ব্যবসাই নয়, শিল্প-সাহিত্য আর সাংস্কৃতিক চর্চার গতিধারাই নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছেন এ জাতীয় ইন্ডাস্ট্রিগুলোর সংঘবদ্ধ গডফাদাররা।

কেন যেন এই অসুস্থতায় অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি আমরা। গডফাদারদের ছত্রছায়াই খুঁজছি আমি, তুমি এবং পুরো বাংলাদেশ। অবশ্য এরপরও কখনো কেউ না কেউ ভাবে- 'এমন আর কত দিন চলবে?' বা 'কিছু একটা করা দরকার'। এই সেক্টরের শ্রমিক হিসেবে আজ আমি নিজেও এমনটা ভাবছি বলেই হয়ত এ লেখাটি লিখতে বসেছি। মূলত গত রাতে (২২ জানুয়ারি দিবাগত) বদন-পুস্তকে প্রবর রিপনের নবায়নকৃত অবস্থা (স্ট্যাটাস) পড়ে এ ভাবনা পুনরায় জেগেছে, যা ক্রমাগত ভীত-সন্ত্রস্ত করছে আমাকে।

স্ট্যাটাসে রিপন জানিয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ড্রাষ্টিতে কপিরাইট ও আর্টিস্ট পেমেন্ট বিষয়ক জটিলতায় সৃষ্ট এক অনাকাংখিত ঘটনায় মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইবি) ঘোষণা দিয়েছে যে তারা সকল ব্যান্ড ও ব্যান্ড শিল্পীদের এ্যালবাম প্রকাশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখবে। আজ থেকে প্রায় এক মাস আগে তারা এই ঘোষনা দিয়েছে এবং এই অচলাবস্থা নিরসনে সরকার, মিডিয়া, বামবা এবং এমআইবি এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি। রিপন আরো বলেছে, "এমন এক অবশ অবস্থায় আমরা মনোসরণি আমাদের প্রথম এলবাম 'মনোসরণি'র সব কাজ শেষ করে এ্যালবাম রিলিজ করতে পারছিনা, যা রিলিজ হবার কথা ছিলো পয়লা ফেব্রুয়ারী এবং কোন দিশাও পাচ্ছিনা এই অচলাবস্থা নিরসনের প্রচেষ্টায়। তাই আমরা নতুন ব্যান্ড হিসেবে উদ্যোগ নিতে চাই এই অবস্থা কাটানোর জন্য। আমাদের মত যাদের এ্যালবাম এই কারণে পড়ে আছে তাদের সহযোগিতা কামনা করছি এই উদ্যোগে।"

***
বিষয়টি হয়ত এখনো অনেকের কাছে পরিস্কার হয়নি। তাই এ ব্যাপারে দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের চুম্বক অংশ তুলে দিচ্ছি।

অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন দ্বন্দ্ব
ব্যান্ড অ্যালবাম বিক্রি বন্ধসহ আন্দোলনের ঘোষণা

বিগত কয়েকদিনে সংগীতশিল্পী ও সংগীত প্রযোজনা সংস্থার মধ্যে বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে সংগীতাঙ্গনে। এসব ঘটনাকে অডিও প্রযোজকদের জন্য বিভ্রান্তিকর, বিব্রতকর, অসম্মানজনক এবং অপপ্রচার বলে মনে করছেন অনেকেই। একই সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য দেশের দু-একজন শিল্পীর প্রতিও সরাসরি আঙুল তুলছেন অডিও প্রযোজকরা। এসব সমস্যা নিরসনে রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইবি)। সম্মেলনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অডিও-ভিডিও অ্যালবাম প্রযোজনা ও প্রকাশনা বন্ধের ঘোষণাও দেওয়া হয়।

এদিকে কপিরাইট আইন অনুযায়ী গানের মালিকানা এবং এর রয়্যালটি বিন্যাসের বিষয়ে শিল্পী, সুরকার, গীতিকার এবং প্রযোজকদের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের জটিলতার সর্বশেষ ধাক্কাটি আসে ব্যান্ড তারকা জেমসের পক্ষ থেকে। জেমসের এক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্য রাতে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন সাউন্ডটেকের স্বত্বাধিকারী সুলতান মাহমুদ বাবুল। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে অডিও প্রযোজকদের মনে। গ্রেপ্তারের পরদিন অডিও প্রযোজকদের সমিতি এমআইবি এবং কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ, রবি চৌধুরী, আসিফ আকবরসহ অনেকের প্রত্যক্ষ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জামিন পান সুলতান মাহমুদ বাবুল।

ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এটা তো কোনো খুনের মামলা নয় যে, মধ্য রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে। তা ছাড়া এমন একটা সময় তাঁর বাসায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে, যে দিন ছিল বৃহস্পতিবার মধ্যরাত। পরের দুই দিন সরকারি ছুটি। কোর্ট-কাচারি বন্ধ থাকবে এবং তিনি জামিন পাবেন না। তবে কি সবই ছিল দুরভিসন্ধিমূলক এবং পরিকল্পিত! কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, মামলা-মোকাদ্দমায় জড়ানোর মতো কার্যক্রম কি আসলেই জেমস করছেন, নাকি অডিও ইন্ডাস্ট্রির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষ এর ফায়দা লোটার অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ অডিও-ভিডিও দোকান মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সভায় অডিও-ভিডিও দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন পাটোয়ারী এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যেসব অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যান্ড শিল্পীরা প্রতিষ্ঠিত, তাঁরাই আজ তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করছেন। যা কখনো কাম্য নয়। অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যান্ড শিল্পীরা যে ধরনের হয়রানিমূলক মামলা করেছেন তা প্রত্যাহার করা না হলে ব্যান্ড অ্যালবাম বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া বৃহত্তর আন্দোলনের নানা কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এমআইবির সভাপতি নাজমুল হক ভুঁইয়া খালেদ বলেন, ২০ বছর ধরে বাংলা গানের প্রযোজনা ও প্রকাশনায় সাউন্ডটেক এবং সুলতান মাহমুদ বাবুলের অবদান অনেক। এই শহরের শীর্ষ শিল্পীদের ন্যায্য সম্মানি তো বটেই, অনেক তারকা শিল্পীর ফ্ল্যাট, গাড়ি, সংসার চলেছে সাউন্ডটেকের টাকায়। অথচ 'স্বাক্ষর নকল' করার অসম্মানজনক সাজানো অভিযোগে রাত দুপুরে তাঁকে গ্রেপ্তার করানো হয়। এটা পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্য লজ্জার।

সাউন্ডটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান মাহমুদ বাবুল বলেন, 'আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন জেমস। অথচ জেমসের জন্য কি না করেছি আমি। তার শেষ অ্যালবামটি তো সাউন্ডটেকের টাকা দিয়ে তৈরি করে অন্য প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করে দিয়েছেন বেশি লাভের আশায়। আমার সেই টাকাও তো পেলাম না। এক সময় রাত নেই দিন নেই যখন জেমস টাকা চেয়ে লোক পাঠিয়েছেন, তখনই আমি তাঁর সন্মান রক্ষার্থে টাকা পাঠিয়েছি। সব ডকুমেন্ট আমার কম্পানির হাতে রয়েছে। সাউন্ডটেকের কাছে জেমসের কোনো পাওনা টাকা নেই। বরং সাউন্ডটেকের টাকা নিয়ে অন্যত্র অ্যালবাম বিক্রি করে দেওয়ায় এখন প্রতারণার মামলা করবে সাউন্ডটেক। পাশাপাশি জেমস আমাদের কাছ থেকে যে টাকা নিয়েছেন তারও হিসাব নেবে সাউন্ডটেক।'

এ বিষয়ে জেমস বলেন, 'কপিরাইট আইন ভঙ্গ করে শিল্পীদের অর্থ আত্মসাৎ করার ঘটনা এ দেশের প্রযোজকদের বেলায় নতুন কিছু না। অথচ দেশের প্রথম সারির শিল্পীদের অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা কিংবা নানা প্রয়োজনে সাহায্যের জন্য অন্যের দ্বারস্থ হতে হয়। আমি শিল্পীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। এটা সুখের খবর যে, আইন ও সরকার আমাদের দাবি আদায়ে সচেষ্ট হচ্ছে।'

***
আশাকরি বিষয়টি এখন সবাই বুঝতে পেরেছেন। তারপরও এখানে আরো কিছু কথা উল্লেখ করা প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। বিজয় দিবসের রাতে বাবুলের গ্রেপ্তারকে নতুন প্রজেন্মর সঙ্গীতের বিজয় হিসেবে অবহিত করেছিলেন ব্যান্ড শিল্পীরা। ব্যান্ড তারকা পার্থ বড়ুয়া বলেছিলেন, "আমার জীবনে আজ সত্যিকারের বিজয়ের রাত। সুলতান মাহমুদ বাবুলরাই অডিও ইন্ড্রাস্ট্রি ধ্বংসের মুল হোতা। এরাই সবচেয়ে বড় পাইরেসির চক্র। '৯০ সালের পর নামমাত্র টাকায় শিল্পীদের অ্যালবাম বিক্রি করে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সুপারহিট অ্যালবামেও তারা কোনো রয়্যালিটি দেয়নি শিল্পীদের। শিল্পীদের 'বেস্ট অফ' অ্যালবাম প্রকাশের ক্ষেত্রেও কোনদিন অনুমতি দেননি। এরাই ভদ্রবেশী অডিও প্রডিউসারের নামে ভারতীয় ক্যাসেট পাইরেসি করে বাজারজাত করেছে। শুধু তাই নয়, এরাই একদিকে পাইরেসি করে অন্যদিকে পাইরেসি রোধে আন্দোলনও করে। বিষয়টা অনেকটা চোরকে চুরি করতে বলে গেরস্থকে সযোগ থাকতে বলার মতো। জেমসকে এই সাহসী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমি অভিনন্দন জানাই।"

বাংলাদেশ ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনের (বামবা) সভাপতি ও ব্যান্ড তারকা হামিন আহমেদ বলেছিলেন, "সঙ্গীতের নানা অনিয়ম দূর করে আমরা অডিও শিল্পকে পুনরুদ্ধারের শপথ গ্রহণ করেছি। বাবুলের মতো একজন ব্যবসায়ী জেমসের মতো একজন শিল্পীর সই নকল করে কপিরাইট রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত হয়েছে। সে তার অপকর্মের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছে। এতেই সঙ্গীতের বড় একটা বিজয় সাধন হয়েছে। পাইপলাইনে আমাদের আরো অনেক পদক্ষেপ রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলো আসবে। থলের বেড়ালকে ধরা পড়তেই হবে।"

ওই সময়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে আরো জানা গেছে, "বাবুল সাউন্ডটেকের নবাবপুরের ঐতিহ্যবাহী শোরুমটিকে বিক্রি করে দিয়েছেন। ক্রমশ সাউন্ডটেক অডিও শিল্পের টাকাকে অন্যখাতে বিনিয়োগ করে জুরাইনে সুবিশাল মার্কেট এবং ইম্পেরিয়াল সিরামিক ইন্ড্রাস্ট্রি গড়ে তুলেছে। কোনোমতে পাটুয়াটুলীতে এখন সাউন্ডটেকের একটা সাইনবোর্ড ঝুলছে মাত্র। অডিও শিল্পের টাকা অন্যখাতে বিনিয়োগ হওয়াতেই শিল্পীদের আজ এই দুরবস্থা বলে মনে করেন অডিও ইন্ড্রাস্ট্রি সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নেতারা।"

***
আমাদের রাস্ট্রে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নামক একটি মন্ত্রণালয় রয়েছে। যার মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এবং প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন অডিও ইন্ডাস্ট্রির এই নৈরাজ্য সম্পর্কে আদৌ জানেন কিনা সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ রয়েছে। তবে এ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আছেন 'সুপার-হিট' শিল্পী মমতাজ ও অভিনেত্রী তারানা হালিম। তারা অন্তত এই বিষয়টি সরকারের গোচরে আনবেন, এমনটা আশা করা কি ভুল হবে? আসলে বুঝে উঠতেই পারছিনা এই অবস্থায় আমাদের করণীয়টা কি; নাকি কিছুই করার নেই?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29527841 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29527841 2012-01-23 16:10:43
"AmeturE phOtogRaphy" : ৩য় পর্ব
"ফড়িং-১"


'মাকড়-১'


"ফড়িং-২"


'মাকড়-২'

"AmeturE phOtogRaphy" : ২য় পর্ব

"AmeturE phOtogRaphy" : ১ম পর্ব ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29494535 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29494535 2011-12-01 23:13:51
"AmeturE phOtogRaphy" : ২য় পর্ব
'save D nature'


'save D gReen'


'অলসতা'


'সুক্ষতা'

রাসেল ভাইয়ের দেয়া "PentaX OptiO N73" দিয়ে আমার "AmeturE phOtogRaphy"র নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29494204 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29494204 2011-12-01 14:39:20
"AmeturE phOtogRaphy" : ১ম পর্ব
"civilization"


"The Border Line"


"হারানো ডায়েরী"


"love green"

রাসেল ভাইয়ের দেয়া "PentaX OptiO N73" দিয়ে আমার "AmeturE phOtogRaphy"র নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29494091 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29494091 2011-12-01 12:07:18
রুক্ষ-বিদীর্ণ চোখগুলোয়...
বুঝলেও কি বিশ্বাস করত সে? বুঝতে পারিনি তাও।

এর আগে এক আফগান বালিকার নির্বাক দু'চোখ মননে গেঁথে গিয়েছিলো; হঠাৎই যা কেড়ে নিয়েছিলো সহস্র মাইল দূরবর্তী সবুজ উপত্যকাবাসী বাঙাল পিতার ঘুম। যদিও তার রক্তাভ ধূসর গগনে প্রতিদিন সন্ধ্যায় নিয়ম করে ওড়ে শহুরে চিল আর বাঁদুরের দল। নাগরিক কোলাহলের ভীড়েও তখন সে নিজেকে হারায় অন্যকোথাও। তবে ঠিক ঈশাণ কোণ বরাবর যখন ওই চিলগুলোর সাঁড়িবদ্ধ যাত্রা শুরু হয়; শকুণ হয়ে যায় ভাবনার সব পাখি। ওরা যেন মাথার উপর ঘুরে ঘুরে মৃত্যু প্রার্থনা করে।

এরপর ন্যায়-অন্যায়ের সব নতুন সংজ্ঞা আর নবাগত নীতিমালা দেখে বুঝে গিয়েছি- আমার অনাগত সন্তানের চোখেও জন্ম নিয়েছে সমরাস্ত্রের ঝলকানি। তবু আজও রাষ্ট্রসংঘের পুরানো মঞ্চে কারা যেন নতুন নাটক মঞ্চস্থ করায় ব্যস্ত; আর তার খবর ছেপে ছেপে সভ্যতার কবর খুঁচে যায় অজস্র 'পুঁজিমাধ্যম'। তারা সযন্তে দীক্ষা দেয় অবদমনের; যা বার বার বলে যায়- কারোই করার নেই কিছু।

হয়ত এ ভবিতব্যই বলে গিয়েছিলো রুক্ষতায় বিদীর্ণ সেই আতঙ্কিত চোখগুলো; নয়ত কোন পিতার বুকে জাগাতে চেয়েছিলো নতুন বিদ্রোহ।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29454280 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29454280 2011-09-24 17:43:36
মাহবুব মতিনের মৃত্যুর জন্য তবে কাকে দায়ী করা যায়?
বিপ্লব ভাই তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, "মাহবুব মতিন অনেক কিছু শিখিয়েছেন। কমদামে ভাল জিন্স কেনার টিপস দিয়েছেন, সিনেমা-সমালোচনার বেসিক শিখিয়েছেন, ভিভিআইপি ডিউটির নিয়ম কানুন শিখিয়েছেন, ফুটেজ ও শব্দের শক্ত গাঁথুনি দিতে শিখিয়েছেন। তাঁর প্রস্থান আমাদের শেখাল, অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে হলে রিজিকের ঘরে কোন লম্পটকে নষ্টামি-ভণ্ডামি-শয়তানি করতে দেয়া যাবে না, সে যত বড় চাকরই হোক না কেন। ভদ্রলোকের সন্তান মাহবুব ভাই নিজেও এতটা নম্র-ভদ্র ছিলেন যে, শয়তানের মুখে জুতো মারতেও সংকোচ! আহারে ! শয়তানটার মুখে পেচ্ছাব করতে পারলে তিনি হয়তো আর কটা দিন বাঁচতেন।"



গত ২৩ ঘন্টায় আমিসহ মোট ৩৭ জন এটি পছন্দ করেছেন। এই স্ট্যাটাসেরই মন্তব্যে বিপ্লব ভাই আরো লিখেছেন "ফুলের মত মানুষটা এক জীবনে দুবার মারা গেলেন। অতীতের কোন না কোন পাপের জন্য নেতা হিসেবে পেয়েছিলাম একজন পেশাদার মাতালকে, লাম্পট্য যার মাথার মুকুট। মুকুট যেমন সবাই দেখতে পায়, তেমনি স্বঘোষিত আন্ধা ছাড়া আর সবাই বদমাশ লোকটার চরিত্রহীনতা দেখতে পায়। চেহারা মানুষের, মনটা কালা কুত্তার গায়ের রঙের চেয়েও কালো। সেই বদমাশটা দিনের পর দিন মানসিক নির্যাতন করে মাহবুব ভাইকে এমনিতেই মৃতপ্রায় করে ফেলেছিল। মাটির সাথে মিশে গিয়েছিল দেশের সেরা রিপোর্টারদের একজন, মাহবুব মতিনের ক্যারিয়ার। প্রাণটা গেছে পরে।"



প্রসঙ্গত, এর আগে চ্যানেল আইয়ের সাবেক কর্মি সাইফ ভাই অভিযোগ করেছিলেন-"প্রতীক, মাহবুব মতিন এবং সবশেষে টিটন; আমার সন্দেহ, তিনজনের মৃত্যুর জন্যই চ্যানেল আইয়ের অতিরিক্ত কাজের চাপ দায়ী"। এই বিষয়ে ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাস এবং ব্লগে দেয়া এক পোস্টে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্ববর্তী পোস্ট "একটি FB স্ট্যাটাস, কিছু মন্তব্য এবং চ্যানেল আই" পড়ুন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29428288 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29428288 2011-08-09 03:32:44
একরামুল হককে রিমান্ডে নেয়ার ঘটনা গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে
News editor arrested in Bangladesh
New York, August 1, 2011--Police in Bangladesh should either charge or release a news editor arrested Sunday, whose detention may be linked to his writing on government corruption, the Committee to Protect Journalists said today.
Police in plainclothes arrested Ekramul Haq, founder and editor of the Bengali-language Sheershanews Web site and Sheersha Kagoj weekly, in his home in the capital, Dhaka, on Sunday morning, according to local and international news reports. Police told journalists that a businessman had accused the editor of trying to extort 2 million taka (US$26,800) from him for suppressing a negative news report, the reports said.
Sheershanews said the arrest was part of a harassment campaign in retaliation for Haq's reporting on government corruption, according to local news reports The government cancelled media accreditation for the outlets' 10 journalists, including Haq, two weeks ago, according to Agence France-Presse. Government spokesman Harunur Rashid told AFP that the outlets "violated all norms of journalism" and published "character assassinations of ministers and officials."
"We are deeply skeptical about the arrest of Ekramul Haq so soon after the government cancelled his accreditation," said Bob Dietz, CPJ Asia program coordinator. "Prime Minister Sheikh Hasina's government has a record of not tolerating criticism from the media."
Haq launched Sheershanews as a news Web site two years ago, according to local news reports. His weekly has recently accused businessmen with government connections and two ministers of corruption, according to AFP.

এদিকে, বিবিসি, এএফপি, রেডিও তেহরানসহ কাতারের বহুল প্রচলিত দৈনিক Gulf-Times, The Peninsula, সিঙ্গাপুরের দি স্ট্রেইটস টাইমস, সাউথ আফ্রিকার http://www.pretorianews.co.za, ফ্রান্সের http://www.jeanmarcmorandini.com, http://www.actualitiz.fr, http://www.telebuzz.fr, http://www.wikio.fr, ভারতের http://www.indiareport.com, যুক্তরাষ্ট্রের wires.univision.com, পাকিস্তানের - Daily statesman, The News, Daily Hurriyat Karachi ও Dawn ছাড়াও http://www.muslimstime.com, http://www.arabtimesonline.com, http://www.priyo.com, http://www.allvoices.com, http://www.topix.com, http://www.thefreelibrary.com'সহ বিভিন্ন জায়গায় যে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে সেটিও তুলে ধরা হল

The editor of an online Bangladesh newspaper and weekly magazine that wrote a series of stories on alleged graft linked to government ministers was arrested on Sunday on charges of extortion, police said.
Ekramul Haq, 46, the editor and owner of Sheershanews.com and Weekly Sheershakagoj, was picked up by plain clothed policemen from his home in central Dhaka just before dawn, police sub-inspector Shahida Hossain said.
“We arrested Mr. Haq after a businessman filed a case alleging that he demanded two million taka (around $25,000) from him. He had threatened to write stories against the businessman,” she told AFP.
Haq launched online Bengali newspaper Sheershanews.com two years ago and it has since become a leading website for breaking news. His weekly has written stories on allegations of graft linked to two ministers, a personal secretary of the premier, bureaucrats and businessmen close to the government, according to Sheernews.com.
The arrest came just two weeks after the government cancelled all media accreditation for the online site and the weekly, prompting protests by the opposition parties, local media rights groups and press clubs. The government has yet to make any comment on the arrest.
Harunur Rashid, a senior government spokesman, told AFP the media accreditation was cancelled after the website and weekly “violated all norms of journalism and for character assassinations of ministers and officials”.

সর্বশেষ পরিস্থিতি
অনলাইন বার্তা সংস্থা শীর্ষ নিউজ ডটকম ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ সম্পাদক মো. একরামুল হকের ২দিনের রিমান্ড মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। আজ বুধবার সকালে তাকে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করা হবে। কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন। মো. একরামুল হকের বিরুদ্ধে ইতিমধে আরও দু'টি মামলা হয়েছে। চাঁদাবাজি, মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে সিএমএম কোর্টে ও শাহবাগ থানায় ওই মামলা দু'টি করা হয়।
রাজধানীর শাহবাগ থানায় নতুন মামলাটি দায়ের করেন সচিবালয়ের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক। সিএমএম আদালতে মামলাটি দায়ের করেন আশুলিয়ার মো.শহিদুল ইসলাম।
৫ দিনের ব্যবধানে এ নিয়ে তিন সাজানো মামলায় আসামি করা হলো একরামুল হককে। গত ৩০ জুলাই ঢাকার সিএমএম আদালতে প্রথম মামলা করেন ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন তালুকদার। মামলার কয়েক ঘণ্টা পর রোববার ভোরে মগবাজারের বাসা থেকে একরামুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওইদিনই আদালতে হাজির করে তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ডের প্রথম দিনে দ্বিতীয় গৎবাঁধা অভিযোগে সাজানো মামলা দায়ের করা হয়। শাহবাগ থানায় দায়ের হওয়া মামলার নম্বর-১ (৮)১১, ধারা ৩৮৫ ও ৫০৬ বা. দ.বি.।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে বিবাদী শীর্ষ নিউজ সম্পাদক একরামুল হক গত ৩ জুলাই বিকেল ৩টায় সচিবালয়ে গিয়ে বাদীকে খোজাখুঁজি করেন। না পেয়ে তার সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক আনিসুর রহমানকে বলেন যে, আজ রাতের মধ্যে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে তাকে (বাদী) জীবনে শেষ করে দিব। বাদী বিষয়টি আনিসের কাছ থেকে শুনে ৭ জুলাই তার সমিতির সভাপতি হিরণ মিয়াকে অবহিত এবং ১৩ জুলাই শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেন। জিডির কথা জানতে পেরে সম্পাদক একরামুল ২০ জুলাই বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টায় সচিবালয়ে ৪ নম্বর ভবনের পেছনে বাদীকে পেয়ে আবারো টাকার জন্য চাপ এবং জীবননাশের হুমকি দেন।
মজার বিষয় হচ্ছে, একটি প্রভাবশালী চক্রের ইন্ধনে গত ৩ জুলাই বিকেল ৩টায় সচিবালয় অভ্যন্তরে সম্পাদকের ওপর হামলা হয়। ওই হামলাকারীদের অন্যতম ছিলেন এমদাদ। এরপর থেকে শীর্ষ নিউজ ডটকম ও শীর্ষ কাগজ বন্ধের চক্রান্ত জোরেসোরে শুরু হয়। এমনকি, শীর্ষ নিউজ ও শীর্ষ কাগজ বন্ধের দাবিতে সচিবালয় অভ্যন্তরে ব্যানারও টাঙানো হয়। এ ঘটনা সচিবালয়ের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এরপর ১৭ জুলাই শীর্ষ নিউজ ডটকম ও শীর্ষ কাগজ সম্পাদকসহ কর্মরত সাংবাদিকদের সব অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়।
এদিকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগে সিএমএম কোর্টে একরামুল হকের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করেন আশুলিয়ার মো. শহিদুল ইসলাম। শহিদুলের মামলায় শীর্ষ নিউজ ডটকম সম্পাদকের স্ত্রী মাহবুবা হক এবং শীর্ষ নিউজ ডটকমের ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেনকেও আসামি করা হয়েছে। বিচারক বাদীর বক্তব্য শুনে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে সাক্ষীসহ বাদীকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হওয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি আজাদ রহমান শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাদী তার আরজিতে বলেছেন, আশুলিয়ার বানাইদ মৌজায় তাদের ভোগ দখলীয় সম্পত্তি আমোক্তার দলিলের মাধ্যমে নিজের বলে দাবি করে আসছেন একরামুল হক। গত ২০ জুলাই বাদী তাদের গাছের কাঁঠাল পাড়তে গেলে অভিযুক্তরা বাধা দেয়। আসামিরা এ সময় তাদের মারধরও করে।
প্রসঙ্গত, কয়েকটি সরকারি দফতর ও কতিপয় প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর প্রকাশ করায় শীর্ষ নিউজ ডটকম ও শীর্ষ কাগজের সম্পাদক একটি কুচক্রী মহলের টার্গেটে পরিণত হন। বিশেষ করে গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার দুর্নীতি, যোগাযোগ মন্ত্রীর দুর্নীতি, পূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস'র বিভিন্ন অপকর্ম এবং পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রীর দুর্নীতির তথ্য ফাঁস করায় শীর্ষ নিউজ ডটকম ও শীর্ষ কাগজ সরকারের রোষানলের শিকার হন। বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করে কব্জার অপচেষ্টা ছাড়াও জীবননাশের উদ্দেশ্যে সম্পাদকের ওপর একাধিকবার হামলা চালানো হয়। সর্বশেষ অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়। অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জুলাই দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকরা মানববন্ধন করে। ওই মানববন্ধনের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৩১ জুলাই ভোর সোয়া ৪টায় একটি সাজানো চাঁদাবাজি মামলায় বড় মগবাজারের বাসা থেকে সম্পাদককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির কল্পিত অভিযোগের বাদী গিয়াসউদ্দিন তালুকদার বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের ঘনিষ্ঠ এবং তার নির্বাচনী এলাকার লোক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29424678 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29424678 2011-08-03 02:29:23
শীর্ষ নিউজ সম্পাদক আটক
আরো বিস্তারিত জানতে শীর্ষ নিউজ ডটকম পড়ুন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29423101 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29423101 2011-07-31 08:23:17
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লেখায় শীর্ষ নিউজ ও শীর্ষ কাগজের সকল এ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল
সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও আমলাদের দুর্নীতি নিয়ে লেখার কারণে শীর্ষ নিউজ ডটকম এবং সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজের সম্পাদকসহ ১০ জন সাংবাদিকের নামে ইস্যু করা সকল এ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। গত ১৪ জুলাইয়ের ব্যাক ডেটে ১৭ জুলাই দিনের শেষে কার্ডগুলো বাতিল করা হয়।

সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হারুন-উর-রসিদ স্বাক্ষরিত এই বাতিল আদেশে কার্ডগুলো বাতিলের সুনির্দিষ্ট কোন কারণ উল্লেখ করা হয়নি। শীর্ষ নিউজ ডটকম এবং শীর্ষ কাগজ- প্রতিষ্ঠান দু'টির জন্য আলাদা আদেশ জারি করা হয়। এতে বলা হয়, 'শীর্ষ নিউজ ডটকম-এর নিম্নবর্ণিত সাংবাদিকদের নামে ইস্যুকৃত এ্যাক্রেডিটেশন কার্ডগুলো বাতিল করা হলো'। শীর্ষ নিউজ ডটকমের ৮ জন সাংবাদিকের নাম এবং তাদের নামে ইস্যুকৃত কার্ডের নম্বর উল্লেখ করা হয়।

সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজের ক্ষেত্রেও কোন কারণ উল্লেখ না করে একইভাবে সম্পাদকসহ দু'জনের কার্ড বাতিল করা হয়। গত কয়েকদিন ধরে শীর্ষ নিউজ এবং শীর্ষ কাগজের সম্পাদকসহ সাংবাদিকদের ওপর হুমকি, হামলার চেষ্টা এবং প্রতিষ্ঠান দু'টি বন্ধ করে দেয়ার যে প্রক্রিয়া চলছিলো তারই ধারাবাহিকতায় সংবাদপত্রের গলা টিপে ধরার নজিরবিহীন এই পদক্ষেপ নিলো সরকার।

এ বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পড়ুন শীর্ষ নিউজ ডটকমবার্তা২৪ ডটনেটে। এছাড়া এই বিষয়টি নিয়ে আমার পূর্বেবর্তী একটি পোস্টও শেয়ার করছি।

'আহারে সাংবাদিকতা; হায়রে অনিশ্চয়তা' ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29415989 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29415989 2011-07-19 18:52:24
'আহারে সাংবাদিকতা; হায়রে অনিশ্চয়তা' শীর্ষ নিউজ ডটকম এর পাতা খুললাম। এরপর প্রধান শিরোনাম দেখেই তো আমার চোখ কপালে। ওটা কি তা পরে বলছি। মিডিয়া বিষয়ক আরো একটি খবর পেলাম প্রথম পাতাতেই। সেটা দিয়েই আগে শুরু করি।

সদ্য পদত্যাগকারী নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা রেবেকা ব্রুকসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ডে থাকাকালীন পুলিশের ফোন হ্যাকিং, ঘুষ লেনদেন, দুর্নীতির চক্রান্তকারী হিসেবে সন্দেহভাজন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ রোববার লন্ডন পুলিশ তাকে ডেকে নেয়। তিনি লন্ডন পুলিশের হেফাজতে আছেন।

৪৩ বছর বয়সী রেবেকা নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ডের ফোন হ্যাকিংয়ের ঘটনায় চলমান সংকটে চাপের মুখে গত শুক্রবার পদত্যাগ করেন। ২০০০-২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি ট্যাবলয়েড সাপ্তাহিক নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ডের সম্পাদক ছিলেন, যখন হত্যাকাণ্ডের শিকার মিলি ডওলারের ফোনে আড়ি পাতা হয়।

বিবিসির বাণিজ্যিক সম্পাদক রবার্ট পেস্টন বলেছেন, নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেবেকার গ্রেফতারের ব্যাপারে সচেতন ছিল না। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনসহ ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে রেবেকা ব্রুকসের খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে এসব ঘটনায় তার ভাবমুর্তি কিছুটা হলেও বিপন্ন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাংবাদিকদের এমন হেনস্থা হওয়ার এ চিত্রটি নতুন নয়। রাষ্ট্রযন্ত্র যুগে যুগে এমনটাই করে এসেছে। তবু প্রতিবেদন দুটি পড়ার পর আবারো মনে একটি বাক্য আসল- 'আহারে সাংবাদিকতা; হায়রে অনিশ্চয়তা'। ওহ; প্রথম নিউজটা তো বলাই হয়নি। এবার শিরোনামসহ ওই প্রধান প্রতিবেদনটি তুলে দিচ্ছি ::

দুর্নীতিবাজরা ঐক্যবদ্ধ: শীর্ষ কাগজ ও শীর্ষ নিউজ বন্ধের ষড়যন্ত্র

পাঠক নন্দিত অনলাইন নিউজ সার্ভিস শীর্ষ নিউজ ডটকম এবং সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ বন্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আজ রোববার সচিবালয়ের বিভিন্ন স্থানে শীর্ষ কাগজের প্রকাশনা বন্ধ এবং সচিবালয়ে সম্পাদকের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার হুমকি দিয়ে ব্যানার টাঙানো হয়েছে।

সচিবালয় হচ্ছে সরকারের স্পর্শকাতর স্থান। সরকারের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া সচিবালয়ে যেকোনো পোস্টার, ব্যানার বা লিফলেট লাগানো নিষেধ। এখানে ২৪ ঘণ্টার সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর নাকের ডগায় দুর্নীতিবাজরা ব্যানার টাঙানোর ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে। শীর্ষ কাগজের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) খাইরুল ইসলাম মান্নান এবং পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের যোগসাজশে চক্রটি শীর্ষ কাগজ ও শীর্ষ নিউজ ডটকমের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। সচিবালয়ে এ ধরনের ব্যানার দেখে সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যেই নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দুর্নীতি ফাঁস করে দেয়ায় দুর্নীতিবাজ চক্র শীর্ষ কাগজের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে বলে অনেকের অভিমত। তাদের মতে এ চক্রের অপকর্মের দায় সরকার কেন নিতে যাবে?

সরকার তথ্য অধিকার আইন করে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতিবাজরা সরকারের মধ্যে থেকে সংবাদ মাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরতে চাচ্ছে। নিজেদের দুর্নীতির দায় সরকারের উপর চাপানোর কৌশল অবলম্বন করেছে। এরা এখন ঐক্যবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রীর এপিএস খাইরুল ইসলাম মান্নানের নারী কেলেঙ্কারি ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদের দুর্নীতি নিয়ে শীর্ষ কাগজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর তারা জোট বেঁধে শীর্ষ কাগজ ও শীর্ষ নিউজ ডটকমের সম্পাদক মো. একরামুল হকের উপর হামলার একাধিক চেষ্টা চালায়। এছাড়া শীর্ষ কাগজ ও শীর্ষ নিউজ ডটকমের সম্পাদককে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে।

গত ৩ জুলাই সচিবালয়ে মেহেরুন নেছাকে দিয়ে হামলার চেষ্টা চালানো হয়। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ায় তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। একই ধারাবাহিকতায় আজ শীর্ষ কাগজের প্রকাশনা বন্ধের হুমকি দিয়ে সচিবালয়ে ব্যানার টাঙানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ ও শীর্ষ নিউজ ডটকমের সম্পাদক মো. একরামুল হকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলাও দায়ের করা হয়েছিল। এখন তারা মাঠে নেমেছে শীর্ষ কাগজ ও শীর্ষ নিউজ ডটকম বন্ধের ষড়যন্ত্র নিয়ে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29415003 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29415003 2011-07-18 00:39:25
চুক্তি না দেখেই কনোকো-ফিলিপস'র পক্ষে ২ সংসদীয় কমিটি গত বিকেলে জমা দিয়েছিলাম সংবাদটি। কোন কারনে বার্তা সম্পাদকরা একটু দেরীতেই ছেড়েছেন। তাও 'এক্সক্লুসিভ' নয়; দেশের আরো খবর হিসেবে। বুঝুন অবস্থা। তবে নিউজটা কইরা মজা পাইছি; তাই শেয়ারাইলাম।

সমুদ্র বক্ষের খনিজ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বহুজাতিক কোম্পানি কনোকো-ফিলিপস'র সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি না দেখেই তার পক্ষে সাফাই গেয়েছে পৃথক দুটি সংসদীয় কমিটি। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সমপর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি আলোচিত এই চুক্তিকে 'যৌক্তিক' এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এটিকে 'দূরদর্শী' ও 'সাহসী' আখ্যা দিয়েছে।

অবশ্য পূর্ণাঙ্গ চুক্তি তো দূরের কথা এর সার-সংক্ষেপও দেখেননি ওই দুটি কমিটির কোন সদস্য। পৃথক দুটি বৈঠকে চুক্তির ব্যাপারে তারা শুধু জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিনের মৌখিক বক্তব্য শুনেছেন। আর এর জোরেই তারা প্রবলভাবে এ চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

গত ২৯ জুন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সমপর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৭তম বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও এই চুক্তিটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই সময় চুক্তির ব্যাপারে কমিটির সদস্যদের মৌখিক উপাত্ত দেন বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন। এ সময় চুক্তির কোন সার-সংক্ষেপ দিতে পারেননি তিনি। তবে এর পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন। সচিবের ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই কমিটি কনোকো-ফিলিপস'র সাথে সম্পাদিত চুক্তি যৌক্তিক আখ্যা দেয় কমিটি। ওই বৈঠকের পর সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখা থেকে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির স্বল্প-মধ্য-দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় দেশের জনগণের বিভ্রান্তি দূরীকরণে গ্যাস উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিরাজমান অবকাঠামোগত সমস্যা, যন্ত্রপাতির স্বল্পতা ও সরকারি অর্থের সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষাপটে 'কনোকো-ফিলিপসের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির যৌক্তিকতা' গণমাধ্যমে জনগণকে জানানোর সুপারিশ করা হয়। প্রসঙ্গত, এই চুক্তির বিরুদ্ধে তেল গ্যাস খনিজ বিদ্যুৎ ও বন্দর রক্ষা কমিটির হরতালের মাত্র ৩ দিন আগে এমন সুপারিশ করা হয়েছিল।

বিষয়টি নিয়ে আলাপের জন্য আজ সোমবার দুপুরে ও বিকেলে কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। এ সময় 'ছালামত' নামে পরিচয়দানকারী তার এক ব্যক্তিগত সহকারী ফোনটি রিসিভ করে বার বারই শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, 'স্যার বিশ্রামে আছেন।' এর আগে তার একান্ত সচিব মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানান, সুবিদ আলী তার নির্বাচনী এলাকাতে আছেন।

অন্যদিকে, গত ১৯ জুন কনোকো ফিলিপস'র সাথে সম্পাদিত চুক্তিকে 'দূরদর্শী' ও 'সাহসী' আখ্যা দেয় সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ওই দিন কমিটির ৪৬তম বৈঠকের পর সভাপতি এ বি এম গোলাম মোস্তফা শীর্ষ নিউজ ডটকমকে এ তথ্য জানান। তবে কমিটির বিরোধী দলীয় সদস্য (প্রধান হুইপ) জয়নুল আবদিন ফারুক ওই চুক্তিকে 'দেশের স্বার্থ-বিরোধী' আখ্যা দিয়ে এ ব্যাপারে কমিটির দেয়া বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন।

ওই বৈঠকেও কমিটির সদস্যরা চুক্তির কোন সার-সংক্ষেপ দেখার সুযোগ পাননি। সেই একই সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন একই ভাবে তাদের সামনে চুক্তি সম্পর্কিত মৌখিক উপাত্ত তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে গোলাম মোস্তফা জানান, বৈঠকে কনোকো-ফিলিপস'র সাথে সম্পাদিত চুক্তির ব্যাপারে জ্বালানি বিভাগের সচিবের কাছে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় জানানো হয়, 'ওই চুক্তি অনুযায়ী উত্তোলিত সমস্ত গ্যাস বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য থাকবে কনোকো-ফিলিপস।' এছাড়াও ওই চুক্তির অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করে বৈঠকে এটিকে 'দূরদর্শী' আখ্যা দেয়া হয়। সভাপতি বলেন, এই চুক্তি নিয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তারা এ ব্যাপারে কিছু না জেনে-বুঝেই এমনটা করছে। গোলাম মোস্তফা দাবি করেন, প্রায় ১৫ বছর পর কোন কোম্পানিকে সমুদ্র বক্ষের খনিজ অনুসন্ধান ও উত্তোলনের দায়িত্ব দেয়া প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার 'সাহসী' পদক্ষেপ। এর কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বসে থাকলেও ভারত-মিয়ানমার তো আর বসে থাকবে না।
অবশ্য ওই কমিটির সদস্য ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, কনোকো-ফিলিপস'র সাথে সম্পাদিত ওই চুক্তি নিঃসন্দেহে দেশের স্বার্থ-বিরোধী। বিদেশিদের হাতে দেশের সম্পদ তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্রেই এই চুক্তি করা হয়েছে। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, আমি কমিটির বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ওই বিতর্কিত চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দলীয় সদস্যের অনুপস্থিতিতে কমিটি ওই চুক্তিকে এভাবে 'দূরদর্শী' বা 'সাহসী' বলতে পারে না। আমি কমিটির ওই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি। জয়নুলের এই অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে গোলাম মোস্তফা বলেন, এটা সত্য যে তার (জয়নুল আবদিন ফারুক) অনুপস্থিতিতেই এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি (জয়নুল আবদিন ফারুক) তো বৈঠক শেষ না করেই চলে গেছেন। সর্বশেষ আজ সোমবার বিকেলে মুঠোফোনে আলাপকালে গোলাম মোস্তফা শীর্ষ নিউজ ডটকমকে জানান, ওই দিনের বৈঠকে জ্বালানি সচিবের কাছে ওই চুক্তির সার-সংক্ষেপ দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি তা দেখাতে পারেননি।

এদিকে, জাতীয় সংসদে এই চুক্তিটি প্রকাশের দাবি জানিয়ে বিগত অধিবেশনে দু'দফা বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। গত ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বহুজাতিক কোম্পানির সাথে চুক্তি করে জাতীয় সম্পদ বিদেশের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। ওই দিন মেনন বলেন, শেখ হাসিনা গত মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ক্লিনটনকে বলেছিলেন- ৫০ বছরের গ্যাস মজুদ রাখার পর গ্যাস রপ্তানি করা হবে। কিন্ত এখন তার বিপরীতে দেখছি কনোকো-ফিলপসের চুক্তির মাধ্যমে ৮০ শতাংশ গ্যাস রপ্তানির সুযোগ রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে চুক্তির বিষয়ে কোন কিছু জনসম্মুখে প্রকাশ করা হচ্ছে না। বলা হয়- জনগণ সম্পদের মালিক। কিন্তু 'মালিকরা' চুক্তি সম্পর্কে কিছুই জানবে না; শুধু উপদেষ্টা, সেক্রেটারি, চেয়ারম্যানরা তা জানবে- এটা হতে পারে না। হয়ত ভবিষ্যতে শোনা যাবে কনোকো-ফিলিপসের সাথে সম্পাদিত এই চুক্তির পেছনেও অনেক লেনদেন হয়েছে।

মূল নিউজের লিংক ::চুক্তি না দেখেই কনোকো-ফিলিপস'র পক্ষে ২ সংসদীয় কমিটি ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29411401 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29411401 2011-07-12 01:34:01
আত্মপক্ষ সমর্থনে শেষ সুযোগ পাচ্ছেন ফখরুদ্দীন-মইন আজ মঙ্গলবার সংসদ ভবনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এ উপ-কমিটির ৮ম বৈঠক শেষে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠক শেষে স্থায়ী কমিটি সভাপতি ও উপ কমিটির আহবায়ক রাশেদ খান মেনন জানান, দুই একদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতির কাজ শুরু হবে। সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে এটি উত্থাপন করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ফখরুদ্দীন ও মইনের বিরুদ্ধে কমিটি যেসব অভিযোগ পেয়েছে তা সঠিক এবং নির্যাতনের ঘটনার সাথে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে- এমনটা ধরে নিয়েই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। তবে এ প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপনের আগে পর্যন্ত এ ব্যাপারে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন ওই দুই প্রভাবশালী। কমিটির তাদের বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় থাকবে।
আরো বিস্তারিত জানতে শীর্ষ নিউজ ডটকমের প্রতিবেদন দেখুন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29407581 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29407581 2011-07-05 16:10:55
১৪ ঘন্টা হাজতবাসের পর মুক্ত কবি অভিজিৎ দাস
প্রায় ১৪ ঘন্টা হাজতবাসের পর মুক্তি পেয়েছেন তরুন কবি অভিজিৎ দাস। রবিবার রাত ১০টার দিকে পল্টন থানা থেকে মুক্তি পান তিনি। এর আগে সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর প্রধান কার্যালয়ের উল্টো পাশের সড়ক থেকে গ্রেফতার হন অভিজিৎ। এ সময় পুলিশ তার কাছে জানতে চায় তিনি কেন এখানে এসেছেন। অভিজিৎ তাদের জানান, তিনি তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকা অর্ধদিবস হরতালকে সমর্থন জানাতে সেখানে এসেছেন। এরপরই তাকে আটক করা হয়। পরে হরতালে আটক হওয়া অন্যান্যদের সাথে অভিজিৎকেও পল্টন থানা হাজতে রাখা হয়। অবশেষে রাত ১০টার দিকে মুক্তি পান প্রতিবাদী এই কবি।
এদিকে, অভিজিৎ দাসকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভার্চুয়ালি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরে সরকার। হরতালে এই গ্রেফতার অভিযানকে সরকারের ফ্যাসিস্ট আচরণ বলে ফেইসবুকসহ বিভিন্ন ব্লগে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এ সময় কবির মুক্তির দাবিতেও মুখর হয়ে ওঠে ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড।

এর উদাহরণ সরুপ পূর্বতর্বী দুটো পোস্টের লিংক দিচ্ছি :

কবি অভিজিৎ দাসও গ্রেফতার!

ফেসবুকের একটি ছবির লিংক ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29406775 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29406775 2011-07-03 23:21:56
কবি অভিজিৎ দাসও গ্রেফতার! খুব একটা অবাক হলাম না। নিজের এই নির্বিকারত্বের কারন খুঁজতে গিয়ে বুঝলাম রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী বাহীনির কাছ থেকে এর চেয়ে ভালো ব্যবহার পেলেই বরং অবাক হব। আর কবিদের গ্রেফতার করাটা তো রাষ্ট্র যন্ত্রের পুরানো অভ্যাস।
একটু আগে শুনলাম তানিম নূর (নির্মাতা) সহ আরো অনেক শাহাবাগ থানায় আটক আছেন। ওদিকে দুপুর ১২টায় হরতাল কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদের নেতৃত্বে জাতীয় কমিটির নেতা-কর্মীরা জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে চান। পুলিশ তাঁদের আটকে দিলে মুক্তি ভবনের সিঁড়িতেই তাঁরা সংবাদ সম্মেলন করেন। আনু মুহাম্মদ বলেন, কাল সোমবার বিকেল চারটায় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে জাতীয় কমিটি। সেখান থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29406531 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29406531 2011-07-03 16:12:01
‘এমপিরা টাকা পকেটে রাখলে কি করার আছে?’ : সংসদে প্রধানমন্ত্রী (আজ ইহা কি কইলেন আমগো প্রধানমন্ত্রী! এ বিষয়ক আন-এডিটেড একটি সংবাদ।)

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- ‘প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে তার এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য ৯ হাজার টাকা করে দেয়া হয়। তারা সে টাকা খরচ না করে পকেটে রেখে দিলে আমার কি করার আছে?’ রোববার জাতীয় সংসদে তিনি এ কথা বলেন। বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ড. টিআইএম ফজলে রাব্বীর আনা অভিযোগ খণ্ডাতে ফোর নেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে ‘এমপিরা কথা বলার সাহস পান না’-এমন অভিযোগ করে ফজলে রাব্বী বলেন- ‘আমি তাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের নামের সামনে মাননীয় লেখা হয়। কিন্তু আমরা এমপিরা এলাকায় গিয়ে বসার কোন জায়গা পাই না। ফেউ এর মত ঘুরে বেড়াই।’ এ সময় প্রত্যেক সংসদ সদস্যের জন্য তার এলাকায় অফিসের ব্যবস্থা করে দেয়ার দাবি জানান তিনি। পরে তার বক্তব্য শেষে স্পিকার আব্দুল হামিদ এ্যাডভোকেট তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন- ‘সংসদ সদস্যরা কথা বলার সাহস পান না; এটা বোধ হয় ঠিক না।’
এরপরই ফোর নিয়ে ফজলে রাব্বীকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা আরো বলেন- ‘উনি হয়ত ওনার দলের নেতার (হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ) সামনে কথা বলতে পারেন না; তাই বলেছেন। আমার দলের এমপিরা আমার সাথে যে কোন সময় কথা বলতে পারেন।’
এর আগে বাজেট আলোচনায় ২০১১-১২ অর্থ-বছরের প্রস্তাবিত বাজেট ও সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করেন ফজলে রাব্বী। প্রস্তাবিত বাজেটকে গতানুগতিক আখ্যা দিয়ে চলতি বছরের বাজেট বরাদ্দ খরচ করতে না পারা মন্ত্রণালয়গুলোর জবাবদিহিতা নেই বলেও অভিযোগ করেন এই সংসদ সদস্য। শেয়ারবাজার কারসাজি প্রসঙ্গে রাব্বী বলেন- ‘শেয়ার কেলেঙ্কারি সরকারের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় খাত। এই ঘটনার বিচার না হলে আগামী নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ ৯৬ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন- ‘আওয়ামী লীগের সময়ই এমন কেন ঘটে তা বুঝি না।’ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29402743 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29402743 2011-06-26 13:56:05
সদ্য সংবাদ বিষয়ক পোস্ট : সংসদে তত্ত্বাবধায়ক বিলোপের বিল (পেশাগত কারণে আজ আবারো একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হলাম। আমার লেখা এ সংক্রান্ত 'আন-এডিটেট' কিছু সংবাদ আপনাদের সাথে শেয়ারাইলাম।)

বহু আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তের প্রস্তাব সম্বলিত সংবিধান সংশোধন বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। আজ শনিবার বিকেল ৩টা ৩৩ মিনিটে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত এ বিলটি উত্থাপন করেন।
এর আগে ব্যারিস্টার শফিক বিলটি উত্থাপনের প্রস্তাব তুললে তাতে আপত্তি দেন সংসদের একমাত্র সংসদ সদস্য মো: ফজলুল আজিম। এ সময় তিনি বলেন- ‘এই বিলটি সংসদে উত্থাপিত হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার সব পথ বন্ধ হয়ে যাবে। বিরোধী দলের সাথে আলোচনা করেই এসব সংশোধনী আনা হোক।’ বিলটি পাস হলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করে তিনি এটি উত্থাপন করা থেকে বিরত থাকারও আহবান জানান। এর আগে আজিম বলেন- ‘এই বিলে সংবিধানের যেসব সংশোধনীর প্রস্তাব আনা হয়েছে তা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক আছে। এক্ষেত্রে আমি মনে করি সরকার ও বিরোধী দলের ঐক্যমতের ভিত্তিতেই সংবিধান সংশোধন হওয়া উচিত।’ এর জবাবে ফজলুল আজিমের বক্তব্য ‘যুুক্তিসঙ্গত’ নয় জানিয়ে আইন মন্ত্রী দাবি করেন- আদালতের রায়ের আলোকেই সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সময় তিনি সংসদের সামনে এই বিল প্রণয়ণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। পরে বিল উত্থাপনের প্রস্তাব ভোটে দেন স্পিকার আব্দুল হামিদ এ্যাডভোকেট। কণ্ঠভোটে এ প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন আইন মন্ত্রী।
উত্থাপিত বিলের ২১তম দফায় বলা হয়েছে “সংবিধানের ‘২ক পরিচ্ছেদ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ বিলুপ্ত হইবে।” বর্তমানে সংবিধানের এই পরিচ্ছেদে মূলত ৫৮(খ), ৫৮(গ), ৫৮(ঘ) ও ৫৮(ঙ) অনুচ্ছেদ রয়েছে। আর এসব অনুচ্ছেদেই তত্ত্ববাধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সাংবিধানিক বিধানগুলো রয়েছে। ওদিকে- বিলের ২০তম দফায় সংবিধানের ৫৮ক অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদকালে কতিপয় বিধানের অপ্রযোজ্যতা’ শিরোনামে দেয়া ২১ নম্বর সুপারিশে এই অনুচ্ছেদটি বিলুপ্তি করতে বলেছিল সদ্য বিলুপ্ত সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি। বিলের ৪৫তম দফায় প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পদ বিলুপ্ত করে ১৪৭ অনুচ্ছেদ সংশোধনের এবং ৪৭তম দফায় ১৫২ অনুচ্ছেদ থেকে পদ দুটির সংজ্ঞা বিলুপ্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
এবারের সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে এ ব্যাপারে কিছুই বলেননি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমেদ। এখানে শুধু অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতাগ্রহণকারীদের শাস্তি প্রদান ও নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী দাবি করেছেন- সংবিধান সংশোধনের এই বিলটি আইনে পরিণত হলে তা ‘জনগণের রাজনৈতিক ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংরক্ষণে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’
অপরদিকে- ৪৮ পৃষ্ঠার এই বিলের প্রথম ভাগে বাংলায় লেখা প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো দ্বিতীয় ভাগে ইংরেজীতে ভাষান্তর করা হয়েছে। তবে ‘বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতি’ দুই ভাগেই বাংলায় লেখা রয়েছে।
বিশেষ কমিটির সুপারিশের মতো এই বিলের দফার সংখ্যা ৫১টি হলেও তা হুবুহু সেই সুপারিশগুলোর আদলে নেই। অনেক ক্ষেত্রে বিলের একটি দফার মধ্যেই কমিটির একাধিক সুপারিশ সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
এদিকে- সংসদে উত্থাপনের পর এ বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ২ সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন-২০১১ প্রণয়নে আনীত এই বিলটি গত ২০ জুন মন্ত্রি সভায় অনুমোদিত হয়। উল্লেখিত বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিলটি প্রস্তুত করা হয়। এর আগে গত ৮ জুন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলসহ ৫১টি সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করে বিশেষ কমিটি। এরপর এসব সুপারিশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রতিবেদনটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের নির্দেশ দেন স্পিকার আব্দুল হামিদ এ্যাডভোকেট। এরই প্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের ঐক্যমত ছাড়াই সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত বিল প্রস্তুতের প্রক্রিয়া শুরু হয়। মন্ত্রি সভা এ বিলের অনুমোদন দেয়ার পর সংবিধানের ৮২ অনুচ্ছেদ অনুসারে এটি সংসদে উত্থাপনের অনুমতি দেন রাষ্ট্রপতি মো: জিল্লুর রহমান।
উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন মহাজোট নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের ৬৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিনে অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই এ বিলটি সংসদে উত্থাপিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মুদ্রণে বিলম্ব হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। ওই দিন সংসদ অধিবেশন মুলতবী করার প্রায় আধা ঘন্টা পর রাত ১০টার দিকে এই বিলের কপি বিজি প্রেস থেকে সংসদ সচিবালয়ে আসে।

বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষের আগেই আগামী নির্বাচন
বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আগামী জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। এমন বিধান রেখেই জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করা হয়েছে।
সদ্য বিলুপ্ত সংবিধান সংশোধনে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সীমার ক্ষেত্রে যে-সুপারিশ করেছিল, উত্থাপিত বিলে তারই প্রতিফলন দেখা গেছে। বিশেষ কমিটি সংবিধানের সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ১২৩-এ সংশোধনী এনে সুপারিশ করে বলেছিল ‘মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’ এই সুপারিশটি বিলে সন্নিবেশিত করার সময় ‘পূর্ববর্তী’র জায়গায় ‘পরবর্তী’ মুদ্রিত হলেও সংসদে উত্থাপনের আগে তা হাতে লিখে ঠিক করে দেয়া হয়। এই অবস্থায় বিলটি পাস হলে আগের মডেলের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কবর রচিত হওয়ার পাশাপাশি সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার র্প্বূবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে করার বিধান কার্যকর হবে। তবে আগামী সংসদ নির্বাচন কীভাবে কার অধীনে হবে, তা অমীমাংসিতই থেকে যাচ্ছে।
এদিকে- প্রধান বিরোধী দল বিএনপির অনুপস্থিতিতেই বিল উত্থাপন ও পাস হতে যাচ্ছে। তাছাড়া সংবিধানের সপ্তম ও ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায়-নির্দেশনার পূর্ণাঙ্গ কপিপ্রকাশের আগেই বিলটি পাস হতে পারে।
বিলের ৩ নম্বর প্রস্তাবে রয়েছে- প্রথম অনুচ্ছেদে প্রস্তবনায় ‘জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপন হবে। বিলে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে ১৫০(২) অনুচ্ছেদে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত বাংলাদেশের ঘোষণা অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিলে বলা রয়েছে- ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্য রাত শেষে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা।’ ঘোষণাটি হল- ‘ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছ, যাহার যাহা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।’ একই সঙ্গে বিলে সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে ১৫০(২) অনুচ্ছেদে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণ এবং সপ্তম তফসিলে ১৫০(২) অনুচ্ছেদে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব রয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৯ এ সংশোধনীর প্রস্তাব এনে বিলে বলা হয়েছে ‘ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করিয়া জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করিয়াছেন, সেই বাঙালী জাতির ঐক্য ও সংহতি হইবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।’ ১০ নম্বর অনুচ্ছেদে সংশোধনী এনে বিলে প্রস্তাবে করা হয়েছে ‘মানুষের উপর মানুষের শোষণ হইতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হইবে।’
১৯ অনুচ্ছেদে (২) দফার পর (৩) দফা সংযোজনের প্রস্তাব দিয়ে বিলে বলা হয়েছে- ‘(৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।’ সংবিধানে নতুন ২৩ক অনুচ্ছেদ সন্নিবেশের প্রস্তাব দিয়ে বিলে বলা হয়েছে- ‘২৩ক। উপজাতি, ুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি। রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’
উত্থাপিত হতে বিলে অনুচ্ছেদ ৬৫-এ সংশোধনী এনে সংসদের সংরতি আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৬৫ অনুচ্ছেদে নতুন করে ৩(ক) দফা সংযুক্ত করার প্রস্তাব দিয়ে বিলে বলা হয়েছে- ‘৩(ক) সংবিধান (পঞ্চদশ) আইন-২০১১ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অবশিষ্ট মেয়াদে এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত প্রত্য নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত তিন শত সদস্য এবং (৩) দফায় বর্ণিত পঞ্চাশ মহিলা-সদস্য লইয়া সংসদ গঠিত হইবে।’ এর ফলে চলতি সংসদেই নারী আসন পাঁচটি বাড়তে যাচ্ছে।
অধস্তন আদালতসমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সম্পর্কিত ১১৬ অনুচ্ছেদে সংশোধনীর প্রস্তাব এনে বিলে বলা হয়েছে- ‘বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচারবিভাগীয় দায়িত্বপালনে রত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল-নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরীসহ) ও শৃঙখলাবিধান রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে।’

ফিরে দেখা : সংবিধানের প্রথম থেকে চতুর্থদশ সংশোধনী
১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০১০ সালের ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবিধানে ১৪টি সংশোধনী আনা হয়েছে। এর সংশোধনীর সংক্ষিপ্তসার শীর্ষ নিউজ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।
প্রথম সংশোধনী : সংবিধানের প্রথম সংশোধনী আনা হয় ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে। এ সংশোধনীর মাধ্যমে ৪৭ অনুচ্ছেদে দুইটি নতুন উপধারা সংযোজন করা হয়। এ সংশোধনীর মূল কারণ ছিল গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য আইন তৈরি করা ও তা কার্যকর করা।
দ্বিতীয় সংশোধনী : ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সংশোধনী আনা হয়। যার মাধ্যমে সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদে (২৬, ৬৩, ৭২ ও ১৪২) সংশোধন আনা হয়। নিবর্তনমূলক আটক, জরুরি অবস্থা ঘোষণা ও এ সময় মৌলিখ অধিকারগুলো স্থগিতকরণ সম্পর্কে প্রথমদিকে সংবিধানে কোনো বিধান ছিল না। এ সংশোধনীর মাধ্যমে বিধানগুলো সংযোজন করা হয়।
তৃতীয় সংশোধনী : মূলত ভারত ও বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণী একটি চুক্তি বাস্তবায়ন করার জন্য ১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর এ সংশোধনী আনা হয়। ভারতের কিছু অংশ বাংলাদেশে আসবে এবং বাংলাদেশের কিছু অংশ ভারতে আসবে- এ চুক্তি বাস্তবায়নের জন্যই তৃতীয় সংশোধনী আনা হয়।
চতুর্থ সংশোধনী : ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি এ সংশোধনীর মাধ্যমেই দেশের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হয়। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় পদ্ধতি পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু করা; এক দলীয় শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা; রাষ্ট্রপতি ও সংসদের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রপতি অপসারণ পদ্ধতি জটিল করা; সংসদকে একটি তাহীন বিভাগে পরিণত করা; মৌলিক অধিকার বলবৎ করার অধিকার বাতিল করা; বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করা ও উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করা। ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাতিল হয়ে যায়।
পঞ্চম সংশোধনী: জাতীয় সংসদে এ সংশোধনী আনা হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল। পঞ্চম সংশোধনী সংবিধানে কোনো বিধান সংশোধন করে নি। এ সংশোধনী ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টে সামরিক শাসন জারির পর থেকে ৬ এপ্রিল ১৯৭৯ পর্যন্ত সামরিক শাসনামলের সব আদেশ, ঘোষণা ও দণ্ডাদেশ বৈধ বলে অনুমোদন করে।
ষষ্ঠ সংশোধনী : ১৯৮১ সালের ১০ জুলাই এ সংশোধনী আনা হয়। ষষ্ঠ সংশোধনী কোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কারণে করা হয় নি। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর উপ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তৎকালীন বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে তাদের প্রার্থী হিসেবে আব্দুস সাত্তারকে মনোনয়ন দান করে।এ সংশোধনীর মাধ্যমে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী পদকে প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদ বলে গণ্য করা হবে না।
সপ্তম সংশোধনী : ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে সামরিক শাসন বহাল ছিল। ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সপ্তম সংশোধনী আনা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে সামরিক শাসনামলে জারি করা সব আদেশ, আইন ও নির্দেশকে বৈধতা দেওয়া হয় এবং আদালতে এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন না করার বিধান করা হয়। এ সংশোধনীতে বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬২ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ করা হয়। ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট এ সংশোধনী আদালতে কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত হয়।
অষ্টম সংশোধনী : ১৯৮৮ সালের ৯ জুন সংবিধানে অষ্টম সংশোধনী আনা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদে (২, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০) পরিবর্তন আনা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বলে ঘোষণা করা হয়, হাইকোর্টবিভাগের ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন করা হয়, বাঙ্গালীকে বাংলাদেশী এবং ডেক্কা কে ঢাকা করা হয়।
নবম সংশোধনী : নবম সংশোধনী আনা হয় ১৯৮৯ সালের ১১ জুলাই। এ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও উপ রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে কিছু বিধান সংযোজন করা হয়। এ সংশোধনীর আগে রাষ্ট্রপতি ও উপ রাষ্ট্রপতি যতবার ইচ্ছা রাষ্ট্রপতি পদের জন্য নির্বাচন করতে পারতেন। এ সংশোধনীর পর অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।
দশম সংশোধনী : ১৯৯০ সালের ১২ জুন দশম সংশোধনী বিল পাশ করা হয়। মহিলাদের জন্য আসন ১৫ থেকে ৩০ বাড়ানো হয়।
একাদশ সংশোধনী : ১৯৯১ সালে এ সংশোধনী পাশ হয়। এর মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগদান বৈধ ঘোষণা করা হয়। এতে আরো বলা হয়, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এ উপ রাষ্ট্রপতি দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করতে পারবেন এবং উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে তার কর্মকাল বিচারপতি হিসেবে বলে গণ্য হবে।
দ্বাদশ সংশোধনী : ১৯৯১ সালের এ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৭ বছর পর দেশে পুনরায় সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
ত্রয়োদশ সংশোধনী : ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়।
চতুর্দশ সংশোধনী : ২০০৪ সালের ১৬ মে এ সংশোধনী আনা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরতি মহিলা আসন ৩০ থেকে ৪৫ করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়সীমনা ৬৫ থেকে ৬৭ করা হয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি এবং সরকারি ও আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি বা ছবি প্রদর্শনের বিধান করা হয়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29402328 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29402328 2011-06-25 17:41:00
"ড. ইউনুস কি আসলেই ক্ষুদ্র ঋণের জনক?"
শীর্ষ নিউজ ডটকম থেকে এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ সংবাদটি শেয়ার করলাম।

'গ্রামীণ ব্যাংকের উপকারভোগীদের লিগ্যাল এনটিটি নেই'

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, 'গ্রামীণ ব্যাংকের উপকারভোগীদের লিগ্যাল এনটিটি (আইনি সত্তা) নেই। কিন্তু সমবায়ের উপকারভোগীদের ফরমাল বা লিগ্যাল এনটিটি (আনুষ্ঠানিক বা আইনি সত্তা) রয়েছে।'
বুধবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে এক লিখিত প্রশ্নে নোবেল বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনুস আসলেই ক্ষুদ্রঋণের জনক কিনা তা জানতে চান সংসদ সদস্য এ কে এম মাঈদুল ইসলাম। তিনি তার প্রশ্নে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক আমানত ছাড়া ঋণ দেয়। এ হিসেবে ড. ইউনূস নোবেল পেলেন এবং নিজেকে ক্ষুদ্র ঋণের জনক হিসেবে দাবি করেন। কিন্তু ১৯০৪ সালের কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি এ্যাক্ট'র ডি ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, লোনস টু মেম্বারস অনলি অন পারসোনাল সিকিউরিটি (সদস্যদের শুধু ব্যক্তি নিরাপত্তার খাতিরে ঋণ দেয়া যাবে)। এতে দেখা যায়, ১৯০৪ সাল থেকেই উপমহাদেশে আমানত ছাড়া পারসোনাল সিকিউরিটিতে ঋণ দেয়ার সুযোগ ছিল। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে ড. ইউনূসের থিওরী ও ১৯০৪ সালের কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি এ্যাক্ট'র পার্থক্য কি?
এরই জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, এ উপমহাদেশে কো-অপারেটিভ ক্রেডিট এ্যাক্ট চালুর ফলে মহাজনী ঋণদান প্রথা দুর্বল হয় এবং কৃষকরা উপকৃত হতে থাকেন। দর্শণগতভাবে সমবায় এবং গ্রামীণ ব্যাংকের মধ্যে মিল রয়েছে। তবে পদ্ধতিগতভাবে গ্রামীণ ব্যাংক ও সমবায়ের মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সুবিধাভোগী চিহ্নিতকরণ, ঋণের পরিমান, ঋণ দাদন ও আদায় পদ্ধতি এবং সুদের হার নির্ধারণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সমবায়ের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের পার্থক্য রয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের উপকারভোগী বিশেষভাবে ভূমিহীন নারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু সমবায়ের ঋণ পুরুষ ও নারী, কৃষক-শ্রমিক, শ্রেণী বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্যই প্রযোজ্য।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29400769 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29400769 2011-06-22 14:15:34
তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটি বিদেশের 'গুপ্তচর' এবং কনোকো-ফিলিপস'র সাথে চুক্তি 'দূরদর্শী ও সাহসী' নিম্নোক্ত সংবাদ দুটোর ব্যাপারে আমি আর কোন মন্তব্য করলাম না; শুধু শেয়ার করলাম। হয়ত এ পোস্টটি সময়ের সাক্ষী হতেই জন্মেছে।

তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটি বিদেশের 'গুপ্তচর'!
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিকে বিদেশের 'গুপ্তচর' ও 'এজেন্ট' বলে আখ্যা দিলেন বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। রোববার জাতীয় সংসদে ২০১১-১২ সালের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "জাতীয় কমিটির নামে বিদেশের 'গুপ্তচর' ও 'এজেন্টরা' দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। হরতালের নামে ভয়তাল ডাকছে।"
বঙ্গোপসাগরের দুটি ব্লকের গ্যাস উত্তোলনে কনকো-ফিলিপসের সঙ্গে সরকারের চুক্তির বিরোধিতা করায় ওই কমিটির সমালোচনা করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন- "সরকার যখন গ্যাসের সংকট মোকাবেলায় গ্যাস উত্তোলনের পদক্ষেপ নিয়েছে তখন কোথাকার কোন 'মনু' 'আনু' মুহাম্মদরা জাতীয় কমিটির নামে কিছু টোকাই নিয়ে তেল-গ্যাস রক্ষা করতে চাইছে। জাতি কী তাদের 'ম্যান্ডেট' দিয়েছে?" কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদের কঠোর সমালোচনা করে হাছান বলেন, "কিছু মানুষ আছেন যারা যে কোনো ভাবে সবসময় আলোচনায় থাকতে চায়। দেশের বুকে ছুরি মেরে আলোচনায় থাকতে চায়। উনি (আনু মুহাম্মদ) অর্থনীতির অধ্যাপক হয়ে তেল-গ্যাস উত্তোলনের টেকনিক্যাল (কারিগরি) বিষয় কী বুঝবেন?"
প্রসঙ্গত, বঙ্গোপসাগরের দুটি ব্লকের গ্যাস উত্তোলনে কনকো-ফিলিপসের সঙ্গে সরকারের চুক্তির বিরোধিতা করছে তেল-গ্যাস খনিজ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। এর অংশ হিসেবে আগামী ৩ জুলাই ঢাকায় অর্ধদিবস হরতাল আহ্বান করেছে সংগঠনটি।

কনোকো-ফিলিপস'র সাথে চুক্তি 'দূরদর্শী ও সাহসী'!
সমুদ্র বক্ষের খনিজ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বহুজাতিক কোম্পানি কনোকো-ফিলিপস'র সাথে সম্পাদিত চুক্তি 'দূরদর্শী' ও 'সাহসী' বলে মনে করছে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। আজ রোববার ৪৬তম বৈঠকের পর কমিটির সভাপতি এবিএম গোলাম মোস্তফা শীর্ষ নিউজ ডটকমকে এ তথ্য জানান। তবে কমিটির বিরোধী দলীয় সদস্য (চিফ হুইপ) জয়নুল আবদিন ফারুক এ চুক্তিকে 'দেশের স্বার্থ-বিরোধী' আখ্যা দিয়ে কমিটির দেয়া বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গোলাম মোস্তফা জানান, বৈঠকে কনোকো-ফিলিপস'র সাথে সম্পাদিত চুক্তির ব্যাপারে জ্বালানি বিভাগের সচিবের কাছে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় জানানো হয়, 'ওই চুক্তি অনুযায়ী উত্তোলিত সমস্ত গ্যাস বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য থাকবে কনোকো-ফিলিপস।' এছাড়াও ওই চুক্তির অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করে বৈঠকে এটিকে 'দূরদর্শী' আখ্যা দেয়া হয়।
গোলাম মোস্তফা বলেন, 'চুক্তি নিয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তারা এ ব্যাপারে কিছু না জেনে-বুঝেই এমনটা করছে।' সভাপতি দাবি করেন, প্রায় ১৫ বছর পর কোন কোম্পানিকে সমুদ্রবক্ষের খনিজ অনুসন্ধান ও উত্তোলনের দায়িত্ব দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার 'সাহসী' পদক্ষেপ। এর কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা বসে থাকলেও ভারত-মিয়ানমার তো আর বসে থাকবে না।'
এদিকে কমিটির সদস্য ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, 'কনোকো-ফিলিপস'র সাথে সম্পাদিত ওই চুক্তি নিঃসন্দেহে দেশের স্বার্থ-বিরোধী। বিদেশিদের হাতে দেশের সম্পদ তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্রেই এ চুক্তি করা হয়েছে। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, 'আমি কমিটির বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ওই বিতর্কিত চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দলীয় সদস্যের অনুপস্থিতিতে কমিটি ওই চুক্তিকে এভাবে 'দূরদর্শী' বা 'সাহসী' বলতে পারেনা। তাই আমি কমিটির ওই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি।'
ফারুকের এ অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে গোলাম মোস্তফা বলেন, 'এটা সত্য যে তাঁর (জয়নুল আবদিন ফারুক) অনুপস্থিতিতেই এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি তো বৈঠক শেষ না করেই চলে গেছেন।'
বি : দ্র : দুটো সংবাদ'ই শীর্ষ নিউজ ডটকম'র ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29399465 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29399465 2011-06-20 00:47:50
পাপাত্মায় শুদ্ধতার গান
পাপ না করলে; পাপবোধ কারো হয়না
পাপবোধ ছাড়া যে; শুদ্ধতা চেনা যায়না

পাপবোধ কারো হয়না; পাপ না করলে
শুদ্ধতা চেনা যায়না; পাপবোধ ছাড়া যে

শুদ্ধ হতে তাই; পাপী আগে হওয়া চাই
পাপী আগে হওয়া চাই; শুদ্ধ হতে তাই

পাপ, পাপ, খালি পাপ; পাপে পাপারণ্য
অবশেষে পাপবোধ জাগলেই তব ধন্য...

পাপ যত করেছি অপরাধ বেড়েছে
অসুস্থ তাড়না সবই গিলে খেয়েছে
তবু পাপ করে যাই; হতে পাপীশ্বর
পাপ দেখে টলমল; শয়তানের ঘর

পাপ, পাপ, খালি পাপ; পাপে পাপারণ্য
অবশেষে পাপবোধ জাগলেই তব ধন্য...

পাপী আগে হওয়া চাই; শুদ্ধ হতে তাই
শুদ্ধ হতে তাই; পাপী আগে হওয়া চাই

শুদ্ধতা চেনা যায়না; পাপবোধ ছাড়া যে
পাপবোধ কারো হয়না; পাপ না করলে

পাপবোধ ছাড়া যে; শুদ্ধতা চেনা যায়না
পাপ না করলে; পাপবোধ কারো হয়না

অস্থিরতাই স্থির করে দেয়; স্থির করে দেয় অস্থিরতাই...
স্থির করে দেয় অস্থিরতাই; অস্থিরতাই স্থির করে দেয়...
অস্থিরতাই স্থির করে দেয়; স্থির করে দেয় অস্থিরতাই...
স্থির করে দেয় অস্থিরতাই; অস্থিরতাই স্থির করে দেয়...
অস্থিরতাই স্থির করে দেয়; স্থির করে দেয় অস্থিরতাই...

(বি : দ্র: ‘এ ধরায় শুধু কবিরাই নবীর ‘ফিলিংস’ লইতে পারে’ -এটাও সদ্য আগত এক ওহী; যা এসেছে জনৈক কবিরই কাছে)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29390650 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29390650 2011-06-03 12:04:02
বিচ্ছিন্নতা প্রিয় প্রেমিকের চিঠি জানি ঘুমাসনি এখনও-
তারপরও মুঠো-ফৌনিক প্রেমালাপের চেয়ে
দুপুর রাতের এ নীরবতাকেই বেছে নিতে হয়েছে;
আর নির্লিপ্ত নয়ন মেনে নিয়েছে তোর অভিমানের ছায়া . . .

আবারও স্ব-আরোপিত অসুখে পুড়িয়েছি মন; কারণ-
হঠাৎ হঠাৎ-ই যে একা হতে ইচ্ছে করে খু-উ-ব।

এটা জেনে হয়ত কষ্ট পাচ্ছিস; কিন্তু এদিকে
উপায় হারা এক কবি যে শুধু একাকীত্ব উপভোগে
কবিতা লিখে গেছে বা লিখতে শিখেছে; আর . . .
এ সত্য উপলব্ধিতে কবিরও ঢের সময় লেগেছে

হয়ত বলবি- পুরানো হয়ে গেছিস তাই
এই আমিটাও আর আগের মত নাই;
আসলে কি এমনটাই. . ?

নারে পাগলী-
সেই ড্রেসিং টেবিলের আয়না বন্দী প্রেমিক
আজও শুধু তোকে নিয়েই মগ্ন; কিন্তু তৈলাক্ত ক্ষুধা,
জুলিয়ান এ্যাসাঞ্জ আর ড্রোন হামলার এই যুগে
তৃতীয় বিশ্বের এক কামলা কবির মন
শুধু প্রেম-বন্দীই বা থাকবে কি করে. . ?

তাই তোর বুক বা মায়ের কোলের মধ্যেও
যে একাকীত্ব বোধ বড় একা একা লাগায়
তা বোধকরি শুধু কবিরাই টের পায়।

এক্ষেত্রে প্রেমিক আর কবি সত্ত্বার সাংঘর্ষিকতার প্রশ্ন উঠতে পারে;
তবে একাকীত্বও কি রোমান্টিকতা উৎপাদন করে না. . ?

যাই হোক সোনা- আর কোন ভণ্ডামী করবো না;
সত্যি বলছি- আজও একা হতে ভালোবাসি
ইচ্ছে করেই সেই পুরানো অভ্যাসে
শব্দ-ছন্দ-ধ্যানে নিজেরও মাঝে থাকি।

তোর বাড়ন্ত ক্ষোভ বা হতাশা আরো জেনে যাক-
কবির এই একাকীত্ব কখনো ঘুচবার না
কারণ- পৃথীবির সকল কবি সব সময়ই একা।

হয়ত পৃথীবির সব মানুষই তেমন; তবে
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা এটা ঠিক বুঝে উঠতে পারেনা।

প্রিয় প্রেরণাময়ী,
একদিন তো শুধু এক কবির প্রেম চেয়েছিলি
তবে আজ কেন এত শত্রুতা সে কবিত্বের সাথে. . ?
আত্ম-তৃপ্তির তাগিদটাই দিন দিন বড় হয়ে উঠেছে . . ?

শুধু ভেবে দ্যাখ- অনাবিল আগামীর কথা
যেখানে আমি একা না; একাকীত্ব উপভোগ করবো আমরা . . .
কবিতার যৌথ খামারে জন্ম নেবে আরো অজস্র একাকীত্বের বীজ।

পুনশ্চ: সুমন প্রবাহনের দুটি লাইন
স্মরণে না এনে পারলাম না-
‘ঈশ্বরের অসীম একাকীত্বও
আমার একাকীত্বের কাছে একা’

ইতি-
বিচ্ছিন্নতা প্রিয় লীন কবি
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29388463 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29388463 2011-05-30 15:01:57
উইজার্ড ভ্যালী’র ১ম নাটক “ফ্লাই-ওভার” প্রচার হবে আজ
নাটকটি পরিচালনা করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানেরই কর্ণধার রাসেল আহমেদ। এতে পর্দার সামনে ও পিছনে যারা কাজ করেছেন; তারা অধিকাংশই বরিশাল অঞ্চলের বলে জানা গেছে। এ নাটকে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, জেনি, ঈয়ন (শরীফ খিয়াম), ঈশিতা, মাসুদ আলী খান, তারেক মাহমুদসহ আরও অনেকে। এছাড়া এ নাটকের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ‘বরিশালের রক-ষ্টার’ খ্যাত সম্রাট।

৪০ মিনিটের এই নাটকটিকে এক খণ্ড বা পর্বের নাটক বলা হলেও এটি আসলে দুটি অংশে বিভক্ত। এর প্রথমাংশের গল্পটির নাম ‘এপয়েন্টমেন্ট লেটার’। এই অংশটুকু অভিনয়ে অংশ নেয়া ঈয়নের লেখা। আর শেষাংশের গল্পটির নাম ‘প্রমোশন’। ওইটুকু পরিচালক নিজেই রচনা করেছেন। দুটি গল্পই আবার একটি নির্দিষ্ট সময়ে এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে পরিচালক রাসেল আহমেদ বলেন- “ডাঙার মানুষ উড়তে ভালবাসে খুব। বিভিন্ন সুযোগে উড়েও ফেলে। কিন্তু ডাঙায় তাকে ফিরতেই হয়। ‘এপয়েন্টমেন্ট লেটার’ এবং ‘প্রমোশন’ এই দুইটি ভিন্ন গল্পের একটাই বিষয়- চাকরী। ওই দুই ভিন্ন কাহিনীর দুই অন্তর্দগ্ধ মুখ্য ব্যক্তিত্বের কাকতালীয় যোগ ঘটে গভীর রাতের ‘ফ্লাইওভার’-এ। যার নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া রেললাইন এর সমান্তরাল দুই পাতের ওপর ছুটে চলে সময় ট্রেন, ভিন্ন ভিন্ন সব গন্তব্যে।” তিনি আরো বলেন, “একটা নাট্যরূপে দুটি ভিন্ন গল্পের আগমন, আসলে অসংখ্য গল্পের দুটি রূপ মাত্রা মাত্র। আপাত দৃষ্টিতে ভিন্ন ভিন্ন মনে হলেও কোথায় যেন একটা অন্তমিল এদের অভিন্ন করে তুলেছে। অভিন্ন করে তুলেছে আমাদের সামাজিক চালচিত্রের প্রতিরূপকে।”

প্রসঙ্গত, বরিশাল নগরীর বিএম কলেজ ক্যাম্পাস ও কলেজ রোড কেন্দ্রীক সৃজনশীল আড্ডা থেকে ২০০৫ সালে এই থিম থিয়েটার ‘উইজার্ড ভ্যালী’র যাত্রা শুরম্ন হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে তারা স্থানীয় প্রযুক্তিতে বেশ কিছু স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ও নাটিকা তৈরী করেছে। এছাড়া উইজার্ডদের উদ্যোগে দক্ষিণাঞ্চলের অনেক এলাকায় চলচ্চিত্র প্রদর্শণীও অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তীতে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাজধানী কেন্দ্রীক কাজ শুরু করে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় এই “ফ্লাই-ওভার”-এর সৃষ্টি।

(সূত্র : http://www.amaderbarisal.com)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29384255 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29384255 2011-05-20 17:22:12
'দুই নেত্রীর উপরই আগামী নির্বাচনের ভবিষ্য'
দুই নেত্রীর উপরই আগামী নির্বাচনের ভবিষ্যৎ: মঞ্জু ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29383478 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29383478 2011-05-19 07:58:51
ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে ক্ষুব্ধ ইনু-মেনন মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, 'সংবিধান সংশোধনে নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের বিরোধীতার বা ক্ষুদ্ধ হওয়ার কিছু নেই। এখানে আমি বা রাশেদ খান মেনন ক্ষুদ্ধ হতে পারি। কারণ এই সংশোধনীর ফলে বিএনপি-জামায়াতই সবচেয়ে লাভবান হবে। আর আমরা যারা ধর্ম নিরপেক্ষ রাজনীতি করি; তারাই ক্ষতিগ্রস্থ হবো।'
ইনু আরো বলেন, 'জামায়াতের তো শেখ হাসিনার পক্ষে মিছিল করা উচিত। কারণ সংশোধিত সংবিধানেও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সুযোগ করে দেয়া ৩৮ অনুচ্ছেদ প্রায় অপরিবর্তিত থাকছে।'
এর আগে গত ১৬ মার্চ বিশেষ কমিটির ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ না করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশেষ কমিটি। ওই কমিটির মুখপাত্র ও কো-চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জানিয়েছিলেন, সংবিধান সংশোধনের ফলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ নিবন্ধিত কোন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হবে না। তবে তাদেরকে সংবিধানের আদর্শ ও উদ্দেশ্য মেনেই রাজনীতি করতে হবে এবং তারা ধর্মকে অপব্যবহার করে সামপ্রদায়িকতা সৃষ্টি করতে পারবে না। সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে এ সংক্রান্ত শর্ত সংযোজনের ব্যাপারে ঐক্যমতে পেঁৗছেছে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি। প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, 'জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।'
এদিকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির পাশাপাশি সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ রাখা নিয়েও শুরু থেকেই বিরোধীতা করে আসছেন ইনু ও মেনন। গত ১১ এপ্রিল গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিশেষ কমিটির ১ম দিনের বৈঠকেও এ বিষয়টি উত্থাপিত হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী সংশোধিত সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। এনিয়েও তারা ক্ষুদ্ধ। তাই আগামী ২৫ এপ্রিল এই কমিটির সাথে নিজ দলের পক্ষে মতবিনিময়কালে ওই বিরোধীতার কথা তুলে ধরবেন মেনন। মঙ্গলবার বিকেলে ওয়ার্কার্স পার্টির এই সভাপতি নিজেই এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সংশোধিত সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতার নিশ্চিতে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন রাশেদ খান মেনন। যেখানে বলা হয়েছে, 'প্রজাতন্ত্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। তবে রাষ্ট্র্র সকল ধর্মের সমঅধিকার নিশ্চিত করবে।' কমিটির অনেক সদস্য তার এই প্রস্তাব সমর্থন করেছেন। এই ঘটনা উল্লেখ করে কমিটির আরেক সদস্য শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেছিলেন, 'সুরঞ্জিত বলেছেন- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখার পক্ষে একমত হয়েছে কমিটি। এটা বিভ্রান্তিমূলক। রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকতে পারে না।'
এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারির বৈঠকের পর বিশেষ কমিটির মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে- সংবিধানে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম (দয়াময়, পরম দয়ালু, আল্লাহর নামে)' শব্দগুচ্ছ থাকবে এবং ২(ক) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে 'ইসলাম' বহাল থাকবে। তবে এই অনুচ্ছেদ সংশোধন করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য সব ধর্মের সমান অধিকার সমুন্নত রাখার বিধান করার ব্যাপারে কমিটি একমত হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদে বলা আছে, 'প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাবে।' ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29365610 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29365610 2011-04-19 18:46:17
"একটি FB স্ট্যাটাস, কিছু মন্তব্য এবং চ্যানেল আই"
চ্যানেল আইয়ের সাবেক কর্মি Saif Ibne Rafiq তার সাম্প্রতিক স্ট্যাটাসে বলেছেন-"প্রতীক, মাহবুব মতিন এবং সবশেষে টিটন; আমার সন্দেহ, তিনজনের মৃত্যুর জন্যই চ্যানেল আইয়ের অতিরিক্ত কাজের চাপ দায়ী"। এ ব্যাপারে শ্রদ্ধেয় Faridur Reza কি মনে করেন- জানার ইচ্ছা ছিলো।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত Hisam Khan Setu, Sheikh Mamun, Sh Donas-সহ আরো অন্যান্য 15 জনের এটা ভালো লেগেছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে- এই একটি স্ট্যাটাসের কারণে আমার FB একাউন্ট থেকে অনেকগুলো প্রিয় মানুষ নীরবেই হারিয়ে গেছেন। আরো মজার বিষয় হচ্ছে- অনেকেই এই স্ট্যাটাস থেকে স্ব-যন্তে নিজের মন্তব্যগুলো মুছে দিয়েছেন।একটু আগে এই বিষয়টি খেয়াল করেই এ পোস্টটি তৈরীর তাগিদ অনুভব করলাম। পোষ্টটির নিম্নাঙ্গে মূলত ওই স্ট্যাটাসের সকল মন্তব্য ক্রমানুয়ায়ী সংরক্ষণ করলাম। এর মধ্যে বিশেষ উপায়ে উদ্ধারকৃত মুছে ফেলা মন্তব্যগুলোও রয়েছে।

শরীফ খিয়াম আহমেদ ঈয়ন : কারণ সাক্ষাতে Saif Ibne Rafiq তার এ সন্দেহের কারণটাও ব্যাখ্যা করেন। সে ব্যাখ্যা শুধু বিস্মিত করেনি; ভয়ও পাইয়ে দিয়েছে। আর এই সন্দেহ সত্যি হলে প্রতীক-মতিন-টিটনদের তালিকা লম্বা হতে বেশী সময় লাগবে না। তাই...

Milon Raju : ???????????

Araai Ruka : mane ki dost ???????????????????????

Saleh Biplob : সাইফ ইবনে রফিক ঠিক বলেননি। নিছক সন্দেহবশত এতো বড় অভিযোগ আনা যায় না।

Saif Ibne Rafiq : biplob bhai: শুভেচ্ছা। প্রতীক মারা গিয়েছিল অফিসেই। লাগাতার নাইট ডিউটি ছিল তার। মাহবুব মতিন অফিস থেকে বাড়ি ফিরে ২ ঘণ্টাও বাচেননি। তার ওপরো ছিল লাগাতার কাজের চাপ, সঙ্গে বাড়তি অফিসিয়াল মানসিক নির্যাতন। আর টিটনতো মাঠেই মারা গেলেন_ ক্যামেরা চালা...তে চালাতে।
চ্যানেল আইয়ের কাজের চাপ আমার চেয়ে ভাল আর কে বলতে পারবে। লাগাতার ২ মাস নাইট ডিউটি করতে হয়েছে আমাকেও। ঢুকেছিলাম নিউজরুম এডিটর হিসেবে। কিন্তু আমাকে দিয়েতো প্রডাকশন, ভিডিও এডিটিং সবই করানো হতো। সঙ্গে অকথ্য গালাগালি আর অমানবিক নির্যাতন। রাত বারটার পর ডিউটি শেষ করে কিভাবে বাড়ি ফিরবো, জয়েন্ট নিউজ এডিটর হিসেবেতো সেই খেয়ালও রাখেননি আপনি।
আর বেতন-ভাতার কথা না হয় নাই বললাম।

শরীফ খিয়াম আহমেদ ঈয়ন ‎: Saif Ibne Rafiq তার নিজের স্ট্যাটাসের মন্তব্যে বলেছেন- আরও উদ্বেগের খবর হলো: নিহত ৩ জনেরই বয়স ৪২-এর নিচে। সবাই হার্ট এটাক, ব্রেইন স্ট্রোক জাতীয় দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। যে ক্ষেত্রে কাজের চাপের প্রসঙ্গটি কোনও ভাবেই উড়িয়ে দেয়া যায় না।

Saleh Biplob : সাইফ আপনি আংশিক জেনেছেন। প্রতীক আমার বন্ধু। নাইট ডিউটি তিনি নিজেই বেছে নিয়েছিলেন তাঁর পারিবারিক প্রয়োজনে। এটা জানা থাকলে আপনি বিভ্রান্ত হতেন না, বন্ধুদেরও করতেন না। মাহবুব ভাইয়ের কথা বললেন। " মাহবুব মতিন অফিস থেকে বাড়ি ফিরে ২ ঘণ্টাও বাচেননি। "... এমন একটা অর্থহীন বাক্য আপনার মত সুলেখকের কাছে আশা করা যায় না। ... " জয়েন্ট নিউজ এডিটর হিসেবেতো সেই খেয়ালও রাখেননি আপনি। "...এই বাক্যটাও যে অর্থহীন, তা আপনার চেয়ে ভাল কে জানেন?? কারন আপনি খুব খুব খুব ভাল করেই জানেন, আমি অই পদ বহন করছি ৪ বছর হলও, কিন্তু ডেস্কে আমি বেশি দিন ছিলাম না, আমি মাঠে কাজ করাকেই বেটার মনে করেছি। আপনি একটা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন কেন সাইফ? আপনি ডাক্তার দেখান ভাইজান, আপনার স্মৃতি বিভ্রম ঘটেছে। কারন যতদিন ডেস্কে ছিলাম, আপনাকে নিজে বাসায় পৌঁছে দিয়েছি কত রাত, ভুলে গেলেন কেন? আপনি ভুললেও ড্রাইভাররা কিন্তু মনে রেখেছে।

Dupur Mitra : মিডিয়া হাউসগুলা এত ভয়ঙ্কর কেন

Saleh Biplob : আমার কমেন্টটা মুছে দিলেন কেন ইয়ন?? আবার লিখলে আবার মুছে দেবেন ! কিন্তু আমি ডেস্কে যখন কাজ করেছি, কত রাত, কত ভোর... নিজে সাইফকে বাসায় পৌঁছে দিয়েছি, এটা কি আপনি জানেন ?? প্রতীক আমার বন্ধু। তিনি পারিবারিক প্রয়োজনে নিজেই নাইট শিফট বেছে নিয়েছিলেন, এটা আপনি না জানলেও সাইফ তো জানার কথা ! ওর কি স্মৃতি বিভ্রম ঘটেছে? বন্ধু হিসেবে আপনার তো জানা দরকার, আমারও।

Araai Ruka : ইয়ন তুই এ গুলা কি শুরু করলি মামা.....

শরীফ খিয়াম আহমেদ ঈয়ন : বিপ্লব ভাই, আমি মন্তব্যটা মুছে ফেলিনি। আপনার একই মন্তব্য অনেকগুলো হওয়ায় একটি কেটে দিয়েছিলাম। পরে দেখি সেটির একটিও নেই। আমি দু:খিত। আপনার ওই কমেন্টটি আবার দিয়ে দিচ্ছি। বন্ধুরা 2:35:17 PM-এ এক মন্তব্যে Saleh Biplob লিখেছিলেন "বিপ্লব ভাই, আমি মন্তব্যটা মুছে ফেলিনি। আপনার একই মন্তব্য অনেকগুলো হওয়ায় একটি কেটে দিয়েছিলাম। পরে দেখি সেটির একটিও নেই। আমি দু:খিত। আপনার ওই কমেন্টটি আবার দিয়ে দিচ্ছি। বন্ধুরা 2:35:17 PM-এ এক মন্তব্যে Saleh Biplob লিখেছিলেন "সাইফ আপনি আংশিক... জেনেছেন। প্রতীক আমার বন্ধু। নাইট ডিউটি তিনি নিজেই বেছে নিয়েছিলেন তাঁর পারিবারিক প্রয়োজনে। এটা জানা থাকলে আপনি বিভ্রান্ত হতেন না, বন্ধুদেরও করতেন না। মাহবুব ভাইয়ের কথা বললেন। " মাহবুব মতিন অফিস থেকে বাড়ি ফিরে ২ ঘণ্টাও বাচেননি। "... এমন একটা অর্থহীন বাক্য আপনার মত সুলেখকের কাছে আশা করা যায় না। ... " জয়েন্ট নিউজ এডিটর হিসেবেতো সেই খেয়ালও রাখেননি আপনি। "...এই বাক্যটাও যে অর্থহীন, তা আপনার চেয়ে ভাল কে জানেন?? কারন আপনি খুব খুব খুব ভাল করেই জানেন, আমি অই পদ বহন করছি ৪ বছর হলও, কিন্তু ডেস্কে আমি বেশি দিন ছিলাম না, আমি মাঠে কাজ করাকেই বেটার মনে করেছি। আপনি একটা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন কেন সাইফ? আপনি ডাক্তার দেখান ভাইজান, আপনার স্মৃতি বিভ্রম ঘটেছে। কারন যতদিন ডেস্কে ছিলাম, আপনাকে নিজে বাসায় পৌঁছে দিয়েছি কত রাত, ভুলে গেলেন কেন? আপনি ভুললেও ড্রাইভাররা কিন্তু মনে রেখেছে।"

Saif Ibne Rafiq : বিপ্লব ভাই, কমেন্টটা ব্যক্তিগতভাবে নিয়েন না। আমি ওই প্রতিষ্ঠানটির কথা বলছিলাম।
রাতের পালার ডিউটি শেষ করে ১২টার দিকে ফেরার জন্য ৩ বছরেও আমাকে গাড়ির লিফট দেয়নি চ্যানেল আই। অথচ সন্ধ্যা থেকেই সাকুরা বারের সামনে চ্যানেল আইয়ের নিউজের একটা গাড়ি দাড়িয়ে থাকতো। যাক থলের বিড়াল আর না বের হোক। সকাল ৭টার ডিউটিতে ১০ মিনিট দেরি হলেই অকথ্য ভাষায় গালাগালি চলতো, অথচ কিভাবে অফিসে এলাম এটা নিয়ে কারো কোনদিন মাথাব্যাথা দেখিনি। শীতকালে এমন বহুদিন গেছে রিং রোডে আমি একাই হাটছি সকালে, অফিসে যাচ্ছি।
আর বিপ্লব ভাই, মিডিয়া মাফিয়াদের সঙ্গে কি আমার যুদ্ধ করা মানায়? তবে তারা খুন করেছেন। আমি তাদের খুনি বলতেই পারি। আর খুনি বলেই হয়তো কেউ কেউ চাষা থেকে নোবেল জয়ের স্বপ্ন দেখেন।

শরীফ খিয়াম আহমেদ ঈয়ন : কিন্তু Saif ভাই; Biplob ভাই কিন্তু আপনাকে বলেছেন-"আপনি ডাক্তার দেখান ভাইজান, আপনার স্মৃতি বিভ্রম ঘটেছে। কারন যতদিন ডেস্কে ছিলাম, আপনাকে নিজে বাসায় পৌঁছে দিয়েছি কত রাত, ভুলে গেলেন কেন? আপনি ভুললেও ড্রাইভাররা কিন্তু মনে রেখেছে।" তবে কি আপনার "রাতের পালার ডিউটি শেষ করে ১২টার দিকে ফেরার জন্য ৩ বছরেও আমাকে গাড়ির লিফট দেয়নি চ্যানেল আই।"-এ কথা কি অসত্য..?

Costal Sidor : eigulo na bolle hoy an eon

মুজিব মেহদী : ভাগ্যিস সাইফ চ্যানেল আই ছেড়ে বেঁচে গেছেন! এ তথ্য সত্য হলে তো চ্যানেল আইয়ের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।

Saif Ibne Rafiq : বিপ্লব ভাইয়ের গাড়ির লিফট আর চ্যানেল আইয়ের লিফট এক কথা নয়। তাছাড়া, ঈয়ন, গাড়িটা এখানে মুখ্য নয়। আসল কথা হলো যাদের শ্রমে চ্যানেল আই টাকার পাহাড় বানিয়েছে, তাদের পুরোটাই শুষে খেয়েছে। হত্যাও করেছে।
বিপ্লব ভাইও আমার বেশ পছন্দের। যোগ্যতায় ঘাটতি নেই, অথচ তাকেওতো চ্যানেল আইয়ে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। তবু দীর্ঘ প্রেম বলে কথা; রক্তচোষা প্রতিষ্ঠানটির মায়ায় তিনি এই ডিফেন্স দিচ্ছেন।
চ্যানেল আইয়ে আমি একা যে কাজগুলো এক শিফটে করতাম, অন্য চ্যানেলগুলোতে তা কমপক্ষে ৩ জনে করে। এতে আমার দক্ষতা যেমন বেড়েছে, তেমনি আমাকে ঠকানোর টাকায় তেজগাঁওয়ে ওই সুদৃশ্য বিল্ডিং। মজার ব্যাপার হলো, ওই বিল্ডিংয়ে লিফটে ওঠার যোগ্যতা আমার নেই। সেটা হাই-অফিশিয়ালদের জন্য বরাদ্দ।

Saif Ibne Rafiq : মুজিব ভাই: একশ বার ওয়ান ইলেভেন এলেও এদের বিরুদ্ধে মামলা হবে না কখনো। প্রতিষ্ঠান কি জিনিষ, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।

Shameema Binte Rahman : good observation.

Ashraf Shishir : ‎Saif Ibne Rafiq, প্রতিষ্ঠান কি জিনিষ, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি !!!!!!!!!!

হয়ত এখানেই বিষয়টি শেষ হয়ে গেলো; কিংবা এ কেবলই সূত্রপাত। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29358972 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29358972 2011-04-08 00:48:24
'সৌদি থেকে খালেদার আনা ১৬ লাগেজ, ৬ কার্টুন স্ক্যানিং ছাড়াই বেড়িয়ে গেল' বিমান বন্দরের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে- সৌদি আরবে ওমরা পালন শেষে রোববার বিকেল সোয়া ৩টায় সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে বেগম খালেদা জিয়া হযরত শাহজালাল (র<img src=" style="border:0;" /> বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ সময় তার সাথে ছিলো ৫ ফুট লম্বা ১৬টি লাগেজ এবং ৩ ফুট দৈর্ঘ্য ও আড়াই ফুট প্রস্থ ৬টি কার্টুন। নিয়ম অনুযায়ী এসব লাগেজ কাস্টমস বিভাগে স্ক্যানিং করার বিধান থাকলেও তা করা হয়নি। ভিআইপি লাউঞ্জ দিয়ে এসব লাগেজ বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। শুল্ক বিভাগের একজন কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও ডিপ্লোম্যাটদের লাগেজ বাদে বাকি অন্য পেশার লোকদের লাগেজ তল্লাশি ও স্ক্যানিংয়ের আওতায় আসবে।
বি : দ্র: যে রিপোর্টার এই প্রতিবেদনটি করেছে সে আসলে দুর্ভাগা। তার বার্তা সম্পাদকের হাত থেকে এটি গুম হয়ে গেছে। হয়ত তিনি এ ঘটনার কোন নিউজ ভ্যেলু পাননি।নিউজটি আর কোন প্রতিষ্ঠানের সংবাদ শ্রমিকেরা পাবে জানি না। তাই ভাবলাম- অন্তত সামু আর এফবিতে এটি শেয়ার করা যেতে পারে। কারণ- কোন নিউজের অপমৃত্যু যে সহ্য হয় না। ও থেকে সত্য পোঁড়ার গন্ধ বের হয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29356560 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29356560 2011-04-04 00:42:26
বাংলাদেশের গ্যাসের ভরসায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে ত্রিপুরায় !!! ‘বাংলাদেশ হয়ে যন্ত্র এল ত্রিপুরায়’-শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটি ছিল এদেশে ভারতের ফ্রি ট্রানজিট সুবিধা কার্যকর হওয়া সম্পর্কিত। এর শুরুতেই জানানো হয়, পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির সরঞ্জামের প্রথম কনভয় বুধবার বাংলাদেশ হয়ে ত্রিপুরায় পৌঁছেছে। মোট ৪টি ট্রাকে আখাউড়া সীমান্তে এসে পৌঁছায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩৬০ টন যন্ত্রপাতি। ১২০ চাকার ওই ৪ টি ট্রাককে সহর্ষে স্বাগত জানান চেকপোস্টে হাজির হাজার দুয়েক ত্রিপুরাবাসী। প্রতিবেদনে বলা হয়- ‘এই প্রথমবারের মত বাংলাদেশের ট্রানজিট সুবিধা পাওয়বন্দর ও সড়কপথ ব্যবহার করে ভারতে কোনও প্রকল্পের যন্ত্রাংশ নিয়ে আসা হল।’
জানা গেছে, অয়েল অ্যাণ্ড ন্যাচারাল গ্যাস কমিশন (ওএনজিসি), ত্রিপুরা সরকার ও ইনফ্রাষ্ট্রাকচার লিজিং অ্যাণ্ড ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস-এর যৌথ উদ্যোগে ২০০৮ সালে তৈরি ‘ওএনজিসি ত্রিপুরা পাওয়ার কম্পানি’ (ওটিপিসি) এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ করছে। ওই সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুধীন্দ্র কুমার দুবের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার দাবি করেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটি চালু করা হবে। পত্রিকাটির আগরতলা সংবাদদাতা তার এই প্রতিবেদনে আরো জানান, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিশালাকার সব যন্ত্রাংশ আশুগঞ্জ থেকে প্রায় ১শ কিলোমিটার দুরবর্তী ত্রিপুরার পালাটানায় নেয়ার জন্য বিগত ৩ মাস ধরে পরিকাঠামো গড়ার কাজ করা হচ্ছে। এ জন্য বাংলাদেশে ১৬টি বাইপাস ও ত্রিপুরায় ৮টি বাইপাস তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে ৩টি জেটি ও ৩টি পার্কিং লটও তৈরি করা হয়েছে।

অপর একটি সূত্রে জানা গেছে- ওই পালাটানা বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ‘ওভার ডাইমেনশনাল কার্গো’ বা ওডিসির আওতায় (শুল্ক ছাড়া) কমপে ৮৬ জাহাজ পণ্য আসছে। এর মধ্যে ৫টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা হয়েছে। প্রথম দফায় গত ৯ মার্চ ভারতীয় এবিসি কোম্পানির একটি জাহাজ ১৪০ টন ওজনের বিশাল ২টি ‘টারবাইন’ নিয়ে কলকাতা থেকে আশুগঞ্জে আসে। এমভি সাইকা নামের জাহাজটি গত ২২ ফেব্রুয়ারি কলকাতার খিদিরপুর নৌবন্দর ছেড়ে আসে। পরবর্তীতে ১২ মার্চ এমভি মোস্তাদির-২ ও এমভি সোনালী ১৬ মার্চ, এমভি হেংগিং-২ নামের অপর একটি জাহাজ ২০ মার্চ ও আরও একটি জাহাজ ২৪ মার্চ আশুগঞ্জ নৌবন্দরে পণ্য খালাস করে।
এর আগে গত বছরের ৩১ মে আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহার করে কলকাতা থেকে আগরতলায় পণ্য পরিবহনের চুক্তি করে বাংলাদেশ। গত বছরের জানুয়ারিতে নয়াদিল্লি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের যৌথ ইশতেহারের আলোকে বাংলাদেশ সরকার মে মাসে আশুগঞ্জকে ৫ম বন্দর ঘোষণা করে। আশুগঞ্জে আন্ত:মহাদেশীয় ট্রানশিপমেন্ট কেন্দ্র চালুর ঘোষণাও দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকার ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (আইডব্লিউটিটি) চুক্তিতে এক সংযোজনীর মাধ্যমে আশুগঞ্জ দিয়ে ত্রিপুরায় ভারতীয় কার্গো ট্রান্সশিপমেন্টের অনুমোদন দিয়ে আশুগঞ্জকে দ্বিতীয় ট্রানশিপমেন্ট পয়েন্ট ঘোষণা করে।

প্রসঙ্গত, ভারতীয় পণ্যবোঝাই ট্রেইলার চলাচলকে সড়ক অবকাঠামোর তি ও স্বাধীনতা-সার্বভৌত্বকে উপোর পাশাপাশি আর্থিকভাবেও বড় তির কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেজ্ঞরা। তাছাড়া এই ট্রানজিট বাংলাদেশকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারে; এমন শঙ্কাও রয়েছে। হাসিনা-মনমোহন চুক্তির পর থেকে বিরোধী দলও অনবড়ত এমন অভিযোগ করে আসছে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29354268 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29354268 2011-03-31 12:33:06
বছরে ৯শ কোটি টাকা বিদেশে নিয়েছে জিপি! অন্যদিকে- গ্রামীণ ফোনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে নমনীয় মনোভাব দেখানো নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) ব্যবসায় জড়িত থাকার পরও ওই প্রতিষ্ঠানটিকে শুধু জরিমাণা করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আর এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা চাওয়ায় উল্টো মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিটিআরসি। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে খোদ ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব এমন অভিযোগ করেছেন। এ তথ্যটিও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ওই ২৮তম বৈঠকের কার্যবিবরণী সূত্রে পাওয়া যায়।
বিদেশী মোবাইল কোম্পানীগুলো ২০০৯-১০ অর্থবছরে এদেশ থেকে কত টাকা নিজের দেশে নিয়ে গেছে; সে তথ্য জানাতে মূলত ৬টি মোবাইল কোম্পানীরই বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের বার্ষিক হিসেব পাঠিয়েছে বিটিআরসি। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া ওই হিসেব অনুযায়ী ২০০৯-১০ অর্থবছরে গ্রামীণ ফোন এদেশে ২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা এনেছে এবং বিপরীতে ৮শ ৬৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বিদেশে পাঠিয়েছে। একই ভাবে ওরাসকম টেলিকম বা বাংলালিংক ২শ ৪০ কোটি ৪২ লাখ টাকা এনে ৫শ ৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা পাঠিয়েছে। একজিয়াটা বা রবি ৩শ ৩২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এনে ৬শ ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পাঠিয়েছে। প্যাসিফিক টেলিকম বা সিটিসেল ৭৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা এনে ১শ ২৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা পাঠিয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানী টেলিটকের জন্য বিদেশ থেকে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা এলেও তারা পাঠিয়েছে ৫১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এরপরও গত অর্থবছরে মোবাইল কোম্পানীগুলোতে বিদেশ থেকে আসা মোট অর্থের চেয়ে পাঠনো অর্থের পরিমাণ ছিলো কম। এর একমাত্র কারণ এয়ারটেলের বিশাল বিনিয়োগ। ওই বছরে তারা ২ হাজার ১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা এদেশে এনেছে; আর নিয়েছে ৩শ ৩৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এরই প্রেক্ষিতে ওই বছর শেষে ৬টি মোবাইল কোম্পানীর বিদেশ থেকে আনীত অর্থের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬শ ৮৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর বিপরীতে তারা বিদেশে পাঠিয়েছে ২ হাজার ৪শ ৮৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
এই বৈদেশিক লেনদেনে মোবাইল কোম্পানীগুলো কোন কর ফাঁকি দিয়েছে কিনা তা জানাতে পারেনি মন্ত্রণালয়। এব্যাপারে তারা সংসদীয় কমিটিকে বলেছে, ‘কর ফাঁকির বিষয়ে বিটিআরসি কোন তথ্য দেয়নি। তবে এ সংক্রান্ত তথ্য দেয়ার জন্য তাদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’ এ ব্যাপারে জানাতে শনিবার (২৬ মার্চ) সকালে ও দুপুরে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল জিয়া আহমেদ (অব.) এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তবে গত ২৩ জানুয়ারি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ওই ২৮তম বৈঠকে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল জিয়া আহমেদ (অব.) বলেছিলেন, ‘বিটিআরসি প্রতিটি মোবাইল কোম্পানীর হিসাব অডিট করবে’।
ওই বৈঠকেই কমিটির সভাপতি ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেছিলেন, ‘২০০৯-১০ অর্থবছরে বিদেশী মোবাইল কোম্পানীগুলো এদেশ থেকে কত টাকা নিজের দেশে নিয়ে গেছে তার বিবরণী জানা প্রয়োজন।’ এর আগে তিনি আরো বলেন, ‘বিদেশী বিনিয়োগ আসলেই দেশ ও জনগণেল স্বার্থ রক্ষা হয়না। বিদেশী কোম্পানীগুলো কতটাকা নিয়ে যাচ্ছে তার হিসেব রাখতে হবে।’
মুখোমুখি মন্ত্রণালয়-বিটিআরসি
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৮তম বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব সুণীল কান্তি বোস জানান, ‘ভিওআইপি ব্যাবসার সাথে জড়িত থাকার কারণে গ্রামীণ ফোনকে শুধু জরিমানা করার সিদ্ধান্তটি মন্ত্রণালয়ের নয়; বিটিআরসি’র। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিটিআরসি’র কাছে জানতে চেয়েছিলো। কিন্তু বিটিআরসি তার পাল্টা জবাবে মন্ত্রণালয়কে বলেছে, তারা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বাধীন। মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কোন ব্যাখ্যা চাইতে পারে না। এমনকি মন্ত্রণালয়ের এর কোন তদন্তের এখতিয়ারও নেই।’
এর আগে এই কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর বৈঠকে অভিযোগ করেন, ‘বিদেশী বিনিয়োগ সম্প্রসারিত করার স্বার্থেই দেশীয় ছোট ছোট পিএসটিএন কোম্পানীগুলোকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’ এই অভিযোগের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একই অপরাধে (ভিওআইপি ব্যবসায় জড়িত থাকায়) গ্রামীণ ফোনকে জড়িমানা করে ছেড়ে দেয় হল। কিন্তু দেশীয় কোম্পানীগুলোকে জরিমানা না করে লাইসেন্স বাতিলের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রমই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এটা অন্যায়।’
ড. মহিউদ্দিনের এই অভিযোগের ব্যাপারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়েই বিটিআরসি’র বিরুদ্ধে উপরোক্ত অভিযোগ আনেন সচিব সুণীল কান্তি বোস। ওই সময় তিনি আরো বলেন, ‘দেশীয় কোম্পানীগুলোকেও গ্রামীণ ফোনের মত কারণ না দর্শিয়ে জরিমাণা করা যেত।’ এরই প্রেক্ষিতে মহিউদ্দিন খান আলমগীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশীয় কোম্পানীগুলোতে শুধু বন্ধই করা হয়নি। এদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। কিন্তু গ্রামীণ ফোনের কারো বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। কারণ তারা বিদেশী। ঔপনিবেশিক আমলের এ ধরণের আচরণ স্বাধীন দেশে চলতে পারে না। জনগণকে এই অন্যায়ের জবাব দেয়ার মত ভাষা আমাদের (সংসদীয় কমিটির) নেই।’ এর আগে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী সকলকেই সংসদের কাছে জবাবদিহি করতে। সাংবিধানিক এই দায়িত্ব মন্ত্রণালয় বিটিআরসির উপর ন্যস্ত করতে পারে না।’
পরবর্তীতে ওই বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল জিয়া আহমেদ (অব.) আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেন, ‘যখন গ্রামীণ ফোনকে জরিমানা করা হয়েছে তখন বন্ধ হওয়া দেশী কোম্পানীগুলোকেও বন্ধ জরিমানা করা হয়েছিলো। কিন্তু জরিমানা দেয়ার পরও তারা শোধরায়নি। তাদের কোন গ্রাহক তালিকাও ছিলো না। এর আগে তিনি জানান, বন্ধ হওয়া দেশীয় ৫টি পিএসটিএন কোম্পানী দৈনিক ১ কোটি টাকা হিসেবে বছরে নূন্যতম ৩শ ৬০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে।’
এছাড়া ওই বৈঠকে গ্রামীণ ফোনকে রেলওয়ের অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করতে দেয়ারও সমালোচনা করেন এই সংসদীয় কমিটির সভাপতি ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রম। প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এ কে খন্দকার, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও আ ন ম শামশুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

(প্রতিবেদনটি সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ'র বর্তমান সংথ্যায় প্রকাশিত হয়েছে)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29352399 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29352399 2011-03-28 01:10:33
আমার সাম্প্রতিক বিমান ভ্রমণ কিংবা ... বিমান নিয়ে অনেক আগেই লিখেছি, এখনো লিখছি; হয়ত আগামীতেও লিখবো।তবে এ নিয়ে সম্প্রতি যে প্রতিবেদনগুলো করেছি; তাতে নিজেই বেশ মজা পেয়েছি। এই প্রতিবেদনগুলো শীর্ষ কাগজ এবং শীর্ষ নিউজ ডটকমে প্রকাশিত হয়েছে। আমার এই সাম্প্রতিক বিমান ভ্রমণ ক্যামন লাগলো; জানাবেন।

"বিমানের দুর্নীতি-অনিয়মের শ্বেতপত্রে যা বলা হয়েছে"

উড়োজাহাজ ক্রয়, ভাড়া নেয়া ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে সংগঠিত দুর্নীতি-অনিয়মের এক শ্বেতপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই শ্বেতপত্র বা তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেছে সংসদীয় উপ কমিটি। এরই আলোকে এ দুর্নীতি-অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে (৮ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৩ বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়।
এর আগে ওই বৈঠকেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ওই ১৮ বছরের দুর্নীতি-অনিয়ম সংক্রান্ত প্রতিবেদন উত্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট উপ কমিটির প্রধান মইন উদ্দিন খান বাদল। এই প্রসঙ্গে আলাপকালে কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন শীর্ষ কাগজকে জানান, এই প্রতিবেদনের আলোকে চিহ্নিত দুর্নীতি-অনিয়মের ব্যাপারে দুদক-এর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। বিমান মন্ত্রীও এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে কমিটিকে আশ্বস্ত করেছেন। তবে গত ১১ মার্চ দেশের প্রথম সাঁড়ির একটি পত্রিকায় প্রকাশিত সাক্ষাতকারে বিমান মন্ত্রী জি এম কাদের অভিযোগ করেছেন- তাকে এই তদন্ত প্রতিবেদনটি দেয়া হয়নি। কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে তিনি এই প্রতিবেদনটি চাইলে কমিটির সভাপতি তাকে জানান, এটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে জমা দেয়া হবে।

তার আগে এই তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট এক প্রশ্নের জবাবে সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ শীর্ষ কাগজকে বলেন, ‘ওই সময়ের দুর্নীতি-অনিয়মের জন্য বিমানের কর্মকর্তাদের অসাধুতার চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাবই বেশী দায়ী।’ এর আগে গত বছরের ১৬ মে এই সংসদীয় কমিটির ১৬তম বৈঠকের পর তিনি জানিয়েছিলেন, বিমানের ক্রয়, ভাড়া ও রক্ষনাবেক্ষণ খাতে প্রায় ১শ মিলিয়ন ডলার তথা ৭শ কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারী উপ কমিটি। ওই দিন মোশাররফ আরো বলেছিলেন- ‘হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমল থেকেই এ অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু হয়েছে। এর সাথে বিরোধী দলীয় নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ও তার ভাইয়েরাও জড়িত।’
এদিকে- ১২ পৃষ্ঠার এই তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্নীতি-অনিয়মের নানা ফিরিস্তি তুলে ধরা হলেও এর মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া অর্থ বা মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। তবুও এই প্রতিবেদনটিকে ‘বিমানের বর্তমান সংকট, সমস্যা, ক্রমাগত লোকসান ও অবক্ষয়ের কারণ চিহ্নিতকরণ এবং এরই প্রেক্ষিতে এ সংকট থেকে উত্তরণের উপায় নির্ণয়মূলক সয়ংসম্পূর্ণ প্রতিবেদন’ বলে দাবি করেছে কমিটি।

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের দাপট
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডে দুর্নীতি-অনিয়মের দুয়ার খুলে দিয়েছে বলে দাবি করেছে সংসদীয় উপ কমিটি। আর এ জন্য জাতীয় পার্টির প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দারসহ সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে সরাসরি দায়ী করেছে তারা। একই সাথে এদের বিরুদ্ধে দুদক-এর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করার পরামর্শ দিয়েছে তদন্তকারীরা।
উপ কমিটির এই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বার বারই বিমান কতৃপক্ষের সুপারিশ বা মতামত অমান্য করে ব্যাক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থে ব্যাংক থেকে উচ্চহারে সুদসহ ঋণ নিয়ে উড়োজাহাজ ক্রয় বা ভাড়া করা হয়েছে। এর ফলে বিমানকে একদিকে অসম প্রতিযোগীতার সম্মুখীন হতে হয়েছে; অন্যদিকে- ওই সুদ-আসলের বোঝা বিশাল বিমানকেই বহন করতে হওয়ায় প্রকৃত লাভের মুখ দেখা মরীচিকায় পরিণত হয়। রাষ্ট্র ও সরকারের সর্বোচ্চ মহলের এই দুর্নীতি এবং এর সাথে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতাই তিলে তিলে বিমানের নৈতিকতা ধ্বংস করে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বিমান ক্রয়, ভাড়া নেয়াসহ রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে সংগঠিত দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে জানানো হয়- এরশাদ তার শাসনামলে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে ৩টি এফ-২৭ উড়োজাহাজ মেরামত ও তাদের সৌন্দর্যবর্ধন করান। কিন্তু এই উড়োজাহাজগুলো বিমানে যোগ দেয়ার পরপরই তিনি আবার তা বিক্রি করে দেন। এরপর পতনের কিছু দিন আগে ১৯৯০ সালে এরশাদ আবারো বিমানের মতামতকে উপেক্ষা করে ব্যাংক ঋণ নিয়ে তৎকালীন বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশী দামে (৬০ মিলিয়ন ডলারে) একটি নতুন ডিসি-১০ ক্রয় করেন। অথচ ওই বছরই এই মডেলের উড়োজাহাজের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
বিএনপির প্রথম (১৯৯১-৯৬ সাল) শাসনামলের দুর্নীতি-অনিয়ম প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ওই সময়ে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার বিমানকে ৬৪টি সমস্যা যুক্ত একটি এয়ারবাস-৩১০ গছিয়ে দেন। একই ভাবে ১৯৯৫ সালে তিনি বিমানের সুপারিশ অগ্রাহ্য করে প্রয়োজন ছাড়াই ব্যাংক ঋণ নিয়ে আরো দুটি এয়ারবাস-৩১০ কিনতে বাধ্য করেন। এছাড়া তিনি অটো স্পেয়ার পার্টস ডিলার ফাহাদের সাথে মিলে বিমানের ইঞ্জিন ও ল্যান্ডিং গিয়ার মেরামতের খাতে থেকেও বিপুল অর্থ আত্মসাত করেন। মীর নাসিরের দুর্নীতি প্রসঙ্গে উপ কমিটি বলেছে- তিনি এঅজটউঅ থেকে উড়োজাহাজে ঘাস গজাচ্ছে এমন একটি এফ-২৮ ক্রয় করান। এক্ষেত্রে উড়োজাহাজটি যাচাই করার জন্য বিমানের পক্ষ থেকে যে বৈমানণিক পাঠানো হয়েছিল, তার মতামতকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা হয়। পরে এই নাসিরের চাপেই বিমানকে দুটি বি-৭৩৭ লীজ নিতে হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে- এ দুটি উড়োজাহাজই বিমানের রক্ত চুষে খেয়েছে। এছাড়া নাসিরের নির্দেশেই দীর্ঘ দিন পরিত্যাক্ত অবস্থায় থাকা অঞচ-গুলো উচ্চ মূল্যে মেরামত করে না চালিয়েই সর্বনিম্ন মূল্যে বিক্রি করে দেয়া হয়।
এ তদন্ত প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের বিগত (১৯৯৬-২০০১ সালের) শাসনামলের কোন দুর্নীতি-অনিয়মের কথা নেই। তবে এর শুরুতেই দাবি করা হয়- রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডই বিমানকে লক্ষ্যহীন ও বিভ্রান্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে। এখানে তারা বিমানকে বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য প্রতিষ্ঠান ও বঙ্গবন্ধুকে বিমান নিয়ে স্বপ্নচারী নেতা বলে উল্লেখ করেন।

পরিচালকদের ‘ব্যবসা জ্ঞান’ নেই !
সংসদীয় উপ কমিটি মনে করছে- আন্তর্জাতিক এভিয়েশন ব্যবসা সম্পর্কে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের কোন ধারণা নেই। আর এ কারণেই প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক পরিকল্পনাও সঙ্কটাপন্ন। তাই জরুরী ভিত্তিতে ওই পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের তাগিদ দিয়েছে তারা। উপ কমিটির দেয়া প্রতিবেদনে এনিয়ে বলা হয়েছে- ১৯৭৭ সালে পাবলিক সেক্টর কর্পোরেশনে পরিণত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকার মনোনীত পরিচালকরাই বিমানকে পরিচালনা করছেন। কিন্তু বিমানের পরিচালকদের মনোয়নের পূর্বে কখনোই এভিয়েশন ব্যবসা সম্পর্কে তাদের জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা খতিয়ে দেখা হয়নি। এটিকে বিমানের পদস্খলনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে উপ-কমিটি। প্রতিবেদনের ‘বিমান পরিচালনা সংকট’ শিরোনামে দেয়া অনুচ্ছেদে বলা হয়, বিমানের পরিচালনা বোর্ড বা পর্ষদের সদস্য হিসেবে যাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাদের বিভিন্ন পেশায় দক্ষতা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন ব্যবসার ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞান তো দূরের কথা, সামান্য ধারণাও নেই। অথচ এই পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের উপরই বিমানের বছরে ৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা নির্ভর করছে। এই পরিস্থিতিই বিমানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে।
এ অবস্থাকে জাতির জন্য লজ্জাকর আখ্যা দিয়ে সংসদীয় উপ কমিটি বলেছে- বিমানকে বাঁচানোর লক্ষ্যে এয়ারলাইন্স পরিচালনায় অভিজ্ঞ ব্যাক্তিদের নিয়ে জরুরী ভিত্তিতে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই। একই সাথে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য এই পর্ষদের ক্ষমতার সীমারেখা নির্দিষ্ট করে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সিইও (পদাধিকার বলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক) এর উপর সার্বিক দায়িত্ব ন্যাস্ত করা জরুরী। কমিটির সদস্যরা মনে করেন- নীতি-নির্ধারনী বিষয়গুলো ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে বিমানের সিইও-কে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেয়া উচিত। এক্ষেত্রে তাকে শুধুমাত্র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরদের পরামর্শ নিতে হবে। প্রতিবেদনে বিমানের বাণিজ্যিক পরিকল্পনার হতশ্রী অবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে উপ কমিটি। এনিয়ে ‘বিমানের বাণিজ্যিক পরিকল্পনা সংকট’-শিরোনামের একটি অনুচ্ছেদও যুক্ত করেন তারা। এক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের অযোগ্যতার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাদের অসহায়ত্বের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
এই সংসদীয় তদন্তে সংশ্লিষ্ট এক সংসদ সদস্য নাম প্রকাশ না করা শর্তে শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, সরকার বিমানকে লাভজনক করার জন্য একের পর এক পদপে নিলেও শুধু এই অপেশাদার-অদ পরিচালনা পর্ষদের কারণে ফল হয়নি। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সামরিক প্রশাসন থেকে এ প্রতিষ্ঠানটির সিইও (পদাধিকার বলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক) নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু সরকারে বোঝা উচিত- এটা একটা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। তাই বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে যাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা উচিত। তিনি আরো বলেন, সামরিক কায়দায় বিমান চালানো মুশকিল। এতে লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশী। এখান থেকে বের হতে না পারলে এ বহু সম্ভাবনাময় এই প্রতিষ্ঠানটি কোনদিনও লাভের মুখ দেখবে না।
প্রসঙ্গত- অতীতের ধারা বজায় রেখে বর্তমান সরকারও ক্ষমতায় এসেই বিমানের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছিল। তবুও উড়োজাহাজ লীজ নেয়া, যন্ত্রাংশ ক্রয়সহ বিভিন্ন খাতে কমিশন বাণিজ্যের কর্তৃত্ব নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, এই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং বিমান পরিচালকদের ত্রিমুখী দ্বন্দ্বের বিষয়টি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি এর জেরে পদত্যাগেরও হুমকী দিয়েছিলেন মন্ত্রী জি এম কাদের। গত বছরের মাঝামাঝি (১৮ জুলাই) এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন- বিমানের পরিচালনা পর্ষদ অনেক ক্ষেত্রেই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। সর্বশেষ গত ৮ মার্চ সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী জানান, গত অর্থ বছরে ৮০ কোটি টাকা লোকসানের ব্যাপারে বিমান পরিচালকদের দেয়া অজুহাত যথাযথ নয়।

প্রসঙ্গ : বিদেশী স্বার্থ রক্ষা
দেশের চেয়ে বিদেশীদের স্বার্থটাই বেশী রক্ষা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড। উড়োজাহাজ ক্রয় বা ভাড়া নেয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও নগ্ন ভাবে বিদেশীদের স্বার্থসিদ্ধিতে তৎপর জাতীয় এই সংস্থাটি। এনিয়ে সংসদীয় তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- পৃথীবির সব দেশই তাদের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এছাড়া অন্য দেশের সাথে দ্বি-পক্ষীয় চুক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের পতাকাবাহী বিমান সংস্থার মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হয়। শুধুমাত্র বাংলাদেশে কতিপয় আমলা ও ক্ষমতাসীন মহলের স্বার্থ রক্ষায় এমনটা করা হয় না।
এর আগে এই প্রতিবেদনের শুরুর দিকেই উড়োজাহাজ ক্রয় ও লীজগ্রহণসহ বিভিন্ন চুক্তিতে বিদেশীদের লাভবান করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পরে বিভিন্ন দেশে বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রেও সেই একই ঘটনার পুনুরাবৃত্তি বেশ গুরুত্ব দিয়েই উপস্থাপন করেছে এই উপ-কমিটি। তারা জানিয়েছে- সাধারণত সমতার ভিত্তিতেই দুটি দেশের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার ফাইট সংখ্যা ও ফ্রিকোয়েন্সি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিমান বাংলাদেশকে দেয়া সুবিধার চেয়ে বেশী সুবিধা ভোগ করছে বিদেশী সংস্থাগুলো।

উদাহরন দিতে গিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়- বিমান বাংলাদেশ প্রতি সপ্তাহে কাতারে মাত্র ২টি ফাইট অপারেট করলেও কাতার এয়ারওয়েজকে ৫টি ফাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কাতার এয়ারওয়েজের বাড়তি ৩টি ফাইেেটর উপর কোন ‘রয়্যালিটি’ (সম্মানি) ধার্য করা হয়নি। গালফ এয়ারকেও একই ধরণের সুবিধা দিয়ে বিমানের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। এমিরেটস এয়ারলাইন্স আবার বিসমিল্লাহ এয়ারলাইন্স নামের এক বাংলাদেশী বেসরকারি এয়ারলাইন্সের সাথে কোড শেয়ার চুক্তি দেখিয়ে বিমানকে ‘রয়্যালিটি’ (সম্মানি) থেকে বঞ্চিত করেছে। একই সাথে তারা হ্যান্ডেলিং চার্জ বাবদ শতকরা ৩০ ভাগ ডিসকাউন্ট নিয়ে বিমানকে আর্থিক ভাবে বঞ্চিত করেছে। আরো একাধিক বিদেশী বিমান সংস্থার কাছ থেকে নিজেদের প্রাপ্য আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে বিমান।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে- এদেশীয় বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোকে বিদেশে ফাইট পরিচালনার সুযোগ দিয়ে নিজের পারে কুড়াল মারা হয়েছে। কারণ, এদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর একটি বা দুটি স্বল্প আসনের বিমান রয়েছে। অথচ তাদের অন্যান্য বৈদেশিক স্টেশনে অপারেট করার অনুমতি দেয়ায় ওই সব দেশের বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোকেও এদেশে অপারেট করার অনুমতি দিতে হচ্ছে। আধুনিক ও বৃহদাকৃতির উড়োজাহাজ সমৃদ্ধ বিভিন্ন দেশের বেসরকারি সংস্থা এই সুযোগ পাওয়ায় বিমান তার প্রাপ্য ‘রয়্যালিটি’ (সম্মানি)-এর পাশাপাশি নিজস্ব যাত্রীও হারাচ্ছে। ভারতের জেট এয়ারসহ দুবাইয়ের র‌্যাক, ইত্তেহাদ ও আল-এরাবিয়া এয়ারলাইন্স বিমান বাংলাদেশকে প্রায় পঙ্গু করে ফেলেছে। অথচ বাংলাদেশী বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো প্রতিযোগীতা করা তো দূরের কথা, নিজেদের পায়েই দাঁড়াতে পারছে না। তার উপরে রাশিয়া, উজবেকিস্তান, ভূটান, চায়ণা ও ইরানের এয়ারলাইন্সগুলোকে স্ব-প্রণোদিত হয়ে ফাইট অপারেটের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ।
বিদেশী বিমান সংস্থাগুলোকে এভাবে আর্থিক সুবিধা প্রদানের বিষয়গুলো তদন্ত হওয়া উচিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে এই সংসদীয় উপ কমিটি। এই বিষয়টি নিয়ে আলাপের জন্য শনিবার (১২ মার্চ) সকালে ও দুপুরে বিমান মন্ত্রী জি এম কাদেরের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

এবং অন্যান্য...
এই সংসদীয় তদন্ত প্রতিবেদনের আলাদা আলাদা অনুচ্ছেদে বিমানের স্টোর অব্যবস্থাপনা, টেন্ডার ও জিএসএ নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি এবং বিভিন্ন চুক্তিপত্রের অসঙ্গতির ব্যাপারেও সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া আধুনিক উড়োজাহাজের অভাব জনিত দুর্বলতাসহ বিমানের সম্ভাবনার ক্ষেত্র ও প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করার সুপারিশ নিয়ে আরো ৩টি অনুচ্ছেদে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিএনপির কাছে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য আছে
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য রয়েছে। রবিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ জয়নুল আবদীন ফারুক এ তথ্য জানান।
জয়নুল বলেন, আমাদের কাছেও রিপোর্ট আছে- ইজ্ঞিনিয়ার মোশাররফ যখন বিমান মন্ত্রী ছিলেন তখন তৎকালীন বাজার মূল্যে ৪৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আবুল খায়ের লিটু ও তার সন্তানদের বিনা টেন্ডারে লীজ দিয়েছেন। খোদ মহাজোটেরই সংসদ সদস্য মইন উদ্দিন খান বাদল জাতীয় সংসদে তার (ইজ্ঞিনিয়ার মোশাররফের) এই বিশাল দুর্নীতির বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিমান বন্দর নির্মাণের সময় তিনি কত টাকা দুর্নীতি করেছিলেন; সে তথ্যও আমাদের (বিএনপির) কাছে আছে।

এর আগে সংসদীয় উপ কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের দুর্নীতি-অনিয়মের সাথে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার ও বিএনপি নেতা সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে সরাসরি অভিযুক্ত করায় তীব্র সমালোচনা করা হয়। ফারুক বলেন, সরকার জাতীয় সংসদের মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে দলীয়করণ করেছে। এই কমিটিগুলো দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা, তার পরিবার এবং বিএনপির সাবেত মন্ত্রীদের হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে।
উড়োজাহাজ ক্রয়, ভাড়া নেয়া ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে সংগঠিত দুর্নীতি-অনিয়মের ব্যাপারে উপ-কমিটির দেয়া ওই প্রতিবেদনের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, এই উপ-কমিটিতে বিরোধী দলীয় সদস্যকে রাখা হয়নি। এমনটি এই উপ-কমিটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির বিরোধী দলীয় সদস্য ফরহাদ হোসেন কিছুই জানেনা। তারা ১৮ বছরের দুর্নীতির তদন্ত করেছে; অথচ ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগের শাসন আমলের কোন দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে কিছুই লেখা নেই। ফারুক আরো বলেন, শামীম ইস্কান্দার বিমানে চাকুরি করলেও তিনি কোন ক্রয় সংক্রান্ত কাজে জড়িত ছিলেন না। তাই এক্ষেত্রে তার কোন দুর্নীতি করার প্রশ্নই উঠেনা। তাকে রাজনৈতিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই সংসদীয় কমিটি এমন অভিযোগ তুলেছে। এসময় দুর্নীত নিয়ে সংসদীয় কমিটি ও বিমান মন্ত্রী জি এম কাদেরের প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের বিষয়টিও উপস্থাপন করেন বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ।
প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৩ বৈঠকে উপ-কমিটির ওই তদন্ত প্রতিবেদনটি পেশ করা হয়। এই প্রতিবেদনটি নিয়ে শীর্ষ নিউজ ডটকম টানা ৩দিন (১০, ১১ ও ১২ মার্চ) ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরে বিভিন্ন পত্রিকায়ও এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ছাপা হয়।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29351818 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29351818 2011-03-27 00:50:25
এক খ্যাপাটে কবি বা একজন ইবনের মৃত্যু এবং অন্যান্য... "রাকিবুল হক ইবনকে নিয়ে লেখার কেউ নেই। নবীন-প্রবীণ কয়েকজনই আমাদের প্রত্যাখান করেছেন। সব্বাই আবার সরাসরি না বলেননি। না বলার এটাই রীতি। যাই হোক, আসুন আমরা কবি ও ব্যক্তি ইবনকে যে যেমন জানি, তেমনটাই জানাই অন্যদের। এখান থেকেই একটি যৌথ লেখার জন্ম হতে পারে, যার মধ্য দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় অকাল প্রয়াত এ কবিকে ভালোবাসা জানানো সম্ভব।"-একটু আগে ফেসবুকের মূল পাতায় ইত্তেফাক সাময়িকীর এমন একটি আহবান দেখে বেশ ভালো লাগলো। হয়ত এই ভালো লাগা থেকে তৈরী হওয়া দায় বোধ থেকে এ লেখাটি শুরু করছি। আশাকরি যৌথ লেখাটি সাজাতে রাজীব ভাই (রাজীব নূর)-কে একটু হলেও সাহায্য করতে পারবো।

গত ৭ মার্চ সন্ধ্যায় এই ফেসবুকে টোকনদা মানে টোকন ঠাকুরের দেয়া ইবনের একটি ছবি আর তার ক্যাপশন দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। ক্যাপশনটি ছিলো এমন "আজ সকালে অভিজিৎ দাস ফোন করে জানাল, ইবন মারা গেছে। তরূণ কবি রাকিবুল হক ইবন রোড অ্যাকসিডেন্ট মারা গেল। ইবনকে খুব ভালোবাসতাম, এখনো বাসি। দুঃখ, ওকে আর কাছে পাব না কোনোদিন। জানাতেও পারব না, ওরে পাগল- তোর ভেতরের আগুন আমি পড়তে পারতাম।তুই একটু সময় চাইতিস, দিতে পারলাম না! ক্ষমা করবি, তোর 'গুরু-জী' কে?"

ইবনের সাথে প্রায় ৩/৪ কিংবা ৫/৬ মাস আগে আমার শেষ কথা হয়। সে দিনের ঠিক একদিন আগে সে ছবির হাট এসে তার একটি বইয়ের বিনিময়ে কিছু টাকা চেয়েছিল। কিন্তৃ সেদিন আমিও ছিলেম কর্পদশূন্য। পরে অবশ্য চারুকলার সাদিক ভাই ( সাদিক আহমেদ ) তার বইটি কিনেছিল। এরপর সে যে চলে গেল; ওটাই ছিলো আমাদের শেষ দেখা। তখন অবশ্য সে আমাকে পরদিন তার শান্তিবাগ মাটির মসজিদ সংলপ্ন বাসায় যাওয়ার জন্য খুব করে বলেছিলো। পরদিন সে ফোনও করেছিলো। কিন্তু আমার আর যাওয়া হয়নি; আমাদের আর দেখাও হয়নি। এই ফাঁকিবাজকে তাই এভাবেই ফাঁকি দিল কবি।

ইবনের মৃত্যু সংবাদটা সবাইকে জানাতে টোকনদার ওই ছবির লিংকটা নিজের দেয়ালেও প্রকাশ করেছিলাম। সেখানে এসেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।

নির্মলেন্দু গুন বলেছেন, "Feling bad. He was a promising young poet. He wanted to stay close to me. I almost rented a room in Kamrangir chor, but finally he did not turn up. He was running short of regular money. When he got money from his mother from Canada, he fail...ed to make good use of it. A very sentimental boy he was. Suffered lot from lot of physical illness ( cancer) . He wanted to go to Canada to live with her mother but failed to get Canadian visa, so lived alone in darkness. I did not see him very recently, but he was in my mind. At last he died. It was a very sad end of a boy who suffered so much. I read some of his poems and felt he was wiser than his age. I know his mother will now feel guilty for her son. Sorry Ebon, I could not help you survive. Excuse me, my boy. You will be remebered for your poetry for many days to come."

তুষার গায়েন লিখেছেন- "২০০২ সালের দিকে, যতদুর মনে পড়ে, ইবনের সাথে আমার পরিচয় হয়। পরিচিত হবার আগেই ওর দুটো কবিতার বই আমার হাতে আসে । প্রথম বইয়ের (অবিশ্বস্ত পৃথিবী আমার) ফ্লাপে ওর ছবি দেখে আমি চমকে যাই ! গোঁফের রেখাও ওঠেনি এমন এক কিশোরের ছবি, যার চোখ দুটো জ্বলজ্বল ...করছে এক সৃষ্টিশীল বিদ্যুতের তীব্রতা নিয়ে। সে অভিমানী পৃথিবীর উপর কারণ কাল অকালেই হরণ করতে চাইছে ওর আয়ু, অন্যায়ভাবে পৃথিবী বঞ্চিত করতে চাইছে ওর সৃষ্টি ও সম্ভোগের অধিকার থেকে ! ওর দ্বিতীয় বইয়ের ফ্লাপে (যথাযোগ্য বিষাদ... ) চোখের সেই উজ্জ্বলতা আর নেই, বিষাদ ভর করেছে দূরারোগ্য অসুখের ছায়া নিয়ে। দুটো বইয়েই ওর কাব্য প্রতিভার ধার ও স্বকীয়তা টের পাই। অচিরেই পরিচয় হয়, বন্ধুত্ব হয়, কবিতা ও অসুখ নিয়ে আলোচনা হয়; আমি হাঁটি ওর সাথে অনেকদিন, জানতে পারি ওর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন, অসুখের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ওর মায়ের আমেরিকা গমনের কথা। চিকিৎসার ব্যাপারে আমি কোনো সাহায্য করতে পারি কি না জানতে চায় রাকিব। আমার বড় বোন কৃষ্ণা গায়েন তখন এডিনবরা ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছেন। আমি তাঁকে এব্যাপারে বলি। দিদি ওকে সাহায্য করার ব্যাপারে সম্মত হয় এবং সে অনুযায়ী রাকিব যাতে ইংল্যাণ্ডের ভিসার জন্য দাঁড়াতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠায় । কিন্তু রাকিব কেন জানি শেষ পর্যন্ত আর ইংল্যাণ্ডের ভিসার জন্য আবেদন করে না, বরং সিঙ্গাপুরে যায় চিকিৎসার জন্য; ফিরে আসে যথারীতি। ২০০৫ সালে কানাডায় চলে আসার আগ পর্যন্ত আমার সাথে কম বেশী যোগাযোগ রাখত। বাসায় এসেছে কয়েকবার, আমিও একবার গিয়েছিলাম। শেষবার দেখা হয় আমাদের এলিফ্যান্ট রোডের বাসায়; আমরা কথা বলি কবিতা নিয়ে, অসুখ নিয়ে, আমরা পান করি কালো কফি - কবিতার আত্মায় চুমুক দিতে দিতে। তারপর আবার দেখা নেই, ফোন করি, উত্তর নেই, কোথায় কোন মৃত্যুর ছায়া ওকে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ায়, কে জানে ! আজ ৫ বছরের বেশী হ'ল, আবার ইবনের খবর পেলাম। কিন্তু তখন তো ও আর লোকে নেই, লোকান্তরে। হায়, অভিমানী-বেহিসাবী-প্রখর কিশোর, তোমার কবিতার জগত খুঁজে নিও তবে ওই লোকান্তরে, যেখানে অসুখ নেই !

মুজিব মেহদী বলেছেন, "ইস! মনটা হঠাৎই খুব খারাপ হয়ে গেল।" আর কাবেরী গায়েন বলেছেন- ‎"হায়, অভিমানী-বেহিসাবী-প্রখর কিশোর, তোমার কবিতার জগত খুঁজে নিও তবে ওই লোকান্তরে, যেখানে অসুখ নেই !"

টোকনদার ওই ছবিটিতে প্রায় শ'খানেক মন্তব্য পড়েছে। সেখানেও দু:খ প্রকাশ বা স্মৃতিচারণা করেছেন অনেকে। সেখানে শশ্মান ঠাকুর লিখেছেন, "বইমেলায় ইবনের শেষ ফোন....তোমার সাথে কবিতার একটা সম্পাদনার কাজ করতে চাই....আর কোনদিন দেখা হবে না।"

হাসানাল আব্দুল্লাহ লিখেছেন "সংবাদটা খুবই কষ্টের। ওকে আমিও নানা করাণে পছন্দ করতাম। কিন্তু ওর পরিবার ওর ক্যানসারের কথা বলে যে অর্থ ও বিত্তের মালিক হয়েছে তাকে আমি কখনো সমর্থন করতে পারিনি, যদিও বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আগে অনেকের মতো আমিও যথেষ্ট সাহায্য করেছি। ...তথাপি আজ ইবন গত হয়েছে, এটা কষ্টের যে একজন প্রতিভাবান তরুণ কবি এভাবে অকালে ঝরে গেলো। গত বছর সামারে সর্বশেষ ইবন আমার সাথে যোগাযোগ করেছিলো।"

সৌমেন ধর লিখেছেন-"এই ক্ষণজন্মা কবির সাথে আমার কখনো কথা হয়নি। তবে ওর ক্যান্সার নিয়ে যখন লেখালেখি হয় তখন আমি ভোরের কাগজে। সেই থেকে তার কবিতা পড়েছি। তাকে জেনেছি। কথা বলার ইচ্ছে ছিল। অনেক অপূর্ণ ইচ্ছার মতো এটিও চিরকালের অপূর্ণ রইলো। হায়, জীবন এতো ছোট কেন...। আজ সারাদিন এবং আরো ক'টা দিন মনটা খারাপ থাকবে।"

ছিবটিতে ৯ মার্চ মানে ইবনের মৃত্যর দু'দিন পরে করা মন্ত্যবে দীপু হাসান লিখেছেন- "আমি আমার জীবনে দুটা জিনিস খুব এড়াইয়া চলতাম । একটা হচ্ছে বিবাহ অনুষ্ঠান আরেকটা হচ্ছে মৃত্য পরবর্তী প্রক্রিয়া । বিবাহ অনুষ্ঠানে আমি যাইনি বহুদিন তাতে আমার চৌদ্দগোষ্ঠী আমাকে অসামাজিক বলে (আমার কিছু যায় আসে না)। আর দশ বছর বয়সে বাবা মারা যাওয়ার... সময়টা ছোট ছিলাম বলে মৃত্য পরকর্তী প্রক্রিয়াটি আমাকে দেখতে দেওয়া হয়নি (তারপর থেকে তা আমি এড়িয়েই চলতাম)। ইবন-এর লাশের সাথে গেলাম, গোসল হওয়ার পর চেহারাটা অসম্ভব সুন্দর হয়ে গেলো । সারামুখটিতে শান্তি বিরাজ করছিল, তবে সত্যিই সব কষ্টের অবসানই হলো তোমার ? আহ শান্তি ! ভালো থেকো ! তোমার কবিতাই তোমাকে বাচিয়ে রাখবে, বেচে থাকবে তুমি আমাদের মাঝে । সত্যিই আপনজন হারানোর ব্যথা অনুভব করছি ইবন । স্কুল ফাকি দিয়ে যে পথ ধরে বহুদুর হেটে যেতাম, সে পথে আমি একা !"

ইবনের মৃত্যর সংবাদটি পরের দিন বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো। এমন দুটি সংবাদও এখানে তুলে দিচ্ছি।

সড়ক দুর্ঘটনায় তরুণ কবি রাকিবুল হক ইবনের মৃত্যু (কালের কন্ঠ)
সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন তরুণ কবি রাকিবুল হক ইবন (২৪) (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। ধানমণ্ডির একটি হাসপাতালে তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গতকাল সোমবার সকাল ৮টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। গতকাল বিকেলে তাঁর মরদেহ নানার বাড়ি মাদারীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে রাতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হেরে গেলেন কবি ইবন (জনকন্ঠ)
কিশোর বয়সে নিজের কাব্য প্রতিভা দিয়ে সকলকে বিস্মিত করা কবি রাকিবুল হক ইবন আর নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত কবি তিন দিন মৃতু্যর সঙ্গে লড়ে সোমবার পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে সকাল ৮টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিলস্নাহি...রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ২৪ বছর। রাকিবুল হক ইবনের অকাল মৃতু্যর খবর ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। শেষবারের মতো কবিকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
কবির পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে গুলিসত্মানে ট্রাকের ধাক্কায় মারাত্মক আহত হন ইবন। সে রাতেই তাঁকে ধানম-ির ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের আইসিইউতে টানা চারদিন থাকার পর মৃতু্যর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। বিকেলে তাঁর মরদেহ নানাবাড়ি মাদারিপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে রাতে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
কবি রাকিবুল হক ইবন ১৯৮৪ সালের ২৬ ফেব্রম্নয়ারি মাদারীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অবিশ্বসত্ম পৃথিবী আমার' প্রকাশিত হয় ২০০০ সালে। বইটি সে সময় অভাবনীয় সাড়া ফেলে। কিশোর বয়সী কবির মধ্যে বিস্ময়কর প্রতিভা দেখে বইয়ের ভূমিকা লেখেন দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী লেখক আহমদ ছফা। এ কাব্যগ্রন্থে কবি লেখেন_ 'চারদিকের পরিবেশ/ পরিস্থিতির কথা চিনত্মা করে আমি/ এই সিদ্ধানত্মে উপনীত হয়েছি যে, বস্তুত/ মৃতু্যর চেয়ে বিশ্বসত্ম আর কিছুই নেই/অবিশ্বসত্ম পৃথিবী আমার।' তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'যথাযোগ্য বিষাদ যথাযোগ্য আগুন'। এ বইটিও স্পষ্টত জানান দেয়, অফুরনত্ম সম্ভাবনার কবি আসছেন। দেশের প্রধান কবি শামসুর রাহমান বই দুটি পড়ে এত অভিভূত হন যে, নিজের বন্ধু করে নেন ইবনকে। সব সময় তাঁর পাশে রেখে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেন। একইভাবে বয়সের পার্থক্য দূরে ঠেলে তাঁকে পরম আত্মীয়ের মতো কাছে টেনে নেন দেশের খ্যাতনামা কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতি-কর্মীরা।

২০০৯ সালে বগুড়ার থেকে প্রকাশিত লিটলম্যাগ থার্ডম্যাগে প্রকাশিত একটি লেখাও দিলাম।

প্রতেক দশকেই কিছু কিছু আগুন থাকে। ম্যাচবাক্ন্ররর সহিত কাঠির ঘর্ষণ পাওয়া মাত্রই দপ্ করে জ্বলে উঠে। প্রকৃতির অমোঘ বিধানে আবার দ্রুত নিবেও যায়। কিন্তু অস্তায়নের পূবে কবি কর্তৃক জীবন সস্পর্কিত যেসব ম্যাসেজ শৈল্পিক ধ্যানে ক্রমাগত নিজস্বতা, নতুন চিন্তাধারার প্রাণনায় অন্তর্মগ্ন থেকে অংশতঃ আলোকবর্তিকা রূপে যা কিছু স্ফটিক রশ্মি বঙ্গ সাহিত্যের কাব্যভাণ্ডারে অর্পন করে তা স্বর্ণ সৌধপুঞ্জ শ্বাশত স্তম্ভতুল্য। তারা গতানুগতিক প্রয়াসসিদ্ব গড্ডলঐতিহ্যকে বায়ে রেখে দক্ষিনেঃ সেখানে বিশ্ববোধের সাথে নন্দন চেতনার স্ফূর্ত-স্ফূরণ। সেখানে রত্নসম্ভারের প্রাচুর্য তুলনারহিত; গভীর সমুদ্রের তলদেশে ডুব দেবার ক্ষমতা এবং বিস্তীর্ণ রত্নরাজির ভেতর থেকে, ডুবুরীর সততায় মূল্যবান ধাতব ঐশ্বর্য ধারন করবার দক্ষতা অতুলনীয়। বস্তুত কবিতার বর্ম ও সজ্জা সাজাতে ইমেজ শূন্য নয়, নয় পাংশুবর্ণ: মিয়্রমান একঘেয়েমির পরিবর্তে অগণন বিষয় বিষয়ী'র, গভীর চিন্তাশ্রয়ী নিভৃত কাব্যচর্চ্চাকারী হয়ে ওঠে। আদ্যপান্ত কবির গড়িমা গায়ে অপ্বেক্ষাকৃত অগণন কবির ভিড়ে হৈ-হুল্লোড় ব্যতিরিকে নিভৃত, নিরীক্ষাধর্মী সূচি কর্ম পালনে ( আশির শোয়েব শাদাব, বিষ্ণু বিশ্বাস, ও নব্বইয়ের শামীম কবীর_আরো দু'একজনের তালিকা দেওয়া যাবে) ব্রত থাকেন।

শূন্যে এসে তেমনি এক মেধানির্ভর কবি রাকিবুল হক ইবন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ে সময় সন্ধিক্ষণে আত্মস্ত করে সে_ মহৎ অগ্রযাত্রায় সারথী হলেন। কবি রাকিবুল হক ইবনের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ্ ‌ উপমানব-এর তার কাব্যের সঙ্গে আমার পরিচয়। এর আগে__ অবিশ্বস্ত পৃথিবী আমার - ফেব্রুয়ারী ১৯৯৯ ও অন্যটি __ যথাযোগ্য আগুন, যথাযোগ্য বিষাদ - ফেব্রুয়ারী ২০০০ আমার দৃষ্টির আড়ালে রয়ে গেছে এখনো। তবে _উপমানব কাব্যগ্রন্থ পাঠে আত্মবীক্ষনের দৃশ্যগুন বিমূর্তায়নের মতো ধাতব শিল্প-কাঠিন্যে অঙ্কিত হয়েছে বলে মনে হয়েছে। এখানে মানুষ প্রাণীটির প্রায়শ বিমূর্তায়নে খঁজে পাওয়া যায়। তবে সে অবয়ব কুয়াশায় ঢাকা পড়ে থাকে। কবি ইবন বোধগম্যতার জগতের বাইরের একটি অবোধ্য জগৎকে ভিন্ন কাঠামোর ভেতর দিয়ে আমাদের সামনে উপস্থিত করেছেন। তার নির্মানগুলো কখনো কখনো নন-সাবজেক্টিভ হয়ে উঠে। তিনি বৈচিত্রময় কিছু আবহ নিয়ে কাজ করতে ভালবাসেন। আবার একই আবহের ভিন্ন ভিন্ন রূপদান করে থাকেন। ইবন দাহতাড়িত হয়ে নিজের খেয়াল খুশিমতো যন্ত্রণা চাপের_মূত্রত্যাগ__করেন। যে কারনে পাঠকে বোঝানোর দায়িত্বটি এড়িয়ে যান। তবে পাঠককে নিজের মতো করে বুঝে নেওয়ার সুযোগ দিয়ে থাকেন। ......................................................................................................................................................কবি রাকিবুল হক ইবন ভ্রমন করেছেন বিভিন্ন দেশে ও প্রদেশে। যেমন, ভারতের অসংখ্য প্রদেশ, মালশিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের বহু হোটেলে, ক্যাফে ও অনামা বিচে আর প্রায় জনমানবহীন অরণ্যে ও সমুদ্রঘেরা দ্বীপে। সেইহেতু এই কবির কিছুটা অরণ্যজীবন-কিছু সমুদ্রজীবন ও ক্ষণিক প্রবাস জীবনেরও ছায়া প্রতিফলিত হয় কাব্যে। তিনি নিজস্ব কালচারের মাধ্যমে বিশ্বকে দেখেন। ইবনের কবি-স্বভাব এবং লিখনরীতি উভয় দিক থেকেই নগর ভাবনায় নিমজ্জিত এবং মৃতু্ চেতনায় ব্যথিত ভাবুক। আর সভ্যতার _রণ-রক্ত-সফলতা__তার সেই বিষাদাপ্লুত বেদনার বোধকে উসকে দিয়েছে অনেক পরিমানে। কবির ভাড়তি টান রয়েছে সমুদ্র ও অরণ্যের প্রতি। কেন এত টান ? সমুদ্র এবং অরণ্যের মাঝেই যে পরম শূন্যতার বিস্ফোরণ তার রহস্য উন্মোচনে নাকি সে-সৌন্দর্য্য রহস্য উদ্ঘাটন না করতে পারার জ্বালায় ? তবে যে মুগ্ধতা থেকেই তার মন জিজ্ঞাসু হয়ে উঠুক না কেন তার প্রকাশ রীতিতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব দু'টোই সমানভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে।

ইবন প্রথাগত, দূবর্ল ছড়াগন্ধী কবিতার অনাধুনিক বৃত্ত ভেঙ্গে যে _নতুন ধাঁচের স্টাইল বেছে নিয়েছেন। তার সে-থিম, আঙ্গিক কাঠামো নির্মান তার পরোক্ষে প্রেরণা যোগাচ্ছে পশ্চিম বঙ্গীয় রীতি। ইবনের কাব্যে সে-সব নগরের সাক্ষাত ঘটে যে-সব নগরের আবহাওয়া অশনাক্তযোগ্য। কবি সেই বাস্তব জগতে থেকেও সৃষ্টিশীল কল্পনায় লেখনীর মাধ্যমে সে-শহরকে উন্মোচন করেন তা অনেকটাই অবাস্তব, এলিয়ট কথিত__আনরিয়েল সিটি। ...............................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................এই গ্লোবালাইজেশনের যুগে রাষ্ট্র যে-তমসাক্রান্ত অন্ধকারে নিমজ্জিত তা থেকে রেহাই পেতে __রক্ত দিয়ে মুছে যেতে হবে/ সমগ্র অধ্যাদেশ ও দলিল__(রাষ্ট্রপতি-দুই) তার কবিতায় আঞ্চলিক পটভূমিকার সাথে বহির্বিশ্বের সংশ্রব আছে, আছে দ্রোহ্-প্রতিবাদ, রক্তে আগুন আছে, আছে দার্শনিকতাও। সেই আগুন রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতির সঙ্গে কমিউনিকেট করে। তার __উপমানব__গ্রন্থে নারীর উপস্থিতি খুবই কম, নেই যে তা নয় তবে যা আছে সেগুলোর ভালবাসা বাসী খুব উচ্চকিত করে তোলে-না। এ থেকে উপলব্ধি করা যায় যে নারীকে ঘিরে কোনো ধরনের ভাবালুতায় আবর্তিত হতে চান নি। বরং তারুণ্যের যে দ্রোহ যন্ত্রণা ভেতরে ভেতরে স্পন্দমান হয়, মানুষের দুঃখ-যাতনা যেভাবে সাকার হয়ে ওঠে। সে....দুঃখ, যন্ত্রণা, দ্রোহ, বিষাদকে নিয়েই বিবর্তিত হতে চেয়েছে। এ অঙ্কনের চিত্র সামষ্টিকভাবে হলেও কবি ইবনের চিত্রে সে শিল্পমূল্য শিল্পিত উৎকর্ষ ও সুষমার সম্মিলনে পংক্তিগুচ্ছ উৎকষর্তা লাভ করেছে। যেমন___

১. আমার মা সকল ক্ল্যাসিক
সমুদ্র পদার্পনে-
হাঁটে,
অর্ধেক পা
অর্ধেক মস্কোর ঘণ্টা
বাজাতে বাজাতে

(আমার মা সকল ক্ল্যাসিক)


২..............................................................
..............................................................
............................................................
............................................................

৩.....................................................................
....................................................................
.......................................................................
............................................................................
...........................................................................
..................................................................কবি ইবনের আত্মদর্শন উপরোক্ত পংক্তিগুলোতে ফুটে উঠেছে। রবি ঠাকুরও বলেছিলেন __শিল্পকলা হবে আত্মদর্শন। ইবনও সেই পথেই মনমতো ও সাধ্যমতো সেই দর্শন বা আত্মবীক্ষণকেই প্রকাশ করলেন। .............................................................................................................................কবি রাকিবুল হক ইবন সেই রহস্যময় মনোযাত্রার মাধ্যম্যে অরূপ জগতের সন্ধানে বেড়িয়েছেন।

তার কবিতা আধুনিক কলা-কৌশল; উপমা, অনুপ্রাস, আবহ, আঙ্গিক, প্রভৃতি স্বাচ্ছন্দ্যে আবৃত। তবু কারো কারো কাছে পংক্তিগুচ্ছ জটিলাকার মনে হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে বলতে পারি তার কাব্য অনেকটা আখের মতো প্রথমে কঠিন আবরণ পরে চিবুতে চিবুতে মূল রসায়ন।..............................................................................................................................................................................................................................................বুঝি, ইবনের যত স্বার্থকতা এখানেই ওঁৎপেতে থাকে আর শূন্যের অনেক গতানুগতিক কবিতাকে বুড়োআঙ্গুল দেখিয়ে বেড়ে উঠতে চাইছে। তাকে বুঝতে হলে __অনেক অল্প আকাশ __নয় বিস্তৃত-অসীম আকাশের প্রয়োজন।

(অসস্পূর্ণ, চলবে, শূন্যস্থানগুলো পূরন
করা হবে ....................................)

লেখাটি ইবন নিজেই তার ব্লগে দিয়েছিলেন এবং তা হুবুহু এভাবে।

ইবনের ব্লগ : http://www.somewhereinblog.net/blog/ebon007]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29344055 http://www.somewhereinblog.net/blog/EON/29344055 2011-03-14 05:03:58