somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... এটা কি ওমর খৈয়ামের কবিতা? তোমায় আমায় কৌতুহলে
যে কটি দিন কাটিয়ে যাব প্রিয়ে
সংগে রবে সুরার পাত্র
অল্প কিছু আহার মাত্র
আরেকখানি ছন্দ মধুর কাব্য হাতে নিয়ে।




কেউ কি জানেন? ওমর খৈয়ামের হলে অনুবাদ কে করেছে? কবিতা বিষয়ে আমি একদম আনাড়ি তাই কবিতাপ্রেমীরা মাইন্ড খাবেননা। অনেক আগে একটা বইয়ের ২য় পৃষ্ঠায় সুন্দর হস্তাক্ষরে এই লাইনগুলো লেখা ছিল। আজকে আবার হঠাৎ এই লাইনগুলোর দেখা পেলাম। তাই জানার ইচ্ছে। লাইনগুলো সুন্দর না খুব?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28816291 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28816291 2008-07-03 05:04:50
অধ্যাপক হ্যারি সেলডন ওরফে নরাধমকে অভিনন্দন। http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28811587 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28811587 2008-06-20 05:46:23 বিচিত্র আইকিউ-পরীক্ষা সাথে একটা ফাও শ্লোক।
কহেন কবি কালিদাস
পথে যেতে যেতে।
নাই তাই খাচ্ছস,
থাকলে কোথায় পেতে?



মহারাজা চন্দ্রগুপ্তের পরামর্শদাতা তক্ষশিলায় জন্মগ্রহণকারী মহাপুরুষ সাধকবাবা চাক মুনির পুত্র বলেছেন:

"আহার নিদ্রা ভয় মৈথুনানি
সমানি চৈতাদি নৃনাং পশুনাম।
জ্ঞানী নরানামধিকো বিশেষ্যে।"

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28811194 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28811194 2008-06-19 05:25:24
ইসলাম অবমাননা আর কতিপয় পর্যবেক্ষণ।
"গ্রামের কোন এক খাঁ খাঁ দুপুর। গৃহিনীরা খুব ব্যস্ত তাদের স্বামী কৃষকদের খাবার তৈরীতে। কৃষকরা সারা সকালবেলা ক্ষেতে অনেক পরিশ্রম করে গোসল সারতেছে গ্রামের পুকুরে। এমনসময়ই হঠাৎ আওয়াজ উঠল জোরে "ইসলাম ডুবে যাচ্ছে, ইসলাম ডুবে যাচ্ছে"। গ্রামের এত সাচ্চা মুসলমান থাকতে ইসলাম ডুবে যাবে তা হতে পারেনা। তাই সবাই দৌড়াতে থাকল যেদিক থেকে আওয়াজ আসতেছিল সেদিকে। যেতে যেতে একটা খালের পাড়ে গেল সবাই। দেখল নুরুল ইসলাম নামে গ্রামের একজন মদ্যপ মদ খেয়ে মাতাল হয়ে খালে পড়ে গেছে। নুরুল ইসলাম ডুবে যাচ্ছে। ইসলাম ডুবে যাচ্ছে।"


১৯৯১ সালের নির্বাচনে আমাদের এলাকা থেকে আ'লীগে দাঁড়িয়েছিল নাজিম উদ্দিন। ভদ্রলোক অত্যন্ত ভালমানুষ, খুবই ধার্মিক। দানশীলতার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। বিএনপি থেকে দাঁড়িয়েছিল ওয়াহিদুল আলম। চিটা বলে একনামে পরিচিত। ধার্মিক তো দূরের কথা। কিন্তু নাজিমউদ্দিনকে ভোট দিলে ইসলাম চলে যাবে, বিসমিল্লাহ্‌ উঠে যাবে, ভারত দেশ দখল করে ফেলবে, সর্বোপরি মসজিদে উলু পড়বে। তাই ইসলামপ্রেমী জনগণ ইসলামকে বাঁচানোর স্বার্থে ওয়াহিদ সাহেবকে ভোট দিলেন। তিনি পরবর্তীতে একটা মসজিদে ভুয়া চেক দিয়েছিলেন! আমার এলাকার লোকজন ইসলাম রক্ষার জন্য খুবই মরিয়া ছিলেন। তবে নামাজ পড়তে কাউকে পাওয়া যায়না। বেশিরভাগ ইসলাম রক্ষা করবে এরকম জনগণ শুক্রবারে ১ বার মসজিদে যায়, ফজরের নামাজে কস্মিনকালেও পাওয়া যায়না তাদের। অন্যলোকের হক মেরে খায়, সুদ-ঘুষ সবই সমানে চলে। বউয়ের বাপের কাছ থেকে যৌতুক না নিলে বউয়ের জীবন জাহান্নাম বানিয়ে ফেলে, কিন্তু ইসলাম আর বিসমিল্লাহ রক্ষার জন্য প্রথম কাতারে আছেন। আমার এক খুব ধার্মিক বন্ধু বলেছিল বাংলাদেশের মানুষ ধার্মিক না, ধর্মভীরু অথবা হুজুগে ধর্মপ্রেমিক বলা যায়। ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়া খুব কঠিন, কিন্তু মিছিল করে ভাংচুর করে ইসলাম রক্ষা করা খুবই সহজ।

তাসলিমা নাসরিনকে যখন দেশ থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ি। স্কুলের সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মিছিলে যেতে হয়েছিল তাসলিমা নাসরিনের ইসলাম অবমাননার প্রতিবাদস্বরুপ। মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিল শিবিরের এক পাতিনেতা(এখন নেতা হয়েছে)। সে পরবর্তীতে অনেকবার চুরির জন্য ধরা খেয়েছে। টেম্পু চুরির অপরাধে অনেক মার খেয়েছে, জেল খেটেছে। তাসলিমার গালে গালে, জুতা মার তালে তালে। শ্লোগাণে মুখরিত আকাশ-বাতাস। ইসলামপ্রেমী সাচ্চা মুসলমানরা জেগে উঠেছে তাসলিমার ইসলাম অবমাননার বিরুদ্ধে। আমরা মিছিলে খুব জোশের সাথে শ্লোগান দিচ্ছি। উল্লেখ্য তাসলিমা কে, তিনি কি বলেছেন সেসব সম্পর্কে আমাদেরও কোন ধারণা নেই, নেতৃত্ব দেয়া শিবির নেতারও কোন ধারণা নেই। পরে যখন দশম শ্রেণীতে পড়ি তাসলিমা নাসরিন সম্পর্কে আবছা ধারণা পেয়েছি। "লজ্জা" বইটা হতে আসল। পড়ে দেখলাম, কিন্তু ইসলাম অবমাননার কোন কিছু খুঁজে পাইনি। বাংলাদেশে যে হিন্দুদেরকে বিভিন্নভাবে রাখা হচ্ছে সেটা তিনি ফ্যাক্টস আর ফিগার দিয়ে ভালমতে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। বাবরী মসজিদের ভাংগার সময় জামাতের নেতৃত্বে যে হিন্দুদের উপর স্টিমরোলার চালানো হয়েছিল সেটা লজ্জায় ভালমতে এসেছিল। সাহিত্যমান হিসেবে ধরতে গেলে বইটা সাহিত্যমান উর্ত্তীন হয়না সেটা বলাই বাহুল্য। তাসলিমা নাসরিনের বেশিরভাগ লেখাই সাহিত্যমান উর্ত্তীণ হয়না। কিন্তু যে কটু এবং নিষ্ঠুর সত্য তিনি তুলে ধরেন তা আমাদের পঁচণশীল সমাজের প্রতিমূর্তী। "ফরাসি প্রেমিক", "লজ্জা", "নির্বাচিত কলাম" আর "ক" পড়ার সুযোগ হয়েছে। "নির্বাচিত কলাম" খুবই ভাল হয়েছে, "ক" কিছু সত্যকে তুলে ধরলেও তাসলিমা নাসরিনের সাম্প্রতিককালের মানসিক প্রচন্ড চাপের অস্থিরতা দ্বারা আক্রান্ত। "ফরাসি প্রেমিক" ভালই বলা যায়, যদিও পুরোপুরি সাহিত্যমান উর্ত্তীণ না। "লজ্জা" বইটাতে ইসলামের অবমাননা কিভাবে হয়েছে সেটা আমার মাথায় ঢুকেনা। বড়জোড় বলা যায় জামাতের আসল মুখ চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। অপ্রিয় সত্য বলার অপরাধ মিথ্যা বলার চেয়েও মারাত্বক। তাই তাসলিমা নাসরিনকে নিজের প্রিয় দেশ ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় নাগরিকতার জন্য ভিক্ষা করতে হয়। আমাদেরই দেশের এক মেয়ে শুধু অপ্রিয় সত্য বলার অপরাধে হায়দারাবাদে মৌলবাদীদের হাতে মার খায়, এই অপমান কি তাসলিমার? কখনই না। এ অপমান আমাদের মুক্তমনা সকল মানুষের। জাতি হিসেবে এটা আমাদের সকলের জন্য চপেটাঘাত, তথাকথিত আধুনিক ভাবধারীদের জন্য অপমানস্বরুপ।

দাউদ হায়দারের কবিতা তেমন পড়া হয়নি। আমি কবিতা বুঝিনা আসলে। ফিকশানই আমার প্রিয়। তবে যারা কবিতা বুঝেন তাদের কথাবার্তায় বুঝেছি দাউদ হায়দার খুবই মানসম্পন্ন আধুনিক কবি। তিনি বাংলাদেশের প্রথম মৌলবাদিতার শিকার। শুনেছি তিনি নাকি মক্কাকে বেশ্যালয়ের সাথে তুলনা দিছিলেন, তাই তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল। পরে দেখলাম তিনি বলেছিলেন(মোটামোটি ইংরেজী থেকে বাংলা অনুবাদ):

"আমি লাখনাওয়ে এসেছি। আমার কি উচিৎ না বাইজীবাড়িতে যাওয়া? না গেলে লোকে কি বলবে? মক্কাতে এসে কা'বা শরীফ না দেখলে কিরকম দেখায়?"

এখানে কিভাবে ইসলামের অপমান হল বুঝলাম না। লর্ডসকে তো ক্রিকেটের মক্কা বলা হয়। তাই বলে কি একটা খেলার স্টেডিয়ামকে মক্কার সাথে তুলনা দেওয়া হচ্ছে? এটার মাধ্যমে বুঝানো হচ্ছে মক্কা যেমন কা'বার জন্য বিখ্যাত, লর্ডস ক্রিকেটের জন্য এবং লাখনাও বাইজী নাচের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু এটা বুঝার জন্য যে পরিমান বাংলা জানা দরকার সে পরিমান বাংলা হুজুর আর জামাতিদের ঘটে নেই। উর্দুতে লিখলে হয়ত বুঝত।

১৯৯৬-২০০১ আ'লীগ আমলে খালেদা জিয়ার লেখাপড়া না জানা নিয়ে সংসদে কোন এক বিএনপি'র এমপি বলেছিল, মহানবী (সাঃ) ও তো উম্মি ছিলেন। উম্মি হয়ে যদি ইসলামের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ নবী হতে পারেন তাহলে খালেদা জিয়া এইট পাশ হয়ে দেশ চালাতে পারবেনা কেন? কথাটায় যুক্তি আছে এবং স্পষ্টত এখানে কোনভাবেই মহানবী (সাঃ) এর অবমাননা হয়নি। কিন্তু আ'লীগের লোকজন এটা নিয়ে গোলমাল করতে চেয়েছিল, ইস্যু বানাতে চেয়েছিল যে খালেদা জিয়া নিজেকে মহানবী (সাঃ) এর সাথে তুলনা করেছে। তবে তারা সফল হয়নি। কারন জামাত তখন বিএনপি'র পক্ষে আর তাছাড়া মোল্লারাও জামাত অথবা বিএনপি'র পক্ষে থাকে সাধারণত। একই কথা যদি কোন লেখক বলত অথবা শেখ হাসিনা বলত তাহলে কিন্তু সেটা অনেক বড় ইস্যু হত আর হয়ত দেশ থেকেই পালাতে হত।

কোনটাতে ইসলামের অবমাননা হয় আর কোনটাতে হয়না সেটা বুঝার মত বুদ্ধি জামতিদের খুব ভালমতেই আছে। কিন্তু রাজনৈতিক মাঠ গরম রাখা আর রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার জন্য তারা ইসলামকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে থাকে। যখন কার্টুনিস্ট আরিফ "মোহাম্মদ বিড়াল" নিয়ে কার্টুন করে তখন জামাতিরা ভালমতেই জানে যে সেটা মুহাম্মদ (সাঃ) কে অবমাননা করে লিখা হয়নি। তারা নিজেরাই নিজেদের কিশোরকন্ঠে "মোহাম্মদ টাকি মাছ" নিয়ে কৌতুক করেছে। এটা শুধু নির্দোষ কৌতুক, ব্যক্তি মুহাম্মাদ (সাঃ) কে ছোট করার কোন ইচ্ছে আরিফের ছিলনা। আমাদের মধ্যে সব নামের পূর্বে যে "মুহাম্মাদ" বসানোর প্রবণতা সেটার উপর ভিত্তি করেই নির্দোষ কৌতুক-কার্টুনটা রচিত। অবশ্য গোআ, সাইদী, নিজামী এদের কারো নামের সাথেই মুহাম্মদ নেই। তাই আরিফের কার্টুনে বিড়ালের আগে মু্হাম্মাদ লাগানোতে জামাতের কিছু যায় আসেনা, বরং তারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার জন্য এটাকে একটা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে, "প্রথম আলোর মত জামাত-বিরোধী পত্রিকাকে শায়েস্তা করার এই তো সুযোগ" এটা মনে করে করে খুশিতে আটখানা হয় আর মনে মনে হয়ত আরিফকে ধন্যবাদ জানায়। নিজেদের স্বার্থের জন্য এই যে ইসলামকে ব্যবহার করা সেটার জন্য তাদের কি শাস্তি হতে পারে পরকালে? তাদের সম্পর্কেই তিরমিজির হাদিসটা আবার বলি:

"শেষ জমানায় কিছু প্রতারক সৃষ্টি হবে। তারা ধর্মের নামে দুনিয়া শিকার করবে। তারা মানুষের নিকট নিজেদের সাধুতা প্রকাশ ও মানুষকে প্রভাবিত করার জন্য ভেড়ার চামড়ার পোষাক পড়বে (মানুষের কল্যাণকারী সাজবে)। তাদের রসনা হবে চিনির চেয়ে মিষ্টি। কিন্তু তাদের হৃদয় হবে নেকড়ের হৃদয়ের মতো হিংস্র। (তিরমিজী)"

ইসলামের অবমাননা বিষয়টা এখন ক্লিশে হয়ে গেছে। সেই রাখাল বালকের "বাঘ এসেছে" চিৎকারের মত। তাই এখন আসলেই ইসলামের অবমাননা হলে কেউ আর মাথা ঘামায়না। ইসলামের অবমাননা হয় তখন যখন “কোরান হেদায়েতের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু নাজাত বা মুক্তির জন্য নয়”- এই মারাত্মক কথা মওদুদী বলে ‘তাফহিমাত’ গ্রন্থের ৩১২ পৃষ্ঠায়। ইসলামের অবমাননা হয় তখন যখন একবার ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম বলে পরে সেই নারীদের শাড়ীর নিচে গিয়ে বসে থাকে। ইসলামের অবমাননা হয় তখন যখন ৭১-এ ইসলামের নামে লক্ষ লক্ষ মানুষকে জামাতিরা হ্ত্যায় সহযোগীতা করে আর লক্ষ মা-বোনকে ধর্ষণের জন্য পাকিদের হাতে তুলে দেয়। ইসলামের অবমাননা হয় তখন যখন সুদকে হালাল বানিয়ে ব্যবসা করা হয়। যখন অন্য মুসলমানকে রাজনৈতিক কারনে হত্যা করা হয়, যখন ক্যাম্পাসে ইসলামের নামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়, যখন বাবরী মসজিদ ভাংগার পর বাংলাদেশে হিন্দুদেরকে জামাতিরা ভারতের উগ্র হিন্দুদের কাজকর্মের জন্য অমানসিক নির্যাতন করে, যখন ২০০১ সালের নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুদেরকে শুধমাত্র আ'লীগে ভোট দেওয়ার অপরাধে বর্বর আক্রমণ চালায় তখনই আসল ইসলামের অবমাননা হয়। অথচ এসব ইসলামের অবমাননার সময় আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকি। যখন যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করে তার বাপের বাড়ীতে গরীব বাপের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়, যখন দেশের সবজায়গায় ঘুষের দৌড়াত্বের জন্য কোন কাজই ঘুষ ব্যতিরেকে করা যায়না, যখন সমাজের সর্বস্তরে অন্যায় আর অবিচারের জয়ধ্বনি শুনা যায় তখনই আসল ইসলামের অবমাননা হয়। যখন শুধুমাত্র ভোটে জিতার জন্য সাইদী আ'লীগকে ভোট দিলে ইমান থাকবেনা বলে ঘোষণা দেয়, যখন ইসলামি সম্মেলনের নাম করে সেখানে সাইদী অশ্লীল কথাবার্তার ফুলঝুরি ছোটায় তখনই ইসলামের অবমাননা হয়।

যত তাড়াতাড়ি "ইসলামের অবমাননা" আর "ইসলাম" কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে, ক্ষমতায় যাওয়ার পথ হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করব তত তাড়াতাড়ি ইসলামের সঠিক বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28809951 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28809951 2008-06-15 23:27:02
সকল জামাত বিরোধী, রাজাকার বিরোধী পোস্টের সংকলন। ১.গোলাম আজমের ৭১ নামা - অপরাধী
২.রাজাকার প্রতিরোধের সত্য ঘটনা । - জুবেরী
৩.জামাতের ভারপ্রাপ্ত আমির রাজাকার ইউসুফের ৭১'র ভুমিকা । (নোট) ইচুব্যাও রাজাকার - আবুল বাহার
৪.রাজাকার চিনুন-আবদুল কাদের মোল্লা - পুরোহিত
৫.পাকসার জমিন সাদ বাদ, হুমায়ুন আজাদ এবং জামাত-বিএনপি - তন্ময়
৬.এ মাসে শিবিরের জানোয়ারেরা কী বলবে? গো-আজম স্বাধীনতার মহানায়ক!!?? - তন্ময়
৭.জামাতে ইসলামী ধর্মের প্রবক্তা মওদুদীর কিছু ইসলাম বিকৃতির নমুনা - তন্ময়
৮.জামাত শিবির - তন্ময়
৯.পাঞ্জেরি (উচ্চ মাধ্যমিকের কবিতার প্যারোডি) - তন্ময়।
১০.দালাল আইনে সাজা হয়েছিল জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমিরের - ঘনাদা
১১.কি তামশা!! সব জামাতিদের কথা বলা আর লেখার ফরম্যাট একই ! - তন্ময়
১২.স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জামাত-শিবির কেন সন্ত্রাসী সংগঠন - অমি রহমান পিয়াল
১৩.যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে একটি দুর্দান্ত লেখা (ইমেজ ফাইল) - অমি রহমান পিয়াল
১৪.পথভ্রষ্ট জামায়েতি ইসলাম নিয়ে ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞানের কিছু সদালাপ। - ভ্রুকে্ষপিত জ্ঞান
১৫.জামায়াতের নির্বাহী কমিটির ১১ জনই রাজাকার - সবাক
১৬.সবাকের রাজাকার বিষয়ক সব পোস্ট - সবাক
১৭.১৯৭১-এ দৈনিক সংগ্রাম (পর্ব-৩) - সবাক
১৮.সবাকের শিবির বিষয়ক যত পোস্ট - সবাক
১৯.শিবির আমার পুরাতন প্রেমিকা----------পর্ব-৬ - সবাক
২০.এইদিনেই গণআদালতে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলো কুখ্যাত ঘাতক ও দালাল গোলাম আযম -অরপি
২১.খুনী আল-বদরের উত্তরসূরী ছাত্র শিবির : উত্থানের ভয়াবহ দলিলপত্র- অরপি
২২.ইতিহাসের পাঠ দিও না, আমরা জানি তোমরা কি শেখাতে চেয়েছো - অরপি
২৩.চলুন খুব কাছ থেকে একজন ঘাতক দেখে আসি - অরপি
২৪.চলুন খুব কাছ থেকে একজন ঘাতককে দেখে আসি ২ - অরপি
২৫.রাজাকারিতা এবং তার শাস্তি : ৯ নম্বর সেক্টর - অরপি
২৬.জামাতি দাওয়াতে মওলানার জবাব
২৭.গণতদন্ত কমিশনের রিপোর্ট : কামারুজ্জামান - অরপি
২৮.বুদ্ধিজীবি হত্যার রূপকার আল-বদর - অরপি
২৯.প্রপোগান্ডা, স্টপ জেনোসাইড ও জহির রায়হান - অরপি
৩০.তাহলে জিয়ার মুখেই শুনুন - অরপি
৩১.১ ডিসেম্বর, ১৯৭১; বুধবার
৩২.৬ ডিসেম্বর, সোমবার ১৯৭১ - অরপি
৩৩.৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১; শনিবার - অরপি
৩৪.রাজাকার! আহ রাজাকার!! - অরপি
৩৫.ঘুরে আসি রায়ের বাজার বধ্যভূমি : যুদ্ধাপরাধের আরেকটি প্রমাণ - অরপি
৩৬.রাজাকার প্রজন্মের প্রতি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের আহবান- এসো সত্য ও ন্যায়ের পথে - অরপি
৩৭.বিচার সম্ভব, চাই সরকারের সদিচ্ছা - অরপি
৩৮.দালালদের বিচারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদের খসড়া - অরপি ৩৯.গোলাম আযম : পাকিস্তান রক্ষা তহবিল - অরপি
৪০.মওদুদীনামা : দ্য মোস্ট ডেঞ্জারাস ম্যান ইন পাকিস্তান
৪১.মৃত্যুর আগে শহীদ জননী জাহানার ইমামের শেষ নির্দেশ - অরপি
৪২.18 ডিসেম্বর '71 : একটি ছবির গল্প - অরপি
৪৩.রাজাকার, জামাত এবং ইত্যাদি....-অরপি
৪৪.তাহাদের কর্মকাণ্ড - অরপি
৪৫.তাহাদের কর্মকাণ্ড-2 - অরপি
৪৬.এবং মওদুদী - অরপি
৪৭.নিজামীর আবেদন - অরপি
৪৮.তাহাদের কর্মকাণ্ড-3 -অরপি
৪৯।যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই কি চাই না - আরাশি
৫০.জামাতে ইসলামী : বাংলাদেশের জন্য হুমকি- এস্কিমো
৫১.মুক্তিযুদ্ধের ফসল বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী রাজনৈতিক দল জামাতের রাজনীতি করার অধিকার নেই! - এস্কিমো ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28807986 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28807986 2008-06-10 02:32:32
সহীহ মুসলিম মতে গোলাম আজম, নিজামি, মুজাহিদ, সাইদী এবং অন্যান্য জামাতিদের ইমানের স্তর। "নবী কারীম (সাঃ) এরশাদ ফরমাইয়াছেন যে ব্যক্তি কোন অন্যায় কাজ হইতে দেখে, যদি হাত দ্বারা বন্ধ করিবার শক্তি রাখে তবে উহাকে হাত দ্বারা বন্ধ করিয়া দিবে। যদি এই পরিমাণ শক্তি না রাখে তবে জবান দ্বারা উহার প্রতিবাদ করিবে। যদি এই ক্ষমতাও না থাকে তবে অন্তরে উহাকে ঘৃণা করিবে। আর ইহা ইমানের সর্বনিম্ন স্তর।(মুসলিম, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)"

জামাত ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের, তাদের বাপ-ভাইদের পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছে। বাংগালী মা-বোনদেরকে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছে। জামাতের যুদ্ধাপরাধ দিনের আলোর মত পরিষ্কার। কিন্তু জামাতি ব্লগাররা প্রায়ই বলে যে জামাত নাকি কোন যুদ্ধাপরাধ করেনি। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম যে জামাত শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। জামাতিরা বলে যে বংগবন্ধু নাকি তিন লক্ষ বাংগালী হত্যাকান্ড বলতে গিয়ে ভুলে ত্রিশ লক্ষ বলে ফেলেছে। এটা যে কত বড় মিথ্যা সেটার জন্য লাইটহাউজের ব্লগে যুক্তিন্ঞের লেখা "ত্রিশ লক্ষ শহীদ: মিথ নাকি বাস্তবতা" পোস্টটা দেখুন। কিন্তু তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম যে তিন লক্ষ হত্যাকান্ড ঘটেছে। এবং আরো ধরে নিলাম এই হ্ত্যাকান্ডে জামাতের কোন সহযোগীতা ছিলনা। তার মানে জামাতিদের মতে:
১. মুক্তিযুদ্ধে জামাতিদের বিরোধিতা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, জামাত কোন যুদ্ধাপরাধ করেনি।
২. মুক্তিযুদ্ধে তিন লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছিল পাকিদের দ্বারা, সেখানে জামাতিরা তাদেরকে কোন সাহায্য করেনি।

এখন যদি এরকম ধরেই নিই, তাহলে কি দাঁড়ায়? জামাত ৭১ সালে মানব ইতিহাসের অন্যতম বড় অপরাধের/অন্যায়ের সময় অন্যায়ের পক্ষে নিয়েছে। তারা দলগতভাবে অথবা জামাতিদের বড় নেতারা কেউই ব্যক্তিগতভাবে এরকম লার্জ-স্কেলের একটা অন্যায়ের হাত দ্বারা প্রতিরোধ করেনি, জবান দ্বারা প্রতিবাদ করেনি। এমনকি অন্তরেও ঘৃণা পোষণ করেনি, এখনও করেনা। হাত দ্বারা প্রতিরোধ করেনি সেটা স্পষ্ট, কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি। জবান দ্বারা প্রতিরোধ করেনি সেটাও স্পষ্ট, কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হত্যাকান্ডের বিপক্ষে কোন বক্তব্য-বিবৃতি দেয়নি। অন্তরে ঘৃণা পোষণ করেনি সেটাও স্পষ্ট, কারণ কাউকে ঘৃণা করলে আপনি তার সাথে বসে নয়মাস যাবৎ তার পক্ষে থাকেননা। শুধু এটাই নয়, মুক্তিযুদ্ধের পরেও কোন সময়ই তারা ৭১-এ তাদের ভুমিকার জন্য ক্ষমা চাইনি। তার মানে তারা এখনও সেই অন্যায়কে ঘৃণা করেনা। মুসলিম, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ সহীহ হাদিস গ্রন্থ বলে জামাতিরাও মেনে নেয়, এমনকি উপরের হাদিসটা শিবিরের পাঠ্যসূচীতেও আছে। তাহলে এটা বুঝা যায় জামাতিদের নেতাদের ইমান খুব বেশির বেশি হল সর্বনিম্ন পর্যায়ে। সর্বনিম্ন পর্যায়ের ইমানদ্বার লোকরা কিভাবে ইসলাম আনবে? ইসলাম আনার মহান কর্মটির নেতারাই যদি সর্বনিম্ন ইমানের অধিকারী হয় তাহলে ইসলাম কিভাবে আসবে? নেতাদেরই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে পাতিনেতা, কর্মী এদের ইমানের অবস্থা কি?


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28807958 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28807958 2008-06-10 00:41:35
তুরস্কের স্কার্ফ-বিষয়ক জটিলতা: সুস্পষ্ট মানবাধিকার লংঘন। তালিবানরা যখন মহিলাদেরকে বোরখা পড়তে বাধ্য করে তখন সেটা সুষ্পষ্ট মানবাধিকার লংঘন। কারও ইচ্ছে হলে সে ন্যাংটা ঘুরবে অথবা কারও ইচ্ছে হলে সে বোরখা পড়বে। রাষ্ট্র আইন করে হিজাব পড়তে বাধ্য করা যেমন সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকার পরিপন্থী তেমনি রাষ্ঠ্র আইন করে যদি হিজাব/স্কার্ফ নিষিদ্ধ করে সেটাও মানবাধিকার পরিপন্থী। তাই তালিবানরা আইন করে হিজাব/বোরখা পড়তে বাধ্য করলে সেটাকে যদি মানবাধিকার পরিপন্থী মনে করেন তেমনি আইন করে তুরস্কে যদি কর্মক্ষেত্র বা বিশ্ববিদ্যালয়ে(যেখানে কোন ইউনিফর্ম নেই) হিজাব পড়তে নিষিদ্ধ করাও মানবাধিকার পরিপন্থী। আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমরা তথাকথিত আধুনিক মানুষেরা একেকটা ভন্ড। আমরা যদি নাস্তিক-বামপন্থি হয় তখন তালিবানদেরটাকে মানবাধিকার-পরিপন্থী মনে করলেও তুরষ্কেরটাকে আধুনিকতা মনে করব। আবার চরম প্রতিক্রিয়াশীল আস্তিকরা-ইসলামীরা তালিবানদেরটাকে মানবাধিকার লংঘন মনে করবেনা কিন্তু তুরষ্কের ব্যাপারে মানবাধিকারের দোহাই দিবে। হামাসকে জনগন যদি চায় তখন সে গণতন্ত্র আমরা মানতে রাজি না!

Universal Declaration of Human Rights:
* Article 2.
Everyone is entitled to all the rights and freedoms set forth in this Declaration, without distinction of any kind, such as race, colour, sex, language, religion, political or other opinion, national or social origin, property, birth or other status. Furthermore, no distinction shall be made on the basis of the political, jurisdictional or international status of the country or territory to which a person belongs, whether it be independent, trust, non-self-governing or under any other limitation of sovereignty.

* Article 18.

Everyone has the right to freedom of thought, conscience and religion; this right includes freedom to change his religion or belief, and freedom, either alone or in community with others and in public or private, to manifest his religion or belief in teaching, practice, worship and observance.


জাস্টিস পার্টীর বড়বড় নেতাকে ব্যান করার পরও যে পার্টীটা ক্ষমতায় আসতে পারে তাতে বুঝা যায় তাদের জনপ্রিয়তা কতবেশি। তাই তাদেরকে সংখ্যাগরিষ্ট জনতার প্রতি
নিধি বলা যায়। তুরস্ক একটা ১০০% শিক্ষিতের দেশ এবং সংখ্যাগরিষ্ট জনগন যখন ভোট দিয়েছিল জাস্টিস পার্টীকে তখন তারা জানত যে একটা ইসলামিক পার্টীকে ভোট দিচ্ছে। তাই স্কার্ফ-বিরোধী আইন রদ করার ক্ষেত্রে জাস্টিস পার্টীর অবস্থান সংখ্যাগরিষ্ট জনগনের মতামতের প্রতিফলন তাতে কোন সন্দেহ নেই। তাছাড়া কাউকে ধর্মীয় অনুশাসন পালন করতে না দেয়া বা করতে বাধ্য করাটা যেহেতু মানবাধিকার লংঘন তাই স্কার্ফ পড়তে না দেয়াটাও মানবাধিকার লংঘন। সেক্যুরালিজম যখন মৌলবাদীতার আরেক নাম হয়ে যায় তখন সেক্যুলারদেরই উচিৎ এ বিষয়ে প্রতিবাদ করা। নাহয় মৌলবাদীদের চিরন্তন বিশ্বাস যে সেক্যুলারিজম মানে ধর্মহীনতা সেটারই পালে হাওয়া লাগবে এবং খুব কম সময়ের মধ্যে সেক্যুলারিজমের মৃত্যু ঘটবে। সেক্যুলারিজম বলতে ধর্মহীনতা নয়, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে সবাইকে তার তার ধর্ম পালন করতে দেয়া। কাউকে ধর্ম পালন করতে বাঁধা দেয়া যেমন যাবেনা তেমনি নিষেধও করা যাবেনা। হিজাব পড়ে বা না পড়ে কেউ আধুনিক হয়না। আধুনিকতা মননে, শিক্ষায়-দীক্ষায়। পোশাক-সর্বস্য আধুনিকতা দেওলেপনা ছাড়া কিছুই নয়।


তাই এটা স্পষ্ট যে:
১. তুরষ্কের স্কার্ফ-বিরোধী আইন মানবাধিকার পরিপন্থী।
২. এটা দেশের সংখ্যাগরিষ্ট জনগণের মতামত বিরোধী।
৩. এটা সেক্যুলারিজম নয়, বরং মৌলবাদিতা।
৪. এখানে একটা ইমপ্লাইড ভন্ডামিও আছে। আইনটাকে রিটেইন করা হচ্ছে ইই্উ তে ঢুকার জন্য।



এ বিষয়ে ব্লগারদের ভাষ্য জানতে আগ্রহী। আমি ঠিক বুঝিনা আমরা কেন মৌলবাদীদেরকে তাদের ভাংগা-রেকর্ড বাজাবার সুযোগ করে দিই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28807609 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28807609 2008-06-09 02:02:17
আমার কিছু প্রিয় গান। http://www.youtube.com/watch?v=
http://www.youtube.com/watch?v=
http://www.youtube.com/watch?v=
http://www.youtube.com/watch?v=
http://www.youtube.com/watch?v=
http://www.youtube.com/watch?v=

১. আমাদের জাতীয় সংগীত(সুর)।
২. অসম্ভব সুন্দর চিত্রায়ন: শ্বাশত বাংলা আর জাতীয় সংগীত।
৩. নোরা জোন্সের জাতীয় সংগীতের ভায়োলিন পরিবেশনা।
৪. জাতীয় সংগীত (নৃত্যসহ)
৫. জেমসের আমার সোনার বাংলা, আমার প্রাণের বাংলা।
৬. মাহমুদুজ্জামান বাবু'র আমি বাংলার গান গায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28806463 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28806463 2008-06-05 13:34:26
আমার সোনার বাংলা, ক্ষমা কর আমায়। http://www.youtube.com/watch?v=


১.
আমি খুবই ওল্ড-ফ্যাশান্‌ড। বিশেষ করে গানের দিকদিয়ে আমি এখনও উনবিংশ শতাব্দীতে বাস করি। ব্যান্ডের গান আমার ভাল লাগতনা বেশিরভাগই। কিছু নির্দিষ্ট গান মাঝে মাঝে ভাল লাগত। বেশিরভাগ গায়ক, সুরকার, গীতিকারদের নাম আমি জানিনা, চিনিওনা। (আচ্ছা সুরকার আর গায়কের মধ্যে পার্থক্য কি?) দেশে থাকতে আমি সব মিলিয়ে ২৫/৩০টা গান শুনতাম। এগুলো বারবার শুনতে থাকতাম। দিনের পর দিন।আরো ৫০টা মত গান মাঝে মাঝে শুনতাম। রোমান্টিক গানের সংগ্রহ ছিল সব মিলিয়ে দশটারও কম। কয়েকটা গান আমি প্রতিদিন ১০/১৫ বার শুনতাম। ঘুম থেকে উঠে শুনতাম, ঘুমানোর আগে শুনতাম।খাওয়ার আগে শূনতাম, খাওয়ার সময় শুনতাম, খাওয়ার পরে শুনতাম। আমার সোনার বাংলা আমি প্রতিদিনই শুনতাম। কমপক্ষে ৫ বার। কি যে ভাল লাগায় মন ছূঁয়ে যেত। মনটাই ভাল হয়ে যেত। ইচ্ছে হত বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষকে, প্রতিটা গাছকে, প্রতি ইন্ঞি মাটিকে ছুঁয়ে দিয়ে বলি আমি তোমাদেরকে ভালবাসি। ইচ্ছে হত চিৎকার দিয়ে সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিই আমি বাংলাদেশকে ভালবাসি। আমি সোনার বাংলাকে ভালবাসি। মাহমুদুজ্জামানের আমি বাংলার গান গায় আমার ২য় ফেভারিট ছিল। এটাও খালি শুনতে থাকতাম। একনাগারে অনেক সময় সারাদিন শুনতাম। ক্লান্তি আসতনা। আমি একবার দেখি বারবার দেখি, দেখি বাংলার মুখ। হেঁড়ে গলায় গাইতেও চেষ্টা করতাম। গানের গলা আমার কাকের চেয়েও খারাপ। তবুও তার সাথে গলা মিলিয়ে গাইতাম। EUPHORIA একটা শব্দ আছে। অত্যন্ত ভাল লাগা - দেহমন উভয়ই। সঠিক বাংলা কি কেউ জানেন? আমি বাংলার গান গায় শুনলে ঠিক এই euphoria-ই লাগত। দেহ-মনে কি যেন এক আজব ব্যাখ্যাতীত ভাল লাগা। কোন কারণ নেই। শুধু গান শুনলেই ভাল লাগে। এ যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি। মনে হত আমার বাংলায় কারো কোন কষ্ট নেই। সবাই সুখী। মনে হত আমার বাংলার সবকিছু সুন্দর। আমি বাংলায় কথা কই, আমি বাংলার কথা কই। আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার, আমি সব দেখে শুনে ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার। আমি বাংলায় ভালবাসি, আমি বাংলাকে ভালবাসি, আমি তারই হাত ধরে সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে আসি। পরবর্তীতে যখন শুনলাম বাবু গানটা এক ভারতীয় বাংগালি প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের কাছ থেকে কোন অনুমতি না নিয়েই এলবাম বের করেছিল তখন এত খারাপ লেগেছিল। বাবুকে বড় হৃদয়ের মানুষ মনে হয়, কিন্তু বিবিসি থেকে পুরষ্কার নেওয়ার সময় তিনি প্রতুল মুখোপাধ্যায়কে কোন ক্রেডিট দেননি। তবে গানটা শুনতে এত ভাল লাগে না শুনে থাকতে পারিনা। এই একটা গান যতবারই আপনি শুনবেন ক্লান্তি আসবেনা। তারপরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাংগানো শুনতাম। সালাম, সালাম, হাজার সালাম শুনতাম। জয় বাংলা, বাংলার জয় শুনতাম। এগুলো কয়েকদিন পরেপরেই শুনতাম। আমার বন্ধুরা আমাকে টিটকারি মারত আমি তাদের মত হিপহপ গান শুনিনা, গানের আড্ডায় হা করে তাকিয়ে থাকি তারা কি বলে সেটা শুনি, নিজে কিছুই বলতে পারিনা। ইংরেজী গান তো কিছুই বুঝিনা। শুধু কিছু কান-ফাটানো চিৎকার মনে হত। জর্জ হ্যারিসনের "বাংলাদেশ" গানটা শুধু বুঝতাম, কারণ তার লিরিকস আমার কাছে ছিল। সেটাই শুনতাম। আমরা কি অকৃতজ্ঞ মানুষ, হ্যারিসনকে কোনদিন দেশে ডাকলামনা, তাকে কোন সম্মানই দিলামনা। অন্যান্য গানের মধ্যে আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা, আমি শুনেছি তোমরা নাকি এসব গান আর উত্তম কুমারের সিনেমার গানগুলো শুনতাম। উত্তম কুমার-সুচিত্রা সেনকে ভাল লাগত।

২.
রবীন্দ্রসংগীত সবগুলো বুঝিনা, তবুও রবীন্দ্র-সংগীত শুনতাম। ভেংগে মোর ঘরের চাবি কেন বলেছে তালা না বলে সেই রহস্য আমি উদ্ধার করতে পারিনা। কিন্তু কেন জানি মনে হয় চাবি না বলে তালা বললে সুন্দর শুনাতনা। মনে হয় ওখানে চাবি বলাটায় যুক্তিযুক্ত, যেন চাবি না বললে ভাবটা এভাবে প্রকাশ পেতনা। যদি তোর ডাকে কেউ না আসে তবে একলা চলরে। ওখানে তোর না বলে তোমার বললে কি বিশ্রী শুনাতরে বাবা! এই বুড়াটা কিভাবে যে এসব বুঝত! তোরা যে যাই বলিস ভাই আমার সোনার হরিণ চাই। এই লোকটা কিভাবে এসব সৃষ্টি করেছে? কিরকম মেধাসম্পন্ন মানুষ হলে এরকম সৃষ্টি করতে পারে? আমি নিশ্চিত বিশ্বসাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের মত মেধাবী আর কেউ আসেনি, আসবেনা। নজরুল সংগীত খুবই কঠিন লাগে্। নজরলের কবিতা পড়তাম মাঝে মাঝে। এই লোকটা কিভাবে এ্ত অল্পশিক্ষিত হয়ে এসব লিখেছে? কিভাবে সম্ভব? আমাদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায় আমরা নজরুলকে বড় দেখাতে গিয়ে কবিগুরুকে ছোট করে দেখি, আবার যারা রবীন্দ্রভক্ত তারা নজরুলকে দুচক্ষে দেখতে পারেনা। ব্যতিক্রম আছে, তবে এটাই কমন। কাউকে বড় করতে গিয়ে আমাদেরকে অন্য কাউকে ছোট করতেই হবে, নাহয় শান্তি পাইনা আমরা। আলোকিত মানুষ হওয়ার দৌড়ে যে আমরা কবে শামিল হব।


৩.
যা বলছিলাম, আমার ওল্ড-ফ্যাশান নিয়ে। আমি জানি আমি খুবই উদ্ভট। আধুনিক গান শুনেনা এরকম যুবক ছেলে পাওয়া মুশকিল। আমার বন্ধুরা তো আমাকে ছাগল বলে অনেকে এজন্য। আমার কম্পিউটারে এসব গান দেখে তারা হতাশ হয়। কিন্তু এরকম ওল্ড-ফ্যাশানড হতেই যে আমার ভাল লাগে। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি শুনলেই যে আমার মন ভাল থাকে। আমি বাংলার গান গায় শুনলেই যে আমার দেহমন অজানা অচেনা ভাল লাগায় ছুঁয়ে যায়। সালাম সালাম, হাজার সালাম শুনে আমি কেঁদে ফেলি। জেমসের "তুমি প্রতিটি পংগু মুক্তিযোদ্ধার অভিমানের সংসার " শুনে আমি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কিছু করতে না পারার যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকি। চোখে ভেসে উঠে ছোটকালে নাটকে দেখা পংগু মুক্তিযোদ্ধা রিকসা চালাচ্ছেন একপায়ে। ভাড়া কম দেয়াতে যখন যে চড়ল তাকে আরো ১ টাকা দেওয়ার কথা বলল তখন টাস করে একটা চড় খেল। আমার সেই স্মৃতি মনে পড়ে যায়। ছোটকালের সেই নাটক দেখে আমি অনেকদিন কেঁদেছিলাম। মা এসে আমাকে জড়ি্যে ধরত, মাঝে মাঝে নিজেও কাঁদত। সেই মুক্তিযোদ্ধার চড় খাওয়ার স্মৃতি মনে ভেসে উঠে যখন আমি হায়দার আলীর গানটা শুনি। জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানদের জন্য কিছুই করার নেই আমার, শুধু মাঝে মাঝে গান শুনে কান্নাকাটি করা ছাড়া। আমি দেখে যায় রাজাকাররা যখন পতাকা উড়িয়ে আমার ভাইয়ের রক্তেরাংগানো একুশে ফেব্রুয়ারীতে প্রধান অতিথি হয় তখন আমারই কোন মুক্তিযোদ্ধা ভাই ভিক্ষার থালা বাড়িয়ে দেয় পথচারীদের দিকে আর বিনিময়ে কোন গালি খায়। আমার সোনার বাংলা তুমি প্রতিটা পংগু মুক্তিযোদ্ধার অভিমানের সংসার।

৪.
বিথোভেন আর মোৎজার্টের ভক্তের অভাব নেই। বিথোভেনের নাইনথ সিম্ফনি তো লেজেন্ড। আমার কম্পিুটারের তাদের কম্পোজিশান ছিল। বিথোভেনের নাইনথ সিম্ফনী অনেকবার শুনেছি, এটার ব্যাখ্যা নেটে পড়েছি। কিন্তু কখনও আমার কাছে সেটা আমার সোনার বাংলার চেয়ে কখনও সুন্দর মনে হয়নি, শ্রুতিমধুর তো নয়ই। মাইক্রোসফট এনকার্টায় সবদেশের জাতীয় সংগীত ছিল। প্রায় সবদেশেরই জাতীয় সংগীত শুনার সুযোগ হয়েছে। আমাদের জাতীয় সংগীত বাই ফার অন্য যেকোন দেশের চেয়ে অনেক অনকে গুনে বেশী সুন্দর এবং আমাদের সারাদেশটাকেই ধারণ করে।

৫.
প্রিয় মুক্তিযোদ্ধারা, আমি তোমাদেরই উপহার দেয়া দেশের এক কুলাংগার সন্তান। তোমাদের স্বাধীনকৃত দেশেরই পেটের সাথে পিঠ লেগে যাওয়া দরিদ্র চাষীদের, গার্মেন্টসে ১৪ ঘন্টা কাজ করা বস্তিতে বাস করা আমার দেশের মেয়েদের আর মধ্যপ্রাচ্যে গায়ের রক্তকে পানি করা শ্রমের টাকার সরকারি ট্যাক্সে পড়ালেখা করেছি সেই ছোটকাল থেকে ঢাবি'তে পড়া পর্যন্ত। আমার প্রিয় মুক্তিযোদ্ধারা তোমাদেরই মুক্ত করা দেশে রাজাকারের বাচ্চারা আজ সবচেয়ে সুখে আছে। আমরা তোমাদের অযোগ্য, অথর্ব উত্তরসুরিরা তোমাদের এই অপমান দেখে কিছুই করিনা। নিজের আখের গোচানোর জন্য অন্যদেশে পাড়ি জমায়। অথবা আমার সোনার বাংলা গান শুনে মন ভাল হওয়ার ধান্ধায় থাকি। এই সোনার বাংলা পাওয়ার জন্য তোমাদের কত ত্যাগ করতে হয়েছে সেটা একবারেরর জন্যও মাথা ঘামায়না। ২৬শে মার্চ আর ১৬ই ডিসেম্বর এলে আমরা তোমাদেরকে কাংগালি ভোজ খাওয়ায়। আমাদের পেটভরে খাওয়ার স্বাধীনতা আনার জন্য তোমরা নিজের জীবনকে ত্যাগ করতে রাজি ছিলে আর আমরা বছরের ৩৬৩দিন তোমাদের কথা মনে করিনা একবারের জন্যও। প্রিয় মুক্তিযোদ্ধারা, তোমাদের সোনার বাংলার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল, আমরা তোমাদের স্বপ্নকে এখন ঠাট্টা করি। তোমাদের প্রাণের ভয় না করে যুদ্ধে যাওয়ার ইতিহাস আজ আমাদের কাছে অন্য যে কোন সাধারণ ঘটনার মত শুধুই এক অতীত, যে অতীতকে ভুলে গিয়ে সামনে তাকাতে আমাদেরকে আমাদের রাজনীতিবিদরা উপদেশ দেয়। প্রিয় মুক্তিযোদ্ধারা, আমাদেরকে ক্ষমা কর। আমি তোমাদের উত্তরসুরি হওয়ার যোগ্য নয়। বেশির থেকে বেশি হলে আমি শুধু তোমাদের দূর্দশা দেখে কিছুক্ষণের জন্য মনখারাপ করতে পারি, রাজাকারদের লাফানি দেখে রাগে কিছুক্ষণ দাঁত কিড়মিড় করে উঠে হয়ত। নিষ্ফল আক্রোশে সবাইকেই শত্রু মনে হয় হয়ত কিছুক্ষণের জন্য, এই পর্যন্তই আমার দৌড়। বড়জোড় সামহয়ারে একটা আবেগময় লেখা দিতে পারি। তোমাদের জানবাজি রাখার, বাপ-ভাইকে হারানোর, সারা জীবন পংগু থাকার, মা-বোনকে পাকিস্তানিদের হাতে হারানোর, নয়মাস প্রতিটা মুহুর্ত্য প্রাণের ভয়ে গুটিসুটি হয়ে থাকার জন্য এটাই তোমাদের জন্য আমার বিনিময়। নিজের প্রতি মাঝে মাঝে প্রচন্ড ঘেন্না হয়, সে পর্যন্তই। পরমুহুর্ত্যেই আবার নিজের ক্যারিয়ার গোচানোর জন্য কাজে নেমে পড়ি।

৬.
আজকে ইউ-টিউবে একটা বাংলা নাটক দেখলাম। আশা অপরাজেয়। দেখে মনটা এত খারাপ হয়ে গেল। তারপর থেকে "আমার সোনার বাংলা" শুনতেছি। আমার সোনার বাংলা এত বেশিবার শুনেছি এখানে আসার পর থেকে যে আমার ইন্ডিয়ান রুমমেটদেরও এখন মুখস্ত হয়ে গেছে। তাদেরকে অবশ্য আমি প্রায়ই স্মরণ করিয়ে দিই যে তাদের জাতীয় সংগীতও রবীন্দ্রনাথের লেখা। বন্দে মাতরম বংকিমের লেখা।

প্রিয় বাংলাদেশ, তোমার জন্য, তোমার মানুষের, জন্য তোমার বুকের সেরা সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য হয়ত কোনদিনই কিছুই করতে পারবনা। পারার সামর্থ্য থাকলেও হয়ত স্বার্থপরতার জন্য কিছুই করবনা। তবুও তোমাকে ভালবাসি প্রিয় বাংলাদেশ। তোমার প্রতিটা মানুষকে, তোমার প্রতিটা গাছ-পালা, নদী-খাল, তোমার প্রতি ইন্ঞি মাটি সবকিছুকে ভালবাসি।


http://www.youtube.com/watch?v=



সংযুক্তি: প্রথম ইউ-টিউব ভিডিওটা আমাদের জাতীয় সংগীত আর শেষেরটা "আমি বাংলায় গান গায়।"]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28806461 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28806461 2008-06-05 13:21:23
গোআ ঢাবি'র নির্বাচিত জিএস ছিলনা। আরেক শিবির ব্লগার অধ্যাপক দ্বীপবালকের পোস্টে অধ্যাপক(!) গোআ বিষয়ক প্রশ্ন করেছেন আমাকে। তিনি বলেছেন গোআ নাকি ঢাবি'র ঝি-Ass(GS) নির্বাচিত হয়েছিল। অথচ সে সময়ে ঢাবি'তে জিএস/ভিপি এদেরকে নির্বাচিতভাবে নয়, বরং সরকার সিলেক্ট করত। গোআ যেহেতু পাকিস্তানের প্রতি বিশ্বস্থ ছিল তাই তাকে জিএস বানানো হয়েছিল।গোআ ফজলুল হক হলের ঝি-Ass ছিল।অবশ্য সে তখনও তার আসল রুপ দেখায়নি। মাইনুল আগেও আমার পোস্টে ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে ফুটবলের ক্যাপ্টেন বানিয়ে দিয়েছিল।


মাইনুল বলেছেন: @ হ্যারি সেলডন, আপনি ভাল করে জেনে বলুন। গোলাম আজম সাহেব প্রথমে এস এম হলের জি এস নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবং সেখান থেকে ডাকসুর জি এস নির্বাচিত হন। উনি জি এস হিসাবে জিন্নাহ কে স্মারক লিপি দিয়ে ভাষা আন্দোলনের সুচনা করেন। সুতরং পাকিস্থানী শাসক দের পক্ষে থাকার প্রশ্নই উঠেনা।

মিরাজভাইয়ের ব্লগ হতে কোট করছি:


"সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অন্যান্য দাবী দাওয়ার পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণা করা ও East Bengal Legislative Assembly (EBLA) তে গৃহীত প্রস্তাবের পূর্ণ বাস্তবায়ন করার দাবীতে একটি দাবীনামা প্রস্তত করা হয় । দাবীনামাটি তৈরী করেন আব্দুর রহমান চৌধুরী (পরবর্তীতে বিচারপতি) । দাবীনামাটি পাঠ করার দায়িত্বটি ডাকসুর তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্টের উপর ন্যস্ত হলেও তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় স্টুডেন্টস একশন কমিটির নেতারা "বাংলাকে হিন্দুয়ানী ভাষা" হিসাবে প্রচার করার পাকিস্তানী চেষ্টার কারনে দাবীনামাটি পাঠের দায়িত্ব দেওয়া হয় তৎকালীন জি এস গোলাম আজমকে । দাবীনামা প্রস্ততের সাথে জড়িত ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুবসহ স্টুডেন্টস একশন কমিটির নেতৃবৃন্দ । এই দাবীনামা প্রস্ততিতে গোলাম আজমের কোন সংশ্লিষ্টতা ছিলোনা ।


উল্লেখ্য তৎকালীন সময়ে ডাকসুর ভিপি এবং জি এস সরকার কর্তৃক মনোনীত হতো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলির ছাত্র সংসদের ভিপি এবং জি এসরা এই দায়িত্ব পর্যায়ক্রমিকভাবে পালন করতো । গোলাম আজম ফজলুল হক মুসলিম হলের জি এস হিসাবে মুসলিম লীগ সরকার কর্তৃক ঢাকসুর জি এস পদে মনোন্নয়ন লাভ করেন ।

গোলাম আজম সমাবেশে দাবীনামাটি পাঠ করেন কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত দাবীটি এড়িয়ে যেয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সুযোগ সুবিধা সংক্রান্ত কয়েকটি দাবী মেনে নেন । রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত দাবীটি এড়িয়ে যাওয়ায় সমাবেশস্থলে অসন্তোষের সৃষ্টি হয় । (৮)

এখানে একটি ব্যাপার উল্লেখ করতে হবে যে, গোলাম আজম রাজনৈতিক ভাবে মুসলিম লীগ সরকারের নীতির একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন । রাজনৈতিক অবস্থানের বিপরীতে ডাকসুর জি এস পদের কারণে সমাবেশে দাবীনামা পাঠের মধ্যে দিয়েই গোলাম আজমের ভাষা আন্দোলনে ভূমিকার অবসান হয় । এরপর থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত কোন আন্দোলনে গোলাম আজমের অংশগ্রহণ বা কোন ভূমিকা রাখার কথা কোথাও জানা যায়না ।"




নিচের লিংকগুলোতে গুতা মারেন:
১. মিরাজভাইয়ের ব্লগ হতে: গোআ নির্বাচিত জিএস ছিলনা
২.ইরানী এবং জামাতি ব্লগার আশরাফের ব্লগ হতে।
৩.মিরাজভাইয়ের ব্লগ থেকে নেয়া রোবটের পোস্ট।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28806359 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28806359 2008-06-05 04:02:31
জামাতে ইসলামিতে যোগদান করা আর কাজ করা কোন মুসলমানদের জন্য জায়েজ হবেনা। মাওলানা শামসুল হক ফরিপুরীর মতে জামাতে ইসলামিতে যোগদান করা আর কাজ করা কোন মুসলমানদের জন্য জায়েজ হবেনা। জামাতি কারো পিছনে ইমাম বানিয়ে নামাজ পড়াও জায়েজ হবেনা। তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত থেকে খারিজ হয়ে গেছে।


মাইনুল, আওরংগজেব, ফজলে ইলাহী এবং অন্যান্য জামতিদের কাছে প্রশ্ন জামাতি ইসলামী যেহেতু ৭১'এ দেশের মানুষের সাথে বেইমানী করেছে তাই তারা দেশের শত্রু। হাক্কানী আলেমদের মতে তারা ইসলামেরও শত্রু। তাহলে কোন যুক্তিতে আপনারা জামাতকে সমর্থন করেন? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28805346 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28805346 2008-06-02 04:48:42
শহীদ, শাহাদাৎ এবং জিয়া - বিতর্কিত বিষয়, বিতর্কিত পোস্ট, বিতর্কিত আলোচনা।


ইসলাম রক্ষার যুদ্ধে নিহতদেরকে সাধারণত শহীদ বলা হয়। অনেক আলেম বলেন যে শুধু ইসলাম রক্ষা নয়, কোন বড় অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত অবস্থায় কেউ নিহত হলে তাকেও শহীদ বলা যাবে। তাই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে স্বদেশ রক্ষায় নিহত সবাই শহীদ। আমার কাছে অবশ্য শহীদটা এখানে তেমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার না। তারা বাংলাদেশের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট সন্তান - এটাই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে যত মানুষ জন্ম নিবে তারা এইসকল সূর্যসন্তানের কাছে আজীবন ঋণী- এটাই সবচাইতে বড়কথা।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগত জীবনে একজন সৎ মানুষ ছিলেন বলে জানি। এবং মৃত্যুর সময় তার সহায়সম্পত্তি কিছু না থাকাটাই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। বাংলাদেশের মত একটা দেশে এতদিন প্রেসিডেন্ট থাকার পরও এত সৎ থাকাটা আমাকে বিস্মিত করে। মুক্তমনা'রা যাই বলুক এজন্য তার চরম শত্রুও তাকে শ্রদ্ধা করবে। কিন্তু তাকে কেন শহীদ বলা হয় সেটা আমার মাথায় ঢুকেনা। তিনি কি স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন? না। তিনি কি ইসলাম ধর্মের কোন যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন? না। তিনি কি কোন বড় অন্যায়কে প্রতিহত করার সময় নিহত হয়েছিলেন? না। তাহলে কোন যুক্তিতে তাকে শহীদ বলা হয়? "শহীদ" না হয়েও তাকে শহীদ বললে সেটা কি গোআ'কে অধ্যাপক বলার মত হয়ে গেলনা?

উল্লেখ্য বংগবন্ধুকে কেউ শহীদ বলেনা দেখি। "স্বপরিবারে নিহত হন" এটাই সবসময় দেখে এসেছি। শহীদের প্রচলিত সংজ্ঞায় বংগবন্ধুও শহীদ না। কিন্তু জিয়া কেন শহীদ?

উল্লেখ্য আমার আ'লীগের প্রতি একটু পক্ষপাতিত্ব আছে সেটা স্বীকার করি এবং সেটার যথেষ্ট কারণও আছে। কিন্তু এই পোস্টে আ'লীগ/বিএনপি কোনটাই না হয়ে কি আমরা শহীদ জিয়ার জীবনকে ক্রিটিক্যালি এনালাইজ করতে পারি? শেখ মুজিবের জীবন নিয়ে যত কথা/লেখা হয়েছে সেই বিষয়ে জিয়াকে নিয়ে তত লেখা/কথা হয়নিই বলতে গেলে। যা কিছু আছে তাও তার প্রতি গদগদে প্রশংসাপূর্ণ লেখাই বেশি চোখে পড়েছে। অথবা জনকন্ঠটাইপ চরম প্রতিহিংসামূলক লেখা মনে হয়েছে। ব্লগারদের জিয়া সম্পর্কে কি ধারণা? শুধু প্রশংসা আর সমালোচনা না করে ফ্যাক্টসহকারে বলুন। শহীদের ব্যাপারটা নিয়েও কথা বলা যায়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28804386 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28804386 2008-05-30 03:49:27
এইসব ব্যান, আনব্যান, এইসব ভাললাগা।
সেই প্রশ্নে পরে আসলাম না হয়। আমার নিজের ল্যাপটপ নেই। রুমমেটের ল্যাপটপ ব্যবহার করি। কিছুদিন হল তার ল্যাপটপ খারাপ হয়ে গেছে।তাই লাইব্রেরীতে গিয়ে কম্পিউটার ইউজ করতে হয়। সামার ভ্যাকেশান চলতেছে। আমার কাজকর্ম নেই বললেই চলে। লাইব্রেরী আমার বাসা থেকে পাক্কা আধা ঘন্টার হাটার পথ। গাড়ী থাকলে ৩/৪ মিনিট লাগে। আমার গাড়িও নেই। তবুও প্রতিদিন ৩০ মিনিট হেঁটে লাইব্রেরীতে যাই। বন্ধুরা যখনই ফোন করে আমি বলি লাইব্রেরীতে আছি। তারা মনে করে আমি লেখাপড়া করে উল্টিয়ে ফেলতেছি। তাদেরকে সেরকম ধারণাই দিই। হাহাহা......। কাউকে বলি রিসার্চ করতেছি! কাউকে বলি প্রেজেন্টেশান আছে! এসবই সত্যি। রিসার্চ বা গরু খোঁজা অথবা প্রেজেন্টশান আছে। কিন্তু সেজন্য না। এত পথ হেঁটে লাইব্রেরীতে যাই শুধুমাত্র সামহয়ারে আসার জন্য। মেইল এসে এসে আমার জিমেইল আর ইয়াহু একাউন্ট ভর্তি হয়ে যায়। ১ লাইনে রিপ্লাই দেওয়া যায়। তবুও আলসেমি করে জবাব দিইনা। কালকে দিব জবাব এরকম ভাবতে ভাবতে ১৫/২০ দিন পরে যখন সেন্ডাররা আমি মরে গেছি কিনা জিজ্ঞেস করে তখনই শুধু রিপ্লাই দিই! লন্ড্রি থেকে কাপড় এনে খাটের উপর রেখেছি আজ ১২ দিন। ক্লজেটে রাখতে সময় লাগবে ১০ মিনিট। আমি আলসেমীর জন্য সেটা করিনা। মেঝেতে ঘুমাচ্ছি তবুও খাট থেকে কাপড়গুলো ক্লজেটে রাখার ইচ্ছে হয়না। এরকম ছোটখাট আলসেমীর খোঁজ করলে দেখা যাবে জীবনটা আলসেমীতেই পার করলাম।
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেই অলস আমিই সামহয়ারে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দিই। পোস্টের পর পোস্ট কমেন্ট করতে থাকি। ৩০ মিনিট হেঁটে এত কষ্ট করে লাইব্রেরীতে যাচ্ছি। শুধু সামহয়ারে সময় কাটানোর জন্য। সামহয়ারে আছেটা কি? ঐ যে কিছু ব্লগারেরই সমষ্টি, তাই ত। আর কিছু তো না। সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলায় লিখার জন্য সবাই একত্রিত হওয়া। আমাদের বেশিরভাগই কেউ কাউকে দেখিনি, চিনিনা, দেখার কোন সম্ভাবনাও নেই। তবুও কি এক অদৃশ্য বন্ধন। আমরা ঝগড়া করি, মতপার্থক্য হয় আমাদের মধ্যে। সবাই মিলে ড়াজাকারও তাড়াই আবার।

সেই প্রথম থেকেই ব্যান আর আনব্যানের খেলা চলতে থাকে। যে ব্লগারদের বাদ দিলে সামহয়ারের কোন অস্থিত্বই থাকেনা সেই ব্লগারদেরই ব্যান করে রাখা হয়, বেশিরভাগ সময়ই শিশুসুলভ কারণে। প্রতিবারই আনব্যান চাই বলে পোস্ট আসে অনেক। কিন্তু সামহয়ার কখনও তার সিদ্ধান্ত থেকে একপাও নড়েনা। এস্কিমোভাই আর রাশুদার মত জনপ্রিয় ব্লগাররাও ব্যান হয় অজানা কারণে অথবা অযৌক্তিক কারণে। ব্লগারদের ৯৯% লোকই তাদের আনব্যান চাওয়ার পরও কোন গতি হয়নি।

শারফু, তামিম, অচুদাকে ব্যান করা হয়েছে। আরিফুর রহমান সহ আরো কয়জনকে করা হয়েছে কে জানে। তাদেরকে আনব্যান চেয়ে পোস্ট দেয়ার কোন ইচ্ছে ছিলনা। এই পোস্টের উদ্দেশ্যও সেটা নয়। যেটা করে কোন লাভ নেই সেটা করতে আমি চাইনা। আমাদের প্রোগ্রামে একজন চাইনিজ টিচার আছেন। কি পড়ান নিজেই জানেননা। একজন ছাত্রও নেই যে তার উপর সন্তুষ্ট। কোর্স শেষে শিক্ষকদের মূল্যায়ন ফর্ম ফিলাপ করতে হয় আমাদেরকে। আমি সব ক্রাইটেরিয়াতে চাইনিজ শিক্ষককে ১০০% পজিটিভ রেটিং দিয়েছি। আমার ক্লাশমেটরা জিজ্ঞেস করে আমি এরকম কেন করলাম। সবার মত আমারও তো উচিৎ ছিল খুবই নেগেটিভ রেটিং দেয়া। আমি বললাম গত ২৫ বছর ধরে এই শিক্ষক এখানে আছেন। গত ২৫ বছর ধরে ছাত্ররা তাকে নেগেটিভ রেটিং দিয়ে যাচ্ছে। অথচ তিনি তার জায়গায় বহাল তবিয়্যতেই আছেন। তাই আমি নেগেটিভ রেটিং দিলেও তার বালও ছিড়তে পারবনা। শুধু শুধু নেগেটিভ রেটিং দিয়ে কি লাভ?

এইসব ব্যান আনব্যানের খেলা চলতেই থাকবে। আমরা সবাই চেঁচামেচি করব, পোস্ট দিব। আনব্যান চেয়ে মডারেটরদেরকে হয়ত নেগেটিভ রেটিং দিব! কিন্তু কতৃপক্ষ তার সিদ্ধান্তেই অটল থাকবে। আমাদের শিশুর মত অনুরোধকে, আবেদন দেখে তারা হয়ত মনে মনে বলে "ছাগল কোথাকার!" তারপর পোস্ট প্রথম পাতা থেকে গায়েব হয়ে যাবে। হয়ত যে পোস্ট করেছে তাকেই ব্যান করবে। এভাবেই চলবে। কতৃপক্ষ ভালমতেই জানে যে আমরা সামহয়ারকে ভালবাসি, তাই যতই চেঁচামেচি করি, যতই রাগ দেখায়, আমাদের যাবার কোন পথ নেই।

তাই আজ আর আমি তামিম, শারফু, অচুদা এবং আরো যারা মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তবুদ্ধির পক্ষের ব্লগাররা ব্যান খেয়েছেন তাদের আনব্যান চাইবনা। কতৃপক্ষের কাছে হাতজোড় করে মিনতি করবনা। আমার এপোস্ট প্রথম পাতা থেকে সরালেও কিছুই বলবনা অথবা রিপোস্ট করবনা।

শুধু তামিম, শারফু, অচুদা এবং অন্যান্য যারা ব্যান খেয়েছে(ন) তাদেরকে বলব "তোমাদেরকে মিস করতেছি ভীষনভাবে। তোমরা ছাড়া ব্লগটা ভীষন পানসে। তোমাদের সাথে ইন্টারেকশানের জন্য মুখিয়ে আছি।"

আর সামহয়ারের কতৃপক্ষকে ১০০% পজিটিভ রেটিং দিলাম, যেমন দিয়েছিলাম চাইনিজ প্রফেসরকে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28804113 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28804113 2008-05-29 12:21:18
রবীন্দ্রনাথ, প্রিয় রবীন্দ্রনাথ। http://www.youtube.com/watch?v=


আমি গানের তেমন ভক্ত না। আমি-তুমি-চাঁদ-তারা মার্কা গান কোনদিনই ভাল লাগেনা আমার। আমার বেশিরভাগ সময়ই যায় ফিকশান পড়ে। ভাল কোন থ্রিলার পেলে আমি সারারাত না ঘুমিয়েই শেষ করি। এজন্য আমার রেজাল্টের অবস্থা কেরোসিন। গান না শুনলেও রবীন্দ্র সংগীতের জন্য আমি পাগল প্রায়। সবগুলো বুঝিনা, যেগুলো বুঝি সেগুলো শুনি খালি। একটা গান সারাদিন শুনি। শুনতে থাকি আর এর পরে কয়েকদিন গানটা মাথায় ঘুরতে থাকে। এসএসসি'র পর গল্পগুচ্ছ উপহার পেয়ে ছিলাম কারও কাছ থেকে। গল্পগুচ্ছ প্রত্যেকটা গল্প পড়ে মনে হত এই ঘটনা তো আমার জীবনের সাথেই সম্পর্কযুক্ত। প্রত্যেকটা গল্পই যেন আমার জন্য লেখা। সেই থেকে আমার রবীন্দ্রনাথের সাথে আত্মার বন্ধন শুরু। পরে সুনীল গাংগোপাধ্যায়ের প্রথম আলো পড়ে রবীন্দ্রনাথের প্রতি প্রচন্ড খেপে গেছিলাম! কিন্তু সেটা যাস্ট কিছুদিনের জন্যই। আবার সেই ভাল লাগা শুরু হতে দেরি হয়নি। রবীন্দ্রনাথের অনেক গানের মাঝে মাঝে কিছু লাইনের অর্থ বুঝিনা, অনেক গানের পুরোটাই বুঝিনা। তবুও শুনি, কেমন জানি একটা ভাল লাগাই ছূঁয়ে যায় মন।

আমার যদি কোনদিন ক্ষমতা থাকে তাহলে আমি আইন করে সমস্ত ধরণের সাহিত্য চর্চা, গান রচনা বন্ধ করে দিব। রবীন্দ্রনাথের পর সাহিত্য আর গান চর্চার কোন দরকার নেই আমাদের আর।


ইউটিউবে একজন ফ্রেন্চলোক রবীন্দ্রনাথের গান গাচ্ছে। ভাল লাগল খুব।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28803243 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28803243 2008-05-27 08:06:43
বীক্ষণ-১: আওয়ামিলীগ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে মনে হয় আওয়ামিলীগ শব্দটার মত আর কোন শব্দ জড়িয়ে নেই। সেই মুসলিম লীগ ভেংগে যে আ'লীগ হল এরপর থেকে বাংলাদেশী বাংগালির সমস্ত কিছুই যেন আ'লীগকে কেন্দ্র করেই। মুসলিম লীগ থেকে যদি আ'লীগ না হত, তাহলে ব্যাপারটা কিরকম হত? কল্পণা করা যায়না। আমাদের স্বতন্ত্র সত্বাটা কি তৈরী হত? আমার মনে হয় না। আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা বাংলাদেশী বাংগালি, মুসলমান পরে, সেই বোধটা প্রথম আসে আ'লীগের মাধ্যমেই। সেই বোধটাকে কেন্দ্র করেই আমাদের স্বাধীনতা, সংস্কৃতি, ভাষা, দেশপ্রেম সবকিছুই আবর্তিত। তাই যে কোন বাংলাদেশী বাংগালি, সে যে পার্টীরই হোক, তার আ'লীগের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিৎ। কারণ আ'লীগ না হলে আমরা এখনও শুধু পাকিস্তানি নিম্নমানের-মুসলিমই থেকে যেতাম। পাকিস্তানিরা হত উচ্চমানের মুসলিম, ইমানদার মুসলিম। আমাদের অস্তিত্ব আ'লীগের দান। আমাদের পরিচয় আ'লীগের মাধ্যমেই শুরু। আমাদের সত্বা, তাও আ'লীগের জন্যই সম্ভব হয়েছে।

২.
বংগবন্ধুকে আমি ঠিক আ'লীগার মনে করিনা। যেসময়ে তিনি ছিলেন তখন তিনি দলমত নির্বিশেষে সবারই ছিলেন, অন্তত স্বাধীনতার কয়েকবছর পর পর্যন্তও। এই একটা মানুষের দিকে তাকালে মনে হয় "হ্যাঁ, সকল প্রতিকূলতাকে ভেদ করে আমরা জেগে উঠবই, আমাদের রুখার মত কেউ নেই।" বংগবন্ধুর যুবককালের ছবি দেখলে মনে হয় He was destined to give us a destiny of our own. আমি নিজে সবসময় ভাল স্পিচের ভক্ত। কিন্তু কেউ কি কোনদিন ৭ই মার্চের ভাষণের মত ভাষন দিতে পারবে? জাতির সবচেয়ে সংকটজনক মুহুর্ত্যে তার মুখ দিয়ে যা বের হয়েছে সেটা কি আর কারও পক্ষে সম্ভব? আমি আরো অনেক বক্তব্য শুনেছি। যেসব বক্তব্য খুবই বিখ্যাত তার বেশিরভাগ শুনার/পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কিন্তু কোনটাই ৭ই মার্চের ধারেকাছেও আসেনা। আমাদেরকে স্বাধীনতা দেওয়া বাদে আমার কাছে বংগবন্ধুর সবচেয়ে বড় সাফল্য মনে হয় ভারতের সৈন্যদেরকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফেরৎ পাঠানো। জাপানকে এখনও ২য় বিশ্বযুদ্ধের মার্কিন সৈন্যকে নিজের দেশে রাখতে হচ্ছে, তাদের জন্য হাজার হাজার ডলার খরচ করতে হচ্ছে। এইকাজটা তিনি এত সহজে কিভাবে করলেন সেটা চিন্তা করলেই শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় এই মানুষটার প্রতি মাথা নুইয়ে আসে।

৩.
যাই হোক, বংগবন্ধুর গুনগান গাওয়া আমার এই পোস্টের উদ্দেশ্য নয়। বরং আ'লীগকে আমি যেভাবে দেখি সেটাই বলতে চেষ্টা করব। একজন সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড়গুণ মনে হয় অন্যকে বিশ্বাস করা। কিন্তু একইগুনটা রাজনীতিবিদদের সবচেয়ে বড়দোষ তাতে সন্দেহ নেই। বংগবন্ধুও এই দোষটাই সবচেয়ে বড় দোষ। তাজউদ্দিন আহমেদকে মোশতাকের কানকথায় বিশ্বাস না করা কেমনে একজন রাজনীতিবিদের পক্ষে সম্ভব? তবে অনেকে বলেন আমেরিকার ফেভার পাওয়ার জন্য আমেরিকা-পাকিস্তান পন্থী মোশতাকের কথা শুনতে হয়েছিল আর রাশিয়াপন্থী তাজুদ্দিনকে সরাতে হয়েছিল। সেটা কতটুকু সত্য জানিনা। বাকশাল কায়েম করাটা যে যতই বলুক কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। কিন্তু নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় বংগবন্ধুর সামনে কি আর কোন অপশন খোলা ছিল? উল্লেখ্য আমাদের তথাকথিত বুদ্ধিজীবি যারা এখন বাকশাল প্রতিষ্ঠার জন্য বংগবন্ধুকে দোষী করেন তাদের একটা বিরাট অংশ সেদিন বাকশালের পক্ষে ছিলেন। অবশ্য বুদ্ধিজীবিরা চিরদিনই সুবিধাবাদী। বংগবন্ধুর আরেকটা সমস্যা বলা যেতে পারে রক্ষী বাহিনী প্রতিষ্ঠা। এটাই মনে হয় আর্মীদেরকে ক্ষেপিয়ে দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় দায়ী। বাংলাদেশের আর্মীরা এম্নিতেই হাঁটু-বুদ্ধির। জিয়ার মত কিছু চরম ধূর্ত বাদ দিলে আর্মীদেরকে আমার বুদ্ধিহীন জম্বি/রোবট মনে হয়। যাই হোক ১৫ই আগস্টের সেই নির্মম হত্যাকান্ড যা আমাদেরকে জাতি হিসেবে চরম অকৃতজ্ঞ, মানুষ হিসেবে মেরুদন্ডহীন প্রমাণ করেছে। জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানকে হত্যা করে তার বিচারের পথ রুদ্ধ করা মনে হয় আমাদের মত অকৃতজ্ঞ জাতির মাধ্যমেই সম্ভব। রাষ্ঠ্রবিজ্ঞানের খুব জনপ্রিয় একটা থিয়রী হচ্ছে যে জাতির মানুষ যেরকম সেরকম নেতাই তারা পাই। আমাদের দিকে তাকালে তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায়। জাতির জনককে হত্যা করে এবং তার বিচারের পথ রুদ্ধ করে আমরা জাতি হিসেবে বুক ফুলে দাঁড়ানোর সমস্ত অধিকার হারিয়েছি।

৪.
আমাদের রক্তে হিরো ওয়ারশিপ, ব্যক্তিপূজা মজ্জাগত। তাই বংগবন্ধুর কন্যা না হলে আ'লীগ আর উঠে দাড়াতে পারবেনা। মিজান, রাজ্জাক আরো কত ভাগে ভাগ হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে আনতেই হল বিদেশ থেকে। শেখ হাসিনা মানুষের বিশ্বাস প্রথম হারায় ৮৬'র এরশাদের প্রহসনের নির্বাচনে। চট্টগ্রামে বিশাল জনসভায় বক্তৃতা দিয়ে আসলেন যারা নির্বাচনে যাবে তারা বেঈমান। অথচ ঢাকায় এসেই কুত্তার বাচ্চা জামাতিদেরকে নিয়ে নির্বাচনে গেল। এর মত রাজনৈতিক অপরিপক্কতা মনে হয় আর নেই। আমি নিশ্চিত সেই সিদ্ধান্তটা শেখ হাসিনা একাই নিয়েছিলেন, কোন পার্টী মেম্বারদের সাথে আলাপ করেননি। নিজের প্রতি শেখ হাসিনার এই অতি-আত্ববিশ্বাস এবং অপরিপক্ক বুদ্ধি আর সস্তা তাৎক্ষণিক আবেগের মূল্য আ'লীগকে এখনও দিতে হচ্ছে। ৯১-তে নির্বাচন হল তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন অতি সম্মানিত এবং ভাল মানুষ যদিও একটু সুশীল-টাইপ এবং মেরুদন্ডের অভাব আছে। তবুও ৯১-র নির্বাচন সুস্থ এবং ভালমতেই সংগঠিত হয়েছিল। শেখ হাসিনা ধরে নিয়েছিলেন আ'লীগ ক্ষমতায় আসবে সেটা অবশ্যম্ভাবী। হাসি পায় শুনলে যে শেখ হাসিনা কে কোন মন্ত্রীত্ব পাবে সেটাও নাকি ঠিক করে ফেলেছিলেন! জামাত ঠিকই সুযোগমত আ'লীগকে ল্যাং মারল। বিএনপি'র সাথে এক হয়ে নির্বাচন জিতল। আ'লীগের পরিকল্পনাহীনতা আর সমন্বয়হীনতার অভাবে ভরাডুবি ঘটল। উল্লেখ্য আ'লীগ সেবারও বিএনপি'র থেকে মোট ভোট গননায় বেশি পেয়েছিল। কিন্তু স্বল্পবুদ্ধি আর অতি-আবেগের শেখ হাসিনা সুস্থ নির্বাচনটাকেও মেনে নিতে পারেনি। তাই সুক্ষ কারচুপির দোহাই দিল। ডঃ কামাল হোসেনের সাথে শেখ হাসিনার গোলমাল মূলত শুরু এখানে থেকেই। কামাল সাহেব শেখ হাসিনাকে নির্বাচন মেনে নিতে বলেছিলেন আবার গনতন্ত্র ফোরাম নামে সবাইকে একসাথে আনারও একটা প্রচেষ্টা শুরু করেছিলেন। শেখ হাসিনা মনে করেছিলেন ডঃ কামাল তার অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে এবং তার নেতৃত্বের প্রতি হুমকি হয়ে যেতে পারে। এবং অনিবার্য কারনেই ডঃ কামাল পার্টী থেকে বহিস্কৃত হলেন। ডঃ কামাল হোসেনকে আমার ভাল লাগে এজন্য যে তিনি শেখ হাসিনার সাথে অভিমান/রাগ করে এরপরে কোন সময়ই বিএনপি-জামাতের নব্য মুসলিম লীগ এক্সিসের পক্ষে যায় এরকম কোন কাজ করেননি যেমনটা আমাদের তথাকথিত জনগনের সাথে সম্পর্কহীন বামপন্থীরা করে থাকেন।

৫.
৯৬-র নির্বাচনের আগে আগে আ'লীগ ক্ষমতায় যেতে তখন মরিয়া। ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে তারা আর পেরে উঠতেছেনা। আর সেখানেই তারা সবচেয়ে বড় ভুল করেছিল। জামাত নামক কাল সাপকে তারা পাশে নিয়েছিল। যদিও সেটা বিএনপির মত নগ্ন নয়, তবুও আ'লীগ আর বিএনপি তো এক নয়। বিএনপি'র জন্মই যেখানে অবৈধ সেখানে বিএনপি'র সাথে আ'লীগের তুলনা দেওয়া যায়না। আমার মনে হয় ৯৬ এ জামাতকে প্রশ্রয় না দিলে আ'লীগ ক্ষমতায় আসতই। যদি সেবার নাই আসত তবে পরের বার আসত এবং জামাতের রাজনীতি বাংলাদেশে অসম্ভব হয়ে যেত আপনা থেকেই। তাছাড়া বিএনপি যেখানে পরিষ্কারভাবে নির্বাচন কারচুপির দিকে যাচ্ছিল সেখানে জনগন এম্নিতেই তাদের প্রতিরোধ করত, জামাতের কোন দরকার ছিলনা। যাইহোক এরশাদকে মুক্তি দিবে এই গোপন চুক্তিতে জাতীয় পার্টীর সাথে আঁতাত হল আর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসল। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে ১৯৯৬-২০০১ সবচাইতে সাফল্যজনক অধ্যায়। সন্ত্রাসের প্রকোপ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছিল তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, শান্তি-চুক্তি(যদিও উপজাতীয়দের সাথে আমরা বিশ্বাসঘাতকতা এখনও করেই চলেছি), ব্যাপক উন্নয়ন, ক্রিকেটে সাফল্য মিলে যে কেউ স্বীকার করবে প্রস আর কনস মিলে সেই সময়টা তার আগে এবং পরের সময়ের সাথে তুলনা করলে স্বর্ণযুগের মত মনে হয়। আর এ জন্যই শেখ হাসিনার বিশ্বাস হয়েছিল যে পরের নির্বাচনে তারা বিপুল সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে জিতবে। চারদলীয় জোট প্রচুর আন্দোলন করেও কোন কুল কিনারা করতে পারেনি। আ'লীগ এরশাদকে জেলের ভয় দেখিয়ে জোট থেকে বের করতে পেরেছিল কিন্তু জামাতিদেরকে জোট থেকে বের করতে পারেনি। তাছাড়া জামাতের স্বল্প সংখ্যক ভোটকে মনে হয় তেমন বিবেচনায় আনেওনি। ভোটের গাণিতিক হিসেবে জামাত আর বিএনপি'র ভোটব্যাংক আ'লীগের চেয়ে সামান্য বেশি। তাই চুড়ান্ত ভোট গণনায় আ'লীগ এককভাবে সবচাইতে বেশি ভোট পেয়েও আসন সংখ্যার বিচারে চরমভাবে মার খায়। ৫৮টা আসন পাবে সেটা আ'লীগ কেন কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি। শুধুমাত্র নাজিম ফারহান চৌধুরীর ডেইলি স্টারের কলামে তিনি হিসেব করে দেখিয়ে দিয়েছিলেন কেন বিএনপি-জামাত জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্টতায় জিতবে। তখন সেটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। কিন্তু তার হিসেব ঠিক হয়ে যাওয়াতে পরবর্তীতে তিনি হিরো হয়ে যান। তিনিই নাকি খালেদা জিয়াকে জোটের ধারণাটা দিয়েছিলেন। তবে বিএনপি-জামাতের খাঁটি সমর্থকরা মনে করেন যে আ'লীগকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছিল ২০০১ সালে। নির্বাচনের পরে যাযাদি'তে প্রায়ই দেখতাম তারা লিখত আ'লীগের সন্ত্রাসবাদীতা, গড-ফাদার কালচারের জন্য নাকি জনগন আ'লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সেটা যে কতবড় মিথ্যা সেটা যে কেউ বুঝবে। এটা সত্য যে আ'লীগ আমলে সন্ত্রাসবাদীতা চরম আকার ধারণ করেছিল। গডফাদার কালচারও তখনই আসল রুপ পেয়েছিল। সন্ত্রাসবাদীতার ইতিহাস এরশাদের আমলে সামনে এলেও গডফাদার কালচারটা আ'লীগের শাসনামলেই পাকাপোক্ত হয়েছিল যেটাকে বিএনপি পরবর্তী ২০০১-০৬ রেজিমের সময় চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তবে জনগণ আ'লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে সেটা ভুল এজন্য যে আ'লীগ ৪১% ভোট পেয়েছিল, যা আগের নির্বাচন থেকে অনেক বেশি। আ'লীগ জোটের পাটীগানিতিক হিসাবেই পিছিয়ে পড়েছিল, জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়নি। বরং আ'লীগ ২০০১ সালে সমর্থনের বিচারে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল। কিন্তু এ হারটা অতি-আবেগী শেখ হাসিনা কোনমতেই মেনে নিতে পারেননি। বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আর লতিফুর রহমানকে ডিমনাইজ করতে শুরু করলেন এবং সেটা নিজেদের ক্ষতিবৃদ্ধি ছাড়া কোন লাভ করেনি। আগেরবার সুক্ষ থেকে এবার স্থুল কারচুপিতে রুপ নিয়েছিল!

৬.
আ'লীগে শেখ হাসিনার মনপুত না হওয়া কিছু বললে কি পরিণতি হয় সেটা সবার জানা আছে, তাই অনেকে হয়ত ভোটের ফলাফল মেনে নিলেও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। শেখ হাসিনা ৫৭ বছর বয়সে রাজনীতি থেকে অবসর নিবেন বলেছিলেন, কোনদিন হরতাল করবেননা বলেছিলেন। কোন ওয়াদাই তিনি রক্ষা করেননি। অবশ্য হরতাল করবেননা যখন বলেছিলেন তখন তিনি এও বলেছিলেন যে বিএনপিকেও একই ওয়াদা করতে হবে। কিন্তু বিএনপি-জামাত এক্সিস পরবর্তীতে গোয়েবলসীয় কায়দায় শেষের অংশকে বাদ দিয়ে টিভি-তে শুধু প্রথম অংশকেই দেখাত। হরতালকে জনগণ চরম অপছন্দ করলেও আ'লীগ একের পর এক অর্থহীন ইস্যুতে অর্থহীন হরতাল দিতেই থাকল। সংসদে যাওয়া তো দূরের কথা। অথচ দ্রব্যমুল্যের আকাশচরা দাম, তারেক রহমানের দুর্নীতি এসব ইস্যুতে জনগণকে এক করার কোন কাজ তারা করতে পারেনি। এমনকি সারা দেশজুড়ে মৌলবাদী আক্রমণকেও তারা কোন রিয়েল ইস্যু হিসেবে দাঁড় করাতে পারেনি। শেখ হাসিনা আসলে কোন রাজনীতিই জানেনা। সঠিক ইস্যুতে জনগণ সবসময় আ'লীগের সাথে আছে সেটার প্রমাণ পাওয়া যায় আবারও ২০০৭ সালের বিএনপি-জামাতের নির্বাচন কারচুপির মেগা প্রজেক্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তাদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ দেখে। দেশের আজকের জলপাই শাসনের জন্য বিএনপি-জামাত ৯০% দায়ী, বাকিটা আ'লীগ। অবশ্য বিএনপি-জামাত সবসময়ই জলপাইদের শাসনামলে লাভবান হয়। শেখ হাসিনার সবচেয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভুল হল বর্তমান জলপাইরা যখন ক্ষমতা দখল করল তখন অতিরিক্ত খুশি হয়ে ভিতরের খোঁজখবর না নেওয়া। জলপাইদের আসল উদ্দেশ্য না বুঝেই তাদেরকে অভিনন্দন জানানো। তাদেরকে ক্ষমতায় গেলে বৈধতা দেয়া হবে বলে ব্লাংক চেক দেয়া। তবে শেখ হাসিনার চেয়ে আমার জয়কে অনেক পরিপক্ক মনে হয়েছে তার ব্লগ পড়ে। যদিও মায়ের কোন দোষ দেখতে সে রাজিনা, তবে সে রাজনীতিতে এলে দেশের ভাল হবে বলে মনে করি। তবে তাকে তারেক রহমানের মত টপে ইনস্টিটিউট করে দিলে তারও ক্ষতি হবে, পার্টীরও ক্ষতি হবে। দেশের ক্ষতি নিয়ে যেহেতু রাজনৈতিকে দলগুলো তেমন মাথা ঘামায়না, তাই সেটা আর বলছিনা। এখন তো জলপাই শাসনের জন্য সামনে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখছিনা।



শেখ হাসিনাকে আমার চরম অপছন্দের কারণ:

শেখ হাসিনাকে আমি চরম অপছন্দ করি। সেটা তার বাচালতা বা অতি-আবেগের জন্য নয়। সম্পূর্ণ অন্য কারণে। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সেই ঘাতক-দালাল নির্মূল আন্দোলনের কথা মনে আছে? সেই গণআদালত? জাহানারা ইমাম ছাড়া আর কারও দ্বারা সেরকম গণজাগড়ন গড়ে তোলা মনে হয় এ সময়ে সম্ভবও নয়। তার মত এরকম ফেরেস্তার মত মানুষ কোথায় পাব আমরা? "ক্যান্সারের সাথে বসবাস" বইটা পড়েছেন? একজন মানুষ মনের দিক দিয়ে কত শক্ত হলে ক্যান্সারের সাথে এভাবে বাস করতে পারে সেটা বইটা না পড়লে বুঝা যাবেনা। ৯১-র পরে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর যখন শহীদ জননী কুত্তার বাচ্চা গোআসহ অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গণআন্দোলন গড়ে তুললেন তখন আ'লীগ প্রথমদিকে খুব সহযোগীতা করলেও আস্তে আস্তে পরবর্তীতে সহায়তা করা ছেড়ে দেয়। শেখ হাসিনার ধারণা হয়েছিল শহীদ জননী তার থেকে বেশি জনপ্রিয় হয়ে যাচ্ছে। তাতে তার দলের লোকজন হয়ত তাকে আর সেরকম মানবেনা। এই ভয়ে সে আন্দোলন থেকে আস্তে আস্তে আ'লীগকে দুরে সরিয়ে নিল। শহীদ জননী মারা যাওয়ার পর ঘাদানিক যে আর কোন অর্থপূর্ণ কাজ করতে পারলনা সেটার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী তাই শেখ হাসিনা। এরপরেও ৯৬-০১ শাসনামলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আ'লীগ কোন চেষ্টাই করেনি। শুধু তাই নয়, রমনার বটমুল আরো অন্যান্য বোমাহামলার বিচারের কোন প্রচেষ্টা আ'লীগ করেনি। কারণ শেখ হাসিনা চেয়েছিল তার থেকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করবে। জামাতকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিলে শেখ হাসিনার ভয় হয় তারা হয়ত জামাত-বিরোধী ভোট-ব্যাংক হারাবে। শেখ হাসিনা বংগবন্ধু হত্যারও কোন কূল কিনারা করে যেতে পারেনি। এসব কারণে আমি শেখ হাসিনাকে চরম অপছন্দ করি।


সংযুক্তি: আমার বয়স ২৫-এর কাছাকাছি। রাজনীতি কিছুটা বুঝতে শুরু করেছি ১৫/১৬ বছর বয়সে। আমার বুঝে উঠার অনেক আগেই অনেক কিছু ঘটে গেছে! তাই এখানে দেয়া কোন তথ্য ভুল থাকতে পারে। সেরকম চোখে পড়লে জানালে ঠিক করে দিব। আমার সাথে একমত হবেনা এরকম অনেকেই আছেন। ড়াজাকার বাদে সবার মতামতকে শ্রদ্ধা করি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28802407 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28802407 2008-05-25 03:40:22
শুভ্রতার প্রতীক শুভ(আলী মাহমেদ)।
আমি ব্লগিং শুরু করেছি এখানে আসার পর। দেশে থাকতে মাঝে মাঝে ঢুঁ মারতাম ব্লগে। কিন্তু নেশা ছিলনা ব্লগের। তাছাড়া শুধু লেখাটাই পড়তাম, কে লিখেছে সেটা তেমন খেয়াল করতামনা। ড়াজাকারদের লাফানি দেখতাম। তাদেরকে ব্লগাররা কিভাবে প্রতিরোধ করতেছে সেটাও দেখতাম। ২০০৭-এর জুনের প্রথম দিকে। বিবিএ শেষ হলে তাবলীগে চিল্লা দেওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। কাকরাইলে গেলাম আমি আর আমার বন্ধু ঢাবি'র সমাজবিজ্ঞানে পড়ে জিয়া হলের জায়েদ। জায়েদ সম্পর্কে একটা ধারণা দিই। এই ছেলেটার মত পড়ুয়া ছেলে আরেকটাও দেখিনি আমি। আমি নিজে যা ভাল লাগে শুধু তাই পড়ি। কিন্তু জায়েদের সব ভাল লাগে। সে বংকিম, ইশ্বরচন্দ্র, কবিগুরু, শরৎ, নজরুল, জসিমউদ্দিন, ওয়ালিউল্লাহ, মুজতবা থেকে শুরু করে মার্ক্স, টলস্টয়, ভলতেয়ার সব পড়েছে। শুধু পড়েছে বললে ভুল হবে, বলা যায় গুলে খেয়েছে। বইগুলার বেশিরভাগ লাইনই মনে হয় তার মুখস্ত। কোট করতে বললে সঠিক জায়গায় সঠিক কোটটা করে টাসকি লাগিয়ে দেয় আমাদের। আপনারা কি মনে মনে চশমাধারী আঁতেলের মত চিন্তা করতেছেন তাকে? না। সে পান্জাবী, পাগড়িপড়া লম্বা দাড়ির হুজুর! মেয়েদের সম্পর্কে তার মতামত হল "even a bitch is beautiful in its youth!" মেয়ে একটাকে ভাল লাগাতে সে তারে গিয়ে বলেছে "আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই, রাজি আছ?" তার মতে প্রেমের শেষ পরিণতি যদি বিয়েই হয় তাহলে এত কষ্ট করে প্রেম না করে ডাইরেক্ট একশানে(বিয়ে) গেলেই ভাল। দীন-দুনিয়া দুটাই ঠিক থাকল।

তো জায়েদ আর আমি গেলাম জামায়াতে। জায়েদের যাওয়ার প্ল্যান ছিলনা। আমার একা ভাল লাগতেছেনা তাই তাকে ধরে বেঁধে নিয়ে গেলাম। বেচারার ১৫০০ টাকা খরচ করতে হয়েছিল আমার জন্য! কাকরাইল থেকে জামাতবন্ধি হলাম পরেরদিন। জামাতের সাথে আমরা ছাড়া আছে এসএসসি পরীক্ষার্থী ৭/৮ জন, একজন আলেম, চট্টগ্রামের একজন মুরুব্বী আর তাঁর ছেলে। চট্টগ্রামের লোক পেয়ে ভালই লাগল! আমি চাটগাঁইয়া কথা না বলতে পারলে ভাল লাগেনা! মুরুব্বী একজন মুক্তিযোদ্ধা, সেটা অবশ্য অনেক পরে জেনেছি। তার ছেলে একাউন্টিং-এ অনার্স ফাইনাল দিয়ে এসেছে চিল্লা দিতে। আমিও একাউন্টিং! তাই খাতির হতে দেরী হলনা। তাছাড়া তাকেই আমীর নিযুক্ত করা হল। আমাদের যেতে হবে ব্রাক্ষণবাড়িয়ায়। কমলাপুর থেকে গাট্টি নিয়ে উঠলাম বাসে। কিছুটা হাটতেও হয়েছিল। তো এভাবেই চলতেছিল জামায়াত। এক মসজিদ থেকে আরেক মসজিদ যাচ্ছি। জায়েদের জ্বালাময়ি ভাষন শুনতেছি। সে আলিম মাদ্রাসায় পড়েছে। তাই মাদ্রাসা সম্পর্কে তার ব্যাপক জানাশুনা। সেখানে কি আকাম-কুকাম হয় সেটা বলে আর আমি হাসতে হাসতে শেষ। উল্লেখ্য জায়েদ কিন্তু একজন ভাল আলেমও। আরেকজন আলেম যিনি আছেন তাকে হুজুরদের বিভিন্ন দোষ বলে খেপায় যখন ফ্রি থাকি তখন। আমারও ৪/৫ মাস মাদ্রাসা পড়ার অভিজ্ঞতা আছে। সেটাও কাজে লাগায়। অনেক ফান বলা যায়। তবে সে আলেমটার ধার্মিকতা আমাকে অবাক করত। এত ধার্মিক মানুষ খুব কম দেখা যায়। এসএসসি'র পোলাপাইনগুলোর কাজকর্ম দেখেও হাসতাম। সবার সাথেই খুব ভাল খাতির। প্রথম প্রথম তারা আমরা দুজনকে ভয় পেত মনে হয়, দূরে দূরে থাকত। পরে আমরা তাদের সাথে ভালই বন্ধুত্ব করে ফেলেছিলাম। ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ সবসময় থাকে। এটা বিরাট প্লাস পয়েন্ট। কিছু কিছু মসজিদে জামায়াতি আর বিদআতিদের ব্যাপক প্রভাব তাই তাবলিগকে ঢুকতে দেয়না। যাহোক ভালই দিন কাটতেছিল। এর মধ্যে আমীর সাহেব আমাদেরই সমবয়সী হওয়াতে তার সাথেও ভালই জমতেছিল। পরে একদিন কথা বলতে বলতে জানলাম সে সামহয়ারে লিখে! আমি তাকে বললাম আমি তো সামহয়ার পড়ি। সে আশ্চর্য হল। তার নামটা বলতেছিনা কারন সে হয়ত মাইন্ড ইট করবে! তবে এখন সে তেমন নিয়মিত না। একদিন বলল তাকে নাকি আখাউড়া যেতে হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন? সে বলল সেখানে নাকি একজন ব্লগার আছেন। সে কাছাকাছি এসেছে জানাতে আখাউড়ার ব্লগার তাকে যাওয়ার জন্য বলেছে। তাদের আগে থেকেই ফোনে যোগাযোগ ছিল। কথায় কথায় বলল আখাউড়ার ব্লগারের নাকি একুশে বইমেলাতে বইও বের হয়। তার মানে লেখক।

কয়েকদিন পরে বলল আমাকে আর জায়েদকেও নাকি সে নিয়ে যেতে চাই। আখাউড়া কোনদিন দেখা হয়নি। তাছাড়া ব্লগার/লেখক সম্পর্কেও মোটামোটি আগ্রহ আছে। তাই জায়েদ আর আমি দুজনই রাজি হয়ে গেলাম। পরেরদিন ট্রেনে উঠলাম সকালবেলায়। মনে হয় ৩টার দিকে আখাউড়া পৌঁছেছিলাম। এখন ঠিক মনে করতে পারতেছিনা। তারপর আমীর সাহেব ফোন করে ব্লগারের কাছ থেকে ঠিকানা আর যাওয়ার সিস্টেম জেনে নিল। আমরা রিকসা করে গেলাম। আখাউড়া শহরটা ছোট খুব কিন্তু খুব সুন্দর। পরিষ্কার ছিমছাম। রিকসা থেকেই নেমেই ব্লগার/লেখকের সাথে দেখা। আমরা তিনজনকে দেখে মনে হয় তিনি একটু হতাশই হয়েছিলেন প্রথমে। তিনজনের মধ্যে দুজনে পান্জাবী-পাজামা-টুপি পড়া, দাড়ি-গোঁফ নিয়ে পুরা মৌলানা! আমি অবশ্য জিন্স আর টি-শার্ট পড়েই গেছিলাম। তিনজনের চেহারা-সুরত দেখে যে কেউ তেমন পাত্তা দেওয়ার কথা না। যাহোক, পরে বুঝলাম আসলে তিনি পাত্তা দেননি সেটা ঠিকনা। তিনি একটু রিজার্ভ থাকেন। আমাদেরকে নিয়ে উনার বাড়িতে গেলেন। ঢুকার সময়ই একটা টাসকি খেলাম! বাঁশের তৈরী চমৎকার গেইট। দেখলেই কেমন জানি শৈল্পিক একটা ভাব আসে। গেইট পার হয়ে গেলাম ঘরে। ঘরটা অনেক পুরাতন। মনে হয় ব্রিটিশ আমলের। উঠানে নানা প্রজাতির গাছ। দেখলে সম্ভ্রান্ত কোন জমিদার (অত্যাচারী না!) বাড়ীর কথা মনে আসে। বাগানটা দেখলে রুচিবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। ভিতরে ঢুকলাম। বারান্দায় বসলাম। বারান্দায় চারদিকে দেয়াল দেখে আরো টাসকি খাওয়ার পালা। বিভিন্ন ধরণের সুন্দর শৈল্পিক মুখোশ, লাংগল, অনেক পুরানো বিভিন্ন শৈল্পিক জিনিসপত্রে সাজানো। সব এখন আমার মনেও পড়তেছেনা। যেখানে বসেছি সেই সোফাগুলোও ভিন্নধরণের। ঘরের মধ্যে একটা গ্রাম্য কিন্তু শৈল্পিক ভাব আছে। না দেখলে আসলে বুঝানো সম্ভব না। ব্লগার সম্পর্কে আমার কৌতুহল বাড়তে লাগল। উনার সাথে কথাবার্তা বলতে থাকলাম। আমি শ্রোতা সবসময়েরমতই। জায়েদই কথা বলতেছে। আমাদের আমীর সাহেবও কথা বলতেছে। লেখক/ব্লগার সাহেব আমাদেরকে আপ্যায়ন করলেন। তাঁর স্ত্রী বেড়াতে গেছেন বাপের বাড়ি। তাঁর মা আছেন, তিনিই আমাদের জন্য কষ্ট করতেছেন। তাঁর স্টাডি রুমে গেলাম। শেলফে মোটামোটি অনেক বই দেখা যাচ্ছে। বেশিরভাগই বাংলাতে। উনার পিসিটা ওখানেই আছে। তিনি তখন ব্লগস্পটে লেখা শুরু করেছেন। আমীর সাহেবের সাথে ব্লগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেছেন। মানুষটা প্রচন্ড আবেগপ্রবণ বুঝা গেল। আবেগপ্রবণ মানুষরা খুবই ভাল মানুষ হন। তাঁর সামহয়ারে লেখার সব প্রিন্টআউট আছে। সেগুলো দেখলাম। আমীর সাহেবের সাথে তাঁর এসব নিয়ে কথা হচ্ছে। আমি ব্লগে তখনও আউটসাইডার। তাই কোন মতামত দিতে পারতেছিনা। উনি বললেন সামহয়ারের সব লেখা তিনি ড্রাফট করেছেন, পরে মনে হয় ডিলিটও করে দিছেন। আরও পরে জায়েদের সাথে সাহিত্য নিয়ে তুমুল আলোচনা করলেন। আমার নিজের বাংলা সাহিত্যে তেমন ভাল দখল নেই। জায়েদের সাথে তুলনা দিলে কিছুইনা বলতে গেলে। দুজনের আলোচনা শুনতেছি। এই আখাউড়ার ব্লগারের নাম নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন এতক্ষণে? তিনি হলেন "শুভ"। এখন "আলী মাহমেদ" নামে ব্লগস্পটে লিখেন। আপনি যদি তার ব্লগস্পটে যান তাহলে তাঁর বাড়িটা দেখতে কিরকম সেটার একটা ধারণা পাবেন মনে হয়। ছিমছাম, সাজানো-গোছানো ব্লগ। আলী মাহমেদের বয়স আনুমানিক ৪০ হবে। দেখতে অবশ্য আরো কম লাগে, মনে হয় ৩০/৩২।

তো জায়েদের সাথে আলোচনার সময় আমি এক ফাঁকে বাথরুমে গেলাম। বাথরুম মানুষের রুচির পরিচয় দেয়। তা আবার প্রমাণ পেলাম। সেই আখাউড়ায় যা বাথরুম দেখে এসেছি তা এখনও আশ্চর্য লাগে। ঢুকার সময়ই বাথরুমের দরজার উপরে লেখা ছিল গোলাম আজম খানা বা সেরকম কিছু। মানে গোলাম আজমের মুখের ভিতর বাথরুম সার! আহা কি সুখ! বাথরুমে সবসময়ই একটা সেন্ট আসতেছে, কোথ্থেকে আসতেছে সেটা ধরতে পারিনি অবশ্যই। কার্পেট বিছানো। বাথটাবও আছে। যেই বক্স থেকে ফ্লাশ করা হয় (বক্সের নামটা জানিনা!) সেখানের উপরে দেখলাম হু. আ.-এর "পাক সার জমিন বাদ"-এর কাভারপেজ! আমি টাসকি খেয়ে গেছি। পাশে আরো অনেক পুরনো ম্যাগাজিনও দেখলাম। কারন জিজ্ঞেস করাতে উনি সুন্দর একটা যুক্তি দিয়েছিলেন হু. আ.-এর বইয়ের কাভার রাখার জন্য। এখন ভুলে গেছি। আমি নিজে হু. আ.-এর ভক্ত। তবে আমার পছন্দ হলেই অন্যের পছন্দ হতে হবে তার কোন মানে নেই। বাথরুমে আরো লক্ষনীয় বিষয় ছিল যা আমার মনে পড়তেছেনা। বাথরুম থেকে ফিরে এসে দেখলাম জায়েদের সাথে তাবলীগ বিষয়ে কথা হচ্ছে আলী মাহমেদ ভাইয়ের। আলী মাহমেদ ভাই ধর্ম-কর্ম সম্পর্কে উদাসীন। নাস্তিকও না আবার আস্তিকও না। মোটকথা ওসব নিয়ে তিনি ভাবেননা। তাই তাবলীগের কনসেপ্টটা তার বুঝে আসতেছেনা। তাবলীগের বিরুদ্ধে কয়েকটা যুক্তি উনার অবশ্য জানা ছিল সেগুলো বললেন। কোন জামায়াত যাওয়ার সময় নাকি কলার খোসা রাস্তা থেকে সরায়নি যা তাঁর চোখে লেগেছে। জায়েদকে দেখলাম সবকিছু ব্যাখ্যা করতেছে। যাহোক, এরপরে আমাদেরকে খাওয়ার জন্য ডাকলেন। তাঁর মা'র হাতের রান্না। অনেক রকম পদের রান্না। তবে তার চেয়েও বেশি হচ্ছে আমাদের মত অপরিচিত মানুষদের জন্য যা যত্ন করে রান্না করা হয়েছে সেটা দেখলে লজ্জা লাগতেছিল। খাওয়া-দাওয়া শেষে আবারও অনেকক্ষণ কথা হল। তাঁর লেখা বইগুলোও দেখলাম। কাজী আনোয়ার হোসেনের কোন বইয়ের কোন একটা চরিত্র "আলী মাহমেদ' এর ছায়ায় রচিত। অবশ্য আলী মাহমেদ সাহিত্যের চরিত্রের জন্য একদম পারফেক্ট হবেন। আবেগী, রহস্যময়, যুবক, অসম্ভব ভাল মানুষ।


জায়েদের নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল। তার এটা অনেক আগের সমস্যা। আলী মাহমেদভাই সেটা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। আর কোন একটা ওষুধের কথাও বললেন। চলে আসার সময় আলী মাহমেদভাই আমাদেরকে একটু থামতে বললেন। একটা ওষুধের দোকানে গেলেন। আমরা তখনও বুঝতে পারিনি কেন গেলেন। পরে দেখি জায়েদের জন্য যে ওষুধটার কথা বললেন সেটা কিনে নিয়ে আসলেন আর জায়েদকে দিলেন। জায়েদ আর আমরা অবাক হয়ে গেলাম! নিতে না চাইলেও এবং টাকা দিতে চাইলেও কোনমতেই নিলেননা। আমাদেরকে চাবির গোছা দিলেন একটা করে। আমি এখন সেটা ব্যবহার করি।

আখাউড়ার সেই দিনটি আমার মনে বিরাট ছাপ ফেলেছিল। বাংলাদেশের আনাচে কানাচে এরকম কত অসাধারণ মানুষ লুকিয়ে আছে কে জানে। আলী মাহমেদ ভাইকে কোনদিনই ভুলবনা মনে হয় আর। আমরা কয়েকজন অপরিচিত মানুষ, যাদের সাথে তার আর কোনদিন দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই, কোন ফেভার পাওয়ার কোন চান্স নেই, তাদেরকে তিনি যেভাবে ট্রিট করেছেন সেটা নিতান্তই আশ্চর্য্যের বিষয়। ট্রেণে বসে আসার সময় আমরা তাঁর কথা আলাপ করতেছিলাম আর আশ্চর্য্য হচ্ছিলাম। এটা না যে এরকম আতিথ্য আর পাইনি কোনদিন। কিন্তু আলী মাহমেদের ওখানে কেমন জানি কিছু একটা ছিল, ঠিক বুঝানো যাবেনা। এ যেন এক ছোটগল্প, শেষ হইয়াও হইল না যেন শেষ।

এরকম একজন মানুষকে সামহয়ার ধরে রাখতে পারেনি!

প্রিয় আলী মাহমেদ, আপনি হয়ত এই পোস্টটা কখনও পড়বেননা। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা, অনেক অনেক ভালবাসা। আপনি খুব ভাল থাকবেন, অনেক অনেক ভাল। আপনার মত এরকম খাঁটি রক্ত-মাংশের মানুষের খুবই দরকার। কিছু মানুষ আছে যাদেরকে দেখলেই মনে হয় এরা শুভ্রতার প্রতীক, এরা ভালত্বের প্রতীক। আজকে প্রায় ১ বছর পর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মনে হচ্ছে আপনাকে ব্যাখ্যা করার সবচেয়ে ভাল উপায় এই একটাই বাক্য। আপনি শুভ্রতার প্রতীক। আপনি ভালত্বের প্রতীক।


সংযুক্তি১: অনেক দিন আগের ঘটনা। আমার মেমরী খুবই খারাপ। তাই কোন ডিটেলস্‌ ভুল হওয়ার চান্স উড়িয়ে দেয়া যায়না।
সংযুক্তি২: আলী মাহমেদের ব্লগ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28801891 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28801891 2008-05-23 22:00:34
ব্লগার মাইনুল/দ্বীপবালক/ফজলে ইলাহী/দৃষ্টির ছায়ার কাছে প্রশ্ন।

হ্যারি সেলডন বলেছেন: ..........................................................
আচ্ছা আমাকে একটা প্রশ্নের জবাব দাও। গোআ কোথায় কোন সময়ে অধ্যাপক ছিল?


এর উত্তরে মাইনুল কোন জবাব দেয়নি। কিন্তু সততার আলো জবাব দিছে।

সততার আলো বলেছেন: গোলাম আযম খুব সম্ভব ১৯৪৮ সালে রংপুর কামাইকেল কলেজের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।
ঢাকা ইউনিভারসিটির জি এস থাকাকালেই তিনি ভাষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। এবং তাঁর অবদান অনেক এই আন্দোলনে।
তিনি রংপুর তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
তিনি ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহনের জন্য জেল খেটেছেন।


সততার আলো'র কমেন্টের উত্তরে আমার কমেন্ট:

হ্যারি সেলডন বলেছেন: সততার আলো, জামাতি ব্রেন নিয়া এটাই শিখছ। অধ্যাপক হিসেবে কোথাও আগে সহযোগী অধ্যাপক/অধ্যাপক না হয়ে কেমনে যোগ দেয়?

মাইনুল, গোআ কখন কোথায় অধ্যাপক ছিল?

আমার কমেন্টের জবাবে মাইনুল বলে কি দেখেন:
লেখক বলেছেন: অনেক কলেজে এই সব নিয়ম ছিলনা।


আমার সর্বশেষ কমেন্ট:
হ্যারি সেলডন বলেছেন: লেখক বলেছেন: অনেক কলেজে এই সব নিয়ম ছিলনা।




হাহাহাহা......যো কোন মতে পার পাওয়ার কি চেষ্টা?? তোমারে এটা কে কইছে অনেক কলেজে এটা নিয়ম ছিলনা? কারমাইকেল কলেজ একটা নামকরা কলেজ এবং এই সিস্টেমটা ব্রিটিশ আমল থেকেই চাল আছে। তুমি পিছলামি না কইরা কও গোআ কেন অধ্যাপক না হইয়া অধ্যাপক লিখে?



এ বিষয়ে ব্লগার মাইনুলের সাথে কথা বলতে চাই এই পোস্টে। অন্য কোন অপ্রাসংগিক বিষয় আনবনা বলে কথা দিচ্ছি। শুধু গোলাম আজম কখন কোথায় অধ্যাপক ছিল সেটা জানার আগ্রহ। তুমি যেহেতু শিবিরের নেতা তাই তোমার জানার কথা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28797785 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28797785 2008-05-14 03:20:21
মানুষ! ট্রেনে করে যাচ্ছেন মিসেস রহমান। বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। কামরাই তিনি একাই। কিছু মহিলাকে দেখলেই ভাল লাগে, কেমন জানি শুভ্রতার প্রতীক মনে হয়। মিসেস রহমানের চেহারায়ও একটা স্বর্গীয় দ্যোতি খেলা করে। মনে হয় তিনি কোন অন্যায় করতে পারেননা। দুনিয়ার সমস্ত ভালত্বের, শুভ্রতার প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি, এজন্যই তাঁকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এবং তিনি সত্যিই শুভ্রতার প্রতীক। ট্রেন একটা স্টেশনে থামলে একটা লোক হাঁপাতে হাঁপাতে উঠল তাঁর কামরাই। কামরাটা তিনি নিজের জন্য ভাড়া নিয়েছিলেন। কিন্তু লোকটাকে দেখে মনে হচ্ছে কোন বিপদে পড়েছেন। তাই কিছু বললেননা। রাত দশটা হয়েছিল যখন লোকটা উঠল ট্রেনে। কাছে এসে হাতজোর করে বলল যে সে গত তিনিদিন উপুশ আছে। খিদায় তার মরে যাওয়ার অবস্থা। লোকটাকে দেখে খুব মায়া হল। এম্নিতেই মিসেস রহমানের বড় বেশী মায়া। তার কাছে টিফিন ছিল রাতের খাবারের। নিজে নিজে চিন্তা করলেন বিকালবেলায় হেভি খাওয়া হয়েছে। তাই এ বেলায় না খেলেও চলবে। টিফিনটা লোকটাকে দিলেন। লোকটা কি যে খুশি হল। তার খাওয়ার গতি দেখে বুঝা যায় তার কি পরিমাণ খিদা লেগেছে। পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর দৃশ্য ক্ষুধার্ত লোককে খাওয়ানোর দৃশ্য। লোকটার জন্য মিসেস রহমানের মায়া লাগল খুব। আহারে! বেচারা কত কষ্টে আছে। ছেড়া কাপড় পড়ে আছে। গোগ্রাসে খাওয়া শেষ করার পর লোকটা খুব কৃতজ্ঞতার সাথে মিসেস রহমানের দিকে তাকাল। খাওয়ার পর লোকটাকে একটু সুস্থ দেখাচ্ছে।

রাত বাড়ল আরো। মিসেস রহমান জিজ্ঞেস করলেন লোকটা কোথায় যাবে। কোন উত্তর দেয়না। আর ঘাঁটাননা তিনি তাকে। কোন বিপদে পড়েছে হয়ত। সারাদিন জার্নি করাতে খুব ক্লান্তি, তাই সহজেই ঘুমিয়ে পড়লেন। একটু ঘুম গভীর হওয়ার পর কেমন যেন তার শাড়ীতে টান অনুভব করলেন। আস্তে আস্তে চোখ খুললেন। দেখলেন লোকটা পশুর কামনার চোখে তার শাড়ী নিয়ে টানতেছে। মিসেস রহমান চোখে অতীব আশ্চর্য নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছেন। কেমন জানি প্রতিরোধ করার কথা মাথায়ই আসলনা। এটা স্বপ্ন না তো? মুখে কোন কথাই আসতেছেনা। লোকটা আরো হিংস্র হয়ে শাড়ী আরো জোড়ে টান দিল...............।

মানুষ!


২.
আমি তখন ফার্স্ট-ইয়ারে পড়ি। ২য় সেমিস্টারে। দেশে ফ্ল্যাশ-ড্রাইভের চল তখনও শুরু হয়নি। সবাই ফ্লপি ব্যবহার করেন। আমার জন্য আমার বড় মামী যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসার সময় একটা ১২৮ মেগাবাইটের ফ্লাশ-ড্রাইভ নিয়ে আসেন। আমি সেটা পেয়ে অনেক খুশি হয়েছিলাম। ফ্লপি্তে শুধু ১৪৪ কিলোবাইট জায়গা ছিল। ১২৮ মেগাবাইট সেই তুলনায় আকাশ সমান। এলিফ্যান্ট রোডে আমার বন্ধুর পিসি'র দোকান ছিল। সে বলল সেখানে নাকি ড্রাইভটার দাম প্রায় ৩৫০০ টাকা। এসাইনমেন্ট করার জনয় ড্রাইভটা খুব কাজে দিত। আমরা বাসায় টাইপ করে নীলক্ষেতে প্রিন্ট করতাম। অথবা সময় না থাকলে নীলক্ষেতে পার-পেজ ১০ টাকা দিয়ে টাইপ করা যেত। যারা টাইপ করেন তাদেরকে দোকানের মালিক মাসে ৪০০০/৫০০০ টাকা দিয়ে রাখত। অনেক সময় মালিক নিজেই টাইপ করত। ত একটা এসাইনমেন্টের জন্য ফ্ল্যাশ-ড্রাইভে করে ফাইল কপি করে নীলক্ষেতে নিয়ে গেছিলাম। প্রিন্ট করার জন্য। নীলক্ষেতের অলিগলি তখনও এত চিনিনা। কোথায় কোন দোকান সেটা চিনার প্রশ্নই আসেনা। যাই হোক অনেক ভিতরে একটা দোকানে নিয়ে গেলাম। প্রিন্ট করলাম। বাসায় চলে আসলাম ক্লাশ থেকে। পরেরদিন ব্যাগে হাতিয়ে দেখি ফ্ল্যাশ-ড্রাইভটা নেই। মাথায় বাজ পড়ল। বাসায় আরো খুঁজলাম। পেলাম না। নিশ্চিত হলাম নীলক্ষেতেই ফেলে এসেছি। কোন দোকানে ফেলে এসেছি সেটা মনে করতে পারতেছিনা। অলিগলির কথা মনে করা খুবই কঠিন। মনে হল শখের ফ্ল্যাশ-ড্রাইভটা হারালাম। তাছাড়া দোকানটা খুঁজে বের করলেও ড্রাইভ পাওয়ার কোন চান্স নেই। যে ছেলেটা প্রিন্ট করেছিল তার চেহারাও মনে পড়তেছেনা। যাক, কি আর করা। ড্রাইভটার কথা ভুলেই গেছিলাম। এর মধ্যে অনেকদিন নীলক্ষেতে যাইনি। প্রায় দু'মাস পর আবার এসাইনমেন্টের জন্য যেতে হল। ভিতরে গেলে পিছনে একটা আওয়াজ শুনলাম "এই যে ভাই, এই যে কাল ট-শার্ট, এই যে ভাই শুনেন।" পিছনে ফিরে তাকালাম। একটা অপরিচিত ছেলে আমাকে ডাকতেছে মনে হচ্ছে। ঠিক বুঝলামনা। পিছনে ফিরে দেখলাম, না আমাকেই ডাকতেছে। গেলাম। সে বলল, "ভাইজান, আপনাকে খুঁজতেছি গত দু'মাস যাবৎ। আপনার পেন-ড্রাইভটা আমার কাছে ফেলে গেছিলেন।" আমি অবাক। ছেলেটার চেহারা আমার একটুও মনে নেই। সে আমাকে তার দোকানে নিয়ে গেল আবার আর ড্রয়ার থেকে বের করে আমার ফ্ল্যাশ-ড্রাইভটা দিল। আমার মনে হল তাকে অন্তত ১০০টা টাকা দেওয়া দরকার। আমরা আধুনিক ভন্ড মানুষগুলো সবকিছুই টাকা দিয়ে হিসেব করি। আমি পার্স বের করে তাকে ১০০টাকা দিতে চাইলাম। সে মুখ অন্ধকার করে বলল সে টাকা নিবেনা। বুঝলাম সে অপমানিত বোধ করেছে টাকা দিতে চাওয়ায়। আমি তার কাছে মাফ চাইলাম। সে বলল ঠিকাছে।

ভার্সিটিতে এসে আমার বন্ধু মাসুমকে এসে বললাম। সে রিকশাওয়ালার একটা কাহিনী শুনাল। তার মানিব্যাগে ২৫০০ টাকা ছিল, টিউশানির বেতন পেয়েছিল সেদিন। পকেটে কিছু খুচরা রেখে মানিব্যাগটা অন্য পকেটে রেখেছিল। হলে এসে রিকসাওয়ালার সাথে স্বাভাবিকভাবেই টাকা নিয়ে ঝগড়া হল। সে বলতেছে ৫ টাকা শাহবাগ থেকে জিয়া হল, আর রিকশাওয়ালা বলতেছে না, ৬ টাকা। সে ৫ টাকাই দিল। রিকশাঅলাকে গালিও দিল। রুমে গিয়ে গোসল করে যখন আবার বের হবে দেখল তার পার্স নেই। বুঝল রিকশায় ফেলে এসেছে। তখন ২/৩ ঘন্টা হয়ে গেছে। টিউশানির টাকা চলে যাওয়াতে মাথার উপর বাজ পড়ল। সারা মাস চলবে কেমনে? মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়। মন খুব খারাপ। নিচে নেমে দেখল রিকশাঅলাটা সিটের উপর বসে আছে। তার দিকে তার পার্সটা এগিয়ে দিয়ে কিছু না বলেই দ্রুত চলে গেল। দারোয়ান থেকে জানতে পারল রিকশাঅলাটা চলে গেছিল, আবার ৩০ মিনিট পর ফিরে এসেছিল। আসার পর হলের অনেকেই ভাড়ায় যেতে চাইলেও রিকশাঅলা যায়নি। দারোয়ানের কাছে এসে মাসুমের বর্ণনা দিয়ে সে কোন রুমে থাকে জানতে চাইল। দারোয়ান মনে করেছে হলের অনেকেই রিকশাঅলাকে টাকা না দিয়ে "আসছি" বলে উপরে গিয়ে আর আসেনা। রিকশঅলারা ১৫/২০ মিনিট বসে থেকে তারপর চলে যায়। সেরকম কোন কেইস হয়ত। দারোয়ান তাই মাসুমের রুম নাম্বার বললনা। অনেকেই রুম নাম্বার বললে দারোয়ানকে হম্বিতম্বি করে, তাই সে ঝামেলাই গেলনা। রিকশাঅলা মাসুমের রুম নম্বর না পেয়ে সেখানেই বসে থাকল, কখন মাসুম আসবে। মাসুম আসলে ২/৩ ঘন্টা পর পার্স ফেরত দিয়ে তার দিকে না থাকিয়েই দ্রুত চলে গেল। পার্সের সবকিছুই ঠিকঠাক আছে।

মানুষ!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28796422 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28796422 2008-05-11 04:18:22
শফিক রেহমানকে।
১৯৯৮ সাল। আমি দশম শ্রেণীতে পড়ি তখন। গ্রামের স্কুলে। ফুটবল বিশ্বকাপের জোয়ার এল। এর আগের বিশ্বকাপে ছোট ছিলাম, তাই কোন আগ্রহ ছিলনা বিশ্বকাপ নিয়ে। কিন্তু এবার পত্রিকা পড়ে রোনাল্ডো, ওরতেগাকে ভালই চিনলাম। সচক্ষে তাদের খেলা তখনও দেখা হয়নি। তখন থেকেই সাদা চামড়ার মানুষদের প্রতি, বিশেষ করে সুন্দর মানুষদের প্রতি কোন বিচিত্র কারণে আমার বিতৃষ্ঞা। কেন সেটা আমি আজও বুঝতে পারিনা। এখানেও আমি ওবামাকেও সাপোর্ট করি তার অন্যতম বড় কারণ সে কাল! সে অসাধারণ এবং কারিজমাটিক তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু আমার কাছে তার গায়ের রং "কাল" সেটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। ন্যালসন ম্যান্ডেলা আমার কাছে তার সংগ্রামের জন্য যতটা প্রিয় তার চেয়েও একজন কাল মানুষের জয়ী হওয়ার জন্য বেশী শ্রদ্ধেয়। আমি মনে হয় রেসিস্ট। ত যা বলছিলাম বিশ্বকাপে সবাই আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল সাপোর্ট করে। বেশিরভাগই আর্জেন্টিনা। আমি দেখলাম আর্জেন্টাইনরা দেখতে সুন্দর, বাতিস্তুতাকে দেখলে ১৬শ শতকের ইংল্যান্ডের রাজপুত্রের মত লাগত। ব্রাজিলের খেলোয়ারগুলো দেখতে বিশ্রী। রোনাল্ডো তখন ১৯/২০ বছরের ছেলে। দেখতে ভাল না। তাই মনে হয় আমি ঘোরতর ব্রাজিল সাপোর্টার হয়ে গেলাম। আমার বন্ধুদের বেশিরভাগই আর্জেন্টিনা। তারা আমাকে নিয়মিতই উপহাস করে ব্রাজিল সাপোর্ট করার জন্য। তাতে হয়েছে কি আমার ব্রাজিলের প্রতি আমার আকর্ষন আরো বাড়ল। আর্জেন্টিনার প্রতি উদাসীনতাটা ক্রমান্বয়ে অপছন্দ এবং বন্ধুরা বেশি পুশ করাতে আর্জেন্টিনার প্রতি অপছন্দটা মোটামোটি ঘৃণার পর্যায়ে রুপ নিল। আমি প্রতিদিন আর্জেন্টিনার খেলার সময় তাদের পরাজয় কামনা করি। ইংল্যান্ডের সাথে ২য় রাউন্ডের খেলায় আর্জেন্টিনা হারার ভাল চান্স আছে। মাইকেল ওয়েন তখন বিস্ময়বালক। ৮৬তে ম্যারাডোনার ঈশ্বরের হাতের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মরিয়া। উল্লেখ্য ম্যারাডোনা লোকটাকে আমি খুব পছন্দ করি। আমি জানি খেলোয়াড় হিসেবে সে অসাধারণ হলেও পেলের সাথে তুলনা করা যায়না। সেটা যারা দুজনকেই খেলতে দেখেছে তারা জানে। সিএনএন-এ একটা জরীপ হয়েছিল যারা দুজনকেই খেলতে সচক্ষে দেখেছে তাদের মধ্যে। ১০০% লোকই পেলেকে ভোট দিয়েছিল। ভোটাররা সবাই খেলোয়ার ছিল। প্লাতিনি থেকে শুরু করে ইউসেবিও, এমনকি স্টেফানোও পেলেকেই ভোট দিয়েছিল। আমি ম্যারাডোনাকে পছন্দ করি অন্যকারণে। সেটা হচ্ছে সে এস্টাবলিশমেন্টের বিপক্ষে থাকে সবসময়। ফিফা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র সবারই বিপক্ষে। আমি নিজেও সবসময় এস্টাবলিশমেন্টের বিপক্ষে। পেলে বড়বেশি এস্টাবলিশমেন্টঘেষা, সুশীলটাইপ! ধুর, কথা কোথা থেকে কোথায় চলে আসল। ত যা বলছিলাম। ইংল্যান্ডের সাথে আর্জেন্টিনার খেলা। কিন্তু আর্জেন্টিনা জিতল। আমার ভাল লাগেনি। বন্ধুরা উপহাস করতেছে। যদিও ব্রাজিল টপ-ফেভারিট, তখন ৪ বার বিশ্বকাপ নিয়েছে আরো অনেক দিক দিয়েই ব্রাজিল আর্জেন্টিনা থেকে যোজন যোজন এগিয়ে। কিন্তু যখন আপনার আশেপাশের সবাই আর্জেন্টিনার সাপোর্টার তখন ব্রাজিল সাপোর্টারদের অবস্থা অনুমেয়! আর্জেন্টিনার পরের খেলা হল্যান্ডের সাথে। এবং আর্জেন্টিনা এবার হেরে গেল। আমার আর্জেন্টিনা গোল খাওয়াতে
প্রথমে খুব খুশি লাগল। কিন্তু খেলা শেষ হওয়ার পর আমার আশেপাশের লোকজনের চেহারা দেখে আস্তে আস্তে খারাপ লাগা শুরু করল। খেলা শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়ারদের কান্না দেখে আমার মন একদম ভেংগে গেল। মনে হল ইশ্‌, না হরলেই ভাল হত। খেলা দেখতে যেতাম অন্য বাসায়। আমাদের বাসায় আমার মা অতিরিক্ত ধার্মিক হওয়ার কারণে টিভি নিষিদ্ধ। লুকিয়ে টিভি দেখা! খেলা দেখে আসার পথে আমার কাছের বন্ধু যে আর্জেন্টিনার সাপোর্টার সে কান্নায় ভেংগে পড়ল। হাজার হাজার মাইল দুরের এই গরীব বাংলাদেশের এক অজপাড়াগাঁয়ে আর্জেন্টিনার হেরে যাওয়াতে কান্না। আমার জন্য এরকম কেউ কান্না করলে আমি সারাজীবন হারতে রাজি। সারাটা জীবন। Sometimes you win by losing. তো আমার বন্ধুর কান্না দেখে আমার আরো খারাপ লাগল। সে কান্না সামলাতে না পেরে রাস্তার পাশে বসে গেল। আমি বসে গেলাম তাকে সান্তনা দিতে। এবং একটু পর আমিও কান্নাকাটি শুরু করলাম! কেন যে আর্জেন্টিনা হারল। কোনমতেই মেনে নিতে পারছিনা। ২ ঘন্টা আগে আমি আর্জেন্টিনার হারার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করে আসছি। এখন আমি তারা হেরে যাওয়াতে বন্ধুর সাথে কাঁদতেছি। কি বিচিত্র মানব মন!

তবে সেটাই একমাত্র নয়। ৯৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। আমার পছন্দের দল ওয়েস্ট-ইন্ডিজ আর কেনিয়া। কাল বলেই হয়ত বা! তবে পাকিস্তানকে ঘৃণা করতাম। অনেকেই খেলা আর রাজনীতি এক নয় বলে যুক্তি দিবেন। কিন্তু আমি সেটা মানতে রাজিনা। যুক্তির সমস্যা এখানেই। আমরা নিজেদের মত যুক্তি সাজিয়ে নিই সবসময়। সব যুক্তিরই কাউন্টার-যুক্তি আছে কিন্তু আমরা মানতে রাজিনা। তো পাকিস্তানকে যেহেতু ঘৃনা করি তাই তাদের পরাজয় চাই। ভারত-পাকিস্তান খেলা। পাকিস্তান হেরে যাচ্ছে। এক-একটা উইকেট পড়ে পাকিস্তানের আর জয় দূরে সরে যায়। ইনজামামকে আমি সবসময় পছন্দ করতাম, পাকিস্তানি হলেও। যখন সে আউট হল আর খুব মন খারাপ করে খুব আস্তে আস্তে ব্যাট নিয়ে প্যাভিলিয়নে যাচ্ছে আমার পাকিস্তানের জন্য খারাপ লাগা শুরু করল। এবং প্রত্যেকটা পরের উইকেট পড়তেছে আর আমার খারাপ লাগা আরো বাড়তেছে। সকালে উঠে আমার আশেপাশের পাকিস্তান সাপোর্টারদের কোথায় উপহাস করব! আমি নিজেই মন খারাপ করে বসে আছি!

আমি এইচএসসির শেষের দিকে। সেই নুহ নবীর জামানার কথা! তখন গ্রামে চেয়ারম্যান নির্বাচন হচ্ছে। আগের চেয়ারম্যান খুব খারাপ ছিলেন। তাই সবাই নতুন একজনকে ভোট দিচ্ছে। আমিও আগের চেয়ারম্যানের ঘোর বিপক্ষে। কিন্তু যখন নতুন চেয়ারম্যান জিতল, আমার আগের চেয়ারম্যানের জন্য খারাপ লাগা শুরু করল। মনে মনে ভাবতেছিলাম এইসময়ে সে কোন ধরণের মানসিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আর তাতে খারাপ লাগা শুরু করল। সবাই নতুন চেয়ারম্যান আগের চেয়ারম্যানের চেয়ে কত ভাল হবে সেটা নিয়ে কথা বলতেছে। আর আমি মন খারাপ করে বসে আছি!

যায়যায়দিনকে খুব পছন্দ করতাম। শফিক রেহমান একটা কাল্ট ফিগার। ১৯৯৯৬-২০০১ যায়যায়দিন ধুমিয়ে পড়েছি। আওয়ামী সরকারের সমালোচনা করতে যায়যায়দিন খুবই পারংগম ছিল। ঐ যে বললাম এস্টাবলিশমেন্টের বিপক্ষে! আমার বাবা ঘোর নাস্তিকটাইপ আওয়ামী-বামপন্থি হলেও আমি যায়যায়দিন পড়ি আর খুব ভাল লাগে। আগে বলেছি আমার মা খুব ধার্মিকা। কিন্তু বাবা বামপন্থী ছিলেন। বুড়া বয়সে অবশ্য অন্য সব বামপন্থী, নাস্তিকদের মত এখন খুব ধার্মিক হয়েছেন! ফজরের জামাতে সবার আগে গিয়ে মসজিদে বসে থাকেন! ত যায়যায়দিন পড়ি আর শফিক রেহমানের প্রতি আমার শ্রদ্ধা বেড়ে যায়। আস্তে আস্তে জানতে পারি এরশাদের আমলে তার আপষহীন থাকার কথা, জেলে যাওয়ার কথা। শফিক রেহমানকে পছন্দ করি আবার আগাচৌকে ভাল লাগে! এভাবেই দিন যাচ্ছে। ঢাবি'তে ভর্তি হওয়ার পর ঢাকায় নানা-নানীর সাথে থাকি। নানা যাযাদি ভক্ত। তাই যাযাদি'র ১৯৮৫ সাল থেকে সব সংখ্যা তার কাছে আছে। আমি পুরাতন সংখ্যাগুলো পড়া শুরু করলাম। মনে হল আগের যাযাদি অনেক বেশি ভাল ছিল। ২০০১-২০০৬ যাযাদি আর আগের মত নেই। বিএনপি-জামাত সরকারের নগ্নভাবে লেজুড়বৃত্তি শুরু করেছে। সব দোষ আ'লীগের! যাযাদি'র বিশেষ সংখ্যাগুলো যেকোন চটি থেকেও অশ্লীল লেখায় ভরপুর। আগে সেটা তেমন পাত্তা দিইনি। কিন্তু এখন সেটাকে বড় ইস্যু মনে হল। আস্তে আস্তে যাযাদি থেকে মন উঠে যেতে লাগল। শফিক রেহমানকে চরম ধান্ধাবাজ মনে হল। এটা স্বাভাবিক। যখন আপনি কোন লোককে খুব পছন্দ করেন কিন্তু পরে জানেন যে সে বিশ্বাসঘাতক তখন তাকে অনেক বেশি ঘৃনা করা শুরু করেন। হুমায়ুন আহমেদকে খুব ভাল পেতাম। পরে শাওনকে বিয়ে করাতে তাকে আমার ঘৃনার লিস্টের প্রথম দিকে রেখেছি!

তবে শফিক রেহমান আর যাযাদি মনে হয় একই শব্দ। শফিক রেহমানকে আপনি যতই ঘৃণা করেন, তার অসাধারণ জীবনীশক্তির কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। লাল-গোলাপ আমার সবচাইতে পছন্দের অনুষ্ঠান ছিল যদিও তখন যাযাদি পড়া বাদ দিছি এবং শ.রে. কে ঘৃনা করা শুরু করেছি, কিন্তু লাল-গোলাপ যে খুব সুন্দর অনুষ্ঠান সেটা অস্বীকার করা অন্যায়। টিভি দেখাটা তেমন ভাল না লাগলেও শুক্রবার রাতে লাল-গোলাপ দেখতেই হবে নানা-নাতী মিলে! পরে দৈনিক যাযাদি বের হল। সেটা বাংলা বানানকে জবাই করতে শুরু করল। বাংলিশ পত্রিকা হয়ে গেল। সাব-স্ট্যান্ডার্ড একটা পত্রিকা। যাযাদি ক্রমশ জামাতি-ঘেষা বিএনপি হয়ে গেল। তারেক রহমান যাযাদি মিডিয়াপ্লেক্স ভিজিট করলে সেটা প্রথম পাতায় লিখে দেয়! শফিক রহমান আমার ঘৃনার লিস্টে অন্যতম প্রধান ব্যক্তি। আমার অনেক বছরের বিশ্বাসভংগের জন্য।

তারপর সেই পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা। শ.রে. যাযাদি'তে পরে "এয়ারপোর্টে বিব্রতকর মুহুর্ত্য" নামে বাংলা আর ইংরেজীতে কারণ দর্শালেও তা হাস্যকর সেটা যে কেউ বুঝবে। যাযাদি'র এমন অবস্থাতে খুব খুশি হয়েছিলাম। পরে অবশ্য যাযাদি আবার বের হয়েছিল। কিন্তু সেই ইমেজ নিয়ে এগুনো যাবেনা সেটা সবাই জানে।

আজ কয়েকদিন পর ব্লগে এসে দেখলাম শ.রে. যাযাদি থেকে পদত্যাগ করেছেন। শুনে মনে ড় ধাক্কা খেলাম। শ.রে. কে লোল রহমান বলে সম্বোধন করেছি ব্লগে অনেক। রিজভিকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম "লোল রহমান" ইদানিং কি করে। সে আমাকে ব্লক করেছিল এটা বলাতে।

কিন্তু শফিক রেহমানকে যাযাদি থেকে বের করে দেওয়া কোনমতেই মেনে নিতে পারিনা। এই মানুষটা বুড়া বয়সে এসে ভুলপথে চললেও তার প্রতি আমার অন্তরের গভীরে একটা জায়গা আছে সেটা আবার বুঝতে পারলাম। You can either hate him or love him, but you simply can't ignore him. আজ শফিক রেহমানকে আমি সেলাম জানাচ্ছি।

প্রিয় শফিক রেহমান, আপনাকে গত ৬ বছর চরম ঘৃনা করেছি। কিন্তু আজকে আপনার দুর্দিনে আপনার একজন প্রাক্তন ভক্ত আপনাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। আপনার সব ভাল, সব মন্দ, সব পক্ষপাতিত্ব, আপনার সব বাংলা অবানান, ভুল সিদ্ধান্ত, আপনার আলট্রা ওয়েস্টার্নিজম আরো সব দোষ-গুণ নিয়ে আপনি একজন অনন্য মানুষ। আপনি একজন অসাধারণ মানুষ। আজ আপনার দুর্দিনে আপনার এই প্রাক্তন ভক্ত গত ৬ বছরের সব ঘৃণা ভুলে গিয়ে আপনাকে আবার আগের মত ভালবাসার স্থানে বসালাম। আপনাকে আপনার এই নগন্য ভক্ত আবার তার ঘৃণার লিস্ট থেকে কেটে দিয়ে তার খুব প্রিয় মানুষদের লিস্টে রাখলাম। আপনি আমাকে রাজনীতি বুঝতে শিখিয়েছিলেন আমার কৌশোরকালীন সময়ে। আপনার যাযাদি পড়ে সে সময় কত সময় আনন্দ পেয়েছি, কত সময় কষ্ট পেয়েছি। অনেক সময় ভেবেছি। অনেক সময় আশ্চর্য হয়েছি। সেই ছোট-ছোট আনন্দ, ছোট-ছোট কষ্ট, ভাবনার সময়গুলো শুধুই আপনার দান। আপনার বৃদ্ধকালীন সময়ের ভুল পথে চলাটাকে সম্পূর্ণভাবে ভুলে গিয়ে আপনার এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনটাই শুধু মনে গেঁথে রাখলাম। আপনার লাল-গোলাপ আমাকে আর আমার অন্যতম প্রিয় মানুষ আমার নানাকে একসাথে জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটাতে সহায়তা করেছে। আপনাকে অন্তরের গভীর থেকে শ্রদ্ধা। আর হয়ত আপনাকে সেই আগের ৯০ দশকের যাযাদি'র শফিক রেহমান হিসেবে পাবনা। কিন্তু আমার মতই আপনার অগনিত ভক্তের কাছে আপনি খুব কাছেই থাকবেন, অন্তরের খুব গভীরেই থাকবেন। আপনি শতায়ু হোন। আপনি ভাল থাকবেন, অনেক অনেক ভাল। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28795707 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28795707 2008-05-09 04:02:22
ইসলাম শান্তির/অশান্তির ধর্ম নিয়ে ব্লগার আরিফুর রহমানের সাথে আলোচনা। হ্যারি সেলডন বলেছেন: আরিফভাই দেখি খালি মেইনস্ট্রীম জার্নালিজমের উপরই ভরসা করেন। কিছু অল্টারনেটিভ স্ট্রীমের জার্নালিজমের কথাবাত্রা শুনেন। টেড টার্ণারের সিএনএন আর জুইশ লবির ফক্স নিুজ/বিবিসি মনে হয় জামাতিদের মত আপনারও ব্রেণওয়াশ করে দিছে। কাউন্টার-পান্চ পড়েন। এডওয়ার্ড সাইদ আর নওম চমস্কিরা লিখেন। তারপর বুঝবেন গোয়েবলস কারে বলে। আপনার পোস্টগুলোতে নিরপেক্ষভাবে ইসলামকে যাচাই করার প্রতি চরম অনীহা দেখা যায়। মিডিয়া-ড্রিভেন মতামত বেশিরভাগই। ইউ-এস পলিটিকস এন্ড ইসরাইলে লবি- এমাযনে সার্চ মারেন। হার্ভার্ড আর কলাম্বিয়ার প্রফেসরের একটা খুব বিখ্যাত বই আছে, ওটা পড়েন।



লেখক বলেছেন: হেরি,
ইসলাম কি জিনিস সেটা বুঝতে খুব বেশি ঘাঁটাঘাটির কি দরকার আছে? বিশেষতঃ ইদানীংকার ইসলাম? আমি পছন্দ করি সেই ইসলাম ইমাম গাজ্জালীর আগে যেটা ছিলো, যাতে মানব সভ্যতা হঠাৎ করে অনেকদুর অগ্রসর হয়েছিলো বিজ্ঞানমনষ্কতার কারনে। খ্রীষ্টান আর চেঙ্গিস খানের মার খেয়ে সেই যে ইসলাম পড়লো, যেটা তারপর উঠে দাড়ালো সে্টা এতোই পুতিগন্ধময় আর কুপমন্ডুকতায় ভরা যে মৌলবাদি ইসলাম যে সমাজে গেছে সেই সমাজই অবক্ষয়ের এক এক টা ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। তুমি কোন একটা কারনে মুক্তচিন্তার হয়েও দেখা যাচ্ছে এইসব সৌদি লবির প্রোপাগান্ডা বিশ্বাস করো। তোমার রিডিং লিস্টের জন্য ধন্যবাদ।


হ্যারি সেলডন বলেছেন: আরিফভাই, সৌদী লবীর প্রোপাগান্ডায় বিশ্বাস করিনা। কারণ সৌদীআরবে ইসলাম নেই। তাছাড়া সৌদী শেখরা নাতিনের বয়সী মেয়ে আর মদ নিয়ে ব্যস্ত। প্রোপাগান্ডা করার জন্য তাদের সিএনএন অথবা ফক্স নেই। নিউইয়র্ক টাইমস অথবা টাইম/নিউজউইক নেই। আল-জাজীরা আমি দেখিনা, আরব বিশ্ব ছাড়া অন্য কেউ দেখেনা কারণ এটা আরবীতে। তাই তারা কিভাবে প্রপাগান্ডা করতেছে সেটা জানিনা। আমি তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের মত সাম্রাজ্যবাদীর সবচেয়ে বড় দালাল হিসেবে জানি। সৌদী আরবের শাসক গোষ্টী যেহেতু অবৈধ শাসক তাই ক্ষমতায় থাকার জন্য তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের মনোরন্জন করতে হয়, তাছাড়া তার ওয়াহাবী।
"ইসলাম কি জিনিস সেটা বুঝতে খুব বেশি ঘাঁটাঘাটির কি দরকার আছে? বিশেষতঃ ইদানীংকার ইসলাম? "

এই কথাটা একদম মানতে পারলামনা। ইসলামের আওতা যে অনেক বড় সেটা নিশ্চয় স্বীকার করবেন। তাহলে ইসলামকে জানার জন্য ঘাটাঘাটি করতে হবেনা? কোন বিষয়কেই তার ভিতর থেকে ভালমতে না জানলে দৃষ্টিভংগী নিরপেক্ষ হয়না। এন্থ্রপলজির গবেষণার ক্ষেত্রে এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে যে জনগোষ্টীর উপর গবেষণা করা হবে তার ভিতরকার রুপ জানার জন্য সে জনগোষ্টির মানুষের সাথে গিয়ে অনেকদিন থাকতে হবে। তাদেরকে ইনসাইড-আউট জানতে হবে। ইসলামকে জানার জন্য, এমনকি আপনি ইসলামের বিরুদ্ধে বলতে চাইলেও, ইসলামকে ইনসাইড-আউট জানার প্রয়োজন আছে। নাহয় আপনার ইসলাম-বিরোধী লেখাগুলোর কোন ডেপথ থাকবেনা।
তাছাড়া ইদানিংকার ইসলাম বলতে কিছুই নেই। হিটলার কিন্তু খ্রীষ্টান ছিল, তাই বলে কি খ্রীস্টিয়ানিটিকে হিটলার দিয়ে যাচাই করা যাই? কিছু মানুষের কর্ম দিয়ে সম্পূর্ণ জনগোষ্টীর বিচার করার প্রয়াসটা ধোপে টেকেনা। মাদার তেরেসাও খ্রীস্টান ছিলেন। একইভাবে স্টালিনও নাস্তিক ছিলেন আবার আমার প্রিয় আহমদ শরীফও নাস্তিক ছিলেন, যিনি তার বাসার কাজের মেয়েকে নিজের মেয়ের মত ট্রিট করতেন। ত আপনি কি স্টালিন যে ট্রটস্কির মত অসাধারণ মেধাবী এবং নিবেদিত কম্যুনিস্টকে হত্যা করেছিল তাকে দিয়ে সমাজতন্ত্রকে বিচার করবেন? সমাজতন্ত্রের ব্যর্থতাটা কি মার্ক্স আর এংগেলের দোষ? সেটা কি যারা প্রয়োগ করতেছে তাদের দোষ নয়?

"খ্রীষ্টান আর চেঙ্গিস খানের মার খেয়ে সেই যে ইসলাম পড়লো, যেটা তারপর উঠে দাড়ালো সে্টা এতোই পুতিগন্ধময় আর কুপমন্ডুকতায় ভরা যে মৌলবাদি ইসলাম যে সমাজে গেছে সেই সমাজই অবক্ষয়ের এক এক টা ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে।"

এ বিষয়ে একমত। চেংগিস খানের নাতি বাগদাদে কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং পরবর্তীতে ইসলাম প্রচারের জন্য ব্যাপক কাজ করেছিল। আমি মুক্তচিন্তার অধিকারী কিনা জানিনা তবে আমি জানি মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস তার নিজের প্রাণ। যখন সে সেটা দিয়ে দিচ্ছে সামথিং মাস্ট বি টেরিবলি রং! আজকে আল কায়েদা থেকে শুরু করে আমাদের জামাতি ইসলামী সব কিন্তু আমেরিকার সৃষ্টি।

আপনি ইসলাম যে শান্তির ধর্ম না সেটা প্রমাণ করার জন্য কিছু উগ্র মুসলিমের কান্ডকারখানার লিস্ট দিয়েছেন। আর তার মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছেন ইসলাম শান্তির ধর্ম না। আপনি কি ক্রুসেডের ইতিহাস পড়েননি? না পড়ে থাকলে পড়ে দেখার অনুরোধ করব। মুসলমানরাও জেরুজালেম জয় করেছিল আর খ্রীস্টানরাও করেছিল। জয়ের পর বিজিতদেরকে কিভাবে দুপক্ষ ট্রিট করেছিল সেটা দেখবেন।

শেষে আরেকটা কথা বলি। আমাদের ব্লগে দেখবেন আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করি তাদের মধ্যেই গালিবাজি বেশি। ড়াজাকাররা গালিবাজি খুব কমই করে। তাতে কি প্রমাণ হয় যে ড়াজাকাররা শান্তিতে বিশ্বাসী? ড়াজাকাররা নিয়মিতভাবে আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের চেতনা যা কিছু আমরা বুকে লালন করি সবকিছুকেই নিয়মিত আক্রমণ করে। আর কর্তৃপক্ষ বসে বসে দেখে, কিছুই করেনা, যদিও ইদানিং কিছুটা হলেও অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তো ড়াজাকারদের এহেন ঘৃণ্য কর্মে আমরা আক্রোশে ফেটে পড়ি আর কিছু না করতে পারার যন্ত্রণায় ছটফট করি। মাঝে মাঝে সহ্য করতে না পেরে গালিগালাজ করে ফেলি আর ব্যান খায়। মুকুলের মত ঠান্ডা মাথার মানুষ, বিমা, মানু'র মত ব্লগার ব্যান খায়। কেন?
তারপর জামাতিরা সেই কয়েকটা গালিবাজির কমেন্টকে স্ক্রীনশট নিয়ে বারবার দেখায় যে আমরা গালিবাজ! ৯/১১ এ হামলার পর সিএনএন এ দেখিয়েছিল যে প্যালেস্টাইনিরা আনন্দ করতেছে। অথচ পরে ধরা পড়েছে ক্লিপসটা ছিল অনেক আগের!!
যেই মুসলমানগুলো এরকম উগ্রতা করতেছে তারাও একই অবস্থার শিকার। বছরের পর বছর শতাব্দীর পর শতাব্দী তারা অত্যাচারিত হয়ে আসছে। তাদের নিজেদের শাসকগুলো সব নপুংসক। তাহলে তারা কি করবে? ইরাকে লক্ষাধিক লোক মারা যাচ্ছে অথচ তাদের কি দোষ? প্যালেস্টাইনের মানচিত্রটা দেখেছেন? আপনি ৪৭ আর ২০০৮ এই দুই মানচিত্রটা দেখেন। তারপর বুঝবেন অন্যায় অত্যাচার কাকে বলে। তাহলে তাদের যদি প্রচন্ড আক্রোশ হয় আর তাতে মানুষ হত্যা করে ইন্টারনেটে বিলি করে দোষ দিবেন কেমনে? আমি কোনমতেই এটা সাপোর্ট করিনা। কিন্তু আমি নিজেকে তাদের স্থানে বসিয়ে দেখি তারপর বিচার করি। আমাদের স্বাধীনতার সময় পাকিস্তানিরা কোন মুক্তিযোদ্ধার মা-বোনকে ধর্ষণ করল, তার পিতাকে-ভাইকে হত্যা করল। এরপরে মুক্তিযোদ্ধা যদি কোন পাকিস্তানি সৈন্যকে হাতে পায় তাহলে সে কিরকম প্রতিক্রিয়া দেখাবে। যখন অত্যাচারিত মানুষ সামান্য ক্ষমতা পায় অথবা প্রতিশোধের সামান্য সুযোগ পাই তখন সে মানুষ থাকেনা। তার মাঝে পশুর হিংস্রতা ভর করে।


অলটারনেটিভ জার্নালিজম লিংক(টু বি আপডেটেড):
১। কাউন্টার-পান্ঞ
২।অমর্ত্য সেনের আইডেনটিটি এন্ড রিলিজিয়ান এক্সার্পট।
৩।শিকাগো এবং হার্ভারডের প্রফেসরের লিখিত বই "ইসরায়েল লবি এবং ইউএস ফরেন পলিসি"
৪। নওম চমস্কির আর্টিকল
৫।নওম চমস্কি আর্টিকলস কালেকশান
৬। এডওয়ার্ড সাইদ: ইসলাম থ্রু ওয়েস্টার্ণ আই'জ।
৭।
৯/১১ এর উপর নওম চমস্কির সাক্ষাতকার
৮। ৯/১১ কাউন্টার-পান্ঞ কাভারেজ।
৯।তারিক আলি।
১০।ডেমক্রেসি নাও।
১১।নওম চমস্কি জি-স্পেস।
১২।যদি আমেরিকানরা জানত!
১৩। প্রতিষ্ঠিত মিডিয়ায় সিলেকটিভ বায়াস এগেন্সট প্যালেস্টাইন।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28794252 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28794252 2008-05-05 00:10:59
আমি হ্যারি সেলডন বলছি, সাইকহিস্টরির জনক। (সাময়িক)

ট্রান্টর গ্রহের স্ট্রিলিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাথেমেটিকসের প্রফেসর ছিলাম আমি। সাইকহিস্টরির জনক। সাইকহিস্টরি এমন একটা সাবজেক্ট যেটার মাধ্যমে বিরাট একটা জনসংখ্যার ভবিষ্যত পূর্বানুমান করা যায় সম্ভাবনার স্কেলে। ছায়াপথ সাম্রাজ্যের মত এত বড় সাম্রাজ্যের পতনের পূর্বানুমানটা আমি করেছিলাম বলে অনেকে আমাকে "র‌্যাইভেন স্যালডন" বলে। আমার বিস্তারিত জীবন এবং কর্ম সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রাচীনকালের (বিশ শতকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার) বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক আইজাক আজিমভের "ফাউন্ডেশান" সিরিজ পড়ে দেখবেন।
প্রাচীনকালের উইকিপিডিয়া নামক বিশ্বকোষে আমার সম্পর্কে কিছুটা লেখা আছে। তাছাড়া "ছায়াপথ বিশ্বকোষে" আমার জীবনি আছে।

এখন কিছু কথা বলব যা আমি গোপন রেখেছিলম।
ছায়াপথ বর্ষের বাসিন্দারা মনে করে আমি মৃত। আসলে ছায়াপথ
সাম্রাজ্যটা কিভাবে পৃথিবী থেকে বিস্তার লাভ করল, কিভাবে ছায়াপথ সাম্রাজ্যের মানুষ পৃথিবী সম্পর্কে ভুলে গেল সেটা জানার ইচ্ছে ছিল খুব। ছায়াপথ সাম্রাজ্যের মানুষের আদি বাসস্থান পৃথিবীকে কাছ থেকে দেখার ইচ্ছেটাকে বাস্তবে রুপ দিতে আমি নিজেই নিজের মৃত্যুর ভান করি। আর টাইম-মেশিনে করে সময়ের উল্টোদিকে পরিভ্রমণ করে আপনাদের এই সময়ে এসে পড়লাম। আশ্চর্য হয়ে দেখলাম মানুষের আদি বাসস্থান পৃথিবীতে বাংলাদেশ নামক স্থানটা গরীব লোকের জায়গা, অথচ ছায়াপথ সাম্রাজ্যের সব বড় বড় বিজ্ঞানীরা একমত যে বাংলাদেশের লোকরাই সারা পৃথিবীব্যাপী তাদের সাম্রাজ্য স্থাপনের পর যখন দেখল পৃথিবী ক্রমশ বাসস্থান অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে তখন তারা অন্য গ্রহতে তাদের পথ চলল। আস্তে আস্তে সারা ছায়াপথ জুড়ে পৃথিবীর লোক ছড়িয়ে পড়ল। সাইকহিস্টরি প্রজেক্টে জড়িত বিজ্ঞানীরা মনে করেন আনুমানিক প্রাচীনকালের গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ২১৭০-২২০০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ সারা পৃথিবীব্যাপী সাম্রাজ্যস্থাপন করতে সমর্থ হয়। এর ১০০ বছর পরে তারা সারা ছায়াপথজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। কিভাবে বাংলাদেশে রাজাকার জামাতিদেরকে যুদ্ধপরাধীদের বিচার করা হল এবং ঘৃণ্য গোলাম আজম, নিজামী, মুজাহিদসহ অন্যান্যদেরকে শাস্তি পেতে হয়েছিল সেটাও আমি জানি। সেই সংগে ব্লগের ড়াজাকারদেরও শাস্তি হয়েছিল। সেটা ঘটেছিল প্রাচীন গ্রেগরিয়ান ২০১০ সালে। সেটা আরেকদিন বলব।


সামহয়ার নামক ব্লগে আমি আগে অন্য নিকে ব্লগিং করতাম। সাইকহিস্টরির হিসেবমতে আগের নিকটা "নরাধম" হওয়ার সম্ভাবনা ৯৮.৩৪৫৬%।

আমি মূলত লেখা পড়তে এসেছি। এখনও ভালমতে নতুন বাসস্থান পৃথিবীতে অভ্যস্ত হয়ে উঠিনি। আশা করা যায় অচিরেই অভ্যস্ত হয়ে উঠব। এখনও কোন মৌলিক লেখা দিইনি। মে'র মাঝামাঝিতে কিছু লেখার ইচ্ছে আছে। সবার জন্য শুভকামনা।

বাংলাদেশের লোকসকল, আমি হ্যারি সেলডন বলছি আপনারা হতাশ হবেননা। সুদিন আসতেছে, পৃথিবীতে আপনারা সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি। আপনারা আর কয়েক দশকের মধ্যেই অনেক উন্নতি করবেন। তাই বলি, "হাল ছেড়োনা বন্ধু, কন্ঠ ছাড়ো জোরে।"

সংযুক্তি১: আমার প্রোফাইলে কোবতেটা নির্বাসিতদা'র ব্লগ থেকে ধার করা।
সংযুক্তি২: সাময়িক কথাটা লিখলে ব্লগে হিট বাড়ে। বাংগালি হুজুগে জাতি। তাই সাময়িক লিখে দিলাম। কিন্তুক পোস্ট সাময়িক না! <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />

সংযুক্তি৩: আমি আপনাদের মেহমান, ছায়াপথ সাম্রাজ্য থেকে এসেছি। এই পোস্টে মাইনাস দিলে ছায়াপথ সাম্রাজ্যের লোক আপনাদেরকে খারাপ ভাববে!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28791550 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28791550 2008-04-26 23:14:09
রেসিপি ফর ডামিজ: পানি সেদ্ধ করা। পানি সেদ্ধ করবেন কেমতে??


প্রথমে পরিমাণমত একটা পাত্রে পরিমাণমত পানি নেন। ওপারের দাদা হলে পরিমাণমত জল নেন। আর আপনি ডিজুস জেনারেশান হলে ওয়াটার নেন। দেখেন পানি আর পাণি একজিনিস না। তাই গুলিয়ে ফেলবেননা দুটোকে। পানি নিয়ে খুব সাবধানে চুলা কোথায় আছে খুঁজে বের করেন। একটা গবেষণায় দেখা গেছে চুলা জিনিসটা সাধারণত রান্নাঘরে থাকে। রান্নাঘর কোথায় থাকে সেটা জিগাইয়েননা আবার। যাক্‌, রান্নাঘরে গিয়ে চুলার সুইচটা টর্চলাইট দিয়ে খুঁজে বের করেন। সুইচটা অন করেন। সুইচ কিভাবে অন করবেন বিস্তারিত জানতে "সুইচিং অন ফর ডামিজ" বইটার পৃষ্ঠা নং ২৫এর নিচেরদিকে দেখেন। সুইচ অন করার আগেই আপনি একটা কাজ করেন। আপনি পানির/জলের/ওয়াটারের পাত্রটাকে চুলার উপরে রাখেন। খেয়াল রাখবেন পাত্রটা চুলার উপর রাখার সময় যেন চুলার মুখ আর পাত্রের নিচের দিকের অংশ একজায়গায় হয়। এটা খুব কঠিন কাজ কারন অনেকেই পাত্রের নিচের দিকের আর উপরের দিকের অংশ চিনতে ভুল করেন। যাইহোক আশা করি আপনি পাত্রটাকে ঠিকমত ঠিক জায়গায় বসাতে পেরেছেন। এবার সুইচ অন করুন। মাঝামাঝি তাপে আগুন জ্বালুন। তারপর ঢাকনা দিয়ে পাত্রটাকে ঢেকে দিন। আপনি এবার সামহয়ারে লগ-ইন করে কিছু কমেন্ট করুন। তারপর ঘুম আসলে ঘুমিয়ে পড়ুন। তিনচারঘন্টা পর যদি আপনার মনে পড়ে পানি সেদ্ধ করার কথা তাহলে তাড়াতাড়ি চুলার কাছে গিয়ে দেখুন। পাত্রটা যদি পুড়ে যায় তবে বুঝবেন আপনার পানি সেদ্ধ হয়ে বাস্প হয়ে গেছে। পরে যখন বৃষ্টি হবে তখন একই পাত্রে কিছু বৃষ্টির পানি নিয়ে উপভোগ করুন আপনার সেদ্ধ করা ঠান্ডা-গরম পানি। ব্যস্‌, হয়ে গেল আপনার ঝটপট পানি সেদ্ধ করা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28789688 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28789688 2008-04-21 01:25:00
সবচাইতে মজার কমেন্টকারী কে? http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28786715 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hariblog/28786715 2008-04-11 00:36:23