এসেছে সময়ের নতুন প্যাকেট
কি উপহার আছে তাতে আমি থেকে আমাদের তরে
কি উপহাস লুকিয়ে প্রীতিময়তার কাছাকাছি
কি নিদারুন প্যাকেট এই যাতে থাকে সুখ আর কষ্টেরা পাশাপাশি
রমনার বটমূলে মঙ্গলযাত্রার সমাপনি সভায়
ডাকি এসো হে কালবৈশাখী! কষ্ট উড়িয়ে নাও!
ভুল বুঝে কি সে ভেঙ্গে চুরে দিয়ে যায় বসতির চাল
ঝরায় আম্র মুকুল, ঝরায় অশ্রু ঘর ভাঙ্গাদের
বৃদ্ধ বটেরা লুটায় পথে পথে লুটায় বুকের বল
আকাশের বর্ষাকে ডাকি গানে গানে: নেমে আয় নেমে আয়
ধানের ক্ষেতের আলে আলে কাঁদে তৃষ্ণা কাতর চাষা
ফসলী চারার বুকের তিয়াসে কৃষকের বুক ফাটে
ঢল নামে গগণ বিদারী ও খোলে ফারাক্কা বাঁধ
গঙ্গার করুণায় পদ্মা-মেঘনা-যমুনার জলে ধুয়ে যায় সকল স্বপ্নসাধ
মিশে বঙ্গোপসাগরের ফেনায়িত উত্তাল তিমিরে
তিমিরেই পড়ে থাকে সারাটি শরৎ সোনাফলা কারিগর
হেমন্তের নবান্নকে ডাকে হারমোনিয়ামের সুরে সুরে
উপরি মাচায় বসবাসে যে সংস্কৃতিমনা গুণিজন
উপোস পেটেরে এক হাতে চেপে আর হাতে কাস্তের বাঁট
সোনা ফলা কর্মকার ছোটে সোনালী মাঠের পানে
কেটে আনবে বলে আউশ-আমন সোনা
খড় কাটা খসখসে সুরে গায় জীবনের গান
গীটারের ধ্বনি মহাজনের কটাক্ষ হয়ে বাজে কানে
এবং সমস্ত উমেল শীত ঋতু কেটে যায় ঠকঠক ঠকে
পাওনাদারের কনকনে ভয়ে আর অশোধিত ক্লান্তিতে...
তবুও বসন্ত এসে কড়া নাড়ে দরজায়
তবুও হাড়গোণা সোনা-কারিগর খুলে দেয় বাতায়ন
তবুও কাস্তের বাঁটে হাত রাখে, তোলে লাঙ্গল আর মই
তবুও সহ্য করে যায় অযাচনে যাচিত বাৎসরিক অত্যাচার
তবু দুয়ারের বাইরে প্রথম কদম ফেলে ল'য়ে আল্লাহর নাম
সোনা-কারিগর জমিনে অঙ্গার ফুঁকে ফলায় সোনালী ধান
ধুয়ে আনে ললাটের ঘামে আর ভরে তোলো তোমাদের গোলা
তাই খেয়ে যন্ত্রের মোহে আহ্বানো ষড়ঋতু নামীয় প্রতিপালকে
আমাদের সোনা-কারিগর জমিনে হাত রাখে নিয়ে আল্লাহর নাম
সোনার উৎস চিনে, জানে দাতা-প্রতিপালক আর উন্নয়নের সূত্র...
আমাদের সোনা-কারিগর...............................................!
১৪.০৪.২০০৮ ইং /০১.০১.১৪১৫ বঙ্গাব্দ
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।
ছবির জন্য কৃতজ্ঞ যেখানে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

