somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অগোছালো জীবননামা

০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছাত্রাবস্হায় খাবারের কোন নিয়ম ছিলো না। দেশে থাকতে না হয় কিছুটা ছিলো। দেশের বাইরে ছিটেফুটোও নেই। ক্লাস, কামলা দেওয়া সবকিছুর পর রান্না করতে মহা বিরক্তি আসতো। যদিও রান্না জিনিসটা আমি মোটামুটি উপভোগ করি। কিন্তু পেয়াজ কাটতে হবে সেই দু:খে আমি রান্না করি না। কেউ পেয়াজ কেটে দিলে রান্না করতে রাজি। এজন্য ব্রেড-বাটার, চিপস, বিস্কুট দিয়েই রাতের খাবার। সকালে সেই যথারিতি ব্রেড, দুপুরে ক্যাফিটেরিয়াতে ফ্রেন্চ ফ্রাই। সারা সপ্তাহ ধরে অপেক্ষায় থাকতাম কখন শনি-রবি আসবে। মোটামুটি প্রায় সপ্তাহেই দাওয়াত থাকতো। কি রান্না হলো সেটা পরের কথা। খেয়ে মোটামুটি কাইত।

সময় বদলেছে। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে এখন ফুলটাইম কামলা দিচ্ছি। ১৫/১৭ বছরের হোস্টেল জীবন শেষে এখন কিছুদিনের জন্য মা-বাবার কাছেই (কিছুদিন বল্লাম, কারন কামলা জীবন। কখন কোথায় যেতে হয় ঠিক নাই)। এখন আর আগের মতো খাবারের চিন্তা করতে হয় না। আপাতত ডায়েটের চিন্তায় মোটামুটি অস্হির। যদিও খাবারে আমার তেমন একটা আগ্রহ নেই। জেনেটিক্যালি একটু নাদুস-নুদুস টাইপ। পানি খেলেও দুধের কাজ দেয়। মহা গেইনজাম। আলসেমির জন্যই মটকু হয়ে যাচ্ছি। কাজ করে জিম অথবা জগিং করতে মন চায় না। ভাইয়া প্রত্যেকদিন বুঝায় আবার মাঝে মাঝে ঝাড়িও দেয়। প্রতি মাসে হেলথ ইন্সুরেন্স ৭০০ইউরো (৭০,০০০টাকা) কেটে নিয়ে যায়(নিজে চক্ষে দেখি না। হেলথ ইন্সুরেন্সের অটোমেটিক সেলারি থেকে চলে যায়)। এখন নাকি হেলথ ইন্সুরেন্স জিমের টাকা দিবে। পাবলিক জিমে গেলে অসুখ কম হয় সেজন্য। ভাইয়া ৬দিন কাজ করে একদিন জিমে যায়। আমি ৫দিন কাম করে কাইত। কে শুনে কার কথা। আমার থিওরি খাবার কন্ট্রোল আর মাঝে মাঝে (সপ্তাহান্তে)সাইকেল চালিয়ে স্বাস্হ্য কমানোর ধান্ধা। কিন্তু এখানের আবহাওয়া এতই সুস্বাধু যে হাওয়া খেলেও মোটা হয়ে যাই।

রোজকার রুটিনে খাবারের পরিমান:
সকাল: ২ পিছ ব্রেড অথবা একপিছ পরটা। এক কাপ চা।
দুপুর: একটা বনরুটি। ক্যান্টিনের খাবার অসহ্য লাগতেছে কয়েকদিন। ক্যান্টিনে গেলেও শুধু সালাদ আর সিদ্ধ সবজি দিয়ে লাঞ্চ। একটা আপেল। অফিসে কালো কফি চিনি ছাড়া খাবার চেষ্টায় আছি। প্রথম প্রথম খারাপ লাগলেও এখন ভালো লাগে। অন্যরকম টেষ্ট:P
রাত: সন্ধ্যা ৭/৮ টার মধ্যেই রাতের খাবার শেষ। এই সন্ধ্যার খাবারই যতো ঝামেলা। মোটামুটি খাবার একদম টেবিলেই পাওয়া যায়। তাই খাওয়াও হয় মোটামুটি জব্বর। খেয়ে কোন কাজ নেই। শুয়ে, বসে টিভি দেখা। রাতে সাধারনত কিছু খাই না। মাঝে মাঝে আপেল অথবা আম খাওয়া যায়।

এতো কিছু করে কোনমতে ঠিক ছিলাম। গতসপ্তাহে ৩দিনের ছুটি ছিলো। সেইটাই কাল হলো। শুক্রবার অফিস করে বিকেলে ঘুম দিলাম। শনিবার ছিলো জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মসজিদে মিলাদ প্লাস খাওয়া। ভাইজানের লিফলেটের কাজ করে দিয়েছি। আর এমনিতেই লোকজন কম হয়। তাই যেতেই হলো। বিরয়ানি ভালোই হয়েছিলো। দুই প্লেট সাবাড় করে দিয়ে মনে হলো কাজটা ভালা করিনি।

শনিবার ছিলো একটা বার্থডে পার্টি। ইন্ডিয়ান রেষ্ট্রুরেন্টে বুফে। লে হালোয়া। আমি আবার বুফে হলে ভালোই টানি। টাকা উসলের ধান্ধায়। দুই প্লেট সাবাড় করে মিষ্টি খেয়ে দেখি পেটে হাওয়া ঢুকারও চান্স নাই। জন্মদিনের কেকও খেতে পারলাম না । সারা বিকেল খুব কষ্টে গেছে।

সোমবার গ্রিল পার্টি। সবার দাওয়াত। আমি যেতে রাজি হলাম না। মা-বাবা আর বোনকে গাড়ি দিয়ে পৌছে দিলাম। দুপুরে এক প্লেট ভাত, দুইটা আইসক্রিম, একটু চিপস। ছোটবোন ডায়েটে আছে। যতোই বুঝাই এখনো তার ডায়েটের সময় হয়নি । কে শুনে কার কথা। অবশ্য আমি মজায় আছি। উনি ডায়েটে থাকলে আইসক্রিমগুলো শুধু আমার। না হলে ফ্রিজ ভর্তি আইসক্রিমের একটাও খুজে পাওয়া যায় না। এখন ফ্রিজ ভর্তি আইসক্রিম। আহ, কি শান্তি আকাশে বাতাসে;)। যাক, মা-বাবা গ্রিল পার্টি থেকে আমার জন্য খাবার নিয়ে আসলেন। কি আর করার। একগাদা পোড়া মাংস সাবাড় করলাম। তারপর আসল খেইল শুরু।

এই ৩/৪ দিনে মিনিমাম ৩/৪ কিলো ওজন বাড়ছে। অফিসে বসে শান্তি নাই। শুধু হাসফাস করি। অফিসে এসে ফ্রিজের চকলেট, আইসক্রিমগুলো কলিগদের দিয়ে দিলাম। কিছু কফি রুমে রেখে এসেছি। যে কেউ খেয়ে নিতে পারে। আমি আর ঐসবে আপাতত নাই। ড্রয়ার খালি করে চকলেট টেবিলের উপর রেখেছি। কালো, সাদা, ব্রাউন, নারকেলের চকলেট। আহারে কতো রকমের চকলেট :((। বস দেখে বল্লো এতো চিন্তা কিসের? আমাকে দেখো না। যতো মোটা ততো সুখ। বল্লাম তোমাকে দেখে যখন মেয়েগুলো দৌড় লাগাবে। তখন ম্যা হো না B-)। দুজন অনেক্ষন ফাজলামি করলাম। এখানের অফিসগুলোতে কাজ করে এইদিক থেকে শান্তি। কাজের সময় কাজ। তারপর কে বস আর কে নরমাল কামলা বুঝা যায় না। ইউনিতে ও একই অবস্হা। প্রসেসরের সাথে বসে বিড়ি ফুকে, ড্রিক্স করে।

এই সপ্তাহে নিশ্চিত দৌড়াতে হবে। আবহাওয়া ঠান্ডা হয়ে গেছে। গরম আসতে না আসতেই আবার ঠান্ডা। সকালে সামার জ্যাকেট গায়ে দিতে হয় :|

গতসপ্তাহে বাংলাদেশ ফেরত এক প্রফেসরের সাথে দেখা। দেখেই বল্লেন কি ব্যাপার তুমি তো মটকু হয়ে যাচ্ছো। এমনিতেই দেখতে সাদা লাউ X((
বল্লাম মাত্র তো দেশে থেকে ফিরেছেন। তাই সবকিছুই একটু মটকু তো লাগবেই।
আগামী সপ্তাহে একটা সরকারী ছুটি আছে। তারপর আর অক্টোবর নভেম্বরের আগে ছুটি নাই। সুখের দিন প্রায় শেষ। বসের সাথে সকালে কিছুক্ষন ব্লা ব্লা করলাম। জিঞ্জেস করলো ছুটি নিতেছি কবে? দেশে যাবো নাকি? বল্লাম এখনো ছুটি ঠিক করিনি। দেশে যেতে মন চায়। কিন্তু এতো গরম আর আগামীতে বৃষ্টি শুরু হচ্ছে তাই আপাতত যাচ্ছিনা। উনি আবার বাংলাদেশকে বেশ ভালো করেই জানে। অনেক কিছুই না বল্লেও বুঝে ফেলে। বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক ডকুমেন্টরী নাকি দেখেছে। মনে মনে বল্লাম আমিও মাঝে মাঝে জার্মান টিভি তে দেখি। তবে ডকুতে কি আর ভালো জিনিস দেখাবে??

ডিভাইস টেস্টিং করতেছি। মোটামুটি আজাইরা কাম। মাত্র ২/৩ মিলিসেকেন্ডের জন্য এ্যারর আসে। বাগ ফিক্সিং করতেই দিন গোজরান। মাঝে একবার সুর উঠেছিলো আমাদের সেকশন সিমেন্স কিনে নেবে। বসকে জিঞ্জেস করলে বল্লো ঐসব ভুয়া। ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট কখনো এই কোম্পানী বিক্রি করবে না। আমরা ওদের মানি মেকার। আর সিমেন্স কিনতে চাইলেও জার্মান অথোরিটি রাজি হবে না। কারন ইউরোপে মনোপলি বিজনেস দেখার জন্য একটা অথোরিটি আছে। কয়েকদিন আগে মাইক্রোসফট, সিমেন্স, আই.বি.এম কে বাঁশ দিয়েছিলো মনোপলি বিজনেসের জন্য। সে আবার হুশিয়ারী দিয়ে বল্লো, যদি এমন কিছু ঘটে যায় তাহলে পরেরদিন থেকেই জব খোজা শুরু করবে। সিমেন্স আমাদের কিনে সাথে সাথে পোডাকশন বন্ধ করে দিবে। কারন, ওরাও একই সাবস্টেশন অটোমেশন ডিভাইস তৈরী করে। আমাদের কোম্পানি, এ.বি.বি ওদের কম্পিটিটর।

কামলা জীবন আর ভালো লাগে না। কাজের বাইরে ঠিকমতো কোন কাজই হয় না। সারাক্ষন কাজের টেনশন। কি যে আছে জীবনে!!
১৫টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×