করায়ত্ত জলের উজান
--------------------------
ঝড়গুলো এগিয়ে এলেই আমার পিছিয়ে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা
দেখা দেয়। কিছুটা জিরিয়ে নিয়ে আমি আবার চলি। আপাততঃ
গন্তব্য বসন্তপুর। একটা কোকিল যুদ্ধ করছে কাকের সাথে, কিংবা
একটা শিমুল ঝরে পড়ছে পথচারীর মাথার উপর; এমন অপ্রস্তুত
দৃশ্যাবলি দেখে আমি আশ্বস্ত হই। এখনও পৃথিবীতে দখলের বিস্তার
উষ্ণ রেখেছে জীবের মন- তা ভেবে আমি নিজেকে সংযত করি।
যেতে যেতে উষ্ণ উজানে, আমি কিভাবে স্রোতগুলোকে করায়ত্ত
করেছিলাম, সে কথা খুব মনে পড়ে যায়। বৈঠা হাতেই ছিল আমার।
আর ভরাট কণ্ঠে ছিল মুর্শিদী গানের পয়ার...
কী এক মোহ নিয়ে, সিক্ত সূর্যে লেগেছিল ঝড়ের অপার।
২
কিছুটা সময় কেটে গেছে ধ্যানে। তাস তপস্যার ফেরারি
জীবন তালাশ করে ফিরেছি ঘরে। তালাবদ্ধ সারি সারি
দেয়াল জানিয়েছে স্বাগত। আর প্রথা ভাঙা বৃষ্টির আয়না
দেখিয়েছে মুখ। আঁচলের। আঁধারের। আর দূরে, শিল্পিত
অমানিশার। তা দেখে দেখে আমি ভুলে গেছি অনেক কিছুই।
অনেক সর্বনাম, বিশেষ্য, অব্যয় এবং রাতসিঁড়ি বেয়ে যাওয়া
ভুলনগরের। ভুলে গেছি, বরফের ভেদ-বাতুনি। কী আশ্চর্য
সাহস নিয়ে নিজে গলে যায়, আর গলায় তাসরাতে জমে ওঠা
অগণিত স্বপ্নের খনি।
[ দৈনিক সমকাল / কালেরখেয়া / ১৪ মে ২০১০ প্রকাশিত ]
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০১০ রাত ১২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



