somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... এ'টিমের জন্মদিন ।। সময়ের নবকুমারদের জন্য তিনউল্লাস " style="border:0;" /> )
এই ব্লগে কতোজন লিখলেন,কতোজন লেখা ছাড়লেন,কতোজন ঘোষনা দিয়ে চলে গেলেন,কেউ ফিরে এলেন,কেউ কেউ আর ফিরে এলেননা । যতদুর মনে পড়ে,সামহোয়ারে আমার না লেখালেখি ঘোষিত কিছু ছিলোনা,পুরোটাই ছিলো এথিকাল(এখনো আছে)। ব্লগ কর্তৃপক্ষ যখন লিখিত ফরমান জারী করে,এই ব্লগে প্রকাশিত যে কোন লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়াই যে কোন জায়গায় প্রকাশের অধিকার তারা রাখে তখন আমার মতো সামান্য লেখকের লেখক স্বত্বা আহত হয় । আহত হয়ে বেঁচে থাকা সবসময় খুব জরুরী মনে হয়না আমার ।

এতোদিন পর লগইন করা শুধু একটা শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ।কাল ছিল এটিমের জন্মদিন । এটিমকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ।

সামহোয়ার ইন ব্লগের শুরু থেকেই ঘাতকদালালদের ছানাপোনাদের উৎপাত ছিলো । তাদের জনকদের মতোই তারা ধর্ম ও শোভনতার ক্যামোফ্লেজ ব্যবহার করতো আর সুযোগ বুঝে উগড়ে দিতো তাদের অসহ্য অশ্লীলতা । তারা ঘোষনা করতো-‘গোলাম আজম মহান নেতা,মুক্তিযুদ্ধ ছিলো এক লক্ষ্যহীন অসংগঠিত গনবিস্ফোরন মাত্র, মুক্তিযোদ্ধারা ও যুদ্ধাপরাধী!’

পরাজিত ঘাতকদালালের ছানাপোনারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মিথ্যাচার ও ধর্মকে ব্যবহার করে তাদের রাজনীতি প্রচারের মাধ্যম হিসেবে এই ব্লগকে ব্যবহার করতে চেয়েছিল । সুহৃদ ব্লগার আনোয়ার সাদাত শিমুল তার ‘পাকমন পেয়ার’ গল্পে এই ছবি এঁকেছেন দুর্দান্ত মুন্সীয়ানায় । এই গল্প বড় ঘা দিয়েছিল সেইসব বরাহ নন্দন-নন্দীনিদের (নতুন ব্লগাররা ঐ গল্পটা খুঁজে পড়তে পারেন,আমি লিংক দেয়া ভুলে গেছি)

কিন্তু যে জাতি মৃত্যুকে তুচ্ছ করতে জানে ভাষা ও স্বাধীনতার জন্য সে জাতি যতোই নষ্ট হোক,একেবারে পঁচে যায়না কখনোই । তাই বারবার জন্ম নেয় রক্তবীজের ঝাড়,আওরেলিয়ানোর দল । শহীদ জননী জাহানার ইমাম যখন ঘাতক নির্মুলের ডাক দেন হাজারো ছেলে মুহুর্তে নাম লেখায় সুইসাইড স্কোয়াডে, ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে যখন দালালেরা আমাদের শ্রেষ্ঠতম অর্জনকে,আমাদের জনকদের রক্তধারাকে অসম্মান করতে দলবদ্ধ হয় তখন তার বিরুদ্ধে ও প্রতিরোধ গড়ে উঠে ।

দিনের পর দিন,রাতের পর রাত এই ব্লগে তর্ক-বিতর্ক,প্রশ্ন-উত্তর-পাল্টা প্রশ্ন চলতে থাকে । মনে পড়ে, দালালেরা আশরাফ রহমান নামের তাত্বিক ভাড়া করে এনেছিল ।এইসেই কতো নামে তাদের উপস্থিতি ছিলো । কিন্তু একদিনের জন্য, একবারের জন্য ও তারা কোনদিন কোন যুক্তি,কোন তর্কে জয়ী হতে পারেনি । বস্তুতঃ ফলাফল নির্ধারিত হয়ে গেছে ৭১ এর ডিসেম্বরের ১৬ তারিখেই ।সেদিন থেকে প্রতিদিনই ঘাতক দালাল ও তাদের ছানাপোনারা এক পরাজিত শক্তি মাত্র । এরা পরাজিত যুদ্ধের মাঠে, এরা পরাজিত যুক্তি-তর্কের টেবিলে,এরা পরাজিত বাস্তবতায়,এরা পরাজিত ভার্চুয়াল জগতে । পরাজিত বলেই এরা এতো শঠ,এতো নৃশংস ।
বেশ্যার তবু লজ্জা থাকে এদের থাকেনা কিছুই তাই যুক্তিতর্কে,প্রামান্য দলিলে টিকতে না পারলেও এদের ম্যাৎকার থামেনা,থামানো যায়না শোভন প্রক্রিয়ায় ।

পুরনো পোষ্টে আজ হাত দিয়ে দেখি , ১৭ মার্চ ২০০৭ এ কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলাম জামাতী তাত্বিক আশরাফ রহমানের প্রতি,বেচারা রহমান সময় নিয়েছিলো বইপত্র ঘেঁটে উওর দেবে । বছর পেরিয়ে গেছে সময় আর হয়ে উঠেনি ।
সেই সময়টাতে এদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করতো সামহোয়ারইন ব্লগের লোকজন । এর প্রমান মিলেছে বহুবার । গেলোবছর পহেলা বৈশাখে রেটিং সিস্টেম চালু করার প্রথম দিনে দেখা গেলো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পোষ্টগুলো সর্ব্বোচ্চ রেটেড হয়ে ঝুলে আছে অথচ তখনো সাধারন ব্লগাররা রেটিং করা শুরু করেনি । এই পোষ্টগুলোকে রেটিং করেছিলো ব্লগের তৎকালীন ডেভেলপাররা । মুক্তিযুদ্ধকে হেয় করা পোষ্টগুলো প্রথম পাতার শোভাবর্ধন করে অথচ প্রতিরোধ পোষ্টগুলো কোন এক বিচিত্র কারনে প্রথম পাতা থেকে সরে যায় ।

সম্ভবতঃ ব্লগ কর্তৃপক্ষ ম্যাৎকার সর্বস্ব ছাগকুলকে ব্যাঘ্র ভেবেছিলো । যেহেতু বেনিয়ার কোন ধর্ম নেই ,যেখানে গ্রাহক বেশী সেখানেই সে শরীর বিকিয়ে দেয় তাই সামহোয়ার ঐ ছাগকুলের আস্ফালনকে পৃষ্ঠপোষকতার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ।
আর এইভাবে বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্মের সবচেয়ে জনবহুল সাইটটি ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছিলো । একটা সময় এই সাইট পুরোপুরি কোমায় চলে গিয়েছিলো । কোমা থেকে কোনভাবে বেঁচে উঠেছে,শেষপর্যন্ত ব্লগ কর্তৃপক্ষের বাস্তবতা অনুধাবনের ফলে । তারা শেষপর্যন্ত বুঝতে পেরেছে বাঘের ছাল গায়ে দিলে ও শেষপর্যন্ত ওগুলো ছাগলই, যতোই গাজোয়ারি করুক শেষপর্যন্ত দৌড় কিন্তু ঐ তিন আসনই ।

আর কর্তৃপক্ষের এই অনুধাবনের পেছনে কাজ করেছে দুটো ফ্যাক্টর । প্রথমতঃ সচলায়তনের জন্ম । নানামুখী চাপ ও সমালোচনা স্বত্বেও এই সাইটের বেশ ভালোভাবে টিকে যাওয়া ছিলো সামহোয়ারের জন্য একটা ওয়ার্নিং,মনোপলির দিন ফুরালো বলে ।

তবে সামহোয়ারকে শেষপর্যন্ত বাঁচিয়েছে যারা-তারা এ টিমের পাগলা কমরেডরাই । প্রতিরোধ যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপুর্ন দায়িত্ব পালন করেছে তারা । যুক্তি,প্রমান ও শোভনতার অস্ত্র দিয়ে যখন ঘাতক দালালদের ছানাপোনাদের ম্যাৎকার বন্ধ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল তখন এরাই এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে । খোঁয়াড় থেকে শুয়োর বেরিয়ে এসে যখন ঘরগেরস্থালিকে অপবিত্র করে তখন কাউকে না কাউকে দায়িত্ব নিয়ে শুয়োর তাড়া করতে হয়, তাড়া করতে গিয়ে শুয়োরের বাচ্চাকে শুয়োরের বাচ্চা বলেই গালি দিতে হয়, মায়াকোভস্কির কবিতা নয় বরং শক্তপায়ে লাথি দিয়েই শুয়োর তাড়াতে হয় ।

এই দায়িত্ব যারা নেয় তাদের ভূমিকা, দায়িত্ব না নেয়া দর্শককুলের কাছে সবসময় শ্লীল মনে নাও হতে পারে । কিচ্ছু করার নেই ঐ সব নপুসংস্কদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া । ‘গোলাম আজম মহান নেতা’ এর চেয়ে বেশী অশ্লীল শব্দমালা বাংলা ভাষায় আর কি হতে পারে? ‘মুক্তিযোদ্ধারা ও যুদ্ধাপরাধী’ এই কথার চেয়ে জঘন্য কোন গালি এই ভাষায় সৃষ্টি হতে পারে আর?
এই সব অশ্লীল উচ্চারন যারা করে আর যারা এই সব অশ্লীলদের সমব্যাথী হয় যে কোন প্রকারে, প্রিয় ব্লগারের তালিকায় এদেরকে যুক্ত করে,এদের সাথে সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখে -তারা কোন অধিকারে শ্লীলতা দাবী করে অন্যদের কাছ থেকে?

সকলে নবকুমার হয়না । কিন্তু কেউ না কেউ হয় । কেউ না কেউ হয় বলেই ঘোর দুঃসময়ে ও একচিলতে স্বপ্নদেখার সাহস অবশিষ্ট থাকে ।
সময়ের নবকুমারদের অভিনন্দন । এটিমের সকলের জন্য তিন উল্লাস ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28800178 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28800178 2008-05-20 07:18:30
ধর্মানুভূতির ইতংবিতং ও সংখ্যাধিক্যের ষাঁড়ামী নতুন করে আবারো দেখলাম কর্কটের মন্তব্যে ।
যুক্তিটা এরকম-- 'মুসলমান রা তাদের ধর্মের অন্যান্য বিষয়ে সমালোচনা মেনে নেন । কিন্তু হযরত মোহাম্মদ(দঃ) এর কোনো সমালোচনা বা তাকে নিয়ে কোনো ব্যাংগ-বিদ্রুপ সহ্য করতে পারেননা । সালমান রুশদীকে হত্যার ফতোয়া, ডেনিশ কার্টুনকে কেন্দ্র করে দুতাবাস পুড়ানো এসব থেকে শুরু করে সামহোয়ার ব্লগে সাম্প্রতিক পোষ্ট ডিলিট এসব কিছুর কারন সেই একটাই--মোহাম্মদ(দঃ) এর সমালোচনা ।
প্রতিক্রিয়াটা এরকম হওয়াটা স্বাভাবিক যেহেতু শেষনবী মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত,সকল সমালোচনার উর্ধ্বে । মা-বাবার সমালোচনাই আমরা সহ্য করতে পারিনা তো রাসুলের সমালোচনা সহ্য করবো কি করে?'

যুক্তি ঠিক আছে। খুবই ভালো যুক্তি । মোহাম্মদ(দঃ) সর্ব্বোচচ সম্মানিত,সকল সমালোচনার উর্ধ্বে । কিন্তু কার কাছে? মুসলমানদের কাছেই তো?
দুনিয়াতে কি কেবল মুসলমানই আছে? অমুসলিম একজন ও শেষনবী কে একই সম্মান দেখাতে বাধ্য নাকি? তার কি সমালোচনার অধিকার নাই? সে সমালোচনা করলেই মুসলমানের অনুভূতি আহত হয়ে যাবে?সমালোচকের ঠুটি চেপে ধরতে হবে? তাকে হত্যার ফতোয়া দিতে হবে? তার পোষ্ট মুছে ফেলতে হবে?

একজন ধার্মিক হিন্দুর কাছে কৃষ্ণ কিংবা রাম ধর্মাবতার । আমার কাছে চতুর শাসক ছাড়া আর কিছু নয় । রাম অনার্য সিংহলীদের পরাস্ত করে আর্য সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিলেন । রাম ছিলেন বহিরাগত । বিজয়ীদের লিখিত ইতিহাসে নিজদের তারা দেবতা বানিয়েছেন আর অনার্যদের বানিয়েছেন রাক্ষস ।
যেখানে হিন্দু আধিক্য সেখানে আমি আমার এই ভাবনাগুলো প্রকাশ করতে পারবোনা? তাদের অনুভূতি আহত হবে সেই দায় আমার? আমার ভাবনা, আমার জানা আমাকে গিলে রাখতে হবে?

এই সব সংখ্যাধ্যিকের ষাঁড়ামী যতোদিন চলে,মানুষ ঠিক ততোদিন অন্ধকারেই থাকে-- যেমন অন্ধকারে ছিলো ইউরোপ গির্জার শাসনকালে ।

[ জানি কেউ কেউ অতিযুক্তিবিদ আছেন, প্রশ্ন তোলবেন-- তাহলে স্বাধীনতাবিরোধীদের কথা বলতে দেয়া হবেনা কেনো?
কেনো? সেটা বলা যেতে পারে আরেক পোষ্টে । ইদানিং এই ব্লগে বেশী সময় দিতে ভাল্লাগেনা]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28715014 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28715014 2007-06-07 16:33:06
নজরুল যেভাবে অনুভূতি'রে আহত করলেন ধ্বংস করেছি ধর্ম যাজকী পেশা,
ভাংগি মন্দির ভাংগি মসজিদ
ভাংগি গীর্জা--গাহি সংগীত'

ইসলামী চেতনার (!)কবি কাজী নজরুল ধর্মশালা ভেংগে সঙ্গীত পরিবেশন করতে চান?
ধর্মানুভূতি তো আহত হয়ে প্রায় কোমায় চলে গেলো!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28714868 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28714868 2007-06-06 15:57:38
টুকরো টুকরো হূমায়ুন আজাদঃ ১ কারো কারো গড়িয়ে পড়া ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেয়ার অপরাধে যাকে টুকরো টুকরো করা হয়েছিল!

----------------------------------------

'ধর্মানুভতি কোনো নীরিহ ব্যাপার নয়,তা বেশ উগ্র;এবং এর শিকার অসৎ কপট দুর্নীতিপরায়ণ মানুষেরা নয়,এর শিকার সৎ ও জ্ঞানীরা;এর শিকার হচ্ছে জ্ঞান । জ্ঞানের সাথে ধর্মের বিরোধ চলছে কয়েক সহস্র বছর ধরে,উৎপীড়িত হতে হতে জয়ী হচ্ছে জ্ঞান,বদলে দিচ্ছে পৃথিবীকে;তবু আজো মিথ্যে পৌরানিক বিশ্বাসগুলো আধিপত্য করছে,পীড়ন করে চলছে জ্ঞানকে।
ধর্মানুভূতির আধিপত্যের জন্য কোন গুন বা যুক্তির দরকার পড়েনা,প্রথা ও পুরনো ভুল বই যোগায় তার শক্তি আর ওই শক্তিকে সে প্রয়োগ করতে পারে নিরংকুশভাবে '


***হুমায়ুন আজাদের 'ধর্মানুভূতির উপকথা' প্রবন্ধ থেকে সংগৃহীত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28714768 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28714768 2007-06-05 20:37:24
রাষ্ট্রীয় মুলনীতি ও মুছে ফেলা পোষ্ট । । ব্লগ এডমিনদের সিদ্বান্ত ঠিক আছে যদি আমার ভুল না হয়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মুলনীতি গুলোর একটি হচ্ছে ' আল্লাহর উপর পূর্ন বিশ্বাস'
৭৫ এর পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান সংবিধান সংশোধন করে এই মুলনীতি সংযোজন করেছিলেন ।

তো এই মুলনীতি কি বলে? আল্লাহর উপর যার পুর্নবিশ্বাস নাই? যার বিশ্বাস আছে ভগবান অথবা গড এর উপরে? অথবা কোন স্রষ্টাতেই যার কোন বিশ্বাস নাই?
সে তাহলে রাষ্ট্রীয় মুলনীতি মানছেনা? রাষ্ট্রীয় মুলনীতি না মানা তো রাষ্ট্রদ্রোহীতা? বাংলাদেশ রাষ্ট্রে তাহলে আল্লাহর উপর বিশ্বাস না রাখা কিংবা কোন সমালোচনা রাষ্ট্রদ্রোহীতা?

বেচারা ব্লগ এডমিন গন । এই জরুরী অবস্থায় তাদের এইসব হাস্যকর সিদ্বান্ত নেয়া ঠিকই আছে । পুঁটিমাছের জান নিয়ে পুকুরেই সাঁতার কাটা যায়, সাগর পেরোনো যায়না]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28714353 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28714353 2007-06-03 21:04:06
এইসব 'ঘাড়ত্যাড়ামী' ও সামহোয়ারইনে মিথস্ক্রিয়া
তখন আমরা কজন বছর একুশের বিপর্যস্ত তরুন । বিপর্যস্ততা আমাদের বোধ ও বুনন নিয়ে । সহজে মুক্তি খুঁজে যারা, সেই বন্ধুদের কেউ কেউ মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে গেছে । আমরা ও অভিজ্ঞতা নেই কিন্তু মুক্তি পাইনা, এই সব ঠিক আপনে মনে হয়না, ভেতরে অন্য কেউ মন্ত্রনা দেয় অন্য কিছু করার ।

আমরা ক'জন সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু করি ছোটগল্পের কাগজ 'সহবাস' । জড়িত সকলে তখন পুরোদমে বেকার । বাপের ও পয়সা নেই দেদার । সেই ৯৭ সালে একফর্মার কাগজ বের করতেই খরচ চারহাজার টাকা!
টাকা তুলে ফেলা যায়, জটিল কোনো সমস্যা নয় । নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো এই তরুনের দলকে শহর সিলেটের লোকজন মোটামোটি 'ভালো' বলেই জানে । দু চারজন ব্যাবসায়ীর কাছে বিজ্ঞাপনের জন্য গেলেই খরচ উঠে আসে,এমনকি দু চার প্যাকেট বেন্সনহেজেজ এর দাম ও বের করে ফেলা যায় ।
তবু আমরা 'ঘাড় ত্যাড়ামী' করি । নিজেদের টাকা নেই, তবু আমরা বিজ্ঞাপন নেবোনা । ছোটগল্পের কাগজের পেছনে নারকেল তেলের কিংবা ব্রিটিশ টোব্যাকোর বিজ্ঞাপন নেবোনা আমরা ।
এই 'ঘাড়ত্যাড়ামী' বহাল রাখতে গিয়ে বদ্ধ বেকার আসিফ মনি রিক্সা ভাড়ার টাকা বাঁচায়, পুরান লেন থেকে শিবগঞ্জ হেঁটে হেঁটে আসে(মনি এখন বিদেশী জাহাজ কোম্পানীর বড়কর্তা, ডলারে বেতন গুনে), সিগারেটখোর বন্ধুরা গোল্ডলিফ এর বদলে বিড়ি কেনে (বিশ্বাস হয়?), একজন তার প্রেমিকার কাছ থেকে জন্মদিনের উপহারের বদলে কাগজ কেনার টাকা নেয়!

শুভাকাংখীরা ভুঁরু কোঁচকান--' এরকম কতদিন? বিজ্ঞাপন না নিয়ে কতোদিন চালাবে হে?
আমরা ঘাড়ত্যাঁড়া রা হাসি-- 'যতোদিন পারি । বেঁচে থাকার জন্য লেখালেখি করা তো আবশ্যক নয় । যেদিন পারবোনা সেদিন আর করবোনা । তবে করবো যতদিন, ততোদিন আপোষ নয়, এক বিন্দু ও'



-------------------------------------------------------------

জনপদ শ্বাপদসংকুল হলে একদল শ্বাপদ খেদানোর জন্য অস্ত্র হাতে নেন। যে কোনো অস্ত্র হাতেই যারা শ্বাপদ খেদাতে এগিয়ে আসেন, সাহসী তারা ।
কিন্তু জনপদের অভিভাবক যদি নিজেই শ্বাপদের কাছে সবকিছু নিলাম করে দেন তাহলে? তাহলে ও ঘাড়ত্যাঁড়া কেউ কেউ শ্বাপদ ও শ্বাপদের পৃষ্ঠপোষকদের মোকাবেলা করেন ।

আরেকদল সাহসী মানুষ-শ্বাপদ সংকুল জনপদ ছেড়ে চলে যায় । ভয়ে নয় ঘৃনায় । তারা নতুন অন্য কোথাও যায়, আবাদ করে, স্বপনের বীজ বুনে, নিজেদের মতো করে গড়ে তুলে নিরাপদ জনপদ যেখানে শ্বাপদের প্রবেশাধিকার নেই ।


*** এই সব বিনাশ ও বিন্যাসের গল্প এইভাবে চলতেই থাকে,যতোদিন না মানুষ ফুরিয়ে যায় ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28714343 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28714343 2007-06-03 20:18:11
অপারেশন ষ্টক-এন-ট্রেন্ট, কাজী বাছিতের দাড়ি ও মাতাল রাতের ইতিকথা গতকাল যখন আমরা ষ্টক-এন-ট্রেন্ট এ এসে ঢুকলাম, সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে তখন । আমরা এসেছি ম্যানচেষ্টার থেকে । ম্যানচেষ্টার এ রাসেলের আবাস ।
আমি এসেছি দুপুরে, কাজী বাছিত সকালে বার্মিংহাম থেকে । ৯১-৯২ এ এম সি কলেজের জাসদের চ্যালা ছিলো এখন তাবলীগের পান্ডা । দাড়ি একাই রেখে দিয়েছে কয়েকজনের । ভালো চাকরী করে এখানে ,একটা ফিন্যান্স কোম্পানীর এসিস্টেন্ট ম্যানেজার ।
কিন্তু রয়ে গেছে সেই আগের মতোই । বন্ধু অন্তপ্রান । বন্ধুর বন্ধুর জন্য ও যেকোনো ঝুঁকি নেয়ার ছেলেমানুষী করতে পারে এখনো ।
সৈয়দ রাসেল ও তেমনি । পলাশের ওপর হামলাকারীদের একটা টেকওয়ে আছে, টেকওয়েতে কোনো সিসিটিভি নেই, ষ্টক এর পুলিশ খুবই গা ছাড়া, হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা সপ্তাহে দু' চারটা ঘটেই- সব তথ্য রাসেলের জোগাড় করা!

ষ্টক থেকে ম্যানচেষ্টার ফিরে আসতে আসতে রাত প্রায় এগারোটা । রাসেলের সেভেন সিটারে আমি , বাছিত, পলাশ ও লন্ডন থেকে যাওয়া পলাশের আরো দুই বন্ধু । পলাশ সুস্থ হয়ে উঠেছে , ষ্টক ছেড়ে চলে এসেছে পুরোপুরি, চলে যাবে গ্লাসগো ।
আজকের পর ষ্টক আর আমাদের কারোর জন্য নিরাপদ নয় । আমি অবশ্য অনেক অনেক দূরে ।
ছুন্নতি দাড়িমুখে তাবলীগি কাজী বাছিত , হাতে লোহার রড, টেকওয়ের গ্লাস ভাংগার শব্দ-- সে এক বড় জটিল কোলাজ সময়টা টানটান উততেজনার ছিলো, নয়তো ছবি তুলে রাখা যেতো ।

২।
সৈয়দ রাসেল একদা বড় পানপ্রিয় উচ্ছ্বল তরুন ছিল। লন্ডনী কন্যার গলায় ঝুলে সে মৃতপ্রায় গৃহস্ত হয়ে গেছে । তবু পানের পিয়াস সহজে ভুলার নয়, পিয়াসী মাত্রই জ্ঞাত ।
তাই পানপর্ব নিরুপদ্রব করার স্বার্থে রাসেল তার মুসল্লী বৌকে পাঠিয়ে দিয়েছে বাপের বাড়ী ।
দুই রুমের ফ্লাটে তুমুল হল্লা চলছে ।
তাবলীগের হুজুর বয়ান করছেন - পরকালে কোন দোযখে এইসব পানাসক্ত পাপীদের স্থান হবে আর তিনি কি করে কোন বেহেস্তে কতো নম্বর হুরপরীতে উপগত হবেন আর সিক্ত হবেন শরাবান তহুরা নামের শ্রেষ্ঠ পানীয়তে!

একফাঁকে এইসব পাগলামী আমি লিখে রাখি ব্লগের পাতায়, জুনের ২ ভোর ৩টা বেজে ৫০ মিনিটে ।
আজকেই প্রত্যেককে ফিরে যেতে হবে আবার নিজ নিজে আস্তাবলে । কে জানে আর কবে দেখা হয়, আর কবে এই সব পাগলামি, আর কবে কোন দুর্বিপাকে কার বাড়ানো হাত ছুঁয়ে মনে হবে- এইতো বন্ধুর হাত, এই হাত ছুঁয়ে বেঁচেছিলাম একটা জীবন ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28713949 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28713949 2007-06-02 08:55:06
'মুক্তিযুদ্ধ' নিয়ে আর লিখবোনা, যদি... সাম্প্রতিক পোষ্ট পড়লাম ।
যথারীতিই ভদ্রসম্মত ভালো কথা ,যেমন সাদিক আগে ও বলতেন, এখনো বলেন ।
এই অভাজন হাসান মোরশেদ সহ আরো তিনজন সম্মানিত ব্লগারের নামউল্লেখ করে একপ্রকার স্যাটায়ার রচনা করেছেন সাদিক । এরা চারজন ঘোষনা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করে । (ঘোষনা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করার মাঝে লজ্জার কিছু আছে কিনা সেটা অবশ্য নির্লজ্জ্ব আমার বোধগম্য নয় । ১৬ ডিসেম্বর সারা দেশে পতাকা উড়লে, টিভি তে সারাদিন মুক্তিযুদ্ধের অনুষ্ঠান চললে ও অনেককে ভ্রু কুঁচকাতে দেখেছি, 'এতো দেখানোর কি আছে? ')
সাদিক মোহাম্মদ আলমের দীর্ঘশ্বাস, এই ব্লগাররা অতিআক্রমনাত্বক ভংগীতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখে বলে কোমলমতি ব্লগাররা এদের পোষ্ট এড়িয়ে চলে । এড়িয়ে চলে বলেই আসল ম্যাসেজ তাদের কাছে পৌঁছায়না, যে কারনে তাদের বিভ্রান্তি ও ঘুচেনা, তারা বগলে কাটাবন থেকে প্রকাশিত বইপত্র নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে, না হলে নিশ্চিত তারাই হতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রকৃতধারক ও বাহক ।

বাকী তিনজনের কথা জানিনা, আমি একা আমার সিদ্ধান্তে সাদিকের অভিযোগ মেনে নিলাম । আমি বিভ্রান্তদের আলোর পথ দেখানোর মত লিখা সত্যিই লিখতে জানিনা অথচ তাদেরকে সঠিক পথ দেখানো জরুরী ।

তাই আর লিখবোনা ।
হ্যাঁ, এই ব্লগে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমি আর একটা লিখা ও লিখবোনা, কিন্তু একটা শর্ত আছে ।
সাদিক মোহাম্মদ আলমকে দায়িত্ব নিতে হবে । সাদিককে লিখতে হবে। আমার বা আমাদের ব্লগ যে বিভ্রান্ত কোমলমতিরা এড়িয়ে চলে, সাদিকের ব্লগের নিশ্চয় তারা পাঠক হবে । সাদিক তবে লিখুন পাকবাহিনীর হত্যা ও ধর্ষনে সহযোগীতা করার জন্য কত তারিখে, কোথায় কার নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়েছিলো, তার রাজনৈতিক পরিচয় কি ছিলো? রাজাকার ও শান্তিকমিটির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে কারা কারা ছিলো? আল-বদর বাহিনীর অল-পাকিস্তান হাইকমান্ডের প্রধান কে ছিলো? কার ডায়েরী থেকে পাওয়া গিয়েছিলো ১৪ ডিসেম্বরের শহীদ বুদ্ধিজীবিদের নামের তালিকা? এদের রাজনৈতিক পরিচয় কি?
আপনি লিখুন সাদিক । 'গোলাম আজম মহান নেতা' ঘোষনা দেয়া আস্তমেয়ে আপনার এই সব লেখা দেখে কি বলে, 'রাজাকার রা যুদ্ধাপরাধী হলে মুক্তিযুদ্ধারা ও তাই' এ কথা বলা ওয়ালী কি মন্তব্য করে আমি দেখতে চাই, আমি দেখতে চাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বালখিল্য করা ত্রিভুজ কি ভুমিকা রাখে আপনার লেখায় ।


আর যদি দায়িত্ব না নেন, যদি আপনি মুক্তিযুদ্ধ না লিখেন তাহলে সবিনয় অনুরোধ আপনার কাছে দয়া করে আমাকে নিয়ে টানাটানি করবেন না । এর আগে আরিফ জেবতিক এর একটা পোষ্ট এর সুত্র ধরে আপনি আমাকে উপহাস করেপোষ্ট দিয়েছেন । কোন দরকার নাইরে ভাই। আমি এমন কেউকেটা নই যে আমাকে নিয়ে আপনার ভাবতে হবে, দরকারী সময় নষ্ট করতে হবে। আমাকে আমার কাজ করতে দিন ।
একেবারেই রাজনীতিবিমুখ একটা ছেলে কেবল মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রোগ্রাম করেছিল বলে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে এখন । ব্যস্ত আছি তাকে নিয়ে । এই ব্যাস্ততার কারনে ভেলরী ট্রেলরের কর্মসুচী তে ও সময় দিতে পারছিনা ।

আপনার উপহাস, আপনার আশাবাদ, আপনার সহমর্মিতা সবকিছুর জন্য অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা ।
অপেক্ষা করবো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আপনার লেখা পাঠের, যে লেখায় বিভ্রান্ত কোমলমতিরা আলো খুঁজে পাবে । সে লেখা যদি লিখিত না হয় তা হলে কিন্তু আমি আমার লেখাগুলোই লিখে যাবো এবং অতি অবশ্যি আমার লেখা ঘাতক ও ঘাতকের জাষ্টিফাইয়ারদের ঘৃনা জানিয়ে, তাদের সাথে সহবাসের জন্য নয় । ভালো থাকুন ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28713315 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28713315 2007-05-29 20:08:33
'লুকিং ফর শত্রু'-- এবার যদি বন্দুকের নল যায় ঘুরে? সে রাতেই নিরীহ তরুনকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক । 'ক্রসফায়ার' নামের খুনের উৎসব । খুনকে আবার জায়েজ করার জন্য ভাড়াকরা লোকজন দিয়ে আনন্দমিছিলের আয়োজন । ভয়ংকর খুনীকে খুন করতে পারলে তো নিরীহ নাগরিক জয়ধ্বনি উচচারন করবেই রানীমাতার নামে!


লুৎফুজ্জামনা বাবর--সদাহাস্যময়,'অতীতভুলে সামনে তাকানো', উন্নয়নকামী রাজনীতিকগনের এক অতিউজ্জ্বল মডেল আপনি । কি ভীষন স্মার্ট, চুলে জেল মাখেন, দেশের শত্রু সন্ধানে সদা ব্যস্ত, কি চমৎকার ভংগীতে ডায়ালগ থ্রো করেন-'উই আর লুকিং ফর শত্রু', জেহাদীদের বোমা হামলায় মানুষ মরলে আর সেই সব মানুষের মাঝে একজন ধর্মে সংখ্যালঘু হলে-আপনি বোমা হামলার নতুন 'ডাইমেনশন'খুঁজে পান, এতোটাই ডায়ানামিক আপনি জনাব ।
আপনাকে নিয়ে আজ আমি বড়ই উদ্বিগ্ন ।
রানীমাতা নেই আজ, নতুন রাজা সমাসীন । আপনার প্রিয় রানীমাতার অভিজাতবাহিনী এখন নতুন রাজার লোক । যদি কোনো নির্দেশে তারা আপনাকে নিয়ে আজ রাতে অস্ত্র উদ্বার অভিযানে বের হয়, যদি আজ রাতে ঘটে যায় সেই উৎসব!

ওহ নো! কি সব অলুক্ষনে ভাবনা ভাবছি আমি ।
আপনাদের শরীরে নীলরক্ত । নীলরক্ত কি আর ধুলির ধুলোয় গড়ায়? এই পঁচে গলে যাওয়া নোংরা দেশে সম্ভাবনাময় তরুনদের প্রয়োজন ফুরিয়েছে । তারা খুন হোক, তারা নষ্ট হয়ে যাক,তারা নির্বাসিত হোক।
এই নষ্ট জনপদে আপনাদের প্রয়োজন হে সিপাহশালার। আপনারা নিরাপদ থাকুন,বেঁচেবর্তে থাকুন । সাময়িক অমানিশা কেটে আলোর ভোর আসবে আবার ,আপনাদের জন্যই।

আপনাকে আমার, আভুমি আনত অভিবাদন ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28713146 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28713146 2007-05-28 19:56:20
!!!ইংল্যান্ডে বাংলাদেশী ছাত্র, স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদীদের হামলার শিকার!!! রাজনীতি এড়িয়ে চললে ও হ্রদয়ে ধারন করেন মুক্তিযুদ্ধ আর তা প্রকাশিত হয় তার শিল্পচর্চায় ।
সম্প্রতি পলাশদের কোর্স ফাইনাল ছিল । কোর্সফাইনালে প্রত্যেক ফাইন আর্টস ছাত্রকে নিজেদের শিল্পকর্মের প্রদর্শনী আয়োজন করতে হয় ।
গত ৬ মে পলাশ তার শিল্পপ্রদর্শনীর আয়োজন করেন এবং এ আয়োজনের থিম ছিল 'জেনোসাইড ৭১ ' । তার উদ্দেশ্য ছিল গনহত্যা ৭১ এ বিষয়ে আরো বেশী মানুষকে জানানো । প্রদর্শনীর পোষ্টার ও লিফলেট এ পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বর্বরতা, দেশীয় ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর এ বর্বরতায় সহযোগীতা, মুক্তিবাহিনীর সাহসী প্রতিরোধ ও আত্নত্যাগের বর্ননা ছিলো । এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের উপর তৈরী করা একটি ভিডিও প্রদর্শনী ছিল ।

পলাশের এই প্রদর্শনী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে গোটা ষ্টক-অন-ট্রেন্ট শহরে আলোচনার ঝড় তুলে । স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে এ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, বিবিসি মিডল্যান্ড এ ও সংবাদ প্রচারিত হয় ।
এই প্রদর্শনী এতো বেশী আলোচিত হবার একটা কারন হল, ষ্টক-অন-ট্রেন্ট শহরে পাকিস্তানীদের সংখ্যাধিক্য । পুরো শহরটাই যেনো এশিয়ানদের । এশিয়ানদের ভেতর পাকিস্তানীরাই বেশী । তারপর বাংলাদেশী ।
যারা ইংল্যান্ডে আছেন জানেন ,যেখানেই পাকী সেখানেই ড্রাগডিলিং ও অন্যান্য সব ক্রাইম । আর আশংকাজনকভাবে এখানে বেড়ে উঠা এই প্রজন্মের বাংলাদেশীদের একটা বড় অংশ হয়েছে পাকিস্তানীদের সহচর । আর এদের অনেকেই মৌলবাদী দলগুলোর সাথে জড়িত ।
ষ্ট্রোক-অন-ট্রেন্ট তেমনি একটা শহর ।

পলাশের প্রদর্শনী মুল্ধারার মিডিয়া ও শিল্প-সমালোচকদের দ্বারা প্রবল প্রশংসিত হলেও দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তা স্থানীয় বাংগালী কমিউনিটির একটা অংশকে বিরুপ করে তোলে । সেই অংশ যারা পাকিস্তানীদের সাথে ঘনিষ্ঠ এবং বিশেষ রাজনৈতিকলের সাথে সংশ্লিষ্ট । গেলো শুক্রবার জুমার নামাজে গেলে স্থানীয় মসজিদে পলাশকে তিরস্কার করা হয় এই আয়োজনের জন্য । এই আয়োজন নাকি শহরের বাংলাদেশী-পাকিস্তানী সহাবস্থানকে হুমকীর মুখে ঠেলে দিয়েছে ।
এরপর শুরু হয় মোবাইলে তাকে হুমকী দেয়া ।
ঘটনা পরিনতি লাভ করে গতকাল সন্ধ্যায় । স্থানীয় বাংগালী কমিউনিটির কয়েকজন তার বাসায় গিয়ে শারীরিকভাবে তাকে আক্রমন করে, কম্পিউটার ও শিল্পকর্মগুলো ভাংচুর করে ও তাকে হুমকী দেয় হত্যা করার ।

গতকাল রাতে পলাশের সাথে কথা হয়েছে । হাস্পাতালে ভর্তি । পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে । স্থানীয় বিবিসি সকালের অধিবেশনে গুরুত্ব দিয়ে এ সংবাদ প্রকাশ করেছে ।
আমি হয়তো আজ ষ্টক এ যাবো ।
ব্লগার বন্ধুদের খবরটা জানিয়ে গেলাম । দোয়া রাখবেন পলাশের জন্য ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28712909 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28712909 2007-05-27 15:58:07
'কবি নজরুল পরাজিত হলে ক্ষতি কার?' জুম্মা থেকে বের হবার পর বাবা বললেন 'হুজুরের কথা ভুলে যাও । এসব মিথ্যে । রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুলের বয়স তখন মাত্র ১৪ বছর '


হুজুরেরা আছেন এখনো । বহাল তবিয়তেই আছেন । রোশনাই আর চেকনাই আরো বেড়েছে । মসনদের স্বাদ ও পেয়ে গেছেন । ইদানিং হুজুরেরা দেখছি ব্লগিং ও করেন ।
ব্লগের পাতায় তারা ফরমান " নজরুল ছিলেন মুসলমানের কবি, রবি ছিলেন হিন্দুর । নজরুল অসাম্প্রদায়িক ছিলেন , রবীন্দ্র ছিলেন মুসলিম বিদ্বেষী যেহেতু তিনি মুসলমান্দের নিয়ে কিছু লিখেননি । নজরুল ছিলেন বিদ্রোহী, রবীন্দ্রনাথ বৃটিশের দালাল "

জানতে বড় ইচ্ছে হয় হুজুরদের কাছে, দাংগাবিক্ষুব্দ কলকাতায় ঠাকুর বাড়ীর যে ছোট ছেলেটা শান্তিমিছিল বের করেছিল, কলকাতা বড় মসজিদের ইমাম সাহেবের হাতে রাখীবন্ধন পড়িয়ে দিয়েছিলো- তার নাম যে রবীন্দ্রনাথঠাকুর সেটা কি তারা জানেন? 'মুসলমানীর গল্প' নামে একটা ছোটগল্প আছে সেই বাবুর, সেটা ও কি বিস্মৃত? রবীন্দ্রনাথ নিজে যেখানে বলেছেন 'জনগনমন অধিনায়ক ও হে' ইংরেজ রাজশক্তির প্রশস্তিগাঁথা নয়-তবু এ মিথ্যে প্রচার অথচ হুজুরেরা এই তথ্য বেমালুম চেপে যান যে রবীন্দ্রনাথ তার 'নাইট' উপাধী প্রত্যাখ্যান করেছিলেন জালিওয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ।

হুজুরেরা বলেন নজরুল নাকি তাঁর 'বড়র পীরিতি বালির বাঁধ 'প্রবন্ধ লিখে রবীন্দ্রনাথের প্রতি তাঁর ক্ষোভের প্রকাশ করেছেন । হা হতোস্মি! নজরুল যে তাঁর 'সনচিয়তা" উৎসর্গ করলেন রবীন্দ্রনাথকে? এ কোন রবীন্দ্রনাথ? অন্য কেউ নাকি?

মৌলভীদের কে যে 'মৌ-লোভী' বলেছিল সেই নজরুলকে মুরতাদ ঘোষনা করে 'কাফের কাজী' ডেকেছিলো এই হুজুরেরাই । এই হুজুরেরাই নজরুলের কংগ্রেসী টুপি মাথায় ছবিকে ব্যাবহার করে মুসলমানের কবি বানায় । কোন নজরুল? যে নজরুল ভারতীয় কমিউনিষ্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্টাতা কমরেড মুজাফফর আহমদ এর ঘনিষ্ঠজন? যে নজরুল নিজেও ভারতীয় কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্য? সেই কমিউনিষ্ট নজরুল ইসলামী জাতীয়তাবাদের কবি!

লালনের চুঁড়োবাধা চুলের ছবিকে ছেটে দাড়িওয়ালা লালনকে মুসলিম পীর বানানোর ইতরামী ও করেছেন একদা এই হুজুরেরা ।

এই ভাবে রবীন্দ্রনাথ অপমানিত হন, নজরুল খন্ডিত হন, লালন বিকৃত হন ধর্মব্যাবসায়ীদের হীনতায় । হুজুরেরা জানেননা রবী-নজরুল-লালনদের ধারন করে এতো ঋদ্বতা ধারন করেনা ধর্ম স্বয়ং, ধর্মেরা ষাঁড়েরা তো কোন ছার!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28712662 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28712662 2007-05-26 19:41:56
মানুষের মানচিত্র । । ভ্যালেরী টেইলর ও অন্যান্য প্রসংগ
নিপীড়ন আর রাষ্ট্রীয় সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই । আমেরিকা , পাকিস্তান সুদান থেকে তুলে নিয়ে গেছে অনেক তরুন কে । শুধু পাকিস্তানেই গত কয়েকবছরে নিখোঁজ হয়েছে হাজার পাঁচেক তরুন । ধারনা করা হয় জর্দান কিংবা কাতারের মতো তৃতীয় কোনো দেশে এদের আটকে রাখা হয়েছে ।
প্রতিবাদ ও এখন আর কেবল দেশীয় নয় । প্রতিবাদ ও ছড়িয়ে পড়ে দেশ থেকে দেশে, সারা পৃথিবীতে । প্রতিবাদের ধরনে ও এসেছে ভিন্নতা । মিছিল,মিটিং,সমাবেশ ছাড়া ও কর্তপক্ষকে মেইল করা, চিঠি দেয়া, ফ্যাক্স করা এসব কার্যক্রম নিয়মিত চলে । ঠিক এই মুহুর্তে অন্ততঃ পাঁচটা ই-মেইল ক্যাম্পিং চলছে ।
আজারবাইজানের সাংবাদিক সাকিত জাহিদভ এর বিচারবহির্ভুত শাস্তি, ইরানের কিশোরী দিলারা দারাবীর ফাঁসীর আদেশ , সৌদী আদালতের রায়ে ফাতিমা নামের এক মহিলার জোরপুর্বক বিবাহবিচ্ছেদ, নেপালে পুলিশ কর্তক গ্রেপ্তার ও পরে নিখোঁজ ছাত্রনেতা সঞ্জীব কারানা, চীনে মানবাধিকার কর্মী মাও হেংফেং এর আটকাদেশ-- এসবের বিরুদ্ধে ক্যাম্পিং চলছে । সারা পৃথিবী থেকে কয়েক লক্ষ মেইল,ফ্যাক্স,চিঠি যাচ্ছে কর্তপক্ষ বরাবর ।
এসবে কি কাজ হয়?

হয় । কয়েকটা সংবাদ দিতে পারি ।
গত বছরের ইসরাইল লেবানন যুদ্ধের সময় বেশ কয়েকজন ইসরাইলী সৈনিক অন্যায় যুদ্ধে অংশগ্রহনে অস্বীকার করেছিলেন । স্বাভাবিক পরিনতিতেই তাদের কোর্টমার্শাল এবং বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ড হয়েছিল । তখন থেকেই ইসরাইলী কর্তপক্ষকে প্রতিবাদ জানিয়ে মেইল ক্যাম্পিং শুরু হয়েছিল । সে সময় একটা পোষ্টও করেছিলাম এ নিয়ে ।
ভালো খবর হলো, ইসরাইলী কর্ত্ব
পক্ষ সেই সব 'রিফিউজিনিক' দের সম্প্রতি মুক্তি দিয়েছে ।
এ ছাড়া, এ মাসেই ইরানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন আইনবিদ ও মানবাধিকার কর্মী নাসের জারাফসান, ইথিওপীয়ার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন নারী সাংবাদিক সেরকালিম, আলজেরিয়ার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন মানবাধিকার আইনজীবি হাসিবা ও আমিন । এদের প্রত্যেকের পক্ষেই বিশ্বব্যাপী ক্যাম্পেইন ও কর্তপক্ষের উপর চাপ প্রয়োগ চলছিল ।

চলেশ রিচিল হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিবাদ হওয়ায় এবং এমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হবার পর , দেখেছি সরকার এ হত্যাকান্ডের পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ।
মানবাধিকার সাংবাদিক তাসনিম খলিল গ্রেপ্তার হবার ২৪ ঘন্টার ভেতরে সরকার মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে মুলতঃ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের চাপে ।
সিলেটের সাংবাদিক আহমেদ নূর এর গ্রেপ্তার ও তার উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে । হয়তো আমরা অদূর সময়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও বিশ্বব্যাপী কর্মসুচীর আয়োজন করতে পারবো ।


সম্প্রতি ভ্যালেরী টেলর ও তার প্রতিষ্ঠান কে ঘিরে বাংলাদেশে যা চলছে, তা যে কোনো অর্থে অন্যায় । এই অন্যায়ের প্রতিবাদ হওয়া জরুরী ।
গত ৩ দিনে নিজের সীমিত সামর্থে, চেনাজানা সোর্সগুলোর সাথে মেইল চালাচালি করলাম। সারাংশ হলো, প্রতিবাদটা আসতে হবে বাংলাদেশের ভেতর থেকে ।

জরুরী আইন ঘোষনা করে প্রকাশ্য ক্ষোভ প্রকাশ, মিছিল মিটিং সমাবেশ নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে । সুতরাং এই পথ বন্ধ ।
ইমেইল ক্যাম্পিং টাই চালাতে হবে জোরালোভাবে
। নিশ্চিত করতে হবে মেইলগুলো যেনো ঠিক জায়গা মতো যায় এবং সর্ব্বোচচ সংখ্যক যায় ।
এই কাজটা আমাদের করে যেতে হবে, কারন ভ্যালেরী টেলরের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ ।
আরো ভালো হয়, যদই তাঁর ইমেল টা পাওয়া যায় । তাকে ও আমরা জানাতে পারি যে, তার পাশে আছি । এ দেশের সব মানুষ যে অকৃতজ্ঞ নয় এটা তাকে জানানো জরুরী ।

শেষ পর্যন্ত কি হবে জানিনা । সিদ্ধান্ত কতটুকু বদলাবে তাও পরিমাপযোগ্য নয় ।
যাই হোক, যা কিছুই হোক- আমাদের প্রতিবাদ, আমাদের উদ্যোগ যেনো না থামে ।

সবাইকে অভিনন্দন ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28712641 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28712641 2007-05-26 15:33:04
পানপর্ব-৪ জ্বলেছে নীলাভ শিখা,আমি অর্বাচীন
কিছুটা প্রতীক্ষা, - পানের নিয়ম তাই
নিয়ম ভূল করে আগুনে হাত বাড়াই ।

আগুনে পুড়েছে হাত,স্বদেশের মুখ
বহুবর্ন প্যাকেট মোড়া যুগের অসুখ
অসুখ খেয়েছে প্রেম, স্বপ্নেরা খুন
সেই শোকে পান করি তরল আগুন ।


***২১ মে শেষ প্রহর । বিলেতের ঘড়ি ।


পানপর্ব-১
পানপর্ব-২
পানপর্ব-৩]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28711948 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28711948 2007-05-22 02:54:32
সেই গল্প, এই গল্প, অন্য গল্প বছর দু'তিন আগের ঘটনা । দিন তারিখ মনে নেই । মনে রাখা জরুরী নয়, যেহেতু এই সব আমাদের সয়ে গেছে সহজেই ।
পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে এক সদ্যতরুন কে তুলে নিয়ে যায় চিতা-কোবরা কিংবা র‌্যাব নামের রাজকীয় বাহিনী ।
পরদিন তার ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায় এবং জানা যায় রাজকীয় ঘোষনা,
'এই তরুন ছিল রাষ্ট্রের জন্য বিপদ্দজনক এক ঘৃন্য সন্ত্রাসী' ।

কিন্তু কিছু বেয়াড়া কাগজওয়ালার তদন্তে বের হয়ে আসে অন্য সত্য । নিহত তরুন ছিল এক নিরপরাধ কলেজ ছাত্র । একই নামের আরেক সন্দেহভাজনকে খুঁজতে গিয়ে রাজার লোক এই তরুনকে হত্যা করে । রাজা ও রাজার লোকেরা ভুল করেনা, অপরাধ তো নয়ই ।
তাই এ হত্যার সপক্ষে সে এলাকায় আনন্দমিছিল ও বেরিয়ে যায় দ্রুত ।
অবশ্য বেয়াড়া কাগজওয়ালারা জানায়, সেই আনন্দমিছিল ও বেরহয়েছিল রাজকীয় বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায়, নিহত তরুন যে আসলে সন্ত্রাসীই ছিল তা প্রমানের উছিলায়!


এই গল্পঃ
এরকম ঘটে গেছে অনেক কিছু, ঘটে চলেছে ।
অতি সম্প্রতি রাজশাহীতে কামরুল ইসলাম মজনু নামের এক তরুনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে রাজার লোক । সেই পুরনো কথার পুনরাবৃত্তি করাই যায়, মজনু যদি অপরাধীই হয় তাকে ধরে আদালতে সোপর্দ করা আইনশৃংখলা বাহিনীর কাজ, পিটিয়ে হত্যা করা নয় ।
এই সব পুনরাবৃত্তিতে কিছু যায় আসেনা আসলে। গল্প চলতে থাকবে ধারাবাহিক কিস্তির পর কিস্তি যদিনা গল্পের বিষবৃক্ষটা উপড়ে ফেলা যায় , শেকড়সমেত ।


অন্য গল্পঃ
আমরা মধ্যজীবি কেঁচোরা বাহবা দিয়েছি রাজার লোকদের, দেশে শান্তি এলো বলে । বেঁচে থেকে বাহবা দিয়ে যাচ্ছি এখনো , যেহেতু নামবিভ্রাটের কারনে আমরা কেউ এখনো পরিনত হইনি রাজকীয় শিকারে ।

কিন্তু রাজশাহী মহানগরীর ছোটবনগ্রাম এলাকার মানুষেরা প্রমান করেছেন তারা এখনো কেঁচো হয়ে যাননি । এখনো তারা আঁকড়ে ধরে রেখেছেন মানুষ জীবন, যে জীবনে প্রতিবাদ আছে- আছে প্রতিরোধ ।
কামরুল ইসলাম মজনু হত্যার প্রতিবাদে প্রতিবাদমুখর হয়েছেন হাজার হাজার নারী পুরুষ । পত্রিকায় ছবি এসেছে । শত শত নারীদের বিক্ষোভ । জরুরী অবস্থা ভংগ করে তারা মিছিল করছেন ।

তাঁদের জন্য আমার অশেষ শ্রদ্ধা ।

---------------------------------------------------------------


আপনারা যারা এতকাল ধরে সম্পাদকীয় লিখে
'সব ঠিক হ্যায়-' বলেছেন, আজ কলমটা দেখে নিন,
দেখুন কালিটা কালো ছিলো কিনা? রক্তের রং লাল ।
রক্তেই আজ লেখা হচ্ছে তো রাজপথে সংবাদ ।
বোঝা কি যাচ্ছে,মহোদয়গন,দৃশ্য বদল হচ্ছে ?

কাঁপছে দেয়াল,নড়ছে দরোজা,খুলছে জানালাগুলো,
রাজপথগুলো জনপথ হয়ে মিছিলের পথ করছে ।
প্রান্তর ভেসে যাচ্ছে ঝাঁঝালো সর্ষে ফুলের হলুদে,
হলুদ কি ওটা,নাকি সোনা রং উদিত নতুন সুর্যের?
বোঝা কি যাচ্ছে,মহোদয়গন,দৃশ্য বদল হচ্ছে ?


***কবিতার লাইনগুলো সৈয়দ হক' এর ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28711745 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28711745 2007-05-21 06:28:10
'ধর্মানুভূতির উপকথা' || ধর্মের ষাড় কিংবা এঁড়ে ও বকনাবাছুরগনের সম্মানে
একেক ধর্মের মানুষের ধর্মানুভূতি একেকরকম,আবার একই ধর্মের ভেতরে রয়েছে বহু উপগোত্র, এবং বিভিন্ন উপগোত্রের ধর্মানুভূতি বিভিন্ন । প্রতিটি ধর্মেই দেখা যায় সাধারন বিশ্বাসীরা ধর্মের মুলকথাগুলো ঠিকমতো জানেনা,তারা ধর্মে স্নগযোজিত করে নানা নতুন বিশ্বাস,যেগুলোর সাথে ধর্মের মুল বিশ্বাসগুলোর সম্পর্ক নেই।
অজস্র ব্যাপার জড়ো হয়ে মানুষের মনে সৃষ্টি হয় একধরনের যুক্তিরহিতবোধ যাকে বলা হয় ধর্মানুভূতি ।

এই ধর্মানুভূতিতেই আহত হয়,এর গায়েই সাধারনত আঘাত লাগে । ধর্মানুভূতিতে যে আঘাত লেগেছে,তা যে আহত হয়েছে,তা বোঝার ও পরিমাপ করার কোনো উপায় নেই। অযৌক্তিক ব্যাপারকে যুক্তির সাহায্যে পরিমাপ করা যায়না।
বিভিন্ন সমাজ ও রাষ্ট্র এখন যেভাবে চলছে তাতে প্রতিটি ধার্মিকের ধর্মানুভূতি প্রতি মুহুর্তে আহত হতে পারে এবং হচ্ছে ।পৃথিবীতে সম্ভবত এখন বিশুদ্ধ ধার্মিক নেই,থাকলে তাদের ধর্মানুভূতি খুবই আহত হত।

যেমন, মন্দির দেখে আহত হতে পারে একজন ধার্মিক মুসলমানের ধর্মানুভূতি, কেননা তার বিশ্বাসের জগতে মন্দির থাকতে পারেনা; আবার মসজিদ দেখে আহত হতে পারে একজন ধার্মিক হিন্দুর ধর্মানুভূতি,কেননা তার বিশ্বাসে মসজিদ অবানচিত । একজন মমিন মুসলমান যদি দাবী করে যে মন্দির দেখে তার ধর্মানুভূতি আহত হয়েছে,তাই মন্দিরটিকে নিষিদ্ধ করতে হবে,তখন রাষ্ট্র কি করবে; একজন বিশুদ্ধ হিন্দু যদি দাবী করে যে মসজিদ দেখে তার ধর্মানুভূতি আহত হয়েছে,তখন কি করবে রাষ্ট্র? খাঁটি/মমিন/বিশুদ্ধ ধার্মিকের কোমল অনুভূতি আহত হতে পারে প্রতি মুহুর্তেই; টেলিভিষন,সিনেমা,বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের,সংসদে নারীদের দেখে আহত হতে পারে ধর্মানুভূতি , এবং সে এসব নিষিদ্ধ করার জন্য আবেদন জানাতে পারে ।

পৃথিবী ও গ্রহগুলো ঘোরে সুর্যকে কেন্দ্র করে,মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে 'বিগব্যাং' বা মহাগর্জনের ফলে,সেটি হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি,হয়েছে আজ থেকে একহাজার থেকে দুহাজার কোটি বছর আগে,তারপর থেকে সম্প্রসারিত হয়ে চলছে,সূর্য আর গ্রহগুলো উদ্ভূত হয়েছে সাড়ে চারশো কোটি বছর আগে,মানুষ স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে পৃথিবীতে আসেনি,বিবর্তনের ফলে বিকশিত হয়েছে বিশ থেকে চল্লিশ লক্ষবছর আগে,পাহাড়্গুলো পেরেক নয় ইত্যাদি বৈজ্ঞানিক সত্য বিদ্যালয়ে পড়ানো হয়;- এগুলোতে প্রচন্ডভাবে আহত হতে পারে ধার্মিকদের ধর্মানুভূতি ,তারা এগুলো নিষিদ্ধ করার জন্য দাবী জানাতে পারে ।

তখন রাষ্ট্র কি করবে? রাষ্ট্র কি নিষিদ্ধ করবে বিজ্ঞান?



***হুমায়ূন আজাদের একটি প্রবন্ধ থেকে সংক্ষেপিত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28711686 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28711686 2007-05-20 20:09:09
যে দেশে মানুষ ছোট ৯৫ সালের কোন এক জোরালো হরতালের দুপুর ।
বন্ধুরা মিলে গিয়েছি আড্ডা পেটাতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের হাসপাতালে । হ্যাঁ, হাসপাতালেই আড্ডা পেটাতে ।
আমাদেরই এক বন্ধু অস্ত্রমামলায় কারাগারে । ভালো পয়সাওয়ালা পরিবারের ছেলে । কারাগারের ডাক্তারদের ম্যানেজ করে প্রায়ই সে অসুস্থ হয়। কারাগারের হাসপাতালের চিকিৎসায় সে অসুস্থতা সারবার নয় । মাস দুয়েক পর পরই ওসমানী হাসপাতালের কেবিনে সে ।
কেবিনের সামনে পুলিশ প্রহরা । ভেতরে তার ফেনসিডিলের মচ্ছব । পার্টির লোকেরা আসছে । আসছে গ্রুপের ছোট ভায়েরা । আমরা বন্ধুরা ও যাচ্ছি । তাস চলছে। পুলিশ মামা আর ডাক্তার ভায়েরা বিশাল উদার ।
সেই দুপুরে হঠাৎ আড্ডায় ছন্দপতন ঘটে এক প্রবল কান্নার শব্দে । আমরা প্রথমে পাত্তা দেইনা । ফেন্সি আর গাঁজা আর তাসের নেশা ফেলে এসবে মনোযোগ দিতে কার ইচ্ছে হয় । তবু একসময় কান্নার তীব্রতা অসহ্যরকম বেড়ে গেলে পর, আমরা দু একজন বেরিয়ে আসি উৎস সন্ধানে ।
ঘটনাস্থল জেনারেল ওয়ার্ড । আমাদেরই মতো এক তরুন ।ঠিক আমাদের মতো নয় কারন তার পরনে আমাদের মতো জিন্স,বুট নয় সে পরে আছে লুংগী, চকচকে শার্ট আর সস্তা স্যান্ডেল । তবে বয়সটা আমাদের মতোই । একটা শরীর সে আঁকড়ে ধরে আছে । বোঝা যায় শরীরটা মৃত । হাসপাতালের কয়েকজন সেই মৃত শরীর টেনে বেড থেকে নামাতে চাইছেন, আর তরুন সেই শরীর আঁকড়ে ধরে চিৎকার করছে । আমরা প্রথমে ভাবি হয়তো শোকার্ত তরুন তার মৃত কোন স্বজনের লাশ সরিয়ে নিতে দিচ্ছেনা ।
কিন্তু ঘটনাস্থলের কাছে গিয়ে জানি অন্য এক গল্প ।
বহুদুরের কোন গ্রাম থেকে এই তরুন নিয়ে এসেছিলো তার বাবাকে চিকিৎসা করাবে বলে । ভোর রাতে বাবা মারা গেছেন । হরতালের কারনে তরুন পারছেনা বাবার লাশ নিয়ে বেরুতে । গ্রামে খবর পাঠানো হয়েছে । গ্রাম থেকে হয়তো অন্যরা ও আসবেন হরতাল ভাংগার পর ।
কিন্তু এই সময়টা, এই অসহ্য বেদনার্ত সময়, মৃত জনকের শরীর একাকী পাহারা দেবার ভয়ংকর সময়- এই তরুনের জন্য আরো ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন হাসপাতাল কর্ত্বপক্ষ । লাশ বহনের জন্য এম্বুলেন্স দেয়া যাবেনা, কারন এম্বুলেন্সের টাকা তরুন দিতে পারবেনা । হাসপাতালের লাশ সংরক্ষানাগারে ও সন্ধ্যা পর্যন্ত এ লাশ রাখা যাবেনা, কারন এ জন্য ও টাকা দিতে হবে । শোকার্ত তরুনের কাছে টাকা নেই ।
জনকের মৃত্যুর মুহুর্ত থেকেই দরকষাকষি করছে দানবপক্ষের দালালেরা । বেলা দুপুর গড়ালে পর এবার তারা সিদ্বান্ত নিয়েছে, এই লাশ টেনে হেঁচড়ে বের করে নিয়ে ফেলে রাখবে কোন নির্জন বারান্দায় ।
লাশের দখলে রাখা বেড হয়তো বিক্রী করবে আরো কোনো ভবিতব্য লাশের কাছে ।

২।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ইন্টার্নী চিকিৎসকরা পিটিয়ে হাতপা ভেংগে দিয়েছেন এক রোগীনির অভিভাবককে । তার অপরাধ ছিলো দায়িত্বে থাকা চিকিৎসককে তিনি তাড়া দিয়েছিলেন তার মুমুর্ষ রোগীনির কাছে আসার জন্য ।
পিটিয়ে হাতপা ভেংগেই ডাক্তার স্যারেরা ক্ষান্ত দেননি । আহত লোকটাকে যেনো পুলিশ তাদের হাতে ছেড়ে দেয়, সেই দাবীতে তারা শুরু করে দিলেন তৎক্ষনাৎ চিকিৎসা বিরতি । হয়তো সেই মুহুর্তে একজনের জরুরী অপারেশনের আয়োজন চলছিলো, একজনের একটা ইঞ্জেকশন জরুরী তাকে বাঁচানোর জন্য । কি আসে যায় এই সবে? ডাক্তারদের নিজেদের ইজ্জত সম্মান, ঐক্য রোগীর জীবনের চেয়ে অনেক দামী ।
ফলাফল সেই রোগীনি সহ মোট পাঁচজন রোগীর মৃত্যু ।

৩।
কক্সবাজারে মোটর সাইকেল চালানোর সময় হেলমেট না থাকায় ২০ জনকে পানিতে চুবিয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী।
নাগরিক কোন আইন ভংগ করলে কোন শাস্তি সেটা সম্ভবতঃ আইনের বইয়ে আছে । আছে বলেই মানুষের সমাজ, মানুষের আইন আদালত ।
হেলমেট ছাড়া মোটর সাইকেল চালানোর শাস্তি পানিতে চুবানো- কোন আইনসিদ্ব? জানি, এ প্রশ্ন করা যাবেনা জলপাইতন্ত্রী বাংলাদেশে ।

যেনো দেশটা দখল করে নিয়েছে সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র ।
ডাক্তাররা সংঘবদ্ধ, যখন খুশী তারা চিকিৎসা দেবে, যখন খুশী চিকিৎসা বন্ধ করে দেবে, রোগী মারা যাবে- কারো কাছে জবাব করতে হবেনা । প্রকৌশলীরা সংঘবদ্ধ, বিল্ডিং ভেংগে ওভারব্রীজ ধ্বসে মানুষ মরবে-কোনো জবাবদিহী করতে হবেনা ।জলপাই কমবেটরা সংঘবদ্ধ, যখন যেভাবে যাকে খুশী শাস্তি দেবে- কোনো জবাবদিহী করতে হবেনা ।
সংঘবদ্ধ শিক্ষকসমাজ , সংঘবদ্ধ রাজনীতিকগন, সংঘবদ্ধ ধর্মের ঠিকাদারেরা ।

কেবল ছিন্নভিন্ন মানুষেরা ।
এই পোড়াদেশে সব সারমেয় ও বরাহনন্দনগন দেবতাতুল্য,প্রায় ইশ্বরের মতো বিশাল তারা ।

কেবল ক্ষুদ্র, খুব ক্ষুদ্র আর তীব্র অপমানিত মানুষেরা ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28711354 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28711354 2007-05-19 06:07:40
দালালদের চেহারা ছবি ।। দাড়িটুপির মজমা এ উতত্রের জন্য কুইজ মাস্টার হতে হয়না, দালাল ও দালালের বাচচা না হলেই চলে ।

এরা সবাই দালাল এটা একটা মিল । আরেকটা মিল এদের টুপি, দাড়ি আছে । এবার এই দালাল চরিত্রগুলো চিত্রায়ন করতে গেলে-নাটকে গল্পে সিনেমায়, দাড়ি টুপি দেখানো হলে- সেটা ইসলাম বিদ্বেষ হয়ে যায় কোন মজমায়?
নাজিদের চিত্রায়ন করতে গেলে যেমন স্বস্তিকা আসবে, আসবে ডানহাতের স্যালুট তেমনি '৭১ এর ঘাতক দালালদের ক্ষেত্রে আসবে সেই সব কষ্টিউম যা তাদের ভেতর কমন ছিলো ।

দাড়িটুপিওয়ালা মাওলানা ভাসানী কিংবা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ কে কেউ দালাল বলবেনা- দাড়িটুপিওয়ালা দালাল বলতে গোলাম আজম, নিজামী, মুজাহিদী, কামারুজ্জামানদেরই বোঝায় ।

যে নাটক, সিনেমা, সাহিত্য দালালদের চেহারা ছবি তুলে ধরে তার প্রতি দালাল ও দালালের বাচচাদের এতো ক্ষোভ কেনো? ক্ষোভ থাকাটাই স্বাভাবিক । কারন তারা মিশে যেতে চায় । মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছে বহু বছর থেকেই ।
তাই যা কিছুই তাদের চিহ্নিত করে, তাকেই তারা আক্রমন করে । আর ঢাল হিসেবে তো আছেই ইসলাম । তবে খুব একটা কাজে লাগেনা কিন্তু এই ঢাল ।
বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে যেমন 'রাজাকার' শব্দটাই একটা বিশেষ অর্থবহন করে, তেমনি 'রাজাকার' বললেই কিছু বিশেষ চেহারা ছবি ভেসে উঠে- এবং তা চলবেই ।

দাড়িটুপি ওয়ালা দালালদের ট্রেন সেই ৭১ এর ডিসেম্বরেই লাইন থেকে ছিটকে গেছে ।হাচড়ে পাঁচড়ে কতো চেষ্টা বেচারাদের, তবু যদি কোনো গতি হয় ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28710929 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28710929 2007-05-16 19:34:03
স্মৃতি-রুদ্র-পুর আমি সেই অবহেলা
আমি সেই নতমুখ
নিরবে ফিরে যাওয়া
অভিমানভেজা চোখ,
... আমাকে গ্রহন করো ।


ৎৎ
আমার সাফল্য নিখিল জুড়ে আছে
ব্যর্থরাতের গ্লানির সাথে তুমি,
তোমার প্রিয়ছায়ার তলে
ক্লান্তিটুকু রাখি,
রাখি আমার বিষন্নতাগুলো


------------------------------------------------------------

কতো দীর্ঘদিন রুদ্র পড়িনা ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28710908 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28710908 2007-05-16 16:48:13
স্মৃতিশূন্যপুর

১৬ মে ।প্রথম প্রহর ।
বিলেতি ঘড়ি ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28710834 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28710834 2007-05-16 06:47:02
এমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল এ 'চলেস রিচিল' । । পেছনের গল্প ( কৃতজ্ঞতা তাসনিম খলিল) গত ১৮ মার্চ এই আদিবাসী নেতাকে যৌথবাহিনী নৃশংস ভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছিল । রেজওয়ান ভাই এই খবর প্রথম ব্লগে প্রকাশ করেছিলেন । তারপর আমরা অনেকেই প্রতিবাদী পোষ্ট দিয়েছিলাম ।

তার কয়দিন পর, আমি যোগ দিয়েছিলাম এমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল এর বার্ষিক সাঢারন সভায় । নিতান্তই একজন কর্মী হিসেবে । ওখানে পরিচয় হয়, এমনেষ্টি'র সাউথ এশিয়ান ডেস্কের প্রধান 'ক্যাথি মেক' এর সাথে । ক্যাথি'কে প্রশ্ন করেছিলাম, চলেস রিচিলের হত্যাকান্ড নিয়ে এমনেষ্টি কোনো তদন্ত করছেনা কেনো?
ক্যাথি আমাকে বলেছিলো, যাবতীয় তথ্য তার কাছে পাঠানোর জন্য । আমি সে সময়ের বাংলাদেশী ইংরেজী পত্রিকাগুলোর লিংক এবং তাসনিম খলিলের ওয়েব লিংক পাঠিয়েছিলাম ।
তাসনিমের ওয়েব সাইটে মধুপুরে আদিবাসী নির্যাতনের প্রামান্য ডকুমেন্ট ছিলো ।

এ ছাড়া , আমার এক বন্ধু 'বিপ্লব মারাক' মেঘালয়ের গারো ষ্টুডেন্ট ইউনিয়নের সভাপতি ছিলো কয়েক বছর । বিপ্লব' রা মুলতঃ বাংলাদেশী । ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এলাকায় । কিন্তু ৮০ র দশকে জায়গা জমি হারিয়ে ওর পরিবার 'তুরা' য় নির্বাসিত হয় । শরনার্থী পরিবারের ছেলে কি করে গারো ছাত্র নেতা হয়ে উঠলো, সেটা ও আরেক গল্প। আরেকদিন বলা যেতে পারে । বিপ্লবের সাথে যোগাযোগ করে ( কৃতজ্ঞতা টেলিকমিঊনিকেশন) আরো জরুরী তথ্য পাওয়া গেলো ।

সব পাঠানোর পর ক্যাথি জানায়, এবার তারা তাদের নিজস্ব সোর্সে ইনভেস্টিগেশন করবে । ইনভেষ্টিগেশনে, বিষয়টা জরুরী মনে হলে তারপর তারা এ বিষয়ে বিবৃতি দেবে । ভালো কথা ।
তারপর কয়েকসপ্তাহ চলে যায় । কোনো খবর নাই । প্রতিদিন এমনেষ্টি' র পাতা ঘাটি । না খবর নেই । ক্যাথিকে মেইল দেই । কোনো জবাব নেই । মেজাজ খারাপ । খুব খারাপ । কই দারফুর, জিম্বাবুয়ে, কেনিয়া, গুয়ানতানামো নিয়ে নানা কর্মসুচীতে অংশ নিলাম নিজের খেয়ে । আর আমার দেশের খবর প্রকাশেই শালাদের যতো আলসেমী, ইনভেস্টিগেশনের দোহাই । মনে মনে সিদ্বান্তই নিয়ে ফেলি, থাকবো না এর এদের সাথে!

না এমনেষ্টি আমাকে হতাশ করেনি ।
গতকাল এমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল চলেস রিচিল হত্যাকান্ড ও মানবাধিকার কর্মী শহীদুল ইসলামের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানিয়েছে ।


এমনেষ্টির রিপোর্ট দেখুন, এখানে


*** যে যেভাবে পারুন প্রতিবাদমুখর হোন , আমাদের বন্ধু, সহব্লগার তাসনিম খলিলের উপর কোনো শারীরিক নির্যাতন যেনো না হয় । তাসনিম কে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানাচ্ছি ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28710150 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28710150 2007-05-11 18:37:53
ভ্রমন আনন্দময় হয়েছিলো । । শেষ পর্ব শামসুদ্দীন ফিরে এলো ভুনা মাংসের ঘ্রান নিয়ে ।
রাত কতো হলো আমাদের কারোরই বোধ করি খেয়াল নেই ।ডাকবাংলোতে ডায়ানামোর আলো । বাইরে সবুজ জোছনা । জোছনা ও সবুজ হয় এমোন! খাসিয়া পাহাড়ের গায়ে থোকা থোকা আলো ।পাহাড়ীদের গ্রাম ।
শামসুদ্দীন ফিরে এলো টিফিন ক্যারিয়ার ভর্তি খাবার নিয়ে ।
খাবার মুখ্য নয় তখন, আমাদের পানীয় প্রয়োজন ।

তেলতেল মুখে শামসুদ্দীন হাসে
'মামারা বড়ো দিরং হয়ে গেলো । এত রাতে কই পাই? ঠিক আছে তবু একটা ঘুরান দিয়া আসি'
আমরা ও 'ঘুরান' দেবো শামসুদ্দীন । সবুজ জোছনায় মদিরার খোঁজে!

শামসুদ্দীন হাঁটে । আমরা হাঁটি । ডিসেম্বরের পাহাড়ী ঠান্ডা গায়ে কামড় বসায় । আবীরের গায়ে লেদার জ্যাকেট 'হারামজাদা শুয়োরের বাচচা', চৈতী কে তুই ছিনিয়ে নিবি জানিয়ে আমি । ঐ যে গায়ে জোছনা মাখছে নিঃশব্দে, পার্থ-কবি সে, কবি বলেই চৈতীকে হারাবে । আমি জানি, জানি এই সব । ধবধবে বালিয়াড়ীতে আমরা হাঁটতে থাকি । উথালপাতাল দিক শুন্য পূর ।শামসুদ্দীন পাওইনিয়ার । এই মাতাল রাতে তৃষ্ণার জল খুঁজে দেবে আমাদের!
একটা ঘুপচির সামনে এসে থামে সে । দেখে মনে হয়ে কোনো পাথর শ্রমিক থাকে । টিমটিমে কুপির আলো । আমি ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে ফেলে আসা আলোকিত ডাকবাংলো দেখি । অর্থহীন ।
শামসুদ্দীন ঘুপচি থেকে বেরিয়ে আসে । মাথা নাড়ে । আমরা হতাশ হই ।কোন কথা নেই । কোনো কথা বলার নেই ।

ব্যর্থ পাইওনিয়ার ফিরতি পথ ধরে ।
আমাদের কেবল অনুসরন ।
এই তৃষ্ণার্ত রাত কতো দীর্ঘ হবে কেজানে?
ডাকবাংলোর আলো কাছে চলে এসেছে ।
শামসুদ্দীন একটুপিছিয়ে আসে । আমাদের কাছাকাছি আসে । গলা খাঁকারী দেয় । তেলতেলে হাসে ।
'মামারা, বোতল তো মিললোনা । কাইল ঐপার থাইকা এক কেইস আইনা দিমুনে । তয় এখন যদি--'
আমরা নিঃশ্বাস ফিরে পাই । ভরসা দাও কমরেড !
শামসুদ্দীন আবারো তেলতেলে হাসি ছুঁড়ে দেয়
'এখন যদি ইনজয় করতে চান, মনে লয় ম্যানেজ করতে পারুম । লাগাইবেননি?'
নজু নাক কোঁচকায় । একমাত্র সেই মাতাল নয় । বাকি তিনজন ঘাড় কাত করি ।

শামসুদ্দীন আবার হাঁটে । আমার আবার অনুসরন করি ।
একটা ভাংগা পাঁচিলের মতো । একটা ভাংগা দালানের কাঠামো ।টিমটিমে কুপির আলো । একটা শীর্ন হাত । নারী দেহের ছায়া ।
শামসুদ্দীন গলা খাঁকারী দেয় ।
ছায়া জিজ্ঞেস করে - 'কয়জন?'
আমরা নিঃশ্চুপ । তেলতেল মুখ বলে - 'চারজন'
ছায়ার দীর্ঘশ্বাস শুনি । ছায়া ফিস্ফিসিয়ে বলে-
'চারজনরে লাগাইতে দিলে, আগে আমার খাওন লাগবো '
তেলতেল মুখ হিসহিস করে- 'খাইয়া ল মাগী '
ছায়ার দীর্ঘশ্বাস আরো ধারালো শুনায়
'খাওনের তো কিছু নাই । বেবাক তো ডাকবাংলায় নিয়া গেছেন'

।৩।
রাত বোধ হয় ফুরোলো প্রায় ।
আবীর ঘুমোচ্ছে । ওর মুখে সুখী মানুষের ছায়া । ওর ঠোঁটের কোনে পাতলা হাসি । আবীর চৈতিকে ছিনিয়ে নেবে ।
বাথরুমে পানির শব্দ । নজু বোধহয় গোসল করছে কিংবা ওজু করবে । তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত হয়ে গেছে মনে হয় । পার্থ বালিয়াড়ীতে চিৎ হয়ে জোছনা মাখছে । হয়তো কবিতা বুনছে। এই ছেলে চৈতীকে হারাবে ।

আমি বারান্দায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ।
কেউ কেউ কেবল দেখে যায় ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28709664 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28709664 2007-05-08 17:48:59
ভ্রমন আনন্দময় হয়েছিলো । । পর্ব-১ যতোটুকু লিখলাম, তুলে ফেললাম ব্লগে আনএডিটেড। এখন ঘুম পাচ্ছে । ঘুম ভাংগার পর, তাড়না পেলে লেখাটাকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবো আরো । না হয়, এই অতটুকুই । এমনি এমনিই লেখা)

-------------------------------------------------------------------------

'ভালো থাইকেন ওস্তাদ'

ওস্তাদ তার পোকায় খাওয়া দাঁত বের করে হাসলেন । জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলেন । আমি ও হাত বাড়ালাম ।
অর্ধেকে নেমে আসা 'অফিসার্স চয়েজ' এর বোতলটা হাতে চলে এলো । ওস্তাদের শুভেচ্ছার নিদর্শন । বোতলের অর্ধেক শেষ করেছেন ওস্তাদ, কোম্পানীগঞ্জ বাজার থেকে ভোলাগঞ্জ আসতে আসতে । আমাকে ও দয়া করেছেন অবশ্য । পাশের সীটে নজু ছিল । নামাজী ভদ্রলোক ব্যাটা । নাক কুঁচকেছে এই যা ।
ট্রাকের পেছন থেকে লাফিয়ে নামলো আবীর আর পার্থ ।
ওস্তাদ ট্রাক ঘুরালেন ।

আমাদের চার জোড়া চোখ এবার ঘুরে তাকালো আদিগন্ত । বহুদূর থেকে যা ছিলো রহস্যময় নীল, এখন তা স্পর্শের সবুজ । যেনো চাইলেই জড়িয়ে ধরা যায় । এই তো খাসীয়া পাহাড়, পাহাড়ের গায়ে তূলো তুলো মেঘ । পাহাড়ের পায়ের নীচে ছেঁড়া ছেঁড়া নদী, পিয়াইন তার নাম । শত শত মানুষ পাথর কুড়োচ্ছে । শত শত মানুষ, অথচ কি ভীষন স্তব্দতা । যেনো সবার জানা হয়ে গেছে, এই বিশালতার কাছে এসে এরকম স্তব্দ হয়ে যেতে হয় ।
এই স্তব্দতাকে মাখতেই আমরা ছুটে এসেছি শহুরে গালগল্প পেছনে ফেলে ।

ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারীর কাছাকাছি কোথাও নাকি একটা সরকারী ডাকবাংলো আছে ।আবীরের বাবা'র জানাশোনা ।
একজন কেয়ারটেকার এসে আমাদের নিয়ে যাবার কথা । তার নাম শামসুদ্দিন । শামসুদ্দিন কে আমরা চিনিনা । তবে শামসুদ্দিন আমাদের চিনে নেবে ।
শামসুদ্দিন আমাদের চিনে নেয় । মধ্যবয়স্ক লোক । তেলতেলে মুখ । মুখে লাগানো হাসি ।
আমরা তার পেছনে পেছনে এগোই । পাথর দেখি । ছোট ছোট পাথর, বড় বড় পাথর । পার্থ নীচু হয়ে পিয়াইনের জলে হাত দেয় । কবি মানুষ, তাকে এই সব মানায় । আমি ঘাড় ঘুড়িয়ে মানুষ দেখি । সারি সারি 'বারকী' নৌকা ।
মানুষজন ডুব দিচ্ছে। ডুব দিয়ে তুলে আনছে বড় বড় পাথর । পেশি বহুল মানূষ গুলো । আমার সুলতানের ছবির মানুষের কথা মনে পড়ে যায় ।
আমরা এগিয়ে যাই । একটা বাঁক পেরোই । পেরোতেই অদৃশ্য হয়ে যায় পাথর কোয়ারী, 'বারকী' নৌকা আর পাথর কুড়ানো মানুষ । এখন কেবল তীব্র সবুজ । ঘন জংগল । আর কি আশ্চর্য, সেই জংগলের ভেতরই ডাকবাংলো ।
কেয়ারটেকার শামসুদ্দিন আমাদের নিয়ে আসে ভেতরে । পুরোটাই কাঠের । তিনটে বড় বড় রুম । সব গুলোই খালি । আমরা দুই রুম দখল করি । চমৎকার বিছানা পাতা । এমন কি বাথরুমে গরমপানি । পেছনে টানা বারান্দা । বারান্দায় এসে দাঁড়াতেই চোখে পড়ে দীর্ঘ বালিয়াড়ি । বালিয়াড়ির শেষে বেশকিছু কাঠের ঘর । ঘরগুলো যেনো ঝুলে আছে খাসিয়া পাহাড়ে । ওপাড়ে একটা পাকা সড়ক চোখে পড়ে । সাপের মতো পেঁচিয়ে উঠতে উঠতে হঠাৎ করেই হারিয়ে গেছে পাহাড়ের গহীনে । আমাদের সকলের চোখে মুগ্ধ বিষ্ময় । আর শামসুদ্দীনের ঠোঁটের কোনে গর্বিত হাসি, যেনো এই একাকী সাম্রাজ্যের সেই নৃপতি ।

শামসুদ্দীন চলে গেলে, আমরা চারজন এসে বারান্দায় দাঁড়াই । ডিসেম্বরের পাহাড়ী ঠান্ডা গায়ে লাগছে । হাল্কাপাতলা খিদে ও লেগেছে । কেয়ারটেকার নিশ্চয় খাবারের ব্যবস্থা করবে । জিজ্ঞেস করা হয়নি এখনো । আমি 'অফিসার্স চয়েজ' এর বোতল বের করি । গলায় ঢালি । নজু নাক কুঁচকায় । আবীর বড়লোকের ব্যাটা । সস্তা মদে আগ্রহ নেই । তবু হাত বাড়ায় । আবীরের হাত থেকে বোতল যায় পার্থ'র কাছে । কবি বলেই কিনা কে জানে, বড় নির্মোহ ভংগীমায় সে গলায় ঢালে । দ্বিতীয় চক্করেই বোতল উলটে গেলো আর আমাদের তিনজনের একসাথে মনে পড়ে গেলো- তুমুল মাতাল হবার এক ভয়াবহ পরিকল্পনা নিয়ে এসেছি আমরা এই অরণ্যে । এই এলাকায় খুব সস্তায় দেদারসে পাওয়া যায় ভারতীয় মাল । আমাদের মাতাল হবার নেশা চাগিয়ে উঠে দ্রুত ।
শামসুদ্দিন' কে ধরতে হবে ।

কিন্তু হারামজাদা গেলো কই?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28709588 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hasan_Murshedblog/28709588 2007-05-08 09:04:53
টেকিং লিবার্টিজৎৎ যে ছবি প্রশ্নবিদ্ধ করবে, বৃটিশ বিচারব্যবস্থা'কে
সেই ১২১৫ সালের 'ম্যাগনা কার্টা' তে ব্যক্তিস্বাধীনতার ঘোষনা এসেছে যা ' হ্যাবিয়াস কর্পাস' নামে বহুল পরিচিত । এর মুল বক্তব্য হচ্ছেঃ
কোন অবস্থাতেই একজন সাধারন নাগরিককে বিনা বিচারে আটকে রাখা যাবেনা ।

কালক্রমে বৃটেন পরিনত হয়েছে ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের উজ্জ্বল উদাহরন হিসেবে । একজন অবৈধ ইমিগ্রেন্টকে ও পুলিশ আদালতের নির্দেশ ছাড়া গ্রেপ্তার করতে পারেনা ।

'পারেনা' না বলে 'পারতোনা' বলাটাই উপযুক্ত । কারন ৯/১১ এর পর পরিস্থিতি বদলে গেছে পুরোপুরি । আর এই বদল ঘটেছে ইমিগ্রান্ট, সংখ্যালঘু, গরীবদের প্রতি সাধারন ভাবে সহানুভুতিশীল এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি অধিকতর শ্রদ্ধাশীল বলে প্রচারিত ' লেবার পার্টি 'র শাসনামলেই ।

৯/১১ এর পর টনি ব্লেয়ারের লেবার সরকার বৃটেনে অবস্থানরত যে কোন দেশের নাগরিককে গ্রেপ্তার করে অনির্দিষ্ট কালের জন্য আটক করে রাখতে পারে তাদের 'বেলমার্স' কারাগারে । এর জন্য কোনো চার্জ গঠন বা অপরাধ প্রমানের দরকার নেই । নিরাপত্তা কর্ত্বপক্ষ কাউকে সন্দেহভাজন মনে করাই যথেষ্ট ।
যদি ও এরকম বিনাবিচারে আটকাদেশ ' ইঊরোপিয়ান কনভেনশন অব হিঊমেন রাইটস' এর পরিপন্থী । মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে বৃটিশ লর্ডসভা এ ধরনের আটকাদেশ অবৈধ ঘোষনা করে ও ব্লেয়ার সরকারকে নির্দেশ দেয়, আটক ব্যক্তিদের আদালতের কাছে হস্তান্তর করার জন্য ।

৭/৭ এর বোম্বিং এর পর ব্লেয়ার সরকার কৌশল বদলায় । বেশীর ভাগ সদস্যদের কাছে অস্পষ্ট রেখেই, হাউস অব কমন্সে ' প্রিভেনশন অব টেররিসম বিল ' পাশ করিয়ে নেয় ।
লর্ড সভায় বাতিল হওয়া আইন প্রয়োগ হতো কেবল বিদেশীদের আটক করার জন্য, নতুন আইন তৈরী হলো সবার জন্য । এবার আর ডিটেনশন ক্যাম্পে নেয়া নয়, যে কোনো বৃটিশ নাগরিককে নিরাপত্তা কর্ত্বপক্ষ আটক করে রাখতে পারে তার নিজের ঘরে । টেলিফোন, ইন্টারনেট, চিঠিপত্র সহ সকল ধরনের যোগাযোগ নেটোয়ার্ক বন্ধ করে দিতে পারে । আদালতের কাছে কোনো ব্যখ্যা না দিয়েই কর্ত্বপক্ষ এরকম 'ডিটেনশন' বহাল রাখতে পারে ৯০ দিন পর্যন্ত ।

আমাদের কাছে ঢাকা আন্দোলনের নগরী । আন্দোলনের নগরী হিসেবে লন্ডন ও পিছিয়ে নেই । ১০ ডাঊনিং স্ট্রিট ঘিরে প্রতিদিনই মিছিল, সমাবেশ,বিক্ষোভ প্রদর্শন চলে । ইরাক যুদ্ধ বিরোধী মুভমেন্ট থেকে শুরু করে, সমকামীদের অধিকার আদায় আন্দোলন- আরো অনেক কিছু । বৃটেনের বিখ্যাত 'জেন্টলম্যান' পুলিশ ন্যুনত্ম সহিংসতা প্রদর্শন না করেই এসব চালিয়ে যেতে দেয় । এমন কি ইরাকযুদ্ধ্ব বিরোধী আন্দোলনের সময় উপ-প্রধানমন্ত্রী প্রেস্কট এর মুখে কন্ডম ছুড়ে মারলে ও পুলিশ ছিলো নির্বিকার ।
কিন্তু নতুন আইন পাশের পর পুলিশের আচরনে ও এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন ।
শান্তিপুর্ন প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, এমন কি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে-ব্লেয়ারকে ব্যাংগ করে টি-শার্ট পরার অপরাধে । অথচ, কয়েক শতাব্দী থেকেই বৃটিশ নাগরিকরা, সরকারের সমালোচনা তাদের 'অধিকার' হিসেবেই জেনে আসছেন এবং চর্চা করছেন ।

সবচেয়ে ভয়ংকর হলো, মুলধারার মিডিয়া এই সব নাগরিক অধিকার লংঘনের সরকারী অপরাধ সমুহকে একেবারেই এড়িয়ে যাচ্ছে । টিভি চ্যানেল কিংবা জাতীয় পত্রিকা গুলোতে এসব খবর আসছেনা ।

তবে ভালো খবর হলো, এই নিস্তব্দতা ভাংগতে যাচচ্ছে ।
৮ জুন বৃটেনের সিনেমাপ্লেক্স গুলোতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ডকুমেন্টারী ফিল্ম 'টেকিং লিবার্টিজ' । ডকুমেন্টারীতে তুলে ধরা হয়েছে- সন্ত্রাস দমন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নামে নাগরিক অধিকার হরন ও নিরপরাধ নাগরিকের উপর বিচার বহির্ভুত নির্যাতনের প্রামান্য কাহিনী । বলা বাহুল্য মুল ধারার মিডিয়া এসব ঘটনা এড়িয়ে গেছে বরাবরের মতোই ।

টেকিং লিবার্টিজ এর ট্রেলর



*** আশাবাদী হতে ভালো লাগে, একদিন বাংলাদেশের কোনো মুভিমেকার ও হয়তো একটা ডকুমেন্টারী করবেন , সন্ত্রাস দমনের নামে কি করে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে বাংলাদেশে । সেই ডকুমেন্টারী ,ল