যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়...
প্রথম যেদিন ফ্রান্স আসলাম পরদিন একজনের মাধ্যমে পরিচয় হয় প্যারিসের পরিচিত মুখ নাজিম উদ্দীন চৌধুরী, 'বাবু ভাই' নামে লোকটির সাথে। জানলাম তিনি চট্রগ্রাম সিটি মেয়রের ভাই। দীর্ঘ ২৪ বৎসর ধরে এদেশে আছেন। কফি সপে অনেক কথা হলো। এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা হতো।
শেষ দেখা রমযানে: সেদিন চট্রগ্রামের এক মন্ত্রী এসেছিল। সবাই অনেকক্ষন আড্ডা দিলাম। মিনিস্টারকে বিদায় দিয়ে আমরা গিয়েছি প্যারিসের বাইরে বাঙ্গালী ভাইয়ের ইফতার পার্টিতে। ইফতার শেষে উনি ফিরতে তাড়া দিচ্ছিলেন কারণ তিনি সুইজারল্যান্ড যাবেন।
আর পরদিনই শুনি জেনেভাতে তিনি ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন। দ্রুত হেলিকপ্টার এসে উনাকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে মেডিকেলে ভর্তি করে।
সুইসে জটিল এক অপারেশনের মাধ্যমে মাথার খুলি মাঝখান বরাবর কেটে একভাগ তুলে চলে ব্রেইনের ট্রিটম্যান্ট। একমাস পর তাকে প্যারিসের ক্লিনিকে নিয়ে আসা হলে দেখতে গেলাম। ফুটবলের বাতাস অর্ধেক ছেড়ে দিলে যেমন লাগে মাথাটা তেমনই দেখাচ্ছিল। মাথার খুলির কাটা অংশটা আবার অপারেশনের মাধ্যমে লাগানোর কথা ছিল। এমনই অবস্হায় এদেশের উন্নত চিকিৎসায় তিন মাস বেঁচে ছিলেন।
জানাযায় উনার ছেলের কান্নার বিলাপ দেখে খুব কষ্ট লাগছিল। আমার বাবার বয়সী লোকটি চলে গেলেন আরেক জগতে। আর কখনো তাকে দেখতে পাবনা।
এখানে চট্রগ্রামবাসীরা তাকে একজন অভিভাবক হিসাবে জানত। রবিবার উনার আত্নার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল ও মেজবান অনুষ্ঠিত হবে।
লাশ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। চট্রগ্রামে আগামী শুক্রবার বাদ জুমা নামাযে জানাযা হবে।
মৃত্যু মানবজাতির এক অবধারিত অংশ। জন্মিলে মরিতে হইবেই। কিন্তু মৃত্যুর কথা আমরা প্রায়ই ভূলে যাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

