মানুষ সমাজ তৈরি করেছে, আর আমি বানিয়েছি একটা গুহা। দৃশ্যত সমাজে বিচরণ করলেও বস্তুত আমি বাস করি নিজস্ব গুহায়। আপনাকে বিনয় দেখাতে গিয়ে 'গুহা' বলছি, নইলে কবির আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারতাম 'ব্যক্তিক বিশ্ব'’। এ কারণেই আমি কখনো ভাবতে পছন্দ করি না যে সমাজ আমাকে কীভাবে দেখছে। বরং আমি সমাজকে কীভাবে দেখছি, আমার কাছে তা-ই গুরুত্বপূর্ণ।
হয়তো আমি একটা অসামাজিক কাণ্ড করেছি। কিন্তু তা ঝোঁকের বশে কিংবা অন্যায়ের প্রবণতা থেকে নয়, করেছি খুব ভেবেচিন্তে, যুক্তির সমর্থন নিয়ে। জানি, ক্রিয়ার কারণ ও প্রবণতা খোঁজা আইনের কর্ম নয়। তাই ন্যায়পরায়ণতাও সবসময় আইনানুগ নয়। আত্মপক্ষ সমর্থন করতে চাইছি না, আমি খোলাখুলি বলতে চাইছি যে এ নিয়ে আমার কোনো অপরাধবোধ নেই। কারণ আমার মানবিক বিবেক বলছে, অসামাজিক হলেও অমানবিক কিছু আমি করি নি।
আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ্ই সর্বোচ্চ ন্যায়পরায়ণ ও প্রজ্ঞাময়। তাই ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে তাঁর দেয়া মানদণ্ডই চূড়ান্ত। এ বিশ্বাস থেকে আমি মানুষের সহজাত ও রচিত সমস্ত নিয়ম ও দণ্ডকে উপেক্ষার শক্তি পাই। আমি ন্যায়কর্তা আল্লাহর বিশেষ দূত নই, নগণ্য দাস। স্বভাবতই অন্যায় করি এবং সেজন্যে দুঃখিত হই। ক্ষমা বা দণ্ডও প্রত্যাশা করি আল্লাহর কাছেই। সমাজের মানুষ বা মানুষের সমাজ আমার জিন্দাবাদ করলো না নিন্দাবাদ, তাতে কিছুই আসে যায় না। আমি আদতেই 'সামাজিক' হবার দায়বোধ করি না। তবে সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের কাছে এইটুকু নিবেদন করবার দায়বোধ করি যে, আমাকে নিয়ে বিব্রত হবার দরকার নেই। নেতিবাচক সিদ্ধান্তের জন্যে আমি নিজ থেকেই তৈরি হয়ে আছি। শ্রদ্ধা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


