পুরনো আলোচনা ফিরে এসেছে আবার । আস্তমেয়ে সেই পুরনো ঢংয়ে । তবে এবারের আলোচনায় নতুন একদিক দেখলাম ,'গনহত্যা' কে ইসলামের ও আধুনিকতার দৃষ্টিতে সংজ্ঞায়িত করে বলতে চাওয়া হচ্ছে জামাত ও ইসলামিক দল গুলোর পাকিস্তানী আর্মিকে সহযোগীতা করলে ও তা যুদ্বাপরাধ ছিলোনা ।
আমি সামান্য মানুষ । বিদেশে এসে কামলা খাটি । রুটি রুজির ধান্দায় থাকি । এর ভেতর সময় করতে পারলে, এমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল নামের এক সংগঠনে নিজের খেয়েই সময় দেই ।
তারা আমাকে কোনো পয়সা দেয় না , তবে দলিলপত্র ঘাঁটার, তাদের সেমিনার সিম্পোজিয়ামে শ্রোতার হবার সুযোগ দেয়, এই বার বার্ষিকসভায় ভোট দেবার ও একটা সুযোগ দিয়েছিল ।
যাহোক, হাতে থাকা কিছু দলিল ঘাঁটলাম ।
পেলাম । ১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারন পরিষদে গৃহীত গনহত্যা সংক্রান্ত রেজুলেশন ।
রেজুলেশনের ২৬০(৩) ধারার অনুচ্ছেদ ২ এ নির্ধারন করা হয়েছে , শুধু হত্যা নয় আরো কিছু অপরাধ গনহত্যা হিসেবে গন্য হবে ---
১।পরিকল্পিত ভাবে একটি জাতি বা গোষ্ঠিকে নির্মুল করার জন্য
তাদের সদস্যদেরকে হত্যা বা নিশ্চিহ্নকরন
২।একই উদ্দেশ্যে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতিসাধন
৩।একটি জাতি বা গোষ্ঠিকে নির্মুল করার উদ্দেশে এমন পরিবেশ
সৃষ্টি করা যাতে তারা সম্পুর্ন বা আংশিক ভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে
যায়
৪।এমন পরিবেশ তৈরী করা যাতে একটি জাতি বা গোষ্ঠীর
জীবনধারন কষ্টসাধ্য , সেই সংগে জন্মপ্রতিরোধ করে জীবনের
চাকা থামিয়ে দেয়া হয়
৫।একটি জাতি বা গোষ্ঠি শিশু সদস্যদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে
তাদের জন্ম পরিচয় ও জাতিস্বত্বা মুছে ফেলা ।
গনহত্যার সংজ্ঞা নির্ধারনের পর ধারা ৩ এ গনহত্যা সংশ্লিষ্ট অপরাধ সমুহ ও চিহ্নিত করা হয়েছে
১। গনহত্যা চালানো
২।গনহত্যা চালানোর ষড়যন্ত্র/পরিকল্পনা করা
৩। প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে গনহত্যা উস্কে দেয়া
৪।গনহত্যা চালানোর চেষ্টা করা
৫।গনহত্যায় যে কোন প্রকারে সহযোগী হওয়া ও সমর্থন করা
ধারা ৩ এর পর ধারা ৪ এ বলা হয়েছে--
উপরোক্ত যে কোনো একটি অপরাধেই, অপরাধী যুদ্বাপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবে- তা সে সাংবিধানিক সরকার, সরকারের আজ্ঞাবাহী কর্মচারী, কোন দল কিংবা একক কোনো ব্যক্তি ই হোক ।
ধারা ৭ এ আবার স্পষ্ট করে বলা হয়েছে --
ধারা ৩ এ বর্নিত অপরাধ সমুহ কোনো ভাবেই রাজনৈতিক অপরাধ বলে গন্য হবেনা ।
----------------------------------------------------------------------------------
এবার আস্তমেয়ে, ত্রিভুজ, আশরাফের মতো জামাতীরা কি ভাবে তাদের হুজুরে আলা গোলাম আজম , নিজামী, মুজাহিদ, কামারুজ্জামান দের রক্ষা করবেন ।
হ্যাঁ, রক্ষা করার কয়েকটি পথ আছে --
১। প্রমান করা রাজাকার, আল-বদর বাহিনী, পাকিস্তান আর্মির সহযোগী ছিলোনা
২। যদি সহযোগী হয়ে থাকে, তবে উল্লেখিত ব্যক্তিরা উক্ত বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না
৩।যদি উপরোক্ত দুটোর কোনটাই প্রমান করা না যায়, তা হলে প্রমান করা পাকিস্তান আর্মি ৭১ এ আদৌ কোন গনহত্যা চালায়নি, তারা 'অপারেশ সার্চলাইট' নামে একটি মানবাধিকার কার্যক্রম সংগঠিত করেছিল আর জামাত ও বাংলাদেশের আর সকল ইসলামিক দল তাতে সহযোগী হয়েছিল ।
আছেন নাকি কোনো জামাতী ভাই-বোন, এ গুলো প্রমানের জন্য?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



