(প্রিয় পাঠক, ইরান নিয়ে আমার কোন ইন্টারেস্ট নাই। কিন্তু এখন আমি এইসব খবর রাখতে বাধ্য। কারণ একটা পত্রিকায় রিপোর্টিং করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সব খবর আমার দেখতে হয়। যা হোক, খবর বের করতে গিয়ে আমার যে দশা হয়েছে সেটাই তুলে দিলাম। প্লিজ, আমাকে নব্য ইরান বিশেজ্ঞ বলবেন না!)
সিএনএন- এ একটু আগে দেখলাম একজন প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশের মাইরের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলছেন, তারা মানুষকে পশু গণ্য করে পশুর মত মারছেন। কথাটা যে বলছিল, সে কেঁদে কেঁদে বলছিল। তাঁর কথা শুনে শুনে সিএনএন এর খবর পাঠকও দেখি কেঁদেই ফেলছেন। বলছেন, ভাই আপনি সেভ থাকেন, আর আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখেন।
ভিডিও এর পর ভিডিও আসছে সিএনএন এ। বিবিসি অবশ্য একটি এড়িয়েই চলছে ইরানকে বলা যায়। তাদের কাছে এইসব খবরের তেমন কোন মূল্য নেই দেখলাম। আরেকটা কারণ হতে পারে সেটা হলো, সিএনএন এর আই রিপোর্ট আছে। সেটা বিবিসির নাই।
চ্যানেল ঘুরিয়ে চলে গেলাম আল-জাজিরাতে। সেখানে নিচের বারে লেখা উঠছে, সেন্ড আস লেটেস্ট অন ইরান।
সেখানেও দেখি এক প্রত্যক্ষদর্শীর ফোন। তিনিও কাঁদো কাঁদো। এবং আল-আজিরায় দেখি সিএনএন থেকেও ভালো ভালো ভিডিও পাঠাচ্ছে মানুষজন। যাকে বলে মেরে একেবারে ঠান্ডা করে দেওয়া হচ্ছে আন্দোলনকারীদের।
ব্লগে বসার আগে আমি এসব একেবারেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম। যে আসলেই মনে হয় এসব হচ্ছে। এটা মিডিয়া প্রপাগান্ডা না। কিন্তু পরক্ষণেই আবার মনে হচ্ছে না না, ব্লগে দেখে তো মনে হয় এসব মিডিয়ার কারসাজি।
আচ্ছা কোথায় যাই বলুন তো? কে আসল খবরটা দিতে পারবে? কাকে বিশ্বাস করা যাবে?
আল-জাজিরায় ঠায় বসে রইলাম। প্রত্যেকটা খবর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে চলেছি। দেখছি আর শুনছি। একটা খবর দেখলাম, মাহমুদ আহমেদিনেজাদ বৈঠক করছেন বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্টের সাথে। রুটিন বৈঠক। সেখানে হাজার খানেক ক্যামেরা ফোকাস করছে আহমেদিনেজাদকে। তিনি হাসছেন।
আচ্ছা, ইরানে না মিডিয়া ব্যান? তাইলে? ওখানে মিডিয়া গেল কেমন করে?
যাক বাবা, সহজেই বুঝলাম, মিডিয়া প্রপাগান্ডা। আরে...ঠিক তখনই, ইরানের রাস্তায় আবারও বিক্ষোভের নতুন ভিডিও। নতুন হাঙ্গামার ইউটিউব খবর। রাস্তায় রাস্তায় আগুন জ্বলছে। পুলিশের ডান্ডা আবারও দেখা যাচ্ছে। মেয়েরাও ইট পাটকেল মারছে।
ভাই কোনটা বিশ্বাস করি? কারটা বিশ্বাস করি?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

