somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুলিশের বস্ত্রহরন - :):PB-)

২১ শে জুলাই, ২০১১ দুপুর ১২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“পুলিশ মানুষের বন্ধু” ব্যতিক্রম বাদে এটি একটি ডাহা মিথ্যেকথা । কারন এ পর্য্যন্ত পুলিশি নির্যাতন এর , পুলিশের প্রতি মানুষের ঘৃনা্র খবরের শেষ নেই ।পুলিশ মানুষের “বস্ত্র-হরন” করেছে এমোন ঘটনাও আছে ।
কিন্তু খোদ পুলিশেরই “বস্ত্র-হরন” হয়েছে এমোন ঘটনা শুনেছেন ?
পুলিশের প্রতি রাগে “গজগজ” সবাই অথচ ওদের বিরুদ্ধে সাধারন মানুষের করার কিছুই নেই । কারন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী কাজকর্মের প্রতিবাদে আপনি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেননা, পারেনও নি । কেবল মনে মনে ওদের মুন্ডপাত করা ছাড়া আর কিছু করে উঠতে পারেননি ।আর পুলিশের “বস্ত্র-হরন” , সে তো অকল্পনীয় ।
সেই অকল্পনীয় ঘটনার একটি কাহিনীই শোনাই আপনাদের ।সঙ্গত কারনেই স্থান-পাত্রের নাম উহ্য রাখলুম । কারন ঘটনাটি আমারই, একবিন্দু সাজানো নয়, ভেজাল মাল-মসল্লাও নেই ।

ক’বছর আগের ঘটনা । আমার বাসার কাজের মেয়েটি পালিয়েছে । থানায় জানানো বুদ্ধিমানের কাজ । তাই কাছের থানায় গেলুম । যথেষ্ট ভীড় । এখানে ওখানে ফিসফাস, গুজুর গুজুর । সব পুলিশ সদস্য আর মানুষ খুব ব্যস্ত । কি করি , কোথায় যাই ? খুঁজে খুঁজে ডিউটি অফিসারের টেবিল বের করা গেল । একজন উর্দ্দি পরিহিত বসে বসে কথা বলছেন সামনে বসা ও দাঁড়ানো লোকগুলোর সাথে ।
জিজ্ঞেস করলুম, আপনি ডিউটি অফিসার ?
- না ।
- ডিউটি অফিসার সাহেব কোথায় ?
- আসে নাই । আসবে, বাইরে গেছে ।কি কাজ ?
- একটা জিডি করাবো । কখোন আসবেন ?
- জানিনা ।পরে আসেন ।উনি ছাড়া কেউ পারবেনা ।
কি করি ? ডিউটি অফিসারের টেবিলে একজন অফিসার বসা অথচ উনি নাকি ডিউটি অফিসার নন ।তক্কে তক্কে রইলাম ।সিগ্রেট খাচ্ছি আর ইতিউতি দেখছি । ডিউটি অফিসার এর মতো কাউকে লাগে কিনা । খুব ভালোভাবেই মনে আছে “পুলিশে ছুঁলে আঠারো ঘা” । তাই খুব সাবধানে রইলুম । দু’একজন এসে জানতে চাইলেন আমার কাজ কি । একজন এসে বললেন, কতো নম্বর কেস ? বুঝলুম, দালাল । আমার দালালের দরকার নেই । সামান্য কাজ ।
দশ মিনিট, পনের মিনিট পার হয়ে গেল । অস্থির হয়ে উঠছি ।সবাই ব্যস্ত, ডিউটি অফিসার সাহেবের দেখা নেই । একবার মনে হয় - ধেত্তেরি… বাসায় ফিরে যাই ।আবার ভাবি, এসে পড়েছিই যখোন তখোন কাজটি শেষ করেই যাই । আবার সিগ্রেট ধরালুম ।
আধঘন্টা পেড়িয়ে গেছে । ফিরেই যাবো কিনা ভাবছি । তখোনি দেখি মেইন গেট দিয়ে মাঝবয়েসী এক অফিসার ঢুকলেন ।যাক, বাঁচা গেল ।ডিউটি অফিসার যেহেতু বাইরে গেছেন , উনিই বোধহয় ফিরে এলেন । কাছে গেলুম, “এক্সকিউজ মি, আপনি ডিউটি অফিসার ?
ভদ্রলোক তাকালেন । সম্ভবত কিছুটা ইংরেজী শুনে ।
- কি দরকার ?
এবার আর ভুল করবোনা । নিজের পরিচয়টি আগে দিয়ে নিই । তারপরে যা হয় ।
বললুম- আমি ডাক্তার আহমেদ । আমি একটি জিডি করাতে এসেছি…..
আমার কথা শেষ করতে দিলেন না অফিসারটি । হাতে যেন কি একটা পেয়েছেন এমোন ভঙ্গী করে বললেন- আরে আপনি ডাক্তার ? ভাই আপনাকে যে আমার খুব দরকার ।
অবাক হবার কিছু নেই । ডাক্তারের দরকার রোগীদের । উনি একজন রোগী, শ্রেনীতে পুলিশ ।ফ্যাসাদে পড়া গেল । এসেছি জিডি করতে পরলুম রোগীর পাল্লায় । যাক, পরে যদি একে দিয়ে কাজ হয় ।
বললুম – কি ব্যাপার ?
_ আরে আসেন আসেন ডাক্তার সাহেব , সবার সামনে বলা যাবেনা ।
বলেই উনি আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলেন পাশের আর একটি কামরায় । দু’তিন জন পুলিশ সদস্য বসে আছেন । তাদের কে চেয়ার ছেড়ে দিতে বলে, একটি নিজেই টেনে এনে বসতে দিলেন আমাকে ।
বললুম – কি সমস্যা আপনার ?
অফিসার – কইতে তো একটু লজ্জা লাগতাছে । আসলে হইছে কি, আমার পিছনে আইজ কয়দিন ধইররা একটা ফোড়া হইছে । যন্ত্রনায় বইতে পারিনা, ঘুমাইতেও পারিনা । হোমিপ্যাথি ওষুদ খাইছি । ফোলাডা একটু কমছে কিন্তু ব্যাতাডা যায়না ।এন্টিবায়োটিক লাগবে কিনা । অনেকে কইছে এন্টিবায়োটিক খাইতে । কোনডা খামু ?
আমি – এভাবে তো বলা যাবেনা । আসলে এন্টিবায়োটিক লাগবে কিনা , না দেখে বলা যাবেনা । হাতের আন্দাজে এন্টিবায়োটিক দেয়াও ঠিক না, খাওয়াও ঠিক না ।
অফিসার – দেখা লাগবেই ?
আমি – না দেখে আমি কি করে বলবো আপনার আসলেই ঔষধ লাগবে কিনা । আর পূঁজ জমে গেলে একটু কাঁটাছিঁড়া করা লাগতে পারে । না দেখে কি করে বলবো !
অফিসার – (একটু ইতস্তত করে )আচ্ছা দেখেন ।
আমি – আপনি আমার সামনে দাঁড়ান আর প্যান্টটা খুলে ফেলেন ।
ভদ্রলোক একটু এদিক ওদিক তাকালেন বাকীদের দিকে । আমি সাহস যোগালুম –
_ আরে ভাই, আপনি পুরুষ মানুষ । এতো লজ্জা কিসের ? এখানে সবাই পুরুষ । খোলেন ।প্যান্ট নীচে নামান ।
অফিসার ভদ্রলোকটি প্যান্ট খুললেন । আমি যা দেখার দেখে বললুম, এবার প্যান্ট তোলেন, বেল্ট লাগান ।
উনি একখানা কাগজ দিলেন । দারুন একখানা চান্স যায় …. আমি প্রেসক্রিপশান লিখতে লিখতে বললুম – (নিজের খাস ভাষায় )
- অফিসার সাহেব, এ্যাত্তোদিন তো ক্যাবোল পাবলিকেরই পাছা উদলা কইররা দেখছেন । এইবার মনে রাইকখেন এক পাবলিক থানায় ঢুইক্কা পুলিশের পাছা উদলা কইররা দেইখ্যা গ্যালো । কিচ্ছু করতে পারলেন্না । ভুইল্লেন না । মনে থাকপে ? ওনারা স্বাক্ষী ……

হা হা করে হেসে দিলেন অফিসার ভদ্রলোকটি । আমিও । বাকী পুলিশ সদস্যরা মুখ টিপে । শত হলেও তাদের সামনে উর্দ্ধতন অফিসার ।

এর পর ? অফিসার ভদ্রলোকটি আমার কাজটি কি জানতে চাইলেন । শুনে নিজেই আমাকে নিয়ে উঠলেন ।
ডিউটি অফিসারের টেবিল (ডেস্ক) এর সামনে । ধমক আর অর্ডার মেশানো গলায় বললেন,
“ ….. ডাক্তার সাহেবের জিডিটা এখ্খুনি এন্ট্রি করে সীল-ছাপ্পড় মেরে দাও ।দেরী না হয় ।”
“জ্বী, স্যার” বলে ডিউটি অফিসার আমার দিকে হাত বাড়ালেন । আমি দেখলুম, থানায় ঢুকে ডিউটি অফিসারের টেবিলে যাকে প্রথম বসা দেখেছি তিনিই…………………….


সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০১১ দুপুর ১২:০৬
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×