আমার প্রিয় পোস্ট
- "একটি FB স্ট্যাটাস, কিছু মন্তব্য এবং চ্যানেল আই" - শ খি আ ঈয়ন
- হরফের জলসৌধ - ফকির ইলিয়াস
- মেঘলা মাঘের মুখ - ফকির ইলিয়াস
- সামাজিক সামন্তবাদের দস্যুতা - ফকির ইলিয়াস
- ছবিগুলা কী খারাপ হইলো ? - ফকির ইলিয়াস
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে উত্তাল হওয়া সেই দিনগুলির কথা - পথে প্রান্তরে
- মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিঃ আমাকে আঁকড়ে ধরেছিলেন আমার মা - ফকির ইলিয়াস
- দ্বিতীয় বিপ্লব বা বাকশাল : শুনুন বঙ্গবন্ধূর মুখেই - অমি রহমান পিয়াল
- আত্মজীবনীর রঙিন পৃষ্টা - আবু মকসুদ
- কম্পমান পৃথিবীর ছায়া - ফকির ইলিয়াস
- অন্তঃশীল - তমিজ উদ্দীন লোদী
- কথার স্বরবীজ - ফকির ইলিয়াস
- সাহায্য চাই : মন্তব্যের সাথে ছবি যোগ করা যায় কিভাবে ? - ফকির ইলিয়াস
- নেমে যাও শোকপাথর - ফকির ইলিয়াস
- দেশপ্রেমিক ধনিক শ্রেণী ও দরিদ্রতম মুক্তিযোদ্ধারা - ফকির ইলিয়াস
- আলোর জন্য মানুষের তৃষ্ণা - ফকির ইলিয়াস
- বিক্রীত জীবন ও সভ্যতার বিন্যস্ত নখর - ফকির ইলিয়াস
তাৎক্ষণিক সাক্ষাতকারে নোবেল বিজয়ী হেরটা মুলার
১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:১৫
তাৎক্ষণিক সাক্ষাতকারে নোবেল বিজয়ী হেরটা মুলার
''স্বৈরশাসন ছাড়া আমার সামনে লেখালেখির জন্য আর কোন ল্যান্ডস্কেপ ছিল না ''
=======================================
গত ৮ অক্টোবর এ বছরের সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার
ব্যবধানে রেডিও লিবার্টি ২০০৯ সালের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী লেখক হেরটা মুলারের এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করে। তাদের ওয়েব সাইট থেকে সংগৃহীত এই সাক্ষাৎকারটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন মারসিয়া টিকুডিয়ান। সংবাদ সাময়িকীর জন্য সাক্ষাৎকারটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন নাফিসা নাওয়াল
'আমার জন্ম রুমানিয়ায়। আমি বেড়ে উঠেছি সেখানে; আর ৩২ বছর বয়স পর্যন্ত আমি সেখানেই ছিলাম। তবে এক জটিল মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে আমাকে দেশ ছাড়তে হয়; যা আমি আমার প্রথম গ্রন্থে লিখেছি। আমার প্রথম গ্রন্থ, ইংরেজিতে যার নাম ল্যান্ডস্কেপ। এটি ছিল একটি শিশুর দৃষ্টিতে জার্মান অধ্যুষিত এলাকা 'বানাত'-এর বর্ণনা। বানাত_ পশ্চিম রুমানিয়ায় অবস্থিত। আমার ঐ গ্রন্থে এবং পরবর্তীকালে অন্যান্য গ্রন্থে আমি বারবার যে বিষয়টি লিখেছি এবং লিখতে চেয়েছি তা হলো_ স্বৈর-শাসন। এমন না যে আমি এই বিষয়টি নিয়েই লিখতে চেয়েছি; আসলে আমার সামনে এটি ছাড়া আর কোন বিষয় ছিল না। কিংবা অন্য কোন বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতাও ছিলনা_ যা নিয়ে আমি লিখতে পারতাম। আমি বারবার না জেনে, না বুঝে এই বিষয়টিই টেনেছি আমার লেখায়_ কেননা অন্য কোন 'ল্যান্ডস্কেপ' আমার নেই। যে এলাকা থেকে আমি এসেছি সেটাই আমার লেখার ল্যান্ডস্কেপ। আমি দেখাতে চেয়েছি চরমপন্থার মধ্যে_ সামাজিক বিভিন্ন স্তরে এবং কাঠামোতে যখন স্বৈরতন্ত্র বিরাজ করে তখন মানবতা কীভাবে অপদস্ত হয় পদে পদে, কীভাবে মানবাত্মা নীরবে-নিভৃতে কাঁদে । তবে আমি মনে করি আমি বিষয়টিকে বেছে নেইনি, বিষয়টিই বরং আমাকে বেছে নিয়েছে। আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছে। এক্ষেত্রে আমার নিজস্ব কোনো স্বাধীনতা ছিল না। আমি বলতে পরতাম না, এ বিষয় নিয়ে লিখতে চাই, ও বিষয় নিয়ে লিখতে চাই। কেননা, আমার সত্তায় যে বিষয়টি সবসময় আমাকে আলোড়িত করেছে তাই নিয়ে আমি লিখেছি।'
'সারা পৃথিবীতে আমি জানি, এক ধরনের সাহিত্য আছে যা আত্মজীবনীমূলক রচনা। একজন লেখকের জীবন তার সঙ্গে সঙ্গে সমান্তরালভাবে হাঁটে। যা তার জীবনে ধ্রুবসত্য। পূর্ব ইউরোপে একটি নির্দিষ্ট ধারায় ছিল স্বৈরশাসন, লেবার ক্যাম্প, হিটলারের ইহুদী নিধন। বহু লেখকের লেখায় এই বিষয়গুলি ঘুরেফিরে এসেছে। কেননা সেইসব লেখক এই ধারার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছিলেন। তাদের লেখায় সমান্তরাল জীবন হিসেবে এই কথাগুলোই বার বার উঠে এসেছে। আমি মনে করি এ ধারার লেখাই টিকে থাকবে_ কিউবা থেকে চায়না পর্যন্ত।'
'নিওশিডর্ফ_ বানাতের একটি শহর। যেখানে জার্মানভাষীরা বসবাস করত। তারা ছিল ঐ এলাকার সংখ্যালঘু জার্মান। আমার দাদা ছিলেন ধনী কৃষক এবং ব্যবসায়ী। বাবাও তাই। মাকে দীর্ঘদিন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের সেস্নভ লেবার ক্যাম্পে কাটাতে হয়েছিল। দীর্ঘ পাঁচ বছর তিনি সেখানে ছিলেন_ ১৯৪৪ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত। এগুলোই আমার লেখার মূল উপজীব্য।'
হিত্রা মুলারের মূল ভাষা 'জার্মান' হলেও তিনি 'রুমানিয়া' ভাষায় সমান পারদর্শী। টিসিসোয়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি 'জার্মান স্টাডি' এবং 'রুমানিয়া সাহিত্যে' পড়াশোনা করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি একজন অনুবাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাক্টরিতে। ১৯৭৯ সালে কমিউনিস্ট গ্রোত্রভুক্ত 'সিক্রেট পুলিশে'র সাথে সহযোগিতা না করার জন্য তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর তিনি একটি কিন্ডারগার্টেনে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সেসময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে জার্মান শিখতে শুরু করেন। তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয় এসময়। যা ছিল একটি সেন্সরড ভার্সন। যদিও তখন সব লেখাই সেন্সরড হয়ে প্রকাশিত হতো। ১৯৮৭ সালে তার বিয়ে হয় জার্মান
ঔপন্যাসিক রিচার্ড ভাগনারের সঙ্গে। বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে বার্লিনে চলে যান। এরপর তিনি জার্মানি এবং বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি লেকচারার হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি বার্লিনে অবস্থান করছেন। ১৯৯৫ সালে তিনি 'জার্মান একাডেমি ফর রাইটিং এন্ড পয়েট্রি'র সদস্যপদ লাভ করেন। মুলারের প্রথম বইটি ১৯৮২ সালে সেন্সরড অবস্থায় প্রকাশিত হয়। এর দুই বছর পর জার্মানি থেকে যখন বইটি প্রকাশিত হয় তখন মুলার যা লিখেছিলেন তাই হুবহু ছাপা হয়। একই বছর রুমানিয়া থেকে তার আরেকটি গ্রন্থ 'ড্রাকেনডার ট্যাঙ্গো' প্রকাশিত হয়। তবে রুমানিয়ার প্রেস তার কাজকে মোটেও সুনজরে তেদখেনি। অন্যদিকে জার্মান প্রেস সানন্দে তাঁর লেখাগুলো প্রকাশ করেছে। রুমানিয়ার সু-নজরে না দেখার কারণ হিসেবে তিনি মনে করে, খোলামেলাভাবে স্বৈরশাসকের সমালোচনা করেছেন তাঁর লেখায়। তার গল্পের পরতে পরতে তিনি দেখিয়েছেন জার্মান অধ্যুষিত এলাকার মানুষদের বেদনা, স্বৈরশাসকদের দুর্নীতি, সীমাহীন অহিষ্ণুতা এবং মানবতার চূড়ান্ত অবদমন।
[দৈনিক সংবাদ সাময়িকী / ১৫ অক্টোবর ২০০৯ ]
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
প্রচেত্য বলেছেন:
পড়লাম, প্রীত হলাম
লেখক বলেছেন: অশেষ ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: ভালো আছি।
আপনার গল্পায়ন কেমন চলছে ?
লিখুন , পড়ুন ।
বুক রিভিউ বলেছেন:
ভাল লাগল কবি ফকির ইলিয়াস। অশেষ ধন্যবাদ।+
লেখক বলেছেন: থ্যাংকস এ লট ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















