আমার প্রিয় পোস্ট

আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে...

বইমেলায় বই বাণিজ্য : বড়ো-মাঝারি-ছোট লেখকদের হাস্যকর কাণ্ডকারখানা

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৫৫

শেয়ারঃ
0 0 0

দেশে এখন জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বই লেখকের সংখ্যা। বাংলা ব্লগ চালু হওয়ার পর অনেকে আবার শুধু ব্লগার থাকতে চাইছেন না, তারাও লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে মরিয়া হয়ে উঠছেন। আর ওদিকে বাংলা একাডেমির বইমেলার দিকে তাকালে দেখি, লেখকের ছড়াছড়ি রীতিমতো! মুড়ি-মুড়কির মতো জন্ম নিচ্ছে লেখক। অনেকেই আবার বিরল প্রতিভার অধিকারী - ডান হাতে লিখছেন প্রেমের উপন্যাস, বাম হাতে জীবনঘনিষ্ঠ গল্প, ডান পায়ে রম্যরচনা, বাম পায়ে কবিতা, এমনকি কনুই দিয়ে লিখছেন সায়েন্স ফিকশনও। এই পর্যন্ত হলে ব্যাপারটা খারাপ কিছু নয়। কিন্তু নিজেদের বই বিক্রির জন্য ছোট-বড়ো-মাঝারি-জনপ্রিয় সব লেখকই পুরো ফেব্রুয়ারিজুড়ে এমন সব কাণ্ডকারখানা করেন, কাছ থেকে দেখে-টেখে শ্রেফ ঘেন্না লাগে!

বড়োদের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ এবং তার প্রকাশক অন্যপ্রকাশের মাযহারুল ইসলাম এক্ষেত্রে বেশ কয়েক বছর ধরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গতবার আমরা দেখেছি, বইমেলা আর নুহাশ পল্লীতে হিমুরূপী ভাড়াটে তরুণদের কাণ্ডকারখানা। বাংলালিংক আবার টাকা দিয়ে সেটা স্পন্সর করেছে। প্রচারণার এমনই মরিয়া ধরন, সুযোগ ও সাধ্য থাকলে এরা সম্ভবত আধা নগ্ন মডেল ভাড়া করে বইয়ের প্রচারণা চালাতেন। অন্যদিকে মাঝারিগোছের লেখকরাও বইমেলায় নিজেদের বই বিক্রির জন্য যা কাণ্ডকারখানা করেন, সত্যিই লজ্জাজনক। নিজেদের বইয়ের প্রচারণা বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য তাদের কায়দা-কৌশলের শেষ নেই যেন। বিজ্ঞাপন শুধু প্রকাশকরাই দিচ্ছেন তা নয়, জনপ্রিয় লেখকরা নিজেদের গরজেও বিভিন্ন প্রকাশনীর বই একত্র করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপছেন। সেসব বিজ্ঞাপনে প্রায়ই ভোজবাজির মতো "তিন দিনে তৃতীয় মুদ্রণ" প্রসবিত হচ্ছে। এবং অবধারিতভাবে তাদের প্রতিটি উপন্যাস আর গল্পই "আলোড়ন সৃষ্টিকারী!"

ছোট লেখকদের অবস্থা রীতিমতো ভয়াবহ। অনেককে দেখছি, দিনরাত স্টলের সামনে পড়ে থাকছেন খদ্দের ধরার আশায়। বই পড়িয়েই ছাড়বেন- এমন এক প্রতিজ্ঞা নিয়ে তারা মেলাঙ্গনে মাটি কামড়ে পড়ে থাকছেন। নিজেদের বই বিক্রির জন্য এদের অনেকে পায়ে ধরাটাই শুধু বাকি রাখেন। এদের প্রচার কৌশল আবার ভিন্ন। বইমেলা এলেই তাদের অনেকে হামলে পড়েন ফেসবুক, ব্লগ আর বিভিন্ন ফোরামে। ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ওয়াল, ম্যাসেজ থেকে স্ট্যাটাস - সবখানেই নিজেদের বইয়ের বিজ্ঞাপন, ইনিয়ে-বিনিয়ে, আকারে-ইঙ্গিতে, কখনোবা খোলাখুলিই। রীতিমতো ক্ষ্যাপা কুকুরের অবস্থা। গত বছর থেকে ব্লগে আরেকটি ট্রেণ্ড তৈরি হয়েছে - লোক ভাড়া করে 'আলোচনা' লেখানো। আলোচনা তো নয় ঠিক, ভালোচনা বলাই ভালো। আমাদের সুহৃদ রাসেল (........) এ ধারার পথিকৃৎ। আবার আলোচনার ধার না ধেরে তমুকের বই কিনলাম শীর্ষক মিনি পোস্টও দেখা যাচ্ছে এবার।

বলাবাহূল্য, বইমেলায় প্রকাশিত দুই-তৃতীয়াংশ বই-ই শ্রেফ সময়ের নিদারুণ অপচয়। কাগজের দামের দিকে মানবিক দৃষ্টি রেখে এগুলোকে 'ফর্মা' হয়ে ওঠে, কিন্তু 'বই' কিছুতেই নয়। এমনিতে বই নিয়ে যতো মহতী কথাবার্তা, স্মরণীয় বাণী আছে, সবই কিন্তু বইলেখকদের লেখা। ফলে মাঝে মাঝে সেগুলো পুনর্বিবেচনা করে দেখা ভালো!

সংযুক্তি
বই বিক্রি হচ্ছে নতুন ফর্মূলায়

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ekushey book fairekushey boi melaboi melabook fairhumayun ahmed ;
প্রকাশ করা হয়েছে: বইপত্রসমসাময়িক  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৩:৫২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০৫
ডঃ জেকিল বলেছেন: পোস্টে + বইমেলা পাঠককে বইমুখি কতটুকু করছে সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কয়জন বই কিনতে বই মেলায় যায় জানিনা। তারচেয়ে কোন আইসক্রিম, চিপস, ঝালমুরী ভাল চলছে।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৩

লেখক বলেছেন: এটাও বইমেলার একটা অন্ধকার দিক। নাগরিক জীবনে বিনোদনের বড় অভাব। ফলে বিশাল একটি অংশের কাছে বইমেলা মূলত বিনোদনের উপলক্ষ। বই কেনাটা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, উদ্দেশ্যও নয়।

২. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০৬
হা...হা...হা... বলেছেন: কিছু লেখক লিপলেট ছাপিয়ে তার উপন্যাসের বিষয় বস্তু প্রচার করে.... এবং সেখানে আদি রসাত্মক ব্যাপার সেপারের ইঙ্গিত থাকে। তাদের ব্যপারে কিছু কইলেন না যে?
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৪

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, এটাও আছে। খুবই হাস্যকর এবং আপত্তিকর।

৩. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০৬
কাব্য বলেছেন: আমিও এউকগা কাব্যগ্রন্থ বাইর করমু !
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৭

লেখক বলেছেন: শুধু কাব্যগ্রন্থ বের করা এখন রিস্কি। আপনি বরং ব্যতিক্রমী ভাব আনার জন্য কাব্য-সায়েন্স ফিকশন বের করতে পারেন। ওই ধরনের বই বোধহয় এ যাবত বের হয়নি। আপনি পথিকৃৎ হয়ে উঠতে পারেন।

৪. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০৭
একজন নাগরিক বলেছেন: লোকাল্দা, ভালো লাগে নাই। বিজ্ঞাপনে দোষের কিছু নাই।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৯

লেখক বলেছেন: আপনি দ্বিমত পোষণ করেছেন- এটা স্বাভাবিক। কিন্তু একইসঙ্গে আমি একটু উদ্বিগ্নও হচ্ছি এই ভেবে যে, বিজ্ঞাপনের নামে বিকৃত প্রচারণাকেও আমরা বেশ সহজভাবে নিচ্ছি। আমি এইজন্যই বলেছি লেখায়, বইয়ের বিজ্ঞাপনের জন্য আধা নগ্ন মডেলও ভাড়া করা হবে আগামী দিনে।

৫. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০৮
বোবাবৃক্ষ বলেছেন: আপনার আপত্তিটা আসলে ঠিক কোন জায়গায়... ছোট লেখকে... হুমায়ূন আহমেদ এবং তার প্রকাশক অন্যপ্রকাশের মাযহারুল ইসলাম এর চমৎকার এবং কার্যকর বিপণন কৌশলে... মিডিওকারদের মধ্যে মিডিয়াকাতরতা'য়* ... বইয়ের প্রকাশনা ব্যাবসার একটা শিল্প হয়ে ওঠার সম্ভবনায়....????

আরেকটু স্পেসিফিক করেন... নামধামসহ... আকারইঙ্গিতেহলেও...
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৩৮

লেখক বলেছেন: নিজেদের বই বিক্রির জন্য চরম ভাঁড়ামির আশ্রয় নেন, এমন বড়ো-মাঝারি-ছোট লেখকদের নিয়ে মূলত আমার আপত্তি। বইমেলা আর নুহাশ পল্লীতে হিমুরূপী ভাড়াটে তরুণদের কাণ্ডকারখানা যদি হয় "চমৎকার বিপণন কৌশল", তাহলে আমার মনে হয় বাক্যব্যয় করা বৃথাই হবে।

প্রকাশনা ব্যবসা শিল্প হয়ে উঠায় কিংবা না উঠায় অস্বস্তির কী আছে? তাতে পাঠকেরও ক্ষতিবৃদ্ধি আছে বলে আমার মনে হয় না।

৬. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:১২
সাপিয়েন্স বলেছেন: অপরিচিত লেখকদের আত্মপ্রকাশের তাগিদ নিয়ে পরিহাস একটু নির্দয় হয়ে গেল না? আমি সেরকম কোন দৃশ্য দেখি নি।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪২

লেখক বলেছেন: ভাঁড়ামি করে এ যাবত কোনো লেখকই পরিচিত হতে পারেননি। এমন উদাহরণ নেই। তরুণ লেখকদের মধ্যে প্রতিভাবান হিসেবে আমরা যাদের চিনি, তাদের কেউই বিলবোর্ডে নিজেদের মুখ এঁকে কিংবা ফেসবুকে প্রচ্ছদ টাঙ্গিয়ে বড়ো হননি।

৭. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:১২
বোবাবৃক্ষ বলেছেন: একজন নাগরিক বলেছেন -বিজ্ঞাপনে দোষের কিছু নাই

সহমত


আমার পেশা বিপণন (বেচাবিককিরি)...
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪৫

লেখক বলেছেন: আমি উদ্বিগ্ন হচ্ছি এই ভেবে যে, বিজ্ঞাপনের নামে বিকৃত প্রচারণাকেও আমরা বেশ সহজভাবে নিচ্ছি। সুতরাং প্রচারণার স্বার্থে বইয়ের বিজ্ঞাপনে আধা নগ্ন মডেলের অপেক্ষায় থাকতে পারি আমরা, কী বলেন?

৮. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:১৮
গরম কফি বলেছেন: বোবাবৃক্ষ বলেছেন: একজন নাগরিক বলেছেন -বিজ্ঞাপনে দোষের কিছু নাই

সহমত
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪৫

লেখক বলেছেন: আমি উদ্বিগ্ন হচ্ছি এই ভেবে যে, বিজ্ঞাপনের নামে বিকৃত প্রচারণাকেও আমরা বেশ সহজভাবে নিচ্ছি। সুতরাং প্রচারণার স্বার্থে বইয়ের বিজ্ঞাপনে আধা নগ্ন মডেলের অপেক্ষায় থাকতে পারি আমরা, কী বলেন?

৯. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৪
রাজিব খান০০৭ বলেছেন: নতুনদের কথা বাদ।তাদের বিজ্ঞাপন না দিলে চলবে না। কিন্তু প্রতিষ্টিত লেখকদের কান্ড দেখে হাসি সামলাতে পারি না। শুধু মুদ্রণ শেষ। আরে বেটা প্রতি মুদ্রণ এ কয়টা বই বের কর? ৫০ না ১০০?
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪৮

লেখক বলেছেন: হাহাহা। গায়েবি পাঠকরা এসে দুদিনেই তাদের তৃতীয় মুদ্রণ শেষ করে ফেলে। এবং অবধারিতভাবে তাদের প্রতিটি উপন্যাস আর গল্পই "আলোড়ন সৃষ্টিকারী!" তাদের প্রতিটি কাব্যগ্রন্থই নাকি পাঠকদের শুধু ভাবাবে আর ভাবাবে! চিন্তা করছি, এতো ভাবালুতা পেয়ে বসলে এই জাতির কী হবে, কে জানে!

১০. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৭
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
সত্য কথা হইলো প্রচারটা সবাই ই চায় !

হুমায়ুন আর সাঙ্গপাঙ্গরা যদি এইরকম ভাঁড়ামী করে, তো ছোট লেখকদের বিষয়টা গুনতির
মধ্যে না আনাই ভালো । যে লেখক পরিচিত নয়, পরিচিতির জন্য তার প্রচারণার যুক্তি আছে ।

কিন্তু পরিচিত লেখক এবং ভক্তকূলের ভাঁড়ামী অসহ্য ।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫১

লেখক বলেছেন: বলা হচ্ছে, এবারের বইমেলায় ৫০ কোটি টাকার বই বেচা-কেনা হবে। সম্ভবত এর অর্ধেকই হুমায়ূন আহমেদের পকেটে যাবে। ফলে তারা মরিয়া। হুমায়ূনকে অনুসরণ করে নতুন লেখকরাও নিত্যনতুন সাশ্রয়ী কায়দা বের করছে। এগুলো ঠিক প্রচারণা নয়, বলা যেতে পারে "গরিবি ভাঁড়ামি।"

১১. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৭
অলস ছেলে বলেছেন: =p~ =p~ মজাই লাগলো, তাতে অবশ্য কিছু যায় আসে না। সময়ের সাথে এমন বিভিন্ন কিছু ঘটতেই থাকবে, মানুষ বই আরো বেশি করে পড়ৃক, যা ইচ্ছা তাই পড়ুক তবু পড়ুক এটাই প্রত্যাশা। দেবার হাত খুলুক, ছাই দিয়ে হলেও। ভালো লেখকের লেখা কালোত্তীর্ণ হবে, আপনার খোঁচা আটকাতে পারবেনা, আবার ভেড়ার পালের মতো চলতি প্রবণতার জন্য এমন খোঁচা দরকারও আছে। :) সর্বোপরি, একেবারে আনএথিকাল না হলে বিজ্ঞাপনে খারাপ না এ বিজ্ঞাপনের যুগে। ধরেণ, বিভুতিভূষণ ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দিয়ে আর লোকালটক্কে দিয়ে ভালোচনা লিখিয়ে মনে শান্তি পাচ্ছে, চিন্তা করতেই বিষম হেঁচকি উঠলো। :)
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫৫

লেখক বলেছেন: দারুণ বলেছেন। ভালো লেখকের লেখা কালোত্তীর্ণ হবেই, পাঠক খুঁজে খুঁজে পড়বে। তাকে কেউই আটকাতে পারবে না।

আর হাহাহাহা। এই মন্তব্য চ্যানেল আইয়ের ফরিদুর রেজা সাগরের চোখে পড়লে তার পরবর্তী বইয়ের নাম হবে "বিভূতিভূষণে বিষম হেঁচকি!!!"

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০১

লেখক বলেছেন: দুঃখজনক। ৭৫ লাখ টাকা জোগাড় খুব কঠিন হবে। :(

১৩. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪২
ভাঙ্গন বলেছেন: হুমায়ূন আহমেদ তাঁর বই বিকোনোর জন্য যেসব হ্যাংলামি পদ্ধতির আশ্রয় নিয়ে থাকেন,সেটা তাঁকে আরো বাজারি উপন্যাসিকে পরিনত করেছে। হিমু আমিও পড়ি। কিন্তু হিমুর পিছনে সাহিত্যের চেয়ে বানিজ্য কৌশলই বেশি মোটা দাগে চোখে ধরা পড়ে। এসব ভাল লাগে না।

আর নবীন লেখকদের বই বিকোনোর জন্য যে আত্মপ্রচেষ্টা সেটা আমাকে তাদের জন্য করুণা জোগায়। ভাল লিখলে সেটা একবার নিশ্চয় প্রমাণ হবেই। কিন্তু রাতারাতি লেখক হবার খায়েশে তারা যেটি করেন সেটি লজ্জাজনক।
......
নবীন-প্রবীন সবার জন্য শুভ কামনা।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০৪

লেখক বলেছেন: একেবারে মনের কথাগুলোই বলেছেন। বিশেষ করে বই বিকোনোর জন্য নবীন লেখকদের হাস্যকর সব প্রচেষ্টা আসলেই শ্রেফ করুণার উদ্রেক করে। ভাঁড়ামি করে এ যাবত কোনো লেখকই পরিচিত হতে পারেননি। এমন উদাহরণ নেই। তরুণ লেখকদের মধ্যে প্রতিভাবান হিসেবে আমরা যাদের চিনি, তাদের কেউই বিলবোর্ডে নিজেদের মুখ এঁকে কিংবা ফেসবুকে প্রচ্ছদ টাঙ্গিয়ে বড়ো হননি।

১৪. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪৪
স্বপ্নকথক বলেছেন: সহমত, অনুরোধের ঢেকি গিলে আজ একখান কেনা লাগছে.. :((
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০৫

লেখক বলেছেন: সমবেদনা।

অফটপিক-
হোসাইনের খোঁজ পেলেন শুনে ভালো লাগছে। ছিনতাইকারী টাকা-পয়সা কিছু নিয়েছে?

১৫. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪৫
মৈত্রী বলেছেন: "পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে" নামের বই বেচার জন্য রিক্সায় করে মাইকিং করতেও দেখছি!!!
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০৮

লেখক বলেছেন: অথচ কিনা সাপিয়েন্স (৭ নম্বর মন্তব্য) বলছেন, তিনি নাকি এইসব কোনোদিন দেখেননি। হায়!

শুনেছিলাম, গতবার বইমেলায় কোনো এক লেখক তার বইয়ের প্রচারণার জন্য কিছু মেয়েকে দিয়ে মিছিল করিয়েছিলেন বই নিষিদ্ধ করার দাবিতে। কতো যে কৌশল, শ্লাদের!

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বাঁশি ভাই। :)

১৭. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫৯
ব্রাইটসেন্ট্রাল বলেছেন: ট্যাকার লাইগা বাঙ্গালী ু খাইতেও পারে...ভাড়ামী তো সামান্য...
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:২১

লেখক বলেছেন: ঠিকই বলেছেন। বইমেলায় এখন প্রায় সব লেখক-প্রকাশকই ৫০ কোটি টাকার ভাগ নিতে মরিয়া।

১৮. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০৭
মাহমুদহাসান বলেছেন: মহাকাশ
ফুসফাস
আণবিক
মানবিক
ইন্টারগ্যালাকটিক
ভাঁড়ামোটা খুবই ঠিক
অপটিক্যাল ফাইবার
কিছু নাই খাইবার
পারমাণবিক চুল্লি
সাহিত্যের গুল্লি
প্লুটো আর জুপিটার
হুমাযুন হাহাকার
ফিকশন কবিতা
আজাইরা সবই তা
ইমেজ প্রসেসিং
এলিয়েনের ছয় শিং
সাইন্স আর গদ্য
উন্মাদ বদ্ধ
বইমেলায় বই নাই
মডেলের ভিড় তাই

ভাইজান, একটা নগদ সাইন্স-কাব্য ডেলিভার করলাম। দেখেন একটা বই বাইর করতে পারেন কি না। মডেল আর আলোচক রেডি আছে!
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪২

লেখক বলেছেন: না, কাব্য-সাইফাই আসলেই ভালো হয়েছে। এবং সবমিলিয়ে দেখলাম, এইরকম নগদ ডেলিভারি যার হাত দিয়ে আসে, বই বেরুনোর আগেই মডেল আর আলোচক পর্যন্ত যার রেডি, তিনি নিশ্চয়ই বিরল প্রতিভা। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অভিবাদন গ্রহণ করুন, জনাব। ;)

১৯. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০৮
আবু সালেহ সুমন বলেছেন: সব কিছু্রই একটা সীমা আছে, কিছু ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের দৌরাত্ম সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে- এটা অনস্বীকার্য। আমার কাছে বিজ্ঞাপনের চেয়ে বেশী পীড়া দায়ক ব্যাপার হচ্ছে বইয়ের মান। মেলায় যতো বই আসছে তার কতোটি মান সম্মত বই? আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আর বইমেলা যে ঠিক এখন আর শুধুই বই মেলা নেই এটাও সত্য। এখন বইমেলার ভেতরে ঢুকলে কেমন যেন দম বন্ধ হয়ে আসে।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৫

লেখক বলেছেন: মেলায় যতো বই আসছে, এর দুই-তৃতীয়াংশই আমার ধারণা মানসম্মত নয়। গত কয়েকবারের অভিজ্ঞতা থেকে এটা বলতে পারি। চমৎকার মন্তব্য।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৫

লেখক বলেছেন: দেখে এখন ভালো লাগছে।

২১. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:২৪
গিল্টিমিয়া বলেছেন: কিচু কিচু ভারামি তো রয়েচেই। বিসেস কোরে পোতিস্টিত লেকোক দের ভারামি অসোজ্জ। নোতুনদের জোন্নো ভিতোরে কিচুটা নরোম জায়গা আচে। তবে ভারামি না কোরুক এটাই চাইবো।
মগর স্যাঙাত, কতা হোলো কি আমি ফেচবুক পোপাইলে বইয়ের পোচ্ছোদ দেয়া বা ট্যাঁটাসে বইয়ের নাম লিকায় তেমন কোনো খারাপ কিচু দেকি না। কারোন নিজের ঢোল ওন্নে বাজালে ফেটে যেতে পারে।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫১

লেখক বলেছেন: কতা সেটা নহে। ফেচবুক আর বলগ হোলো ফ্রি জাইগা। বই লেকোকরা নিজের স্বার্থে খুপ দৃষ্টিকটুভাপে সেই জাইগাটার অপোবেবোহার করেন। এটা একদিক তেকে ওনৈতিক। আর অব্বাহোতো ঢোলের বাড়ি প্রোতিবেশীর জন্ন মাঝে মাঝে পীড়াদায়োক হোয়ে পোড়ে কিন্তু!

২২. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৫
ফারহান দাউদ বলেছেন: ছোট আর মাঝারি লেখকদের মনে হয় মাফ করা যায়, হাজার হোক বেচারাদের নামটা তো অন্তত জানানোর দরকার আছে। কিন্তু হুমায়ুনের মত লেখকরাও যখন সামান্য কয়টা কপি বিক্রির জন্য হলুদ পান্ঞ্জাবি নাহয় বিয়ের বরযাত্রী সাজিয়ে বইমেলায় ভাঁড়ামি করে, তখন মনে হয় এই বুইড়া ভামগুলিকে অন্তত বইমেলায় নিষিদ্ধ করা দরকার।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৩

লেখক বলেছেন: 'সামান্য কয়টা কপি' ঠিক নয়, যেমন এবার শোনা যাচ্ছে যে, ৫০ কোটি টাকার বই বিক্রি হতে পারে বইমেলায়। আপনি চোখ বুঁজে ধরে নিতে পারেন যে, এর মধ্যে অর্ধেক ব্যবসা হুমায়ূন আহমেদ একাই করেন। এই ২৫ কোটি টাকার মধ্যে হিমুবিষয়ক বই বিক্রি হবে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার। এই বিক্রিবাট্টার জন্য হুমায়ূন এবং তার প্রকাশকরা যা যা করার, সবই করছেন। অর্ধনগ্ন মেয়ে-টেয়ে নিয়ে যে স্টলের সামনে হাজির করছে না, তার জন্য বরং পরম করুণাময়ের কাছে শুকরিয়া জানান। বইয়ের জগতের শাবনূর কেউই দমিয়ে রাখতে পারবে না।

আমরা বরং যেসব ছোট ও মাঝারি লেখক হুমায়ূন হয়ে উঠতে চান, তাদের লাগামটা কিছুটা টেনে ধরতে পারি।

২৩. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৪৩
বিডি আইডল বলেছেন: বইমেলা এবং বইপ্রকাশ একটা বাণিজ্যিক বিষয়...টিভিতে যদি সাবানের বিজ্ঞাপণে আমরা অর্ধনগ্ন মেয়ের নাচ দেখতে পারি...বইমেলায় দোষের কি??
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৬

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, একদিন ঠিক এই যুক্তিটাই দেখানো হবে, মিলনের উপন্যাসের প্রচারণায় নেমে নবাগত নায়িকা লেসি স্টলের সামনে ডিগবাজি খাবেন আর দর্শককূলকে মুগ্ধ করবেন।

২৪. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৪৪
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: বইমেলা এখন প্রেমিক-প্রেমিকা আর ইভটিজার মিলনমেলা হয়েছে- শুনতে পাই! এখনো গিফট্‌ দেবার জন্য অথবা শোকেসে সাজিয়ে রাখার জন্য ছাড়া শুধুমাত্র পড়ার জন্য কতজন বই কেনে- সে সংখ্যাটা জানলে দুঃখই পেতে হবে মনে হয়!
:(
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৯

লেখক বলেছেন: বিনোদনবঞ্চিত বাঙালির জন্য বইমেলা একটি ভালো উপলক্ষ, চীনাবাদাম চিবিয়ে অবসর কাটানোর চমৎকার একটি সুযোগ। আর অনেকের শোকেসে যেহেতু এক-আধটি বই থাকেই, সে কারণে নতুন করে তারা বই কেনে না!

২৫. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৪৭
জাতি জানতে চায় বলেছেন: বই মেলায় যাই নাই তয় পোস্ট পইড়া লেখকদের মার্কেটিং তামাশা জাইনা মজাই পাইলাম। লেখকদের আর দোষ কি?! আম-পাবলিকের চরিত্র বিশ্লেষণ করিয়া উনারা মার্কেটিং পলিসি ঠিক করছে!
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১১

লেখক বলেছেন: যেখান দিয়ে পয়সা আসবে, প্রকাশকরাও সেদিকে হামলে পড়বে- সেটাই স্বাভাবিক।

২৬. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৫১
একাকী বালক বলেছেন: নিজেদের বই বিক্রির জন্য এদের অনেকে পায়ে ধরাটাই শুধু বাকি রাখেন। >>> খারাপ লাগল পড়ে। এদের সবার মান যে খুব খারাপ তা নয়। আমাদের পাঠকদেরও দোষ আছে। আমরা শুধু নামী কয়েকজনেরই বই পড়ি। নতুনদের বই পড়ে বা কিনে তাদের কোন অনুপ্রেরণা দেই না।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১৬

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, পাঠকদের দোষ তো আছেই। কারণ বেশিরভাগই নামি লেখকদের তিন ফর্মার বইও বেশি দামে চোখ বুঁজে কেনেন। আবার একজন তরুণ লেখক যতোই ভালো লিখুন না কেন, তার বই কিনবেন না।

আমি বলবো, তরুণ লেখকদের বিপথগামী করা কিংবা ভাঁড়ামিতে উৎসাহিত করার জন্য প্রকাশকদেরই দোষ বেশি। তরুণ লেখকদের প্রতি সব প্রকাশকই ধারণাতীত নির্মম। এখনও বেশিরভাগ তরুণ লেখককে নিজের টাকায় বই প্রকাশ করতে বাধ্য করা হয়। অনেককে আবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয় যে, এতো কপি বই তাকে বিক্রি করে দিতে হবে। এতে নবীন লেখকরা উপায়হীন হয়ে পড়েন।

২৭. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৬
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: প্রথমেই বলি রাখি বইমেলায় পড়ার উপযোগী বই পাওয়া যায়না এইটা পুরো ফালতু কথা।দুই-তৃতীয়াংশ মানসম্মত না হলেও বাকী এক তৃতীয়াংশেই পড়ার উপযোগী, অনেক বই পাওয়া যায়।

বইমেলা ক্রমশ মুলউদ্ধ্যেশ্য তথা পাঠক সৃষ্টি করা থেকে সরে যাচ্ছে।ধীরেধীরে শহরগ্রামের আর দশটা-পাঁচটা মেলার মতো হয়ে যাচ্ছে।

নবীন লেখকদের উপর আপনি খুব বেশি চড়াও হচ্ছেন।নবীনরা নিজেদের বইবিক্রির জন্য উদ্যেগ নিলে তাতে দোষের কিছু দেখিনা।ভালো লিখলেই পাঠক মেলে-এইটা এইযুগে সম্ভবত সত্য নয়।উদাহরণ চাইলে দিতে পারি।

মুকুলের কবিতার বই নিয়ে রাসেলের রিভিউ লেখাটা নিয়ে আপনার গাত্রদাহ আপনার
কমপ্লেক্স প্রকাশ করে।

তবে হুমায়ুন, সেই সাথে মোটু বাপ্পী(যে হিমু সেজে মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছিলো) কার্যকলাপ অসহ্য।আগে হিমু -মিসির আলী পড়তাম।হিমুনিয়া নাটক করার পর হিমু পড়া বন্ ধ।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৬

লেখক বলেছেন: লক্ষ করবেন, আমি নিজেও কিন্তু বলেছি, যদিও সেটা অনুমানমাত্র, দুই-তৃতীয়াংশ বই নিম্নমানের এবং বাকিটা পাঠ উপযোগী। ভালো লিখলে অবশ্যই পাঠক মেলে, সংখ্যায় হয়তো সেটা খুব বেশি নয়, তবে মেলে। যেমন আমি আহমাদ মোস্তফা কামাল কিংবা সুমন রহমানের উদাহরণ টানতে পারি। বই বিক্রির জন্য তাদের আমরা কখনোই ভাঁড়ামি করতে দেখিনি। এরপরও তাদের বই কি বিক্রি হয় না? তাদের লেখা কি পাঠক পড়ছে না? এখন শাহবাগের গলি থেকে টানাহেঁচড়া করে উদাহরণ সাজালে তো হবে না।

মুকুলের কবিতার বই (আদৌ কি বেরিয়েছিল) নিয়ে কিছু সম্ভবত আমার চোখে পড়েনি। তবে রাসেলকে গতবছর বেশ খাটাখাটুনি করতে দেখে তাকে পথিকৃতের সম্মান দিয়েছি- এতে সমস্যার কী আছে? গাত্রদাহ সৃষ্টি হওয়ারই বা কী আছে, হে?

পাঠ এক জিনিস, নাটক-ফাটক আরেক জিনিস। হিমু নিয়ে নাটকের পর হিমুর বই পড়া বন্ধ হবে কেন? পাঠক হিসেবে এটা আপনার অযোগ্যতা বলতে হবে।

২৮. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২১
নষ্ট ছেলে বলেছেন: দুই মিনিটের রাস্তা এখনও যাওয়া হয় নাই :(
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১০

লেখক বলেছেন: দিনে দিনে হয়তো অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে আপনার মনে।

২৯. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৩৮
মানবী বলেছেন: "বড়োদের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ এবং তার প্রকাশক অন্যপ্রকাশের মাযহারুল ইসলাম এক্ষেত্রে বেশ কয়েক বছর ধরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।"
- এটা সত্যিই দুঃখজনক! লেখক হুমায়ুন আহমেদের এসবের কোন প্রয়োজন নেই, তাঁর বই বরাবরই মেলায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক বিক্রীত।

বড়, মাঝারী বা ছোট.. যে কারো নির্লজ্জ আত্মপ্রচারনা দৃষ্টিকটূ ও অসন্মানজনক।


"গত বছর থেকে ব্লগে আরেকটি ট্রেণ্ড তৈরি হয়েছে - লোক ভাড়া করে 'আলোচনা' লেখানো। ....."

- এ বিষয়ে কিছু বলার আছে।
ভাড়াটে দিয়ে আলোচনা লেখানো বিষয়ে কিছু জানিনা, তবে কোন ব্লগারের বই প্রকাশিত হলে তা ব্লগে না জানালে আমরা জানবোনা.. বিশেষ করে প্রবাসী ব্লগাররা। যেমন, অপরবাস্তব প্রকাশিত হলে তা অবশ্যই ব্লগে জানানো জরুরী, তেমনি অন্যান্য ব্লগারের বই প্রকাশিত হলে তাও জানানো প্রয়োজন মনে করি।
তবে, অব্যশই বাড়াবাড়ি, অতি প্রচার বা নির্লজ্জ আচরন শুধু দৃষ্টিকটূ নয় বরং লেখক ও বই দুটোর প্রতি অশ্রদ্ধার জন্ম দেয়।

ধন্যবাদ।

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১৬

লেখক বলেছেন: ব্লগে ব্লগারদের বই নিয়ে মাতামাতি থাকবে- সেটাই স্বাভাবিক। এতে আমার কোনো অস্বস্তিও নেই। আপনি যেমনটি বলেছেন, কোন ব্লগারের বই প্রকাশিত হলে তা ব্লগে না জানালে অবগত হওয়ার সুযোগ থাকে না, বিশেষ করে প্রবাসী ব্লগারদের। আমিও সেটাই মনে করি। আর আসলে গত বছর কারো কারো তৎপরতা দেখে "ভাড়াটে আলোচনা"র একটি ধারা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা জেগেছিল মনে। এবার শুধু সেই প্রসঙ্গটি একটুখানি তুলেছি।

সার্বিকভাবে আমি মূলত বইমেলায় লেখকদের নির্লজ্জ আচরণ নিয়েই কথা তুলেছিলাম এই লেখায়।
ধন্যবাদ মানবী। আশা করি ভালো আছেন।

৩০. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৪৬
রাসেল ( ........) বলেছেন: আইজকা কার হাতে আছে নিকটা কইলে ভালো হইতো।

গত বইমেলায় এই নিকের একজন ব্যবহারকারীর বই কিনি নাই, সেইটা দুষের কিছু হইছে বলে মনে হয় নাই আমার কাছে। আমার পকেটের পয়সায় আমি বই কিনবো না বাইজী নাচাবো এইটা আমার নিজের স্বাধীনতা মনে করি আমি। তয় এইরম একটা জিনিষ পয়দা হইবো জানা থাকলে সেই বইটা কিন্যা পড়তাম ভাইটি। সাথে একটা রিভিউ লিখে দিতাম।

আগামী কাল যার জিম্মায় থাকবো তারও বই কি মেলায় আইতাছে? সেইটার রিভিউ কি লিখতো হইবো? অনুরোধ থাকলে কইয়া ফেলান, নাচতে নাইমা ঘুমটা দিয়া মুখ ঢাকনের কিছু নাই, নিচের দিক উদাম হইয়া আছে।

বই কি ১০ কপি বিক্রী হইছে? :D
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:১২

লেখক বলেছেন: 'ভাড়াটে ভালোচনা'কে আমি নেতিবাচকভাবে দেখিনি। আমি বরং আশান্বিত হয়েছি এই ভেবে যে, অন্তত একমাস মেয়াদে হলেও পার্টটাইম কাজের একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। লক্ষ্য করবেন, আপনার গতবারের এই সংক্রান্ত পারফরম্যান্স আমাকে এমনই মুগ্ধ করেছে যে, আপনাকে পথিকৃতের সম্মান দিতে দ্বিধাবোধ করিনি।

কিন্তু পুরো ব্যাপারটাকে আপনি সম্ভবত নেতিবাচকভাবে নিয়েছেন। সে কারণে হয়তো আপনার ধারণা হয়েছে, আমার বইয়ের রিভিউ না করাতে একচোট নিয়েছি। আমার বই ১০ কপি বিক্রি হয়েছে কি হয়নি- সেটা নিয়ে আপনার পরিহাসের চেষ্টাও বেশ হতাশাজনক। কোন্ বই ১০ কপি বিক্রি হয়েছে- সেটা স্পষ্ট করেননি। অপরবাস্তব-৩ এর কথা যদি বলেন, সেটা আশাতীত বিক্রি হয়েছে এমনকি মেলার পরও। অন্য কোনো বই নিয়ে ইঙ্গিত করছেন কিনা জানি না।

আর হ্যাঁ, ভালো কথা, বইমেলার ১০ দিন পেরিয়ে গেল, কাজ কি তাহলে করছেন না এবার? দেখছি না যে কোনো রিভিউ? অবশ্য স্টল ব্যবস্থাপনায় আপনার মুন্সিয়ানা এবার চোখে পড়ার মতো।

৩১. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৪৭
একজন নাগরিক বলেছেন: দেখেন, এইসব বিজ্ঞাপন প্রচার ইত্যাদির তো চরম বাড়ন্ত না হলে আসলে সমৃদ্ধ 'বাজার' তৈরি হয় না। 'উন্নত' দুনিয়ার মতো বাংলাদেশের সমাজকেও 'বাজার' এ পরিনত করতে হবে। প্রগতি আনতে হবে। তো সেক্ষেত্রে যে কোনো ভাবে পন্যের (যেমন বই) চাহিদা তৈরি করতে হবে, 'যে কোনো ভাবে'।

আপনার যে কারনে আপত্তি। তা বোধ হয় এরকম- চাহিদা তৈরির কাজটা 'যেনতেনভাবে' করার চেষ্টা করা হচ্ছে। 'যে কোন ভাবে' করা হলে সমস্যা ছিল না।

এটা ঠিক হয়ে যাবে সময়ে। আধুনিকতা, সেকুলারিজম, গনতন্ত্র, প্রগতি; মানে 'বাজার' ও বাজারের সহযোগি উপাদান ইত্যাদি সবই নতুন এই সমাজে। সুতরাং এরা ঠিক সামাল থাকতে পারছে না।

বলে না ওই যে! নতুন োনে *াল গজাইলে বাত্তি ধরাইয়া চায়!

সময়ে ঠিক হয়ে যাবে।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২১

লেখক বলেছেন: না, 'যেনতেনভাবে', এমনকি 'যে কোনভাবে'র পক্ষেও নই আমি। ঠিক ওভাবে সরলীকরণ করবেন না।

তবে সবমিলিয়ে আপনার ভবিষ্যদ্বাণী ঠিক হলেই মঙ্গল। হয়তো আসলেই এরা ঠিক সামাল দিয়ে উঠতে পারছে না। :)

৩২. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:০৫
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: এবার মনে হয় আরো নতুন কোনো বিজ্ঞাপনের সম্ভাবনা আছে। মিছিল টিছিল বই পোড়ানো জাতীয়।

জানলাম- আমার অফিসের একজন এবার একটা বই বের করবে। উপন্যাস। বিষয় বাংলাদেশে লেসবিয়ানিজম। লেখকের আশা, আশানুরুপ 'বিজ্ঞাপন' করতে পারলে এবারা ইওরোপে তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের একটা সুরাহা হয়ে যাবেই।

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৫

লেখক বলেছেন: খোদ লেখকের উদ্যোগেই নিজের বইয়ের বিরুদ্ধে মিছিল-টিছিল কিংবা বই পোড়ানো আমাদের দেশে একেবারে নতুন কিছু নয়। এইরকম একটি কাণ্ড গত বইমেলায়ও হয়েছে।
আর লেসবিয়ানিজমের লেখকের চিন্তা খুবই উর্বর- সেটা স্বীকার করতেই হয়। ভাড়াটে মোল্লা দিয়ে মাত্র একটি মিছিল করাতে পারলেও তার ইউরোপ যাত্রা ঠেকানোর সাধ্য কারো নেই!

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৬

লেখক বলেছেন: হতাশাজনক বটে, তবে আশার আলো একেবারে নিভে যায়নি।

৩৪. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৩৪
আমড়া কাঠের ঢেকি বলেছেন: ভালু লিখেছেন, পেলাচ
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৬

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

৩৫. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৫২
সামিউর বলেছেন: ভাইয়া আপ্নতো ফাটায়া ফেলসেন। এইভাবে তুলাধুনা করলে তো তাদের ব্যবসা শেষ। যাউকগা আপনেরে প্লাস।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৭

লেখক বলেছেন: না, লেখকদের ব্যবসাবুদ্ধি বরাবরই ভালো। একটা না একটা কায়দা তারা ঠিকই বের করে নেবেন।

৩৬. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২১
হেমায়েতপুরী বলেছেন: এডভার্টাইজমেন্টের দর্কার আছে। কিন্তু সব্মিলাইয়া + রেটিং।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৮

লেখক বলেছেন: লেখকদের আমরা স্মার্ট রূপে দেখতে চাই। কিন্তু দেখবেন, বেশিরভাগ লেখকই প্রকৃতপক্ষে নিজেদের বইয়ের থালা হাতে মেলায় বসে থাকেন।

৩৭. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৩৩
এরশাদ বাদশা বলেছেন: আমার দেখা সেরা ভন্ড ও ভাঁড় হলো হুমায়ুন আহমেদ। সুতরাং সে এমনটা করবে সেটা প্রত্যাশিত। কিন্তু ছোটো লেখকদের জন্য আমার সমালোচনা করতে মন চাইছেনা। নতুন লিখিয়েদের পরিচিত হবার জন্য পাবলিসিটিই তো একমাত্র সম্বল। মুড়ি-মুড়কির মতো লেখকদের ভীড়ে নিজের লেখাটা তুলে ধরার জন্য আর কিইবা করতে পারেন ওনারা। পোস্ট মজা লেগেছে।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫৬

লেখক বলেছেন: বই বাণিজ্যের প্রায় অর্ধেকটাই যেহেতু হুমায়ূন আহমেদকে ঘিরে আবর্তিত হয়, ফলে হুমায়ূন নিজে না চাইলেও তার প্রকাশকরা নিত্যনতুন বিদঘুটে আইডিয়া নিয়ে হাজির হবেন প্রতিবছর- এটা স্বাভাবিক। বাংলালিংক পর্যন্ত হিমু এসএমএস কনটেস্ট নিয়ে গ্রাহকের পকেট কাটতে শুরু করেছে গত বছর থেকে। সেখানে কীইবা বলার থাকে আর! এই পোস্টে যে ছবিটি আছে, সেটা বাংলালিংক হিমু এসএমএস প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী‍ অনুষ্ঠান!

৩৮. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৩৫
অরণ্যচারী বলেছেন: আজকে দেখলাম কোন এক কবির মনোদৈহিক কবিতার বইয়ের লিফলেট।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫৭

লেখক বলেছেন: হাহাহাহা। লিফলেট, তাও মনোদৈহিক কবিতার! এইরকম জিনিস পেলে স্ক্যান করে ব্লগে দেবেন।

৩৯. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০৮
সায়েম মুন বলেছেন: পোষ্টে পিলাচ

কিন্তু একখান কথা নতুনদের এট্টু ছাড় না দিলে চলভে:)
৪০. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৯
সুবিদ্ বলেছেন: আমারো বড় শখ একটা বই বের করার.......জানিনা কবে পারবো.......;)
৪১. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৪৮
অচন্দ্রচেতন বলেছেন: এইভাবে পঁচানো ঠিক না ... তারা তো বইই বিক্রির চেষ্টা করছেন, ঘুষ খাওয়ার মতো অপরাধ তো করেন নাই। যদিও পুশ-সেল সবসময়ই বিরক্তিকর। ডিসক্লেইমারঃ আমার কোন বই প্রকাশ হয় নাই, হবার আশংকাও নাই।
৪২. ০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ২:১৫
আমি তাসনিম বলেছেন: অচন্দ্রচেতন বলেছেন: এইভাবে পঁচানো ঠিক না ... তারা তো বইই বিক্রির চেষ্টা করছেন, ঘুষ খাওয়ার মতো অপরাধ তো করেন নাই। যদিও পুশ-সেল সবসময়ই বিরক্তিকর। ডিসক্লেইমারঃ আমার কোন বই প্রকাশ হয় নাই, হবার আশংকাও নাই।
৪৩. ০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ২:৩৬
ভাইটামিন বদি বলেছেন: আমিও বুই পরকাষ করমু...(তয় লেকমু কিনা জানিনা!!!!)

 

মোট সময় লেগেছে ১.৬৬৭৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
উঠবোই, পাহাড়টা ওই...

localtalk[অ্যাট]gmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ