দাড়াতে পারছিলাম না, বার বার পড়ে যাচ্ছিলাম। তাই বন্ধুরা ধরা ধরি করে বার থেকে বের করে আনছে। চ্যাং দলা করে বের করে নিয়ে আসার মানে বুঝেন তো। সেই রকম। বাইরের লোকজন দেখে তো মজা পেতে শুরু করেছে। এরকম মাতাল মনে হয় আর দেখেনি। কিন্তু আমি বারে ঢুকে কিছুই খাইনি। পানি খেতে চাইলাম, লোকটা পানি নিয়ে আসতে গেলো, আর পুল খেলার টেবিল থেকে দেখি একটা সাদা বল আমার কপাল বরাবর উড়ে আসছে, তার পরে আর কিছু মনে নাই।
পরে বন্ধুদের কাছ থেকে শুনেছিলাম, অবস্থা এতটাও খারাপ হতো না, পুলের টেবিলের লোকটা আমার জ্ঞান ফেরানোর জন্য চড়থাপ্পড় মেড়ে গাল লাল করে দেওয়ার পর বুঝতে পারলেন পানি দিতে হয়, জ্ঞান ফেরানোর জন্য। আর আমি যে জাতি চড় থাপ্পড় কেন, লাথি গুতায়েও কোন লাভ নাই। পানি দিতেই জ্ঞান ফিরেছিলো একটু।
আমি ভাই ভাল মানুষ, ওটা যে বার আমি জানতাম না। বন্ধুরা বিলিয়ার্ড পুল খেলে, তাই জেনেই ভেতরে ঢোকা। একধাপ নিচেই দেখি বার আছে, সাজানো বিয়ার আর মদের নানা ব্র্যান্ড। এখন আসল কথা হলো, আমি যে দুধও খাই না মদ খাবো কী। কিন্তু ঝামেলা লাগলো তখন যে আমার বন্ধুরা একেকজন মাতাল, তারা আমাকে বাড়ি নিয়ে গেলে, মদ আমার পরিবার আমাকে খাইয়ে ছাড়বে, তার পর আমাকে মরে প্রমাণ করতে হতে পারে যে আমি মরি নাই। এই যখন অবস্থা তখন স্থির হইলো, হাসপাতালে দিয়ে আসাই উত্তম।
চারটা মদ্যপ হাসপাতালে উঠলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী ভাববে সেই প্রশ্ন একজন তুলতেই, তাকে চড় মেরে বসলো দলের আরেকজন। কর্কশ কন্ঠে হুঙ্কার, "ডাস্টবিনে ফেলে দেই চল হারামজাদা"। সে চুপ করে গেলো। কালো টেক্সি একটা পেয়েছিলাম। আমার মাথার ঠিক মাঝখানটা একটা মোটামুটি ছোট সাইজের ফুটবল হয়ে গেছে। সন্ধের কথা রাত তখনও হয়নি। পুলিশ গাড়ি থামালো।
-কই যাচ্ছেন?
-বন্ধু অসুস্থ, মাথায় ব্যাথা পেয়েছে, হাসপাতালে যাচ্ছি।
-শালা মাতাল কতগুলো নাম গাড়ি থেকে।
কথাটা শুনে আমার চেতনা ফিরে আসলো। এতো পুলিশ। এখন কি হবে? আমাকে রেখে সবাই নেমে পড়লো। পুলিশ ওদের জেরা করছে। কী জিজ্ঞেস করছে কে জানে। আমি সীটের মধ্যে হেলান দিয়ে, লুকিং গ্লাসে নিজে দেখে তো ভয় পেয়ে গেলাম। একি অবস্থা?
পুলিশের লোকটা আমার কাছে এলেন। কথা বলছে আমার সাথে কিন্তু চোখ আমার মাথার ফোড়াটার দিকে স্থির। কী জবাব দিছি কিছুই মনে নাই। তারপর আমার বন্ধুরা টেক্সিতে এসে বসলো। একজন বলল, "আজকে কপালে খারাপি আছে রে"।
এরপর, হাসপাতালে না নিয়ে আমাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো। পরের দিন মাথার ফোড়াটা একটু কমলেও, ডাক্তার দেখালাম। ঐদিকে মা বাবা জানে না এটা কেমন করে হলো। আর আমি একবার ডাক্তারকে বা ওদেরকে বলতে পারছি না। একবার বলি গলি দিয়ে হাটতে গিয়ে ক্রিকেট বল লেগে এই অবস্থা, আরেকবার বলি শক্ত একটা ফুটবল এসে লাগছে। ডাক্তার দেখে বলে মনে হয় না, গলিতে কেউ এত শক্ত বল দিয়ে খেলে। শেষে আমিই জিজ্ঞেস করলাম, যাই এসে লাগুক, আপনি তো পুলিশ না ডাক্তার আমার ব্যবস্থা করুন। ডাক্তার ব্যবস্থা যা করলেন তাতে ১ সপ্তাহ বাসায় থাকতে হলো। এরপর থেকে আর পুল ক্লাবে যাই না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


