somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

এসএম সুলতান : আমাদের শিল্পচিত্রের মুখ

১০ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৮:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ ১০ আগষ্ট । বরেণ্য শিল্পী এসএম সুলতানে ৮৪তম জন্মদিন। তাঁর প্রতি অসীম শ্রদ্ধা ।
----------------------------------------------------------------------------------
এসএম সুলতান : আমাদের শিল্পচিত্রের মুখ
--------------------------------------------------

বরেণ্য শিল্পী এসএম সুলতানের (১৯২৩-১৯৯৪) প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ সুলতান। কিন্তু এসএম সুলতান নামেই তিনি পরিচিতি লাভ করেন। ১৯২৩ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল জেলার মাসিমদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন পেশায় রাজমিস্ত্রী। নড়াইলের ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে পাঁচ বছর পড়াশোনার পর সুলতান বাবার সঙ্গে কাজে যোগ দেন। তার বাবা যেসব ভবনের কাজ করতেন, সুলতান সেসব ভবনের নকশা আঁকতে শুরু করেন। এর ফলে চিত্রশিল্পের প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে।
১৯৩৮ সালে স্থানীয় জমিদার ধীরেন্দ্রনাথ রায়ের আর্থিক সহযোগিতায় সুলতান কলকাতায় পৌঁছেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সহযোগিতায় সুলতান আর্ট স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। সুলতান অবশ্য পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। তিন বছর অধ্যয়নের পর তিনি স্কুল ছেড়ে দেন এবং একজন ফ্রিল্যান্স চিত্রশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
সুলতান ছিলেন চিরকালের এক বাউন্ডুলে বোহেমিয়ান। জীবন শুরুর সে সময় তিনি নেমে আসেন রাস্তায়, ঘুরতে থাকেন ভারতের নানাপ্রান্তে জীবন ধারণের জন্য তিনি এসময় ভারতের বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্প গড়ে তোলা সম্মিলিত বাহিনীর সৈন্যদের ছবি আঁকেন। সুলতানের আঁকা ছবির প্রথম প্রদর্শনী হয় ১৯৪৬ সালে সিমলায়। কিন্তু এসময়কালে তার আঁকা একটি ছবিও আজ আর নেই। এমনকি নেই একটি ফটোগ্রাফও; কেননা সুলতান সবসময়ই নিজের কাজ সংরক্ষণের ব্যাপারে উদাসীন ছিলেন।
কিছুদিনের জন্য সুলতান কাশ্মিরে বাস করেন। এ সময় তিনি মূলত ল্যান্ডস্কেপ ও পোট্রেট আঁকেন। ১৯৪৭-এ দেশভাগের পর তিনি নড়াইলে ফিরে আসেন। এরপর ১৯৫১ সালে তিনি করাচি যান। সেখানকার একটি স্কুলে তিনি আর্ট শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। পঞ্চাশ দশকে সুলতান আমেরিকা যান। আমেরিকার নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, শিকাগো ও বোস্টনে তার আঁকা ছবির প্রদর্শনী হয়। এরপর তিনি আসেন লন্ডন। সেখানকার প্রদর্শনীতে সে সময়ের বিশ্বের সেরা চিত্রশিল্পীদের সঙ্গে সুলতানের আঁকা ছবি স্থান পায়। ১৯৫৩ সালে তিনি আবারো ফিরে আসেন জন্মস্থান নড়াইলে।
সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এসএম সুলতান পেয়েছেন একুশে পদক (শিল্পকলায় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক-১৯৮২) এবং স্বাধীনতা পুরস্কার ১৯৯৩। অতি অল্পসংখ্যক ব্যক্তিত্বই একাধারে এদেশের সর্বোচ্চ দুটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেয়েছেন।
এসএম সুলতানের আঁকা ছবিতে ক্যানভাস অনেক বড়; যেন বিরাট একটি মঞ্চ, যেখানে জীবন নাটক মঞ্চস্থ হয় নানা রঙে। সুলতান বিশ্বাস করতেন প্রান্তিক মানুষ তাদের যাবতীয় অপ্রাপ্তি, ত্রাস, না পাওয়ার পরও জীবনযুদ্ধে নিয়তই সংগ্রামশীল। গ্রামবাংলার এসব জীবনজয়ী ও সংগ্রামমুখর মানুষই হাস্যমুখর ও মাংসল অবয়ব নিয়ে স্থান পেয়েছে সুলতানের ছবিতে।
এই বরেণ্য শিল্পী ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর নড়াইলে মৃত্যুবরণ করেন। নড়াইলের চিত্রানদীর পাড়ে সুলতানের নিজ হাতে গড়ে তোলা ব্যতিক্রমী আর্ট স্কুল ‘শিশু স্বর্গ’ সারাবিশ্বের সামনে এই ঋষি শিল্পীর স্মৃতি তুলে ধরছে।
তার জন্মস্থান নড়াইলের এই শিশু স্বর্র্গে সুলতানের ৮৪তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলালিংকের পৃষ্টপোষকতায় ৯ আগস্ট প্রথমবারের মতো সুলতান জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটি আয়োজন করেতে যাচ্ছে পাঁচদিনব্যাপী সুলতান উৎসব-২০০৮। পাঁচদিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে সুলতানের কর্ম ও তার আঁকা ছবির প্রদর্শনীসহ বর্ণাঢ্য আয়োজন থাকছে।
উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনী
একক : সিমলা-ভারত, ১৯৪৬। পাকিস্তান-করাচি ১৯৪৮, ১৯৪৯ , যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য - নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, বোস্টন, শিকাগো ইন্টারন্যাশনাল হাউজ, মিসিগান ইউনিভার্সিটি ও লন্ডন ১৯৫৯। বাংলাদেশ - শিল্পকলা একাডেমী গ্যালারি ১৯৭৬, জার্মান কালচারাল সেন্টার, ঢাকা- ১৯৮৭ ।
বাংলাদেশের নয়জন সিনিয়র শিল্পীর গ্রুপ প্রদর্শনী, ১৯৯৩।
তিনি লন্ডনের হ্যাম্পস্টেডের ভিক্টোরিয়া এমবাঙ্কমেন্টে আয়োজিত প্রদর্শনীতে অংশ নেন। প্রদর্শনীতে পাবলো পিকাসো, সালভাদোর দালি, জর্জ ব্রাক, পল লিসহ আরো অনেক বিখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে এক সারিতে সুলতানের ছবির প্রদর্শনী হয়।
---------------------------------------------------------------------------------
যায়যায়দিন -থেকে সংকলিত































সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৮:০০
১৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×