somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মদিনা সনদ ছিল একটি সেক্যুলার সংবিধান “বিসমিল্লাহ” দিয়ে শুরু হয়নি : তবে আমাদের কেন ?

০৭ ই জুন, ২০১১ রাত ৩:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজকে আমাদের সময়ে একটি আর্টিকেল দেখলাম । দারুন কিছু যুক্তি তুলে ধরেছেন মোহাম্মদ এ আরাফাত ।
আমাদের সংবিধান সংশোধন নিয়ে ।

মদিনা সনদ, পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান। মহানবী (সা.) দেখলেন মদিনাবাসীদের মধ্যে সবাই মুসলমান নন। সেখানে অন্য ধর্মেরও লোক আছে। মহানবী (সা.) সব নাগরিকের জন্য ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান উপহার দিলেন। এই হল মহানবীর (সা.) মদিনা সনদের চেতনা। মদিনা সনদ বিসমিলস্নাহ দিয়ে শুরু হয়নি। মদিনা সনদের মাধ্যমে মদিনার রাষ্ট্রধর্মও ইসলাম করা হয়নি।

যেসব সামরিক শাসকরা ধর্মীয় উপাদান সংবিধানে ঢুকিয়েছিলেন তারা নিশ্চয় মহানবীর (সা.) চেয়ে বড় ইসলামপ্রেমী নন। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সেই '৭২-এর মূল সংবিধানে ফিরে যেতে চাই। এই সংবিধানে বিসমিলস্নাহ থাকা চলবে না। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হওয়া চলবে না। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বাতিল হতে হবে।

পুরো আর্টিকেল্টা নীচে দিলাম
-------------------------------------------------------------------


সংবিধান সংশোধন: জেনারেল সফিউলস্নাহ্কে ধন্যবাদ, পরিষ্কারকণ্ঠে সত্য উচ্চারণের জন্য

মোহাম্মদ এ আরাফাত:

সংবিধান সংশোধনীর বিশেষ কমিটি সমাজের বিভিন্ন সত্মরের মানুষের মতামত গ্রহণ করছে। বিশেষ করে সমাজের অপিনিয়ন বিল্ডার্স বলে যারা খ্যাত এবং জনমানুষের মতামতের প্রতিধ্বনি যারা করেন সামাজিক এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন পস্নাটফর্ম থেকে তারাই অংশগ্রহণ করেছেন এ মতবিনিময় সভাগুলোতে। অতিসমপ্রতি সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে পঞ্চম এবং সপ্তম সংশোধনী বাতিল হওয়ার মধ্যেদিয়ে আমাদের সংবিধান অনেকটাই কলুষমুক্ত হয়েছে। সামরিক শাসকরা যথেচ্ছভাবে সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করেছেন বিভিন্ন সময়ে। এই অনিয়মতান্ত্রিক সংশোধনগুলোকে বাতিল করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। এর ফলশ্রুতিতে আমাদের সংবিধান তার মূল চেতনায় বেশ কিছুটা ফিরে গেছে।

তবে অষ্টম সংশোধনী বাতিল করতে না পারলে, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বিষয়টি সংবিধানে যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ এই সংবিধান তার মূলচেতনায় পূর্ণাঙ্গরূপে ফিরে যেতে পারবে না। কাজেই সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানের রক্ষক (ঈঁংঃড়ফরধহ) হিসেবে যা করার তা করেছেন, এখন বাকি কাজটা অর্থাৎ সংবিধানের অন্যান্য অসংগতিগুলো সংশোধনীর মাধ্যমে দূর করে পূর্ণাঙ্গরূপে '৭২-এর সংবিধানের মূল চেতনায় ফিরে যাওয়ার কাজটা করবে সংসদ। কারণ সংবিধান সংশোধনীর এখতিয়ার একমাত্র সংসদের।

সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিষয়গুলিকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়ে সংবিধান সংশোধনীর বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে এবং তারা সর্বসত্মরের মানুষের মতামত শুনেছেন।

'৭২-এর অসামপ্রদায়িক চেতনার মূল সংবিধানে ফিরে যেতে হলে এই সংবিধানে যেসব ধর্মীয় উপাদান সামরিক স্বৈরাচারী শাসকরা তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে ঢুকিয়েছিল সেগুলো বাতিল করতে হবে।

বাংলাদেশের সংখ্যাগুরু মানুষ মুসলমান হলেও এ দেশে অন্যান্য ধর্মের মানুষও বাস করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু কুলাঙ্গার ব্যতীত ধর্মনির্বিশেষে হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে অংশ নিয়েছিল। কাজেই এই দেশ কোনো বিশেষ ধর্মের নয়, নয় এদেশের সংবিধানও। শুধুমাত্র সংখ্যাধিক্যের জোরে কোনো বিশেষ ধর্মের উপাদান সংবিধানে সংযোজন করা হবে মহাঅন্যায় কাজ যা শুধু গণতন্ত্র বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী নয়, ধর্মবিরোধীও বটে।

ইসলামের মহানবী (সা.) যখন মদিনায় অবস্থান করছিলেন তখন সেখানকার জনসাধারণ তাঁকে অনুরোধ করল একটি সংবিধান রচনার জন্য যা কিনা হবে মদিনার শাসনতন্ত্র, তখনই রচিত হল মদিনা সনদ, পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান। মহানবী (সা.) দেখলেন মদিনাবাসীদের মধ্যে সবাই মুসলমান নন। সেখানে অন্য ধর্মেরও লোক আছে। মহানবী (সা.) সব নাগরিকের জন্য ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান উপহার দিলেন। এই হল মহানবীর (সা.) মদিনা সনদের চেতনা। মদিনা সনদ বিসমিলস্নাহ দিয়ে শুরু হয়নি। মদিনা সনদের মাধ্যমে মদিনার রাষ্ট্রধর্মও ইসলাম করা হয়নি।

কাজেই আজকে যারা মহানবীর (সা.) রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চেতনা থেকে সরে গিয়ে সংবিধানে বিসমিলস্নাহ অথবা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে বাড়াবাড়ি করছেন তারা ধর্মীয় চেতনা থেকে তা করছেন না। যেসব সামরিক শাসকরা ধর্মীয় উপাদান সংবিধানে ঢুকিয়েছিলেন তারা নিশ্চয় মহানবীর (সা.) চেয়ে বড় ইসলামপ্রেমী নন। কাজেই কেন এই মানুষগুলো ধর্মীয় উপাদান আমাদের সংবিধানে থাকা বা না থাকার বিষয় নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করছেন বা অতীতে করেছিলেন? একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় এই ভণ্ড রাজনীতিবিদ বা রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মীয় চেতনা থেকে সরে গিয়ে ধর্মকে শুধু ব্যবহার করতে চায়। কারণ সাধারণ মানুষকে ধর্ম দিয়ে সহজেই বিভ্রানত্ম করা যায়। কাজেই এই উদ্দেশ্যে সংবিধানে বিসমিলস্নাহির রাহমানির রাহিম রাখার রাজনীতি ধর্মকে তথা বিসমিলস্নাহকে আরো ছোট করছে। ধর্মের বেসাতি পরা এই ভণ্ড রাজনীতিবিদদের থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে। আর ন্যায্যতার স্বার্থে উচ্চকণ্ঠে সত্য উচ্চারণ করতে হবে। আমি মনে করি বাংলাদেশের সংখ্যাধিক্য মানুষ ন্যায্যতার পক্ষেই দাঁড়িয়ে এবং দাঁড়াবে। আমাদের শুধু দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে সাহসের সঙ্গে উচ্চস্বরে ন্যায্য কথা বলতে হবে।

আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) সফিউলস্নাহকে। তিনি সংবিধান সংশোধনীর সংসদীয় কমিটির সঙ্গে দেখা করে আসার পর গণমাধ্যমের সামনে উচ্চকণ্ঠে বলেছেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সেই '৭২-এর মূল সংবিধানে ফিরে যেতে চাই। এই সংবিধানে বিসমিলস্নাহ থাকা চলবে না। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হওয়া চলবে না। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বাতিল হতে হবে। আমরা সবাই জেনারেল সফিউলস্নাহর সঙ্গে গলা মিলিয়ে বলতে চাই আমরা আমাদের মূল সংবিধানে ফিরে যেতে চাই। আশাকরি সংবিধান সংশোধনীর বিশেষ সংসদীয় কমিটি তার দায়-দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে সমর্থ হবে এবং এই সংসদ আমাদের একটি পরিচ্ছন্ন সংবিধান উপহার দিতে সক্ষম হবে।

লেখক: নির্বাহী পরিচালক, সুচিনত্মা ফাউন্ডেশন। শিক্ষক, ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১১ ভোর ৪:৩০
৩১টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×