আমার প্রিয় পোস্ট

তবুও জীবন যাচ্ছে কেটে জীবনের নিয়মে।

মাছ ধরতে এতো হ্যাপা :(

১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৭

শেয়ারঃ
0 0 0



মাছ ধরার লাইসেন্সের জন্য ভর্তি হয়ে পুরো ধরা। সেই সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বোরিং ক্লাস করতে হচ্ছে। প্রথমদিন ক্লাসে ১৫ মিনিট দেরী করে ঢুকলাম। লাঞ্চ ব্রেকের আগ পর্যন্ত কোন উপস্হিতি (রোল কল। সাধারনত একটি পেপার দিয়ে সাক্ষর নেওয়া হয়) কাউন্ট করা হয়নি। লাঞ্চ ব্রেকে শিক্ষককে জিজ্ঞেস করলাম উপস্হিতি কাউন্ট হবে কিভাবে? এবং ক্লাস করা কি বাধ্যতামুলক? জবাবে উনি বল্লেন উপস্হিতি উনি নিজের চোখ দিয়েই করেন। আর দেরী করে আসলে সমস্যা নেই। শুনে তো আমার চোখে ঘুম এসে গেলো। এমনিতেই ক্লাস হচ্ছে এইটি রেষ্ট্ররেন্টে। যার যখন ইচ্ছে খাবারের অথবা ড্রিংসের অর্ডার দিচ্ছে। খাবারের পাশাপাশি সবাই টিচারের বকবক শুনতেছে। কিছু কমবয়সি ছেলেমেয়ে টিচারের সাথে বান্দরামী করতেছে।

মাছের চৌদ্দগোষ্টি উদ্ধার করতে হচ্ছে। কোন মাছের আঁশ কিরকম (চেপ্টা নাকি লম্বা), রঙ কিরকম, কয়টা পাংখা আছে, কোন পাংখার কি নাম, পাংখা দেখে কিভাবে মাছ শনাক্ত করবে, মাছে চোখ কয়টি, কোন প্রকারের মাছ নদীর কোন লেভেলে চলে, কোথায় কোথায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ, মাছ ধরতে গিয়ে কিসব জলজ উদ্ভিদের পাতা অথবা সম্পুর্ন উদ্ভিদ উপড়ানো যাবে না, কোনকোন মাছ স্হানীয়, স্হানীয় মাছদের কিভাবে সনাক্ত করা যাবে, কোন মাছ কোথায় কিভাবে ডিম পাড়ে, কোন মাছের রক্ত বিষাক্ত, কোন মাছের কয়টি কানকোয়া আছে, কার কয়টি ফুসফুস, মাথার অবস্হান, মাছের মগজ কিভাবে কাজ করে ইত্যাদি হাজারো ব্লা ব্লা। এতো কিছু পড়াশোনা করে পরীক্ষা পাশ করে তারপর মাছ ধরতে হবে জানলে ভর্তিই হতাম না। অনেকগুলো টাকা যাতে পানিতে না যায় এজন্য কষ্ট করে ক্লাস আর কাজের ফাঁকে প্রশ্ন নিয়ে দৌড়াতেছি।
যখনই শুনলাম ক্লাসে দেরী করে আসা যাবে আর তাড়াতাড়ি চলেও যাওয়া যাবে তখনই টিচারকে বল্লাম আমার তো আজ একটু তাড়াতাড়ি যেতে হবে। বাজার করতে হবে। না হলে তো রবিবার সপ্তাহিক ছুটি। দোকানপাট সব বন্ধ। উনি মুচকি হেসে বল্লেন আসছো তো দেরীতে আবার যেতেও চাও আগে। যাবেই যখন তাহলে যাও। আসলে কিসের বাজার। সবই ভূয়া। ৫দিন টানা কাজ করার পর যদি বাকী দুইদিনও এইরকম দৌড়ের উপর যায় তাহলে কার ভালো লাগে। এরমধ্যে ঠান্ডা, বৃষ্টি তো আছেই। পরেরদিন প্রায় দুই ঘন্টা পর ক্লাসে উপস্হিতি জানালাম। লাঞ্চ ব্রেকে টিচারের সাথে দেখা। বল্লেন আজকেও কি তাড়াতাড়ি চলে যাবে। বল্লাম আজকে যাবো না। আপাতত পরীক্ষা পাশের ধান্ধা করতে হচ্ছে।
লাঞ্চে রেষ্ট্রুরেন্টে শুয়রের মাংসের আইটেম। একটু হেটে একটি ডুনার কাবাবের দোকানে গিয়ে দেখা গেলো কমদামে ড্রিংস সহ ডুনার কাবাব বিক্রি করতেছে। দেখলাম হালাল লেখা আছে। দোকান নতুন তাই কমদামে দিচ্ছে। মোটামুটি ভালোই হলো। যদিও একটি ডুনার খেতে আমার খবর হয়ে যায়। আগামী কয়েক সপ্তাহ কমদামে ডুনার খেতে পারবো ভেবে ভালোই লাগলো। বিকেলে বাসায় ভাইয়াকে কম দামে ডুনারের কথা বলায় উনি না খেতে বল্লেন। কম দামের ডুনারগুলো নাকি ভালো মাংস দিয়ে বানায় না:(



অফিসে ব্যাপক দৌড়। কলিগ কয়েকজন অসুস্হ। এখন সর্দি-জ্বরের সময়। চান্সে সোয়াইন ফ্লোয়ের ভয়ে যাদের একটু শরীর গরম হয়েছে তাদেরকে অফিসে আসতে মানা করা হয়েছে। কিন্তু দু:খের সাথে জানানো যাচ্ছে যে আমার শরীর একটুও গরম হয় না :(। একটু কাশি অথবা সর্দি হলেও না হয় ফোন করলে ম্যানেজার ভাবতো সত্যি সত্যি সর্দি-জ্বর হয়েছে। নিজের কাজের পাশাপাশি অসুস্হ লোকজনের কাজের চাপও সামাল দিতে হচ্ছে।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১২
সলতে বলেছেন:

মাছ ধরার লাইসেন্সের কথা জানতাম না.....................

Click This Link
২. ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৩
অনন্ত দিগন্ত বলেছেন: এত কষ্ট কয়ে মাছ শিকারের লাইসেন্স নিয়ে যে মাছ ধরবেন সেটার ওজন মেপে আবার পানিতে ছেড়ে দিতে হবে না তো ? :P
১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৭

লেখক বলেছেন: খারাপ বলেন নাই।
লাইসেন্সের কড়াকড়ির জন্য সবাই ইচ্ছে থাকলেও মাছ ধরতে পারে না। মাছের বংশবৃদ্ধি তাই বেশ ভালো। কিছু প্রজাতির মাছ ভালোই পাওয়া যায়। এবং স্বাদ সেইরকম পাইনস্যা। বাংলাদেশের মাছের সাথে তুলনায় মাইনাস। শুধুমাত্র গ্রিল করে খাওয়া সম্ভব।
আমি মাছ ধরতে পছন্দ করি তাই এই কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। এমনিতে বাংলাদেশের মাছ নিয়মিত খেয়ে থাকি।

৩. ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৬
ওসমানজি২ বলেছেন: বলেন কি ? এ্যাতো হ্যাপা ??
১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩১

লেখক বলেছেন: জ্বী :(

৪. ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৭
শ।মসীর বলেছেন: অনন্তকে ঝাঝা :):)

বড়শি নিয়া বইসা পরলে সমস্যা কি ??
১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩১

লেখক বলেছেন: কয়েক হাজার ইউরো জরিমানা। সাথে জেলও হতে পারে। এমনকি নদীর পাড়ের কিছু জলজ উদ্ভিদের পাতা ছিড়লেও জেল-জরিমানা।

এইসব দেশে আরো কতো রকমের জরিমানা আছে চিন্তাও করতে পারবেন না। গাছে উঠলে জরিমানা। যেকোন জায়গায় চুইনগাম, সিগারেটের ফিলটার অথবা থুথু ফেল্লেও জরিমানা।

১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫০

লেখক বলেছেন: :(

৬. ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪০
নোঙ্গর ছেঁড়া বলেছেন: মাছ ধরতে খুব ভাল্লাগে........:)
১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫১

লেখক বলেছেন: এত্তো বড়ো তো ওদের নদীতে নাই। সাগরে মাছ ধরতে আলাদা লাইসেন্স লাগবো। আমাকে দিয়ে হবে না :(

৭. ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:০১
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন: সমস্যা নাই। ব্যাফক মাছ ধইরা পরে ষ্টোরে সাপ্লাই দিবেন। কিছুদিনের মধ্যেই ধনী ম্যাগাজিনে নাম উইঠা যাইব। B:-)
১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫২

লেখক বলেছেন: আমার ধৈর্য্য কম। মাছ না লাগলে বর্শী ফেলে চলে আসতে পারি।
আপনার তো শীতে বরফে ছিদ্র করে মাছ ধরতে পারেন :)

৮. ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩০
শ।মসীর বলেছেন: সব কিছুতেই লাইসেন্স, কয় কি !!! সে ছোটবেলায় মাছ ধরতে দারুন লাগত। বাসার পাশে দীঘিতে বড়শি নিয়া বসে পড়তাম। ময়দার দলা থাকত, আর যেদিন মুড বেশী ভাল থাকত সেদিন কেঁচো খুড়তাম।

কতদিন মাছ ধরিনা। আশায় আছি হয়ত কোন দিন আবার সুযোগ হবে :):)
১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৭

লেখক বলেছেন: সেই দিন আর নাই। কয়েকবছর আগে দেশে গিয়ে দেখি টিলা কেটে মাঠি দিয়ে সব পুকুর ভর্তি করে দালান উঠতাছে (বর্তমান সিলেটের অবস্হা নাকি আরো খারাপ)।

১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪১

লেখক বলেছেন: আমরাও ময়দার দলা অথবা পাউরুটি দিয়ে বর্শী নিয়ে সারাদিনে ২/৩ টা পুটি মাছ ধরতাম। লালপিপড়ার বাসা ভেঙ্গে ওদের ডিম দিয়েও মাছ ধরতে যেতাম। তবে পিপড়ার ডিম ধরতে খারাপ লাগতো দেখে অন্য আরেকজনকে দিয়ে বর্শীতে ঘাতাতাম। কেঁচো পছন্দ করি না।

সেইসব দিন এখন স্বপ্ন।

৯. ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩২
বিডি আইডল বলেছেন: কানাডাতে তো টাকা দিয়ে লাইসেন্স নিলেই হয় মনে হয়!?! ক্লাস ফ্লাসের কথা তো শুনি নাই....
১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৫

লেখক বলেছেন: হয়তো। কানাডা অনেক বড়ো দেশ + নদ-নদীর অভাব কম। জার্মানি এমনিতেই ছোট। নদ-নদী খুবই কম। সবচে বড়ো কথা জার্মানরা খাইষ্টা। সবকিছুতেই ডকুমেন্ট।

১০. ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪০
বিডি আইডল বলেছেন: :) জার্মানির তুর্কী রেস্টুরেন্টে টরটিলা টাইপ একটা খাবার খেয়েছিলাম...নামটা মনে নাই...হেভ্ভি আছিল...
১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৪

লেখক বলেছেন: তুর্কি ডুনার কাবাব জোস। ওরা কিছু স্যুপও বানায় বেশ ভালো। তবে আমি স্যুপ খাই না। তাই বলতে পারলাম না। সামারে ইতালীতে গিয়ে একটি পঞ্চতারা হোটেলের টরটিলা খেয়ে মাথা ঘুরে গিয়েছি। সেইরকম টেষ্ট।

১১. ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫০
বিডি আইডল বলেছেন: টরটিলা আসলেই জোস খাবার....আমার বৌ কাইলক্যা বাসায় করছিল...চিকেন স্ট্রিপ দিয়া..

নামটা মনে হয় ডুনারই ছিল..জার্মানিতে বেশ কিছু ক্লাসিক রেস্টুরেন্টে দাওয়াত খেয়েছিলাম....দূর্দান্ত সব ডিশ...বিশেষ করে মাছ+ভাতের একটা ডিশ আর হাসের রোস্ট এই দুইটার স্বাদ এখনও ভুলি নাই (প্রায় ৪-৫ বছর আগের কথা)
১২ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:১০

লেখক বলেছেন: ডুনারই হবে হয়তো। ডুনারের পুড়া মাংসটা সেইরকম টেষ্ট এবং অনেকগুলো আইটেম হয়। তবে ফ্যাটও আলহামুলিল্লাহ। তাই মাসে হয়তো একবার খাওয়া হয়। বিদেশী খাবার সাধারনত বাইরে খাই। বাসায় সবসময় বাঙালী :)

১২. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫২
শ।মসীর বলেছেন: ক্ষুদা লাগাইয়া দিলেনতো আপনারা। যায় খাইয়া আসি :)
১৩. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৯
বড় বিলাই বলেছেন: ভালো যন্ত্রনায় পড়েছেন।
১২ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২০

লেখক বলেছেন: জ্বী অয় :(

১৪. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ৯:৩৬
লিলি বিন্‌তে সো্লায়মান বলেছেন: .......ওমা! এতো ঝামেলা!
এরচে' দেশ কতো ভালো....।
১৫. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১০:১৪
লিলি বিন্‌তে সো্লায়মান বলেছেন: .......ওমা! এতো ঝামেলা!
এরচে' দেশ কতো ভালো....।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০০৫৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ব্লা...ব্লা...ব্লা
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ