somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিমালয়ের বরফ গলছে না তাই বাংলাদেশও ডুবছে না - এই কথাটি ভুল ....(দৃষ্টি আকর্ষণ: কুঁড়ের বাদশা)

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


IPCC (International Panel for Climate Control) ২০০৭ সালের তাদেরই এক রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে বলেছিলো ২০৩৫ সালের মধ্যে হিমালয়ের সব বরফ গলে যাবে। কিন্তু সম্প্রতি এক রিপোর্টে তারা স্বীকার করেছে ২০৩৫ সালের মধ্যে হিমালয়ের বরফ গলার মূল রিপোর্টটি ভুল ছিলো। এখন তারা বলছে আপাততঃ হিমালয়ের বরফ ২২৫০ সালের আগে গলবে না। IPCC'র এই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ইত্তেফাক একটি প্রতিবেদন ছাপিয়েছে যেটার মূল কথা হলো হিমালয়ের বরফ শিঘ্রী গলছে না তার মানে বাংলাদেশও অদূর ভবিষ্যতে ডুবছে না। রিপোর্টে বলা হয়েছে, "২০৩৫ সালের মধ্যে হিমালয়ের হিমবাহ গলে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চল পানিময় হবে বলে যে ভয় দেখানো হয়েছিল, তা আসলেই ভুয়া!"

এই বিষয়টা নিয়ে কুঁড়ের বাদশা এরই মধ্যে তিনটা পোস্ট করেছেন। এখানে বলে রাখা ভাল ইত্তেফাকের প্রতিবেদক সহ কুঁড়ের বাদশা একটা বড় ধরণের ভুল করছেন যেটি হলো তারা অনুমান করে নিয়েছেন হিমালয়ের বরফ গলার কারণেই বাংলাদেশ ডুবে যাওয়ার কথা ছিলো। আসলে ধারণাটি ঠিক নয়।

কুঁরের বাদশার পোস্টগুলো:
১) হুদাই কোপেনহেগেন সম্মলনে , বাংলাদশে ডুবছে না !!! [ একটি কপি-পোষ্টিপোষ্ট ]http://www.somewhereinblog.net/blog/invincible416/29099712#comments
২) বিশ্বরাজনীতির নগ্ন থাবায় কাঠের পুতুল আমরা Click This Link
৩) ডিজিটাল সরকার কি দুনিয়ার খবর রাখে না ? Click This Link

বাংলাদেশ পানিতে ডুবে যাবে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বর্তমান উচ্চতা থেকে আরও কমপক্ষে তিনফুট বেড়ে যায়, তবেই। এ ব্যাপারটাতে পরে ফিরে আসব তার আগে চলুন হিমালয়ের বরফগলা পানির প্রভাব কি হতে পারে সেটা জেনে নিই।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহের বরফগলা পানি সাধারণতঃ নদ-নদীগুলোর বাৎসরিক পানি প্রবাহের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়ার সাথে সাথে ভুমিধ্বস, ফ্লাশ ফ্লাড, এবং পাহাড়ী হ্রদগুলোর উপচে পড়ার কারণ ঘটিয়ে থাকে। আর শুষ্ক মৌসুমে হিমালয়ের বরফগলা পানি ভারত, বাংলাদেশ সহ বেশ কিছু দেশের প্রধান প্রধান নদিগুলোর পানির মূল উৎস। তাই হিমালয়ের বরফ যদি দ্রুতহারে গলে যেত তবে এই অঞ্চলের মানুষেরা প্রতিবছরই বন্যা এবং তার পরবর্তি খরার মুখোমুখি হত। ফলশ্রুতিতে খুব দ্রুতই ভারত-বাংলাদেশের প্রায় ৬০০ মিলিয়ন জনগোষ্ঠি তাদের খাবার এবং কৃষিকাজের পানি থাকে বঞ্চিত হত। সবশেষে হিমালয়ের বরফ গলা পানি শেষ হয়ে গেলে বাংলাদেশের বিস্তীর্ন এলাকা পরিনত হত অনাবাদী এক মরুভুমিতে। তাই এটা অবশ্যই আমাদের জন্য এক খুশীর খবর। অন্ততঃ আগামী ২৫০ বছরের জন্য। তবে হিমালয়ের বরফগলা পানি কখনই বাংলাদেশ ডুবে যাওয়ার কারণ ছিলো না।

এখন ফিরে আসি সমু্দ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে পারে দুইভাবে। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে পানির ঘনত্ব কমে গিয়ে সমুদ্রের পানির আয়তন বেড়ে যেতে পারে। ফলে পানির উচ্চতাও বেড়ে যাবে। তাছাড়া গ্রীনল্যান্ড এবং আর্কটিক (পৃথিবীর প্রধান দুটি জমাট পানির উৎস) সহ পৃথিবীর প্রধান ৩০ টি হিমবাহের পানি গলে সমুদ্রে মিশে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি করে। জাতিসঙ্ঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০৯০ সালের মধ্যে সারা পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৮.৭ থেকে ১৭ ইঞ্চিতে বেড়ে যাওয়ার কথা। তারপরও সেটা অনাকাঙ্খিত ৩ ফুটের চেয়ে কম। তবে উপকূল অঞ্চলগুলো যে ক্ষষ্তিগ্রস্হ এবং জলমগ্ন হবে সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

সবশেষ কথা, অন্য অনেকের মত আমিও ধারণা করি জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক রাজনীতিকরণ হয়ে থাকেতে পারে। সে সম্ভাবণা একেবারে ফেলে দেয়ার মত না। তবে হিমালয়ের বরফ না গলার রিপোর্টের সাথে বাংলাদেশের ডুবে না যাওয়ার কোন সম্পর্ক আগেও ছিলো, এখনও নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫১
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×