খোলা চোখের পিছনে যদি সচেতন একটি বিবেক থাকে, তবে এটা সকলেরই নজরে পড়ার কথা যে, এক সময়ের মসজিদের শহর ঢাকা লোক চক্ষুর অন্তরালে নয়; দিনের আলোতে সকলের সামনেই মূর্তির শহরে পরিণত হচ্ছে। এদেশের ঘুমন্ত বিবেকের মুসলমানরা দেখতে পাচ্ছে যে পৃথিবী জুড়ে মুসলমানদের উপর চলছে অকথ্য নির্যাতন।
আমাদের পূর্ব-দক্ষিণে বার্মায় চলছে মুসলমান নিধন, চলছে নিধন আমাদের পূর্ব-উত্তরে আসামে, কবে ঘুম থেকে বাঙালি মুসলমানরা জেগে উঠবে? ভয়াল মৃত্যু ঘাড় চেপে ধরার পর? না তখনও ফেনসিডিল কিংবা ইয়াবা খেয়ে ঘুমের চেষ্টা করবে?
জনৈক ভাস্কর মৃনাল হক ঢাকার প্রায় প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মূর্তি তৈরির জন্য দিনান্ত কাজ করে যাচ্ছে। এমনকি সেদিন হঠাৎ করে দেখা গেলো বিজিবি’র পিলখানাতেও বিরাট আকৃতির ৪টি মূর্তি দাঁড় করানো হয়েছে।
মৃনাল হক একজন ভাস্কর। মূর্তি তৈরি করাই তার নেশা, পেশা, অনুভূতি ও বিশ্বাস। মুসলমান জাতির কলঙ্ক এই মৃনালের নাম ও কাম (কাজ) একই রকম, বড়ই মিল হিন্দু ধর্মের সাথে। জাতিতে/বিশ্বাসে হিন্দু হলে কোনো সমস্যাই ছিলো না।
সে যদি তার বিশ্বাস অনুযায়ী জনসংখ্যার দিক দিয়ে ২% হওয়ার পরেও নতুন নতুন মূর্তি তৈরিতে শতকরা ১০০ ভাগ সফলতা অর্জন করতে পারে, তবে ৯৭ ভাগ মুসলমানরা কী ১০% সফলতাও দেখাতে পারে না? তারা কী বলবে না যে, মূর্তি আমাদের ধর্মের সাথে যায় না, মূর্তি আমাদের উপর গযব ডেকে আনে।
সমস্ত ইরাক জুড়ে সাদ্দাম হোসেনের লক্ষ লক্ষ মূর্তি গযব ঠেকাতে পারেনি; বরং তরান্বিত করেছে। কাফির ন্যাটো বাহিনীর সৈন্যরা সেই মূর্তি ভেঙেছে। মুসলমানদের লজ্জা হবে কবে? আমাদের দেশও সেইদিকে ধাবিত নয় কি?
ঘটনাচক্রে কোথাও কোনো মসজিদ ভেঙে গেলে তেমন প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ে না, যা ঘটে মূর্তি গায়ে কোনো আচড় পড়লে। যেন তাদের অস্তিত্বে কেউ আঘাত হেনেছে।
এ ধরনের মুসলমানদেরকে ‘মূর্তিপূজারি মুসলমান’ বললে কী খুব একটা ভুল হবে? যদিও মৃনাল হক এ পর্যন্ত হয়তো দুশ কিংবা তিনশ’ মূর্তি তৈরি করে ফেলেছে। সরকার এবং জনগণের উচিত এখন থেকে যাতে সে আর মূর্তি তৈরি করতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকা।
আশ্চর্যের বিষয়, এ বিষয়ে যারা ইসলামের কথা বলে, আন্দোলন করে যেমন জামাত, দেওবন্দী, খারিজী ইত্যাদি দলগুলো একেবারে নিশ্চুপ। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের পুরানো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে দিন, মসজিদের শহর ঢাকা মসজিদেরই শহর থাকুক। আমীন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


