ডায়েরি।। জানুয়ারী, ২০০৮।। ঢাকা।।

১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪৭

শেয়ারঃ
0 0 0

জানুয়ারী, ২০০৮, ঢাকা

১৪.১.২০০৮

সেলিম আল দীন মারা গেছেন আজকে। দুপুরের দিকে, ঢাকা শহরের ল্যাব এইড হাসাপাতালে। গত দুই একদিন ধৈরাই তার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। আজকে তারে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড নিয়া যাওয়ার কথা ছিল।

খবরটা আমি প্রথম পাই সুমন রহমান এর কাছ থিকা। বিকাল ৩টার দিকে। তিনি সিঙ্গাপুরে এখন। দেশ সর্ম্পকে, দেশের খবর সর্ম্পকে তার একটা উদগ্রীবতা হয়তো কাজ করে। তিনি এর সাথে জড়িত বোধ করেন। তিনি যখন আমারে এই কথা বলতেছিলেন, শুভ্র এই খবরটা তখনও পায় নাই। মনে হয় সে আর জড়িত থাকতে চায় না। এড়াইতেই চায়।

টিভিতে সেলিম আল দীন এর একটা ইন্টারভিউ'র অংশ দেখলাম। সে আহমদ শরীফের আন্ডারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থিকা পিএইচডি ডিগ্রি নিছিলো। তার থিসিসে সে দেখাইছিলো যে, বাংলা নাটকের আদিরূপ অনেক পুরাতন এবং তার প্রভাব নেপাল, আসাম ও অনান্য জায়গায় পড়ছিলো। তার এই ইতিহাস আবিষ্কারে আহমদ শরীফ নোট লিখছিলেন যে, তার এই কাজের জন্য জাতি তার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে, এইরকম কোন কথা . . . তার চোখ ছলছল করতেছিল এই কথা বলার সময় . . . একজন শিল্পী আসলে একটা স্বীকৃতি চায়, এইটা তার প্রেরণাও, যারে সে বিশ্বাস করে . . .

টিভি নিউজে দেখলাম অনেকেই হাউমাউ কইরা কাঁদতেছে . . . মৃত্যু-ই শেষ কথা নয়, বুক ফুলাইয়া বললো তার এক ছাত্রী . . . নাটকের অনেক নায়ক-নায়িকা, ধর্মগুরু, শোকগ্রস্থ . . . দুপুরের পর থিকা আমিও ভাবতেছি তার কথা-ই . . .

তার ইন্টারভিউ শুইনা মনে হইলো, তিনি পারফমিং'র উপর জোর দিতেন, টেক্সট এর চাইতেও কি? সুমন রহমানও একই কথা বললেন। যেহেতু তার লিখা আমি খুব একটা পড়ি নাই, আমার মনে হইতেছে, এই একটা উসিলায় তার বই-পত্র পড়া যায়, দেখা যায় কি কইরা তিনি টেক্সট এর উপর তার জোর কমাইলেন। আরেকটা বিষয় হইলো, আমার মনে হইছে, তিনি মতাদর্শকে গুরুত্ব দিতেন, বলা যায়, শিল্পের সাথে সমাজের সর্ম্পকটারে, কিভাবে সমাজের ভিতর শিল্প তৈরী হয়, কিভাবে শিল্প সমাজকে দেখায়, এইসব . . . উপনিবেশিক চিন্তা এবং যারা এই চিন্তার 'দাস' তাদেরকে তিনি সমালোচনা করলেন . . . তিনি উপনিবেশিক চিন্তা থিকা জাতিকে মুক্তি দিতে চাইছেন, এইরকমও বললেন . . .

মাহবুব মোরশেদ তার ব্লগে ব্যক্তিগত স্মৃতি লিখছেন, বিডিনিউজে মাসকাওয়াত আহসান . . . কান্না-মিশানো কণ্ঠ তাদের, তার চিন্তা নিয়া কথা বলার সময় হয়তো এইটা না, যেহেতু দূরত্বে আছি আমি; আমি এইটাই ভাবতেছি . . .

বিডিআর্টসে, আলমাহমুদ, জয় গোস্বামী আর ব্রাত্য রাইসু'র কথা-বার্তাগুলি বেশ ভালো হইছে . . . শেষ অংশটা আজকে পড়লাম . . . মনে হইতেছিল, আলোচনার প্যার্টান হিসাবে এই আড্ডা বা আলাপচারিতাটা অনেক কিছু বলতে পারে, যা একটা ব্যক্তির নিজস্ব লিখার ভিতর দিয়ে স্পষ্ট করা যায় না অনেকসময় . . . বলা যায়, ফর্ম বা রূপ হিসাবে আড্ডার একটা শক্তি বা নিজস্বতা আছে, যা ক্রশমঃ আরো জোরদার হবে বা হয়তো ইতিমধ্যেই হয়া গেছে . . .

অনুবাদ এর বইটা কি করবো? কিংবা 'রাঙামাটি'? নাকি শেষ পর্যন্ত এক ফর্মার একটা? প্রকাশ সবসময় একটা সন্দেহজনক বিষয়। এতে কিছু পরিমাণ প্রত্যাশা তো থাকেই। প্রত্যাশা-ই পাপ! মাহমুদুল হক শুনছেন তো!!

রাদ এর সাথে যোগাযোগ হইলো, ফেসবুকে, ছাট কাগজের মলাট বিষয়ে। রিফাত চৌধুরিরে ফোন করলাম।

আমি আসলেই শ্যাওলা।

শিল্পের কোন স্বস্তি নাই!

একটু আয়ু আসলে দরকার . . . লিখার জন্য একটু সময় . . . না-লিখার জন্যও . . . যেমন এখন, মনে হইতেছে আর লিখতেই পারবো না . . . কেন এই লিখা, কার জন্য, কি এমন বাল হয়, না-লিখলে!

রাত ১১:৩০

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ডায়রী ;
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:২১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৬৩৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ছোট ছোট পাথর, হৃদয়ের পাথরগুলি জমে থাকে তার পাশে
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ