somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেকার ভাবনা .................

১১ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৯:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছবি -- চলছে মুড়ি ভাজা ।

আমি অর্থনীতির বিশ্লেষক নই । আপনিও নন সম্ভবত । তবুও দেশ ও দশের অর্থনৈতিক হালচাল নিয়ে কিছুটা মাথা ঘামাই আমরা সময়ে – অসময়ে । পথ চলতে চলতে , প্রতিদিনের অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ কিনতে গিয়ে , ক্ষনকালের অর্থনীতিবিদ হয়ে পড়ি । এই জিনিষটির দাম কেন বেশী, ওইটা কেন এতো সস্তা ! এই এই কম্পানীগুলো সাধারন মানুষের গলা কাটছে , এমনটা ও ভাবি । সুপারমলে প্যাকেটজাত জিনিষ দেখে বলে উঠি – “ বাহ্ বেশতো , ঝালমুড়ি ও পাওয়া যাচ্ছে প্যাকেটে !”
খুশি হই, সব তুচ্ছ তুচ্ছ অথচ অতি প্রয়োজনীয় জিনিষগুলি হাতের কাছেই আলাদা আদলে পেয়ে । রঙে ঢংয়ে আমরা ক্রেতা সাধারন “এগিয়ে যাচ্ছে দেশ ” এমনটা ভেবে উৎফুল্ল হই । কিন্তু আলোর প্রদীপের নীচেই যে অন্ধকার ক্রমাগত জমাট বাঁধে তা কি মনে থাকে আমাদের ?

এই যে অতি তুচ্ছ জিনিস যেমন হলুদ - মরিচ - ধনে সহ যাবতীয় মসলার গুড়ো, তেজপাতা, মুড়ি, ঝালমুড়ি, চিড়া-মুড়ির মোয়া, চিড়া ভাজা, বাদাম ভাজা, চানাচুর , ঘোল-দধি, সরষের তেল, ইত্যাদি হরেক রকমের নিত্য প্রয়োজনীয় ও ভোগ্যপণ্যের জন্যে আজকাল আর আপনাকে পথের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছেনা । অথচ একসময় এগুলো বানিয়ে বিক্রী করে জীবিকা নির্বাহ করতো লাখো পরিবার । এরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী । বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর কাছে প্রতিযোগিতায় হেরে গিয়েছে তারা । ভাতে – কাপড়ে সমূলে মরে যাচ্ছে এরা । দেশের কর্মবাজারে এদের কর্ম সংস্থান এখন নিঃশেষ হয়ে গেছে । এদের আর চাহিদা নেই । এদের প্রয়োজন ফুরিয়েছে আপনার জীবনে ।
কোথায় গেছে ঐ লাখো পরিবারের রুজি-রোজগারের রাস্তাটি ? ওরা তাহলে কোথায় গেছে ?

আমার জানা নেই , জানা নেই আপনারও । কোনও পরিসংখ্যানও নেই সম্ভবত ।

দেশে নতুন কোনও কর্ম সংস্থানের সুযোগ না থাকায় এবং কর্ম সৃষ্টি না হওয়ায় ধরে নিতেই হয় ঐসব পরিবার ঝরে গেছে বাপ-দাদার পেশা থেকে । নতুন পেশায় যাবার মতো কারিগরি দক্ষতা আর পুঁজি ওদের নেই বলে ওরা নব্য শিল্পগোষ্ঠীর মুড়ি ভাজা থেকে শুরু করে হলুদ-মরিচের গুড়োর ঝাঁজে চোখে সর্ষেফুল দেখছে । ওদের জন্যে কোন রকমের কর্মের সুযোগ না থাকায় পেশা গুটিয়ে হয় ওরা চুরি-ডাকাতি-রাহাজানিতে নেমে পড়ছে নতুবা ঢাকা মহানগরে এসে বস্তিবাসীর সংখ্যা বাড়িয়ে রিক্সাওয়ালাতে পরিনত হচ্ছে ।
জানিনা, এরকম ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রান্তিক পেশাজীবিদের পেশা টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রীয় কোন “নিরাপত্তা”র অঙ্গীকার আছে কিনা । আমাদের তো একটা বাজে অভ্যেস আছে, কেউ কোনও একটা কিছু শুরু করলে ঝাঁকেঝাঁকে সবাই সেই কিছুর দিকে ঝুঁকে পড়ে সেই কিছুর বারোটা বাজিয়ে না দেয়া পর্য্যন্ত থামেনা ! বানিজ্য বা শিল্প মন্ত্রনালয় কি এইসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজির ( বড়জোড় হাযার খানেক টাকা লগ্নিকৃত )শিল্পগুলিকে বাঁচিয়ে রাখতে কোটি কোটি টাকা ( যদিও আসলে তা ব্যাংকের কাছ থেকে ধার করা টাকা ) বিনিয়োগ করা বড় পুঁজিওয়ালাদের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারেন না ?
অর্থনীতির বই পুস্তকে লেখা সব নিয়মকানুনের ( থিওরী আর প্রাকটিক্যাল এক জিনিষ নয় ) বাইরে গিয়ে শুধু বলি – সরকার কি পারেননা বৃহৎ পুঁজিপতিদের প্রতি এরকম নিষেধাজ্ঞা জারী করতে যাতে তারা যেন আর ঐসব ছোটখাটো শিল্পে (মসলার গুড়ো, চিড়া ভাজা, বাদাম ভাজা, ঘোল-দধি, সরষের তেল ইত্যাদির মতো শত শত গৃহস্থী শিল্প ) হাত না বাড়ান ? তাদের উৎপাদন সামগ্রীকে সীমিত সংখ্যায় রাখেন ?

দারিদ্র উন্নয়নে কোনও পরিকল্পনায় টাকা খরচ ব্যতিরেকেই দেশে কর্মপরিবেশ আর সংস্থান তৈরী করে দারিদ্রতা দূরীকরনে সরকারের তরফ থেকে এরকম নিরাপত্তা কি নিশ্চিত করা যায়না , সব ধরনের উৎপাদনে সবার অধিকার থাকবেনা ? একচেটিয়া ভাবে সব ধরনের পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার অনুমতি সবাইকে না দিয়ে পণ্যের শ্রেনীবিভাগ করে আলাদা আলাদা উৎপাদক গোষ্ঠী তৈরী করা কি যায়না ? বড়রা সব বড় বড় উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকবেন আর ছোটরা সব ছোট ছোট উৎপাদনে যাতে উৎপাদন ও বিপণনের সমস্ত ক্ষেত্রে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় ?
ছোটখাটো উদ্দ্যোক্তারা এতে সাহসী হবেন , ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে । হারানো পেশায় আবার ফিরে আসতে পারবেন তারা ।

এতে প্রান্তিক ঐসব ক্ষুদ্র পেশাজীবীরা ও যেমন বেঁচে থাকবেন তেমনি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো মুড়ি- চানাচুরের মতো ছোটখাটো পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয় না করতে পারলেও ভাতে কাপড়ে মরে যাবেন না নিশ্চয়ই ।

এ ভাবনা হয়তো আমার - বেকার ! তবুও আশায় থাকি, এরকম কিছু একটা হবে কোনদিন।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১০:৫২
৫৬টি মন্তব্য ৫৫টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধনী হতে মানুষ আসে নিউইয়র্ক, নিউইয়র্কের দরিদ্ররা যায় কোথায়?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৯ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ৭:৪৯



সন্ধ্যার পর, জ্যামাইকা থেকে বাসায় ফেরার সময় আমি সাবওয়ে ট্রেনের শেষ বগীতে উঠি; প্রায় সব সময়ই বগিটা খালি থাকে; ২৫ মিনিটের মত একা ভ্রমন করা যায়; আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আশায় আশায় দিন গুণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ৯:৫২

সব কিছু ঠিক—
তবু তার মন যেন বলে যায়,
‘তুমি এক দিকভ্রান্ত পথিক'।

শান্ত জলের তলে
চোরা স্রোত খেলা খেলে
কত পাক খায়, সকাল সন্ধ্যায়!

একটু একটু করে,
মনের তীরে ভাঙন ধরে,
কোন একদিন তীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আরিফ আজাদের প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ নামক অপাঠ্য কিতাব সমালোচনা পর্ব-৪

লিখেছেন নান্দনিক বুদ্ধিপ্রকর্ষ, ২৯ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ১০:০৯



'মুসলমানদের কোরবানি ঈদ এবং একজন মাতুব্বরের অযাচিত মাতব্বরি' অধ্যায়ের হিপোক্রিসি

ফেইক আইডিধারী ফেসবুকার আরিফ আজাদের প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ নামক অপাঠ্য কিতাবের 'মুসলমানদের কোরবানি ঈদ এবং একজন মাতুব্বরের অযাচিত মাতব্বরি' শীর্ষক লেখাটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্যগল্পঃ গচ্চা

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ২৯ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ১১:৫৫

উত্তরবঙ্গের কোন এক জেলার অধিবাসীদের কৃপণতার কথা সবাই জানে। তাদের এই কার্পণ্য নিয়ে অনেক মুখরোচক গল্প খোদ উত্তরবঙ্গেই চালু আছে। এই জেলার লোকজন নাকি পোস্ট অফিস ও রেল স্টেশনের কাউন্টারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাধীনতার ৪৬ বছর:- কিছু ধন্যবাদ ও অন্যবাদের গল্প

লিখেছেন বিলিয়ার রহমান, ২৯ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:১৮


স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের হয়েছে ৪৬ বছর হলো । পরাধীনতার সকল গ্লানি মুছে দেওয়া এই স্বাধীনতা যারা আমাদের দিয়েছেন তারা মহান আমাদের সত্যিকারের আইডল।এই মহান স্বাধীনতার স্বাদ আমাদের যারা দিয়েছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×