সন একটি আরবী শব্দ। পবিত্র কোরআন মজিদে সূরা আনকাবুত এ সানা বা বছর সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে এই সানা শব্দের পরিবর্তিত রূপই সন। আর সাল শব্দটি উর্দু ও ফার্সী ভাষায় ব্যবহৃত হয়। বাংলায় সনকে অব্দ বা সাল নামে অভিহিত করা হয়।
১। আপনারা সবাই অবগত বাংলা বৎসরের ১ম দিন - ১লা বৈশাখ ।
আমাদের দেশে তিনটি সন প্রচলিত - খৃষ্টাব্দ, হিজরী ও বঙ্গাব্দ।
যীশু খৃষ্টের জন্মদিন হতে খৃষ্টাব্দ। পপ গ্রেগরী উহাকে বর্ষ হিসেবে
সাজিয়েছিলেন এবং আধুনিকীকরণের জন্য ইংরেজি সনকে গ্রেগরীয়ান
বর্ষ বলা হয়। এই সনের ১ম দিন ১লা জানুয়ারি।
২। হিজরী সন নবী করীম (সাঃ) এর মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের সময়
থেকে প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয় এবং তারই ফলশ্র“তিতে
হযরত ওমর (রাঃ) হিজরী সনের প্রবর্তন করেন।
৩। মোঘল সম্রাট আকবর বাংলা অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির কারণে
ফসলের উৎপাদন, বিপনন, কর ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে পন্ডিত
আমীর ফতেহউল্লাহ সিরাজীকে দিয়ে ১৫৮৪ খৃষ্টাব্দে বা ৯৬৩ হিজরীতে
বাংলা সনের প্রবর্তন করেন এবং ৯৬৩ হিজরী সনের সাথে সামঞ্জস্য
রেখে ৯৬৩ দিয়ে বাংলা সন শুরু করেন।
৪। বাংলাদেশে প্রচলিত তিনটি বর্ষের মধ্যে ইংরেজি ও বাংলা হচ্ছে সৌর
বর্ষ অর্থাৎ সূর্যের হিসাবের সাথে সংশ্লিষ্ট বর্ষ। অন্যদিকে হিজরী হচ্ছে
চান্দ্রবর্ষ অর্থাৎ চাঁদের হিসাবের সাথে এই বর্ষের হিসাব আবর্তিত।
খৃষ্টীয় বর্ষের সাথে চান্দ্রবর্ষের ১১দিনের তারতম্য রয়েছে অর্র্থাৎ
চান্দ্রবর্ষ ৩৫৪ দিনে পান্তরে সৌরবর্ষের সময়কাল ৩৬৫ দিনে। চান্দ্র
বর্ষের মাসগুলো ঋতুর সাথে সম্পর্কহীন। অন্যদিকে সৌরবর্ষে রয়েছে
ঋতু ভিত্তিক বিভাজন।
৫। আগামী কাল ১৪১৭ সাল শুরু হচ্ছে, শুরু থেকে বর্তমান কালের
পার্থক্য (১৪১৭-৯৬৩=৪৯৪ বছর)। চান্দ্রমাস ১১ দিন বেশী হওয়াতে
চান্দ্রমাসে বেশী দিন হয়েছে ৪৯৪১১৩৬৫=১৪ বছর আর তাই
এখন ১৪৩১ হিজরী সাল চলছে।
৬। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রার্থে এবং ব্রিটিশ সরকারের প্রবর্তিত খৃষ্টীয় সন
আমাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে গেছে অক্টোপাসের মত। এটা
অস্বীকার করবার কোন পথ নেই।
৭। খৃষ্টধর্মের অনুষ্ঠানাদি খৃষ্টীয় বর্ষের সাথে সম্পৃক্ত। হিন্দু ধর্মের
আচারাদি বাংলা বর্ষের অনুসরণে পালিত হয় এবং ইসলাম ধর্মের
অনুষ্ঠানাদি হিজরী সন তথা চান্দ্রবর্ষের সাথে সম্পৃক্ত।
৮। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আমাদের দেশ বাংলাদেশ, জাতীয়তা
বাংলাদেশী, ভাষা বাংলা। ১৯৫৪ সনে হক ভাসানীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট
নির্বাচনে জয়ী হলে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক পূর্ব পাকিস্তানের
প্রধানমন্ত্রীত্ব পাওয়ার পর বর্ধমান হাউজকে ( যা সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী
নুরুল আমীনের বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল) বাংলা একাডেমী
হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই ২১ ফেব্র“য়ারি ও ১ বৈশাখকে সরকারি
ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেন।
আপনাদের সকলকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা, নববর্ষ দেশ জাতি ও সকলের জন্য শুভ ও মঙ্গলময় হয়ে উঠুক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



