somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কচুরীপানাময় জীবন :(

১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশ শুধু বন্যান সময় বর্ষার পানি আসতো আমাদের টিলার নীচে। টিলার উপরেই বাড়ি। নতুন পানিতে সাতার কাটা, মাছ ধরা, নৌকা করে ঘুরে বেড়ানো এগুলোর নেশাই বেশি থাকতো। কচুরীপানার জন্য সাতার কাঠতে, মাছ ধরতে অথবা নৌকা নিয়ে বের হতে সমস্যা হবে ভেবে আগে থেকেই বাঁশ দিয়ে কচুরীপানা আটকাতে হতো। যদিও আমাদের এগুলো নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় কম। কচুরীপানার ফুল, পাতা, লতা সবই আমাদের খেলার অংশ হতো। একেক অংশ দিয়ে একেক রকমের রান্নাবাটি খেলা হতো। কেউ কেউ গরুর খাবার হিসেবে কচুরীপানা পাতা ব্যবহার করে, কেউ বা পুকুরের কিছু অংশে বেড়া দিয়ে কচুরীপানা আটকে রাখে মাছের খাবার হিসেবে, কেউ ব্যবহার করে হাঁসের খাবার হিসেবে। বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে এদের ব্যবহার দেখেছি। যার যে অংশটি দরকার শুধু সেটুকু রেখেই বাকী অংশ ফেলে রেখে যায়। ফেলা অংশ পরবর্তিতে জৈব সার। এতো উপকারী উদ্ভীদ কিন্তু কেউই সাধারনত নিজের জমিতে ঢুকতে দিতে চায় না। যেমন ভাবে ওদের উতপাত ভেবে দুরে ঠেলে রাখা হয় তেমনি মাঝে মাঝে ব্যবহারের জন্যও কেউ কেউ এগিয়ে আসে। ব্যবহার শেষে আবার ফেলে রেখে যায়।

স্কুল থেকেই বাড়ির বাইরে। হাইস্কুল, কলেজ, ইউনি একেক প্রতিষ্টান একেক জায়গায়। নিজেও এই ডাল থেকে ঐ ডালে। উচ্চশিক্ষায় ইংল্যান্ড, জার্মানি। অবস্হা এমন দাড়িয়েছে যে, যেকোন জায়গায়ই নিজেকে মানিয়ে নিতে কয়েক মিনিটের প্রয়োজন মাত্র। অনেক বছর থেকেই এখানে অবস্হান। তারপরও মাঝে মাঝে নিজেকে কচুরীপানার মতোই মনে হয়।

ইউনিট বস গতদিন এসে বল্লো তুমি আগামী ১/২ সপ্তাহ পর থেকে ১৮তলায় বসবে। তোমার জন্য ওখানে রুম ঠিক করা হচ্ছে। সংবাদটা আগেও কানে এসেছিলো। কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি যেতে হবে ভাবিনি। বসের সাথে আলাপ হলো। শুনে বল্লো ভালোইতো। এখন থেকে শুধু ডেভোলপমেন্ট নিয়েই থাকবে। হাবিজাবি কাজ করতে হবে না। নিজের ক্যারিয়ারের জন্য ভালো। কিছুক্ষন পর বল্লো সত্যি সত্যি উপরের তলায় চলে যাবি? দেখলাম লোকটার মন খারাপ হয়েছে। প্রায় ৩বছর একসাথে, একই ফ্লোরে কাজ করি। প্রত্যেকদিন কম করে হলেও একঘন্টা আড্ডা দেই। লাঞ্চে একসাথে, ঘুরতে যাওয়া একসাথে, কার্টুন ছবি থেকে শুরু করে জীবনের অনেক না জানা অংশে বিচরন একে অন্যের। কোন একটা প্রবলেম বল্লেই সারছে। সাথে সাথে ডাক্তার বউ অথবা উকিল ভাইকে ফোন করে সমাধান হাজির। অফিসিয়াল কাজে কোথাও গেলে রাতে ঘন্টার পর ঘন্টা পাব এ আড্ডা। রিলিজিওন নিয়ে দিনের পর দিন আলোচনা। শেষে শুধু একটা কথা ইসলাম ধর্ম হিসেবে অনেক ভালো কিন্তু কিছু ফাকার ভুল ব্যাখা করে ইসলামের বারোটা বাজাচ্ছে। নিজের ধর্ম নিয়েও বাজে কথা বলতে ছাড়ে না। সত্যিকার একজন বন্ধু কে হারাতে হচ্ছে। যদিও মাত্র একতলা উপরে থাকবো তারপরও কয়েকমাস পর হয়ত দেখা হবে।

প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের বস এসে বল্লো তোমাকে অনেকদিন থেকে খুজতেছি। তোমার নাম প্রায় সময়ই দেখি কিন্তু মানুষটা কে দেখতে আসলাম। মুছকি হাসি দিয়ে বল্লাম দেখার কিছু নাই। রুমের অবস্হা দেখে বল্লো পুরো রুম তো টেস্ট সেটাপ বানাই রাখছো। বল্লাম আমার কাজই তো কোড লেখা আর টেষ্ট করা। বলে আমার খাতায় তো তোমার নাম প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবেই এন্ট্রি করা। বল্লাম বলিস কি ? যদি কখনো ইউনিট ম্যানেজার হিসেবে নাম আসে দয়া করে বলিস। একদিনের জন্যও যদি ঐ দায়িত্ব পাই তাহলে কিছু লোককে ছাটাই মারবোB-)। শুনে লোকটি পুরো টাশকি। বল্লাম ফাজলামো করতেছিলাম।

মাঝে মাঝে চিন্তা করি সব বালছাল ছেড়ে দেশে চলে যাই। অথবা কখনো যদি এমন হয় যে জার্মান সরকার পাছায় লাথ্থি দিয়ে বলে ব্যাটা ভাগ। তখন কি হবে? চাল নেই চুলো নেই। তখন কি আবার অন্য দেশে স্যাটেল্ড হওয়ার জন্য বিভিন্ন এম্বেসিতে লাইন দিবো? যাযাবর জীবনের আরেক নাম হয়ত কচুরীপানাময় জীবন।

(ছবিটি ওয়েব থেক সংগৃহীত)
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৪৬
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×