somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপন সত্ত্বার গৃহস্থালী

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
১.



এসো নিজেকে খুঁজি, হে, এসো আপনার গান গাই।
নিথর নিরালায় আমি আমাকে ডাকি, আয় আয়…

আমার উচ্চারণ, আত্মার রক্তক্ষরণ, মস্তিষ্কের অনন্য রসায়ন থেকে উত্থিত, ইথারে প্রবহমান, তুমি শুনতে পাও। আমি এসেছি আমার পিতামাতা থেকে, তারা তাদের পিতামাতা থেকে। এখন আমি চল্লিশে, প্রাণবন্ত টগবগে যৌবন নিজের মাঝে উপলব্দি করি। আশা করি, মৃত্যু দ্বারা থেমে যাব না এখনই।

বিশ্ব-বিদ্যালয় প্রাঙ্গন আমার পদচারনায় মুখরিত থেকেছে, আমার হয়নি শিক্ষগ্রহণ। আমার সকল মক্তব আজ মুখ থুবরে পরে আছে শূন্য হাহাকারে। আমি আশ্রয় নিয়েছি মৌলিকে, আমার উচ্চারণগুলি প্রাকৃতিক, শক্তি আর সামর্থে সৃষ্টিপ্রবন।

২.
নতুন বইয়ের মাদক গন্ধে মাতাল আমার ঘর, পুরানো বইয়ের প্লাবিত সুবাসে মুখরিত আমার গ্রন্থাগার। আমি আমার গন্ধ খুঁজি, আমি আমাকে জানি এবং পছন্দ করি। গ্রন্থাবদ্ধ বিন্যাসিত ভাবনাগুলো আমাকে আলোড়িত করে, আমি আলোড়িত হই কিন্তু স্থির থাকি না।

আমার নি:শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃৎ-কম্পন, রক্ত সঞ্চালন, আমার ফুসফুসের উঠানামা, গন্ধহীন বায়ু প্রবাহের আসা-যাওয়া, আমার জীবন। বর্ণিল শব্দরাজরা বৈচিত্রময় অর্থ আর বোধ নিয়ে আসে আমার আঙিনায়, বায়ুর রথে চড়ে।

কিছু আলো আমাকে চুম্বন করে, কিছু আলো আমাকে আলিঙ্গন করে। গাছের পাতাদের মাঝে আলো ছায়ায় খেলা করে। নির্জনে কিম্বা রাজপথে অথবা মেঠো কিম্বা পাহাড়ের ধারে আছরে পরে আলো। অই গাছেদের, লতা-গুল্ম আর শ্যাওলা ছত্রাকের আলো খাওয়ার দৃশ্যগুলো আমার বোধে উন্মোচিত হয়, আমিও আলো খাই, দেহগত উৎফুল্লতা টের পাই, বিপুল বিক্রমে মধ্য-দুপুরের সূর্য্য আমার মাঝে জাগরিত হয়, আমি বিপুল উচ্চারনে গান গেয়ে উঠি, অন্ধকার থেকে ক্রমাগত আমি সূর্য্যের মুখোমুখি দাঁড়াই-

আমার উচ্চারনগুলো গন্ধহীন বায়ু স্পন্দনে ছড়িয়ে যায়-

কে তুমি গ্রন্থকীট, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে তুমি বহুজাতিক?
কে তুমি অর্থ খুঁজ সকল কবিতার?

থামো আমার সাথে একটু হাটো, সকল কবিতার মুল খুঁজে পাবে তুমি। এই সৃষ্টিশীল প্রণবন্ত পৃথিবী আর আলোময় সূর্যের মুখোমুখি তুমি দাঁড়াও। দ্বিতীয় বা তৃতীয় পক্ষ থেকে গ্রহণ করো না কিছুই, জ্ঞানগর্ভ আলোচনা গলঃধারন করো না। আমার হাতে হাত রেখে এসো একটু শুন, ছেকে নাও আপন ছাকুনীতে।

৩.
লোকে বলে, কোথা থেকে এলাম, কোথায় যাব চলে? আমি শুরু আর শেষের কথা বলি না।

‘এখন’ই শ্রেষ্ট সময়, ‘এখন’ যৌবন আর সৃষ্টিশীলতা কম্পনে মাধুর্যময়। এখনকার চেয়ে শ্রেষ্ট সময় পাবে না তুমি, এখনই তুমি উপভোগ করতে পারো শ্রেষ্টতম বেহেস্ত অথবা দোজগ।

‘বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি’ ধারণার বিপরীতে হোক তোমার পথ চলা। বিপরীত লিঙ্গের দৃষ্টি আকর্ষণ করো, পারস্পরিক দায়িত্ব গ্রহণ করো আর পরস্পরের শরীরকে উপভোগ করো। বিপরীত লিঙ্গের আচড়ে আঁকা চিত্রের চেয়ে শৈল্পিক কোন চিত্রকর্ম নেই অনুভব ক্যানভাসে। আত্মকাম বা সমকামে লিপ্ত থেকো না। সর্বদা আপন অনন্যতা বুপন করে যাও; নিজের শারীরিক স্বাতন্ত্র স্পষ্ট করো, নব নব সৃষ্টি প্রসব করো । অতিরিক্ত তর্ক কোন কাজে লাগে না, শিক্ষিত আর অশিক্ষিত অনুভুত অনুভবে কোন পার্থক্য তৈরী করে না।

সহজভাবে ভাবতে শিখ আর নিজের কাছে সৎ থোকো, হও নিবেদিত প্রাণ, হও ঘোড়ার মতো বলবান, উদ্ধত আর গতিশীল; নিশ্চিতভাবে জেনো আমি এবং এই অলৌকিক পথনির্দেশনা, আমরা এখানেই।

স্পষ্টতা আর মাধুর্যতায় ভরপুর আমার হৃদয় এবং এখনও সমস্ত স্পষ্টতায় উদ্ভাসিত নয় আমার হৃদয়, জটিলতা মাকড়শার জাল বুনে যাচ্ছে অবিরত। সমস্ত অদেখা দেখা দ্বারা স্পষ্ট হয়। কিছু খবর আসে অপ্রমানিত, তাঁরা উর্ধ্বজগত আর পরজগতের কথা কয়।

লোকেরা পাপাত্মা আর পূণ্যাত্মাকে পার্থক্য করে, তারা সূক্ষ্ম তন্ত্র-মন্ত্র, শ্লোক, আয়াত উচ্চারণ করে , তারা অর্থের চেয়ে উচ্চারণ রীতির শুদ্ধতার কথা কয়, তারা গভীর তর্কে জড়িয়ে যায়, রক্তপাতের হুলিখেলায় মেতে উঠে, আমি কোন পক্ষ নেই না, চুপ থাকি, নানাবিধ তর্কগুলো আমার দেহে নোংরার মতো ঘৃনা তৈরী করে, আমি গোছলখানায় যাই এবং নিজেকে সম্মান করতে থাকি। যে কেহ হৃদয়বান আর পরিচ্ছন্ন ভাবনার অধিকারী, আমি স্বাগত জানাই। হৃদয়ের পরিচ্ছন্নতা ছাড়া আমি মানুষে মানুষে কোন পার্থক্য চিহ্নিত করি না।

আমি আনন্দিত হই- আমি নাচি, হাসি আর গান গাই; যখন দেখি, যেমন আমি আমার কোল-বালিশ আলিঙ্গন করে জড়িয়ে থাকি অন্ধকারে এবং আলোক বিন্দু উঁকি দিলে দূরে ফেলে দেই, তেমনি দূরে ছুড়ে ফেলছো আমায়, স্পষ্ট আলোর উচ্ছাসে। যা কিছু আলো বলে মনে হচ্ছিল আমার কাছে, সেগুলো নিশ্চিত আলো বটে কিন্তু তুমি এনেছো আরও স্পষ্ট আলোর লন্ঠন। আমি তোমাকে কুর্ণিশ করি যেমন সূর্য্যকে কুর্ণিশ করতে করতে দৃশ্যহীন হয় চাঁদের আলো। আমি তোমাকে সামনে ঠেলে দেই, তোমাকে অনুসরন করতে থাকি।...
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১২:৫৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাতির বিবেক ড. জাফর ইকবাল আজ এত নিশ্চুপ কেন?

লিখেছেন পদ্ম পুকুর, ১৮ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৪১


কাওসার ভাই যেদিন ঢাকা থেকে সুন্দর একটা প্যাকেটে ‘হাত কাটা রবিন’ পাঠালেন, তখন আমি ক্লাস সেভেন বা এইটে পড়ি। ওটা পেয়েছিলাম বাই পোস্টে, তিরানব্বুই বা চুরানব্বুইয়ে। ড. জাফর ইকবালের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

টুকরো টুকরো সাদা মিথ্যা- ৫৬

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১১:১১



১। ইরানী মুভিগুলো দেখার পর মানবিক দিক দিয়ে খুব তাড়িত হই। তাড়িত হতে ভালো লাগে। আজ দেখলাম- 'The White Balloon' । এটা ১৯৯৫ সালের ইরানী ড্রামা মুভি ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঘমামার ইন্টারভিউ

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৮ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১১:২৮




অনেকদিন আগে সামু কর্তৃপক্ষ আমাকে একটা দায়িত্ব দিয়েছিল। সেটা ছিল সুন্দরবনে গিয়ে সুন্দরবনের রাজা ''দ্য গ্রেট রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার'' ওরফে বাঘমামার একটা এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ নেয়া। অনেক অনেক দিনের চেষ্টা-চরিত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃষ্ণ জলে গাহনে

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ১৮ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১২:৩৪



শ্রাবণে পথচলায় আনন্দ রেশ থাকে,চিটচিটে ঘাম,রাস্তার ভেপেউঠা আঁচ অথবা আচমকা এক গাদা জমে থাকা জল।এ সবকিছুই বিরক্তি ছোঁয় ঠিক কিন্তু স্পর্শ করতে পারে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার পাঠকের প্রতিক্রিয়া

লিখেছেন সনেট কবি, ১৮ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:৫১



সাহিত্য সমালোচনা লেখকে জানায়
পাঠক প্রতিক্রিয়া, ব্লগে চেষ্টা তার
সুন্দর মন্তব্য পোষ্টে দেয়া উপহার
মন্ডলের ছেলে যাঁর সুভদ্রের মন।
নিজাম উদ্দিন নামে সমবেদনায়
সকলের সাথে ছিল।পোষ্টে বার বার
দেখা যেত সুমন্তব্যে।সবার আব্দার
রক্ষায় থাকতো তার অন্তর আপন।

লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×