দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুষ্টিমেয় সদস্য ক্রমেই হয়ে উঠছে বেপরোয়া। ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ঘুষ, যৌন কেলেঙ্কারিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে তারা। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। অপরাধে জড়িয়ে পড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
রীতিমতো টক অব দি কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে রাজশাহীতে চিকিৎসক দম্পতিকে জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায়ের ঘটনায় এসিসহ আট পুলিশকে গ্রেফতার করার ঘটনাটি। এসির নেতৃত্বে আট পুলিশ রাজশাহী মহানগরীর ঝাউতলা মিঠুর মোড় এলাকায় ডা আবদুর রফিক বাসুনিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে ভারতীয় ও অবৈধ পণ্য আছে দাবি করে তলস্নাশির নামে ডাক্তার দম্পতিকে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে এক লাখ টাকা আদায় করে নেয়। ডা. রফিক বাসুনিয়া ঘটনাটি রাজশাহীর উর্ধতন পুলিশ কর্তৃপৰের কাছে অভিযোগ করার পর প্রথমে আট পুলিশকে ক্লোজড ও পরবর্তীতে তাদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রাজশাহীর ঘটনার আগে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানা এলাকায় পুলিশ সদস্যরা ডাকাতি করতে গেলে বিৰুব্ধ গ্রামবাসী তাদের ঘেরাও করে গণধোলাই দিয়ে আটক করে রাখে। আটক আহত পুলিশ সদস্যদের ছাড়িয়ে আনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় অগি্নসংযোগ, ভাংচুর, পুলিশের এসপি ও জেলার ডিসিকে অবরম্নদ্ধ করে রাখার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভাবমূর্তির সঙ্কটে পড়েছে।
খোদ রাজধানীতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে তদনত্ম হচ্ছে। রাজধানীর মিরপুর থানার ওসিসহ ৫ জনের বিরম্নদ্ধে ডাকাতির মামলা হয়েছে। মিরপুর ৯৬/১ সরকারী স্টাফ কোয়ার্টারের বাসিন্দা আব্দুল কাদের মিয়া বাদী হয়ে ঢাকা সিএমএম কোর্টে এ মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযোগ করেছেন, আসামি আব্দুল লতিফ ও হেলাল বাদীর শ্যালকের কাছ থেকে দুবাই পাঠানোর কথা বলে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ৫ লাখ টাকা নেয়। নির্দিষ্ট সময়ে দুবাই পাঠাতে ব্যর্থ হলে তারা মিরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ২ এসআই আসামি ধরার কথা বলে তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেয়। এদিকে আসামিরা মিরপুর থানার ওসির নিকটাত্মীয় হওয়ায় তাদের গ্রেফতার না করে উল্টো অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ করে। এছাড়া গত ১৫ এপ্রিল ওসির নির্দেশে ৪/৫ জনের একদল সন্ত্রাসী আব্দুল কাদেরের বাড়িতে ঢুকে বিভিন্ন জিনিস ভাংচুর করে। এ সময় তারা টিভি ও ফ্রিজসহ নগদ ৭৮ হাজার টাকা লুট করে। মামলার আসামিরা হলো-মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী, এসআই শহীদ ও আব্দুলস্নাহ। এছাড়াও জনৈক আব্দুল লতিফ ও হেলাল। ঢাকা মহানগর হাকিম এমএকে আজাদ বাদীর জবানবন্দী গ্রহণ করেন এবং এ ব্যাপারে আজ বৃহস্পতিবার আদেশ দেয়ার দিন ধার্য করা হয়েছে।
রাজধানীর রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমানের সঙ্গে লিপি নামের এক মহিলার অবৈধ সম্পর্ক থাকার ব্যাপারে তদনত্ম হয়েছে। এই সম্পর্কের কারণে তিনি লিপিকে নানা অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন। ওসিসহ পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা এবং অনৈতিক কাজে বাধা দেয়ায় লিপি তার মা-ভাইকে পর্যনত্ম বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। এতে লিপির মা ওসি সাইদুর রহমানসহ কয়েকজনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, লিপির সঙ্গে পুলিশের সখ্য থাকায় তিনি তার মা-ভাইসহ আত্মীয়স্বজনের বিরম্নদ্ধে একের পর এক মামলা করে যাচ্ছেন।
রাজধানীর কাফরম্নল থানায় সোনার দোকানের কর্মচারী নিঙ্ন সাহাকে থানার পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাতভর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় কাফরম্নল থানার এসআই কামরম্নল ইসলামকে ক্লোজ করা হয়েছে। কাফরম্নল থানার এসআই কামরম্নল ইসলামের সঙ্গে এই ঘটনায় আরও যারা জড়িত অজ্ঞাত কারণে তাদের বিরম্নদ্ধে শাসত্মিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এর আগে গুলশান থানার ওসিসহ ১৩ জনের বিরম্নদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ মামলা হয়েছে ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে। ব্যবসায়ী শহিদুলস্নাহ খান বাদী হয়ে গুলশান থানার ওসি কামালউদ্দিন, এসআই জয়নাল, কামরম্নল হাসান খোকনসহ ১৩ জনের বিরম্নদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
র্যাব-১ এর এএসপি মোহাম্মদ রাহাত গাওহারীর বিরম্নদ্ধে ব্যক্তিস্বার্থে এক ব্যবসায়ীকে র্যাব কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন থানা পুলিশের বিরম্নদ্ধে নানা ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজধানীর কয়েকটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা থানায় বসে জমি কেনা-বেচার দালালি এবং বিবদমান জমির দাবিদারের কাছ থেকে বিবাদ মীমাংসার নামে অর্থ আদায় করছেন।
রাজধানীর অনেক পুলিশ সদস্যের বিরম্নদ্ধে ঘুষ গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ প্রতিদিনই পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি, পুলিশের সোর্স, ওসির ড্রাইভারসহ পুলিশের সঙ্গে সংশিস্নষ্টরা পর্যনত্ম সুযোগ পেলেই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে উৎকোচ আদায় করছে। কয়েকজন ওসির বিরম্নদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তারা শুধু সাধারণ মানুষই নয়, খোদ পুলিশেরই উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছেন। কিন্তু ওইসব ওসিরা এতটাই ৰমতাধর যে উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উল্টো ভয়ে থাকতে হয়। দিনের পর দিন অভিযোগের পাহাড় জমলেও তাদের বিরম্নদ্ধে কোনই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। উল্টো অনেকে লোভনীয় জায়গায় পোস্টিং পাচ্ছেন। দুনর্ীতি দমন কমিশন কতিপয় পুলিশ সদস্যের বিরম্নদ্ধে তদনত্ম এবং তাদের সম্পদের খোঁজ খবর নেয়া শুরম্ন করলেও শুরম্নতেই তা ঢিলে হয়ে গেছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



