শিবিরের রণকৌশলে পুলিশ কুপোকাত
০ ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, রাজশাহী
ছাত্রশিবিরের রণকৌশলের কাছে পরাজিত হলো পুলিশ। অনেকটা দাবার ঘুঁটির মতই ফাঁকা মাঠে শিবির কুপোকাত করে পুলিশকে। ক্যাম্পাসের একদিকে পুলিশ যখন সংঘর্ষ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত তখন বিপরীত দিক থেকে শিবির ছদ্মবেশে পুলিশের সামনে দিয়েই বীরদর্পে হলে প্রবেশ করে। পুলিশ বুঝতেই পারেনি ছাত্রলীগের ছদ্মবেশে এরা সবাই শিবির কর্মী। পুলিশ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী আসছে মনে করে শাহ মখদুম হল ও নবাব আব্দুল লতিফ হলের গেট খুলে দেয়। কিন্তু কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই শিবির কর্মীরা নিজেদের শ্লোগান দিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যায়। এসব ব্যাপারে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নওশের আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রাজশাহীতে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে শিবিরের রণকৌশলের কাছে পুলিশ একপর্যায়ে পরাজিত হয়েছিল বলে যে অভিযোগ উঠেছে এ সম্পর্কে রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে অবস্থানকারী পুলিশের মহাপরিচালকের কাছে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইত্তেফাকে বলেন, এ ঘটনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যর্থতা সম্পর্কে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পুলিশের মধ্যে রাজাকার, আলবদর এবং স্বাধীনতা বিরোধী লুকিয়ে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্পর্কেও আইজিপি তদন্ত করে তাদের সনাক্ত করবেন বলে জানিয়েছেন।
সোমবার গভীর রাতে হলগুলোতে শিবিরের তাণ্ডবের পর গতকাল মঙ্গলবার সারাদিন ক্যাম্পাসে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ আর প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিভাবে শিবির অভিনব রণকৌশলের মাধ্যমে ছাত্রশিবির রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান নোমানী হত্যার প্রতিশোধ নেয়। ঘটনাস্থলে তিনটি হল নবাব আব্দুল লতিফ হল, শাহ মখদুম হল ও নবাব আমীর আলী হল মুখোমুখি অবস্থিত। রাত দেড়টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলে পুলিশের বেশিরভাগ পদস্থ কর্মকর্তা ও সদস্য ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তিনটি হলে মোট ১৮ জন পুলিশ হলগেট পাহারার দায়িত্বে ছিলেন। পুলিশের হাতেই ছিল হলগেটের চাবি। তিনটি হলের পূর্বদিক বরাবরই অরক্ষিত। শিবির পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মেহেরচন্ডী কড়াইতলা, বুথপাড়া, বধ্যভূমি ও বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশন এলাকায় বিভিন্ন গ্রুপে প্রায় সাড়ে ৫শ’ কর্মী জড়ো হয়। এদের মধ্যে শুধু শিবির কর্মীই ছিলে না, আশপাশে জামায়াত কর্মী যাদের বয়স ৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এমন দুইশ’ জন জড়ো হয়। পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসার পর রাত ২ টার দিকে প্রথমে শিবিরের ২০/২৫ জনের একটি দল নবাব আব্দুল লতিফ হলে যায়। তারা ছাত্রলীগের শ্লোগান দিয়ে যখন হল গেটের সামনে উপস্থিত হয়, পুলিশ ধারণা করে এরা ছাত্রলীগ কর্মী। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য হলের গেট খুলে দেয়। এরা হলে প্রবেশ করে ছাত্রলীগ কর্মীদের কক্ষে গিয়ে তাদের খুঁজতে থাকে। অন্যদিকে, শাহ মখদুম হলেও একই কায়দায় শিবিরের একটি দল প্রবেশ করে। পুলিশের চোখের সামনেই তারা হলে প্রবেশ করে। দুই হলের ভেতরে ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর শিবির ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরে শিবির কর্মীরা দুই হলের গেটে অবস্থানরত পুলিশকেও তাড়া করে। শিবিরে তাড়া খেয়ে পুলিশ বিনোদপুর বাজার গেটে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে, ক্যাম্পাসের স্টেডিয়াম, বঙ্গবন্ধু হল, প্রশাসনিক ভবনে অবস্থানরত পুলিশের টনক নড়ে। হলে শিবিরের আক্রমণের খবর উপাচার্যের কানে পৌঁছলে তিনি পুলিশের সহায়তা নিতে পদস্থ কর্মকর্তাদের টেলিফোন করেন। কিন্তু রাত গভীর হওয়ায় পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে ঐ খবর পৌঁছে অনেক দেরিতে। ততক্ষণে শিবিরের তাণ্ডবে ছাত্রলীগের ১ জন কর্মী নিহত ও শতাধিক আহত হয়।
উপরোক্ত রিপোর্টে দেখা যায় পুলিশের প্রতি নির্দেশ ছিল ছাত্রলীগের যে কেউ হলে ঢুকতে পারবে। এভাবে নিরাপদে তাদের অপারেশন শেষ করে। আরো মজার ঘটনা হলো সকাল হওয়ার সাথে সাথে ম্যানহোলে লাশ খুঁজে পাওয়া। ম্যানহলে পড়ে থাকা মানুষকে না উঠিয়ে মিডিয়াকে খবর দিয়ে ছবি উঠানোর ব্যবস্থা করা। এতভোরে ম্যানহোলে লাশ পাওয়া যাবে তা-কি পুলিশ আগেই জানতো?????
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



