আমার প্রিয় পোস্ট
- লাতিন ভাষার সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত - ইমন জুবায়ের
- হুমায়ুন আহমেদের ১৪৮ টি বইয়ের বিশাল সমগ্র [রিপোস্ট] লিংকসহ ঠিক করে দিলাম - বখতিয়ার হোসেন
- আমার দেখা প্রিয়/সেরা ছবির তালিকা...ডাউনলোড লিংক সহ..
- রিদওয়ান
- জিডি করার নিয়মাবলী - ব্লগ ৪১৬
- ঈমান জোরদার করার জন্য বিভিন্ন ব্লগ হইতে সংগৃহিত ক্লাসিক লেখা - দ্বিতীয়নাম
- Sultan of Brunei-র বিলাসিতা দেখুন!!!!(এদের উপর আল্লাহর গজব পড়ে না কেন)পর্ব -১ - ওপেল
- ওয়েবে ছড়িয়ে থাকা সকল বাংলা ব্লগের লিস্ট এর সংকলন - রাহা
- ইলাস্ট্রেটর টিউটোরিয়াল ০২: নিয়ন লাইটের ইফেক্ট - ফয়সাল রকি
- পার্টটাইম কাজ হিসাবে বেছে নিতে পারেন শেয়ার ব্যাবসা - এস আই শান্ত
- যে প্রশ্নগুলোর গ্রহনযোগ্য জবাব না পেয়ে আমি নাস্তিক - নাগরিক
- যারা অনুবাদকৃত কোরআন এবং অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের ভালো WebSite Link চান, তাদের জন্য

- কঠিন চিজ
- একটি চরম বাটপাড়িমূলক পোষ্ট!!! - জেনুইন করুন আপনার প্রায় সকল প্রকার উইন্ডোজ(উইন্ডোজ এক্সপি, উইন্ডোজ ভিসতা এবং উইন্ডোজ সেভেন)। - নির্ভয় নির্ঝর
- প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কিছু ভুল ধারণা
- ইন্ঞ্জিনিয়ার
তৈরী করুন আপনার পছন্দের এনিমেটেড বাংলা শব্দ
- নিরব হাসি
- নবীন লেখকলেখিকাদের জন্য :: কীভাবে বই বের করবেন - সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
- দ্রুত ডাউনলোড করুন- প্রায় ১ জিবি ফাইল মাত্র ১৫ মিনিটে !! - কে.এম. মাহ্বুব শরীফ (রাতুল)
- কম্পিউটারের ফ্রি টিপস(একসাথ+Update) - ০০৭৭৭৭৭
- বিবর্তনবাদ তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা – ২ - এস. এম. রায়হান
- সবাই কি আর লিখতে পারে! জলে? - শিমুল সালাহ্উদ্দিন
ঈশ্বরের অস্তিত্ব : ক্রেইগের যুক্তি
০৬ ই মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:৪৮
ঈশ্বর কি আছেন না নেই যৌক্তিকভাবে সেই সিদ্ধান্তে আসতে গেলে আমাদেরকে যুক্তিবিদ্যার মৌলিক নিয়মানুযায়ী অনুসন্ধান করা এবং নিজেদেরকে দু'টো মৌল প্রশ্ন করা দরকার : (১) ঈশ্বরের অস্তিত্ব থাকার ব্যাপারে যুক্তিসঙ্গত কোন কারণ আছে কি? এবং (২) ঈশ্বর না থাকার ব্যাপারে শক্তিশালী কোন যুক্তি আছে কি না?
দ্বিতীয় প্রশ্নটা আমি ডক্টর ফ্লু (প্রতিপক্ষ)'র উপরই ছেড়ে দেব। কেন তিনি মনে করেন যে ঈশ্বর নেই, সেই কারণসমূহ উপস্থাপনা করার জন্য। কিন্তু একটা জিনিস খেয়াল করে দেখবেন, যদিও নাস্তিক দার্শনিকরা শত শত বছর ধরে ঈশ্বরের অনস্তিত্ব প্রমাণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছেন, কিন্তু কেউই এখন পর্যন্ত ফলপ্রসূ কোন যুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন নি। কাজেই হাওয়ায় তলোয়ার না ঘুরিয়ে আমি বরং দেখি 'ঈশ্বর নেই তার সপক্ষে কী কী যুক্তি আছে', এই প্রশ্নের উত্তরে ডক্টর ফ্লু কী বলেন।
আসুন, তাহলে আমাদের প্রথম প্রশ্ন 'ঈশ্বরের অস্তিত্বের সপক্ষে কী কী যুক্তি আছে?' সেটা নিয়ে আলোকপাত করি। আস্তিকতা কেন নাস্তিকতার চেয়ে যুক্তিসঙ্গত সে বিষয়ে পাঁচটি যুক্তি বা কারণকে আজকে আমি উপস্থাপন করবো। এর একেকটিকে নিয়েই গোটা গোটা বই লেখা হয়েছে। কাজেই আমি এখানে সেগুলোকে সংক্ষেপে আলোচনা করবো এবং সেগুলোর বিষয়ে ডক্টর ফ্লুর মতামত পাবার পর বিস্তারিত আলোচনায় যাবো হয়তো। এই যুক্তিগুলো একে অন্যের থেকে স্বাধীন এবং আলাদা। কিন্তু যখন সবগুলোকে একসাথে সমন্বিত করা হয় তখন তারা সমষ্টিগতভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে শক্তিশালী কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
১. মহাবিশ্বের সূত্রপাত
কখনো কি ভেবে দেখেছেন যে, এই মহাবিশ্ব কোথা থেকে এসেছে? নিঃসীম শূন্যতার বদলে কেন সব কিছু বিদ্যমান? নাস্তিকেরা সাধারণত বলে থাকেন যে, মহাবিশ্ব অনন্তকাল ধরে আছে এবং কোনোরকম কারণ ছাড়াই তৈরি হয়েছে। রাসেল যেমন কপলস্টনকে বলেছিলেন, 'মহাবিশ্ব সবসময়ই বিদ্যমান ছিল, এর বাইরে আর কোন কথা নেই, ব্যস'। কিন্তু এটাই কি আসল বাস্তবতা? মহাবিশ্বের যদি কোন সূচনা না থেকে থাকে তাহলে বলতে হবে যে মহাবিশ্বের অতীত ইতিহাসের ঘটনাসমূহের পরিমাণও অসীম। কিন্তু গণিতবিদরা দেখিয়েছেন যে, সত্যি সত্যি অসীমের উপস্থিতি আমাদেরকে স্ববিরোধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, অসীম থেকে অসীমকে বিয়োগ করলে কী থাকে? গাণিতিকভাবে আপনি পরস্পরবিরোধী উত্তর পাবেন। এর অর্থ হচ্ছে অসীম কোন বাস্তবতা নয় বরং এটা মূলত আমাদের মস্তিষ্কের একটি ধারণা মাত্র। এই শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম গণিতবিদ ডেভিড হিলবার্ট বলেন যে, 'বাস্তবে কোথাও অসীমকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এটা প্রকৃতিতেও নেই, আবার যুক্তিসঙ্গত চিন্তার বৈধ ভিত্তিও জোগান দেয় না..... অসীমের জন্যে যে ভূমিকাটি পড়ে থাকে তা হচ্ছে একমাত্র ধারণা'। কিন্তু এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে যে, যেহেতু অতীত ঘটনাসমূহ ধারণা নয় বরং বাস্তব, কাজেই অতীতের ঘটনাসমূহ অবশ্যই সসীম হতে বাধ্য। ফলে, অতীতের ঘটনাসমূহ অতীতের দিকে অনন্তকাল পর্যন্ত যেতে পারে না। বরং, বিশ্বজগত কোথাও না কোথাও থেকে শুরু হয়েছে।
এই উপসংহার এস্ট্রোনমি এবং এস্ট্রোফিজিক্সের অসাধারণ সব আবিষ্কার দিয়ে সমর্থিত হয়েছে। এস্ট্রোফিজিক্যাল প্রমাণসমূহ ধারণা দেয় যে এই বিশ্বজগত ১৫ বিলিওন বছর আগের মহা বিস্ফোরণ 'বিগ ব্যাং' থেকে সূত্রপাত হয়েছে। সময় এবং স্থানসহ বিশ্বজগতের সকল পদার্থ এবং শক্তিও তৈরি হয়েছে ওই ঘটনা থেকেই। কাজেই দেখা যাচ্ছে যে, জোতির্বিজ্ঞানী ফ্রেড হোয়েল যেমন বলেছেন, বিগ ব্যাং তত্ত্ব এই মহাবিশ্ব শূন্য থেকে তৈরি হয়েছে সেই ধারণাকে সমর্থন করে-- এর কারণ হচ্ছে যে, আপনি যখন সময়ের বিপরীতে যেতে থাকেন একটা পর্যায়ে গিয়ে হোয়েলের ভাষ্য অনুযায়ী 'বিশ্বজগত সঙ্কুচিত হতে হতে শূন্যতে পরিণত হয়ে যায়'। অর্থাৎ বিগ ব্যাং মডেল অনুযায়ী বিশ্বজগত কোন এক সময়ে সৃষ্টি হয়েছিলো এবং তা তৈরি হয়েছিলো শূন্য থেকে।
এই বিষয়টা নাস্তিকদের জন্যে খুবই বিব্রতকর। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এন্থনি কেনি (Anthony Kenny) আবেদন জানিয়েছেন এই বলে যে, 'বিগ ব্যাং' এর সমর্থক কেউ যদি নাস্তিকও হয়, তাহলেও তাকে বিশ্বাস করতে হবে যে বিশ্বজগত শূন্য থেকেই এবং শূন্যের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে'। কিন্তু এই বক্তব্য কোন অর্থ বহন করে না। শূন্য থেকে কোন কিছু তৈরি হতে পারে না। শূন্যের বদলে বিশ্বজগত কেন উপস্থিত হয়েছে? কোথা থেকে এসেছে এই বিশ্বজগত? নিশ্চয়ই এমন কোনো কারণ রয়েছে যার ফলে বিশ্বজগত তৈরি হয়েছে?
আমরা আমাদের যুক্তিকে সারসংক্ষেপ করতে পারি এভাবে :
১. যা কিছু তৈরি হয়েছে তার পেছনে কারণ রয়েছে।
২. বিশ্বজগত তৈরি হয়েছে।
৩. কাজেই বিশ্বজগতের পেছনেও কারণ রয়েছে।
স্বাভাবিক ব্যবস্থা অনুযায়ীই স্থান এবং কালের কারণ অবশ্যই কারণহীন, সময়হীন, পরিবর্তনহীন এবং অকল্পনীয় শক্তি যা এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছে। অধিকন্তু, আমি বলবো যে, এটা ব্যক্তিগতও হতে বাধ্য। তা না হলে কীভাবে একটা সময়হীন কারণ (timeless cause) বিশ্বজগতের মতো একটা সাময়িক প্রতিঘাত (temporal effect) সৃষ্টি করতে পারে? এই কারণ যদি প্রয়োজনীয় এবং পর্যাপ্ত অবস্থার নৈর্ব্যক্তিক সমষ্টি হতো, তবে প্রভাব ছাড়া কারণ কখনোই থাকতে পারতো না। কারণ যদি সময়হীনভাবে থেকে থাকে তবে প্রভাবও থাকবে সময়হীনভাবেই। মাত্র একটাই কারণে কারণ হতে পারে সময়হীন এবং প্রভাব শুরু হতে পারে সময় দিয়ে। আর তা হচ্ছে যদি কোনো ব্যক্তিগত প্রতিভূ কোন পূর্ব শর্ত ছাড়াই মুক্তভাবে সময়যুক্ত প্রভাব তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। কাজেই এইখানে আমরা শুধু বিশ্বজগতের যৌক্তিক কারণই খুঁজে পাচ্ছি না, সেই সাথে একজন ব্যক্তিগত সৃষ্টিকর্তারও অস্তিত্ব টের পাচ্ছি।
খুব অবাক ব্যাপার না যে, বিগ ব্যাং এর তত্ত্ব, খ্রিস্টান আস্তিকেরা সবসময় যা বিশ্বাস করে এসেছে – 'আদিতে ঈশ্বর স্বর্গ এবং পৃথিবী তৈরি করেছেন' – তাকেই সমর্থন দিচ্ছে। আমি আপনাদের জিজ্ঞেস করতে চাই, কোনটা বেশি যুক্তিসঙ্গত -- আস্তিকেরা সঠিক নাকি নাস্তিকদের ভাষ্য অনুযায়ী মহাবিশ্ব কোনো কারণ ছাড়াই শূন্য থেকে টুপ করে তৈরি হয়ে গিয়েছে? আমার অবশ্য বিকল্পগুলোকে মূল্যায়ন করতে তেমন কোনো আপত্তি নেই।
২. বিশ্বজগতের জটিল বিন্যাস
গত তিরিশ বছর ধরে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্ব যে সূক্ষ্ম এবং জটিল বিন্যাসের উপর নির্ভর করে তা বিগ ব্যাং নিজেই জোগান দিয়েছে। আমরা এখন জানি যে প্রাণ-অবান্ধব বিশ্বজগতের সৃষ্টির সম্ভাবনা আমাদের মতো প্রাণ-বান্ধব বিশ্বজগতের তুলনায় বেশিই ছিলো। প্রশ্ন হচ্ছে যে সেটা কতোখানি বেশি ছিলো? এর উত্তর হচ্ছে বিশ্বজগত প্রাণ-বান্ধব হওয়ার সম্ভাবনা এতই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র যে তা অচিন্তনীয় এবং অপরিমেয়। উদাহরণস্বরূপ, স্টিফেন হকিং (Stephen Hawking) হিসেব করে দেখেছেন যে, বিগ ব্যাং এর এক সেকেণ্ড পর মহাবিশ্বের বিস্তৃতির হার যদি কয়েক হাজার মিলিওন মিলিওনের চেয়ে ছোট হতো তাহলে মহাবিশ্ব জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড হয়ে ধ্বংস হয়ে যেতো। পল ডেভিসের (Paul Davies) হিসেব অনুযায়ী, নক্ষত্র বিন্যাসের জন্যে উপযোগী (নক্ষত্র ছাড়া গ্রহ থাকতে পারে না) প্রাথমিক পরিবেশ থাকার সম্ভাবনা হচ্ছে হাজার বিলিওন বিলিওন ভাগের একভাগ। ডেভিস আরো বলেছেন যে, মহাকর্ষের ১০১০০ ভাগের একভাগ পরিবর্তন হলেই তা প্রাণ-বান্ধব মহাবিশ্বের জন্যে বিপুল বাধা হয়ে দাঁড়াতো। মহাবিশ্বকে প্রাণ-বান্ধব হওয়ার জন্যে বিগ ব্যাং এ প্রায় পঞ্চাশটার মত চলক (quantities) এবং ধ্রুবককে (constants) সূক্ষ্ণ-সমন্বিত (fine-tuned) হতে হয়েছে। শুধু চলকগুলোকেই যে সূক্ষ্ম-সমন্বিত হতে হয়েছে তাই নয়। তাদের অনুপাতগুলোকেও সেই সাথে দারুণভাবে সূক্ষ্ম-সমন্বিত হতে হয়েছে। কাজেই অসম্ভাব্যতা ক্রমবর্ধিত হয়ে পরিণত হচ্ছে এরূপ কোনো অসম্ভাব্যতায় যতক্ষণ না আমাদের মনন কোনো অচিন্তনীয় সংখ্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
এই চলক এবং ধ্রুবকগুলোর যে মান, কেনো সেগুলো সেই মান পেলো সেই সম্পর্কে কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। অজ্ঞেয়বাদী পদার্থবিজ্ঞানী পল ডেভিস একবার মন্তব্য করেছিলেন যে, 'আমার বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমি ক্রমাগত এই দৃঢ় বিশ্বাসে উপনীত হচ্ছি যে, মহাবিশ্ব এমন বিস্ময়কর বিচক্ষণতার সাথে তৈরি হয়েছে যে একে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেওয়া কঠিন'। একইভাবে, ফ্রেড হোয়েল বলেছেন যে, 'তথ্যসমূহের সাধারণ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ধারণা দেয় যে, কোনো এক অতি-প্রাকৃতিক বুদ্ধিমত্তা পদার্থবিজ্ঞানকে নিয়ে খেলা করেছে'। নাসার গডার্ড ইন্সটিটিউট ফর স্পেস স্টাডিজের প্রধান রবার্ট জাস্ট্রো (Robert Jastrow) একে 'বিজ্ঞান থেকে আগত' ঈশ্বরের অস্তিত্বের সপক্ষের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
কাজেই, আবারো দেখা যাচ্ছে যে, খ্রিস্টান আস্তিকেরা সবসময় যে দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে আসছেন যে, এই বিশ্বজগতের একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন -- তা নাস্তিকদের দৃষ্টিভঙ্গি, এই মহাবিশ্ব কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে শূন্য থেকে উদ্ভব হয়েছে এবং এমনভাবে সূক্ষ্ম সমন্বিত হয়েছে যে এখানে বুদ্ধিমান প্রাণের উদ্ভব ঘটেছে, তার তুলনায় অধিকতর অর্থবহ।
আমরা আমাদের যুক্তিকে নিচের মত করে সারসংক্ষেপ করতে পারি :
১. মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থার সুক্ষ্ম সমন্বয় প্রাকৃতিক নিয়ম, দৈবতা বা পরিকল্পনার মাধ্যমে হয়েছে।
২. সেটা প্রাকৃতিক নিয়ম বা দৈবতার কারণে হয় নি।
৩. কাজেই তা হয়েছে পরিকল্পনার মাধ্যমে।
৩. মানব সমাজের নৈর্ব্যক্তিক নৈতিক মূল্যবোধ
অনেক আস্তিক এবং নাস্তিক এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, ঈশ্বর না থাকলে মানুষের নৈর্ব্যক্তিক নৈতিক মূল্যবোধও থাকতো না। রাসেল যেমন বলেছেন,
"ব্যক্তির নৈতিকতা তৈরি হয় তার উপর সম্প্রদায়ের চাপ থেকে। মানুষ..... সবসময় সহজাতভাবে উপলব্ধি করে না যে কোনটা তার সমাজের জন্য উপকারী। ব্যক্তি স্বার্থপরভাবে কাজ করতে পারে এই দুশ্চিন্তা থেকেই সমাজ মূলত ব্যক্তির স্বার্থকে সমাজের স্বার্থের সাথে সুগ্রন্থিত করার জন্যে অসংখ্য পদক্ষেপ উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে একটা হচ্ছে নৈতিকতা।
ইউনিভার্সিটি অব গুয়েলফ এর দার্শনিক বিজ্ঞানী মাইকেল রুজও (Michael Ruse) রাসেলের বক্তব্যের সাথে একমত হয়েছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে :
হাত, পা বা দাঁতের চেয়ে নৈতিকতা কম জৈবিক অভিযোজন নয় । নৈতিকতাকে নৈর্ব্যক্তিক ভাবাটা পুরোপুরিই অলীক ভাবনা। কেউ যখন বলে যে, ''প্রতিবেশীকে নিজের মতো করেই ভালবাসো"। আমি তখন তাকে বাহবা দেই। তারা মনে করে যে, তারা নিজেদের সীমারেখার উর্ধে উঠতে পেরেছে.... তা সত্ত্বেও ওই ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নৈতিকতা শুধু অস্তিত্ব বজায় রাখা এবং বংশবৃদ্ধির একটা সহায়ক শক্তি মাত.... নৈতিকতার এর চেয়ে বেশি অন্য কোনো অর্থ খুঁজতে যাওয়া বিভ্রম ছাড়া আর কিছু নয়।
ঈশ্বরের মৃত্যু ঘোষণাকারী ঊনবিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত নাস্তিক ফ্রিয়েড্রিক নিৎশে ( Friedrich Nietzsche) উপলব্ধি করেছিলেন যে, ঈশ্বরের মৃত্যু মানে জীবনের সব অর্থ এবং মূল্যবোধের ধ্বংস। আমি মনে করি যে, ফ্রিয়েড্রিক নিৎশে তার এই ধারণায় অভ্রান্ত ছিলেন।
আমাদের এখানে অবশ্য খুব খেয়াল করা প্রয়োজন। নৈতিক জীবন যাপনের জন্য আমাদেরকে কি অবশ্যই ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে হবে? বিষয়টা এখানে কিন্তু সেরকম না। আমি বলছি না যে, তা করতে হবে। আমরা কি ঈশ্বরে বিশ্বাস না করেও নৈতিক মূল্যবোধকে স্বীকৃতি দিতে পারি? প্রশ্ন সেটাও না। আমি মনে করি যে, আমরা তা পারি। বরং প্রশ্ন হচ্ছে যে, ঈশ্বর যদি না থাকতেন তবে সেক্ষেত্রে নৈতিক মূল্যবোধ বলে আদৌ কিছু থাকতো কি না?
রাসেল এবং রুজের মত আমিও ভাবার কোনো কারণ দেখি না যে, ঈশ্বরের অনুপস্থিতিতে মানুষের তৈরি সামাজিক নৈতিকতা নৈর্ব্যক্তিক হতো। ঈশ্বর যদি নাই থাকেন তাহলে আর মানুষের বিশেষ গুরুত্ব বলে কি কিছু থাকে? বৈরী এবং চৈতন্যহীন মহাবিশ্বের কোথাও হারিয়ে যাওয়া ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধূলিকণা থেকে প্রাকৃতিক দুর্ঘটনার উপজাত হিসেবে তুলনামূলকভাবে অতিসম্প্রতি বিকাশ হয়েছে মানুষের। এবং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্যক্তিগত এবং সমষ্টিগতভাবে তারা বিলোপও হয়ে যাবে। নাস্তিকতার দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছু কার্যকলাপ -- যেমন ধরুন ধর্ষণ -- সামাজিকভাবে উপকারক নয়, তাই মানব সমাজ বিকাশের সাথে সাথে তা নিষিদ্ধ হিসেবে গণ্য হয়েছে। কিন্তু এতে প্রমাণ হয় না যে, ধর্ষণ আসলেই অন্যায় কিছু। নাস্তিকতার দৃষ্টিতে আপনি কাউকে ধর্ষণ করলেও সেটা অনৈতিক নয়। কাজেই, আমাদের বিবেকের উপর চেপে বসা চরম ন্যায় বা অন্যায় বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব ঈশ্বর ছাড়া হতে পারে না।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, নৈর্ব্যক্তিক মূল্যবোধ আমাদের সমাজে বিদ্যমান রয়েছে এবং আমি বিশ্বাস করি, অন্তরের গভীর থেকেই আমরা সবাই সেটা জানি। বস্তুজগতের নৈর্ব্যক্তিক বাস্তবতার চেয়ে মূল্যবোধের নৈর্ব্যক্তিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করার খুব বেশি কারণ নেই। ধর্ষণ, নিষ্ঠুরতা, শিশু নির্যাতন শুধুমাত্র সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য আচরণই নয়। এগুলো নৈতিকভাবেও ঘৃণ্য কাজ। কিছু কিছু জিনিস সত্যি সত্যিই অন্যায়। একইভাবে, ভালোবাসা, সমতা এবং আত্মত্যাগ সত্যি সত্যিই মহৎ কাজ।
তৃতীয় বিবেচনাকে আমরা নিম্নোক্তভাবে সারসংক্ষেপ করতে পারি :
১. ঈশ্বরের অস্তিত্ব না থাকলে নৈর্ব্যক্তিক মূল্যবোধও থাকতে পারে না।
২. মানব সমাজে নৈর্ব্যক্তিক মূল্যবোধ রয়েছে।
৩. কাজেই ঈশ্বরেরও অস্তিত্ব রয়েছে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ঈশ্বর ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
হাসান মাহবুব বলেছেন:
আইচ্ছা ঈশ্বর না হয় আছে। কিন্তু তাহার নাম কি? আল্লাহ? ভগবান? নাকি মাদাগাস্কারের উপজাতিদের আরাধ্য কেউ? কারে মানুম কন তো? ভালো দেইখা একটা ঈশ্বর বাইচ্ছা দেন। ধর্মকর্ম শুরু করি। লেখক বলেছেন: ঈশ্বর নিজেই এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন : "তোমরা স্রষ্টাকে আল্লাহ বা রাহমান যে নামেই ডাকো, সকল সুন্দর নামসমূহ তো তাঁরই"।
পৃথিবীর সকল ধর্মমতেই স্রষ্টার সত্ত্বাবাচক বা গুণবাচক নামগুলি নানা ভাষায় অনূদিত। অর্থাৎ, গোলাপকে যে নামেই ডাকো, সে সুবাস বিতরণ করবেই।
সৈয়দ মবনু বলেছেন:
সহমত। এই যুক্তিগুলো খণ্ডন করা শক্ত নাস্তিকের পক্ষেও অসম্ভব বলে মনে হয়।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, কবি!
কঠিনলজিক বলেছেন:
দুই রকম নাস্তিক পাবেন #১
কোন কারণে হতাশ, বিরক্ত, দিশাহীন, যাদের বেশির ভাগ জীবন যুদ্ধে পরাজিত, সমাজ বা ব্যাক্তি কতৃক অন্যায়ের স্বীকার, ক্ষোভ বা বন্চিত হবার কারণে অথবা খুব খারাপ অবস্থান থেকে দৈবাত উত্তরন হয়েছে এবং দুরবস্হায় কারো সাহায্য না পাওয়ার কারণে নিরাশ ও অবিশ্বাসী।
#২
কোন কারণে দ্বীধা গ্রস্হ এবং তাঁরা মুলতঃ সঠিক ব্যাখ্যা বা উত্তরের অভাবে নাস্তিক ।
মুলতঃ তারা উত্তর খোঁজে ।
প্রথমশ্রেণী কে নিয়ে ভাবার কিছু নাই ।
এরা ঘটনার স্বীকার ওদের এক মাত্র অবলম্বন প্রশ্ন, ওরা কখনো কোন উত্তর গ্রহন করে না, এবং তাদের কাছেও কোন উত্তর নাই ।
ওদের লেখায় ছাগু টাগু যাই তারা বলে বা গালি গালাজ ও কটুক্তি করে আসলে প্রচন্ড অভিমান ও আক্রোশ থেকেই বলে ,
কে জানে ওদের মত কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলে আমি হয়তো আরো বেশী উশৃংখল আচরন করতাম।
এদের অনুসারী ওদের মতই উপায়ন্তরহীন জনগোস্ঠী, ওদের বিরোধিতার চেয়ে বেশি দরকার ওদের প্রতি সমবেদনা।
দ্বিতিয় শ্রেনীর বিরোধিতা,ব্যান আর গালী গালাজ করা থেকে সঠিক উত্তর দেওয়া কে অনুচিৎ মনে করি।
সকল প্রকার ব্যান ব্লগিং এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা বিরোধী , নৈতিক ভাবে কোন অবস্থায় গ্রহনযোগ্য নয়।
আবদুল হক বলেছেন:
বিশ্লেষণী মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ। "দ্বিতিয় শ্রেনীর বিরোধিতা,ব্যান আর গালী গালাজ করা থেকে সঠিক উত্তর দেওয়া কে অনুচিৎ মনে করি।"
বুঝলাম না।
লেখক বলেছেন: লিঙ্কের ভেতরে লিঙ্ক। দেখে পড়তে ইচ্ছে হয়েছে। প্রিয়তে রেখেছি।
লেখক বলেছেন: পড়ে বলছো? মনে হয় না!
ভন্ডপি২ বলেছেন:
ভাল বিনোদন। পুরান একটা প্রশ্ন জিগাই। যুক্তি জিনিসটা কি ঈশ্বর সৃষ্ট? যদি বলেন হ্যা তাইলে ঐটা দিয়া কি ঈশ্বরকে প্রমান করতে পারবেন? এই রকম "প্রমান" হইল "কোরআন বলসে আল্লাহ আছে, কাজেই আল্লাহ আছে" এই জাতীয়। আর যদি বলেন "না" তাইলে তো আপনেও নাস্তিক। লেখক বলেছেন: বিনোদনকে কেউ খারাপ বলে না।
'সৃষ্টি' শব্দটা বস্তুর জন্যে প্রযোজ্য। যুক্তিকে বস্তু ধরে নিচ্ছেন কোন যুক্তিতে?
ধ্রুব তারা বলেছেন:
যদিও নাস্তিক দার্শনিকরা শত শত বছর ধরে ঈশ্বরের অনস্তিত্ব প্রমাণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছেন, কিন্তু কেউই এখন পর্যন্ত ফলপ্রসূ কোন যুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন নি।এক্ষেত্রে একটা বড় ব্যাপার হচ্ছে কোন কিছুর অস্তিত্ব না থাকার আগে প্রমান করতে হবে তার অস্তিত্ব আছে। ধরুণ কেউ বলল যে বোহেমিয়া একটি কাল্পনিক শহর এটা প্রমাণ কর। তাহলে খুব স্বাভাবিক ভাবেই আপনি বলবেন যে, এ শহরের অস্তিত্বের কোন প্রমান নেই তাই এর অনস্তিত্বে আমি বিশ্বাসী। ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেই নাস্তিকেরা ঈশ্বরের অনস্তিত্বের পক্ষে সায় দেবে। এখন যা নেই তা না থাকার প্রমাণ চাওয়াটা একটু অদ্ভুত হয়ে দাড়ায় না!!
১.
এই শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম গণিতবিদ ডেভিড হিলবার্ট বলেন যে, 'বাস্তবে কোথাও অসীমকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এটা প্রকৃতিতেও নেই, আবার যুক্তিসঙ্গত চিন্তার বৈধ ভিত্তিও জোগান দেয় না..... অসীমের জন্যে যে ভূমিকাটি পড়ে থাকে তা হচ্ছে একমাত্র ধারণা'। কিন্তু এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে যে, যেহেতু অতীত ঘটনাসমূহ ধারণা নয় বরং বাস্তব, কাজেই অতীতের ঘটনাসমূহ অবশ্যই সসীম হতে বাধ্য। ফলে, অতীতের ঘটনাসমূহ অতীতের দিকে অনন্তকাল পর্যন্ত যেতে পারে না। বরং, বিশ্বজগত কোথাও না কোথাও থেকে শুরু হয়েছে।
আমি আপনার মতামতের সাথে একমত। অসীম কে তাই ইদানিংকালে অসঙ্গায়ীত হিশেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমার প্রশ্নও এক-ই। কোন কিছু তাই আদিকাল হতে চলে আসতে পারে না। তার সৃষ্টি আছে এবং সে সৃষ্টির আবার একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। এক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন হচ্ছে তবে ঈশ্বর-এর সৃষ্টি হয়েছে কখন। ঈশ্বর-এর সূচনালগ্ন কোথায়? আপনিই বিজ্ঞানীদের বরাতে বলছেন, অতীতের ঘটনাসমূহ অতীতের দিকে অনন্তকাল পর্যন্ত যেতে পারে না। বরং, বিশ্বজগত কোথাও না কোথাও থেকে শুরু হয়েছে। ঈশ্বর কিন্তু এ প্রশ্নের বাইরে যেতে পারে না আর যদি ঈশ্বর এ প্রশ্নের ঊর্ধ্বে উঠে কোন এক অসীম বা অসঙ্গায়িত কাল হতে অস্তিত্ববান হয়ে থাকেন, তবে কি বিজ্ঞানীদের মহাবিশ্ব শূণ্য থেকে সৃষ্ট বা অসীম সময় হতে বিদ্যমান এ দুটি মন্তব্যের সাথে এক হয়ে যায় না?
৩.
আমি ২নং-এ আমার যুক্তির অংশ টেনে বলব যদি ঈশ্বর থেকে থাকে তবে মহাজাগতিক বা প্রাকৃতিক যে ডিজাইন তার চাইতে বহুলাংশে জটিল হওয়া উচিৎ ঈশ্বরের ডিজাইন। কারন তাঁর ক্ষমতা অসীম। তাহলে তাঁর এত ক্ষমতা যদি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ডিজাইন হতে পারে, তবে প্রকৃতি হতে পারবে না কেন?
আর নৈর্বেত্তিক বা সামাজিক মূল্যবোধ কিন্তু সমাজে সমাজে ভিন্ন। ঈশ্বর কেন সকল নৈর্বেত্তিক মূল্যবোধ এক করেননি। কেন তিনি এখনো আফ্রিকা বা ইন্দোনেশিয়ায় কিছু কিছু আদিবাসীদের জন্য ক্যানাবলিক হওয়াটাকে নৈতিকতার বাইরে ফেলেননি? তারাও ধর্ম পালন করে। যদি তারা ভুল কোরে করে থাকে তবে কেন ঈশ্বর তাদেরকে সঠিক পথে আনছেন না (দুর্গম অঞ্চলে বসবাসের জন্য সাধারণ মানুষ তাদের যেহেতু নৈতিকতার পথে আনতে পারছে না, তবে কি এটা ঈশ্বরের দায়িত্ব না যে না জেনে ভুল পথে থাকা মানুষকে সত্যের পথে নিয়ে আসা?)।
বড় মন্তব্যের জন্য দুঃখিত...
লেখক বলেছেন: "এক্ষেত্রে একটা বড় ব্যাপার হচ্ছে কোন কিছুর অস্তিত্ব না থাকার আগে প্রমান করতে হবে তার অস্তিত্ব আছে।"
কর্তা ছাড়া ক্রিয়া হয় না, তেমনি সৃষ্টিও সম্ভব নয় স্রষ্টা না থাকলে। তাই আমি স্রষ্টায় বিশ্বাসী। এই বিশ্বাস অপসারণ করার যুক্তি কী?
তাছাড়া, বিশ্বাসটাই স্বাভাবিক, মানুষের প্রকৃতিগত। তাই স্বভাবের দাবিতেই কেউ বিশ্বাসী হতে পারে। কিন্তু অবিশ্বাস অস্বাভাবিক ও নেতিবাচক। তাই অবিশ্বাসকেই প্রমাণিত হতে হবে আগে।
"ঈশ্বর-এর সৃষ্টি হয়েছে কখন। ঈশ্বর-এর সূচনালগ্ন কোথায়? আপনিই বিজ্ঞানীদের বরাতে বলছেন, অতীতের ঘটনাসমূহ অতীতের দিকে অনন্তকাল পর্যন্ত যেতে পারে না।"
আল্লাহ সময় সৃষ্টি করেছেন, তাই তিনি সময়ের অধীন নন। অতএব 'ঈশ্বরের সৃষ্টি কখন' প্রশ্নটি অবান্তর। আমরা সময়হীনতা কল্পনা করতে পারি না, এই না-পারাটা যে মানবিক দুর্বলতা, এমনকী তা-ও উপলব্ধি করতে পারি না।
"যদি ঈশ্বর থেকে থাকে তবে মহাজাগতিক বা প্রাকৃতিক যে ডিজাইন তার চাইতে বহুলাংশে জটিল হওয়া উচিৎ ঈশ্বরের ডিজাইন। কারন তাঁর ক্ষমতা অসীম। তাহলে তাঁর এত ক্ষমতা যদি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ডিজাইন হতে পারে, তবে প্রকৃতি হতে পারবে না কেন?"
ঈশ্বরের সঙ্গে "হতে পারা" ক্রিয়াটি প্রযোজ্য নয়। কেননা তাঁর শুরু নেই। তিনি 'হন নি', বরং ছিলেন। প্রকৃতি 'হয়েছে', তাঁর দ্বারাই হয়েছে।
বড় মন্তব্যের জন্যে বড় ধন্যবাদ।
উপল_বাংলা বলেছেন:
++++++......বুঝি না নাস্তিক হালাগো এত বুধধি তো তেনারা কিল্লাইগা no bell পায় না...
লেখক বলেছেন: তাই তো!
স্তব্ধতা' বলেছেন:
যাক আস্তিকতা নাস্তিকতার তর্কে একটা পোষ্ট পাওয়া গেলো যেখানে একটু কথা বলা যায়।
‘যদিও নাস্তিক দার্শনিকরা শত শত বছর ধরে ঈশ্বরের অনস্তিত্ব প্রমাণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছেন, কিন্তু কেউই এখন পর্যন্ত ফলপ্রসূ কোন যুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন নি’’----আস্তিকেরা যদি শুধুমাত্র বিশ্বাসের ভিত্তিতে ইশ্বরের অস্তিত্ব এর বিশ্বাসে সক্ষম হন তাহলে নাস্তিকেরাও একটা বিগব্যাং এর উপর বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের ‘প্রারাম্ভ’তে বিশ্বাস করতে পারেননা কেনো?
‘সত্যি সত্যি অসীমের উপস্থিতি আমাদেরকে স্ববিরোধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। এর অর্থ হচ্ছে অসীম কোন বাস্তবতা নয় বরং এটা মূলত আমাদের মস্তিষ্কের একটি ধারণা মাত্র।’---------অসীমের যদি কোন অস্তিত্ব না থাকে, ঈশ্বরের অস্তিত্বের সাথে অসীমের অস্তিত্বের যে সম্পর্ক (ঈশ্বর অসীম) তার কোন অস্তিত্ব থাকে কি? যদি ঈশ্বরের অস্তিত্বের অসীমতা আমরা মেনে নেই তবে আমাদের ‘অসীমের’ উপস্থিতিটা মেনে নিতে হয়।আর যদি ঈশ্বরের অস্তিত্বে অসীমতা না থাকে তবে ঈশ্বর নশ্বর এবং তাহলে ‘স্রষ্টা’ এবং ‘সৃষ্টির’ কোন পার্থক্য থাকে কি?
একবার বলছেন, ‘যা কিছু তৈরি হয়েছে তার পেছনে কারণ রয়েছে’, আবার বলছেন, ‘স্বাভাবিক ব্যবস্থা অনুযায়ীই স্থান এবং কালের কারণ অবশ্যই কারণহীন’……………দু’টো দ্বান্দ্বিকতার দোষে দুষ্ট হয়ে গেলোনা?
‘কীভাবে একটা সময়হীন কারণ (timeless cause) বিশ্বজগতের মতো একটা সাময়িক প্রতিঘাত (temporal effect) সৃষ্টি করতে পারে?’............যেটাকে সাময়িক প্রতিঘাত বলছেন, সেটাকে যদি ‘কারনের’ দ্বারা সৃষ্ট ‘প্রতিঘাত’ বলি তাহলে কি ভুল হবে?আপনার কথা অনুযায়ী কারন যদি সময়হীন হয়, আর কারনটাকে যদি ‘আঘাত’ ধরি তাহলে কিন্তু পরবর্তীতে ‘প্রতিঘাত’ এর সম্ভাবনা থেকেই যায় এবং মধ্যবর্তী কারও হস্তক্ষেপ (আপনার কথামতো ঈশ্বরের হস্তক্ষেপ) ছাড়াই।এবং সেই প্রতিঘাত যদি ‘বিশ্বব্রক্ষ্মান্ড’ হয় মধ্যবর্তী কারও হস্তক্ষেপ ছাড়াই কিন্তু সেই প্রতিঘাত’ এর সৃষ্টি সম্ভব।
‘নৈতিক জীবন যাপনের জন্য আমাদেরকে কি অবশ্যই ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে হবে? বিষয়টা এখানে কিন্তু সেরকম না। আমি বলছি না যে, তা করতে হবে। আমরা কি ঈশ্বরে বিশ্বাস না করেও নৈতিক মূল্যবোধকে স্বীকৃতি দিতে পারি? প্রশ্ন সেটাও না। আমি মনে করি যে, আমরা তা পারি’’---------এইটা আপনার বলা শ্রেষ্ঠ বক্তব্য।ধ্রুব সত্য।এই সত্যটাই সবাই উপলব্ধি করুক। পরবর্তীতে বলা কথাগুলোতে যুক্তি থেকে সরে এসেছেন, তাই আর তর্ক করছিনা।চমৎকার লেখাটির জন্য আমার ধন্যবাদ গ্রহণ করুন।
স্তব্ধতা' বলেছেন:
@ধ্রুবতারা: চমৎকার বলেছেন।
লেখক বলেছেন: আপনিও।
সন্যাসী বলেছেন:
নাস্তিকতার দৃষ্টিতে আপনি কাউকে ধর্ষণ করলেও সেটা অনৈতিক নয়। কাজেই, আমাদের বিবেকের উপর চেপে বসা চরম ন্যায় বা অন্যায় বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব ঈশ্বর ছাড়া হতে পারে না। ============
আর এগোতে পারলাম না। দু:খিত। আপনাকে আমার কিছুই বলার নেই। মাথায় পানি দেন।
লেখক বলেছেন: "আর এগোতে পারলাম না। দু:খিত।"
আপনার না-পারার ব্যর্থতা দুঃখজনক! অনেকে এগুতে পারে, কেউ কেউ পারে না। লোকে যেমন বলে, হাতের পাঁচ আঙুল সমান নয়। আপনিও তেমনি বুড়ো আঙুলের মতো খাটো। ধন্যবাদ দিয়ে আপনাকে আর খাটো করতে চাই না, শেষে আবার অণুবীক্ষণ ছাড়া ব্লগে আপনাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, পরেই পড়ুন। নইলে কফি ঠাণ্ডা হয়ে যাবে!
কঠিনলজিক বলেছেন:
আবদুল হক বলেছেন: বিশ্লেষণী মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ। "দ্বিতিয় শ্রেনীর বিরোধিতা,ব্যান আর গালী গালাজ করা থেকে সঠিক উত্তর দেওয়া কে অনুচিৎ মনে করি।"
বুঝলাম না।
বলতে চাইছি অনেকে রাগের মাথায় গালি গালাজ করে আবার আবেগের তাড়নায় ব্যান করার দাবী জানায়, তাদের কে ব্যান না করে আপনার মত যুক্তি দিয়ে আলোচনা করা টা কেই উচিৎ মনে করি।
লেখক বলেছেন: গোলটা এখন ভাঙলো। 'উচিত' এর বদলে 'অনুচিত' লিখেছিলেন।
যুক্তি জিনিষটা মানুষের কর্ম। মানুষ হলো সসীম জ্ঞানী। ঈশ্বর হলেন অসীম। সসীম জ্ঞান দিয়ে অসীমকে বুঝতে গিয়ে কেউ যদি বিভ্রান্ত হয়ে ঈশ্বাস নেই বলেন তবে আমরা তার সীমাবদ্ধতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে পারি। আমার বুঝে আসে না আমাদের আস্তিক বন্ধুরা এইটা নিয়ে এত তর্ক করে সময় নষ্ট করছেন কেনো?
লেখক বলেছেন: মহাকালের পথিক বলেছেন : "যুক্তি জিনিষটা মানুষের কর্ম। মানুষ হলো সসীম জ্ঞানী। ঈশ্বর হলেন অসীম।"
যেখানে ঈশ্বর আছেন নাকি নেই তা নিয়ে তর্ক হচ্ছে, সেখানে আপনি যদি দাবি করেন ঈশ্বর অসীম জ্ঞানী, কেমন শোনায় ব্যাপারটা?
ধ্রুব তারা বলেছেন:
আমার প্রশ্ন কিন্তু সেটাই আপনার মন্তব্যে আপনিই স্বীকার করছেন আপনি কোন একটা অস্তিত্বে বিশ্বাস করে থাকেন যা চিরকালীন থেকে চলে আসছে। শুরুতে ডেভিড হিলবার্টের যুক্তি দিয়ে বললেন, বস্তুত অসীম বলে কিছু নেই সেটাকে কি আপনার পরবর্তী মন্তব্য ঈশ্বর সর্বদা ছিলেন এই পয়েন্ট কন্ট্রাডিক্ট করছে না? রেশিওনাল ভাবে চিন্তা করলে দুটো যুক্তি কিন্তু একত্রে খাপ খায়না্।
আমার উত্তর আবারও এই কথা-যুক্তি জিনিষটা মানুষের কর্ম। মানুষ হলো সসীম। ঈশ্বর হলেন অসীম। সসীমের সীমাবদ্ধতা নিয়ে অসীমকে বুঝতে গিয়ে কেউ যদি বিভ্রান্ত হয়ে ঈশ্বাস নেই বলে তবে আমরা তার সীমাবদ্ধতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে পারি। আমার বুঝে আসে না আমাদের আস্তিক বন্ধুরা এইটা নিয়ে এত তর্ক করে সময় নষ্ট করছেন কেনো? নাস্তিক দাবীদারদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন আতেল। তারা সর্বদা-ই আতলামীতে মজা পান। তর্কটা শুধু শুধু তারাই শুরু করেন। এই তর্কটা আমার মতে অলস দেমাগের কারনে সৃষ্টি হয়েছে। তর্ক করে পৃথিবীর কেউ যেমন ঈশ্বর আছেন তা একেবারে প্রমাণ করতে পারবেন না, তেমনি ঈশ্বর নেই তাও প্রমাণ করতে পারবেন না। তাই আমার মতে এটা তর্কের কোন বিষয় নয়। তা নিয়ে যারা তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে থাকেন তারা মূলত অলস দেমাগী। ইঙলিশে একটা প্রবাদ আছে-এমটি মাইণ্ড ডেবল হাউস।
ভন্ডপি২ বলেছেন:
লেখক ভাই, আল্লাহ সময় সৃষ্টি করতে পারে কিন্তু যুক্তি স্রষ্টব্য কোন জিনিস না? যুক্তি কি তাইলে? ইহা আসলো কোথা থেকে?
লেখক বলেছেন: যুক্তি একরকম ধারণা। যে ধারণার ধারক মানুষ। এটি মানুষই তৈরি করে।
পারভেজ আলম বলেছেন:
যুক্তি একরকম ধারণা। যে ধারণার ধারক মানুষ। এটি মানুষই তৈরি করে। যুক্তির স্রষ্টা মানুষ। আল্লাহ না। যাউক, মানুষও তাইলে এমন কিছু সৃষ্টি করতে পারে যেইটা আল্লায় পারে না। ভালো তো।
লেখক বলেছেন: দর্শন আলোচনার জন্যে আরো সূক্ষ্ম মনোযোগ দরকার। আমি "তৈরি" শব্দটি বলেছি। আপনি উদ্ধৃতিতে বলেছেন "সৃষ্টি"। দু'টোতে ফারাক আছে।
পারভেজ আলম বলেছেন:
এখন হাতে সময় নাই। তবে আপনার কার্যকারণ সূত্র নিয়া পরে কিছু বলবো।
লেখক বলেছেন: স্বাগত!
পারভেজ আলম বলেছেন:
লেখক বলেছেন: দর্শন আলোচনার জন্যে আরো সূক্ষ্ম মনোযোগ দরকার। আমি "তৈরি" শব্দটি বলেছি। আপনি উদ্ধৃতিতে বলেছেন "সৃষ্টি"। দু'টোতে ফারাক আছে। অবশ্যই। দর্শন আলোচনার জন্য সূক্ষ্ম মনোযোগ দরকার। আমার কাছে বাংলা একাডেমীর দুইটা দর্শন পরিভাষা কোষ আছে, একটা পুরান আর একটা নতুন। সৃষ্টি আর তৈরি এই শব্দ দুইটার পার্থক্য নিয়া কিছু পরিভাষা কোষ দুইটায় পাইলাম না। এখন এই পার্থক্য যদি আপনার নিজের তৈরি কোন দর্শন পরিভাষা কোষে থাকে তাইলে আমি মনোযোগ দিলেই কি আর না দিলেই কি।
লেখক বলেছেন: ঘাঁটাঘাটির জন্যে ধন্যবাদ।
তবে পরিভাষাগত তফাতের অনুপস্থিতি অর্থগত পার্থক্যের সম্ভাবনাকে নাকচ করে না।
বাংলা একাডেমীর সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধানের ২য় সংস্করণে লেখা হয়েছে:
তৈরি -- নির্মাণ, গঠন।
সৃষ্টি -- নতুন পদার্থের উৎপাদন।
ধর্মতত্ত্বসমূহে শব্দ দু'টির পার্থক্য নিয়ে বিস্তর আলোচনা আছে। স্রেফ "কোষ"-এ আবদ্ধ হয়ে আছেন কেন, বুঝলাম না।
পারভেজ আলম বলেছেন:
বাংলা একাডেমীর সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধানের ২য় সংস্করণে লেখা হয়েছে:
তৈরি -- নির্মাণ, গঠন।
সৃষ্টি -- নতুন পদার্থের উৎপাদন। আজব। আপনে নিজেই বললেন দর্শন আলোচনা করতাছেন আপনে। সুতরাং, আমি ভাবলাম আপনে দর্শনের ভাষায় আলোচনা করতে চাইতাছেন। সাধারণ মানুষের ভাষা আর দর্শনের ভাষায় কিঞ্চিত পার্থক্য আছে। আমি তাই দর্শন পরিভাষা কোষের কথা বললাম। এখন আপনে যদি ডিকশনারি ঘাইটা দর্শনের পরিভাষা খুঁজতে যান তাইলেতো সমস্যা। আর যদি নিজের মতো দর্শনের ভাষা বানান তাইলেতো কিছু বলার নাই।
পারভেজ আলম বলেছেন:
যুক্তি একরকম ধারণা। যে ধারণার ধারক মানুষ। এটি মানুষই তৈরি করে। ভাই, মনে করেন, আপনার কথা মাইনা নিলাম। এখন যুক্তি ক্যামনে একধরণের ধারণা হয় একটু বুঝাইয়া দিবেন, আমি বুঝতাছিনা। আর এই জিনিষটা মানুষ ক্যামনে তৈরি করে?
তৈরি -- নির্মাণ, গঠন।
২।অজ্ঞতার ধারণা থেকে আরেকটা যুক্তি আস্তিকরা প্রায়ই দিয়ে থাকেন। দুনিয়ায় অনেক ব্যাপার-স্যাপার আছে যা আমরাএখনও ব্যাখ্যা করতে পারি না। অবশ্যই ঈশ্বর ঐ জিনিসগুলো তৈরি করেছেন। এর প্রথম ধারণাটা সত্য, আমরা যদি সবকিছু ব্যাখ্যা করতে পারতাম তাহলে বিজ্ঞান থাকত না, বিজ্ঞানের বিভাগগুলো সব 'বিজ্ঞানের ইতিহাস' বিভাগ হয়ে যেত।
আমরা কি তাহলে অন্ধকার অজ্ঞতাকে তুলে ধরতে চাই?
কাকপাখি ২ বলেছেন:
+++++
প্রিয়তে,
Read This:
যেই কারনে নাস্তিকরা বেওকুব (Reason Why Atheists are Stupid)
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















