আমার প্রিয় পোস্ট

তবুও জীবন যাচ্ছে কেটে জীবনের নিয়মে।

এই বেশ ভালো আছি (আসলেই কি তাই??)

০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৮:৩১

শেয়ারঃ
0 0 0

ছাত্রাবস্হার শেষদিকে সবাই ইন্টার্নশীপ অথবা থিসিস নিয়ে দৌড়ের উপর। কার কোথায় চান্স হয়ে যায় বলা যায় না। একদম নিজের ইউনির শহরে চান্স পায় সাধারনত খুব কম। বিভিন্ন জায়গায় বদলি হতে সপ্তাহের টিকিট কেটে পুটলা-পুটলী নিয়ে রওয়ানা। সাথে অনেককেই সাহায্যের জন্য যেতে হতো। শুধু দিয়ে আসা নয়। ইন্টার্নশীপ অথবা থিসিস শেষ হলে নিয়েও আসতে হতো।/:)
সামার হলে কোন সমস্যা নেই কিন্তু শীতকালে খুব কষ্টের কাজ। যদিও আড্ডাই ভরসা। তাই একজনের সাথে ৪/৫ জন রওয়ানা দিতাম। যার জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হতো উনি সব খরচ বহন করতেন। তখন মনে হতো কারো গাড়ি থাকলে কতো ভালো হতো। ড্রাইভিং লাইসেন্সের খরচের চিন্তায় খুব কম লোকজনই ঐপথে পা বাড়াতো। খাবারের চিন্তায় জ্বান কয়লা। ড্রাইভিং লাইসেন্স অনেক দুরের জিনিস।

পড়াশোনা শেষ করে সবাই মোটামুটি কামলা দিতেছে। একে একে অনেকগুলো ড্রাইভিং লাইসেন্স হয়ে গেছে। অনেকগুলো গাড়িও কেনা হয়ে গেছে। তবে এখন আর আগের মতো দৌড়াতে হয় না। মাঝে মাঝে ঐসব দিনগুলোকে মিছ করি (দু:খ বিলাস)।

সপ্তাহান্তে ব্লগের পুরনো সদস্য চোরভাই দাওয়াত দিলেন ক্যাসেলে যাওয়ার জন্য। ওখানে সুমন চৌধুরী উর্ফে বদ্দা, হিমু সহ আরো অনেক লোকজন থাক। পূর্বে অনেক দাওয়াতে যাওয়া হয়নি বিভিন্ন পারিবারিক ঝামেলায়। সময়ের সাথে সাথে অনেকেই জবের সাথে স্হানও পরিবর্তন করতেছেন। তাই ভাবলাম ঘুরে আসি। চান্সে অনেকদিন পর ক্রিকেটও খেলা হবে। খাওয়া, আড্ডা তো উপরি পাওনা।

এমেচার ক্রিকেটার বলা যায়। অথবা ক্ষেত ক্রিকেটার। বছরে হয়তো ৩/৪বার খেলা হয়। সবাই স্টাম্পের বল দেখে শুনে খেলে। সেখানে আমি দেই ধুম বাড়ি। ফলে ৪/৬ ছক্কা। না হলে হাঁস( শরীর বাচাতে মনে হয় স্টাম্পের বল মারতে হয়। এতো স্পিডের বল ছুটে এসে শরীরে লাগলে খবর হয়ে যাবে)। ক্যাসেল ক্রিকেট মাঠটি আমার খুবই প্রিয়। যতোবার খেলতে গিয়েছে হতাশ হইনি। চোর, বদ্দা, হিমু সবাই কে মোটামুটি ভর্তা বানিয়ে দিলাম। যদিও হিমু আমাদের ভালোই পিটাইছে। আমিও হিমুকে মনের সুখে ৪/৬ মারছি। ১/২ রানের জন্য দৌড়াতে ভালো লাগে না। শুধু শুধু টায়ার্ড হওয়ার কোন মানে নাই।
খেলার পাশাপাশি গ্রিল পার্টি চলছিলো। যে রান আউট উনি গিয়ে মুরকার রানে কামড় বসাচ্ছিলেন। কিছু খেয়ে নেমেছিলাম তাই ইচ্ছে করেই আউট হয়নি।না হলে ক্ষিদে লাগলে ব্যাট রেখে দৌড় দিতাম।
অবশ্য ব্যাট করার মজাই আলাদা। বোলিংয়ে আমি নাই। সবাই স্পিন করতে চায়। হিমু একবার জিঞ্জেস করতেছিলো সবাই স্পিন করতে চায় কেন? বল্লাম আসলে ঐটাকে স্পিন বলা ঠিক না। কিছু পারি না দেখেই তো হাত ঘুরাই। ঐটা বোলিংয়ের কোন সঙ্গাতেই পড়ে না।

খেলার মাঠের পাশেই চেরী ফলের গাছ। গতবছরও চেরী খাওয়া হয়েছে অনেক। এখানে গাছে চড়লে জরিমানা গুনতে হয়। কিন্তু কে শুনে কার কথা। চোরভাইকে (হোস্ট ) গাছে তুলে দিলাম। ফলগুলো এতো পেকেছে যে নীচে পড়তেই ফেটে রক্তারক্তি অবস্হা (চেরীর কালার লাল)। তাই উনি ছোট ছোট ডাল ভেঙ্গে নীচে ফেলতেছেন। আর সবাই বিশেষ করে আমি না ধুয়েই একাই এক কিলো মতো সাবাড় করে দিলাম।

খেলার পর চোরভাইয়ের বাসায় আড্ডা। হিমু ভাই নায়িকার মতো গোসল দিতে গিয়ে দেরী করে ফেলেছে। এর মধ্যে আমাদের খাবার শুরু। কঠিন রান্না। এতো আইটেম যে গুনতে ভয় করতেছিলো। সবই বাংলা খাবার। বিভিন্ন রকমের ভর্তা। কোন মাংসের আইটেম ছিলো না। কি রেখে কি খাবো বুঝতে পারতেছিলাম না। কিন্তু দুষ্কের বিষয় বেশী খাইতে পারি নাই। বেশী খেলে ফিরতি পথে যাত্রা সুখকর হবে না সেই জন্য।

খাবার পর আবারো ট্রেন ধরার জন্য দৌড়। শান্তি নাই :(

কয়েকদিন থেকে কোম্পানীর আমাদের সেকশন টি এন্ড ডি বিক্রি হবে হবে করতেছিলো। গতকাল ফ্রান্স থেকে মেইলে জানালো বিক্রি নিশ্চিত। তবে কে কিনতেছে এখনো ফাইনাল হয়নি। সিমেন্স সহ আরো অনেকেই লাইনে আছে। কপালে কি আছে আল্লাহ জানে। তবে আমি ছাড়া আমার ডিপার্টমেন্টে সবাই খুব রিলাক্স। সবার কথা এই কোম্পানি অনেকবারই বিক্রি হয়েছে। ফ্রান্স সরকারের যখন টাকার দরকার হয় তখন এই ডিপার্টমেন্ট বিক্রি করে। তবে ওরা সাধারনত ওদেরই আরেক কোম্পানিকে দিয়ে দেয়। আমাদের ডিপার্টমেন্টটা হচ্ছে টাকার মেশিন। যার যখন দরকার তখন বিক্রি। তবে এখন পর্যন্ত যতোবারই বিক্রি হয়েছে চাকুরীজীবি সবাই বহাল আছে। ভবিষ্যতে কি হবে কে জানে?

গরম বেশ ভালোই পড়েছে। ২৬/২৭ ডিগ্রি। বাসায় গিয়ে পাংখা ঘুরাতে হয়। এখানে সিলিং ফ্যানের কোন সুযোগ সুবিধা নেই তাই টেবিল ফ্যানই ভরসা। শেষ রাতে বেশ ভালো শিশির পড়ে। আগামী কাল থেকে আবারো বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু (বাংলা খবরে আবহাওয়া রিপোর্ট)। কেন যে গুনে গুনে ছুটির দিনগুলোতে বৃষ্টি হয় :(( । অফিস আসার পথে বিভিন্ন রাস্তার পাশে অনেকগুলো নাম না জানা ফল দেখেছিলাম। ইচ্ছে ছিলো সাপ্তাহিক ছুটিতে সাইকেল নিয়ে একটু টেষ্ট করতে যাবো। ঘুরাও হবে টেস্টও হবে।

 

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:৫৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:০৭
শিবলী বলেছেন: উরে , আপনেরেই দরকার বাংলাদেশ টি টুয়েন্টি দলে।

জার্মানি থেকে তাড়াতাড়ি দেশে আসেন;)
০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:৪৫

লেখক বলেছেন: আশরাফুলদের মতো পিলিয়ার থাকতে আমাদের বেইল নাই :(

৩. ০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:১৪
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন: গত কয়েকদিন খুব মুরগা গ্রীল চলছে।
০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:৪৬

লেখক বলেছেন: মাংস খাওয়া কমাই দিছি। খাইলে কষ্ট বাড়ে :(

৪. ০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:২১
শেরজা তপন বলেছেন: সবাই রিলাক্সে থাকলে আপনার টেনশন কিসের?
০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:৪৮

লেখক বলেছেন: পুরনো যারা ওদের চিন্তা কম। আমি মোটামুটি নতুন এই কোম্পানীতে। খগড় সাধারনত নতুনদের উপর নামে।

ইকোনমির অবস্হা ভালো না। তাই কোন কিছুতেই ভরসা নাই।

৫. ০৩ রা জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:০৭
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: চিন্তা কইরা কি হইবো। দেশে আইলো আশরাফুল গো দিয়া মাঠের ঘাস কাটাইয়া আপনেগোই নামাই দিমু টি টোয়েন্টি খেলাইতে।;)

জুক মারলাম বস। ভালো থাকেন!
০৩ রা জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:০৯

লেখক বলেছেন: আমরা তো ২০-২০ খেলি না। সময়, সুযোগ, আবহাওয়ার প্রকাভেদে ৫-৫, ৮-৮, ১২-১২ এইসব আজাইরা।

দেশে একটি গরুর ফার্মের ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু ঘাস কাটা মানুষের অভাবে ইচ্ছেটা অপূর্ন থেকে গেলো। ক্রিকেটারগো দিয়ে যদি এই কাম করাইতে পারেন তাইলে আমিও আবার গরুর ফার্মের কথা চিন্তা করুম ;)

৭. ০৯ ই জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৪
মুনিয়া বলেছেন: হুমম হুমম
মাঝে মাঝে দুঃখ বিলাস করা ভালো...

ঝরঝরে লেখা। পড়ে ফ্রেশ হয়ে গেল মনটা।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৮৮৮৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ব্লা...ব্লা...ব্লা
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ