আমার প্রিয় পোস্ট

জন্মোপার থেকে পৃথিবী হয়ে অনন্তে >>> ©www.fazleelahi.com

@ রমাদান কারীমঃ সিয়াম কি এবং কেন?

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ১১:২৪

শেয়ার করুন:                   Facebook

'সওম'-এর শাব্দিক অর্থ বিরত থাকা। ইসলামী শরীয়তে পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত থাকার নাম 'সওম'। সওম-এর বহুবচন হচ্ছে সিয়াম, যাকে আমরা রোযা বলে থাকি। আর রোযা শব্দটি এসেছে ফার্সী থেকে, যেমন এসেছে নামাজ যার আরবী বা কুরআনে বর্ণিত শব্দ হচ্ছে সালাত। যে কেউ সোবহে সাদিকের উদয় হওয়ার পূর্ব থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে পানাহার এবং সহবাস ত্যাগ করবে তার জন্য সেদিনটি সওম পালন হিসেবে ধরা হবে কি হবে না, তা নির্ভর করছে নিয়তের উপর। যদি ব্যক্তি সওমের নিয়ত করে এসব ত্যাগ করে থাকে, তাহলে দিনটি তার জন্য সওম পালন হিসেবে নির্ধারিত হবে আর নিয়ত না করে এমনি এমনি এসব ত্যাগ করলে তাতে সওমের সওয়াব পাওয়া যাবে না। কারণ, ইসলামে নিয়তের উপরই সমস্ত ভাল কাজের প্রতিদান নির্ভরশীল। যেমনটি প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ((সব কাজই নিয়ত (সংকল্প) অনুযায়ী হয়।.....)) [সহীহ আল-বুখারীঃ ১]

সওম বা রোযা ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ((ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর স্থাপিত- এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্ ব্যতীত সত্যিকারের কোন মা'বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল, সালাত প্রতিষ্ঠিত করা, যাকাত আদায় করা, হজ্জ করা এবং রমাদানের সওম পালন করা।)) [বুখারী ও মুসলিম] স্তম্ভের অভাব কিংবা নড়বড়ে অবস্থার প্রেক্ষিতে যেমন ঘর টিকে থাকে না, তেমনি আমাদের দ্বীনের এ মৌলিক স্তম্ভটিকেও যদি আমরা যথার্থ ভাবে মজবুত করে ধারন করতে না পারি কিংবা অবহেলা-অবজ্ঞায় অথবা শয়তানের প্ররোচনায় যদি সিয়াম পালনে বিরত থাকি, তাহলে নিশ্চিতভাবেই ধ্বসে পড়বে আমাদের ইসলাম নামক প্রাসাদ। অর্থাৎ, এই পবিত্র রমাদানের সিয়াম পালনে কেউ অবহেলা করলে কিংবা পালন না করলে ইসলাম নামক প্রাসাদে আর তার জন্য কোন স্থান রইলো না; এবং তা অবশ্যই কোন শরীয়ত সম্মত ওযর বা কারণ ব্যতিরেকে কেবলি ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করলেই এই করুণ পরিণতি।

দীর্ঘ একটি বছর পর আমাদের মাঝে ফিরে আসে রমাদান, মহান স্রষ্টা আল্লাহ্র রাশি রাশি করুণার ধারা বর্ষণ হয় এই মাসে। সারা মুসলিম বিশ্বে সাড়া পড়ে যায় ইবাদাতের, মুমিনদের জন্য যেন পুরো রমাদান মাসটাই ঈদের মাস, অর্জনের মাস, আনন্দের মাস। কত অফুরন্ত দান আমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য। আসুন, আমরা এ মাসেই সারা বছরের সঞ্চয় সাধনে সচেষ্ট হই।
(চলবে)

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রোযা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আদর্শ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:৩১

 

  • ১৫ টি মন্তব্য
  • ১১৬৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ ভোর ৫:৩৬
comment by: অতিথি বলেছেন: চালিয়ে যান......

এমন সব বিষয় নিয়ে চালিয়েই যেতে হবে ....
তবে শুধু রমজানে পুরো মুসলি্ল না হয়ে সারাবছর এর জন্য হলে সবচেয়ে ভালো হতো....আর এই সকল জিনিস গুলো মেনে চললে...

পরবতর্ী পর্বের অপেক্ষায়...
২. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ ভোর ৫:৪২
comment by: অতিথি বলেছেন: রমজানটা তো শুরু হওয়া উচিৎ শুধু!

ওই হাদীসটা আছে না, যে রোজা রাখলো অথচ মিথ্যা কথা ছাড়তে পারল না, তার খাওয়া আর পান করা বর্জন আল্লাহর কোন দরকার নেই। পুরোপুরি বদলে দেয়ার ক্ষমতা থাকে সত্যিকারের রোজার।
৩. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ৭:৫০
comment by: অতিথি বলেছেন: আইচ্ছা রাম আদান কইলে কি বাড়তি 10 নেকি যোগ হয় হিসাবের খাতায়। লোকজন ভড়ংও ধরতে পারে শালার। একজন বুদ্ধ কে বুদ্ধা বলা শুরু করলো এখন শুরু হইলো রমজানকে রামাদান বলা, কয় দিন পর উসমান কে উঠমান কইবো। হাডিথ, এডিথ, জুডিথ কইবো। আর যাজাকুল্লাহ খায়ের তো আছেই।
দেশি কুত্তার বিলাতি ঘেউ।
৪. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ৮:৩৬
comment by: অতিথি বলেছেন: আল-কুরআনে রমাদান-ই উল্লেখ করা হয়েছে।রমজান শব্দটা বাংলা ভাষায় এসেছে এমন এক দেশ(নাম মনে নেই) থেকে যারা 'দ' উচ্চারণ করতে পারেনা তাই 'জ' উচ্চারণ করে।
যেমন জাপানিরা 'ক' উচ্চারণ করতে পারেনা।সঠিক উচ্চারণ 'রমাদান'।

রমাদানের শুভেচ্ছা।
৫. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ৮:৪২
comment by: অতিথি বলেছেন: হ উসমানও নাই কোথাও, নামাজও নাই, কইতে গেলে লিস্টি বড় হইবো, আপনে আবার গরু খাওয়া জ্ঞানি মানুষ, মান্যগইন্য লোক,
৬. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ৮:৫১
comment by: আরাফাত রহমান বলেছেন: মূল আলোচনা থেকে দূরে সরানোর একটা ফন্দি।
ফজলে এলাহী ভাই,
অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য মুছে ফেলার অনুরোধ করছি।
৭. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:২৩
comment by: অতিথি বলেছেন: লেখা চলুক ফজলে এলাহি ভাই।
৮. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:৫০
comment by: সুর বাংলা বলেছেন: কুত্তায় "ঘেউ" করচে
খুব খিয়াল কইরা
তয় উত্তর দেওয়ার দরকার নেই
৯. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৩:১৭
comment by: অতিথি বলেছেন: প্রাকিৃতিক বিপর্যয়ের কারনে কয়েকদিন ব্লগ মিস করেছি ।
লেখাটির জন্য ধন্যবাদ । আশাকরি অশালিন মন্তব্যের মধ্যেও আপনি লেখা চালিয়ে যাবেন ।
আলহামদুলি্লাহ
১০. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৩:৩৩
comment by: অতিথি বলেছেন: আবু সালেহ-
আল্লাহর পথে নিরন্তর যেন অবিচল যাত্রী হতে পারি, সে প্রার্থনাই করছি সকলের জন্য। আমীন।

আস্তমেয়ে-
আমরা চেষ্টা করবো যাতে এই এক মাসে আগামী এগার মাসের সঞ্চয় করে নিতে, যাতে করে বাকী এগার মাসও এ মাসের মতই পরিশুদ্ধ অর্থাৎ, মিথ্যা কথা ও কাজ থেকে নিজেদের বিরত রাথকে পারি। আল্লাহ তৌফিক দিন।

রাসেল (........)-
খুব একটা জরুরী মন্তব্য মনে করছি না, তারপরও যখন দিয়েই ফেলেছেন তখন না বলে পারছি না যে, আপনার সাহিত্যজ্ঞান বা ভাষাজ্ঞান সম্পর্কে আমি কিছুটু উচ্চ ধারণা পোষন করতাম; যদিও আপনি লিখে থাকেন আমার আদর্শ বিরোধী। কিন্তু আজ জানা হয়ে গেল দৌড় কতদূর। আপনি সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা করলে ভাল করতেন। কারণ, ইসলামী শব্দাবলী আপনাদের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় যে,,,।
১১. ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ৩:০৭
comment by: অতিথি বলেছেন: মুক্তধারা-
সুন্দর বলেছেন, তাছাড়া শব্দটা যেহেতু আরবী, তাই তাকে আরবীতে উচ্চারণ করাটাই সঠিক। আমরা কিন্তু সূরা আল-ফাতেহায় ঠিকই 'গাইরিল মাগদুব...' বলে থাকি। সেখানেও 'দোয়াদ' অক্ষর এবং 'রমাদান'এও 'দোয়াদ' অক্ষর। কিন্তু এদেরকে বুঝাবে কে? ভাবছি পরে বাংলা ভাষায় আরবী শব্দাবলীর অপভ্রংশ নিয়ে একটা পোষ্ট দেব।
আপনাকেও রমাদানের শুভেচ্ছা।

আরাফাত রহমান-
ঠিক ধরেছেন, আসলটাকে তো আল্লাহই শিকল পরিয়েছেন রমাদানে। ভৃত্য-প্রবৃত্তরা রয়ে গেছে আর কি।

ইন্তেখাব-
আপনাকে ধন্যবাদ। ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করছি ধীরে ধীরে বিস্তারিত লিখতে। দো'আ চাই।

সুর বাংলা-


মোঃ হামিদুর রহমান ছিদ্দিকী-
প্রেরণা দানের জন্য আল্লাহর নিকট আপনার জন্য কল্যান কামনা করছি।
বিপরীত স্রোতে সবসময়ই মুসলিমরা জেগে উঠে; এটাই আমাদের ঐতিহ্য
১২. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৬ রাত ১১:৪৭
comment by: অতিথি বলেছেন: ফজল ভাই, আপনি রাসেল (........) সম্পর্কে জানতে অনেক দেরী করে ফেলছেন মনে হয়... হা হা হা....

পোষ্টগুলো অসাধারন হয়েছে। 6নং পর্যন্ত সেভ করা হয়ে গিয়েছে... আস্তে আস্তে পড়ব। অনেক ধন্যবাদ।
১৩. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ১০:২৩
comment by: অতিথি বলেছেন: িত্রভুজ-
আল্লাহ্ আমাকে একটা বিশেষ শক্তি দিয়েছেন মানুষকে চেনার। তবে সবচেয়ে বড় ব্যাপার মনে করি সত্যসন্ধানীরা আজ না হোক কাল সত্যকে দেখেই। অবশ্য তার উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া বা গ্রহণ করা হেদায়াতের ব্যাপার; যা একান্ত আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে। আপনাকে ধন্যবাদ।
১৪. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:২২
comment by: ফজলে এলাহি বলেছেন: এবারের সিয়ামের মওসুমে বিভিন্ন রূপী ব্যস্ততার কারণে লেখা হয়ে উঠছে না। তাই পাঠকদের সামনে গত বছরের লেখাগুলো তুলে ধরছি।
১৫. ২৯ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:৩২
comment by: ফজলে এলাহি বলেছেন: আপডেট করা হলো।

 

 


অন্যদিগন্ত: ফজল
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog
দৃষ্টির ছায়া
http://www.somewhereinblog.net/blog/dchayablog
ই-মেইলঃ sky_adress@yahoo.com
ভালবাসতে চাই মানুষকে, পৃথিবীকে, ভালবাসিও, কিন্তু যখনি দেখি অপচ্ছায়া ঢেকে ফেলছে আমার ভালবাসাকে, তখনি যেন নিজেকে আর...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ