somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সীমান্তে সহনশীলতা ও মানুষের সম্প্রীতি ফকির ইলিয়াস
=========================================
আবারো কথার আগুন ছড়িয়েছেন ভারতের বিএসএফের মহাপরিচালক ইউকে বানসাল। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের প্রধান বলেছেন, বাংলাদেশ সীমান্তে তার বাহিনী গুলি চালানো বন্ধ করবে না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সীমান্তে অপরাধীদের থামাতে আমাদের ব্যবস্থা নিতেই হবে।
গেলো মঙ্গলবার রাতে রেডিও বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিএসএফের মহাপরিচালক ইউকে বানসাল বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে গুলি চালানো পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেছেন, যতোক্ষণ ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ সীমান্তে অপরাধমূলক কাজ হতে থাকবে, ততোক্ষণ সেই অপরাধ আটকাতেই হবে বিএসএফকে, সেটাই বাহিনীর দায়িত্ব।
বানসাল এ মন্তব্য করেছেন এমন এক সময় যখন সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর হাতে বাংলাদেশীদের ওপর হত্যা-নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে।
আমরা দেখেছি, বলপ্রয়োগ আর গুলি চালিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করার অনেক অভিযোগ আছে বিএসএফের বিরুদ্ধে। ফেলানিকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। হাবিবকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করেছে বিএসএফের সদস্যরা।
এসব ঘটনায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিএসএফকে ট্রিগার হ্যাপি ফোর্স বা বন্দুকবাজ বাহিনী বলে আখ্যা দিয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলেছেন, চোরাচালান এমন অপরাধ নয়- যার শাস্তি মৃত্যুদন্ড হতে পারে, আর বিএসএফ আদালত নয়। তাদের বিচার করার ক্ষমতাও নেই। বিএসএফ কাউকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করতে পারে, কিন্তু তাদের গুলি চালনা অবৈধ ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অপরাধ।
দেশে-বিদেশে এই প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকা- কখনই মেনে নেয়া যায় না।
তিনি বলেন, এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনে আমরা জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে বিষয়টি উত্থাপন করবো। তাছাড়া এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আমরা ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। তাকে বলেছি- কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কিভাবে সীমান্তে হত্যা বন্ধ করা যায়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। আর সেই মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে স্বাধীন দেশে মানবাধিকারের অগ্রযাত্রা বেগবান করা সম্ভব নয়।
ভারত-বাংলাদেশ সম্প্রীতি বাড়াতে চাইলে দুদেশের মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা বাড়াতে হবে। আমরা জানি, একসময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশগুলের মধ্যে সংঘাত প্রতিঘাত ছিল কিন্তু তারা নিজেদের স্বার্থে সম্প্রীতি গড়ে তুলেছে এবং একই মুদ্রা চালু করেছে। আমাদের সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যেও সে রকম আন্তরিকতার পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। অথচ আমরা দেখি, সার্ক সম্মেলনগুলোতে আমাদের নেতারা বড় বড় ওয়াদা প্রতিবারই করেন।
বাংলাদেশ-ভারতের কিছু পুরোনো ইস্যু এখনো রয়ে গেছে। তা অনেক আগেই সমাধান করা উচিত ছিল।
তিস্তার পানিবণ্টন, তিনবিঘা করিডোর, সমুদ্রসীমাসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। যেগুলোর মীমাংসা হওয়া জরুরি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করে গেছেন কিছুদিন আগে। এই দেশের জনগণ সম্পর্কে খুবই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অথচ তার সফরের সময় পানিচুক্তিটি হয়নি। এখনো ঝুলে আছে। এভাবে ঝুলিয়ে রেখে প্রতিবেশীর প্রতি কতোটা দায়িত্ব পালন হয়, তা ভেবে দেখা দরকার।
তা ছাড়া বহুল আলোচিত ট্রানজিট চুক্তিটিও হবে দুদেশের স্বার্থরক্ষা করেই। ট্রানজিট নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছে এর বিরোধিতাকারীরা। ঢাকায় এসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খোলাখুলি বলেছিলেন, ট্রানজিটের মাধ্যমে অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের কোনো সুযোগ নেই। তার এ বক্তব্যের পর আশা করা হয়েছিল অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার এই উদ্যোগটি সম্পর্কে অহেতুক সকল সন্দেহের অবসান ঘটবে। কিন্তু তা এখনো কার্যকারিতার মুখ দেখেনি।
তিস্তা চুক্তিটি দেশের উত্তরবঙ্গের কৃষির অগ্রযাত্রার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাক্সিক্ষত ফসল উৎপাদনে সফল হতে পারলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও বৃদ্ধি পাবে। তাই দুদেশের চুক্তি সম্পন্নের পর তার বাস্তবায়নও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের মানুষ সবসময়ই প্রত্যাশা করছেন, দুদেশের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্ক অটুট থাকবে এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন আরো শক্তিশালী হবে।
জাতীয় সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুতে সমীক্ষা টিমে বাংলাদেশের প্রতিনিধি রাখার দাবি বাংলাদেশ ভারতের কাছে জানিয়েছে। কাজটি সেভাবেই করা উচিত।
আমরা অতীতে দেখেছি, সীমান্তে হাট বসেছে। বাজার করেছেন স্থানীয়রা। এগুলো সবই সম্প্রীতির লক্ষণ। দুই রাষ্ট্রের সহনশীলতা বাড়লে এই সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য আরো বাড়বে সন্দেহ নেই।
কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল পোস্ট নামের একটি গণমাধ্যমে বাংলাদেশ সীমান্তকে ‘মৃত্যুর দেয়াল’ বলে মন্তব্য করে বলা হয়েছে- ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত, ইসরাইল-ফিলিস্তিন সীমান্তের চাইতে ভয়াবহ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০১০ সালের প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছিল, হত্যা-মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ভারতের বিএসএফের বিচার হওয়া উচিত।
কিন্তু তারপরও দুদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগী হয়নি। কেন হয়নি?
বাংলাদেশকে কেউ তাদের তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবে না। এই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, পতাকা-মানচিত্র সমুন্নত রাখতে এই প্রজন্ম আগের মতো সব সময়ই শির উঁচু করে এগিয়ে যাবে। মনে রাখা দরকার কোনো আগ্রাসনই বাঙালি জাতিকে রুখতে পারেনি। কারণ বাংলাদেশের মানুষ সকল সম্প্রীতিতে সবসময়ই আস্থা রাখেন।
৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২
-----------------------------------------------------------------
দৈনিক ভোরের কাগজ / ঢাকা / ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ শনিবার
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29538856 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29538856 2012-02-11 09:29:44
গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রশ্নে রাজনৈতিক সমঝোতা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রশ্নে রাজনৈতিক সমঝোতা
ফকির ইলিয়াস
=======================================
অতিসম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্য ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষীণ আলোর রেখা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেছেন, 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার' নামের প্রতি যদি সরকারিদলের আপত্তি থাকে তবে 'অন্তর্বর্তীকালীন' কিংবা 'নিরপেক্ষ জাতীয় সরকার' এমন পদ্ধতির কথা ভাবা যেতে পারে। তবে আওয়ামী লীগের অধীনে কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।
'তত্ত্বাবধায়ক সরকার' এই নামটি থেকে সরে আসাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারাও। তারা বলেছেন, তা নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে। এ জন্য প্রধান বিরোধীদলকে জাতীয় সংসদে আসা দরকার।
প্রায় একই কথা বলেছেন চৌদ্দ দলের নেতারাও। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, বেগম জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির জন্য আন্দোলন করছেন না। তিনি মূলত আন্দোলন করছেন যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য। একটা বিষয় খুবই স্পষ্ট যে, ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী নির্বাচনে জিতে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসত তবে, তারাও এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিত। দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলেরই সামন্তবাদী মানসিকতা এক এবং অভিন্ন। কারণ তারা চায়, অনুকূল সিদ্ধান্তগুলো নিজেদের সময়েই হোক। এই মানসিকতাই বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়নের জন্য প্রধান অন্তরায়।
আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একটি সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে, এমন আশঙ্কা এখন অনেকেই করছেন। বিদেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা প্রকাশও করেছেন। আওয়ামী লীগ যদি নিজেদের অধীনে নির্বাচন করে এবং সে নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে প্রধান বিরোধীদল বানানোর চেষ্টা করা হয় তবে তা বিএনপি মেনে নেবে না। আওয়ামী লীগ যদি নিজেদের অধীনে নির্বাচন করতে চায় তবে তা হবে তাদের মহাভুল। জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়ার পর রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে, এ নব্বই দিন কারা দেশ পরিচালনা করবেন তার একটি ঐকমত্যের রূপরেখা প্রণয়ন তাই খুবই জরুরি বিষয়।
বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, কোন সরকারের অধীনে তার নির্বাচন কমিশন দ্বারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। বিষয়টি তার নিজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারত। অষ্টম জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়ার পর তার দল বিএনপি এবং তার মিত্র জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা নিজেদের প্রতিপত্তি ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। তারা তাদের নিজেদের লোকদের নির্বাচন কমিশনে বসানোর সর্বশেষ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত তাদেরই রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করেছিলেন। ক্ষমতায় যারা থাকেন তারা অনেকটা অন্ধ হয়েই নিজেদের ভুলভ্রান্তিকে হালাল করতে চান অবলীলায়। নিজেদের স্বার্থের মতবাদ চালিয়ে দিতে চান রাষ্ট্রের মানুষের উপর।
বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিক সম্প্রতি একটি জরিপ করেছে। সেই জরিপের ফলাফল, দেশ-বিদেশে আলোচনার বিষয় হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে- এ মুহূর্তে নির্বাচন হলে বিএনপি একশ' সত্তরেরও বেশি আসন পাবে। আওয়ামী লীগ পেতে পারে সত্তরের মতো। জামায়াত চৌদ্দ আসন পেতে পারে। জাতীয় পার্টি চবি্বশ আসন পেতে পারে। এই জরিপ কি ভবিষ্যৎ জানান দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলকে? আওয়ামী লীগের চরম ভরাডুবি হতে পারে এমন শঙ্কা নিয়ে সরকারিদলের নীতিনির্ধারকরা কী ভাবছেন? জরিপ অনুযায়ী তাদের জনপ্রিয়তায় এমন ধস নামার কারণ কী?
একটি কথা বলে নেয়া দরকার, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আসন সংখ্যা কমবে তা অনুমান করা যাচ্ছে খুব সহজেই। কিন্তু যদি তাদের চরম ভরাডুবি ঘটে তবে পরিস্থিতি কেমন হবে তাও সহজেই অনুমেয়। প্রথমত, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ হয়ে যাবে নিমিষেই। এই অভিযোগে অভিযুক্তরা শুধু মুক্তিই পাবে না তাদের অনুসারীরা দেশে তীব্র প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠতে পারে। দেশে চরম অরাজকতা সৃষ্টির প্রয়াসী হয়ে উঠতে পারে একটি চিহ্নিত মহল। লুণ্ঠিত হতে পারে অনেক অর্জন।
বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার সে সুযোগ করে দিতে চাইলে তা দেশের জন্য চরম অমঙ্গল বয়ে আনতে পারে। দেশের গণমানুষের দাবি পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে বিরোধীপক্ষ সে সুযোগ তো পাবেই। দেশের জনগণ তো বটেই প্রাজ্ঞ রাজনীতিকরাও যে সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের অস্বচ্ছতাকে মেনে নিতে পারছেন না তার অনেক উদাহরণ আমরা প্রতিদিন দেখছি।
সম্প্রতি সিলেটে, নারায়ণগঞ্জের সদ্য পাস করা মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর গণসংবর্ধনা হয়েছে। সেই সংবর্ধনায় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
ওই সংবর্ধনা সভায় বক্তৃতাকালে অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন ন্যাপের কেন্দ্রীয় নেতা, দেশের প্রগতিশীল রাজনীতির বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আবদুল হান্নান। তিনি বলেছেন, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের এমন চরম ব্যর্থতার পর অর্থমন্ত্রীর উচিত পদত্যাগ করে মানুষের কাতারে এসে দাঁড়ানো। অর্থমন্ত্রী উপস্থিতিতে তার এমন পদত্যাগ দাবি শুনে মুখম-ল পানসে হয়ে গিয়েছে স্বয়ং অর্থমন্ত্রীর।
বেশ ক'জন মন্ত্রী যে চরমভাবে ব্যর্থ, তা এই সময়ে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু পরিবর্তন নেই। মন্ত্রীদের কাউকেই বাদ দিতে চাইছেন না প্রধানমন্ত্রী! কিন্তু এতে কি শেষ রক্ষা হবে? তা কি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর হচ্ছে?
আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দু এখন ১২ মার্চ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট বলে দিয়েছেন ওইদিন ঢাকায় কোন সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। আরও এক ধাপ এগিয়ে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকাগামী মানুষজনকে রাস্তায় আটকে দেয়া হবে। এমন হুমকি-ধমকি কোন সুস্থ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিচয় বহন করছে না। তা কোন মতেই মানা যায় না। মানার কথাও নয়। কারণ আজ যারা সরকারে, আগে তারাও বিরোধীদলে ছিলেন। আগামীতেও বিরোধীদলে যেতে পারেন। তাই পরমতসহিষ্ণুতা তারা লালন করছেন না কেন?
খালেদা জিয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কথা বলে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত করেছেন। সংসদে এসে বিএনপি তা নিয়ে কথা বলতে পারে। এখানে যদি আওয়ামী লীগ তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পেশি দেখায়, তাও তো সংসদের কার্যবিবরণীতে লিপিবদ্ধ হবে। অতএব, সংসদে আসতে বিএনপি তো গড়িমসি করছে কেন? এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির পজিটিভ সিদ্ধান্তে পেঁৗছানো দরকার।
গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত হচ্ছে, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। বাংলাদেশে গেল চারদশকে নির্বাচিত সরকার পদ্ধতি রাষ্ট্র এবং মানুষের কল্যাণে শতভাগ ব্রতী হতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ প্রধান দলগুলোর মধুলোভীদের লুটপাট এবং তাদের বাঁচানোর জন্য সিনিয়রদের কসরত। দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষ কোন রাজনৈতিক দলের জন্য মঙ্গলজনক নয়। আর রাষ্ট্রের জন্য তো নয়ই। তাই ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক ভাষা পরিহার করে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা নিয়েই দেশের কল্যাণের কথা ভাবা দরকার। ভোটের রাজনীতি ক্ষমতা দিতে পারে। নিতেও পারে। এই সত্যকে শ্রদ্ধা না করলে রাজনীতি থেকেই সরে দাঁড়ানো দরকার। সরকারের তিন বছর শেষ হয়েছে। বাকি দুটি বছর অর্থবহ করে তুলতে হলে, সরকারপক্ষকেই বেশি সহনশীল হতে হবে।
নিউইয়র্ক, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২
---------------------------------------------------------------
দৈনিক সংবাদ / ঢাকা / ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ শুক্রবার প্রকাশিত





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29538313 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29538313 2012-02-10 10:56:13
মাঝে মাঝে এভাবেই কথাগুলো মুছে যায় নাফিস ইফতেখার - আপনাকে ]

আমাদের চারপাশে অক্ষরের প্রচারণা দেখে খুঁজে ফিরি
ভালোবাসার পথ। বৃষ্টি এসে মুছে দেয় যে স্বপ্নগুলো
আসলে তা হারায় না। জেগে থাকে চাঁদের চোখের মতো।
কখনও কাঁদতে পারে, কখনও কাঁদায়
পথচেয়ে সেই সত্য পরখ করে অভিসারী মন।

বিজ্ঞাপনটি টিভির পর্দায় ভেসে উঠলেই ঐ শিশুটির
সাথে আমিও পার হই পরিচিত সাঁকো। তারপর
দৌড়ে গিয়ে তালাশ করি বিধ্বস্থ চিঠির স্তুপ। হাতে
লেখা বর্ণের ছটা। আর হস্তছাপ। এই ভূমিতে একদিন
আমার পিতামহের ও ছায়া পড়েছিল !

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29536470 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29536470 2012-02-07 11:44:02
বাঙালির জীবনে একুশ ও অগ্রসরমান প্রজন্মের উত্থান ফকির ইলিয়াস
=======================================
মহান ফেব্রুয়ারি মাস শুরু হয়েছে। আমাদের জীবনে আরো একটি একুশে জানান দিচ্ছে আমাদের উত্থানের কথা। একুশ এলেই আমি অনেকটা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ি। নিজের কাছে নিজে শাণিত হই। একুশ পালনে নিজের প্রস্তুতি সারি।

জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এবার বহুভাষিক কবিরা কবিতা পড়বেন ২০ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে। স্থায়ী মিশনের কালচারাল মিনিস্টার বিশিষ্ট নাট্যজন, সাহিত্যিক মমতাজউদ্দীন আহমদ ফোন করেছিলেন। বললেন, কবিতা পড়তে হবে। বললাম, জি, পড়বো। ২০টি দেশের কবিরা কবিতা পড়বেন সেদিন। জাতিসংঘ চত্বরে আমি প্রায়ই যাই। বিভিন্ন দেশের পতাকার পাশাপাশি বাংলাদেশের যে পতাকাটি পত পত করে উড়ছে, তার ছায়ায় গিয়ে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে অথবা বসে থাকি। মনে পড়ে আজ থেকে প্রায় ২৮ বছর আগে প্রথম যেদিন জাতিসংঘ চত্বরে গিয়ে ঐ পতাকার ছায়ায় দাঁড়িয়েছিলাম, তখন প্রাণভরে খুব কেঁদেছিলাম। কেন কেঁদেছিলাম আমি? সেই প্রশ্নটির উত্তর আজো খুঁজে বেড়াই।

আমরা জানি, যারা বাঙালি জাতিসত্তাকে শোষণ করতে চেয়েছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল বাঙালি জাতির কণ্ঠ রুদ্ধ করে দেয়া। প্রজন্মকে গুঁড়িয়ে দেয়া। তা না হলে একই রাষ্ট্রের একটি অংশীদার অংশ, অন্য সমান অংশীদারের ওপর এমনভাবে আক্রমণাত্মক হতে যাবে কেন? ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশের কাছ থেকে যখন পাকিস্তান স্বাধীন হয়, তখন তো ভাবা যায়নি পশ্চিম পাকিস্তানিরা চাইবে উর্দুই হবে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। জনসংখ্যার দিক দিয়েও বাঙালিরা ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ। যদি রাষ্ট্রভাষা বিষয়ে গণভোট হতো তবুও বাংলাভাষাই জিতে যেতো। বাঙালিরাই জিতে যেতেন। না, পশ্চিমারা সে সুযোগও দেয়নি। তারা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে। বাঙালি জাতিকে, বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষিকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র সেদিনই শুরু হয়েছে। সেভাবেই শুরু হয়েছে।

ভাবতে অবাক লাগে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত দুই যুগ সময় বাঙালিরা পাকিস্তানিদের পেশি শাসন মেনে নিয়েছিলেন। শোষণের যতো কলাকৌশল, সবই প্রয়োগ করেছিল পাকিস্তানিরা। ভাষা, সংস্কৃতি, চাল-চলন, খাদ্যাভ্যাস, মানসিকতা কোনো দিকেই পাকিস্তানিদের সঙ্গে বাঙালিদের কোনো মিল ছিল না এবং নেই। তার পরও ‘হাম মুসলিম’ ‘তুম ভি মুসলিম’ এই দোহাই দিয়ে জিন্নাহ, লিয়াকত আলীরা চেপে বসেছিলেন বাঙালি জাতিসত্তার বুকের ওপর। আমার বারবারই মনে হয় ১৯৪৭ সালেই বাঙালি জাতির, বাংলা সভ্যতা-সংস্কৃতির একটি ভূখ- জন্ম নেয়াটা খুব প্রয়োজন ছিল। পাকিস্তানিদের সঙ্গে রাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব মেনে নেয়াটা ছিল রাজনৈতিক মহাভুল।

রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার ঘোষণা দিয়ে তারা ‘স্টোন টেস্ট’ করেছিল। কিন্তু প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাঙালিরা। অনেক রক্ত এবং প্রাণের বিনিময়ে বাংলা বাঙালিদের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই রাষ্ট্রে দুটি রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার মাধ্যমে মূলত তারা সেদিন নিজেদেরকে আলাদা করে নিয়েছিল। শুধু ঝুলে থেকেছিল বাংলা ভূমি থেকে শোষণ কাজটি সম্পন্ন করার জন্য। কলার ছড়িতে বাদুড় যেমন ঝুলে থাকে।

বলতে দ্বিধা নেই, বাঙালি জাতির সে সময়ে রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দেওয়ার মতো সাহসী নেতৃত্ব ছিল না। যারা ছিলেন তারা ছিলেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে। এই দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণে ’৫২তে মায়ের ভাষা কেড়ে নেয়ার চক্রান্ত হওয়ার পরও ‘স্বাধীন রাষ্ট্র চাই’- এই ঘোষণা সে সময়ের বাঙালি নেতৃবৃন্দ দিতে পারেননি। যারা একটু সোচ্চার হতে চেয়েছেন তাদেরকেই একটু ক্ষমতা, সামান্য বিত্ত-বৈভব দিয়ে থামিয়ে দেয়া হয়েছে।

একজন শেখ মুজিবুর রহমান জন্ম নিতে কিংবা গড়ে উঠতে একাত্তর পর্যন্ত সময় নিতে হয়েছিল। বাঙালি জাতি যখন বুঝতে পেরেছিল এই জাতির আকাশে একটি নক্ষত্র জন্ম নিয়ে নিয়েছে, তখনই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে জাতি দেরি করেনি। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের পরও যারা পশ্চিমা শোষকদের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে রাজনীতি করতে চেয়েছিলেন কিংবা আত্মীয়তা করে পাকিস্তানের একাংশের ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন তাদের ধ্যান-ধারণা ভেঙে খান খান করে দিতেই এগিয়ে এসেছিলেন একজন বঙ্গবন্ধু, একজন শেখ মুজিব।

একুশের যে চেতনা ছিল তা ছিল একটাই। মাথা নত না করা। বাঙালি জাতি মাথা নত না করেই রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই চেতনায়ই অর্জিত হয়েছিল বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-বিজয়। দুঃখের কথা, ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনেরও স্বদেশী, স্বজাতি বিরোধিতাকারী ছিল। সেই সময়ের পূর্ব পাকিস্তানে অনেক পরিবার ছিল যারা বাঙালি হলেও তাদের পারিবারিক, ব্যবহৃত ভাষা ছিল উর্দু।

রাষ্ট্রভাষা, ’৫২-এর পর বাংলা হলেও পশ্চিমারা কিন্তু দমে থাকেনি। দেশে মাদ্রাসা শিক্ষার নামে যে শিক্ষালয়গুলো গড়ে উঠেছিল ঐসব মাদ্রাসায় উর্দুই ছিল পঠিত প্রধান ভাষা। আমরা দেখেছি, নামীদামি ওলামারা কোনো ফতোয়া লিখে দিলেও তা লিখে দিতেন উর্দুতে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও মাদ্রাসার কারিকুলামে উর্দু রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে উর্দুতে আল কুরআন-হাদিসের বয়ান বিস্তৃতভাবে আছে। তাই সে ভাষায় গ্রন্থগুলোই মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য বেশি সহায়ক। উর্দুপ্রীতি প্রতিষ্ঠায় এই যে উদ্যোগ তা কিন্তু থেমে থাকেনি। শিক্ষার্জনের নামে, ধর্মীয় বিষয়াদি বিস্তারিত জানার নামে উর্দুতে লেখা বিশদ ভলিউমগুলো আলেম, ফাজেল, কামেল ক্লাসে পড়ানো হয়েছে এবং হচ্ছে। অথচ আল কুরআন-হাদিসের খুঁটিনাটি বিষয়ের বড় বড় ভলিউম ইংরেজি এবং বাংলায়ও প্রকাশিত হয়েছে।

আমি মনে করি, বাংলাদেশে সেকেন্ড লেংগুয়েজ হিসেবে ইংরেজিই হওয়া উচিত। কারণ বিশ্ব এখন ইংরেজি নির্ভর। জ্ঞানবিজ্ঞান প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগুচ্ছে বিশ্ব। তা ছাড়া অর্থনীতিও নিয়ন্ত্রণ করছে ভাষাকে। একজন মার্কিনি ব্যবসায়ী ব্যবসার প্রয়োজনে, বেশি অর্থ মুনাফার প্রয়োজনে চাইনিজ কিংবা জাপানি ভাষা শিখার জন্য দৌড়াচ্ছেন পিকিং কিংবা টোকিওতে। শুধুমাত্র দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে অর্থ বাণিজ্য সুপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘স্প্যানিশ’ ভাষাকে রাষ্ট্রের সেকেন্ড লেংগুয়েজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে রেখেছে।

না, আজকের বাংলাদেশে শুধুমাত্র বাংলা ভাষা নির্ভর হয়েই বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ আর নতুন প্রজন্মের নেই। রাষ্ট্রভাষা, মাতৃভাষার প্রতি যথার্থ সম্মান অবশ্যই থাকবে। তবে যতো বেশি ভাষা শিখতে পারবে সেই প্রজন্ম হবে ততোই আলোকিত। হাঁ, তা হতে হবে সৃজনশীলতার প্রয়োজনে। কোনো উগ্র উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার জন্য নয়।

এই যে উগ্র-উপনিবেশ কিংবা অন্য কোনো দাঁতাল শক্তির আগ্রাসনের কথা বলছি- সেই শক্তিটিই কিন্তু আজো বাংলাদেশ, বাংলার মেধা, বাংলা সংস্কৃতিকে হত্যা করতে তৎপর। যারা ’৫২তে বাংলা ভাষার বিরোধিতা করেছিল, যারা একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তাদের উত্তরসূরিরাই এখনো বাংলাদেশকে হিংস্র দাঁত দেখাচ্ছে।

এর কিছু উদাহরণ এখানে দেয়া যেতে পারে। বিএনপির একজন রাজনীতিবিদ এখন জেলে আছেন তার নাম সাকা চৌধুরী। চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ের উপদেষ্টা সাকা চৌধুরী প্রায়ই জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় সংস্কৃতিকে কটাক্ষ করে কথাবার্তা বলেছেন। জানা যায়, এখনো নাকি তার পারিবারিক ভাষা উর্দু! বাংলাদেশে এখনো নাকি এমন আরো কিছু পরিবার রয়েছে ! অন্যদিকে আমরা এটাও দেখছি, ভাষার প্রচারের নামে একটি বেনিয়া গোষ্ঠী দেশে মুনাফার বিভিন্ন উচ্চ বাণিজ্যের পসরাও সাজিয়ে বসেছে। বাংলিশে এসএমএস কে প্ররোচিত করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন টেলি কোম্পানিগুলো। দেশের আইনি ব্যবস্থায় ইংরেজির ব্যবহারের কথা আর না হয় নাই বললাম।

বাংলাদেশে এখনো অনেক চরিত্র রয়ে গেছে যা সেই কায়েমি স্বার্থবাদী শক্তির প্রতিকৃতি। যে কায়েমি স্বার্থবাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। খুবই দুঃখ এবং লজ্জার কথা এই অপশক্তির ছায়া এখনো বাংলাদেশে, বাঙালি জাতির মাঝে থেকে গেছে। এবং মাঝে মাঝে মহড়ার দাপট দেখাচ্ছে। তারা কোনো নিয়মনীতিই মানছে না। মানতে চাইছে না।

বাঙালি জাতি সবসময়ই বহন করেছে উত্থানের সুযোগ্য উত্তরাধিকার। রবীন্দ্র, নজরুল, তিতুমীর সূর্যসেন, শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দী, ভাসানী, শেখ মুজিবরা আবির্ভূত হয়েছেন যুগে যুগে। দুচার জন মীরজাফর যে পথের কাঁটা হয়নি- তা কিন্তু নয়। কিন্তু সেই বিচ্ছিন্ন অপশক্তি অগ্রসরমান প্রজন্মের পথ আটকাতে পারেনি। আর পারেনি বলেই এখনো বাংলাদেশে হাজারো তরুণ-তরুণী একুশে উৎসব, নজরুল উৎসব, রবীন্দ্র উৎসব, হেমন্ত উৎসব, বসন্ত বরণের উৎসবে রাজপথে নেমে আসেন। এখনো বৈশাখি মেলায় প্রাণ খুলে গান গেয়ে যান বিবাগী বাউল। এখনো বইমেলায় প্রাণের উচ্ছলতা নিয়ে ছুটে আসে এই প্রজন্ম। এখনো কৃষকের হাতের জোয়াল সন্ত্রাসীর কাটা বন্দুকের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। একুশ বাঙালি জাতিকে রুখে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। এই রুখে দাঁড়ানো স্বাধিকার আদায়ের প্রয়োজনে। অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে। প্রভাতফেরির পুষ্পার্ঘ্যশক্তির কাছে, সব অপশক্তি হার মানবেই। প্রজন্ম এগিয়ে যাচ্ছে এবং যাবে সেই বজ্রসাহস নিয়েই। এই যে চেতনা, তা ধরে রেখেই সামনে এগোতে হবে। বিশ্বের যে কোনো ভাষা রপ্ত করা এখন দরকারি বিষয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে বাঙালি সংস্কৃতি, কৃষ্টি, সভ্যতা ও ঐতিহ্যের যে বহমান ধারা, তা-ই হতে হবে বাঙালি জীবনের মূলস্রোত। দেশে কিংবা অভিবাসে, যেখানেই হোক।
২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২
---------------------------------------------------------------
দৈনিক ভোরের কাগজ / ঢাকা / ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ শনিবার প্রকাশিত
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29534746 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29534746 2012-02-04 08:46:25
নিউইয়র্ক পুলিশ প্রশাসনে প্রদর্শিত 'দ্যা থার্ড জিহাদ' ও শান্তির অনুশীলন নিউইয়র্ক পুলিশ প্রশাসনে প্রদর্শিত 'দ্যা থার্ড জিহাদ' ও শান্তির অনুশীলন
ফকির ইলিয়াস
===========================================
একটি ডকুমেন্টারি নিয়ে শীর্ষ মার্কিনি সমাজে এখন নানা তোড়জোড়। এর নাম 'দ্যা থার্ড জিহাদ'। এই ডকুমেন্টারিটি করা হয়েছে মার্কিনি মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত করে। সবচেয়ে অবাক করা কান্ড হচ্ছে এই ডকুমেন্টারিটি নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াই পিডি) সদ্য যোগ দেয়া সদস্য অর্থাৎ ক্যাডেটদের দেখানো হচ্ছে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী দৈনিক 'দ্যা নিউইয়র্ক টাইমস' এ বিষয় নিয়ে একটি রিপোর্ট করার পর হৈচৈ শুরু হয় গোটা যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনে। রিপোর্টে বলা হয়, ২০১০ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে নতুন যোগ দেয়া পুলিশ ক্যাডেটদের সেমিনার এবং ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় দেড় হাজার নতুন পুলিশ সদস্য যোগদান করেন। সেখানে, সেমিনার রুমের পাশেই অন্য একটি রুমে বড় টিভি স্ক্রিনে 'দ্যা থার্ড জিহাদ' ডকুমেন্টারিটি বারবার প্রদর্শিত হয়।
মুসলমান সমাজকে সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে বাহাত্তর মিনিটের এই ডকুমেন্টারিটি এমনভাবে দেখানো হয়, যেন তা ছিল- পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেয়া নবিশদের ট্রেনিংয়েরই একটি অংশ! এক তরুণ ক্যাডেটের প্রবল আপত্তির মুখে পড়ে তা বন্ধ করা হয়। ঘটনাটি এক বছরেরও বেশি সময় ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।
উগ্রবাদিতায় মুসলিম সমাজই নেতৃত্ব দিচ্ছে, এমন প্রতিফলন ঘটিয়ে ২০০৮ সালে নির্মাণ করা হয় এ তথ্যচিত্রটি। একটি নন প্রোফিট অর্গানাইজেশনের অর্থায়নে নির্মিত হয় তথ্যচিত্রটি। একই সংস্থা এর আগে 'র‌্যাডিকেল ইসলাম'স ওয়ার এগেইনস্ট দ্যা ওয়েস্ট' শিরোনামে একটি তথ্যচিত্রের অর্থায়ন করে।
প্রশ্ন উঠেছে এমন বিতর্কিত, অশুভ উদ্দেশে পরিকল্পিত একটি তথ্যচিত্র আমেরিকান পুলিশ একাডেমিতে কেন দেখানো হলো? কীভাবে দেখানো হলো?
পত্র-পত্রিকায় সংবাদটি ফলাও করে প্রচারিত হওয়ার পর পরই মুখ খোলেন নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ।
তিনি এমন কর্মকা-কে 'জঘন্যতম বিবেচনা' বলে আখ্যায়িত করে বলেন, এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকা- যুক্তরাষ্ট্র গ্রাহ্য করেনি, করবেও না। মেয়র বলেন, ওই ডকুমেন্টারি সেখানে দেখানো হবে বা হচ্ছে তেমন কোন তথ্য পুলিশ কমিশনার মি. র‌্যামন্ড কেলিরও জানা ছিল না। মেয়র জানান, প্রশাসনের গোচরে আসার পর পরই তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র মি. পল ব্রাউন বলেন, পুলিশ বিভাগ এমন কোন তথ্যচিত্র প্রদর্শনের কোন অনুমতি দেয়নি এবং তা ট্রেনিং সেশনের কোন অংশও ছিল না। পল ব্রাউন জানান, সেমিনার রুমের পাশেই অন্য একটি রুমে এই ভিডিওটি দেখানো হচ্ছিল। যেখানে নতুন অফিসাররা কাগজপত্র ফিলাপসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কাজকর্ম সারছিলেন। এক অফিসার আপত্তি জানানোর পর পরই তা সরিয়ে নেয়া হয়। তিনি আরও জানান, যে সার্জেন্ট এই তথ্যচিত্রটি সংগ্রহ করে সেখানে প্রদর্শন করার ব্যবস্থা করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ এরই মধ্যে গৃহীত হয়েছে।
সংবাদটি মিডিয়ায় সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়ার পর 'দ্যা থার্ড জিহাদ' তথ্যচিত্রের নির্বাহী প্রযোজক রাফায়েল শোর নিজেদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরা মনে করি এই তথ্যচিত্রটি গোটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি ল' অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির সদস্যদের দেখা দরকার। কারণ মুসলিমরা কেমন উগ্রবাদিতা লালন ও পৃষ্ঠপোষকতা করছে তা সবার জেনে নেয়া উচিত।
মেয়র বস্নুমবার্গের 'জঘন্যতম বিবেচনা' আখ্যায়নের কোন উত্তর দিতে সাহস দেখায়নি পুলিশ বিভাগ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবতাবাদী এবং ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনেক সংগঠন এমন হীন ও ঘৃণ্য কর্মকা-ের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে। সমাজবিজ্ঞানী, রাজনীতিক আইন বিশ্লেষকরা একবাক্যে বলেছেন, কোন ধর্মাবলম্বীদের টার্গেট করে আমাদের পুলিশ প্রশাসন গড়ে উঠতে পারে না। এমন দুঃসাহসের ইন্ধন কে দিচ্ছে, কেন দিচ্ছে?
মুসলিম আমেরিকান গ্রুপস বলেছে, এ ঘটনার মাধ্যমে বস্নুমবার্গ প্রশাসন তার জবাবদিহিতা এবং গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। ঘটনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে, 'দ্যা থার্ড জিহাদ' তথ্যচিত্রে পুলিশ কমিশনার র‌্যামন্ড কেলির উপস্থিতির কারণে। কেলি কোন মতলবে ওই তথ্যাচিত্রের শেষাংশে ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন তাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
এই তথ্যচিত্রে আর যাদের সাক্ষাৎকার ধারণ করা হয়েছে এর মাঝে রয়েছেন, নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানি এবং কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জোসেফ লিবারম্যান।
সংবাদটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ার পর দাবি ওঠে পুলিশ কমিশনার র‌্যামন্ড কেলির পদত্যাগের। ২৫ জানুয়ারি ২০১২ বুধবার গোটা মুসলিম সমাজের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন পুলিশ কমিশনার র‌্যামন্ড কেলি। তিনি বলেন, যা হয়েছে তা আমার অজান্তে হয়েছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে এবং অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কিন্তু পুলিশ কমিশনারের এই ক্ষমা প্রার্থনাকেই শেষ কথা বলে মেনে নিতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা। ফর্ডহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক লিশান বার্নি বলেছেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার কোন রাষ্ট্রে, কোন বিশেষ ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কোন অপমতলবে তা করা হয়েছে, তার শিকড় খুঁজে দেখতে হবে।
সিভিল রাইটস গ্রুপের মুখপাত্র সাইরাস ম্যাগোল্ডরিক বলেছেন, এমন অপচেষ্টার মাধ্যমে নিউইয়র্কের শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও নিরাপত্তাকর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তারা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন।
সবমিলিয়ে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, তা হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মপ্রাণ মুসলমান সমাজের উত্থানকে মানতে পারছে না একটি গ্রুপ। ধর্মীয় উগ্রবাদী সব ধর্মেই রয়েছে। ওহাইও অঙ্গরাজ্যে বোমা মেরে যে খুনি শিশু-নারী বৃদ্ধ, বৃদ্ধাকে হত্যা করেছিল সেই পাষ- টিমথি ম্যাকভে খ্রিস্টান ধর্মের অনুশীলনে বিশ্বাস করত। উগ্রবাদিতা এক ধরনের সামাজিক ব্যাধি।
এই ব্যাধিতে যে কোন ধর্মের মানুষ, যে কোন বর্ণ-গোত্রের মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। তাই বলে ঢালাওভাবে ওই গোটা ধর্মকে দোষ দেয়ার কোন সুযোগ নেই। এমনটি বিশ্বসভ্যতা গ্রহণও করবে না। তারপরও এমন চর্চার ব্যাপ্তি প্রজন্মকে হতাশ করছে।
এ ঘটনার মাত্র দুদিন পরই পুলিশ কমিশনার র‌্যামন্ড কেলির ছেলে মি. গ্রেগ কেলি জড়িয়ে পড়েছেন একটি নারীঘটিত কেলেঙ্কারিতে। এক মহিলা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন কেলির ছেলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন এবং তিনি অন্তঃসত্ত্বা বলেও দাবি করেছেন বিভিন্ন মিডিয়ায়। পুলিশ কমিশনারের ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সব সুপারিশ সম্পন্ন করেছেন নিউইয়র্ক ডিস্ট্রিক অ্যাটর্নি অফিস।
ঘটনাটি র‌্যামন্ড কেলিকে সমাজে চরম লজ্জিত করে তুলেছে। জোরদার হয়েছে তার পদত্যাগের কিংবা অপসারণের দাবি।
নীতিবহির্ভূত কাজ করে কেউ রেহাই পাবে না, এমন বাণী উচ্চারণ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
সাবেক মেরিন সদস্য, কেলি ছেলের এই হীন কা- প্রমাণ করেছে ক্ষমতার দাপট মানুষকে বেহিসাবি করে তোলে। যদিও গ্রেগ কেলি বলছেন, ওই মহিলার সঙ্গে যা হয়েছে তা হয়েছে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে। জোর খাটানোর কোন প্রশ্নই ছিল না।
বিশ্বের নানা দেশেই ক্ষমতাবানদের অবৈধ অনুশীলন আমরা দেখি। এর মাঝে ঘৃণ্য এবং বর্বরতম কাজটি হচ্ছে ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে দেয়া। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার' এ নীতিবাক্যটি বারবার উচ্চারিত হওয়ার পরও তার প্রয়োগের ব্যাপারে শীর্ষ কোন কোন রাজনীতিকের উদাসীনতা আমাদের আহত করে। কারণ ধর্মের ব্যবহার করে তারা সস্তা রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে লিপ্ত হন। আর এই সুযোগে অন্য একটি পক্ষ কোন কোন গোটা ধর্মকেই আক্রমণ করার প্রয়াসী হয়।
বিশ্বের প্রতিটি ধর্মই শান্তির অনুশীলনকে উৎসাহিত করে। নান্দনিক সৃজনশীলতার বাণীবন্দনা গায়। সব ধর্মেই বিভিন্ন সময়ে উগ্রপন্থিদের বিচরণ আমাদের চোখে পড়ে। কিন্তু আশার কথা, গোটা বিশ্বের সিংহভাগ মানুষই শান্তিকামী। বিশ্বের নানা দেশে যারা ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করতে চাইছে, আবার যারা বিভিন্ন ধর্মকে অহেতুক কটাক্ষ করতে চাইছে। উভয়পক্ষের বিরুদ্ধেই শান্তিপ্রিয় মানবসমাজকে দাঁড়াতে হবে। প্রজন্ম অবশ্যই নিজ নিজ ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে, তবে তা কোন কট্টরবাদিতাকে প্রশ্রয় দিয়ে নয়।
নিউইয়র্ক, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১২
-----------------------------------------------------------------
দৈনিক সংবাদ / ঢাকা / ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ শুক্রবার প্রকাশিত





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29534310 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29534310 2012-02-03 09:37:46
এই সহিংসতা ভেঙে ফেলতে পারে শান্তির সাঁকো ফ কি র ই লি য়া স
====================================
২০০৫ সালের মার্চে বাংলাদেশ সফর করতে গিয়েছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর প্যাসিফিক কমান্ডের তৎকালীন কমান্ডার অ্যাডমিরাল উইলিয়াম জে. ফ্যালন। তিনি ঢাকায় একটি বিষয় বেশ পরিষ্কার করে বলে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের কার্যক্রম রয়েছে। অ্যাডমিরাল ফ্যালন যা বলেছিলেন, তা তিনি বলেছিলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই। মার্কিন অ্যাডমিরাল স্পষ্ট করে বলেন, এই সন্ত্রাসী চক্রগুলো শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, গোটা বিশ্বের মুক্তিকামী গণতান্ত্রিক মানুষের জন্যই হুমকিস্বরূপ।
কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার ছয় সপ্তাহের মধ্যে অ্যাডমিরাল ফ্যালনের বাংলাদেশ সফর ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোয় সন্ত্রাসের উৎস ও গতি যে গভীরভাবে মনিটর করছে, ওই সফর ছিল তারই একটি পর্ব। অ্যাডমিরাল ফ্যালনের সফরের পর পরই বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান, ফ্যালনের বক্তব্যকে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা পারেননি। আর না পেরেই বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, কোন দেশেই সন্ত্রাস কারও পক্ষে একা দমন করা সম্ভব নয়।
প্রশ্ন উঠে, এর আগে চারদলীয় জোট সরকার যেখানে দেশে মৌলবাদী সন্ত্রাসী নেই বলেই হুংকার দিয়ে আসছিল, সেখানে হঠাৎ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুর এত নরম করেছিলেন কেন? নাকি দেয়াল ভেঙে বন্যা ঢুকতে শুরু করেছিল জোটের মসনদে? যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডমিরালের বক্তব্যের পর পরই তখন সাহায্য চাওয়ার এত প্রয়োজন কেন পড়েছিল?
লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠকে বাংলাদেশ বিষয়ে প্রস্তাব গৃহীতের পরও দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলাদেশ কোন ইউনিয়নের অঙ্গুলি নির্দেশে চলবে না। বাংলাদেশ কারও অঙ্গুলি নির্দেশে চলুক তা বোধহয় কোন দাতা দেশের সদস্যরাও চায় না। তারা চায় বাংলাদেশে সন্ত্রাস, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা, দুর্নীতি বন্ধ হোক। দেশে সব নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হোক এবং গণতন্ত্রের ক্রমবর্ধমান ধারা অব্যাহত থাকুক।
এরপর অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসে। কিন্তু সেই পরাজয় কি ভুলতে পেরেছিলেন বিএনপি নেত্রী? না, পারেননি। তার জন্য আরও বড় সংকট, তার দুই পুত্রের বিদেশে অবস্থান।
অ্যাডমিরাল ফ্যালন তার সফরকালে বেশ কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন উথাপন করেছিলেন। চট্টগ্রামে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র লাপাত্তা হয়ে যাওয়া এবং এর আংশিক উদ্ধার ও পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী গ্রুপের গোপন আস্তানা- এসব বিষয়ে মি. ফ্যালনের উদ্বেগের নিশ্চয়ই অনেক কারণ ছিল। তিনি তো স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবে। কিন্তু কারা সব মতের মুক্তিকামী মানুষের জন্য হুমকিস্বরূপ, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। অ্যাডমিরাল ফ্যালন ঢাকায় যা বলে এসেছিলেন, তা নতুন কিছু নয়। বিষয়টির নতুনত্ব হচ্ছে এই, দেশে এখন ‘হিযবুত তাহ্রীর’ নামে নিষিদ্ধ সংগঠনটি ডানা মেলছে।
আমাদের মনে আছে, সন্ত্রাস দমনে কঠোর মনোভাবাপন্ন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের উত্থান সম্পর্কে সত্যিকার অর্থেই উদ্বিগ্ন ছিল, এখনও আছে। ‘মডারেট মুসলিম কান্ট্রি’ কিংবা ‘উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দেশ’ ইত্যাদি তকমা কারা দিয়েছিল, তাও আমরা ভুলে যাইনি। কথা হচ্ছে, যে কোন বিশেষণেই বাংলাদেশকে তারা ভূষিত করুক, এ দেশটিতে জঙ্গিবাদের কর্কট শক্তি যে বাষ্প ছড়াচ্ছে, তা জানান দিচ্ছে সাম্প্রতিককালের গ্রেফতার ঘটনা।
এদিকে প্রধান বিরোধী দল আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য করার প্রয়াস চালাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের নামে সহিংসতা কারা ছড়াতে চেয়েছিল, তা দেশবাসীর এখন আর অজানা নয়। কিন্তু কথা হচ্ছে, সরকার বিরোধী দলের প্যারালালে কর্মসূচি দিয়ে অবস্থা আরও সংকটাপন্ন করে তুলতে চাইছে কেন? বিরোধী দলের আন্দোলন তো এভাবে ঠেকানো যাবে না। অতীতেও যায়নি। সরকারি দল সব সময়ই ক্রেডিট নেয়, নিতে চায়। আমার মনে পড়ছে, ২০০৫ সালে নিউইয়র্ক সফরে এসে একইভাবে নিজ সরকারের পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন তারেক রহমান।
চট্টগ্রামে মেয়র নির্বাচনে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিজয়কেও সে সময়ের সরকারের নিরপেক্ষতা বলে বর্ণনা করেছিলেন তারেক রহমান। তিনি বলেছিলেন, বর্তমান সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ যে অবস্থা তা অতীতেও ছিল। কিন্তু এমনটি তো এই স্বাধীন দেশের মানুষের কাম্য ছিল না। মনে রাখতে হবে, একাত্তর-পূর্ববর্তী সময়ের আন্দোলন ও বর্তমান সময়ের আন্দোলনের ধারা, গতি-প্রকৃতি এক হতে পারে না। হওয়া উচিতও নয়।
এই সহিংসতা যদি শান্তির সাঁকো ভেঙে ফেলে, তাহলে লাভবান হবে কে? সেই কালো শক্তিরা? অবশ্যই তারা এমন সুযোগের অপেক্ষায় আছে।
২৯ জানুয়ারি, ২০১২ চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে চারজন নিহত হয়েছেন। পুলিশের গুলিতে এমন মৃত্যু প্রমাণ করে সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে। তা দেশের জন্য, মানুষের জন্য তীব্র উৎকণ্ঠার কারণ। আর বিদেশী বিনিয়োগ? তা শিকেয় উঠবে, উঠছে ক্রমশ। মানুষ বাঁচাতে সরকারকে সহনশীল হতেই হবে। নয়তো, তাদের ভুলের মাশুল জাতির জন্য আরও দুর্ভাগ্য বয়ে আনতে পারে।
৩০ জানুয়ারি ২০১২
-----------------------------------------------------------------
দৈনিক যুগান্তর/ ঢাকা / ৩১ জানুয়ারি ২০১২ মঙ্গলবার






















]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29532486 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29532486 2012-01-31 11:05:50
উৎখাতবাদী কালোশক্তি ও রাষ্ট্রস্বার্থ নিয়ে সরকারের ভাবনা ফকির ইলিয়াস
=======================================
গণতন্ত্রের একটি সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা, বিশ্ব কর্তৃক স্বীকৃত। আর তা হচ্ছে এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র পরিচালিত হবে জনগণের ভোটে। জনগণের ইচ্ছায়। কোন আরোপিত গণতন্ত্র কিংবা দখলদারিত্বের গণতন্ত্র কখনোই প্রকৃত গণতন্ত্রের রূপকল্প হতে পারে না। দুঃখের কথা হচ্ছে এই, প্রকৃত গণতন্ত্রের লেবাসে অনেক দেশেই এক ধরনের চক্রান্ত বিরাজ করে। 'আমরাও গণতন্ত্রী' এমন ঢাল দেখিয়ে মূলত কিছু রাজনীতিক পেছনের দরজা দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার মানস লালন করেন। ষড়যন্ত্রের প্রয়োজনে তারা রক্তারক্তি কা- ঘটাবার চেষ্টা করতেও পিছ পা হন না।
বাংলাদেশে অতি সম্প্রতি আবারও একটি ক্যু নস্যাৎ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এখন বিশ্বে আলোচিত বিষয়। ১৯ জানুয়ারি ২০১২ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, সামরিক বাহিনী একটি অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। পত্র-পত্রিকার রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ চলমান সরকারের বেশ কিছু শীর্ষ নেতা এই টার্গেটের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। সংবাদগুলো গোটা জাতির জন্য ভয়াবহ তো বটেই। কারণ বিশ্বের নানা দেশে মৌলবাদী, জঙ্গিবাদী, স্বৈরতন্ত্রী একনায়করা যখন রাষ্ট্র ক্ষমতা ছেড়ে পালাচ্ছেন তখন বাংলাদেশে একটি জঙ্গিবাদী শক্তি সামরিক কায়দায় সরকার উৎখাতের পাঁয়তারা করছে!
১৯৭৫ পরবর্তী, বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সামরিক শক্তিকে একটি মহল বরাবরই স্বাগত জানিয়েছে। এরা কারা, কারা তা থেকে ফল ভোগ করেছে তা এই দেশের মানুষের অজানা নয়। এর নেপথ্যে অন্যতম প্রধান কারণটি হচ্ছে, একাত্তরে পরাজয়ের প্রতিশোধ। বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়কে মেনে না নেওয়ার শোক ভুলতে পারছে না। না পারার কারণেই 'গণতন্ত্রের চেয়ে সামরিকতন্ত্র কিংবা জঙ্গিতন্ত্র উত্তম' এমন স্লোগান তারা বার বার দিচ্ছে ঘরে বাইরে।
বাংলাদেশে জামায়াত-বিএনপি চারদলীয় জোট রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর তারা জঙ্গিবাদী বিভিন্ন গ্রুপকে তাদের 'বি-টিম' হিসেবে তৈরি রেখেছিল, তা কালে বারবারই প্রমাণিত হচ্ছে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে জঙ্গিবাদী পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধীদের বিচার প্রক্রিয়া জোরদার হওয়ার পরপরই তারা দেশে বিশৃঙ্খলা ঘটানোর জন্য নানাভাবে সক্রিয় হতে থাকে। এটা শঙ্কার কথা, একটি রাজনৈতিক ছত্রছায়া তাদের অতীতের মতো এখনো মদত দিচ্ছে।
১৯ জানুয়ারির সেনাসদরের ব্রিফিংয়ে যা বেরিয়ে এসেছে তার সারকথা হচ্ছে, অভ্যুত্থানকারীদের অনেকেই ধর্মান্ধ জঙ্গিবাদিত্বে বিশ্বাসী। এরপর পরই হিযবুত তাহ্রীর নামে একটি ধর্মীয় খেলাফতবাদী গ্রুপের সদস্যদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গ্রেফতারের ঘটনা আমরা দেখছি। তাদের কাছে জেহাদি তরিকার বইপত্র, মেনোফেস্টো ইত্যাদিও পাওয়া যাচ্ছে। তাই সঙ্গতকারণে প্রশ্ন আসছে আফগানিস্তান-পাকিস্তানের পর তালেবানি শক্তি কি বাংলাদেশের ওপর জোরেশোরে ভর করতে চাইছে?
ঘটনা পরম্পরায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু শীর্ষ নেতা মুখোমুখি বাগ্যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, ভারত সরকার নাকি যে কোন মূল্যে শেখ হাসিনা সরকারের পাশে থাকবে।
এখানে যে বিষয়টি না বললেই নয় তা হচ্ছে, ভারতের আনন্দবাজার গ্রুপটি সব সময়ই একটি মধ্যস্বত্বভোগী সংস্থা। তাদের কাজই হলো আজগুবি, কাল্পনিক সংবাদ পরিবেশন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়, গর্হিত কাজ। প্রশ্ন হচ্ছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং কি স্বয়ং এমন কোন ঘোষণা দিয়েছেন? না, দেননি। তাহলে আনন্দবাজার পত্রিকা অতি উৎসাহী হয়ে এমন সাংবাদিকতা করছে কোন হলুদ সাংবাদিকতার মাথা খেয়ে? তারা বিষয়টিকে উসকে দিচ্ছে কিংবা দিতে চাইছে।
লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, ঢাকায় যখন (ডিসেম্বর ১৫, ২০১১-জানুয়ারি ১৫, ২০১২) একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানের কালো মেঘ উড়ছে তখন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ নির্দয়ভাবে বাংলাদেশি মানুষকে মারধর করেছে। হাবিব নামে একজন বাংলাদেশিকে নির্যাতনের ঘটনা বিশ্বের বিবেককে দংশন করেছে। লুৎফর রহমান নামের একজন বিজিবি সদস্যকে রক্তাক্ত করেছে বিএসএফ। যা অত্যন্ত অমানবিক, নীতিবর্জিত কাজ। প্রশ্ন জাগে চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেপাল, মায়ানমারসহ ভারতের প্রতিবেশী আরও যে দেশগুলো রয়েছে ওদের সঙ্গে তো ভারত এমন অমানবিক আচরণ করছে না। বাংলাদেশের প্রতি তারা এমন গুরুসুলভ আচরণ কেন করছে? এর কারণ কী?
সীমান্তে সংঘাত বিষয়ে অর্বাচীন বক্তব্য দিয়েছেন বর্তমান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সীমান্ত ইস্যু নিয়ে সরকার ভাবিত নয়। সরকার কেন ভাবিত কিংবা চিন্তিত নয়? বাংলাদেশি হাবিব যদি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে গিয়েও থাকে, তার বিচার হতে পারে। দুই দেশের সীমান্ত অতিক্রম তো প্রতিদিনই হচ্ছে। হাজার হাজার লোক প্রতিদিন যাতায়াত করছে। মানি, তা নীতিবিরুদ্ধ কাজ। কিন্তু তাই বলে দুর্বৃত্তের মতো সীমান্ত পার হওয়া ব্যক্তির সবকিছু কেড়ে নেয়া হবে, তাকে অমানুষিকভাবে, বর্বরতম কায়দায় নির্যাতন করা হবে তা কোন সভ্য দেশই মেনে নিতে পারবে না। এমন কাজ কোনভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।
সমর্থনযোগ্য নয় বিজিবি সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রতি বিএসএফের নির্যাতনও। তারপরও রাষ্ট্র চিন্তিত নয় কেন? কেন একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী এমন কা-জ্ঞানহীন কথাবার্তা বলবেন? এলজিআরডিমন্ত্রী আরও সংযত, বুদ্ধিদীপ্ত কথা বলতে পারতেন। যে কোন জ্বলন্ত ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করবেনই। তিনি রাষ্ট্রের পক্ষে উত্তর দিতে বাধ্য এবং তা হওয়া দরকার জনগণের ইচ্ছার অনুকূলে। হওয়া উচিত রাষ্ট্রস্বার্থের পক্ষে।
সৈয়দ আশরাফ এমন কথা বলে মূলত ভারতবিরোধী একটি গোষ্ঠীর পালে হাওয়া দিয়েছেন। দেশে যখন ব্যর্থ অভ্যুত্থানের চেষ্টায় একটি চক্র সক্রিয়, তখন ভারতবিরোধী মৌলবাদী একটি মহল তাদের পাশেই দাঁড়াচ্ছে প্রকারান্তরে। কারণ বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অজানা নয়, 'ভারত বাংলাদেশ নিয়ে নিল' এমন বক্তব্য দিয়ে সেই চক্র অতীতে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করেছে। এখনো করতে চাইছে। তাদের আহার জোগাবার জন্য সৈয়দ আশরাফের এমন বক্তব্য কার্যকর তো বটেই। তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য জাতি কোন মতেই প্রত্যাশা করেনি।
বর্তমান সরকার কঠিন সময় পার করছে, তা মহাজোটের এমপিরাই বলছেন। সরকার শেয়ারবাজার স্থিতিশীল করতে পারেনি। এটা তাদের চরম ব্যর্থতা। অর্থনীতির পঙ্গুত্ব একটি সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নামায়। সরকার পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে। বিশ্বের বেশ ক'টি দেশে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতির চরম বিপর্যয় সরকারের জন্য কাল হয়েছে, যে নজির আমরা দেখছি।
বর্তমান সরকারের তিন বছরপূর্তি সময়ে এসে একটি উৎখাত প্রচেষ্টা সেনাবাহিনী প্রতিহত করতে পেরেছে। এর জন্য সেনাবাহিনী, সম্মিলিত সামরিক বাহিনী অভিবাদন পাওয়ার দাবিদার। রাষ্ট্রের কল্যাণে, প্রজন্মের কল্যাণে তাদের এই পাহারা দেশবাসীকে সাহসী করেছে। যারা এই উৎখাত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেই হবে। যারা সামরিক সদস্য তাদের সামরিক আইনে আর বেসামরিক কেউ ইন্ধনদাতা থেকে থাকলে, তাদের রাষ্ট্রীয় আইনে বিচারের আওতায় অবশ্যই আনতে হবে। সর্বোচ্চ শাস্তিত্ম প্রদান করতে হবে।
মনে রাখা দরকার, সময়টি বর্তমান সরকারের জন্য খুব অনুকূল নয়। সরকারের কিছু কিছু নীতিনির্ধারক বলে বেড়াচ্ছেন, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমরা সংবাদ মাধ্যমে দেখছি, উৎখাতবাদী কালো শক্তি বর্তমান সরকারেরই কিছু সিনিয়র নেতার হাতে নাকি রাষ্ট্রক্ষমতা তুলে দিতে চেয়েছিল। আমাদের মনে আছে, জাতির জনককে সপরিবারে হত্যার পর মোশতাক মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকেই মন্ত্রী করা হয়েছিল। এরপরই দ্রুত পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। খুনিরা নিজ নিজ রূপে আবির্ভূত হয়ে ক্ষমতার হিস্যা বুঝে নেয়। বর্তমান সরকারের ভেতরে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব লাগিয়ে উৎখাতবাদীরা তৎপর হতে পারে- তা সরকারের না জানার কথা নয়। সব অপশক্তি এবং ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে প্রজ্ঞার সঙ্গে। তাই দায়িত্বশীলদের সব কথাবার্তাই হওয়া উচিত ইস্পাতদৃঢ় এবং পরিমিত।
উৎখাতবাদী কালো শক্তিকে রুখতে রাষ্ট্রের প্রতিটি অবকাঠামো নিয়েই সরকারকে ভাবতে হবে। রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্যাগার, আইটি সিস্টেম, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়সহ জরুরি বিভাগগুলোতে নবীন কাউকে চাকরিতে নিয়োগ দেয়ার আগে তার 'ব্যাকগ্রাউন্ড চেক' আবশ্যিক করতে হবে। কারণ রাষ্ট্র কোন ক্রিমিনাল, কিংবা উগ্রবাদীকে সেই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে পারে না। যে অশনিসংকেতের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে, তা রুখতে রাষ্ট্রকে ভাবতে হবে চৌকস হয়ে। কে শত্রু কে মিত্র তা পরখ করা সবসময়ই ফার্স্ট প্রায়োরিটি হতে হবে।
নিউইয়র্ক , ২৫ জানুয়ারি ২০১২
-------------------------------------------------------------
দৈনিক সংবাদ / ঢাকা / ২৭ জানুয়ারি ২০১২ শুক্রবার প্রকাশিত





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29531834 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29531834 2012-01-30 06:31:08
নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর তৎপরতা ও রাষ্ট্রীয় আইন নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর তৎপরতা ও রাষ্ট্রীয় আইন
ফকির ইলিয়াস
=====================================
চারদিকে বেশ শঙ্কার ছায়া। সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, কালোমেঘ এখনো কেটে যায়নি। যারা ষড়যন্ত্রকারী তারা এখনো তৎপর। সে প্রমাণ আমরাও দেখছি। বাংলাদেশে হিযবুত তাহরীর একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। এই দলের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। একজন চিকিৎসককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, এই জঙ্গিবাদী সংগঠন চারদিকে ফণা মেলছে।

১৯ জানুয়ারি ২০১২ সেনা সদর দপ্তরের প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয় একটি সেনা অভ্যুত্থান কিংবা সরকার উৎখাতের চেষ্টা নস্যাৎ করে দেয়া হয়েছে। এই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে প্রকাশ্যে এমন খবর দেশের জনগণ জানতে পারেননি। এই দেশে সেনা অভ্যুত্থান আরো অনেকবার হয়েছে। প্রকাশ্যে-গোপনে। আমরা জানি, এদেশে এর আগেও বহুবার ক্যু করার চেষ্টা করা হয়েছে। পনেরই আগস্টের কালরাতে জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করেছিল কিছু বিপথগামী সেনাসদস্য। এর পরে আরো অনেকবার বিভিন্ন সময়ে এমন জঘন্য অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা চলেছে। যা পুরো জাতির জন্য ছিল দুর্ভাগ্যজনক। যা এই প্রজন্মকে বারবার ভীত করেছে। পিছিয়ে দিয়েছে অনেকাংশে।

এই প্রথমবারের মতোই সেনা সদর থেকে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গোটা জাতিকে জানানো হয়েছে, কী ঘটতে যাচ্ছিল। বা কারা এর নেপথ্যে ছিল কিংবা আছে। খুবই পরিতাপের কথা, বিদেশের কোনো কোনো স্থান থেকে এমন নাশকতা চালাবার ধৃষ্টতা দেখানো হচ্ছে। ইন্ধন জোগানো হচ্ছে। এই ইন্ধনদাতারা কারা? কী তাদের আসল উদ্দেশ্য, তা দেশবাসীর না জানার কথা নয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে সেনা সদরের পক্ষে সেনাবাহিনীর পরিচালক (পিএস পরিদপ্তর) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাসুদ রাজ্জাক জানান ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কিছু কর্মকর্তা গত ডিসেম্বরে সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালান। এমন কর্মকর্তার সংখ্যা ১৪-১৫ জনের বেশি নয়। এদের মধ্যে দুজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খোঁজা হচ্ছে আরেকজনকে। গঠন করা হয়েছে তদন্ত আদালত।

সেনা সদরের এই ব্রিফিং দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তুলেছে। দেশে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ চলছে, তখন এমন সরকার উৎখাতের যড়যন্ত্রে কাদের হাত থাকতে পারে তা অনুমান করা কঠিন নয়। হাল-সুরত থেকে দেখা যাচ্ছে, একটি মহল ঠিক তালেবানি কায়দায় বাংলাদেশে একটি ‘বিপ্লব’ ঘটাবার স্বপ্ন দেখছে। এরা মূলত জঙ্গিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দেবার জন্য মরিয়া হয়ে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর মঝে বিভেদ সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে। যা এই বাংলাদেশের লাখো শহীদের রক্তস্নাত মাটি ও মানুষ কখনই মেনে নেবেন না। নেবার কথাও নয়। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার। একটি রাষ্ট্রে যখন কোনো সংগঠন নিষিদ্ধ হয় তখন তাদের কাজকর্ম দেশের বিরুদ্ধে বলেই বিবেচিত হয়। এর কোনো সদস্য গ্রেপ্তার হলে এরা জামিন পাবার কোনো কথা নয়। আমরা দেখেছি, গেলো তিন বছরে বেশ কিছু নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। তারা এখন কোথায় আছে, কেমন আছে, তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে কিনা এমন তথ্য বাংলাদেশের মিডিয়া, জনগণ কারো কাছেই স্পষ্ট নয়। যে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনই ‘রাষ্ট্র-বিরোধী কাজে লিপ্ত’ এমন তথ্য জানার পরই রাষ্ট্র এদেরকে নিষিদ্ধ করে। তারপরও বাংলাদেশে এরকম সংগঠন তাদের প্রচারণা, প্রকাশনা, সাংগঠনিক তৎপরতা চালাবার সাহস কিভাবে দেখাচ্ছে? বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের মদত কারা দিচ্ছে তা কিছুটা হলেও এদেশের মানুষ জানেন। এই মদত দানকারীদের ঠেকাতে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দরকার। কিন্তু তা না করে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল পারস্পরিক দোষারোপে লিপ্ত হয়েছে। বিষয়টি যেহেতু সেনা আইনে তদন্তাধীন, তাই কাউকে ঢালাওভাবে দোষ দেয়া কোনো বিচক্ষণ রাজনীতির লক্ষণ নয়। যদি কোনো সিভিলিয়ান এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত থেকে থাকে, তার বিচার হবে রাষ্ট্রীয় আইনে। বিষয়গুলোকে সিরিয়াসভাবেই নিতে হবে সরকারকে। এখানে কোনো ‘ব্লেমগেম’ করার সময় আছে বলে ধরে নেয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা দেখেছি, সেনাবাহিনী একটি বিবৃতি ইতোমধ্যে দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ইদানীং এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সেনা সদস্যদের নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন ধরনের সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, যা সঠিক ও দ্রুত তদন্তের স্বার্থে সমীচীন নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের সূত্র হিসেবে সেনা সদরের উদ্ধৃতি দেয়া হচ্ছে, যা সঠিক নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাবাহিনী রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। মহৎ পেশার এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্মানের বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। বৃহত্তর সামরিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে শৃঙ্খলা-বহির্ভূত কর্মকান্ডের জন্য এখানে সেনা আইনে শাস্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।

ঐ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যে কোনো সংবাদ মাধ্যমে আন্দাজ নির্ভর কোনো সংবাদ, কমর্রত সেনাসদস্যদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য সকল সংবাদ মাধ্যমকে সেনাবাহিনী/সেনাসদস্য সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অতীতের মতো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে অনুরোধ করা হলো। আমি মনে করি, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুমান নির্ভর সংবাদ ছেপে রাষ্ট্রীয় কাজের ব্যাঘাত ঘটানো কারোই উচিত নয়।

ঠিক একইভাবে রাজনীতিকদেরও উচিত সংযত হয়ে কথাবার্তা বলা। আমরা দেখছি, পাকিস্তানে একটি মৌলবাদী চক্র সে দেশের মানুষের ভোটে জিতে আসা সরকারকে উৎখাত করার পাঁয়তারা করছে। বাংলাদেশে ওদের প্রেতাত্মা ভর করার কোনো সুযোগ থাকার কথা নয়। কারণ পাকিস্তানি সকল সামরিক জান্তাদের বিষদাঁত ভেঙে দিয়েই বাংলাদেশ তার বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। তাই ধর্মান্ধতার দোহাই দিয়ে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যকে যারা বিপথে পরিচালিত করতে চাইছে, তাদের সমুচিত শাস্তি ইতিহাসের দাবি। মনে রাখতে হবে, যড়যন্ত্রকারীরা বসে নেই। দেশের প্রধানমন্ত্রী এই উদ্ভূত পরিস্থিতি সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন। তাকে আরো প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে

যেতে হবে। এই নবম জাতীয় সংসদ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পরপরই ঘটে যায় পিলাখানা ট্রাজেডির মতো নির্মমতম হত্যাযজ্ঞ। যে শোক জাতি চিরদিন বয়ে যাবে। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে। এমন খবর আমরা মিডিয়ায় প্রায় প্রতিদিনই দেখছি। এমন একটি সংবাদের ভয়াবহতা এখানে শেয়ার করা দরকার মনে করছি। ২৪ জানুয়ারি ২০১২ দৈনিক সংবাদ প্রথম পাতায় খবর ছেপেছে- ‘গত সপ্তাহের শেষের দিকে এক পাকিস্তানি নাগরিককে আটক করা হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য ছিল আটককৃত ওই ব্যক্তি পাকিস্তান ও কাশ্মিরভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ঢাকা হামলার ছক সম্পর্কে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে বিমানবন্দরে আটক করা হয়। পরে সেখানে তার কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান গোয়েন্দারা। পাকিস্তানি ওই নাগরিকের দেয়া তথ্য ও আরো কয়েকটি মাধ্যমে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে হামলার পরিকল্পনার ব্যাপারে নিশ্চিত হন গোয়েন্দারা। গোয়েন্দাদের কাছে আরো তথ্য ছিল লস্কর জঙ্গিরা স্থল ও আকাশপথে এদেশে আসছে। জঙ্গিরা পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক ভিসায় আকাশপথে ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে। আর স্থলসীমান্ত দিয়ে পরিচয় গোপন করেও ঢুকছে। এদেশে ঢুকেপড়া জঙ্গিরা রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জঙ্গিরা একযোগে রাজধানীর থানাগুলো বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল। পাশাপাশি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও বোমা হামলার ছক কষেছিল। সর্বশেষ রোববার গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আসে ৫০ লস্কর জঙ্গি বাংলাদেশে ঢুকবে। এরা রাজধানীর থানাগুলোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালাবে।’

এমন খবরের পরও দেশের শীর্ষ ক্ষমতাসীন রাজনীতিকরা বাতাসে ঘুষি মারবেন, নাকি জরুরিভিত্তিতে পরিস্থিতি সামাল দেবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যারা এই অপকর্ম করতে চাইছে, তারা কাদের পারপাস সার্ভ করছে তা ভাবা দরকার। সংবাদ মাধ্যমকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ডিসি ও ডিএমপির মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেছেন, হিযবুত তাহরীর দেশের প্রচলিত শাসন ব্যবস্থা ভেঙে ডাস্টবিনে ফেলে ইসলামি খিলাফত কায়েম করতে চায়। গেলো ২০০২ সাল থেকে ২০০৩ সালের দিকে এ সংগঠন তাদের কার্যক্রম শুরু করে। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে এই সংগঠনের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা নিজেদের চাঁদা ও বিদেশ থেকে আর্থিক সাহায্য নিয়ে সংগঠন পরিচালনা করছে। চলতি বছরের গতকাল পর্যন্ত পুলিশ এ সংগঠনের ৫শ নেতাকর্মী আটক করেছে। জেএমবির প্রধান গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গি মওলানা সাইদুর রহমান তার স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, তাদের সঙ্গে জামাত ও হিযবুত তাহরীরের সম্পর্ক রয়েছে।

দেখা যাচ্ছে, সব রসুনের গোড়া একখানে। বিষয়গুলো এই প্রজন্মকে ভাবতে হবে। যারা এই রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলতে চায়, রাষ্ট্র তাদের তৎপরতা কি শুধু এভাবে চেয়েই দেখবে? এরা জামিন পাচ্ছে কিভাবে? কেন বারবার দেশের ওপর হামলে পড়ার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে? একটি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা মানেই এদের বিষদাঁত ভেঙে দেয়া হচ্ছে না। তাই সমাজকে সচেতন হতে হবে। রাজনীতিকদের সংযত হয়ে তা মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে।
২৫ জানুয়ারি ২০১২
-----------------------------------------------------------------
দৈনিক ভোরের কাগজ / ঢাকা / ২৮ জানুয়ারি ২০১২ শনিবার

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29530659 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29530659 2012-01-28 10:21:46
শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকান্ডের সুবিচার ও বর্তমান সরকারের কাছে প্রত্যাশা শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকান্ডের সুবিচার ও বর্তমান সরকারের কাছে প্রত্যাশা
ফকির ইলিয়াস
==========================================
না, তাঁর স্মৃতি আমরা খুব একটা ধরে রাখতে পারিনি। তিনি শাহ এএমএস কিবরিয়া। এদেশের কৃতি অর্থনীতিবিদ। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। তাঁর হত্যাকান্ডের সুবিচার এই দেশ এখনও করতে পারেনি। এর দায় আমরা বয়েই চলেছি।
অথচ তিনি এই দেশকে তাঁর মেধা ও মনন উজাড় করে দিয়েছিলেন। বিদেশ ছেড়ে গিয়েছিলেন স্বদেশে, মাটির টানে।
এখনও মনে পড়ে সেই দিনটির কথা।এমন মর্মান্তিক দু:সংবাদের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না মোটেও। হঠাৎ করেই সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসানের ফোন। নিউইয়র্কে বেলা তখন দুপুর দু’টা ছুঁই ছুঁই। নাজমুল আহসানের কন্ঠ জমাট। শুনেই বুঝলাম কোন চরম দু:সংবাদ। তিনি বললেন, “খবর শুনেছেন ? হবিগঞ্জে জনসভায় বোমা হামলা। কিবরিয়া সাহেব নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। আরো কয়েকজন। সত্তর - আশি জন আহত।”
২৭ জানুয়ারি ২০০৫ বৃহস্পতিবার দুপুর এ কেমন দু:সংবাদ বয়ে আনলো? আঁতকে উঠি। নাজমুল বলেন, ‘এইমাত্র এটিএন বাংলা তাদের ব্রেকিং নিউজ দিচ্ছে। কিবরিয়া সাহেব আর নেই’।
ফোনে বেশি কথা বলতে পারিনি; বুকটা হু হু করে উঠে! শাহ কিবরিয়ার মতো একজন মানুষকে ওরা এভাবে মেরে ফেললো? তিনি অন্য রাজনীতিকদের মতো শত্রু বেষ্টিত ছিলেন না। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ি। ইতিমধ্যে মোবাইলে আরো ক’জনের সাথে কথা হয়ে যায়। গোটা আমেরিকা জুড়ে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত বেগে। বিষণ্নতার ছায়া নেমে আসে বাঙালী অভিবাসী সমাজে। কারো সাথেই দু’এক কথার বেশি বলা যায় না। আহা, এমন সজ্জন, সহজ সরল অথচ নিষ্ঠাবান একজন কৃতি বাঙালীকে এমনিভাবে ভাগ্যবরণ করতে হলো! মনটা দারুণ বিষিয়ে উঠে। ভাবতে পারি না। কিছুই ভাবতে পারি না।
কাজ থেকে অনেকটা মানসিক অস্খিরতা নিয়েই বেরিয়ে পড়ি। নির্বোধ হেঁটে যাই। পাশ দিয়ে অতিক্রম করি নিউইয়র্কের জাতিসংঘ ভবন। ক’দিন আগে তীব্র বরফ পড়েছে নিউইয়র্কসহ আমেরিকার অনেক অঙ্গরাজ্যে। বরফে ঢেকে আছে জাতিসংঘ চত্বর। এই চত্বরের পীচঢালা পথ আর সবুজ ঘেরা লনের চারপাশে পড়ে আছে শাহ কিবরিয়ার পদছাপ। কর্মপ্রয়োজনে তিনি এই চত্বরে হেঁটেছেন অনেক দিন, অনেক রাত। তাঁর পদছাপ খুঁজার চেষ্টা করি। একজন সফল কুটনীতিক, একজন আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী, একজন জনদরদী রাজনীতিক- স্বদেশে, স্বমাটিতে এমন জঘন্যভাবে নিহত হলেন ! হায়রে নিয়তি। হায়রে, বিধির বিচার !
ক’ঘন্টা পরেই ঢাকার দৈনিকগুলোর ইন্টারনেট ইস্যুতে ভেসে উঠে তাঁর মরদেহের ছবি। রক্তাক্ত, বিক্ষত শরীরের ছবি। মাত্র ক’ঘন্টা আগেও যিনি হাস্য উজ্জ্বল। এখন তিনি কেবলই স্মৃতি। ছবিগুলো দেখে অশ্রু সংবরণ কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের অন্যতম স্বজনশীল ব্যক্তিত্বদের একজন ছিলেন তিনি। এটা যে কেউ স্বীকার করবেন।
দুই.
হবিগঞ্জের জনসভায় বোমা হমালা এবং শাহ কিবরিয়াসহ ব্যক্তিদের মৃত্যু ও আহততের ঘটনার পর তৎকালীন সরকার গতানুগতিক বিবৃতি দিয়েছে। দু:খ প্রকাশ করেছে। হামলা হওয়ার পর সিলেট-হবিগঞ্জ-ঢাকা সড়কে চেক পয়েন্ট বসিয়ে চেকিং করার মতো হাস্যকর ঘটনাও ঘটিয়েছে সরকার। খুনীরা কি জানান দিয়ে যায় রাজপথ দিয়ে? তাহলে এমন হাস্যকর পদক্ষেপ কেন? শাহ কিবরিয়াকে হত্যার মধ্য দিয়ে খুনীরা আওয়ামী লীগকে আরেকটি চরম ম্যাসেজ দিয়ে গিয়েছিল। আর ম্যাসেজটি ছিল এই, আহসান উল্লাহ মাস্টার, আইভি রহমান, মঞ্জুরুল ইমাম, মমতাজ উদ্দিন, শাহ কিবরিয়ার মতো ব্যক্তিদের নিধনযজ্ঞ সম্পন্ন করে তারা একদিন আওয়ামী লীগকেই নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল। দেশে তো জনসভা আরো অনেক হয়েছিল সে সময়। অনেকেই ঘন্টার পর ঘন্টা বক্তৃতা দিয়েছিলেন। শুধু আওয়ামী লীগের জনসভায় সে সময় বোমা হামলা হচ্ছিল কেন? কারা করছিল ?
বাঙালি জাতির গর্বিত সন্তান হিসেবে যে ক’জন জ্ঞানী, গুণী মানুষ ছিলেন, শাহ কিবরিয়া ছিলেন তাদের একজন। রাষ্ট্রদূত, সচিব, জাতিসংঘ কর্মকর্তা, এসকাপের পরিচালক, রাজনীতিক, মন্ত্রী হিসেবে তিনি যতোটা পরিচিত ছিলেন, তার চেয়েও তার বড় পরিচয় ছিল তিনি ছিলেন একজন মানবদরদী মানুষ।
তাঁর মহাপ্রয়াণের পর তারই সহধর্মীনি খ্যাতিমান শিল্পী আসমা কিবরিয়া যে কথাগুলো বলেছিলেন এর জবাব দেবার শক্তি কি আমাদের এখনও আছে? শ্রদ্ধাভাজন আসমা কিবরিয়া বলেছিলেন, ‘গ্রেনেড হামলায় এমনভাবে নির্মম মৃত্যুর জন্য বিদেশ ছেড়ে স্বদেশে এসেছিলাম ?’
প্রিয় বাংলাদেশ, কি জবাব দেবে তুমি? কি জবাব দেবে বাঙালি জাতি ? এ প্রশ্নটি আমি এখনও করছি নিজেকে। শাহ কিবরিয়া আজীবন বিদেশে সুখে শান্তিতে থাকতে পারতেন। কিন্তু স্বদেশ, স্বমাটি, স্বজাতিকে ভালোবেসে তিনি দেশে স্খায়ী নিবাস গড়েছিলেন। রাজনীতির মাধ্যমে জনসেবা করতে চেয়েছিলেন। সাদামাটা এই মানুষটি ছিলেন বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী। তিনি কল্পনাও করতে পারেননি হবিগঞ্জের মাটিতে তাকে এমনভাবে রক্তাক্ত মৃত্যুবরণ করতে হবে।
তাঁর শবদেহের পোষ্ট মর্টেম করতে বাধা দিয়েছিলেন সহধর্মিনী। কিসের পোষ্ট মর্টেম? কেন পোষ্টমর্টেম ? গোটা দেশবাসীই তো দেখলো তার রক্তাক্ত নিথর মৃত্যু। তারপরও তা নিশ্চিত করতে হবে সরকারি নিবন্ধনের মাধ্যমে? আর কতো আত্মপ্রতারণার আশ্রয় নেবো আমরা? আর কতো রক্ত দিয়ে ঢাকবো জীবনের স্বপ্ন আলো?
শিল্পী আসমা কিবরিয়া আরো কিছু স্পষ্ট কথা বলেছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের কে বলেছিলেন ‘এ পর্যন্ত কি করতে পেরেছেন আপনারা ? একুশে আগস্টের বোমা হামলার বিচার করতে সরকারকে বাধ্য করতে পারলে আজ এমনটি হতো না।’
তাঁর কথাটি সহস্রভাগ সত্য। ঘাতকদের লোলুপ দৃষ্টি আজও সূদুর প্রসারী। অথচ সেই সময়ে আক্রান্ত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা যেন আজ নিষ্ক্রিয়তার স্খায়ী আসন নিয়েছেন। এখন অনেকেই শীর্ষ পদে। তাঁরা কি কিবরিয়ার কথা ভুলে গেলেন ?
আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকান্ড, একুশে আগস্টের বোমা হামলার পরই উচিত ছিল কাংখিত মুক্তির জন্য আন্দোলন করা। তখন চরম মুক্তির সূর্য খোঁজা কি জরুরি ছিল না ? এভাবে শবদেহের ভার আর কতো বইবে বাঙালি জাতি।
শাহ কিবরিয়া ছিলেন শ্রেষ্ট মননশীল বাঙালি। প্রিয় পাঠক, তাঁর লেখাগুলো জাতীয় দৈনিক, জাতীয় সাপ্তাহিককে আপনারা যারা পড়েছেন- তারা আরেকটি বার তার লেখাগুলোর মূল্যায়ন করুন। ''নতুন বছরের ভাবনা'' লেখাটিতে লিখেছিলেন ‘২০০৫ সালে আমাদের চেষ্টা রুখতে হবে এই দু:শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য। নতুন বছরের জন্য এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।’
সেই প্রতিজ্ঞা নিয়ে নতুন বছরের প্রথম মাসেই চির বিদায় নিয়েছিলেন বহুগুণী ব্যক্তিত্ব শাহ এ এম এস কিবরিয়া। বাংলার মাটি, ফুল, তরু, নদী, শ্যামল পরিবেশ আর সুনীল আকাশ শ্রদ্ধায় লিখে রাখবে মুক্তি সংগ্রামী এই মানুষটির নাম। যে মুক্তিযোদ্ধা কুটনীতিক এই দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। তিনিই শহীদ হলেন আততায়ীদের হাতে। অমর রবে তার দেশপ্রেম। ঘাতকরা কি তার নাম মুছে দিতে পারবে? না পারবে না। কারণ এদেশে খুব বেশি শাহ কিবরিয়া জন্ম নেননি। নেবেনও না।
তিন.

খুবই পরিতাপের কথা , তাঁর সেই নির্মম হত্যাকান্ডের সুবিচার আজও হয়নি। বিএনপি- জামাতের চারদলীয় জোট সে বিচার করবে না, তা সকলেরই জানা ছিল। বরং তারা না না প্রহসন করেছে।
তাই রাষ্ট্রের মানুষ দেশে পরিবর্তন এনেছে। মহাজোট ক্ষমতায় এখন। আমরা জানি , রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি মহল
খুব জোরেশোরেই তৎপর। বর্তমান সরকারের তিন বছরের মাথায় একটি ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের খবর আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি। জঙ্গীবাদী হিজবিত তাহরীর এখন এদেশের জন্য অন্যতম হুমকি । মুখ থুবড়ে পড়ে আছে কিবরিয়া হত্যার বিচার। যারা তাঁর সাথে প্রাণ দিয়েছিলেন সেদিন বৈদ্যের বাজারে, তাদের পরিবার এখন নিঃস্ব। তারাও বিচার চাইছেন।
আমরা দেখছি মহাজোট সরকারকে অস্থিতিশীল করে তোলার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। তারপরও সরকারকে সুদৃঢ় থেকে এই
পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস
কিবরিয়া হত্যাকান্ডের নেপথ্য নায়কদেরকে খুঁজে বের করতেই হবে। এদেরকে বিচারের কাটগড়ায় দাঁড় করাতে না পারলে , এই দেশের রাজনীতি কখনওই পরিশুদ্ধতার পরশ পাবে না। এই জাতি দায়মুক্ত হবে না।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29530176 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29530176 2012-01-27 11:12:36
ইমরান খানের উপলব্ধি ও শেখ হাসিনার হাতে গোলাম আযমের চিঠি ফকির ইলিয়াস
============================================
এই ২০১২ সালে একটি চমৎকার সত্য কথা বলেছেন, সাবেক ক্রিকেট তারকা ও পাকিস্তানের রাজনীতিক ইমরান খান। তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালের ঘটনা থেকে পাকিস্তান কিছুই শিক্ষা নেয়নি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় অপরাধ সংঘটনকারীরা শাস্তি পেলে, পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি অন্য রকম হতো। ব্রিটিশ সাময়িকী ‘দ্য কারাভান’-এ চলতি বছরের জানুয়ারি সংখ্যায় প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে ইমরান খান এসব কথা বলেন। তৎকালীন শাসক ও যুদ্ধাপরাধীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা শাস্তি পেলে আমরা (পাকিস্তান) আবারো একই পথে হাঁটতাম না।’

ইমরান বলেন, ১৯৭১ সালে তিনি যখন ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে ঢাকায় ছিলেন, বাঙালিদের হত্যার নির্দেশনা দেয়ার বিষয়টি তিনি শুনতে পেয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশে অভিযান শুরুর আগে তিনি শেষ বিমানে করে ঢাকা ছেড়েছিলেন।

১৯৭১ সালে বাঙালি হত্যায় পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের নির্দেশ প্রদান প্রসঙ্গে ইমরান খান বলেন, ‘আমি নিজ কানে শুনেছি, তারা বলেছে, এই বামন ও কালোদের হত্যা করো। তাদের একটা শিক্ষা দাও।’ তবে কে বা কারা কাকে এই নির্দেশ দিয়েছিল, সে সম্পর্কে ইমরান কিছুই বলেননি।

পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ দলের নেতা ইমরান খান জানান, তিনি এখন পাকিস্তানের ভেতরেও একই ধরনের নির্দেশনা শুনছেন। তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক একই ধরনের ভাষা। একাত্তরে যা শুনেছিলাম, তা এবারো শুনছি।’ তিনি আরো বলেন, এখন পশতুনরা এই অবহেলার শিকার। পাকিস্তানে পশতুনদের ওপর চলমান নির্যাতন সম্পর্কে ইমরান বলেন, ‘পিন্ডি, লাহোর, করাচিতে তাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে এবং জেলে পাঠানো হচ্ছে। কারণ তারা পশতুন। এটা এক দুঃখজনক ধারাবাহিকতা।’ ইমরান জানান, তিনি বিশ্বাস করেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি অপরাধীরা শাস্তি পেলে পশতুনরা আজ হয়রানির শিকার হতো না।

ম্যাগাজিনে বলা হয়, ১৯৭১ সালে ঢাকা সফরের আগ পর্যন্ত ইমরান খান পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় বিশ্বাস করতেন। ওই প্রচারণায় মুক্তিযোদ্ধাদের ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করা হতো। ইমরান খান বলেন, ‘ওই সময় প্রথমবার আমি বুঝতে পারি, সেখানে একটা বিচ্ছিন্নতার আন্দোলন চলছে।’ তিনি বলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তানে কী হচ্ছে, তার কিছুই আমরা জানতাম না।’

ইমরান খানের ভাষ্য থেকে আমরা একটি সত্য জানতে পেরেছি। ’৭১ সালে বাঙালি জাতিকে ‘বামন ও কালো’ বলে ঘৃণা ছড়ানো হয়েছিল। হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

ইমরান খান বেশ আগে থেকেই বলে আসছেন একাত্তরে বাংলাদেশে নির্মম হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। এজন্য এখনো পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত। তার মতে একাত্তরের নির্মম গণহত্যা ও অত্যাচার-নির্যাতনের জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতেই হবে। রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা বলেন শুধু দুঃখ প্রকাশ করলেই হবে না, আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমাও চাইতে হবে। সেই সঙ্গে ঢাকায় আটকেপড়া পাকিস্তানের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেয়া ও আন্তর্জাতিক নিয়মানুসারে বাংলাদেশের কোনো আর্থিক পাওনা থাকলে তা নিয়েও আলোচনা করতে হবে।

ইমরান খান স্বীকার করে নিয়েছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদারদের কাছ থেকে মুক্তিলাভের চার দশক পর বাংলাদেশ, পাকিস্তানের তুলনায় অনেক শান্তি ও সমৃদ্ধি লাভ করেছে। পাকিস্তান দিনকে দিন ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। তিনি বলেছেন, তিনি পাকিস্তানের রাজনীতি ও দেশ পরিচালনায় গুণগত পরিবর্তন আনতেই রাজনীতিতে এসেছেন।

হ্যাঁ, বাংলাদেশ গেলো চার দশকে অনেক এগিয়েছে। কিন্তু দেখার বিষয় হচ্ছে, এই বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরও একাত্তরের পরাজিত রাজাকার-আলবদর নেতারা ‘পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি’ গঠন করেছিলেন।

এসব অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে ১৯৯২ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত গণআদালতে অন্যতম সাক্ষী অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছিলেন ‘১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হলে গোলাম আযম পাকিস্তানে বসে মাহমুদ আলীসহ ‘পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি’ নামে একটি সংগঠনের সূচনা করেন।

পূর্ব পাকিস্তান পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন গড়ে তোলার আয়োজন করেন এবং ১৯৭২ সালে গোলাম আযম লন্ডনে ‘পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি’ গঠন করেন এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র উচ্ছেদ করে আবার এই ভূখ-কে পাকিস্তানের অংশে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করেন।

১৯৭৩ সালে ফেডারেশন অব স্টুডেন্টস ইসলামিক সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলনে এবং ব্রিটেনের লেসটারে অনুষ্ঠিত ইউকে ইসলামিক কমিশনের বার্ষিক সভায় তিনি বাংলাদেশবিরোধী বক্তৃতা দেন। ১৯৭৪ সালে মাহমুদ আলীসহ কয়েকজন পাকিস্তানিকে নিয়ে তিনি পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটির এক বৈঠক করেন। এই সভায় গোলাম আযম ঝুঁকি নিয়ে হলেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থেকে ‘কাজ চালানোর’ প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেন। এভাবেই গোলাম আযম পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে গেছেন।

জামাতের এই নেতার বিরুদ্ধে আরো মারাত্মক অভিযোগ আছে। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে গোলাম আযম রিয়াদে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইসলামি যুব সম্মেলনে যোগদান করেন এবং পূর্ব পাকিস্তান পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সকল মুসলিম রাষ্ট্রের সাহায্য প্রার্থনা করেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত তিনি সাতবার সৌদি বাদশাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেয়ার আহ্বান জানান এবং কখনো তিনি বাদশাহকে বাংলাদেশে হস্তক্ষেপ করতে ও কখনো বাংলাদেশকে আর্থিক বা বৈষয়িক সাহায্য না দিতে অনুরোধ করেন। ১৯৭৪ সালে রাবেতায়ে আলমে ইসলামির উদ্যোগে মক্কায় অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এবং ১৯৭৭ সালে কিং আবদুল আজিজ ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত একটি সভায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তৃতা করেন। জামাতে ইসলামীর এ সাবেক আমির ২০০২ সালে প্রকাশিত তার নিজ জীবনী ‘জীবনে যা দেখলাম’ বইয়েও এসব কথা অকপটে স্বীকার করেছেন।

গোলাম আযম যে হত্যাকারী ছিলেন, এর সাক্ষ্য দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলে থাকার সময়। ১৯৯২ সালের ১৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার হোমনা থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সিরু মিয়া দারোগা (তৎকালীন পুলিশের উপপরিদর্শক) ও তার কিশোর ছেলে আনোয়ার কামালকে (অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র) গোলাম আযমের লিখিত পত্রের নির্দেশে হত্যা করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৭ অক্টোবর সিরু মিয়া ও তার ছেলে আনোয়ার কামাল মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং ক্যাম্পে যাওয়ার সময় অন্য মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে রাজাকারদের হাতে ধরা পড়েন। সিরু মিয়া দারোগা মুক্তিযুদ্ধে অনেক দুঃসাহসিক কাজ করেছেন। তিনি প্রবাসী বিপ্লবী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের স্ত্রী বেগম তাজউদ্দীনকে সপরিবারে কুমিল্লা সীমান্ত পার করিয়ে দিয়েছিলেন।’ বক্তব্যকালে শেখ হাসিনা এ হত্যাকান্ডের নির্দেশ সংবলিত দলিল তার কাছে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। সেই হত্যাকান্ড সংক্রান্ত কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘পাক্ষিক একপক্ষ’ পত্রিকার ১ম বর্ষ, সংখ্যা ১-এ।

সেখানে বলা হয়, ২৯ অক্টোবর সিরু মিয়ার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম তাদের মুক্তির জন্য ঢাকায় দূরসম্পর্কের আত্মীয় মহসীনের কাছে আসেন। মহসীন ছিলেন খিলগাঁও সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষক এবং গোলাম আযমের দুই ছেলের গৃহশিক্ষক। তার মাধ্যমে গোলাম আযমকে ধরলেন তিনি। গোলাম আযম একটি চিঠি লিখে খাম বন্ধ করে আনোয়ারার হাতে দিয়ে বললেন, ‘এটি কুমিল্লা জেলার রাজাকার কমান্ডারকে দিলে সিরু মিয়াদের ছেড়ে দেয়া হবে।’

আনোয়ারার ভাই ফজলু মিয়া ১ নভেম্বর কুমিল্লায় গেলেন চিঠি নিয়ে। চিঠি পড়ে রাজাকার কমান্ডার বললেন, ঈদের পরদিন কামালকে ছেড়ে দেয়া হবে। আর সিরু মিয়াকে পুলিশে যোগদানের জন্য পাঠানো হবে। ২৩ নভেম্বর ছিল ঈদ। পরদিন ফজলু মিয়া কুমিল্লা জেলখানায় কামালকে আনতে গেলে সেখানে তার হাতে সিরু মিয়া ও কামালের জামাকাপড় তুলে দেয়া হয়। ফজলু মিয়া জানতে পারেন, ঈদের আগে ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় তিতাস নদীর পাড়ে ৪০ মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে দাঁড় করিয়ে হত্যা করা হয়েছে সিরু মিয়া ও তার ছেলে আনোয়ার কামালকে। গোলাম আযমের দেয়া খামবন্ধ চিঠিতে ওই হত্যার নির্দেশ ছিল। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গোলাম আযমের সেই চিঠি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেই রয়েছে।

এই যে দলিল, তারপরও কি বলা যাবে, এই পাষন্ড গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল না? না, তা বলার কোনো উপায় নেই। পাকিস্তানিদের আজকের এই পরিণতির জন্যই তারাই দায়ী। কারণ তারা কোনোদিনই গণতন্ত্র মানেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে আবার সামরিক শাসন আসবে। সামরিক শাসন তো এর আগেও এসেছে পাকিস্তানে। জিয়াউল হক, পারভেজ মুশাররফরা তো দেশকে জঙ্গিদের লীলাভূমিতে পরিণত করে গেছেন। বাংলাদেশেও এই চেষ্টা করে যাচ্ছে একাত্তরের সেই পরাজিতরা। ফিরে দেখা যাক সেই ঘটনাগুলো।

জামাত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ২৫ অক্টোবর ২০০৭ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধী-স্বাধীনতাবিরোধী বলে কেউ নেই, কখনো ছিলও না। এসব উদ্ভট ও বানোয়াট কথা। বাংলাদেশের সংবিধানেও যুদ্ধাপরাধের কথা কোথাও বলা হয়নি!! যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি বা তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কথা বলে সংবিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে।’ তারা এভাবে, ঔদ্ধত্য ও ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এবং প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ হতে সাহায্য করেছে। তা না হলে, এই জাতির পরিণতি আরো ভয়াবহ হতো। ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রবাহের এই যুগ, বর্তমান প্রজন্মকে রিসার্চ করে অনেক কিছু জানার সুযোগ এনে দিয়েছে হাতের মুঠোয়। তা কাজে লাগিয়ে সত্য জানতে হবে। জানতে হবে, বিদেশের বিভিন্ন আর্কাইভে বাংলাদেশের মহান মুক্তিসংগ্রাম সম্পর্কে কী কী ইতিহাস সংরক্ষিত আছে।

ইমরান খান যা বলেছেন, তা তার উপলব্ধির সত্যস্তম্ভ। বাংলাদেশে থাকা পরাজিত রাজাকার নেতারা এখনো এই সত্য মানতে নারাজ। কারণ তারা এখনো বাংলাদেশের ৩০ লাখ শহীদের আত্মদানকে মেনে নিতে পারছে না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে যে চিঠিটি রয়েছে, তা একটি মূল্যবান দলিল। এমন দলিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী বাংলার মানুষের চোখে চোখে। এসব মানুষ হায়েনাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবেন। এদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। হতেই হবে ইনশাআল্লাহ।
১৯ জানুয়ারি ২০১২
-----------------------------------------------------------------
দৈনিক ভোরের কাগজ / ঢাকা / ২১ জানুয়ারি ২০১২ শনিবার











]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29526170 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29526170 2012-01-21 09:55:01
রাজনৈতিক বিশ্বস্ততা ও বাংলাদেশের সামাজিক ভবিষ্যৎ ফকির ইলিয়াস
==================================
বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির সামাজিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ভাবেন, তেমন মানুষের সংখ্যা এদেশে কম। যারা ভাবেন, তাদের রাজনৈতিক গুরুত্ব সব সময়ই কম। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের যে কটি প্রধান লক্ষ্য ছিল, এর একটি ছিল পরিশুদ্ধ সমাজ নির্মাণ। কারণ পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা সেরা বুদ্ধিজীবীদের মূল্যায়ন কখনোই করেনি। না করার পেছনে যুক্তি ছিল তাদের এই, বাঙালি সমাজ এগিয়ে গেলেই জাতি এগিয়ে যাবে। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করত না, সেই পাকিস্তানি শাসকদের কাছ থেকে তাই স্বীকৃতি কখনো চায়ওনি বাঙালি মননশীল শ্রেষ্ঠজনেরা।
স্বাধীন বাংলাদেশে তাই সৃজনশীল সামাজিক কাঠামো নির্মাণের একটি গভীর প্রত্যয় ছিল। সেই প্রত্যয় নিয়ে কাজ করতে বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা আশাবাদীও ছিলেন। একাত্তরের মহান মুক্তিসংগ্রামের একেবারে শেষ দিকে এসে পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী নিধনের যে কাজটি এদেশীয় খুনিরা করেছিল, তা তারা করেছিল জেনেশুনেই। কারণ এটা কে না জানে, জাতি মেধাশূন্য হলেই সমাজ পিছিয়ে পড়ে।
বিধ্বস্ত মাটি নিয়েই স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিশ্বের দরবারে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দেশীয় ষড়যন্ত্রকারীরা ছিল তৎপর। তাই আইয়ুব-ইয়াহিয়ার কায়দায় বাংলাদেশেও সামরিক শক্তিকে জনগণের অন্যতম 'ত্রাতা' হিসেবে দাঁড় করাবার সার্বিক প্রচেষ্টা ছিল। সামরিক শাসনই জনগণের ভাগ্য নিয়ামক-এমন বাণীর প্রবক্তারা পালাক্রমে এদেশের মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে। এতে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাপকভাবে। ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম করে ভোটের জনপ্রিয়তা বাড়াবার চেষ্টা চলেছে। একসময় প্রজন্ম দাঁড়িয়েছে এসব সামরিক রক্তচক্ষুর বিরুদ্ধে। একাত্তরের পর, অনেক নির্মমতম পরিকল্পনা নিয়ে ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞ যারা ঘটিয়েছিল, তাদের জগদ্দল পাথরের সর্বশেষ প্রেতাত্মা সরাতে ১৯৯০ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল এই জাতিকে।
নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই দেশের সমাজ একবার রুখে দাঁড়িয়েছিল। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব জোরদার করার জন্য সামরিক শাসকরা যে মৌলবাদী শক্তিকে সহযাত্রী করেছিল, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের তারাও নীতি নির্ধারক হতে পেরেছিল। শুধু তাই নয়, প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের সহযাত্রী হয়ে মৌলবাদী ধর্মীয় রাজনৈতিক কিছু দল ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপকার হওয়ার দাবি করেছিল। পরে এরা সরাসরি রাষ্ট্র ক্ষমতার ভাগও পেয়েছে।
গত পনের বছরের সামাজিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, বাংলাদেশে অনেকগুলো বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, ধর্মীয় মৌলবাদী রাজনীতিক ও প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের রাজনীতিকদের যৌথ মালিকানায়। প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের অনেক সিনিয়র নেতাই মনে করেন ধর্মীয় তমদ্দুনপন্থিরা বিশ্বস্ত! হ্যাঁ, টাকাকড়ির লেনদেনে তারা তাদের কাছে বিশ্বস্ত হতেই পারে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এই দেশ, এই সমাজ, এই প্রজন্মের জন্য তারা কতটা বিশ্বস্ত? এ প্রশ্নগুলো সমাজের প্রতিটি মানুষেরই ভাবা দরকার।
বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা এগিয়েছে কিছুটা হলেও। কিন্তু সামাজিক নিরাপত্তা এগোয়নি। পাক শাসনামলে এই দেশে ব্যাপকভাবে রবীন্দ্র মেলার কথা ভাবাও যেত না। এখন তা পালিত হচ্ছে। পহেলা বৈশাখ, গ্রীষ্ম মেলা, রবীন্দ্র মেলা, নজরুল উৎসব, স্বাধীনতা উৎসব এমন অনেক সামাজিক উৎসবের বেলুন এখন উড়ছে বাংলাদেশে। সংস্কৃতির এই যে বিকাশ তা রাষ্ট্রের জন্য শুভ সংবাদ তো বটেই। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, এই যে সংস্কৃতির বিকাশ তা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে দেশের করপোরেট ব্যবসায়ীদের দ্বারা। বড় বড় কোম্পানিগুলো স্পন্সর করছে বিভিন্ন উৎসবগুলো। সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা করছে রাষ্ট্রের বড় বড় ব্যাংকগুলো। মিডিয়াগুলো এসব পুরস্কারের পার্টনার হয়ে নিজেদের প্রচার-প্রসার বাড়াচ্ছে।
যারা অর্থ সম্পদের মালিক তাদের একটি সামাজিক দায়িত্ব অবশ্যই থাকে। কিন্তু তা হতে হবে নিঃস্বার্থ। সমাজ নির্মাণে যারা ব্রতী তারা বিনিময়ে কিছুই চান না ঠিকই কিন্তু সমাজ তাদের মূল্যায়ন করতে ভুল করে না। পুরস্কার প্রবর্তন কিংবা মিডিয়া মালিক হওয়ার পেছনে যদি নিজ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্য থাকে, তবে তা তো মহৎ প্রজন্ম নির্মাণে কোন কাজে লাগে না, লাগতে পারে না।
যে কোন অগ্রসরমান সমাজেই পতন এবং পচন আগেও ছিল এখনো আছে। প্রজন্মকে তা যাচাই-বাছাই করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। একটি সমাজ নির্মাণের শর্টকাট কোন পথ খোলা নেই। যা করতে হবে, তাতে ধীশক্তির ছাপ থাকতেই হবে। আর প্রজ্ঞাবান সমাজ গঠনের অন্যতম নিয়ামক হচ্ছেন বিশ্বস্ত রাজনীতিকরা। যারা দুর্নীতির প্রশ্রয় দেবেন না। যারা প্রজন্মকে নিজ স্বার্থ রক্ষার জন্য ব্যবহার করবেন না। অতি সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের 'ভিসি গ্রুপ' গোটা রাষ্ট্রের মানুষের জন্যই একটি অশনি সংকেত বয়ে এনেছে। অতি উৎসাহী এমন সরকারি চাটুকাররাই শেষ পর্যন্ত সরকার, সমাজ ও প্রজন্মের জন্য সংকট বয়ে আনেন। বিবেকবান কোন বুদ্ধিজীবী কী এমন নগ্ন কর্মকা-ের নেপথ্য নায়ক হতে পারেন? গোটা জাতিকে এমন লজ্জিত আর কত হতে হবে?
আমরা সমাজের বিশুদ্ধ বিবর্তন চাইছি। অথচ নিজেরা ট্যাক্স দিচ্ছি না। খবরে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের লংমার্চের গাড়ির বহরের টোলট্যাক্স দিয়েছেন দেশের যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এটা তো কোন বিশ্বস্ত রাজনীতির বার্তা হতে পারে না। কোটি কোটি টাকার নমিনেশন বেচাকেনা করবেন। আর সরকারের কয়েক হাজার টাকা সেতু টোল দেবেন না কেন?
বাংলাদেশে বড় বড় পেশাজীবীরা লাখ লাখ টাকা মাসে রোজগার করছেন। কোটি কোটি টাকার প্রোপার্টি বেচাকেনা হচ্ছে প্রতি দিন। এর সঠিক ট্যাক্স কি সরকারকে দেয়া হয়?
আমাদের সমাজের চারপাশে এখন বিষধর অজগরের ফণা। একটি মহল অর্থ দিয়ে রাজনৈতিক বিশ্বস্ততা কিনে নিতে চাইছে। আর একটি মহল নিজেদের অস্তিত্ব দেউলিয়া করে দুর্নীতি, সন্ত্রাস লুটপাট, স্বজনপ্রীতির প্রশ্রয় দিচ্ছে। প্রকারন্তরে এরা, সেই পরাজিত মৌলবাদীদের হাতেই রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে বন্ধক রেখে দিচ্ছে। যা এই দেশের সামাজিক ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষকে এই অনিশ্চিয়তা থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিদেশি কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা বিদেশি কোন প্রভু আমাদের সমাজ নির্মাণ করে দেবে না। এই দেশের মানুষকে মেধাবৃত্তি নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। অর্থ বিত্তের কাছে বিবেক বিসর্জন দিয়ে কেউ রাষ্ট্রের পক্ষে, সমাজের পক্ষে দাঁড়াতে পারে না। এই সত্য উপলব্ধি না করা পর্যন্ত বাংলাদেশে রাজনীতি, অর্থনীতি জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে না। সরকারি চাকরিজীবীদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। কোন রাষ্ট্রে 'সামাজিক ব্যবসা'র স্তর কত নিচে নেমে গেলে সরকারকে এমন উদ্যোগী হতে হয়। বিষয়গুলো আমাদের ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে। হ্যাঁ, এটাও ঠিক একজন সরকারি চাকরিজীবী তার অর্জিত বেতনে সংসার চালাতে পারছেন না বলেই তাকে বৈধ, অবৈধ অনেক ব্যবসা করতে হচ্ছে। এর দায়ও রাষ্ট্রের। এসব বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পুনশ্চ : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেয়ারে বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করে জারি করা প্রজ্ঞাপন ১৮ জানুয়ারি জারি করার ২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করা হয়।
নিউইয়র্ক, ১৭ জানুয়ারি ২০১২
----------------------------------------------------------------
দৈনিক সংবাদ / ঢাকা / ২০ জানুয়ারি ২০১২ শুক্রবার প্রকাশিত







]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29525557 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29525557 2012-01-20 09:40:29
রাষ্ট্রসম্মান ও ব্যথিতদের আর্তি ফ কি র ই লি য়া স
===================================
বাংলাদেশে একটা নতুন সূর্যের উঁকি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে। এ প্রত্যাশা ৪০ বছরের। এর বিপক্ষে অনেকের নানা মতলব ছিল। তা আপাতত উড়ে গেছে বলা যায়। একাত্তরের অন্যতম নরঘাতক গোলাম আযম এখন জেলের বাসিন্দা। এ দিনটির প্রত্যাশায় ছিল গোটা জাতি। তাকে গ্রেফতার দেখানোর পর নানা প্রশ্ন আসছে সঙ্গত কারণে। কী হচ্ছে? কী হতে পারে? আমরা দেখেছি, গোলাম আযমের কিছু অনুসারী হামলে পড়েছে পুলিশের ওপর।
দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণ করতে চেয়েছে। এর নেপথ্যে অনেকের নানারকম সুবিধা লাভের আকাক্সক্ষা আছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি জানে জামায়াতের আন্দোলনের ফসল তাদের ঘরে উঠবে। অতীতেও উঠেছিল। জঙ্গিরা যখন এ দেশে নানা হুকুমত তৈরির চেষ্টা করছিল, তখন বিএনপির স্যুট-টাই পরা নেতারা বলেছিলেন, দেশে কোন জঙ্গি নেই! অথচ তাদের জানা উচিত ছিল, এ দেশে তালেবানরা দখল পেলে তাদের স্যুট-টাই খুলে নেবে। মাথায় লাল-কালো গামছা (!) বাঁধতে বলবে। তার পরও তারা জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশে কিছু আইন করে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডকে জায়েজের চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাঝে ‘ইনডেমনিটি বিল’ ছিল অন্যতম একটি। মুজিব হত্যার বিচার করা যাবে না! কী মারাÍক আইন! এটা কারা করেছিল? কেন খুনিদের বাঁচাতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল? এসব কথা এ প্রজন্মকে জানানো দরকার। ভাবা দরকার।
১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষতায় আসে। এরপর জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি আইনটি বাতিল করে আইন পাস হয়। শুরু হয় ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া। চেনাজানা খুনিদের গ্রেফতার করা হয়। ওদের জেলে রাখা হয়। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যায়। রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসে। এ সময় অনেকে মনে করেছিলেন এই জোট খুনি ফারুক-রশিদ চক্রকে জেল থেকে ছেড়ে দিতে পারে। না, তারা সে সাহস করেনি। এটা ছিল সুবিচারের পক্ষে একটি ইতিবাচক দিক। এর কিছু কারণ বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। বাংলাদেশের তৃণমূলে পৌঁছার জন্য খুনি ফারুক-রশিদ চক্র বাংলাদেশে ‘ফ্রিডম পার্টি’ নামে একটি রাজনৈতিক দলও গঠন করেছিল। কিন্তু সে দল হালে পানি পায়নি। এ দেশের মানুষ খুনিদের গ্রহণ করেনি। যদি তারা তৃণমূল পর্যায়ে স্থান করতে পারত, তবে এদের মুক্তির বিষয়ে বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট কিছুটা নমনীয় হতো হয়তো বা। ২০০১-০৬ সালে চারদলীয় জোট এদের বিষয়ে ছিল পুরো নীরব। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট এই খুনিদের বিচারপ্রক্রিয়া আবার শুরু করে এবং আইন অনুযায়ী তাদের ফাঁসিও হয়।

দুই.
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর তাদের অন্যতম নির্বাচনী এজেন্ডা ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার’ কাজে হাত দেয়। এ কাজে হাত দেয়ার পর পরই চারদলীয় জোটের অন্যতম শরিক বিএনপি প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করতে থাকে। তার কারণ হল, তারা যেকোনভাবে জামায়াতের সঙ্গে সখ্য ধরে রাখার পাশাপাশি বিএনপিতে থাকা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতেও তৎপর হয়ে ওঠে।
এ অবস্থার মধ্য দিয়েই মহাজোট পার করেছে তাদের তিন বছরের ক্ষমতাকাল। ২০১২ সালের প্রথম মাসে কুখ্যাত রাজাকার নেতা গোলাম আযমকে বন্দি করা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা তো বটেই। মনে রাখা দরকার, নাগরিকত্ব মামলার জনরোষ থেকে বাঁচাতে বিএনপি সরকারও এই গোলাম আযমকে একবার গ্রেফতার করেছিল। আর তা ছিল গোলাম আযমকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখার সরকারি কৌশল। এর পরই শহীদজননী জাহানারা ইমাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ডাক দেন। ঢাকায় প্রতীকী আঙ্গিকে গণআদালত গঠন করে বিচার কাজ করা হয়। এ দাবি সে সময় থেকেই শুরু। হ্যাঁ, রাজনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া এই বিচার সম্ভব ছিল না। আর ছিল না বলেই নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেজরিটি দিয়ে মহাজোটকে রাষ্ট্রক্ষমতায় পাঠিয়েছে এ প্রজন্মের কোটি নতুন ভোটার।
আমরা জানি এ দেশে একাত্তরের পরাজিত তস্করেরা বারবার স্টোন টেস্ট করেছে। এখনও করছে। গোলাম আযম বাংলাদেশের বিদেশী স্বীকৃতি আটকে দিতে চেয়েছিলেন। ভারপ্রাপ্ত আমির আব্বাস আলী খানকে সামনে রেখে গোপনে নিজে ‘আমির’-এর দায়িত্ব পালন করেছেন। এ দেশের শেকড় কাটতে চেয়েছেন। তা অনেকেরই জানা। এ প্রজন্মও ইতিহাস পড়ে তা জেনে নিতে পারেন। একাত্তরের পরাজিতরা কখনোই এই বাংলাদেশের রাষ্ট্রসম্মানকে মর্যাদা দিতে চায়নি। তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চায়নি জাতির কাছে। সময়-সুযোগমতো নানা দাম্ভিক উচ্চারণ করে বেড়িয়েছে। এখনও বেড়াচ্ছে।
অন্যদিকে একাত্তরের এ-দেশীয় খুনিদের সুবিচার দাবি করেই আসছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। একাত্তরে কী করেছেন গোলাম আযম? এর খতিয়ান বের করে তার বিরুদ্ধে ৬২টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। প্রথম দফায় গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দেয়া ৩৬০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে সাক্ষী রাখা হয় ৪০ জনকে। নথিপত্র ছিল ৪০০টির মতো। সুবিন্যস্ত করে এবার ৬২টি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্যাতনের যৌথ এবং একক কর্মকাণ্ডের দায়ভার গোলাম আযমের।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার তীব্র বিরোধিতাকারী গোলাম আযম ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটি, রাজাকার ও আলবদর বাহিনী গঠনে নেতৃত্ব দেন। যাদের সহযোগিতা নিয়ে পাক সেনারা বাংলাদেশে ব্যাপক হত্যা ও নির্যাতন চালায়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির গোলাম আযম সে সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও প্রকাশ্যে তদবির চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে দাখিল করা দলিলে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অধ্যাপক গোলাম আযম ‘মাস্টার মাইন্ড’ হিসেবে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, ধর্মান্তরিত করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের নির্দেশদাতা ছিলেন তিনি। তিনি নিজেও করেছেন এসব অপকর্ম। তেমনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে থেকেও তিনি তাদের নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যায় গোলাম আযম পিস কমিটি, রাজাকার ও আলবদর বাহিনী গঠন করেছিলেন। গোলাম আযম ছিলেন সে সময়ের পিস কমিটির কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির।
৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা, সাড়ে চার লাখ নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনসহ সব মানবতাবিরোধী অপরাধের নেতৃত্বে ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম। অধ্যাপক আযম মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, ঢাকা, গাইবান্ধায় রাজাকার বাহিনী গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাসহ বাঙালিদের হত্যা করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের ৩(২) ধারার যত অপরাধ আছে সবই তিনি করেছেন।
রাষ্ট্রসম্মানের প্রতি নত হয়ে প্রজš§কে জাগিয়ে তুলেছিলেন শহীদজননী জাহানারা ইমাম। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ যে গণআদালত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হয়েছিল, সেই গণআদালত দেখতে এসেছিলেন অনেক বিদেশী পর্যবেক্ষকও। আমরা, জাতীয় সমন্বয় কমিটি-যুক্তরাষ্ট্র শাখা ঢাকায় পাঠিয়েছিলাম একজন কৃতী মার্কিন আইনজীবীকে। তার নাম টমাস কিটিং। তিনি তা পর্যবেক্ষণ করে নিউইয়র্কে ফিরে বলেছিলেন, ‘একজন মানবতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের বিচারের জন্য এমন উদ্যোগ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে। গণআদালতে বিচারের সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত জনতার বিশাল সমাবেশ চলমান বিশ্বে একটি বিরল দৃষ্টান্ত।’
এই নরঘাতকদের বিচার দাবি করছেন নিহত বুদ্ধিজীবীদের সন্তানরা। শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. ফজলে রাব্বীর মেয়ে নাসরিন সুলতানা মিডিয়াকে বলেছেন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের ফলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো যেমন মহাবিপাকে পড়ে, তেমনি জাতীয় ক্ষেত্রেও অপূরণীয় ক্ষতি হয়। এ হত্যাকাণ্ডসহ একাত্তরের সব যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল। তার মা, স্বামীর হত্যাকাণ্ডসহ সব যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য আকুল হয়ে অপেক্ষা করেছেন। তিনি নিজেও সরকারি কলেজে শিক্ষকতার পেশা থেকে স্বাভাবিক অবসরে গেছেন। এখন তার প্রত্যাশা, অনেক বিলম্বে হলেও এত দিনে যে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়। রাজনীতি যেন এ কাজে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। শহীদ বুদ্ধিজীবী নিজামউদ্দিন আহমেদের ছেলে শাফকাত নিজাম বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হওয়া অবশ্যই একটা শুভ লক্ষণ। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারবর্গ চায় নির্বিঘেœ দ্রুত এ বিচার সম্পন্ন হোক। শাফকাত বলেন, পাশাপাশি বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডেরও বিশদ অনুসন্ধান হওয়া দরকার। বুদ্ধিজীবী হত্যা তো যুদ্ধের ‘কো-লেটারাল’ হিসেবে ধরে নিলে চলে না। যে বুদ্ধিজীবীদের লাশ কিংবা কোন খোঁজই পাওয়া যায়নি, তাদের ওরা কোথায় নিয়েছে? কী করেছে? এ জন্য দরকার হলে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে পাকিস্তানের সঙ্গেও আলোচনা করা উচিত। শহীদ বুদ্ধিজীবী নাজমুল হকের ছেলে সৈয়দ মুর্তজা নাজমুল আগামী দুই বছরের মধ্যে যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে ব্যবসায়ী মুর্তজা পিতার স্মৃতিচারণা করে বলেন, ৪০ বছর পার হয়ে গেছে। শুধু ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবার’ আখ্যা ছাড়া কিছুই তারা পাননি। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানাদিতেও তাদের ডাকা হয় না। গণমাধ্যমেও সব শহীদ বুদ্ধিজীবীর মৃত্যুবার্ষিকীর খবর পর্যন্ত প্রকাশিত হয় না। শুধু বছরের একটি দিন, ১৪ ডিসেম্বর সবাইকে একসঙ্গে স্মরণ করার আনুষ্ঠানিকতা হয়। মুর্তজা বলেন, তারপরও যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হওয়ায় সারা জাতির সঙ্গে তারাও আনন্দিত। এ বিচার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক, এটাই তাদের প্রত্যাশা। শহীদ বুদ্ধিজীবী আনম গোলাম মোস্তফার মেয়ে ঊর্মি মোস্তফা বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে দেশে যে রাজনৈতিক বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে, তা একেবারেই অবাঞ্ছিত। মুক্তিযুদ্ধে যেমন গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছে, যুদ্ধাপরাধ বিচারের ক্ষেত্রেও তেমনি হওয়া উচিত ছিল। তার প্রত্যাশা- যুদ্ধাপরাধ বিচারে কোন রাজনৈতিক দল যেমন সামান্যতম বাধাবিঘ্ন সৃষ্টি করবে না, তেমনি কোন দল এ বিচারকে ক্ষমতায় থাকার জন্যও ব্যবহার করবে না। যুদ্ধাপরাধের বিচার একটি জাতীয় কর্তব্য। এ বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে রাষ্ট্রকে সেই কর্তব্য পালন করতে হবে।
এই যে আহত মানুষের আর্তি, তা কি প্রধান বিরোধী দল শুনছে না? যদি শোনে, তবে তারা ঘাতকদের বাঁচাতে এত তৎপর কেন?
বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায়। বেগম খালেদা জিয়া তার ছেলে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে চান। এসব এখন আর লুকানো বিষয় নয়। আমার মনে হয়, যদি আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অসম্পূর্ণ রেখে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়, আর বিএনপি ক্ষমতায় আসে তবে প্রথম সপ্তাহেই যুদ্ধাপরাধীরা মুক্তি পেয়ে যাবে!
একই সঙ্গে জঙ্গিরা আরও প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠতে পারে। দেশ হয়ে যেতে পারে চিহ্নিত জঙ্গিদের লীলাক্ষেত্র। খালেদা জিয়া খুনি ফারুক-রশিদকে ছেড়ে দেননি। কিন্তু আলবদর-রাজাকারদের বন্দিত্ব তিনি মানতে পারছেন না বলেই তার প্রধান অনুসারীরা মাঝে মাঝেই আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজেদের জনসমর্থন পরীক্ষা করছেন।
নিউইয়র্ক / ১৬ জানুয়ারি ২০১২
-----------------------------------------------------------
দৈনিক যুগান্তর / ঢাকা/ ১৮ জানুয়ারি ২০১২ বুধবার প্রকাশিত

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29524293 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29524293 2012-01-18 10:01:21
আরেকবার ছবিঘরে জানি বৃষ্টিও আমার প্রেমিকা হয়ে অপেক্ষা করেছিল যে রাতের প্রহর
তুমি তারও আগে স্পর্শ করেছিলে এই আকাশ। আর ভুলের বারুদ
জ্বালিয়ে আমি তন্ন তন্ন করে আমি খুঁজেছিলাম সেই ছবিঘর। যেখানে
দীর্ঘদিন থেকে শুয়ে আছে বিরহের মমি, মোমের অনন্ত দৃষ্টিকাল।

একটা ছবি দেখলেই আমার ভাঙনের জলচিত্রের কথা মনে পড়ে যায়।
পুষ্ট ভাঙনের চর নিয়ে নদীরাও বাঁক বদলায়। মানুষও সেই চরে খেলে,
খেলা করে পাড়ের বাসিন্দা শিশুরা। আর মাঘের সূর্য, বন্ধ্যা দুপুরকে
স্বাগত জানাতে জানাতে ক্রমশঃ বৃদ্ধ হয়। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া
প্রেমিকা, তার প্রেমিকের খোঁজে এই নদীতীরেই পুনরায় ছাড়ে দীর্ঘশ্বাস।

একটা ছবি দেখলেই, আমি নিজেকে বয়স্ক ছবিঘর ভাবি। ধূসর মায়ার
আড়ালে ডুবে যাওয়া চোখ, ভাসিয়ে তুলতে তুলতে আবারও দেশান্তরি
হতে খুব ইচ্ছে করে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29523592 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29523592 2012-01-16 23:54:15
দীনেশ দাসের আত্মার কাছে ক্ষমা চেয়ে বলি ফকির ইলিয়াস
====================================
গেলো সপ্তাহেও আক্রান্ত সাংবাদিক বিষয়ে লিখেছিলাম। আমরা আরেকজন কৃতী সাংবাদিক হারিয়েছি। দীনেশ দাস। তার লেখা নিয়মিত পড়তাম। দৈনিক আমাদের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার ছিলেন তিনি। সেখান থেকে চাকরিচ্যুত হন। কাগজটির মালিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বেকার হয়ে যান এই পেশাজীবী সাংবাদিক।

দীনেশ দাসের মৃত্যুর পর বেশ কিছু কথা আলোচিত হয়েছে। আমরা জেনেছি অনেক অজানা কথা। এসব কথা আমাদের অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। বলেছে- হে মানুষ, এই কি তোমার মনুষ্যত্ববোধ? এই কি তোমার সামাজিক দায়িত্ব?

নিজের একমাত্র মেয়ে অথৈকে দেয়া কথা রাখতে পারেননি বাবা দীনেশ। নিয়তি তাকে মৃত্যুর কোলে টেনে নিয়েছে। অথৈকে কথা দিয়েছিলেন, স্কুল ছুটির পর নিরাপদে তাকে বাসায় পৌঁছে দেবেন। অথৈর স্কুল ছুটির আগেই তিনি লাশ হয়ে চিরবিদায় নিলেন।

দীনেশের স্ত্রী পলি দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেছেন, চাকরি চলে যাওয়ার পর দীনেশ একমাত্র মেয়ের লেখাপড়া নিয়ে ভাবতেন। কিভাবে খরচ চালাবেন তাই নিয়ে উৎকণ্ঠায় থাকতেন। মৃত্যুর আগের রাতেও মেয়ের লেখাপড়ার খরচের সমস্যা নিয়ে ওর সঙ্গে কথা বলেছি। এই হলো একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত জীবনের চিত্র!

দীনেশের ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরা জানান, চাকরিচ্যুতির পর থেকেই অর্থকষ্টে দিন চলছিল তার। মৃত্যুর আগের দিনও মেয়েকে স্কুলে নিয়ে গেছেন কিন্তু টাকার অভাবে ভর্তি করতে পারেননি। সকালে স্ত্রীর মাটির ব্যাংক ভেঙে দেড়শ টাকা নিয়ে বাসা থেকে বের হন। একদিকে বাসাভাড়া দেয়া হয়নি, বাসায় বাজার নেই, অন্যদিকে মেয়ের নতুন শ্রেণীতে ভর্তি করতে হবে- এমন পরিস্থিতিতে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। চাকরির সন্ধানে ছুটে বেড়িয়েছেন এক পত্রিকা থেকে আরেক পত্রিকা অফিসে। কিন্তু কেউই দেননি চাকরির সুযোগ। তিনি যে বেকার জীবনযাপন করছিলেন প্রথম দিকে স্ত্রীর কাছে তাও গোপন করেছিলেন। তিনি পূর্ব রামপুরায় স্ত্রী পলি দাস ও কন্যা অথৈ দাসকে নিয়ে বসবাস করতেন।

এদিকে বিভিন্ন সূত্র ও লেখা থেকে জানা যাচ্ছে, তার আগের কর্মস্থল দৈনিক আমাদের সময় থেকে ন্যায্য বেতন-পাওনা না পেয়েই বিদায় নিয়েছিলেন দীনেশ দাস। ঐ সময় আমাদের সময়ের সম্পাদক ও অন্যতম মালিক ছিলেন নাঈমুল ইসলাম খান।

আমরা টিভিতে দেখেছি, সেই নাঈমুল ইসলাম খানই দীনেশ দাসের মৃত্যুর পর তার মরদেহের পাশে গিয়ে আহাজারি করেছেন। অথচ এই সাংবাদিক, মালিক পরিবর্তন ও কর্পোরেট মিডিয়া ক্যারিকেচালের শিকার হয়ে অর্ধচন্দ্র খেয়েছিলেন!

দীনেশ দাসকে যে বাস ড্রাইভার চাপা দিয়েছে, সে একজন অদক্ষ ড্রাইভার। টিসিবির ভাড়া করা বাস (ঢাকা-মেট্রো-জ-১৪-২৪৩৫)টি দীনেশ দাসকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় গাড়িটি আটক করা হয়। এছাড়া, বাসের চালক বাদশাহ মিয়া ও মাহমুদুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে বাদশাহ মিয়া বাসের হেলপার বলে পরিচয় দেয়। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে চালক বলে স্বীকার করে। তরুণ এই ড্রাইভারের দক্ষতা না নিয়েই রাস্তায় নেমে আসার বিষয়টি অবশ্যই প্রশ্নসাপেক্ষ।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর প্রবক্তা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের প্রতিক্রিয়া টিভিতে দেখলাম। তিনি বলেছেন, প্রতিদিন প্রায় ৫৭ কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয় পরিবহন খাত থেকে। এ টাকার ভাগ সরকারের সব মহলে যায় বলে অভিযোগ করছেন তিনি। আমরা দেখছি, নৌপরিবহনমন্ত্রী বারবার বেপরোয়া চালকদের পক্ষ নিচ্ছেন। বলা হচ্ছে, ড্রাইভারদের সম্মান করে কথা বলতে হবে। ‘খানসেনা’ বলা যাবে না! ভালো কথা। কিন্তু দোষী, অদক্ষ ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা কি নেয়া হচ্ছে? কেন নেয়া হচ্ছে না? দীনেশ দাসের মৃত্যু আমাদের সমাজকে, আমাদের রাষ্ট্রীয় ভিতকে কাঁপিয়েছে। সরকার তার পরিবারকে দশ লাখ টাকা সরকারি অনুদান দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

একই সঙ্গে দীনেশ দাসের স্ত্রী পলি দাসকে সরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) চাকরি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া একমাত্র মেয়ে অন্বেষা অথৈ দাসকে ভিকারুন নিসা নূন স্কুলে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিনা বেতনে অধ্যয়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দীনেশ দাসের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা অর্থ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। বসুন্ধরা চেয়ারম্যানের সচিবালয়ে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের এক বৈঠকে তিনি এ ঘোষণা দেন। বৈঠকে বসুন্ধরা চেয়ারম্যান দীনেশ দাসের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। আগামী সপ্তাহে দীনেশ দাসের শোকসন্তপ্ত পরিবারের হাতে এ অর্থ সহায়তার চেক তুলে দেয়া হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর, আমাদের সময়ের সাবেক সিনিয়র রিপোর্টার সাংবাদিক দীনেশ দাসের অসহায় পরিবারের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আমাদের সময়ের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান নতুন ভিশন লিমিটেড। এর অংশ হিসেবে প্রয়াত দীনেশ দাসের একমাত্র কন্যা অন্বেষা অথৈ দাসের (৮) উচ্চশিক্ষাসহ গোটা শিক্ষা জীবনের ব্যয়ভার নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। দৈনিক আমাদের সময়ের নতুন মালিক ও নতুন ভিশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নূর আলী এ ঘোষণা দিয়েছেন। প্রয়াত সাংবাদিকের পরিবারকে সার্বিক সহায়তারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

এদিকে বিএফইউজে সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী জানিয়েছেন, দীনেশ দাসের কর্মস্থল দৈনিক আমাদের সময় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সেখান থেকে তার পাওনা আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে। হ্যাঁ, পাওনা না পেয়েই বিদায় নিয়েছেন দীনেশ দাস। এই হলো আমাদের বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ট্রাজেডি!

আমরা লক্ষ করছি, অগ্রসরমান প্রজন্মের মননের উন্মেষের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে সাংবাদিকতা পেশাটি একটি গৌরবের পেশা হিসেবে অনেকেই গ্রহণ করছেন। কিন্তু এর পাশাপাশি, সাংবাদিকরা কি তাদের ন্যায্য পাওনা পাচ্ছেন? তাদের কি সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে? বিষয়টি মিডিয়া মালিক ও পেশাজীবী সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ভেবে দেখা দরকার।

আমি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন ব্লগ, ওয়েব মিডিয়ায় পেশাজীবী তরুণ সাংবাদিকদের আলোচনা থেকে জেনেছি, অনেক তরুণ সাংবাদিককেই দীর্ঘ সময় অন ডিউটিতে রাখা হয়। কোনো কোনো সিনিয়ররা জুনিয়রদের নাকি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন। অনেক কাজের বোঝা তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়। রাত ১২টার পর একজন জুনিয়র সাংবাদিক কিভাবে বাড়ি ফিরবেন, তার খোঁজও রাখা হয় না। আর বেতনভাতা, বোনাসের দীর্ঘসূত্রতা তো আছেই। এসব অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা খুবই অমানবিক। কোনো সভ্য সাংবাদিকতার ইতিহাস তা মেনে নেয় না, নিতে পারে না। এ বিষয়ে আমি কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরতে চাই। মিডিয়া ও সাংবাদিক সমাজের বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবা উচিত।

১। মিডিয়ায় সাংবাদিকদের টাইম শিফট সুনির্দিষ্ট হওয়া দরকার। আন্তর্জাতিক লেবার ল’ অনুযায়ী ৪০ ঘণ্টা সপ্তাহে কাজের নিয়ম রয়েছে। এর প্রতিফলন হওয়া প্রয়োজন।

২। পেশাজীবী সাংবাদিকরা যাতে তাদের বেতনভাতা, বোনাস সময় মতো পান, এর নিশ্চয়তা মিডিয়া মালিকদের পক্ষ থেকে দেয়া উচিত। যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য সাংবাদিকদের প্রয়োজনে বাহনের জোগাড় করা দরকার মিডিয়ার পক্ষ থেকেই।

৩। প্রতিটি মিডিয়াকর্মীকে একটি সুনির্দিষ্ট সময় চাকরির মেয়াদ শেষের পরপরই জীবনবীমার আওতায় আনা দরকার মিডিয়া হাউসের পক্ষ থেকে। বিশ্বের সকল উন্নত দেশেই গ্রুপ জীবনবীমা ক্রয়ের মাধ্যমে সাংবাদিকদের এই সুবিধা দেয়া হয় মালিক-মিডিয়ার পক্ষ থেকে। মনে রাখা দরকার, এই বাংলাদেশে সাংবাদিকতা কম ঝুঁকিপূর্ণ নয়। আমরা যশোরের বরেণ্য সাংবাদিক শামছুর রহমানকে সন্ত্রাসীদের গুলিতেই হারিয়েছি। এমন আরো অনেক ঘটনা বাংলাদেশে আছে। তাই ‘লাইফ ইনসুরেন্স ফর এভরি জার্নালিস্টস’ এই সময়ের অন্যতম দাবি। এটা কোনো কঠিন কাজ নয়। প্রিমিয়াম মিডিয়াকেই দিতে হবে, গ্রুপ বীমা ক্রয়ের মাধ্যমে।

৪। জাতীয় প্রেসক্লাবের তরফ থেকে ‘আক্রান্ত সাংবাদিক সাহায্য তহবিল’ এর কার্যক্রম আরো ব্যাপৃত করা দরকার। তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ‘দুস্থ সাংবাদিক সাহায্য তহবিল’ এর ফান্ড শক্তিশালী করা দরকার।

৫। আক্রান্ত সাংবাদিক সুবিচার যাতে পান, সে বিষয়ে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার। মনে রাখতে হবে, কোনো সরকার যা এড়িয়ে যায়- কোনো সাংবাদিকই তা দেখেন তার বিবেকের চোখ দিয়ে। এই সত্য বিশ্বে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে স্বীকৃত।

দীনেশ দাসের আত্মার প্রতি আমাদের দায় অনেক। কারণ তার মৃত্যুর পরই তার ন্যায্য পাওনা আদায়ে আমরা মাঠে নেমেছি! এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক একটি জাতিসত্তার জন্য আর কী হতে পারে! আমাদের ক্ষমা করবেন দীনেশ দাস। আপনার সৎ সাংবাদিকতা আমাদের জন্য পাথেয় হবে। আপনার আত্মা চিরশান্তি লাভ করুক।
১১ জানুয়ারি ২০১২
--------------------------------------------------------------------------------
দৈনিক ভোরের কাগজ / ঢাকা/ ২৪ জানুয়ারি ২০১১ শনিবার
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29522093 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29522093 2012-01-14 08:26:35
ক্ষমতায় যাওয়ার বিনিয়োগ ও ক্ষমতাসীনদের তান্ডব ফকির ইলিয়াস
======================================
বাংলাদেশের প্রধান বিরোধীদল বিএনপি দেশে 'ক্ষমতায় যাওয়ার বিনিয়োগ' করেই যাচ্ছে। কোটি টাকার রোডমার্চ করছে দেশের প্রত্যেকটি বিভাগে। লক্ষ্য একটাই জনগণকে সংঘবদ্ধ করা। ক্ষমতায় যাওয়া। বিএনপি জন্ম থেকেই ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দল। তাদের জন্মই হয়েছিল হত্যা এবং ক্যু-এর মাধ্যমে। এটা দেশবাসীর অজানা নয়। বিএনপি যে কোন সংস্কারের বিরোধিতা ঠিকই করে। কিন্তু ফলাফল তাদের অনুকূলে গেলে মৌনতা অবলম্বন করে তারা তা মেনে নেয়।
একটি সম্প্রতি উদাহরণ দেয়া যাক। বিএনপি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। এই বিরোধিতার কারণে বিএনপি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাদের প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারকে শেষ মুহূর্তে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেয় তিনি সরে দাঁড়ান। একইভাবে বিএনপি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে তাদের প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেয়। সাক্কু তা মেনে নেননি। তাই তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেই মনিরুল হক সাক্কু প্রায় ত্রিশ হাজার ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত হন।
লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, ইভিএম পদ্ধতির বিরোধিতা করেই সাক্কুকে বহিষ্কার করে বিএনপি। অথচ সেই পূর্ণ ইভিএম পদ্ধতির ভোটেই মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন সাক্কু। নির্বাচিত হওয়ার পর পরই তিনি বিএনপিতে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিএনপির চিপ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের সঙ্গে তার ফোনে কথাও হয়েছে বলে পত্র-পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে। বিএনপি তাকে ফিরিয়ে নেবে বলেও ধারণা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। নির্বাচনে ফলাফল বিএনপির পক্ষে গিয়েছে এবং তা হয়েছে ইভিএম পদ্ধতির ভোটে। আর সেই ফলাফলে সাক্কু মেয়র হয়েছেন। মনিরুল হক সাক্কুকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপিতে ফিরিয়ে নেয়ার অর্থ হচ্ছে প্রকারান্তরে ইভিএম পদ্ধতি মেনে নেয়া।
বেগম জিয়া রোডমার্চের পথে চট্টগ্রাম যাওয়ার প্রাক্কালে ফেনীতে জনসভা করেছেন। সেই জনসভা মঞ্চে মেয়র সাক্কু, বেগম খালেদা জিয়ার ভাষণের সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন হাসিমুখে। সে চিত্র আমরা টিভির পর্দায় দেখেছি। এর অর্থ হচ্ছে সাক্কুর বিএনপিতে ফিরে যাওয়া এবং পুরস্কৃত হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
কুমিল্লার মেয়র পদটি পাওয়ার পর বিএনপি তা গ্রহণ করবে সেটাই স্বাভাবিক বিষয়। তাহলে তারা ইভিএম পদ্ধতির বিরোধিতা করেছেন কেন? কেন বার বার বলছে, ইভিএম পদ্ধতি তারা মেনে নেবে না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান বিচারপতি (অব.) হাবিবুর রহমান বিভিন্ন সমাবেশে বারবার বলছেন, কোন সভ্য জাতি এ পদ্ধতি মেনে নিতে পারে না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, গণতান্ত্রিক সভ্য কোন দেশে পারস্পরিক বিশ্বাস না থাকলে সৃজনশীল রাজনীতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকতে পারে না। আর তা অব্যাহত না থাকলে সুস্থ গণতান্ত্রিক রীতিনীতি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। তার কথাটি তাত্তি্বকভাবে মিথ্যা নয়। কিন্তু কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ কিংবা বাঙালি জাতি গত চার দশকে সার্বিকভাবে তেমন সুসভ্য কি হতে পেরেছে? না পারেনি। আর পারেনি বলেই একাত্তরের নরঘাতক আলবদর-রাজাকার চক্র ফুলে-ফেঁপে বিত্তবান হিসেবেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারাও হয়ে উঠেছে কেয়ারটেকার সরকারের তাত্তি্বক রূপকল্পের দাবিদার। এটা শহীদের রক্তের চরম অবমাননা তো বটেই। এর জন্য দায়ী কে? কারা এদের পুনর্বাসনে সার্বিক সহায়তা দিয়েছে?
চট্টগ্রামের রোডমার্চ শেষে বেগম জিয়া যে ভাষণ দিয়েছেন, তার যথার্থ ইচ্ছে যে কোন মূল্যে বর্তমান মহাজোট সরকারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া এবং তার বিগত পরিষদের সব দুর্নীতি মুছে দিয়ে ক্ষমতা ও দখলের নব্য সংস্করণ করা। একটি বিষয় খুব স্পষ্ট বাংলাদেশে এই সময়ে মহাজোট সরকারের জনপ্রিয়তা কমেছে। কিন্তু তাই বলে কি বিএনপির জনপ্রিয়তা বেড়েছে? না বাড়েনি। না বাড়ার কারণগুলো হচ্ছে, খালেদা জিয়ার চরম দুর্নীতির বিভিন্ন সাক্ষী প্রমাণ প্রকাশ, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে বেগম জিয়া ও তার দলের স্পষ্ট অবস্থান, সরকারের অপকর্মগুলোর সঠিক সমালোচনা না করে ক্ষমতায় যাওয়ার নানা রকম শর্টকাট রাস্তা খোঁজা ইত্যাদি।
বেগম জিয়া তরুণ প্রজন্মের হাতে রাষ্ট্রের নেতৃত্ব তুলে দেয়ার কথা বলছেন। অন্যদিকে এই তরুণ প্রজন্মের সব ইচ্ছে আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করে ঘাতক রাজাকারদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন বেগম জিয়া। মনে রাখা দরকার, নতুন ভোটারদের লাখ লাখ ভোটেই বর্তমান সরকার ব্রুট মেজরিটি পেয়েছে। আর নব্য লাখ লাখ ভোটারের প্রাণের দাবি ছিল, ঘাতক রাজাকার আল-বদরদের বিচার চাই। এই দাবিকে অবজ্ঞা করে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন বেগম জিয়া কীভাবে দেখছেন?
সুবিধাবাদ কখনই কোন শুদ্ধ রাজনীতির প্রতীক বহন করে না। ইভিএম মানবেন না, আর এই পদ্ধতিতে নিজেদের প্রার্থী ভোটে জিতলে তাকে হালাল করে নেবেন, তা হলো দ্বৈত চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। নিজে বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও চিহ্নিত আলবদর-রাজাকারদের সরাসরি মন্ত্রিত্ব দিয়ে জেনারেল জিয়াও তেমনি দ্বৈত চরিত্রে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বিএনপি সেই উত্তরসূরির ভূমিকা ঠিক মতোই ধরে রেখেছে।
বর্তমান সরকার তিন বছর মেয়াদ পূর্ণ করেছে। এ তিন বছরে তারা আরও অনেক কিছু করতে পারত। বিশেষ করে দলীয় দখলদার বাহিনীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে সরকারের ইমেজ উজ্জ্বল থাকত। যিনি দলের চেয়ারম্যান তিনিই প্রধানমন্ত্রী নন এমন উদাহরণ প্রতিবেশী ভারতেই রয়েছে। অথচ বাংলাদেশে তা সম্ভব হয়নি গত চার দশকে। পার্টিপ্রধান পার্টি চালাবেন। আর প্রধানমন্ত্রী চালাবেন সরকার। এই ধারাবাহিকতা বাংলাদেশেও হতে পারত। তাহলেই গণতন্ত্র সুসংহত হতো। এটা বড় দুই দলই মানেনি। হয়তো মানবেও না।
তার ওপর রয়েছে রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নানা রকম উসকানি দিয়ে বক্তব্য দেয়ার অপচেষ্টা। চট্টগ্রামে বেগম জিয়া বলেছেন, সেনাবাহিনীর সদস্যদের নাকি গুম করা হচ্ছে। তার এই বক্তব্যের দুই দিনের মধ্যেই এর তীব্র প্রতিবাদ করেছে আইএসপিআর। তারা বলেছে, সেনাবাহিনীর নিজস্ব নিয়মকানুন রয়েছে এবং তা মেনেই চলছে আন্তঃগণসংযোগ বিভাগ। সেনাবাহিনীর বিষয় নিয়ে এমন মিথ্যা বক্তব্যের নিন্দাও করা হয়েছে।
১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিডিআর হত্যাকান্ডে পিলখানার ঘটনা বেগম জিয়ার উসকানি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এই লেখার শুরুতেই বলেছি, বিএনপি ক্যু করে শর্টকাটে ক্ষমতায় থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। তাই এসব বিষয় নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার অপচেষ্টা বেগম জিয়ার পক্ষেই সম্ভব। যে সেনানিবাসের বাড়ি তিনি খুইয়েছেন সে বেদনা ভুলতে তার কষ্ট তো হচ্ছে বটেই।
এটা এ দেশের দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীরা বারবার বলেছেন, জঙ্গিবাদীদের দোসর করে রাষ্ট্রে ক্ষমতায় যেতে এবং টিকে থাকতে ভালোবাসে বিএনপি। কিন্তু এই দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক প্রজন্ম তা হতে দিতে পারে না। বিশেষ করে পাকিস্তানের আদলে তালেবানি রাষ্ট্র কায়েমের অপচেষ্টা সফল হলে দেশ চির অন্ধকারে নিপতিত হবে।
কথাগুলো মনে রাখার অন্যতম দায়িত্ব বর্তমান মহাজোট সরকারেরও। সাতক্ষীরায় একজন নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণের অপচেষ্টা কিংবা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জোবায়ের হোসেন হত্যাকান্ডের পর বর্তমান ছাত্রলীগ সরকারের ভাবমূর্তি কোথায় নামিয়েছে, তা ভেবে দেখতে হবে সংশ্লিষ্টদের। প্রধানমন্ত্রী মাত্র ক'দিন আগে একটি পুলিশ সমাবেশে বক্তৃতাকালে নারী ও শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে পুলিশ বাহিনীকে অনুরোধ করেছেন। সেই নারীই ধর্ষিত হচ্ছে ছাত্রলীগের কিছু পাষন্ডের হাতে। এর চেয়ে চরম দুঃখ ও লজ্জাজনক ঘটনা আর কী হতে পারে? ১২ মার্চ ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। দেশে সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা ঘোরতর হতে পারে। তাই সরকারকে সতর্ক হতে হবে। নিজেদের শুদ্ধির মাধ্যমে।
১১ জানুয়ারি, ২০১২ নিউইয়র্ক।
------------------------------------------------------------------------------
দৈনিক সংবাদ / ঢাকা / ১৩ জানুয়ারি ২০১২ শুক্রবার প্রকাশিত





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29521544 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29521544 2012-01-13 10:01:58
আক্রান্ত সাংবাদিক, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রপক্ষ ফকির ইলিয়াস
======================================
ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছেন আরেকজন সাংবাদিক। তিনি টিভি চ্যানেল আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার অপর্ণা সিংহ। ছাত্র ভর্তির নামে অতিরিক্ত ফি আদায়ের খবর পেয়ে এই টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক ঢাকার মিরপুরের মণিপুর স্কুলের মূল ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কামাল আহমেদ মজুমদারের বিরুদ্ধে। আরটিভির বরাত দিয়ে বিভিন্ন ব্লগ, ইউটিউব, মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সংবাদটি। তাতে দেখা যাচ্ছে, সাংবাদিক অপর্ণা সিংহ কামাল আহমদ মজুমদারকে বলছেন, ‘আপনাকে একটি প্রশ্ন করতে চাই’। এটা বলার পরপরই, কামাল আহমদ মজুমদার বলছেন, ‘রাখেন আপনার এইটা’। অর্থাৎ ক্যামেরা দূরে রাখেন। বলেই শুরু হয়ে গেছে ধাক্কাধাক্কি। পরে দেখা গেছে হেনস্তা হয়ে আহত হয়েছেন এই টিভি সাংবাদিক। এখানে লুকানোর কিছু নেই। আজকাল টিভি ফুটেজে অনেক কিছুই ধারণ করা থাকে। এই ঘটনাটিও টিভির কল্যাণে ছড়িয়ে পড়েছে দেশে- বিদেশে। এদিকে কামাল আহমেদ মজুমদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি ওই প্রতিবেদককে সরিয়ে দিয়েছেন মাত্র।

আরটিভির যুগ্ম বার্তা সম্পাদক আকতার হোসেন বিভিন্ন মিডিয়াকে বলেছেন, মণিপুর স্কুলে সরকার নির্ধারিত পাঁচ হাজার টাকা ফির সঙ্গে উন্নয়ন ফি হিসেবে ২০ হাজার টাকা আদায় করার প্রতিবাদ করে আসছেন অভিভাবকরা। গেলো মঙ্গলবার সকালে তাদের সঙ্গে স্থানীয় এমপি কামাল আহমেদ মজুমদারের একটি সভা হওয়ার কথা ছিল। আকতার হোসেন জানান, কামাল মজুমদার স্কুলে গেলে অপর্ণা সিংহ তার সাক্ষাৎকার নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সংসদ সদস্য আমাদের প্রতিবেদককে ধাক্কা দেন। এক পর্যায়ে তার গায়েও হাত তোলেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন।

এই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এমপি কামাল মজুমদার অন্যভাবে। অভিযোগ অস্বীকার করে কামাল মজুমদার বলেছেন, অভিভাবক মিটিংয়ে যোগ দিতে স্কুলে গেলে আরটিভির রিপোর্টার তার ক্যামেরাম্যানকে বলেন, ওই লোকটার ছবি তোলো। আমি তাকে সরিয়ে দিয়েছি মাত্র। মারধর কেন করবো? তিনি অভিযোগ করেন, ওই রিপোর্টার অনুমতি ছাড়াই ক্লাসরুমে ঢুকে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে হুমকি দিয়েছেন। এদিকে ঘটনার পরপরই এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এ ঘটনায় আমি দুঃখিত ও মর্মাহত। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনা কখনো সমর্থনযোগ্য নয়। তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা, গোটা সাংবাদিক সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর প্রতিবাদ ও নিন্দা অব্যাহত রয়েছে দেশে বিদেশে। নারী সাংবাদিক কেন্দ্র এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি নাসিমুন আরা হক ও সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা বলেছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের পেশিশক্তির আক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এই ঘটনার মাত্র কদিন আগে ঘটেছে আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়েছেন দৈনিক কালের কণ্ঠ’র সিনিয়র সাংবাদিক নিখিল ভদ্র। ঘাতক বাস তাকে চাপা দিয়েছিল। কী হৃদয়বিদারক দৃশ্য! সুস্থ মানুষটি কিছু সময়ের মাঝেই পঙ্গু হয়ে গেলেন! প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে জানানো হয়েছে নিখিল ভদ্রকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে। এটাই শেষ কথা নয়। কেন এমন হচ্ছে? কেন বাস-ট্রাক ড্রাইভাররা ট্রাফিক আইন মানছে না? নিখিল ভদ্রের এই আহাজারি কিংবা তার জন্য তার পরিবারের কিংবা সতীর্থদের যে কান্না, তার দাম কিভাবে শোধ করবে সরকার?

ক্ষতিপূরণ দিয়ে সরকার যে কোনো দুর্ঘটনার দায় এড়াতে পারে না। পারবে না। আজ নিখিলের চিকিৎসা করাতে সরকারের পক্ষ থেকে যে ব্যয় করা হবে, সেটা তো নিখিলেরই অর্থ, সাধারণ মানুষের অর্থ। চালকের ভুলের খেসারত নিখিল বা নিখিলের মতো সাধারণ মানুষ কেন দেবে? বিআরটিসির মতো প্রতিষ্ঠানে এমন বাসচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যে ট্রাফিক আইন মানে না। এটা অবশ্যই সরকারের ব্যর্থতা হিসেবেই গণ্য হওয়া উচিত।

সড়ক দুর্ঘটনায় আমরা হারিয়েছি তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরের মতো কৃতী মানুষদের। মিরসরাই ট্রাজেডির শোক জাতি ভুলে যায়নি। এবার পা হারিয়েছেন নিখিল ভদ্র।

দেশে যেন সড়ক দুর্ঘটনার হার বেড়েই চলেছে। দেশের সব প্রান্তে নিয়মিত ঘটছে দুর্ঘটনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চালকের ভুলের মাশুল গুনতে হচ্ছে নিরীহ মানুষকে। নিভে যাচ্ছে কতো জীবনপ্রদীপ। বারবার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে দেশ। নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে বলছেনÑ নিরাপদ সড়ক চাই। কিন্তু লাভ হয়নি। কেন হয়নি? কার স্বার্থে হয়নি? স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চেয়ে পথে নেমেছে সাধারণ মানুষ। তাদের চাওয়া পূরণ হয়নি। না হওয়ার প্রধান কারণ দেশের শীর্ষ দুর্নীতি সিন্ডিকেট। যারা যাকে তাকে লাইসেন্স দেয়। ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা না করেই ওরা গাড়ি চালায়।

তাই এ প্রশ্নটি বারবার আসছে, সরকার কি নিশ্চিন্তে পথে চলার নিরাপত্তাটুকুও দিতে পারবে না সাধারণ মানুষকে? সরকারের পক্ষ থেকে চালকদের প্রশিক্ষিত করার কিংবা ট্রাফিক আইন জোরদার করার উদ্যোগ নেয়ার জোর প্রচেষ্টা করা হবে না? কঠোরভাবে তা পালনের বিধিও কি করার ক্ষমতা নেই সরকারের শীর্ষ শক্তিধরদের? বাংলাদেশে সাংবাদিকরা আক্রান্ত হয়েই চলেছেন। সাংবাদিকদের ওপর অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত হামলার ঘটনা প্রতিকারহীনভাবেই ঘটে চলেছে। প্রতি বছরই হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে সাংবাদিকদের। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবারই আছে। কিন্তু কেউ প্রশ্ন করলে উত্তর না দিয়ে তাকে শাসানো কিংবা আক্রমণ তো কোনো সভ্য সমাজে হতে পারে না। সাংবাদিকদের ওপর একের পর এক হামলা ও সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে চাইছে কেউ কেউ। তারা তাদের অপকর্ম ঢেকে দিতে চাইছে গলার জোরে। এ অবস্থার প্রতিকার দরকার। সরকারের এ বিষয়ে বোধোদয় হওয়া দরকার। কারণ কোনো পেশিবাজ আজ আছে, কাল তার পেশি বলীয়ান নাও থাকতে পারে। কিন্তু সাংবাদিকদের কলম, সাংবাদিকদের ক্যামেরা জাতির পক্ষে আছে, থাকবে চিরঅম্লান। বাংলাদেশের সাংবাদিকরা ধনী নন। খুব বড় অংকের টাকাও তারা কামাই করেন না। সাংবাদিকদের এমনিতেই নানা প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করতে হয়। শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কাজ করতে হয়। তুষ্ট করতে না পারলে নেমে আসে নির্যাতনের যাতনা। সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা আমাদের দেশে নতুন কোনো ঘটনা নয়। স্বৈরশাসনের আমল থেকে শুরু করে বর্তমান গণতান্ত্রিক শাসনামলেও ঘটছে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা। দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পর ধারণা করা হয়েছিল, সাংবাদিকতা পেশাও মুক্ত পরিবেশ ফিরে পাবে। না, তা হয়নি। অনেকেই দলবাজি বাড়াতে চেয়েছেন সাংবাদিকদের ঘিরে। প্রকাশ্য বিধিনিষেধ না থাকলেও পেশার ঝুঁকি আজো রয়ে গেছে। মিরপুরের ঘটনা গোটা রাষ্ট্রের জন্য বেদনাদায়ক। এর নিন্দা জানানোর কোনো ভাষা নেই। এই ঘটনার সুবিচার হোক।
৫ জানুয়ারি ২০১২
=========================================
দৈনিক ভোরের কাগজ / ঢাকা/ ৭ জানুয়ারি ২০১২




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29517855 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29517855 2012-01-07 10:52:40
দুর্নীতি যখন রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পায় ফকির ইলিয়াস
======================================
রাজনৈতিক মামলার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার একটি প্রবণতা তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশেই আছে।
রাজনীতিকরা যখন চরমভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন তখন রাষ্ট্র লুটপাটের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে পড়ে। সামাজিক অপরাধী, মজুতদার, কালোবাজারি, প্রতিহিংসাপরায়ণ শ্রেণী, লুটেরার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে রাষ্ট্রকে সংঘাতময় করে তোলে। এরা মধ্যস্বত্বভোগী 'অবতার'-এর ভূমিকায় সমাজকে নিজেদের মতো করে বিকোবার জন্য তৎপর হয়।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্নীতির মহড়া নতুন নয়। স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে কালো টাকা কামিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা অনেকেই করেছেন। এরা সরকারের সাহায্য চেয়েছেন একদিকে। অন্যদিকে সরকারের ঘরের খুঁটি ভাঙার কাজটি করেছেন নির্দ্বিধায়। সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি রাষ্ট্রের এমন ধকল সইবার মতো সাধ্য ছিল না। তারপরও কিছু হীন স্বার্থবাদীরা সরকারকে হেনস্তা করেছিল নৃশংসভাবে।
পঁচাত্তরের নির্মমতম হত্যাযজ্ঞ মূলত সুবিধাবাদীদের জন্য পোয়াবারো হয়ে আসে। তারা তৎপর হয়ে ওঠে সংঘবদ্ধভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য। একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা হাত মেলায় সামরিক শক্তির সঙ্গে। সামরিকজান্তারা যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার-আলবদরদের তাদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা বানাতেও কসুর করেনি। এটা ছিল বাংলাদেশের জন্য চরম দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।
নিজেদের ক্ষমতার দাপট টিকিয়ে রাখার জন্য ১৯৭৭-৭৮ সালে সামরিক শাসকরা এক দিকে খুনিদের প্রশ্রয় দিয়েছেন। অন্যদিকে নিজের প্রতিপক্ষ ভেবে সামরিক ছাউনি থেকে মেধাবী অফিসারদের হত্যা করেছেন কোর্ট মার্শালের নামে। জিয়াউর রহমানের সময় প্রকৃতপক্ষে কতজন সেনা অফিসারকে হত্যা করা হয়েছিল এর কোন সঠিক লিখিত বিবরণ এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের কাছে, রাষ্ট্রবাসীর কাছে স্পষ্ট নয়। দেশকে এক ভয়াবহ পরিণামের দিকে ঠেলে দিয়েই রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান।
চট্টগ্রামে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর রাষ্ট্রে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে জিয়াউর রহমান পালিত সেই দুর্নীতিবাজরাই। বিচারপতি এমএ সাত্তারকে বন্দুকের নল দেখিয়ে ক্ষমতাগ্রহণ করেন সেনাপ্রধান হুসেন মুহম্মদ এরশাদ। খেলাটা ছিল অনেকটাই পাকিস্তানি কায়দায়। 'গণতন্ত্র নয়, বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস'- যে নীতিতে বিশ্বাস করত পাক হায়েনা আইয়ুব-ইয়াহিয়া-টিক্কা-নিয়াজিরা।
সামরিক চেহারা ঢাকতে হলে দুর্নীতি, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় না দিয়ে কোন উপায় থাকে না। এরশাদ তা বেশ জোরেশোরেই প্রমাণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বিরোধিতাকারী রাজাকার, ঘাতকদের হোতা মাওলানা মান্নানকে ধর্মমন্ত্রী বানান। 'জমিয়াতুল মোদারেসিন'-এর নামে এই ধর্মমন্ত্রী দেশে নিজের ক্ষমতার দাপট বাড়ান। বিভিন্ন মোর্চার দুর্নীতিবাজরা এসে সমবেত হয় এরশাদের ছায়াতলে। দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গন হয়ে ওঠে দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজদের অভয়ারণ্যে।
দুর্নীতিকে দমিয়ে রাখার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের যা যা করার দরকার ছিল, তা করতে ব্যর্থ ছিল এরশাদ সরকার। বরং মনের মাধুরী মিশিয়ে নিজস্ব রাজনৈতিক বলয় নির্মাণ করে, এরশাদ প্রায় এক দশক জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে বাঙালির রক্তে গড়া ভূখন্ডের ওপর। এই পাথর সরাতে দেশের কৃতী, মেধাবী মানুষকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয় অকাতরে। ডা. মিলনের মতো ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন রাষ্ট্রের চেতনার প্রতীক।
অন্যায়, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এই যে সংগ্রাম তা অব্যাহত আছে গেল চার দশক থেকেই। কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডের অর্ধেক প্রজেক্টের কাজে লেগেছে। আর বাকি অর্ধেক গিয়েছে রাঘববোয়াল-চুনোপুঁটিদের পেটে। দেশে সরকার পরিবর্তন হয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র এসেছে। কিন্তু দাপটশালী মন্ত্রী-আমলাদের দুর্নীতির কোন প্রতিকার হয়নি। বিচার হয়নি।
দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নতুন রূপে আবির্ভূত হন এই প্রজন্মেরই আরেক রাজনৈতিক ত্রাতা তারেক রহমান। চারদলীয় জোটের ভোটে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী হন বেগম খালেদা জিয়া। মন্ত্রী করা হয় একাত্তরের দুই প্রধান রাজাকার মুজাহিদ-নিজামীকে। এই সময়ে তমদ্দুনের লেবাস পরে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায় একাত্তরের পরাজিত চক্র। 'হাওয়া ভবন' হয়ে ওঠে দেশের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
তারেক রহমান কীভাবে বিদেশে মুদ্রা পাচার করেছেন, কোথায়, কীভাবে আমোদ-ফুর্তি করে ডলার উড়িয়েছেন, তা এখন দেশবাসী জানতে পারছে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের জবানিতে। আর তারেক রহমানের দল বিএনপি বলেই যাচ্ছে, এসব গোয়েন্দাও নাকি ভাড়া করা! এভাবেই রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে উঠছে বাংলাদেশের দুর্নীতির বরপুত্ররা।
চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে সবচেয়ে জঘন্য কাজটি ছিল দুর্নীতিকে জায়েজ করার জন্য জঙ্গিবাদীদের উত্থানকে সরাসরি সহায়তা করা। 'দেশে কোন জঙ্গি নেই'-এমন দাম্ভিক উচ্চারণের মাঝেই বেড়ে ওঠে বাংলা ভাই, শায়খ রহমানরা। দেশে এক যোগে বোমা হামলা করে শক্তি পরীক্ষা করে জঙ্গিবাদীরা। এসব ঘটনা ছিল জাতির জন্য ভয়াবহ দুঃসংবাদ।
তারপরও সরকার কোন দায় নিতে চায়নি। কোন মন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়া হয়নি। বেগম জিয়া ও তার চারদলীয় জোট মেয়াদ শেষ করেও ক্ষমতা নিজেদের হাতে রাখতে চেয়েছিলেন। আর সেই কারণেই ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে রাষ্ট্রপতি রাখার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করেন। এরপরই দেশে নেমে আসে ওয়ান-ইলেভেনের খড়গ।
রাজনীতিতে রহস্যময়তা একটি চিরাচরিত ব্যাপার। জাতির জনক হত্যার অনেক রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। ওয়ান-ইলেভেনের অনেক রহস্যও এখনো থেকে গেছে আড়ালে। তবে ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবরা হরেদরে 'দুর্নীতিবাজ' 'রাঘববোয়াল' ধরে দেশে তাৎক্ষণিক বাহবা কুড়িয়েছিলেন। সেই 'রাঘববোয়াল' ধরার অন্যতম নায়ক জে. (অব.) এমএ মতিনই সে সময় দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। চলমান ইতিহাস সেই সাক্ষ্যই দিচ্ছে। কিংবা সেই সময়ের পুলিশের আইজি নূর মোহাম্মদ! তার বিরুদ্ধেও এন্তার দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশন।
এতিমদের জন্য জিয়াউর রহমানের নামে গঠিত ট্রাস্টের টাকা আত্মসাৎ করেছেন খালেদা জিয়া! এমন অভিযোগ আমরা শুনছি। বিষয়টি বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে বৈকি! এটাই কি বাংলাদেশের বাস্তবতা? এটাই কি বাংলাদেশের নিয়তি?
বেগম জিয়া আবারও তরুণ প্রজন্মের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা তুলে দেয়ার কথা বলেছেন। এই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি তারেক রহমান।
বিএনপি এবং তার সমর্থক জোট একটা দাবি নিয়েই এগোচ্ছে। তা হচ্ছে বর্তমান সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল। তারা যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন তাদের সব কর্মকান্ডই তাদের দৃষ্টিতে জায়েজ। এ জন্য তারা একটি বারও অনুতপ্ত নয়। কারণ অনুতপ্ত হলেই তাদের ভোটের বাজারে চরম ঘাটতি দেখা দেবে, তারা জানে। তাই দুর্নীতির জয়গান গেয়েই তারা জনগণের আইওয়াশ করেই যাচ্ছে।
আর বর্তমান সরকারের মন্ত্রীদের কারও কারও দুর্নীতির ফিরিস্তি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন মিডিয়ায়। কারও কারও দাপটে নিজ নিজ এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। সরকারের শীর্ষ মহল কি তা দেখছে? ষোল কোটি মানুষের দেশে রাজনৈতিক মিথ্যাচারিতা করা খুব কঠিন কাজ নয়। কিন্তু যে চেতনা ও ঐক্য নিয়ে এই দেশের মানুষ বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল, তা ছিল ঐকান্তিক দেশপ্রেম। সেই দেশপ্রেম এখন ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে অনেক রাজনীতিকের হাতে। আটাশ হাজারেরও বেশি কোটিপতি লুটেপুটে খেতে চাইছে স্বপ্নের বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের ভাগ। দুর্নীতি যখন রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পায়, তখন মানুষ আর দাঁড়াবে কার ছায়ায়!
নিউইয়র্ক, ০৪ জানুয়ারি ২০১২
==========================================
দৈনিক সংবাদ / ঢাকা / ৬ জানুয়ারি ২০১২ শুক্রবার প্রকাশিত



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29517247 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29517247 2012-01-06 10:17:32
জনমানুষের বিপরীতে বিশ্বায়নের স্বৈরতন্ত্র ফকির ইলিয়াস
===================================
বিশ্ব আরেকটি নতুন বছরকে স্বাগত জানাল। ২০১২ সাল বরণ উৎসব বেশ জমজমাটভাবেই পালিত হল। নিউইয়র্কে খ্রিস্টীয় নববর্ষ পালনের একটি সুখ্যাত এলাকা আছে। ‘টাইম স্কয়ার’কে একনামে বিশ্বব্যাপী সবাই চেনে। এবারও টাইম স্কয়ারে মনমাতানো নাচ-গানে বরণ করা হয় ২০১২-কে। হাজার হাজার মানুষের ঢল। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব কোলাহল পছন্দ করি না। তাই বছরের শেষ দিনটিতে কিছুটা আগেভাগেই প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সেরে ম্যানহাটান ছেড়ে আসি। শত শত ডাবল ডেকার বাস আমেরিকার বিভিন্ন স্টেট থেকে ছুটে আসে নিউইয়র্কে। পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম অ্যাভিনিউ আর পাশের সড়কের সাইড পার্কিংগুলো ভরে যায় গাড়িতে।
এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। লাখ লাখ ডলার খরচ করে পালিত হয়েছে নববর্ষ বরণ উৎসব। এসব দেখলে মনে হয় না বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। কিংবা ‘ডিপ রিসেশনে’ কাঁপছে বিশ্বের অর্থনীতি। একই অবস্থা আমরা দেখেছি লন্ডন, প্যারিস, সিডনি, টরেন্টো কিংবা কুয়ালালামপুরেও। তাহলে মানুষ গরিব কোথায়? টাকাকড়ি নেই কে বলল! পড়া যাক কয়েকটি খণ্ড সংবাদ।
যুক্তরাষ্ট্রের শহরে শহরে ঢল নেমেছিল উৎসবের। রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারের টাইম বলটি ওপরে উঠে আলোকছটা ছড়াতে শুরু করে। শহরের মেয়র মাইকেল ব্ল-মবার্গ ও সঙ্গীতশিল্পী লেডি গাগা বর্ষবরণের উৎসবে যোগ দেন।
নতুন বছরকে বরণ করে নিতে মধ্যরাতে নয়নাভিরাম আতশবাজি আর পটকার মুহুর্মুহু শব্দে মেতে উঠেছিল পুরো যুক্তরাজ্য। সন্ধ্যা থেকেই লোকারণ্য হয়ে ওঠে টেমস নদীর দুই পাড়। উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। প্রায় আড়াই লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিল টেমস নদীর ওপর আলোর খেলা দেখতে।
জার্মানিতেও বিপুল উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ করা হয়। বর্ষবরণের বার্তায় জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেছেন, ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ হবে আরও কঠিন। তবে ইউরোপীয় ঋণ সংকট ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়াবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজিও জার্মানির চ্যান্সেলরের মতোই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২০১২ সাল হবে আরও ঝুঁকিপূর্ণ। তবে নতুন বছরের সম্ভাবনাও কম নয়।
একইভাবে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে বর্ষবরণের উৎসবে যোগ দেন হাজার হাজার মানুষ। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে উৎসব ব্যাহত হলেও থেমে থাকেনি আলো ও আতশবাজির খেলা। পুরান বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে রাশিয়ার রেড স্কয়ারে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। ব্রাজিলেও হাজার হাজার মানুষ আনন্দ-উৎসবে উদযাপন করেছেন বর্ষবরণ। রিও ডি জেনিরিওর সমুদ্র সৈকতে আয়োজন করা হয়েছিল আতশবাজির মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী।
হ্যাঁ, মানুষ পুরনোকে বিদায় জানায়। নতুনকে পেতে চায় আনন্দ নিয়ে। কিন্তু সব চাওয়া কি পাওয়ায় পরিণত হয়? কেন হয় না? বলার অপেক্ষা রাখে না, ২০১২ সাল হবে বিশ্বে একটি নতুন মেরুকরণের বছর। এ বছর মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা সব অসত্যের বিরুদ্ধে কতটা শক্ত হয়ে দাঁড়াবেন। আমরা একটি বিষয় লক্ষ্য করছি, ইরাক থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের পরপরই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রায় মারমুখী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। গণবিক্ষোভ চলছে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে। এই বিক্ষোভে কোন সমাধানে পৌঁছতে না পেরে এখনও ঝুলে আছে অনেক রাষ্ট্রনায়কের ভাগ্য। সিরিয়া, ইয়েমেন ছাড়াও নতুন বছরে এ তালিকায় যুক্ত হতে পারে বাহরাইন, মরক্কোসহ সৌদি আরবের মতো মুসলিম রক্ষণশীল এবং রাজা-বাদশাহ শাসিত দেশ। ইরাক, লিবিয়া, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক দেশে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। এসব দেশে সাধারণ মানুষের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে দানা বাঁধা চাপা ক্ষোভ ২০১২ সালে বিস্ফোরিত হয়ে আন্দোলনে রূপ নেবে বলে মনে করছেন রাজনীতি-বিশ্লেষকরা। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণে যে কোন মুহূর্তে সেনা-অভ্যুত্থান ঘটতে পারে পাকিস্তানে। চলতি বছরের ৬ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে, ২২ এপ্রিল ও ৬ মে ফ্রান্সে এবং ৪ মার্চ রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। অবশ্যই এসব নির্বাচন বিশ্বে পরিবর্তন আনবে, নানা সম্পর্কের ক্ষেত্রে।
বিশ্বের অন্যতম সমস্যা হচ্ছে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়ছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে। ফলে নিউইয়র্ক কিংবা রোমে ‘নববর্ষ-২০১২’-এর একটি ডিনার প্লেট বিক্রি হয়েছে দুই-তিন হাজার ডলারে। কোথাও এর চেয়েও অনেক বেশি দামে। অন্যদিকে একটি স্যান্ডউইচ খেতে না পেয়ে তীব্র শীতে নিউইয়র্কের পাতাল ট্রেনের কামরায় মৃত্যু হচ্ছে জবুথবু গৃহহীনের। এই বাস্তবতা মেনেই চলছে পৃথিবীর চালচিত্র।
আমরা জানি, সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে রাষ্ট্র ও সংবিধান নির্মিত সমতা বিধানের কথা বেশ জোরেশোরে বলা হয়েছিল এক সময়। অনেক দেশের সাধারণ মানুষ এই ব্যবস্থাকে তাদের স্বার্থের অনুকূলে বলে মনে করতে শুরু করেছিল। এভাবেই সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা এক সময় বিশ্বব্যাপী বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়েছিল। অনেকেই এর মাধ্যমে মানবজাতির মুক্তির দিশা খুঁজে পেতে চেয়েছিলেন। এটা বুর্জোয়াবাদীদের চক্ষুশূল ছিল, ফলে ভেঙে যায় সোভিয়েত ইউনিয়ন।
দুঃখের কথা হচ্ছে, যারা এক সময় সমাজতন্ত্রের উচ্চ প্রবক্তা ছিলেন, তারাই ক্রমশ হয়ে ওঠেন ধনতন্ত্রের পদলেহী। খুঁজলে দেখা যাবে এ সময়ে যারা সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির প্রবক্তা, তারা গরিব মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বললেও নিজেরাই সবার অজান্তে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। নিকট অতীতে আমরা দেখেছি, সমাজতন্ত্রের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সংস্কার শুরু হলে অন্যান্য দেশেও এর প্রভাব পড়ে। তখন বিশ্বব্যাপী এমন একটি ধারণা প্রচলিত হয় যে, মানুষের ব্যক্তিগত সৃজনশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা না হলে কোনভাবেই অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব নয়। তাই মার্কিনি ছত্রছায়ায় শুরু হয় নতুন অর্থনীতির পথে যাত্রা। এভাবেই পুঁজিবাদী দেশগুলো তাদের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য মুক্তবাজার অর্থনীতির ধুয়া তুলতে শুরু করে। মুক্তবাজার অর্থনীতির গুণগান তারা এমনভাবে শুরু করে যে সাধারণ মানুষের মনে হতে থাকে মুক্তবাজার অর্থনীতি মানেই অর্থনৈতিক মুক্তি। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো উন্নত দেশের সমর্থন এবং আর্থিক সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয়ে প্রশ্ন না তুলেই মুক্তবাজার অর্থনীতি মেনে নিতে শুরু করে।
পর্যায়ক্রমে পাশ্চাত্যের শিক্ষিত এলিটদের পশ্চিমা দেশগুলো প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ‘ত্রাতা’ হিসেবে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মনোনয়নদান শুরু করে। এই পশ্চিমা-ঘেঁষা কেউ কেউ বিভিন্ন দেশে মন্ত্রিত্বও পান। অবস্থাটা এমন দাঁড়ায় যে মুক্তবাজার অর্থনীতি যেন সর্বরোগ সংহারক বটিকা। বাংলাদেশের ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার গ্রামীণ ব্যাংক এই সমর্থনের কারণেই গোটা বিশ্বে লাইমলাইটে চলে আসেন। এটা একটা উদাহরণ মাত্র। উন্নত দেশগুলো কথিত মুক্তবাজার অর্থনীতির নামে উন্নয়নশীল এবং দরিদ্র দেশের বাজার দখল করে নিলেও তারা নিজেদের বাজার কিন্তু সেভাবে দরিদ্র দেশের জন্য উš§ুক্ত করেনি। আর সে কারণেই ‘ওকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ আন্দোলন দ্রুত দানা বাঁধে গোটা বিশ্বে ২০১১ সালে।
আসা যাক বাংলাদেশের কথায়। ২০১১ সালে বাংলাদেশে কোটিপতির সংখ্যা ২৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে গেল সাড়ে তিন বছরে নতুন প্রায় ১০ হাজার কোটিপতি আমানতকারীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এ তালিকায় শুধু ব্যবসায়ী নন, সামরিক-বেসামরিক আমলা, রাজনীতিক, শিল্পপতি, জমির মালিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ও তাদের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে ২০১০ সালে আমানতকারী কোটিপতির সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ হাজার, যা ২০০৯ সালের চেয়ে প্রায় চার হাজার বেশি। ২০০১ সালে এ সংখ্যাটি ছিল পাঁচ হাজার ৭৯৯। অর্থাৎ ১০ বছরে দেশে কোটিপতি বেড়েছে ২২ হাজারেরও বেশি।
এই টাকা কোথা থেকে আসছে? হ্যাঁ, এরাই হাজার হাজার ডলার মূল্যের ডিনার খাচ্ছে, ঢাকায়, লন্ডনে কিংবা নিউইয়র্কে। অথচ বেকারত্ব বিশ্বে একটি কালো হাতির নাম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যে অঙ্গীকার নিয়ে এসেছিলেন, তার সিকি ভাগও পূরণ করতে পারেননি। এর হিসাব তাকে এ বছরই ভোট পরীক্ষায় দিতে হবে।
সব মিলিয়ে বিশ্বের মানুষ সত্যিকারের যে শান্তির অন্বেষণ করছেন, তা পেতে হলে রাজনৈতিক বিচক্ষণতা দরকার। যুদ্ধ, অবৈধ ড্রাগ ট্রাফিকিং, চোরাকারবার, মুনাফাখোরী থেকে জনমানুষকে বাঁচানো দরকার। মনে রাখতে হবে, বিশ্বায়নের স্বৈরতান্ত্রিক প্লাবন যেন ছাপোষা মানুষকে ভাসিয়ে না নেয়। কারণ যে শিশুটি হাজার ডলার রাষ্ট্রীয় ঋণ মাথায় নিয়ে আজ জন্ম নিচ্ছে, তাকেও তো এই বিশ্বেই খুদ-দানা খুঁটে খেতে হবে।
৩ জানুয়ারী ২০১২
--------------------------------------------------------------------------------
দৈনিক যুগান্তর / ঢাকা / ৫ জানুয়ারি ২০১২ বৃহস্পতিবার






















]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29516621 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29516621 2012-01-05 11:08:24
২০১২ : প্রেমের বন্দনায় অন্য গ্রহান্তরে, জমা থাক আমাদের বিস্তারিত অভিমান।পাষাণ পরাণ থেকে
যে সুখ সাজায় প্রতিমা। বীমা আর ভোর মিলে প্রতিদিন যে পদ্য সাজায়।
রেখায় আমিও আঁকি সে দু'খের সরল সংরাগ। ভাগ বুঝে পেতে চাই এ জীবনে, ভুলে গিয়ে সুখ। বিমুখ আয়নার মাঝে আকাশের মুখ দেখে দেখে। শিখে নিতে চাই ভূমে, হেমন্তের সফল প্রয়োগ। যোগ আর যোগ্যতার ধ্যানে ঘেরা ধাতব সময়। লয় তাল ঠিক রেখে নদীবক্ষে ছায়া ফেলে ফেলে। জ্বলে উঠে বৃষ্টিচোখে অতিপ্রিয় সনাতনী রোদ। বোধ ও বৈষম্য তাই দাগ চিনে পাশাপাশি হাঁটে। বিমূর্ত জলের ভাঁজে ডুবে যেতে যেতে, আমিও হাত রাখি ঘামে ভেজা তোমার ললাটে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29513955 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29513955 2012-01-01 09:22:43
নতুনের সম্ভাষণে আলোকিত হোক সবগুলো মেধাবী মুখ ফকির ইলিয়াস
====================================
আমাদের চারপাশে মেধাবী মুখের সংখ্যা বাড়ছে। এ সংখ্যা যতো বাড়বে ততোই সমাজ আলোকিত হবে। আলোকিত হবে প্রজন্ম। আমরা দেখছি আমাদের পঠন-পাঠনের ধরন বদলাচ্ছে। পাশ্চাত্যের বাসে, ট্রেনে এখন বুকের বদলে ‘নুক’ পড়েন পাঠকরা। ‘নুক’ একটি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস। শত শত এ-বুক ডাউনলোড করে রাখা যায়। পড়া যায়। সেই কাজটিই করছেন পাঠকরা।

আমরা বাংলাদেশেও এই ঝলক দেখছি। ভবিষ্যতে কাগজের বইয়ের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের হাতে ইলেকট্রনিক বই তুলে দেয়ার আশার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে আমরা প্রত্যেক ছেলেমেয়ের হাতে কাগজের মোটা বই নয়, ইলেকট্রনিক বই তুলে দেবো। সব বই (এক ডিভাইসে) ওখানেই থাকবে। ওটা হাতে নিয়ে গিয়েই তারা পড়াশুনা করবে। কাগজের মোটা বই আর বহন করতে হবে না।’

আমরা লক্ষ করেছি গেলো দুই দশকের সমাজ বিবর্তনে কমপিউটার এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা সত্যি বিস্ময়কর। এর অবদান মানুষের জীবন ও সভ্যতার সব ক্ষেত্রকেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করছে- সূচনা হয়েছে ই-বিপ্লবের। এই বিপ্লবে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করতে হবে নতুন প্রজন্মকেই- প্রত্যন্ত এলাকার জনগণের নাগালে পৌঁছে দিতে হবে কমপিউটার।

বর্তমান সমাজে সাধারণভাবে মেধার বিশেষ বিকাশ লক্ষ করা যাচ্ছে। যা সাধারণভাবে সমাজের উন্নতির একটি সম্ভাবনা বলেই মনে হয়। বিকশিত মেধা একটা শক্তি। শক্তিমাত্রই যেমন কল্যাণকর নয়, বিকশিত মেধাও তেমন সমাজের কল্যাণের নিশ্চয়তা নয়। এই মেধা হতে হবে ইতিবাচক কাজের হাতিয়ার। অশুভের নয়। যে কোনো শক্তির নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োগের ওপরই মাত্র, সে শক্তির ফল নির্ভর করে। তা মনে রেখেই সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে।

সমাজ নিয়ে অনেকেই অনেক ভালো ভালো কথা বলেছেন এখনো বলছেন। এর পরেও সমাজের দুঃখ তো দূর হয়ই না বরং আরো গভীর হচ্ছে। এর কারণ কী ? কারণ হচ্ছে,
রাজনৈতিক শক্তির পরাজয়। যাদের পারার কথা ছিল, তারা পারছে না। জাতীয় উন্নয়নে সমন্বয় সাধিত হচ্ছে না। একটি ঘটনা মনে পড়ছে। ২০০৯ সালের ১৩ মে, নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেটস হিলারি ক্লিনটন। তিনি তার ভাষণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে। তিনি বলেন, এই বিশ্বের সকল দীনতা ঝেড়ে ফেলতে নতুন প্রজন্মকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।

হিলারি তার বক্তৃতায় বলেন, এর চেয়ে ভালো আর কি কিছু হতে পারে, পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন নিউইয়র্ক ইয়াঙ্কির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে! কোনো কিছুই হতে পারে না। আমি আপনাদের সঙ্গে থেকে এ সম্মানকে গ্রহণ করতে পেরে গর্বিত। তাই সবাইকে ধন্যবাদ। সমাবর্তনের এ বিশাল আয়োজন ও সব স্নাতকধারী, তাদের পরিবার ও বন্ধুজনদের দেখে আমি এটাই বলতে চাই, তোমরা এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে এ সম্মান গ্রহণ করতে যাচ্ছো। এই মুহূর্তটি দেশ ও সারা পৃথিবীর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তরুণ প্রজন্মের মেধা, শক্তি, উৎসাহ ও দায়বদ্ধতা এখন তাদের খুব দরকার। আমি মনে করি, তোমরা সম্পূণরূপে প্রস্তুত এ পৃথিবীর জন্য, যা এখন অস্থিতিশীল। কিন্তু পৃথিবী অবশ্যই তোমাদের শিক্ষাকে আন্তরিকতার সঙ্গে অভিবাদন জানাবে।

সেক্রেটারি অব স্টেটস হিসেবে আমি চলমান পৃথিবীর সব ধরনের চ্যালেঞ্জ সম্বন্ধে সচেতন। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, আদর্শবাদগত দ্বন্দ্ব, মহামারি ও নিউক্লিয়ার শক্তির ক্রমবর্ধনশীলতাসহ এ চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে আমরা মুখোমুখি হই প্রতিনিয়ত। তোমরা নতুন এই স্নাতকেরা এবং তোমাদের প্রজন্ম এ চ্যালেঞ্জগুলোকে দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবেলা করবে। আমি জানি, আমরা যুক্তরাষ্ট্র কিংবা পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তেই থাকি না কেন, এগুলো থেকে নিজেদের ফিরিয়ে নেয়ার উপায় নেই। আর এ চ্যালেঞ্জগুলো কখনই মানব-প্রচেষ্টা, সহযোগিতা কিংবা নির্ভরশীলতাকে হ্রাস করতে পারবে না। এগুলো আমাদের এক করবে, সে বন্ধন আমাদের শক্তি জোগাবে। তাই আমাদের চ্যালেঞ্জ হবে সব ভালোকে নিয়ে এক হয়ে কাজ করা। কারণ আমরাই পৃথিবীকে আরো সুন্দর করে তুলবো আগামীর জন্য।

হিলারি বলেছিলেন, অনেক বছর আগে আমি যখন স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলাম, তখন দেখেছি, কূটনীতি ছিল কিছু সুবিধাভোগী মানুষের চিন্তার ক্ষেত্র, যারা বন্ধ দরজার মধ্যে সংকীর্ণ পরিবেশে কাজ করতো। বর্তমানে আমাদের কূটনীতিবিদদের ক্ষেত্রটি আর সীমিত পরিসরে আবদ্ধ নেই। আমাদের কূটনীতিচর্চাও আর স্টেট বিভাগ ও এম্বাসিগুলোর মধ্যে নিবৃত্ত নেই। আমাদের একবিংশ শতকের দেশ পরিচালনার ভিত্তি তৈরি হয় এসবকে নিয়েই, নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে, বড় শহরগুলোর ব্যবসায়ীদের আলোচনা কক্ষে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হলঘরে, তোমাদের আড্ডায় এবং বড় হাসপাতালগুলোর পরিচালনা কক্ষে। আমাদের চিন্তাশীল ক্ষেত্রে তোমরা এসে প্রবেশ করো। আমাদের কর্মতৎপরতায় তোমাদের অংশগ্রহণ আমাদের প্রভাবিত করে।

পৃথিবীতে প্রভাব বিস্তারকারী অনেক চ্যালেঞ্জই আমাদের সঙ্গে ভবিষ্যতে মোকাবেলা করবে বিশ্বের শতকরা ৬০ ভাগ জনসংখ্যা, যাদের বয়স ৩০ বছরের নিচে। তরুণ প্রজন্ম অবশ্য এর মধ্যেই নিজেদের মেধা, কৌশল ও উদ্ভাবনী শক্তিকে ব্যবহার করে অভিনব কাজ করছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং রাজনীতি ও কূটনীতিচর্চাকে ভিন্ন আকার দিয়েছে। যেমন, কলম্বিয়ায় দুজন স্নাতক ফেসবুক ব্যবহার করে প্রায় দেড় কোটি মানুষকে একত্র করেছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে একটি দীর্ঘতম শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। এসবই ইতিহাসকে বদলে দেয়। তাদের শান্তিপূর্ণ প্রচেষ্টা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সন্ত্রাসবাদের নেটওয়ার্ককে যতোটা ধ্বংস করেছে, তা বছরের পর বছর সামরিক সশস্ত্র কর্মকান্ডের মধ্য দিয়েও সফল করা সম্ভব নয়।
আমি জানি, তোমাদের মধ্যে একজন কিলিমানজারো পর্বতের ঢালে মাসের পর মাস ধরে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের মডেল তৈরির জন্য কাজ করছে। যা নারী ও পরিবারকে নিয়ে দারিদ্র্য দূর করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। তোমাদের আরেকজন সহপাঠী চীনে ভূমিকম্পে আহত ব্যক্তিদের ত্রাণ ও সাহায্যের জন্য দিনরাত কাজ করেছে। ত্রাণ পৌঁছাতে চলে গেছে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছে রুয়ান্ডায়। জাতি গঠন, বাণিজ্য পুনঃস্থাপন ও সরকার চালনায় জর্জিয়ায় কাজ করেছে পরিশ্রমের সঙ্গে। তরুণ প্রজন্মের তোমরা অনেকেই সামাজিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বারাক ওবামাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারণা চালিয়েছো। তাই প্রেসিডেন্ট ওবামা ও আমি তরুণ প্রজন্মের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতার সঙ্গেই অবগত।

আমি মনে করি, প্রতিটি দেশের তরুণদের সুযোগ গড়ে দিতে হবে, যেখানে তারা তাদের বিশ্বাস ও আদর্শকে কর্ম এবং বাস্তবতায় রূপান্তর করতে পারে। দেশের নেতৃত্বদানকারীদের এ ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়া উচিত, যাতে তারা তোমাদের ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারেন। সে কারণে আমরা স্টেট বিভাগসহ সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বের সঙ্গে নির্দেশনা দিই, যাতে তারা এ মূল্যবান জনমতকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করে। আমি জানি, তোমাদের জন্য নতুন কোনো ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়ার দরকার নেই। তোমাদের নতুন করে কোনো কিছু শুরুর অপেক্ষা করতে হবে না। আমাদের বিশ্বায়নের আশীর্বাদে জীবন হয়ে গেছে অনেক গতিশীল।

আজ বাড়ি ফিরে অনলাইন ইন্টারনেটের মধ্য দিয়ে ‘কে-আই-ভি-এ’ (কিভা) নামের ওয়েবসাইটটি ব্রাউজ করে দেখতে পারো, যেখানে তোমরা সান মা নামের একজন ভিয়েতনামের মাকে সাহায্য করতে পারো, যিনি ধানের বীজ আর সার কেনার জন্য ক্ষুদ্রঋণ খুঁজছেন। কিংবা হেইভার ইন্টারন্যাশনাল ওয়েবসাইট লগ অন করে এশিয়া ও আফ্রিকার কোনো এক ক্ষুধার্ত পরিবারকে কিছু অনুদান দিতে পারো। সাহায্য করতে পারো ওয়ানগারি মাথাইকে, তার সবুজ বিপ্লবের কর্মকান্ডে। মানুষের প্রতি তোমাদের এ সাহায্যের হাত এবং পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য তোমাদের এ পদচারণা শুধু একটি সামান্য বিষয় বা ব্যক্তিকে বদলে দেয় না, এটি বদলে দেয় পুরো পৃথিবীকে। তোমাদের সারা বিশ্বের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ পৃথিবীর সঠিক অনুশাসনকে প্রতিষ্ঠা করে। তাই আমাদের প্রয়োজন, সচেতন নাগরিক, যারা ঘর থেকে শুরু করে সমাজ ও দেশকে জবাবদিহি করবে।

আমাদের এখন প্রত্যেককে প্রয়োজন সবার জন্য। এ প্রয়োজন সব সময়ই ছিল। আজকের পৃথিবীতে এটি আরো পরিষ্কার। যে কোনো মহামারি আজ একটি দেশ থেকে শুরু হয়ে দ্রুত সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে যায়। কোনো একটি আগ্রাসী আদর্শবাদ অল্পসংখ্যক মানুষের কাছ থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিস্তৃত হতে থাকে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব ক্ষতিগ্রস্ত করে বৃহৎ একটি ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠানসহ ব্যবসায়ী প্রকল্প থেকে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে অবস্থানরত একজন সামান্য কৃষককে। এগুলো আজকের বাস্তবতা। কিন্তু আমাদের কাজে এ যুগে এমন কিছু মাধ্যম আছে, যা সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করতে পারে। সবার জন্য যা হুমকির সৃষ্টি করে, তার বিরুদ্ধে একত্রে অগ্রসর করতে পারে।

এখন তোমাদের কাছে আছে এক ঐতিহাসিক সুযোগ। একে কাজে লাগাতে হবে। আমি জানি, আজকের এ অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে তোমরা বিশ্বব্যাপী মন্দা সম্পর্কে অবগত। এ সময়টা হয়তো তোমাদের স্নাতকদের জন্য কঠিন ও প্রতিকূল। কিন্তু এখনই সে সময়, যখন আমরা সবাই একত্রে জেগে উঠেছি। আমি জানি, আমাদের সামনে অনেক বাধা ও সম্ভাবনা আসবে। আমরা কেউ তা বলতে পারবো না। তাই সামনের পথ হবে কঠিন। কিন্তু তোমাদের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট বীমা, যা তোমরা অর্জন করেছো, তা হলো নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা। আর তাই এ শিক্ষাকে ঢাল বানিয়ে নাও। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তোমরা কঠোর পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায় নিজের সাফল্যকেই শুধু নিশ্চিত করবে না, নিজের ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনকে ছাড়িয়ে বৃহৎ ক্ষেত্রেও অবদান রাখবে। পরিবর্তনকে থামিয়ে রাখার কোনো পথ নেই। পরিবর্তন আসবেই। আমাদের শুধু সতর্ক থাকতে হবে, পরিবর্তন আমাদের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে, না দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আজকের এ শুভক্ষণটি শুধু তোমাদেরই। যাও, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে, এই শহরকে, দেশকে ও পৃথিবীকে একটি মূল্যবান ভবিষ্যৎ প্রদান করো, যা নির্মাণের স্বপ্ন দেখি আমরা সবাই।

হিলারির এই ভাষণ গোটা বিশ্বের প্রজন্মের জন্যই প্রযোজ্য। যা কখনই পুরোনো হবার নয়। যারা সমাজকে এগিয়ে নেবে তাদেরকে শক্তি নিয়ে এগোতে হবে। জানতে হবে বিশ্বে কোথায় কী ঘটছে। আরেকটি বছর বিদায় নিয়ে চলে গেলো। আসছে ২০১২ সাল। এই বছরে সত্যের পক্ষে মানুষ দাঁড়াবে। নতুন স্বপ্ন আর ঐক্যের চেতনায় শাণিত করবে সমাজকে, এটাই হোক প্রত্যাশা। সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
২৯ ডিসেম্বর ২০১১
=========================================
দৈনিক ভোরের কাগজ / ঢাকা / ৩১ ডিসেবর ২০১১ শনিবার

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29513244 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29513244 2011-12-31 09:37:56
২০১১ : বিদায় উৎকণ্ঠার আরেকটি বছর ফকির ইলিয়াস
========================================
আরেকটি বছর আমাদের জীবন থেকে বিদায় নিল। নানা উৎকণ্ঠা আর শঙ্কায় ঘেরা ছিল এই বছর। বাংলাদেশের জন্য বছরটি ছিল নানাভাবেই উল্লেখযোগ্য। এ বছরেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়। প্রধান বিরোধীদল বিএনপি এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে আন্দোলনের যাত্রা শুরু করে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবন তো বটেই, সামাজিক জীবনেও বছরটি ছিল বেশ হতাশার। নানাস্থানে সরকারিদলের অভ্যন্তরীণ হানাহানি চরম রূপ লাভ করে। নরসিংদীর পৌর মেয়র লোকমান হোসেন হত্যাকান্ড কাঁপিয়ে তোলে গোটা রাষ্ট্রের ভিত। চাঁদাবাজি, টেন্ডার, পেশিবাজি প্রভৃতি কাজে সরকারি দলের সমর্থকদের মহড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। কিছু মন্ত্রী-এমপির দুর্নীতির সংবাদ বিভিন্ন মিডিয়ায় সিরিজ আকারে প্রকাশে জনমানুষের দৃষ্টি কাড়ে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিল অত্যন্ত সঙ্গিন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এমন বুলি আওড়ালেও বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। গুম, গুপ্তহত্যা, বিচার বহির্ভূত হত্যাকা- ছিল সংবাদ মাধ্যমে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই আলোচিত বিষয়। বাংলাদেশে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে এই ধুয়া তোলে একটি মতলবি মহল স্বার্থ হাসিলের চেষ্টাও করেছে বিভিন্ন সময়ে। অথচ যারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার কসরত করেছে এরা পরোক্ষভাবে মদত দিয়েছে নানা রকম জঙ্গিবাদী-মৌলবাদী সংস্থাকে।
সরকার যে বিষয়টিতে মোটামুটি সফলতা দেখাতে পেরেছে তা হচ্ছে জঙ্গিবাদী সংগঠনগুলোকে কিছুটা দমিয়ে রাখা। এরা ভেতরে ভেতরে সংগঠিত হওয়ার কসরত করলেও প্রকাশ্যে সামনে আসতে পারেনি। বছরের শেষ মাসে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের নামে একটি মধ্যস্বত্বভোগী ডানপন্থি চক্র দেশে একযোগে গন্ডগোল বাঁধাবার চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেনি। যা সরকারকে একটি সংঘাত থেকে বাঁচিয়েছে।
বাংলাদেশে এ বছরে অধিক আলোচিত বিষয়টি ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয়। কৃতী চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ এবং মিশুক মুনীর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর দেশের বিবেকবান মানুষেরা সোচ্চার হন। দাবি ওঠে যোগাযোগমন্ত্রীর পদত্যাগের। বছরের শেষ দিকে যোগাযোগমন্ত্রীর পদে রদবদল করা হয়। পদ্মা সেতুর আর্থিক বরাদ্দ বাতিলে বিশ্বব্যাংকের ঘোষণা সরকারকে মোটামুটি বেকায়দায় ফেলে।
যদিও সরকারের নীতি নির্ধারকদের শীর্ষ স্থানীয়রা বলেন, তারা একটি নয় দুটি পদ্মা সেতু করবেন।
সার্বিকভাবে ডিজিটাল প্রক্রিয়ার কিছু উন্নতি হলেও সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে সরকারি ব্যবস্থা ছিল খুবই দুর্বল। ফলে মোবাইল, কম্পিউটার ডিভাইস ব্যবহার করে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষকে জিম্মি করা, চরিত্র হননের চেষ্টাটি ছিল এ বছরে বেশ প্রকট। সরকার ছিল এসব ব্যাপারে বেশ নির্বিকার। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বললেও এর কালো অধ্যায়গুলোর প্রতিরোধ ক্ষমতা নির্মাণে সরকারি পর্যায়ের কাজে অসঙ্গতি ছিল পীড়াদায়ক।
বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক রক্ষায় বছরটি ছিল স্থবিরতায় ঘেরা। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার গ্রামীণ ব্যাংক ইস্যুতে সরকারও ইউনূসের সম্পর্কের চরম অবনতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত গড়ায়। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে হিম শীতলতা নেমে আসে। তাই বারাক ওবামা কিংবা হিলারি ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফর বিষয়ে কোন সুরাহাই করতে পারেনি বর্তমান সরকার। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুধু কথা-বার্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে বাংলাদেশ। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের কোন ইতিবাচক সম্মতি উদ্ধার করতে পারেনি।
ভারতের সঙ্গেও বাংলাদেশের দরকারি ইস্যুগুলোর সমাধান হয়নি। মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফর করে গেলেও তিস্তার পানি চুক্তি বিষয়ক বহুল প্রতীক্ষিত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি। বরং শেষ দিকে ভারত টিপাইমুখ বাঁধ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে মূলত বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বৈরীসুলভ আচরণ করতে চাইছে। বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবে না, এমন কাগজি কথার উপর কোন ভরসাই করতে পারছেন না বাংলাদেশের মানুষ। অথচ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রত্যক্ষ সহযোগিতাকারী রাষ্ট্র ভারত, বাংলাদেশের সঙ্গে সবসময় সৌহার্দপূর্ণ, পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় সহযোগী থাকবে এমনটিই কাম্য ছিল সবসময়। বিভিন্ন দরকারি ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে একটি সুষ্ঠু বোঝাপড়া করতে না পারার ব্যর্থতা থেকেই গেছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর।
বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের দাবি দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা তুঘলকি মানসিকতা দেখিয়েছে। সরকার তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। ফলে খাদ্যমন্ত্রী পদেও রদবদল করতে হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট নিউইয়র্ক রুটে চালু হয়নি। লন্ডন-সিলেট সরাসরি ফ্লাইটও বন্ধ হয়ে গেছে এ বছরই। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর পদও বদল হয়েছে।
প্রধান বিরোধীদল বিএনপি, সরাসরি যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দাবি করেছে। যা ছিল বছরের চরম মারাত্মক হতাশাজনক সংবাদ। বেগম জিয়ার এমন কথাবার্তা, বিএনপি সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকেই আবার ভাবিয়েছে নতুন করে। বিএনপি আসলেই যে জঙ্গিবাদের সমর্থক তা তারা প্রমাণ করেছে।
রোডমার্চের নামে বিএনপি দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় শোডাউন করেছে। তারা তাদের শক্তি পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ দেখিয়েছে জনসভা, সমাবেশের মাধ্যমে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে পুরো বছরেই ছিল ধীর গতি। একাত্তরের অভিযুক্ত প্রধান যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে গ্রেফতার করা হয়নি। যা গোটা দেশবাসীর মনে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
ধানের ফসলে বাম্পার ফলন হয়েছে, সরকারি পক্ষ থেকে এমন দাবি করলেও ধানচালের মূল্য কমেনি। গ্রামীণ জনপদের মানুষ তাদের উৎপাদিত কাঁচামালের বিক্রয়মূল্য পাননি। ফড়িয়া মুনাফাখোররা তাতে ভাগ বসিয়েছে নানাভাবে।
দেশে রিয়েল অ্যাস্টেট ব্যবসা ছিল রমরমা। কিন্তু 'রিহ্যাব' এর সদস্য হওয়ার পরও বেশকিছু প্লট এবং ফ্ল্যাট বিক্রেতা কোম্পানি সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে প্লট এবং ফ্ল্যাট কিনে প্রতারিত হওয়ার খবর ছাপা হয়েছে পত্রপত্রিকায়।
শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ছিল বছরের অন্যতম আলোচিত দুর্ঘটনা। সরকার বিভিন্ন সময়ে তদন্ত কমিশন গঠন করেও এর সুরাহা করতে পারেনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু রাঘব বোয়াল শেয়ার কেলেঙ্কারির মূল হোতা এমনও চাউর করেছেন রাষ্ট্রের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা। ডলারের বিপরীতে টাকায় মূল্য কমে যাওয়ার ঘটনা ছিল আশঙ্কাজনক।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ২০১১ ছিল শঙ্কা ও সন্দেহের বছর। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হঠাৎ করে 'গণতন্ত্রের হাওয়া' বয়ে যাওয়ার ঘটনা ছিল নানা সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দু। তিউনিসিয়া, মিসর, ইয়ামেন, সিরিয়া, লিবিয়া, প্রভৃতি দেশে এক ধরনের যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। 'গণতন্ত্রকামী' প্রতিপক্ষের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন লিবিয়ার লৌহমানব, স্বৈর শাসক কর্নেল মোয়াম্মার গাদ্দাফি। এতে ন্যাটোসহ পাশ্চাত্যের বুর্জোয়ারা খুশি হলেও বিশ্বের সাধারণ মানুষ হয়েছেন শঙ্কিত।
এই বছরেই পাকিস্তানে, যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডোদের হাতে নিহত হয়েছেন জঙ্গিবাদীদের শিরোমণি ওসামা বিন লাদেন। যুক্তরাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী এতে তুষ্টির ঢেঁকুর তুললেও আল কায়দা ঘোষণা দিয়েছে তারা এর বদলা নেবেই। ফলে শঙ্কা এবং ভয়ের বাঘ তাড়া করেছে ইউরোপ-আমেরিকার শ্রমজীবী মানুষকে।
অ্যাপল ম্যাকের উদ্ভাবক স্টিভ জবসের মৃত্যু ছিল অন্যতম শোকের ঘটনা। উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী ভুপেন হাজারিকা দেহত্যাগ করেন এই বছরে।বাংলাদেশেও বরেণ্য সাহিত্যিক রশীদ করিম, মুক্তিযোদ্ধা ফটোগ্রাফার রশীদ তালুকদার বীর মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক আবদুর রাজ্জাক, এনামুল হক চৌধুরী বীরপ্রতীক, কৃতী চিত্রশিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়া, আমিনুল ইসলাম, বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, আজম খানসহ অনেক কৃতী সন্তান প্রয়াত হয়েছেন। গুণী মানুষের মৃত্যু সবসময়ই সমাজের ক্ষতি সাধন করে।
এ বছরেই ইরাক থেকে মার্কিনি সেনাদের শেষ দলটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ৩১ ডিসেম্ব্বরের মধ্যেই ইরাক ছেড়ে আসার ঘোষণা ছিল। এর আগেই শেষ দলটি ইরাক ত্যাগ করে এসেছে। কিন্তু এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক শক্তি পুরোপুরি রহিত করেছে তা বলার অবকাশ নেই। দুবাই, কুয়েত, ওমান, সৌদি আরব, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিনি স্থাপনাগুলো আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে বিভিন্ন মিডিয়া খবর দিয়েছে।
গোটা বিশ্বের মানুষ অত্যন্ত উৎকণ্ঠায় কাটিয়েছে ২০১১। ইরান- আমেরিকা স্নায়ুযুদ্ধ বেড়েছে বহুলাংশে।
পাকিস্তানে জঙ্গিবাদের চরম উত্থান, পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা উপমহাদেশের জন্য অশনি সংকেত বহন করেছে। পাক-মার্কিন টানাপড়েন যে কোন মুহূর্তে জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
বাংলাদেশের মানুষও শান্তি চেয়েছেন এই গোটা বছর জুড়ে। কিন্তু তার সিকিভাগও তাদের ভাগ্যে জোটেনি। যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আছেন তাদের বিষয়টি ভাবতে হবে। নতুন বছর সবার জন্য আনন্দ ও সুখ বয়ে আনুক। সবাইকে ইংরেজি নববর্ষ ২০১২-এর শুভেচ্ছা।
নিউইয়র্ক, ২৮ ডিসেম্বর ২০১১
==========================================
দৈনিক সংবাদ / ঢাকা / ৩০ ডিসেম্বর ২০১১ শুক্রবার প্রকাশিত






]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29512680 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29512680 2011-12-30 10:30:14
অন্ধপ্লাবন
মানুষ কোনো নিয়ম মানে না বলেই, আবারও অন্ধপ্লাবনগুলো মানুষকে ধার দিতে চেয়েছিল তাদের চোখের জ্যোতি।

মানুষ ধার নিতে জানে না। ঋণ নিতে জানে। তারপর ভুলে যায় পরিশোধের
ধারাবাহিকতা। প্লাবন ও তার সন্তানেরা অবাধ্য নয় বলে ভুলে না তাদের নিজস্ব বিদ্যা।


মানুষ দেউলিয়া হয়। তবু নীতিগ্রহে নিজের পদাংক সনাক্তিকরণে প্লাবনের কাছেই পরাজিত হতে ভালোবাসে !]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29510258 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29510258 2011-12-26 09:03:49
গণমানুষের চেতনার ধারক ও বাহক ফ কি র ই লি য়া স
========================================
জানতে চাইলাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমাদের নির্মূল কমিটিতে কে সমন্বয় করবেন? মা বললেন, আবদুর রাজ্জাক। মা, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জবাবে আশ্বস্ত হই। ১৯৯২ সালের সেই উত্তাল দিনগুলো। জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠিত হয়েছে। আমাদের তখন রাজনৈতিক সমর্থন দরকার। বিদেশে আমরা অনেকেই উৎকণ্ঠিত। কী হবে, কী হতে যাচ্ছে। গণ-আদালতের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করে জাতীয় গণতদন্ত কমিশন। জামায়াতের সাবেক আমীর প্রফেসর গোলাম আযমের বিচারের লক্ষ্যে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে গঠন করা হয় গণ-আদালত। এ তদন্ত কমিশন বর্তমানে কারাবন্দি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্ত করে। গণতদন্ত কমিশনের মোট সদস্যসংখ্যা ছিল ৪০। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করে তদন্ত কমিশন তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করে।
১৯৯৪ সালের ২৬ মার্চ প্রথম দফায় কমিশন আটজনকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারা হলেন- আব্বাস আলী খান, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল আলীম (বর্তমানে জামিনে মুক্ত), মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা আবদুল মান্নান, আনোয়ার জাহিদ এবং আবদুল কাদের মোল্লা। ১৯৯৫ সালের ২৬ মার্চ কমিশন তাদের দ্বিতীয় প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এখানে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত করা হয় তারা হলেনÑ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মাওলানা একেএম ইউসুফ, মাওলানা আবদুস সোবহান, এএসএম সোলায়মান, মোহাম্মদ আয়েন উদ্দিন, এবিএম খালেক মজুমদার এবং ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন।
এর কিছুদিন পরই নিউইয়র্ক সফরে আসেন জননেতা আবদুর রাজ্জাক। তার সঙ্গে কথা হয় নানা বিষয়ে। তিনি জানান, ঘাতক দালালদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই। বললাম, কবে হবে, কিভাবে হবে লিডার! হেসে দিলেন। বললেন, এই বাঙালি জাতি শত নিষ্পেষণ উজিয়ে স্বাধীনতা এনেছে। এই রাজাকারদের বিচারও করবে। তরুণ প্রজন্ম একদিন ঘুরে দাঁড়াবেই। তার কথায় অঙ্গীকার ছিল। আশা ছিল। তিনি প্রজন্মকে আশাবাদী হওয়ার স্বপ্ন দেখাতেন। যেমনটি দেখাতেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম।
তার রাজনীতির শুরু সেই পঞ্চাশের দশকে। ছাত্ররাজনীতি দিয়েই রাজনীতিতে হাতেখড়ি। এরপর পেরিয়ে গেছে সুদীর্ঘ সময়। পদ্মা-মেঘনায় গড়িয়ে যাওয়া জলের মতোই অন্তহীন ছুটে চলা জীবনে তিনি থেকেছেন রাজপথের লড়াকু সৈনিক। দেশমাতৃকার জন্য জীবনবাজি রেখে অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছেন। আবার কখনও কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে জীবনযাপন করেছেন। বাঁধাধরা জীবনের সব আগল ছিন্ন করা মুখরিত রাজনৈতিক জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন মানুষের জন্য।
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুর রাজ্জাক আজীবন সংগ্রাম করেছেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে। মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে তার কণ্ঠ ছিল সদা সোচ্চার। অত্যাচার-নির্যাতন, জেল-জুলুম তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬ দফা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবনবাজি রাখা সংগ্রামী নেতা আবদুর রাজ্জাক নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বাধীনতার পর সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে। সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে। ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আবদুর রাজ্জাক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর অন্যতম রূপকার ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষক আবদুর রাজ্জাক, ভারতের মেঘালয়ে মুজিব বাহিনীর ৪ সেক্টর কমান্ডারের একজন ছিলেন তিনি।
জাতির জনক তাকে ডাকতেন ‘আমার রাজ্জাক’।
আবদুর রাজ্জাক মহান মুক্তি সংগ্রামের ‘নিউক্লিয়াস’ শক্তির অন্যতম পুরোধা; তা ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে। আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে একই ফোরামে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছে। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ যুক্তরাষ্ট্র শাখার আমি ছিলাম প্রতিষ্ঠাতা সহকারী সদস্য সচিব। আবদুর রাজ্জাক ছিলেন এ কমিটির অন্যতম সমন্বয়কারী। তিনি সব সময় শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সঙ্গে পাশাপাশি ছিলেন ছায়ার মতো। আওয়ামী লীগ দলটির পক্ষে আবদুর রাজ্জাক ছিলেন জাতীয় সমন্বয় কমিটির অন্যতম প্রবক্তা ও প্রতিনিধি। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে প্রবাসীদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত করেছিলেন। তার অমিত তেজ ও সাহসী বক্তব্য হাজারও তরুণকে সেদিন শাণিত ও অনুপ্রাণিত করেছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের এই সংগঠক সেদিন অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ সমাপ্ত করার ডাক দিয়েছিলেন। তার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে লক্ষ্য করেছি তিনি কত সৎ, কত মহৎ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জিতে মন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে ছিলেন অত্যন্ত সোচ্চার। জাতীয় সমন্বয় কমিটিতে তার কর্মপরিধির কোন ব্যত্যয় ছিল না মন্ত্রী হওয়ার পরও।
খুবই দুঃখের কথা, বর্তমান সরকারের বেশ ক’জন মন্ত্রী লন্ডন সফরে গেলেও অসুস্থ আবদুর রাজ্জাককে দেখতে যাননি। তার খোঁজখবর নেননি। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দেখতে গিয়েছিলেন। অবশ্য তা মন্ত্রী হওয়ার আগেই।
বাংলাদেশে অনেক ত্যাগী নেতা আছেন, যারা নিজ নিজ দলে অক্ষম। আবদুর রাজ্জাক শেষ জীবনে তেমনি একটি পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন। কেন হয়েছিলেন? তাদের অক্ষমতা গোটা জাতির জন্য পীড়াদায়ক। তারা তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার পরও নিজ নিজ দলের সাবেক আমলা রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, কালো টাকার মালিক রাজনীতিকদের কাছে চরমভাবে পরাজিত। তস্করবৃত্তি এবং কালো টাকার দাপটই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশে রাজনীতির অন্যতম নিয়ামক। পুনর্বাসিত হচ্ছে কালো শক্তি। ত্যাগী নেতাকর্মীরা মুখ লুকাচ্ছেন লজ্জায়। সে লজ্জা আমাদের দিকে ছুড়ে দিয়েই চির বিদায় নিয়েছেন জননেতা আবদুর রাজ্জাক।
কোন সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে মেধাবৃত্তিক রাজনীতির গলা টিপে ধরার নজির নেই। তাহলে বদলের মানসিকতায় বাংলাদেশ এগোচ্ছে না কেন, ভাবা দরকার। প্রজন্মকে দাঁড়ানো দরকার সত্যের অন্বেষণে।
আবদুর রাজ্জাক বেশ অভিমান নিয়েই চলে গেলেন। কিন্তু তার চেতনা আছে আমাদের পাশে সতত। তিনি বজ্র মুষ্ঠি উঁচু করে বলেছিলেন- প্রজন্মের জয় হবেই। তার সেই শাণিত মনন আমাদের ধারণ করতে হবে। ভোগ নয়, ত্যাগের আদর্শে বলীয়ান হতে হবে তার মতোই। তার আত্মা চিরশান্তি লাভ করুক।
নিউইয়র্ক / ২৪ ডিসেম্বর ২০১১
===========================================
দৈনিক যুগান্তর / ঢাকা / ২৫ ডিসেম্বর ২০১১ রোববার প্রকাশিত














]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29509649 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29509649 2011-12-25 06:38:05
একাত্তরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া কেন জরুরি ফকির ইলিয়াস
======================================
খরবটি আশাপ্রদ। দেরিতে হলেও বর্তমান সরকার বুঝতে পেরেছে, তাদের ঐক্য দরকার। দেশজুড়ে নাশকতার সাম্প্রতিক অপচেষ্টার পর সকল বিভেদ ভুলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১৪ দল। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে অনুষ্ঠিত ১৪ দলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে ১৪ দলের নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, রাশেদ খান মেনন এবং হাসানুল হক ইনু প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রেখেছেন। নেতারা বলেছেন, জাতীয় পার্টির সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক শেষে ১৪ দলসহ মহাজোটের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশাজীবী সংগঠনকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথে নামানো হবে।

শরিক দলগুলোর নেতারা ১৪ দলের বৈঠক নিয়মিত না হওয়ায় ব্যথিত ছিলেন আগে থেকেই। রাষ্ট্র পরিচালনায় শরিকদের মতামত ও পরামর্শ না নেয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা প্রধানমন্ত্রীর সামনেই। মহাজোট নেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখন থেকে প্রতি মাসে অন্তত একবার ১৪ দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে খালেদা জিয়া ও জামাত ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছে। এদের মোকাবেলা করতে ১৪ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বিএনপি-জামাতের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কর্মসূচি নিয়ে শিগগিরই আমরা রাজপথে নামবো।তার এ কথা মনে করিয়ে দিয়েছে একুশে আগস্টের সিরিজ বোমা হামলার স্মৃতি। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, খালেদা জিয়া ও নিজামীর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিদের রক্ষা করতে খালেদা জিয়া এখন ককটেল নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এই ককটেলবাজ ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর মোকাবেলা করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে আমরাও মাঠে নামবো। আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, খালেদা জিয়া যখন প্রকাশ্যেই বলেন নিজামী-মুজাহিদরা যুদ্ধাপরাধী নয়, তখন বুঝতে হবে তাদের রাজনীতির আসল উদ্দেশ্য কী? তাই মুক্তিযুদ্ধের সব শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এ অপশক্তিকে মোকাবেলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শেখ হাসিনা ঐক্যের যে আহ্বান জানিয়েছেন, মহাজোটের শরিক দলগুলোর পাশাপাশি কয়েকটি সমমনা এবং প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলও একই ইসুতে আওয়ামী লীগের পাশে থাকবে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ইতোমধ্যে মহাজোট নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইসুতে একইসঙ্গে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে। আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দল অভিন্ন ইসুতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

জানা যাচ্ছে, আগামী জানুয়ারিতেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষের দলগুলো নিয়ে রাজধানীর পল্টন ময়দানে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। পরে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায়ও সমাবেশ করবে দলটি। এছাড়া আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগও রাজধানীতে পৃথক সমাবেশ করবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইসুতে বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে ছাত্রলীগ। যুব সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে বিভিন্ন যুব সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুবলীগ। দেশের বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীদেরও সম্পৃক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে।

আজ যে বেগম জিয়া দেশরক্ষা করার কথা বলছেন তার অতীত ইতিহাস কী? তা আমাদের মনে রাখা দরকার। আমাদের মনে আছে, ১৯৭৩ সালের দালাল আইনের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এগারো হাজার স্বাধীনতাবিরোধীর বিচার চলছিল। এর মধ্যে ৬শ বিচারাধীন আসামিসহ সবাইকে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর মুক্ত করে দিয়েছিলেন দালাল আইন বাতিলের মাধ্যমে। যার সিংহভাগই পরবর্তীতে জিয়ার দল বিএনপিতে যোগদান করেছিল। বাংলাদেশে পুরোনো মৌলবাদ ও রাজাকারদের রাজনীতির সূত্রপাত এভাবেই শুরু হয়েছিল পুনরায়। এর পরই বাংলাদেশের মানুষকে বিভক্তির চেষ্টা করা হয়। এর একটি পক্ষ বিএনপি, জামাত মৌলবাদী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীকে সমর্থন করে। আর আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য প্রগতিশীল দল নিয়ে নিয়ে অন্য আরেকটি পক্ষ ঐক্যবদ্ধ হয়। এভাবেই জাতিকে বিভাজনের বিষবৃক্ষটি নিজ হাতে রোপণ করে গেছেন সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান।

দেশ আজ বিজয়ের চার দশক পেরিয়েছে। পেছন ফিরে তাকিয়ে আমাদের সামনে এগোতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এর সঠিক প্রক্রিয়া কী? মনে রাখা দরকার, দেশের বিপুল সম্ভাবনাময় নতুন প্রজন্ম রয়েছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করবে। যে চেতনা, আদর্শ ও স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে স্বাধীন করেছে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে এ প্রজন্ম দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আর এর জন্য চাই যোগ্য নেতৃত্ব।

বাংলাদেশে ডিজিটাল বিপ্লব ঘটাবার কথা বলা হচ্ছে। আমরা দেখছি, একটি মহল ইন্টারনেটে ভুল তথ্য দিয়ে প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। এদের অবসর সময়, অনুভূতি, মনন, চিন্তার বহিঃপ্রকাশ এই ইন্টারনেট বা সাইবার পৃথিবীতে ঘটে। তদের চিন্তাভাবনা, চেতনাÑ সব কিছুই শেয়ার হয় ফেসবুক, ব্লগ সাইট ও টুইটারের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর বেশিরভাগই ১৪ থেকে ৩০ বছর বয়সী মানব-মানবী। তাদের কেউই মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। ১৯৭১ সাল তাদের কাছে এক কল্পনার ইতিহাস। আমরা দেখছি আজ ফেসবুকে ‘বিজয়ফুল’ নিয়ে গর্ব করছে এই প্রজন্মই। শুধু ডিসেম্বর নয়, গোটা বছরব্যাপী এই চেতনার জাগরণ আমরা চাই। মননের উন্মেষ চাই।

এ বছরও দেখেছি, ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকে সামাজিক যোগাযোগের প্রায় প্রতিটি মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে মুক্তিযুদ্ধের ছবি, পতাকার ছবি, দেশের গল্প, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, একাত্তরের গল্প, মুক্তিযোদ্ধার গল্প, বীরের গল্প। কেউ একজন ফেসবুকে লিখেছেন, যেন লাল-সবুজের পতাকায় রঙিন হয়ে উঠেছে পৃথিবী। সব আবেগ, সব চেতনা, সব বিশ্বাস যেন জমা হয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধে।

আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রজন্মের কেউই ভুলে যায়নি সেই ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ধারালেখা। দুলাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজের পতাকার স্বপ্নবুনন। দেশে আজ মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করতে চাইছে সেই পরাজিত রাজাকার শক্তিও। তারাও মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেবে বলে ঘোষণা দিচ্ছে! কী ভয়াবহ সংবাদ! অথচ আমরা জানি, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের অনন্তকালব্যাপী প্রগতির পথ দেখাবে। আমাদের এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রতীককে কেউ নস্যাৎ করতে পারবে না। এর ধারক হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম।

বাঙালি অতীতে তো পেরেছে। আরো পারতে হবে। এর প্রমাণ, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন। ৫৪-এর গণরায়। ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন। ৬৬-এর ৬ দফা ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের চেতনাকে আরো সূর্যরাগে উজ্জ্বল করেছে। শাণিত চেতনা প্রবাহের মতোই এক বিশাল ব্যাপক আবেদন আমাদের সামনে এগিয়ে নিয়েছে স্বৈরশাসনের অবসানে।

আমাদের কাব্য-কলার বেদিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেন এক স্বতঃউৎসারিত ধারা। দিন যতোই সামনে যাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাপে লালিত হবে আমাদের সমাজচেতনা। দেশ মাটি ও মানুষকে ভালোবাসার অঙ্গীকারে শাণিত করবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং এখনো আমাদের কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীরা নিয়ামকের ভূমিকা পালন করছেন। তা সত্যিই একদিকে বিস্ময়কর, অপরদিকে গর্ব ও গৌরবের বিষয়। আজকের পরিবর্তনকামী জনগণকে সাহস জোগাতে তাই বুদ্ধিজীবীদের এগিয়ে আসতে হবে।

বর্তমান সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ দলিলপত্র (১৫ খ-)’ গ্রন্থমালা প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করেছে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা নিজ প্রতিষ্ঠানে বসেই তাদের পূর্বসূরিদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাথা জানতে ও পড়তে পারবে। তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের শত্রু-মিত্রদের যথাযথ ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস শিখতে পারবে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত হবে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ নিয়ে আলোচনা, শর্টফিল্ম প্রদর্শনী, আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা যেতে পারে।

এক সমুদ্র রক্ত ও লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এ স্বাধীনতা। মুক্তিসেনার রক্তে রঞ্জিত এক সুদীর্ঘ সংগ্রামের ফসল এ স্বাধীনতার সঙ্গে অনেক সংগ্রামী চেতনা বিজড়িত। তবে ঐক্যবদ্ধ জীবন প্রচেষ্টা, মিলন-বিরহ, আশা-নিরাশার বাস্তব অনুভূতি সংবলিত এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী অপরাজেয় এ চেতনার সঙ্গে প্রতিনিয়ত নতুন করে পরিচিত হচ্ছে বর্তমান প্রজন্ম। আর তাই কেউ বা মুক্তিযুদ্ধের বই পড়ে আবার কেউ বা দাদা-দাদি, বাবা-মা অথবা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে জেনে নিচ্ছেন সেই সময়ের মুহূর্তগুলো। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের কথামালাকে চলচ্চিত্রের সুতোয় বেঁধে উপস্থাপন করা হচ্ছে বর্তমান প্রজন্মের কাছে। কিভাবে বাঙালি জাতিকে চিরতরে মাথা নুইয়ে দেয়ার জন্য এ দেশের দোসররা পাক বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। আর কিভাবে নিজের প্রাণ বাজি রেখে এ দেশের দামাল ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও মুক্তিযুদ্ধে বীরদর্পে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ‘মুক্তির গান’, ‘একাত্তরের যিশু’, ‘আমার বন্ধু রাশেদ’Ñ এরকম আরো অনেক চলচ্চিত্র আমাদের অনবদ্য দলিল।

ইতিহাসের আলোকে আমাদের ঐক্য দরকার। বর্তমান সরকার তাদের উদার হাত যতোটা বাড়িয়ে দেবে, ততোই উপকৃত হবে দেশ-মানুষ।
২২ ডিসেম্বর ২০১১
----------------------------------------------------------------------------------
দৈনিক ভোরের কাগজ / ২৪ ডিসেম্বর ২০১১ শনিবার




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29509011 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29509011 2011-12-24 07:00:17
মুক্তিযোদ্ধারা কি যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় একাত্তরের ট্রেনিং কাজে লাগাবেন! মুক্তিযোদ্ধারা কি যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় একাত্তরের ট্রেনিং কাজে লাগাবেন!
ফকির ইলিয়াস
===========================================
ঢাকায় বিএনপি মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ডেকেছিল। এ সমাবেশ ঘিরে সহিংস কর্মকান্ড ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে ককটেল ফাটানো হয়েছে। সিলেটে জ্বালাও-পোড়াও করা হয়েছে জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে। ঢাকায় এবং সিলেটে একজন করে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া মুক্তিযোদ্ধাদের আবারও তাদের 'একাত্তরের ট্রেনিং' কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশ্নটি হচ্ছে, এই মুক্তিযোদ্ধারা কার বিরুদ্ধে তাদের এই ট্রেনিং কাজে লাগাবেন-যারা একাত্তরের মানবতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে চাইছে তাদের বিরুদ্ধে; নাকি যারা রাজাকার-আলবদরদের বাঁচাতে চাইছে তাদের পক্ষে?
বিএনপি আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মুক্তিযোদ্ধা এসেছিলেন বলে বিএনপি জানিয়েছে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সেই সমাবেশের অংশ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ঢাকা আগমনের দৃশ্য দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। তাদের দেখেই বোঝা গেছে, তারা বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকা এসেছেন। হাতে বাক্সপেটরা। চোখে-মুখে শঙ্কার ছাপচিত্র। উৎকণ্ঠিত তাদের চেহারায় ফুটে উঠেছে, তারা একটি শান্তিময় জীবন চান।
বিএনপি তাদের ঢাকায় ডেকে এনেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এনেছে? সন্দেহ নেই, এই মুক্তিযোদ্ধাদের বলা হয়েছে, বিএনপি তাদের ভাগ্য বদলে দেবে। বিএনপি তাদের সব সমস্যার সমাধান করবে।
এই যে প্রতিশ্রুতি বিএনপি দিচ্ছে, তা তারা কতটা পূরণ করবে কিংবা আদৌ করবে কি না; সে বিষয়ে আলোচনা দরকার। বিএনপি বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় যে এর আগে ছিল না, এমন নয়। মনে রাখা দরকার, এ দলের জন্ম হয়েছিল রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে। দলটি রাজাকার শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করেছিল। মশিউর রহমান যাদু মিয়া, ড. আলীম আল রাজি প্রমুখ চিহ্নিত রাজাকারকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসিয়েছিল। এসব ঘটনা ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের চপেটাঘাতের শামিল। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রমান বলেছিলেন, 'আই উইল মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট ফর দ্য পলিটিশিয়ানস।' তিনি বলেছিলেন, 'মানি ইজ নো প্রবলেম।'
হ্যাঁ, জিয়া নিজে রাজনীতিবিদ ছিলেন না বলেই প্রকৃত রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের প্রতি তার কোন দরদ ছিল না। চিহ্নিত মৌলবাদীরা পালে হাওয়া পায় জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। ব্যক্তিগত জীবনে ধার্মিক না হয়েও জিয়া ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারে প্রয়াসী হন। সেসব ইতিহাস বাংলাদেশের মানুষের অজানা নয়। সেই ভোগবাদী রাজনীতির উত্তরসূরি খালেদা জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন দুই টার্মে ১০ বছরেরও বেশি সময়। তিনি এবং তার সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কী করেছেন? প্রশ্নটি খুব সঙ্গত কারণেই আসতে পারে। ১৯৯১-৯৬ সালে খালেদা জিয়ার সরকার দেশে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের চারা পুষতে থাকে। সেই চারাগাছ বৃক্ষে রূপ নেয় ২০০১-০৬ সাল সময়কালে। খালেদা জিয়া আলবদরের দুই শীর্ষ কমান্ডার নিজামী ও মুজাহিদকে মন্ত্রী বানান। এর প্রতিবাদে বিএনপি নেতা সেক্টর কমান্ডার জেনারেল মীর শওকত আলী বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। পরে দল থেকে বেরিয়ে যান লে. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম- সবই ঘটেছিল খালেদা জিয়ার রাজাকারপ্রীতির কারণেই। ওই একই সময় বিএনপিতে সব মুক্তিযোদ্ধা নেতা মেজর হাফিজ উদ্দিন, কর্নেল হান্নান শাহকে 'সাটআপ' করে রাখা হয়। রাজাকার-আলবদররা দেশের পতাকা উড়িয়ে মন্ত্রিত্ব করে এবং তাদের আখের গোছায়।
দেশের প্রধান দুটি দল যদি আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে বিবেচনা করা হয়, তবে কোন দলটি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বেশি করেছে তার তুলনামূলক বিশ্লেষণ মুক্তিযোদ্ধাদেরই করতে হবে। সম্মান, সুযোগ-সুবিধা প্রদান, মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগই এগিয়ে আছে। বিএনপি শুধুই রাজাকারদের বাঁচার জন্য, আলবদরদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ভাঙাতে তৎপর হয়েছে বারবার।
মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের নামে বিএনপি ঢাকায় যে সহিংস তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করেছে তার শিকড় অন্যত্র। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, ওইদিন ভোর ৬-৭টা থেকেই ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে কিছু তরুণকে জড়ো করানোর চেষ্টা করা হয়। এরা কারা? এরা একটি মৌলবাদী সংগঠনের সশস্ত্র ক্যাডার- যারা এদেশে একযোগে বোমা হামলা করার মতো অতীত রেকর্ড তৈরি করে রেখেছে। ঢাকায় আক্রমণের পরপরই সিলেটে একজন বাসযাত্রীকে পুড়িয়ে মারা হয়। সে বীভৎস দৃশ্য দেশবাসী দেখেছে। কত পাষ- হয়ে মানুষ এমনটি করতে পারে।
মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ ছিল ওইদিন বিকেল ৩টায়। ভোর ৬টা থেকে রাজপথ দখলের, সন্ত্রাসী আচরণের চেষ্টা কারা করেছিল? কেন করেছিল? বিষয়গুলো খুব গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার।
আমরা পত্রপত্রিকায় দেখছি, একাত্তরের অন্যতম যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে- এই সন্দেহে তার অনুসারী একদল ক্যাডার তার বাড়ি পাহারা দিচ্ছে বলেও বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর বেরোচ্ছে। গোলাম আযমকে গ্রেফতার করা হলেই দেশে একযোগে হামলা চালানো কিংবা নাশকতা করা হতে পারে বলে বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞমহল আশঙ্কা করছে। প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে কি জঙ্গিবাদীদের ভয়ে আইনি প্রক্রিয়া ধীরগতি হয়ে যাবে? মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের হুমকি-ধমকির কাছে হেরে যাবে রাষ্ট্রপক্ষ? না, এমনটি আশা করা উচিত নয়। কারণ এদেশ ৩০ লাখ শহীদ আর ২ লাখ নারীর সম্ভ্রমের শক্তি দ্বারা সুরক্ষিত।
সম্প্রতি বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ঢাকার একটি সমাবেশে বলেছেন, আলবদর-রাজাকার-আলশামস বাহিনীই দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। এই আলশামস-আলবদর বাহিনীর নেতা কারা ছিল? কারা দেশের বিভিন্ন স্থানে 'কসাই' কুখ্যাতি পেয়েছিল একাত্তর সালে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের কাছে দেশবাসী জানতে চায়। মওদুদ আহমদরা যদি এসব আলবদর-আলশামস নেতার পরিচয় জানেন, তবে জেনে-শুনে তারা এদের সঙ্গে জোটবদ্ধ রাজনীতি কেন করছেন? কোন বিবেকে করছেন? তাহলে কি দেশবাসী ধরে নেবে মওদুদ আহমদরা রাষ্ট্রের সঙ্গে, শহীদদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতারণা করছেন? ছি, ধিক! এমন মানসিকতার!
বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর মনে রাখা দরকার, গোটা দেশ থেকে সশস্ত্র চোরাগোপ্তা সন্ত্রাসী দেশের শহরগুলোতে এনে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা আরও প্রকট হতে পারে। 'মরলে শহীদ আর বাঁচলে গাজি'- এই তত্ত্বের প্রবক্তারা তরুণদের বিভ্রান্ত করে আগুনের মুখে ঠেলে দিয়ে রাজনৈতিক কায়দা হাসিলের তৎপর হতে পারে, যা গোটা দেশের জন্য অশনি সংকেতের সমান।
খালেদা জিয়া মুক্তিযোদ্ধাদের একাত্তরের ট্রেনিং কাজে লাগানোর যে আহ্বান করেছেন, তা দেশে একটি সহিংস সংঘাতের ইঙ্গিত বহন করছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধারা কি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক মিত্র নিজামী-মুজাহিদ, গোলাম আযম, কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, সাঈদী গংকে বাঁচানোর জন্য তাদের ট্রেনিং কাজে লাগাবেন? কাজে লাগাতে রাজি হবেন? রাজি হওয়া উচিত?
খালেদা জিয়ার মূল লক্ষ্য তার দুই ছেলেকে বাঁচানো, তাদের রাজনীতিতে পুর্নবাসিত করা, দেশে ফিরিয়ে আনা, রাষ্ট্রক্ষমতায় বসানো। আমরা দেখছি খালেদাপুত্র তারেক রহমানও নিজামী-মুজাহিদদের সঙ্গে গলাগলি করে জনসভা করেছেন। মৌলবাদী রাজনীতির উত্তরসূরিরা এভাবেই বাংলাদেশে তাদের শিকড় বিস্তৃত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশের এক চরম ক্রান্তিকালে মুক্তিযোদ্ধারা বীরদর্পে মাটি ও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। দেশ এখন স্বাধীন। কিন্তু সেই পরাজিত ঘাতক দালাল-রাজাকারদের বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। দেশের একটি চক্র এসব রাজাকারের বিচার চায় না। খালেদা জিয়া এই চক্রের প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেকে বারবার জাহির করছেন তার কথায় ও কাজে। নিশ্চয়ই মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকারদের বাঁচানোর জন্য তাদের ট্রেনিং কাজে লাগাবেন না।
বাংলাদেশে মধ্যস্বত্বভোগের রাজনীতি নতুন নয়। জঙ্গিবাদীদের মাঠে নামিয়ে জাতীয়তাবাদী সুবিধাবাদীরা আগেও মাঠ গরম করেছে। কারণ তারা জানে, মৌলবাদীদের সঙ্গে গাঁটছড়া বাদ দিলেই তারা ফুটো বেলুনের মতো চুপসে যাবে। খালেদা জিয়া যদি এত বেশি মুক্তিযুদ্ধপ্রিয় হন, তবে রাজাকার-আলবদরদের সঙ্গে ঐক্য ভাঙতে তার এত দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কেন?
মনে হচ্ছে, একটি অনিবার্য সংঘাতের দিকে দেশকে ঠেলে দেয়ার জোর প্রচেষ্টা করছে প্রধান বিরোধীদল। সরকারকে তাই সংযত হয়ে অগ্রসর হতে হবে। এই দেশ থেকে শহীদের রক্তছায়া আর ধর্ষিতা মায়ের আর্তি এখনো বিলীন হয়ে যায়নি। কোন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে এগিয়ে আসবেন, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। অথচ খালেদা জিয়ার মূল মিশন হচ্ছে, আলবদর-রাজাকারদের বিচার নস্যাৎ করা। তিনি তার মনের কথা কোনমতেই লুকিয়ে রাখতে পারছেন না।
নিউইয়র্ক, ২১ ডিসেম্বর ২০১১
--------------------------------------------------------------------------------
দৈনিক সংবাদ / ঢাকা / ২৩ ডিসেম্বর ২০১১ শুক্রবার




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29508383 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29508383 2011-12-23 10:20:31
একটি কবিতা সন্ধ্যা'য় শহীদ কাদরীর সাথে Click This Link


ছবি- কবিতা পড়ছি। পাশে কবি শহীদ কাদরী ও নীরা কাদরী]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29505719 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29505719 2011-12-19 10:30:33
বিজয়ের অব্যাহত ধারা ও একজন আলোকবর্তিকা বিজয়ের অব্যাহত ধারা ও একজন আলোকবর্তিকা
---------------------------------------------------------


তিনি আর নেই। আমাদের ছায়া ছিলেন। ছিলেন আমাদের আশ্রয়স্থল। জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী। আমৃত্যু কর্মঠ মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁর প্রেরণা আমাদের কাছে ছিল এক অসম সাহস। কোনো কোনো মানুষের মৃত্যুকে অকাল মৃত্যুই বলতে হয়। চিরসবুজ এই মানুষটি ছিলেন আমাদের অন্যতম বাতিঘর।তাঁর সাথে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছিল। ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’- যুক্তরাষ্ট্র শাখার সহকারী সদস্য সচিব হিসেবে আমি যখন ১৯৯২-১৯৯৫ সালে দায়িত্বে ছিলাম তখন তাঁর প্রেরণা ছিল আমার অন্যতম শক্তির উৎস। ১৯৯৩ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসেন সাংগঠনিক কাজেই। ওই সময়ে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ডাকে গোটা বাংলাদেশ দালাল-রাজাকার, যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে।

অধ্যাপক কবীর চৌধুরী আমাদের একটি সভায় প্রধান অতিথি। দেখামাত্রই হাত বাড়িয়ে দিয়ে উজ্জ্বল হাসি ছড়িয়ে দিলেন তিনি। ‘আমি কবীর, তোমাদের কবীর ভাই।’ শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে এলো। হ্যাঁ, তিনি চিরসবুজ, চিরতরুণ ছিলেন। এই প্রজন্ম ছিল তার মননের অন্যতম ধারক। তাঁর প্রাণখোলা হাসি, উচ্ছলতা দেখলে মনে হতো না আমরা কোনো দুঃসময় পার করছি। মনে হতো আমাদের সামনে খুব শুভদিন। এই জাতি সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাবেই। পড়া যাক তাঁর একটি লেখার কিছু অংশÑ‘কিন্তু এখনো আমাদের অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে এবং এগিয়ে যাবার জন্য আমাদের সামনের পথকে নিষ্কণ্টক করতে হবে। পথে কারা কাঁটা বিছিয়ে দিচ্ছে? তারাই যারা বাংলাদেশের চার মৌল স্তম্ভ গণতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরোধী, যে মূল নীতিগুলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু আমাদের উপহার দিয়েছিলেন। এর পরিবর্তে বাংলাদেশের অশুভ নক্ষত্র, অবৈধভাবে ক্ষমতাদখলকারী জনৈক জেনারেল এবং তাঁর অনুসারীরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেন ধর্মভিত্তিক পাকিস্তানি ভাবধারাপুষ্ট উদ্ভট বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী তত্ত্ব।

বর্তমান সময়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হলে যেসব জিনিস আমাদের পেছনে টেনে রাখছে সেসব সস্পর্কে সদা সচেতন থাকতে হবে। ধর্মান্ধতা, জঙ্গি মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, যুক্তিবাদ ও বিজ্ঞানমনস্কতাকে উপেক্ষা করে নিজেদের অন্ধ বিশ্বাসের শৃঙ্খলে বন্দী করে রাখার প্রবণতা আমাদের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করছে। এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতেই হবে।

আমি আরেকটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে চাই। বিজ্ঞান ও উদার মানবিকতার পাঠের মধ্যে একটা সমন্বয় আনা খুবই জরুরি। আমরা আমাদের চোখের সামনে আমাদের পৃথিবীকে দ্রুত বদলে যেতে দেখছি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবিত বিকাশ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও বিভিন্ন মানুষকে কাছে নিয়ে আসছে, জন্ম নিচ্ছে একটা বিশ্বপল্লী। যোগাযোগ ব্যবস্থায় মোবাইল টেলিকম্যুনিকেশন, ই-মেইল, ইন্টারনেট, ইলেকট্রনিক কমার্স প্রভৃতি মানবজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এনেছে। তথ্যপ্রযুক্তির এসব উন্নতির ফলে জ্ঞান আহরণ ও বিতরণের সুযোগ-সুবিধা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের মতো দেশের পক্ষেও ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য আহরণ করে তুলনামূলকভাবে কম সময়ের মধ্যে পুঁজি বিনিয়োগ করে উন্নত দেশসমূহের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদ্যা অর্জন করা সম্ভব হবে। অনেক ক্ষেত্রে বড় আকারের ভৌত অবকাঠামো ছাড়াই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আত্মীকরণের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটানো সম্ভব হবে।’ [ শিক্ষা ও প্রযুক্তির সময় / কবীর চৌধুরী ]

ঠিকই বলেছেন তিনি। চিহ্নিত করেছেন আমাদের শত্রুমিত্র। জানিয়ে দিয়েছেন প্রজন্মকে কিভাবে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশে আজ ই-ব্যাংক, ই-কৃষক, ই-ডাক্তার এমন অনেক ইলেক্ট্রনিক ব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে। এগুলোই হচ্ছে আমূল পরিবর্তন। কবীর চৌধুরীর মতো মানুষেরা আমাদেরকে সেই স্বপ্ন দেখাতে চেয়েছিলেন। আমাদের সামনে সংকট অনেক। গণতন্ত্রের নামে বাংলাদেশে যা কিছু চালিয়ে দেয়া হচ্ছে তা সত্যের অপলাপ। বুর্জোয়া গণতন্ত্রের ধারা, সাধারণ সংস্কৃতি ও মূলধারা থেকে বহু দূরে। তবে গণতন্ত্রের নামে বিরাজমান নিদারুণ নেতিবাচক প্রবণতাগুলোর মধ্যেও গুটিকয় ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে। আর তা হচ্ছে তরুণদের বোধশক্তি। ইতিবাচক প্রবণতাগুলোর ক্ষেত্রে প্রথম উল্লেখ করা যেতে পারে জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনে সাধারণ মানুষের ব্যাপক মাত্রার সমর্থন ও সম্পৃক্তি। জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী পরিবেশ-প্রতিবেশবিরোধী কয়লা উত্তোলন, বহুজাতিকের হাতে গ্যাস সম্পদ তুলে দেয়া কিংবা ঘাতক-দালালদের বিচারের ইস্যু। কবীর চৌধুরীর মতো মানুষেরা সেই পথে আমাদেরকে শাণিত করেছেন।

এটা বিশ্বস্বীকৃত, তারুণ্যের উত্থান ছাড়া কোনো দেশের অগ্রসরতা সম্ভব নয়। আশা ছাড়া তো জীবন বাঁচতে পারে না। আর তরুণরা আশার মধ্যেই বাস করে। হতাশা, অপ্রাপ্তিকে জয় করেই তারা এগিয়ে যায়। তারা স্বপ্ন দেখে সমাজ পরিবর্তনের। তারা অসম্ভবকে জয় করতে চায়। এটাই তারুণ্যের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন কাজ।

বিশ্বায়নের বর্তমান সময়ে মাটির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক দূরে রাখার চেষ্টা করছে কর্পোরেট ব্যবসায়ীরা। পেশাদারি আকাশ সংস্কৃতির ধাক্কায় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত তরুণদের একটা অংশ হয়ে উঠছে শিকড়বিহীন দেউলিয়া হিসেবে। যার কোনো ভিত্তি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে না।

তারুণ্য তো একক কোনো সত্তা নয়, বরং জাতির প্রাণ। শ্রমজীবী তরুণ যেমন আছে, তেমনি আছে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত তরুণ, আছে উচ্চবিত্ত তরুণও। সব তরুণের স্বপ্ন তো এক নয়, এক হতে পারে না। আর নয় বলেই কেউ প্রয়াত কবীর চৌধুরীকে কটাক্ষ করে নানা ব্লগে কাদা ছুড়তে চেয়েছে। দালালি, ভ্রষ্টপথের তরুণ যেমন আছে, তেমনি আছে দেশের জন্য আত্মনিবেদিত তরুণ। মূলধারার তরুণরাই জয়ী হয়, হবে শেষ পর্যন্ত। বিদ্রোহ করাই তারুণ্যের ধর্ম। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-লড়াই করেই তারা এগিয়ে চলে। তাই যে কোনো আন্দোলনেই তরুণরা থাকে সামনের কাতারে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে আন্দোলনে, কানসাট-ফুলবাড়ী-গার্মেন্ট-শনির আখড়ার বিস্ফোরণে, তেল-গ্যাস রক্ষার আন্দোলনে আমরা দুর্বিনীত তারুণ্যকে ফিরে পাই।

খেলাধুলা, গবেষণা, সাহিত্য, মিডিয়া, থিয়েটার, তথ্যপ্রযুক্তি সব ক্ষেত্রেই তরুণদের সরব পদচারণা দেশবাসীকে উদ্দীপ্ত করে, আশান্বিত করে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার করেছিল বলে, বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ব্যাপক তরুণের ভোট পেতে সক্ষম হয়েছিল। অথচ এখনো পালের গোদা গোলাম আযমকে গ্রেপ্তার করছে না সরকার। এর কারণ কী? প্রজন্ম তা-ও ক্রমশ জানতে চাইছে, চাইবে। কবীর চৌধুরী সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন। সেই সমতা বজায় রেখেছেন আমৃত্যু পর্যন্ত। খুব দ্রুত কবরে শোয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘আমি চাই আমাকে খুব দ্রুত কবর দেয়া হোক, অবশ্যই মারা যাওয়ার সাত থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে।’ তবে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের টেলিফোন করে মৃত্যুর খবর জানাতে বলেছেন তিনি। এই শিক্ষাবিদ চেয়েছেন, তার জানাজা হবে সবচেয়ে কাছের মসজিদে এবং অবশ্যই একবারের বেশি না। কারণ লোক দেখানো কোনো আচারে বিশ্বাসী ছিলেন না তিনি। তার কবরের ওপর যাতে ভবিষ্যতে অন্যদেরও কবর দেয়া যায়- সেজন্য আজিমপুর বা বনানী কবরস্থানের মতো সাধারণ গোরস্থানে সমাহিত হতে চেয়েছেন কবীর চৌধুরী। এই প্রজন্মকে তাঁর আদর্শ ধারণ করেই বিজয়ের অব্যাহত ধারা এগিয়ে নিতে হবে। তিনি যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চাইতেন, সেই বাংলাদেশই হোক গণমানুষের শ্রেষ্ঠ আবাস। তাঁর স্মৃতি অমর হোক।

১৪ ডিসেম্বর ২০১১
-----------------------------------------------------------
ভোরের কাগজ / ১৭/১২/২০১১
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29504473 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29504473 2011-12-17 09:58:26
বিজয়ের চল্লিশ বছরে প্রজন্মের গণতান্ত্রিক মানস বিজয়ের চল্লিশ বছরে প্রজন্মের গণতান্ত্রিক মানস
ফকির ইলিয়াস
=======================================
বিজয়ের চার দশক পার করে দিল বাঙালি জাতি। বাংলাদেশ, জাতিসত্তা নিয়ে দাঁড়ানোর ৪০ বছর মোটেও কম সময় নয়। এ সময় অনেক কিছুই হতে পারত; হয়নি। বিশেষ করে রাজনৈতিক সততা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। রাষ্ট্রের অর্জন ভূলুণ্ঠিত হয়েছে সামরিক জাঁতাকলে। ব্রিটিশ শাসন থেকে ১৯৪৭ সালে পাক-ভারত উপমহাদেশ শাসনমুক্ত হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা- মুক্তি। দুই মেরুতে অবস্থান করেও 'পূর্ব ও পশ্চিম' পাকিস্তান রাষ্ট্রটির মূলমন্ত্র বলা হয়েছিল ধর্মীয় তমদ্দুন ও ভ্রাতৃত্ববোধ। এতে বাংলা ভাষাভাষী হয়েও বাঙালিদের উর্দু জাতীয় সংগীত 'পাক সার জমিন সাদ বাদ' গাইতে হতো। বৈষম্যের বীজবপন সেখানে থেকেই শুরু। শুরু শোষণের নানা ছলাকলা।
বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রপতির প্রয়োজন ছিল ১৯৪৭ সালেই; হয়নি। কারণ ওই সময় রাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দিতে বাঙালি নেতারা বারবার দোনোমনো করছিলেন। তাদের লক্ষ্য স্থির ছিল না; ঐক্য ছিল না; ফলে উর্দু ভাষাভাষী চতুর নেতারা বাঙালি জাতিকে তাদের তাঁবেদার করে রেখে দেয়ার স্বপ্ন দেখেছিল এবং তারা তাৎক্ষণিক সার্থকও হয়েছিল।
বাহান্ন'র ভাষা আন্দোলনের অসমসাহস ও শক্তির পথ ধরে স্বাধীনতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছিল বাঙালি জাতি। তারপরও গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং মননের উৎকর্ষতা থামিয়ে দেয়ার জন্য পশ্চিমা শাসকচক্র ছিল সবসময়ই তৎপর। দেশ শাসনের নামে সামরিক জান্তারাই হয়ে উঠেছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভাগ্যবিধাতা। এর অন্যতম কারণ, উর্দু ভাষাভাষীরা ছিল সংখ্যালঘু আর বাঙালি ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই ভোটের রাজনীতিতে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় উর্দু ভাষাভাষীরা যে জিতে উঠতে পারবে না, সেই সত্য ছিল অবধারিত।
প্রায় চব্বিশ বছর ছলে-বলে-কৌশলে বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রেখেছিল পশ্চিমা শাসকরা। তারপর জেগে ওঠার সময় এসেছিল- রুখে দাঁড়িয়েছিল বাঙালি বীরের বেশে। ১৯৭১ সাল ছিল বাঙালির ইতিহাসে হাজার বছরের একটি স্মরণীয় বছর। অমিততেজ নিয়ে সেই মহাসংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গোটা জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মহান মুক্তি সংগ্রামে। একটি পতাকার জন্য মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল তীব্র।
এই মুক্তি সংগ্রামকে পন্ড করার জন্য পশ্চিমা হায়েনাচক্র যেমন তৎপর ছিল, তেমনি তৎপর ছিল তাদের এদেশীয় দোসররা। যে চিহ্নিত চক্রটি ব্রিটিশ শাসন থেকে পাক-ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতায় বিরোধিতা করেছিল, সে চক্রটিই একাত্তরে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের বিরোধিতা করেছিল। অথচ এই জাতির জাগ্রত প্রজন্মের কণ্ঠে সেদিন স্লোগান ছিল-'বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর'। এই যে চেতনা, এটাই ছিল একটি মুক্তির স্বপ্ন, একটি বিজয় এবং স্বদেশ পাওয়ার প্রত্যয়- যা এই প্রজন্ম এখনো মনে-প্রাণে ধারণ করে চলেছে।
আজ অনেকেই বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ আরও দীর্ঘ হবে, এমন ধারণা তারা করেছিলেন। এই মুক্তি সংগ্রামকে দীর্ঘতম করার প্রচেষ্টা যে পাক সেনাশাসকরা করেনি, তা কিন্তু নয়। তারা বলেছিল, পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ তারা চায় না। তারা 'তামার জমি' চায়। 'তামার জমি' কথাটির অর্থ হচ্ছে, মাটিকে মানুষ-শূন্য করে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে তাম্ররূপ দেয়া হবে। আর সে পরিকল্পনামাফিকই অগ্রসর হয়েছিল তারা। মাত্র নয় মাস সময়ে তিরিশ লাখ মানুষ তারা হত্যা করেছিল; সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছিল দুই লাখ নারীর।
অস্বীকার করার উপায় নেই, মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির ভিনদেশি বন্ধুরা ছিলেন সোচ্চার। ভারত, ইংল্যান্ড, রাশিয়া, ফ্রান্সসহ বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রত্যক্ষ সমর্থন স্বাধীনতার পথকে সুগম করেছিল। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিশ্বজনমত গঠনে বিশ্বের নানা দেশ ভ্রমণ করেছিলেন। প্রধান শক্তিগুলোর সামনে 'বাংলাদেশ' গঠনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছিলেন। ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার পর পাকিস্তান যে ভারত আক্রমণের কথা ভাবেনি, তা কিন্তু নয়। কিন্তু তারা সাহস করতে পারেনি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে তারা মানসিকভাবে ছিল চরম দুর্বল। তাছাড়া ভারতকে সামাল দেয়াও তাদের সাধ্যের আওতায় ছিল না।
আমি মনে করি, আমাদের বিজয়ের ৪০ বছরে 'বাংলাদেশ'-এর তুলনা পাকিস্তানের সঙ্গে করা উচিত নয়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী রেখে তাকালে দেখা যাবে পাকিস্তানে এখনো 'সামরিক রক্তচক্ষু'ই রাষ্ট্রক্ষমতার প্রধান নিয়ামক। পাকিস্তানের রাজনীতিকরা পরস্পরকে এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না বলেই বর্তমান সেনাপ্রধান আশফাক কায়ানিই নেপথ্য নায়ক হিসেবে সেই দেশ চালাচ্ছেন বলে বিভিন্ন মিডিয়া চলছে। আসিফ জারদারি-ইউসুফ গিলানি সরকারকে বেকায়দায় ফেলে সামরিক প্রভুরা রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে নিতে পারে এমন চাওর করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হ্যাঁ, বাংলাদেশেও এমন মহড়া দেখানো হয়েছে। পঁচাত্তরের পটপরিবর্তন, জাতির জনককে সপরিবারে হত্যার পেছনে সেই পরাজিত পাকবাহিনীর গোয়েন্দা চেলাদের হাত ছিল, তা এখন আর গোপন করার কোন বিষয় নয়। স্বাধীন হলেও শান্তিতে থাকতে দেব না, এমন একটি পরিকল্পনা নিয়েই দাবার গুটি চাল দিয়েছিল পাক গোয়েন্দা বাহিনীর লোকেরা। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে 'প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক'দের বুটের আঘাত ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল এই বাংলার সবুজ জমিন।
বাংলাদেশের বিজয়ের চল্লিশ বছরের অধিক সময় কেটেছে সামরিক জাঁতাকলে। দেশ সেবার নামে এসব উর্দি পরা জান্তারা ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষের মন জয় করতে চেয়েছে। ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছে। সামরিক জগদ্দল পাথর সরাতে গণমানুষকে বারবার রক্তাক্ত হতে হয়েছে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ যারা সরাসরি প্রশ্রয় দিয়েছে মূলত এরাই রাষ্ট্রের ক্ষতি করতে চেয়েছে সবচেয়ে বেশি। মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে যারা আলবদর প্রধানদের মন্ত্রিত্ব দিয়েছিল তাদের লক্ষ্য ছিল ওই পাক পরাজিত গোয়েন্দাদের মতোই। সেসব গোয়েন্দারা এখনো চায় বাংলাদেশও তালেবানি জঙ্গলে পরিণত হোক।
এই যে একটি স্নায়ুযুদ্ধ চলছে, এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য প্রজন্মকে কী করা উচিত, সে বিষয়টি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বিজয়ের মূলবাণী ছিল মৌলিক স্বাধীনতা অর্জন। তার সিকিভাগ কি পেয়েছে বাংলাদেশ? কেন পায়নি? তা পেতে হলে কী করা উচিত? এমন প্রশ্ন বারবার আসছে।
দেশে তরুণ ভোটারের সংখ্যা বাড়ছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তরুণ প্রজন্ম একটি বিশেষ ভূমিকা রেখেছে ভোটের শক্তি প্রয়োগে। আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। বিষয়টি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অনুধাবন করতে পারছে। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে তরুণ প্রজন্মের বিশেষ ভূমিকা ছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধে আঠারো থেকে তিরিশের কোটায় বয়সী মুক্তি সেনার সংখ্যা ছিল অর্ধেকেরও বেশি, মোট মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা থেকে। তাই আজও সেই তরুণ প্রজন্মই দেশের নেতৃত্ব দেবে, এই প্রত্যাশা মোটেই অমূলক নয়।
দেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রধান এবং প্রথম রাষ্ট্রসনদটি হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। সেই চেতনাটি কী? তা হচ্ছে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যেমন আমরা একটি রাষ্ট্র চেয়েছিলাম, এখন সেই আলোকেই রাষ্ট্রের উন্নয়নে নিঃস্বার্থভাবে মনোনিবেশ করা। পরখ করতে হবে, এই দেশকে কারা পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চাইছে। তাদের লক্ষ্য কী? কারা কোটি কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে, কারা এই দেশে মৌলবাদ-জঙ্গিবাদকে প্রত্যক্ষ মদতে এগিয়ে নিয়েছে, কেন নিয়েছে? মনে রাখা দরকার একটি রাষ্ট্রে শুধু ভোটের অধিকারই গণতন্ত্র নয়। দুর্নীতি, অনিয়ম, অপশাসন, মিথ্যাচার, লুটপাটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অন্যতম গণতান্ত্রিক অধিকার। গণতান্ত্রিক সুসভ্য দেশে ভিন্ন দল আছে। কিন্তু রাষ্ট্রের উন্নয়নে তাদের মতের ঐক্য প্রশ্নবিদ্ধ নয়। আর তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে এখন গণতন্ত্রের অন্যতম শত্রু হচ্ছে মৌলবাদ ও সামরিক শাসন। গণতন্ত্রবাদীরা পারছে ন-এই দোহাই দিয়ে জঙ্গিবাদ এবং সামরিক স্বৈরাচার পাখনা মেলছে সমান্তরালভাবে। বাংলাদেশে সামরিক শাসক জিয়া এবং এরশাদের সময় মৌলবাদীরা ভেতরে ভেতরে যে সংগঠিত হয়েছিল, উত্থান ঘটিয়েছিল তার বহিঃপ্রকাশ তারা দেখায় নিজামী-খালেদার চারদলীয় জোট সরকারের সময়। বিষয়টি আজকের প্রজন্মকে মনে রাখতে হবে।
জঙ্গিবাদ এবং সামরিকতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরতে না পারলে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তানের মতো ভয়াবহ জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়ার কোন উপায় নেই।
একটি রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ব্যর্থতা কেন আসে, তার কারণ প্রতিটি সচেতন মানুষকেই খুঁজতে হবে। রাজনীতিকদের তো খুঁজতে হবে বটেই। একটি রাষ্ট্রে রেল, সড়ক, যোগাযোগ, বিমান, রাজস্ব ও স্থানীয় প্রশাসন বিভাগ সবসময়ই লাভজনক সেক্টর বলে বিবেচিত হওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে এসব সেক্টরগুলো নিয়মিত লোকসান দিয়ে চলেছে। এর কারণ কী? একজন চিকিৎসক প্রাইভেট প্র্যাকটিস করে লাখ লাখ টাকা রোজগার করবেন আর সরকারের ট্যাক্স দেবেন না এটা কেমন মানসিকতা? ট্রেনের ভাড়া দেবে না বলে ছাদের উপরে চড়বে মানুষ, এটাও কী এই ২০১১ সালে মানা যায়?
তাই মানুষকে আত্মশুদ্ধির পথে আনতে প্রজন্মকে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে। প্রতিটি জেলা-উপজেলা শহর কিংবা প্রতিটি ইউনিয়নে যদি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য একটি তরুণ প্রজন্ম নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যায় তবে এই অঞ্চলের বাসিন্দাকে স্বাস্থ্য সচেতন, পরিবেশ সচেতন হতেই হবে। এটা একটি উদাহরণমাত্র। জননিরাপত্তা, গ্রামীণ উন্নয়ন, সমাজ সচেতনতা সড়ক যোগাযোগ, সমবায় প্রভৃতি ইস্যুতে তরুণ প্রজন্মের হাত হতে পারে রাষ্ট্রের হাতিয়ার। বিজয়ের সুফল ভোগ করতে হলে, অধ্যবসায়ী হতেই হবে। ইন্টারনেটের অবারিত এই যুগে জ্ঞানের দরজা উন্মুক্ত করতে এগিয়ে আসতে হবে সম্মিলিত প্রয়াসে।
নিউইয়র্ক, ১৩ ডিসেম্বর ২০১১
===========================================
দৈনিক সংবাদ / ঢাকা / ১৬ ডিসেম্বর ২০১১ শুক্রবার প্রকাশিত





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29503901 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29503901 2011-12-16 10:30:30
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বাতিঘর কবীর চৌধুরী Click This Link

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বাতিঘর কবীর চৌধুরী

--------------------------------------------------------------------------------
ফকির ইলিয়াস বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম






জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী চলে গেলেন। ৪০তম শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগের দিনই তিনি চলে গেলেন এই পৃথিবী থেকে। বাংলাদেশের মাহান মুক্তিসংগ্রামে তিনি ভাই হারিয়েছিলেন। শহীদ মুনীর চৌধুরী। বলেছিলেন, ভাইয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে চাই। সেই চেতনায় কাজ করেছিলেনও। তাঁর আরেক ভাই প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। ছোটবোন ফেরদৌসী মজুমদার।

এই জাতির জন্য কী করেননি কবীর চৌধুরী। জাতির জনক তাঁকে শিক্ষা সচিব করেছিলেন। তাঁর প্রধান কাজটি ছিল সমাজের সংস্কার। কী চাইতেন তিনি ?

তার চাওয়া ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশে মৌলবাদ- জঙ্গীবাদ থাকবে না। আর এই কারণেই তাঁর শত্রুর সংখ্যা ছিল অনেক। তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কীভাবে মানুষের জয় হবে? হেসে বলেছিলেন, যখন মানুষ জয় করার বিদ্যা শিখবে। বলেছিলাম, কী সেই বিদ্যা ! বলেছিলেন, জেগে ওঠার প্রত্যয়।

এই প্রত্যয় নিয়ে কী প্রজন্ম এগোতে পারছে ? প্রশ্নটি আমি বার বার করি নিজেকেই । যদি না পারে, কেন পারছে না?

এইতো সেই প্রজন্ম যারা ২০০৮ সালে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে আওয়ামী
মহাজোটকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। এই মহাজোট গেল তিনবছরে মাত্র ছ`জন
যুদ্ধাপরাধীকে গ্রেফতার করেছে। বিচার শুরু করেছে মাত্র একজনের। এর
কারণ কী ?

১৩ ডিসেম্বর ২০১১ মঙ্গলবার জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী চিরবিদায় নিলেন। ঐ একই দিনই বিভিন্ন চ্যানেলে কুখ্যাত ঘাতক গোলাম আজমের একটি সাক্ষাতকার দেখেছে দেশ-বিদেশের কোটি বাঙালি।

এই সাক্ষাতকার নিতে বেশ কিছু তরুণ সাংবাদিক বন্ধুকে গোলাম আজমের সামনে বসে থাকতে দেখলাম। তারা বেশ কিছু প্রশ্নও করেছেন।

গোলাম আজম এক প্রশ্নের জবাবে বলেছে, আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই প্রমাণ করতে পারবে না এই সরকার। গো. আজম আরও বলেছে, এতোদিন পর বিচারের চেষ্টা কেন ? এই আওয়ামী লীগ সরকার তো আগেও ক্ষমতায় ছিল।
আমি অবাক হয়ে দেখলাম, আমার কোনো সাংবাদিক বন্ধু এর জোর প্রতিবাদ করলেন না। তারা বললেন না, এখনও নাৎসীদের বিচার হচ্ছে।

আরও বহুদিন পর্যন্ত হবে। অপরাধীর বিচারের কোনো সময় সীমা নেই। থাকতে পারে না। দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে মানবতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চালু আছে। অনন্তকাল থাকবে। বাংলাদেশ অন্য কোনো গ্রহের দেশ নয়।

না, আমার সাংবাদিক বন্ধুদের মাঝে তেমন জোরালো কোনো প্রতিবাদ দেখলাম না। কেন দেখলাম না। এই প্রজন্ম তো শহীদ রফিক-জব্বার- বরকত-সালাম, সেলিম-জাহিদ-দেলওয়ার-নূর হোসেন- বসুনিয়ার উত্তরাধিকারি। তারা সেই ঋণ শোধে রুখে দাঁড়ালেন না কেন ? কন্ঠের শক্তি দিয়ে প্রতিবাদ করলেন না কেন ? মনে রাখা দরকার, শুধু পেশাগত দায়িত্বই সামাজ বিনির্মাণ ও সত্য প্রতিষ্টার একমাত্র শক্তি নয়। কথামালার ব্যাপৃতি ঘটিয়ে, বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমে সত্য বের করে আনাও একটি অন্যতম কর্তব্য।

কবীর চৌধুরী সেই চেতনা জাগাতে চেয়েছিলেন প্রজন্মের মাঝে।তিনি জীবনের গোটা সময়ই কাজে কাটিয়েছেন। বলেছেন, সৃষ্টির ধারা থেমে থাকতে পারে না। বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দোরগোড়ায় অনুবাদের মাধ্যমে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। কই, যারা তথাকথিত `তমদ্দুনপন্থী সাহিত্য মজলিশের` নীতি নির্ধারক, এরা কেউতো এই মহান কাজটি করতে এগিয়ে আসেন নি।

এইতো মাত্র এক সপ্তাহ আগে কবি শহীদ কাদরী এক আড্ডায় বাংলাদেশের এক বিশিষ্ট ভাষাদক্ষ ,পন্ডিত ব্যক্তিত্বের নাম ধরে বললেন, `আর যাই বলো তিনি তো কবিতা বুঝতেন না।`

হাঁ, এটাই নিয়ম। কবিতার প্রতি দরদ না থাকলে কবিতার সমঝদার হওয়া যায় না, যাবে না। পাক তমদ্দুন পন্থী সেইসব `সাহিত্যিক`রা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে মনে প্রাণে ভালোবাসে না। আর ভালোবাসে না বলেই ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ আমাদের বুদ্ধিজীবীদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।

সেই হায়েনা আশরাফুজ্জামান খান এখন আমেরিকায়, খান মঈনুদ্দীন ইংল্যান্ডে এখনও বহাল তবিয়তে আছে।

আজ মহান শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। না , গোলাম আজমকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। কেন হয় নি ?

``আর কত মৃত্যু হলে নগরে ঘোষিত হবে মহামারী, আর কত ভাঙন এলে আমরা তাকে বলবো মহাপ্রলয় ! আর কত শিশু রক্তাক্ত হলে আমরা তাকাবো খোলা আকাশের দিকে। কিংবা আর কত নারী ধর্ষিতা হলে আমরা খুঁজবো আততায়ী হায়েনার নখ !``

কবিতার এমন পংক্তি অনেক আগেই লিখেছি। কবিতা আমাদের সমাজের
উঁচু শ্রেণীকে কী ভাবিত করে ?

আমাদের প্রধানমন্ত্রী, অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর শবদেহ দেখতে গিয়েছিলেন। কবীর চৌধুরীর স্বপ্ন ছিল কুলাঙার গো. আজমের বিচার দেখে যাবেন। পারেন নি। আবারও বিনীত অনুরোধ করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী-

আপনি যদি সত্যি কবীর চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধাবনত হন, তবে তাঁর স্বপ্নটির বাস্তবায়ন করুন। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের অসমাপ্ত কাজটির ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করুন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।

নিউইয়র্ক / ১৪ ডিসেম্বর ২০১১

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29502974 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29502974 2011-12-14 21:47:34
আমাদের সবুজ ঘরে অধ্যাপক কবীর চৌধুরী- কে মনে রেখে ]

বৃষ্টির বেগ দেখে আমরা জেনে যাই আমাদের স্বপ্ন খামারের ভবিষ্যত।
এখানে উল্কার গতি থামিয়ে দিয়েছিল নদীদের ধ্যান। আর নদীগুলো
আমাদের বহমান পাঁজর হয়ে গেয়েছিল মুক্তির গান। দু'বাহুর ঘোর
সমান্তরালে আমরা উত্তোলন করেছিলাম আকাশের ভার। ভোর এসে
এগিয়ে নিয়েছিল আমাদের স্বপ্নের মুক্তি সংগ্রাম।

আমরা একটি অধিবাস চেয়েছিলাম। আমরা একটি প্রবন্ধ লিখতে চেয়েছিলাম।
একটি কবিতার জন্য উদ্গ্রীব ছিল আমাদের পাষাণ পরাণ। কিছু অক্ষরের
জ্যোতি ধার চেয়ে আমরা সূর্যের কাছে লিখেছিলাম চিঠি।এই মাটি ছিল সেই
অমর প্রাবন্ধিক। আর অনুবাদের পাতায় ক্রমশঃ শব্দ সাজাতে সাজাতে
আমাদের সবুজ ঘরে ঢেউ জাগিয়েছিলেন একজন কারিগর। খুব নিঃশব্দে। দ্রুত।


























]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29502258 http://www.somewhereinblog.net/blog/FAQIRELIASblog/29502258 2011-12-13 22:12:30