আজকে একটা মেসেজ পেলাম। সেটা অনেকটা এরকম,
"মদিনা শরিফের ১ লক্ষ হুজুর এক সাথে মহানবী (সঃ ) কে স্বপ্নে দেখেছেন। তিনি তাদেরকে বলতে বলেছেন, মুমিনদের কাছে বানী পৌছে দাও, তারা যেন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন এবং আল্লাহর কাছে বেশি করে ইবাদত করেন"। এই মেসেজটি আপনি ১৫ জনকে পাঠাবেন তাহলে ৯ দিনের মধ্যে একটি সুখবর পাবেন, নাহলে নয় বছরেও কোন সুখবর পাবেন না।
মেসেজটা পেয়ে কিছুটা অবাক হলাম। তারপরে প্রেরক মানে আমার বান্ধবীকে ফোন করলাম। দেখি তার কথা বলার সময় নেই। হাপাচ্ছে। জিজ্ঞেস করলাম, "কি হল?"
-দোস্ত এখন কথা বলতে পারবো না।
-কেন?
-দোকানে যাচ্ছি ফ্লেক্সিলোড করতে।
আমি অবাক হয়ে বললাম, "কি হইছে?"
-আরে মেসেজ যেটা তোকে পাঠালাম সেটা মাত্র ১০ জনকে পাঠানো হইছে। আরও ৫ জনকে পাঠানোর পয়সা নাই। ফেক্সি করে পাঠিয়ে তোকে কল দিচ্ছি।
এরপর অবশ্য তার সাথে কথা হয় নাই আজকে। মেসেজটা যে চাতুর্যপূর্ণ এবং কতিপয় ধর্মভীরু লোকজনকে এই মেসেজটা দিয়ে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে তা বুঝা যায়। একজন ধর্মভীরু লোক হিসেবে যে কেউ জিনিসটাকে বিশ্বাস করবে এবং ১৫ জন পাঠাবে।
কিন্তু একবার ভেবে দেখুন খবরটার ভিত্তি কত দুর্বল। মানুষের ঈমানের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য একদল স্বার্থপর লোক এই কাজ করছে। তার কারণ আমি বলি। দেখুন মেসেজটা দিয়ে আমরা আসলে কার উপকার করছি?
আমি পনের জনকে পাঠালে সেই পনের জন আরও পনের জনকে পাঠাবে। পনের জনের প্রত্যেকে আবার পনের জনকে পাঠাবে। যদি পনের জনকে না পাঠায় ১০ জনকে পাঠাবে। দশ জনের প্রত্যেকে পনের জনকে পাঠাবে। তাহলে একেকটা মেসেজ এ ন্যূনতম যদি ১.৫০ টাকা করে পরে তাহলে হিসেব করে দেখুন মোবাইল অপারেটর গুলো কতটাকা লাভ করছে!
জিপির নাম্বারগুলো থেকে এরকম বেশি করা হয়। আজ পর্যন্ত অন্য অপারেটরে এরকম ভাউতাবাজি মেসেজ পাই নাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

