লেখকদের বই নিয়ে আড্ডা। সন্চালক প্রাবন্ধিক আদনান সৈয়দ। কথা হচ্ছিল,কেন লিখি- কি লিখি ইত্যাদি বিষয়ে।
আড্ডার শেষ দিকে কানাডা থেকে আগত কবিবন্ধু সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল কিছু নির্মম সত্য কথা বলে বিতর্ক চাঙা করলেন।
তিনি বললেন, প্রবাসের অধিকাংশ লেখক ই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন না। অর্থাৎ লিখতে হলে তাদের আরো অধ্যবসায়, পড়াশোনা দরকার।
আর যায় কোথায় !
তার উপর প্রায় হামলে পড়লেন নিউইয়র্কের এক লেখক। তিনি বললেন,
দুলাল প্রবাসী লেখকদেরকে চপেটাঘাত করেছেন।
হেসে উঠলেন সমরেশ মজুমদার, হাসান আজিজুল হক।
আমি বললাম, দুলাল মিথ্যা বলেন নি। সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল সেই কবি ও সম্পাদক, যিনি ১৯৯১ সালে সুচিপত্র নামে একটা সাহিত্যপত্রের প্রবাসী লেখক সংখ্যা করেছিলেন।
৫০ জন লেখক ছিলেন সেই সংখ্যায়। ছিল লেখকদের ক্ষুদ্র পরিসরে
সাক্ষাতকার ও।
সেই সংখ্যার কথা অনেকেই জানেন না।
হাঁ , অধ্যবসায়ের কথা আসলেই আমরা তা আমলে নিতে চাইনা।
আমাকে আবার লেখাপড়া করার কথা বলে কোন শালা ! - এমন
একটা মানসিকতা অনেকের মনের নেপথ্যেই কাজ করে।
২
এই ব্লগে লেখালেখির সূত্রধরে আমাকে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে ইমেইল করেন। অনেক নবীন কবি তাদের কবিতা এ্যাটাচ করে বা লিংক দিয়ে
পাঠান। আমি পড়ি। আমার মনে হয় কবিতা টি আরো ভালো হতে পারতো। আমি সস্তা বাহবা দিতে বিশ্বাসী নই কখনও ই। তাই কাউকে
হয়তো লিখি - আরো পড়ুন। প্রস্তুতি নিন। তারপর লিখুন।
দেখি আমার এই মন্তব্যে তারা অখুশী হয়েছেন।
কেন অখুশী হন ? পড়ার তো কোনো বয়স নেই। লিমিটেশন নেই।
তাহলে পড়তে অসুবিধে টি কোথায় ? বই কিনে পড়া যায়। না হয় লাইব্রেরী থেকে ধার করেও পড়া যায়।
কিন্তু লেখকের পাঠাভ্যাস থাকবে না - এটা কেমন কথা ?
লিটল ম্যাগাজিন বা ছোট কাগজ সব সময়ই বিশ্ব সাহিত্যের মাঠ নিয়ন্ত্রণ
করেছে, করছে এবং করবে ।
সেই ছোট কাগজ কজন লেখক পড়েন ?
অধ্যবসায়ের কথা এলেই আমরা অনেকেই নিজের ব্যাস-বৃত্ত মাপা হচ্ছে
বলে ধরে নিই।
অথচ পড়াশোনার তো কোনো ব্যাস নেই , বৃত্ত নেই , সীমানা নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

