somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... শবেবরাত: একটি দলীল ভিত্তিক পর্যালোচনা -ড. সাইফুল্লাহ্ আসুন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মদীনা মুনাওয়ারা থেকে পিএইচডি ডিগ্রী লাভকারী প্রখ্যাত আলেম ড. সাইফুল্লাহ্ বিন আহমাদ কারীম সাহেবের নিকট থেকে বিশুদ্ধ দলীল ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে জানতে চেষ্টা করি যে, শবেবরাতের প্রকৃত ব্যাপার কি?

esnips থেকে শুনুন: Click This Link

মোবাইল থেকে শোনার জন্য ডাউনলোড করুন: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28830931 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28830931 2008-08-14 20:46:57
= কষ্টগুলো গুণে গুণে রেখেছি জমিয়ে রেখেছি আমার কষ্টগুলো
আর বলে দিয়েছি তারে-
জানিওনা কাউকে, কি হবে জানিয়ে বলো?
আমি স্পর্শের কাতরতা দিয়ে জুড়িয়ে নেই
কষ্টের কষ্টগুলো, আমি তাদেরে লালন করছি গোপনে।
মানুষ মরে যায়, মরে না ব্যথাগুলো তার
বাতাসে বাতাসে উড়োউড়ি করে টনটনে যন্ত্রণা!
তবু যেও না সেখানে
যেখানে আনন্দ নীড়, মসৃণ সুখেরা বিছানো;
যেও না কালবৈশাখী!
যেও না লুহাওয়া!
যেও না সাইমুম!
এক জীবনের কতটুকু অপেক্ষার পর
এক জীবনের সুখেরা নেমে আসে পাঁজরে,
অন্তরে, অন্দরে, সদোরে ও সাদরে।
যদি দেখা করতেই হয়, চলে এসো,
কষ্ট সওয়াদের দুয়ারে আঘাত করো;
জীবন যেখানে কষ্টের কতগুলো
সেকেণ্ড, মিনিট, ঘন্টা ও বছরের সমাহার।

৬ আগষ্ট ২০০৮
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

ছবি: ফজলে এলাহি মুজাহিদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28827873 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28827873 2008-08-06 05:01:43
= ঘুমোলস তবু মন তো চায় না করি গাত্রোত্থান,
পৃথিবী চলে যাক আমাকে ফেলে এই বেলা
দৌড়ে দৌড়ে ধরে নেব তার সাথ ওবেলা।
যা কিছু অপেক্ষমান পড়ে থাকে নিরব নিথর
আগামী কালেও দেখা যায় তাদের বহর,
আমিও না হয় তাদেরই একজন হয়ে র’বো
আজকের কথাগুলো আগামী কালই ক’বো।
এই বেলা ডেকো না আমায় কোন প্রিয়জন
নিদ্রাদেবীর চেয়ে প্রিয়তর পাই না এখন,
অগাধ সম্পদের মোহ ছুটে যায় আশপাশে
আমি হাতড়ে দেখি বালিশটা আছে কি পাশে!
কর্মগুলো যন্ত্রণা দেয় দৈনন্দিনতায় সারাক্ষণ
ঘুমভাঙ্গা চোখ রগড়ে সে পৃথিবী দেখার ক্ষণ;
সেটুকুই জীবন, বেঁচে থাকা এই আনন্দধামে
বাকীটা সময় মরণের কাছাকাছি বেঘোর ঘুমে।

২৯ জুলাই ২০০৮
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

আরো দেখুন: http://www.fazleelahi.com/]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28826253 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28826253 2008-08-01 14:38:31
= বাবা আলতো ছুঁয়েছ এ নাকের ডগা
সোনামনি বলে চুমেছো এই কপাল,
তোমাকে দেখেছি যেন মাথার উপরে ছায়া
শত আবদার তোমাতে রেখেছি জমা
শৈশব থেকে তুমি ছিলে দিকপাল।
বাবা তুমি এই জীবনের সবটুকু জুড়ে আছ
সন্ধ্যা রাতের বাজার ফেরা পথে
চেয়ে থাকতাম চকলেট দেবে বলে,
প্রহর পেরুনো তন্দ্রালু সেই পড়ার টেবিলে
দেখেছি তোমার শাসনের লাল চোখ
মানুষ করার সাধনা সুকৌশলে।
ক্ষণকাল পরে স্নেহের হাতটি ছুঁয়ে যায় এ ললাট;
বাবা তুমি স্রষ্টার এক সুমহান অবদান
জন্ম থেকেই আগলে রাখ প্রাণজ প্রজন্মকে,
ব্যাথায় ব্যথিত হও আনন্দে হও মহাখুশী
আমরা হয়ে যাই তোমারি সুখ-দুঃখ
আজ এই ক্ষণে সশ্রদ্ধ সালাম তোমাকে।

১৫ জুন ২০০৮, মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

ছবি কৃতজ্ঞতা: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28810170 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28810170 2008-06-16 16:45:53
= অনির্বাচিত সরকারের কাছে আওয়ামী দাবী ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বাধাগুলো দেখুন
রাজনীতি নিয়ে আগে খুব একটা মাথা ঘামাইনি, চেষ্টা করেছি দূরে দূরে থাকতে। কিন্তু বাস্তব আর ভার্চুয়াল মিথ্যাচার দেখে দেখে অতিষ্ট এখন ভাবছে এ বিষয়টি নিয়েও নিজের মতামতগুলো তুলে ধরবে। সেই থেকে এ "রাজনীতি" নামক বিভাগ।

গতকালের বিবিসি বাংলা সংবাদে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বাধা হিসেবে বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করে বলেন:
"...........জরুরী আইন প্রত্যাহার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মর্যাদা, তার হত্যার বিচার সমাপ্ত করা, চার নেতার বিচার সমাপ্ত করাসহ আরো যে যে বিষয়গুলোকে আমরা অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বাধা হিসেবে আমরা মনে করবো, সেই প্রশ্নগুলো আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে উত্থাপন করব।"
বিবিসি বাংলা সংবাদ, পরিক্রমা, ১৪ জুন ২০০৮


দৃষ্টি দেয়ার বিষয় হচ্ছে যে, প্রথমতঃ এটি একটি অনির্বাচিত সরকার। এর সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। একথা আওয়ামী লীগ যেমন জানে ও বহুবার বলেছেও তেমনি অন্য সকল রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও পরিস্কার। তথাপে দেশে বিদেশে এ সরকার তার ক্ষমতা বহির্ভূত বহু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে ইতিমধ্যে; যা দেশের জনগণ পূর্বের সরকারগুলোর দ্বারা ঘটতে দেয়নি।

তাহলে নিজেদের স্বীকৃত ও ঘোষিত এমন একটি সরকারের কাছে এমনসব দাবী করছে আওয়ামী লীগ যা করা উচিত একটি নির্বাচিত সরকারের নিকট; এর মাধ্যমে কি অবচেতনায় আওয়ামী নেতা তোফায়েল তাদের সে উক্তিকেই তাজা করছে না যে, "এ সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল"?

পরন্তু, একটি "অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন"-এর বাধা হিসেবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, শেখ মুজিব হত্যার বিচার ও চার নেতা হত্যার বিচার সম্পন্ন করা কিভাবে যুক্তিযুক্ত তা এক বিরাট প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকারান্তরে তারা কি এর সরকারের সাথে এ ব্যাপারে চুক্তি বদ্ধ যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, শেখমুজিবের হত্যার বিচার ও চার নেতার হত্যার বিচারের নামে বাকশালীয় পন্থাকে সংস্কার করে নির্বাচন পূর্ব বিজয় নিশ্চিত করে একটি সাজানো নির্বাচন দিতে চাইছে?

যে দেশে একজন আসামীর সাথে স্বয়ং সরকার প্রধান ফোনালাপ করে নিজের গরজে, যে দেশে একজন আসামীর সাথে সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ের লোকেরা নিজ গরজে আসামীর বাসায় গিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত মিটিং করতে পারে, যে দেশের একজন আসামীর বিদেশ গমনের পর সংশ্লিষ্ট দেশে দায়িত্ব পালনরত রাষ্ট্রদূত অভ্যর্থনা জানাতে আসে, সে দেশের জনগণ কতটা গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার তা এখন সাধারণের কাছেও পরিস্কার হতে শুরু করেছে। আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে জনগণ এখন দারুন এক অন্ধকারে নিমজ্জিত। আমরা জানিনা এ অন্ধকার পেরিয়ে যে দিনের আলোর সূচনা হবে, তা কি হবে এদেশবাসীর জন্য কল্যাণের?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28809819 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28809819 2008-06-15 15:40:52
= অনন্তর আমি যুদ্ধকেই নির্বাচিত করলাম যদিও সে আমার আন্তরিকতার বিপরীত
আন্তরিকতা...................হাহ্
ভাবতেই চুরমারি উঠে বর্তমান পৃথিবীটা
মনে করতে পারো?
তোমার আঁকা-বাঁকা চাহনীকে বুঝে নিতাম আগ্রহ
মিষ্টি হাসিকে ভালোবাসা আর
মধুমাখা কথাগুলোকে প্রেম
তারপর চৈত্রের ঠা ঠা রৌদ্র মাথায় নিয়ে
ঘুরে বেড়াতাম সারাটি তৃষ্ণ দুপুর
তখনো আবাদী হৃদয় থেকে গুনগুনিয়ে উঠেনি
'মনে পড়ে....কবিতায় তোমাকে একদিন...'

একটি ভালবাসার জন্য আমি তিতীক্ষা করেছি
সুদীর্ঘ ত্রিশটি বছর..........
একটি প্রিয়ভূমির মায়াজালে সয়েছি অনেক যাতনা
বেছে নিয়ছি সুদীর্ঘ একাকীত্ব পরবাস
তবু মনে পড়ে যায় বৃষ্টি দিনের কথা
আমি শাপলার কানে কানে শুধিয়েছি কত
'ভালবাসবে আমায়?'
আমি বাতাসের ঢেউয়ে কত খুঁজেছি তারে
আকাশের নীলে দৃষ্টি করেছি ধোঁয়াশা
অবশেষে পাতায় পাতায় নামিয়েছি কুয়াশা
কত কাদাজল মাড়িয়েছি মানুষের খোঁজে
কত রক্তকে ঘামে ঝরিয়েছি বেইনসাফীর দাবদাহে
মানুষের সন্ধান পেতে পেতে পেরিয়েছে দুই যুগ
আমি ভালোবাসার সন্ধানে
আমি ভালোবাসা পেতে
আমি ভালোবাসতে গিয়েছিলাম তার কাছে
তাবৎ পৃথিবী রিক্ত করেছে যারে
সে কি পেতে পারে নিরঙ্কুশ ভালোবাসা!
আমি জেনেছি তাকে
আমি পেয়েছি তাকে
ভালোবাসা এক অন্য পৃথিবীর নাম
যেথা ফুল ফোটে
যেখা রক্ত ঝরে
যেথা বাঁশী বাজে
যেথা কান্নারা শোরগোলে
'ভালোবাসা'-সে এক বিশাল শিক্ষা
এক পবিত্র ভূমি
এক সবুজ গ্রহ
এক পরিচ্ছন্ন হৃদয়...
আমি তাকে লাঞ্ছিত হতে দেখেছি পথে প্রান্তরে
অবশেষে নির্ধারিত হলো আমাতে এবং আমিত্বে
দুই-ভুবনের ভালোবাসা রক্ষায়
যুদ্ধই নিয়তি,,,,
যুদ্ধই পরিণতি,,,,
এভাবেই শান্তি!

৫ জুন ২০০৮, মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

ছবি: নিজস্ব। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28808142 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28808142 2008-06-10 15:04:38
= যুগার্ধ প্রবাস পেরিয়ে ক্রমশ মিলিয়ে নিলো পাঁজরের সাথে;
ত্রিপদে পলির যমীন আঁকড়িছে, ভূমিকম্প এবং
নিরব, নিথর বুকের গভীর হতে কিছু হৃদয়
ঝরে এলো পালকের সুড়ঙ্গ পথে এসে।

অরণ্য দহজিল ঘেরি ওরা কারা?
শৃগালের পশ্চাত রশি ছিন্নিলো ক'বে
রক্ত পিপাসু এ দন্ত দৃষ্টি দেখেনি কভু
শকুনীদের তো দেখিনি জীবন্তের কলিজা খেতে;
হরিতের বুকে এ কোন মলয় মূর্ছনা ধারা?

শিয়াল চালাক এতো করে ক'লো, চড়িনি পিঠে
এ কি! গগণের মেঘপুঞ্জ এত রক্তিম কেন?
নিরিহ-ভদ্র-বিশ্বস্ত খরগোশ সাথী করে চললুম
হায়! ডোরাকাটার সাথে গুহাবাসিনীর
এ মিলন ক'বেকার? এ যেন অমৃত বিষে ঝাল-মিঠে!

খুঁজে পেতে নীড় গহীন বিবরে সর্বশান্ত বেশ,
অতৃপ্ত আত্মা শুধু হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে চলে
কন্টক, লাশ আর আবর্জনা-সাগর সন্তরি;
স্বপ্নের সেই ভাঙ্গা বেড়া ফাঁক করে দেখি এখনো
সবুজ মাটিতে সোনার হরফে লেখা "বাংলাদেশ"...!

২৩.১০.২০০০
রয়েল কমিশন, ইয়ানবো, সউদী আরব।

ছবি: নিজস্ব]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28795016 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28795016 2008-05-07 02:00:11
= আমাদের বিশ্বাস ফিরিয়ে দাও তুলে রাখি মনে উপরিভাগের সাজানো তক্তায়,
তোমাদের কথাগুলোকে আমরা বিশ্বাস করে নেই
শব্দের স্বপ্নমালা গাঁথি বক্তৃতা ও বক্তায় বক্তায়।
কখনো কখনো মনে হয় দারুন মিথ্যাবাদী;
বাতাসে ছড়িয়ে দেয়া সাজানো স্বর-ব্যঞ্জন হতে
যদি দু'একটি অক্ষর, মাত্রা, দাঁড়ি, কমা এসে পড়ে
ভুবুক্ষু এ গামছায় অথবা আঁচলের ভাণ্ডারে,
বিশ্বাসে ধ্বস নামে পাহাড়চূড়ার বরফের মত
তোমরা হয়ে পড় সত্যবাদী, যুগের শ্রেষ্ঠ সন্তান
তোমরা হয়ে পড় আমাদের ইচ্ছে-সওদাগর।
যদি বল তো দু'একটি মাথাকে গুড়িয়ে দেই রাজপথে
যদি বল তো দু'একটি দেহকে শুইয়ে দেই অবরোধের দিনে
যদি বলো তো আগুন দেই নিজেদেরই গাড়ী ও বাড়ীতে।
তখন তোমাদের কথাগুলো হয় আমাদের প্রাণসঞ্চালনী
মরি-বাঁচি তোমাদের বক্তৃতার স্বরে; উঠা-নামায়
আমাদের রক্ত, হাড়, মাংস হয়ে উঠে তোমাদের নস্যি-থুথু
যতক্ষণ চাও টেনে কিংবা জমিয়ে রাখো, তারপর ছুঁড়ে দাও দূরে
যেখান থেকে আর ফিরিয়ে নাও না; নেয়া যায় না।
অবশেষে তোমরা হয়ে উঠো জাতীয় নেতা-নেতৃ
অবশেষে তোমরা উঠে বস সিংহাসনে-নির্ধারিত আসনে;
আর……………………………………..
আমাদের স্বপ্নের উঁচু দেয়ালগুলো পরিণত হয় ফুটো চালে
কল্পলোকের গাড়ীর চাকাগুলো হয়ে উঠে দু'পায়ের পাতা
সুস্বাদু কাংখিত খাবারেরা বদলে যায় যেমনি বদলেছে
ভাতের বদলে আলু, মাছের বদলে মরিচপোড়া!
মিথ্যা প্রমাণিত হয় বাতাসে উড়ে বেড়ানো শব্দগুলো
তখন হাঁপানী রোগীর মত জীবনের শ্বাস টেনে টেনে;
তখনো প্রাণান্ত হই তোমাদের কথাগুলোতে বিশ্বাসী হতে!

২৮.০৪.২০০৮
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

ছবি কৃতজ্ঞতা: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28792280 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28792280 2008-04-28 23:06:56
= ভাল থেকো বন্ধু..... হয়ত তুমিও যাচ্ছ হেঁটেই ভাল
জীবন পথের সবটুকু নয় আলো
কি করে বন্ধু পেতে চাও শুধু আলো
অন্ধকারের কালো চাদরেতে ঢাকা এ বিশ্বময়
নানারঙ নিয়ে সূর্যটা এসে রাঙায় বিশ্বময়
তেমনি জীবন বেদনা বিধুর শুরু থেকে শেষোবধি
মাঝে মাঝে কিছু আনন্দ দিয়ে যন্ত্রণা শেষোবধি
হয়ত তুমিও ভাবছো কেন যে ভাগাভাগি করি নাকো
সুখের পেয়ালা পড়ে আছে পাশে কেন পান করি নাকো
হিসেবের ঘরে অংকটা বড় জটিল বন্ধু হেথায়
বুক যোগ বুক সমান মিলন হৃদয় নয়ত হেথায়
কত চেনাজানা প্রান্তর চষে চলে দু'পায়ের গাড়ী
থেমে যাওয়া হেথা মৃত্যু তাইতো অশান্ত ছোটে গাড়ী
একটু দাঁড়িয়ে পার্কিং খোঁজে শক্তি সঞ্চয়নে
নিরবে ঘুমায় সলাজে পিছায় প্রেমের সঞ্চয়নে
তবু কি কোথাও থেমে আছে দিন শুনেছ বন্ধু তুমি
ডেকে বয়কট লুকিয়েছে রাত জানো কি বন্ধু তুমি
জীবনের বাঁকে কোথাও নেইকো ট্রাফিকের লালবাতি
শেষ হয়ে এলে সফর জ্বলবে এ পথের লালবাতি
কতকথা বলি কত কবিতায় তোমাদের জনে জনে
কত স্বপ্নকে বুনেছি ফলেছি অন্তরে কত জনে
ঘোরে ও বেঘোরে কেটে যায় এই দিনকাল বলি ভাল
বন্ধু তুমিও ভাল থেকো হেথা নিয়ে সবটুকু ভাল............

২৩.০৪.২০০৮
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28790645 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28790645 2008-04-24 01:03:52
= শ্রুতীয় নির্যাতন কোন শ্রবণে বলবো সে কথাটি?
স্বজাতির শব্দচয়নে নির্বাকও উঠে চেঁচিয়ে
বলোঃ কোন পোষাকে হবো পরিপাটি?
পনর শতক পেরিয়ে এখনো ভাবছি বসে
পদ্মা-মেঘনা-যমুনার সবাক তীরেতে এসে;
শব্দ চয়নে মানুষ কিংবা কার অবদান,
কে র'চে সভ্যতা ও সংস্কৃতি?
প্রকৃতির গতানুগতিক তৈরী নিয়মেই কি
শৃংখলিত জীবনের গতি?
ভাষা কি জিহবার কারুকাজ
শব্দাবলী কি শ্রবনের কারসাজ?
দু'চোখের আন্দোলিত রূপ কথা বলে
সে এক অন্য নিয়মী ভাষা,
প্রত্যঙ্গের প্রয়োগী সঞ্চালনে হেথা
প্রকাশিত হয় সুখ-দুঃখ-আশা।
কেন মানুষ র'চে সাহিত্য-কবিতা
কেন শব্দের তরে নেই সহমর্মিতা?
সুজনের মাঝে চিরদিন বসবাসে
মাত্রা হিসেবী কুজন,
প্রবলেই উঠে আসে প্রকাশিত রূপ
কাঁদায় সুহৃদ, কাঁদায় আপনজন।
দোষিবো কি স্বজাতিরে দেখে বিশ্ব বিম্ব-সাজ
শ্রুতীয় অত্যাচারে নির্যাতিত বিশ্ববিবেক আজ।

২১.০৪.২০০৮
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28789812 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28789812 2008-04-21 14:51:16
= ক্ষুধার রাজ্যে চিতার থাবা মাগো আমায় একমুঠো ভাত-লবন দিও ভোরে
তুমি তো মা খাবার আনতে রোজ ভোরে যাও চলে
উপোস ঘরে কেমনে থাকি যাও না আমায় বলে
ফিরবে কখন জানো না মা তুমিও সে ক্ষণটি
ক্ষুধার চিতা মারবে আমায় বলছে আমার মনটি
চালের দামটি কেন মাগো বাড়িয়ে দিলেন রাজা
চাল না হলে ভাত হবে না; এটা কেমন সাজা
দুদক ধরে দূর্নীতিবাজ সারা দেশের মাঝে
চালের গুদাম সাজলো বুঝি সুনীতিবাজ সাজে
বাঁচিয়ে রাখতে আমায় মাগো নিরন্তর সাধনা
এই জীবনে তোমার দেনা শোধ করা হবে না
শিশু আমি আমার ব্যাথা বুঝবে কি গো রাজা
'মা তুমি' তাই বোঝো আমায় বলো: 'আমার রাজা'
সোনামনি বড় হয়ে গোচাবে সব দুখ
এ সংসারের রাজ্যে আনবে এক জীবনের সুখ...

১৫.০৪.২০০৮
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

ছবি কৃতজ্ঞতা: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28788197 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28788197 2008-04-15 23:25:52
= মৈত্রী রেল যোগাযোগ ভাবনা
আসা যাক মৈত্রী রেল যোগাযোগের কথায়, ধরে নিলাম ভারত অত্যন্ত শুভ উদ্দেশ্যেই সুপ্রতিবেশী সাজ ধারন করে বাংলাদেশের সাথে রেলমৈত্রী স্থাপনের জন্য এগিয়ে এসেছে। কিন্তু সেই ভারতেই এর বিরুদ্ধে শুধুমাত্র সোচ্চার কণ্ঠ ধ্বনিত হয়েই ক্ষান্ত থাকেনি; বরং কিছুদিন আগে "বাংলাদেশ" ভেঙ্গে "নতুন বাংলা" গড়ার দাবীও উঠেছে। লক্ষণীয় যে, সে দাবী ভারতের মধ্য থেকে, ভারতীয়দের মধ্য থেকে। অথচ অনেক রক্ত দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছিল এদেশের মানুষেরা। ভারত সহযোগিতা করেছে, ভালো কথা, কি উদ্দেশ্যে ছিল এ সহযোগিতা? প্রতিবেশীকে সহযোগিতা করার অর্থ কোনদিন এ হয়না যে, সহযোগিতার পর প্রতিবেশীর সকল সম্পত্তির মালিক হয়ে যাওয়া, কিংবা সে লালসায় গুড়েবালি পড়লে প্রতিবেশীর বাড়ীঘর পাইকারী হারে লুণ্ঠন করে নিয়ে যাওয়া; ভারত সে আচরণই করেছে বাংলাদেশের সাথে। আজো সীমান্তে পাখি শিকারের মত ভারতীয় সেনারা বাংলাদেশী শিকার করে অহরহ আর পতাকা বৈঠকগুলোতে সাজানো কিছু কথা বলেই নিরব করে দেয় ভারত, নিরব হয় বাংলাদেশ। তাই মৈত্রী বলুন আর প্রতিবেশীসুলভ সুসম্পর্ক বলুন; ভারতের মুখের আড়ালে মুখোশ খোঁজেন প্রতিজন বাংলাদেশী।

এ রেলযোগাযোগ সুবিধায় যেমন সুবিধা রয়েছে তেমনি অসুবিধাও রয়েছে প্রবল। চোরাকারবারী, সন্ত্রাসী ও গুপ্তচরদের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থা আরো সহজতর হয়েছে। তাই দু'দেশেরই সর্বোচ্চ সতর্কতা রাখতে হবে যাতে অসদুদ্দেশ্যে ব্যবহার না হয় এ মৈত্রী সুফল। ভারত থেকে ইন্ধন পেয়ে যেভাবে অতীতে পার্বত্য এলাকায় বিভাজনের ত্রাস সৃষ্টি হয়েছিল, এ মৈত্রী সুবিধাকে কেন্দ্র করে যাতে সে চক্র আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে ব্যাপারে বাংলাদেশ এবং বিশেষভাবে ভারতকে ভূমিকা রাখতে হবে। অনাগত দিনের কার্যকলাপই বলে দেবে "মৈত্রী রেল যোগাযোগ" কতটা সফল কিংবা অন্যকিছু।

তবুও আশা, তিন দিক থেকে ঘেরা এ দীর্ঘদেহী প্রতিবেশী তার এ বিপ্লবী প্রতিবেশীর সাথে 'মৈত্রী', 'সুসম্পর্ক' ইত্যকার মধুময় শব্দাবলীর দ্বারাই অনাগত কালাতিপাত করবেন। কেননা, বাংলাদেশের মানুষেরা খুবই আন্তরিক, খুবই বিনয়ী, খুবই সহনশীল; কিন্তু অধিকার আদায়ে হিমালয় টলিয়ে দেয়ার মত বিপ্লবী। থাবার মত ঘিরে রাখা প্রতিবেশীকে অনুরোধ করবো, তার প্রতিবেশী সম্পর্কে এ সত্যগুলোকে সদা সম্মুখে রাখতে। শুভ হোক মৈত্রী রেলযোগাযোগ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28788091 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28788091 2008-04-15 17:36:20
=সময়ের নতুন প্যাকেট হাতে আমাদের সোনা-কারিগর এসেছে সময়ের নতুন প্যাকেট
কি উপহার আছে তাতে আমি থেকে আমাদের তরে
কি উপহাস লুকিয়ে প্রীতিময়তার কাছাকাছি
কি নিদারুন প্যাকেট এই যাতে থাকে সুখ আর কষ্টেরা পাশাপাশি

রমনার বটমূলে মঙ্গলযাত্রার সমাপনি সভায়
ডাকি এসো হে কালবৈশাখী! কষ্ট উড়িয়ে নাও!
ভুল বুঝে কি সে ভেঙ্গে চুরে দিয়ে যায় বসতির চাল
ঝরায় আম্র মুকুল, ঝরায় অশ্রু ঘর ভাঙ্গাদের
বৃদ্ধ বটেরা লুটায় পথে পথে লুটায় বুকের বল

আকাশের বর্ষাকে ডাকি গানে গানে: নেমে আয় নেমে আয়
ধানের ক্ষেতের আলে আলে কাঁদে তৃষ্ণা কাতর চাষা
ফসলী চারার বুকের তিয়াসে কৃষকের বুক ফাটে
ঢল নামে গগণ বিদারী ও খোলে ফারাক্কা বাঁধ
গঙ্গার করুণায় পদ্মা-মেঘনা-যমুনার জলে ধুয়ে যায় সকল স্বপ্নসাধ
মিশে বঙ্গোপসাগরের ফেনায়িত উত্তাল তিমিরে
তিমিরেই পড়ে থাকে সারাটি শরৎ সোনাফলা কারিগর

হেমন্তের নবান্নকে ডাকে হারমোনিয়ামের সুরে সুরে
উপরি মাচায় বসবাসে যে সংস্কৃতিমনা গুণিজন
উপোস পেটেরে এক হাতে চেপে আর হাতে কাস্তের বাঁট
সোনা ফলা কর্মকার ছোটে সোনালী মাঠের পানে
কেটে আনবে বলে আউশ-আমন সোনা
খড় কাটা খসখসে সুরে গায় জীবনের গান
গীটারের ধ্বনি মহাজনের কটাক্ষ হয়ে বাজে কানে
এবং সমস্ত উমেল শীত ঋতু কেটে যায় ঠকঠক ঠকে
পাওনাদারের কনকনে ভয়ে আর অশোধিত ক্লান্তিতে...

তবুও বসন্ত এসে কড়া নাড়ে দরজায়
তবুও হাড়গোণা সোনা-কারিগর খুলে দেয় বাতায়ন
তবুও কাস্তের বাঁটে হাত রাখে, তোলে লাঙ্গল আর মই
তবুও সহ্য করে যায় অযাচনে যাচিত বাৎসরিক অত্যাচার
তবু দুয়ারের বাইরে প্রথম কদম ফেলে ল'য়ে আল্লাহর নাম

সোনা-কারিগর জমিনে অঙ্গার ফুঁকে ফলায় সোনালী ধান
ধুয়ে আনে ললাটের ঘামে আর ভরে তোলো তোমাদের গোলা
তাই খেয়ে যন্ত্রের মোহে আহ্বানো ষড়ঋতু নামীয় প্রতিপালকে
আমাদের সোনা-কারিগর জমিনে হাত রাখে নিয়ে আল্লাহর নাম
সোনার উৎস চিনে, জানে দাতা-প্রতিপালক আর উন্নয়নের সূত্র...
আমাদের সোনা-কারিগর...............................................!

১৪.০৪.২০০৮ ইং /০১.০১.১৪১৫ বঙ্গাব্দ
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

ছবির জন্য কৃতজ্ঞ যেখানে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28788027 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28788027 2008-04-15 14:06:17
নববর্ষের শুরুতে মুসলমানদের করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা- আব্দুল মুহসিন আল-কাসেম (রিপোষ্ট) রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ((দু'টি নে'আমতের ব্যাপারে অনেক মানুষ ধোঁকায় নিপতিত, তা হচ্ছে সুস্থতা ও অবসর।))

এ কারণেই আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবের অনেক জায়গায় সময়ের বিভিন্ন অংশের কসম বা শপথ করেছেন, যেমন রাত্রি, দিবস, ফজর, আসর ও পূর্বাহ্ন। আজ আমরা আমাদের জীবন থেকে একটি পরিপূর্ণ বছর বিদায় দিচ্ছি যাতে আমরা আমাদের আমলসমূহ সংরক্ষণ করেছি, যা হাশরের দিন আমাদের আমলে তুলে ধরা হবে। কতই না দ্রুত দিনগুলো কেটে গেছে, কত বন্ধু এতে আমরা হারিয়েছি, কত বিপদের এতে আমরা মুখোমুখী হয়েছি, কত পাপই না আমরা এতে করেছি। দিবা রাত্রি আমাদের এসব আমলের সংরক্ষণস্থল। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ((সকল মানুষই সকালে উপনীত হয় নিজেকে বিক্রেতা হয়ে, হয়ত সে স্বীয় আত্মাকে আযাদ কারী হয়, অথবা সে স্বীয় আত্মাকে ধ্বংসকারী হয়।)) সময়ের অনেক দুঃখ কষ্ট রয়েছে যা আনন্দ হিল্লোলে পরিবর্তন হয়ে যায়। পক্ষান্তরে অনেক আনন্দ রয়েছে যা হতাশায় পরিবর্তন হয়ে যায়। বুদ্ধিমান সে ব্যক্তি যে এ ক্ষেত্রে শিক্ষা গ্রহণ করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ((তিনি দিবা ও রাত্রিকে পরিবর্তন করেন, নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানবানদের জন্য শিক্ষা নিহিত।)) [সূরা আন্-নূরঃ ৪৮]

একটি বছর অতিক্রান্ত হয়েছে গেছে, এতে যে আমল আল্লাহর বান্দাহরা করেছে তাই তাদের সামনে অচিরেই তুলে ধরা হবে। ((সে দিন মানুষকে সে আগে পিছে যা করেছে তা সম্পর্কে সংবাদ দেয়া হবে।)) [সূরা আল-কিয়ামাহঃ ১৩] সুতরাং এ দিন গুলোর আমল নামায় তুমি তোমার আখেরাতের জন্য কি সঞ্চয় করেছ? নিজেকে নির্জনে নিয়ে তা হিসাব কষে নাও।

মাইমুন ইবনে মাহরান রাহিমাহুল্লাহ্ বলেন, ((বান্দাহ মুত্তাকী হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে স্বীয় আত্মার সাথে নিজের পার্টনার এর চেয়ে ও বেশী হিসাব না কষে।)) পথ প্রাপ্ত জ্ঞানবান সে ব্যক্তি যে নিজের আত্মার সাথে বুঝাপড়া করে নিজের আত্মার হিসাব গ্রহণ করে, দিনের কাজসমূহ রাতে এবং রাতের কাজসমূহ দিনে খতিয়ে দেখে এর মধ্যে যা প্রশংসনীয় উত্তম তা বাস্তবায়ন করে যা ঘৃণীত ও তিরস্কৃত পরিত্যাগ করে ভবিষ্যতে তা না করার কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়।

আবু হাতেম ইবনে হিব্বান রাহিমাহুল্লাহ্ বলেন, "বিবেকবানদের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট সে, যে সর্বদা স্বীয় আত্মাকে সমালোচনা করে।" মূলতঃ আত্মসমালোচনার অনুপস্থিতি ব্যক্তিকে প্রবৃত্তির তাড়নায় ডুবে থাকার দিকে হাতছানি দেয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ((নিশ্চয়ই তারা হিসাবের আশা করতনা।)) [সূরা আন্-নাবাঃ ২৭]

স্বীয় দোষত্রুটি ও অবাঞ্চিত কর্ম সম্পর্কে জানা মূলতঃ বিভ্রান্তি হতে বাধা প্রদান করে থাকে। তাই বান্দাহ তার নিজের সম্পর্কে জানা, তারা কবরের পরিণতি সম্পর্কে উপলব্ধি করা তার মাঝে আল্লাহর গোলামী ও তার নিকট অবনমিত হওয়ায় বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে। এতে সে স্বীয় আমলের মাধ্যমে আত্মতৃপ্তিলাভ করে না; তা যতই না বড় হোক, পাপকে তুচ্ছ মনে করে না; তা যতই না ছোট হোক।
আবুদ্ দারদা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ((মানুষ আল্লাহর ব্যাপারে মানুষদেরকে অসন্তুষ্ট না করা পর্যন্ত সম্পূর্ণ দ্বীনের জ্ঞান লাভ করতে পারবে না, অতঃপর যখন সে স্বীয় আত্মার দিকে মনোনিবেশ করবে এতে সে তার প্রতি আরও কঠোর ভাবে অসন্তুষ্ট হবে।)) সুতরাং যখন মানুষের সাথে বসবে তখন নিজেকে উপদেশ দাও যে, মানুষ তোমার বাহ্যিকে দিক লক্ষ্য করছে আর আল্লাহ তা'আলা তোমার আভ্যন্তরীন সব লক্ষ্য করছেন। যে তার গোপনীয় বিষয়কে আল্লাহর দৃষ্টি ও ইখলাসের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ করে নেয়, আল্লাহ তার প্রকাশ্য বিষয়কে সফলতার মাধ্যমে সুশোভিত করে দেন।

আল্লাহর হক, তাঁর মহা অনুগ্রহ, অনুকম্পা ও অশেষ নে'আমত সম্পর্কে জেনে তা স্মরণ করা মহিমান্বিত ক্ষমতাবান আল্লাহর জন্য মাথা অবনত করতে বাধ্য করে। আলেমগণ বলেছেন, আত্মসমালোচনার প্রথম হচ্ছে- তুমি আল্লাহর নে'আমত এবং তোমার কৃত অপরাধের মাঝে তুলনা ও পরিমাপ করবে, তখন তোমার নিকট এ দু'য়ের মাঝে পার্থক্য প্রকৃষ্ট হয়ে উঠবে এবং তুমি উপলব্দি করতে পারবে যে তাঁর 'ক্ষমার ওয়াদা' ছাড়া কিছুই তোমার জন্য নেই। অন্যথায় ধ্বংস ও অশুভ পরিণতি তোমার জন্য রয়েছে। আত্মার দোষত্রুটি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়া মূলতঃ আত্মাকে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করতে সহায়ক। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ((যে আত্মাকে পবিত্র করল সে সফল হল, যে তাকে কলুষিত করল সে ক্ষতিগ্রস্ত হল।)) [সূরা আশ্-শামসঃ ১০]

মালেক ইবনে দিনার রাহিমাহুল্লাহ্ বলেন, "আল্লাহ সে ব্যক্তির প্রতি দয়া করেন, যে স্বীয় আত্মাকে বলে তুমি কি এমন করনি? তুমি কি এমন করনি? অর্থাৎ, তাকে ভৎর্সনা করে, অতঃপর তাকে তিরস্কার করে তার রবের কিতাব তার পরিচালনার জন্য বাধ্য করে দেয়, ফলে আল্লাহর কিতাবই তার পরিচালক হয়ে যায়।" বান্দার জন্য সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকর হচ্ছে স্বীয় আত্মার ব্যাপারে অবহেলা করা, আত্মসমালোচনা ত্যাগ করে প্রবৃত্তি তাড়িত কর্মের পিছনে আত্মাকে ছেড়ে দেয়। আর এ ঐসব লোকদের অবস্থা যারা পাপ হতে নিজেদের চক্ষু বন্ধ করে রাখে আর ক্ষমা ও দয়া অনুকম্পায় কথা বলে বেড়ায়; তারা যখন এসব করে তখন পাপকর্মের প্রতি তাদের অনুরাগ আরো প্রবল হয়ে যায়। অথচ আল্লাহ বলেন, ((হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহিয়ান রবের ব্যাপারে ধোঁকায় ফেলেছে?)) [সূরা আল-ইনফিতারঃ ৬]

হাসান বসরী রাহিমাহুল্লাহ্ বলেন, "মুমিনের একমাত্র উচিত হচ্ছে স্বীয় আত্মাকে তিরস্কার করা, এ ভাবে বলা যে, একথা দিয়ে আমি কি ইচ্ছা করেছি? এ খানা দিয়ে আমি কি চাই? আর পাপাচারী হচ্ছে সে, যে অনুতাপে সময় কাটায় অথচ স্বীয় আত্মাকে তিরস্কার করেনা। মূলতঃ মুমিন তার আত্মার উপর ক্ষমতাবান, সে তাকে সদা সর্বদা হিসাব কষে।" আল্লাহ তা'আলা বলেন, ((নিশ্চয়ই যারা আল্লাহকে ভয় করে, যখন শয়তানের কোন দল তাদের স্পর্শ করে তখন তারা স্মরণ করে, আর তারা তো সুদৃষ্টি সম্পন্ন।)) [সূরা আল-আ'রাফঃ ২০১]

এ কারণে একদল লোকের উপর হিসাব হালকা হবে; যারা দুনিয়াতে নিজেদের আত্মার হিসাব কষেছে। একদল লোকের উপর এ হিসাব অত্যন্ত কঠিন হবে; যারা এ ব্যাপারে কোন তোয়াক্কা করেনি। সুতরাং পাপে লিপ্ত হওয়ার থেকে সতর্ক থাক। জেনে রাখো, পাপকর্ম ত্যাগ করা তওবা বা ক্ষমা কামনার চেয়ে অনেক সহজতর। দিন তোমার জন্য চিরস্থায়ী হবেনা, তুমি জান না কখন তুমি দুনিয়া হতে প্রস্থান করবে? সুতরাং স্বীয় আত্মাকে জিজ্ঞেস কর, গত বছরের জন্য তুমি কি পেশ করেছ? আগামী বছরের জন্য তুমি কি প্রস্তুত করেছ। উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, "তোমরা তোমাদের আত্মার হিসাব নাও নিজেদের হিসাব দেয়ার পূর্বে, তাকে ওজন কর নিজেদের ওজন দেয়ার পূর্বে।"
সুতরাং এ বছরের শুরুতেই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত মসজিদে জামা'আতে মুসলমানদের সাথে আদায় করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হও। দ্বীনের জ্ঞান লাভ, তার প্রসার ও শিক্ষা দান এবং মিথ্যা, গীবত, পরচর্চা অশ্লীল কথা হতে জিহ্বাকে হেফাজত করার মাধ্যমে নৈতিক পাথেয় সংগ্রহ কর। খাওয়া দাওয়া, হারাম পরিহার ইত্যাদি ক্ষেত্রে সতর্কতা ও পরহেজগারী অবলম্বনকর, মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতি অনুরাগী হও। নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সবার জন্য ন্যায় ও কল্যাণকর কাজ করতে সচেষ্ট হও, হিংসা বিদ্বেষ ও শত্রুতা হতে অন্তরকে পবিত্র রাখ।

মানুষের সম্মান হনেনের ক্ষেত্রে সতর্ক হও। "সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ" -এ নিদর্শন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা কর। সন্তান, স্ত্রীসহ সকলের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে ব্রত হও। রাস্তাঘাটে ও সেটালাইট মিডিয়ায় হারাম বা নিষিদ্ধ দৃষ্টি হতে নিজের চক্ষুকে অবনত রাখ। মনে রেখো, রাত্র-দিন দুনিয়া হতে দূরে সরে যাচ্ছে এবং আখেরাতের নিকটবর্তী হচ্ছে। সুতরাং সে বান্দার জন্য সুসংবাদ, যে নিজের জীবন হতে উপকৃত হয়েছে এবং গত বছরের আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নতুন বছরকে গ্রহণ করেছে। প্রতি দিনের সূর্য অস্তমিত হয়ে তোমাকে তোমার জীবন কমে যাচ্ছে- এ সতর্ক সংকেত দিচ্ছে। বিবেকবান সে, যে গত দিন হতে উপদেশ নেয় এবং আজকের জন্য সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে আগামী কালের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেয়।

সুতরাং নিকটবর্তী সফরের জন্য রসদ প্রস্তুত কর। সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে যাতে আল্লাহভীতি রয়েছে তা, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মর্যদাবান সে ব্যক্তি যে তাঁকে সবচেয়ে বেশী ভয় করে। তিনি বলেন, ((হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর, আগামী দিনের জন্য মানুষ কি পেশ করেছে সে যেন তা দেখে নেয়। আর আল্লাহকে ভয় কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমরা যা করছ তা সম্পর্কে সম্যক খবরদার।)) [সূরা আল-হাশরঃ ১৮]

হে ঈমানদারগণ! আরবী বছরের শুরু হচ্ছে মহর্রম মাস দিয়ে, (আমরা আমাদের বাংলা সন এবং ইংরেজী সনের নববর্ষের ক্ষেত্রেও এ থেকে শিক্ষা নিতে পারি) এটি আল্লাহর পক্ষহতে হারাম মাসসমূহের একটি, এর মর্যাদা অনেক। এতে মূসা 'আলাইহিস্ সালাম ফির'আওন সম্প্রদায়ের উপর বিজয় লাভ করেন, এর ফযীলতের মধ্যে রয়েছে, এতে বেশী বেশী সিয়াম সাধনা করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ((রমাদানের পরে সর্বোৎকৃষ্ট সিয়াম হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার হারাম কৃত মাস মুহর্রমের সিয়াম সাধনা। ফরয সালাতের পর সর্বোৎকৃষ্ট সালাত হচ্ছে রাতের সালাত।)) [মুসলিম]
এ মাসের সর্বোৎকৃষ্ট দিন হচ্ছে 'আশুরার দিন। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, ((রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করলেন, দেখলেন ইয়াহূদীরা 'আশুরার দিনে সিয়াম পালন করত। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ দিনটি কি যাতে তোমরা সিয়াম সাধনা করছ? তারা উত্তর দিল, এটা মহা দিবস, আল্লাহ্ এতে মূসা এবং তার সম্প্রদায়কে ফির'আওন হতে মুক্তি দিয়েছেন, ফির'আওন এবং তার দলবলকে ডুবিয়ে মেরেছেন। তাই মূসা শুকরিয়ার জন্য সিয়াম সাধনা করেছেন, সেজন্য আমারাও তা পালন করি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমরা তোমাদের চেয়ে মূসার ব্যাপারে অধিক হকদার, তখন তিনি সওম বা রোযা পালন করেন এবং সিয়াম পালনের নির্দেশ দেন।)) [বুখারী ও মুসলিম]

মুসলিমের এক বর্ণনায় আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু হতে এসেছে, ((রাসুল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলোঃ আশুরার দিন সওম বা রোযা পালনের ফযীলত সম্পর্কে তিনি উত্তরে বললেন, পূর্ববর্তী বছরের পাপ আল্লাহ্ মুছে দিবেন এ আশা আমি করছি।)) তিনি (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইয়াহূদীদের বিরোধিতা করার লক্ষ্যে এ দিনের আগের দিন রোযা রাখতে প্রবল ইচ্ছা ব্যক্ত করেন, তিনি এরশাদ করেন, ((আগামী বছর আমি জীবিত থাকলে নবম তারিখে অবশ্যই রোযা রাখব।))

সুতরাং মুসলমানদের জন্য মুস্তাহাব হচ্ছে দশম তারিখে রোযা রাখা। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণ কল্পে আল্লাহর নিকট সওয়াবের কমনায়, আর ইয়াহূদীদের বিরোধীতার লক্ষ্যে একদিন আগে অথবা একদিন পরে রোযা রাখা (অর্থাৎ, মোট দু'টো) এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতে যেভাবে সাব্যস্ত হয়েছে তার বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে। এটা আল্লাহর অঢেল নে'আমতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম তার জন্য, যে বান্দাহ বছরের শুরু করবে সর্বোত্তম নেক আমলের মাধ্যমে।

উৎস: মসজিদুন্ নববীতে পবিত্র জুম'আর খোৎবায় মুহ্তারাম ইমাম আব্দুল মুহসিন আল-কাসেম ০৪/০১/১৪২৪ হিজরীতে এই খোৎবাটি প্রদান করেন। এর অনুবাদ করেছেন মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র (বর্তমানে>) ড. সাইফুল্লাহ্ বিন আহমাদ কারীম। আল্লাহ্ ওনাদের সর্বত্তোম প্রতিদান দিন।

ছবি: মসজিদুন নববীর মিন্বার। লিংক: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28787702 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28787702 2008-04-14 11:40:45
=গল্প লেখার অপচেষ্টা (এটি নাম নয়, শেষ করতে পারলে পরে এডিট করে দেব)
নায়না, অগ্রাণের ধানকাটা জমির আলে আলে চলতে গিয়ে যেদিন ঘেষো ফুল কুড়িয়েছিল দু'জনায়, সেদিন নাবিল অনুভব করেছিল তার বন্ধুত্ব। ছোট চাচার তিন মেয়ের মাঝে নায়না যেন অবয়বে ছিল নাবিলের কাছাকাছি, তাই স্বজন-প্রতিবেশীরা প্রায়শঃই দু'জনের বিয়ে ঠিক করে দিত। লাজুক নাবিল লুকোতো কপাটের পাল্লায়, আর নায়না মুখ নিচু করে থাকতো সারাটি শৈশবে। যাদের সাথে রাগ দেখানো যেত, তাদের কেউ নায়নার সাথে নাবিলের বিয়ের ঘটক সাজতে চাইলে নাবিল সাধ্যানুযায়ী মগের পানি ফেলে ঘর ভিজিয়ে, বাসন-কোসন অথবা দরজা-জানালা পিটিয়ে প্রতিবাদ করতো। সে ছিল লজ্জার কিছু বহিঃপ্রকাশ, কিন্তু মন থেকে নায়নার প্রতি নাবিলের স্নেহের প্রকাশে কোন ঘাটতি ছিল না।

বুকের ভেতর পাথরটি আবারো টগবগিয়ে উঠে, এ যন্ত্রণা যেন নাবিল নিজ থেকে যুক্ত করে নিয়েছে নিজের বুকের সাথে অথবা যোগ করে দিয়েছেন অন্তর্যামী। নাবিল আজো সিদ্ধান্তের সীমানা মাড়াতে পারেনি- কেন সে ব্যথিত হয় নায়নার জন্য, এ কি দায়িত্ববোধ না কি চেতনার অগোচরে সুপ্ত মনের ভালবাসা? এ কি স্বজনের প্রতি দরদ, না কি প্রিয় কিছু মুহূর্তের সঞ্চিত অনুরণন?

নাবিল জানে না সে উত্তর, বুকের ভেতর কেবলি নায়নার নাম লেখা কষ্ট-পাথরটি টগবগিয়ে উঠে, আঘাত করে হৃদয়ে, রক্ত ক্ষরণ হয়, সে রক্ত ক্রমশ নীল থেকে কালোয় রঙ বদলায়, হৃদয় যন্ত্রটি শুষে নিয়ে খেয়ে ফেলে সবটুকু রক্ত....কষ্ট....এবং শোধন করে ফিরিয়ে দেয় বিশুদ্ধ লোহিত কণা। এভাবেই বেদনা খেয়ে-পরে কাটছে নাবিলের আহত দিনকাল।

অথচ স্কুল-কালের শ্রেণীকক্ষের দুয়ার ধরে দাঁড়ানো নায়নাকে সে আজো দেখতে পায় সুস্পষ্ট, যদিও সহপাঠিনীদের হৃদয়ের টানই বেশী অনুভব করত নাবিল। ধমকি দিয়ে নায়নার অবয়বে এক ঝটকা কালি লেপ্টে দিত বন্ধুদের 'বউ এলো রে...' জাতীয় চোখটেপা শব্দাবলী শুনে, অথচ চলে যাবার পর নায়নার জন্য খুব মায়া হত......কখনো কখনো অশ্রু মুছতো নায়না.......নায়না........নায়না; একটা শূন্যতা দেখা দিত মননে তখন।

নাবিলেরা গ্রাম ছেড়েছিল যেদিন পৈতৃক বাড়ীতে লোকের অভাব দেখা দিল। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য যেন পুরুষেরা দূরের কোন শহরের চাকুরে হবে, মাঝে মাঝে পত্র দিবে, মাঝে মাঝে প্রিয়জনের টানে বাড়ী আসবে, আবার বৈদেশে ফিরে যাবে, আবারো দূরত্বের টানাপোড়নে ভেজা তোয়ালের মত মন থেকে নিংড়ে নিবে ভালবাসার কষ্টগুলো।

যেদিন শহুরে জীবনে পাড়ি জমাবে তার ঠিক আগের দিনের স্বল্পজমা সান্ধ্য-আঁধারে নায়নাকে নিয়ে ফিরছিল নাবিল। বায়নার কাছে হার মেনেই রাযী হতে বাধ্য হয়েছিল অমন লাজুক ছেলে, নয়ত তার লাজুক মনে সেদিন লাল আভা ছড়িয়ে পড়ার পরিবর্তে যেন রক্তই ঝরছিল এই ভেবে যে, নায়নার নানাবাড়ী থেকে ফেরার পথে যে স্কুল ঘিরে গড়ে উঠা গ্রাম্য বাজার, রাস্তার কোণের দোকান আর হাজার পরিচিত মুখের অর্থবহ হাসি.....কোন কোন মুখ থেকে ফসকে বেরিয়ে আসা দুনিয়ার সবচেয়ে লজ্জাকর শব্দটি যেন- 'হুম...বউয়ের সাথে ভাবখানা তো ঠিকই আছে, আমরা বললে দোষ....'। আহা! বেচারী নায়না সেদিন যেন দৌড়ে ফিরলো নাবিলের পিছু পিছু, নাবিল যেন পালিয়ে বেড়াচ্ছে মুক্তি পেতে আর নায়না যেন খুঁজে ফিরছে হৃদয়ের স্পর্শ দিতে.......এভাবেই পৌঁছুলো ওরা দীর্ঘ বিচ্ছেদের পূর্ব সাঁঝ।

১৩.০৪.২০০৮
(অসমাপ্ত)

ছবিটি নিলাম যেখান থেকে: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28787303 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28787303 2008-04-13 04:08:23
= স্বার্থবাদী দেখে কার্যকলাপ
দেখে আলাপ-সালাপ
দেখে পক্ষান্তরে অংশীদারিত্বের দখলী ফাগুন।
কখনোই মানুষ নিঃস্বার্থ নয়, হতে পারে না
খুব চোখে লেগে গেলে আমরা বলি স্বার্থপর,
যা কিছু নগদ পেরিয়ে সঞ্চিত হয় ধীরে অনাগত বাকীর ঘর
তাকে যদি বল নিঃস্বার্থতা; তুমি সুবিচারের ধার ধারো না।
আগমনে যেমনি আমরা একাকী, পাওনাকে বুঝে নিতেও ঠিক
সর্বাগ্র চিন্তনে নিজেকেই গুনি আগে
এতটুকু কম নিতে যাব কেন যা কিছু পেয়েছি ভাগে
যদি ছেড়ে দেই কিছু দান-অনুদানে; সে আরেক বিনিময়ের দিক।
যদি বুঝতে কেনই বা ভালবাসে মানুষেরা মানুষে ও জড়-জীবে
কি পাওনা সেখানে বস্তু-নিচয়তায়
কি লাভ লুকিয়ে এই মায়া-মমতায়
নিজের জন্যি ভালবাসি মোরা; আপন সুখেই বুকে তুলে নিবে
জননী পুত্রকে, প্রিয় প্রেয়সীকে, অনুসারী আদর্শকে এবং যা কিছু
প্রিয়তর আর যা কিছু মননে ও চিন্তনে প্রশান্তি এনে দেয়,
চির অনাগত সুদিনের সঞ্চয়ে জমা করে নেয়
অরিরিক্ত লভ্যাংশেও কিছু সুখ মেলে সম্পাদনের পিছু পিছু....।

ভূ-গোলক জুড়ে নিঃস্বার্থ নেই কোন কিছু ভাই
বুঝেও অবুঝের মত কেবলি স্বার্থহীনতার হেঁয়ালীই করে যাই।

০৯.০৪.২০০৮
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

ছবি কৃতজ্ঞতা: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28786353 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28786353 2008-04-09 14:57:14
= মোহময় জীবনের আহত দিনকাল লিখিনি বহুদিন, সে এক নির্মম সত্য, সত্য নয় এ যে, ভুলে থেকেছি। আকাশ থেকে যদি বসন্তদিনে বৃষ্টি নামে আমরা কাজ ভুলে সীমের বিচিতে আনন্দ খুঁজে ফিরি। দায়িত্ববোধ তখন গৌণ হয়ে পড়ে কিছু সময়ের জন্য হলেও। তুই কি ছেলে বেলার কখনো বেলুন ফুলিয়েছিস? আমি ফুলিয়েছি, বহু কসরতের পর যখন মুখ থেকে বাতাসগুলোকে বেলুনে পাঠাতে পারতাম, তখন আনন্দে বেলুনের মত বুকের পরিধিটাও যেন ফুলতে শুরু করত। বেলুন ফুলছে, গর্বিত বুকটাও ফুলছে, ক্ষণিকের জন্য ভুলে যাই সীমানা, পরিধি, ধারণ ক্ষমতা; এবং বেলুন ফাটে, ফাটে বুকের দেয়াল, সে দেয়াল বেয়ে দৃষ্টি-পথে আষাঢ়ের আগেই নেমে আসে বর্ষা। আমায় ভিজিয়ে দেয়, নাইয়ে দেয়, মোহ থেকে পরিচ্ছন্ন করে তোলে।

"মোহ"! শব্দটাই যেন তুমুল নেশাখোর। কিন্তু এ ছাড়া জীবন পানিহীন মরুভূমি। নেশার নাম কি শুধু হেরোইন, মরফিন, প্যাথেডিন? অথবা পাতার বিড়ি, সিগারেট, দাঁতের নীচের গুল কিংবা জর্দাদেয়া পান? মন্দ-ভালোর দুনিয়াতে নেশা শব্দটিও কেবলি প্রান্তিক নয়; দু'প্রান্ত ও মধ্যপন্থা নিয়ে সেও জাগতিক নিয়মেরই ভাগীদার। যে ভাগীদার আমিও একজন, মোহরূপী নেশা নিয়ে। জীবনের নেশা, সত্যের মোহ, কর্মের মোহ, কিছু করে যাবো ক্ষুদ্র এ জীবনে-এ মোহ, কিছু যেন লুকিয়ে রয়েছে আমাতে –হয়ত এ ভ্রান্ত নেশা, ভালবাসতে চাওয়ার নেশা, কষ্টের ঘোরলাগা নেশা; কি নেই মাতাল জীবনে বল?

আজকাল সুরক্ষিত দুর্গের চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্র অনেক প্রিয় মনে হয়, তুই কি জানিস কোন আঘাতে কষ্ট বেশী? সহযোদ্ধার না কি শত্রুর? আমি এখনো অংক কষছি মননের হিসাব যন্ত্রে। জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়েছি, একটা সরল রেখায় পথচলা আজন্ম পছন্দ। বন্ধুরা বলতো: ভালো পথ দূর(আঁকাবাঁকা) ভালো। আর আমি বলতাম: সরল পথ বন্ধুরও ভালো। আমার সরলী ধারায় অন্য পথের ক্রস পয়েন্টে বরবারই আহত হয়ে এসেছি; নীতির এ বোকা (জগতের হিসেবে) পথে হয়ত আরো অনেক আহত সময় অপেক্ষমান আমার জন্য, অবশেষে নিহত শেষক্ষণও হয়তবা.....।

সময়টাকে স্পর্শ করতে চাই বারে বার, কিন্তু সে যেন আত্মার মতই অস্পৃর্শ।
ভালো থাকবি; আমার জন্য।

তোরই-

ফএমু

(মননের এ অর্থহীন প্রকাশ থেকে কেউ অর্থ খুঁজতে যাবেন না; নিরর্থক প্রমাণিত হয়ে যেতে পারেন।)

০৫.০৪.২০০৮, মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

ছবির জন্য কৃতজ্ঞ যেখানে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28785400 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28785400 2008-04-05 13:12:14
= যন্ত্রণার মাঝে মৃত্যুর ঘ্রাণ মৃত্যুকে খুব কাছাকাছি মনে হয়;
ঘুরো ঘুরি করছে যেন সে আমারি ঘরে
যদিও নিশ্চিত, সময়ের আগে কখনোই সে আসার নয়।
মৃত্যুতে ভীত নই কখনো আমি
হাঁ, কিছুটা সন্ত্রস্ত বটে,
কোথায় নিয়ে যাবে? সেখানেই তো, যেখানে অন্তর্যামী
আমি শুধু শংকিত তাকিয়ে জীবনের তটে;
কি আছে সেথায়?
একখানি অবুঝ শৈশব
যৌবনের প্রারম্ভ ঠিক শৈশবের মতই যেথায়
মৃত্যুকে সাদরে আমন্ত্রণ জানানো মত নেই কিছু বৈভব।
এখন তো চলছি সত্যের রাজপথ ধরে
কিন্তু সহজেই কি ছেড়ে দিচ্ছে আঁধারের অলিগলি,
জীবনের বৃষ্টিকণার সাথে এখনো যে বাতাসের ধুলো পড়ে
আমার সাদা অন্তরে দাগ ফেলে পঙ্কিলতার পলি
সে পলি উর্বরা নয়; জন্মে না শস্য তাতে
আজন্ম মানুষ বলেই বুঝি পারিনা বিশুদ্ধ হতে।
সদা শঙ্কিত মন- কি হবে সাঁঝের পরে জীবন-রাতে
এখনো নিমজ্জিত যেন জগতের নানা মতে,
কেউ বলে: কবি তুমি মোটেই জীবনবাদী নও
আমি বলি: শুধুমাত্র জীবন বাদীতা আমায় মৃত্যু ভুলিয়ে দেয়
অনন্ত জীবনের সাথে পার্থিবতার তুলনা দু'হাতে লও
দ্যাখো, কি দিলো পার্থিবতা? দিয়ে দিয়ে কেবলি নিয়ে নেয়।
মরণ চিন্তা আমায় জীবনকে গোছাতে শেখায়
জীবনের লাগাম টেনে ধরি সুদূর পথের যাত্রী উৎসুক,
তবু এই জীবনের স্বাদীয় কলম আমাকে দিয়ে লেখায়
কিছু প্রিয় ছোঁয়া, কিছু মমতায় মাখা ভালবাসার সুখ।

মাঝে মাঝে আমি নিদারুন মুত্যুমুখী হয়ে পড়ি
যন্ত্রণার ধূসর পর্দায় ভেসে উঠে তখন কিছু প্রিয় মুখ,
কষ্টের সাথে জীবনের বাজী রেখে নিরন্তর ল'ড়ি
পথ্যের মত খুঁজে ফিরি তখনো কিছু গত-আগত কিছু সুখ।

৩০.০৩.২০০৮
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

ছবি: নিজস্ব।
(খুব যন্ত্রণা হচ্ছিল, কবিতাটি লিখে কিছুটা উপশম এলো যেন....)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28783986 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28783986 2008-03-31 00:31:56
= কে আছে আজ উঠবে ঐ আকাশে বসিয়ে দিয়েছ যেন তার কক্ষের শান্তিময় পথে
তাই তো তোমাতে অশোধিত থেকে যাবে চিরদিন
এই ধরনীর দেনা অন্তহীন
তোমার স্নেহের হাত বুলিয়ে যায় আজো মরুতে
সুন্নাতের বহমান ঝর্ণাগুলো এনে দেয় মরুদ্যান
সাগরতীরে তটে ইনসাফের মাঝে তোমার ন্যায় বিচার
মজলুম মানুষেরা তোমার বিরহে আজো অশ্রু ঝরায়
যদি বুঝতাম তবে জানতাম বনের পাখিরা গায়
তুমি হীন অথবা তব আদর্শচ্যুত মৃত প্রায়
সভ্যতার বেদনা ব্যাকুল কাসিদা
আকাশ চষে তুমি নিয়ে এলে একদিন
এ ধরার শান্তি সমাহার
আজ আর কেউ নেই উঠবে ঐ আকাশে
নিয়ে আসবে কাউসার
তব সুন্নাতের ছড়ানো রজ্জুতে আজো হে নবী
যেন কবর থেকেই আমাদের কর উদ্ধার
এ ভূ-নরকের অগ্নি-প্রজ্জ্বলনে
নগন্য আমি আজি বলছি এক্ষণে-
সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তোমার তুলনা কেবলি তুমি হে প্রিয় নাম!

২৪.০৩.২০০৮, মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

ছবি: নিজস্ব।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28782200 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28782200 2008-03-25 01:34:51
= শান্তি-ভূমির পত্তন করেছি সবিনয় অনুরোধ
আমায় একখানি মানচিত্র এঁকে দাও
কি চাই তোমার
ক্যানভাস .....
আমার শরীরের চামড়া খুলে নাও
তুলি করে নাও সরু হাড়গুলো
শীর্ষে বেঁধে দাও চুলের গোছা
শ্মশ্রুর ঢেউ-খেলা শেষটুকু....

হে চিত্রকর!
আমায় একখানি মানচিত্র এঁকে দাও
রঙ-প্রয়োজনে রক্তের সবটুকু নাও
দু'চোখের জলে ভরে দাও নদীগুলো সব
পশমে পশমে বুনে নাও সবুজ শস্যক্ষেত
মাংসে মাংসে ভরাট কর উর্বরা ভূমি..

স্বপ্নগুলোকে শুধু ছড়িয়ে দাও আকাশে আকাশে
সাদা সাদা মেঘেদের গায়ে লিখে দাও-
'প্রতিষ্ঠিত শান্তির সোনালী ভূমি'....

২০.০৩.২০০৮
আন্-নুজলা, জেদ্দা, সউদী আরব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28780903 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28780903 2008-03-20 18:30:36
www.islamqa.com এ সাইটটি বাংলা করার আবেদন করুন
আপনাদের অনুরোধ করছি যদ্দুর সম্ভব অনুরোধ জানান সাইটি বাংলায় অনুবাদ করার আহ্বান রেখে।

www.islamqa.com

আবেদনটি করতে হবে উক্ত সাইটে মেইল পাঠিয়ে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28780322 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28780322 2008-03-18 22:55:11
= শিখতে হবে নতুন ধারাপাত এ কোন সন্ধিক্ষণে জ্বলছে অনুভব
তাড়িত বাতাস নেই উত্তরী
ধোঁয়াগুলো মেঘ হয়
মেঘেরা হয় না বৃষ্টিময়
দৃষ্টিরা ঝাপসা হয়ে আসে মধ্যাহ্ন প্রখরে
ঐখানে ঐকান্তিক তুমি কে বসে হে
নাও তুলে আপনার চিন্তার সঞ্চয়
যুগের পথে প্রান্তরে হয় রাহাজানী
মাথা নয়; চুরি হয় হেথা
মগজে উৎপাদিত ফসল
সজ্ঞানে-অজ্ঞানে হও যদি সওদার মালামাল
এক জীবনের সবটুকু প্রশমনে যাবে না সে ব্যাথা
দু'চোখে পানির ঝাপটা নয়
এ যুগের চোখে দূরত্ব দেখার ক্ষমতা বিবেচ্য হয়
দু'বাহুতে শক্তি কত প্রবল সে গৌণ অতীত
যুক্তি ও প্রযুক্তিতে কতটা পাকিয়েছা হাত
ধোঁয়া ধোঁয়া মিলোনিয়ামের বাতাসে
তোমাকে শিখতে হবে নতুন এক ধারাপাত.....

১৮.০২.২০০৮
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

ছবি: নিজস্ব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28780291 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28780291 2008-03-18 21:13:50
= গত-বিগতের কথা দশকের শেষে এসে যৌবন পেয়েছে সে
অগণন অব্দের ভারে বৃদ্ধ-ক্লান্ত পৃথিবীকে
অনুজ ভাবতে বাধেনি তার অবশেষে
রক্তের গতি ছুঁই ছুঁই করে শতকের ঘর
রঙধনু থেকে সব রং ঝরে দৃষ্টির সীমানায়
বুঝেনা ভালবাসা কে আপন কে সে পর
হাওয়ায় দোলা হৃদয় কেবলি হারায়
কখনো ব্যস্ত হয়ে উঠে প্রান্তিক মেরুদ্বয়
অক্ষ-দ্রাঘিমায় পাওয়া-নাপাওয়ার টানাটানি
ইমারত গড়ে স্বপ্ন-প্রকৌশলী দিবস-রজনীময়
দু'চোখে দু'কানে দু'য়ে দু'য়ে হয় সুগোপন কানাকানি
আকাশের পানে তাকাবার কারো থাকে নাকো ফুরসৎ
চার দেয়ালের বিশ্ব সৃজনে তৎপর চার হাত
এভাবে কখন ফুল ফোটে; ফল পায় খুঁজে তার জগৎ
বিগত সে দশকেরে বুঝি হাতছানি দেয় রাত
ফিকে হয় রং কুয়াশায় ঢাকে জীবনের চারদিক
সাঁঝের সলিলে দূর হতে আসে রাত্রির আহ্বান
সাগরের বুকে বিকেলী কিরণ করে শুধু ঝিকমিক
রঙ্গমঞ্চে দশকিরা কিছুদিন গায় জীবনের জয়গান...

১৬.০৩.২০০৮
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

ছবির জন্য কৃতজ্ঞ যেখানে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28779721 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28779721 2008-03-16 23:00:45
=শকুনেরা মুক্তিযোদ্ধার সুসম্মানি ঊর্দিতে বাংলার যমীনে খুঁজে ফেরে গলিত লাশ!
চোখালো ঠোঁটের তপ্ত ক্ষুধা দু'চোখে
ধিকিধিকি জ্বলে নিরন্তর জাহান্নামের আগুন
চাই ইন্ধন;
চাই খুলিতে লুকোনো মগজ
মানুষের ডগমগে চোখ
নরম গোশত এবং
দীর্ঘতম অন্ত্র;
জীবন!

আমরা পেরিয়েছি একাত্তর
চেতনায় অম্লান স্বদেশের স্বাধীনতা,
আমরা বুঝেছি পরাধীনতার জ্বালা
আমরা যুঝেছি শত্রু শক্তিমান
আমরা এনেছি মুক্তির বারতা।

দেখেছি যুদ্ধ!
ধ্বংস হতে দেখেছি প্রিয় জন্মভূমি
ত্রিশ লক্ষ জীবন খেয়েছে একদার শকুনেরা
আজ আবার সবুজ ভূমির গাঢ় নীলাকাশে
এ কোন শত্রু-শকুন?
পাকা শস্যের ক্ষেতে যেমনি পঙ্গপাল;
পনর কোটি 'সবুজ হৃদয়' যে বাগানে ফুটে আছে
কোন সে হুতুম চুপিচুপি লুকিয়েছে?

হানাদার নয় ওরা; এসেছে সবুজ মনের মাঠে
ফলাতে আত্মহন্তারক!
আপনার বুকে আপনি চালাবে ছুরি
বাংলার স্বাধীনতা, সুখ-শান্তি অসহ্য উহাদের।

ভেবেছ কি ওহে! আজো বিক্রিত নও যে জন,
শকুনেরা লাশ দেখিয়েছে রাজপথে ২৮ অক্টোবর
তারপর চঞ্চু ঘষতে নিয়েছিল বেশটুকু সময়
এক্ষণে চাই "আরেকটি একাত্তর"!
ত্রিশ লক্ষ গলিত লাশ
এক নদী রক্ত
ইজ্জত
প্রাণ
!
১৫.০৩.২০০৮
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।
ছবির জন্য কৃতজ্ঞ যেখানে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28779404 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28779404 2008-03-15 18:39:07
= নারী সম্মানিতা মানুষে একজন মানুষ; এতে কি কোন সন্দেহ করতে পারি?
সন্দেহ আমাদের অনুভূতিতে
প্রারম্ভ ছিল যার সুদূরের অতীতে।
শক্তির ব্যবধানে
ভূমিকার প্রকাশিত প্রমাণে
যা কিছু বাস্তব, সৃষ্টিগত সত্য চিরদিন
তাকে পুঁজি করে মগজে ভ্রান্তির চাষাবাদ কেন নিশিদিন?

পুরুষের পাঁজরে নারীর জন্য ভালবাসা সে-ই প্রথম থেকে
মাঝখানের ইতিহাসে বারে বারে পথেরা গেছে এঁকেবেঁকে
মননে, মগজে, পরিবেশে, সমাজে খেয়ালীপনা
ধরনীর দু'বাহুকে করেছে পরস্পর বিপরীতমনা;
অথচ একজন পৃথিবী চষে অর্জন করে সম্পদ রাজি
অন্যে সাজায় ধরনী সুন্দরে-সন্তানে রেখে জীবনের বাজী।
এ হাতে শাবল যমীনে শস্য খোঁজে
ও হাতের চুড়ি রিনিঝিনি সুরে নিশিথে দু'চোখ বোঁঝে,
এখানে পাথর ভাঙ্গা ভালবাসা
ঐ অন্তরে স্বপ্ন গজায় পান করে আলো-আশা
কি করে করবে অস্বীকার
শিশুর যতনে মা'র মমতার নেই কোন প্রতিকার;
টিউবে অথবা পালিতার কোলে যত্নই শুধু পেলে
স্নেহ-মমতা সবটুকু ছায়া মা'র বুকে পাখা মেলে।
জননীর পরে বধু হয় নারী অবশেষে সোনামনি
নারীর মাঝেই লুক্কায়িত আছে মানবজাতির খনি
পরম স্রষ্টা আধেক পুরুষে আধেক দিলেন নারীতে
জন্মে, কর্মে, স্বপ্নে, সাধনে সমান্তরাল সারিতে।

আজি নারী-পুরুষ নয়; বলবো মানুষেরে:
কোথায় লুকিয়ে ব্যবধান; প্রশ্ন কর বিবেকেরে
বৈষম্য তোমাদের মগজে-অন্তরে
উতারি দাও তারে যুগে যুগে সদোরে-অন্দরে
মন থেকে ঘরে
ঘর হতে সমাজের পরে
সমাজের শরীর বেয়ে সভ্যতার আঁতে-পাতে;
তোমাদের বিকৃতি যেথা যেই অনুপাতে
সেথা নারী নয়; নির্যাতিত হয় মানুষ
এবারে নাও বুঝে অর্জিত খেতাব: "মানুষের বেশে ফানুস"।

১৩.০৩.২০০৮
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

ছবির জন্য কৃতজ্ঞ যেখানে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28778803 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28778803 2008-03-13 15:08:45
হাদীসের অবস্থা যাচাই করতে বিগত শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদীস বিষারদ 'নাসিরুদ্দীন আলবানী'র মতামত জানুন
হাদীসের অবস্থা যাচাই করতে বিগত শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদীস বিষারদ 'নাসিরুদ্দীন আলবানী'র মতামত জানুন

......................বিস্তারিত এসে যাবে।

ছবি: নিজস্ব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28777892 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28777892 2008-03-10 03:13:40
= অপূর্ণ পিয়াস পুরোনো দিনের ডায়রী থেকে-

তুমি তো রইলে অলখে,
রাহমাতুল্লিল 'আলামীন এলেন তাদের বুকে
বেদনা সইলো
বিজয়ে হাসলো;
হৃদয়ের পর হৃদয় গেঁথে ইসলামে
'পূর্ণতা'-মালা পরালো।

তুমি তো অলখেই আছো
হাবীবুল্লাহ্ নেই শূন্য ধরনী-বুকে
জীবনের পর জীবন বিলিয়ে
কার সাথী হবো বলো?
দুঃখ-রজনী পাড়ি দিয়ে দিয়ে
কি নিয়ে বাঁচবো বলো?

১৩.১২.২০০০
রয়েল কমিশন, ইয়ানবো, সউদী আরব।

ছবি: নিজস্ব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28777887 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28777887 2008-03-10 02:40:06
= নারী দিবসে একজন নারীর পোষ্টে কৃত মন্তব্য প্রথমে বলতে চাই 'কণা' যে পোষ্ট দিয়েছেন, তাতেই খুশী। বহু দি--ন পর।

সময়ের অভাবে স্বাভাবিক ব্লগিং বা লেখালেখিতে অংশ নিতে পারছি না, ঠিক ধরেছেন। (আমি লেখা নয়; মন্তব্যে অংশ নেয়ার কথা বুঝিয়েছি) মন্তব্যটি তুলে রাখবো বলে ব্লগে রেখেছি, যদি কখনো সময় ও আগ্রহ মিলে তো বিস্তারণ করবো ইনশাআল্লাহ।

তারপরও, সংক্ষেপে ব্লগার কণা'র প্রশ্নগুলো নিয়ে বলি-

"নারীর মানবাধিকার প্রাপ্তির প্রধান অন্তরায় কি? পুরুষ? সমাজ? ধর্ম? নাকি মানসিকতা (নারী-পুরুষ উভয়ের)? অথবা অন্য কি কি কারণ থাকতে পারে বলে আপনার ধারণা?"

-এ কথাগুলোতে দৃষ্টিপাত করি:
=প্রধান অন্তরায় মনে করছি 'অজ্ঞতা' (ব্যাপকার্থে) এবং তা পুরুষ-নারী উভয়েরই।

=পুরুষ নারীর 'মানুষ' হওয়া বিষয়ে অজ্ঞ বলেই নারীকে যথার্থ মানুষের মর্যাদা দিতে পারে না।

=সমাজ গঠিত হয় মানুষদের নিয়ে, মানুষের মাঝে সামাজিক নেতৃত্বে রয়েছে পুরুষ, সেই পুরুষই যদি নারীদের মনুষ্যত্ব, গুরুত্ব, মর্যাদা, সমাজ গঠনে ভূমিকা ইত্যাদি ব্যাপারে অন্ধত্বে নিপতিত থাকে; তবে শিক্ষা পাক বা অশিক্ষিত থাকুক, বুঝতে হবে অন্ধত্ব নামক মূর্খতাকে সে অতিক্রম করতে পারেনি।

=ধর্ম সম্পর্কে যদি বেড়াজালে আটকা পড়ে কেউ তবে সে দেখতে পাবে নারী মর্যাদার বিভিন্ন রূপ। কোথাও দেবী, কোথাও ডাইনী। তাই ধর্ম নির্বাচনের উপর নির্ভর করছে নারীকে মর্যাদা দান বা সম্মাননা দানের বিষয়টি।

=মানসিকতাকে অগ্রাহ্য করার কোন সুযোগ নেই, এটা মূলত সৃষ্টিগত অবস্থা। তাই কেউ কেউ এটিকে অতিক্রম করতে পারলেও সাধারণভাবে এটা প্রায় অসম্ভব এবং ক্ষতিকারকও। কেননা, কোথাও কোথাও দেখা গেছে সৃষ্টিগত পর্যায়কে অতিক্রম করার পরিণামে সমাজ বন্ধনে ফাটল দেখা দিয়েছে; এমন ফাটল যা সভ্যতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

দেখার বিষয় যে, পৃথিবীতে প্রচলিত বিধিবিধানগুলোর কোনটি নারীকে কি চোখে দেখেছে। একসময় এ ব্যাপারটি দুঃসাধ্য হলেও এখন খুব সাধারণ। তাই নারীদের উচিত এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া যে, কোথায় তাদেরকে মর্যাদার আসনে ভূষিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ধর্ম, মতবাদ, সংবিধান ইত্যাদি সকল পর্যায়কে এক ধারায় ফেলেই এ নির্বাচন করতে হবে; তবেই সম্ভব হবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া। অন্যথা ধর্মকে বাদ দিয়ে কেবলমাত্র মতবাদ নিয়ে খুঁজলে কিছু কিছু খুঁজে পেলেও সম্পূর্ণটুকুতে ঘাটতি থাকবে আবার কেবল ধর্মে খোঁজ করতে গেলেও বিপরীত ধারাগুলোর আলোকে যথাযথ বাছাই সম্ভব হবে না। যদিও পরিপূর্ণ ধর্মে নারীর সম্মাননা ও মর্যাদা অত্যন্ত সুস্পষ্ট; তথাপি বিশ্লেষণী পদক্ষেপ নিতে হলে অবশ্যই সার্বিকতা স্পর্শ করা উত্তম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28777610 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28777610 2008-03-09 03:22:15
=মসলিনের আঙ্গুলকাটা রক্ত ঝরছে আজো এবং নীল বেনারসীর হাতে ভিক্ষার ঝুলি
আমাদের শিল্পে স্থান করে বেনারসী, আমাদের সংস্কৃতিতে, আবেগে, ভালবাসায় শাড়ীর ঐতিহ্যে 'বেনারসী' যেন ভালবাসার এক অন্যতম উপহার। নীল বেনারসীর সুতোয় সুতোয় যেন ভালবাসা গাঁথা থাকতো। ভালবাসা যে ঐক্য, সংহতি, সম্প্রীতির ধারক; একথা এ ক্ষুদ্র স্বাধীন দেশের চারপাশের শত্রুরা খুব সহজেই বুঝে নেয়। বিগত দশকে বাংলাদেশ বস্ত্রখাতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করায় পার্শ্ববর্তী দেশের দাদাগিরীতে ধ্বস নামার সম্ভাবনা থাকায় এবং বেশ কিছু দাতা দেশ ভিক্ষার বদলে নিজেদের মত চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ থেকে কিছুটা হলেও বঞ্ছিত হবার অবস্থা সৃষ্টি হওয়া এসব উন্নয়ন তাদের নিকট অসহ্য ঠেকে।

পৃথিবী আধুনিক হয়েছে, চক্রান্তেরও আধুনিকায়ন হয়েছে এখন। আগেকার সাম্রাজ্যবাদী তাদের সিপাই দিয়ে যেভাবে সরাসরি হত্যা কিংবা আঙ্গুল কেটে দেয়ার পন্থা অবলম্বন করতো, এখন সেসব ষড়যন্ত্র ও আক্রমণকে পরানো হয়েছে নতুন জামা। এ জামায় কখনো লেখা থাকে 'বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুন লেগে গার্মেন্টস ছাই', কখনো 'কে বা কাহারা গ্যাসফিল্ডে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে', কখনো 'হরতাল অবরোধে দেশ অচল' ইত্যাদি। আর এসব "ষড়যন্ত্রের জামা" তৈরীর কারখানা শত্রুরা গড়ে তুলেছে আমাদেরই বাংলাদেশে।

সীমান্তে ইঁদুরের গর্ত গলে প্রতিদিন ঢুকে পড়ছে হাজার হাজার ভারতীয় শাড়ী। আমাদের বাজারে কখনো চুক্তির মোড়কে, কখনো চোরাচালানের হিড়িকে দৌরাত্ম করে ভারতের বস্ত্র। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শিল্প নয়; শুধুমাত্র বাঁচার স্বপ্ন দেখেন আমাদের গরীব তাঁতীরা। এক সময় তাঁতে মাকড়সা বাসা বুনে, ইঁদুর সুতো কাটে, তাঁতের গর্তে জমে উঠে কাটা সুতো, তাঁতের টুকরো শরীর, কবর হয়ে যায় আমাদের বেনারসী শিল্প! আমাদের তাঁতীরা ভিক্ষার ঝুলি হাতে তুলে নেন, ঋণের দায়ে জীবন থেকে পালানোর পথ খুঁজে ফেরেন, অর্ধাহার-অনাহারে মৃত্যুর প্রহর গোনেন; তবু আমাদের দেশপ্রেমিক নেতৃবৃন্দের নজর কাড়তে পারেন না তারা। আপনারা কি বলে দেবেন হে জাতির নেতাগণ! আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আমাদের তাঁতীদের আর কি কি কুরবানী করতে হবে?

তুহিন সানজিদের লেখাটি পড়ুন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28776569 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28776569 2008-03-05 13:24:25
সউদী আরবে বাংলাদেশীদের ব্যাপক ধরপাকড়
গত ক'দিন আগে সউদী আরবের মদীনা মুনাওয়ারার 'বাংলা গলি' (যদিও একসময় গলি ছিল, এখন পরিবর্তন হয়েছে) এলাকার পুরোটাই পুলিশ ঘেরাও করে ফেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৈধ পরিচয়পত্রহীন ও সন্দেহভাজন প্রায় পঁচিশ জনের মত ধরে নিয়ে যায়।

শ্রমবাজার হিসেবে প্রায় বিশ লাখ বাংলাদেশীদের কর্মদেশ সউদী আরবে এহেন দূরবস্থা নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ খুবই জরুরী। কেননা, সউদী সরকার কোন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে তার প্রভাব পার্শ্ববর্তী আরব দেশগুলোতেও পড়বে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28776564 http://www.somewhereinblog.net/blog/Fazleblog/28776564 2008-03-05 12:41:30