আমার প্রিয় পোস্ট

গণতন্ত্রে চে' ব্যবসা

১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:১৭

শেয়ারঃ
0 0 0

চে গুয়েভেরার, দিন দিন তাঁর আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তার কথা কেবলই কানে আসে। তা শুধু বাংলাদেশ কিংবা আর্জেন্টিনা নয়। আমেরিকা, বৃটেন থেকে শুরু করে প্যালেস্টাইন পর্যন্ত।

শুনেছি নেপালের রাস্তায় রাস্তায়, দেয়ালে দেয়ালে চে'র ছবি ঝুলে। আজন্ম বিপ্লবী নেতা চে।

প্রশ্ন হলো আমাদের দেশের মানুষ অথবা বিভিন্ন দেশের মানুষ চে' কে কতটা চেনে। চে সম্পর্কে কার ধারণা কি?

বাংলাদেশের কথাই ধরুণ। যারা চে কে আদর্শ ধরেন তাদের অনেকই হয়তো জানেন না চে'র জীবন। অথবা চে'র আত্মত্যাগ সম্পর্কে অথবা সাম্রাজ্যবাদীর বিপক্ষে চে'র লড়াই কেউই জানে না।

এক দোকান মালিককে জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনারা গেঞ্জিতে কেন চে'র ছবি ব্যবহার করেন? উত্তর হলো, এ ছবি আলা গেঞ্জি বেশি বিক্রী হয়। তার মানে তার ব্যবসা ভাল হয়। কিন্তু চে'র মত সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ তো করেছিলেন আমাদের তিতুমীরও। অমর হয়ে আছেন বাংলার ইতিহাসে। আমরা তাঁর ধারও ধারী না। আমাদের চোখে মুখে চে'র স্বপ্ন। তার কারণ হয়তো চে'র সেই ছবি তিতুমীরের নাই। চে'র সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ তিতুমীরের ছিল না।

যাহোক, চে' কে তিতুমীরের সাথে তুলনা করার উদ্দেশ্য আমার নয়। যারা কমিউনিজমকে সাপোর্ট করেন তাদের কাছে হয়তো চে' একজন অবতার। কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে চে'ও। কিন্তু মানুষ বার বার ভুলে যাচ্ছে, কমিউনিজম মানে কিন্তু পরিবারতন্ত্র নয়। যেটা কাস্ত্রো কায়েম করেছেন কমিউনিজমের ভোলে।

নিজেকে সব রকম রাষ্ট্রীয় কাজ থেকে দূরে নিয়ে গিয়ে চে' এক অদ্ভুত বিপ্লবে নেমেছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল কিউবার মত করেই একেকটি দেশে সমাজতান্ত্রিক শাসন কায়েম করবেন। এতে কোন সন্দেহ নাই। অথচ চে' হয়তো জানতেনই না, কমিউনিজম একটা হাতিয়ার মাত্র। একে পুজি করে ফিদেল কাস্ত্রোরা শাসন করবেন।

গণতন্ত্রের ভেতর থেকে আমরা চে'কে সর্বোচ্চ সম্মান দিতে পারছি। তাঁকে নিয়ে পড়েছি দিনরাত। সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবই তো হয়। অথচ চে'র আদর্শের চর্চাটা হয় না। তাঁকে পুজি করে বাণিজ্য ভালই চলছে। এবং এ ধারা চলতেই থাকবে। এতে কোন সন্দেহ নেই।

গণতন্ত্রের এই এক গুণ। যে ছিল গণতন্ত্রের শত্রু তাকে গণতন্ত্র মেরে ফেলেছে ঠিকই। কিন্তু তাঁকেই আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে ব্যবসায় নামার জন্য।

চে' গুয়েভেরার আদর্শ এখন আকড়ে ধরে থাকতে কোন সমস্যা নেই। তাঁকে স্বাধীন ভাবে নিয়ে ব্যবসা বাণিজ্যে গণতন্ত্রের কিছু যায় আসে না। তার কারণ চে' মরে গেছে। তাঁর আদর্শিক পথে আর কোন নেতা আসবে না। অন্তত এই চারটি দশকে আসেনি। গণতন্ত্র সেই জিনিস খুব ভালো করেই জানে।

কিউবাও কমিনিষ্টদের শক্ত উদাহরণ হতে পারেনি।

একটা কথা অবশ্য ভুলে গেলে চলবে না। গণতন্ত্র বলেই চে'কে নিয়ে স্বাধীন মতপ্রকাশ। গণতন্ত্র না থাকলে যদি কমিউনিজম থাকত তাহলে কি গণতন্ত্রের মুক্তিদাতাকে নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখতে পারতাম? কমিউনিজমে মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা বলতে কিছুই থাকে না।

চিন্তা করছি চে'র নামে কবে আমদের দেশে একটা কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে যায়!

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): প্রবন্ধ! ;
প্রকাশ করা হয়েছে: ছেড়া কাগজ  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:২৯
সামী মিয়াদাদ বলেছেন: এখন গণতন্ত্রের নামে যা চলে তার নাম গণধনতন্ত্র....সো কিছুই বলার নাই....গেন্জিও পণ্য...গেন্জির বুকে চে'র মাথাও পণ্য
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৩৩

লেখক বলেছেন: সবই পণ্য!

কেমন আছেন মিয়াদাদ ভাই?

২. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৩১
মুনশিয়ানা বলেছেন:
মধ্যবিত্তের পাতি সেন্টিমেন্টে চে এক বিশাল সুড়সুড়ি...

চে'র ছবি বুকে ঝোলালেই ঢাকা পড়ে যায় নিজের যাবতীয় অক্ষমতা... সুবিধাবাদীদের জন্য দারুন মুখোশ।


সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্ভবতঃ এই ধারার পথ প্রদর্শক-- চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়...
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৩২

লেখক বলেছেন: সেটাই! চে তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয় বলেই খালাস!

আর কিছু দরকার নেই!

৩. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৩১
সত্যান্বেষী বলেছেন: চে'র কথা বলতে যেয়ে আপনি দেখি ক্যাস্ত্রোর গুষ্ঠি উদ্ধারে নেমেছেন। তবে এটিও যেনে রাখুন ক্যাস্ত্রো যে কিউবাকে নির্মান করেছেন সে কিউবার মানুষ হার্টের অপারেশন করাতে যেয়ে পুরা পরিবারসহ রাস্তার ফকির হয়ে পড়ে না। সেই কিউবার মানুষ বই কিনার খরচ যোগাতে না পেরে লাখে লাখে মুর্খ হয়ে থাকে না। সেই কিউবায় কাতারে কাতারে মানুষ খোলা রাস্তায় কুকুর-বিড়ালের মতো বেচে থাকে না।

আরো অনেক অনেক কিছু জানার আছে আপনার চক্ষুশূল সেই ক্যাস্ত্রো নির্মিত কিউবা বিষয়ে। সাম্রাজ্যবাদের প্রচার যন্ত্রটা সরিয়ে নিরপেক্ষ তথ্য-উপাত্ত নিন আর আমাদের সাধের 'গণতান্ত্রিক' বাংলাদেশের সাথে কিউবার তুলনা করুন।
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৩৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

আচ্ছা বাংলাদেশে কোন শাসক পরিবারতন্ত্র কায়েম করলে সেটা কি আপনি মেনে নিতেন?
ভালো কথা, কিউবায় মানুষ কুকুর বিড়ালের মত বাঁচে না। কিন্তু সত্যিকার কমিউনিজমে কি পরিবারতন্ত্রের কথা আছে। ফিদেল কাস্ত্রোই তো খাইলো সারা জীবন। এখন তার ভাইরে বসাইসে।

৪. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৩৬
রাতমজুর বলেছেন: ভাইরে, সামী ভাই যা কৈছে সেইডাই কথা, ধনতন্ত্র, সমস্যা হৈল, আমাগোডা গনতান্ত্রিক মোড়কের ধনতন্ত্র :| আরো ভয়ানক চিজ! সবকিছুই বেচা হয় এইখানে।
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৪২

লেখক বলেছেন: একমত!

১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৪২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ!

১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৫৬

লেখক বলেছেন: চেষ্টা করব!

৭. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৪৭
সত্যান্বেষী বলেছেন: 'ফিদেল কাস্ত্রোই তো খাইলো সারা জীবন।'

অন্যভাবেও বলা যায় - 'ফিদেল কাস্ত্রোই তো দিলো সারা জীবন।'

কিউবাতে কতখানি পরিবারতন্ত্র চলে সেই প্রসঙ্গে না গিয়েই বলি - বাংলাদেশে তো পরিবারতন্ত্র তেমন একটা ছিলনা। তাহলে কেন দেশের এই অবস্থা। এখানে পরিবারতন্ত্র ফন্ত্র ইস্যু নয়। ইস্যু হলো সিস্টেম।

খালেদা, হাসিনারা যে বলে আমরা ক্ষমতায় গেলে ১০ টাকা কেজি চাউল খাওয়াব সবাইকে সুখে শান্তিতে রাখব তারা কি বলতে পারবে সেটা তারা কিভাবে সম্ভব করবে? দোয়া-দরুদ পড়ে আসমান থেকে অলৌকিক সাহায্য নিয়ে, নাকি সুনির্দিষ্ট কোন ফর্মুলায়? তারা কি জানে সেই ফর্মূলা? না, তারা তা মোটেই জানে না। কাস্ত্রোরা জানে - সেই কাস্ত্রো যদি পরিবারতান্ত্রিকও হয়। শর্ত কি পরিবারতন্ত্রহীনতা নাকি মানুষের সুখ-শান্তি?

১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৫৫

লেখক বলেছেন: গণতন্ত্রে সবই সম্ভব। গণতন্ত্রের চর্চা দিয়েই আমেরিকার শক্তিশালী হইছে। কেউ তারে বাধা দিবার পারে নাই। সেই ভাবে জাপান, ফ্রান্স, থেকে শুরু করে সবাই গণতন্ত্রের মাধ্যমেই বড় হয়েছে।

এখানে আমাদের সিস্টেমের সমস্যা নেই। সমস্যা হলো আমরা সিস্টেমের ভেতরে কাজ করি না। অথবা ভাল ভাবে কাজ করি না। দূর্নীতি করি। ক্ষমতায় গেলে ধরাকে সরা জ্ঞান করি। দোষ তো সিস্টেমের না। দোষ আমাদের।

ফিদেল কাস্ত্রো কিউবাকে কোন পর্যায়ই নিয়ে যেতে পারে নাই। কিউবা একটা উন্নত দেশের তালিকাই পড়তে পারে নাই। বাইরে থেকে অনেক কিছুই বলা যায়। ভেওরে গিয়ে দেখেন!

৮. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৫২
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: এক বন্ধুরে জিগেস করছিলাম চে ওয়ালা গ্যান্জী কেনো পড়ছোস?চে কে?
ওর এনসার শুইনা আসমান থিকা পড়লাম কইলো চে হইলো বড় শিল্পী।খুব ভালো গান গাইতো:(

ভাবো কি পরিস্থিতি:(
কেমন আছো?
সময়োচিত পোস্টের জন্য +!
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৫৬

লেখক বলেছেন: হা হা হা ভাল বলছে। শিল্পী!

৯. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:৪২
সত্যান্বেষী বলেছেন: আমেরিকা গণতন্ত্র দিয়ে শক্তিশালী হয়েছে নেহাত নির্বোধ না হলে কথা কেউ বলতে পারে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনসম্পদ লুটপাট করে একদেশের বিরুদ্ধে আরেক দেশকে লাগিয়ে সেখানে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র ব্যবসা করে আমেরিকা 'শক্তিশালী' হয়েছে। সম্ভবত: বিশ্বের এমন একটা দেশও নাই যে দেশ 'শক্তিশালী' আমেরিকার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। ইংল্যান্ডের মতো ইয়োরোপের অনেক দেশ দুনিয়ার জায়গায় জায়গায় উপনিবেশ স্থাপন করে সেই সমস্ত দেশের লোকজনকে দাস বানিয়ে তাদের সম্পদ লুটপাট করে তবে তারা 'শক্তিশালী' হয়েছে।

আর হ্যা, পারলে কিউবা সংক্রান্ত নিচের পোস্টের তথ্য ভুল প্রমাণ করেন।

Click This Link
১০. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:৪৬
রাতমজুর বলেছেন:
@ লেখক, আমিরখাঁ পিউর ধনতান্ত্রিক দেশ।
১১. ১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:২৫
সাইকাস বলেছেন: আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: এক বন্ধুরে জিগেস করছিলাম চে ওয়ালা গ্যান্জী কেনো পড়ছোস?চে কে?
ওর এনসার শুইনা আসমান থিকা পড়লাম কইলো চে হইলো বড় শিল্পী।খুব ভালো গান গাইতো:)

হাহাপগে ;) B-) :D
১২. ১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৪৭
লালসালু বলেছেন: আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: এক বন্ধুরে জিগেস করছিলাম চে ওয়ালা গ্যান্জী কেনো পড়ছোস?চে কে?
ওর এনসার শুইনা আসমান থিকা পড়লাম কইলো চে হইলো বড় শিল্পী।খুব ভালো গান গাইতো:(

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৫৭৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমার আমি।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ