somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের ভুল পথ!

১১ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিচারের দাবি নিয়ে এসেছি।

রাজাকারদের কেন বিচার করতে হবে তা জানা দরকার।

প্রথমেই কথা বলি আমাদের ধর্মীয় ইতিহাস নিয়ে। যে ব্যাপারটা এড়িয়ে যাওয়া অনেকটাই বোকামি। কারণ এই ধর্মকেই জামাত নানা ভাবে হাতিয়ার বানায়।

হযরত মোহাম্মদ (সঃ ) মক্কা জয় করেছিলেন ঠিকই। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কোন অভাব ছিলো না। তিনি একজন মহান নবী, কিন্তু তিনি মানুষ। তিনি এরকমই একটি ভুল করে বসেছিলেন। যার জন্য আমাদের হাতে ইসলাম দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আমরা আল্লাহকেও ক্ষমতার লোভে দুই টুকরা করে ফেলেছি।

মহানবী (সঃ ) এর ভুল টা কী ছিল? তাঁর এত বছরের সংগ্রামে তাঁর প্রত্যক্ষ বিরোধিতাকারী আবূ সুফিয়ান একজন। তিনি শেষ পর্যন্ত ইসলামের চরম বিরোধিতা করেছেন। আবূ সুফিয়ানের বোন ছিলেন হিন্দ। তারা কখনই ইসলামকে মানেন নাই।

কিন্তু যখন মক্কা দখল হয়ে গেল তখন আবূ সুফিয়ান মোহাম্মদ (সঃ ) এর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইলেন। বললেন আমি ভুল করেছি, আমি এখন তোমার ধর্ম নিতে চাই। মোহাম্মদ (সঃ ) খুশি হয়ে ছিলেন খুব। শত্রু যখন বন্ধু হয় তখন যেন আকাশ আর পাতাল মিশে এক হয়ে যায়। কিন্তু সে কিন্তু শত্রু ছিলো এইটা আমরা ভুলে যাই। মোহাম্মদও ভুলে গেলেন। তিনি আবূ সুফিয়ানকে বানালেন তার রাজনৈতিক সচিব। তখন তো সচিবের ধারণা ছিল না। তিনি তাকে রাখলেন মজলিসের অন্যতম সদস্য হিসেবে।

পাঠক এই আবূ সুফিয়ান ইসলাম দুই ভাগের কারণ। তা শুনুন। এরপর মহানবী (সঃ ) এর মৃত্যু হলো। ক্ষমতা বর্তালো চার খলিফার হাতে। কিন্তু ক্ষমতার লোভের উর্ধ্ব কেউই নন। এক মোহাম্মদ (সঃ ) ছাড়া। চার খলিফার তিন খলিফাই খুন হোন।

শেষটায় হযরত আলী (রাঃ )-এর হাতে ক্ষমতা যায়। কিন্তু তার আগে হযরত উসমানকে (রাঃ ) নামাজ পড়া অবস্থায় কে বা কারা হত্যা করে। উসমান ছিলেন আবূ সুফিয়ানের ছেলে উমাইয়ার আত্মীয় সমন্ধ। পক্ষান্তরে আবূ সুফিয়ানেরই আত্মীয়।

উমাইয়া আলী(রাঃ ) কে বলেছিলেন, উসমান হত্যার বিচার কর। কিন্তু আলী (রাঃ ) সেইটা করলেন না। বরং তিনি ক্ষমতা নিতে ব্যাস্ত। আয়েশা (রাঃ ) আলীর বিরোধিতা করেছিলেন বলে, আলী (রাঃ ) তাকেও নির্বাসিত করেন। এখন, উমাইয়া আর উপায় না দেখে আলীর বিরোধিতা শুরু করেন।

আলীর মৃত্যুর পর উমাইয়া ক্ষমতা নেওয়ার পায়তারা করতে থাকেন। তার ছেলে এজিদের সৈন্যরা মহাম্মদের (সঃ ) নাতিদের হত্যা করেন, এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। তাহলে এক সময় এই উমাইয়া বংশধররাই ক্ষমতায় ছিলো, যখন তারা কাফির ছিলেন। আজকে আবার সে বংশই ক্ষমতায় আসলো, কিন্তু তারা আজকে মুসলমান।

উমাইয়ার বিরোধিতা করে, আলীকে নেতা মনে ধারণ করে রাজ তন্ত্রের প্রতিবাদে, শিয়া নামক একটি গষ্ঠি বেড়িয়ে এলো। আর আজকের শিয়া সুন্নির দাঙ্গার কথা সবারই জানা।

আবূ সুফিয়ানকে যদি ক্ষমা না করে ফাসি দেওয়া হত তাহলে তার বংশধরদের হাতে মহানবী (সঃ ) এর নাতিদের মরতে হত না। আর ইসলামও এইভাবে বিভক্ত হত না। আবূ সুফিয়ানদের হাতে আমরা ক্ষমতা দিতে চাই এরপরেও?

না তারা মানবতার শত্রু। তাদের হাতে ইসলাম আজকে দু-ভাগ হয়ে গেছে, তাহলে কেমন করে আমাদের দেশকে দুই ভাগ করার জন্য আবূ সুফিয়ান রূপি গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামির মত বিশ্বাস ঘাতকের হাতে আমরা ক্ষমতা তুলে দিব, বা তাদের রাজনীতি করতে দেব? ইতিহাস কী আমাদের কোন শিক্ষাই দেয় না?

(সুত্রঃ দ্যা মেসেজ ছবি পরিচালকঃ মুস্তফা আক্কাদ এবং ইন্টারনেটঃ ইস্টোরি অফ শিয়া সুন্নী কনফ্লিক্ট)

(মানুষ সহ সকল ব্যানড ব্লগারদের মুক্তি চাই)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৪২
২৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×