somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

দীর্ঘ প্রশ্নগুলোর সংক্ষিপ্ত উত্তর

১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দীর্ঘ প্রশ্নগুলোর সংক্ষিপ্ত উত্তর
ফকির ইলিয়াস
========================================
প্রশ্নগুলো অত্যন্ত দীর্ঘ। কিন্তু উত্তর খুবই সংক্ষিপ্ত। প্রশ্ন হচ্ছে, যে জাতি রক্তবন্যা বইয়ে রাষ্ট্র স্বাধীন করেছিল, সে জাতির ভাগ্যে আজ এত দুর্ভোগ কেন? কেন কািক্ষত লক্ষ্যবিন্দুতে পৌঁছতে এত হোঁচট খেতে হচ্ছে। আর উত্তর হচ্ছে­ কিছুই হয়নি। কিছুই হচ্ছে না। কিছুই হবে না। যেমন ছিল তেমনি থেকে যাচ্ছে সবকিছু।
ঈদের ছুটি শেষ হলো। এখন দেশে চলছে দুর্গাপজার উৎসব। ঈদে বেশকিছু টিভি অনুষ্ঠান দেখলাম। নন্দিত নাট্যকারের একটি নাটক দেখলাম। এর নাম ‘মহান চৈনিক চিকিৎসক ওয়াং পি’। হাসির নাটক। নাট্যকার খুব ভাল করে বুঝিয়ে দিলেন দেশ যেমন ছিল তেমনি অবস্খায় ফিরে যাচ্ছে। অভিনেতা ডা. এজাজ ছিলেন ‘মহান চৈনিক চিকিৎসক’। একটি ভণ্ড চিকিৎসকের চরিত্রে। নাটকের শেষ দৃশ্যে তিনি ‘থু’ বলে শেষ করেন তার সংলাপ।
হ্যাঁ, সবাই তাদের সেই পুরনো চরিত্রে ফিরে যাচ্ছে। মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে দুর্নীতিবাজরা। নষ্ট রাজনীতির পালে এখন নতুন হাওয়া। প্রশিকার ড. কাজী ফারুক নতুন রাজনৈতিক দল নিয়ে মাঠে নেমেছেন। ‘সম্মিলিত নাগরিক আন্দোলন’। কারা এই দেশের নাগরিক? লুটেরা বণিক শ্রেণী, নাকি শোষিত মজলুম মানুষ, যারা ঘামে-শ্রমে কাটান প্রতিদিন? এসব প্রশ্নের কোন উত্তর নেই। যারা যা করার কথা নয় তারাই তা করছে। সবকিছুই নাগরিক অধিকার। আর সে অধিকারে সুশীল ভাবনার ছড়াছড়ি। এই সুশীল ভাবনা আপামর মানুষের কোন কাজে আসে কি না সেদিকে নজর কারও আছে বলে মনে হয় না। মনে না হওয়ারই কথা। কারণ যারা শোষণ করে তাদের শ্রেণী চরিত্র একই।
সমাজে হোক আর রাজনীতিতে হোক। এরা মনে করে জনগণ তাদের তাঁবেদার। যা চাপিয়ে দেয়া হবে জনগণ তা মেনে নেবে। মেনে নেয়ও জনগণ। না নিয়ে উপায় থাকে না। মাঝে মাঝে জনতা বিদ্রোহীও হয়। জন্ম দেয় নতুন নতুন ফুলবাড়ীর।
নতুন অফিসে যাত্রা শুরু করেছে বিএনপির রাজনীতি। হাওয়া ভবনের আদলেই অনেকটা। এখন শুধু তারেক জিয়া নেই। এটি সভানেত্রী বেগম জিয়ার কার্যালয়। কথা ছিল শফিক রেহমানের বাসাটি ব্যবহার করা হবে অফিস হিসেবে। তা এখন বাদ দেয়া হয়েছে পত্রপত্রিকার সমালোচনার মুখে। বিএনপি ভেতরে ভেতরে রাজনীতিমুখী। কিন্তু আওয়ামী লীগ কি করছে? তাদের অবস্খা যে খুব সুসংহত তা বলা যাবে না। শেখ হাসিনার স্খায়ী জামিন এখনও হয়নি। মামলাগুলোর খড়গের নতুন নতুন দামামা বাজানো হচ্ছে।
দুই.
একটা বিষয় বেশ নিশ্চিত বর্তমান সরকার বেশকিছু ভিআইপিকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। যে কারণে বেশকিছু মামলার রশি ধরে টান দেয়া হচ্ছে জোরেশোরেই। সাইফুর রহমান ও আলী আহসান মুজাহিদের বিরুদ্ধে আবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আবার নেপথ্যে জামিনের ব্যবস্খাও করা হচ্ছে! তাহলে প্রকৃত ঘটনা কি? কি করার চেষ্টা করা হচ্ছে?
যারা মুক্তি পেয়েছেন কিংবা পাচ্ছেন, তারা নির্বাচন করতে পারবেন কি না, তাও নিশ্চিত নয়। নির্বাচন কমিশন বলেছে, তারা নির্বাচনের জন্য তৈরি। সে কথা ভাষণের মাধ্যমে জাতিকে জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। কিন্তু কারা নির্বাচন করতে পারবে কারা পারবে না, বিষয়টি অমীমাংসিতই থেকে যাচ্ছে এখন পর্যন্ত।
একদিকে নির্বাচন থেকে দরে রাখার প্রচেষ্টা, অন্যদিকে নতুন দল তৈরির কারিগরি, দুটো বিপরীত ধর্মী না হলেও একটা গোপন ইচ্ছে থেকেই যাচ্ছে এর নেপথ্যে। সেটা কি তা জনগণ হয়তো সময় মতোই জানতে পারবে। কিন্তু কথা হচ্ছে তা থেকে দেশের মানুষের উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু রয়েছে। এ প্রসঙ্গে একটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। আর তা হচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবু শেখ মুজিবুর রহমানও একসময় ভেবেছিলেন, এদেশে আলবদর রাজাকার আর কোনদিনই রাজনীতি করতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে এর উল্টো ঘটনা। জাতির জনককে হত্যার মাধ্যমেই একটি বিশেষ শ্রেণী ঘাতক দালালদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এদেশে সুদৃঢ় করে। পরে এরা ক্ষমতারও ভাগীদার হয়। আজ এই ২০০৮ সালেও যেভাবে দাবার ঘুঁটি পরিচালনা করা হচ্ছে তাতে সেই পরাজিত শক্তিকেই পুনর্বাসিত করার সুপ্ত ইচ্ছা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেক্টরস কমান্ডার্স ফোরাম ঘাতক দালালদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকলেও বর্তমান সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত রহস্যজনক ভমিকা পালন করে যাচ্ছে।
কীভাবে ওয়ান ইলেভেনের চেতনা প্রতিষ্ঠিত হবে কিংবা আদৌ হবে কি না তা বর্তমান নীতিনির্ধারকরাই বলতে পারবেন। তবে জরুরি অবস্খার ছায়া বহাল রেখে তারা যে নির্বাচন করে পার পেতে চাইছেন তার সত্র ধরেই নির্বাচন পরবর্তী সময় উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। যে পক্ষ পরাজিত হবে তারাই এর রশি টানাটানিতে নেতৃত্ব দিতে পারে। সাময়িকভাবে, কৌশলগত কারণে নির্বাচন থেকে ‘বিরত রাখা’ নেতারা বিভিন্ন মারমুখী ইস্যুর নেতৃত্বে চলে আসতে পারে।
বাংলাদেশ এমন কোন গণতান্ত্রিক দেশ নয়, যে দেশের রাজনীতির বহমানতা পরিশুদ্ধ নেতা তৈরি করে। এদেশে নেতা গণতান্ত্রিকভাবে তৈরি হয় না। নেতা তৈরি হয় দলীয় প্রধানের ইচ্ছা অনিচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে। ফলে নবম জাতীয় সংসদে অনেক বিজ্ঞ নতুন মুখ দেখা যাবে বলে যারা ফুলঝুরি ওড়াচ্ছেন­ তা শেষ পর্যন্ত ফাঁকা বুলি বলেই প্রমাণিত হতে পারে। তার কারণ হচ্ছে, রাতারাতি গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দলকে এদেশের মানুষ সহজে গ্রহণ করে না তা বার বারই প্রমাণিত হয়েছে।
বিকল্পধারা, গণফোরাম, এলডিপি, পিডিপি, সম্মিলিত নাগরিক আন্দোলন সবই দু’চারটার বেশি আসন পাওয়ার আপাতত সম্ভাবনা নেই। আমরা জানি রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। তারপরও যখন দেখি সহস্র শ্বেতাঙ্গ বারাক ওবামার ছবি বুকে লাগিয়ে দৃঢ় ভাষায় বলছেন­ ‘ইউ আর মাই লিডার,’ তখন মনে হয় মানুষ বৈষম্য দু:শাসনের বিরুদ্ধে জয়ী হবেই। আহা! বাংলাদেশের রাজনীতি যদি সে আলোকে পরিচালিত হতো। সুপ্রিয় পাঠক, শারদীয়া শুভেচ্ছা সবাইকে।
নিউইয়র্ক, ৮ অক্টোবর ২০০৮
---------------------------------------------------------------------------------
দৈনিক সংবাদ । ১০ অক্টোবর ২০০৮ শুক্রবার প্রকাশিত

২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×