আমি নিতান্তই একজন সাদাসিধে মানুষ। আমার মনে কোন কুটিলতা নেই। এর জন্য গচ্চাও দিতে হয়েছে অনেক।
আসল কথা বলি। ব্লগে এসেছিলাম যখন খুব ভাল লাগত। একটা শান্তশিষ্ট পরিবেশ ছিল। কিন্তু দঙ্গল শুরু হলো, যখন স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলতে গেলাম।
স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলা যেতে পারে, কিন্তু মীর-জাফরদের নিয়ে কথা বলা যাবে না। বলতে হবে আমি দেশকে ভালবাসি, কিন্তু রাজাকারদেরও ভালবাসি।
জামাত ইসলামি চায়, বাংলাদেশকে একটি ইসলামি রাষ্ট্র বানাতে। যেটা পাকিস্তান হয়েছে। তারা পাকিস্তানের সাথে থাকতে পারেনি। তাই বলে এখন ইসলামটাকে রাষ্ট্রের হাতিয়ার হিসেবে দেখতে চায়। তাহলে কী হবে? সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হবে। ২০০১ সালের পর বহু হয়েছে। তারপর, বিধর্মিদের ধর্মীয় আচারে বাধা দেওয়া হবে। তার সাথে একটা বিশাল জনসংখ্যাকে ইসলামের নামে মাদ্রাসা শিক্ষা দিয়ে অন্ধকারে রেখে দেওয়া হবে। তাহলে তাদের উপর জোর খাটানো যাবে। ইসলাম এখানে প্রধান হাতিয়ার।
জামাতের নেতাদের ছেলেমেয়ে রা উচ্চশিক্ষিত। তার মানে তারা মাদ্রাসা শিক্ষা নিজেরাও পছন্দ করেন না। তাহলে এর একটাই উদ্দেশ্য, আমাদের দেশের জনগণকে অন্ধ করে রাখা।
ইসলামি রাষ্ট্র করার বিরোধি আমি কখনই না। কিন্তু আমাদের দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু আর খ্রীস্টানদের কথা না ভেবে আমরা কেমন করে কাজ করবো? যদি আমেরিকা সমস্ত মুসলমান বের করে খ্রীস্টান রাষ্ট্র করে আর আমাদের দেশ থেকে মুসলিম পণ্য নেওয়া বন্ধ করে দেয়? তাহলে আমরা কী বিপদে পরবো না। ব্যাপারটা এভাবে চিন্তা কেউই করে না।
আমি একদিন খুব করে আল্লাহকে বলেছিলাম, আমি যুদ্ধাপরাধিদের বিচার চাই। সেদিন রাতে ঘুম হচ্ছিলো। হঠাত করে মাঝরাতে মনে হলো, একটা ভয়ংকর কথা।
হাসান হুসেইনকে যারা মেরেছিলো তাদের কি বিচার হয়েছে? নাকি উসমান(রাঃ ) কে যারা মেরেছিলো তাদের বিচার হয়েছে? হয়নি। আর আমদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তাহলে কেমন করে হবে?
কষ্ট পেয়েছিলাম খুব। নবীজি(সঃ ) জীবনেও এরকম অধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে চাননি। কিন্তু আমরা চাইছি।
আমি বারংবার জামাতিদের প্রশ্ন করেছি, আচ্ছা অপরাধের বিচার কী করা নিষেধ? কিন্তু কোন উত্তর পাইনি। তাদের চোখে অন্যরা অপরাধি। যারা যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছে।
আজকে এই ব্লগে তাদের আস্ফালন আর আস্পর্ধা চোখে পরার মতই। নামাজ পড়তে গ্যালে যেন মহান আল্লাহ-তালাকে দেখতে পাই। তিনি জেল খানায় বন্ধি। ছোটবেলায় শুনেছিলাম, মা বলত, আল্লাহ নিজের হাতে চারটে জিনিস রেখে সব শয়তানকে দিয়েছেন। তাহলে কী তিনি এখন হয়ত কারাবন্দি? হয়তো।
মাঝে মাঝে মনে হয় জামাতিরা যে ধর্মকে তাদের বর্ম হিসেবে ব্যবহার করছেন, সে ধর্মকে আঘাত করার সাহস আমরা করি না। যদি করতাম তাহলে হয়তো উপযুক্ত হইতো। কিন্তু এইখানেই ভাল আর খারাপের মধ্যে পার্থক্য।
জামাতের বিরোধিতা কেন করি, কারণ তারা নিজেরদের আদর্শে কখনই অটুট না। ক্ষমতার জন্য নারীর সাথে চুক্তি করা কি তাদের নীতি বিরুদ্ধ না? সেটার জবাবও পাইনি। শিবির ছাত্ররা দাবী করেন, ২৮ সে অক্টোবার তারা মার খেয়ে মরেছেন। আমরা দাবী করিনি, কেন ২৮ সে অক্টোবরের আগে ক্ষমতার লোভের উর্ধে থেকে বিএনপি-জামাত জোট, নির্বাচন কমিশন সহ এসবের সংস্কার করল না। কেন ২৮ সে অক্টোবর হলো? যারা ক্ষমতাসীন ছিলো তাদের কী কোন দ্বায়িত্বই ছিলো না। সব দোষ দেওয়া হলো আওয়ামীলীগ আর ইসলামী ঐক্যজোটকে। হায়রে কোথায় বিচার?
যাই হোক, আমি মুসলিম না, জামাতিরাই ইসলাম বুঝেন ভাল।
ধন্যবাদ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

