somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ব্লগরব্লগর ( না পড়াই উত্তম)
রোযা আজ ২৭ নম্বর চলতেছে। ২৯ হলে বৃহস্পতিবার ঈদ হবে এখানে। কোন কোন কমিউনিটি (তার্কিশ, এ্যারাবিশ) এরা ইতিমধ্যে বৃহস্পতিবার ঘোষনা করে ফেলেছে। আমরা চাঁদ দেখার উপর ভরসা করে আছি। দিন নির্দিষ্ট না হওয়ায় অফিসে ছুটির নোটিশ ঝুলাতে পারতেছি না। অনেক ছুটি যদিও পাওনা। কিন্তু নভেম্বরে হজ্জ্ব করার ইচ্ছে। ওখানেই চলে যাবে সব ছুটি। কিছু করার নাই। ম্যানেজ্যারের সাথে কাল কথা বলবো। সন্ধ্যার পর একটা মেইল করে বলে দিবো পরের দিন আসবো কি না। ম্যানেজার অটো ভ্যাকেশনে জানিয়ে দিবে। আমার জমাকৃত অতিরিক্ত ঘন্টা থেকে ৮ ঘন্টা মাইনাস হয়ে যাবে।

নতুন একটা গাড়ি কিনবো বলে পুরনোটাকে বিদায় দিয়েছি বেশ কিছুদিন হলো। সামারে ঝড়-বৃষ্টি কম হয়। একটা সাইকেল চালানো, একটু হাটাহাটির ইচ্ছে। কিছুটা ইচ্ছে করেই নতুন গাড়ি কিনা হচ্ছে না। এমনিতেই আমি স্পিড লিমিট ভঙ্গ করি খুব বেশী। তার উপর এতো বেশী সিগনাল যে গিয়ার, এক্সেলটর চাপতে মাথা গরম হয়ে যায়। সর্বোপরি শহরের যোগযোগ ব্যবস্হা এতো ভালো যে গাড়ির দরকারই হয় না। আগের গাড়ি কিনে শরীরের ওজন বাড়ানোর পাশাপাশি এই বসয়েই কোমর ব্যথার লক্ষন শুরু হয়ে গিয়েছিলো। বাসা থেকে নেমেই গাড়ি। অফিসের নীচে পার্কিং করে ১০ ঘন্টা বসে কাজ। বাসায় ফিরে আবার শুয়ে বসে সময় কাটানো। আমার মতো আইলশ্যা (জিমে যেতে কষ্ট হয়) তো ওজন বাড়বেই। অবশ্য রোযা উপলক্ষ্যে প্রায় ৪ কি.লো ওজন কমানো গেছে। রোযা পরবর্তি মাস খানেকের মধ্যেই আগের ফর্মে ফিরে যাবো <img src=" style="border:0;" />

শুক্রবার মসজিদের তারাবির নামায শেষ হতে প্রায় রাত ১২টা বেজে গেলো (ইফতারের সময় সন্ধ্যা ৮:৩০। এশা ১০:৩০)। ছোটভাইয়ের গাড়ি নিয়ে আসলাম যে পরের দিন তো নামাযে যাবোই। যদিও বাসায় আসতে ৩০/৩৫ মিনিট লাগে । তারপরও মনে হলো গাড়ি সামনে আছে যেহেতু নিয়েই যাই।
শুক্র/শনিবার ট্রেন স্টেশনের আশেপাশে ঈদ উতসব। অনেকগুলো নাইট ক্লাব থেকে শুরু করে রেড জোন বেশ কয়েকটি। পাশেই মসজিদ। সন্ধ্যার পর গাড়ি পার্ক করা মহা ঝামেলার কাজ। কোনভাবেই পার্কের জায়গা পাওয়া যায় না। পুলিশের আনাগোনাও থাকে প্রচুর ঐসময়। নির্দিষ্ট জায়গায় পার্ক না করলে টিকেট খাওয়ার পাশাপাশি গাড়ি তুলে নিয়েও যেতে পারে। তখন প্রায় ৪০০ ইউরো দিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে নিয়ে আসতে হয়।
ইফতার করেই তাড়াতাড়ি বের হলাম যে পার্কিং একটা পেয়ে গেলেই বাঁচি। সিড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে মনে মনে ভাবতেছিলাম গাড়ি থাকার মজাই আলাদা। বাসার নীচে পার্ক করা গাড়ি। উঠে পড়ো। জায়গামতো গিয়ে নেমে যাও। হাটা অথবা বাস ট্রামের জন্য অপেক্ষার কোন ঝামেলাই নাই। মোটামুটি শিস দিতে দিতেই গাড়ি স্টার্ট দিলাম <img src=" style="border:0;" />

মসজিদের পাশাপাশি আসতেই মাথা মোটামুটি গরম। ১০ মিটার আগানো যায় না একটা করে সিগনালে লাল বাতি জ্বলে। পুলিশ কাকারাও মাঝে মাঝে গাড়ি থামিয়ে এ্যলকোহলের মাত্রা টেষ্ট করতেছে<img src=(" style="border:0;" />। কিছুক্ষনপর শুরু হলো আসল হ্যাপা। প্রায় ২৫ মিনিট ঘুরতে ঘুরতে পার্কের কোন জায়গাই খুজে পাচ্ছিলাম না। কয়েকবার ভেবেছি বাসায় গিয়ে নামায পড়ে নেই। পরে একটি স্কুলের সামনে অর্ধেক ঝিগঝাগ লাইনে পার্ক করে দৌড় দিয়ে মসজিদে। তখন অলরেডি প্রথম রাকাত শেষ। নামাযে দাড়িয়ে আছি ঠিকই। মাথায় তখন একটাই চিন্তা- টিকেট লাগায় নাকি, গাড়ি তুলে নিয়ে যায় নাকি? আর গালি দিতেছি - কোন হালায় গাড়ি চালায়।
ফরয নামায শেষে ছোটভাইকে চাবি দিয়ে বল্লাম একটু খারাপ জায়গায় পার্ক করেছি। তুই তাড়াতাড়ি গিয়ে গাড়ি সরা। আর আমি কান ধরতেছি। গাড়ি নিয়ে আর কখনো এই জায়গা পার্ক খুজতে আসবো না।

দেশে এসে একটা লম্বা ছুটি কাটাতে খুব মঞ্চায়। কিন্তু ছুটি তো নাই। আর কাজ করতে ভাল্লাগে না<img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />।

সবাইকে আগাম ঈদ মোবারক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29236094 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29236094 2010-09-06 16:18:13
ব্লগরব্লগর (এগেইন আবার ফ্রান্স ট্যুর)
ছোটবোনের স্কুল ছুটি। দেশে আসার কোন চান্স নেই। গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে কোথাও না গেলে সারা বছর কানের কাছে ঘ্যান-ঘ্যান শুনতে হবে। ভাইয়া একদিনের নোটিশে ফ্রান্সে যাবার আয়োজন করে ফোন করে জিঞ্জেস করলো আমি শুক্রবার ছুটি পাবো কি না? আমার ম্যানেজার ছুটি দিতে রাজি হয়ে গেলো। যাত্রা আপাতত ডিজনীল্যান্ড আর আইফেল। ফ্রান্সে আমার অলরেডি ২/৩ বার যাওয়া হয়ে গেছে। তাই খুব একটা মজা পাবো না জেনেও যেতে হলো। ইন্টারনেটে দুটো বাড়ি ২দিনের জন্য বুকিং দেওয়া হলো। প্রথমে যেহেতু ডিজনীল্যান্ড যাবো তাই বাড়িগুলো ওখানেই বুকিং দেওয়া হলো।






ভোর ৪ টায় দুটো গাড়ি নিয়ে রওয়ানা। গাড়ি কে চালাবে সেইটা নিয়ে প্রথমে একচোট হয়ে গেলো ভাই-ভাবীর সাথে। আমি চাইছিলাম ভাইয়া প্রথমে চালাক। পরে না হয় আমি নিবো। ভাইয়া বলে আমি পুরো রাস্তা দৌড়াবো। মোটামুটি নতুন গাড়ি। তবে ঐটা আমার গাড়ি না। তাই প্রথমে একটু অসুবিধা হবে গিয়ার, ব্রাক, লাইট এগুলো চিনতে হবে (এগুলো গাড়ি টু গাড়ি পার্থক্য হয়)। উনি পাশে বসে আমাকে ভুল হলে বলবেন। গাড়ি চালানোতে কেউ ইন্টারাপ্ট করলে আমার মেজাজ খারাপ হয় আর ভুল হবার সম্ভাবনা থাকে বেশী। একবার তো ট্রাকের তলায় ঢুকে গিয়েছিলাম। পরে ভাইয়া বল্লো তোর ভাবী এইসবে আরো বড়ো উস্তাদ। কোথাও ৯০ কি.মি থাকলে কোনভাবেই ঐটা ক্রস করা যাবে না। পাশে বসে চিল্লাবে। এজন্য উনি ড্রাইভ করেনি।

আমি ৫ মিনিটে গাড়ি গিয়ার থেকে শুরু করে সবগুলো মোটামুটি দেখে আল্লার নাম নিয়ে রওয়ানা। রাস্তা বেশ ফাকা ছিলো তাই বেশ ভালো স্পিডে গাড়ি চালানো গেছে। যদিও আমরা যে রাস্তা ধরে গিয়েছি ঐটা মাত্র ৩ লেনের ছিলো। স্পিড লিমিট লিখা ছিলো ৯০ কি.মি। আমি দৌড়াইছি ২২০ কি.মি তে। আর আমাদের অন্য গাড়ি (ঐটা একদম নতুন) দৌড়াইছে ২৪০ কি.মি তে।
ওদের হাইওয়েতে কিছুক্ষন পরপর টুল সিস্টেম। মহা গেইঞ্জাম। ইতালীতেও দেখেছি টুল সিস্টেম। প্রায় ৬০ ইউরো টুল দিতে হলো <img src=" style="border:0;" />

মধ্যিখানে নাস্তা/কফির জন্য কিছুটা যাত্রা বিরতি ছিলো। প্রায় ৬ ঘন্টায় মোটামুটি ডিজনীল্যান্ডে কাছে আমাদের আবাসিক হোটেলে পৌছানো গেছে।
একটু রেষ্ট নিয়ে মহান (!!) ডিজনীল্যান্ডের উদ্যেশে যাত্রা। হোটেল থেকে মাত্র ২ স্টপেজ। হেটে গেলে ১৫ মিনিট। এখন শুধু ছবি...
























































ডিজনীল্যান্ডে যে নামডাক শুনেছিলাম দেখে তা মনে হলো না। গ্রুপের সবাই খুবই হতাশ। এর থেকে জার্মানী ইউরোপা পার্ক অনেককক ভালো। আইটেমও অনেক বেশী। তবে ডিজনীল্যান্ডের ২/৩ টা আইটেম বেশ ভালো বাচ্চাদের জন্য। তবে অভারওল আমরা সবাই হতাশ। এন্ট্রি টিকেট ৫২ ইউরো প্রতিজন (অনেক বেশী)। একদিনেই মোটামুটি সবগুলো আইটেম চড়ে ফেলা হয়েছিলো। বেশী হতাশায় ২ দিন থাকার কথা থাকলেও একদিন থেকেই ভাগার চিন্তায় অস্হির। তবে থাকার জায়গাটা খুবই ভালো ছিলো। ডিশওয়াশার, কাপড়ধোয়ার মেশিন থেকে সবই ছিলো। ভাড়া মাত্র ১৫০ ইউরো প্রতিদিন। এতো কমে কিভাবে ওরা মেইনটেইন করে বুঝলাম না।

পরের দিন আইফেল টাওয়ার। প্রায় ২ ঘন্টা লাইনে খাড়া। উপরে উঠেই সবার সখ মিঠে গেছে। সাথে সাথে নীচে নামার জন্য তাড়াহুড়ো। স্কুল ছুটি থাকায় এতো ভীড় আগে আন্দাজ করা যায়নি।
প‌্যারিসে গাড়ি পার্কিং মহা ঝামেলা। galerieslafayette তে সারাদিনের জন্য রেখে বের হয়েছিলাম। প্রায় ২৪ ইউরো বিল আসছে <img src=" style="border:0;" />। তবে ওদের পার্কিং থেকে গাড়ি বের করতে আমার ড্রাইভিংয়ের ষোলকলা পূর্ন। পুরো একটা ডানজিওন টাইপ। ক্লাচ আর এক্সেলেটর চাপতে চাপতে পুরো পা কাঁপাকাঁপি।



সন্ধ্যার পর আবার বাড়ি ফেরা। গাড়ির সবাই মোটামুটি ঘুমে। রাস্তায় প্রচন্ড বৃষ্টিতে ড্রাইভ করতে খুবই কষ্ট হয়েছে। আমিও মাঝে মাঝে একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। থেমে আবার কফি খেয়ে ড্রাইভ। ভোরে বাসায়। পরের কয়েক সপ্তাহ গাড়ি ড্রাইভ করা বন্ধ।

(কয়েক হাজার ছবি। এতোগুলো দেওয়া সম্ভব না। একটা একটা করে সিলেক্ট করে আবার ইনসার্ট করতে হাত ব্যথা করে <img src=" style="border:0;" />)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29232012 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29232012 2010-08-29 22:06:50
শিরোনাম নাই (একান্ত ব্যক্তিগত। কেউ পড়লে ভালো, না পড়লো আরো ভালো) সপ্তাহখানেক ঢাকায় কিছু ছোটখাটো কাজ শেষ করে সিলেট। বেড়াতে যাওয়া মানেই স্বাধীনতা। না হলে তো অফিস টু বাসা আবার বাসা টু অফিস। এর বাইরে কোন কাজই হয় না। কক্সবাজার যাওয়ার জন্য সবকিছু ঠিকঠাক করে অপেক্ষা করছি। দেশে থাকতে প্রতি বছর অন্তত এক সপ্তাহের জন্য কক্সবাজার যাওয়া রুটিন হয়ে গিয়েছিলো। দেশে গেলে বন্ধুনদের নিয়ে একই রুটিন ধরে রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু অফিসের কাজে জরুরী ভিত্তিতে দুই সপ্তাহের মাথায় ফিরে আসতে হলো। আসতে গিয়েও ব্যাপক ঝামেলা। যে প্লেনে গিয়েছি ওখানে রিটার্ন টিকেটর তারিখ আগানো সম্ভব না। উপায় না পেয়ে মালয়েশিয়ান এয়ারের টিকেটের ওয়ান ওয়ে টিকেট করতে হলো। আসলে আমার জিগরি দোস্তু মালয়েশিয়া হয়ে সিঙ্গাপুরে ব্যবসায়ের কাজে যাচ্ছে। ও নিজে মালয়েশিয়া এয়ারের টিকেট ব্যবস্তা করে দিলো। অনেক্ষন একসাথে আড্ডা দেওয়া যাবে এই জন্য এই পদক্ষেপ। এই প্রথম এশিয়ার কোন দেশে আমার যাওয়া। ১৬ ঘন্টার ট্রানজিট। সন্ধ্যায় টিকেট করে রাতে ফ্লাইট, তাই ওরা হোটেল কনফার্ম করতে পারেনি। আমাকে এয়ারপোর্টে গিয়ে হোটেলের জন্য চেষ্টা করতে হবে।
আমার বাংলাদেশী পাসপোর্ট। কিন্তু ভিসা অনেক। ওদের অনেক বড়ো ওয়ারপোর্ট। সেই অনুপাতে যাত্রি কম মনে হলো। দেশী পাসপোর্ট নিয়ে ওদের দেশে ঢুকতে হলে ট্রানজিট ভিসা নিতে হবে। আমার সামনে একজন এশিয়ানকে ওরা রিফিউজ করলো। লোকটিকে শুধু বলতে শুনলাম আমি কি আগামী ১৬ ঘন্টা এয়াপোর্টেই থাকবো? ওরা হাসিমুখে বল্লো- জ্বী। শুনে আমার তো গলা শুকিয়ে কাঠ। ঐদিকে দোস্ত অলরেডি সিঙ্গাপুর এয়ারে উঠে গেছে। আমার পাস এগিয়ে দিলাম। প্রতি পাতাতেই বিভিন্ন দেশের ভিসা। পাসপোর্টের মাত্র কয়েকটি পাতা খালি আছে। আসল ভিসার পাতা খুজে পেতে হলে আমার সাহায্য নেওয়া আবশ্যক <img src=" style="border:0;" />। এখন তো উনারা জার্মান ভাষা বুঝে না। পাসপোর্ট নিয়ে অনেক্ষন নাড়াচাড়া করে পরে ওদের বসের কাছে গিয়ে কথা বলে এসে দেখলাম সিল মারতেছে। আহ, শান্তি।
দেশটা মোটামুটি ছিমছাম। অনেক চাঙ্কু আর তামিল দেখলাম। মোটামুটি ভালোই হোটেল ছিলো। তবে আশেপাশে বাঙালির দেখা পেলাম না। বিকেলে একজনের সাথে দেখা হয়েছিলো। অবস্হা খুব একটা ভালো না। কন্ট্রাক্ট ছাড়া নাকি কাজ করতেছে। কখন ধরে পাঠিয়ে দিবে তার কোন ঠিক নাই। তখন ওখানে চায়নিজ নতুন বছরের ছুটি ছিলো। প্রায় ১৬ ঘন্টার ফ্লাইট। শুনেই মোটামুটি মাথা খারাপ অবস্হা।
দেশ থেকে এসে প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে গরম লাগতেছিলো। বাইরে বরফ জমে পুরো পাথর হয়ে আছে।অথচ আমার গরম লাগে। যা হবার তাই হলো। কয়েকদিনের মধ্যে জ্বরে কাহিল। কয়েকদিন পেরাসিটামল সেবন করে কাজ হলো না। ডাক্তারের কাছে গিয়েও একই ঔষধ। দেশে থাকতে প্রচুর বিড়ি ফুকেছিলাম। লাঞ্চে নাকি কফ জমেছে। কিসব ঔষধ দিলো। কিন্তু জ্বরের কোনই অবনতি নাই। পরেরবার ডাক্তারকে গিয়ে বল্লাম আমি কিন্তু কয়েকসপ্তাহ বাংলাদেশে ছিলাম। এবার উনি একটু নড়েচড়ে বসে বল্লেন-তাহলে তো ম্যালেরিয়া টেষ্ট করতে হবে। ঐ টেষ্ট আবার সব হাসপাতালে হয় না। আমি গত ৮/৯ বছরে একবারও কোন রকমের ডাক্তারি টেষ্ট-ফেষ্টের কাছে যাইনি। যদিও বছরে একবার করার নিয়ম। আর হেল্থ ইন্সুরেন্সের হাজার হাজার ইউরো ফাও নিয়ে যাইতেছে। তারপরও যেতে ইচ্ছে করে না।
ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে শুধু ম্যালেরিয়া টেষ্ট হয়। আমি হাসপাতালে টেষ্ট করাতে ভয় পাই। এখানে একবার যদি ইমারজেন্সিতে যাওয়া হয় তাহলে আর উপায় নাই। কোন রোগ না পাওয়া পর্যন্ত রেহাই নাই। দরকার হলে হাসপাতালে ৪/৫ দিন রেখে ওরা শত শত টেষ্ট করবে। তারপর একদম শিওর না হয়ে ছুটি দিবে না।
আমি ভয়ে ভয়ে ছোট ভাইকে নিয়ে টেষ্ট করাতে গেলাম। যদি রেখে দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে যাতে কোনমতে বের হয়ে আসতে পারি এজন্য সাপোর্ট নিয়ে গিয়েছিলাম। ওনেকগুলো টেষ্ট করে বল্লো কোন ম্যালেরিয়া না, তবে ওরা রক্তে কি একটি উপাদান কম পেয়েছে। তাই এন্টিবায়োটিক দিলো (কোন ডাক্তারই এন্টিবায়োটিক সহজে দিতে চায় না)। সাথে ইউরিন সহ আরো কিছু টেষ্ট করে পরে জানাবে বলে চলে যেতে বল্লো। এদিকে জ্বরে অবস্হা এমন কাহিল যে কিছু খেতেই ইচ্ছে করে না। মা কিছুক্ষন পর পর এসে কি খাবো সেটা নিয়ে কথা বলতেই থাকে। তিন সপ্তাহে ওজন প্রায় ৫ কিলো মাইনাস। যে অফিসের জন্য এতো কষ্ট করে আসা ওখানে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যদিও একদিন যাই পরের দুই দিন ডাক্তারের কাছে ফোন করে অসুস্হতার ছুটির কাগজ নিয়ে আসি। ম্যানেজার বলে তুমি আগে সুস্হ হও। আর অফিস থেকে লম্বা ছুটি নাও। তুমি যদি এসে আমার বাকি ডেভোলপারগুলোকে অসুস্হ করো তাহলে আমি রাস্তায় বসবো। বাসা থেকে কিছু কাজ করার ইচ্ছে প্রকাশ করলাম। অনেকদিন কাজের বাইরে থাকলে টেকনিক্যাল অনেক কিছুই ভুলে যাই। এখন আমাদের ১০/১২ বছরের পুরনো প্রসেসর ছেড়ে নতুন প্রসেসর নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। তাই অনেক কিছু প্রতিদিন আপডেট হচ্ছে। নেট থেকে আমাদের অফিসের সবগুলো সার্ভার এক্সেস করার উপায় আছে। আর ডেভোলপারের কাজ তো কম্পু দিয়েই। যদিও আমাদের সফটওয়্যার হার্ডওয়্যার রিলেটেট। তাই সফটওয়্যার কম্পাইল হলেই কাজ শেষ না। বেশিরভাগ সময়েই এ্যারর ফ্রি সফটওয়্যার ডিভাইসে কাজ করে না (গত তিনদিন ধরে ডিভাগ করে একটা এ্যারর ধরতে পারতেছি না। সি এর পয়েন্টার যতো ঝামেলা<img src=(" style="border:0;" />। কাজ করে মজা নাই। শুধু পেটের ধান্ধায় কাজ করা)।
জ্বর থেকে ছাড়া পেতেই হাসপাতাল থেকে ফোন। আমার নাকি সিরিয়াস টাইপের কিছু পাওয়া গেছে। আমি তাড়াতাড়ি যাতে যোগাযোগ করি। তখন gesundheitsamt (health authorities ) থেকে ফোনও আসছে। আমি কি কাজ করি? কোথায় থাকি? সবকিছু শুনে উপদেশ দিলো আমি যেনো পাবলিক প্লেস থেকে দুরে থাকি। আরো অনেক রকমের হেল্থ টিপস। সব সময় লিকুয়িড দিয়ে হাত ধুতে হবে। সাবান ব্যবহার করা যাবে না(সোয়াইন ফ্লুর পর থেকে বাসা, অফিস সব জায়গাতেই সতর্কতা ছিলো আগে থেকেই)। ম্যানেজারকে বলতেই বল্লো বাসায় দৌড় দাও। হাসপাতাল থেকে আরো এক সপ্তাহের ছুটির নোটিশ ধরিয়ে দিলো। দশ দিনের জন্য আরো একটি এন্টিবায়োটিকও ধরিয়ে দিলো। বাসায় বসে অফিসের সার্ভার ব্যবহার করে কিছু কাজ এগিয়ে রেখেছিলাম। বাসায় বসে কোন কাজ নেই। সারাক্ষন শুয়ে বসে সময় কাটানো। যদিও ম্যানেজারের ইচ্ছে ছিলো আমি যেনো বাসা থেকে কাজ করি। আমাদের কিছু এক্সটারনাল ডেভোলপার আছে যারা বাইরে থেকে কাজ করে। কিন্তু ইউনিট ম্যানেজার মানা করে দিয়েছে।
এক সপ্তাহ পর আবার টেষ্টের জন্য হাসপাতালে গেলে ওরা আবারও এক সপ্তাহের ছুটির নোটশ ধরিয়ে দিলো। টেষ্টের রেজাল্ট পাওয়ার আগ পর্যন্ত নাকি কোথাও যাওয়া রিক্সি। আমি ঐটা পকেটস্হ করে অফিসে গিয়ে কাজ শুরু করে দিলাম। প্রায় ৭ সপ্তাহ পর কাজে গেলাম। কাজের পুরো জট গেলে গেছে <img src=" style="border:0;" />। কয়েকদিন ১০ ঘন্টার মতো কাজ করতে হলো। আমাদের আবার কঠিন নিয়ম। ১০ ঘন্টার উপর কাজ করতে পারবে না। তাহলে নোটিশ খেতে হবে।
কয়েকদি পর হাসপাতাল থেকে আবারো ফোন। টেষ্ট নেগেটিভ। কিন্তু আমাকে নাকি আরো দুইবার টেষ্ট করাতে হবে। ঐ দুটো যদি নেগেটিভ আসে তাহলেই রক্ষ্যে। মনে মনে প্রমাদ গুনলাম। আগামী সপ্তাহে টেষ্ট দুটো দিয়ে যদি আল্লাহ উদ্ধার করেন। তবে হাসপাতালের অবস্হা খুবই ভালো। আমি চিন্তাও করতে পারিনি। ওখানে সাধারন রোগিদের জন্য চা, কফি, পানি, বিক্সুট, কেক থেকে শুরু করে সবই ফ্রি। যার যা ইচ্ছে সবই খাচ্ছে।
দেশ থেকে দোস্ত আসবে আগামী মাসে। উনার জন্য অফিস কামাই দিতে হবে। উনি সুইজারল্যান্ড থেকে শুরু করে কয়েকটি দেশ ঘুরতে আসবেন। আমাকে উনারকে নিয়ে ঘুরতে হবে। তবে মোটামুটি অন্যের উপর দিয়ে আমি আরেকবার বিভিন্ন দেশে ঘুরে আসবো বলে বেশ নিশ্চিত ছিলাম <img src=" style="border:0;" />। গতদিন আরেক দোস্ত ইউ.কে থেকে ফোনাইছেন। উনিও ঘুরতে আসতে চাচ্ছেন। উনারও ইচ্ছে সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার। এখন আমার একটাই চিন্তুা। দেশ আর ইউ.কে তে লিয়াজো করে দুইজনকে একসাথে নিয়ে আসার। তাহলে গাড়ি নিয়ে যেতে পারবো। এক ট্যুরেই দুজনকে সময় দেওয়া হবে। না হলে খবর আছে।
আমার মতে ইউরোপে দেখার মতো খুব একটা কিছু নেই। কেউ যদি বলে ফ্রাঙ্কফুট আসতেছি। একটু ঘুরিয়ে দেখাতে। আমি ব্যাপক চিন্তিত হয়ে পড়ি। দেখানোর তো কিছু নাই। নদীর পাড় দিয়ে কিছুক্ষন হাটিয়ে বিদায় দেই। যদিও সুইস, ভেনিস, ফ্রান্সে, চেকের কিছু জায়গা আমার ভালো লেগেছে। কিন্তু ঐ একটা জায়গা দেখতে তো বেশিক্ষন লাগে না। প‌্যারিসে পরিচিত কেউ থাকলে পুরো প‌্যারিস দেখতে মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যাপার (গত ট্যুরে শাওন আমাদের সাথে থাকায় সবগুলো জায়গা দেখার পর দেখি এখনো কয়েক ঘন্টা বাকি আছে আমাদের ট্রেন আসার। প্লাটফর্মের ট্রেনে বসে কয়েকঘন্টা পার করলাম। দেখার কিছু ছিলো না।)
সামারটা আসলে কিছু করার ইচ্ছে আছে। এরমধ্যে মাছ ধরা অন্যতম। অফিসে der Angler (fisherman) হিসেবে অলরেডি খ্যাতি অর্জন করে ফেলেছি। শুধু মাছ ধরাতেই আনন্দ। এই দেশের মিঠা পানির মাছে কোন টেষ্ট নেই। আমাদের দেশের মাছ অনেকককক সুস্বাধু।

(প্রথম পাতায় প্রকাশ না করার অপশনটা পাচ্ছি না কেনো??)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29124358 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29124358 2010-03-27 15:33:02
নামের প‌্যাচাল মামাতো, খালাতো, মিলিয়ে ভাইবোন অনেক। ভাইবোনদের কি নামে ডাকবো সেটাও বিরাট ঝামেলার বিষয়। মা-বাবার/মামা-মামীর কড়া নিষেধ ছিলো বড়ো কাউকে নাম ধরে ডাকা যাবে না। মানে, করিম ভাই, রহিম ভাই অথবা সুলতানা আপা, অমুক আপা এইসব নামে ডাকা যাবে না। উনাদের বক্তব্য ছিলো, যদি নাম ধরেই ডাকতে হয় তাহলে আর ভাই অথবা আপা কেনো? এজন্য আমাদেরও বিভিন্ন নামে ডাকার জন্য বিভিন্ন স্টাইলের আশ্রয় নিতে হতো। কারো নাম বড়োভাই, ছোটভাই, মেঝোভাই, লালভাই, ধলা(সাদা)ভাই সহ ইত্যাদি। আপাদেরও একই অবস্হা। সময়ের আবর্তে পরিবারের অনেকেই শহরমুখো হয়েছেন। যারা শহরে গিয়ে বড়ো হয়েছে ওরা আর ঐসব (সাদা,লাল, কালো) নামে কাউকে ডাকে না। ওরা ডাইরেক্ট নামের সাথে ভাই অথবা আপা লাগিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে সবকিছু সয়ে গেছে অথবা সবাই মেনে নিয়েছে। কিন্তু আগের নামের টাইটেলোগুলো যাদের পেছনে লেগেছিলো উনাদের তা নিয়েই চলতে হচ্ছে। আমি মা কে "মাই" বলে ডাকা শুরু করেছিলাম (মামাদের অনুকরনে)। এখনো সেই নামেই আছি। বাবাকে অবশ্য আব্বাই ডাকি (মামারা ডাকে বাজি)। একদিন আমাদের বাসায় মোটামুটি বয়স্ক একজন গেষ্ট এসেছিলেন। আমি মা'কে মাই বলে ডাকার পর লোকটি বল্লো কি নামে ডাকলে? আমি একটু লজ্জা পেয়ে গেলাম (ইউরোপে থেকেও আধুনিক হতে পারলাম না)। রিপিট করতেই লোকটি কেঁদে দিলো। বল্লো আমিও আমার মাকে এই নামে ডাকতাম। অনেক বছর হলো উনার মা মারা গেছেন। আমার ছোট বোন মা-বাবাকে তো যখন যা খুশি ডাকে। তবে আমাদের ডাকা সেই নামগুলো খুবই মধুর।

এবার আসি আমার বর্তমান নামের ঝামেলা নিয়ে। বড়ভাইদের তুলনায় আমি ক্রমান্বয়ে একটু নীচে। তাই বড়ো মেঝো অথবা ছোট কোন টাইটেলই আমার ভাগ্যে ঝুটেনি। চামড়ার কালার একটু ফর্সা তাই ঐনামটাই আমার পেছনে সিল মেরে গেলো (গতবছর এক পিচ্চি ফাজিল মেয়ে আমাকে দেখে বলে তুমি তো সাদা লাউ <img src=(" style="border:0;" />। আজকের পিচ্চিগুলো কথা বলতে কোন পরোয়া করে না। সবগুলো বেয়াদব হয়ে যাচ্ছে <img src=(" style="border:0;" />)। নিজ বাড়িতে অথবা আত্মীয়দের মাঝে সিলমারা নামে পরিচিত। গ্রামে পরিচয় ডাক নামে। স্কুল, মক্তবে ডাকনামে সবাই চিনে। এস.এস.পি পরীক্ষার সময় আসল নামের ডাক পড়লো। এতোদিন আসল নামের কোন হদিছ ছিলো না। মামা এসে নাম লিখালেন। আসল নামের সামনে পেছন মোহাম্মদ, আহমদ কোনকিছুই বাদ যায়নি। সার্টিফিটেকগুলোও হয়ে গেলো সেই অনুপাতে। পিতার নামের আগেও মোহাম্মদ, আহমদ লাগানো হলো। পরবর্তিতে আব্বার পাসপোর্টে দেখা গেলো উনার নামের শেষে আহমদ আছে কিন্তু নামের আগে মোহাম্মদ নেই। তখন কেউ এতো কিছু মাথায় নেয়নি। সার্টিফিকেট হওয়ার পর যখন পাসপোর্ট করতে যাবো তখন খেয়াল হলো। কিন্তু নামের প্রথমের মোহাম্মদ বদলানোর ঝামেলা দেখে আর সাহস হয়নি। কলেজ, ইউনিতে বন্ধুরা অথবা শিক্ষকেরা মধ্যম নাম দিয়ে ডাকতো। যা সাধারনত দেশে দেখা যায়। নামের প্রথম আর শেষের উপাধি তো শুধুমাত্র সার্টিফিকেটের জন্য অথবা মরার পর মাইরের হাত থেকে বাচার জন্য বলা যে আমি মোহাম্মদের (স: ) উম্মত।

দেশের ইতি টেনে যখন বিদেশমুখো হলাম তখন নামের আসল মোজেঝা শুরু হলো। বিভিন্ন ফরম পুরনে ওরা প্রথম নাম আর শেষ নামের (ফ্যামেলি নেম) জন্য জায়গা থাকে । কিন্তু আমার প্রথম নাম যে এতো বড়ো (পুরো মোহাম্মেদ। সাথে ডাবল এম) যা ঐ খালি জায়গায় ধাক্কাধাক্কি করে অথবা নীচে লিখতে হতো (এবং এখনো হয়)। কোনমতে পড়াশোনার ঝক্কি শেষ করে যখন কামলা দিতে আসলাম। তখন শুরু হলো আরেক ঝামেলা। এমনিতেই তখন ৯/১১ পর থেকে মুসলিম নাম দেখলেই ওদের চেহারা সেই রকম হয়। তারপর আগে পিছে পুরো মুসলিম টাইটেল নিয়ে আমি ইন্টারভিউ দিচ্ছি। চাকরী একটা হলো। এখন কলিগরা কি নামে ডাকবে? ওরা সাধারনত নামের প্রথম অংশ দিয়েই ডাকে। এখন আমার প্রথম অংশ তো দুইটা /<img src=" style="border:0;" />। বল্লাম তোদের যা খুশি তাই দিয়ে ডাক। আমার কোন অসুবিধা নেই। এখন একজন মোহাম্মদ, কেউ আহমদ নামেই ডাকে। মধ্যিখানে মা-বাবার দেওয়া আসল নামটা উদাও <img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />।

দেশে মোহাম্মদের পরিবর্তে অনেক সময় এম.ডি লিখা হয়। একজন বাংলাদেশী বড়ভাই সার্টিফিকেটেই এম.ডি লাগিয়ে দিয়েছেন। উনার পাসপোর্টেও এম.ডি। অথচ এম.ডি মেডিক্যালের একটি ডিগ্রী। উনি যখন চাকরীতে জয়েন করলেন তখন উনার কলিগরা এম.ডি এর মিনিং জানতে চাইলো। উনি ভয়ে আর মোহাম্মদ বলেননি। যদি চাকরী চলে যায়। তারপর থেকে উনি অফিসে এম.ডি নামেই পরিচিত। আমি অবশ্য ভয়ের কথা চিন্তা করি না। কাউকে পরিচয় দিতে কখনো মোহাম্মেদ কখনো আহমেদ বলি। নতুনভাবে মা-বাবার দেওয়া নাম (মিডেল নেম) বলে ঝামেলা বাড়াতে চাই না। এখন কেউ ভালো কথা বল্লেও আমাকে না বলে মোহাম্মদ অথবা আহমদকেই বলে। গালি দিলেও মোহাম্মদ অথবা আহমদকেই দেয়। আমার কিছু কলিগ এবং বস আছে যারা খুবই ক্লোজ। এইরকম ক্লোজ যে গালাগালি থেকে শুরু করে একদিন আলাপে তার গার্লফেন্ড কি টাইপের সেনিটেশন নেকপিন ব্যবহার করে সেইটা বলেছে। কলিগগুলোও সেই রকম। নামের আগে সাধারনত গালি দিয়েই আমাদের দিন শুরু হয়। মাঝেমাঝে ভাবি, গালিটা কি আমাকে দিলো নাকি যাকে (মোহাম্মদ (স: ) )সম্মান করে নামের আগে, পেছনে টাইটেল লাগিয়েছিলাম উনাকেই দিলো? কিন্তু এখন এইটাই বাস্তবতা।

কয়েকমাস থেকে বড়ো ভাইয়ের শখ হয়েছে উনার নাম পরিবর্তন করার। উনার নামের নাকি কোন অর্থই নেই। আমার ধারনা উনার শশুর আব্বা অন্য নামে ডাকেন। তাই নাম পরিবর্তন। আমার আবার কোন কিছুতে মুখ আটকায় না। আমাকে বলার পর হালকা একটু ঝাড়ি দিলাম। বল্লাম, আমাদের মামা বাংলাদেশে বেশ বড়ো একজন ডাক্তার। টাকা পয়সাও সেইরকম। প্রচন্ড ধার্মিকও। উনার নামের কোন অর্থ নেই। তাইবলে কি উনি নাম বদলাইছেন? ভাইজান এখন আমাকে পাশ কাটিয়ে দেশে বিভিন্ন জনের সাথে যোগাযোগ করতেছেন। আমিও আপাতত ঝামেলা মুক্ত। তবে নিজের নামটা যে হারিয়ে যাচ্চে সেইটা নিয়ে চিন্তিত/<img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29042927 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29042927 2009-11-13 17:34:03
মাছ ধরতে এতো হ্যাপা <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_15.gif" width="23" height="22" alt=":(" style="border:0;" />

মাছ ধরার লাইসেন্সের জন্য ভর্তি হয়ে পুরো ধরা। সেই সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বোরিং ক্লাস করতে হচ্ছে। প্রথমদিন ক্লাসে ১৫ মিনিট দেরী করে ঢুকলাম। লাঞ্চ ব্রেকের আগ পর্যন্ত কোন উপস্হিতি (রোল কল। সাধারনত একটি পেপার দিয়ে সাক্ষর নেওয়া হয়) কাউন্ট করা হয়নি। লাঞ্চ ব্রেকে শিক্ষককে জিজ্ঞেস করলাম উপস্হিতি কাউন্ট হবে কিভাবে? এবং ক্লাস করা কি বাধ্যতামুলক? জবাবে উনি বল্লেন উপস্হিতি উনি নিজের চোখ দিয়েই করেন। আর দেরী করে আসলে সমস্যা নেই। শুনে তো আমার চোখে ঘুম এসে গেলো। এমনিতেই ক্লাস হচ্ছে এইটি রেষ্ট্ররেন্টে। যার যখন ইচ্ছে খাবারের অথবা ড্রিংসের অর্ডার দিচ্ছে। খাবারের পাশাপাশি সবাই টিচারের বকবক শুনতেছে। কিছু কমবয়সি ছেলেমেয়ে টিচারের সাথে বান্দরামী করতেছে।

মাছের চৌদ্দগোষ্টি উদ্ধার করতে হচ্ছে। কোন মাছের আঁশ কিরকম (চেপ্টা নাকি লম্বা), রঙ কিরকম, কয়টা পাংখা আছে, কোন পাংখার কি নাম, পাংখা দেখে কিভাবে মাছ শনাক্ত করবে, মাছে চোখ কয়টি, কোন প্রকারের মাছ নদীর কোন লেভেলে চলে, কোথায় কোথায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ, মাছ ধরতে গিয়ে কিসব জলজ উদ্ভিদের পাতা অথবা সম্পুর্ন উদ্ভিদ উপড়ানো যাবে না, কোনকোন মাছ স্হানীয়, স্হানীয় মাছদের কিভাবে সনাক্ত করা যাবে, কোন মাছ কোথায় কিভাবে ডিম পাড়ে, কোন মাছের রক্ত বিষাক্ত, কোন মাছের কয়টি কানকোয়া আছে, কার কয়টি ফুসফুস, মাথার অবস্হান, মাছের মগজ কিভাবে কাজ করে ইত্যাদি হাজারো ব্লা ব্লা। এতো কিছু পড়াশোনা করে পরীক্ষা পাশ করে তারপর মাছ ধরতে হবে জানলে ভর্তিই হতাম না। অনেকগুলো টাকা যাতে পানিতে না যায় এজন্য কষ্ট করে ক্লাস আর কাজের ফাঁকে প্রশ্ন নিয়ে দৌড়াতেছি।
যখনই শুনলাম ক্লাসে দেরী করে আসা যাবে আর তাড়াতাড়ি চলেও যাওয়া যাবে তখনই টিচারকে বল্লাম আমার তো আজ একটু তাড়াতাড়ি যেতে হবে। বাজার করতে হবে। না হলে তো রবিবার সপ্তাহিক ছুটি। দোকানপাট সব বন্ধ। উনি মুচকি হেসে বল্লেন আসছো তো দেরীতে আবার যেতেও চাও আগে। যাবেই যখন তাহলে যাও। আসলে কিসের বাজার। সবই ভূয়া। ৫দিন টানা কাজ করার পর যদি বাকী দুইদিনও এইরকম দৌড়ের উপর যায় তাহলে কার ভালো লাগে। এরমধ্যে ঠান্ডা, বৃষ্টি তো আছেই। পরেরদিন প্রায় দুই ঘন্টা পর ক্লাসে উপস্হিতি জানালাম। লাঞ্চ ব্রেকে টিচারের সাথে দেখা। বল্লেন আজকেও কি তাড়াতাড়ি চলে যাবে। বল্লাম আজকে যাবো না। আপাতত পরীক্ষা পাশের ধান্ধা করতে হচ্ছে।
লাঞ্চে রেষ্ট্রুরেন্টে শুয়রের মাংসের আইটেম। একটু হেটে একটি ডুনার কাবাবের দোকানে গিয়ে দেখা গেলো কমদামে ড্রিংস সহ ডুনার কাবাব বিক্রি করতেছে। দেখলাম হালাল লেখা আছে। দোকান নতুন তাই কমদামে দিচ্ছে। মোটামুটি ভালোই হলো। যদিও একটি ডুনার খেতে আমার খবর হয়ে যায়। আগামী কয়েক সপ্তাহ কমদামে ডুনার খেতে পারবো ভেবে ভালোই লাগলো। বিকেলে বাসায় ভাইয়াকে কম দামে ডুনারের কথা বলায় উনি না খেতে বল্লেন। কম দামের ডুনারগুলো নাকি ভালো মাংস দিয়ে বানায় না<img src=" style="border:0;" />



অফিসে ব্যাপক দৌড়। কলিগ কয়েকজন অসুস্হ। এখন সর্দি-জ্বরের সময়। চান্সে সোয়াইন ফ্লোয়ের ভয়ে যাদের একটু শরীর গরম হয়েছে তাদেরকে অফিসে আসতে মানা করা হয়েছে। কিন্তু দু:খের সাথে জানানো যাচ্ছে যে আমার শরীর একটুও গরম হয় না <img src=" style="border:0;" />। একটু কাশি অথবা সর্দি হলেও না হয় ফোন করলে ম্যানেজার ভাবতো সত্যি সত্যি সর্দি-জ্বর হয়েছে। নিজের কাজের পাশাপাশি অসুস্হ লোকজনের কাজের চাপও সামাল দিতে হচ্ছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29041783 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29041783 2009-11-11 18:07:46
শখের এতো ঠেলা!!!!!
দেশে থাকাকালিন সময় থেকেই মাছ ধরার সখ। যদিও আমার ধৈর্য্য বেশ কম। বর্শিতে মাছ ঠুকর না দিলে মেজাজ খারাপ হয়ে যেতো। আমার সাথে মামাতো ভাইকে দেখতাম অনেকক্ষন ধৈর্য্য ধরে মাছ ধরতে। সাধারনত আমাদের ধরা মাছগুলো বাসায় খুব একটা কাজে লাগতো না। হাস, মোরগই খেতো। অনেক বড়ো পরিবার ছিলো। দুই-তিনটি মাছে কিছুই হতো না। তারপরও আমাদের মাছ ধরার কাজে কোন অবহেলা ছিলো না। অনেক সময় মাছ ধরে অনেককেই ফ্রি দিয়ে দিয়েছি। বর্ষায় টিলার নীচে পানি আসলে আমাদের সুখের দিনের শুরু। মা-বাবা শত পিটুনির ভয়েও কাজ হতো না। কলেজ/ইউনিতে থাকাকালীন বিভিন্ন পরিচিত লোকজনের সাথে চুক্তিভিত্তিক মাছ ধরতে যেতাম। আমাদের কাজ ছিলো শুধু মাছ ধরা।

এখানে আসার পর অনেকদিন নদীর পাড় দিয়ে হেটেছি আর লোকজনের মাছ ধরা দেখেছি। কিন্তু লাইসেন্স করতে কিছুটা ঝামেলা ছিলো। এইসব দেশে সব জায়গায় মাছ ধরা যাবে না। নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় শুধু মাছ ধরতে পারবে। তাও যাদের লাইসেন্স আছে শুধু তারা মাছ ধরবে। অন্যথায় জেল জরিমানা আছে। গ্রীষ্মের লম্বা ছুটির দিনগুলোতো মোটামুটি ঘটি-বাটি নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া যায়।সখটাকে পকেটে রেখে দিয়েছিলাম এতোদিন।
গত সপ্তাহে লাইসেন্সের জন্য ভর্তি হয়ে গেলাম। পকেটে ব্যাংক কার্ড ছিলো। সাধারনত পকেটে ক্যাশ টাকা রাখা হয় কম। কার্ড দিয়েই সব জায়গায় পে করা যায়। কিন্তু উনারা ক্যাশ টাকা নিবেন। কি আর করার। প্রায় ৩০ মিনিট ঠান্ডা আর বৃষ্টির মধ্যে হেটে অটোমেট থেকে টাকা তুলে এনে ভর্তি হলাম। বেশ ভালোই চার্জ করলো। ঐ দিনই দুই ঘন্টা ক্লাস। অফিস শেষ করে রাত করে ক্লাস করা <img src=" style="border:0;" />। এই ফাজলামী আবহাওয়ায় শনি রবি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্লাস চলবে চার সপ্তাহ। তারপর পরীক্ষা। ৬০ টা প্রশ্নের তিনটা ভুল গেলেই ফেলটুশ। মাসখানেক সময় আছে। ফেল মারবো না আশা করি। এখন থেকে অফিসে আসতে যেতে আবারো বই নিয়ে দৌড়াদৌড়ি। ছুটির দিনেও ভোর ৬টায় ঘুম থেকে উঠতে হবে। আমার পড়াশোনা ট্রাম কেন্দ্রিক। বই নিয়ে ট্রামে উঠে পড়ি। ট্রামের শেষ ষ্টপেজ থেকে শুরুর ষ্টপেজে আসে। আবারো যায়। এদিকে আমার রিভিউ ভালোমতোই হয়ে যায়। পরীক্ষার সময়ও ট্রামে উঠে পড়া রিভিউ দিতাম।

ছবি নেট থেকে সংগ্রিহীত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29038725 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29038725 2009-11-06 16:52:20
আসলেই কি ছুটি কাটালাম !!! " style="border:0;" />। সেই ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস। ছুটিতেও বাসার লোকজনের মতো লম্বা সময় নিয়ে ঘুমাইতে পারি নাই। সকালে উঠে সবার জন্য চা রেডি করা ছিলো দুই সপ্তাহের রুটিন। একটা গল্পের বই পড়া হয়েছে। The Great Train Robbery। এক ইংলিশ কলিগ আছে। বই পড়ার হবি আছে ওর। মাসে ২/৩ টি বই মোটামুটি গায়েব। কয়েক হাজার বই আছে উনার। পড়ে যেটা ভালো লাগে আমাকে পড়তে দেন। উনিই আপাতত আমার বইয়ের সাপ্লায়ার।

কয়েকজনকে এয়ারপোর্ট থেকে নিয়ে আসতে হয়েছে। কিছু করার নাই দেখে লোকজনের একটু সাহায্যে এগিয়ে আসা। প্রায় ১৪০০ কিলোমিটারের লং ড্রাইভে যাওয়া হয়েছে। গাড়ি ভাড়া + তেল খরচ ফ্রি পাওয়া গেলো। একটি vw touran গাড়ি ভাড়া করে টানা ১৪ ঘন্টা ড্রাইভ করেছি। আনলিমিটেড স্পীড লিমিটে ১৯০ পর্যন্ত কিলোমিটারের কাটা উঠানো গেছে। তারপর আর পারিনি <img src=" style="border:0;" />। যদিও একবার নতুন মার্সিটিজে ২২০ পর্যন্ত উঠানো গেছে।

কিছু করার নেই ভেবে দাঁতের ডাক্তারের কাছে চেকআপ করাতে গিয়েছিলাম। আমার ফাইল বের করে মুচকি হেসে বল্লেন কতো বছর পর আসা হয়েছে। বল্লাম মাত্র ৬ বছর হলো। দাঁত চেক করে অনেকগুলো প্রবলেম ধরিয়ে দিলেন। এখন নাকি এগুলো ঠিক করতে আমাকে পে করতে হবে। বল্লাম মাসে মাসে এতো টাকা (৭০০ ইউরো) তাহলে কে নিয়ে যাচ্চে? বছরে তো একবারও ডাক্তারে যাওয়া হয় না। নতুন সরকার এসেছে। এখন আবার নাকি হেলথ ইন্সুরেন্স বাড়তেছে। উনি বল্লেন দাঁতের ডাক্তারের সবকিছু ইন্সুরেন্স কাভার করে না। ডাক্তার অবশ্য বেশ ভালো। কি করবো ভেবে পাই না। আজকে সকালে একটি দাঁত ফিলিং করাতেই ১০০ ইউরো গায়েব। অন্য একটিতে নাকি ক্যাপ পরাতে হবে। অনেক রকমের ক্যাপ আছে। বস ১০০০ ইউরো দিয়ে সোনার ক্যাপ লাগাইছে। আমি তো গরিব। তারপরও সাধারন ক্যাপের দাম ২৫০ ইউরো। একটু উপরের লেভেলে ৫৫০ ইউরো পে করতে হবে। দাঁত ফিলিংয়ে ফাকে ফাকে দাঁত পরিষ্কার করা সহ নানা রকম দাঁতের ট্রিটমেন্টের কথা সেক্রেটারী বল্লো। সবকিছুতেই আমি জানতে চাই ঐসব ট্রিটমেন্ট ফ্রি নাকি? যেগুলো ফ্রি না সেসবকিছুতেই পরে জানাবো বলে পালালাম। একবার ইংল্যান্ডের ডাক্তারে বিরক্ত হয়ে শুধু দাতের চিকতসার জন্য জার্মানি এসেছিলাম (প্লেনের টিকেট ওখানের ডাক্তারে ফি থেকে কম)। এবং এই ডাক্তারকে দিয়ে চিকিতসা করিয়েছিলাম। বেশ ভালো রকমের ট্রিটমেন্ট করেছিলেন। লিখিত গ্যারান্টি দিয়ে দেন। তবে পেমেন্টটা একটু বেশী<img src=(" style="border:0;" />। ছোটবেলায় চকলেট আর বিস্কুট খেয়ে এখন এই অবস্হা। মা নাকি গতে ১৮ বছরে একবারও দাতের ডাক্তারের সরনাপন্ন হননি। পান-সুপারি, জর্দা সবই খান্দানী টাইপে খাওয়া চলছে উনার। ছুটির দিনগুলো মায়ের পানের বাটায় আমারও হাত পড়ে। অবশ্য জর্দা ছাড়া সবগুলো দিয়ে টেষ্ট হয়।

খাওয়াও সেই রকম হয়নি। তাই ওজন না বেড়ে কমে গেছে। অফিসে সাধারনত এইটা ঐটা খাওয়া হয়। বাসায় এক বেলা ভাত খেলেই অন্যবেলা অন্যকিছুর ধান্ধায় খাওয়া হয় না।মজার অনেক কিছুই অনেকদিন ধরে খাওয়া হচ্ছে না। পিজ্জা, ফ্রেন্চ ফ্রাই (প্রতি সপ্তাহে একবার), নুডেল, ডুনার কাবাব কতোদিন খাই না। দিন এতো ছুটো হয়েছে যে যোহর, আছর, মাগরিব মাত্র তিন ঘন্টায় শেষ। রাতে ঠান্ডায় ঘুরতে মন চায় না।

অফিসে এসে Arbeitloss = (কাজছাগ) হয়ে গেলাম। ছুটির আগে সবকিছু শেষ করে গিয়েছিলাম। কলিগকে বলতেই একগাদা কাজ ধরিয়ে দিলো। বল্লাম মিটিংয়ের পর তোমার কাজে হাত দিবো। এখন কিছু সাহায্য করতে পারি। মিটিংয়ে নতুন একটি ডিভাইস ধরিয়ে দিয়েছে। Differential Line Protecion। ঐটার কোন ডকুমেন্ট নেই। আমাকেই নাকি সব কিছু করতে হবে<img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />। অন্যগুলো তুলনায় এটি একটু বেশী কঠিন মনে হচ্ছে।
ম্যানেজার সবাইকে এক ট্যারা বাইটের ইউ.এস.বি হার্ডডিক্স গিফট করেছে। আসলে গিফট না। সবাই যাতে নিজেদের ব্যাকআপ রাখতে পারে এজন্য এই ব্যবস্হা। আমার লেপির জায়গাই তো পুরো খালি। ট্যারা বাইট দিয়ে কি হবে (চিন্তত ইমো)।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29038226 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29038226 2009-11-05 18:05:40
কামলাবিহীন দিনপুঞ্জি
বাসার নীচে দুজন গাড়ি রেখে গেছেন। আমার তত্তাবধানে। আমি নিজেরটাই খোজ নিচ্ছি না। উনারা দেশে গেছেন। হঠাত করে ঠান্ডা পড়ে যাওয়া আর সেই সকালে অফিস যেয়ে রাত করে এসে আর গাড়ি স্টার্ট দিতে ইচ্ছে হয় না। সপ্তাহান্তে ভাবলাম একটু স্টার্ট দেই। না হলে ঠান্ডায় যদি ব্যাটারী বসে যায়। তখন আরেক হ্যাপা। অবশ্য সবার গাড়িতেই এন্টিফ্রিজিং লিকুয়িড দেওয়া থাকে। উনারা দিয়ে গিয়েছেন কিনা জানি না। কপাল ভালো যে ঠিকমতো স্টার্ট নিয়েছে। চান্সে একটু ঘুরান দিয়ে আসলাম। যদিও আজকে একটু লং ড্রাইভে যাওয়া আছে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালা দিয়ে থাকিয়ে দেখি অন্যান্য বাসার উপরিভাগ একটু সাদা সাদা। বুঝতে বাকি রইল না যে আজকের তাপমাত্রায় খুবই খারাপ হবে। একটু সাদা হওয়া ফ্রষ্টের লক্ষন। তাপমাত্রা স্কেলে থাকিয়ে দেখি -৩। কম্বলের নীচে কতোক্ষন আর থাকা যায়। ঘুমাইতে ঘুমাইতে টায়ার্ড অবস্হা। প্রত্যেকদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে অভ্যেস খারাপ হয়ে গেছে। ছুটিতেও ইচ্ছে করে বেশী ঘুমানো যায় না। বাইরের যে অবস্হা তাতে একটু হাটতে যেতেও ভয় হয়।

ছোটবোনেরও স্কুল বন্ধ। উনাকে বাসার কাজ দিয়ে বসে বসে পুরনো দিনের বাংলা, হিন্দি গান শুনতেছিলাম। স্কুলগুলোতে এতো পড়ার চাপ। সোলার সিস্টেম নিয়ে বিরাট প্রেজেন্টেশন করতে হবে। কিছু আইডিয়া দিলাম। এম.এস.সি তে আমারও একটা টপিক ছিলো এই বিষয়ে। বেশ কিছু পেপার ঘাটাঘাটি করেছিলাম। উনি মাঝেমাঝে এসে ডিসটার্ব করেন। আর আমার গানের চয়েজ দেখে নাক সিটকান <img src=" style="border:0;" />। আমি নাকি ওল্ড ডেটেড<img src=" style="border:0;" />(।
বাসায় কাজ একটাই। বসে বসে কার্টুন ছবি গেলা আর সন্ধ্যার পর টিভির চ্যানেল টেপা। কার্টুন সাধারনত রাত ৮টার পর বন্ধ হয়ে যায়। বাচ্চারা ঘুমুবে। গতরাতে টিভিতে একটা অনুষ্টানে দেখাচ্ছিলো বিভিন্ন দেশের টিনেজ ছেলেমেয়েদের মেলামেশা নিয়ে। আমেরিকা, জাপান, জার্মানির তুলনা। আমেরিকাতে মেয়েছেলে পছন্দ হলে ৩য় দিনেই সেক্স মাষ্ট। অন্যথায় ঐ রিলেশন আর টিকবে না। জার্মানিতে ওরা একটু কনজারভেটিক। অনেক সময় নেয়। ভাবি কনজারভেটিভ হয়েই এই অবস্হা। আমার বোন একদিন এসে বলে, ভাইয়া ব্লু চোখ খুব সুন্দর। আমি বলি কালো চোখই সুন্দর (আমাদের গ্রামে এক/দুইজন ছিলো যাদের চোখ ব্লু। আমরা তাদের বলতাম বিলাই চোখ)। মনে মনে বল্লাম, এখনি এই অবস্হা। কয়েকদিন পর একটা জার্মান ধরে নিয়ে এসে বলবে এইটা আমার বয়ফ্রেন্ড। পুরনো দিনের প্রেমের ছবিগুলোর সাথে বর্তমানের ছবিগুলোতো প্রেম অথবা কিছ ফুলে ফুলে টক্কর (তামিমের বান্দরবেলা) আর বর্তমানে ডাইরেক্ট কিছ। তাও অনেক্ষন ধরে দেখাবে। সবকিছুই কতো এ্যাডবান্স।

এই ছুটিতে বেশ কিছু ছবি দেখার ইচ্ছে আছে। ঠান্ডায় কোথাও বেড়ানোর ইচ্ছে নেই। যা আগামী দুই সপ্তাহে আলু হওয়ার জন্য উপযুক্ত সময়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29028571 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29028571 2009-10-19 18:56:15
খই ভাজা পোষ্ট
কয়েকমাস হলো শরীর ঠিক রাখতে গাড়ি ছেড়ে দিয়েছি। এখন বাইসাইকেল, হন্টন, বাস-ট্রামে যাতায়াত। সারাদিন বসে কাজ করতে হয়। বাসায় ফিরেও শুয়ে-বসে সময় কাটানো। সপ্তাহান্তে শুধু ঘর পরিষ্কারের কাজ । এতো বসে থাকতে থাকতে গোল আলু হয়ে গেলাম। কিন্তু এই ঠান্ডার মধ্যে সাইকেল চালাতে মোটামুটি চোখের পানি, নাকের পানি এক। কানের অবস্হা তো আরো খারাপ। ইনার, হাতমোজা, কানটুপি, গলার মাফলার, এগুলো আমার ভালো লাগে না। ঘুম থেকে উঠতে হয় সেই ভোরে। তখন ফজরের নামাযের সময়ও হয়নি। তারপর নাস্তা থেকে শুরু করে সবকিছু শেষ করে দৌড়। অফিস থেকে ফিরতেও সেই রাত। শীতে প্রথম প্রথম বেশ কষ্ট হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই অভ্যস্ত হয়ে যাই। তবে শীতে বৃষ্টি হচ্ছে সবচে বড়ো ফাজলামী।

আমাদের সেকশনে দুজন সেক্রেটারী। একজন এতো বেশী কথা বলে যে দ্বিতীয়জনের কথা বলার কোন চান্সই নাই। আসতে দ্বিতীয়জন পুরোপুরি জন্মগত বোবা। প্রথমে অফিসে জয়েন করার পর সেটা জানতাম না। আমি হাই-হেলো বলতাম। কিন্তু মহিলা জবাব দিতো না। কয়েকমাস পর কি একটা কাজে উনার কাছে যেতে উদ্যত হলে একজন বল্লো যে এই মহিলা বোবা। কিছুক্ষন ভেবে দেখলাম সেক্রেটারীর কাজই বা কি? শুধু ফাইল নাড়াচাড়া করা, কেউ কোথাও অফিসের কাজে গেলে খরচ হিসেব করা, টিকেট বোকিং করা, মিটিংয়ের রুমে চা-কফি দিয়ে যাওয়া। অবশ্য চা-কফিগুলো আমরা নিজেরাই নিয়ে যাই। মাঝে মাঝে ম্যানেজারকে দেখি ট্রলি ঠেলে চা-কফি, পানির বোতল নিয়ে যাচ্ছে। একজন ডিজএবল লোককে শুধু বসিয়ে না রেখে রাষ্ট্র বিভিন্ন প্রতিষ্টানের মাধ্যেমে কাজের পরিবেশ তৈরি করে দিতে পেরেছে।

নিজের ব্যবহারে জন্য দুটো পিসির প্রয়োজন। সবগুলোতে আলাদা কিবোর্ড, মাউস, মনিটর। একটা লেপিও আছে। নিজের কাজে ব্যবহার করি তাই নিজের ইচ্ছেমতো কিবোর্ড মাউস কিনে নিয়ে এসে বিল করলেই টাকা ফেরত। কেনাকাটায় আমি কোনদিনই নেই। বন্ধুদের অনেকেই গিগা ছেড়ে টেরাবাইটের হার্ডডিক্স, হরেক রকমের নতুন নতুন ইলেকট্রনিক্স কিসব কিনে। আমার লেপির ১৬০ গিগার হার্ডডিক্স পুরোটাই খালি। আমার মনে হয় কম্পু পড়া অথবা এই লেবেলে কাজ করা ঠিক হয়নি। কাজের জন্য মাঝে মাঝে এক কলিগ আমার ডেক্সে আসে। আমার মাউস হাতে নিয়ে ব্যাটা চিল্লানো শুরু করে। মাউস নাকি খুবই স্লো, ঠিকমতো কাজ করে না। আমি বলি এতোগুলো বছর তো আমি এই মাউস দিয়ে কাজ করেছি। বলে তুমি একটা কিনে এনে সেক্রেটারীকে বিল করে দিও। মেজাজ খারাপ হলো। নিজের ড্রয়ারে একটি wireless মাউস ছিলো। খুব বেশী ব্যাটারি কনজুম করে দেখে ঐটা এতোদিন একটিভ করা হয়নি। অবশ্য ব্যাটারী অফিস সাপ্লাই দেয়। আমাকে তো কয়েকদিন পরপর ব্যাটারী বদলাতে হয় এজন্য ঐটা বাদ দিয়েছিলাম। কয়েকদিন ব্যবহারের পর ঐটা বাতিল করে আবার ড্রয়ারে। এখন আবার পুরনো মাউস দিয়ে কাজ চালছে। নতুন একটা কিনবো কিনবো করেও কেনা হচ্ছে না<img src=" style="border:0;" />

এই সপ্তাহ কাজ শেষে দুই সপ্তাহের ছুটি। নিজের কাজ মোটামুটি শেষ। এখন অন্যের কাজ করতে হচ্ছে। ফাকতালে নিজের কিছু সুনাম অর্জন করা<img src=" style="border:0;" />। ছুটিতে কোন প্লান নাই। আপাতত একটি লম্বা ড্রাইভিংয়ে প্লান। তবে শীত বেশী হলে সেটাও বাতিল। ফ্রষ্টের মধ্যে গাড়ি চালানোতে আমি নাই। শীতের টায়ার লাগিয়েও লঙ-ড্রাইভে আমাকে কেউ বিশ্বাস করে না। অবশ্য আমি নিজেও নিজেকে বিশ্বাস করি কম। শহরের ভেতরেই চান্স পেলে ৫ম গিয়ারে গাড়ি হাকাতে মন চায়। আর হাইওয়ে হলে তো কথাই নেই। একটি ভালো গাড়ি কিনবো কিনবো করেও মধ্যবিত্ত মানসিকতার জন্য কেনা হচ্ছে না ( শালার গাড়ির দাম এতো হলে কিনি কিভাবে??)। শুধু গাড়ি কিনলেই হবে না। কতো রকমের চিন্তা মাথায় ঢুকাতে হয়। টেক্স, ইনস্যুরেন্স, গ্রীন/হলুদ/লাল প্লেকার্ড, তেলের দাম। বাকিতে অথবা ব্যাংক লোন নিয়ে গাড়ি কেনার কোন শখ বা ইচ্ছে নেই। চাকরীরও যে অবস্হা। কখন কার বাত্তি নিবে ঠিক নাই।

কয়েকদিন পরপর সেক্রেটারীর রুমে হানা দেই। নতুন কোন কলম এসেছে কি না দেখি। অনেকদিন পর গতকাল গিয়ে দেখি অনেকগুলো নতুন কলম এসেছে। কয়েকটি নিয়ে আসলাম। এখন কিছু আকাআকি হবে টেবিলে। তারপর কোন কলিগের হাত দিয়ে ঐটা হাপিস। অবশ্য আমার ড্রয়ার ভর্তি কলম। অভ্যাসটা স্কুলে থাকতেই শুরু। যদিও তখন ঝর্না কলম দিয়ে লিখতে হতো (এখন মনেহয় দেশে পাওয়া যায় না। এখানে ঝর্না কলমের দাম খুব বেশী। বাচ্চাদের ঝর্না কলম দিয়ে লিখতে হয়)। পরবর্তিতে মামা ডাক্তার হওয়ার সুবাধে শতশত কলম আর লিখার জন্য পেড পাওয়া যেতো। ইউনিতে পড়ার সময় টাকা পেলে শুধু কলম কিনতাম। আর মা-বাবাও দেশের বাইরে থেকে সাপ্লাই দিতো। বদঅভ্যেসটা এখনো রয়ে গেছে। সুপারমার্কেটে গেলে চকলেট আর ফাউল খাবার কেনা আর একটি বদঅভ্যেস। খাই অথবা না খাই একঘাদা কেনা হয়।
জার্মানীতে আসার ৭ বছর পূর্ন হলো (ইউ.কে এক বছর)। চাকরীতে প্রায় চার বছর। অথচ জীবনে এক সাথে দুই বছর কোথাও থাকলে হাপিয়ে উঠতাম। মনে মনে ভাবতাম স্কুল-কলেজের শিক্ষকেরা এতো বছর কিভাবে একই প্রফেশনে কাজ করে। সেই আমি এক চাকরীতে প্রায় চার বছর। ইন্টারশীপ দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখনো চলছে। জানি না ভবিষ্যতে বদলানো চান্স নিবো কি না। আমার সাথের অনেকেই ভালো জবের অফার পেয়ে পুরনোটা ছেড়ে চলে গেছে। অনেকে বলেছিলো জব সার্চের জন্য। অভিক্ষতা হলে বেশী টাকার চাকরী পাওয়া যায়। কিন্তু চেনা-জানা পরিবশ ছেড়ে নতুন কোথাও যেতে ভালো লাগলো না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29025805 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29025805 2009-10-14 19:07:11
শান্তি নাই !!! অদ্য ইউ.কে তে ছাত্রদের করুন অবস্হা সবাই জেনেছে। এই সমস্যাটা বর্তমানে খুবই প্রখট। আগেও অবস্হা খুব একটা ভালো ছিলো না। ২০০৩ সালে আমিও সিলেটের ২য় রাজধানীতে গিয়েছিলাম। সিলেটি হিসেবে ভেবেছিলাম ওখানেই সব সুখ (আমার দোষ না। আমাদের সিলটিদের জন্মের পর থেকেই এক সাধনা। কিভাবে লন্ডন যাবো)। কিন্তু অবস্হা যা দেখলাম তাতে শুধু পেটে-ভাতে থাকা সম্ভব ছিলো। সেমিষ্টারের ফি জোগাড় করার জন্য অমানুষিক পরিশ্রমের প্রয়োজন। সব দেখেশুনে ব্যাক টু পেভিলিয়ন। স্কান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো (জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড) টাকা ছাড়া পড়ার যে সুযোগ দিচ্ছে তা লুফে নিলাম। কষ্টসৃষ্টে পড়াশোনা শেষ করলে মোটামুটি চাকরী পাওয়া নিশ্চিত। ৯৯% ছাত্র পড়ালেখার পর চাকরী পেয়ে যায়। পি.এইচ.ডিও পাওয়া অনেক সহজ। পি.এইচ.ডি আর প্রথম শ্রেনীর জবের সেলারি প্রায় সমান। ক্ষেত্রবিশেষে অনেক বেশী। হয়তো ভালোই হয়েছে। বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই এখনো ইউ.কে আছে। কিন্তু কোনভাবেই কিছু করতে পারতেছে না। হয়তো স্কলারশীপসহ পি.এইচ.ডি পাইছে। কিন্তু থাকা খাওয়া নিজের। মানে ম্যাকে অথবা বার্গারে কাজ করতে হবে। ওখানে চাকরী পাওয়া সোনার হরিন। এখানে মোটামুটি ডাল-ভাত।

বর্তমানে জব মার্কেটে অবস্হা খুবই খারাপ। এইসময় কারো চাকরী গেলে আগামী কয়েকমাসে পাওয়ার সম্ভাবনা শুন্য। যদিও সফটওয়্যার সেকশন ধরা খেয়েছে কম। তারপরও ইনভেষ্টরদের ভয় ধরে গেছে। আমার অফিসে প্রতিমাসের সেলারি শীটের পাশাপাশি অন্য একটি পেপারে কোম্পানীর কয়টি পোষ্ট, কোন কোন ডিপার্টমেন্টে খালি আছে তা উল্লেখ থাকে। কেউ যদি ইন্টারনালি যেতে চায় তাহলে যোগাযোগ করলেই মোটামুটি হয়ে যায়। গত প্রায় চার বছরের চাকরী জীবনে এই প্রথম রিক্রুটমেন্টের কোন পেপার পেলাম না। মানে অবস্হা আসলেই খারাপ।

কোম্পানী বিক্রি হবে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার সেকশন টি.এন্ড.ডি বিক্রি করে শেয়ার বাড়াবে। সবাই বলাবলি করতেছে আগের কোম্পানী আবার কিনে নিবে। দুই কোম্পানির বস ফ্রান্স সরকার। তাই আপতত ভয় নাই। আগামী বছরের মিডিল পর্যন্ত কাজ এসাইন করা আছে। অবশ্য এই বছরের শেষ দুই মাসের মধ্যে প্রায় দেশ মাস ছুটি কাটাবো। ২০১০ যে কেমন হবে একমাত্র আল্লাহ জানে। জার্মানিতে নতুন সরকার এসেছে নতুন কোয়ালিশন নিয়ে। কোয়ালিশনের ওরা কোম্পানী ফ্রেন্ডলী। ওদের নির্বাচনী ইশতেহার ছিলো সহজে জবে হায়ার + ফায়ার করা যাবে। বর্তমানে কোম্পানী ইচ্ছে করলেই কাউকে ছাটাই করতে পারবে না। ওরা আইন পরিবর্তন করতে গেছে কিছু ক্যাচাল হবে ইউনিয়নের সাথে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়। আগামীতে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে ইনফ্লেশনের জন্য। সেই অনুপাতে বাড়বে না বেতন। যদি নির্বাচনি ওয়াদায় বলেছে টেক্স কম কাটবে। কিন্তু অন্যদিকে ভ্যাট বাড়িয়ে দেবে। সাধারনত মাস শেষে একমাসের সেলারীশীটের সাথে অন্য মাসেরটা কম্পেয়ার করি না। ওরা এই টেক্স, সেই টেক্স বলে যা কেটে নিয়ে যা থাকে তাই ব্যাংকে দিয়ে দেয়। পোস্টে বেতনের কাগজ আসলে ফাইলে রেখে দেই। কিছু কিছু পুরনো কোম্পানী ছুটি ভাতা দিয়ে থাকে। আমারটাও দেয়। গতদিন কি মনে করে দুইটি বেতনের কাগজ কম্পেয়ার করে দেখলাম ছুটি ভাতা ভালো লিখা আছে। কিন্তু শেষে যে এমাউন্ড ব্যাংকে ট্রান্সফার হয়েছে তা দেখে নিজেই লজ্জা পেলাম। ঐটা না দিলেই হতো। বছর শেষে টেক্স রিটার্ন দাখিল করলে ১০ ইউরো পাওয়া যায়। অথচ উকিলকে দিতে হয় ১২০/১৫০ ইউরো। উল্টো লস। অথচ বছর দুয়েক আগেও তিন/চার হাজার ফেরত পাওয়া যেতো। দিনদিন আইনগুলো কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। যা নিয়ে যাবে তা আর ফেরত পাওয়া যাবে না।

দেশ থেকে আত্মীয়দের অনেকেই পুরো ফ্যামেলীসহ আমেরিকা প্রবাসি হয়েছে অদ্য। ওখানে গিয়ে বর্তমান অবস্হায় খুবই করুন জীবন-যাপন করতেছেন। অনেকেই ফোন করে কান্নাকাটি করতেছেন। দেশে বাড়ি-গাড়ি, উন্নত জীবন ফেলে রেখে ওখানে এক/দুইরুমে গাদাগাদি করে আছেন। কাজের ক্ষেত্রে সাধারন ধোয়া-মুছার কাজও পাওয়া যাচ্ছে না। ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত চিন্তা করেও ফিরতে পারতেছেন না। আমাদেরও সান্তনা দেওয়া ছাড়া কি বা করার আছে। মানুষজনকে যতোই বিদেশের কঠিন জীবনের কথা বলো না কেন কেউই বিশ্বাস করে না। যখন নিজে এসে কষ্টগুলো করতে থাকে তখন আর ফিরে যাওয়ার চান্স থাকে কম।

ছোটবেলায় গীতাপাঠ, ত্রিপিটক পাঠের শেষে অংশটুকু দেখা হতো খুব বেশী। কারন কার্টুন ছবির আগে ঐগুলো দিতো। গীতার প্রথম এবং শেষের কিছু লাইন মুখস্ত হয়ে গিয়েছিলো। শেষ লাইনটি ছিলো-"সব্বে সাত্তা, সুখিতা অন্ত। জগতের সকল প্রানী সুখি হোক, সকলেই মঙ্গল লাভ করুন। কেউ যেনো দু:খভোগ না করে।ওউম শান্তি, ওউম শান্তি,ওউম শান্তি,"। ঐগুলো শুনলেই ভাবতাম কার্টুনের সময় হলো বলে।
বিভিন্ন দেশ বর্তমানে ঘুর্নিঝড়, সুনামী, বন্যা, ভুমিকম্প হচ্ছে। ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ইন্ডিয়াতে খাদ্য সংকট হবার সম্ভাবনা। বাংলাদেশেও বেশ কয়েকটি মৃদু ভুমিকম্প হলো। এগুলো কি কোন কিছুর আগাম বার্তা? একমাত্র আল্লাহ জানেন। বড়ো কিছু হলে ঢাকা শহরসহ অন্যান্য শহরের চিত্রগুলো চিন্তার বাইরে। বর্তমান সময়ে আল্লাহর কাছে একই প্রার্থনা। এই কঠিন সময়ে সবাই ভালো থাকুক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29022528 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29022528 2009-10-08 18:57:54
অগোছালো দিনলিপি " style="border:0;" />। এখন বুঝেন অন্যের অব্স্হা কি? সকালে একজনের রুমে ঢু মেরেছিলাম। অবস্হা বড়ই করুন।

মনেমনে আর একটি কথা উকি দিলো আমার আর একজন কলিগকে নিয়ে। ঐ ব্যাটা সত্যিকারের ডেভোলপার। উনার অবস্হা নিম্নরূপ:
*অফিস আসতে ১১/১১:৩০ (আমি আসি ৮/৮:৩০)
*দুইমাসে একবার সেইভ করবে (একদিন পর পর)
*শার্ট/জ্যাকেট একটা মনে হয় কয়েকশো বছর আগে কিনেছে। আর ধৌত করেছে মিনিমাম ২৫ বছর আগে। (আমার আম্মাজান দুইদিন একই শার্ট পরতে দেখলে কিছু না বলেই মেশিনে)
*কফির কাপ মিনিমাম ২/৩ সপ্তাহ পরপর ওয়াশ হয় (আমি যতোবার কফি খাই ততোবার)

আর কিছু বল্লাম না। ঐ ডেভোলপারের তুলনায় আমি এখনো দোলনায়<img src=" style="border:0;" />

ছোটবেলা থেকেই একটু অগোছালো। নিজের চেহারার কোন যত্ন নেওয়া হয়নি। আমার কাছে রূপচর্চা মেয়েদের কাজ। অবশ্য চেহারা খুব একটা খারাপ না তাই কষ্ট করার কোনই প্রয়োজন হয়নি। ফাকতালে কিছু লাভও হয়েছিলো। মুখে ব্রন অথবা অন্য কোন ঝামেলা হয়নি। আমার অভজারভেশনে যারা চেহারা নিয়ে একটু খুতখুত টাইপের তারা এইসব ঝামেলায় পড়েন। আমার বড়ো ভাইজান এই টাইপের। উনি সারাক্ষন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য যতো রকমের কষ্টের দরকার সব করতে রাজি। আমি ঐসবের ধারে কাছেও নাই। ছোটবেলায় মা, পরবর্তিতে মামী সব সামাল দিতেন। ভাগ্য ভালো আমার অফিসে ভাইদের আমন্ত্রন জানাই না। না হলে বাসায় ঢুকতে দিতো কি না সন্দেহ। ঘরের অবস্হা পিঠ বাচানোর জন্য যতোটুকু দরকার ততটুকুই।

ম্যানেজার মোটামুটি দৌড়ের উপর রাখছে। একদিকে কাজ থেকেও নাই। অন্যদিকে দেশ মাসের ছুটি পাওনা। বছর শেষ হয়ে যাচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি ছুটি শুরু করতে হবে। না হলে ইউনিট ম্যানেজারের ঝাড়ি খেতে হবে। একজন অসুস্হ হয়েছে। তাই ডিভাইস ডেলিভারীর তারিখ পিছিয়েছে। কিছু ফাউল টেষ্ট করতেছি। এতোদিন কন্ট্রোল নিয়েই ছিলাম। এখন প্রটেকশনের চৌদ্দগোষ্টি পড়তে হচ্ছে। গতদিন এক কলিগ জিজ্ঞেস করতেছিলো ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি? বল্লাম যে অবস্হায় দেখতেছো আপাতত এখানেই থাকি। সে বল্লো তুমি তো কন্ট্রোল, প্রটেকশন, কমিউনিকেশন (IEC-61850, IEC-101,103,104) নিয়ে কাজ করছো। এখন কোন লাইনে থাকতে চাও (কোম্পানিতে বিভিন্ন ব্রাঞ্চে এক একজন বস) তোমার চয়েজ কি? বল্লাম IEC Protocol নিয়েই কাজ করা একটু সহজ। প্রটেকশনের এ্যালগোরিদম খুবই প‌্যাচাইল্যা। মাথা খাটাইতে হয় অনেক। সে বল্লো আগামীতে Power System এর Network management সেক্টরের ভবিষ্যত খুবই উজ্জল। বিস্তারিত শুনে ভাবলাম তাইতো। আগামীতে উইন্ড, সোলার, উয়েব, নিউক্লিয়ার সহ অনেক রকমের মাধ্যম থেকে এ্যানার্জি উৎপন্ন হবে। কিন্তু কিছু কিছু সিস্টেম কন্সটেন্ট পাওয়ার সাপ্লাই দিতে পারবে না। যেমন: উইন্ড, সোলার এগুলো সবই নির্ভর করবে প্রকৃতির উপর। (জার্মানরা আফ্রিকার রোদ্র ব্যবহার করে বিদ্যুত নিয়ে আসতেছে)।কিন্তু যখন খুব বেশী বিদ্যুৎ সাপ্লাই লাইনে চলে আসবে তখন মেইনটেইন্স কিভাবে হবে? নিউক্লিয়ার রিয়েকটর তো বন্ধ হতে সময় লাগবে। শুধু মাত্র গ্যাস, ওয়েল জেনারেটরগুলো হয়তো বন্ধ করা যাবে। কিন্তু সেইটা তো পর্যাপ্ত নাও হতে পারে।
বল্লাম, আপাতত যেখানেই যা হোক, আমি চোখ বন্ধ করেই এখানেই থাকবো। চাকরী একটা গেলে আগামী বছরখানেকের আগে পাওয়ার চান্স নাই। অবশ্য বর্তমান ক্রাইসিসে সফটওয়্যার সেক্টর সেইরকম ধরা খায়নি। তারপরও রিক্স নিতে রাজি না। যদি আমাদের কোম্পানী ঐ সেক্টরে কোন কাজ করে তো তখন দেখা যাবে।

জার্মানি নাকি এখন থেকেই আগামী ২৫/৩০বছর পরের চিন্তা করে কাজে লেগে যাচ্ছে। আগামীতে ব্যাটারী চালিত গাড়ি আসতেছে। ওরা পুরো জার্মানিতে আলাদা বিদ্যুত নেটওয়ার্কের চিন্তা করতেছে। যেখানে সবার গাড়ি গ্যারেজে বিদ্যুতের কানেকশন থাকবে। কারো গাড়িতে অতিরিক্ত চার্জ থাকলে অটোমেটিক্যালি অন্য গাড়ি তোমার চার্জ ব্যবহার করবে। তখন তুমি টাকা/ক্রেডিট পাবে। অন্য সময় সেই ক্রেডিট নিয়ে আবার গাড়ি চার্জ করতে পারবে। ব্যাটাদের মাথায় শুধু মাল। অবশ্য চিন্তা করলে আমরাও হয়তো পারতাম। আমাদের নেতাদের চিন্তা তো শুধু বিদেশী নির্ভর। দেশে মাটি বিক্রি করেও পারলে ডলার আনো, খাও আর ওমরা করো।

মাসের শেষে ছুটি নেবো শুনে আরেক কলিগের মাথায় হাত। নতুন একটি ডিভাইসে আমার কাজ করার কথা ছিলো। কিন্তু ম্যানেজার Distance protection ডিভাইসে কাজ করতে বলেছে <img src=" style="border:0;" />। কলিগকে বল্লাম যদি দরকার লাগে তো আওয়াজ দিও। আমার ছুটি তো বাসায় বসে থাকা। এখন শীত প্রায় এসেই গেছে। কোথাও ঘুরতে যাওয়ার চান্স নাই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29019229 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29019229 2009-10-02 15:14:04
দেশী স্টাইলে ঈদ উদযাপন
দেশে নেই, ছাত্রাবস্হার কঠিন অবস্হাও নেই। অনেকগুলো ছুটি পাওনা। ছুটি নিয়ে কিছু করার নেই তাই সাধারনত ছুটি নেই না। ঈদে ফাও ছুটি নিয়ে নিলাম। ঈদের দিন ভাইয়ার শশুরগোষ্টির দাওয়াত ছিলো। মা-বাবা (সাথে আমিও) অনেক রাত পর্যন্ত রান্না করলাম। ঈদের দিন কেন পোলাও, রোষ্ট রান্না করে দাওয়াত হলো সেইটা নিয়ে কতোক্ষন চিল্লাফাল্লা করলাম (দাওয়াত বড়ো কথা না। নিজে বাসায় ফিটফাট হয়ে থাকতে হবে সেই চিন্তায় মেজাজ খারাপ)। নিজে চটপটি আর হালিম রান্না করে দেখলাম দুইটাই ঠিকমতো হয়নি। একটাতে লবন বেশী, অন্যটাতে ঝাল বেশী। হয়তো মেজাজ খারাপ তাই এই অবস্হা। ছোটবোন একা একা রাত ১টা পর্যন্ত মেহেদী লাগালো। ডিজাইনগুলো ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করেছে। উনার ধৈর্য্য দেখে অবাক হলাম।

রবিবারে সাপ্তাহিক ছুটি। প্রচুর লোকসমাগম হবে। বাংলাদেশি মসজিদে ঈদের জামাত হবে দুটি। প্রথম জামাতে চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কোনমতে একটু সেমাই, সন্দেশ, চা খেয়ে মসজিদের উদ্যেশ্যে গাড়ি হাকানো। তারপরও ৭টায় গিয়ে দেখি গাড়ি রাখার জায়গা নাই। একই দিনে তুর্কি, পাকু, আরব, বাংলাদেশের লোকেরা একসাথে ঈদ করছে। কোনমতে চিপায় গাড়ি পার্ক করে এসে মসজিদে জায়গা পেয়ে গেলাম। মনে মনে চিন্তায় আছি কখন আবার টিকেট লাগায় দেয়। অবশ্য সেইটা সমস্যা না। তবে যদি তুলে নিয়ে যায় তাহলে কেল্লাফতে। কোনমতে নামায পড়ে দেখি পেছনে অনেক লোকজন দাড়িয়ে আছে। সময়মতো এসেও জায়গা না পেয়ে পরের জামাতে অংশগ্রহনের অপেক্ষায়। কাছাকাছি দুই, একজনের সাথে কোলাকুলি করে বাহির হয়ে বন্ধুর বাসায়। ওখানে প্রতি বছর বাই-ডিফোল্ট দাওয়াত। অনেকগুলো চটপটি, সেমাই খেয়ে মায়ের ফোন পেয়ে বাসায় দৌড়।
বাসায় তখন ভাইয়া-ভাবীর আগমন। উনাদের সাথে কিছু খাবার গ্রহন। দুপুরে গেষ্ট আসলো দেরী করে। উনাদের সাথে আবার দুপুরের খাবার খেয়ে উনাদের বাসায় রেখেই অন্য দোস্তের সাথে দেখা করার জন্য গাড়ি হাকালাম। অনেকদিন লঙ ড্রাইভে যাই না। মোটামুটি ভালোই একটা ড্রাইভ দিলাম। রাস্তা মোটামুটি ফাকা ছিলো। কিন্তু রাস্তায় কাজ চলতেছিলো। সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কিমি। মাঝেমাঝে আনলিমিটেড স্পিড অপশন পাওয়া যায়। তখনই এক্সেলেটরে চাপ। ওদের এতো কনস্ট্রাকশন কাজ দেখে মনে হয় ওরাই ডেভোলপিং দেশ। আমাদের একটা রাস্তা তৈরী করলে ১৫/২০ বছরে মেরামতের কোন প্রয়োজন নেই। সর্বোচ্চ ১৪০ কিমি তে দৌড়াইলাম। সকালে একজন বলতেছিলো উনি ২১০ কিমি তে দৌড়াইছেন। মনেমনে বল্লাম তোমার অডি জিপ কিনছো ৫০হাজার ইউরো দিয়ে। আমারটা তো অতো দামী না।
দোস্তের বাসা থেকে রাতে এসে আবার প্রথম বন্ধুর বাসায় আড্ডার দাওয়াত। সবার সাথে খাবার টেবিলে বসে শুধু সালাদ খেলাম। সাথে একটু সেমাই। রাত প্রায় বারোটায় বাসায়। যদিও অনেকগুলো পেনডিং ছিলো। বাসায় এসে কিছু পাকা আম উদরস্তো হলো।

পরেরদিন ছুটি তাই বন্ধুকে দাওয়াত করা হলো। দুপুরে উনার সাথে ভুরিভোজ করে বিকেলে আরেকটি ঈদ পার্টিতে উপস্হিত হতে হলো। ওখানেও ব্যাপক খাবারের আয়োজন। আমি ঝাল পার্টি তাই আবারো চটপটি অনেকগুলো খেলাম। অনেকক্ষন ব্লা ব্লা করার পর রাতের খাবার শুধু সালাদ আর কয়েকটুকরো মাংসের উপর দিয়েই সারলাম। মঙ্গলবার অফিস + ছোটবোনেরও স্কুল, তাই তাড়াতাড়ি বাসায়।
এতোগুলো ঝাল আইটেম খাওয়ার পর পেঠের অবস্হা যা হবার তাই হলো। ইচ্ছে করেই কোলা জাতীয় ড্রিক্স খাই না। মঙ্গলবার অফিসে শুধু দুইটা আপেল আর একটি কলা দিয়ে লাঞ্চ। কয়েকদিন ফল জাতীয় কোন কিছুই খাওয়া হয়নি। এখন আবার শুরু।

দেশের ঈদগুলোও ছিলো সকালের সেমাই খাওয়াটা একসাথে। তারপর যেখানে খুশী সেখানে যাও। মামা, খালা, বোন, বন্ধুদের বাড়ি সবখানেই একবার ঠু মারা হতো। আর খাওয়াও হতো সেইরকম।
তবে দেশে সবচে বড়ো ফাজলামি করতো বৃষ্টি। আমার ছেলেবেলার প্রতিটি ঈদেই বৃষ্টি হতো। টিভিতে দেখতাম কি সুন্দর সবাই ঈদগাহে জামাতে নামায পড়তেছে। আর আমরা মসজিদে বৃষ্টির মধ্যে ঈদের নামায পড়তেছি। একই অবস্হা হতো যখন শুক্রবারে থান্ডারক্যাডস কার্টুন দেখতে বসতাম তখন কারেন্ট চলে যেতো। কার্টুন শেষ হওয়ার পরই কারেন্ট চলে আসতো। সেই দু:খটা এখনো ভুলতে পারিনি। এইবেলায় যতোই কার্টুন দেখি আগের মতো অনুভুতি নেই।

এখানে তো এতো আত্মিয়স্বজন নেই তারপরও অনেক ঘোরাফেরা হলো।
এখন আবার দৌড়ের উপর/<img src=" style="border:0;" />

অনেকদিন পর বসের সাথে লাঞ্চে গিয়ে শুধু স্যুপ খেলাম। ভারী খাবার আপাতত বন্ধ। বসের চেহারা দেখে মনে হলো দৌড়ের উপর আছে। জিজ্ঞেস করলে বল্লো গতকাল সকালে সুইজারল্যান্ডে ৪ঘন্টার মিটিংয়ে উপস্হিত থাকার জন্য গাড়ি, প্লেন, ট্রেন মিলিয়ে প্রায় ১০ ঘন্টা জার্নি করতে হয়েছে। বল্লাম এইসব মিটিং তো টেলিফোন কনফারেন্সের মাধ্যমেই করতে পারো। বল্লো নতুন কাষ্টমার, নতুন প্রজেক্ট, তাই যেতে হয়েছে। মনে মনে বল্লাম ডেভোলপমেন্টে ব্যাপক সুখে আছি। নইলে ঈদ কোথা দিয়ে এসে কোথায় যেতো টেরই পেতাম না <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29014811 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29014811 2009-09-23 20:04:22
ঈদ মোবারক
সবাইকে ঈদ মোবারক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29013297 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29013297 2009-09-20 02:03:08
শিরোনামহীন
গতকাল অফিসে মেইল খুলেই দেখি বসের একটি মেইল। মেইলের সাথে এটাচমেন্ট হিসেবে একটি গান ও লিরিক। আমাকে গানটি শুনে অপিনিয়ন ব্যক্ত করতে হবে। গানটি ও নিজে গেয়েছে। শুনে ফোন দিয়ে একটু আলগা সমালোচনা করলাম। ড্রাম, মাউথঅর্গান অথবা গিটারের কাজ ভালোই। তবে গলাটা একটু চড়া। লিরিখটি বেশ সুন্দর। আমার জন্য জার্মানের পাশাপাশি ইংরেজিতে ট্রান্সলেট করে দিয়েছে। এতো ব্যস্ততার মাঝে কিভাবে যে লোকটি সময় করে গান অথবা থিয়েটার করে। যা আমার জন্য অসম্ভব প্রায়। জিঞ্জেস করলাম এই গানের ড্রাম আর মাউথঅর্গান কে বাজাইজে। বল্লো, ওর ফ্রেন্ড একজন বেলজিয়াম থেকে আর একজন আমেরিকা থেকে। ইন্টার্ন, থিসিস করার সময় বসের সাথে মিলে এইরকম পাগলামী করতাম। সবাই একটি গান চয়েজ করে বিভিন্ন বন্ধুরা বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন ইন্সট্রুমেন্ট বাজিয়ে পাঠিয়ে দিতো। আমরা দুইজন মিলে সফওয়্যারে কাট-পেষ্ট করে গান বানাতাম। এখন আর সেইদিন নাই। বসের দেখাই পাওয়া মুশকিল। সকালে সুইজারল্যান্ড, বিকেলে ইউ.কে, রাতে অন্য জায়গায়। আমাকে দেখে আফসুস করে বলে তুমি কতো সুখে আছো। আমি জার্নি করতে জীবন শেষ।

গানটি উতসর্গ করা হয়েছে ওর মাকে। আজকে যার জন্মদিন। শুধু জন্মদিন না আজকে ওর মা-বাবার ম্যারেজ ডে। আজ আরও অনেক কিছুই। বসের কঠিন একটি সমস্যা থেকে উত্তোরনের দিন। আজ আমার প্রজেক্টের ডেডলাইন। আজ আমার অফিস ফাকি দেওয়ার দিন। এবং আজকে আমারও জন্মদিন।

জন্মদিন ঘটা করে পালন করা অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছি। তারপরও অনেকগুলো ম্যাসেজ এসে পড়ে। ফাক তালে ছোটবোন আমার পকেট খালি করে আমার জন্য সারপ্রাইজ গিফট কিনে <img src=" style="border:0;" />
গতকয়েকমাস অফিস ফাকি দেওয়া হয়নি। প্রজেক্টের কাজ প্রায় শেষ। সপ্তাহখানেক সময় বাড়ানো হয়েছে। একটা জায়গায় এসে মোটামুটি ধরা খেয়ে আছি। Automatic Synchro Check আর Auto Re-close Control একটু ঘাপলা দিতেছে। এইগুলো বেশ কঠিন, বুঝি একটু কম। অবশ্য বুঝার চেষ্টাও করি কম। বিকেল হলেই পেঠে যে ইদুর দৌড় শুরু হয় তাতে মাথায় শুধু খাবারের চিন্তা। তখন পড়াশোনা সব চান্দের দেশে।

গত কয়েকদিন টার্গেট করেও অফিস ফাকি দিতে ইচ্ছে হয়নি। আজ কম্বলের তলা থেকেই ফোন দিলাম ম্যানেজারকে। একটু গলাভাঙ্গা ভাব করে বল্লাম শরীর খুব একটা ভালো না। সেক্রেটারীকে বলে দিও। ম্যানেজার বল্লো তুমি চিন্তা করো না। বিশ্রাম নাও। তখন ঘুম পালাইছে<img src=" style="border:0;" />।
এখানে সবাই শোয়াইন ফ্লো নিয়ে বেশ চিন্তিত। গত মিটিংয়ে বলা হয়েছে কারো জ্বর হলে অফিসে না আসার জন্য। আর ডাক্তার যদি বলে সত্যি সত্যি শোয়াইন ফ্লো, তাহলে বাসায় বসেই অফিস করতে হবে। আহ, কি সুখ।
দেশের জন্য কিছু চকলেট কেনা হলো। এই ৫/৭ কিলো। তারপরও অনেকগুলো কেনার বাকী ছিলো। যে যাবে সে নাকি বেশী নিতে পারবে না। রসমালাই বানাতে গিয়ে পুরো তিনলিটার দুধ নষ্ট। চিনির শিরায় দেওয়ার পর দুধ থেকে বানানো ছানা (যা এতো কষ্ট করে ৩০/৪০ মিনিট ডলে গোল্লা বানালাম) ভেঙ্গে আবার ছানা হয়ে যায়<img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />। এতোগুলো দুধ, চিনি নষ্ট। ঐটা মনে হয় আমার কম্ম না/<img src=" style="border:0;" />। আমি চটপটি আর হালিম নিয়ে থাকি।

চাঁদ দেখা গেলে রবিবার ঈদ। অবশ্য সবাই যেরকম কথাবার্তা বলা শুরু করেছেন তাতে শনিবারে যেভাবে হোক চাঁদ দেখবেনই <img src=" style="border:0;" />। রবিবার ঈদ হলে সবার ছুটি। একটু আলাদা আড্ডা হবে হয়তো।
সবাইকে আগাম ঈদ মোবারক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29012282 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29012282 2009-09-17 22:45:28
রমযান, ঈদ, সবই এখন পাইনস্যা<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_18.gif" width="23" height="22" alt=":|" style="border:0;" />
দেশে মামা-মামী ছিলো। উনারা শপিং করতো। মাঝে মাঝে মামার শার্ট নিয়ে নিতাম। পরবর্তিতে মামীর সাথে শপিংয়ে যেতে হতো। মামীর শপিংয় দেখেই আজ আমার এই অবস্হা।

ভেনিস বেড়াতে গিয়ে ভাই-বোন শপিংয়ে ব্যস্ত। আমি শপিং সেন্টারের বাইরে বেঞ্চে বসে হাওয়া খাই আর পরী দেখি। কিছুক্ষন পর ভাইয়া এসে বলে তোর জন্য একটা ESPRIT এর জ্যাকেট দেখেছি। খুব সুন্দর। ট্রায়াল দিয়ে যদি হয় তাহলে কিনে নিবো। আমিও পরী দেখার ইতি টেনে ট্রায়াল দিয়ে নিয়ে নিলাম। ভাইয়াও মোটামুটি শীতের শপিং থেকে বেচে গেলো।
দেশে সাধারনত ঈদের কমন ড্রেস ছিলো সাদা পাজামা, পাঞ্জাবী। সময়ের আবর্তে সেটা অনেক আগেই হারিয়ে গেছে। এখন আর ঈদের সালামীর পাওয়ার কোন চান্স নেই। উল্টো দিতে হয় <img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />
প্রতিবছরের মতো এবারও ছোটবোন ঝামেলার কেন্দ্রবিন্দুতে। উনার জন্য দেশ থেকে অনেকগুলো জামা নিয়ে আসা হয়েছিলো। সবগুলো মোটামুটি একবার পরা হয়ে গেছে তাই ঈদের জন্য নতুন জামা দরকার। উনার কথা হচ্ছে স্কুলের জন্য জামা, পার্টির জন্য জামা, ঈদের জন্য জামা, সবগুলো আলাদা হতে হবে। একবার নাকি কোন জামা পরলে ঐটা পরে ঈদে অথবা পার্টিতে পরে যাওয়া যাবে না। যতোই বুঝাই যে এখানে তুমি কি জামা পরেছো সেইটা কেউই খেয়াল করে না। আমার উদাহরন দিয়ে বুঝাই যে আমি নিজেও তো একই জামা পরে অফিস করি, পার্টিতে যাই। উনার কথা আমি ছেলে তাই আমি যা তা পরতে পারি <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />।

কিছু না বলে বল্লাম ঠিক আছে চলো দু'জন শপিংয়ে যাই। ইহাতেও উনার প্রেষ্টিজে ধরে। উনি বান্ধবীদের নিয়ে যাবেন। যদিও জানি উনার কোন কেনাকাটা হবে না। শুধু ঘোরাঘুরি হবে। (এখানে বাংলাদেশের ড্রেস পাওয়া যায় না)

আজ বিবিসিতে দেখলাম ইউ.কে তে ASDA শপিংমল ইন্ডিয়ান কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেছে। যুগোপযুগী ব্যবসায়িক চিন্তা। ইউ.কে তে কিছু কিছু কাপড় ব্যবসায়ী জনগনকে জিম্মি করে অতি মুনাফায় যা বিক্রি করতেন এইবার উনাদের দিন শেষ। যদিও ASDA এর কোয়ালিটি নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। তারপরও কমদামে যদি পাওয়া যায় তাহলে একটার টাকা দিয়ে অনেকগুলো কিনা যাবে।

ঈদ হয়তো রবিবার (যদি ২৯টা হয়)। নাহলে সোমবার। অফিসে এসেই সোমবার ছুটি নিয়ে নিলাম। যদিও নামায পড়ে কিছু করার নেই তারপরও একটু ঈদের আমেজ নিয়ে আসতে ফাও ছুটি নেওয়া।

(অফিসে ব্যাপক কাজ। বেশী কাজ দেখলে ব্লগাইতে মন চায়। এজন্য আজাইরা প‌্যাচাল)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29010610 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29010610 2009-09-14 23:21:56
রসমালাই তৈরীতে হেল্পান প্লিজ ঈদের ছুটিতে কিছু করার নাই। কিছু করি আর না করি ছুটি অফিস ছুটি নিবো।

আপাতত কিছু একটা রান্নার ইচ্ছে আছে। রসমালাই খেতে খুব একটা পছন্দ না। তারপরও তৈরীর ইচ্ছে আছে। কয়েকমাস আসে চিটি আপুর রেসিপি দেখে বানিয়েছিলাম। কিন্তু খুব ভালো হয়নি। শক্ত হয়ে গিয়েছিলো <img src=" style="border:0;" />

ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে সিদ্দীকা করিবের রেসিপি দেখে কিছু বুঝলাম না।
উনি লিখেছেন:
১) ময়দা, খাবার সোডা ও চিনি কাচা ছানার সাথে মেশান।
খাবার সোডা (!!) কি?? এবং কোথায় পাওয়া যায় জানি না <img src=" style="border:0;" />
২)গোল গোল করে রসমালাই তৈরী করে গরম সিরায় ১৫/২০ মিনিট জ্বাল দিন।
গরম সিরা কি চিনির সিরা। নাকি পানি । পানি বল্লাম এজন্য যে উনি উপকরনে এক লিটার পানির কথা বলেছেন।
৩)সবগুলো উপকরন একসঙ্গে মৃদু আঁচে জ্বাল দিন।
সবগুলো মানে কোনগুলো??

আফারা ভাইয়েরা যারা রসমালাই তৈরী করতে পারেন তাদের আগাম দাওয়াত আমার বাসায়।
দাওয়াত খেতে আসার আগে আমি যাতে ভালো রসমালাই আপনাদের সার্ভ করতে পারি এজন্য হেল্পান।
ধন্যবাদ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29006254 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29006254 2009-09-07 16:19:53
অফিস টুকিটাকি
ডিপার্টমেন্ট পরিবর্তনের পর মনে হলো আমি কুয়ো থেকে ডাইরেক্ট সমু্দ্রে আছাড় খাইলাম। এতো এতো কাজ বুঝে নিতে প্রচুর কষ্ট। অনেকগুলো প্রটেকশন ডিভাইস আমার তত্বাবধানে চলে আসলো। যেগুলোর নাম পর্যন্ত পুর্বে শুনিনি। একটা ডিভাইসে কাজ করতে করতে দেখা গেলো আরেকটি হাজির। মাঝে মাঝে ইংল্যান্ড থেকে ডিভাইস এলে আমাকেই টেষ্ট করতে হয়।
ডিপার্টমেন্টে এসেই যে নতুন ডিভাইসে কাজ করতে হয়েছিলো সেটা ছিলো কম্পেট প্রটেকশন ডিভাইস এবং বর্তমানে আপডেটেড ভার্সন রিলিজ । পরবর্তিতে মডুলার ডিভাইসে কাজ শুরু করলাম। অন্যান্য ডিভাইসের মতো পাওয়ার সাপ্লাই ১০ নাম্বার স্লটে দিয়ে সুইচ অন করার সাথে সাথে বুম। মানে সর্ট সার্কিট এবং পাওয়ার সাপ্লাই বন্ধ। দুই রুমে কোন ইলেকট্রিসিটি নেই। সেক্রেটারীকে ডাকতে গিয়ে দেখলাম শুধু একজন এসেছেন। তাও উনি বোবা (কথা বলতে জানে না। জন্ম থেকেই বোবা)। কি আর করা। নিজে থেকেই ফোন করে সুইচ রুম থেকে আবার পাওয়ার সাপ্লাই পাওয়া গেলো।
কয়েকদিন আগে একই মডুলার ডিভাইস এসেছে ইংল্যান্ড থেকে কিছু সার্টিফিকেট ভেরিফিকেশনের জন্য। আমিও মনের সুখে একটাতে পাওয়ার সাপ্লাই দেওয়ার সাথে সাথে বুম (সর্ট-সার্কিট)। মেজাজ গেলো পুরো গরম হয়ে। অন্য কয়েকটি ডিভাইসের ফাংশন ডেভোলপ করে টেষ্ট মডুউল রান করতেছিলো। সেক্রেটারী শুনলাম চিল্লাইতেছে। বল্লাম ঘটনা আমিই ঘটাইছি। তুমি ফোন করে সুইচ অন করতে বলো। কলিগকে জিজ্ঞেস করলাম ঘটনা তো এইরকম হওয়ার কথা না। পাওয়ার সাপ্লাই বোর্ডের নাম্বার চেক করে দেখলাম ঐটা ২৪ ভোল্টের পাওয়ার স্লট। যে ম্যানেজার ঐটার অর্ডার দিয়েছিলো উনাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম উনি কি ২৪ ভোল্টের কার্ড অর্ডার দিয়েছিলেন। উনি ফাইল চেক করে সরি বল্লেন। অবশ্য দোষটা আমার নিজেরই। এইসব জায়গায় সব কিছু ডকুমেন্ট পড়ে তারপর কানেক্ট করতে হয়। অনেকগুলো স্লট আছে যেগুলোতে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সংখ্যক কার্ড (এনালগ, আর.টি.ডি) সংযুক্ত করা যাবে। এখন সবগুলো ডিভাইসের কার্ড রেপ্লেইস করতে হবে। হার্ডওয়্যার ইন্জিনিয়ার বেটাও ছুটিতে গেছে <img src=" style="border:0;" />

গত সপ্তাহে ছিলো নতুন প্রসেসরের উপর ট্রেনিং। সব এক্সপার্টদের ট্রেনিংয়ে আমি পুরো ভুয়া। আলোচনা দেখে মনে হলো আসলেই আমার কলিগরা এক একটা এক্সপার্ট। অবশ্য হওয়ারও কথা। এই কোম্পানিতে একেকজনের কাজের সময়কাল ১৫/২০ বছর। ট্রেনিংয়ে বসে সবাই কতো রকমের খানাপিনা করে শুধু আমি রমযানের জন্য মুখ তালা দিয়ে বসে আছি। মাঝেমাঝে ঝিমাই। অবশ্য আমার মতো অনেকেই ঝিমাইতে দেখলাম। আমি ম্যানেজারের পাশে বসেছিলাম বলে খুব কষ্টে ঘুম তাড়ালাম। পুরো সপ্তাহটা কষ্টের গেলো। সেমিনার, ট্রেনিং এইসব পুরো ভুয়া কাজ। শুধু ঘুম পায়। বিকেলে পার্টিও ছিলো কিন্তু রোযার জন্য যেতে পারিনি <img src=" style="border:0;" />।
আমার চিন্তা অন্য জায়গায়। ট্রেনিং শুরু করার আগে কলিগদের জিজ্ঞেস করেছিলাম- কাকারা এই প্রজেক্টে কে কে থাকবে? সবাই আমার দিকে আঙ্গুল তুলে<img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />। আমি পুরো টাশকি। চাকরী বদল করবো এই সময়ে সেই উপায়ও নেই। চাকরী আছে সেইটাই তো মহা পাওনা। গতদিন কলিগ বলতেছিলো এই প্রজেক্টে যুক্ত হলে আগামী ১০বছরের জন্য কোম্পানীতে থাকা নিশ্চিত। আমি ঢুক গিলে বল্লাম তাই নাকি? মনে মনে বলি-ব্যাটা কোম্পানী না বদলাইলে তো বেতন বাড়বে না। বর্তমানে সবাই দৌড়ের উপর। কার কোম্পানী কখন পথে বসে ঠিক নাই। তাই আমিও চুপ।

গতদিনের দেশের খবর দেখে খুবই দু:খ পেলাম। অবশ্য এখন দু:খ পাওয়া কমে গেছে। আমরা এতো পেটুক। কোন ভালো আমাদের সহ্য হয় না। কোন ধৈর্য্য নেই আমাদের। দেশ স্বাধীনের পর তার স্হপতিকে মেরে ফেল্লাম। পরবর্তিতে যারাই ভালো কাজ করেছে তাদের সরিয়ে দিয়েছি। মাঠির উপরে তো কোন কিছুই অবশিষ্ট নেই। এইবার মাঠির নীচে থেকেও খাওয়া শুরু। নিজে খাইতে না পারি অন্যকে দিয়েও খাওয়াবো। তারপরও কোন কিছুই রাখবো না। পৃথিবীর চলে একদিকে আর আমরা অন্যদিকে। আমার খুব কাছে থেকে দেখা দুটো দেশ ইংল্যন্ড এবং জার্মানি। দুটো দেশেই বৃষ্টির পানি জমিয়ে সারা বছর ব্যবহার করা হয়। ইংল্যান্ডে তো পানির বিল নাই বল্লেই চলে। জার্মানিতে আমাদের প্রচুর পানির বিল দিতে হয়। এমনকি ইলেকট্রিসিটির থেকেও পানির দাম বেশী। এক শহরের পানি অন্য শহর থেকে আসে। তারপরও কোথাও পানির সমস্যা নেই। ঠান্ডা-গরম সবই পাওয়া যায়। বিভিন্ন সময়ে খরা হলেও মাটির নিচের পানি উত্তোলনের কথা কেউ বলে না ।অথচ নদীমাতৃক আমাদের দেশের নদীগুলো বিষাক্ত করে নীচ থেকে তুলে খেয়ে ফেলতেছি। সাধারন টিউবওয়েলে হচ্ছে না তো সবার বাসায় ডিপ টিউবওয়েল লাগিয়ে পানি খাচ্ছি।
গতমাসে দেখলাম বাসায় বছর শেষে অতিরিক্ত ৮০০ইউরো ইলেকট্রিক + গরম পানি বিল এসেছে। মাথা মোটামুটি খারাপ। কাকে কি বলবো কিছু বুঝলাম না। এমনিতে মাসে ২২০ ইউরো করে দেই। তারপরও অতিরিক্ত অনেক বিল?? হিসেব মিলাতে পারলাম না। চান্সে ছোটবোনকে একটু ঝাড়ি দিলাম অতিরিক্ত পানি ব্যবহারের জন্য (মা-বাবাকে তো দেওয়া যায় না)।
কয়েকদিন আগে বসের সাথে বর্তমানের এনার্জির দামের ব্যাপারে আলাপ হচ্ছিলো। আমি অভিযোগ করতেছিলাম সরকার শুধু শুধু দাম বাড়াচ্ছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অনেক কম। বস বল্লো দাম না বাড়ালে লোকজন অযথা বিদ্যুত/গ্যাস ব্যবহার করবে। একসময় হয়তো তোমার পকেট ভর্তি ইউরো থাকবে কিন্তু ব্যবহারের জন্য বিদ্যুত বা গ্যাস নেই।

পৃথিবীর প্রতিটি দেশ নিজের মজুদ সবসময় ঠিক রেখে বাইরের দেশ থেকে কৌশলে মিনারেল রিসোর্স (বিদ্যুত/গ্যাস/পানি) নিয়ে আসে। আর আমরা সেধে মানুষকে দিয়ে দিচ্ছি।
খুব বেশী দুরে নয়। বাংলাদেশের কিছু লোকজনের হয়তো টাকা হবে কিন্তু কেনার জন্য বিদ্যুত/গ্যাস/পানি মিলবে না।
এখনি সময় এইসব দেশ বিরোধী সরকারী সিদ্ধান্তগুলো বিরুদ্ধে আন্দোলন করার।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29004224 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/29004224 2009-09-03 19:25:46
ভেনিসের খালে-বিলে (আমাদের প্রথম ঠিকানা ইয়ুথ হোস্টেল)

খালের পাশ থেকে হোস্টেল



জানালা দিয়ে পাশের বাসা/হোস্টেল। বুঝার উপায় নেই কোনটা বাসা আর কোনটা হোস্টেল। বিল্ডিংয়ের বাইরের অবস্হা খুব ভালো না। ভিতরে মোটামুটি ফিটফাট



খালের উপর স্পীডবোড (রুমের জানালা দিয়ে তোলা ছবি)।



পাশের বাসার উপর দিয়ে চাঁদ মামা।






আপাতত নিজেদের ঠিকানা



সব জায়গায় স্হাপত্যের নিদর্শন



এলাকায় ঢুকার গেট। বেশ বড়ো জায়গা।






বাস/ট্রাম স্টপেজ।





ভাসমান স্পীডবোডের উপর বেচাকেনা



হোস্টেলের আশেপাশে কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাক জায়গার ছবি





আমাদের দেশী শাপলা ফুল











দুই বিল্ডিংয়ের চিপা। একজন যেতে চাইলে আরেকজনকে ডেকে থামাতে হবে। সব কিছুই ছিমছাম। খুবই পরিচছন্ন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28991892 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28991892 2009-08-11 01:59:42
ভেনিসের খালে-খালে <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> (ফটুক)
মাত্র কয়েক হাজারখানেক ছবি তোলা হয়েছে (এতো ছবি তোলার সব দোষ ডিজটাল ক্যামেরার)।

বিস্তারিত বর্ননা করতে পারবো না। কারো জানার দরকার হলে আওয়াজ দিয়েন। ভেনিস দেখার জন্য সর্বোচ্চ ২দিন যথেষ্ট। অথচ সস্তা টিকেটে যাওয়ায় আমরা ৬দিন ছিলাম। রিটার্ন টিকেট নিজের ইচ্ছেমতো করতে পারিনি। তিনটি টিকেটের আসা যাওয়া খরচ প্রায় ১০০ ইউরো। প্লেন ফেয়ার ৬০ ইউরো। বাকিগুলো বাসের ভাড়া।

অনেকগুলো ছবি বারবার তোলা হয়েছে। তাই একই ছবি হয়তো (!) অনেকবার আসতে পারে।

অবাকই হতে হয় কিভাবে মানুষ ২০০ বছর আগে এইরকম অনেকগুলো দ্বীপ বাড়ি/প্রাসাদ/গীর্জা নির্মান করেছিলো? অনেক অনেক পুরনো ভবনগুলো এখনো টিকে আছে।
হোটেলে যাবার পথের ছবি।









































সবকিছুই স্হলভাগের মতোই। ট্রাম, টেক্সি, পুলিশ, এ্যাম্বুলেন্স, ময়লা পরিষ্কারের গাড়ি সবই জলপথে চলে। অনেকগুলো দ্বীপের মধ্যে শুধুমাত্র লিন্ড নামক একটি দ্বীপে গাড়ি দেখা পাওয়া যায়। অন্য কোন দ্বীপেই গাড়ি নেই। হাতে গোনা ২/১টি দ্বীপে সবুজের কিছু চিহ্ন পাওয়া যায়।

আজকে এই পর্যন্তই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28991182 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28991182 2009-08-09 15:48:20
সপ্তাহনামচা <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" /> ছোটবেলায় কখনো ভাইয়ার সাথে ঘুমায়েছি বলে মনে পড়ে না। আমি আর ছোটভাই একসাথে ঘুমাতাম। মারামারি থেকে শুরু করে সব আকামই করতাম একসাথে। ভাইয়ার কাছে ঘেষতাম কম। উনাকে মোটামুটি ভয় পেতাম। তবে ছোটভাই আমাকে ভয় পেতো না <img src=" style="border:0;" />। ঘুম থেকে উঠে শুরু হতো আমাদের মারামারি। মাঝে মাঝে ঘুমানোর সময়ও কিছু হাতাহাতি হতো। তারপর আম্মার মার খেয়ে দু'জন ঘুমাতাম।

ভাইয়া আমার রুমে আসলে এখনো একটু ভয়ে থাকি। সবকিছু উনার মতো পরিপাটি করে রাখি না বিধায় অনেক সময় কথা বলেন। আমিও এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করে দেই<img src=" style="border:0;" />। বাসায় আসলেই আমার টাকার হিসেব নেওয়া শুরু করেন। মাসের শেষে বেতন দিয়ে কোথায় কি করতেছি, ছোটবোনের সাথে ঝগড়া করতেছি কি না, ঠিকমতো জগিং করি কিনা, ডাক্তারের সাথে গত একবছরে কেনো চেকআপা করিনি.. এইরকম হাজারো কথা। যদিও আমার কাজের সময় উনাকে ফোন করে কান ঝালাপালা করে দেই। আর উনি আমার কাজগুলো নিজের মনে করে করেন। উনি যেরকম আমার কাজগুলো করেন আমি মনেহয় উনার জন্য এইরকম করবো।
ছোটবোন কয়েকদিন থেকে কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করতেছিলো উনার বান্ধবিদের নাকি আমাদের বাসায় দুই দিন ব্যাপি থাকার আয়োজন করবেন। আমি বল্লাম অসুবিধা কিছু নাই। বাসায় অনেক জায়গা আছে। তারপরও আমাকে নাকি বাসা থেকে যেতে হবে। জিজ্ঞেস করলাম কেন? বল্লেন আমি থাকলে নাকি উনারা ঠিকমতো চিল্লাফাল্লা করতে পারেন না। উনারা সারারাত জেগে আড্ডা দিবেন, জোরে কথা বলবেন, গান শুনবেন। আমি থাকলে নাকি এইসব করা যাবেনা। কি মুশকিলের কথা।
ভাইয়া বল্লো, চল আমার বাসায়। কি আর করার দুইদিনের জন্য ভাইয়ার বাসায়। উনি আমার জন্য সুপারমার্কেট থেকে সকালের নাস্তার জন্য বিভিন্ন জিনিস কেটাকাটা শুরু করলেন। আমি একটু ঝাড়ি দিয়ে বল্লাম সকালে আমি সাধারনত কিছু খেতে পারি না। তুমি যদি খাও তাহলে কিনো। রাতে ফল, আইসক্রিম খাওয়ার জন্য অনেক্ষন পিড়াপিড়ি করলেন (মনে হলো আমি মেহমান <img src=" style="border:0;" />)। আমি সাধারনত দিনে একটা আইসক্রিম খাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেতে হলো। নামায পড়ে দুজন অনেক্ষন ব্লা ব্লা করে ঘুম দিলাম। রাতে আমি ঘুমালে উনি অনেকবারই এসে দেখে গেলেন ঠিকমতো ঘুমাইতেছি নাকি। আমার ঘুম খুব পাতলা। তাই সবকিছুই টের পেলাম। সকালে নাস্তার জন্য অনেক কিছুই রেডি করলেন। আমি দুই পিছ ব্রেড পানি দিয়ে গলহধরক করে উনাকে অফিসের কাছাকাছি নামিয়ে আমার অফিসে গাড়ি ছুটালাম।

গাড়ি চালাতে মজা পাই। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় একটু বেশী রাফ চালানো হয়ে যাচ্ছে। ভাইয়া পাশে থাকলে শুধু ভুল ধরে আর কম স্পীডে চালাতে বলে। উনাকে পাশে রেখে গাড়ি চালানোর মজা নাই।
শুক্রবারের জুমার নামায আগে পড়তে যেতাম নিয়মিত। শুক্রবার অলিখিত অর্ধদিবস ছিলো আমার জন্য। ডিপার্টমেন্ট পরিবর্তন করার পর আর সেইরকম যাওয়া হয় না। গত সপ্তাহে ম্যানেজারকে বল্লাম আমি ঘন্টাখানেকের জন্য বাইরে যাবো (একটু ভাব নিলাম। যদিও লাঞ্চের সময় কখনো দুইঘন্টা অফিসে থাকি না)। ম্যানেজার বল্লো তুমি তো লাঞ্চের সময় যেখানে খুশি যেতে পারো। বল্লাম লাঞ্চের সময় তো অফিসিয়ালি ১১:৩০ থেকে ১৩:৪৫ পর্যন্ত। ম্যানেজার বল্লো ঐটা কোন ব্যাপার না। তোমার সুবিধামতো তুমি নিয়ে নিয়ো। সেই থেকে শুরু। আজ একটু তাড়াহুড়ো করে গাড়ি বের করতে গিয়ে একটু হলে নতুন একটি মার্সিটিজের সাথে লাগিয়ে দিয়েছিলাম। পেছন থেকে আর একটা গাড়ি আসতেছিলো। ঐ ব্যাটা হর্ন দিলো। হাত তুলে স্যরি বল্লাম। দোষটা আমারই ছিলো। নামায থেকে আসার সময় অফিসের কাছাকাছি দেখলাম বেশ বড়ো একটা এক্সিডেন্ট। একটা VW জিপ একটা নতুন BMW কে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে। গাড়ির ডেমেজ দেখে মনে হলো বেশ জোরেই মেরেছে। BMW এর পেছন মোটামুটি শেষ। মনে মনে চিন্তা করতেছিলাম VW জিপের মালিককে যে কতো হাজার ইউরো ঘুনতে হবে। বেচারা। এইসব দেশে গাড়ির দাম থেকে তেল, ইন্সুরেন্সের ঠেলাটা বেশী। গাড়ির দামের উপর ধাক্কার হিসেব করে পকেট কাটা হবে। এখন থেকে আমাকেও ধীরে গাড়ি চালাতে হবে। ধাক্কা দিলে টাকা দেওয়ার ক্ষেমতা কম /<img src=" style="border:0;" />
নতুন গাড়ি কিনবো কিনবো করে কেনা হচ্ছে না। এতো দামী গাড়ি কিনে ফতুর হইতে ইচ্ছুক না। যদিও ভাইয়া রোজরোজ ধাক্কায়। ভালো চাকরী করলে নাকি ভালো গাড়ি কিনতে হয়। ব্যাংক থেকে লোন করে গাড়ি কিনার শখ আমার কোন কালেই ছিলো না। উপোস থাকতে রাজি আছি। তারপরও বাকিতে নাই (দেশেও মাঝে মাঝে টাকার যোগান না থাকলে বিস্কুট খেয়েই কাটিয়ে দিতাম। বাকির খাতায় নাম কখনো লিখাইনি)। আমি বলি তুমি অর্ধেক দিলে কিনতে রাজি। উনি শুধু টয়োটা চয়েজ করে। আমি অবশ্য কিছু চয়েজ করিনি। ফ্রি পাইলে চয়েজ করবো কেনো <img src=" style="border:0;" />। দুটো টয়েটা (একটা কম্বি, অন্যটা জিপ) চয়েজ করে রাখা হয়েছে। জিপটার তেল খাওয়ার পরিমান দেখেই আমি পেছন ফিরে দৌড়।

আগামী পরশু পার্টি। আসল কাজের দায়িত্ব আমার। মাংস কেনাকাটা করা, গ্রীলের জন্য প্রস্তুত করা, এবং পার্টির দিন সমস্ত গ্রীলের দায়িত্ব আমার। এখন থেকেই ধোয়া খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি<img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28983136 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28983136 2009-07-24 21:21:28
ছুটি, আড্ডা, দাওয়াত অত:পর .... গত সপ্তাহে বাসায় গিয়ে দেখি ভাইয়া বেশ ব্যস্ত। আমি ছুটি নিতে পারবো কি না জিজ্ঞেস করতেছে। বল্লাম নেয়া যাবে। কিন্তু ঘটনা কি? উনি বল্লো আমার ভেনেডিক যাবো। সাথে কিছু অভিযোগ পেশ করলেন যে আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না (ছুটিতে বেড়াতে যাবার দায়িত্ব ছিলো আমার উপর)। বল্লাম এতো ব্যস্ত (অলস) মানুষকে দিয়ে কি কিছু হয়?? আর তুমি যেতে রাজি থাকলে আমি যেকোন জায়গায়ই রাজি <img src=" style="border:0;" />। আসলে ছোটবোনকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যেতে আমার ভালো লাগে না। মহা ডিসটার্ব। সারাক্ষন মুখে খই ফুটে। কান ঝালাপালা।ঘরে কিছুই খায় না। অথচ বাইরে গেলেই প্রতি সেকেন্ডে উনার পানি খেতে ইচ্ছে করবে। অথবা ক্ষিদে লাগবে। অথবা উনার সাথে সপিং সেন্টারে ঘুরতে যেতে হবে<img src=(" style="border:0;" />

ভাইয়ার প্লেনের টিকেট বুকিং শেষ হলে সবাই মোটামুটি হাফ ছেড়ে বাচলাম। কিছুক্ষন পর জিজ্ঞেস করলাম- আচ্ছা, ভেনেডিক কোথায়?? ভাইয়া কিছুক্ষন আমার মুখের দিকে চেয়ে থেকে বল্লো-তুই জায়গা না জেনেই কি তাহলে বুকিং দিলাম? আমিও পাল্টা বল্লাম-তুমি সাথে গেলে তো চিন্তাই নাই। খরচটা তোমার উপর দিয়েই। আর হোটেল বুকিং থেকে সবকিছু তোমারই। তাই জায়গা চিনার কোনই দরকার নাই। আর ডিসটার্বটা যেহেতু যেতে রাজি হয়েছে তাই আমিও রাজি। উনি বল্লো ভেনেডিক মানে হচ্ছে ভেনিস (জার্মান একটা খাইষ্টা ভাষা<img src=(" style="border:0;" />)।

কয়েকদিন থেকে হোটেল বুকিং থেকে শুরু করে সবকিছু্‌ই হচ্ছে। আমি শুধু ক্রেডিট কার্ড দিয়ে উদাও।ম্যাপ দেখে হোটেলে অবস্হান দেখে হোটেল বুকিং। এতো ধৈর্য্য নাই।
এখানে সাধারনত সামারে কুকুর-বিড়াল বৃষ্টি হয় খুবই কম। গ্রীষ্মকাল খুবই রৌদ্রজ্জল থাকে। কিন্তু এই বছর ব্যতিক্রম। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলাফল সব জায়গায়। বৃষ্টি হচ্ছে তো হচ্ছেই। নিজেদের মধ্যে দাওয়াত অথবা খেলাধুলা ঠিকমতো জমতেছে না। তারপরও আগামী সপ্তাহান্তে ৫০/৬০ জনের একটি দাওয়াতের আয়োজন করা হয়েছে। ক্রিকেট ম্যাচ + গ্রীল পার্টি। যেহেতু হোস্ট আমরাই তাই একটু দৌড়ের উপর। সবাই ফুলটাইম কামলা তাই কাজের ফাকে ফাকে বিভিন্ন জিনিস কেনাকাটা করা, সবকিছুর আয়োজন এবং বিভিন্ন লোকজনকে দায়িত্ব ভাগাভাগি করে দেওয়া সহ আজাইরা কাজে দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে। ছুটির দিনগুলোতেও আর ছুটি নেই /<img src=" style="border:0;" />/<img src=" style="border:0;" />

গত সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে গনিত অলিম্পিয়াডের টিম ফ্রাঙ্কফুট হয়ে ব্রেমেন গেলো। উনাদের রিসিভ করে পোলাও, মুরকার রান, নাখটিশ (মিষ্টি জাতীয় খাবার। সাধারনত ভারী খাবারের পর খাওয়া হয়) খাইয়ে দিলাম। সবাই বেশ হাসিখুশি ছিলো। সাথে একটু বেশীই টায়ার্ড। বসার জায়গা পেলেই ঘুমিয়ে পড়ে অবস্হা। মনির ভাই উনার পুর্বের বিভিন্ন অভিক্ষতার কথা বল্লেন। আরো বল্লেন এইবার শুরুটা যেহেতু ভালো হয়েছে (বিদেশে বাংলাদেশি খাবার খেয়ে। বিদেশে বাংলাদেশি খাবারটা সবাই খুব মিছ করে), আশা করা যায় সবকিছুই ভালো হবে। উনারা ফ্রাঙ্কফুট থাকতেই ব্রেমেনে দাওয়াত পেয়ে গিয়েছিলেন। ঘন্টাখানেক আড্ডা দিয়ে উনাদের কাজ থেকে শুভকামনা জানিয়ে বিদায় নিলাম। গতকাল শুনলাম বাংলাদেশ বেশ ভালো করেছে। বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় এইসব কৃতিত্বগুলো বেশ আরামদায়ক। কিন্তু অতি তৈলভোজবনে আমরা সবকিছুই নষ্ট করে ফেলি। এই ফলাফলকে বেসিস করে যাতে ভবিষ্যতে হাজারো সাফল্য আসে সেই কামনা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28980954 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28980954 2009-07-20 16:05:48
আবজাব লেখা " style="border:0;" />। কোথাও ঘুরতে গেলে হোটেলে থাকাটাই আমার পছন্দ। নিজের ইচ্ছেমতো ঘুরাঘুরি করা, ঘুমানো, খাওয়া সবই হয়। খরচ যদিও একটু বেশী পড়ে <img src=" style="border:0;" />

স্কুল বন্ধ হলে রাতের ঘুম মোটামুটি কষ্টের। গরমে জানালা খুলে ঘুমানো দায়। টিনএজাররা যারা কোথাও বেড়াতে যায় নাই অনেক রাত পর্যন্ত রাস্তায় আড্ডা, গান শোনা চালিয়ে যান। পরের দিনের স্কুলের চিন্তা নেই। এদিকে চাকরীজীবিদের অবস্হা কাহিল <img src=" style="border:0;" />

দেশে স্কুলে গ্রীষ্মের বন্ধ রমযানের সাথেই পেয়েছিলাম। অবশ্য খুব একটা বেশী পাইনি। তারপরও একটু একটু মনে আছে একবার স্কুল ছুটির শেষদিন টাকা তুলে শিক্ষকদের মিষ্টি খাইয়েছিলাম। গতকাল থেকে ছোটবোন কানের কাছে আওয়াজ দিতেছিলেন উনার স্কুলে পার্টি আছে। আমি অফিসে যাওয়ার আগে উনাকে স্কুলে নামিয়ে দিতে। আমার অফিস আর উনার স্কুল বিপরীতমুখী অবস্হানে। উনিও সাধারনত বলেন না। আমি অফিসের উদ্যেশ্যে অনেক সকালে বের হই। তখন উনাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিয়ে যাই। না হলে উনি স্কুল ফাকি দিবেন। আজ উনার সাথে অনেকগুলো কোলা, ড্রিংস , আরো কিসব হাবিজাবি জিনিস আছে। সকাল হলেই কিভাবে যতো তাড়াতাড়ি অফিসে আসা যায় সেই চিন্তায় মোটামুটি দৌড়ের উপর। কিছু করার নেই দেখে বল্লাম ঠিক আছে। সাথে সাথে উনার আরেকটি রিকোয়েস্ট, সাথে কি আমার বান্ধবী (পাশের বিল্ডিংয়ের) যেতে পারবে? বল্লাম কি আর করার। পারলে আরো কয়েকজনকে বলো। গাড়িতে তো জায়গা আছেই<img src=" style="border:0;" />। বল্লাম, তবে যদি সাজতে গিয়ে দেরী করো তাহলে আমি চলে যাবো। এইটা মনে হয় জেনেটিকেল। এই পিচ্চি বয়সে সাজতে যে সময় লাগায়। ভবিষ্যত তো পুরো ফকফকা। ঝাড়ি দেওয়ায় কাজ হয়েছে। আজ উনাকে ঘুম থেকে জাগাতে হয়নি। নিজে নিজে উঠে ড্রেসআপ করে নাস্তার টেবিলে এসে উনার হাজিরা দিলেন। বল্লেন, দেখেছো আজ আমি নিজে নিজে উঠেছি। মনে মনে বলি সেইটা তো আমি জানতাম। প্রত্যেকদিন যে মা ৩/৪বার ডাকে। তারপর আমি ডাকি। তখন তো কানে ঢুকে না। মুখে কিছু বল্লাম না। সকালে ঝগড়া করার কোন মানে নাই (আমাদের ঝগড়া হয় নিয়োমিত <img src=" style="border:0;" />)। মুখে মিষ্টি হাসি ফুটিয়ে বল্লাম ভালো। উনার পাল্টা প্রশ্ন, শুধু ভালো বল্লাম কেনো? খুব ভালো বলতে হবে। কি আর করার। খুব ভালো বল্লাম। আর সাথে সাথে আরেকটি হুমকি দিলাম। কাল থেকে ফজরের নামায সময়মতো পড়তে হবে। না হলে ইন্টারনেট বন্ধ। লে হালুয়া <img src=" style="border:0;" />

স্কুল ছুটি হলে কিছু সুবিধা আছে। সকালে ঘুম থেকে জাগানোর ঝামেলা নাই। যতো খুশি ঘুমাও। অসুবিধা সুবিধার চেয়ে অনেক বেশী। মা-বাবারা ছুটি হলে খুব টেনশনে থাকেন বাচ্চাদের নিয়ে। সবচে ভালো উপায় কোথাও ঘুরতে চলে যাওয়া। এবার হয়ত শীপে করে নরওয়ে অথবা স্কান্ডিনেভিয়ার কোন দেশে ঘুরতে যাবো।

সপ্তাহান্তে শহর থেকে বেশ দুরে একটি গ্রামে গিয়েছিলাম। বড় এক ভাই মোটামুটি নতুন একটি BMW কিনেছেন। উনি নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স করেছেন। আমি পুরনো পাপী তাই গাড়িটি চালিয়ে নিয়ে আসতে বলেছেন। ছোটখাটো কিছু কাজ ফেলে চলে গেলাম। ট্রেন থেকে নেমে দেখা গেলো বাস আসবে অনেক দেরী করে। পাশেই ছিলো পার্কের মতো জায়গা। বল্লাম চলেন পার্কে ঘুরে আসি। হয়তো কিছু ফলের দেখা পাবো (পুর্ব অভিক্ষতার আলোকে। গ্রামে বড়ো হয়েছি। কতো লতা পাতা, নাম না জানা গাছের ফল খেয়েছি <img src=" style="border:0;" />)। একটু হাঠতেই দেখা পেলাম সারি সারি চেরী ফলের। কিন্তু গাছের নীচে কাঠা জাতীয় অন্য ফল গাছ (ব্রামবলস)। একটু পর দেখা হলো বরইয়ের মতো একটি ফলের। একটা খেয়ে দেখলাম বেশ মজার। আমাদের দেশের বরইয়ের মতো। গাছ ভর্তি ফল। কি আর করার। দুজনে মিলে প্রায় ৫/৬ কিলো পাড়া হলো। যদিও আরো ৫/৬ কিলো সহজেই পাড়া যেতো। কিন্তু খাবে কে এই চিন্তায় আর নিয়ে আসা হয়নি। কাছেই আপেলের গাছ। কাচা আপেল দিয়ে নাকি ডাল রান্না করলে খুব ভালো টেষ্ট হয়। কিন্তু খাওয়ার ভাগ্য হয়নি। তারপরও কাচা ৩/৪টা আপেল পাড়লাম। আরো কিছুক্ষন ঘুরলে হয়তো আরো কিছু ফলগাছ পাওয়া যেতো। কিন্তু বাস চলে আসবে বিধায় ফিরে এলাম।

ভালো গাড়ি চালানোর মজাই আলাদা। তবে জার্মান গাড়ি বিশেষ করে BMW/Mercedes/Audi যে পরিমান তেল খায় তাতে পটেক খালি হলে আমার মতো লোকজনের সময় লাগবে না। এদিক দিয়ে জাপানী গাড়ি বেশ ভালো। হাইওয়েতে ১৩০/১৪০ কিমি তে দৌড়ালাম (আনলিমিটেড স্কিড এরিয়াতে যাইনি <img src=" style="border:0;" />)। তেলের দাম রোজ ৫ বার উঠানামা করে। বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বিভিন্ন দাম। ছুটি শুরু হলে দাম বাড়বে বিধায় গতকাল ট্যাংক ফুল করেছিলাম। আজ সকালে দেখি দাম আরো কমেছে। মেজাজ পুরো হট <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />। এই দেশে গাড়ির দাম নাগালের মধ্যে কিন্তু তেল কিনে মোটামুটি ফতুর। বাংলাদেশে অনেকেই অনেক দামী গাড়ি কিনে। কিন্তু গাড়ি চালায় ড্রাইভার। সেটা আমার কাছে অদ্ভুত মনে হয়। এতো দামী গাড়ি কিনে নিজে না চালালে মজা কোথায়??

বছরের অর্ধেক চলে গেছে। প্রতি মাসেই কাজের অগ্রগতি নিয়ে গ্রুপ মিটিং হয়। আজ ম্যানেজারের সাথে ষাম্মাসিক মিটিং হলো। সবকিছু পজিটিভ। তারপরও কাজ করতে মন চায় না। কাজ না করে উপায়ও নাই। স্কুলের মতো যদি ৬/৭ সপ্তাহের একটি বিরাট ছুটি পাওয়া যেতো!! সামান্য সময়ে ছুটি খুব একটা উপভোগ্য না <img src=" style="border:0;" />। কক্সবাজার অথবা সেন্টমার্টিনে কয়েক সপ্তাহের জন্য যেতে পারলে মজা হতো। ইউরোপে ঘুরে মজা নাই। সবই মোটামুটি একই। আর ট্যুরিষ্টের ভীড় লেগে থাকে সব সময়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28976330 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28976330 2009-07-10 21:43:54
এই বেশ ভালো আছি (আসলেই কি তাই??) " style="border:0;" />
সামার হলে কোন সমস্যা নেই কিন্তু শীতকালে খুব কষ্টের কাজ। যদিও আড্ডাই ভরসা। তাই একজনের সাথে ৪/৫ জন রওয়ানা দিতাম। যার জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হতো উনি সব খরচ বহন করতেন। তখন মনে হতো কারো গাড়ি থাকলে কতো ভালো হতো। ড্রাইভিং লাইসেন্সের খরচের চিন্তায় খুব কম লোকজনই ঐপথে পা বাড়াতো। খাবারের চিন্তায় জ্বান কয়লা। ড্রাইভিং লাইসেন্স অনেক দুরের জিনিস।

পড়াশোনা শেষ করে সবাই মোটামুটি কামলা দিতেছে। একে একে অনেকগুলো ড্রাইভিং লাইসেন্স হয়ে গেছে। অনেকগুলো গাড়িও কেনা হয়ে গেছে। তবে এখন আর আগের মতো দৌড়াতে হয় না। মাঝে মাঝে ঐসব দিনগুলোকে মিছ করি (দু:খ বিলাস)।

সপ্তাহান্তে ব্লগের পুরনো সদস্য চোরভাই দাওয়াত দিলেন ক্যাসেলে যাওয়ার জন্য। ওখানে সুমন চৌধুরী উর্ফে বদ্দা, হিমু সহ আরো অনেক লোকজন থাক। পূর্বে অনেক দাওয়াতে যাওয়া হয়নি বিভিন্ন পারিবারিক ঝামেলায়। সময়ের সাথে সাথে অনেকেই জবের সাথে স্হানও পরিবর্তন করতেছেন। তাই ভাবলাম ঘুরে আসি। চান্সে অনেকদিন পর ক্রিকেটও খেলা হবে। খাওয়া, আড্ডা তো উপরি পাওনা।

এমেচার ক্রিকেটার বলা যায়। অথবা ক্ষেত ক্রিকেটার। বছরে হয়তো ৩/৪বার খেলা হয়। সবাই স্টাম্পের বল দেখে শুনে খেলে। সেখানে আমি দেই ধুম বাড়ি। ফলে ৪/৬ ছক্কা। না হলে হাঁস( শরীর বাচাতে মনে হয় স্টাম্পের বল মারতে হয়। এতো স্পিডের বল ছুটে এসে শরীরে লাগলে খবর হয়ে যাবে)। ক্যাসেল ক্রিকেট মাঠটি আমার খুবই প্রিয়। যতোবার খেলতে গিয়েছে হতাশ হইনি। চোর, বদ্দা, হিমু সবাই কে মোটামুটি ভর্তা বানিয়ে দিলাম। যদিও হিমু আমাদের ভালোই পিটাইছে। আমিও হিমুকে মনের সুখে ৪/৬ মারছি। ১/২ রানের জন্য দৌড়াতে ভালো লাগে না। শুধু শুধু টায়ার্ড হওয়ার কোন মানে নাই।
খেলার পাশাপাশি গ্রিল পার্টি চলছিলো। যে রান আউট উনি গিয়ে মুরকার রানে কামড় বসাচ্ছিলেন। কিছু খেয়ে নেমেছিলাম তাই ইচ্ছে করেই আউট হয়নি।না হলে ক্ষিদে লাগলে ব্যাট রেখে দৌড় দিতাম।
অবশ্য ব্যাট করার মজাই আলাদা। বোলিংয়ে আমি নাই। সবাই স্পিন করতে চায়। হিমু একবার জিঞ্জেস করতেছিলো সবাই স্পিন করতে চায় কেন? বল্লাম আসলে ঐটাকে স্পিন বলা ঠিক না। কিছু পারি না দেখেই তো হাত ঘুরাই। ঐটা বোলিংয়ের কোন সঙ্গাতেই পড়ে না।

খেলার মাঠের পাশেই চেরী ফলের গাছ। গতবছরও চেরী খাওয়া হয়েছে অনেক। এখানে গাছে চড়লে জরিমানা গুনতে হয়। কিন্তু কে শুনে কার কথা। চোরভাইকে (হোস্ট ) গাছে তুলে দিলাম। ফলগুলো এতো পেকেছে যে নীচে পড়তেই ফেটে রক্তারক্তি অবস্হা (চেরীর কালার লাল)। তাই উনি ছোট ছোট ডাল ভেঙ্গে নীচে ফেলতেছেন। আর সবাই বিশেষ করে আমি না ধুয়েই একাই এক কিলো মতো সাবাড় করে দিলাম।

খেলার পর চোরভাইয়ের বাসায় আড্ডা। হিমু ভাই নায়িকার মতো গোসল দিতে গিয়ে দেরী করে ফেলেছে। এর মধ্যে আমাদের খাবার শুরু। কঠিন রান্না। এতো আইটেম যে গুনতে ভয় করতেছিলো। সবই বাংলা খাবার। বিভিন্ন রকমের ভর্তা। কোন মাংসের আইটেম ছিলো না। কি রেখে কি খাবো বুঝতে পারতেছিলাম না। কিন্তু দুষ্কের বিষয় বেশী খাইতে পারি নাই। বেশী খেলে ফিরতি পথে যাত্রা সুখকর হবে না সেই জন্য।

খাবার পর আবারো ট্রেন ধরার জন্য দৌড়। শান্তি নাই <img src=" style="border:0;" />

কয়েকদিন থেকে কোম্পানীর আমাদের সেকশন টি এন্ড ডি বিক্রি হবে হবে করতেছিলো। গতকাল ফ্রান্স থেকে মেইলে জানালো বিক্রি নিশ্চিত। তবে কে কিনতেছে এখনো ফাইনাল হয়নি। সিমেন্স সহ আরো অনেকেই লাইনে আছে। কপালে কি আছে আল্লাহ জানে। তবে আমি ছাড়া আমার ডিপার্টমেন্টে সবাই খুব রিলাক্স। সবার কথা এই কোম্পানি অনেকবারই বিক্রি হয়েছে। ফ্রান্স সরকারের যখন টাকার দরকার হয় তখন এই ডিপার্টমেন্ট বিক্রি করে। তবে ওরা সাধারনত ওদেরই আরেক কোম্পানিকে দিয়ে দেয়। আমাদের ডিপার্টমেন্টটা হচ্ছে টাকার মেশিন। যার যখন দরকার তখন বিক্রি। তবে এখন পর্যন্ত যতোবারই বিক্রি হয়েছে চাকুরীজীবি সবাই বহাল আছে। ভবিষ্যতে কি হবে কে জানে?

গরম বেশ ভালোই পড়েছে। ২৬/২৭ ডিগ্রি। বাসায় গিয়ে পাংখা ঘুরাতে হয়। এখানে সিলিং ফ্যানের কোন সুযোগ সুবিধা নেই তাই টেবিল ফ্যানই ভরসা। শেষ রাতে বেশ ভালো শিশির পড়ে। আগামী কাল থেকে আবারো বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু (বাংলা খবরে আবহাওয়া রিপোর্ট)। কেন যে গুনে গুনে ছুটির দিনগুলোতে বৃষ্টি হয় <img src=(" style="border:0;" /> । অফিস আসার পথে বিভিন্ন রাস্তার পাশে অনেকগুলো নাম না জানা ফল দেখেছিলাম। ইচ্ছে ছিলো সাপ্তাহিক ছুটিতে সাইকেল নিয়ে একটু টেষ্ট করতে যাবো। ঘুরাও হবে টেস্টও হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28972739 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28972739 2009-07-02 20:31:54
যায় দিন ভালো, আসে দিন <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_15.gif" width="23" height="22" alt=":(" style="border:0;" /> " style="border:0;" />

বাংলাদেশ থেকে কয়েক সপ্তাহ দেশী আম কাঠাল আসে। দামও সেই রকম। তবে আমার আব্বাজান দামের তোয়াক্কা করেন না। নিজেও কিছু বলি না। মন যা চায় তা করার অধিকার সবারই আছে। দেশের বাড়িতে ৩০/৩৫টা কাঠাল গাছ ছিলো। কাঠালের মৌসুমে ফকিরও কাঠাল খেতো না। আমাদের কাজ ছিলো ফকিরকে কাঠাল সেধে দেওয়া আর উনারা খাওয়ার পর কাঠালের বীজগুলো ফেরত নিয়ে আসা। কিন্তু মাঝে মাঝে উনারাও খেতে চাইতেন না। কাঠা্লের মৌসুমে আমাদের একটু কষ্টই হতো। কারন তখন সকাল-বিকাল ডিক্লেয়ার দেওয়া হতো ভাত রান্না হবে না। কাঠাল খেয়ে থাকতে হবে। কিন্তু সবাই ভাত খেতো। তবে আমাদের অনেক বড়ো বাড়িতে আম গাছের অভাব ছিলো। অন্য বাড়ির ঠিলায় ঝড়-বৃষ্টিতে আমাদের পাওয়া যেতো। ছিলো অনেক অনেক পেয়ারা গাছ। অনেক রঙের পেয়ারা। পেয়ারা খেয়ে পেট ভরে যেতো। পেয়ারাগুলো ছিলো খুবই মিষ্টি। জীবনে প্রথম কলেজে গিয়ে দেখলাম লোকজন লবন দিয়ে পেয়ারা খায়। প্রথম প্রথম হাসবো নাকি কাদবো বুঝলাম না। পরে পেয়ারা টেস্ট করে দেখলাম ঐসব পেয়ারা একদম পাইন্স্যা। ঐটাকে নাকি কাজি পেয়ারা বলে। মনে মনে ভাবলাম আরও কতো কিছু দেখতে হবে। স্কুলে যখন শহরবাসি হলাম দেখলাম লোকজন টাকা দিয়ে বাঁশ কিনে। প্রথমে একটু চমকালাম। কারন আমাদের বাঁশ ঝাড় কয়েকটা। প্রতি বর্ষার সময় কয়েকশ বাঁশ বিক্রি হতো। আত্মীয় পরিচিত যার যখন দরকার নিয়ে যেতো। অবশ্য এলাকার সবার বাড়িতেই বাঁশঝাড় ফলফসল ছিলো।

গতসপ্তাহে বাবা একটি কাঠাল নিয়ে আসলেন। ছোটবোন দেখে মোটামুটি উত্তেজিত। কাঠাল ভেঙ্গে দেখা গেলো কোষগুলো এখনো পরিপক্ষ হয়নি। মা দেখলাম একটু মনোক্ষুন্ন হলেন বাবার উপর। কারন জিঞ্জেস করতে বল্লেন এতো করে বল্লাম কাঠালের দানা পুরো যদি হয় তাহলে কাঠাল কিনতে (নানাবাড়ি আমাদের থেকেও বেশী কাঠাল। সুতরাং মা ভালো জানবেন)। উনি দুই/তিনটা মুখে দিয়ে বল্লেন গলা চুলকায়। কি আর করার পুরোটা মোটামুটি বিনে। কেউই খাইনি। আমার অবশ্য খাওয়ার শখ খুব একটা নেই। তবে দু:খ হলো ছোটবোনকে দেশে নিয়ে আমাদের ফেলে আসা দিনগুলোর দুরন্তপনা দেখানো যাবে না। আমাদের কাঠাল গাছগুলোর কাঠাল আমরা দেখেই বলে ফেলতে পারতাম কোনটা কোন গাছের। এক একটা গাছের পিকিউলিয়ার নাম ছিলো। গাছ পছন্দ হলে দুএকটা কোষ খাওয়া হতো না হলে বীজ রেখে বাকীগুলো গরুর খাবার। সকালে মক্তব শেষে রুটিন ছিলো মোটামুটি সবগুলো গাছের কাঠাল চেক করা। আর পাকা দেখে দেখে গাছ থেকে নামানো। পাকা কাঠাল গাছ থেকে নামানোও বেশ কষ্টের। আমার ছোটভাই ছিলো এইসবে ওস্তাদ। আমাদের কোন কাজের লোক ছিলো না। তাই কাজগুলো আমাদেরই করতে হতো। আর এখন ২৫/৩০ ইউরো দিয়ে কিনতে হচ্ছে <img src=" style="border:0;" />

নটকলের গাছ ছিলো কম। তবে পাশাপাশি বাড়িতে চুরি করতাম বেশী। ফুফুর বাড়িতে ছিলো খুব বেশী। উনারা বস্তা ভরে পাটিয়ে দিতেন। তবে নটকলের বীচি খেয়ে পেট ব্যথা ছিলো সাধারন ব্যাপার। নটকলের রস দিয়ে খুবই মজার একটা আচার বানানো হতো। এখন প্রায় দুর্লভ। কতো বছর হলো নটকলের সাথে দেখা হয় না <img src=" style="border:0;" />

স্পেন থেকে কমলা আসে। সিজনে খাওয়া হয় প্রচুর। আমাদের কমলা ছিলো মোটামুটি। তবে মামা বাড়ি বিরাট কমলার বাগান। গতবছর দেশ থেকে বন্ধু ফোন করে জানালো আমাদের এলাকা দিয়ে পুরো ফ্যামেলি নিয়ে কোথায় জানি যাচ্ছে। উনার ইচ্ছে হলো পরিবারের সবাইকে কমলা গাছ দেখানো। বল্লাম এখন তো কমলার সিজন। কপাল ভালো থাকলে ইচ্ছেমতো খেতে পারবি। মামাতো ভাইকে ফোন দিতে বল্লাম। পরে উনি জানালো ইচ্ছেমতো কমলা পেড়ে খেয়েছেন।

শীতের সময় টিয়ে পাখি একটা কাঠাযুক্ত ফল খেতো। স্হানীয় নাম বিটখুটে। এলাকার কিছু বিচ্চু ছেলে ঐগুলো কাঠা ছাড়িয়ে আমাদের কাছে বিক্রি করতো। এক টাকায় ১৬টা পাওয়া যেতো। কাঠা ছাড়ানো খুবই কষ্টের কাজ ছিলো। আর গাছলো টিলায় হতো। আমাদের এই গাছ ছিলো না। তখন এক টাকা বিরাট ব্যাপার। বাড়ি থেকে কোন টাকা হাতে দেওয়া হতো না। টাকা পেলে নাকি নষ্ট হয়ে যাবো। যা খেতে মন চায় শুধু বাসায় এসে বললেই হতো। ময়না পাখি এসে অন্য একটি ফল খেতো। ঐটা আমাদের বাড়িতে ছিলো প্রচুর। কিন্তু ঐফল মানুষের খাওয়ার উপযুক্ত না। টেষ্ট করে দেখেছি। অভ্যাস খারাপ। যা পাই হালকা টেষ্ট করে নেই। চান্সে যদি খাওয়া যায় তাহলে আর কে কাকে পায়। একটা বাদাম ছিলো। নাম মনে নেই (মনে হয় কাঠবাদাম)। ঐ বাদামের ফুল হতো খুব সুন্দর এবং সুগন্ধি। বাদামটা হাত দিয়ে ছিড়তে গেলে রস লেগে হাত চুলকাতো। কিন্তু ঐসবে পাত্তা দিলে কি চলে? ফল থেকে বাদাম বিচ্যুত করে গরম পানিতে সিদ্ধ করে তারপর খাও। লতা জাতীয় গাছে একধরনের আলু (ফল) হতো। ঐটাও গলা চুলকায়। কিন্তু আমরা পুড়িয়ে পেট পুজো করতাম। এইসব আউল ফাউল জিনিস বাড়ির বাইরে করতে হতো। বাসায় জানলে কপালে মাইর। আরো কতো আজাইররা কাজ কারবার হতো। আরেকটা ফল ছিলো স্হানীয় নাম বিটখুটে। গাছে সাধারনত সেইরকম কাঠা হতো। খেতে মিষ্টি। কে শুনে কার কথা। সবই ডাইজেষ্টেড <img src=" style="border:0;" />। তবে এইসব খেয়ে পেঠ ব্যথার কথা বল্লে উল্টো মাইরের ভয় থাকতো <img src=" style="border:0;" />

এখানেও অনেক ফল রাস্তার ধারে গাছ ভর্তি। আপেল, স্ট্রবেরী, ব্রামবল, চেরী, নাম না জানা ফল, বাদাম অহরহ পাওয়া যায়। অফিসের পাশে গাড়ি পার্কিয়ের জায়গায় একটা চেরী গাছে খুব বেশী ফল এসেছে। কিন্তু কেউই খাচ্ছে না। দেখে খুবই কষ্ট হলো। সেই দু:খে আজ দুপুরে একগাদা খেয়ে এলাম। যদিও বাসায় অনেকগুলো দেখেছি টেবিলে ফ্রিজে রাখা । কিন্তু খাবার সময় কোথায়। ঘরে আসলে ভাত ছাড়া কিছু খেতে মন চায় না। আর বাইরে গেলে শুধু খাই খাই অভ্যাস।

অফিসে কে কোন উপলক্ষে খাওয়ায় বুঝা মুশকিল। জিঞ্জেস করার দরকার কি। খাইতে পারলেই হলো <img src=" style="border:0;" />। তবে পাবলিক খুব একটা খাইতে পারে না।

ভাঙ্গা মোবাইলে ছবি

মাইন নদী





বৃষ্টি আসতেছে। অফিস থেকে তোলা ছবি






চেরী ফল। ভালো করে দেখতে চাইলে গুগলে সার্চ দেন।







যারা খাইতে মন চায়, দাড়িয়ে আওয়াজ দেন।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28969186 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28969186 2009-06-25 02:19:42
শিরোনামহীন আবজাব
এই ব্লগে অনেকেরই চিকিতসার জন্য আবেদন আসে। দেশের মানুষগুলো বিশেষ করে যুবসমাজ যে এখনো এতো নির্দয় হয়নি সেটা বারবার প্রমান করেছে। এতো এতো কষ্টের মাঝেও লোকজন বিভিন্ন উদ্যেগ নিচ্ছে ভেবে নিজেকে বেশ দুরের মনে হয়। এইসব ব্যাপারে সরকারী অথবা বেসরকারী কোন উদ্যেগই দেখা যায় না। দেশ থেকে বাইরে চিকিতসার যে খরচ যাতায়াত আর থাকা-খাওয়ার খরচ প্রায় অর্ধেক। দেশে চিকিতসার ব্যবস্হা হলে অনেক অনেক সাশ্রয় হতো। সরকারী অথবা বেসরকারীভাবে কেন হচ্ছে না বুঝি না। ব্যবসায়ি সম্প্রদায়ই কি ব্যবসার কথা চিন্তা করেও একটু এগিয়ে আসতে পারে না??

ইউরোপের অনেক দেশে বিভিন্ন কারনে যেতে হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় বিভিন্ন প্রয়োজনে থাকতেও হয়েছে। চিকিতসার ব্যবস্হা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম। সবকিছু থেকে জার্মানির ব্যবস্হা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। যদিও বিভিন্ন সময় মন খারাপ হয় এতো এতো টাকা মাস শেষে কেটে নিয়ে যায় (মাসিক ৭০০ ইউরো। বেতনের উপর ইন্স্যুরেন্সের টাকা নির্ভরশীল। ছাত্রাবস্হায় মাত্র ৫৫ ইউরো) । তারপরও সান্তনা যে যখনই ডাক্তার প্রয়োজন সাথে সাথে পাওয়া যায়। যেকোন ডাক্তারের কাছে এপোয়েন্টমেন্ট চাওয়া অথবা পাওয়া যায়। শহরের ভেতরে ইমারজেন্সি কল করলে ১০মিনিটের ভেতরে আসতেই হবে। গাড়ি না আসতে পারলে অথবা রোগীর অবস্হা খারাপ হলে হেলিকপ্টার আসবে। রাস্তায়
সাইরেন শুনলে সামনের গাড়ি যে যেভাবে পারে সাইড দিতে বাধ্য। চিকিতসা খরচ যাই হোক না কেন ইনস্যুরেন্স অবশ্যই কাভার করবে। এখানে সবার ইন্স্যুরেন্স থাকতেই হবে। খাও অথবা না খাও ঐটা পরের চিন্তা হেলথ ইন্স্যুরেন্স আগে। এইসব ব্যবস্হা যদিও আমাদের দেশে অসম্ভব। কিন্তু মিনিমাম টাকা দিয়েও তো সুবিধাটুকু দেওয়া যেতে পারে।

নিজে বার রকমের মানুষের সাথে থেকে সবকিছুতেই বিভিন্ন স্বাধ পেতে চাই। বছরদুয়েক আগে বাংলা নাটক দেখেছিলাম। তারপর অনেক লম্বা বিরতি। হঠাত করে চ্যানেল আইয়ের গানরাজ দেখতে বসলাম। যতোক্ষন বাসায় সারাক্ষন পিচ্চিদের গান শোনা। হঠাত করে একদিন টিভিতে জার্মানির পরবর্তি সুপার মডেল দেখতে গিয়ে একটা গান বুঝতে পারিনি। ছোটবোনকে জিঞ্জেস করলে বল্লো ঐটা নাকি ব্রিটনী'র। এই সময় উনি একটু বিল্লা মারলো। কি আর করার বাংলা থেকে ডাইরেক্ট ইংরেজি গানে কয়েক সপ্তাহ। তারপর আউল-ফাউল লিঙ্ক ঘুরে হিন্দি গানে। ওল্ড গোল্ড, সারেগামা চল্লো কয়েক সপ্তাহ।

গতকাল রাতে ডাইনিং রুম দিয়ে আসার সময় বাউল আব্দুল করিমের একটা গানের একটি কলি শুনতে পেলাম। সাথে সাথে বাবা চ্যানেল বদল করে ফেল্লেন। বছর তিনেক থেকে ড্রয়িংরুমের টিভিতে বাংলা স্যাটালাইট চ্যানেল যুক্ত আছে। ঐ টিভি শুধু মা-বাবার জন্য। আমি ঐটা কিভাবে অপারেট করে জানি না। মাঝে মাঝে আসা যাওয়াতেই যা দেখা হয়।

বাউলের গানের কলি মাথায় সারা রাত ঘুরতেছিলো। বাউলের গানগুলো যদিও অনেকবার শুনেছি। অফিসে যাওয়ার পথে গাড়িতেও মনেমনে গাইতেছিলাম। অফিসে বেশ ঝামেলার জন্য খুব একটা মনে পড়েনি। আসার সময়ই একই অবস্হা। কিন্তু আমার গাড়ির সিডি প্লেয়ার নষ্ট সেইটা আমার বোন আবিষ্কার করেছে। বাসায় আর একটা সিডি প্লেয়ার আছে। কিন্তু লাগাতে ইচ্ছে হয় না। যদিও মাঝে মাঝে গান শুনে ড্রাইভ করতে ইচ্ছে করে। এইসব ব্যাপার আমার ছোটবোন আমার থেকে অনেক বেশী বুঝে। উনি গাড়িতে উঠলেই কোনটা ঠিক আর কোনটা নষ্ট আমার থেকে ভালোই বুঝে। আজ থেকে আবার বাউল গানের ভক্ত।

এই গাড়ির হর্নও গতপরশু পর্যন্ত জানতাম না। এখানে হর্ন দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি এতোদিন। গতদিন ভাইয়ার সাথে ড্রাইভ করতেছিলাম। সামনে একটা গাড়ি অনেক্ষন ধরে দাড়িয়ে ছিলো। আমার একটু তাড়া ছিলো। ভাইয়া বল্লো হর্ন দে (বেয়াদবি করলে হর্ন দিতে হয়)। আমি বল্লাম হর্ন কোথায় সেইটা তো জানি না। ভাইয়া কি বলবে বুঝতে পারলো না। শুধু হেসে বল্লো তোমার হর্ন স্টিয়ারিংয়ের কাছেই (উনি আমার গাড়ি মাত্র একদিন ড্রাইভ করেছেন)। ততোক্ষনে সামনের গাড়ি এগিয়ে গিয়েছে। হর্ন দিতে হয়নি<img src=" style="border:0;" />।

বাসায় অথবা অফিসে অনেককিছু থেকে ইচ্ছে করেই এগিয়ে চলি। গতসপ্তাহে একটু ঠান্ডা পড়েছিলো। ফুলহাতা শার্ট খুজতে গিয়ে অস্হির। কোনটাই মনমতো হচ্ছিলো না। তাই আর পরা হয়নি। সপ্তাহান্তে ভাইয়া এসেছিলেন। চান্সে শার্টের কথা বলে ফেল্লাম। উনি বল্লেন কিনে দিবেন (আমার জ্যাকেট, শার্ট, পেন্ট পর্যন্ত মাঝে মাঝে উনি কিনে <img src=" style="border:0;" />)। বেচে গেলাম। ছোটভাইকে দিয়ে জুতো কেনালাম।
অফিসে পিসি তে একটি সমস্যা হচ্ছিলো। আইটি সেক্টরে ফোন করলাম। ওরা আমার একাউন্ট দেখে বলে তুমি কি এই অফিসে নতুন? বল্লাম গত তিনবছরের উপরে এই অফিসে। শুনে মনে হলো না সে লজ্জা পায় নাই। উল্টো বলে তোমার মেইল একাউন্টে মাত্র কয়েকশো মেগাবাইটের মেইল। এখনো তো গিগা তে যায়নি। অথচ অন্যদের সার্ভারে সাইজের জন্য ঝগড়া করতে হয়। মনেমনে বলি এখনো চুপচাপ আছি। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ তারপর আমিও ঝগড়া করবো। ম্যানেজার আমাকে বাইরের কিছু প্রজেক্টে এসাইন করেছে। কাজের চাপে মরিতে চাইনা এই সুন্দর ভুবনে<img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28965169 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28965169 2009-06-16 00:39:00
কিছু আকামের ছবি " style="border:0;" />

ছুটি শেষ হয়ে যাচ্ছে সেই দু:খে আর কিছু করা হয়নি। জার্মান জালালাবাদ ওয়েলফেয়ার এসোশিয়নের উদ্যগে স্হানীয় একটি পার্কে গ্রীল পার্টির আয়োজন করা হয়। সেই জন্য ফ্রি কামলা দিতে হয়েছে। প্রায় ৪৫০জন লোকের খাবারের ব্যবস্হা করা হয়।
কিছু ছবি দেওয়া হলো। কাজ করতে করতে জীবন কয়লা <img src=" style="border:0;" />


ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের লগো (সেন্ট্রাল ব্যাংক ফ্রাঙ্কফুর্টে অবস্হিত)


সেন্ট্রাল ব্যাংক



শুধু মোরকা <img src=" style="border:0;" />। আমি একটাও খাইনি <img src=" style="border:0;" />


ছাগুর সাথে বুষ্ট্র (সসেজ)


পাবলিক খায় আর আড্ডা দেয়











আমাদের মতো সবাই কি আর শুধু উদরপুর্তিতে আসে!!






পার্কের পাশেই বিরাট লেক। বিভিন্ন রঙের মাছ, হাঁস, পাখি, খরগোশের নিরাপদ আবাসস্হল। কেউ উনাদের খাওয়ার ধান্ধা করলে লালদালানে যেতে হবে<img src=" style="border:0;" />





ছুটি শেষ। কাল থেকে কামলা শুরু। দোয়া কইরেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28964678 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28964678 2009-06-15 00:24:12
অগোছালো জীবননামা
সময় বদলেছে। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে এখন ফুলটাইম কামলা দিচ্ছি। ১৫/১৭ বছরের হোস্টেল জীবন শেষে এখন কিছুদিনের জন্য মা-বাবার কাছেই (কিছুদিন বল্লাম, কারন কামলা জীবন। কখন কোথায় যেতে হয় ঠিক নাই)। এখন আর আগের মতো খাবারের চিন্তা করতে হয় না। আপাতত ডায়েটের চিন্তায় মোটামুটি অস্হির। যদিও খাবারে আমার তেমন একটা আগ্রহ নেই। জেনেটিক্যালি একটু নাদুস-নুদুস টাইপ। পানি খেলেও দুধের কাজ দেয়। মহা গেইনজাম। আলসেমির জন্যই মটকু হয়ে যাচ্ছি। কাজ করে জিম অথবা জগিং করতে মন চায় না। ভাইয়া প্রত্যেকদিন বুঝায় আবার মাঝে মাঝে ঝাড়িও দেয়। প্রতি মাসে হেলথ ইন্সুরেন্স ৭০০ইউরো (৭০,০০০টাকা) কেটে নিয়ে যায়(নিজে চক্ষে দেখি না। হেলথ ইন্সুরেন্সের অটোমেটিক সেলারি থেকে চলে যায়)। এখন নাকি হেলথ ইন্সুরেন্স জিমের টাকা দিবে। পাবলিক জিমে গেলে অসুখ কম হয় সেজন্য। ভাইয়া ৬দিন কাজ করে একদিন জিমে যায়। আমি ৫দিন কাম করে কাইত। কে শুনে কার কথা। আমার থিওরি খাবার কন্ট্রোল আর মাঝে মাঝে (সপ্তাহান্তে)সাইকেল চালিয়ে স্বাস্হ্য কমানোর ধান্ধা। কিন্তু এখানের আবহাওয়া এতই সুস্বাধু যে হাওয়া খেলেও মোটা হয়ে যাই।

রোজকার রুটিনে খাবারের পরিমান:
সকাল: ২ পিছ ব্রেড অথবা একপিছ পরটা। এক কাপ চা।
দুপুর: একটা বনরুটি। ক্যান্টিনের খাবার অসহ্য লাগতেছে কয়েকদিন। ক্যান্টিনে গেলেও শুধু সালাদ আর সিদ্ধ সবজি দিয়ে লাঞ্চ। একটা আপেল। অফিসে কালো কফি চিনি ছাড়া খাবার চেষ্টায় আছি। প্রথম প্রথম খারাপ লাগলেও এখন ভালো লাগে। অন্যরকম টেষ্ট<img src=" style="border:0;" />
রাত: সন্ধ্যা ৭/৮ টার মধ্যেই রাতের খাবার শেষ। এই সন্ধ্যার খাবারই যতো ঝামেলা। মোটামুটি খাবার একদম টেবিলেই পাওয়া যায়। তাই খাওয়াও হয় মোটামুটি জব্বর। খেয়ে কোন কাজ নেই। শুয়ে, বসে টিভি দেখা। রাতে সাধারনত কিছু খাই না। মাঝে মাঝে আপেল অথবা আম খাওয়া যায়।

এতো কিছু করে কোনমতে ঠিক ছিলাম। গতসপ্তাহে ৩দিনের ছুটি ছিলো। সেইটাই কাল হলো। শুক্রবার অফিস করে বিকেলে ঘুম দিলাম। শনিবার ছিলো জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মসজিদে মিলাদ প্লাস খাওয়া। ভাইজানের লিফলেটের কাজ করে দিয়েছি। আর এমনিতেই লোকজন কম হয়। তাই যেতেই হলো। বিরয়ানি ভালোই হয়েছিলো। দুই প্লেট সাবাড় করে দিয়ে মনে হলো কাজটা ভালা করিনি।

শনিবার ছিলো একটা বার্থডে পার্টি। ইন্ডিয়ান রেষ্ট্রুরেন্টে বুফে। লে হালোয়া। আমি আবার বুফে হলে ভালোই টানি। টাকা উসলের ধান্ধায়। দুই প্লেট সাবাড় করে মিষ্টি খেয়ে দেখি পেটে হাওয়া ঢুকারও চান্স নাই। জন্মদিনের কেকও খেতে পারলাম না । সারা বিকেল খুব কষ্টে গেছে।

সোমবার গ্রিল পার্টি। সবার দাওয়াত। আমি যেতে রাজি হলাম না। মা-বাবা আর বোনকে গাড়ি দিয়ে পৌছে দিলাম। দুপুরে এক প্লেট ভাত, দুইটা আইসক্রিম, একটু চিপস। ছোটবোন ডায়েটে আছে। যতোই বুঝাই এখনো তার ডায়েটের সময় হয়নি । কে শুনে কার কথা। অবশ্য আমি মজায় আছি। উনি ডায়েটে থাকলে আইসক্রিমগুলো শুধু আমার। না হলে ফ্রিজ ভর্তি আইসক্রিমের একটাও খুজে পাওয়া যায় না। এখন ফ্রিজ ভর্তি আইসক্রিম। আহ, কি শান্তি আকাশে বাতাসে<img src=" style="border:0;" />। যাক, মা-বাবা গ্রিল পার্টি থেকে আমার জন্য খাবার নিয়ে আসলেন। কি আর করার। একগাদা পোড়া মাংস সাবাড় করলাম। তারপর আসল খেইল শুরু।

এই ৩/৪ দিনে মিনিমাম ৩/৪ কিলো ওজন বাড়ছে। অফিসে বসে শান্তি নাই। শুধু হাসফাস করি। অফিসে এসে ফ্রিজের চকলেট, আইসক্রিমগুলো কলিগদের দিয়ে দিলাম। কিছু কফি রুমে রেখে এসেছি। যে কেউ খেয়ে নিতে পারে। আমি আর ঐসবে আপাতত নাই। ড্রয়ার খালি করে চকলেট টেবিলের উপর রেখেছি। কালো, সাদা, ব্রাউন, নারকেলের চকলেট। আহারে কতো রকমের চকলেট <img src=(" style="border:0;" />। বস দেখে বল্লো এতো চিন্তা কিসের? আমাকে দেখো না। যতো মোটা ততো সুখ। বল্লাম তোমাকে দেখে যখন মেয়েগুলো দৌড় লাগাবে। তখন ম্যা হো না <img src=" style="border:0;" />। দুজন অনেক্ষন ফাজলামি করলাম। এখানের অফিসগুলোতে কাজ করে এইদিক থেকে শান্তি। কাজের সময় কাজ। তারপর কে বস আর কে নরমাল কামলা বুঝা যায় না। ইউনিতে ও একই অবস্হা। প্রসেসরের সাথে বসে বিড়ি ফুকে, ড্রিক্স করে।

এই সপ্তাহে নিশ্চিত দৌড়াতে হবে। আবহাওয়া ঠান্ডা হয়ে গেছে। গরম আসতে না আসতেই আবার ঠান্ডা। সকালে সামার জ্যাকেট গায়ে দিতে হয় <img src=" style="border:0;" />।

গতসপ্তাহে বাংলাদেশ ফেরত এক প্রফেসরের সাথে দেখা। দেখেই বল্লেন কি ব্যাপার তুমি তো মটকু হয়ে যাচ্ছো। এমনিতেই দেখতে সাদা লাউ <img src=(" style="border:0;" />
বল্লাম মাত্র তো দেশে থেকে ফিরেছেন। তাই সবকিছুই একটু মটকু তো লাগবেই।
আগামী সপ্তাহে একটা সরকারী ছুটি আছে। তারপর আর অক্টোবর নভেম্বরের আগে ছুটি নাই। সুখের দিন প্রায় শেষ। বসের সাথে সকালে কিছুক্ষন ব্লা ব্লা করলাম। জিঞ্জেস করলো ছুটি নিতেছি কবে? দেশে যাবো নাকি? বল্লাম এখনো ছুটি ঠিক করিনি। দেশে যেতে মন চায়। কিন্তু এতো গরম আর আগামীতে বৃষ্টি শুরু হচ্ছে তাই আপাতত যাচ্ছিনা। উনি আবার বাংলাদেশকে বেশ ভালো করেই জানে। অনেক কিছুই না বল্লেও বুঝে ফেলে। বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক ডকুমেন্টরী নাকি দেখেছে। মনে মনে বল্লাম আমিও মাঝে মাঝে জার্মান টিভি তে দেখি। তবে ডকুতে কি আর ভালো জিনিস দেখাবে??

ডিভাইস টেস্টিং করতেছি। মোটামুটি আজাইরা কাম। মাত্র ২/৩ মিলিসেকেন্ডের জন্য এ্যারর আসে। বাগ ফিক্সিং করতেই দিন গোজরান। মাঝে একবার সুর উঠেছিলো আমাদের সেকশন সিমেন্স কিনে নেবে। বসকে জিঞ্জেস করলে বল্লো ঐসব ভুয়া। ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট কখনো এই কোম্পানী বিক্রি করবে না। আমরা ওদের মানি মেকার। আর সিমেন্স কিনতে চাইলেও জার্মান অথোরিটি রাজি হবে না। কারন ইউরোপে মনোপলি বিজনেস দেখার জন্য একটা অথোরিটি আছে। কয়েকদিন আগে মাইক্রোসফট, সিমেন্স, আই.বি.এম কে বাঁশ দিয়েছিলো মনোপলি বিজনেসের জন্য। সে আবার হুশিয়ারী দিয়ে বল্লো, যদি এমন কিছু ঘটে যায় তাহলে পরেরদিন থেকেই জব খোজা শুরু করবে। সিমেন্স আমাদের কিনে সাথে সাথে পোডাকশন বন্ধ করে দিবে। কারন, ওরাও একই সাবস্টেশন অটোমেশন ডিভাইস তৈরী করে। আমাদের কোম্পানি, এ.বি.বি ওদের কম্পিটিটর।

কামলা জীবন আর ভালো লাগে না। কাজের বাইরে ঠিকমতো কোন কাজই হয় না। সারাক্ষন কাজের টেনশন। কি যে আছে জীবনে!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28960660 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28960660 2009-06-05 20:13:47
যাপিত জীবন
অনেকদিন বাইরে আছি বিধায় নিজের চামড়ায় এখনো দেশী ভাবটা রয়ে গেছে। উনাদের মতো ঠান্ডা ভালো লাগে না। বৃষ্টি ভালো লাগে শুধু বাসায় অথবা অফিসে থাকলে। গত সপ্তাহান্তে বাইসাইকেল নিয়ে বেশ দুরে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে বেশ ভালোই বৃষ্টিতে ভেজা হলো। কয়েকবছর পর বৃষ্টিতে ভেজা। খুব একটা খারাপ লাগেনি। আশা ছিলো যদি একটু জ্বর আসে তাহলে অফিস কামাই দিবো। কিন্তু জ্বর আসেনি <img src=" style="border:0;" />

এই ২৭/২৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ফ্যান ঘুরানোর কোন মানে হয় না। আমার রুম সবার উপরের তলায়। গরম বেশ ভালোই অনুভুত হয়। একটু গ্রামের দিকে থাকি । খোলা পরিবেশ তাই জানালা খুললেই ৩০ মিনিটে ঘর ঠান্ডা। তারপরও গতদিন প্রথমবারের মতো পাংখা ঘুরালাম কিছুক্ষনের জন্য।

দিন এতো লম্বা হয়েছে যে শেষই হতে চায় না। এশা নামায রাত ১১টার পর। নামায পড়ে ঘুমাতে যেতে ১২টা। ফজরের নামায ভোর ৫ ঘটিকায়। নামায পড়ে আবার ঘুমাতে গেলে অফিস আসার টেনশনে ঘুম মোটামুটি বাতিল। অফিস টাইম মোটামুটি ফ্লেক্সিবল। কোন মিটিং না থাকলে যার যখন খুশি আসে। একজন ভোর ৬টায় তো অন্যজন হয়তো ১১টা অথবা ১২টায় হাজির। আমার টেনশন হয় সকাল সাতটার পর গাড়ি নিয়ে বের হলে মোটামুটি ঢাকা শহরের মতো জ্যাম। অবশ্য সকালে শহরের ভিতরে ৭০/৮০ কিলো বেগে গাড়ি চালানো যায়। এরচে বেশী স্পিডেও চালানো যায়। কিন্তু ভয় হয় কখন কোন চিপায় ক্যামেরা নিয়ে পুলিশ কাকা বসে থাকেন বলা যায় না। কয়েকদিন পর দেখা যাবে পোষ্টবক্সে আপনার নামে একটি ফটোসহ চিঠি। কপাল খারাপ হলে ফাইনের সাথে সাথে পয়েন্টও কাঠা যাবে। অফিস পাড়ায় ফ্রি পার্কিংয়ের জায়গা পাওয়াও মুশকিল। এইসব চিন্তা করে চোখ ডলতে ডলতে অফিসমুখো। মা উঠে ছোটবোনকে স্কুলের জন্য ডেকে চা বসাতে গেলেন। উনাকে ঘুমাতে বলে নিজের জন্য নাশতা রেডি করে এককাপ চা। ঘুমের যে অবস্হা তাতে এই এককাপ চা কিছুই না। অফিসে এসে কড়া এককাপ কফি খেয়েও ঘুম তাড়ানো মুশকিল।

গতসপ্তাহে একজন কলিগ এসে কানে কানে বল্লো আরেকজন কলিগের বিয়ে। অফিসে সাধারনত কারো জন্মদিন অথবা বিয়েতে সেক্রেটারী একটি কার্ড ইস্যু করে একটি ফান্ড তৈরী করে। কলিগ এসে বল্লো সবাই যাতে সেই ফান্ডে বেশী করে ডুনেট করি। বল্লাম ঠিক আছে। মনে মনে বল্লাম তোমাদের বিয়ে হচ্ছে একটি শখ। হয়তো ২/৩টা বাচ্চা হওয়ার পর শখ হলো বিয়ে করি। তখন ঢাকঢুল পিঠিয়ে বিয়ের পিড়িতে বসো। আমার বসের দুইটা ছেলে দুই মহিলার কাছে। এখন উনি আর একজনের সাথে থাকেন। কয়েকমাস থেকে উনার সখ হয়েছে বিয়ে করবেন। সেইটা নিয়ে আমার সাথে অনেক আলুচনা। কয়েকদিনপর আবার সবকিছুতে ভাটা। অবশ্য এইসব খুব একটা খারাপ না। মাথা ফ্রেশ থাকে <img src=" style="border:0;" />। একজনের সাথে সারাজীবন বোরিং। কিছু হলেও ভাগাভাগির উপায় কম। কষ্ট করেও মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলা <img src=" style="border:0;" /> (কেউ মাইন্ড খাইয়েন না)। ওদের অবস্হা হচ্ছে ভালো লাগলে থাকো না লাগলে আলবিদা।কিন্তু বাচচাদের অবস্হা বারোটা। ওরা বাবা মায়ের আদর কোনটাই ঠিকমতো পায় না। বাবা যেমন অন্য মেয়ের সাথে মাও তেমনি অন্য ছেলের সাথে।

পরশু ১০ ঘন্টাব্যাপি মিটিং। এই একটা জিনিস বড়ই বিরক্তিকর। আগের ডিপার্টমেন্টে বছরে ২/১বার মিটিং হতো। এখানে তো প্রতি সপ্তাহেই দিনব্যাপি মিটিং। আজ স্হানীয় ম্যানেজার, কাল ইংল্যান্ডের ম্যানেজার, পরশু ফ্রান্সের ম্যানেজার অথবা টিমের সাথে মিটিং। মিটিংয়ে খাবারের আয়োজন থাকলে না হয় কথা ছিলো। শুধু সোডাপানি আর চা-কফি /<img src=" style="border:0;" />

এই দু:খের দিনেও দোস্তের একটি মেসেজ পেয়ে ফোন দিলাম।

: কি খবর?
-আছি ভালো।
:বউ বাচ্চা ভালো?
-হে আছে ভালো সবাই আল্লাহর রহমতে (দোস্ত আবার হুজুর টাইপ। তবে একসময় ব্যাপক পুংটা আছিলো। রোজ ৮/১০টা ডাইল না খাইলে ঘুম হইতো না। অনেক বছর হলো ভালো হয়ে গেছে)
:হঠাত মাথায় ফ্লাট কেনার কেড়া উঠলো কেনো?
-বড় ভাই একটা গাড়ি কিনলো তাই দেখে।
:কতো দিয়ে কিনলো?
-৫০
:তাহলে তো বেশি হলো কোথায়? দুবছর আগে না শিপন (আরেক বন্ধু) ওর বাপরে ৬৫লাখ দিয়ে একটা গাড়ি কিনে দিলো।
-ওর কথা বাদ দে। তোর কাছে যা চেয়েছি পাবো নাকি?
:হয়তো। ফ্লাটের দাম কতো?
- সোয়া কোটি টাকা
:<img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /> (এতো টাকা জীবনে শুনছি কিনা সন্দেহ)। দেশে যেহেতু আছো সুতরাং কিনে ফেলতে পারো। আর আজ হোক কাল হোক বাসা তো একটা দরকারই। তবে এতো টাকা কে দিবে কাকা??
-ব্যাংক লোন। আর ভাই বন্ধু (আমি)
: কানা (আরেক বন্ধু) শুনলাম ভালোই ব্যবসাপাতি করে। ওর কাছে মনেহয় পাবি। আর যদি হঠাত মইরা যাস তাহলে কি হবে (আমাদের কমন ডায়লগ)
-ব্যবসার অংশ থেকে পাবি।
:তুমি তো আমার এখানে বেড়াতে এসে দেখে গেছো আমি কি রকম কামাই। এখন তুমিই বলো কিভাবে কি করি?
-ঠিক আছে। এখনো ফাইনাল কিছু করিনি। কিছু হলে জানাবো।

আরো কিছু আজাইরা আলাপের পর ফোনালাপ শেষ। তারপর চিন্তা করতে বসলাম। দেশের কিছু মানুষ বেশ সুখেই আছে। এইসব সুখি মানুষদের দেখে ফিরতে ইচ্ছে করে। কিন্তু অধিকাংশের অবস্হা খুবই খারাপ। পরিচিত একজন বুয়েট থেকে মেকানিক্যালে পাশ করে এখান থেকে ডিগ্রী নিয়ে গিয়ে দেশে একটা ইন্টারভিউয়ের কলই পাচ্ছে না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28955958 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28955958 2009-05-26 15:12:01
এল.টি.টি.ই এর বর্তমান পরাজয়ের কারন জানতে চাই
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখা গেলো এল.টি.টি.ই ওদের নিজেদের পুলিশ এবং আর্মি বাহিনী নিয়ে মোটামুটি একটি এলাকা ভালোই দখলে নিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু হঠাত করে এই দুরবস্হা কেনো?

গতকাল পিয়াল ভাইয়ের একটি কথায় কিছুটা আভাস ছিলো। ভিলুপিল্লাইয়ের ডানহাত নাকি এই পরাজয়ের জন্য দায়ী।

বিস্তারিত জানতে চাই।

ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28952755 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28952755 2009-05-19 13:46:41
পারফেক্ট ভখেনএন্ডে বর্তমানে ক্যালেন্ডারে যদিও সামার লিখা। কিন্তু আবহাওয়ার অবস্হা দেখে মনে হচ্ছে হয়ত সামার আসতেছে অথবা সামারের বিদায়। শনিবার ভালোই ঠান্ডা তাই বাইরে যেতে মন চায়নি। সারাদিন বাসায় টিভি দেখা হলো। কার্টুন আর কার্টুন।

গত সপ্তাহে বস নতুন স্টার ট্রাকের কথা বল্লো। রিলিজ হতেই নাকি সে দেখে ফেলেছে। আমাদের দুইজন প্রতি সপ্তাহেই নতুন কি কি ছবি দেখলাম সেগুলো নিয়ে কিছুক্ষন আলোচনা হয়। নতুন/পুরনো কোন নায়িকা অথবা মডেল নিয়ে ফাজলামি আলাপ হয়। হয়তো ব্রিটনী মা হবে। বস বল্লো- আহমদ, তুমি জানো নাকি যে ব্রিটনী আবারো মা হচ্ছে? আমি রহস্যের হাসি হেসে বলি: কাজটা কি তোমার?? ঘটনা কবে ঘটাইছো??তুমার গার্লফ্রেন্ড জানে?? দু'জনে এসব নিয়ে কিছু হাসাহাসি।

স্টার ট্রেক দেখা হলো। মোটামুটি ভালো লেগেছে। কিন্তু ছোটবেলার মতো থ্রিল নাই।

রবিবার আবহাওয়া ভালো ছিলো আর আগে থেকেই সাইকেল চালানোর প্লান ছিলো। নিজের বাসার পাশেই অনেকগুলো পার্ক আছে। কিন্তু খুব একটা ঘুরতে যাওয়া হয় না। এই সপ্তাহে ২ থেকে আড়াই ঘন্টার সাইকেল ট্যুরে একটি পার্কে ঘোরা হলো।

নিজের ভালোই ডিজি ক্যামেরা আছে। সময় সময় বেশ কয়েকটি কেনা হয়েছে। আমার সুইট, কিউট বোন কয়েকদিন পরপর একটা করে শহীদ করেন। ঝাড়ি, বকা কোন কিছুতেই কাজ হয় না <img src=(" style="border:0;" />

ক্যামেরা কেনা শখ কিন্তু ছবি তুলতে মন চায় না। তাই মোবাইলের ক্যামেরাই ভরসা। টেকনোলজি জিনিসটা আমার কাছ ভালোই লাগে। যেদিন থেকে মোবাইল ব্যবহার করা শুরু করেছি সেদিন থেকে ঘড়ি বিদায়। বেশ ভালোই একটা আরমানি ঘড়ি বছর দু'য়েক আগে গিফট পেয়েছিলাম। সপ্তাহখানেকও পরা হয়নি। মোবাইলে ক্যামেরা আসার পর মোটামুটি ফটো তুলার কাজ ঐটা দিয়েই।










কি মজার দিনের শুরু। কেউ বা বসে। কেউ টিটি খেলছে।


পুরো পরিবার


অনেক পন্ডিতও পাওয়া যাবে।


আমাদের উড়োজাহাজ <img src=" style="border:0;" />

পার্কের মধ্যে খাল।


মিনি গলফ। ভবিষ্যত টাইগার উডস (জার্মানীতে মনে হয় গলফ খুব পপুলার না)


গ্রীল পার্টি। সবাই মোটামুটি পোটলা নিয়ে পুরো দিনের জন্য হাজির




আছে ফুটবল, বলিবল খেলার মাঠ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28952600 http://www.somewhereinblog.net/blog/Frulings/28952600 2009-05-19 01:29:43