বলতে গেলে এই সংবাদটি এক রকম দুঃসংবাদ কিন্তু মিডিয়ায় আসেনি। কারণ, মিডিয়ার আসার পর যে মানুষটি ঘটনার শিকার হয় সে আরো বেশি শিকার হবে ওই দুর্বৃত্তদের দ্বারা। অর্থাৎ মিডিয়ায় আসার পর ওই সংবাদের প্রতিক্রিয়ার ধাক্কা সামলানো যাবে না, যার পরিণতি আরো ভয়াবহ হবে। খোদ মিডিয়ার কর্মী হয়েও এই সংবাদটি মিডিয়ায় আসেনি, কারণ যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তারা সাদা কাগজে স্বাক্ষরও নিয়েছে যে তাকে লাঞ্ছিত করার খবর কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে সব দায়দায়িত্ব তার ! এমনকি কাউকে বলবেও না।
যার কথা বলছি তার নাম কুতুব উদ্দিন শিশির। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। চট্টগ্রাম কলেজে একটি বিভাগে অনার্স ৩য় বর্ষে পড়ছে। পাশাপাশি একটি জাতীয় দৈনিকের চট্টগ্রামের আঞ্চলিক প্রকাশনায় প্রদায়ক হিসাবে কাজ করতো। এখানে বলে রাখি চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রশিবির একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। দেশে জরুরি অবস্থা জারির পরও তাদের কর্মকাণ্ড একদিনের জন্যও থেমে থাকেনি। এখানে শিবির কর্মীরা যা বলে তা-ই আইন, এটাকে অবজ্ঞা বা অস্বীকার করার সাহস কলেজ প্রশাসনের কারোরই নেই। খোদ অধ্যক্ষই তাদের কিছু বলতে পারে না বরং প্রতিদিন শিবির কর্মীদের পূজো করে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিবির কর্মীরা নানাভাবে হয়রানি করে। তাদের মদদে কলেজ প্রশাসনের কতিপয় কর্মচারী নতুন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করে। এরকম অবৈধভাবে টাকা আদায় করার একটি সংবাদ লিখেছিলেন জাতীয় দৈনিকের আঞ্চলিক প্রকাশনায়। একদম সত্য কথাই লিখেছিল সে। সংবাদ ছাপা হওয়ার পর শিবির নেতারা তার ওপর মহাক্ষ্যাপা। একদিন ক্যাম্পাসে ডেকে নিয়ে তাকে বেশ ক'জন শিবির নেতা মিলে মারধর শুরু করে। শেষে একটি সাদা কাগজে এই মর্মে মুচলেক নেয়, আমি জীবনের কখনো শিবিরের বিরুদ্ধে কোন পত্রিকায় নিউজ করব না, আমাকে নিয়ে আজকে যে ঘটনা ঘটল তা কাউকে প্রকাশ করবো না, শিবির যা বলে তা মেনে চলব'। আহত অবস্থায় কুতুবের সাথে দেখা হলো, আমরা খবর পত্রিকায় প্রকাশ করতে চাইলাম কিন্তু কুতুব ভয় পেয়ে গেল। বলল, শিবির বলেছে এই খবর পত্রিকায় আসলে তার পরিণাম আরো ভয়াবহ হবে। একজন মিডিয়াকর্মী অথচ সংবাদটি পত্রিকায় প্রকাশ করা যাচ্ছে না কারণ শিবির বেশ ভয়ংকর। বেশ কয়েক মাস ধরে কুতুবের সাথে আর দেখা হচ্ছে না। এখন কোথায় জানি না। তাকে খুব মনে পড়ছে। সম্ভবত এর পর থেকে সে আর সংবাদ লিখা বন্ধ করে দিয়েছে। এই স্বাধীন দেশে আসলে আমরা কতটা স্বাধীন ? মিডিয়ার স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলার আগে মিডিয়াকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও ভাবা দরকার। না হয় এই পেশায় ভবিষ্যতে কেউ আসতে চাইবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০০৮ রাত ১২:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



