
অবশেষে আজকে দেখে ফেললাম এই মুভিটা।রানিং টাইম খুব বেশি না।মাত্র ৯৩ মিনিট।আমার কাছে দারুন লেগেছে।মুভিটির কাহিনী বেশ ফাস্ট,জমজমাট আর টান টান।বেশ এনগেজিং।Sci-Fi | Thriller মুভিগুলো যেরকম হয় আরকি।আপনারা যারা টনি স্কটের Deja Vu (2006) দেখেছেন।অনেকটা ঐরকমই মুভিটা।
Source Code মুভিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন Jake Gyllenhaal।এই পোলাটারে অবশ্য আমার তেমন সহ্য হয় না,তবে এই মুভিটিতে তার পারফরম্যান্স বেশ ভালো লেগেছে।এছাড়া Michelle Monaghan আর Vera Farmiga এর অভিনয়ও ছিলো উপভোগ্য।যদিও মুভিটিতে নিজেকে মেলে ধরবার মতো তেমন চরিত্রের অবকাশ নেই, কারন সিনেমার প্লটটি ছিলো সবচেয়ে শক্তিশালী দিক।আর এটি আপনাকে বেশ ধরে রাখবে,অন্য দিকে মাথা ঘামানোর কোনো সুযোগ নেই।মুভিটি গত এপ্রিল মাসের ১ তারিখে রিলিজ পায়।বক্স অফিসে অবশ্য মুভিটির অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়।৩২ মিলিয়ন ডলার বাজেটের এই মুভিটি আমেরিকায় ৫৪ মিলিয়ন ডলার এবং ওয়ার্ল্ডওয়াইড ১২০ মিলিয়ন ডলার ব্যবসা করেছে।
যাই হোক,এবারে কাহিনীর দিকে একটু নজর দেয়া যাক।আগেই বলেছি, মুভিটি Sci-Fi মুভি।এই জেনারের মুভিগুলোর কাহিনী বলাটা যতোটা দুঃসাধ্য,আর তেমনি কাহিনী বলে দিলে মজাটাও তেমন আর থাকেন না।তাও দুই-তিন লাইনে অন্তত কাহিনীর শুরুটা বলে দিই।শুরুতে দেখা যায়, Colter Stevens (Jake Gyllenhaal) একজন ইউ.এস আর্মির হেলিকপ্টার পাইলট একটি ট্রেইনে নিজেকে আবিষ্কার করে,সে বুঝে উঠতে পারে না ঐ ট্রেইনে সে কি করছিলো।তার সামনে বসা এক মহিলা যাত্রি (Michelle Monaghan) তাকে Sean Fentress নামে ডাকছিলো। Colter Stevens তার নিজের মানিব্যাগ চেক করে দেখে তার পরিচয়পত্রে Sean Fentress এর নাম।সে আয়নার সামনে তাকিয়ে দেখে এটি তার চেহারা নয় বরং Sean Fentress এর চেহারা।ঠিক ৮ মিনিট পর ট্রেইনটিতে বোমা বিস্ফোরণ হয় এবং গোটা ট্রেইনটি বোমার আঘাতে উড়ে যায়।এরপর Colter Stevens নিজেকে আবিষ্কার করে একটি ছোট রুমে।তার সামনে কম্পিউটার মনিটর এবং অনেক মেশিন রাখা।মনিটরে তার সাথে এয়ারফোর্স ক্যাপ্টেইন Colleen Goodwin (Vera Farmiga) কথা বলে।সে তাকে বুঝায়, সে আসলেই Colter Stevens।তাকে ঐ ট্রেইনে একটি স্পেশাল মিশনে পাঠানো হয়েছে।মিশনটি হলো, ট্রেইনে যে লোকটি বোমা রেখেছে তাকে খুঁজে বের করা।কারন ঐ লোকটি আরো কয়েকটি ট্রেইনে বোমা পেতে রাখতে পারে।এই বিশেষ মিশনে ইউ.এস আর্মি ও এয়ারফোর্স একটি স্পেশাল প্রোগ্রাম (Source Code) কার্যকর করে,যার মূল অংশ হিসেবে তারা Colter Stevens কে ব্যবহার করছে।তাকে এজন্য ঐ ট্রেইনের সেই Sean Fentress নামক যাত্রিরূপে পাঠানো হয় যাতে সে ঐ বোমা পেতে রাখার পিছে মূল সেই অপরাধীকে খুঁজে বের করে। Source Code মূলত একটি টাইম লুপ প্রোগ্রাম যা কোনো ব্যাক্তির জীবনের শেষ ৮ মিনিটকে অন্য কারো দ্বারা যতোবার ইচ্ছা প্রতিস্থাপিত করতে পারে।
এভাবে কাহিনী গড়াতে থাকে।Colter Stevens বারবার চেষ্টা করতে থাকে সেই অপরাধীকে ধরবার।কিন্তু প্রত্যেকবার টার হাতে রয়েছে মাত্র ৮ মিনিট।তার হাতে সময় বড়ো কম,তাড়াতাড়ি সেই অপরাধিকে ধরতে না পারলে যেকোনো সময় অন্য কোথাও বোমা হামলা হতে পারে।যতোবার Colter Stevens সেই ট্রেইনে যায় ততোবারই নতুন নতুন ঘটনা ঘটতে থাকে।এমনিভাবে কেটে যায় মুভিটির বাকিটা সময়।
মুভিটির শেষের ৫ মিনিট বাদ দিয়ে এন্ডিংটা বেশ ভালো লেগেছে।শেষের ৫ মিনিট আমার কাছে বেশ অপ্রয়োজনীয় লেগেছে।বরং ঐটা না থাকলে মুভিটি আরো ভালো লাগতো।কারন ঐ অংশটা বেশ প্রেডিক্টেবল ছিলো।তবে গোটা মুভিটি এককথায় চমৎকার লেগেছে।দারুন থ্রিলার মুভি।মুভিটিতে কি নেই? রোমান্স,সাসপেন্স,মিস্টরি,থ্রিল---সবকিছুর সমাহার পাবেন মুভিটিতে।আর পরিচালক হিসেবে Duncan Jones বেশ ভালো কাজ দেখিয়েছেন।এই তরুন ব্রিটিশ পরিচালকের কাছ থেকে ভবিষ্যতে আরো ভালো মুভি পাবো এই আশাই করছি।
যারা Sci-Fi | Thriller জেনারের মুভি পছন্দ করেন---তাদের জন্য এই মুভিটি মাস্ট সি।আমি সব মিলিয়ে মুভিটিকে ১০ এ ৮ দিবো।
মুভিটির মিডিয়াফায়ার ডাউনলোড লিংক: Click This Link
[তবে মুভিটিতে কোরিয়ান সাবটাইটেল হার্ডকোডেড করা, তাই Click This Link এখান থেকে ইংলিশ সাবটাইটেল ডাউনলোড করে নিন।কোরিয়ান সাবটাইটেলটা স্ক্রিণের একটু উপরে থাকে,তাই ইংলিশ সাবটাইটেল দেখতে প্রব্লেম হবে না]


সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



