somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

মানবিক আবেদন : কবি সমুদ্র গুপ্ত কে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

০১ লা জুন, ২০০৮ সকাল ৮:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কবির পাশে দাঁড়াও
ম য হা রু ল ই স লা ম বা ব লা

==================================
রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘যার ভেতরে ক্যান্সার ঢুকিয়েছো তার কাছে মনুষ্যত্বের আশা করো না।’ আমাদের প্রিয় মানুষ কবি সমুদ্র গুপ্ত ক্যান্সারে আক্রান্ত । জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। চিকিৎসা ব্যয়ের কথা ভেবে উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা। তবুও সাহস হারাননি কবি ।

আজ নির্মোহ-নির্লোভ কবি সমুদ্র গুপ্ত। অর্থ-বিত্তের দিকে কখনও ঝোঁকেননি। নিজেকে বদলে গতানুগতিক স্রোতে গা ভাসিয়েও দেননি। অতি সাধারণ মানের জীবনযাপন করে কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের ৬৩টি বছর। সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেয়েছেন, বাড়ি ভাড়া বাকি পড়েছে কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট না হয়ে অভাব-অনটনের সহযাত্রী থেকেছেন। অসুন্দর-অন্যায়-বৈষম্যের বিরুদ্ধে কলমযুদ্ধ করেছেন আজীবন।

কিন্তু ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে সেই সাহসই একমাত্র অস্ত্র নয়। তার জন্য প্রয়োজন অর্থের। উন্নত চিকিৎসা তো দূরের কথা, সাধারণ চিকিৎসার সঙ্গতিও তার বা তার পরিবারের নেই। বারডেম হাসপাতালে কর্মরত শ্যালকের কল্যাণে বারডেমে ভর্তি হয়ে সাধারণ চিকিৎসা নিতে পেরেছিলেন। পরে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী এগিয়ে না এলে বারডেম হাসপাতাল থেকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নেয়া সম্ভবপর হতো না। বিনা চিকিৎসায় বাসায় ফিরতে হতো। কবি বন্ধুরা এই দুর্দিনে পাশে না দাঁড়ালে পরিণতিটা আরও ভয়াবহ হতে পারত। আশার কথা, তেমনটি হয়নি। তার এই দুরারোগ্য ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রয়োজন অর্থের। ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে দেশের বিত্তবানদের কাছে তার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে অর্থ সাহায্য চাওয়া হয়েছে। স্ত্রীর নামে ব্যাংক একাউন্টে অর্থ সাহায্যের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
সোহানা হ্যাপী,
সঞ্চয়ী একাউন্ট নং-৩৯৫৩,
উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড,
কলাবাগান শাখা, ঢাকা।

তাতে এ পর্যন্ট পাওয়া অর্থ মোটেও যথেষ্ট নয়। চলমান চিকিৎসায় প্রয়োজন আরও অর্থের। ব্যক্তিগত ও দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সরকারকে তার চিকিৎসায় যথার্থ ভূমিকা নিতে হবে।

আমাদের দেশে সবচেয়ে ব্যয়বহুল খাত শিক্ষা এবং চিকিৎসা। যা রাষ্ট্র কর্তৃক নাগরিকদের জন্য নিশ্চিত হওয়ার কথা। কিন্তু বা¯-বতা হচ্ছে, রাষ্ট্র নাগরিকদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ না করে অবাধ বাণিজ্যিকীকরণের পথে ঠেলে দিয়েছে। যাদের অর্থ আছে তারাই কেবল উন্নত চিকিৎসা দেশে-বিদেশে নিতে সক্ষম হচ্ছে। অপরদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষ শিক্ষা ও চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে চলেছে। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের মূল মাপকাঠি। আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির বিশাল ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখে চলেছেন তাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের কি করণীয় কিছু নেই? অনেক সময়ই ব্যক্তিগত ও বেসরকারি পর্যায়ে তাদের সাহায্য সহযোগিতার নজির থাকলেও, অতীতে রাষ্ট্র ও সরকারের এগিয়ে আসার ঘটনা বিরল। তবে মৃত্যু-পরবর্তী নানা তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। শোকবাণী, কফিনে ফুল দেয়া, শোকসভায় মৃতের স্তুতি-বন্দনা থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নানা শোক অনুষ্ঠানের আধিক্য। একানব্বইয়ে গুলিবিদ্ধ জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেননের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে তৎকালীন সরকারের নিষ্ক্রিয়তা। নিজের উত্তরার প্লট বিক্রি ও ধার-দেনা করে এবং পারিবারিক সাহায্যে তার জীবন রক্ষা পেয়েছিল। কেবল মৃত শিল্পী-সাহিত্যিকের শবে ফুল দেয়া, শোকবাণী প্রচার করাসহ নানা শোকসভায় মৃতের গুণকীর্তন করা। জীবদ্দশায় তাদের পাশে দাঁড়ানোর যেন কোন দায় নেই রাষ্ট্রের। যারা আত্মকেন্দ্রিকতার বিপরীতে সমষ্টির প্রয়োজনে নিজেদের বিলীন করে দেয়, তাদের সুচিকিৎসায় রাষ্ট্রের এগিয়ে আসা উচিত। সরকারের কাছে কবি সমুদ্র গুপ্তের চিকিৎসা ব্যবস্থা করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
---------------------------------------------------------------------------------
দৈনিক যুগান্তর। ১ জুন ২০০৮ রোববার প্রকাশিত





সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০০৮ সকাল ৮:৪৬
৭৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×