সময় বদলেছে। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে এখন ফুলটাইম কামলা দিচ্ছি। ১৫/১৭ বছরের হোস্টেল জীবন শেষে এখন কিছুদিনের জন্য মা-বাবার কাছেই (কিছুদিন বল্লাম, কারন কামলা জীবন। কখন কোথায় যেতে হয় ঠিক নাই)। এখন আর আগের মতো খাবারের চিন্তা করতে হয় না। আপাতত ডায়েটের চিন্তায় মোটামুটি অস্হির। যদিও খাবারে আমার তেমন একটা আগ্রহ নেই। জেনেটিক্যালি একটু নাদুস-নুদুস টাইপ। পানি খেলেও দুধের কাজ দেয়। মহা গেইনজাম। আলসেমির জন্যই মটকু হয়ে যাচ্ছি। কাজ করে জিম অথবা জগিং করতে মন চায় না। ভাইয়া প্রত্যেকদিন বুঝায় আবার মাঝে মাঝে ঝাড়িও দেয়। প্রতি মাসে হেলথ ইন্সুরেন্স ৭০০ইউরো (৭০,০০০টাকা) কেটে নিয়ে যায়(নিজে চক্ষে দেখি না। হেলথ ইন্সুরেন্সের অটোমেটিক সেলারি থেকে চলে যায়)। এখন নাকি হেলথ ইন্সুরেন্স জিমের টাকা দিবে। পাবলিক জিমে গেলে অসুখ কম হয় সেজন্য। ভাইয়া ৬দিন কাজ করে একদিন জিমে যায়। আমি ৫দিন কাম করে কাইত। কে শুনে কার কথা। আমার থিওরি খাবার কন্ট্রোল আর মাঝে মাঝে (সপ্তাহান্তে)সাইকেল চালিয়ে স্বাস্হ্য কমানোর ধান্ধা। কিন্তু এখানের আবহাওয়া এতই সুস্বাধু যে হাওয়া খেলেও মোটা হয়ে যাই।
রোজকার রুটিনে খাবারের পরিমান:
সকাল: ২ পিছ ব্রেড অথবা একপিছ পরটা। এক কাপ চা।
দুপুর: একটা বনরুটি। ক্যান্টিনের খাবার অসহ্য লাগতেছে কয়েকদিন। ক্যান্টিনে গেলেও শুধু সালাদ আর সিদ্ধ সবজি দিয়ে লাঞ্চ। একটা আপেল। অফিসে কালো কফি চিনি ছাড়া খাবার চেষ্টায় আছি। প্রথম প্রথম খারাপ লাগলেও এখন ভালো লাগে। অন্যরকম টেষ্ট
রাত: সন্ধ্যা ৭/৮ টার মধ্যেই রাতের খাবার শেষ। এই সন্ধ্যার খাবারই যতো ঝামেলা। মোটামুটি খাবার একদম টেবিলেই পাওয়া যায়। তাই খাওয়াও হয় মোটামুটি জব্বর। খেয়ে কোন কাজ নেই। শুয়ে, বসে টিভি দেখা। রাতে সাধারনত কিছু খাই না। মাঝে মাঝে আপেল অথবা আম খাওয়া যায়।
এতো কিছু করে কোনমতে ঠিক ছিলাম। গতসপ্তাহে ৩দিনের ছুটি ছিলো। সেইটাই কাল হলো। শুক্রবার অফিস করে বিকেলে ঘুম দিলাম। শনিবার ছিলো জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মসজিদে মিলাদ প্লাস খাওয়া। ভাইজানের লিফলেটের কাজ করে দিয়েছি। আর এমনিতেই লোকজন কম হয়। তাই যেতেই হলো। বিরয়ানি ভালোই হয়েছিলো। দুই প্লেট সাবাড় করে দিয়ে মনে হলো কাজটা ভালা করিনি।
শনিবার ছিলো একটা বার্থডে পার্টি। ইন্ডিয়ান রেষ্ট্রুরেন্টে বুফে। লে হালোয়া। আমি আবার বুফে হলে ভালোই টানি। টাকা উসলের ধান্ধায়। দুই প্লেট সাবাড় করে মিষ্টি খেয়ে দেখি পেটে হাওয়া ঢুকারও চান্স নাই। জন্মদিনের কেকও খেতে পারলাম না । সারা বিকেল খুব কষ্টে গেছে।
সোমবার গ্রিল পার্টি। সবার দাওয়াত। আমি যেতে রাজি হলাম না। মা-বাবা আর বোনকে গাড়ি দিয়ে পৌছে দিলাম। দুপুরে এক প্লেট ভাত, দুইটা আইসক্রিম, একটু চিপস। ছোটবোন ডায়েটে আছে। যতোই বুঝাই এখনো তার ডায়েটের সময় হয়নি । কে শুনে কার কথা। অবশ্য আমি মজায় আছি। উনি ডায়েটে থাকলে আইসক্রিমগুলো শুধু আমার। না হলে ফ্রিজ ভর্তি আইসক্রিমের একটাও খুজে পাওয়া যায় না। এখন ফ্রিজ ভর্তি আইসক্রিম। আহ, কি শান্তি আকাশে বাতাসে
এই ৩/৪ দিনে মিনিমাম ৩/৪ কিলো ওজন বাড়ছে। অফিসে বসে শান্তি নাই। শুধু হাসফাস করি। অফিসে এসে ফ্রিজের চকলেট, আইসক্রিমগুলো কলিগদের দিয়ে দিলাম। কিছু কফি রুমে রেখে এসেছি। যে কেউ খেয়ে নিতে পারে। আমি আর ঐসবে আপাতত নাই। ড্রয়ার খালি করে চকলেট টেবিলের উপর রেখেছি। কালো, সাদা, ব্রাউন, নারকেলের চকলেট। আহারে কতো রকমের চকলেট
এই সপ্তাহে নিশ্চিত দৌড়াতে হবে। আবহাওয়া ঠান্ডা হয়ে গেছে। গরম আসতে না আসতেই আবার ঠান্ডা। সকালে সামার জ্যাকেট গায়ে দিতে হয়
গতসপ্তাহে বাংলাদেশ ফেরত এক প্রফেসরের সাথে দেখা। দেখেই বল্লেন কি ব্যাপার তুমি তো মটকু হয়ে যাচ্ছো। এমনিতেই দেখতে সাদা লাউ
বল্লাম মাত্র তো দেশে থেকে ফিরেছেন। তাই সবকিছুই একটু মটকু তো লাগবেই।
আগামী সপ্তাহে একটা সরকারী ছুটি আছে। তারপর আর অক্টোবর নভেম্বরের আগে ছুটি নাই। সুখের দিন প্রায় শেষ। বসের সাথে সকালে কিছুক্ষন ব্লা ব্লা করলাম। জিঞ্জেস করলো ছুটি নিতেছি কবে? দেশে যাবো নাকি? বল্লাম এখনো ছুটি ঠিক করিনি। দেশে যেতে মন চায়। কিন্তু এতো গরম আর আগামীতে বৃষ্টি শুরু হচ্ছে তাই আপাতত যাচ্ছিনা। উনি আবার বাংলাদেশকে বেশ ভালো করেই জানে। অনেক কিছুই না বল্লেও বুঝে ফেলে। বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক ডকুমেন্টরী নাকি দেখেছে। মনে মনে বল্লাম আমিও মাঝে মাঝে জার্মান টিভি তে দেখি। তবে ডকুতে কি আর ভালো জিনিস দেখাবে??
ডিভাইস টেস্টিং করতেছি। মোটামুটি আজাইরা কাম। মাত্র ২/৩ মিলিসেকেন্ডের জন্য এ্যারর আসে। বাগ ফিক্সিং করতেই দিন গোজরান। মাঝে একবার সুর উঠেছিলো আমাদের সেকশন সিমেন্স কিনে নেবে। বসকে জিঞ্জেস করলে বল্লো ঐসব ভুয়া। ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট কখনো এই কোম্পানী বিক্রি করবে না। আমরা ওদের মানি মেকার। আর সিমেন্স কিনতে চাইলেও জার্মান অথোরিটি রাজি হবে না। কারন ইউরোপে মনোপলি বিজনেস দেখার জন্য একটা অথোরিটি আছে। কয়েকদিন আগে মাইক্রোসফট, সিমেন্স, আই.বি.এম কে বাঁশ দিয়েছিলো মনোপলি বিজনেসের জন্য। সে আবার হুশিয়ারী দিয়ে বল্লো, যদি এমন কিছু ঘটে যায় তাহলে পরেরদিন থেকেই জব খোজা শুরু করবে। সিমেন্স আমাদের কিনে সাথে সাথে পোডাকশন বন্ধ করে দিবে। কারন, ওরাও একই সাবস্টেশন অটোমেশন ডিভাইস তৈরী করে। আমাদের কোম্পানি, এ.বি.বি ওদের কম্পিটিটর।
কামলা জীবন আর ভালো লাগে না। কাজের বাইরে ঠিকমতো কোন কাজই হয় না। সারাক্ষন কাজের টেনশন। কি যে আছে জীবনে!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



