somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন রাষ্ট্রপতির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ

০১ লা আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ ১ অগষ্ট রাত ৩টা ১৮ মিনিটে মারা গেলেন ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট Maria Corazon Aquino. তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস।


দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে যে সকল নারী ক্ষমতায় এসেছেন তাদের ইতিহাস দেখলে জানাযায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়ত বাবা না হয় স্বামীর assassin এর পর তাদের রাজনীতিতে আসা যদিও তাদের অনেকেই রাজনৈতিক পরিমন্ডলেই বড় হয়ে ওঠেন। বিশ্বের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা, বেনজীর ভূট্টো, ইন্দিরা গান্ধী, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া এবং ফিলিপাইনের একুইনো-- এরা সবাই এভাবে ক্ষমতায় আসলেও রাজনৈতিক জীবনে নিজেদের যথার্থ বলে প্রমাণ করেছেন।

Maria Corazon Cojuangco রাজধানী ম্যানিলার ৭৫ মাইল উত্তরে Paniqui এর একটি সমৃদ্ধশালী ও একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ম্যানিলার একটি প্রাইভেট স্কুল এবং পরবর্তীতে নিউ য়র্ক এর Mount St. Vincent কলেজ থেকে ফ্রেন্সে ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫৪ সালে অন্য একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক পরিবারে Ninoy Aquino এর সাথে তাঁর বিবাহ হয়। পরবর্তীতে Ninoy Aquino গভর্ণর থেকে সিনেটর এবং ফিলিপাইনের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতায় পরিণত হন।

১৯৬৫ সালে মার্কোস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ১৯৭২ সালে মার্শাল ল' জারি করেন। তিনি কংগ্রেস ভেঙে দেন এবং Aquino এর স্বামীসহ হাজার হাজার বিরোধীদলীয়, সাংবাদিকসহ সধারণ মানুষকে বিনা চার্জে গ্রেফতার করে। এসময় Aquino তাঁর স্বামীর রাজনৈতিক মূখপাত্র ও সংবাদ বহনকারীর দায়িত্ব নেন।
কমিউনিস্টদের সাথে যোগাযোগ থাকার অযুহাত দেখিয়ে সামরিক আদালতে Ninoy Aquino এর মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করা হলেও তৎকালীন মার্কিণ প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের চাপে মার্কোস তাকে ১৯৮০ সালে হার্টের অপরেশনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যাবার অনুমতি দেন যা ছিল ৩ বছরের নির্বাসনের শুরু। ১৯৮৩ সালে Ninoy Aquino ফিলিপাইনে ফিরে আসেন। এ সময় Corazon বোষ্টন ছিলেন। দেশে ফেরার পর ২১ অগষ্ট ১৯৮৩ Ninoy Aquino কে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এর ৩ সপ্তাহ পর Corazon Aquino দেশে ফিরে আসেন এবং ১সপ্তাহ পর ম্যানীলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা বৃহৎ শেষকৃত্যানুষ্ঠান করেন। মার্কোস ১৯৮৬ সালে নির্বাচনের ঘোষণা দিলে বিরোধীদল সহ ম্যানিলার আর্চ বিশপ Cardinal Jaime L. Sin, Aquino কে নির্বাচন করতে আমন্ত্রণ জানান---- এভাবেই Corazon Aquino এর রাজণীতিতে আসা। ১৯৮৬ এর ৭ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে মার্কোস জয় লাভ করে যদিও এ জয় ছিল প্রহসনমূলক। ২২ ফেব্রুয়ারী কিছু সেনা অফিসার বিদ্রোহ করে। এসময় মার্কোসের বাহিনীর আত্রমণ প্রতিহত করার জন্য চার্চের ডাকে হাজার হাজার মানুষ পথে নেমে আসে। তৃতীয় দিন নিরাপত্তা উপেক্ষা করে তিনি বিদ্রোহীদের সাথে rally করেন। তিনি ঘোষণা দেন---- "For the first time in the history of the world, a civilian population has been called to defend the military."
সেনাপ্রধান বিদ্রোহের সাথে একাত্বতা ঘোষণা দেন এবং জানান মার্কোস কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ী হয়েছে।
মার্কোসের দীর্ঘদিনের সহায়তাকারী মার্কিণ প্রেসিডেন্ট রিগ্যান তাকে পদত্যাগ করতে বললে মার্কোস ২৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৬ পরিবারসহ আমেরিকা চলে যায়। ঐ দিনই Corazon Aquino ফিলিপাইনের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।

২০০৮ সালে তিনি কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং আজ ১ অগষ্ট রাত ৩.১৮ মিনিটে মারা যান।
একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন--------------
"During Ninoy's incarceration and before my presidency, I used to ask why it had always to be us to make the sacrifice,"
"And then, when Ninoy died, I would say, 'Why does it have to be me now?' It seemed like we were always the sacrificial lamb."

তাঁর এই বক্তব্যের মাঝে যে বিষাদ লুকিয়ে রয়েছে তা আমরা ক'জনা অনুভব করতে পারি?
জানিনা কিভাবে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করব।শুধু এটুকু বলব---------

উদয়ের পথে শুনি কার বাণী
ভয় নাই ওরে ভয় নাই,
নি:শেষে প্রাণ যে করিবে দান
ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।।।।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৫
১৭টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×