১.
আমার নাম আনিস।আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে ফিজিক্স এ মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি দুই বছর আগে।বর্তমানে আমি বেকার জীবন যাপন করছি।বেকার শুনে আপনাদের মনে হয়তো একটা তাচ্ছিল্যের ভাব আসতে পারে। কিন্তু গত দু বছর আমি একটা চাকরির জন্য হন্য হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছি।কিন্তু কোথাও আমার কোন চাকরি হচ্ছে না।এই কয়েক বছরে এত জায়গায় ইন্টারভিউ দিলাম।কিন্তু কেন জানি উপরওয়ালা আমার দিকে মুখ তুলে চায়না।এই তো সেদিন একটা বেসরকারি ব্যাঙ্কে গেলাম ইন্টারভিউ দিতে।ভাইভা বোর্ডে চার জন মধ্যবয়সী ভদ্র লোক বসে আছেন।প্রত্যেকেরই পড়নে সুট ,টাই।তারা অত্যন্ত পরিপাটি অবস্থায় চেয়ারে বসে আছেন।প্রথমে আমাকে কাঁচাপাকা চুলের ভদ্রলোক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেন-
আপনার নাম আনিসুর রহমান?
জি স্যার।
আনিস মানে কি?
জানি না স্যার।
হাউ ফানি,আপনি নিজের নামের মানেই জানেন না?বলেই তিনি অন্য তিনজনের দিকে তাকালেন?তারপর তিন জন একসাথে হো হো করে হেসে উঠলেন যেন জীবনে তারা ফার্স্ট টাইম কোন মজার জোক্স শুনলেন।
তারপর তার পাশের জন আমাকে প্রশ্ন করা শুরু করলেন-
আপনি আসার সময় কোন রাস্তা দিয়ে এসেছেন?
আমি বুজতে পারলাম না আমার চাকরি হল মার্কেটিং এ।এই রিলেটেড অনেক পড়াশুনা করে এসেছি।কিন্তু উনারা কেন এরকম প্রশ্ন করছে?
আমি বললাম স্যার শাপলা চত্তরের পাশ দিয়ে।
আচ্ছে বলেন তো একটা শাপলা ফুলে কয়টা পাঁপড়ি থাকে?
আমি কি উত্তর দিব তাই ভাবছিলাম।তার আগেই আরেক জন আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন আচ্ছা আনিস সাহেব আপনার বাড়ি কোথায়?
আমি বললাম স্যার বগুড়ায়।
ও আই সি,আচ্ছা বলেন তো বগুড়ার মানুষের একটা কমন সমস্যা আছে।সমস্যাটা কি?
আমি আবারও আমার নখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম।আমার কাছ থেকে কোন রেসপন্স না পেয়ে উনি পাশের আরেকজন কে বলছেন বুজলেন নাজমুল সাহেব বগুড়ার লোকের মাথায় সিট আছে।আমার ছোট শালার বউ বগুড়া বাড়ি।আস্ত উন্মাদ।
এই সহজ জিনিস টাই আপনি জানেন না।
স্যারি আপনাকে তো আমরা নিতে পারছি না।
আমি বললাম স্যার কিছু মনে না আমি আপনাকে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করি?
উনি চশমার ফাক দিয়ে চোখ দুটো বড়ো করে বললেন ও হা সিওর।
আমি বললাম স্যার আপনার বাড়ী কোথায়।
সিরাজগঞ্জ।
স্যার বগুড়ার মানুষের মাথায় সিট থাকতে পারে।কিন্তু আপনার মাথায় যে সোফা আছে সেই বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ নাই।
এই হল আমার চাকরির ইন্টারভিউ।আমার তাহলে কিভাবে দিন চলে এই নিয়ে আপনাদের মনে হয়তো কৌতূহল জাগতে পারে।আমি ১ টা টিউশুনি করি।
আমার ছাত্রীর নাম নবনী।সমস্যা হল সে গত তিনবার এস এস সি পরিক্ষায় ফেল করেছে।আমার কাজ হল যেভাবেই হোক তাকে এবার পাশ করানো।কিন্তু ছাত্রীর পড়াশুনায় কোন আগ্রহ নেই।পড়তে বসলেই তার মাথায় হাজার ধরণের চিন্তা ভাবনার উদয় হয়।আমাকে একদিন বলছে স্যার আপনি কি প্রেম করেন?
আমি একটু থতমত হয়ে গেলাম।আমি বল্লাম হটাত এ প্রশ্ন কেন?
স্যার আপনার চেহারায় একটা প্রেম পুরুষ প্রেম পুরুষ ভাব আছে তো তাই বললাম।
আমি বললাম দেখ তোমাকে তো আমি পড়াতে আসছি ।একটু ঠিক ভাবে পড়।
স্যার আপনার মোবাইল ফোন নাই?
নাহ।
এখন তো স্যার অনেক কম দামে মোবাইল ফোন পাওয়া যায়।একটা কিনে ফেলুন।রাতে বিভিন্ন অফার থাকে স্যার।খরচ ও কম।তার বিজ্ঞাপন শেষ হলে তার বাবা আসে
এই যে আনিস আমার মেয়ের পড়াশুনার কি অবস্থা?এইবার কি পাশ করবে?
জি আংকেল।
দেখ বাবা তোমাকে তো কখনই কিছু খাওয়ানো হয়না।তুমি তো আবার চা নাস্তা কিছু খাওনা।
আমি কবে খাই নাই তা মনে করতে পারলাম না।মনে মনে বললাম শালা খাওয়াবি তো না।কিপ্টার কিপটা।
চলবে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

