এ ব্লগে আর কোন মৌলিক লেখার দরকার নেই, যেহেতু আমি আমার নিকৃষ্টতম লেখার স্বত্ব ও কাউকে দিতে রাজী নই

'ধর্মানুভূতির উপকথা' || ধর্মের ষাড় কিংবা এঁড়ে ও বকনাবাছুরগনের সম্মানে
২০ শে মে, ২০০৭ রাত ৮:০৯
মানুষের ধর্মানুভূতিগুলো অভিন্ন নয়,যেহেতু ধর্ম একটি নয়, অজস্র ধর্মবিশ্বাসে পৃথিবী বিব্রত বিক্ষত।
একেক ধর্মের মানুষের ধর্মানুভূতি একেকরকম,আবার একই ধর্মের ভেতরে রয়েছে বহু উপগোত্র, এবং বিভিন্ন উপগোত্রের ধর্মানুভূতি বিভিন্ন । প্রতিটি ধর্মেই দেখা যায় সাধারন বিশ্বাসীরা ধর্মের মুলকথাগুলো ঠিকমতো জানেনা,তারা ধর্মে স্নগযোজিত করে নানা নতুন বিশ্বাস,যেগুলোর সাথে ধর্মের মুল বিশ্বাসগুলোর সম্পর্ক নেই।
অজস্র ব্যাপার জড়ো হয়ে মানুষের মনে সৃষ্টি হয় একধরনের যুক্তিরহিতবোধ যাকে বলা হয় ধর্মানুভূতি ।
এই ধর্মানুভূতিতেই আহত হয়,এর গায়েই সাধারনত আঘাত লাগে । ধর্মানুভূতিতে যে আঘাত লেগেছে,তা যে আহত হয়েছে,তা বোঝার ও পরিমাপ করার কোনো উপায় নেই। অযৌক্তিক ব্যাপারকে যুক্তির সাহায্যে পরিমাপ করা যায়না।
বিভিন্ন সমাজ ও রাষ্ট্র এখন যেভাবে চলছে তাতে প্রতিটি ধার্মিকের ধর্মানুভূতি প্রতি মুহুর্তে আহত হতে পারে এবং হচ্ছে ।পৃথিবীতে সম্ভবত এখন বিশুদ্ধ ধার্মিক নেই,থাকলে তাদের ধর্মানুভূতি খুবই আহত হত।
যেমন, মন্দির দেখে আহত হতে পারে একজন ধার্মিক মুসলমানের ধর্মানুভূতি, কেননা তার বিশ্বাসের জগতে মন্দির থাকতে পারেনা; আবার মসজিদ দেখে আহত হতে পারে একজন ধার্মিক হিন্দুর ধর্মানুভূতি,কেননা তার বিশ্বাসে মসজিদ অবানচিত । একজন মমিন মুসলমান যদি দাবী করে যে মন্দির দেখে তার ধর্মানুভূতি আহত হয়েছে,তাই মন্দিরটিকে নিষিদ্ধ করতে হবে,তখন রাষ্ট্র কি করবে; একজন বিশুদ্ধ হিন্দু যদি দাবী করে যে মসজিদ দেখে তার ধর্মানুভূতি আহত হয়েছে,তখন কি করবে রাষ্ট্র? খাঁটি/মমিন/বিশুদ্ধ ধার্মিকের কোমল অনুভূতি আহত হতে পারে প্রতি মুহুর্তেই; টেলিভিষন,সিনেমা,বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের,সংসদে নারীদের দেখে আহত হতে পারে ধর্মানুভূতি , এবং সে এসব নিষিদ্ধ করার জন্য আবেদন জানাতে পারে ।
পৃথিবী ও গ্রহগুলো ঘোরে সুর্যকে কেন্দ্র করে,মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে 'বিগব্যাং' বা মহাগর্জনের ফলে,সেটি হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি,হয়েছে আজ থেকে একহাজার থেকে দুহাজার কোটি বছর আগে,তারপর থেকে সম্প্রসারিত হয়ে চলছে,সূর্য আর গ্রহগুলো উদ্ভূত হয়েছে সাড়ে চারশো কোটি বছর আগে,মানুষ স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে পৃথিবীতে আসেনি,বিবর্তনের ফলে বিকশিত হয়েছে বিশ থেকে চল্লিশ লক্ষবছর আগে,পাহাড়্গুলো পেরেক নয় ইত্যাদি বৈজ্ঞানিক সত্য বিদ্যালয়ে পড়ানো হয়;- এগুলোতে প্রচন্ডভাবে আহত হতে পারে ধার্মিকদের ধর্মানুভূতি ,তারা এগুলো নিষিদ্ধ করার জন্য দাবী জানাতে পারে ।
তখন রাষ্ট্র কি করবে? রাষ্ট্র কি নিষিদ্ধ করবে বিজ্ঞান?
***হুমায়ূন আজাদের একটি প্রবন্ধ থেকে সংক্ষেপিত।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, -০০০১ রাত ১২:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
দ্রোহী বলেছেন:
রাষ্ট্র নিষিদ্ধ না করলেও ব্লগে নিষিদ্ধ হয়ে যেতে পারে।
দ্রোহী বলেছেন:
শাসকেরা বরাবরই পরাজিত শক্তি। আজও তা প্রমাণ হলো।
অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন:
"বাঙলাদেশ এখন প্রবল ধার্মিক দেশ, প্রার্থনালয়ে দেশ ছেয়ে গেছে, চারপাশ উপচে পড়ছে ধার্মিকে, উদ্দাম নাচগানের মধ্যেও টেলিভিশন ব্যস্ত থাকছে ধর্মপ্রচারে , নেতানেত্রীরা তীর্থযাত্রার পর তীর্থযাত্রা করছেন, দিকে দিকে চলছে ধর্মের অলৌকিক উদ্দীপনা তাই বাঙলাদেশ ভরে ওঠার কথা সততায় ।
কিন্তু, দেখা যাচ্ছে ব্যাপক অসততা, অতুলনীয় দুর্নীতি, সীমাহীন ধর্ষণপীড়ন ।
...
তাহলে ধর্মানুভূতি কী দিচ্ছে আমাদের শুধু একরাশ অযৌক্তিক বিশ্বাস ও লোভ এবং পার্থিব হানাহানি ছাড়া?"
--
হুমায়ুন আজাদ এর "ধর্মানুভূতির উপকথা" থেকে ..
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
এ বিষয়ে হুমায়ূন আজাদের কথা আমরা শুনতে রাজি না।তার নাম আমরা কখনোই শুনিনি।আপনি দেশে আসলে নীলক্ষেতের চিপায় আইসা ভালো ভালো বই কিনে নিয়া যায়েন,সেইগুলো থেকে পোস্ট দিয়েন।
উৎস বলেছেন:
রাস্ট্রে অনেক বিজ্ঞানই নিষিদ্ধ। শিশু একাডেমী একটা বই প্রকাশ করেছিল ৮৩-৮৪র দিকে, ওটাতে বিবর্তনবাদ ছিল শিশুদের পড়ার উপযোগী করে, তখন এরশাদ ওটাকে নিষিদ্ধ করেছিল। এরপর যতদিন শিশু ছিলাম শিশু একাডেমীর কোন বইয়ে বিবর্তনবাদ চোখে পড়ে নি, যদিও মোল্লাবাদ সবসময়ই ছিল। ঐ বইটাতেও ছিল। আবার শুনেছিলাম ঢাকায় নভোথিয়েটারে বিবর্তনবাদ নিয়ে ডকুমেন্টারী দেখানোয় নাকি নিষেধাজ্ঞা আছে, সত্য কি না জানি না, তবে হলে অবিশ্বাস করব না।
সুমন চৌধুরী বলেছেন:
তাই নাকি!@ উৎস!
যুঞ্চিক্ত বলেছেন:
[রাস্ট্রে অনেক বিজ্ঞানই নিষিদ্ধ। শিশু একাডেমী একটা বই প্রকাশ করেছিল ৮৩-৮৪র দিকে, ওটাতে বিবর্তনবাদ ছিল শিশুদের পড়ার উপযোগী করে, তখন এরশাদ ওটাকে নিষিদ্ধ করেছিল। এরপর যতদিন শিশু ছিলাম শিশু একাডেমীর কোন বইয়ে বিবর্তনবাদ চোখে পড়ে নি, যদিও মোল্লাবাদ সবসময়ই ছিল। ঐ বইটাতেও ছিল। ]বইটার নাম ছিল বোধ হয় "জ্ঞানের কথা"।
উৎস বলেছেন:
হ্যা, জ্ঞানের কথা। এরকম কনসাইজ বই শিশু অবস্থায় আর চোখে পড়েনি। আরকেটা ছিল পাতাবাহার, অতটা ভালো না, তবে সেখানেও একটা আর্টিকল ছিল "মানুষ কি করে মানুষ হলো"।
এস্কিমো বলেছেন:
@যুক্তিভাই, বিবর্তন বাদ কি বিজ্ঞান?
যুঞ্চিক্ত বলেছেন:
আপনার কি মনে হয় এস্কিমো?
দ্রোহী বলেছেন:
বিবর্তনবাদ বিজ্ঞান না? এস্কিমো ভাইয়ের কি এই মত? "ইনহেরিট দ্য উইন্ড" বা "মাংকি ট্রায়ালের" নাম জানেন?
এস্কিমোঃ যদি এই পোষ্ট আবার চোখে পড়ে, আশা করি আপনি আপনার ভাবনা আরো বিস্তৃত করবেন ।
তীরন্দাজ বলেছেন:
খুব ভাল পোষ্ট হাসান মোর্শেদ। কিন্তু কুপমুন্ডকরা তারপরও কুপমুন্ডকতারই জয়গান গেয়ে যাবে। স্ববুদ্ধি বিকশিত করা তাদের কাছে পাপেরই সামিল। স্বচিন্তা অন্যের পছন্দ না হলে তারা কাফের মোরতাদ ঘোষনায় এক মুহুর্তও দেরী করে না। নিজেরা ভাববে না, অন্যেরা ভাবলে পাপ!
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














