আমার প্রিয় পোস্ট

তোমার দেহে বাস করে কারা ও মন জানোনা!! তোমার দেহে বসত করে কয়জনা? ব্যাকটেরিয়া পর্ব

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:২৪

শেয়ারঃ
0 0 0

অবিশ্বাস্য হলেও একথা সত্যি যে আমাদের দেহে ব্যাকটেরিয়া কোষের সংখ্যা আমাদের নিজস্ব কোষের থেকে প্রায় দশ গুন বেশি। তাই সংক্ষেপে বলা যায়, ওরা আমাদের দেহের একটা বিশাল অংশ। আর যদি ব্যাকটেরিয়ার দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে দেখেন তবে আমরা হলাম ওদের ক্ষুদ্র একটা অংশ।। :-*

সারা বিশ্ব এখন "সোয়াইন ফ্লু" জ্বরে আক্রান্ত। নিত্য নতুন উপায় বের হচ্ছে সোয়াইন ফ্লুর জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার। মানুষের আগ্রহ বেড়েই চলেছে কিভার আরও বে দূরে থাকা যায় তা নিয়ে। কিন্তু তাই বলে আপনার আগ্রহ যদি বিখ্যাত রসায়নবিদ এবং অনুজীব বিজ্ঞানী লুই পাস্তুরের মত অতি আগ্রহে পরিণত হয় তবে অন্যদের জন্য সেটা খুব একটা সুখকর হতে নাও পারে। ফ্রান্সের এই বিখ্যাত বিজ্ঞানীর ব্যাকটেরিয়া নিয়ে আগ্রহ এতটাই বেশী ছিলো যে তার সামনে কোন খাবার পরিবেশন করলে তিনি সেগুলোকে ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষন শরু করে দিতেন। আর ওনার এই অভ্যাসের কারণে সহজেই অনুমান করা যায় যে তিনি হয়ত কোথাও আর দ্বিতীয়বার খাবার দাওয়াত পেতেন না। /:)



BACTERIAL BONANZA: Bacterial cells outnumber human ones in the human body, and provide a host of benefits.


আসলে ব্যাকটেরিয়াদের কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেও কোন লাভ নাই। কারণ, আমাদের আশে পাশেপ্রতি মূহুর্তেই এক অকল্পনীয় সংখ্যায় ব্যাকটেরিয়ারা বিদ্যমান। আপনি যদি সুস্হ্য সবল দেহের অধিকারী হন এবং মোটামুটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করেন তারপরও কমপক্ষে ১০০ কোটির মত ব্যাকটেরিয়া আপনার দেহের উপরিভাগটাকে তাদের চারণ ভূমি হিসাবে ব্যবহার করছে। প্রতি ১ বর্গ সে.মি. চামড়ায় কমপক্ষে ১ লাখের মত ব্যাকটেরিয়া যাবে। প্রতিদিন আমাদের দেহ থেকে যে ১ কোটির মত চামড়ার আস্তরণ ঝড়ে পরে বা লোমকুপ বা চামড়ার ফাটল দিয়ে যে অতি সুস্বাদু তেল বা ফর্টিফাইং মিনারেল নির্গমন হয় সেগুলো খেয়েই ব্যাকটেরিয়াগুলো বেঁচে থাকে। আপনি হলেন ওদের জন্য "দি আল্টিমেট ফুড কোর্ট" ।আর এর সাথে বোনাস হিসাবে পায় উষ্ণতা এবং সচলতা। বিনিময়ে ওরা আপনাকে কৃতজ্ঞতা স্বরুপ দেয় আপনার দেহের দূর্গন্ধ।



Color-enhanced scanning electron micrograph showing Salmonella typhimurium (red) invading cultured human cells

এতক্ষন আমি শুধু আপনার দেহের চামড়ায় অবস্হানকারী ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কে বললাম। এছাড়া আরও কয়েকশ কোটি ব্যাকটেরিয়া গাদাগাদি করে আছে আপনার নাড়ি-ভূড়িতে, নাকের ফুটোয়, কিংবা জিহবাতে, ঝুলে আছে আপনার চুলে এবং চোখের পাঁপড়িতে, সাঁতার কাটছে আপনার চোখের তারায়, খুঁড়ে চলছে আপনার দাঁতের এনামেল।শুধুমাত্র আপনার পরিপাক তন্ত্রেই কমপক্ষে ৪শ থেকে ৫শ ধরণের ১০ হাজার কোটি অনুজীব আছে। এদের কেউ কেউ ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য আবার কেউবা ব্যবহার করে শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য। আবার কারও কাজ হল অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করা। আর এর বাইরও অবাক করার মত একটা বিশাল সংখ্যক ব্যাকটেরিয়া, যেমন ক্ষুদ্রান্তে সর্বদা বিরাজমান স্পাইরোকীট, আছে যাদের কাজটা যে আসলে কি তা আজও জানা সম্ভব হয়নি। আপাতঃ দৃষ্টিতে মনে হয় ওরা আপনার সঙ্গ পছন্দ করে বলেই আপনার দেহে বসবাস করে।

ব্যাকটেরিয়ার কোষগুলা সাধারণত আমাদের দেহ কোষের তুলানায় অনেক ছোট হয়ে থাকে। যেখানে আমাদের দেহে মোট কোষের পরিমান ১০ কোয়াড্রিলিয়ন ( ১ এর পরে ২৪ টা শূণ্য) সেখানে ব্যাকটেরিয়ার কোষের পরিমান ১০০ কোয়াড্রিলিয়ন। জ্বি হ্যা, আপনি চোখে ভুল দেখছেন না। অবিশ্বাস্য হলেও একথা সত্যি যে আমাদের দেহে ব্যাকটেরিয়া কোষের সংখ্যা আমাদের নিজস্ব কোষের থেকে প্রায় দশ গুন বেশি।:-/

সংক্ষেপে বলা যায়, ওরা আমাদের দেহের একটা বিশাল অংশ। আর যদি ব্যাকটেরিয়ার দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে দেখেন তবে আমরা হলাম ওদের ক্ষুদ্র একটা অংশ। :-*


তোমার দেহে বাস করে কারা ও মন জানোনা!! তোমার দেহে বসত করে কয়জনা? পরমাণু পর্ব

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বিজ্ঞানব্যাকটেরিয়াঅণুজীবদেঃকোষবিজ্ঞানব্যাকটেরিয়াঅণুজীবদেঃকোষ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: বিজ্ঞান  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৪৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২৫
কিরিটি রায় বলেছেন: তোমার দেহে বাস করে কারা ও মন জানোনা!! তোমার দেহে বসত করে কয়জনা


wah...

+
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। অবাক করার মতই একটা ব্যাপার। :)

২. ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৭
মনির হাসান বলেছেন: খাইছে আমারে ... কাহিনি কিছুটা জানতাম । তবে ব্যাপারটা(ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা) যে এত ... আন্দাজ করতে কষ্ট হইতেছে ।

আমার দেহে আমিই সংখ্যালঘু ? ? ? হায়রে ! ! !

বিশাল একখান প্লাস ।
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৬

লেখক বলেছেন: হা হা হা ........ আপনার সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু পোস্টের কথা মনে পড়ল। সংখ্যাগুরুদের স্বার্থে আমাদের উচিৎ ওদের আদর যত্নের সাথে লালন পালন করা। হা হা হা ....... ;)

৩. ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৪
মহাজাগতিক বলেছেন: তার মানে একটা মানুষের দেহ ব্যাকটেরিয়াদের কাছে একটা গ্রহের মত ব্যাপার আর কি। পৃথিবী নামের এ গ্রহে মানুষ গিজগিজ করছে। মানুষ হলো ব্যাকটেরিয়ার পৃথিবী আর পৃথিবীর ব্যাকটেরিয়া মানুষ! জাস্ট টু টেক ইট ইজি. .... এভাবে কতদূর চিন্তা করা যাবে?
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০৭

লেখক বলেছেন: শুধু তাই না, আজকের আপনি যে গড়ে প্রতি৭ বছরে নতুন আপনি হয়ে যাচ্ছেন সেটা জানার জন্যে পরমানু পর্বটা (পোস্টে লিঙ্ক দিয়েছি) পড়ে ফেলুন, আপনার ভালো লাগবে।

৪. ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৯
শয়তান বলেছেন: ভালৈ তো শোনাইলেন । আমার আমি আসলে আমি একা না ।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০৯

লেখক বলেছেন: আপনি নিঃসঙ্গ না এটা জেনে কি এখন একটু ভালো লাগতেছে? হা হা হা ...। :)

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৬. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১১
ভুরিদত্ত বলেছেন: লিক্সেন ভালাই তয় প্রোবায়োটিক ফুড নিয়া কিসু কইলেন্না?
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৩

লেখক বলেছেন: প্রো. বা. ফুড তো আমরা খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করি তাই এখানে সেটা মেনশন করিনি।

৭. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৩
ভুরিদত্ত বলেছেন: মাইট ( mite ) যদিও আলাদা বাট তাদের কথাও লিখা উচিত কথাপ্রসঙ্গে।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৮

লেখক বলেছেন: হ্যা, বাদ পরে গেছে। পরে দেখি সময় করে আপডেট করে দেয়ার চেস্টা করব।

৮. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৫
ভুরিদত্ত বলেছেন: এই পোস্ট পইড়া অনেকের মনে অইতে পারে ব্যাক্টেরিয়ারা শুদু কারাপ। সো আমি ভালা ব্যাক্টেরিয়াদের কতাও লিকতে সাজেস্ট করলাম। এই আর কি বস।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩২

লেখক বলেছেন: তাই? লেখার সময় আমার কাছে তা মনে হয়নি। দেখি পরে সময় করে আপডেট করে দিব।

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১০. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩১
প্রায়াপাস বলেছেন: "বিনিময়ে ওরা আপনাকে কৃতজ্ঞতা স্বরুপ দেয় আপনার দেহের দূর্গন্ধ"--ভাল বলছ।

এই লেখাটা কি সিরিজ আকারে আসবে? খুবই পছন্দ করলাম, পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৫

লেখক বলেছেন: আগেরটা তো পরমানু নিয়ে লিখছিলাম। এইবার লিখলাম ব্যাকটেরিয়া নিয়ে। এইত। আর কি নিয়ে লেখা যায়? আইডিয়া দাও।

১১. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৪০
শয়তান বলেছেন: আমার ভিত্রে মাইট আছে ভাবলেই ঘিনঘিন লাগে :(
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:০০

লেখক বলেছেন: মনে রাইখেন আপনি কিন্তু সংখ্যালঘু। ;)

১২. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:০২
শয়তান বলেছেন: আবার জিগায় ;)

ওয়ান এ্যান্ড ওনলি পিস ।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:০৬

লেখক বলেছেন: আর আমি বলি, নো ওয়ার বাট ওনলি পিস.....। :)

১৩. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৮
শুভ রহমান বলেছেন: আপনে খালি নেগেটিভ সাইড নিয়া লেখছেন। এইডা কিন্তু পার্শিয়ালিটি। হেরা আমাগো যে কত উপকার করে, হেগোরে ছাড়া তো আমরা চলতে পারবো না। যেমন হগগলের পেটে যে ই কলি আসে হে তো আমাগো ভিটামিন বি সিন্থেসিস কইরা দেয়। আরো কত কি।
(আপনে কি লাইডফবয় সাবানের এডে নামছেন নি?)
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৩

লেখক বলেছেন: তাই? লেখার সময় আমার কাছে মনে হয় নাই। যাইহোক, আপনার কমেন্ট পড়ে আশা করি পাঠকদের ভুল ভেঙ্গে যাবে।

১৪. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪১
কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি বলেছেন: কস কি মমিন!! :-*


ভালো পোষ্টো
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৪

লেখক বলেছেন: ইয়াপ...... নিজ বাসভূমে পরবাসী। ;)

 

মোট সময় লেগেছে ১.১৫৬০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
"..... The universe is governed by scientific laws. These laws must hold without exceptions, or they wouldn't be laws. That...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ