কিন্তু খোদ পুলিশেরই “বস্ত্র-হরন” হয়েছে এমোন ঘটনা শুনেছেন ?
পুলিশের প্রতি রাগে “গজগজ” সবাই অথচ ওদের বিরুদ্ধে সাধারন মানুষের করার কিছুই নেই । কারন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী কাজকর্মের প্রতিবাদে আপনি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেননা, পারেনও নি । কেবল মনে মনে ওদের মুন্ডপাত করা ছাড়া আর কিছু করে উঠতে পারেননি ।আর পুলিশের “বস্ত্র-হরন” , সে তো অকল্পনীয় ।
সেই অকল্পনীয় ঘটনার একটি কাহিনীই শোনাই আপনাদের ।সঙ্গত কারনেই স্থান-পাত্রের নাম উহ্য রাখলুম । কারন ঘটনাটি আমারই, একবিন্দু সাজানো নয়, ভেজাল মাল-মসল্লাও নেই ।
ক’বছর আগের ঘটনা । আমার বাসার কাজের মেয়েটি পালিয়েছে । থানায় জানানো বুদ্ধিমানের কাজ । তাই কাছের থানায় গেলুম । যথেষ্ট ভীড় । এখানে ওখানে ফিসফাস, গুজুর গুজুর । সব পুলিশ সদস্য আর মানুষ খুব ব্যস্ত । কি করি , কোথায় যাই ? খুঁজে খুঁজে ডিউটি অফিসারের টেবিল বের করা গেল । একজন উর্দ্দি পরিহিত বসে বসে কথা বলছেন সামনে বসা ও দাঁড়ানো লোকগুলোর সাথে ।
জিজ্ঞেস করলুম, আপনি ডিউটি অফিসার ?
- না ।
- ডিউটি অফিসার সাহেব কোথায় ?
- আসে নাই । আসবে, বাইরে গেছে ।কি কাজ ?
- একটা জিডি করাবো । কখোন আসবেন ?
- জানিনা ।পরে আসেন ।উনি ছাড়া কেউ পারবেনা ।
কি করি ? ডিউটি অফিসারের টেবিলে একজন অফিসার বসা অথচ উনি নাকি ডিউটি অফিসার নন ।তক্কে তক্কে রইলাম ।সিগ্রেট খাচ্ছি আর ইতিউতি দেখছি । ডিউটি অফিসার এর মতো কাউকে লাগে কিনা । খুব ভালোভাবেই মনে আছে “পুলিশে ছুঁলে আঠারো ঘা” । তাই খুব সাবধানে রইলুম । দু’একজন এসে জানতে চাইলেন আমার কাজ কি । একজন এসে বললেন, কতো নম্বর কেস ? বুঝলুম, দালাল । আমার দালালের দরকার নেই । সামান্য কাজ ।
দশ মিনিট, পনের মিনিট পার হয়ে গেল । অস্থির হয়ে উঠছি ।সবাই ব্যস্ত, ডিউটি অফিসার সাহেবের দেখা নেই । একবার মনে হয় - ধেত্তেরি… বাসায় ফিরে যাই ।আবার ভাবি, এসে পড়েছিই যখোন তখোন কাজটি শেষ করেই যাই । আবার সিগ্রেট ধরালুম ।
আধঘন্টা পেড়িয়ে গেছে । ফিরেই যাবো কিনা ভাবছি । তখোনি দেখি মেইন গেট দিয়ে মাঝবয়েসী এক অফিসার ঢুকলেন ।যাক, বাঁচা গেল ।ডিউটি অফিসার যেহেতু বাইরে গেছেন , উনিই বোধহয় ফিরে এলেন । কাছে গেলুম, “এক্সকিউজ মি, আপনি ডিউটি অফিসার ?
ভদ্রলোক তাকালেন । সম্ভবত কিছুটা ইংরেজী শুনে ।
- কি দরকার ?
এবার আর ভুল করবোনা । নিজের পরিচয়টি আগে দিয়ে নিই । তারপরে যা হয় ।
বললুম- আমি ডাক্তার আহমেদ । আমি একটি জিডি করাতে এসেছি…..
আমার কথা শেষ করতে দিলেন না অফিসারটি । হাতে যেন কি একটা পেয়েছেন এমোন ভঙ্গী করে বললেন- আরে আপনি ডাক্তার ? ভাই আপনাকে যে আমার খুব দরকার ।
অবাক হবার কিছু নেই । ডাক্তারের দরকার রোগীদের । উনি একজন রোগী, শ্রেনীতে পুলিশ ।ফ্যাসাদে পড়া গেল । এসেছি জিডি করতে পরলুম রোগীর পাল্লায় । যাক, পরে যদি একে দিয়ে কাজ হয় ।
বললুম – কি ব্যাপার ?
_ আরে আসেন আসেন ডাক্তার সাহেব , সবার সামনে বলা যাবেনা ।
বলেই উনি আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলেন পাশের আর একটি কামরায় । দু’তিন জন পুলিশ সদস্য বসে আছেন । তাদের কে চেয়ার ছেড়ে দিতে বলে, একটি নিজেই টেনে এনে বসতে দিলেন আমাকে ।
বললুম – কি সমস্যা আপনার ?
অফিসার – কইতে তো একটু লজ্জা লাগতাছে । আসলে হইছে কি, আমার পিছনে আইজ কয়দিন ধইররা একটা ফোড়া হইছে । যন্ত্রনায় বইতে পারিনা, ঘুমাইতেও পারিনা । হোমিপ্যাথি ওষুদ খাইছি । ফোলাডা একটু কমছে কিন্তু ব্যাতাডা যায়না ।এন্টিবায়োটিক লাগবে কিনা । অনেকে কইছে এন্টিবায়োটিক খাইতে । কোনডা খামু ?
আমি – এভাবে তো বলা যাবেনা । আসলে এন্টিবায়োটিক লাগবে কিনা , না দেখে বলা যাবেনা । হাতের আন্দাজে এন্টিবায়োটিক দেয়াও ঠিক না, খাওয়াও ঠিক না ।
অফিসার – দেখা লাগবেই ?
আমি – না দেখে আমি কি করে বলবো আপনার আসলেই ঔষধ লাগবে কিনা । আর পূঁজ জমে গেলে একটু কাঁটাছিঁড়া করা লাগতে পারে । না দেখে কি করে বলবো !
অফিসার – (একটু ইতস্তত করে )আচ্ছা দেখেন ।
আমি – আপনি আমার সামনে দাঁড়ান আর প্যান্টটা খুলে ফেলেন ।
ভদ্রলোক একটু এদিক ওদিক তাকালেন বাকীদের দিকে । আমি সাহস যোগালুম –
_ আরে ভাই, আপনি পুরুষ মানুষ । এতো লজ্জা কিসের ? এখানে সবাই পুরুষ । খোলেন ।প্যান্ট নীচে নামান ।
অফিসার ভদ্রলোকটি প্যান্ট খুললেন । আমি যা দেখার দেখে বললুম, এবার প্যান্ট তোলেন, বেল্ট লাগান ।
উনি একখানা কাগজ দিলেন । দারুন একখানা চান্স যায় …. আমি প্রেসক্রিপশান লিখতে লিখতে বললুম – (নিজের খাস ভাষায় )
- অফিসার সাহেব, এ্যাত্তোদিন তো ক্যাবোল পাবলিকেরই পাছা উদলা কইররা দেখছেন । এইবার মনে রাইকখেন এক পাবলিক থানায় ঢুইক্কা পুলিশের পাছা উদলা কইররা দেইখ্যা গ্যালো । কিচ্ছু করতে পারলেন্না । ভুইল্লেন না । মনে থাকপে ? ওনারা স্বাক্ষী ……
হা হা করে হেসে দিলেন অফিসার ভদ্রলোকটি । আমিও । বাকী পুলিশ সদস্যরা মুখ টিপে । শত হলেও তাদের সামনে উর্দ্ধতন অফিসার ।
এর পর ? অফিসার ভদ্রলোকটি আমার কাজটি কি জানতে চাইলেন । শুনে নিজেই আমাকে নিয়ে উঠলেন ।
ডিউটি অফিসারের টেবিল (ডেস্ক) এর সামনে । ধমক আর অর্ডার মেশানো গলায় বললেন,
“ ….. ডাক্তার সাহেবের জিডিটা এখ্খুনি এন্ট্রি করে সীল-ছাপ্পড় মেরে দাও ।দেরী না হয় ।”
“জ্বী, স্যার” বলে ডিউটি অফিসার আমার দিকে হাত বাড়ালেন । আমি দেখলুম, থানায় ঢুকে ডিউটি অফিসারের টেবিলে যাকে প্রথম বসা দেখেছি তিনিই…………………….

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

