স্কুল থেকেই বাড়ির বাইরে। হাইস্কুল, কলেজ, ইউনি একেক প্রতিষ্টান একেক জায়গায়। নিজেও এই ডাল থেকে ঐ ডালে। উচ্চশিক্ষায় ইংল্যান্ড, জার্মানি। অবস্হা এমন দাড়িয়েছে যে, যেকোন জায়গায়ই নিজেকে মানিয়ে নিতে কয়েক মিনিটের প্রয়োজন মাত্র। অনেক বছর থেকেই এখানে অবস্হান। তারপরও মাঝে মাঝে নিজেকে কচুরীপানার মতোই মনে হয়।
ইউনিট বস গতদিন এসে বল্লো তুমি আগামী ১/২ সপ্তাহ পর থেকে ১৮তলায় বসবে। তোমার জন্য ওখানে রুম ঠিক করা হচ্ছে। সংবাদটা আগেও কানে এসেছিলো। কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি যেতে হবে ভাবিনি। বসের সাথে আলাপ হলো। শুনে বল্লো ভালোইতো। এখন থেকে শুধু ডেভোলপমেন্ট নিয়েই থাকবে। হাবিজাবি কাজ করতে হবে না। নিজের ক্যারিয়ারের জন্য ভালো। কিছুক্ষন পর বল্লো সত্যি সত্যি উপরের তলায় চলে যাবি? দেখলাম লোকটার মন খারাপ হয়েছে। প্রায় ৩বছর একসাথে, একই ফ্লোরে কাজ করি। প্রত্যেকদিন কম করে হলেও একঘন্টা আড্ডা দেই। লাঞ্চে একসাথে, ঘুরতে যাওয়া একসাথে, কার্টুন ছবি থেকে শুরু করে জীবনের অনেক না জানা অংশে বিচরন একে অন্যের। কোন একটা প্রবলেম বল্লেই সারছে। সাথে সাথে ডাক্তার বউ অথবা উকিল ভাইকে ফোন করে সমাধান হাজির। অফিসিয়াল কাজে কোথাও গেলে রাতে ঘন্টার পর ঘন্টা পাব এ আড্ডা। রিলিজিওন নিয়ে দিনের পর দিন আলোচনা। শেষে শুধু একটা কথা ইসলাম ধর্ম হিসেবে অনেক ভালো কিন্তু কিছু ফাকার ভুল ব্যাখা করে ইসলামের বারোটা বাজাচ্ছে। নিজের ধর্ম নিয়েও বাজে কথা বলতে ছাড়ে না। সত্যিকার একজন বন্ধু কে হারাতে হচ্ছে। যদিও মাত্র একতলা উপরে থাকবো তারপরও কয়েকমাস পর হয়ত দেখা হবে।
প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের বস এসে বল্লো তোমাকে অনেকদিন থেকে খুজতেছি। তোমার নাম প্রায় সময়ই দেখি কিন্তু মানুষটা কে দেখতে আসলাম। মুছকি হাসি দিয়ে বল্লাম দেখার কিছু নাই। রুমের অবস্হা দেখে বল্লো পুরো রুম তো টেস্ট সেটাপ বানাই রাখছো। বল্লাম আমার কাজই তো কোড লেখা আর টেষ্ট করা। বলে আমার খাতায় তো তোমার নাম প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবেই এন্ট্রি করা। বল্লাম বলিস কি ? যদি কখনো ইউনিট ম্যানেজার হিসেবে নাম আসে দয়া করে বলিস। একদিনের জন্যও যদি ঐ দায়িত্ব পাই তাহলে কিছু লোককে ছাটাই মারবো
মাঝে মাঝে চিন্তা করি সব বালছাল ছেড়ে দেশে চলে যাই। অথবা কখনো যদি এমন হয় যে জার্মান সরকার পাছায় লাথ্থি দিয়ে বলে ব্যাটা ভাগ। তখন কি হবে? চাল নেই চুলো নেই। তখন কি আবার অন্য দেশে স্যাটেল্ড হওয়ার জন্য বিভিন্ন এম্বেসিতে লাইন দিবো? যাযাবর জীবনের আরেক নাম হয়ত কচুরীপানাময় জীবন।
(ছবিটি ওয়েব থেক সংগৃহীত)
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



