somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ-২ প্রথম অধ্যায়
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, নামকরণ, সরকার ব্যবস্থা

ইতিহাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত পঞ্চাশটি রাজ্য ও একটি ফেডেরাল ডিস্ট্রিক্ট নিয়ে গঠিত এক যুক্তরাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র। এই দেশটি ইউনাইটেড স্টেটস, ইউ. এস. , যুক্তরাষ্ট্র ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র নামেও পরিচিত। মধ্য উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত আটচল্লিশটি রাজ্য ও ক্যাপিটাল ডিস্ট্রিক্ট ওয়াশিংটন ডি. সি. সহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডটি পশ্চিমে প্রশান্ত ও পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগরদ্বয়ের মধ্যস্থলে অবস্থিত; এই অঞ্চলের উত্তর ও দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত যথাক্রমে কানাডা ও মেক্সিকো রাষ্ট্রদ্বয়। আলাস্কা রাজ্যটি অবস্থিত মহাদেশের উত্তর-পশ্চিমে; এই রাজ্যের পূর্ব সীমায় কানাডা ও পশ্চিমে বেরিং প্রণালী পেরিয়ে রাশিয়া। হাওয়াই রাজ্যটি মধ্য-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ। এছাড়াও ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক অঞ্চল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকারভুক্ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আয়তন ৩.৭৯ মিলিয়ন বর্গমাইল (৯.৮৩ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার)। দেশের জনসংখ্যা প্রায় ৩০৯ মিলিয়ন। সামগ্রিক আয়তনের হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের তৃতীয় অথবা চতুর্থ বৃহত্তম রাষ্ট্র। আবার স্থলভূমির আয়তন ও জনসংখ্যার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ বিশ্বের সর্বাপেক্ষা বৈচিত্র্যমণ্ডিত বহুজাতিক সমাজব্যবস্থা। বহু দেশ থেকে বিভিন্ন জাতির মানুষের অভিনিবেশের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ একটি বহুসংস্কৃতিবাদী দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বিশ্বের বৃহত্তম জাতীয় অর্থনীতি। ২০০৮ সালে দেশের আনুমানিক জিডিপি হার ছিল ১৪.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (নামমাত্র বিশ্ব জিডিপির এক চতুর্থাংশ এবং ক্রয় ক্ষমতা সমতায় বিশ্ব জিডিপির এক পঞ্চমাংশ)। আমেরিকার আদিম অধিবাসীরা সম্ভবত এশীয় বংশোদ্ভুত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে এরা কয়েক হাজার বছর ধরে বসবাস করছে। তবে নেটিভ আমেরিকানদের জনসংখ্যা ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনের পর থেকে মহামারী ও যুদ্ধবিগ্রহের(গণহত্যার) প্রকোপে ব্যাপক হ্রাস পায়। প্রাথমিক পর্যায়ে আটলান্টিক মহাসাগর তীরস্থ উত্তর আমেরিকার তেরোটি ব্রিটিশ উপনিবেশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই এই উপনিবেশগুলি একটি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করে। এই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে উপনিবেশগুলি তাঁদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ঘোষণা করে এবং একটি সমবায় সংঘের প্রতিষ্ঠা করে। আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে এই বিদ্রোহী রাজ্যগুলি গ্রেট ব্রিটেনকে পরাস্ত করে। এই যুদ্ধ ছিল ঔপনিবেশিকতার ইতিহাসে প্রথম সফল ঔপনিবেশিক স্বাধীনতা যুদ্ধ। ১৭৮৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়া কনভেনশন বর্তমান মার্কিন সংবিধানটি গ্রহণ করে। পরের বছর এই সংবিধান সাক্ষরিত হলে যুক্তরাষ্ট্র একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার সহ একক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। ১৭৯১ সালে সাক্ষরিত এবং দশটি সংবিধান সংশোধনী সম্বলিত বিল অফ রাইটস একাধিক মৌলিক নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স, স্পেন, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো ও রাশিয়ার থেকে জমি অধিগ্রহণ করে এবং টেক্সাস প্রজাতন্ত্র ও হাওয়াই প্রজাতন্ত্র অধিকার করে নেয়। ১৮৬০-এর দশকে রাজ্যসমূহের অধিকার ও দাসপ্রথার বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ দক্ষিণাঞ্চল ও শিল্পোন্নত উত্তরাঞ্চলের বিবাদ এক গৃহযুদ্ধের জন্ম দেয়। উত্তরাঞ্চলের বিজয়ের ফলে দেশের চিরস্থায়ী বিভাজন রোধ করা সম্ভব হয়। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা আইনত রদ করা হয়। ১৮৭০-এর দশকেই মার্কিন অর্থনীতি বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির শিরোপা পায়। স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধ ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সামরিক শক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠা দান করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই দেশ প্রথম পরমানু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করে। ঠান্ডা যুদ্ধের শেষভাগে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের একমাত্র মহাশক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের দুই-পঞ্চমাংশ খরচ করে এই দেশ। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শক্তিধর রাষ্ট্র। ১৯৩০ এর দশকে ও একবিংশ শতকের প্রথম দশকের শেষে আমেরিকার অর্থনীতি 'অর্থনেতিক মহামন্দা' বা 'গ্রেট ডিপ্রেশন'র স্বীকার হয়।
নামকরণ
১৫০৭ সালে জার্মান মানচিত্রকর মার্টিন ওয়াল্ডসিম্যুলার বিশ্বের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। এই মানচিত্রে তিনি ইতালীয় আবিষ্কারক ও মানচিত্রকর আমেরিগো ভেসপুচির নামানুসারে পশ্চিম গোলার্ধের নামকরণ করেন "আমেরিকা"। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে পূর্বতন ব্রিটিশ কলোনিগুলি প্রথম দেশের আধুনিক নামটি ব্যবহার করে। ১৭৭৪ সালের ৪ জুলাই "ঁহধহরসড়ঁং উবপষধৎধঃরড়হ ড়ভ ঃযব ঃযরৎঃববহ ঁহরঃবফ ঝঃধঃবং ড়ভ অসবৎরপধ" নামে এই ঘোষণাপত্রটি "জবঢ়ৎবংবহঃধঃরাবং ড়ভ ঃযব ঁহরঃবফ ঝঃধঃবং ড়ভ অসবৎরপধ" কর্তৃক গৃহীত হয়। ১৭৭৭ সালের ১৫ নভেম্বর দ্বিতীয় মহাদেশীয় কংগ্রেসে আর্টিকলস অফ কনফেডারেশন বিধিবদ্ধকরণের মাধ্যমে বর্তমান নামটি চূড়ান্ত হয়। এই আর্টিকেলে বলা হয়েছিল: "ঞযব ঝঃরষব ড়ভ ঃযরং ঈড়হভবফবৎধপু ংযধষষ নব 'ঞযব টহরঃবফ ঝঃধঃবং ড়ভ অসবৎরপধ.'" সংক্ষিপ্ত নাম হিসেবে ঃযব টহরঃবফ ঝঃধঃবং নামটি প্রামাণ্য। অন্যান্য প্রচলিত নামগুলি হল ঃযব ট.ঝ., ঃযব টঝঅ, ও অসবৎরপধ। কথ্য নামগুলি হল ঃযব ট.ঝ. ড়ভ অ. ও ঃযব ঝঃধঃবং। ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নামানুসারে কলম্বিয়া নামটি এককালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম হিসেবে ব্যবহৃত হত। "ডিস্ট্রিক্ট অফ কলম্বিয়া" নামের মধ্যে এই নামটির আজও অস্তিত্ব রয়েছে। মার্কিন নাগরিকেরা সাধারণভাবে "আমেরিকান" নামে পরিচিত। যদিও সরকারিভাবে বিশেষণ হিসেবে "ইউনাইটেড স্টেটস" কথাটি ব্যবহৃত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংক্রান্ত বিশেষণ হিসেবে "আমেরিকান" ও "ইউ. এস. " দুইই প্রচলিত (আমেরিকান মূল্যবোধ বা ইউ. এস. সামরিক বাহিনী) ইংরেজি ভাষায় খুব অল্প ক্ষেত্রেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ব্যতীত অন্যদের বিশেষণ হিসেবে "আমেরিকা" কথাটি ব্যবহৃত হয়। পূর্বে "দ্য ইউনাইটেড স্টেটস" কথাটি বহুবচনে ব্যবহৃত হত ("ঃযব টহরঃবফ ঝঃধঃবং ধৎব")। গৃহযুদ্ধের পর ১৮৬৫ সালে মার্কিন সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে শব্দটিকে একবচন হিসেবে ঘোষণা করা হয় ("ঃযব টহরঃবফ ঝঃধঃবং রং")। বর্তমানে একবচন রূপটিই প্রামাণ্য। বহুবচন রূপটি কেবল বাগধারা "ঃযবংব টহরঃবফ ঝঃধঃবং" কথাটিতেই ব্যবহৃত হয়।
ইতিহাস
যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূমি এবং আলাস্কাতে বর্তমানে যে আদিবাসীরা বাস করে তারা এশিয়া থেকে অভিবাসী হয়ে এ অঞ্চলে এসিছল। তারা আজ থেকে প্রায় ৪০,০০০ বছর আগে থেকে আসা শুরু করেছিল বলে ধারণা করা হয়। কমপক্ষে ১২,০০০ বছর আগে তাদের আসার ব্যাপারটি তো প্রায় নিশ্চিত। প্রাক-কলাম্বীয় যুগের অনেক আদিইবাসী স¤প্রদায়ই অগ্রসর কৃষি, স্থাপত্য এবং রাজ্য-সদৃশ সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ইউরোপীয় অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাস ১৪৯৩ সালের নভেম্বর ১৯ তারিখে আমেরিকা অঞ্চলের পুয়ের্তো রিকোতে এসেছিলেন। এর মাধ্যমে আদিবাসী আমেরিকানদের সাথে ইউরোপীয়দের প্রথম পরিচয় হয়। এর পর অধিকাংশ আমেরিকান আদিবাসীরাই ইউরেশিয়া অঞ্চলের মহামারী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
সে সময় আমেরিকায় ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনকারীদের বাসস্থান ছিল মূলত ফ্লোরিডায়। সেই ঔপরিবেশিক কলোনিগুলোর মধ্যে বর্তমানে কেবল ১৫৬৫ সালে স্থাপিত সেন্ট অগাস্টিন কলোনিটিই টিকে আছে। এছাড়া ফরাসি পশুর লোম ব্যবসায়ীরা গ্রেট লেক্সের নিকটে নিউ ফ্রান্স নামক একটি বাসস্থল গড়ে তুলেছিল। এর পরে স্পেনীয়রা বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে বিস্তৃত উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করে। এই অঞ্চল বর্তমান মেক্সিকোর অন্তর্গত। প্রথম সফল ইংরেজ উপনিবেশ ছিল ১৬০৭ সালে জেম্সটাউনে প্রতিষ্ঠিত ভার্জিনিয়া কলোনি এবং ১৬২০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্লিমাথ (ইংরেজি: চষুসড়ঁঃয) কলোনি। ১৬২৮ সালে ম্যাসাচুসেট্স বে কলোনি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি অর্থায়নের পর ইংরেজদের মধ্যে অভিবাসনের জোয়ার বয়ে যায়। ১৬৩৪ সালের মধ্যে নিউ ইংল্যান্ডে প্রায় ১০,০০০ পিউরিটান বাসস্থান গড়ে তোলে। ১৬১০-এর দশকের শেষ দিকে ব্রিটিশ সেদেশের বিপ্লবীদের মধ্যে ৫০,০০০ জনকে আমেরিকায় ব্রিটিশ কলোনিসমূহে স্থানান্তর করে। ১৬১৪ সাল থেকে নেদারল্যান্ডের উপনিবেশিকরা হাডসন নদীর নিম্নভূমি জুড়ে এবং ম্যানহাটন দ্বীপ ও নিউ আমস্টারডামে বসতি গড়ে তুলেছিল। ১৬৩৮ সালে সুয়েডীয়রা ডেলওয়্যার নদীর পাশ জুড়ে ছোট একটি উপনিবেশ গড়ে তুলেছিল যার নাম ছিল নিউ সুইডেন। কিন্তু ১৬৫৫ সালে ডাচরা তা অধিকার করে নেয়।
ফরাসি এবং ভারতীয় যুদ্ধের মাধ্যমে প্রায় ৭ বছর ধরে ঔপনিবেশিক স¤প্রসারণ চলতে থাকে। ব্রিটেন ফ্রান্সের কাছ থেকে কানাডা দখল করে নেয়। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলীয় কলোনিসমূহ থেকে ফ্রাঙ্কোফোনের জনগণরা রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ছিল। ১৬৭৪ সালে ইঙ্গ-ডেনীয় যুদ্ধে ডাচদেরকে পরাজিত করে ব্রিটেন প্রাক্তন ডাচ কলোনিসমূহ দখল করে নেয়। এর পর প্রাক্তন নিউ নেদারল্যান্ডের নাম রাখা হয় নিউ ইয়র্ক। ১৭২৯ সালে ক্যারোলিনাসমূহের বিভাজন এবং ১৭৩২ সালে জর্জিয়ার উপনিবেশিকীকরণের পর ১৩টি পৃথক পৃথক ব্রিটিশ কলোনি সৃষ্টি হয়। এই ১৩টি কলোনি মিলেই পরবর্তীকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেছিল। যাহোক, এই রাজ্যগুলোর প্রত্যেকটিতে সক্রিয় স্থানীয় এবং উপনিবেশিক সরকার ছিল যা স্বাধীন মানুষদের নির্বাচনের মাধ্যমে জন্ম লাভ করতো। রাজ্যগুলোর চেতনার মূলে ছিল ইংরেজদের প্রাচীন অধিকারের প্রতি আত্ম নিবেদন এবং স্ব-নিয়ন্ত্রিত সরকার পদ্ধতির অনুপ্রেরণা যা পরবর্তীকালে প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্ম দেয়। সবগুলো রাজ্যেই আফ্রিকান দাসদের নিয়ে বাণিজ্য করা বৈধতা পেয়েছিল। উচ্চ জন্ম হার, নিম্ন মৃত্যু হার এবং চিরস্থায়ী অভিভাবসনের কারণে কলোনিগুলোর জনসংখ্যা প্রতি ২৫ বছরে দ্বিগুণ হয়ে যেতে থাকে।
সরকার ব্যবস্থা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান। আইনসভা দ্বিকাক্ষিক। নিম্নকক্ষের নাম হাউজ অভ রেপ্রেজেন্টেটিভ্স এবং এর সদস্যসংখ্যা ৪৩৫। উচ্চকক্ষের নাম সেনেট এবং এর সদস্যসংখ্যা ১০০। ভোট প্রদানের যোগ্যতা অর্জনের বয়স ১৮। ১৭৮৭ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়ন করা হয় এবং ১৭৮৯ সালের ৪ঠা মার্চ থেকে এটি কার্যকর করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়। প্রায় চার শতাব্দী আগে প্রণীত মার্কিন সরকার ব্যবস্থা সারা বিশ্বের প্রশংসা লাভ করেছে। মার্কিন জীবনের সাথে এটি ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত। মার্কিন সরকারব্যবস্থা শুরু থেকেই গণতন্ত্রকে শাসনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছে। মার্কিন সরকার ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রীয়, প্রাদেশিক ও স্থানীয় আইন, এবং এগুলিকে নির্বাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত। ফেডারেল যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের কেন্দ্র ওয়াশিংটন ডিসি-তে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের একটি মূলনীতি হল প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। এই ব্যবস্থায় লোকেরা তাদের নিজেদের নেতা নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের শাসন করে। মার্কিন গণতন্ত্র বেশ কিছু আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত। জনগণকে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত মেনে নিতে হবে। সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। নাগরিকদেরকে আইনী শাসন ব্যবস্থায় বাস করার জন্য সম্মত হতে হবে। মতামত ও ধারণার উন্মুক্ত আদানপ্রদানে কোন বাধার সৃষ্টি করা যাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান। সরকার জনগণের সেবায় নিয়োজিত হবে এবং এর ক্ষমতা জনগণের কাছ থেকেই আসবে। এই আদর্শগুলি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থা চারটি উপাদান দিয়ে গঠন করা হয়েছে। ১) জনগণের সার্বভৌমত্ব ২) প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার ৩) ক্ষমতার পরীক্ষা ও ভারসাম্য (পযবপশং ধহফ নধষধহপবং) এবং ৪) ফেডেরালবাদ, যেখানে সরকারের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষমতা অংশীদারী করা হয়।
ভূগোল
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগে অবস্থিত। এর উত্তরে কানাডা এবং দক্ষিণে সংযুক্ত মেক্সিকান রাষ্ট্রসমূহ অবস্থিত। পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগর এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত এই দেশ। এছাড়া হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, আলাস্কা অঙ্গরাজ্য এবং অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন ভূমি এই রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত। (তথ্যসূত্র-বাংলাইউকিপিডিয়া)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29970792 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29970792 2014-08-07 16:07:29
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ মাকিন সাম্রাজ্যবাদ
(বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের জনক, সামরিক আগ্রাসন, অস্ত্র বাণিজ্য, ইসলাম নিমূলে ক্রুসেড, মুসলিম গণহত্যা, দস্যুবৃত্তি, লুন্ঠনতন্ত্র, মানবতাধ্বংস, মানবাধিকার লংঘন, বিশ্ব শান্তির হুমকি এবং সকল অশান্তির মূল অনুঘটক)

ভূমিকা

কিছু কথা

‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ’ একহাতে বাইবেল আর আরেক হাতে মারনাস্ত্র নিয়ে পৃথিবীর বুক থেকে ইসলাম নির্মূল করে খ্রিস্টবাদ কায়েম করতে চায়। কমিউনিজমের পতনের পর তারা ইসলামকে তাদের প্রধান শক্র আখ্যা দিয়ে নেমে পড়েছে ইসলাম নির্মূলের ক্রুসেডে।১৯৯০ সালের বসন্তকালে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ইহুদী গুরু হেনরী কিসিঞ্জার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার এক বার্ষিক অধিবেশনে বক্তৃতা করতে গিয়ে বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি হচ্ছে, বর্তমানে পাশ্চাত্যের সামনে নতুন দুশমন হলো ইসলাম, যা ইসলামী বিশ্ব ও আরব বিশ্বের বিশাল এলাকা জুড়ে পরিব্যাপ্ত।’ ১৯৯২ সালের এপ্রিলে ইকোনোমিস্ট পত্রিকা তার প্রথম পাতায় ইসলামকে টার্গেট বানিয়ে একটি কাটুঁন ছেপেছে, যাতে এক আরব ব্যক্তি বন্দুক নিয়ে একটি মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। একই দিনে সাপ্তাহিক টাইমস একটি রির্পোট করে। যাতে বলা হয়েছে, ‘গোটা বিশ্বকে ইসলামের বিপদ থেকে সতর্ক থাক উচিত।’ পত্রিকাটি তার কভার পৃষ্টায় মসজিদের মিনারের ছবি ছেপেছে, যার পাশে এক ব্যক্তি মেশিনগান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বরে ফরাসী পত্রিকা মোল্ড ডিপ্লোমেট একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে, যাতে পত্রিকাটি লেখেছে, ‘ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুধু সামরিক ময়দানেই হবে না; বরং সভ্যতা সংষ্কৃতির ময়দানেও লড়াই হবে। আর এটাই হবে চূড়ান্ত লড়াই।’ ২০০১ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর কিসিঞ্জার দ্বিতীয় বক্তৃতায় বলেন, ‘ইসলামী সন্ত্রাস ও চরম পন্থার বিরুদ্ধে আগামীকালের পরিবর্তে আজই যুদ্ধ ঘোষনা করা উচিত।’ একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত সানডে টাইমস তার সম্পাদকীয়তে পাশ্চাত্যের মনোযোগ আকর্ষণ করে বলেছে, ‘উত্তর আফ্রিকা থেকে মধ্য এশিয়ার চীন পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ইসলামী ফান্ডামেন্টালিজম তথা ইসলামী মৌলবাদ ফণা তুলেছে। অতি দ্রুত এই বিষাক্ত সর্পের বিষদাঁত ভেঙ্গে দেয়া উচিত।’ সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শরীক হওয়ার জন্য বিশ্ববাসীকে যে দাওয়াত দিয়েছেন, তাতে তিনি ইসলামকে শেকড় থেকে উপড়ে ফেলার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। এই লড়াইয়ে তিনি মুসলিম বিশ্বের নেতৃবর্গকেও শরীক হওয়ার আহবান জানান। আমরা আর একটু অগ্রসর হয়ে যদি ষড়যন্ত্রের গভীরে যাই, তাহলে দেখতে পাবো, হলিউড চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ইহুদীরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক এই যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে অনেক আগেই।নিঃসন্দেহে হলিউড ইহুদীদের দুর্গ ও ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে হলিউড বিশ্বব্যাপী ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও ক্রুসেড যুদ্ধ ছড়ানোর কাজে লিপ্ত। এভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ও মিডিয়াকে ব্যবহার করে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে ক্রুসেডের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়। এ ক্রুসেডকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কাজে লাগানোর জন্য ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য ক্ষেত্রে বিমান হামলার নাটক সাজানো হয়। যদিও নাটকের কথা পরবর্তীতে ফাঁস হয়ে যায়। এ বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে বিমান হামলার নাটককে কেন্দ্র করে মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক নব্য ক্রুসেডের ঘোষনা দিয়ে সামরিক আগ্রাসনে নেমে পড়ে ইহুদী পরিচালিত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, এর নেতৃত্বে ছিলেন জর্জ বুশ জুনিয়র। যদিও বুশ সাহেবরা পৃথিবীবাসীকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য বার বার বলেছিল, তাদের এ যুদ্ধ ইসলামের বিরুদ্ধে নয়, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। তাদের এ নব্য ক্রুসেডের প্রথম আগ্রাসনের শিকার ইসলামীক রাষ্ট্র আফগানিস্তান। এরপর ইরাক, লিবিয়া এবং বর্তমানে তাদের আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে সিরিয়া, পরবর্তী টার্গেট ইরান। যদিও সমগ্র মুসলিম বিশ্বে তাদের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ আগ্রাসন বিরামহীনভাবে চলছে।মধ্য যুগে ক্রুসেড ঘোষনা করত পোপরা আর এখন ইহুদীদের নির্দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অতীত আর বর্তমানের এটাই পার্থক্য।সেই কঠিন দুঃসময়ে মুসলিম বিশ্বের কি অবস্থা তা কবির ভাষায়, ‘হিকমাত রেহে হামারে উল্লুবনে রেহে হাম,জিয়াফত চলে হামারে ভোখে মর রেহে হাম।’ অর্থাৎ সূত্র, কৌশল, উপাদান সব আমাদের আছে কিন্তু আমরা পেঁচা বনে গেছি, আমাদের বাড়ীতে জিয়াফত চলছে আর আমরা খাদ্যের অভাবে উপোস থাকছি।
প্রখ্যাত মুসলিম ভূগোলবীদ আবু রাইহান আল বেরুনী আমেরিকা যাবার পথ চিহিৃত করার পর ব্যবসা ও ধর্ম প্রচারের লক্ষে দলে দলে ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গরা আমেরিকা যাতায়াত শুরু করে দেয়। তবে তাদের মূল কাজ ছিল দস্যুতা। আমেরিকার আদিবাসী যারা রেড ইন্ডিয়ান বলে চিহিৃত, তাদের সহায় সম্পত্তি শক্তিবলে দখল করে, তাদের উপর গণহত্যা চালিয়ে, তাদেরকে নিশ্চিহৃ করে দিয়ে আদি সন্ত্রাসবাদের সূচনা শুরু করলেন আজকের মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। তার মানেই আমেরিকা জন্ম সূত্রেই সন্ত্রাসী। আজ থেকে পাচঁশত বছর আগে আমেরিকা আবিস্কার হওয়ার পরেই আমেরিকান আদি অধিবাসী রেড ইন্ডিয়ানদের নির্মূলের মাধ্যমে যে, গণহত্যা, লুন্ঠন আর মানবতা ধ্বংসের ইতিহাস রচনা করলেন গত পাচঁশত বছরে তারই আধিক্যের ভেতরে বসবাস ছিল তার। সন্ত্রাসবাদ, দেশে দেশে সামরিক আগ্রাসন, মুসলিম গণহত্যা, ইসলাম নির্মূলে ক্রুসেড, বিশ্বব্যাপী অস্ত্রবাণিজ্য, দেশে দেশে যুদ্ধ সহিংসতা ছড়ানো, গুপ্তহত্যা, নিষ্ঠুরতা, লুন্ঠনবৃত্তি আর মানবতা ধ্বংসের একেকটি ঘৃণ্য রেকর্ডে পরিপূর্ণ করেন তাদের ইতিহাস।বিশ্বব্যাপী সিআইএ আর মোসাদের মুসলিম নেতা-নেত্রী, বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ও বিজ্ঞানী হত্যার নারকীয় তান্ডব, মুসলিম উম্মাহকে নেতৃত্ব শ্ণ্যূ করার ভয়াল চক্রান্ত এক ঘৃণ্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।এ ইতিহাসের প্রতিটি পরতে পরতে খুজেঁ পাওয়া যাবে লক্ষ-কোটি মানুষের কান্না, রক্ত, লাশ, আর নির্মমতার চিহৃ। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘৃণ্য নিষ্ঠুরতার রেকর্ড আর কারো নেই। পৃথিবীতে মানবতা, মানবাধিকার আর মনুষত্যের এমন শক্রু আর একটিও নেই। পৃথিবী প্রলংকারী সন্ত্রাসবাদের সৃষ্টি করে গোটা শান্তির পৃথিবীটাকে তারা করেছে নরকের কুন্ডে। আজ পৃথিবীর চতুদির্কে শুধু চাপা কান্না, বোমা, বারুদ আর ধ্বংস যজ্ঞের চিহৃ ছাড়া আর কিছুই খুজেঁ পাওয়া যাবে না। যেখানেই ধ্বংস যজ্ঞ সেখানেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সংশ্লিষ্টতা। সবচেয়ে আতংকের বিষয় হলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পিঠে সওয়ার হয়েছে মানবতার সবচেয়ে ঘৃণ্য দুশমন ইহুদীবাদ। ইহুদীবাদ পরিচালনায় এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের যৌথ প্রযোজনায় টুইন টাওয়ার হামলার নাটক সাজিয়ে বিশ্বব্যাপী মুসলিম নিধনের নব্য মহড়ায় নেমেছে তারা।যা তাদের পরিচালিত মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। দেশ, মানচিত্র ও প্রান কেড়ে দেওয়ার পরও মুসলমানদের থেকে তাদের প্রানের চেয়ে প্রিয় পবিত্র কোরআনকে কেড়ে নেওয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছে সেই ভন্ডের দল। সে সম্পর্কে ইসলামের দুশমন কুখ্যাত কুলাঙ্গার মার্কিন জয়েন্ট চীফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন বলেছেন, ‘মুসলমানরা যেভাবে কুরআন শরীফ শিখছে তা প্রতিহত করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন করে প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুলেন দাবি করে, সা¤প্রতিক সময়ে অশিক্ষিত মোল্লা ও তাদের অনুসারীরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। ইসলাম মোকাবেলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ২১ শতকে যে নীতি গ্রহণ করেছে তা নতুন করে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।’ মাইক মুলেন আরো বলেন, ‘সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বকে দাবিয়ে রাখা যাবে না, তাই মুসলিম বিশ্ব নিয়ে ওয়াশিংটনকে নতুন করে চিন্তা ভাবনা করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘মুসলমানদের কুরআন শরীফ শিক্ষা প্রতিহত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে মুসলিম বিশ্বের অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের পদক্ষেপসহ নতুন কৌশল নিতে হবে।’ জাতিসংঘসহ সকল আর্ন্তজাতিক সংগঠন ও সংস্থা সমূহকে নিজেদের গোলাম বানিয়ে পৃথিবীর বুক থেকে ইসলাম নির্মূলের অভিযানে নেমেছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ।মুসলিম বিশ্বের দেশে দেশে দালাল শাসকদের মাধ্যমে ইসলাম পন্থীদের কঠোরভাবে নির্মূল করে ইসলামের আওয়াজকে বন্ধ করার ভয়াল ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে। ইতিমধ্যে তাদের আগ্রাসনের শিকার হয়ে মুসলিম সভ্যতার ঐতিহ্যবাদী দেশ আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া ধ্বংসের স্তুপে পরিণত হয়েছে।বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের নামে সরাসরি ইসলাম ও মুসলিম নির্মূলের নব্য ক্রুসেড অভিযানে নেমেছে তারা। আর এদের একান্ত সহযোগী হয়েছে বিশ্বের অন্যান্য অমুসলিম দেশ এবং আরব বিশ্বের তাদের দালাল খ্যাত রাষ্ট্রগুলো। মুসলিম রাষ্ট্রের অনৈক্যের সুযোগে একের পর এক মুসলিম রাষ্ট্র তাদের আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে। একদিকে সামরিক আগ্রাসন আর অন্যদিকে কুটিল সাংস্কৃতিক হামলা আর মিডিয়া সন্ত্রাস। এ দুইয়ের মোকাবেলায় মুসলিম বিশ্ব অস্তিত্ব সংকটে ভূগছে। তাইতো বাধাহীনভাবে একটির পর একটি করে মুসলিম বিশ্বের সম্ভবনাময়ী রাষ্ট্রগুলো ধ্বংসের স্তুপে পরিণত হচ্ছে। এতে ক্ষান্ত নয় তারা, সারা পৃথিবীব্যাপী একক আধিপত্যের মোড়লগিরী করার জন্য বিশ্বব্যাপী ৭০০টি সামরিক ঘাটি স্থাপন করেছেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। আর এগুলোর মাধ্যমে তার অবৈধ মোড়লগিরী অব্যাহত রেখেছে মার্কিনীরা।এ মোড়লগিরী করার জন্য হেন কোন অপরাধ নেই যা তারা করছে না। তাইতো এদের অপকর্ম ফাঁস করে দিয়ে এখন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যসেঞ্জকে আর সাবেক সিআইএ কর্মকতা এডওয়ার্ড স্নোডেন বিশ্বজুড়ে ফেরারী হয়ে গেছেন। উইকিলিকসের আর স্নোডেনের তথ্য পুরো দুনিয়া নাড়িয়ে দিয়েছে বলা যায়। কারণ দেশে দেশে শাসন, শোষণ, লুণ্ঠন অব্যাহত রাখতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যে কত ভয়ঙ্কর ও পৈশাচিক পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারে, ফাঁস হওয়া তথ্যগুলো সে ব্যাপারে আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। আর এ কাজ করতে গিয়ে মাকির্নীরা দেশে দেশে তাদের দূতাবাসগুলোকে রীতিমত গোয়েন্দা গিরির দফতর বানিয়ে ফেলেছে। আজকের এক মেরু বিশ্বে মার্র্কিনীরা কোনো রকমের আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করেন না বলেই মনে হয়। এখন রেগে মেগে তারা জুলিয়ান অ্যসেঞ্জকে বিচারের আওতায় আনার কথা ঘোষণা দান করেছেন আর স্নোডেনের পাসপোর্ট বাতিল করা হচ্ছে। জুলিয়ানের আর স্নোডেনের অপরাধ হচেছ, তারা কেন এসব তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন। আমেরিকার প্রবল প্রতাপান্বিত মিডিয়া ঝড় তুলেছে, জুলিয়ানের আর স্নোডেনের কেন এখনো ফাঁসি দেয়া হচ্ছে না, তথ্য প্রকাশ করা যদি অপরাধ হয় তাহলে দেশ দেশে নাশকতা, ষড়যন্ত্র, ইচ্ছামত ক্ষমতার পালাবদল, অস্ত্র ব্যবসা, প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন এবং সামরিক আগ্রাসন কি ভয়ানক অপরাধের মধ্যে পড়ে না? যে দেশটি নাকি দেশে দেশে তথ্য আর গণতন্ত্রের স্বাধীনতা ফেরী করতে ক্লান্ত, বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতার স্লোগান দিতে দিতে রীতিমত প্রাণান্ত, সে-ই কি না উইকিলিকসের আর স্নোডেনের ব্যাপারে প্রাচীনপন্থী। কথায় বলে, সত্যের ঢোল আপনি বাজে। আমেরিকার দুষ্কর্মের কথা প্রকাশ করে দিয়ে উইকিলিকস আর স্নোডেন নতুন কিছু বলেননি। যা করেছেন, সত্যকে তারা নতুন করে মানুষের সামনে হাজির করেছেন। এতেই আমেরিকার গোসসা। ফ্রিডম ও ডেমোক্র্যাসির একালের নিশানবরদার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা সত্য প্রকাশে এতখানি বিচলিত হয়ে পড়েছে যে, তারা এখন সামন্তবাদী শাসকের মতো আচরণ করতেও দ্বিধা করছে না।সুযোগ পেলে তাদের দুজনকে গায়েব করে দিতে দ্বিধা করবেন না।আলোচ্য মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নামক এ বইতে আমরা বিশ্বব্যাপী তাদের অপকর্মের কিছু তথ্য শান্তিপ্রিয় পৃথিবী বাসীর উদ্দেশ্যে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র।মধ্য যুগে মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে পরিচালিত ক্রুসেডকে রুখার জন্য সুলতান সালাউদ্দীন আয়ুবী, নুর উদ্দীন জঙ্গির মতো বীর সেনানীর আগমন ঘটেছিল মুসলিম বিশ্বে। কিন্ত আজ কোন সালাউদ্দীন আয়ুবী নেই, নেই নুর উদ্দীর জঙ্গিও।চারদিকে দালাল আর মোনাফেকে ভরে আছে মুসলিম বিশ্ব। তাইতো বিশ্বের দিকে দিকে আজ নির্যাতিত শিশু ও নারীদের আত্মচিৎকার পৃথিবীর আকাশ বাতাসকে ভারী করে তুলেছে, কিন্তু এরপরও নিশ্চুপ মুসলিম বিশ্ব! যারা একটু সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, দালাল মুসলিম শাসকরা তাদের কোমর ভেঙ্গে দিচ্ছে। ক্ষেত্র বিশেষে ইহুদী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সহযোগিতায় তাদের নির্মূল করা হচ্ছে। উদাহারণস্বরুপ মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের কথা বলা যায়।অভিযোগ ওঠেছে এখানেও আরব বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদের দালাল খ্যাত কিছু রাষ্ট্রের পৃষ্টপোষকতা। আজকের ফিলিস্তিনে মানবতার দুশমন ইহুদীদের গণহত্যা, কাশ্মীর, আরাকানসহ পৃথিবীর দিকে দিকে আর্ত মানবতার হাহাকার ধ্বনি মুমিনদের অন্তরকে ক্ষত-বিক্ষত করছে। আরো বেশি ক্ষত-বিক্ষত করতেছে মুসলিম বিশ্বের অকল্পনীয় নিলিপ্ততায়। মুসলিম উম্মাহর হতভাগ্য একজন নগন্য সদস্য হিসাবে হৃদয়ে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, মনের ভেতরে যে আকুতি তৈরি হয়েছে, মুসলিম তরুণদের অবক্ষয়ের অঘোর ঘুমে দেখে মনে যে বেদনার নীল নদ তৈরি হয়েছে, হিংস্রতার যে মহাপ্লাবন দু’চোখকে অশ্রুসিক্ত করেছে, তিলে তিলে মুসলিম উম্মাহর নিঃশেষ হওয়া দেখে হৃদয়ে যে মহা যন্ত্রনার স্রোত বয়ে যাচ্ছে তাই কলমের তুলিতে আকার চেষ্টা করেছি। মুসলিম সেই ভাইদের জন্য যারা মানবতার বিরুদ্ধে পরিচালিত এ ক্রুসেডকে রুখে দেয়ার হিম্মত নিয়ে সামনে অগ্রসর হবে।কারণ শক্রকে খতম করতে হলে তার সম্পর্কে, তার শক্তি সামর্থ সম্পর্কে জানতে হবে। তবে হতাশার নিকস কালো অন্ধকারে একটু আশার ঝলক হচ্ছে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ইতিমধ্যে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা আমরা বইয়ের শেষে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তবে সেটার জন্য আরো কত সাগর রক্তের প্রয়োজন হবে তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। হয়রত উমর (রাঃ) এক নির্যাতিত মানুষের আহবানে সাড়া দিয়ে ফিলিস্তিন জয় করেছিলেন, মুহাম্মদ বিন কাশিম ভারত বর্ষের এক নির্যাতিত বোনের আহবানে ছাড়া দিয়ে গোটা ভারত বর্ষ জয় করেছিলেন। আজ কোথায় সেই উমর আর কাশিমের উত্তরসুরীরা? ভীরুর মতো প্রান বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছো! অথচ মুসলিম বীর সেনানীরা দ্বীনের জন্য, ইসলামের জন্য প্রান বিলাতে সদা আকুল থাকতেন। আপনাদে সেই আকুল প্রাণ আল্লাহর তরবারী খ্যাত খালেদ বিন ওয়ালিদের মৃত্যু শয্যায় আকুলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চায়। মৃত্যুর সময় তিনি কেঁদে কেঁদে আকুলতার স্বরে সঙ্গীদের বললেন, কুফর ও ইসলামের বড় বড় জিহাদে আমি সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেছি, আমার শত শত সাথী আমার চোখের সম্মুখে জান্নাতের প্রানে শাহাদাতের মৃত্যুবরণ করেছেন, কিন্তু জিহাদের সেই ময়দানে আমার শাহাদাতের মৃত্যু নসিবে জুটে নাই, বিছানায় আমাকে মৃত্যুবরণ করতে হচ্ছে, তাই আমি সেই দুঃখে অজোর নয়নে কান্না করতেছি, হে আমার প্রানের সাথীরা! আমার এ আকুতিটুকু মুসলিম উম্মাহর সেই সব মুসলিম যুবকদের কাছে পৌঁছে দিও, যারা প্রানের ভয়ে জিহাদের ময়দানে যেতে চায় না। আসুন মুসলিম উম্মাহর এ চরম সংকটময় মুহুর্তে অবক্ষয়ের ঘুম থেকে জেগে খালেদের মতো, তারেকের মতো, মুহাম্মদ বিন কাশিমের মতো, সুলতার সালাউদ্দীন আয়ুবীর মতো ইসলাম ও মানবতার শক্রুদের রুখে দেই।পরিশেষে মৃদ্রনজনিত কারণে অনেক ভূলক্রটি হতে পারে। যে কোন সহৃদয় পাঠক উক্ত ভূল ও অসংগতি দেখিয়ে দিলে আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। উক্ত বইটি বিশেষ করে মুসলিম যুব সমাজের উদ্দেশ্যে লিখিত তাই এটির মাধ্যমে মুসলিম যুব সমাজ সামান্য উপকৃত হলে আমার পরিশ্রম সার্থক হবে বলে আশা করি। বিশ্ব কবি আল্লামা ইকবাল (রহ) বলেছেন,
‘শেরকি সরপে বিল্লি খেল রাহী
ক্যাসা হ্যায় মুসলমা কা বদনাসিব
তাছবীহ কি দানুমে জন্নাত টুড রাহী।’
অর্থাৎ-সিংহের মাথার উপর বিড়াল খেলা করছে, বড়ই দূর্ভাগা মুসলমান
তারা শাহাদাতের আকাঙ্খা ভূলে, তাছবীহর দানার মধ্যে জান্নাত অনুসন্ধান করছে।
আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে মুসলিম উম্মার এ মহাসংকটময় মুহুর্তে যথাযথ ভূমিকা পালন করার তৌফিক দান করুন আমীন।
আল্লাহর রহমতের একান্ত অনুগ্রহপ্রার্থী
মুহাম্মদ ছানাউল্লাহ
কক্সবাজার।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29970789 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29970789 2014-08-07 15:55:36
পতনের পথে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ-২ ক্যামব্রীজ ইউনিভার্সিটির ডক্টর আইডিমিউম পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের এবং পুরাতন গোত্রসমূহের লোকদের জীবনী অধ্যায়ন করেছেন। এ অধ্যায়নের পর তিনি সভ্য সমাজের লোকদের জীবনী অধ্যায়ন করেছে। তারপর তিনি এবিষয়ক স্বীয় বই ‘‘সেক্স কালচার’’ এ খুবই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। ভূমিকায় তিনি লিখেন,আমি বিভিন্ন পদ্ধতিতে অনুসন্ধানের পর যে ফলাফল লাভ করেছি তার সংক্ষিপ্ত বিবরন এই ঃ- প্রতিটি জাতি দুটি জিনিসের উপর নির্ভর করে। একটি হল তাদের সম্মিলিত জীবন ব্যবস্থা,দ্বিতীয়ত এমন আইন শৃঙ্খলা যা তারা যৌন চাহিদার উপর আরোপ করে। তিনি আরোও লিখেন যে,যদি আপনি কোন জাতির ইতিহাস দেখেন যে, কোন সময় তাদের সভ্যতা উন্নত হয়েছে অথবা নীচে নেমে গিয়েছে তাহলে আপনি খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন যে, তারা যৌন বিষয়ক আইনে রদবদল করেছে। যার ফলাফল সভ্যতার উন্নতি অথবা অবনতির আকৃতিতে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি ৮০ টি গোত্রের সভ্যতা সংস্কৃতি অধ্যায়ন করে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হন তা এই-১.যে সকল গোত্রে বিবাহের পূর্বে যৌন চাহিদা মিটানোর অবাধ স্বাধীনতা ছিল,তারা সভ্যতার সর্বনিন্ম স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। ২. যে সকল গোত্রে বিবাহের পূর্বে যৌন চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে মোটামুটি আইনানুগ ব্যবস্থা ছিল,তারা সভ্যতার মধ্যস্তরে ছিল। ৩. সভ্যতার সর্বোচ্চ শিঔরে সে জাতিই আরোহন করেছে,যারা বিবাহের পূর্বে যৌনাচার থেকে পুতঃপবিত্র ছিল। যারা বিবাহের পূর্বে যৌনাচারকে অবৈধ ও অপরাধ মনে করত। উক্ত লিখক আরো মন্তব্য করেন যে,মনোবিজ্ঞানের অনুসন্ধানে জানা যায় যে, যৌনাচারের উপর আইন আরোপ করা হলে তার অবশ্যম্ভবী ফলাফল দাাঁড়াবে এই যে,জাতির কর্ম ও চিন্তা চেতনার শক্তি ও যোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু যে জাতি নারী পুরুষকে অবাধ যৌনতার সুযোগ দেয় তাদের কর্মক্ষমতা,চিন্তাশক্তি এবং যোগ্যতা ধ্বংস হয়ে যায়। রোমীয়দের অবস্থাও তাই হয়েছিল। রোমীয়রা আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে অবাধে পশুর ন্যায় যৌনতায় লিপ্ত হত। ফলে তারা শারীরিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং কোন কাজ করার মত ক্ষমতা তাদের ছিল না। এভাবে পৃথিবীর ধ্বংসকৃত জাতির সবাই যৌন অপরাধের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। আজকে যৌনতার ভয়াবহ অবক্ষয়ের পড়ে মার্কিনীরা যে পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তা আপনাদের দেখাবো।
তালাকের রাজধানী আমেরিকা
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে বর্তমানে তালাকের রাজধানী বলা হয়। বুক অফ ট্যাকসর ১৯৭৭ এর রির্পোট মোতাবেক ১৯৭৬ সালে প্রথম ছয় মাসে আমেরিকায় ৯৮৭০০০ টি বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। তখন ৫৩৮০০০ টি তালাকের ঘটনা ঘটে। অর্থ্যাৎ প্রতি মিনিটে গড়ে ২ টি করে বিবাহ তালাকের মাধ্যমে ছিন্ন হয়। লসএঞ্জেলেসে প্রতি বছর প্রায় ৫০,০০০ তালাক সরকারী ভাবে নথীভূক্ত করা হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে ১৮ টি বিয়ের মধ্যে ১ টি তালাক কার্যকর করা হতো। ১৯৬০ সালে থেকে তা ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরবর্তী ২৫ বছর এ হার তিন গুন বৃদ্ধি পায়। এখন বার্ষিক তালাকের সংখ্যা ১১,৬০,০০০ টি। আর একটি পরিসংখ্যানে জানা যায়, আমেরিকায় বার্ষিক ১৫ লাখ নারী তালাক প্রাপ্ত হয়।
অবৈধ সন্তান
আমেরিকার জৈনিক বিশেষজ্ঞ মুহানী বিশ্বকে চমকে দেওয়ার মতো এক গবেষনা করেছেন। তাতে তিনি এক পর্যায়ে বলেন,শ্বেতাংঙ্গ লোকদের মধ্যে অবৈধ সন্তানের ব্যাপকতা অনেক। ১৯৬০ সালে এই নোংরামী কৃষ্ণাঙ্গদের এলাকায় আসে। তখন মুহানী বিপদ সংকেত বাজিয়ে বলেছিল, যদি এই নোংরামী বন্ধ করা না হয়, তবে কৃষ্ণাঙ্গদের পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে। ১৯৯১ সালে ১২ লাখ অবৈধ সন্তান জন্ম হয়েছে। গত দিন জন্ম নেওয়া শিশুদের সংখ্যা ৩০%, কৃষ্ণাঙ্গ ৩২%, শ্বেতাংঙ্গ ২২%। টাইমস এর একটি পরিসংখ্যানে জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক ২০ লাখ অবৈধ সন্তান জন্ম নেয়। ১৯৬৩ সালে ২০ লাখ জারজ সন্তান জন্ম নেয় পরবর্তী বছরে সাড়ে তেইশ লাখ। বর্তমানে কয়েক কোটি ছাড়িয়ে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জারজ সন্তানে গিজ গিজ করছে।
অপরাধের দেশ
আমেরিকা তো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ। সেখানে ১৯৬৫সালে ৫০ লাখ অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে।অথচ জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় বিপদজনক অপরাধের বৃদ্ধির পরিমান ১৪গুণ বেশি। অপরাধ বৃদ্ধির শতকরা হার ১৭৮% তখন জনসংখ্যা বৃদ্ধির শতকরা হার ছিল ১৩% ছিল। প্রতি ১২ সেকেন্ডে একটি অপরাধ সংঘঠিত হয়। প্রতি ঘন্টা পর একজন লোক খুন হচ্ছে, প্রতি ২৫ মিনিটে একটা করে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, প্রতি মিনিটে একটি চুরির ঘটনা ঘটছে, প্রতি ৫ মিনিটে ১টি ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। ১৯৫১ সালে ১ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৩০ জনে ১টি খুন। ১৯৬০ সালে ৫জন, ১৯৬৭ সালে ৯জন। প্রতি মিনিটে একটি হত্যাকান্ড, আটটি চুরির ঘটনা, মাসে পচিশ হাজার কার চুরি হয়। আমেরিকায় প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু যৌন নিপীড়নসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এ জাতীয় ঘটনায় কেবল ২০১০ সালে আমেরিকায় ১,৬০০ শিশু মারা গেছে।
বিপদজনক শহর ওয়াশিংটন
আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন। যেখানে যুবকদের জন্য ১৬ জুলাই থেকে রাতে কারফিউ জারীর জন্য আইন করে ওয়াশিংটনের মেয়র স্বাক্ষর করেছেন। ঐ আইনের অধীনে ১৭ বছর ও তার চেয়ে কম বয়সী যুবকদের ঘুরাফেরা বে-আইনি ঘোষনা করা হয়েছে। উদ্দ্যেশ্য-রাতে যুবকদের ঘরে থাকতে হেেব। এ আইন না মানলে অর্থদন্ড জরিমান গুনতে হবে অভিভাকদের। ওয়াশিংটন ডিসির অপরাধ প্রবনতা কমানোর এ উদ্যেগ। কেননা পৃথিবীর সবচেয়ে বিপদজনক শহন হল ওয়াশিংটন। ১৭ জুলাই প্রকাশিত দৈনিক ‘খবর’ পত্রিকায়ও ওয়াশিংটন সম্পর্কে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে,আমেরিকা রাজধানী যেমন মর্যাদাপূর্ণ ঠিক তদ্রুপ নিকৃষ্টতম শহর যা চারিত্রিক সামাজিক ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার দিক থেকে একদম অধঃপতনের শিকার হয়েছে।
ধর্ষণের দেশ
এফ.বি.আই এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৯০ সালে ১ লক্ষ ২ হাজার ৫৫৫ টি ধর্ষণের কেস রির্পোট করা হয়েছে। আরো বলেছে যে, এ রির্পোট মোট ধর্ষণের মাত্র ১৬ ভাগ কেস রির্পোট করা হয়েছে। তার মানে ১৯৯০ সালে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৬ লক্ষ ৪০ হাজার ৯৬৮ টি। অর্থ্যাৎ ১৯৯০ সালে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৭শত ৫৬ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯২-৯৩ সালে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৯শতেরও বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অর্থ্যাৎ প্রতি ১.৩ মিনিটে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে একটা। মোট ধর্ষনের কেস রির্পোট করা হয়েছে ১৬%। যতগুলো কেস রির্পোট করা হয়েছে তার ১০% অ্যারেস্ট হয়েছে। মানে ধর্ষকদের মাত্র ১.৬% এরেস্ট হয়েছে। যারা এরেস্ট হয়েছে তাদের ৫০% মুক্তি পেয়েছে বিচার আগেই বিনা বিচারে। অর্থ্যাৎ মাত্র .০৮ শতাংশ ধর্ষকের বিচার হয়েছে। ১২৫টি ধর্ষণ করলে শাস্তি পায় মাত্র একবার। আর যাদের বিচার হয়, তাদের ৫০% শাস্তি পায় ১ বছরের কম কারাদন্ড। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আমেরিকায় যত ধর্ষণ সংঘঠিত হয় তার বেশির ভাগই মানে শতকরা ৯৫ ভাগের বেশি ধর্ষণ সংঘঠিত হয় মাতাল অবস্থায়। আর এসব ঘটনার প্রায় সব অজাচার ঘটে। মানে বাবা-মেয়ে,মা-ছেলে,ভাই-বোন ইত্যাদী এদের সাথে যৌনকর্ম। পরিংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায়, ধর্ষণের দায়ে সাজা প্রাপ্ত অপরাধীরা জেল খাটার যখন মুক্তি পায়,তাদের শতকরা ৯৫ জনই আবার ধর্ষণ করে। (জাকের নায়েক লেকচার সমগ্র)
চারিত্রিক অধঃপতনে ধস নামছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
বর্তমানে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখানো হয়েছে, আমেরিকার স্কুল সমূহে সংঘঠিত অপরাধের মাত্রা ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। নিউইয়ার্ক টাইমসে জর্জ ডাইনের এক রির্পোটের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে, আমেরিকার বিগত ১৫-১৯ বছরের মধ্যে প্রতি হাজার মেয়ের মধ্যে ৯৬% অবৈধ গর্ভবতী হয়েছে। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত আমেরিকায় ২,৭০,০০০ লোক এইডস এ আক্রান্ত। কঠোর আইনের বদলে “সর্তকতার সাথে প্রেম করো” ”সর্তকতার সাথে মহব্বত করো” বলে যুব সমাজকে উপদেশ দেয়া হয়।। হাই স্কুলের ৮৬% দশ বছর বয়সী ছাত্রী গর্ভবতী হয়। কলেজ ছাত্রদের উপর এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে যা ৬২০০ নারী ও পুরুষের মাঝে ৩২ টি ক্যাম্পাসে ৩ বছর পর্যন্ত চালানো হয়। খ্যাতনামা মনোস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ম্যারিকাস বলেছেন,ঐ ক্যাম্পাস সমূহে ২০% মেয়ের সাথে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা ৮৭৩৪০ টি। আমেরিকায় হাই স্কুলে প্রতি ২ জনে এক জন মদ্যপ, চার জনে ১ জন সিগারেট পান করে, দশ জনে ১ জন হাশীশ ব্যবহার করে। প্রতি সাত মিনিটে একটি শিশু নেশা করার দায়ে গ্রেফতার হয়। প্রতি ২৭ সেকেন্ডে একটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে মা হয়। প্রতি ৪৭ সেকেন্ডে একটি শিশু ধর্ষিতা হয়। প্রতি ৩৬ মিনিটে আগ্নেয়াস্তে এক জন লোক নিহত বা আহত হয়। জর্জ লিন্ডসে লিখেন, হাই স্কুলের ৪৯৫ জন অল্প বয়সী তার কাছে স্বীকার তারা ছেলেদের সাথে দৈহিক মিলনের অভিজ্ঞা লাভ করেছে, এর মধ্যে ১২৫ জনের গর্ভ হয়। মানব সভ্যতার জন্য নতুন এক ভয়ঙ্কর তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটি খবর দিয়েছে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেড সেভেন থেকে টুয়েলভ কাসের ছাত্রীদের অর্ধেকই যৌন হয়রানির শিকার। অন্তত গত শিাবছরের ওপর পরিচালিত গবেষণা রিপোর্ট তাই বলছে। যৌন নির্যাতনের শিকার ছাত্রীদের শতকরা ৮৭ ভাগের ওপর পড়েছে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব। গবেষণায় বলা হচ্ছে, ছেলেরা যেখানে শতকরা ৪০ ভাগ যৌন হয়রানির শিকার সেখানে মেয়েদের সংখ্যা শতকরা ৫৬ ভাগ। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ২০১০-১১ শিা বছরে গড়পড়তা শতকরা ৪৮ ভাগ ছাত্র-ছাত্রী যৌন নির্যাতনের শিকার। শতকরা ৪৪ ভাগ ছাত্র-ছাত্রী বলেছে, তারা মানুষের হাতে নির্যাতিত হয়েছে।মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলোতে ছাত্রীরা সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ সংখ্যা শতকরা ৫২ ভাগ। এরা সবাই শারীরিকভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে আর শতকরা ৩৬ ভাগ অনলাইনে। এর বিপরীতে মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রদের শতকরা ৩৫ ভাগ শারীরিক যৌন হয়রানির শিকার এবং ২৪ ভাগ অনলাইনে।
বিলুপ্ত হচ্ছে পরিবার প্রথা
আমেরিকার এক ম্যাগাজিনে ইবঃঃবৎ ঐড়সবং ধহফ ঊধৎফরহং তার পাঠকদের প্রশ্ন করেছিল আপনারা কি মনে করেন, আমেরিকার পারিবারিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে? ৭৬% জবাব ছিল হ্যা, ৮৫% লোক বিবাহের ব্যাপারে তাদের আশা পূর্ণ হয়নি বলে মত দেয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়,প্রতি ১৮ সেকেন্ডে একজন স্ত্রী বা মহিলা মারা যায় স্বামী বাব বন্ধুর হাতে। টাইমস (২৩ মার্চ ১৯৮৭) আমেরিকায় প্রায় ১৫% বিবাহিত ব্যক্তি শারীরিক দিক থেকে সন্তান প্রজননে অক্ষম (টাইমস জানু,১৯৮৭)। আামেরিকান নারী সমাজ মাতৃত্ব এবং ঘর সামনোর দায়িত্ব ১৫ বছর পূর্বে ছেড়ে দিয়েছে। বিংশ শতাব্দির শেষ প্রান্তে পৌছে আমেরিকান বৃদ্ধিজীবিরা বলতে বাধ্য হচ্ছেন,বিংশ শতাব্দির সূচনা লগ্নে আমেরিকা যে বিষয়কে উন্নতির সোপান মনে করেছিল, তা বর্তমানে তাদের জন্য ধ্বংসের সোপান প্রমাণ হচ্ছে। টাইমসের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি বছর আমেরিকায় ২৫ লাখ অবিবাহিত মেয়ে মা হয়
আমেরিকায় দৈনিক ৪ হাজার গর্ভপাত করা হয়, তন্মর্ধে ৬৫% ভাগ মহিলাই অবিবাহিত। ১৯৭৩ সালে আমেরিকার সুপ্্রীমকোটের গর্ভপাতকে বে-আইনী ঘোষনার পর বার্ষিক ১৫ লাখ গর্ভপাত ঘটানো হয়ে থাকে। বিগত ২০ বছরে ৩০ কোটি শিশুকে বংশচ্যুত করা হয়েছে। প্রতি বিশ সেকেন্ডে ১ টি গর্ভপাত ঘটানো হচ্ছে। আমেরিকার প্রতি ৫ জনে একজন পাগল। আমেরিকান সাড়ে চার কোটি মানুষ মস্তিস্কের ব্যাধিতে আক্রান্ত । লেজকাটা ঘৃণিত ইউরোপ ও আমেরিকায় পরিবার প্রথা ভেঙ্গে জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে হাজার বছর এগিয়ে গিয়েও ধ্বংসোন্মুক্ত সভাতায় পরিণত হতে চলেছে। বিকৃত সভ্যতা ভেঙ্গে দিয়েছে মা-সন্তানের শ্রদ্ধার দেয়াল, পিতাকে কাছে না পাওয়ায় সন্তানের শর্য্যাসঙ্গী হচ্ছে মা। অসৎ পিতার যৌন লালসা পূরণে আপন কন্যা হচ্ছে অঙ্গশায়িনী। এ অনৈতিকতার ছোবলে ক্ষত বিক্ষত পশ্চিমা জগৎ। সেখানকার অসভ্য মানুষগুলো শান্তির জন্য হন্যে ঘুরছে। ৫০ বছর পূর্বে আমেরিকায় পারিবারিক বন্ধন ছিল, এখন তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়েছে।
অশান্তি থেকে বাচতে আত্মহত্যার ব্যাপকতা
সাপ্তাহিক টাইমস এর রির্পোটের শিরোনাম “সন্তানের আত্মহত্যা” এতে বলা হয়েছে,আমেরিকায় ১০-২০ বছর বয়সী যুবকদের আত্মহত্যার হার দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে। ১৯৫০ সালের তুলনায় এ সংখ্যা এখন তিন গুন বেড়েছে। ১৯৮৫ সালে লাখে ৬০ যুবক (তত সংখ্যক বড়রা) আত্মহত্যা করেছে। প্রতি বছর ১৩-৩০ বয়সী ৫ হাজার যুবক আত্মহত্যা করে। বিগত ১০ বছরে ইচ্ছাকৃত আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা ৩৫% ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৬২ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত হত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৮.৬ ভাগ।
অপরাধের ভয়াবহতায় মার্কিন সামরিক বাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে মহামারির আকারে যৌন অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে। এ ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে পেন্টাগণ নানা উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসেনি।
প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সামরিক বাহিনীর অন্তত ২৬,০০০ সক্রিয় সদস্য যৌন আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও এ সময় যৌন আক্রমণের শিকার হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন এমন সদস্যের সংখ্যা ৬ শতাংশ বেড়ে ৩,৩৭৪ জনে উন্নীত হয়েছে, তবে নাম প্রকাশ না করে যেসব সদস্য যৌন আক্রমণের শিকার হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তাতে মোট সংখ্যা ২৬,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০১১ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৯,০০০।
যৌন আক্রমণের শিকার সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা ও উর্ধতন কর্তৃপরে নজরদারি বাড়ানো হলেও তাতে কোনো লাভ হয়নি।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ লাখ সামরিক বাহিনীর ৬.১ শতাংশ সক্রিয় নারী সদস্য বা মোট ১২,১০০ নারী সদস্য জানিয়েছেন, ২০১২ সালে তারা অযাচিত যৌন সংস্পর্শে এসেছেন। ২০১১ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮,৬০০। পুরুষদের মধ্যে যৌন আক্রমণের শিকার লোকের সংখ্যা ১০,৭০০ থেকে বেড়ে গত বছর ১৩,৯০০ তে উন্নীত হয়েছে। মার্কিন বিমান বাহিনীর ৩০ জনেরও বেশি মহিলা ক্যাডেট অভিযোগ করেছেন, তারা প্রশিণ নেয়ার সময় প্রশিকদের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। টেক্সাস বিমান প্রশিণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানান। ঘাঁটিতে এ ধরনের যৌন নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনা বেড়েই চলেছে বলেও তারা অভিযোগ করেছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর নারী সদস্যরা অহরহ যৌন নির্যাতন ও অবৈধ যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে থাকেন এবং প্রতিবছর হাজার হাজার ঘটনা রেকর্ড করা হয়। পৃথক আরেক হিসাবে এর আগে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনীতে কর্মরত প্রতি পাঁচ জন মহিলার মধ্যে একজন এবং প্রতি ২০ জন পুরুষের মধ্যে একজন যৌন হয়রানির শিকার হন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় একজন মহিলা সেনার ধর্ষিত হওয়ার আশংকা ২০ থেকে ৪০ শতাংশ। তবে, মার্কিন সেনাবাহিনীতে যৌন হেনন্তর ৮০ শতাংশ ঘটনা চেপে যাওয়া হয় বলে এ বিষয়ে যথার্থ হিসাব পাওয়া যাবে না। স¤প্রতি মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি’র এক হিসাবে বলা হয়েছে- গত আট বছরে চাকরি হারানো মার্কিন কমান্ডারদের মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগই যৌন কেলেঙ্কারির কারণে চাকর হারিয়েছেন। বিশ্বব্যাপী ১২০ টির বেশি দেশে মার্কিন স্পেশাল বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সে সব দেশেও মার্কিন বাহিনীর ধর্ষণ ও যৌন কেলেংকারীর ঘটনা তোলপাড় সৃষ্টি করে চলেছে। বিশেষ করে আগ্রাসিত আফগানিস্তান ২০ কারাগারে ও ইরাকে ১৫ কারাগারে মার্কিনীদের যৌন নির্যাতন,খুন, গুম মানবতাকে ভূলুন্ঠিত করে চলেছে। আমেরিকার বিকৃত যৌনাচারের আধিক্য ও বিভংস্রতা দেখেআমেরিকার এককালের খ্যাতিমান টিভি বিশ্লেষক জিমি সোয়াগার্ট তার বিখ্যাত বই হোমোসেক্্রয়ালিটিতে আর্তনাদ করে বলেছেন- যে অপরাধের জন্য সডোম ও গমোরা নগরী ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে সে অপরাধের জন্য যদি বর্তমান ইউরোপ ও আমেরিকাকে ধ্বংস না করেন তাহলে তাহলে সৃষ্টিকর্তকেই একদিন আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
চলবে............
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29898932 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29898932 2013-11-24 12:40:30
পতনের পথে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন পতনের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায় অতিক্রম করে চূড়ান্ত পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর বিশ্বের মুক্তিকামী জাতিগুলোর জন্য এটা এক বড় সুসংবাদ। এমনকি মার্কিন নাগরিকদেরও অনেকেই এ ব্যাপারে উল্লসিত ও গভীর আশাবাদী যে ইতিহাসের অন্যতম প্রধান জালেম শক্তির পতন ঘনিয়ে আসছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনও সংকটমুক্ত ছিল না। যদিও অনেকে মনে করেন যে দুইশ বছরেরও আগে প্রতিষ্ঠিত এই রাষ্ট্র এক সময় প্রগতিশীল বা অগ্রগামী রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত হত। বর্তমানে দেশটির নানা ভিত্তিতে ধরেছে মারাÍক পচন। গোটা মার্কিন জাতি এগিয়ে যাচ্ছে ধ্বংসের দিকে। এক যুগ আগেও মার্কিন সরকারের যে প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল তা এখন
বহুলাংশে কমে গেছে। মার্কিন নাগরিকদের অনেকেই মনে করেন দেশটির অবস্থা এখন চতুর্থ পর্যায়ের ক্যান্সার রোগীর মত। এ পর্যায়ে রোগীর শরীরের প্রায় সব অংশেই ছড়িয়ে পড়ে ক্যান্সার। আসলে শত শত বা হাজার হাজার দিক থেকে য়ে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিদিনই দেশটির আরও বেশি খারাপ অবস্থার বা দুর্দশার খবর আসছে। এই বিশেষ আলোচনায় আমরা মূলত দেশটির অর্থনৈতিক ধসের চিত্রই তুলে ধরব। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক, রাজনৈতিক, নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাÍিক অবয়েরও অনেক চিত্র তুলে ধরা যায়। যেমন, মার্কিন নাগরিকদের এবং বিশেষ করে মতাসীনদের এক বিশাল অংশই আÍ-গর্বিত, স্বার্থান্ধ, অর্থ-লোলুপ, উদ্ধত, অকৃতজ্ঞ, প্রতারক ও শতভাগ ভোগবাদী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব দিক থেকেই পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে। কিন্তু বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকই ভোগ-বিলাসিতায় মত্ত রয়েছেন বলে তারা এই বাস্তবতাটি বুঝতে পারছেন না। বরং তারা মনে করেন মার্কিনী বলেই অশেষ সমৃদ্ধির ধারা তাদের জন্য চিরকাল বজায় থাকবে। একটি দেশের পতনের মূলে তিনটি কারণই প্রধান। অর্থনৈতিক ব্যাপক ধস, সামরিক বাহিনীর নৈতিক ও চারিত্রিক চরম অধঃপতন এবং সামাজিক পচনশীলতা। আজকের আলোচনায় আমরা দেখাবো মার্কিনীরা এ তিনটি অবয়ের যাতাকলে পড়ে কিভাবে ধিরে ধিরে পতনের দিকে এগুচ্ছে।

১. অর্থনৈতিক ধসে বিপর্যস্ত মার্কিন অর্থনীতি
সাম্প্রিতক সময়ে রিপাবলিকান পাটির সাথে দ্বন্ধের কারণে বাজেট পাশ করতে না পারায় বন্ধ হয়ে মাকিন সেবা খাত সমূহ। বেকার হয়ে পড়েছে লক্ষ লক্ষ সেবা খাতের শ্রমিকরা। শীঘ্রই এ অবস্থার অবসান না হলে মাকিন অথনীতি ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়বে বলে বিশ্লষকদের আভাষ।
মার্কিন অর্থ-ব্যবস্থার ধস খুবই ¯পষ্ট। দেশটির বেদনার দিনগুলো অত্যাসন্ন। খুব বেশি দেরি না হওয়া পর্যন্ত বেশিরভাগ মার্কিনীই হয়ত তা বুঝবেন না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পতনের ৩৪ টি অর্থনৈতিক আভাস বা আলামত এখানে আমরা একে একে তুলে ধরছি:
১. বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০১ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন জিডিপি বা গড় অভ্যন্তরীণ উতপাদনের অবদান ছিল শতকরা ৩১ দশমিক ৮ ভাগ। আর ২০১১ সালে এই হার নেমে এসেছে ২১ দশমিক ৬ ভাগে।

২. ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের তথ্য অনুযায়ী ১৯৮৮ সালেও আমেরিকা ছিল মানব-শিশু জন্ম নেয়ার জন্য বিশ্বের সেরা স্থান। কিন্তু এখন এেেত্র আমেরিকার স্থান বিশ্বে ১৬তম।

৩. বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সামর্থ্যের দিক থেকে একটানা চার বছর ধরে মার্কিন অবস্থান নীচে নামছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম এই র‌্যাাঙ্কিং নির্ধারণ করে আসছে।

৪.ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ৪০টি পাবলিক ট্রেড কো¤পানির অর্থের যোগানদাতাদের অর্ধেকই সেগুলোর মূল খরচের বরাদ্দ আগামী মাসগুলোতে কমিয়ে আনার চিন্তাভাবনা করছেন।

৫. ২০১২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে সংখ্যক নতুন বাড়ী বিক্রি হয়েছে তার চেয়েও তিন গুণ বেশি বাড়ী বিক্রি হয়েছে ২০০৫ সালে।

৬. যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প-শহরগুলোর সংখ্যা ছিল বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু বর্তমানে এইসব শহরের বেশিরভাগই দেউলিয়া হয়ে পড়ছে। দৃষ্টান্ত হিসেবে ডেট্রয়েট শহরের কথা বলা যায়। একজন মার্কিন এমপি ডেট্রয়েট শহর গুটিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

৭. ২০০৭ সালে বিশ থেকে ২৯ বছর বয়সী মার্কিনীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ৬ দশমিক ৫। বর্তমানে এই শ্রেণীর মার্কিনীদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ১৩ শতাংশ।

৮. ১৯৫০'র দশকে মার্কিন পুরুষদের শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি মানুষ ছিল চাকরিজীবী। বর্তমানে মার্কিন পুরুষদের শতকরা ৬৫ শতাংশেরও কম চাকরির অধিকারী।

৯. প্রায় প্রতি চার জন মার্কিন শ্রমিকের একজন ঘণ্টায় দশ ডলার বা তারও কম মজুরি পাচ্ছেন।

১০. গত মন্দার সময় মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে যারা চাকরি হারিয়েছেন তাদের বেতন ছিল মধ্যম পর্যায়ের। এরপর থেকে আমেরিকায় যেসব চাকরি সৃষ্টি হয়েছে তার শতকরা ৫৮ ভাগই নিু বেতনের চাকরি।

১১. মার্কিন পরিবারগুলোর বার্ষিক আয় গত চার বছর ধরে কমেই আসছে। এই কয় বছরে তাদের আয় ৪ হাজার ডলারের চেয়েও বেশি কমেছে।

১২. চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ১৯৯০ সালের তুলনায় ২৮ গুণ বেড়েছে।

১৩. ২০০১ সালের পর থেকে আমেরিকার ৫৬ হাজারেরও বেশি কল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ২০১০ সালে প্রতিদিন গড়ে ২৩ টি মার্কিন কারখানা বন্ধ হয়েছে। তাই এইসব অবকাঠামোগত ধসের পরও এ কথা বলার কোনো সুযোগ নেই যে মার্কিন অর্থনীতির
অবস্থা ক্রমেই ভাল হয়ে উঠছে।

১৪. আমেরিকায় ২০০৫ সালের প্রথমদিকে পেট্রোল বা জ্বালানী তেলের দাম ছিল গ্যালন-প্রতি ২ ডলার। ২০১২ সালে এর দাম তিন দশমিক ৬৩ ডলার।

১৫. ১৯৯৯ সালেও শতকরা ৬৪ দশমিক এক ভাগ আমেরিকান চাকরি-ভিত্তিক স্বাস্থ্য-বীমার আওতাভুক্ত ছিল। বর্তমানে ৫৫ দশমিক এক ভাগ আমেরিকান এই সুযোগ পাচ্ছে।

১৬. মার্কিন পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী ১৯৭১ সালে আমেরিকার ৬১ ভাগ নাগরিকই ছিল মধ্যবিত্ত বা মধ্য-আয়ের অধিকারী। বর্তমানে শতকরা ৫১ ভাগ আমেরিকান মধ্যম আয়ের অধিকারী।

১৭. বর্তমানে আমেরিকার দুই কোটি বিশ লাখ নাগরিক তাদের আয়ের অর্ধেকেরও বেশি ব্যয় করেন আবাসন খাতে। ২০০১ সাল থেকে এই খাতে তাদের ব্যয় বেড়েছে শতকরা ৪৬ ভাগ।

১৮. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদম-শুমারি সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী দেশটির শতকরা প্রায় ২২ ভাগ শিশু দরিদ্র।

১৯. ১৯৮৩ সালে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উপার্জনকারী ব্যক্তিরা প্রতি এক ডলার আয় করতেন ৬২ সেন্ট ঋণের বিপরীতে, ২০০৭ সালে প্রতি ডলারের বিপরীতে তাদের ঋণের পরিমাণ এক দশমিক ৪৮ ডলার।

২০. মার্কিন নাগরিকদের গৃহ বাবদ বন্ধকি ঋণের মোট পরিমাণ এখন বিশ বছর আগের তুলনায় ৫ গুণ বেশি।

২১. ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নেয়া মার্কিনীদের বর্তমান ঋণের মোট পরিমাণ ত্রিশ বছর আগের তুলনায় ৮ গুণ বেশি।

২২. মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋবফবৎধষ জবংবৎাব চালু হওয়ার পর থেকে দেশটির মুদ্রা ডলারের মূল্য ৯৬ গুণ কমেছে।

২৩. ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়স-গ্র“পের মার্কিন নাগরিকদের শতকরা ২৯ ভাগ এখনও তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন।

২৪. ১৯৫০ সালে মার্কিন পরিবারগুলোর ৭৮ শতাংশের মধ্যেই (প্রতি পরিবারে) বিবাহিত এক দ¤পতি থাকত। কিন্তু বর্তমানে এই বিবাহিত এক দ¤পতি রয়েছে এমন পরিবারের সংখ্যা ৪৮ শতাংশ মাত্র।

২৫. মার্কিন আদম শুমারি সংস্থার হিসেব মতে শতকরা ৪৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এক ইউনিট বাড়ীর অধিকারী এবং এই খাতে তাদেরকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে সরাসরি আর্থিক সাহায্য নিতে হচ্ছে। অথচ ১৯৮৩ সালে এক তৃতীয়াংশেরও কম মার্কিন নাগরিক এ ধরনের সাহায্য নিত।

২৬.মার্কিন সরকার ১৯৮০ সালে সব আয়ের ১১ দশমিক ৭ শতাংশ অর্থ হস্তান্তর-খরচ বাবদ পরিশোধ করত। বর্তমানে এই খাতে ব্যয় ১৮ শতাংশ।

২৭. ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে তিন কোটি ৮০ লাখ আমেরিকান ফুড স্ট্যা¤প বা সস্তা খাদ্য কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে ৪ কোটি ৭১ লাখ মানুষ এই খয়রাতি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল।

২৮. বর্তমানে প্রতি চার মার্কিন শিশুর একজনই ফুড স্ট্যা¤প বা সস্তা খাদ্য কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল।

২৯. এক হিসেব মতে ফুড স্ট্যা¤প বা সস্তা খাদ্য কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল মার্কিন নাগরিকদের সংখ্যা ২৫ টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।

৩০. আমেরিকায় ১৯৬৫ সালে প্রতি ৫০ জন নাগরিকের মধ্যে কেবল একজন খয়রাতি চিকিতসা-সহায়তা পেত। কিন্তু বর্তমানে দেশটির প্রতি ছয় জনের একজনকে এ সাহায্য নিতে হচ্ছে। ওবামা সরকার আরও এক কোটি ৬০ লাখ মার্কিন নাগরিককে এই খয়রাতি
সহায়তার আওতায় আনার পদপে নিচ্ছেন।

৩১. ২০০১ সালে আমেরিকার জাতীয় ঋণের পরিমাণ ছিল ছয় ট্রিলিয়ন ডলার বা ছয় লাখ কোটি ডলারেরও কম। বর্তমানে দেশটির জাতীয় দেনার পরিমাণ ১৬ ট্রিলিয়ন ডলার বা ১৬ লাখ কোটি ডলারেরও বেশি। প্রতি ঘণ্টায় এর সঙ্গে দশ কোটি ডলার যুক্ত হয়ে এই দেনার বোঝা আরও বাড়ানো হচ্ছে।

৩২. ১৯৭৭ সালের তুলনায় বর্তমানে মার্কিন জাতীয় দেনার পরিমাণ ২৩ গুণ বেশি।

৩৩. মার্কিন পিবিএস (পাবলিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিস) রিপোর্ট অনুযায়ী যেসব মার্কিন পরিবারের বার্ষিক আয় ১৩ হাজার ডলার বা তারও কম সেইসব পরিবার তাদের আয়ের শতকরা নয় ভাগ লটারির টিকেট বাবদ খরচ করে!

৩৪. মার্কিন অর্থনীতি যত বেশি শোচনীয় হচ্ছে ততই মার্কিনীরা হতাশা প্রতিরোধক ওষুধসহ চিকিতসকদের নির্দেশিত নানা ধরনের ওষুধ সেবন করছে। এই খাতে মার্কিনীরা ২০০৫ সালে যতটা অর্থ ব্যয় করত তার চেয়েও ৬০০০ কোটি ডলার বেশি খরচ করেছে ২০১০ সালে।

মার্কিন জনগণ যখন এতটা দুর্দশায় রয়েছেন তখন দেশটির কংগ্রেসের অর্ধেকেরও বেশি সদস্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করছেন খুব স্বল্প সময়ে। তারা অল্প কিছু সংখ্যক মার্কিন ধনকুবের বা পুঁজিপতির স্বার্থ রা করে চলছেন সংসদে। দেশটির মাত্র এক শতাংশ পুঁজিপতির হাতে আমেরিকার বেশিরভাগ স¤পদ পুঞ্জীভূত রয়েছে।তাই নিরানব্বই শতাংশ বঞ্চিত মার্কিন নাগরিককে বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার করতে ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের
আন্দোলনে শরিক করতে স¤প্রতি শুরু হয়েছিল “৯৯ শতাংশ” শীর্ষক আন্দোলন। মার্কিন সরকার কঠোর হাতে এ আন্দোলন দমিয়ে রেখেছে। কিন্তু এটা ¯পষ্ট যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাদী শাসন-ব্যবস্থার দানব এভাবে বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না। যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে একদা সূর্য অন্ত যেত না, সে বৃহত্তম উপনিবেশবাদী শক্তি আজ পাশ্চাত্য এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছেই যেমন অসহায়, এতিমের মত সাহায্য চেয়ে হাত পেতে আছে, সে একই দৈন্যদশা সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার জন্যও আসন্ন। (রেডিও তেহরান)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29884218 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29884218 2013-10-10 11:19:51
বিশ্বব্যাপী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন: রিগ্যান থেকে ওবামা
বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও যুদ্ধবাজ রাষ্ট্র, মানবতা ও মানবাধিকারের শক্রু, বিশ্বের কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাদের সামরিক আগ্রাসনে বিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। মানবতা ও মানবাধিকার আজ ধুকরে ধুকরে কেঁদে মরছে। মানবতা ধ্বংস ও দস্যু গিরির মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ বিশ্বের সুপার পাওয়ার এ পরিনত হয়েছে। এ সুপার পাওয়ার হওয়ার পিছনে লুকিয়ে রয়েছে এক রক্তাক্ত ইতিহাস। বিগত ৩০ বছরে ৫ জন মার্কিন প্রেসিডেন্টে তাদের শাসনকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে সমস্ত আগ্রাসন চালিয়েছে এবং সেটার পিছনে আন্তর্জাতিক সমর্থন কতটুকু ছিল তা নিয়ে সংবাদ সং¯হা এপি একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে উঠে এসেছে সামরিক আগ্রাসন ও মানবতা ধ্বংসের বিভিন্ন দিক । নিম্নে রোনাল্ড থেকে বারাক ওবামা পর্যন্ত সামরিক আগ্রাসনের যৎকিঞ্চিত বিবরণ দেওয়া হলো।

রোনাল্ড রিগ্যান

রোনাল্ড রিগ্যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ তম প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান (১৯৮১-১৯৮৯) ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম সামরিক আগ্রাসন পরিচালনা করেন লেবাননে। তিন জাতির শান্তিরক্ষা মিশনের অংশ হিসেবে লেবাননে মার্কিন সেনা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ১৯৮৩ সালে লেবাননে সামরিক ব্যারাকে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে এতে ২৯৯ জন মার্কিন ও ফরাসি সেনা নিহত হয়। এর প্রতিশোধ হিসেবে সেখানে সীমিত পরিসরে বিমান হামলা চালানোর জন্য নির্দেশ দেন রোনাল্ড রিগ্যান। ১৯৮৩ সালেই রিগ্যান আবারও সামরিক হামলা চালানোর নির্দেশ দেন গ্রানাডায়। সেখানে সামরিক অভূত্থানে ক্ষমতাসীন সরকারের পতন হলে জাতিসংঘ এবং ব্রিটেনের আপত্তি সত্বেও ক্যারিবীয় দ্বীপের ৬টি দেশের সমর্থন নিয়ে রোনাল্ড রিগ্যান সামরিক হামলা চালান।এরপরে আসে লিবিয়ার পালা। ১৯৮৬ সালে বার্লিনে একটি ডিস্কোবারে বোমা হামলা চালানো হয় এতে ৭৯ আমেরিকান নাগরিক আহত এবং ২ জন নিহত হয়। এই হামলার জন্য লিবিয়ার তৎকালিন প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে দায়ী করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান সেখানে সামরিক হামলা চালানোর নির্দেশ দেন। (যদিও হামলায় গাদ্দাফির সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দিতে পারেনি।) এই হামলায় মার্কিন মিত্রদেশ যুক্তরাজ্যের পুর্ণ সমর্থন ছিল। তবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ তাদের এই সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানায়।

জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ

রিগ্যানের পরে (১৯৮৯–১৯৯৩)যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণ করেন ৪১ তম প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ। ক্ষমতা গ্রহন করেই তিনি পূর্বসূরীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে একের পর এক দেশে সামরিক আগ্রাসন চালাতে থাকেন। ক্ষমতা গ্রহনের প্রথম বছরেই(১৯৮৯)তিনি সামরিক আগ্রাসন চালান পানামায়। একনায়ক ম্যানুয়েল নোরিয়েগার সরকার মাদকদ্রব্য পাচারে জড়িত এই অজুহাতে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে বুশ সেখানে ২৬ হাজার মার্কিন সৈন্য প্রেরণ করেন। আক্রমন শুরু হওয়ার পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পানামা যুদ্ধ ঘোষণা করলে এক মার্কিন সৈন্য নিহত হয়। ১৯৯১ সালে জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ আবারও সামরিক আগ্রাসন চালান ইরাকে। সাদ্দাম সরকার কুয়েত দখল করে নিলে কুয়েত থেকে তাদের হটিয়ে দিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও ৩৩ টি মিত্র দেশের সমর্থন নিয়ে ইরাকে হামলা চালানোর নির্দেশ দেন বুশ। যে আগ্রাসনের প্রভাব আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি ইরাক।এরপর আসে সোমালিয়া। ১৯৯২ সালে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সাহায্য প্রদানের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতি সাপেক্ষে সোমালিয়ায় সৈন্য প্রেরণ করেন জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ।

বিল ক্লিনটন

জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের পরে ৪২ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণ করেন উইলিয়াম জেফারসন বিল ক্লিনটন( ১৯৯৩-২০০১)। আগের দুই প্রেসিডেন্টের তুলনায় কম আগ্রাসী ছিলেন তিনি। তবুও তার সময়েও থেমে থাকেনি সামরিক আগ্রাসন।১৯৯৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশকে হত্যার চক্রান্তে জড়িত থাকার অজুহাতে ইরাকের গোয়েন্দা সদর দপ্তরে ক্রুজ মিশাইল হামলা চালান তিনি। এতে বাগদাদে অব¯িহত সং¯হাটির কার্যালয় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। ১৯৯৩ সালে আবারও সোমালিয়ায় অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশ দেন ক্লিনটন। সোমালিয়ার নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সেখানে ¯িহতিশীলতা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও অন্য ৩৫ দেশের সমর্থন নিয়ে সোমালিয়ায় সৈন্য প্রেরণ করেন তিনি।এরপরে ১৯৯৪ সালে হাইতিতে সৈন্য প্রেরণ করে ক্লিনটন। হাইতির নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সেখানে ¯িহতিশীলতা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন নিয়ে সেখানে সৈন্য প্রেরণ করেন তিনি। এরপরে আসে বসনিয়ার পালা। (১৯৯৪-১৯৯৬)ন্যাটো বাহিনীর সমর্থন নিয়ে বসনিয়াতে ১৮ মাস ধরে বিমান হামলা পরিচালনা করেন ক্লিনটন। তার নির্দেশেই জাতিসংঘের অনুরোধে সেখানকার সার্বদের বিরুদ্ধে কামান, সাজোয়া যান, বোমা হামলা ও ক্রুজ ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন সেনা বাহিনী।১৯৯৬ সালে আবারও ইরাকে সামরিক হামলা চালান ক্লিনটন। ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলে বসবাসরত সংখ্যালঘু কুর্দীদের রক্ষা ও তাদের উপরে সাদ্দাম হোসেনের রাসায়নিক হামলার অজুহাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনক্রমে ইরাকের নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যবস্তুতে ক্রুজ মিশাইল হামলা চালান এবং জাতিসংঘের সহায়তায় ইরাকের দক্ষিনাঞ্চলে নো-ফ্লাইজোন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।১৯৯৮ সালে সুদান ও আফগানিস্তানে হামলা চালান ক্লিনটন। কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি ও তাঞ্জানিয়ায় মার্কিন দুতাবাসে বোমা হামলা করে ২২০ জন মানুষ হত্যার (যাদের মধ্যে ৯ জন মার্কিন নাগরিক)সাথে জড়িত থাকার অজুহাতে আফগানিস্তান ও সুদানে এই হামলা চালান হয়।১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শকদের বেধে দেওয়া নিয়ম মেনে চলতে সাদ্দাম হোসেনকে বাধ্য করতে আবারও ইরাকে মিসাইল ও বিমান হামলা পরিচালনার নির্দেশ দেন ক্লিনটন।
১৯৯৯ সালে আসে কসোভোর পালা। এবার যুগো¯¬াভিয়ার সৈন্য বাহিনীকে লক্ষ্য করে মিসাইল ও বিমান হামলার নির্দেশ দেন ক্লিনটন। এই হামলায় ন্যাটো বাহিনীও অংশ নেয়।

জর্জ ডব্লিউ বুশ

ক্লিনটনের পরে ৪৩ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসেন জর্জ ডব্লিউ বুশ(২০০১-২০০৯)। মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে আগ্রাসী ও যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনে কর হয় তাকে। ২০০১ সালে সন্ত্রাসী আক্রমনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গর্বের প্রতীক টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরে এই ঘটনায় আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের জড়িত থাকার অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং লাদেনকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবী জানায় আফগান কর্তৃপক্ষের কাছে। তবে আফগান কর্তৃপক্ষ তাকে আমেরিকার হাতে তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানালে জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে ন্যাটো বাহিনী এবং অন্য ৪৮ টি দেশের সহায়তায় আফগানিস্তানে হামলা চালায় আমেরিকা। আজও শেষ হয়নি সেই যুদ্ধ।২০০৩ সালে আবারও ইরাকে হামলা চালানোর নির্দেশ দেন জর্জ ডব্লিউ বুশ। ইরাক পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করছে এমন অমুলক অজুহাতে জাতিসংঘ ও অন্য ৪৮টি দেশের সমর্থন নিয়ে ইরাকে হামলা চালান তিনি। যদিও এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতা থেকে সরানো।

বারাক ওবামা

জর্জ ডব্লিউ বুশের পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন বারাক ওবামা। তার সময়ে সামরিক আগ্রাসন তুলনা মূলক কম হলেও একে বারে থেমে থাকেনি। পূর্বসূরি বুশের শুরু করা ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধ তিনি সফলতার সাথে তার দুই মেয়াদে চালিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও তিনি নতুন করে বেশ কিছু দেশে আগ্রাসন পরিচালনাও করেছেন। ২০১১ সালে লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ থামানোর জন্য জাতিসংঘের অনুমোদন ক্রমে লিবিয়ায় মিসাইল ও বিমান হামলার অনুমোদন দেন বারাক ওবামা। এমনকি সেখানে নো-ফ্লাইজোনও প্রতিষ্ঠা করে মার্কিন বাহিনী। ২০১১ সালে লাদেনকে হত্যা করার জন্য পাকিস্তানের অ্যাবটাবাদে কমান্ডো অভিযান পরিচালনার নির্দেশ প্রদান করেন বারাক ওবামা। ওই অভিযানে কমান্ডো হামলায় লাদেন নিহত হন। এবার বারাক ওবামার নতুন মিশন সিরিয়া। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ থামানো এবং আসাদ সরকার বিদ্রোহীদের উপরে রাসায়নিক হামলা করেছে এই অজুহাতে সিরিয়ায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা চুড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘ ও মিত্রদেশগুলোর সমর্থন পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাদের অনুমোদন না পেলেও একাই সিরিয়ায় হামলা চালাতে বদ্ধপরিকর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
সময়ের বিবর্তনে বিশ্বের সুপার পাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ পতনের পথে। কারণ জুলুম নির্যাতন কখনো চিরস্থায়ী হয় না। আজকের বিশ্ব প্রেক্ষাপটে দস্যু ভিত্তির রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ এতটাই দূর্বল হয়ে পড়েছে যে, কারো সহযোগীতা ছাড়া এখন আর একা আগ্রাসন পরিচালনা করতে পারছে না। সিরিয়া আগ্রাসনের ঘোষনা দিয়েও পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । আর মার্কিন সমাজের মধ্যে যে পচন ধরেছে তা মার্কিন সামরিক বাহিনীতেও সংক্রমিত হয়েছে। ব্যাপক বেকারত্ব আর অর্থনীতি ধশের ব্যাপকতায় বিপর্যস্ত মার্কিন সমাজ। ধিরে ধিরে শক্তি হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে বর্তমান সময়ে আলোচিত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ,যেমন নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ। তাইতো বিশ্ববাসী আজ অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে মার্কিন দস্যুদের পতনের দিকে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29882966 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29882966 2013-10-06 16:28:34
বিশ্বের মুসলিম যুব সমাজের উদ্দ্যেশে আকুল আবেদন হে মুসলিম যুব সমাজ!
আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন আমাদের উদ্দ্যেশে বলেছেন, তোমাদের কি হয়েছে তোমরা কেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ময়দানে ঝাপিয়ে পড়ছো না? অথচ নির্যাতিত মা ও বোনেরা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে বলতেছে, হে আল্লাহ আমাদেরকে এ যালেমদের হাত থেকে রক্ষা করো অথবা আমাদের জন্য এমন সাহায্যকারী পাঠাও যারা আমাদেরকে রক্ষা করবে। (সুরা নেসা-আল কোরআন)
হে আমার ভাইয়েরা,
আমাদের মা ও বোনেরা আজ ইরাক, আফগানিস্তান, মায়ানমার, ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, বসনিয়া, চেচনিয়াসহ সারা পৃথিবীর দিকে দিকে আজ তাদের আত্মচিৎকার শোনা যাচ্ছে তোমরা কি তাদের উদ্ধারে কোন ব্যবস্থা নেবে না? আজ তোমাদের ইরাকের আবু গারিব কারগারের বন্দী মার্কিন কুত্তাদের হাতে নির্যাতিত এক বোনের চিঠি তোমাদেরকে পড়াব। পড়–ন আবু গারীব কারাগার থেকে প্রকাশিত নির্যাতিত বোন ফাতেমার চিঠি-

'পরম করুনাময় আল্লাহ তা’য়ালার নামে, (হে মুহাম্মদ) তুমি বলো, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি কারোই মুখাপেী নন। তাঁর থেকে কেউ জন্ম নেয়নি, আর তিনিও কারো থেকে জন্ম গ্রহন করেননি। আর তাঁর সমতুল্য দ্বিতীয় কেউই নেই।' (সুরা-১১২, আল এখলাস, আল কোরআন)

আমি আল্লাহ তা’য়ালার গ্রন্থ হতে এই পবিত্র সূরাটি উল্লেখ করছি কারণ এর দারুন প্রভাব পড়েছে আমার উপর এবং আপনাদের সবার উপরেও যা বিশ্বাসীদের হৃদয়ে এক প্রকার ভয় ও শ্রদ্ধা মিশ্রিত বোধের জন্ম দেবে।

আমার ভাই মুজাহিদীন আল্লাহর পথে আছে। আপনাদের আমি কি বলবো? তবু বলছি, আমাদের জরায়ু বানর ও শুকর জাতীয় লম্পটদের সন্তানে ভর্তি হয়ে আছে। যারা আমাদের বলাৎকার করেছে। অথবা (আমি) আপনাদের বলতে পারি যে, তারা আমাদের দেহকে বিকৃত করেছে। আমাদের মুখমন্ডলকে ঝলসে দিয়েছে এবং আমাদের ঘাড়ে ঝোলানো কোরআনের ছোট্ট কপিটি অযথা ছিঁড়ে ছিন্ন ভিন্ন করে দিয়েছে। আল্লাহ অতি মহান, আপনারা কি আমাদের পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পারছেন না ? এটা সত্য,আপনারা জানেন না আমাদের সাথে কি ঘটেছে ? আমরা আপনাদের বোন। আল্লাহ হিসাব নিকাশের সময় ভবিষ্যতে এ সম্পর্কে আপনাদের জিজ্ঞেস করবে।

আল্লাহর কসম কারাগারে আসা পর্যন্ত আমাদের এমন কোন রাত কাটেনি যে রাতে বানর ও শুকর জাতীয় অমানুষরা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েনি। তারা তাদের পূর্ণ স্বাদ মিটিয়ে নিস্তেজ না হওয়া অবধি আমাদের দেহকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করতে থাকে।

আমরা তারাই, যারা আল্লাহর ভয়ে আমাদের কুমারিত্বকে সব সময় পাহারা দিয়ে রেখেছিলাম। আল্লাহকে ভয় করুন। আমাদের মেরে ফেলুন। আমাদের ধ্বংস করে দিন। তাদের আনন্দ উপকরণ হিসাবে ধর্ষণ করার জন্য আমাদের রেখে যাবেন না। এভাবে সর্বশক্তিমান আল্লাহর মহাকৃতিত্বকে মর্যাদাসম্পন্ন করা হবে। আমাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন। তাদের কামান ও উড়োজাহাজগুলোকে বাইরে রেখে আসুন। আবু গারীব কারাগারে আমাদের কাছে আসুন। আমি আপনাদের ধর্ম বোন। তারা আমায় একদিন নয়বারেরও বেশী ধর্ষন করেছে। আপনারা কি অনুধাবন করতে পারছেন? চিন্তা করুন, আপনাদের একজন বোন ধর্ষিত হচ্ছে।

আপনারা কেন ভাবতে পারেন না যে, আমি আপনাদের বোন। আমার সাথে আরো ১৩ জন মেয়ে আছে। তারা আমাদের পোষাকগুলো নিয়ে নিয়েছে। আমাদের কাপড় পড়তে দেয় না। আমাদের মধ্যের একজন মেয়ে আত্মহত্যার প্রতিজ্ঞা করেছে। তাই আমি এই চিঠিটি লিখছি। সে নৃশংসভাবে ধর্ষিত হয়েছে।একজন সৈনিক তাকে ধর্ষনের পর তার বুক ও উরুতে আঘাত করেছে। সে অবিশ্বাস্য অত্যাচারের দ্বারা তাকে ভোগ করেছে। মেয়েটি তার মাথা জেলের দেয়ালের সাথে আঘাত করতে লাগলো, যতন না তার মৃত্যু হয়। মেয়েটি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না। যদিও ইসলামে আত্মহত্যা নিষিদ্ধ। কিন্তু আমি মেয়েটিকে মা করে দিয়েছি। আশা করছি, আল্লাহ তাকে মা করবেন।কারণ আল্লাহ সবার প্রতি অসীম দয়ালু। ভাই,আপনাদের আবারও বলছি, আল্লাহকে ভয় করুন।আমাদের মেরে ফেলুন, তাহলেই আমরা হয়তো শান্তি পাবো। সাহায্য করুন। সাহায্য করুন। সাহায্য করুন।” (ব্লগ টুডে)

হে প্রিয় ভাইয়েরা,
এ চিঠিটা পড়ার সময় কি তোমাদের চোখে কান্না আসতেছে না? তোমাদের চিন্তা জগতে কি তোলপাড় চলতেছে না? তোমাদের মা বোনদের সেই আত্মচিৎকার তোমাদের কানে আসতেছে না? তাদের সাহায্যের ডাকে কি তোমরা সাড়া দেবে না?
হে আমার প্রানের প্রিয় ভাইয়েরা,
এমনই এক বোনের চিঠির আহবানে সাড়া দিয়ে মুহাম্মদ বিন কাসেম জয় করেছিল সিন্ধু, আসুন না তার আহবানে সাড়া দিয়ে সা¤্রাজ্যবাদকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেই। মুক্ত করি মুসলিম বিশ্বকে।
হে আমার দ্বীনি ভাইয়েরা,
পৃথিবীর বুক থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের নাম নিশানা মুছে ফেলার জন্য খ্রিস্টীয় ইউরোপীয় সমাজ ১০৯৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৩০০ সালের শেষ পর্যন্ত প্রায় তিনশত বছর ক্রুসেড় যুদ্ধ চালিয়েছিল। মুসলিম বিশ্বের সেই দুঃসময়ে শুধু মাত্র একজন সালাউদ্দীন আয়ুবী সারা ইউরোপ জগত এবং অভ্যন্তরীণ মোনাফেকবাজ শাসকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে মুসলিম বিশ্বকে সাময়িক রক্ষা করেছিলেন। তাদের সেই ক্রুসেড় এখনো চলমান। সেই ক্রুসেডে শিকার হয়ে ইতিমধ্যে ইরাক, আফগানিস্তান ও লিবিয়া আমরা হারিয়েছি। বাকী মুসলিম দেশগুলো এখন মার্কিন সা¤্রাজ্যবাদের সেবাদাসে পরিনত হয়েছে। মুসলিম বিশ্ব ধ্বংসের জন্য আজ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব মোনাফেকে পরিনত হয়ে ইহুদী খ্রিস্টানদের দাসত্ব করে চলেছে। তাই আসুন সালাউদ্দীন মতো সকল মুনাফেক শাসকদের গর্দান উড়িয়ে দিয়ে মার্কিন সা¤্রাজ্যবাদের কবর রচনা করি।
হে মুহাম্মদ (সঃ) এর সৈনিকেরা,
বর্তমান পৃথিবীব্যাপী সভ্যতার সংঘাত নামে পৃথিবীর বুক থেকে ইসলাম নির্মূলের অভিযান চলছে। সমগ্র মুশরিক বিশ্ব আজ এক কাতারে দাড়িয়েছে ইসলাম নির্মূলের জন্য। সেই প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্ব আজ ঈমানের আলোকে কাতারবদ্ধ না হয়ে মুশরিক বিশ্বের সেবাদাসে পরিনত হয়েছে। তাই মুশরিক বিশ্ব পৃথিবীর এক একটি মুসলিম দেশকে আজ গিলে ফেলতে বসেছে। তাই হে রাসুলের সৈনিকেরা মুশরিক বিশ্বের সব ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তকে উপড়ে ফেলে মুসলিম বিশ্বে তোমাদের নেতৃত্বেই পরিশুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। মুনাফেক শাসকদের গর্দান উপড়ে ফেলতে হবে।
হে ঈমানী ভাইয়েরা,
ইহুদী, খ্রিস্টান, হিন্দু ও বৌদ্ধ থেকে শুরু করে সকল মুশরিক ধর্মাবল্ববী আজ একযোগে মুসলিম ও মুসলিম বিশ্বের উপর হামলে পড়েছে। এসব শয়তানি শক্তির মোকাবেলায় মুসলিম বিশ্ব বহুধাবিভক্ত। খেলাফতের আরব বিশ্ব আজ সা¤্রাজ্যবাদের সেবাদাসে পরিনত হয়েছে। তারাই আরব বিশ্বের এক একটি দেশকে সা¤্রাজ্যবাদের হাতে তুলে দিচ্ছে। তৈল ও প্রাকৃতিক সম্পদ লুন্ঠনের জন্য এসব সা¤্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী আজ পৃথিবীর দেশে দেশে মানবতা ও মানবাধিকার ভূলুন্ঠিত করছে। আরাকান, কাশ্মীর, ফিলিস্তিন,বসনিয়া ও চেচনিয়া ট্যাজেডি এরাই সৃষ্টি করেছে তাদের স্বার্থের জন্য। মুসলিম বিশ্বের লুন্ঠিত সম্পদ দিয়ে আজ সা¤্রাজ্যবাদী বিশ্ব নিজেদের পৃথিবীর মোড়ল সাজিয়েছে। আসুন ঈমানের জজবা নিয়ে তাদের পতন তরান্বিত করি।
হে মুসলিম বিশ্বের অহংকারে প্রতিক,
মুসলিম বিশ্বের এ চরম সংকটময় মুহুর্তে, অস্তিত্ব সংকটের এ দুঃসময়ে তোমাদেরকেই সালাউদ্দীন আয়ূবী, নুরউদ্দীন জঙ্গী হয়ে মুসলিম বিশ্বকে রক্ষা করতে হবে।
হে আমার প্রানের বন্ধুরা.
গাজী সালাউদ্দীন আইয়ুবী ছিলেন অসামান্য এক সেনানায়ক। তার জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে তার ঘোড়ার পিঠে, পাহাড়ে আর মরুভূমিতে, যুদ্ধের ময়দানে। আজ থেকেহাজার বছর আগে বিশ্বব্যাপী যে রক্তক্ষয়ী ক্রুসেড শুরু হয়েছিল সে ক্রুসেডের মোকাবেলায় করেছিলেন তিনি। বিচক্ষণ, দূরদর্শী ও কুশলী সমরনায়ক হিসাবে তার খ্যাতি চড়িয়ে পড়েছিলো বিশ্বজুড়ে। শক্রু-মিত্র নির্বিশেষে মানুষের জন্য তার দরদ ও মহানুভবতা ছিল কিংবদন্তীতুল্য। কেবল সশস্ত্র সংঘাত নয় কুটকৌশল ও সাংস্কৃতিক সে যুদ্ধ ছিল সর্বপ্লাবী। ইসলামকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার চক্রান্তে মেতে উঠেছিলো খ্রিস্টানেরা। একে একে লোমহর্ষক সংঘাত ও সংঘর্ষে পরাজিত হয়ে বেছে নিয়েছিলো ষড়যন্ত্রের পথ। মুসলিম দেশগুলোতে ছড়িয়ে দিয়েছিল গুপ্তচর বাহিনী। বেহায়াপনা ও চরিক্র হননের ¯্রােত বইয়ে দিয়েছিলো মুসলিম দেশগুলোর সর্বত্র। একদিকে সশস্ত্র লড়াই, অন্যদিকে কুটিল সাংস্কৃতিক হামলা এ দুয়ের মোকাবেলায় রুখে দাড়িয়েছিল সালাউদ্দীন আইয়ুবী। তিনি মোকাবেলা করেছিলেন এমনসব অবিশ্বাস্য ও শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনার যা মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। আজ সালাউদ্দীন আইয়ুবী নেই, কিন্তু আমরা সালাউদ্দীনের ছোট্ট ভাইয়েরা তো আছি। আসুন না সেই আইয়ুবীর আমরাও রুখে দাড়ায়। আমরা সাহস করে নামলে মহান আল্লাহ আমাদের সহযোগী হবেন ইনশাল্লাহ।

হে যুবকেরা,
সভ্যতার এ যুগে এসে আজ চর্তুদিকে যুব অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ মহামারী বিরাজমান। অপসাংস্কৃতিক আগ্রাসন, পর্ণোসামগ্রী ব্যাপক বিস্তার, স্যাটেলাইট আগ্রাসন, মাদকের নীল থাবা, ইহুদী খ্রিস্টান সা¤্রাজ্যবাদী চক্রের ভয়াবহ চক্রুান্ত , মদ ও নারীর বিষাক্ততায় পড়ে মুসলিম বিশ্বের অহংকারের প্রতিক যুব সম্প্রদায় আজ নিজেদের পরিচয় ভূলে ঘুমিয়ে আছে। যুব সম্প্রদায়কে এভাবে ঘুমিয়ে রেখে সা¤্রাজ্যবাদী চক্র দেশে দেশে আগ্রাসন চালিয়ে মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ সমূহ দখল নিচ্ছে। আর সেখানে মুসলিম যুবকদের উপর গনহত্যা চালানো, লুন্ঠনসহ মুসলিম মা বোনদের উপরও চালানো হচ্ছে পাশবিক নির্যাতন। এমনই এক নির্যাতিত বোনের চিঠি আপনাদের পড়ালাম। তাই আজ মা বোনদের এ আত্মচিৎকারে সাড়া দিয়ে ঘুম ভেঙ্গে জেগে উঠুন আর লড়াই করে মুসলিম মা বোনদের হায়নার কবল থেকে উদ্ধার করুণ। ইহুদী খ্রিস্টানদের সব ষড়যন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়ে শান্তি সুখের ইসলামের পৃথিবী বির্নিমান করুন। সমগ্র মুসলিম বিশ্ব আমাদের সাথে থাকবে ইনশাল্লাহ।
হে বীরত্বের প্রতিক,
আমার মা ও বোন যদি এভাবে নির্যাতনের শিকার হতো তাহলে কি আমরা শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতাম? আমাদের জীবনের বিনিময়ে হলেও কি আমরা তাদেরর রক্ষা করতাম। কারণ তারা আমাদের মা ও বোন বলে। হাদীস শরীফে রাসুল সঃ বলেছেন, সমগ্র মুসলিম জাতি এক শরীরের মতো, শরীরের কোন জায়গায় ব্যাথা লাগলে যেমন তা সব খানে অনুভূত হয় ঠিক তেমনি মুসলিম জাতির কোন কিছু হলে সমগ্র মুসলিমের কষ্ট লাগ্।ে তাহলে আজকের ইরাকে, আফগানিস্তানে, আরাকানে, ফিলিস্তিনেসহ পৃথিবীর দিকে নির্যাতিত মা বোন ও ভাইদের আত্ম চিৎকারে আমরা কেন সাড়া দিচ্ছি না? আমরা কেন নিরবে শুধু শোনেই যাচ্ছি? তারাও তো আমাদের মা বোন ভাই, তাদের রক্ষার জন্য আমাদেরকে যদি প্রানও দিতে তাহলেও আমরা পিছপা হবো না। আমাদের জীবনের বিমিময়ে আমরা তাদেরর রক্ষা করবো ইনশাল্লাহ। এটাই হোক মুসলিম বিশ্বের সকল যুব সমাজের একান্ত অঙ্গীকার।
হে আল্লাহর বান্দারা,
বোন ফাতেমার চিঠিটা প্রকাশিত হওয়ার পর আনুমানিক রাত ১২টা ২৫ মিনিট, ডিসেম্বর ২১, ২০০৪, শনিবার, মুজাহিদীন যোদ্ধারা দণি বাগদাদের আবু গারীব কারাগারে হঠাৎ করে এক নজিরবিহীন হামলা চালায়। প্রায় একশত মুজাহিদীন কারাগারে মারাত্মক হামলা চালায়। প্রচন্ড গোলাবর্ষনের দ্বারা আমেরিকান সেনাদের কম্পাউন্ডের ভেতরে অবরোধ করে রাখে। মুজাহিদীনরা ৮২ মিলিমিটার এবং ১২০ মিলিমিটার গোলাকার কামান দ্বারা আমেরিকানদের অনবরত গুলিবর্ষণ করতে থাকে। বাইরে বিশাল জনতার সমাবেশ হয়। হামলাটি সংঘটিত হয়েছিল ফাতেমা নামের একজন মহিলা কয়েদির একটি চিঠির জন্য, যা মুসলিম যোদ্ধাদের মনে প্রতিশোধের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। ফাতেমার চিঠির একটি হাতে লেখা দলীল স¤প্রতি আবু গারীব কারাগার হতে গোপনে উদ্ধার করা হয়েছে। ফাতেমা ঐ এলাকার একজন খ্যাতিমান মুজাহিদের বোন। আমেরিকান সৈন্যরা কিছুদিন পুর্বে ঐ মুজাহিদের বাড়িতে হঠাৎ হামলা চালায়। কিন্তু তাকে পায় না। তাই তারা মুজাহিদের বোনকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায় যেন ঐ মুজাহিদ নিজ থেকে ধরা দেয়।
প্রিয় ভাইয়েরা,
সবশেষে আপনাদের ইসলামের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ বীর খালেদ বিন ওয়ালিদের একটি কথা স্বরণ করে দিতে চাই, তিনি মৃত্যু শর্যায় শায়িত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেছিলেন, সহকর্মীরা তার কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি মৃত্যুর ভয়ে কান্না করছি না, আমাকে এভাবে বিছানায় পড়ে মৃত্যুবরণ করতে হচ্ছে বলে কান্না করতেছি। কারণ ইসলাম ও কুফরের সবচেয়ে বড় বড় যুদ্ধে আমি সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেছি, আমার সামনে আমার অসংখ্যা সহকর্মী সাহাদাতের মৃত্যুবরণ করেছে কিন্তু আমার শাহাদাতের মৃত্যু নসিব হয় নাই। তাই আমি বিশ্বের মুসলিম যুব সমাজের উদ্দ্যেশ্য বলতে চাই যারা নাকি মৃত্যুর ভয়ে জিহাদে বা যুদ্ধের ময়দানে যেতে চায়না, তাদের বলতে চায়, হে যুবক ভাইয়েরা আমি পৃথিবীর বড় বড় যুদ্ধে সেনাপতি ছিলাম কিন্তু আমার ভাগ্যে শাহাদাতের মৃত্যু নসিব হয় নাই তাই যুদ্ধে বা জিহাদের ময়দানে গেলে কারো মৃত্যু হয় না, তা যদি হতো তাহলে আমিই প্রথম যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করতাম।
এ চিঠিটি পড়ার পর আসুন মুসলিম বিশ্বের সকল যুব সমাজ একত্রিত হয়ে সারা পৃথিবীতে সাম্রাজ্যবাদকে খতম করে করে দেয়ার জন্য ঝাপিয়ে পড়ি। তাহলে ইনশাল্লাহ তার পালানোর পথ পাবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জরিপে মার্কিন পতনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে আমরা তাদের পতনকে আরো তরান্বিত করি।
ইরাকের এই বোনের চিঠি পড়ে মনে হচ্ছে মুসলমানদের বিজয় অতি সন্নিকটে।.
আল্লাহ তুমি এই জালিমদের হাতথেকে মুসলিমদের জান মাল ও ঈমানকে রাকরো। তোমার কাছেই সাহায্যপ্রার্থনা করিতেছি, নিশ্চই তুমি সবচাইতে বড় সাহায্যকারী।.
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29878208 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29878208 2013-09-21 18:56:40
পচন ধরেছে মার্কিন সমাজ ব্যবস্থায় ক্যামব্রীজ ইউনিভার্সিটির ডক্টর আইডিমিউম পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের এবং পুরাতন গোত্রসমূহের লোকদের জীবনী অধ্যায়ন করেছেন। এ অধ্যায়নের পর তিনি সভ্য সমাজের লোকদের জীবনী অধ্যায়ন করেছে। তারপর তিনি এবিষয়ক স্বীয় বই ‘‘সেক্স কালচার’’ এ খুবই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। ভূমিকায় তিনি লিখেন,আমি বিভিন্ন পদ্ধতিতে অনুসন্ধানের পর যে ফলাফল লাভ করেছি তার সংক্ষিপ্ত বিবরন এই ঃ- প্রতিটি জাতি দুটি জিনিসের উপর নির্ভর করে। একটি হল তাদের সম্মিলিত জীবন ব্যবস্থা,দ্বিতীয়ত এমন আইন শৃঙ্খলা যা তারা যৌন চাহিদার উপর আরোপ করে। তিনি আরোও লিখেন যে,যদি আপনি কোন জাতির ইতিহাস দেখেন যে, কোন সময় তাদের সভ্যতা উন্নত হয়েছে অথবা নীচে নেমে গিয়েছে তাহলে আপনি খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন যে, তারা যৌন বিষয়ক আইনে রদবদল করেছে। যার ফলাফল সভ্যতার উন্নতি অথবা অবনতির আকৃতিতে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি ৮০ টি গোত্রের সভ্যতা সংস্কৃতি অধ্যায়ন করে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হন তা এই-১.যে সকল গোত্রে বিবাহের পূর্বে যৌন চাহিদা মিটানোর অবাধ স্বাধীনতা ছিল,তারা সভ্যতার সর্বনিন্ম স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। ২. যে সকল গোত্রে বিবাহের পূর্বে যৌন চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে মোটামুটি আইনানুগ ব্যবস্থা ছিল,তারা সভ্যতার মধ্যস্তরে ছিল। ৩. সভ্যতার সর্বোচ্চ শিঔরে সে জাতিই আরোহন করেছে,যারা বিবাহের পূর্বে যৌনাচার থেকে পুতঃপবিত্র ছিল। যারা বিবাহের পূর্বে যৌনাচারকে অবৈধ ও অপরাধ মনে করত। উক্ত লিখক আরো মন্তব্য করেন যে,মনোবিজ্ঞানের অনুসন্ধানে জানা যায় যে, যৌনাচারের উপর আইন আরোপ করা হলে তার অবশ্যম্ভবী ফলাফল দাাঁড়াবে এই যে,জাতির কর্ম ও চিন্তা চেতনার শক্তি ও যোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু যে জাতি নারী পুরুষকে অবাধ যৌনতার সুযোগ দেয় তাদের কর্মক্ষমতা,চিন্তাশক্তি এবং যোগ্যতা ধ্বংস হয়ে যায়। রোমীয়দের অবস্থাও তাই হয়েছিল। রোমীয়রা আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে অবাধে পশুর ন্যায় যৌনতায় লিপ্ত হত। ফলে তারা শারীরিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং কোন কাজ করার মত ক্ষমতা তাদের ছিল না। এভাবে পৃথিবীর ধ্বংসকৃত জাতির সবাই যৌন অপরাধের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। আজকে যৌনতার ভয়াবহ অবক্ষয়ের পড়ে মার্কিনীরা যে পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তা আপনাদের দেখাবো।
তালাকের রাজধানী আমেরিকা
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে বর্তমানে তালাকের রাজধানী বলা হয়। বুক অফ ট্যাকসর ১৯৭৭ এর রির্পোট মোতাবেক ১৯৭৬ সালে প্রথম ছয় মাসে আমেরিকায় ৯৮৭০০০ টি বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। তখন ৫৩৮০০০ টি তালাকের ঘটনা ঘটে। অর্থ্যাৎ প্রতি মিনিটে গড়ে ২ টি করে বিবাহ তালাকের মাধ্যমে ছিন্ন হয়। লসএঞ্জেলেসে প্রতি বছর প্রায় ৫০,০০০ তালাক সরকারী ভাবে নথীভূক্ত করা হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে ১৮ টি বিয়ের মধ্যে ১ টি তালাক কার্যকর করা হতো। ১৯৬০ সালে থেকে তা ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরবর্তী ২৫ বছর এ হার তিন গুন বৃদ্ধি পায়। এখন বার্ষিক তালাকের সংখ্যা ১১,৬০,০০০ টি। আর একটি পরিসংখ্যানে জানা যায়, আমেরিকায় বার্ষিক ১৫ লাখ নারী তালাক প্রাপ্ত হয়।
অবৈধ সন্তান
আমেরিকার জৈনিক বিশেষজ্ঞ মুহানী বিশ্বকে চমকে দেওয়ার মতো এক গবেষনা করেছেন। তাতে তিনি এক পর্যায়ে বলেন,শ্বেতাংঙ্গ লোকদের মধ্যে অবৈধ সন্তানের ব্যাপকতা অনেক। ১৯৬০ সালে এই নোংরামী কৃষ্ণাঙ্গদের এলাকায় আসে। তখন মুহানী বিপদ সংকেত বাজিয়ে বলেছিল, যদি এই নোংরামী বন্ধ করা না হয়, তবে কৃষ্ণাঙ্গদের পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে। ১৯৯১ সালে ১২ লাখ অবৈধ সন্তান জন্ম হয়েছে। গত দিন জন্ম নেওয়া শিশুদের সংখ্যা ৩০%, কৃষ্ণাঙ্গ ৩২%, শ্বেতাংঙ্গ ২২%। টাইমস এর একটি পরিসংখ্যানে জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক ২০ লাখ অবৈধ সন্তান জন্ম নেয়। ১৯৬৩ সালে ২০ লাখ জারজ সন্তান জন্ম নেয় পরবর্তী বছরে সাড়ে তেইশ লাখ। বর্তমানে কয়েক কোটি ছাড়িয়ে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জারজ সন্তানে গিজ গিজ করছে।
অপরাধের দেশ
আমেরিকা তো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ। সেখানে ১৯৬৫সালে ৫০ লাখ অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে।অথচ জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় বিপদজনক অপরাধের বৃদ্ধির পরিমান ১৪গুণ বেশি। অপরাধ বৃদ্ধির শতকরা হার ১৭৮% তখন জনসংখ্যা বৃদ্ধির শতকরা হার ছিল ১৩% ছিল। প্রতি ১২ সেকেন্ডে একটি অপরাধ সংঘঠিত হয়। প্রতি ঘন্টা পর একজন লোক খুন হচ্ছে, প্রতি ২৫ মিনিটে একটা করে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, প্রতি মিনিটে একটি চুরির ঘটনা ঘটছে, প্রতি ৫ মিনিটে ১টি ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। ১৯৫১ সালে ১ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৩০ জনে ১টি খুন। ১৯৬০ সালে ৫জন, ১৯৬৭ সালে ৯জন। প্রতি মিনিটে একটি হত্যাকান্ড, আটটি চুরির ঘটনা, মাসে পচিশ হাজার কার চুরি হয়। আমেরিকায় প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু যৌন নিপীড়নসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এ জাতীয় ঘটনায় কেবল ২০১০ সালে আমেরিকায় ১,৬০০ শিশু মারা গেছে।
বিপদজনক শহর ওয়াশিংটন
আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন। যেখানে যুবকদের জন্য ১৬ জুলাই থেকে রাতে কারফিউ জারীর জন্য আইন করে ওয়াশিংটনের মেয়র স্বাক্ষর করেছেন। ঐ আইনের অধীনে ১৭ বছর ও তার চেয়ে কম বয়সী যুবকদের ঘুরাফেরা বে-আইনি ঘোষনা করা হয়েছে। উদ্দ্যেশ্য-রাতে যুবকদের ঘরে থাকতে হেেব। এ আইন না মানলে অর্থদন্ড জরিমান গুনতে হবে অভিভাকদের। ওয়াশিংটন ডিসির অপরাধ প্রবনতা কমানোর এ উদ্যেগ। কেননা পৃথিবীর সবচেয়ে বিপদজনক শহন হল ওয়াশিংটন। ১৭ জুলাই প্রকাশিত দৈনিক ‘খবর’ পত্রিকায়ও ওয়াশিংটন সম্পর্কে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে,আমেরিকা রাজধানী যেমন মর্যাদাপূর্ণ ঠিক তদ্রুপ নিকৃষ্টতম শহর যা চারিত্রিক সামাজিক ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার দিক থেকে একদম অধঃপতনের শিকার হয়েছে।
ধর্ষণের দেশ
এফ.বি.আই এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৯০ সালে ১ লক্ষ ২ হাজার ৫৫৫ টি ধর্ষণের কেস রির্পোট করা হয়েছে। আরো বলেছে যে, এ রির্পোট মোট ধর্ষণের মাত্র ১৬ ভাগ কেস রির্পোট করা হয়েছে। তার মানে ১৯৯০ সালে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৬ লক্ষ ৪০ হাজার ৯৬৮ টি। অর্থ্যাৎ ১৯৯০ সালে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৭শত ৫৬ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯২-৯৩ সালে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৯শতেরও বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অর্থ্যাৎ প্রতি ১.৩ মিনিটে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে একটা। মোট ধর্ষনের কেস রির্পোট করা হয়েছে ১৬%। যতগুলো কেস রির্পোট করা হয়েছে তার ১০% অ্যারেস্ট হয়েছে। মানে ধর্ষকদের মাত্র ১.৬% এরেস্ট হয়েছে। যারা এরেস্ট হয়েছে তাদের ৫০% মুক্তি পেয়েছে বিচার আগেই বিনা বিচারে। অর্থ্যাৎ মাত্র .০৮ শতাংশ ধর্ষকের বিচার হয়েছে। ১২৫টি ধর্ষণ করলে শাস্তি পায় মাত্র একবার। আর যাদের বিচার হয়, তাদের ৫০% শাস্তি পায় ১ বছরের কম কারাদন্ড। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আমেরিকায় যত ধর্ষণ সংঘঠিত হয় তার বেশির ভাগই মানে শতকরা ৯৫ ভাগের বেশি ধর্ষণ সংঘঠিত হয় মাতাল অবস্থায়। আর এসব ঘটনার প্রায় সব অজাচার ঘটে। মানে বাবা-মেয়ে,মা-ছেলে,ভাই-বোন ইত্যাদী এদের সাথে যৌনকর্ম। পরিংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায়, ধর্ষণের দায়ে সাজা প্রাপ্ত অপরাধীরা জেল খাটার যখন মুক্তি পায়,তাদের শতকরা ৯৫ জনই আবার ধর্ষণ করে। (জাকের নায়েক লেকচার সমগ্র)
চারিত্রিক অধঃপতনে ধস নামছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
বর্তমানে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখানো হয়েছে, আমেরিকার স্কুল সমূহে সংঘঠিত অপরাধের মাত্রা ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। নিউইয়ার্ক টাইমসে জর্জ ডাইনের এক রির্পোটের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে, আমেরিকার বিগত ১৫-১৯ বছরের মধ্যে প্রতি হাজার মেয়ের মধ্যে ৯৬% অবৈধ গর্ভবতী হয়েছে। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত আমেরিকায় ২,৭০,০০০ লোক এইডস এ আক্রান্ত। কঠোর আইনের বদলে “সর্তকতার সাথে প্রেম করো” ”সর্তকতার সাথে মহব্বত করো” বলে যুব সমাজকে উপদেশ দেয়া হয়।। হাই স্কুলের ৮৬% দশ বছর বয়সী ছাত্রী গর্ভবতী হয়। কলেজ ছাত্রদের উপর এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে যা ৬২০০ নারী ও পুরুষের মাঝে ৩২ টি ক্যাম্পাসে ৩ বছর পর্যন্ত চালানো হয়। খ্যাতনামা মনোস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ম্যারিকাস বলেছেন,ঐ ক্যাম্পাস সমূহে ২০% মেয়ের সাথে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা ৮৭৩৪০ টি। আমেরিকায় হাই স্কুলে প্রতি ২ জনে এক জন মদ্যপ, চার জনে ১ জন সিগারেট পান করে, দশ জনে ১ জন হাশীশ ব্যবহার করে। প্রতি সাত মিনিটে একটি শিশু নেশা করার দায়ে গ্রেফতার হয়। প্রতি ২৭ সেকেন্ডে একটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে মা হয়। প্রতি ৪৭ সেকেন্ডে একটি শিশু ধর্ষিতা হয়। প্রতি ৩৬ মিনিটে আগ্নেয়াস্তে এক জন লোক নিহত বা আহত হয়। জর্জ লিন্ডসে লিখেন, হাই স্কুলের ৪৯৫ জন অল্প বয়সী তার কাছে স্বীকার তারা ছেলেদের সাথে দৈহিক মিলনের অভিজ্ঞা লাভ করেছে, এর মধ্যে ১২৫ জনের গর্ভ হয়। মানব সভ্যতার জন্য নতুন এক ভয়ঙ্কর তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটি খবর দিয়েছে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেড সেভেন থেকে টুয়েলভ কাসের ছাত্রীদের অর্ধেকই যৌন হয়রানির শিকার। অন্তত গত শিাবছরের ওপর পরিচালিত গবেষণা রিপোর্ট তাই বলছে। যৌন নির্যাতনের শিকার ছাত্রীদের শতকরা ৮৭ ভাগের ওপর পড়েছে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব। গবেষণায় বলা হচ্ছে, ছেলেরা যেখানে শতকরা ৪০ ভাগ যৌন হয়রানির শিকার সেখানে মেয়েদের সংখ্যা শতকরা ৫৬ ভাগ। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ২০১০-১১ শিা বছরে গড়পড়তা শতকরা ৪৮ ভাগ ছাত্র-ছাত্রী যৌন নির্যাতনের শিকার। শতকরা ৪৪ ভাগ ছাত্র-ছাত্রী বলেছে, তারা মানুষের হাতে নির্যাতিত হয়েছে।মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলোতে ছাত্রীরা সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ সংখ্যা শতকরা ৫২ ভাগ। এরা সবাই শারীরিকভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে আর শতকরা ৩৬ ভাগ অনলাইনে। এর বিপরীতে মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রদের শতকরা ৩৫ ভাগ শারীরিক যৌন হয়রানির শিকার এবং ২৪ ভাগ অনলাইনে।
বিলুপ্ত হচ্ছে পরিবার প্রথা
আমেরিকার এক ম্যাগাজিনে Better Homes and Eardins তার পাঠকদের প্রশ্ন করেছিল আপনারা কি মনে করেন, আমেরিকার পারিবারিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে? ৭৬% জবাব ছিল হ্যা, ৮৫% লোক বিবাহের ব্যাপারে তাদের আশা পূর্ণ হয়নি বলে মত দেয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়,প্রতি ১৮ সেকেন্ডে একজন স্ত্রী বা মহিলা মারা যায় স্বামী বাব বন্ধুর হাতে। টাইমস (২৩ মার্চ ১৯৮৭) আমেরিকায় প্রায় ১৫% বিবাহিত ব্যক্তি শারীরিক দিক থেকে সন্তান প্রজননে অক্ষম (টাইমস জানু,১৯৮৭)। আামেরিকান নারী সমাজ মাতৃত্ব এবং ঘর সামনোর দায়িত্ব ১৫ বছর পূর্বে ছেড়ে দিয়েছে। বিংশ শতাব্দির শেষ প্রান্তে পৌছে আমেরিকান বৃদ্ধিজীবিরা বলতে বাধ্য হচ্ছেন,বিংশ শতাব্দির সূচনা লগ্নে আমেরিকা যে বিষয়কে উন্নতির সোপান মনে করেছিল, তা বর্তমানে তাদের জন্য ধ্বংসের সোপান প্রমাণ হচ্ছে। টাইমসের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি বছর আমেরিকায় ২৫ লাখ অবিবাহিত মেয়ে মা হয়
আমেরিকায় দৈনিক ৪ হাজার গর্ভপাত করা হয়, তন্মর্ধে ৬৫% ভাগ মহিলাই অবিবাহিত। ১৯৭৩ সালে আমেরিকার সুপ্্রীমকোটের গর্ভপাতকে বে-আইনী ঘোষনার পর বার্ষিক ১৫ লাখ গর্ভপাত ঘটানো হয়ে থাকে। বিগত ২০ বছরে ৩০ কোটি শিশুকে বংশচ্যুত করা হয়েছে। প্রতি বিশ সেকেন্ডে ১ টি গর্ভপাত ঘটানো হচ্ছে। আমেরিকার প্রতি ৫ জনে একজন পাগল। আমেরিকান সাড়ে চার কোটি মানুষ মস্তিস্কের ব্যাধিতে আক্রান্ত । লেজকাটা ঘৃণিত ইউরোপ ও আমেরিকায় পরিবার প্রথা ভেঙ্গে জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে হাজার বছর এগিয়ে গিয়েও ধ্বংসোন্মুক্ত সভাতায় পরিণত হতে চলেছে। বিকৃত সভ্যতা ভেঙ্গে দিয়েছে মা-সন্তানের শ্রদ্ধার দেয়াল, পিতাকে কাছে না পাওয়ায় সন্তানের শর্য্যাসঙ্গী হচ্ছে মা। অসৎ পিতার যৌন লালসা পূরণে আপন কন্যা হচ্ছে অঙ্গশায়িনী। এ অনৈতিকতার ছোবলে ক্ষত বিক্ষত পশ্চিমা জগৎ। সেখানকার অসভ্য মানুষগুলো শান্তির জন্য হন্যে ঘুরছে। ৫০ বছর পূর্বে আমেরিকায় পারিবারিক বন্ধন ছিল, এখন তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়েছে।
অশান্তি থেকে বাচতে আত্মহত্যার ব্যাপকতা
সাপ্তাহিক টাইমস এর রির্পোটের শিরোনাম “সন্তানের আত্মহত্যা” এতে বলা হয়েছে,আমেরিকায় ১০-২০ বছর বয়সী যুবকদের আত্মহত্যার হার দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে। ১৯৫০ সালের তুলনায় এ সংখ্যা এখন তিন গুন বেড়েছে। ১৯৮৫ সালে লাখে ৬০ যুবক (তত সংখ্যক বড়রা) আত্মহত্যা করেছে। প্রতি বছর ১৩-৩০ বয়সী ৫ হাজার যুবক আত্মহত্যা করে। বিগত ১০ বছরে ইচ্ছাকৃত আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা ৩৫% ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৬২ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত হত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৮.৬ ভাগ।
অপরাধের ভয়াবহতায় মার্কিন সামরিক বাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে মহামারির আকারে যৌন অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে। এ ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে পেন্টাগণ নানা উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসেনি।
প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সামরিক বাহিনীর অন্তত ২৬,০০০ সক্রিয় সদস্য যৌন আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও এ সময় যৌন আক্রমণের শিকার হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন এমন সদস্যের সংখ্যা ৬ শতাংশ বেড়ে ৩,৩৭৪ জনে উন্নীত হয়েছে, তবে নাম প্রকাশ না করে যেসব সদস্য যৌন আক্রমণের শিকার হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তাতে মোট সংখ্যা ২৬,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০১১ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৯,০০০।
যৌন আক্রমণের শিকার সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা ও উর্ধতন কর্তৃপরে নজরদারি বাড়ানো হলেও তাতে কোনো লাভ হয়নি।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ লাখ সামরিক বাহিনীর ৬.১ শতাংশ সক্রিয় নারী সদস্য বা মোট ১২,১০০ নারী সদস্য জানিয়েছেন, ২০১২ সালে তারা অযাচিত যৌন সংস্পর্শে এসেছেন। ২০১১ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮,৬০০। পুরুষদের মধ্যে যৌন আক্রমণের শিকার লোকের সংখ্যা ১০,৭০০ থেকে বেড়ে গত বছর ১৩,৯০০ তে উন্নীত হয়েছে। মার্কিন বিমান বাহিনীর ৩০ জনেরও বেশি মহিলা ক্যাডেট অভিযোগ করেছেন, তারা প্রশিণ নেয়ার সময় প্রশিকদের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। টেক্সাস বিমান প্রশিণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানান। ঘাঁটিতে এ ধরনের যৌন নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনা বেড়েই চলেছে বলেও তারা অভিযোগ করেছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর নারী সদস্যরা অহরহ যৌন নির্যাতন ও অবৈধ যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে থাকেন এবং প্রতিবছর হাজার হাজার ঘটনা রেকর্ড করা হয়। পৃথক আরেক হিসাবে এর আগে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনীতে কর্মরত প্রতি পাঁচ জন মহিলার মধ্যে একজন এবং প্রতি ২০ জন পুরুষের মধ্যে একজন যৌন হয়রানির শিকার হন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় একজন মহিলা সেনার ধর্ষিত হওয়ার আশংকা ২০ থেকে ৪০ শতাংশ। তবে, মার্কিন সেনাবাহিনীতে যৌন হেনন্তর ৮০ শতাংশ ঘটনা চেপে যাওয়া হয় বলে এ বিষয়ে যথার্থ হিসাব পাওয়া যাবে না। স¤প্রতি মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি’র এক হিসাবে বলা হয়েছে- গত আট বছরে চাকরি হারানো মার্কিন কমান্ডারদের মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগই যৌন কেলেঙ্কারির কারণে চাকর হারিয়েছেন। বিশ্বব্যাপী ১২০ টির বেশি দেশে মার্কিন স্পেশাল বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সে সব দেশেও মার্কিন বাহিনীর ধর্ষণ ও যৌন কেলেংকারীর ঘটনা তোলপাড় সৃষ্টি করে চলেছে। বিশেষ করে আগ্রাসিত আফগানিস্তান ২০ কারাগারে ও ইরাকে ১৫ কারাগারে মার্কিনীদের যৌন নির্যাতন,খুন, গুম মানবতাকে ভূলুন্ঠিত করে চলেছে। আমেরিকার বিকৃত যৌনাচারের আধিক্য ও বিভংস্রতা দেখেআমেরিকার এককালের খ্যাতিমান টিভি বিশ্লেষক জিমি সোয়াগার্ট তার বিখ্যাত বই হোমোসেক্্রয়ালিটিতে আর্তনাদ করে বলেছেন- যে অপরাধের জন্য সডোম ও গমোরা নগরী ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে সে অপরাধের জন্য যদি বর্তমান ইউরোপ ও আমেরিকাকে ধ্বংস না করেন তাহলে তাহলে সৃষ্টিকর্তকেই একদিন আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29875860 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29875860 2013-09-14 11:11:26
সড়ক দূর্ঘটনায় আর কত স্বপ্নের অকাল মৃত্যু হবে? সড়ক দূর্ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনের একটি ভয়াবহ অভিশাপ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় দেশের সড়ক পথগুলো এক একটি
মৃত্যুপুরিতে পরিনত হয়েছে। এ মৃত্যুপরির ফাঁদে পড়ে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ অকালে পরপারে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে। দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন আর অসুস্থ রাজনীতির বিভীষিকাময় পরিবেশের মাঝে বসবাস করেও সবাই জীবনকে নিয়ে কম বেশি স্বপ্নের ঝাল বুনে। আর আমাদের এ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা দেশের স্বপ্নের কারিগরদের অকালে পৌছে দিচ্ছে পরপারে। মনে হয় মানুষদেরকে পরপারে পাড়ানোর জন্য দেশের সড়ক বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ সড়ক দূর্ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বাংলাদেশের মত এমন অনাকাঙ্খিত সড়ক দূর্ঘটনা পৃথিবীর খুব কম দেশেই সংগঠিত হয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ ও দনি-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিঘন্টায় ৪০জন লোক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহিত হয়। বাংলাদেশে এ মৃতের হার ১৪ শতাংশ। এ সড়ক দূর্ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে চরম দুঃখ কষ্টের সমাবেশ ঘটিয়েছে। একটি সড়ক দূর্ঘটনা শুধু একটি প্রাণের শেষ নয় একটি পরিবারের ধ্বংসের কারণও। আর একটি স্বপ্নের অকাল মৃত্যুর অন্যতম ঘাতকও। অসুস্থ রাজনীতির বিষাক্ত থাবায় দেশের অন্যান্য সেক্টরের মতো পরিহন সেক্টরেও বিরাজ করছে ভয়াবহ নৈরাজ্য যা সড়ক দূর্ঘটনার বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১০ হাজার মানুষ দূর্ঘটনায় নিহিত হয় বলে একটি বেসরকারী সুত্রে প্রকাশ যাতে গড় প্রতি দৈনিক মৃতের সংখ্যা দাড়ায় ২৭ দশমিক ৩৯। সড়ক দূর্ঘটনার এ অবাধ হত্যাযজ্ঞ প্রতিরোধের জন্য যথাযথ পদপে নেওয়ার বদলে যখন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন,"সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে আন্দোলন করার কিছু নেই, অ্যাকসিডেন্ট ইজ অ্যাকসিডেন্ট"!!!! এটা অবশ্যই সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যাওয়া আত্মাদের প্রতি এবং নিহতদের স্বজনদেরর প্রতি 'নিষ্ঠ্রু' এবং 'নির্মম পরিহাস'। এসব কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা দিন দিন ভয়াবহ আকারে বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই এ যন্ত্রদানবের দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দেশের বহু জ্ঞানী, গুনী, বুদ্ধিজীবি, চলচিত্র নির্মাতা, নিষ্পাপ শিশু থেকে বৃদ্ধ, স্কুল-কলেজের শিার্থীসহ অনেকেই অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। দুর্বল আইন ও সরকারের উপযুক্ত মনিটরিং অভাবের সুযোগ নিয়ে চালক নামের ঘাতকেরা রীতিমত হত্যার লাইসেন্স পেয়েছে এমন অবস্থাই যেন এখন নিত্য দিনের চিত্র। অদ ও আনাড়ি চালকের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, মালিকের স্বেচ্ছাচারিতা, খামখেয়ালীপানা, জনসচেতনতার অভাব, দায়ী চালকের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির বিধান না থাকা, চালকের মোবাইল ফোনে কথা বলা- এসব কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ মহল। সড়ক দুর্ঘটনা যেমন একদিকে কেড়ে নিচ্ছে বহু জ্ঞানী-গুনী, বুদ্ধিজীবির প্রাণ তেমনি অন্যদিকে দেশ হারাচ্ছে তার সোনার সন্তান। মাননীয় মন্ত্রী ভুলে গেছেন মিরসরাই ট্রাজেডি, যেখানে অকালে প্রাণ হারায় ৫৩ জন শিশু শিার্থী, ভুলে গেছেন মানিকগঞ্জ রোডে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্র্যাত চলচিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মনির নিহত হওয়ার কথা। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রণহানির সংখ্যা দিন দিন ভয়াবহ আকারে বেড়েই চলেছে। দুর্বল আইন, উপযুক্ত মনিটরিং ও সরকারের দ্বায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর কর্তব্যে অবহেলার সুযোগে চালকেরা রীতিমত বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র সরকারি হিসাব অনুযায়ী গত ১৭ বছরে সাড়ে ৭০ হাজার সড়ক দুর্ঘটনায় অর্ধলাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। আহতের সংখ্যা আরো বেশি।
* সড়ক দূর্ঘটনার হতাহতের পরিসংখ্যান ঃ
উবঢ়ধৎঃসবহঃ ড়ভ টৎনধহ ধহফ জবমরড়হধষ চষধহহরহম, ইধহমষধফবংয টহরাবৎংরঃু ড়ভ ঊহমরহববৎরহম ধহফ এর জনাব কে,এম, মনিরুজ্জামান ও জনাব রাকিব মিত্রের এক গভেষণায় দেখা গেছে যে, ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে ২৩ হাজার ২৭৩টি দূর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। যাতে ১৯৯৮ সালে ৩৫৩৩টি, ১৯৯৯ সালে ৩৯৪৮টি, ২০০০ সালে ৩৯৭০টি, ২০০১সালে ২৯২৫টি, ২০০২ সালে ৩৯৪১টি, ২০০৩সালে ৪১১৪টি।প্রতি বছরের তুলনায় পরবর্তী বছরের দূর্ঘটনার সংখ্যা কোন ভাবেই হ্রাস করা যায়নি। শুধু ২০০১ সাল ছাড়া, বরং তা ২০০৩ সালে তা বেড়েছে।১৯৯৮-২০০৩ সালে ২৩ হাজার ২৭৩টি দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৭০৮৪ জন, আহত হয়েছেন ১৯৮৪১জন।তাছাড়া শুধু ঢাকা শহরেই ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সালে মোট দূর্ঘটনা ৫হাজার ১৬৮টি। মৃতের সংখ্যা ২১১০জন, আহত হয়েছেন ৩৯২৩জন।
বাংলাদেশ পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বছরে সড়ক দূর্ঘটনায় ৪০০০ প্রাণ বিনাশ হয়, আহত হন ৫০০০জন। এতে আরো দেখা গেছে যে, অধিক সংখ্যক দূর্ঘটনা রুরাল এরিয়ায় সংগঠিত হয়। জাতীয় ও আঞ্চলিক বিশ্বরোডে তুলনামূলক কম সংখ্যক দূর্ঘটনা ঘটে। এতে রাস্তায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশও দূর্ঘটনায় কবলিত হয়। মৃতের সংখ্যা সহনশীল পর্যায়ে থাকলেও হাসপাতালে ইমাজেন্সি সহ হসপিটালাইজড্ হয়েছেন অনেকেই।
আসুন দেখি বিগত কয়েকটি বছরের সড়ক দূর্ঘনার ভয়াবহ পরিসংখ্যান<img src=" style="border:0;" />br /> ১৯৯৪ সালে নিহত ৩০১৩ আহত ২৭৩৫ জন, ১৯৯৫ সালে নিহত ১৬৫৩ আহত ২৮৬৪ জন ১৯৯৬ সালে নিহত ২০৪১ আহত ৪০৭৬ জন ১৯৯৭ সালে নিহত ৩১৬২ আহত ৩৯৯৭, ১৯৯৮ সালে নিহত ৩০৮৫ আহত ৩৪৫৩, ১৯৯৯ সালে নিহত ৩৩১৪ আহত ১৯১১, ২০০০ সালে নিহত ৩৪৩০ আহত ৩১৭২,২০০১ সালে নিহত ৩১০৯ আহত ৩৬০৭ ২০০২ সালে নিহত ৩৩৯৮ আহত ৩০৭০, ২০০৩ সালে নিহত ৩৩৮৯ আহত ৩৮১৮, ২০০৪ সালে নিহত ২৯৬৮ আহত ২৭৫২ ২০০৫ সালে নিহত ৩১৮৭ আহত ৩৭৫৫, ২০০৬ সালে নিহত ৩১৯৩ আহত ২৪০৯, ২০০৭ সালে নিহত ৩৭৪৯ আহত ৩২৭৩, ২০০৮সালে নিহত ৩৭৬৫ আহত ৩২৮৪, ২০০৯ সালে নিহত ২৯৫৮ আহত ২৬৮৬,২০১০ সালে নিহত ৩১৯৫ আহত ২৫৫৭, ২০১১ সালে নিহত ৩৭৯৫ আহত ২৪৯৫ জন। সড়ক দূর্ঘটনার অন্যতম কারণের মধ্যে একটি লাইসেন্সবিহীন ভূয়া ড্রাইভার যা আমাদের দেশে অবাধ প্রচলন রয়েছে। বিআরটিএ সূত্রে প্রকাশ, বাংলাদেশে নিবন্ধনকৃত গাড়ীর সংখ্যা ১৫ লাখ এবং লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা মাত্র ৯ লাখ ৬০ হাজার। দেশে প্রায় ১০ লাখ লাইসেন্সহীন চালক বা ভূয়া লাইসেন্সধারী রাস্তায় প্রতিনিয়তই গাড়ী চালাচ্ছে বলে পরিবহনখাত পর্যবেকদের ধারনা। এরচেয়ে নৈরাজ্য ও ভীতিকর অবস্থা আর কি হতে পারে?
* সড়ক দুর্ঘটনার কারণ সমূহ ঃ
ভয়াবহ সড়ক দূর্ঘটনার প্রধান কারণ সমুহ- * অদ চালক * ট্রাফিক আইন না মানা * দূর্বল ট্রাফিক আইন *সড়কের বেহাল অবস্থা * ঘুষের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স লাভ * পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশের/সাইনের অভাব * অপরিকল্পিত/ভাঙ্গা/অপ্রশস্ত রাস্তাঘাট/টার্নিং * অমনযোগী/মদ্যপ/তন্দ্রাযুক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো * হেল্পার দিয়ে গাড়ি চালানো * গাড়ি চালানো অবস্থায় ফোনে কথা বলা * ওভারটেকিং/ ওভার স্পিড/ প্রতিযোগীতা * অসেচতন যাত্রী * যেখানে-সেখানে রাস্তা পারাপার * পর্যাপ্ত ওভারব্রিজের অভাব * ত্রুটিপূর্ণ যানববাহন/যানববাহনের প্রচুরতা * ধারণমতার চেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহণ এবং ফিটনেস বিহীন গাড়ী চলাচল ইত্যাদী।
* সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় ঃ
নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার ব্যাপারে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন জানান, দূর্ঘটনার জন্য চালকদের শাস্তি না হওয়ায় তারা অত্যন্ত বেপোরোয়া হয়ে গাড়ি চালায়। এজন্য দরকার যুগোপযোগী আইন। শুধু আইন করলেই চলবে না আইনের বাস্তবায়নও করতে হবে। এ কারনে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে নিরাপদ সড়ক ব্যাবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ড্রাইভাররা মনে করেন দূর্ঘটনা না ঘটলে হাত পাকা হয় না। চালকদের যথাযথ প্রশিণের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও পাঠ্যপুস্তকে ড্রাইভিং বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করে আসছি। কোন সময়ই সংশ্লিষ্ঠ কোন ব্যক্তিবর্গের সাহায্য পাইনি। এর পরেও রয়েছে সড়ক ব্যাবস্থাপনা এবং মনিটরিংয়ে দুর্নীতি। সড়ক ব্যাবস্থাপনার বেহাল দশা সম্পর্কে বলার আর কিছুই নেই, কারণ যোগাযগ ব্যাবস্থার সা¤প্রতিক দুর্নীতি সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। অধিকাংশ সড়কে ডিরেকশন ইন্ডিকেটর এর বদলে দেখতে পাই বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন, যার অর্ধেক টাকাও আবার যায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের দুর্নীতিবাজদের পকেটে। সড়ক পরিবহন সেক্টরে দূর্নীতি আর রাজনৈতিক প্রভাব দর করা দরকার। বিআরটিএ-এর এক সূত্র থেকে জানা যায়, কো-অর্ডিনেশন এন্ড মনিটরিং অফ ন্যাশনাল রোড সেফটি স্ট্রাটেজি এ্যাকশন প্লেন ২০০২-০৪ শুধু মাত্র যথাযথ অর্থায়নের অভাবে বাদ পড়ে। বিআরটিএ আরো জানায়, ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে ন্যাশনাল রোড সেফটি কাউন্সিল গঠন করা হলেও এই কাউন্সিলের গৃহীত সুপারিশ মালা এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশও কার্যকর হয়নি। দেশে প্রতি বছর সড়ক উন্নয়নের াতে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হলেও সড়কের নিরাপত্ত্বার জন্য কোন বরাদ্দ দেয়া হয়নি। সভ্যতায় গণ যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্মান ও উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামো। যান্ত্রিক সভাতার যুগে তাল মিলিয়ে চলতে হলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের েেত্র রাষ্ট্রকে যতœশীল হতে হবে। অবকাঠমোগত উন্নয়নের পাশাপাশি এর বিপরীতমুখী হিংস্র, মানব অকল্যানমূলক দিকগুলো প্রাধান্য দিয়ে এর প্রতিরোধমুলক শক্ত প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় মুহুর্তে হাজার জীবনের ধ্বংসলীলা ঘটে যেতে পারে।
তৃতীয় বিশ্বে রাস্তায় প্রযুক্তির ব্যবহার এতটা প্রসারিত হয়নি। ফলে এনালগ পদ্ধতিতেই চলছে সড়ক ও রেলপথ। মানুষ সবচেয়ে ভয়াবহ প্রতিহিংসার শিকার সড়ক পথেই। তাই দেশের সড়ক পথকে প্রযুক্তির আওতায় আনতে হবে,তাহলে অনেকাংশেই সড়ক দূর্ঘটনা কমে যাবে। আমরা কি পারব আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটা নিরাপদ সড়ক ব্যাবস্থাপনা রেখে যেতে??? আমাদের মন্ত্রী-আমলাদের কি সুহৃদয় বা সুদৃষ্টি হবে এই বিষয়ে নজর দিতে??? না আবার আমাদেরও সড়ক দুর্ঘটনায় জীবন দিয়ে 'নির্মম পরিহাসের' বিষয়-বস্তু হতে হবে মন্ত্রী-আমলাদের বিবৃতি দেওয়ার জন্য???


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29871828 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29871828 2013-09-02 16:28:36
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এবার নিউ ইয়র্কের মসজিদ ও ইসলামী সংগঠনগুলোকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ তালিকাভূক্ত করছে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস গণহত্যা ও মানবাধিকার লংঘনের প্রধান অনুগঠক শীর্ষ যুদ্ধপরাধী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবার তাদের নিজের দেশের মুসলিমদের মসজিদ ও সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী তালিকা ভূক্ত করে নিজেরাই প্রামাণ করল বিশ্বের প্রধান সন্ত্রাসী তারা। তাদের হাতে তাদের নিজের দেশের সংখ্যালঘু স¤প্রদায়রাও নিরাপদ নয়। মানবাধিকারের ফেরিওয়ালা খ্যাত এ কুখ্যাত দেশ প্রতি বছর সারা বিশ্বের দেশগুলোর মানবাধিকার লংঘনের রির্পোট প্রকাশ করলেও তারাই সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লংঘনের রেকর্ড করে। অথচ তারা নিজের দেশেই সংখ্যালঘু মুসলিম স¤প্রদায়ের মানবাধিকার ও মেীলিক অধিকার হরন করেছে চলেছে সর্বত্র। এর জলন্ত নজির মসজিদকে সন্ত্রাসের তালিকা ভূক্ত করা। নিউ ইয়র্কের পুলিশ বেশ কিছু মসজিদকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় নামাজি (মুসল্লি), ইমাম ও তার খুতবার ওপর গোয়েন্দাগিরি করেছে পুলিশ। পুরো মসজিদটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার ফলে কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ ছাড়াই পুলিশ এসব মসজিদের নামাজি (মুসল্লি), ইমাম ও তার খুতবার ওপর গোয়েন্দাগিরি করতে পেরেছে। পুলিশের গোপন নথিতে দেখা যায়, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে সন্ত্রাসী হামলার পর অন্তত ডজনখানেক মসজিদ ও ইসলামী সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর বছরের পর বছর ধরে এসব মসজিদ ও ইসলামী সংগঠনের ওপর গোয়েন্দাগিরি করলেও এখন পর্যন্ত একটির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বার্তা সংস্থা এপির তথ্যে দেখা যায়, মসজিদকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ অনেক নিরাপরাধ মুসলমানের ওপর গোয়েন্দাগিরি বজায় রাখে। আমেরিকার নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত সংগঠনগুলো এবং দুটি মসজিদ কর্তৃপ একে অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তারা বলেছে, এর ফলে নির্বিঘেœ মুসলমানরা ধর্ম পালন করতে পারেননি। তবে নিউ নিয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ এবং পুলিশ কমিশনার রেমন্ড কেলি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০০৩ সালের দিকে যেসব মসজিদকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তার একটি হলো ইসলামিক সোসাইটি অব বে রিজ। পুলিশের ওই তালিকার কথা জানার পর মসজিদটির একজন নেতা জেইন রিমাউই আপে করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আমি কখনো মুক্ত অনুভব করিনি।’কয়েক দশক আগে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর থেকে যুক্তরাষ্টে ্রআসা ৫৯ বছর বয়সী রিমাউই বলেন, ‘কেলি তোমাকে লানত। আমি একজন আমেরিকান।’আইনজীবী হিনা হাশমি বলেন, ‘এ ঘটনা প্রমাণ করছে- নিউ ইয়র্কের মুসলমানরা চরম ভীতির মধ্যে বাস করছে। বাসায় নামাজ পড়া থেকে বিবাহ অনুষ্ঠান-এমন কোনো জায়গা নেই যে নিউ ইয়র্কের পুলিশ মুসলমানদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত জীবনের ওপর পপাতদুষ্ট গোয়েন্দাগিরি করেনি।’ (রেডিও তেহরান) মার্কিনীরা যে আসলেই ইসলাম বিদ্বেষী এর মাধাম্য তা আবারও প্রমাণিত হলো। তাই এখন সময় এসেছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে গুড়িয়ে দেওয়ার জন্য মুসলিম বিশ্বকে বিশেষ করে মুসলিম যুব সমাজকে ঈমানের জাগরণে জাগতে হবে এবং সারা পৃথিবী থেকে মার্কির্নদের হঠানোর জন্য এবং মুসলিম নিপীড়ন বন্ধ করার জন্য সত্যিকারের জিহাদে অবতীর্ন হতে হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং প্রতিরা ব্যবস্থায় সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। ইহুদী খ্রিস্টানদের সব ষড়যন্ত্রকে মুছে দিয়ে সত্যিকার ইসলামের পৃথিবী গড়ে তুলতে হবে তাহলে মানব জাতির মুক্তি আসবে। তাই সকল মুসলিম দেশের প্রতি আহবান আসুন আজ থেকে ইহুদী খ্রিস্টানদের শক্রু ভেবে তাদের সকল প্রকার আনুগত্য বর্জন তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। সে দিন বেশি দূরে নই যে দিন ইহুদী খ্রিস্টানদের সব সিংহাসন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গিয়ে সাম্য ও ন্যায়ের পৃথিবী গড়ে উঠে। তাহলে একমাত্র মানবতার মুক্তি আসবে। ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29871295 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29871295 2013-08-31 20:21:11 বাংলাদেশে মহাজোট সরকারের ইসলাম নিধন অভিযান বর্তমান মহাজোট সরকারের চার বছরে দেশে চরমভাবে বিদ্বেষের শিকার হয় ইসলাম, ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠান। ক্ষমতায় গেলে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করা হবে না মর্মে নির্বাচনী ওয়াদা দেয়ার পর তা ভঙ্গ করে সরকার একের পর ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। এতে হতবাক হয়ে যায় মানুষ। শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের এদেশে সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা বাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিস্থাপন, কোরআন-সুন্নাহবিরোধী নারীনীতি প্রণয়ন, ইসলামবিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতি চালু, বোরকাবিরোধী রায় ও পরিপত্র জারি, সরকারের কর্তাব্যক্তিদের ইসলামবিরোধী বক্তব্য, আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলাম নিয়ে বিভিন্ন মহলের কটূক্তি, আলেমদের নির্যাতন, দাড়ি-টুপি ও বোরকাধারীদের হয়রানি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড, জেহাদি বইয়ের নামে অপপ্রচার, ইসলামী রাজনীতি দমন,হেফাজতে ইসলামকে দমন ও গণহত্যা এবং মাদরাসাবিরোধী ষড়যন্ত্রসহ সরকারের ব্যাপক ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষ। বর্তমান সরকার ইসলাম ধ্বংসের এজেন্ডা নিয়ে ক্ষমতায় এসে পরিকল্পিতভাবে ইসলামবিরোধী এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে ইসলামী দলের নেতারা মন্তব্য করেছেন।
হেফাজতের আলেম ওলামা গণহত্যা
এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নাস্তিক মুরতাদদের আস্ফালন ভয়ানকভাবে বেড়ে গেছে। কারণ আওয়ামী লীগ হচ্ছে নাস্তিক মুরতাদদের পৃষ্টপোষক। তারা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন অনলাইন,পত্র-পত্রিকাতে ইসলাম,আল্লাহ,রাসুল এবং ইসলামের বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে ভয়ানকভাবে কটুক্তিতে নেমেছে নাস্তিকরা। এ ব্যাপারে ২০০১২ সালে মহামান্য হাইকোট এসব ব্লগ ও ব্লগারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারকে নিদেষ দিয়েছিল। কিন্তু সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তাদেরকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় লালন-পালন করতে লাগলেন। আর এরকম কিছু ব্লগারের উদ্যোগে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেখান থেকে ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী এবং ইসলামী ব্যাংক বন্ধের ঘোষনা দেয়া হয়। তাদের ইসলাম বিদ্বেষী কাজের কারণে এসব ইসলাম বিরোধী কাজের প্রতিরোধের জন্য হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশে নামের একটি সংগঠনের আবিভাব ঘটে। যাদের আন্দোলনে গণ মানুষের গণ সমথন মেলে। এরই প্রেক্ষাপটে তারা ৬এপ্রিল রাজধানীর শাপলা চত্বরে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সব মহাসমাবেশ আয়োজন তাক লাগিয়ে দেয়। সেই মহাসমাবেশ থেকে ১৩ দফা দাবী ঘোষনা করে তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে ৩০ এপ্রিল পযন্ত সময় দেয়। এবং পরবতী কমসূচী হিসাবে বিভিন্ন মহানগন ও জেলায় তারা শানে রাসুল (সা<img src=" style="border:0;" /> সম্মেলনের মাধ্যমে তারা তাদের দাবীর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। কিন্তু সরকার তাদের দাবী গুলো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেই ক্ষান্ত হন নাই, তাদের দাবীর বিরুদ্ধে সরকার সমথক সকল গোষ্ঠিকে মাঠে নামানো হয় হেফাজতকে দমনের জন্য। আর হেফাজতে ইসলামও তাদের দাবী বাস্তবায়নে অনড় অবস্থানে এরই প্রেক্ষাপটে তাদের পূব ঘোষিত কমসূচির অংশ হিসাবে গত ৫ই মে রাজধানী ঢাকা অবরোধের শান্তিপূণ কমসূচি তারা পালন করে। সেই কমসূচিতে সরকারী পুলিশ,আওয়ামী লীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গোন্ডা বাহিনী সকাল থেকেই তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে নিবিচারে গুলি টিয়ারশেল গ্রেনেড দিয়ে হামলা করে তাদের কমসূচিকে ভন্ডুল করতে চেষ্ঠা করে। এর পরও তাদের কমসূচি অব্যাহত থাকে। তাদের কমসূচিকে বিতকিত করার জন্য যুবলীগের নেতৃত্বে পল্টনে বইয়ের দোকানে হামলা করে পবিত্র কোরআন শরীফ পোড়োনো হয়, স্বণের দোকানে লুটপাট করা হয়। এর পরও তারা ধৈয ধারণ করে রাজধানীর শাপলা চত্বরে অবস্থান গ্রহণ করে। এবং তাদের প্রতি সরকার ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসের কারণে তাদের দাবী গ্রহণের আল্টিমেটাম দিয়ে তারা শাপলা চত্বরে দাবী আদায় না হওয়া পযন্ত অবস্থানের ঘোষনা দেয়।আর এতেই সরকারের হাটবিট বেড়ে যায়। তাদের এ অবস্থানের কারণে মুসাফির হিসাবে তাদের প্রতি সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্যই ঢাকা বাসী ও ১৮ দলীয় নেতাকমীদের প্রতি আহবান জানান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আর এতেই সরকারের হাটবিট আরো দ্বিগুন বেড়ে যায়। খালেদা জিয়ার আহবানের আগে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সন্ধার আগে ঢাকা ছাড়ার জন্য হেফাজতকে হুক্কার দেন। এরপরও হেফাজত নেতাকমীরা শাপলা চত্বরে অবস্থান গ্রহন করে। তারা সেখানে যিকির,দোয়া,তেলাওয়াত, বক্তব্য ইত্যাদীর মাধ্যমে রাত যাপনের সিদ্ধান্ত নেন। এরই প্রেক্ষাপটে সরকার নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ভারতের সহযোগিতায় গভীর রাতে হেফাজতে ইসলাম কে সরানোর জন্য ভয়ংকর যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে ঘুমন্ত নিরীহ তৌহিদী জনতার উপর ঝাপিয়ে পড়ে।রোববার মাঝ রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে জিকিররত আলেমদের বুকে একযোগে গুলি চালিয়েছে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও সরকারি দলের সশস্ত্র ক্যাডাররা। চারদিক থেকে আসতে থাকে ঝাঁকে ঝাঁকে হাজার হাজার রাউন্ড গুলি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গুলি এসে বিঁধতে থাকে আলেমদের বুকে। গুলিবিদ্ধ পাখির মতো রক্তাক্ত অসংখ্য আলেমকে পড়ে থাকতে দেখা যায় রাস্তায়। আলেমদের সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি আর তসবিহ রক্তে ভিজে চুবচুব করছিল। মতিঝিলের পিচঢালা কালো রাস্তা আলেম-ওলামাদের রক্তে লালে লাল হয়ে যায়। এত রক্ত ধুয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে হিমশিম খেতে হয় সরকারি কর্মচারীদের। আল্লাহ-রাসুল (সা.)-এর ইজ্জত রক্ষার দাবি নিয়ে এসে এসব আলেমকে জীবন দিতে হলো।
রাত আড়াইটার দিকে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন পড়ে আছে অনেকের নিথর দেহ। আবার অনেকে বেঁচে থাকার আকুতি জানাচ্ছিলেন সরকারি বাহিনীর কাছে। বাধার কারণে ছবি তুলতে পারেনি ফটোসাংবাদিকরা। দিগন্ত টিভি কিছু কিছু ফুটেজ সরাসরি দেখাচ্ছিল বলে চ্যালেনটি তাত্ক্ষণিক বন্ধ করে দেয়া হয়। একই কারণে বন্ধ করে দেয়া হয় ইসলামিক টিভির সম্প্রচার। চতুদিক থেকে তাদের উপর বৃষ্টির মতো গুলি বোম ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। তাদের বেপরোয়া হামলায় হাজার হাজার হেফাজতের নিরীহ নেতাকমী শাহাদাত বরণ করেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের সবাই একমত যে, মহাজোট সরকারের এ গণহত্যা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যাকেও হার মানিয়েছে। দেশী ও বিদেশী মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ অভিযানকে স্বাধীনতার পরে সবচেয়ে গণহত্যা হিসাবে অভিহিত করেছে। তাদের উপর ইতিহাসের ভয়ংকর গণহত্যা চালানোর পর তাদের লাশ গুলো গোপনে গুম করে ফেলা হয় তাদের নিষ্ঠুরতা লুকানোর জনÏ। বিরোধী দলসহ দেশের সচেতন সকল মহল একে গণহত্যা আখ্যায়িত করে এর কঠোর নিন্দা জানান। দেশী বিদেশী মিডিয়ায় এ গণহত্যা নিয়ে তোলপাড় চললেও আমাদের দালাল মিডিয়াগুলো নিশ্চুপ। আর এ গণহত্যা ফাস হওয়ার ভয়ে ইতিমধ্যে দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি বন্ধ করে দেয়া হয়। আওয়ামীলীগের এ নিষ্ঠুরতায় সারা দেশবাসী শোকাহত। কিন্তু এর মাধ্যমে তারা নিজেদেরই পায়ে নিজেরা কুড়াল মেরেছে। আর এর মাধ্যমে তারা তাদের সেই চির চিনা ইসলাম বিদ্বেষী মুখোশ জনসাধারণের সামণে আবারো উন্মোচন করল। এভাবে গণহত্যা চালিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে কেউ পার পায় নাই। আমরা ২৫শে মাচের কালো রাত্রি দেখি নাই,কিন্তু শেখ হাসিনার কল্যাণে সেই কালো রাত্রির ভয়াবহতা আমরা উপলব্ধি করতে পেরেছি। আর এসব গণহত্যা চালিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন তিনি আসলে গণতন্ত্রের মানস কণ্যা নন, দেশরত্না নন, তিনি গণহত্যার নেত্রি! ইতিহাসে হয়ত তিনি এ নামেই খ্যাতী লাভ করবেন?
জামাত-শিবির নিধন অভিযান
আওয়ামী মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গত চার বছরে জামাত-শিবিরকে নিধন করার জন্য রাষ্ট্রীয় সকল শক্তি ব্যয় করে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। ‍যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে জামাতের শীষÐ নেতাদের রাসুল (সা<img src=" style="border:0;" /> কে অবমাননার একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে আরো অসংখ্যা মামলায় জড়ানো হলো। যারা তাদের পুরো জীবনটাই রাসুল (সা<img src=" style="border:0;" /> এর আদশÐ বাস্তবায়নের জন্য নিবেদিত প্রাণ তাদেরকেই জড়ানো হলো রাসুল (সা<img src=" style="border:0;" /> এর অবমাননার মামলায়।এর পর থেকে শুরু হলো সারা দেশে জামাত-শিবির নিধন অভিযান। হামলা,মামলা আর দমন নিপীড়নের মাধ্যমে জামাত-শিবিরের উপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় ববরতা। কিভাবে ট্রাইবুনালকে ব্যবহার করে জামাতের শীষÐ নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলানোর চক্রান্ত করা হচ্ছে তার উল্লেখ পাওয়া যায় স্কাইফি কেলেংকারীতে। যার দায় স্বীকার করে ইতিমধ্যে ট্রাইবুনাল চেয়ারম্যান নিজামুল হক পদত্যাগ করেছেন। ইতিমধ্যে ৩ জনের রায় দেয়া হয়েছে। জামাতের সাবেক নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ফাঁসির রায়, জামাত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লা কে যাবতজীবন কারাদন্ড, আর জামাতের নায়েবে আমীর আন্তÐজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসীরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে। এ রায়ের প্রতিক্ষিয়ায় ক্ষুব্ধ জনসাধারণকে দমনের জন্য পাখির মতো গুলি করে কয়েকদিনে প্রায় ১৭০ জনের মতো নিরীহ লোককে হত্যা করা হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনসাধারণের রোষানলে পড়ে ৭ জন পুলিশও নিহত হয়। শুধু আল্লামা সাঈদীর ফাঁসির রায়ের দিন বিক্ষুব্ধ জনসাধারণকে দমনের জন্য গুলি করে ৫৬ জনকে হত্যা করা হলো। যা স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে এতো বড় গণহত্যার ঘটনা আর ঘটে নাই। যা নিয়ে দেশে বিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। ফাঁসির রায়ের অপেক্ষায় আছেন জামাতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আজম,জামাতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রোটারী জেনারেল আলী আহসান মো: মুজাহিদ, জামাত নেতা কামারুজ্জমান সহ আরো কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। জামাত শিবিরের নিধনের অভিযান হিসাবে জামাতের সকল কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে জেলা পযায়ের বড় বড় সব নেতাদের গ্রেফতার করে জড়ানো হয়েছে শত শত মামলায়। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেফতার করা হয়েছে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে রিমান্ডের নামে ইতিমধ্যে তাকে ৩২ দিনের নিমÐম নিযাÐতন করনা হয়েছে। আরো রিমান্ডের নেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে তাকে সারা দেশের প্রায় ৩শ মামলায় জড়ানো হয়েছে। এভাবে গণহত্যা,ফাঁসির রায়,মামলা হামলা ইত্যাদীর মাধ্যমে জামাত শিবিরকে নিধনের ভয়াবহ তৎপতায় মেতেছে সরকার। এভাবে কি একটি আদÐশিক দলকে নিধন করা সম্ভব হবে?
ইসলামবিরোধী আইন ও নীতি প্রণয়ন :

শুধু ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডই নয়, গত চার বছরে সরকার একের পর এক কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বেশকিছু আইন ও নীতি প্রণয়ন করেছে। ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও গত চার বছরে সরকার কোরআন-সুন্নাহবিরোধী নারীনীতি প্রণয়ন, ইসলামবিরোধী জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর,
বোরকাবিরোধী তত্পরতা ও পরিপত্র জারি, সংশোধনীর নামে সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস বাদ দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা সংযোজনসহ বেশকিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ ধ্বংসে সরকার পরিকল্পিতভাবে এসব আইন করছে বলে মন্তব্য করেছেন সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ পরিষদ নেতা ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী।
সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মাথায় মরহুম অধ্যাপক কবির চৌধুরীর নেতৃত্বে যে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটি গঠন করেছিল, শুরু থেকেই তার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন সংগঠন। পরবর্তীতে ওই কমিটির ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতির যে রিপোর্ট দেয়—তা প্রত্যাখ্যান করে সেটি সংশোধন বা বাতিলের জোর দাবি জানান সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু এসব দাবি ও আলেম-ওলামাদের মতামত উপেক্ষা করেই সরকার শিক্ষানীতি চূড়ান্ত করে এবং ২০১০ সালের ৭ ডিসেম্বর তা সংসদে পাস হয়। এতে সংশ্লিষ্ট মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ফলে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ওই বছর ২৬ ডিসেম্বর সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ পরিষদ হরতালের ডাক দিলে সরকার দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে তা স্থগিত করা হয়। কিন্তু সে দাবি আর বাস্তবায়ন করেনি সরকার।
‘নাটোরের সরকারি রানী ভবানী মহিলা কলেজে বোরকা পরে আসতে মানা’ শিরোনামে ২২ আগস্ট একটি দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষিতে এবং এ সম্পর্কে কোর্টের তত্পরতার পর সরকারও উদ্যোগী হয়। বোরকা পরতে বাধ্য করা যাবে না বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও একটি পরিপত্র জারি করা হয়।
নারী-পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে ধর্মীয় দলগুলোর প্রতিবাদ উপেক্ষা করে সরকার গত বছরের ৭ মার্চ মন্ত্রিসভায় কোরআন-সুন্নাহবিরোধী নারীনীতির খসড়া অনুমোদন করে। এটি বাতিল বা সংশোধনের জন্য ব্যাপক আন্দোলন, এমনকি হরতাল পালিত হলেও এখনও পর্যন্ত সরকার অনড় অবস্থানে রয়েছে। এদিকে গত বছরের ৩০ জুন সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী গ্রহণ করে সংবিধানের মূলনীতি থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস বাদ দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিস্থাপন করা হয়। শুধু তাই নয়, এতে বিসমিল্লাহর বিকৃত অনুবাদ সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া সংবিধান থেকে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন সংক্রান্ত ধারা বাদ দেয়া হয়েছে।

কর্তাব্যক্তিদের ইসলামবিরোধী বক্তব্য :

গত চার বছরে সরকারের কর্তাব্যক্তিদের লাগামহীন ইসলামবিরোধী ও বিতর্কিত বক্তব্যে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। গত বছর অক্টোবরে দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন—‘এবার গজে চড়ে মা দুর্গা আসায় ফসল ভালো হয়েছে।’ একই বছর ১৩ জুলাই এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ বলেছিলেন—‘আমি হিন্দুও নই, মুসলমানও নই।’ আর সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী বলেছেন—‘সংবিধান থেকে ধর্মের কালো ছায়া মুছে ফেলা হবে।’ ২০০৯ সালে পৃথক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান বলেছিলেন, ‘সব ধরনের ফতোয়া নিষিদ্ধ করা হবে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘সম্পত্তিতে নারীর সমঅধিকার নিশ্চিত করা হবে।’

২০০৯ সালের ১ এপ্রিল একটি অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্যে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছিলেন, ‘কওমী মাদরাসাগুলো এখন জঙ্গিদের প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কওমী মাদরাসাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিস্তার লাভ করেছে। এসব কওমী মাদরাসায় যে শিক্ষা দেয়া হয়, তা কূপমণ্ডূকতার সৃষ্টি করছে। ’৭৫-পরবর্তী সামরিক শাসনামলে বিভিন্ন সংশোধনী এনে ’৭২-এর সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনাকে নস্যাত্ করার ফলেই এবং ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণার পর ধর্মের নামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়েছে।’ একই বছর পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, ‘ধর্ম তামাক ও মদের মতো একটি নেশা।’ রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘ব্যাঙের ছাতার মতো কওমী মাদরাসাগুলো গজিয়ে উঠেছে।’ গত ১০ ডিসেম্বর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া বলেছেন, ‘রাসুল (সা.) মসজিদের অর্ধেক জায়গা হিন্দুদের জন্য ছেড়ে দিয়েছিলেন।’
মন্ত্রীদের পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি শামীম মোহাম্মদ আফজালের বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যও ছিল আলোচনার বিষয়। ২০০৯ সালের ২৮ মার্চ এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে যত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রয়েছে, তার সবই ইসলাম ও মুসলমানদের মধ্যে (!)। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের মধ্যে কোনো সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নেই। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানরা সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত নয়।’ গত বছর ১০ ডিসেম্বর ইমামদের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘রাসূল (সা.) মসজিদের অর্ধেক জায়গা ইহুদিদের জন্য ছেড়ে দিয়েছিলেন।’ এর ক’দিন আগে তিনি বলেছিলেন, ‘জিহাদ বিদায় করতে হবে।’ ২০১০ সালের এপ্রিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা আল্লাহর ক্ষমতা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। এছাড়া মার্চের দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াতের পরিবর্তে রবীন্দ্রসঙ্গীত দিয়ে শুরু করা হয়।

আল্লাহ, রাসুল ও ইসলাম নিয়ে কটূক্তি :

এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশে ইসলাম নিয়ে কটুক্তির মহোৎসবে মেতেছে এক শ্রেণীর মানুষ। গত চার বছর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন মহল থেকে আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলাম নিয়ে অসংখ্য কটূক্তি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের শাস্তির দাবিতে ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সত্ত্বেও সরকার তাদের শাস্তির পরিবর্তে অনেককে পুরস্কৃত করেছে। ২০১০ সালের ১ আগস্ট বিশ্বশান্তি পরিষদের প্রেসিডেন্ট দেবনারায়ণ মহেশ্বর পবিত্র কোরআন শরিফের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। রিট আবেদনে তিনি দাবি করেন, হজরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর বড় ছেলে ইসমাইলকে (আ.) কোরবানির জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন বলে যে আয়াত পবিত্র কোরআন শরিফে রয়েছে, তা সঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, হজরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর ছোট ছেলে হজরত ইসহাককে (আ.) কোরবানি করতে নিয়ে যান। এ বিষয়ে সঠিক ব্যাখ্যা ও কোরআনের আয়াত শুদ্ধ করার জন্য দেবনারায়ণ মহেশ্বর আদালতের কাছে প্রার্থনা করেন। আদালত রিট খারিজ করে দেয়ার পর দেবনারায়ণের এ চরম হঠকারি ও উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে আদালতে উপস্থিত আইনজীবীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে দেবনারায়ণকে পুলিশের পাহারায় এজলাস থেকে বের করে তাদের ভ্যানে প্রটেকশন দিয়ে আদালত এলাকার বাইরে নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে যায়।
গত বছর ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর পিতৃভূমি টুঙ্গিপাড়ার জিটি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক শঙ্কর বিশ্বাস দশম শ্রেণীর ক্লাসে দাড়ি রাখা নিয়ে সমালোচনাকালে হজরত মোহাম্মদকে (সা.) ছাগলের সঙ্গে তুলনা করেন। এতে ওই ক্লাসের ছাত্রছাত্রীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে শঙ্কর বিশ্বাস টুঙ্গিপাড়া থেকে পালিয়ে যায়। একই বছর ২৬ জুলাই ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মদন মোহন দাস মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) এবং পবিত্র হজ নিয়ে কটূক্তি করেন। সহকর্মী শিক্ষকদের সঙ্গে এক সভায় তিনি মন্তব্য করেন, ‘এক লোক সুন্দরী মহিলা দেখলেই বিয়ে করে। এভাবে বিয়ে করতে করতে ১৫-১৬টি বিয়ে করে। মুহাম্মদও ১৫-১৬টি বিয়ে করেছে। তাহলে মুসলমানদের মুহাম্মদের হজ করা স্থান মক্কায় গিয়ে হজ না করে ওই ১৫-১৬টি বিয়ে করা লোকের বাড়িতে গিয়ে হজ করলেই তো হয়।’ এ ঘটনায় ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে সরকার তাকে অন্যত্র বদলি করে শাস্তির আড়ালে পদোন্নতি দেয়।
একইভাবে মানিকগঞ্জে বিশ্বজিত মজুমদার কর্তৃক রাসুল (সা.) এর জন্ম এবং পবিত্র কোরআন নিয়ে কটূক্তি, বাগেরহাটের এক হিন্দু কাবা শরিফের হাজরে আসওয়াদকে শিব লিঙ্গের সঙ্গে তুলনা, খুলনার পাইকগাছায় আরেক হিন্দু মহান আল্লাহ সম্পর্কে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য, নেত্রকোনার চন্দ্রনাথ হাইস্কুল গেটের কোরআনের আয়াত সংবলিত সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলা, বাগেরহাটের কচুয়ায় এক হিন্দু কর্তৃক মহান আল্লাহর ছবি ব্ল্যাকবোর্ডে অঙ্কন করা, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে রাসুল (সা.) সম্পর্কে হিন্দু কর্তৃক চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন এবং ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক হিন্দুর রাসুল (সা.) এর প্রতি কটূক্তিসহ বিভিন্ন মহল থেকে এ ধরনের ইসলামবিরোধী বক্তব্য স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড :

দেশের সর্ববৃহত্ সরকারি ইসলামী প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশনে গত তিন বছরে ব্যাপক দুর্নীতি, ইসলামবিরোধী ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সর্ব মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়েও জজ থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি হিসেবে শামীম মোহাম্মদ আফজাল নিয়োগ পাওয়ার পরপরই শীর্ষ আলেমরা তাকে একজন প্রতিষ্ঠিত মাজারপন্থি ও কবর পূজারি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। নিয়োগ পাওয়ার পর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি অবশ্য একথার প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়েছেন। দেশের একাধিক পীরের ঘনিষ্ঠ মুরিদ দাবিদার শামীম মোহাম্মদ আফজাল তার ধ্যান-ধারণা প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এরই মধ্যে মাজার-খানকাপন্থিদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছেন। এসব জায়গায় হাক্কানি আলেম-ওলামাদের দরজা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ইসলাম ও ইসলামী প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করতেই ইসলামী চিন্তা-চেতনা বিরোধী এই ডিজিকে আওয়ামী লীগ সরকার নিয়োগ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী।
২০১০ সালে রমজানে সম্পূর্ণ মনগড়াভাবে ইফার উদ্যোগে তাদের পছন্দের আলেমদের নিয়ে ১০০ টাকা ফিতরা নির্ধারণ করা হলে সারাদেশে বিতর্কের ঝড় ওঠে। একপর্যায়ে ফিতরার সর্বনিম্ন ১০০ টাকার স্থলে ৪৫ টাকা নির্ধারণে বাধ্য হয় তারা। দীর্ঘদিন ধরে হামদ, নাত ও ইসলামী সঙ্গীত তথা ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিশেষ ভূমিকা থাকলেও বর্তমানে সেই ঐতিহ্য ম্লান হতে চলেছে। এখন এসব সংস্কৃতির বদলে অশ্লীল নাচ-গানের আসরের আয়োজন করা হয়। ২০১০ সালের ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইফার ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া। অনুষ্ঠানে কাঙ্গালিনী সুফিয়ার সঙ্গে করমর্দনও করেন ডিজি শামীম মোহাম্মদ আফজাল। কাঙ্গালিনী সুফিয়ার একতারা এবং শরীর দুলিয়ে নাচ-গানে বিব্রত অবস্থায় পড়েন উপস্থিত ইমামরা। এছাড়া ১২, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল ইফার ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ে জাতীয় শিশু-কিশোরদের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে হামদ ও নাতের বিচারক হিসেবে এমন শিল্পীদের আনা হয় যাদের অনেকেই ইসলামি সঙ্গীতের ধারার সঙ্গে পরিচিত নয়। এ নিয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
একইবছর ২৭ নভেম্বর ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ঘটে সবচেয়ে বড় ঘটনা। ওইদিন আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনে আসে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল। এই প্রতিনিধিদলের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ডিজির অনুরোধে ইমামদের সামনে মার্কিন তরুণ-তরুণীরা পরিবেশন করে অশ্লীল ব্যালে নৃত্য। অবশ্য এ নিয়ে বিভিন্ন মহলের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ জানায় ব্যালে ড্যান্স নয় ৩৫ সেকেন্ডের ‘সুয়িং ড্যান্স’ পরিবেশন করা হয়। গত বছর ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠান উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক হালিম হোসেন খান অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে জনতার হাতে আটকের ঘটনায় সারাদেশে নিন্দার ঝড় ও তাকে বহিষ্কারের দাবি ওঠে। আজ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ তেমন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
২০১০ সালে বায়তুল মোকাররম মসজিদের বিতর্কিত খতিব অধ্যাপক মাওলানা সালাহউদ্দিন কর্তৃক জাতীয় ঈদগায় ঈদুল ফিতরের নামাজে ভুল করা নিয়ে চরম সমালোচনার মুখে পড়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।


জঙ্গিবাদী জিহাদি বই নিয়ে অপপ্রচার ও নির্যাতন :

বর্তমান সরকারের চার বছরে আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দমনে ব্যাপকভাবে ‘জঙ্গি ও জিহাদি বই’ বিরোধী প্রচারণা চালানো হয়। সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী, বিরোধী মতকে দমন বা ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্রের অন্যতম হাতিয়ার ছিল এটি। পুলিশ যখন যাকে ইচ্ছা জিহাদি বই পাওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করে। এ সময় বিভিন্ন ইসলামী দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়। পুলিশ জিহাদি বই উদ্বারের নামে যেসব পুস্তক আটক করে এর কোনোটিই সরকারিভাবে নিষিদ্ধ নয়।

২০০৯ সালের ১৯ জুন রাজশাহীতে জঙ্গি সন্দেহে ১৫ নারী ও শিশুকে গ্রেফতার করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওইদিন বিকালেই মুচলেকা দিয়ে তাদের মুক্ত ঘোষণার পর আবার ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের সম্পর্কে ব্যাপক তদন্ত করেও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পায়নি। শেষপর্যন্ত আদালত তাদের বেকসুর খালাস দিলে জুলাই মাসের ১ তারিখে ১১ দিন কারাবাস শেষে ১৫ জন নিরপরাধ নাগরিক মুক্তি পান। এরপরও পুলিশ সারাদেশে কোরআন-হাদিস ও ইসলামী বইপত্রকে জিহাদি বই আখ্যায়িত এবং বাসা ও অফিসে অভিযান চালিয়ে ধর্মীয় বই সংরক্ষণকারীদের জঙ্গি অভিযোগে গ্রেফতার নির্যাতন চালায়।

আলেমদের গ্রেফতার নির্যাতন :

গত চার বছরে দেশকে অনৈসলামিকীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকার আলেম-উলামাদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের মাধ্যমে নিষ্ক্রীয় এবং ভীত-সন্ত্রস্ত করে রাখার চেষ্টা চালায় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী। সরকারের ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আলেমরা যাতে মাঠে নামতে না পারেন সে জন্যই নানা উদ্যোগ নেয়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ২০০৯ সালের মে মাসে মিথ্যা একটি মামলায় ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আন্দোলনের মুখে তাকে ছেড়ে দেয় সরকার। এরপরও তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। কোরআন-সুন্নাহবিরোধী নারীনীতি প্রণয়নসহ সরকারের বিভিন্ন অনৈসলামিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে গত বছরের ৪ এপ্রিল মুফতি আমিনীর ডাকে সারাদেশে হরতাল পালনের পর ষড়যন্ত্রের মাত্রা বেড়ে যায়। কিছুদিনের মাথায় তার ছেলে অপহরণ, তাকে গৃহবন্দি এবং ভিত্তিহীন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে রাখা হয়েছে।
২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার কথিত অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আটক করা হয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে। ওই মামলায় জামিন পেলেও পরে তাদের অন্য মামলায় আটক ও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। গত বছরের ৪ এপ্রিলের হরতাল উপলক্ষে আগের দিন যশোরে আলেমদের একটি মিছিল বের হলে পুলিশ তাতে হামলা ও গুলি চালায়। এতে এক মাদরাসা ছাত্র ও হাফেজ নিহত হয়।

দাড়ি, টুপি ও বোরকাধারীদের হয়রানি :

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দাড়ি, টুপি ও বোরকাধারীদের হয়রানি বেড়ে যায়। তার প্রমাণ আবারও পাওয়া গেছে গত চার বছরে।
২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল বরিশালের নিউ সার্কুলার রোডের এক বাড়িতে র্যাব হানা দিয়ে বোরকা পরে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য জড়ো হওয়ার অপরাধে ২১ নারীকে গ্রেফতার করে। র্যাব সাংবাদিকদের কাছে তাদের অভিযানের সংবাদ জানালে তা ফলাও করে ছাপা হয়। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য না পেয়ে ২১ পরহেজগার নারীকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে চালান দেয়া হয়। ঘটনার দীর্ঘ ২ মাস পর ২৩ জুন আদালত তাদের বেকসুর খালাস দেন। একইভাবে বোরকা পরার অপরাধে ২০০৯ সালের ৩ জুলাই পিরোজপুর জেলার জিয়ানগরে ছাত্রলীগের বখাটে কর্মীদের প্ররোচনায় পুলিশ জঙ্গি সন্দেহে তিন তরুণীকে গ্রেফতার করে। তারপর পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে তিন তরুণীকে ঢাকায় টিএফআই সেলে নিয়ে আসা হয়। ৫৪ ধারায় গ্রেফতারকৃত তরুণীদের বিরুদ্ধে মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন অমর সিংহ। এ সময় তাদের বোরকা খুলতে বাধ্য করে মহাজোট সরকারের দিনবদলের পুলিশ। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদেও কোনো জঙ্গি সংযোগের কাহিনী বানাতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফাইনাল রিপোর্ট দিতে বাধ্য হয়। দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দি থেকে অবশেষে তিন অসহায়, নিরপরাধ তরুণী মুক্তি পায়।
২০১০ সালের ৩ এপ্রিল সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয় যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. একেএম শফিউল ইসলাম তার ক্লাসে ছাত্রীদের বোরকা পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তিনি ক্লাসে ‘মধ্যযুগীয় পোশাক বোরকা’ পরা যাবে না এবং এটি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কোনো পোশাক হতে পারে না বলে ফতোয়া জারি করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি বিভাগীয় কোনো সিদ্ধান্ত নয়, তবে আমার ক্লাসে কোনো ছাত্রীকে আমি বোরকা পরতে দেব না।
২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজধানীর ইডেন ও বদরুন্নেছা কলেজে বোরকাধারী ছাত্রীদের হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ইডেন কলেজে বোরকা পরা ছাত্রীদের ধরে বোরকা খুলে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। একই বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলেও তল্লাশির নামে পর্দানশীন ও নামাজি ছাত্রীদের হয়রানির ঘটনা ঘটে। এসব প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের রুম থেকে ইসলামী বই পুস্তককে জিহাদী বই বলে তা জব্দ করে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রশাসনের সহায়তায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সারাদেশে বোরকাধারী ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পায়জামা-পাঞ্জাবি ও বোরকা পরে আসতে নিষেধ করেন এক শিক্ষক। সর্বশেষ এক সপ্তাহ আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাইখুল ইসলাম জিয়াদ নামের এক শিক্ষক বোরকা পরায় তিন ছাত্রীকে ক্লাস থেকে বের করে দেন। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বর্তমান সরকারকে ইসলামবিরোধী হিসেবেও আখ্যায়িত করেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসলামী রাজনীতি দমন :

মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসেই ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের ষড়যন্ত্র শুরু করে। সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে এই নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়ার শুরুতে অনেক মন্ত্রী-এমপি ঘোষণা দেন। সরকারের এই মনোভাবে আতঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে তৎপর হয়ে ওঠে ইসলামী সংগঠনগুলো। এক পর্যায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী হলেও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে আসে সরকার। কিন্তু কৌশলে ধর্মীয় দলগুলোকে দমনের পথ বেছে নেয় তারা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, যে সরকারের আল্লাহর ওপর আস্থা নেই, দুর্গার ওপর আস্থা থাকে তাদের আর কিছু বাকি থাকে না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলনকে খতম করার জন্য প্রতিবেশী দেশের ইঙ্গিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ৪০ বছরের মীমাংসিত ইস্যু এনে গায়ের জোরে রায় দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, বৃহত্ ইসলামী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংসের উদ্যোগ নেয় সরকার। গত তিন বছরে দলের আমির মাওলানা নিজামী ও শীর্ষ অনেক নেতাসহ ৩ হাজারের মতো নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। পাইকারিভাবে হামলা-মামলা ও জামায়াতের রাজপথের কর্মসূচি দমন অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে দলের ১ শহস্রাধিক নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছেন।
অপর দিকে গত তিন বছরে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৫ জন নিহত, বহু সংখ্যক আহত হয়। আটক হন ১০ হাজারের মতো নেতাকর্মী। এদের মধ্যে এখনও ২৮৫ জন কারাগারে রয়েছেন।
গত বছরের ৪ এপ্রিল মুফতি ফজলুল হক আমিনীর ডাকে সারাদেশে হরতাল পালিত হওয়ার সময় থেকেই ইসলামী ঐক্যজোট ও ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির কর্মকাণ্ডের ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজে ছাত্রীদের হিজাব পরে ক্লাস এবং ওয়ার্ডে ডিউটি নিষিদ্ধ করেছে কলেজ প্রশাসন। এছাড়া কলেজের নামাজ ঘরেও ঝুলিয়ে দিয়েছে তালা। এ কেমন নির্যাতন??

মাদরাসাবিরোধী ষড়যন্ত্র :

গত তিন বছর ধরে মাদরাসা ও এর শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে চলেছে নানা ষড়যন্ত্র। সংশ্লিষ্টদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকার প্রণীত নতুন ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয় শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় ও ইসলামী শিক্ষাকে সংকুচিত করা হয়েছে। আধুনিকায়নের নামে মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে করা হয়েছে নানা ষড়যন্ত্র। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত প্রথা বাদ দিয়ে অযৌক্তিক শর্তারোপের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ সংকুচিত করা হয়েছে।
গণজাগরণ মঞ্চ ও ব্লগের কেলেংকারী
মহাজোট সরকারের ইসলাম বিদ্বেষের সবÐশেষ প্রমাণ পাওয়া যায় শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ ও ব্লগে ইসলাম বিদ্বেষী নানা কেলেংকারীর মাধ্যমে। ফেব্রুয়ারীর ৫ তারিখে জামাত নেতা কাদের মোল্লার যাবতজীবন কারাদন্ডের পর থেকেই শাহবাগ নামক স্থানে ভারতের অথাÐয়ন আর সরকারের সাবিÐক পৃষ্টপোষকতায় যুদ্ধ্পরাধীদের ফাঁসি আর জামাত শিবিরের রাজনীতিসহ সকল ধমীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবীতে কিছু ব্লগারদের নেতৃত্বে গণজাগরণ মঞ্চ গঠন করা হয়।যা থেকে ৬ দফা দাবী তোলা হয়। এরই প্রেক্ষাপটে সারা দেশে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি করা হয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাড়িয়ে গণজাগরণ মঞ্চের এসব দাবীর প্রতি পূণÐ সমথÐন ব্যক্ত করে তা বাস্তবায়নের ঘোষনা দেয়া হয়। এর পরই যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের আইন সংশোধন করে রাষ্ট্র পক্ষের আপিলের বিধান যুক্ত করা হয় যা আগে ছিল না। আন্দোলনরত এসব ব্লগার যে ইসলামের চরম বিদ্বেষী ছিলো তা কয়েক দিনের মধ্যে নানা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত থাকে। এতে ফুঁসে উঠে সারা দেশের ইসলাম প্রিয় তৌহিদী জনতা। এরই একজন রাজিব হায়দার নামে একজন ব্লগারের মৃত্য হয় যার ব্লগের নানা ইসলাম বিদ্বেষী কথা নানা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাজিবের বাসায় গিয়ে তাকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ আখ্যা দেন। এরই প্রেক্ষিতে হেফাজতে ইসলাম নামে একটি অরাজরনৈতিক সংগঠন নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। তাদের এ আন্দোলনে সারা দেশের সকল ইসলামী দল ও সংগঠনসমূহ সমথÐন ব্যক্ত করে । যার ফলে এ আন্দোলন সারা দেশে ব্যাপক জনসমথÐন লাভ করে। এ দাবিতে তারা রাজধানীর শাপলা চত্বরে ঐতিহাসিক লংমাচ ও মহাসমাবেশ পালন করে। যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও ব্যাপক প্রভাবিত করে।এতে তারা ১৩ দফা দাবী পেশ করে। এসব কারণে গণজাগরণ ও হেফাজতে ইসলাম পরস্পর মুখোমুখি দাড়ায়। এরই প্রেক্ষাপটে সরকার হেফাজতের বিপক্ষে গিয়ে সরাসরি গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ নেয়। ফলে হেফাজতের পক্ষ থেকে এ সরকারকে নাস্তিক ও মুনাফিক সরকার আখ্যা দেয়া হয়। সরকার এখন হেফাজতের এসব ঈমানী দাবীকে মধ্যযুগীয় আখ্যা দিয়ে হেফাজতকে দমনের কৌশল অবলম্বন করেছে। যাতে প্রকাশিত হয়েছে সরকার আসলেই নাস্তিকদের পৃষ্টপোষক। যদিও হেফাজতের লংমাচÐকে সরকার অনেক বাধা দান করেও দমতে পারে নাই। তাই এখন হেফাজতের ‍বিরুদ্ধে সরকার পন্থী নারীবাদী সহ সকল সংগঠনকে নামানো হয়েছে। আগামী ৫ই মে ঢাকা অবরোধ কমÐসূচিকে বানচাল করার জন্য সরকার উঠে পড়ে লেগেছে। ভারতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার দেশের সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানের ঈমান আকিদার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নাস্তিকদের পক্ষ অবলম্বন করে হেফাজত ইসলামের মহাজাগরণকে দমন এবং নাস্তিক ব্লগারদের লালনের কৌশল নিয়ে ভূল পথে পা বাড়িয়েছে।
ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী সরকারের ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে বলেছিলেন, এ সরকার ইসলাম ধ্বংসে যত কাজ করার দরকার তার সবই অবলম্বন করছে। শেখ হাসিনার সরকার বাদশাহ আকবরের মতো দ্বীনে এলাহী প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। তার কাছে মুসলামানদের কোনো দাম নেই, রবীন্দ্রনাথ ও নাস্তিক-মুরতাদদের দাম রয়েছে। আসলে এ সরকার ইসলাম ধ্বংসের এজেন্ডা নিয়েই ক্ষমতায় এসেছে এবং সেই কাজ করছে। তাই এ সরকারের পতন ছাড়া এ দেশে ইসলাম রক্ষার আর কোনো পথ খোলা নেই। খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করে। গোড়া থেকেই তারা ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি বৈরী মনোভাব প্রকাশ করে আসছে। ইসলামের কথা শুনলেই তাদের মাথাব্যথা হয়। তাদের সময় দেব নারায়ণদের মতো ইসলাম বিদ্বেষীরা উত্সাহিত হয়। এভাবে ইসলাম বিরোধী কাজের মাধ্যমে বাক্ষ্রণ্যবাদী ভারতের পরিকল্পনা মাফিক দেশ থেকে ইসলাম নিধনের অভিযানে নেমেছে আওয়ামী মহাজোট সরকার। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় ইসলাম নিধন করতে গিয়ে মুসলিম নামদারী শাসকরাই ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। ইতিপূবে ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেও আওয়ামীলীগ সরকার তাদের ইসলাম বিদ্বেষী কাজের কারণে জনগণ কৃতক প্রত্যাখাত হয়েছে। তাই জরুরী সরকার ও ভারতের বস্তাভতি টাকার বিনিময়ে ক্ষমতায় আসতে হয়েছে। তাইতো ২০২১ সাল পযন্ত ক্ষমতায় থাকতে তারা দেশের ইসলাম পন্থীদের নিধনের মাধ্যমে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চায়। কিন্তু ৯০ ভাগ মসুলমানদের এ দেশে, পীর মাশায়েখদের এ পূণভূমিতে এটি কখনো সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে দেশে জনসাধারণের যে গণজাগরণ শুরু হয়েছে তার স্রোতে বাংলাদেশে সকল ইসলাম নিধনের সকল অভিযান জন স্রোতে ভেসে যাবে ইনশাল্লাহ।(তথ্যসূত্র-আমারদেশঅনলাইন)


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29828849 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29828849 2013-05-10 12:27:34
ইয়াবা আগ্রাসন : ধ্বংসের কবলে যুব সমাজ ইয়াবা কি?
ইয়াবা একটি মেথামফেটামাইন মিশ্রিত ড্রাগ । ইয়াবা শব্দটি এসেছে থাইল্যান্ড থেকে। ইয়াবাকে বাংলা অর্থ উত্তেজক ওষুধ বা পাগলা ওষুধ, যা সেবন করলে মানুষের অতি মাত্রায় উত্তেজক করে তুলে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ইযাবাকে ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকা হয়, যেমন: ইন্ডিয়াতে বলে ভুলভুলাইয়া, ফিলিপাইনে ও ইন্দোনেশিয়ায় বলে শাবু,উওর থাইল্যান্ডে এর নাম চাকোস, সাউথ আফ্রিকায় বলে টিংকু, ব্রাজিলে বলে বালা ইত্যাদি। বাংলাদেশে কোন কোন এলাকায় ইয়াবাকে ”বাবা” ও বলে। ইয়াবা তৈরী করা হয় ২৫-৩৫ মি: গ্রা: মেথামফেটামাইন ও ৪৫-৬৫ মি: গ্রা: ক্যাফেইন এর সংমিশ্রণে। কোনো কোনো সময় ১০-১৫% হেরোইন ও মিশিয়ে থাকে। ইয়াবা ট্যাবলেট আকারে ৬ মি:মি: ব্যাস একদিকে গোলাকার অপর দিকে চ্যাপটা আকর্ষনীয় রঙে তৈরী করা হয়। ইয়াবা সাধারনত উজ্জল লাল,গোলাপী, কমলা,ও সবুজ ইত্যাদি রঙের হয়ে তাকে। এটি স্বাদে হালকা মিষ্টি এবং বিভিন্ন ফ্লেভারে তৈরী করা হয়,যেমন:আংগুর, কমলা, ভেনিলা ইত্যাদি। ট্যাবলেট এর গায়ে সাধারনত খোদাই করে জ অথবা ডণ লেখা থাকে।এই ট্যাবলেট আকারে ছোট হওয়ায় একই সাথে অনেক গুলো ট্যাবলেট সহজেই বহন করা যায়।
বাংলাদেশে ইয়াবার ইতিহাস
দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় হিটলারের সৈন্যদের বেশী সময় সচল রাখা বা উত্তেজিত কর্মক্ষম রাখার জন্য মেথামফেটামাইন বা নাজীস্পীড সেবন করানো হত। তখন এটি পারভিটিন নামে পরিচিত ছিল। সত্তরের দশকে থাইল্যান্ডে প্রচুর পরিমানে এর তৈরী ও ব্যাবহার হয় এবং সেখান থেকে সারা এশিয়াতে ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইয়াবা তৈরী হয় মায়ানমারে। বর্তমানে মায়ানমার থেকেই ইয়াবার সবচেয়ে বড় বড় চালান সীমাšত পথে অবৈধ ভাবে পার্শবর্তী দেশগুলোতে সঙ্ঘবদ্ব্য চোরা কারবারীরা পাচার করছে। ইয়াবার প্রস্তুত প্রনালী অত্যন্ত সহজ হওয়ায় পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কাঁচামাল সংগ্রহ করে তৈরী করা সম্ভব হচ্ছে এবং সেই সাথে অতি দ্রূত ব্যাবহারকারীদের মধ্যে পৌছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে।
বাংলাদেশে প্রথম ইয়াবা আমদানি হয় সাবেক একজন সংসদ সদস্য (বর্তমানে বিদেশ) এর মাধ্যমে আনা হয়েছিল বিদেশ ভ্রমন কালে। তখন বন্ধু-বান্ধবদের দিয়ে সেবন করানো হতো বলে এর প্রসার ছিল সীমিত আকারে। সে সময় একটি ট্যাবলেটের দাম ছিল আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। ফলে হাতে গোনা কয়েকজন উচ্চবিত্তশালী এটি ব্যবহার করতেন। প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ইয়াবা আমাদানী করে গুলশান নিকেতের জুয়েল। সে ধরা পড়েছিল ২০০২ সালে। সে ইয়াবা এনেছিল বিমান পথে থাইল্যান্ড থেকে । তখন বাজার মূল্য ছিল দুই হাজার টাকা। ইয়াবা সম্রাট আমিন হুদাও প্রথম থাইল্যান্ড থেকে বিমানপথে,পরে নিজেই রাসায়নিক উপাদান এনে গুনশানে রীতিমত ইয়াবার কারখানা খুলে বসেছিল।
বর্তমানে বাংলাদেশে ইয়াবা একটি মারাত্বক সমস্যা ও ব্যাধি হয়ে দাড়িয়েছে। ভৈগোলিক কারনে মায়ানমার বাংলাদেশের পাশা পাশি(২০৮ কি:মি: স্থল, ৬৩কি:মি: জল বর্ডার এলাকা)হওয়ায় জল ও স্থল পথে সহজেই ইয়াবা পাচার হয়ে আসছে,এমনকি আকাশ পথেও ইয়াবা আসছে বলে জানা যায়।
বিগত ৪০/৪৫ বছর ধরে থাইল্যান্ডে ইয়াবার উৎপাদন ও ব্যাবহার হলেও পরবর্তীতে এটি বর্ডার হয়ে মায়ানমারে পাচার হতে থাকে। একটি সময় থাইল্যান্ডের বিভিন্ন তেল ষ্টেশনে এই ইয়াবা বিক্রি হত। তখন মুলত ট্রাক ড্রাইভাররা ইয়াবা সেবন করে দীর্ঘ পথ না ঘুমিয়ে গাড়ী চালাত কিন্তু দেখা গেছে সে সময় রাস্তায় প্রচুর দুর্ঘটনা সংঘটিত হত। ফলে ১৯৭০ সালে থাইল্যান্ডে সরকারী ভাবে ইয়াবা ব্যান্ড করা হয়। ১৯৯৯/২০০০ সালের দিকে এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বিগত বছর গুলোতে দেখা যায় মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের সাথে বাংলাদেশের সীমাšত এলাকার লোকজন মিলে ইয়াবা বাংলাদেশে পাচার করে আসছে। বিভিন্ন গনমাধ্যমের সহায়তায় জানা যায়,মায়ানমারের সেনাবাহিনীর কিছু লোক ইয়াবা উৎপাদন করে দালালদের মাধ্যমে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাচার করে থাকে। বর্তমানে একটি বড়ির দাম সাড়ে তিন শ থেকে চার শ টাকার মধ্যে। সময়ের সঙ্গে অন্য সব কিছুর দাম বাড়লেও ইয়াবা এ হিসাবে ব্যতিক্রম। প্রতিনিয়তই এর দাম কমছে।
২০০২ সালে সীমিত আকারে টেকনাফ এলাকার নাফ নদের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ইয়াবা আনা শুরু হয়েছিল। ২০০৩ সাল থেকে ইয়াবা ডিলারদের জন্য ওই রুটটি হয়ে যায় সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জায়গা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানান, অতিসম্প্রতি টেকনাফ এলাকায় নজর দেওয়ায় ডিলাররা ব্যবহার করছেন অন্য আরো নতুন দুটি রুট। তা হলো বান্দরবানের গহিন অরণ্যের চাকঢালা সীমান্ত এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনের মধ্যে দূরত্ব মাত্র ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার। ওই দুটি রুট দিয়ে কিছু ইয়াবা মিয়ানমার থেকে সেন্টমার্টিন আসার পর তা কক্সবাজার হয়ে ঢাকায় আসছে। তবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় স্পট বা রুট টেকনাফের নাফ নদ। এ ছাড়াও সীমিত আকারে টেকনাফ নদে চলাচলকারী ট্রানজিট নৌকার মাধ্যমে এবং স্থলবন্দর দিয়ে কিছু ইয়াবার আমদানি চলে। আবার ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে ইয়াবার ডিলারও পরিবর্তন হয়েছে। গত বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করত যুবদল ও ছাত্রদল নেতারা আর বর্তমানে এর নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের দখলে। মূলত তাদের মাধ্যমেই দেশের শিক্ষাঙ্গন গুলোতে ইয়াবা ব্যবসা ও ইয়াবা সেবনের প্রসার ঘটে । বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই ইয়াবার প্রতি ঝুকেঁ পড়ছে বেশি। এছাড়া গুলশানসহ ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকার অনেক ফ্ল্যাটে রাতে ইয়াবার আসর বসে বলে বিভিন্ন সময় mswk­ó মাধ্যমগুলো খবর প্রকাশ করেছে।
ইয়াবার অপকারিতা
ইয়াবা একটি অত্যন্ত ঊত্তেজক এবং স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি মারাত্বক ক্ষতিকারক ড্রাগস। ইয়াবা বিভিন্ন ভাবে ব্যাবহার করে থাকে;সরাসরি পানির সাহায্যে খেয়ে থাকে, সিগারেটের সাথে মিশিয়ে, ফয়েলের সাহায্যে ধোয়া নি:শ্বাসে গ্রহন করে, ইনজেকশনের সাহায্যে পুশ করে,কাঁচের তৈরী বিশেষ ধরনের পাইপ ব্যাবহার করে ইত্যাদি ভাবে ব্যাবহার করে থাকে বলে জানা যায়। ইয়াবা একটি অত্যšত আসক্তিকর মাদক যা হেরোইনের চেয়েও বেশী। ইয়াবা সেবনের সঙ্গে সঙ্গে মানব দেহের অতি মাত্রায় উত্তেজিত হওয়ার কারনে শারীরিক শক্তি বর্ধিত হয়েছে বলে অনুভুত হয় এবং দীর্ঘ সময় ঘুম হয়না। ইয়াবা ব্যাবহারে প্রচন্ড খুধামন্দা দেখা দেয় এবং মানষিক ভারসাম্য লোপ পেতে থাকে। এ ভাবে কয়েক ঘন্টা নেশাগ্রস্থ থাকার পর ধীরে ধীরে নেশা কেটে যেতে থাকে এবং শরীর মন ভেঙ্গে যায়,দুর্বলতা অনুভুত হয় এবং দীর্ঘ সময় ঘুমাতে ইচ্ছা করে, তবে দ্রূত পুনরায় ইয়াবা ডোজ নিতে ইচ্ছা জাগে এমন কি আসক্ত ব্যক্তি আগের চেয়ে বেশী ডোজ নিতে চায়। এ ভাবেই ধীরে ধীরে ব্যাবহারকারী ইয়াবার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ইয়াবা ব্যাবহারকারী ধীরে ধীরে মানবতা ও ধৈয্যশীলতা হারিয়ে ফেলে। ইয়াবা সেবনে প্রচন্ড ভাবে দীর্ঘ মেয়াদী শারিরীক ও মানষিক ক্ষতি সাধিত হয়। অতিরিক্ত ইয়াবা ব্যাবহারে শরিরের মাংশপেশী প্রবল ভাবে কামড়াতে থাকে। চিকিৎসকদের মতে ইয়াবা ব্যাবহারে স্মৃতিশক্তি লোপ পায়, ক্রোধ, অনিদ্রা, হতবুদ্ব্ধিসঢ়;, শরীর কাঁপা, দৈহিক আকেখপ,উদ্বেগতা বৃদ্বি, আক্রমনাত্বক স্বভাব, চুল ওঠা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়, এবং ইনজেকশনের সাহায্যে একাধিক ব্যাক্তি ব্যাবহারে এইচ আই ভি এইডস্ধসঢ়;, হ্যাপাটাইটিস বি ও সি ইত্যাদি রোগে আক্রাšত হয়। দীর্ঘ সময় ইয়াবা সেবনের ফলে শ্বসনতন্ত্র ও হ্রৃদ যšত্র বন্ধ হতে পারে, এমনকি কিডনী ফেইলর সহ অনেক জটিল রোগে আক্রাšত হয়ে মৃত্যু নিশ্চিত হতে পারে। আসক্ত ব্যাক্তিরা বেচে থাকলেও শারিরীক ও মানষিক ভাবে বিপর্য¯ত হয়ে মানষিক রোগে ভুগতে থাকে। আসক্ত হওয়ার পর যেহেতু শরিরের চাহিদা মেটাতে নিয়মিত ইয়াবার ডোজ নেয়া অবধারিত হয়ে পরে সেহেতু ইয়াবা ক্রয় করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন সত্তেও একটি সময় সেবনকারী কে অর্থ স্ধংসঢ়;কটে পরতে হয়,ফলে সেই অর্থ যোগার করতে ছিনতাই, চোরী, ডাকাতি, অপহরন, ও খুনের মত অপরাধমুলক অসামাজিক কর্ম কান্ডে জরিয়ে পরে। এমনি ভাবে একটা সময় দেখা যায় যে ইয়াবা সেবনকারিরা বড় কোন অপরাধ চক্রের সাথে জরিত হয়ে নিজেই মাদক পাচার ও বিক্রয়ের সাথে যুক্ত হয়ে পরে। এ ভাবে এমন এক পর্যায়ে চলে যায় যেখান থেকে সাধারন জীবনে ফিরে আসা আর স¤ভব হয় না।এই সব আসক্ত ব্যাক্তি ইয়াবার পার্শ প্রতিক্রিয়ার কারনে খিট খিটে মেজাজের ঝগড়াটে হয়ে যায় এবং হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায়। তাই বেশির ভাগ সময় পরিবারের সদস্যের সাথে রঢ় আচরন করে থাকে ফলে পারিবারিক সম্পর্কেও অবনতি ঘটে। পরিবারের সাথে সাথে আত্বীয়-স্বজন, প্রতিবেশীরাও মাদকাশক্ত ব্যাক্তিদের ভাল চোখে দেখে না,ফলে আপনজনদের থেকে দুরত্ব র্সৃষ্টি হতে থাকে এবং আরো দ্রুত মাদকাশক্ত ব্যাক্তির মানষিক ও শারিরীক অবনতি ঘটে, এ ভাবে একটি সময় সামাজিক ভাবে ঘৃণ্য এবং অবহেলিত অবস্থানে চলে যায়। এমতাবস্থায় ঐ ব্যাক্তির একদিকে যেমন ইয়াবার পার্শপ্রতিক্রিয়া তাকে দিন দিন খুড়ে খুড়ে খেয়ে নি:শেষ করে দেয় অপর দিকে পরিবার আত্বীয়-স্বজন ও সামাজিক বন্ধন থেকে নিজের দুরত্ব সৃষ্টি হওয়ার কারনে বেচে থাকার কোন ভরসাই খুজে পায় না, ফলে অনেকে আত্মহত্যাকে মুক্তির পথ হিসেবে বেছে নেয়।
বাংলাদেশে ইয়াবার ভয়াবহতা
মাদকাশক্তদের মতে অন্যান্য মাদকের তুলনায় ইয়াবা অধিকতর বেশী কার্যকর এবং উত্তেজক হওয়ায় এর ব্যাবহার এবং চাহিদা বেশী। এমনকি হেরোইনের চেয়েও বেশী। সবচেয়ে বেশী উদ্বেগের বিষয় হল ইয়াবা ব্যবহার বাংলাদেশের শিক্ষিত অভিজাত শ্রেণীর থেকেই শুরু হয়েছে এবং এখনো চলছে। স্বাভাবিক ভাবেই নি¤œবিত্ত বা নি¤œমধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানূষ উচ্চ বিত্ত শিক্ষিত সমাজকে অনুকরন অনুসরন করে থাকে আর সেই উচ্চ বিত্ত শিক্ষিত সমাজ যদি অসামাজিক বা অমানবিক কর্মকান্ড করে থাকে তা হলে অতি সহজেই তা নি¤œবিত্ত বা নি¤œমধ্যবিত্ত সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুর দিকে এদেশের অভিজাত এলাকার বিভিন্ন নাইট ক্লাব সহ আবাসিক হোটেল গুলোতে ইয়াবার ব্যাবহার হলেও বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত্য অঞ্চল সহ নিম্নমধ্যবিত্ত বা নিম্নশ্রেণীর দিনমজুর পর্যন্ত ইয়াবায় আসক্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্কুলের ছোট ছোট ছাত্রদের কাছে ইয়াবা বিক্রয় করা হয় বলে পত্র পত্রিকায় এসেছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ঢাকা নগরীতেই প্রতিদিন ১৪ লাখ ইয়াবার চাহিদা।
চট্টগ্রামে মহানগরীতে এর চাহিদা ৮ লাখ আর কক্সবাজারে ৪ লাখ | চার গ্রেডের মিলে ব্যবসায়ী সংখ্যা ১৫ হাজার। উঠতি টিনএজ ছেলেমেয়ে এখন ইয়াবা আগ্রাসনের শিকার। গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার অভিভাবকদের জন্য দুঃসংবাদ। আপনাদের ছেলেমেয়ের হাতের নাগালেই এখন ইয়াবা। ইয়াবা ভাসছে অলিতে-গলিতে। বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যানুযায়ী প্রতি ওয়ার্ডে ২০০'র বেশি ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়েছে। জানা যায়, হাতে খরচের টাকা বেশি পাওয়া ছেলেমেয়েরাই এখন ইয়াবার নেশায় আসক্ত। এমনকি ডাক্তার, প্রকৌশলী ও তরুণ ব্যাংকার ব্যবসায়ীদের কাছেও ইয়াবা ভীষণ প্রিয়। এ ভয়াবহ মাদক 'ইয়াবা' নিয়ে সরকারসহ দেশবাসী উদ্বিগ্ন হলেইবা কি আসে যায়। আইনশৃক্সখলা বাহিনীর চোখের সামনে চলছে অলিগলিতে বেচাকেনা। এমন লাভজনক ব্যবসায় দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শেষ হলেইবা কি! এর বিরুদ্ধে কোথাও সাঁড়াশি অভিযান নেই। কারণ এটা বন্ধ হলেই যে বখরা বা চাঁদার মোটা অংক আদায় হবে না।

সন্ধ্যা নামলেই গুলশান, ধানমন্ডি, বনানী ও উত্তরার বিস্তীর্ণ এলাকার অলিগলিতে উঠতি ছেলেমেয়েরা যেখানেই জড়ো হচ্ছে সেখানেই চলছে ইয়াবা সরবরাহ। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে এক সময় হেরোইনসেবীদের সংখ্যা বাড়ত। এখন ইয়াবা আসক্তদের নিয়ে আসছেন অভিভাবকরা। শাড়ির আঁচলে অসহায় মায়েরা অশ্রুতে চোখ মোছেন নীরবে। বাবার বুকে গভীর বেদনা- দীর্ঘশ্বাস। সন্তানকে নিয়ে দেখা বড় বড় স্বপ্ন এখন ইয়াবার কারণে দুঃস্বপ্ন হয়ে যাচ্ছে।

রাজধানীতে এমএলএম (মাল্টিলেভেল মার্কেটিং) পদ্ধতিতেই চলছে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা। চারটি গ্রেডে বিভক্ত হয়ে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে গডফাদাররা। সবচেয়ে নিচের গ্রেডের ইয়াবা ব্যবসায়ীর বিক্রির টার্গেট থাকে প্রতিদিন ৪০-৫০টি। ওই গ্রেডের একেক ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে ১০-১২ জনের সেবক গ্রুপ থাকে।

তবে প্রতিদিন লাখ পিসের অধিক ব্যবসা করে এমন মাদক ব্যবসায়ীর (প্রথম গ্রেড) সংখ্যাও বর্তমানে ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। তাদের অর্ধেকের বেশি সারা দেশে ইয়াবা সরবরাহ করে। এদের অনেকেই অন্য ব্যবসার আড়ালে দেদারসে ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীর এমন কোনো গলি বাদ নেই যেখানে ইয়াবা ব্যবসায়ী নেই। র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা জানান, অবিশ্বাস্য রকমভাবে ইয়াবার বিস্তার ঘটছে সারা দেশে। প্রতি গলিতেই রয়েছে ইয়াবা ব্যবসায়ী। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, ইয়াবা সেবক ও ব্যবসায়ীর তালিকায় ডাক্তার-প্রকৌশলী থেকে শুরু করে দিনমজুর পর্যন্ত প্রায় সব পেশার মানুষই রয়েছেন। তবে এর নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে খোদ রাজধানীতেই তৈরি হচ্ছে নকল ইয়াবা। ১৭ এপ্রিল মীরহাজিরবাগের ৪২৮/১ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ এমনই নকল ইয়াবা কারখানার সন্ধান পায়। এ সময় কারখানা থেকে দুই রাউন্ড গুলি, একটি বিদেশি পিস্তল ও নকল ইয়াবা তৈরির বিভিন্ন উপকরণসহ জাকির হাসান ওরফে জুয়েল (৩০) ও নাসির উদ্দিন (৩৭) নামের দুজনকে গ্রেফতার করে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা রাজধানীতে আরও নকল কারখানা থাকতে পারে। ব্যবসা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা প্রথমে তার পরিচিতজনদের কাছে একটি ইয়াবা বড়ি ফ্রি দিচ্ছে। প্রথমবার খাওয়ার পরই ওই ব্যক্তি অন্য রকম সতেজতা, একই সঙ্গে যৌন উত্তেজনা অনুভব করে। দুই-একদিন এর থেকে বিরত থাকলেও ওই অনুভূতি ভুলতে পারে না। ওই সময় ইয়াবা ব্যবসায়ীর কাছে গেলে সে কম মূল্যে তাকে আবার আরেকটি ইয়াবা পিল দেয়। এক পর্যায়ে সে আসক্ত হয়ে পড়ে ইয়াবাতে। প্রথমদিকে একটিতে অভ্যস্ত থাকলেও ক্রমান্বয়ে কারও কারও সেবনের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬-৮টিতে গিয়ে ঠেকে। ওই সময় ইয়াবা ব্যবসায়ী সেবনকারীকে বিক্রেতা হিসেবে বেছে নেয়। টার্গেট দেয় দৈনিক ৪০-৫০টি। ওই ইয়াবা বিক্রির ফলে তার সেবনের খরচ অনেকটাই উঠে যাচ্ছে। একটি ইয়াবার দাম ৩০০-৪০০ টাকা। তাই সেবনকারীরা ২৫০ টাকায় এনে বিক্রি করতে উৎসাহবোধ করে। এতে তার সেবন বাবদ খরচের টাকা উঠে যায়। তবে পরিচিতজনদের বাইরে ইয়াবা বিক্রি করে না ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। তারা স্কুল-কলেজ বিশেষ করে ইংরেজি মিডিয়ামের ছাত্রছাত্রীদের এখন টার্গেট করে অগ্রসর হচ্ছে।
নিষিদ্ধ এ মাদককে অভিযান চালিয়েও দমানো যাচ্ছে না। কারণ রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতা। থাইল্যান্ডের মতো দেশে ইয়াবা আগ্রাসনকে দমন করার জন্য ৩০০০ ব্যবসায়ীকে ক্রসফায়ার দিতে বাধ্য হয়েছিল তৎকালিন সরকার। বর্তমানে ইয়াবাসহ সকল প্রকার মাদক দ্রব্যের নিরাপদ ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বাংলাদেশ। এক রির্পোটে জানা যায়, মিয়ানমার সীমান্তে দুই শতাধিক প্রভাবশালী ইয়াবা ব্যবসায়ী জড়িত রয়েছে। যে সরকার ক্ষমতায় থাকুন না কেন তাদের রয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। অন্য এক রির্পোটে জানা যায়, টেকনাফে চিহিৃত ২০ টি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ৩ শতাধিক সদস্য দেশের সর্বত্র পৌঁছে দিচ্ছে ইয়াবা। তালিকাভূক্ত ৯৭ জন গদফাদার নিয়ন্ত্রন করছে এই সিন্টিকেট। তারাই সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে অথবা ম্যানেজ করে নিয়ে আসছে ইয়াবার চালান।
এ পর্যন্ত অসংখ্য ইয়াবার চালান মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাচার করার সময় বিজিবি ও র্যাব সহ বিভিন্ন আইন সৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে। বিগত দিনের রেকর্ড হিসেবে এটাই বলা যায় যে, ইয়াবা পাচার বাংলাদেশে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। র্যাব-১ ও র্যাব ৭ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ১৮ মে ২০১২ তারিখে বাংলাদেশে পাচার হওয়া এ যাবৎ কালের সবচেয়ে বড় ইয়াবার চালান চট্রগ্রামের আসাদগঞ্জ খেকে আটক করেছে যেখানে ২,৭০,০০০ ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে যার আনুমানিক বাজার মুল্য ৯০ খেকে ১০০ মিলিয়ন টাকা। এর আগে ২০০৬ সালে ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে র্যাব ১,১৫,০০০ ইয়াবা ট্যাবলেট আটক করেছিল। এ ছাড়াও অসংখ্যবার ছোট মাঝারী ইয়াবার চালান বাংলাদেশে বিভিন্ন এলাকা থেকে আইন সৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে। ২০০০ সাল থেকে এ পর্যšত বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারের রেকর্ড পর্যবেক্ষন করলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশে ইয়াবার বিরাট মার্কেট তৈরী হয়েছে, অর্থাৎ যুব সমজের বিরাট একটি অংশ ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েছে যা একটি দেশের জন্য অশনি সংকেত।

বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ একটি অতি সম্ভাবনার দেশ। বর্তমানে প্রায় ১৫ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশী ই যুবক এবং কর্মক্ষম, যেখানে অনেক উন্নত দেশেই বয়স্ক লোকের সংখ্যা বেশী এবং কর্মক্ষম লোকের অভাব। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে গত ২০০৭/৮ সাল থেকে সারা বিশ্ব একটি অর্থনৈতিক মন্দায় আক্রাšত হয়েছে যেখানে বাংলাদেশের মত একটি দরিদ্র দেশে তার তেমন কোন ছোয়া লাগেনি। তার একটি মাত্র কারন আমাদের যুবসমাজের একটি বড় অংশ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করে হাজার হাজার কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন যা দিয়ে বিশ্ব মন্দাকে দুরে ঠেলে রাখা সম্ভব হয়েছে। এবং আরেকটি যুব সমাজ দেশে পরিশ্রম করে উৎপাদিত পন্য বিদেশে রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে। এই যুব সমাজ যদি ইয়াবা বা মাদকের কারনে ধ্বংশের দিকে ধাবিত হয় তবে দেশের অতিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবেনা। আজকের যুব সমাজ তথা বাংলাদেশ কে একটি উন্নত দেশে পরিনত করে বিশ্বায়নের স্বাদ নিয়ে পরবর্তী প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে ইয়াবা(মাদক) পাচার ও ব্যাবহার বন্ধের কোন বিকল্প নেই। পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলাদেশ তথা ভারত বর্ষের সভ্যতা অতি প্রাচীন। বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ কারনে আলাদা আলাদা গোষ্ঠি এই এলাকাকে শাসন ও শোষন করলেও বর্তমানে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট যা অনেক রক্ত, জীবন ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। একই সাথে স্বাধীনতার চল্লিশ বছরে অনেক ব্যার্থতা ও অনেক অর্জন থাকলেও এ জাতির ভবিষ্যৎ অত্যšত সু-প্রসন্ন বলা যায়। এমতাবস্থায়; মাদক দ্রব্য বা ইয়াবার ছোবলে এদেশের যুব সমাজ ধ্বংশ হলে বাঙালির হাজার বছরের অর্জণ ধুলায় মিশে যাবে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে তিরিশ লক্ষ্য শহীদের আত্মার অসম্মান করা হবে। কাজেই ইয়াবার মত অভিশাপ কে চিরতরে দুর করতে সরকারী,বেসরকারী ও সামাজিক ভাবে ইয়াবার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করতে হবে।
ইয়াবা আগ্রাসন প্রতিরোধে করনীয়
ইয়াবার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে চিরতরে বন্ধ করতে হলে দেশের সর্বস্তরের মানুষের সর্বাত্বক অংশগ্রহনে যে কাজগুলো করতে হবে তা এ ভাবে বলা যেতে পারে যেমন:
# সব প্রথম মাদক ব্যবসার রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। কারণ প্রতি সরকারের আমলে যুবলীগ-যুবদল,ছাত্রলীগ-ছাত্রদল,আওয়ামীলীগ-বিএনপি এদের পৃষ্টপোষকতায় দেশে অপরাধের ডাল-পালা বিস্তার লাভ করতে হবে।
# যেহেতু ইয়াবা সেবনে মানুষের মৃত্যু হয় এবং শুধুই মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায় তাই ইয়াবা উৎপাদন, পাচার,বিক্রয়, ও ব্যাবহার সহ সংশ্লিষ্টতার কারনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড হওয়া উচিত।
# বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা ১০০% সুরক্ষিত রাখতে হবে।
# দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আইন প্রয়োগের ব্যাপারে ১০০% নিশ্চিত হতে হবে।
# ইয়াবা বা মাদক উৎপাদন, পাচার,বিক্রয়, ও ব্যাবহারের অপরাধের শাস্তির মাত্রা অত্যন্ত কঠিন ও ভয়াবহ রেখে বিশেষ আইন প্রণয়ন করতে হবে।
# বাংলাদেশে আইন প্রয়োগের খে¦ত্রে দুনীতি একটি বড় বাধা,তাই দুনীতি রোধে বিশেষ আইন প্রণয়ন সহ সরকার কে বিশেষ ব্যাবস্থা গ্রহন করতে হবে।
# ইয়াবা বা যে কোন মাদক দ্রব্য ব্যাবহারের কুফল সমন্ধে পরিষ্কার ধারনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্য বই হইতে উচ্চতর শিক্ষার বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিক মাদক ব্যাবহারের ভয়াবহতা সম্বন্ধে অবগত হয়ে সতর্ক হতে পারে।
# সরকারী ও বেসরকারী ভাবে সভা-সমাবেশ,সেমিনার,আলোচনা ইত্যাদির মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ইয়াবার ভয়াবহতা ও এর প্রতিকারের ব্যাপারে অবগত করতে হবে। এ ব্যাপারে ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়া এবং এনজিও বিশেষ ভুমিকা রাখতে পারে।
# স্থানীয় সরকার যেমন:বিভাগ,জেলা,থানা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড পর্যন্ত্য সমস্ত প্রশাসন ও জন প্রতিনিধি কে স্ব স্ব এলাকায় মাদক দ্রব্য উৎপাদন,বিক্রি ও ব্যাবহারের ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য দায়িত্ব দিতে হবে। সেই সাথে দায়িত্ব পালনে ব্যার্থতার জন্য প্রত্যেক এলাকার প্রতিনিধিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। এটা এই জন্য যে,তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিনিধিরা স্ব স্ব এলাকার ব্যাপারে বেশী অবগত থাকেন।
# দেশের শহর এলাকায়, বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে সম¯ত নাইট ক্লাব, ইয়ুথ ক্লাব, আবাসিক হোটেল, ষ্টেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পার্ক ইত্যাদি সহ যে সব এলাকায় যুবকদের বিচরন বেশী সেই সব এলাকা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরে রাখতে হবে।
# পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন মানুষের সুস্থ ভাবে বেচে থাকার জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ন, তাই এ ব্যাপারে তৃণমুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে উচ্চতর শিক্ষালয় পর্যšত্য ছাত্র-ছাত্রীদেরকে শিক্ষার মাধ্যমে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে উৎসাহিত করার ব্যাবস্থা গ্রহন করতে হবে।
# পরিবারের ছেলে-মেয়েদেরকে শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়স পর্যšত্য রক্ষনাবেক্ষন, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মধ্যে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন বিষয়ে পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের কে সরাসরি অথবা পূ¯তকের মাধ্যমে ধারনা দেয়া যেতে পারে। কারন বেশীর ভাগ যুবক-যুবতী ভুল পথে যাওয়ার ও মাদকাশক্ত হওয়ার পেছনে পিতা-মাতা ও অভিভাবকের অসতর্কতাই দায়ী।
# লেখাপড়ার পাশা পাশি প্রতিটি শিশু কে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার দিকে উৎসাহিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবার,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সমাজ ও সরকারকে বিশেষ ভুমিকা রাখতে হবে।
# ৩য় বা ৪র্থ শ্রেনী থেকেই শরীরচর্চা বা সূস্বাস্থ গঠনে করনীয় বিষয়ে বিশেষ পুস্তক পাঠ্য বইয়ের সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, তা হলে প্রতিটি শিশু সু-স্বাস্থ্য গঠনের পরিপন্থী কোন কাজ বা প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহনে উৎসাহিত হবেনা। তবে এই ব্যাপারে দেশের প্রতিটি শিশুকে শিক্ষার আওতায় আনতে হবে।
# প্রতিটি শিশু ও যুবক-যুবতীকে পারিবারিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদের মনের ইচ্ছাকে স্বাধীন ভাবে ব্যাক্ত করার সুযোগ দিতে হবে এবং তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ন আচরণ করতে হবে।
# ইয়াবায় আসক্তদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যাবস্থা করতে হবে।সরকারী,বেসরকারী উদ্দোগে আসক্ত ব্যাক্তিদের সুস্থ করে তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। তাদের কে বুঝাতে হবে যে তারাও পরিবার ও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ
# দক্ষিন ও দক্ষিন পুর্ব এশিয়ার দেশগুলো সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে ইয়াবা বা মাদক পাচার বন্ধে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সব অপরাধমুলক কর্মকান্ড প্রতিরোধ করা অনেকাংশেই সম্ভব।
# জাতিসংঘের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ইয়াবার ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতায় প্রচারাভিযান চালানো উচিত।
সব শেষে এতটুকু বলতে চাই, যুগ যুগ ধরে পৃথিবীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রকার সমস্যা এসেছে, আর মানুষ সম্মিলিত ভাবে সেই সব সমস্যা সমাধান করে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেশ ও জাতি গোষ্ঠির স্বাভাবিক জীবন যাপন নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে আমাদের দেশে ইয়াবা ও তেমনি একটি মারাত্বক সমস্যা বা ব্যাধি,তবে আমি বিশ্বাস করি অচিরেই আমাদের সবার সচেতনতা ও স্ব স্ব দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ইয়াবা পাচার ও বিক্রয়কারীদেরকে নিধনের মাধ্যমে যুব সমাজ কে এর হাত থেকে বাচাতে পারবো এবং সুস্থ সমাজ ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ে ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বাভাবিক জীবন যাপন নিশ্চিত করতে পারব।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29828218 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29828218 2013-05-08 19:44:29
সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হোক বেশ কিছু দিন ধরে জামাত শিবিরকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষনা করে তাদের নিষিদ্ধের দাবী তোলা হচ্ছে। জামাত শিবির কে নিষিদ্ধের জন্য গণজাগরন মঞ্চ,নাগরিক ফোরাম সহ জামাত শিবির বিদ্ধেষী সকল সংগঠন থেকে রীতি মত হুন্কার ছোড়া হচ্ছে। অবস্থাদৃশে মনে হচ্ছে যেন বতমান বাংলাদেশে জামাত শিবিরই একমাত্র সমস্যা। তাদের নিষিদ্ধ করা গেলে দেশটা যেন সুখের স্বগেÐ পরিনত হবে। আসলে কি তাই? বাংলাদেশের রাজনীতিতে কারা সন্ত্রাসী? কারা দেশে রাজনীতির নামে সন্ত্রাসের পৃষ্টপোষক? কাদের রাজনীতি সন্ত্রাস নিভÐর? স্বাধীনতার পর থেকেই কাদের হাতে দেশের রাজনীতি,শিক্ষাঙ্গনসহ লাল সবুজের পতাকা বার বার রক্তাক্ত হয়েছে? কাদের আদশÐ সন্ত্রাসবাদ? কারা সন্ত্রাসের পৃষ্টপোষকতা দিয়ে এ দেশটাকে সন্ত্রাসের নরক রাজ্যে পরিনত করেছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গত চার বছরের ছাত্রলীগের কমকান্ডের সামান্য ফিরিস্তি তুলে ধরা হবে যাতে প্রমাণিত হবে কারা সন্ত্রাসী সংগঠন? কাদের নিষিদ্ধ করা দরকার? গত চার বছরে এমন কোন অপকমÐ নেই যা ছাত্রলীগ নামক এ দানবরা করেননি। বতÐমান ছাত্রলীগ তো মহাজোট সরকারের ফান্কেটাইনে পরিনত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় গত চার বছরে খুন, ধষÐণ, চাদাঁবাজী,মাস্তানী,ইভটিজিং এবং নানা ধরণের সন্ত্রাসী কাজের মাধ্যমে তারাই প্রমাণ করেছে যে ছাত্রলীগ আসলেই একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। শিক্ষা,শান্তি,প্রগতি ছাত্রলীগের মূলনীতি হলেও বাস্তবে সন্ত্রাস,চাদাঁবাজী আর মাস্তানী তাদের আসল মূলনীতি। তাই ছাত্রলীগকে জনসাধারণের সাথে বিশেষ করে এদেশের ছাত্র সমাজের সাথে আর প্রতারণা না করে তাদের মূলনীতিগুলো সংশোধনের আহবান জানায়।নিম্নে তাদের নব্য সন্ত্রাসবাদের আংশিক ফিরিস্তি তুলে ধরা হলো:
ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের বিগত চার বছরের আলোচিত চরিত্র ছিল ছাত্রলীগ। দেশজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হানাহানি, টেন্ডারবাজী, খুন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা তারা প্রায় বিনা বাধায় ঘটিয়ে চলেছে। রাষ্ট্র ক্ষমতার চার বছরে এসে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস নৈরাজ্য আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দেশের ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষার্থীদের ন্যায় সংগত দাবির আন্দোলনের উপরও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের আক্রমন ক্রমেই বর্বর হয়ে উঠছে। সরকার দলীয় এই ছাত্র সংগঠনের উন্মত্ত সন্ত্রাসীরা সর্বশেষ গত ৯ ডিসেম্বর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে কুপিয়ে হত্যা করে নিরিহ পথচারী যুবক বিশ্বজিতকে - যা স্মরণকালের সব নৃসংসতাকে হার মানিয়েছে। এর পরও তাদের সন্ত্রাসবাদ থেমে নেই।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর থেকে লাগামহীন অপরাধ কর্মকাণ্ডে নামে ছাত্রলীগ। ক্যম্পাসে খুনোখুনি, লাগাতার অভ্যন্তরীন তান্ডব, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, বেপরোয়া যৌন সন্ত্রাসের অভিযোগ সত্ত্বেও একটি ঘটনারও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির নেই। বরং বর্তমান সময়ে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রসীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে এক জোট হয়েই তাদের জিঘাংসা চরিতার্থ করছে। এতে দিন দিন সংগঠনটিতে অপরাধ প্রবণতা প্রবলতর হচ্ছে। বিগত চার বছরে ছাত্রলীগ দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কমপক্ষে ৪৫০ টি সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটায়। এতে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত জুবায়ের হত্যাকাণ্ডসহ হত্যার ঘটনা ঘটেছে অন্তত ২৪ টি।
সর্বশেষ ১২ জানুয়ারি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা শিক্ষক লাউঞ্জে হামলা চালায়। এতে ৩০ জন শিক্ষক আহত হন। লাঞ্ছিত হন আরও ৪০ জন শিক্ষক। এর দুই দিন আগে বৃহস্পতিবার রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ক্ষমতাসীন দলের এই ছাত্র সংগঠন। এ সময় তারা শিক্ষকদের ওপর এসিড পর্যন্ত ছুড়ে মারে ছাত্রলীগ।
গত ৯ জানুয়ারি রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৫০-৬০ জন নেতা-কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে মধ্যরাতে ছাত্রী হোস্টেলে প্রবেশ করে। এ ঘটনায় আহত হন ১০ ছাত্রী ও ইন্টার্নি চিকিৎসক। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বুয়েটের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলা চালায় ছাত্রলীগ।
গত বছরের ৮ জুলাই ছাত্রলীগ ক্যাডাররা সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পদ্মা সেতুর জন্য অর্থ সংগ্রহের জের ধরে গোলাগুলির ঘটনায় ১৬ জুলাই আব্দুল্লাহ আল হাসান নামে এক ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ২০১১ সালের ৪ জানুয়ারি সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক নাজমূল হুদা পলাশের ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নৃত্যশিল্পী। ধর্ষণের শিকার নৃত্যশিল্পী সাতক্ষীরা সদর থানায় ছাত্রলীগের ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। পুলিশ জানায়, রাত ১২টার দিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে ওই নৃত্যশিল্পীকে স্বামীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছাত্রলীগ নেতা পলাশ ও জুয়েল হাসান। ধর্ষণের শিকার ওই শিল্পীকে রাত দেড়টার সময় নাজমূল হুদা পলাশের বাসা থেকে বিধ্বস্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার মাত্র একদিন আগে ৩ জানুয়ারি ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের তান্ডবের মুখে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন ফি বাতিলের দাবিতে একই বছরের ৩ জানুয়ারি বিক্ষোভ মিছিল ও ব্যাংক অবরোধের সময় প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা কর্মীদের উপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এসময় ১৬ জন নেতা-কর্মী আহত হন। ছাত্রলীগ কর্মীরা হামলাকালে পাঁচ ছাত্রীকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ ওঠে।
৫ জানুয়ারি রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের মিছিলে ছাত্রলীগ হামলা চালায়। এতে ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়।
আওয়ামী লীগের গত চার বছরের শাসনামলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সারাদেশে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস ও আতঙ্ক বহাল রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের উল্লেখযোগ্য প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একাধিকবার বন্ধ হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, খুলনা প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজসহ দেশের কমপক্ষে ৭০টি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নানা সময়ে বিভিন্ন মেয়াদে বন্ধ হয়ে যায়।
ছাত্রলীগের লাগামহীন অপকর্মের বিষয়ে বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। কিন্তু বিষয়টি সতর্কবাণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। সব ধরনের অপকর্মে তারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে দলীয় এবং প্রশাসনিক সুবিধা পেয়েছেন। গত বছরের বছরের ১০ জুলাই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, কেউ বিপথে গেলে, সংগঠনের সুনাম নষ্ট করলে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মাথায় আসাদগেটে বিনে পয়সায় খাওয়া নিয়ে হোটেল কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। এর জের ধরে তারা সড়কে গাড়ি ভাঙচুর করে। কোন বিরতি ছাড়াই তাদের অপরাধ কর্ম চলেছে সমান গতিতে। অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দলীয় কোন্দলে শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি তারা নিজেদেরকে নিয়োজিত করে বিরোধী মতপথ দমনের কাজে। এক্ষত্রে তারা পূর্ণ প্রশাসনিক সহায়তায় ও নিরাপত্তায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে গড়ে ওঠা ন্যয় সঙ্গত দাবির আন্দোলনে তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। উল্টো মামলা হচ্ছে হামলার শিকারদের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ কুয়েটের ঘটনায়ও সশস্ত্র হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা-কর্মিদের বাদ দিয়ে মামলা করা হয়েছে আহত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।
সর্বশেষ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বিগত চার বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও লাঞ্ছিত করে চলেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আড়াই বছরে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষককে মারপিট ও লাঞ্ছিত করেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হলো মাত্র। ২০১১ সালের ২০ আগস্ট বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। ২৩ নভেম্বর ইউনিফর্ম ছাড়া এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে না দেয়ায় নোয়াখালী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জুলফিকার হায়দারকে ছাত্রলীগ নেতা সোহরাব ইকবাল লাঞ্ছিত করে। গত বছরের ২২ জানুয়ারি মধ্যরাতে স্যার এ এফ রহমান হলের ছাত্রলীগ নেতাদের আবাসিক মেয়াদ শেষ হওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের হাতে তিন শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। শিক্ষকরা হলেন, প্রাধ্যক্ষ আজিজুর রহমান, হলের আবাসিক শিক্ষক মাহবুব কায়সার ও অধ্যাপক আশফাক হোসেন। ২২ মার্চ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মাছপাড়া ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষসহ তিনজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা। এর আগে ২০১০ সালের ২৫ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ ক্যাডাররা লাঞ্ছিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষককে। একই বছরের ১০ মে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসে হামলা চালিয়ে এক শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত ও ১০ ছাত্রীকে আহত করে ছাত্রলীগ। ১১ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের দুই শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগ কর্মীরা।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের পরদিন থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হল দখল এবং ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শুরু হয় ছাত্র লীগের সংঘাত। এরপর জাবিতে ২০০৯ সালের ১৬ জানুয়ারি ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের সংঘর্ষে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মাঠে নামে উভয়পক্ষ। সেই থেকে নিয়মিত সংঘর্ষে লিপ্ত থেকেছে জাবি ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল দখলকে কেন্দ্র করে ২০১০ সালের ৫ জুলাই দুই গ্র“পের সংঘর্ষে দু’জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়। প্রতিপক্ষ ছাত্রদের মারপিট করে ফেলে দেওয়া হয় হলের ৩ তলা ও ৪ তলা থেকে। এরপর থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগের নজিরবিহীন তান্ডব।
২০১০ সালের ১৩ জুন যশোর শহরে গুলিবর্ষণ ও বোমা বিস্ফোরণের পর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন পন্ড হয়ে যায়। দু’পক্ষের সংঘর্ষে ওসিসহ ৬ পুলিশ সদস্য আহত হলেও পরবর্তীতে পুলিশ এই মামলায় কাউকে অভিযুক্ত না করে চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয়। ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যা করা হয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি শরীফুজ্জামান নোমানীকে। এর পর রাজশাহী পলিটেকনিকে খুন হয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানি। ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবু বকর নিহত হয় ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসের কারণে। ২১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রদলের অন্তত ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়। ৪ মে ছাত্রলীগের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বরিশাল পলিটেকনিক কলেজে ছাত্রলীগের দু’গ্র“পের দফায় দফায় সশস্ত্র সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়। ২০১১ সালের ২৬ এপ্রিল আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলে ছাত্রলীগের দু’গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১শ’ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হয়। অভ্যন্তরিন সংঘাতের পাশাপাশি সারাদেশের সরকারি দফতরের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলে যায় ছাত্রলীগের দখলে। চার বছরে ডেন্ডার নিয়ে আলোচিত বহু ঘটনা ঘটেছে। দেশের কোথাও প্রকৃত ঠিকাদাররা তাদের সঙ্গে আপোষ ছাড়া দরপত্র কিনতে পারেন না। এর বাইরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাস, শপিংমল, ফুটপাত ও বাসস্ট্যান্ডগুলোতে নীরবে এবং প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের নামে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সালেই এক পুলিশ রিপোর্টে ছাত্রলীগের দেড়শতাধিক নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে দখলবাজী, চাঁদাবাজী এবং ছিনতাই কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।
ছাত্রলীগের সন্ত্রাস নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ২০১০ সালের ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগকে নিয়ে আর কোনো নেতিবাচক সংবাদ দেখতে চাই না।’ ওই দিন রাতেই শাহবাগে ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় দুই সাংবাদিক আহত হন। ১৪ মে প্রধানমন্ত্রী অপর এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টকারী যেই হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। ১৫ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগের নামে সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না।’ এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের অবাধ্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শাস্তির সুপারিশ করেছিলেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগ যা করছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে।’ একই সময়ে ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ। সর্বশেষ গত ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন ‘ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের কারণে আমাদের মাথা হেট হয়ে যায়।’ কিন্তু নেতাদের এইসব বক্তব্যের সাথে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়নি। এরপরও অব্যাহত রয়েছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস। তা প্রতিরোধের বদলে লালন করার অভিযোগ জোরালো হয়েছে। শুধু তাই নয় ছাত্রলীগকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় বিরোধী দল দমনের রাষ্ট্রীয় ফোস© হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।আর সবশেষ ছাত্রলীগের পৃষ্টপোষকতায় গণজাগরণ মঞ্চ এর উদ্যোগও ইতিমধ্যে বিতকিত হয়ে পড়েছে। কারণ গণজাগরণ মঞ্চের প্রধান ‍আহবায়ক ইমরান এইচ সরকার হলো ছাত্রলীগের সাবেক নেতা! উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কি ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী সংগঠন নয়? এখন তাদের সকল তৎপরতা শধু সন্ত্রাসী কমÐকান্ড কেন্দ্রিক।
এক নজরে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কমÐকান্ড
# প্রতিষ্টার পর থেকে খুন করেছে ৬৫ জন ছাত্রকে।
# রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৪০ বছরে খুন ২৯ ছাত্র।
# চার বছরে তাদের সংঘষেЩর কারণে ৬০ টি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনিÐধারিতকাল বন্ধ থাকে।
# চার বছরে ৮০ জন শিক্ষক শিকিক্ষা লাঞ্ছিত-নিযাÐতিত।
তাই উপরোক্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দেশের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল কমÐকান্ডকে নিষিদ্ধ করা হোক। তাদের নিষিদ্ধ করা হোক দেশের স্বাথেÐ,দেশের মেরুদন্ড শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাথেÐ।পাশাপাশি সন্ত্রাসী কমÐকান্ডের সাথে যুক্ত অন্যান্য ছাত্রসংগঠনগুলোকেও নিষিদ্ধ করা হোক। এবং ক্যাম্পাসগুলোতে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করে শুধু মাত্র ক্যাম্পাস ভিত্তিক কাযÐক্রম চালু করা হোক।তাহলেই আমরা জাতির মেরুদন্ডকে আরো মজবুত বিশ্বের বুকে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে পারব।সেদিন আর বেশি দূরে নয় দেশে সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনীতির মাধ্যমে লাল সবুজের এ দেশ সোনার বাংলাদেশে পরিণত হবে ইনশাল্লাহ।(সূত্র:আমাদের বুধবার)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29825744 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29825744 2013-04-30 13:08:31
সহশিক্ষার প্রভাব: একটি গঠনমূলক পর্যালোচনা
গত ৬ই এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের সাড়া জাগানো ঐতিহাসিক লংমাচÐ ও মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর শাপলা চত্বরে। স্বাধীনতার পর এতো বড় মহাসমাবেশ দেশবাসী আর লক্ষ্য করেনি। নাস্তিকতার বিরুদ্ধে এ ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ দেশে বাম রাম ও নাস্তিকদের বুকে কম্পন জাগিয়ে দিয়েছে। এ ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে হেফাজতের পক্ষ থেকে ১৩ দফা দাবী পেশ করে। ৩০ এপ্রিল পযÐন্ত সরকারকে দাবী বাস্তবায়নের সময় বেধেঁ দেয়া হয়। যদিও দাবী পেশ করার পর পরই স্বরাষ্টমন্ত্রী ও বন ও পরিবেশ মন্ত্রী দাবীগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেয়। কিন্তু আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ একে মধ্যযুগীয় ববÐরতা বেলে আখ্যায়িত করেন। পরে সরকারপ্ন্থী নারীবাদীসহ নানা সংগঠন মাঠে নামে এ ১৩ দফার বিরুদ্ধে। নারীবাদী সংগঠনগুলো এসব দাবীকে তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি ও প্রগতিবাদের বিরুদ্ধে ঘোষনা দিয়ে এর বিরুদ্ধে মাঠে আন্দোলনে নেমেছে। এ ১৩ দফার মধ্যে চার নম্বরে ছিল * ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বালনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা। এ দফাকে নারীবাদী সংগঠন গুলো তাদের উন্নতি ও অগ্রগতির অন্তরায় বলে মনে করেন। নারীবাদী সংগঠনগুলোসহ আওয়ামী পন্থী সকল সংগঠন মনে করেন এসব মানলে নারীদের সব কাজ কমÐ ফেলে দিয়ে বাড়ীর চার দেয়ালের মধ্যে বন্দী থাকতে হবে। বিশেষ করে সহশিক্ষা উঠিয়ে দিতে হবে বলে তারা মনে করেন। আজকের আলোচনায় আমরা এ সহশিক্ষা নিয়ে একটি বিশ্লেষনধমীÐ পযাÐলোচনা করবো যাতে প্রমাণিত হবে সহশিক্ষা আসলে কতটুকু উপকারজনক? সহশিক্ষাকে প্রায় সবাই উন্নয়ন ও অগ্রগতির সোপান বলে মনে করেন ইসলামপন্থী দলগুলো ছাড়া। বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকাতে সহশিক্ষাকে খুবই উপকারী বলে মনে করা হতো। অথচ সময়ের ব্যবধানে তা আজ ভূল প্রমাণিত হয়েছে। গত ২০০৮ ইং সালের মে মাসে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত জার্নাল অফ ইন্টারন্যাশনাল উইমেন্স স্টাডিস দু’ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সফলতার ক্ষেত্রে এক চমকপ্রদ পরিসংখ্যান পেয়েছেন। পরিচালিত জরীপ থেকে দেখা যায় বালিকা বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরতদের ৮৫ শতাংশ বালিকা এবং বালক বিদ্যালয়গুলো থেকে ৯৩ শতাংশ বালক কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। পক্ষান্তরে সম্মিলিত স্কুল থেকে মাত্র ৭৩ শতাংশ বালিকা এবং ৮৪ শতাংশ বালক কলেজে ভর্তি হতে পারে। তাছাড়া পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ৭৮ শতাংশ বালিকা এবং ৮৩ শতাংশ বালক উচ্চ শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পায়। পক্ষান্তরে সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাত্র ৫৭ শতাংশ বালিকা এবং ৬১ শতাংশ বালক উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ পায়। উপরন্তু পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৮ শতাংশ বালিকা এবং ৮১ শতাংশ বালক ভাল প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য নির্বাচিত হয়। পক্ষান্তরে সহশিক্ষা প্রতিষ্টানের মাত্র ৩৩ শতাংশ বালিকা এবং ৬০ শতাংশ বালক ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পায়। এছাড়া পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩৭ শতাংশ বালিকা এবং ৬৪ শতাংশ বালক ইঞ্জিনিয়ারিংএ পড়ার যোগ্যতা অর্জন করে। পক্ষান্তরে সহ শিক্ষা থেকে মাত্র ১৬ শতাংশ বালিকা ও ৪৫ শতাংশ বালক এ যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। নার্সিং ও শিক্ষকতায় মেয়েদের অংগ্রহণ যথাক্রমে ৬০ শতাংশ ও ৪৮ শতাংশ এবং ছেলেদের অংশগ্রহণ ৩ শতাংশ ও ১৩ শতাংশ। সূত্র: জার্নাল অফ ইন্টারন্যাশনাল উইমেন্স স্টাডিজ, যুক্তরাষ্ট্র
পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তুলনা সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে পড়ার পেছনে ইন্টারন্যাশনাল উইমেন্স স্টাডিজের জার্নালের গবেষনায় অনেকগুলো কারণ বেরিয়ে এসেছে। এতে দেখা যায় সহশিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলে বন্ধু কিংবা শিক্ষকদের দ্বারা অনেকভাবে নির্যাতিত হওয়ার পাশাপাশি ছেলে মেয়েরা একে অপরের দ্বারা আকৃষ্ট হয় কিংবা হওয়ার পিছনে অনেক চিন্তা, সময় ও অর্থ ব্যয় করে ফলে তাদের একাডেমিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশুনা ও অন্যান্য ব্যাপারে অধিক মনোযোগী হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপ ও আমেরিকাতে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। অনেকটা অবাধ স্বাধীনতা ও নানাবিধ কারণে পশ্চিমা বিশ্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে শিক্ষার্থীদের ফলাফল দিনদিন খারাপের দিকে যাচ্ছিল। বিশেষ করে প্রচলিত সহশিক্ষার ফলে ছেলে মেয়েদের সহাবস্থান ও অবাধ মিশ্রনের সুবাদে একদিকে যেমন নারী নির্যাতন, অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ, লিভটুগেদার, যৌনব্যাধির সংখ্যা প্রভৃতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছিল, অন্যদিকে তাদের একাডেমিক ফলাফলও অনেক নিম্নগামী হচ্ছিল। এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা নীতিনির্ধারক ও অভিভাবকেরা ছেলে-মেয়ের পড়াশুনার জন্য পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকতে থাকে। বর্তমানে অধিকাংশ অভিভাবক সন্তানদেরকে পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে অনেকটাই প্রতিযোগিতা করে থাকেন। কারণ এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফলাফলসহ বিভিন্ন দিক থেকে ছেলেমেয়েদের সম্মিলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক এগিয়ে। ১৯৫৮ আমেরিকায় উচ্চ বিদ্যালয় (সহশিক্ষা) এর অধ্যক্ষদের মধ্যে একটি সমীক্ষায় প্রশ্ন করা হয়েছিল আপনার ছাত্র-ছাত্রীদের প্রধান সমস্যাগুলি কি? উত্তর ছিল * বাড়িতে যা কাজ করতে দেওয়া হয় তা না করা। * জিনিসপত্রের প্রতি মমতা নেই যেমন-বই ছুঁড়ে ফেলে। * ঘরের আলো জ্বেলে রাখে,দরজা জানালা খোলে রাখে।* ঘরে থুথু ফেলে । * ঘরের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করে।৩০ বছর (এক প্রজন্ম) পরে ১৯৮৮ সালে এই সমীক্ষায় একই প্রশ্ন করা হলে উত্তরগুলি আশ্চযÐজনক ভাবে ভিন্ন। বতÐমানে সমস্যাগুলো হলো:* গভপাত* এইডস* ধষÐণ* সমকাম* মাদকাসক্তি * হিংসাত্মক আতংক, হত্যা, বন্দুক আর বিদ্যালয়ের মধ্যে ছোরা ছুরির অবাধ চলাচল। ড: কিনজের এক গবেষনায় দেখা যায় আমেরিকার উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শতকরা ৮৪ জন,কলেজের শতকরা ৬৭ জন অবাধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়। গত ২০১০ সালে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্লুচেস্টার হাইস্কুলে গ্রীষ্মের বন্ধে ১৭ জন বালিকা গর্ভধারণ করেছে এবং এর আগের বছর স্কুলে মোট ১ হাজার ২০০ বালিকা গর্ভধারণ করে। এ ছাড়া এপি পরিবেশিত এক খবরে বলা হয়, ওহিও রাজ্যে টিমকিন সিনিয়র হাইস্কুলে ১৩ শতাংশ ছাত্রী গর্ভবতী হয়। উপরের আলোচনায় ফুটে উঠেছে সহশিক্ষার ভয়াবহতার করুণ চিত্র।এরই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে সহশিক্ষা ও সিঙ্গেল সেক্স এডুকেশনের মধ্যে পযাÐলোচনা করলে দেখা যায় সিঙ্গেল সেক্স এডুকেশনের সাফল্যেই বেশি।ছেলে ও মেয়ে আলাদা¬ এমন স্কুলগুলো সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ঈর্ষনীয় ভালো ফল করছে। ২০০৯ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সারাদেশে সেরা ২০০টি স্কুলের মধ্যে মাত্র ৩৯টি স্কুলে সহশিক্ষাব্যবস্থা আছে। বাকি ১৬১টি স্কুল হয় বালক বা বালিকা বিদ্যালয় অথবা ছেলে ও মেয়েদের পৃথক শিফট রয়েছে।
২০০৭ ঢাকা বোর্ডে সেরা ৫ কলেজের মধ্যে ৫ টিই ছেলে-মেয়ে পৃথক শিক্ষাপদ্ধতি চালু রয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ২৫৪ জন পরীক্ষার্থী।ঢাকা বোর্ডে শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে নটরডেম কলেজ। এ কলেজে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২ হাজার ১৬৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ২ হাজার১৩৫ জন। পাসের শতকরা হার ৯৮.৬১ ভাগ। এ কলেজ থেকে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮২৫ জন। দ্বিতীয় স্থানে ভিকারুননিসা নূন কলেজ। ভিকারুননিসায় এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ১৩৪ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ১২১ জন। পাসের হার ৯৮.৮৫ ভাগ। এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৯৩ পরীক্ষার্থী। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা সিটি কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেতে এবার পরীা দিয়েছে ২ হাজার ৯ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৯৮৪ জন। পাসের হার ৯৮.৭৬ ভাগ। সিটি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে৩৪৮ পরীক্ষার্থী।চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৯৪০ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৯৩৩ জন। পাসের শতকরা হার ৯৯.২৬ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭৬ পরীক্ষার্থী। ৫ম স্থানে রয়েছে হলিক্রস কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে এবার পরীক্ষা দিয়েছিল ৭৩০ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ৭২৭ জন। পাসের হার ৯৯.৫৯ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৩৯ জন। ঢাকা বোর্ডের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় ফলাফলের দিক থেকে এগিয়ে থাকা ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টিই সিঙ্গেল সেক্স শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ৮ বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণেও দেখা প্রায় ৮০% শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই পৃথক তথা সিঙ্গেল সেক্স শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন বোর্ডের সেরা ২০স্কুল স্কুলের মধ্যেও ১৭ টি সিঙ্গেল সেক্স শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
২০১১ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলে ১০ বোর্ডের মধ্যে সেরা ১০ কলেজের নয়টিই সহশিক্ষাবিহীন। ফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শীর্ষ ১০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ঢাকার তিনটির পাশাপাশি সমান সংখ্যক প্রতিষ্ঠান রয়েছে রাজশাহীর। কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম ও দিনাজপুরের রয়েছে একটি করে প্রতিষ্ঠান।
দেশ সেরা দশের তালিকা:
দেশের আটটি সাধারণ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের গ্রেড পয়েন্টের ভিত্তিতে ১০ বোর্ডের ২০টি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
১. রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ- ৯৪ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট
২. রংপুর ক্যাডেট কলেজ- পয়েন্ট ৯১
৩. পাবনা ক্যাডেট কলেজ ৯০ পয়েন্ট
৪. ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ- ৮৯ দশমিক ৮০পয়েন্ট
৫. ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ - ৮৯ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট
৬. রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ- ৮৯ দশমিক ২৭ পয়েন্ট
৭. ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ- ৮৯ দশমিক ১৮ পয়েন্ট
৮. জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ- ৮৮ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট
৯. মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ- ৮৮ দশমিক ৭২ পয়েন্ট এবং
১০. ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ- ৮৮ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট
উপরিউক্ত ১০টি কলেজের মধ্যে কেবল রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে সহশিক্ষা বিদ্যমান।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার বেগম বলেন, আমি সহশিক্ষা সমর্থন করি না। এটি ছেলেমেয়েদের জন্য খারাপ পরিণতি ডেকে আনছে। তাছাড়া মোবাইল ও টেলিভিশন সংস্কৃতি তাদের পরস্পরের প্রতি উৎসাহিত করছে এবং এর ফলে তারা লেখাপড়ায় অমনোযোগী হচ্ছে। দেশে শিক্ষার ক্ষেত্রে আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ব্যাপারে স্বঘোষিত কিছু সুশীল ও নারীবাদীরা খোঁড়া আপত্তি জানালেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছেলে-মেয়েদের পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহ ঈর্ষণীয় সফলতা অর্জন করছে। তাই পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে কিছু মুখস্ত কথা ও হীনমন্যতা বোধ না করে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে যোগ্য করে গড়ে তোলে দেশকে বিশ্ব দরবারে টিকে থাকতে হলে বাস্তবতা উপলব্ধি করে নিজেদের আর্থ সামাজিক ও নিজস্ব মূল্যবোধের আলোকে শিক্ষা পদ্ধতিকে ঢেলে সাজাতে হবে।তাই উপরের পযাÐÐলোচনামূলক বণÐনা আর এ ব্যাপারে হেফাজতে ইসলামের দাবীকে গ্রহণ করে দেশে পৃথক পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পদ্ধতি চালু করে ভবিষ্যত প্রজন্ম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহবান জানায়। কারণ যে পশ্চিমাদের অনুসরনে আমরা চলতে চাই তারা নিজেরাই পরিবতিÐত পরিস্থিতিতে দিক পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ব্যাপারে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট মহলের যত তাড়াতড়ি শুভ বুদ্ধির উদয় হবে ততই মঙ্গল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29825742 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29825742 2013-04-30 13:06:20
ইহুদী সম্প্রদায়: নিপীড়িত থেকে নিপীড়কের নেতৃত্বে রাসুল (সা<img src=" style="border:0;" /> বলেছেন-কিয়ামত সংগঠিত হবে না যে পযÐন্ত না তোমরা ইহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এমনকি কোন ইহুদী পাথরের আড়ালে আত্মগোপন করে থাকলে,পাথর বলবে, হে মুসলিম আমার পেছনে ইহুদী রয়েছে,তাকে হত্যা কর।(সহীহ বুখারি পঞ্চম খন্ড হাদীস নং-২৭২৫) এটি হলো ভবিষ্যতে ইহুদী সম্প্রদায়ের করুণ পরিণতির বিবরণ। যা তাদের অপকমেÐর ফল হিসাবে প্রাপ্ত হবে। বতÐমান ইহুদীদের মানবতা বিধ্বংসী কমকান্ড সম্পকেÐ রাসুল (সা<img src=" style="border:0;" /> অনেক আগেই আমাদের সতÐক করেছেন। পবিত্র কোরআন শরীফে ইহুদী সম্পকেÐÐÐ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ইহুদী সম্প্রদায় পৃথিবীর ইতিহাসে একটি পুরাতন ও সম্মানিয় সম্প্রদায় ছিল। যাদের কাছে আল্লাহর অসংখ্য নবী এবং রাসুলের আগমন হয়েছে। যাদের জন্য ফোরাত নদীর মাঝখানে রাস্তা তৈরি হয়েছিল, যাদের জন্য মরুর বুকে পানির ঝরনা প্রবাহিত হয়েছিল, যাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে মান্না ও সালওয়া নামক আহার পাঠানো হতো। সেই সম্মানিত ইহুদী সম্প্রদায় তাদের অপকমেÐর কারণে এক সময় পৃথিবীর সবচেয়ে নিগৃহিত সম্প্রদায়ে পরিণত হয়েছিল।যাদের আশ্রয়ের কোন ঠিকানা পযÐন্ত ছিল না। আজ সেই নিপীড়িত সম্প্রদায় বতÐমানে পৃথিবীর সুপার পাওয়ার হয়ে পৃথিবীর কুখ্যাত নিপীড়কের ভূমিকা পালন করছে। পৃথিবী ব্যাপী মানবতা ধ্বংস, মানবাধিকার লংঘন, যুদ্ধ সংঘাত এবং পৃথিবীর সমস্ত অপকমেÐর পেছনে আজ ইহুদীদের কালো হাত রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের ধ্বংস সাধনে তারা সদা তৎপর।
ইহুদি সম্প্রদায় বা জুইশ কমিউনিটির ইতিহাস প্রায় ৩০০০ হাজার বছরের পুরনো। পৃথিবীর ইতিহাস টেনে আনলে দেখা যায়, ইহুদিরা হলো সবচেয়ে অত্যাচারিত সম্প্রদায়, যাদের উপর শুধু বছরের পর বছর, শতশত বছর ধরে অত্যাচার করা হয়েছে। একটি নির্যাতিত ও অত্যাচারিত সম্প্রদায় কিভাবে নিজেরাই অত্যাচারী হয়ে উঠল সে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ইহুদী সম্প্রদায়ের ইতিহাস
তিন হাজার বছর আগে ইহুদি সম্প্রদায়ের যাত্রা শুরু হয়। ইহুদীধর্ম পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীনতম ধর্ম যা এখনো অনেক মানুষ পালন করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাঈলদের আদি নিবাস ছিল। তবে তারা এখন যে জায়গা চিহ্নিত করছে তা নিয়ে বিতর্ক আছে। আল্লার নবী মুসা (আঃ) বা মোজেস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই সম্প্রদায়ের সবচেয়ে সুন্দর সময় গিয়েছে খৃষ্টপূর্ব এক হাজার বছর আগে (হজরত) সম্রাট দাওদ (আঃ) বা ডেভিডের সময়। দাবি করা হয় বর্তমান সময়ের লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান ও মিশরের বড় অংশই ছিল তখনকার কিংডম অব ইসরাঈলের অংশ। ডেভিডের ছেলে (হজরত) সলোমন বা সোলাইমান (আঃ) এর সময়ও তাদের অবস্থা ভালো ছিল। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর এ-জাতি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এ-সময় আসিরিয়ানরা ধীরে ধীরে এই অঞ্চলে ঢুকে পড়ে ও দখল করে নেয়। এরপর বিভিন্ন সময় ব্যাবিলনিয়ান, পার্সিয়ান, হেলেনেষ্টিক, রোমান, বাইজেনটাইন, অটোম্যান, বৃটিশ শাসনসহ বিভিন্ন পর্যায় পাড়ি দেয় এই অঞ্চল। আর এর প্রায় অনেকটা সময় জুড়েই ইহুদিদের তাড়া থেতে হয়।

ঈজিপশিয়ান ফারাওদের (কোরানে, ফেরাউন-মুসা আঃ এর ঘটনা) সময় থেকে শুরু করে জার্মানির হিটলারের সময় পর্যন্ত তাদের বিতাড়িত হতে হয়েছে বিভিন্ন দেশ থেকে। তবে এখন যেমন ইহুদিদের সাথে মুসলমানদের সংঘাত চলছে এক সময় তা ছিল কৃশ্চিয়ান ও ইহুদি সংঘাত। স্পেনে মুসলমানদের রাজত্বে ইহুদিরা খুবই ভালো ছিল। তারা এ-সময় তাদের বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা করার ব্যাপক সুযোগ পায়। মুসলমানদের এই উদারতার কথা ফুটে উঠেছে ইহুদিদের লেখা ইতিহাস বইয়ের পাতায়।
শুরু থেকেই বিভিন্ন সমাজে ইহুদিদের ঘৃণিত, অবহেলিত ও খারাপভাবে দেখা হতো। প্রায় প্রতিটি জায়গায় তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকতো। উগ্র কৃশ্চিয়ানরা তাদের কখনোই সহ্য করতে পারেনি। এদের অনেকেই যিশুর হত্যাকারী হিসেবে ইহুদিদের চিত্রিত করেছে। অনেকেই তাদের অভিশপ্ত জাতি মনে করে।
ইহুদিরা যেহেতু তাড়া খেত বেশী সেহেতু তারা যাযাবর জীবনে স্থায়ী কাজের চেয়ে বুদ্ধিনির্ভর ও কম শারীরিক পরিশ্রমের কাজ বেছে নেয়। ব্যবসার প্রতি কৃশ্চিয়ানদের অনিহা তাদের সামনে বড় সুযোগ এনে দেয়। তাদের বসবাসের পরিবেশ ছিল খুব খারাপ। ভালো খাবার দাবারও ছিল না। ফলে তারা এমন কাজে আত্মনিয়োগ করে যেখানে বুদ্ধির চর্চা বেশী। ব্যবসা, টাকাপয়সা, লেনদেন, দালালি - এসব কাজে তারা এগিয়ে যায় বেচে থাকার সহজাত প্রবৃত্তির জন্য।
ইহুদি সম্প্রদায়কে ইউরোপে কিভাবে দেখা হতো তার বড় উদাহরণ হতে পারে উইলিয়াম শেকসপিয়ারের “ মার্চেন্ট অব ভেনিস “ নাটকের শাইলক চরিত্রটি। যে শরীরের মাংশ কেটে তার পাওনা আদায়ের দাবী জানায়। সম্পূর্ণ ভিন্ন সমাজের প্রেক্ষাপটে নিয়ে লেখা রাশিয়ান লেখক নিকোলাই গোগল তার তারাস বুলবা উপন্যাসে আরেক ইহুদি সুযোগ সন্ধানী চরিত্র ইয়ানকেল-কে সৃষ্টি করে দেখিয়েছেন তাদের সম্পর্কে তখনকার শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবিদের মনোভাব।
ইংল্যাণ্ড, ফ্রান্স, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়মিত তাড়া খেয়ে তাড়া মিডল ইস্টে ঢুকতে থাকে। এর মধ্যে ইউরোপিয়ান একটি চালও ছিলো। কৃশ্চিয়ানরা যেহেতু ইহুদিদের পছন্দ করতো না তাই তারাও চাচ্ছিল মুসলমানদের এলাকায় তাদের ঢুকিয়ে দিতে। আর প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে যাযাবর জীবনের অবসানও চাচ্ছিলো ইহুদিরা।
এতোগুলো বছর তাদের ঐক্য ধরে রাখার বড়া শক্তি ছিল ধর্ম। বিশ্বের বহু দেশে ছড়িয়ে পড়লেও ইহুদি সম্প্রদায়ের সব সময় স্বপ্ন ছিল তারা তাদের নিজ দেশ ইসরাঈলে ফিরে যাবে যদিও তখনো এর কোনো ভৌগলিক অস্তিত্ব ছিল না। ইসরাঈল তাদের মাতৃভূমি ও ধর্মভূমিই শুধু নয়, তাদের স্বপ্ন ভূমিও বটে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্বপ্ন দেখেছে ইসরাঈল নামের দেশের। নেক্সট ইয়ার ইন জেরুজালেম - এই শ্লোগান মাথায় রেখে বহু ইহুদি মারা গিয়েছে। ইসরাঈলের জন্য তারা সাধ্যমতো দান করেছে, ধর্ম ও বিশ্বাস দিয়ে নিজেদের এক করে রেখেছে। সংখ্যায় অত্যন্ত কম হওয়ার পরও ক্ষুরধার বুদ্ধি, কৌশল ও মেধার বিকাশ ঘটিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে নিজেদের বসিয়েছে।
কোনো মেধাবী ইহুদী ছাত্র বা ছাত্রীর পড়াশুনার জন্য চিন্তা করতে হয় না। এখনো বহু ওয়েব সাইটে এদের জন্য দান গ্রহণ করা হয়। তারা প্রধানতঃ মাতৃতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখে। কমিউনিটির কেউ বিপদে পড়লে তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এমন অনেক ওয়েব সাইট আছে যেখানে ইহুদি পরিবারগুলোর বংশলতিকা বা ফ্যামিলি ট্রি তৈরি করতে সাহায্য করে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধাওয়া খেয়ে ইহুদিরা বহু দেশে ছড়িয়ে পড়লেও তাদের স্বপ্নভূমির কথা কখনো ভোলোনি। এক্ষেত্রে তারা কট্টর ও চরমপন্থি। কারণ মিডল ইস্টের কোনো এক জায়গায় তাদের জন্মভূমি ছিলো তিন হাজার বছর আগে সেই যুক্তিতে একটি জায়গার দখল নেয়া একটি অবাস্তব বিষয়। কেননা এর কোনো সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। কিন্তু ইহুদিরা তা তৈরি করে নিয়েছে। তারা বিশ্ব শক্তিকে তাদের পক্ষে কাজে লাগিয়েছে।
ইরাক যখন কুয়েত দখল করে নেয় তখন সাদ্দাম হোসেন বলেছিলেন, কুয়েত ঐতিহাসিকভাবে ইরাকের অংশ। কিন্তু সে যুক্তি বাতিল হলেও ইহুদিদের যুক্তি বাতিল হয়নি। এ-কারণে ইসরেল রাষ্ট্রটির জন্ম হলো ১৯৪৮ সালে তখন একসঙ্গে আরব দেশগুলো আক্রমন চালিয়ে চরমভাবে ব্যর্থ হয়।
বর্তমান বিশ্বে ইহুদি সম্প্রদায়ের লোক সংখ্যা দেড় কোটির কিছু বেশী। তা-ও তারা ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন দেশে। যেমন আমেরিকায় আছে প্রায় ৬১ লাখ, ইসরেলে আছে প্রায় ৫২ লাখ, কানাডায় আছে প্রায় ৪ লাখ, বৃটেনে প্রায় ৩ লাখসহ ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, অষ্ট্রেলিয়া, পোল্যাণ্ড, রাশিয়া, সাউথ আফ্রিকা, ইউক্রেন, ওয়েস্টার্ণ ইউরোপ, ইথিওপিয়া প্রভৃতি দেশে।
ইহুদীর সম্প্রদায়ের অবদান
জনসংখ্যার দিক দিয়ে ঢাকা শহরের কাছাকাছি হলেও বিশ্বে ইহুদি সম্প্রদায় থেকে যুগে যুগে বেরিয়ে এসেছে অসংখ্য প্রতিভাবান ব্যক্তি। প্রধান ধর্মগুলোর পর পৃথিবীতে যে মতবাদটি সবচেয়ে প্রভাব ফেলেছে সেই কমিউনিজমের স্বপ্নদ্রষ্টা কার্ল মার্কস ইহুদি সম্প্রদায় থেকে এসেছেন। বিশ্বের মানুষকে মুগ্ধ করে রাখা যাদু শিল্পি হুডিনি ও বর্তমানে ডেভিড কপারফিল্ড এসেছেন একই কমিউনিটি থেকে। আর আছে, মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড। লেখকদের মধ্যে আর্থার মিলার, ফ্রানজ কাফকা, জন ষ্টাইনব্যাক যেমন এসেছেন তেমনি এসেছেন সাইন্স ফিকশান জগতের সবচেয়ে আলোচিত লেখক আইজাক আসিমভ। মিউজিকে ইহুদি মেনুহিনের অসাধারণ ভায়োলিনের পাশাপাশি রিঙ্গো ষ্টার, মার্ক নাফলারের মতো বাদক যেমন এসেছেন তেমনি বব ডিলান, বব মার্লির মতো গায়কও এসেছেন।

মাত্র কয়েকজনের নাম দেওয়া হলো। এ-ধরণের নাম অসংখ্য আছে।
ইহুদি কমিউনিটির সদস্যদের হাতে মেডিসিন, ফিজিক্স, কেমিষ্ট্রি, ইকোনোমিক্স, লিটারেচার ও পিচ বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৭৫টিরও বেশী নোবেল পুরষ্কার এসেছে। এ থেকে তাদের মেধার বিস্তার সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া সম্ভব।
ইসরেলের প্রয়োজনে এসব বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী, মিডিয়া মুঘল, রাজনীতিবিদ সবাই মিলিতভাবে তাদের স্বপ্নভূমিকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। তারা যে যেই মতেরই হোক না কেন, এ-বিষয়ে তাদের কোন মতভেদ থাকে না। ফলে হাজার অপরাধ করার পরও ইসরেলকে স্পর্শ করা যায় না। শুধু আবেগ বা অভিশাপ দিয়ে ইসরেলকে দমন করা সম্ভব নয়। কেননা এর ভূমিটুকু আছে মিডল ইস্টে কিন্তু এর নিয়ন্ত্রকরা আছেন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে।
মুসলমান অধ্যুষিত মিডল ইস্টে ছোট একটি রাষ্ট্র হলেও ইসরেলকে স্পর্শ করতে পারে না কেউ। ইসরেল প্রতিষ্টার সময় ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫৬, ১৯৬৭ এবং ১৯৭৩ সালে আরবদের সঙ্গে ইসরেলের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধগুলোতে ইসরেল এগিয়ে যায়। আরবরা কিছুই করতে পারেনি বরং অনেক সময় নিজেদের জায়গা হারিয়েছে।
প্যালেষ্টিনিয়ানদের নিজ আবাস ভূমি থেকে উৎখাত করে জুইশ (Jewish) কমিউনিটি বা ইহুদি সম্প্রদায়ের নিজস্ব আবাসভূমি ইসরেল সৃষ্টি ও তাকে রক্ষা করার প্রতিটি পর্যায়ে পশ্চিমা শক্তি, বিশেষ করে আমেরিকা, সবসময়ই সর্বাত্মক সমর্থন যুগিয়ে এসেছে।
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছিলেন, পরোক্ষভাবে ইহুদিরাই বিশ্বকে শাসন করছে। একটি সম্প্রদায়ের অল্প কিছু মানুষ কিভাবে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আরো বলা হয়, আমেরিকা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে আর আমেরিকাকে নিয়ন্ত্রণ করে জুইশ কমিউনিটি।
বিশ্বের অস্ত্র, মিডিয়া, ব্যাংক থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রেই জুইশ কমিউনিটির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে পুরোপুরি। আর এ কারণে গত ৫০ বছরেরও বেশী সময় ধরে প্যালেষ্টিনিয়ানদের উপর যে নিপীড়ন তারা চালিয়েছে তাকে ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন (Clash of Civilization)-এর মোড়কে ঢুকিয়ে বৈধ করে নিয়েছে পশ্চিমি সমাজ।
আমরিকার ইসরেল প্রীতি
বিশ্বের নিয়ন্ত্রক আমেরিকার সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যাক্তি আমেরিকার প্রেসিডেন্টগণ বিশেষ করে জর্জ বুশ বরাবরই প্রকাশ্যে ইহুদিদের সমর্থন করে এসেছেন। আমেরিকা সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎসা রাইস তার ইসরেল সফরকে বর্ণনা করেন নিজের বাড়িতে ফিরে আসা বলে।
বুশ প্রশাসনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদেই বসে আছেন জুইশ কমিউনিটির সদস্যরা। এরা আছেন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজার, চীফ পলিসি ডিরেক্টর, পলিটিক্যাল মিলিটারি এফেয়ার্স কর্মকর্তা, বাজেট ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা, ফরেন সার্ভিস ডিরেক্টর, হোয়াইট হাউজের স্পিচ রাইটারসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ এবং পলিসি নির্ধারণের পদগুলোতে। শুধু ভূমিতে নয়, মহাশূন্যে কাজ করার প্রতিষ্ঠান নাসার এডমিনিষ্ট্রেটর হিসেবে ডেনিয়েল গোল্ডিন ইসরেলের স্যাটেলাইট পাঠানোতে অনেক ছাড় দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।
এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক তাদের দখলে। বছর কয়েক আগে দি ইউনাইটেড জুইশ কমিউনিটি ঘোষণা দিয়েছিল, ২০০৭ সালে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতে আরে ২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি ফান্ড দেবে।
ফলে আমেরিকার কেউ চাইলেও এদের কিছু করতে পারবে না। বরং জুইশ কমিউনিটি বা ইহুদি সম্প্রদাকে হাতে না-রাখলে ক্ষমতায় টেকা যাবে না। এসব কারণে শুধু জুইশ কমিইনিটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসেডেন্টের প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে যেতে হয়।
আমেরিকার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে মূলতঃ কর্পোরেট হাউজগুলো। তারা প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত বানাতে পারে, সরাতে পারে। এসব কর্পোরেট হাউজগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় এদের মালিক কিংবা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কম্পানিগুলোর মূল দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা চীফ এক্সজিকিউটিভ অফিসার, সিইও হলেন জুইশ কমিউনিটির মানুষ। এ কথা মাইক্রোসফটের ক্ষেত্রে যেমন সত্য তেমনি জাপানিজ কোম্পানি সনির আমেরিকান অফিসের জন্যও সত্য। প্রায় অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদে জুইশ আমেরিকানরা কাজ করছেন। জুইশ কমিউনিটির ক্ষমতাধর বিলিয়নেয়াররা মিলিতভাবে যে-কোনো ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারেন। সেটা হতে পারে অর্থে, অস্ত্রে কিংবা মিডিয়ায়।

ইহুদীদের বিশ্ব মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ

বিশ্বের এবং বিশেষ করে আমেরিকার জনগনের মূল নিয়ন্ত্রক মিডিয়া। তারা টিভি দেখে, মুভি দেখে, অনলাইনে কিছু নির্দিষ্ট সাইট দেখে এবং পেপার পড়ে। স্কলারদের বাদ দিলে সাধারণ আমেরিকানদের মন এবং মনন পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করে মিডিয়া, বিশেষ করে টিভি চ্যানেলগুলো।
আমেরিকার অন্যতম বড় মিডিয়া গ্রুপের নাম টাইম-ওয়ার্নার। এ গ্রুপের অধীনে পত্রিকা, অনলাইন বিজনেস, মুভি প্রডাকশন হাউজ এবং টিভি চ্যানেল সবই আছে। যারা নিয়মিত টিভি দেখেন বা মুভি সম্পর্কে খোঁজ রাখেন তাদের কাছে ওয়ার্নার ব্রাদার্স নামটা খুবই পরিচিত। প্রায় ১০০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতারা ছিলেন ইহুদি এবং বর্তমান চীফ এক্সজিকিউটিভ অফিসার বা সিইও জেরাল্ড লেভিন-সহ এর গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব পদই ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণে।
টাইম ওয়ার্নারের আরেক প্রতিষ্ঠান আমেরিকা অনলাইন (AOL)। এই প্রতিষ্ঠানটি ৩৪ মিলিয়ন আমেরিকান সাবস্ক্রাইভার (Subscriber) নিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে পরিচিত। টিনএজার, নারী ও শিশুদের টার্গেট করে নামা এওএল (AOL) এখন জুইশ কমিউনিটির প্ল্যাটফরমে পরিণত হয়েছে।
নব্বই এর দশকে ইরাক ওয়ার কাভার করে আমেরিকায় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠে CNN টিভি চ্যানেলটি। এর মালিক টেড টার্নার বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেলেও এক পর্যায়ে চ্যানেলটি চালাতে ব্যর্থ হয়ে আত্মসমর্পণ করেন টাইম ওয়ার্নার গ্রুপের কাছে। তিনি নামে থাকলেও মূল ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছে টাইম ওয়ার্নার। ৭০ মিলিয়ন দর্শকের চ্যানেল CNN কিভাবে খবর বিকৃত করে তার একটি ছোট উদাহরণ হিসেবে আসতে পারে নাইন ইলেভেন টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের দৃশ্য দেখানো হচ্ছিলো প্রতিক্রিয়া হিসেবে। হঠাৎ দেখা গেল প্যালেষ্টাইনিরা আকাশে গুলি ছুড়ে আনন্দ প্রকাশ করছে। এতে বোঝা যায় তারা টুইন টাওয়ার ধ্বংসে খুশী। কিছুদিন পর CNN খুব গুরুত্বহীনভাবে টেলপে জানায়, প্যালেষ্টিনিয়ান ফুটেজটি ছিলো পুরনো। তা ভুল করে সেদিন দেখানো হয়। কিন্তু ততদিনে পৃথিবীতে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে যে এ কাজ মুসলমানদের।
আমেরিকার সবচেয়ে বড় পে-টিভি চ্যানেলের নাম এইচবিও (HBO) । যা বাংলাদেশেও খুবই জনপ্রিয়। আমেরিকায় এর দর্শক ২৬ মিলিয়ন। HBO চ্যানেলটি টাইম ওয়ার্নার-এর অর্থাৎ পুরোপুরি ইহুদি নিয়ন্ত্রিত এবং এর কথিত প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে পরিচিত CINEMAX আরেকটি টাইম ওয়ার্নারের অঙ্গ সংগঠন। আমেরিকার সবচেয়ে বড় মিউজিক রেকর্ড কোম্পানি পলিগ্রাম মিউজিকও তাদের দখলে।
বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ম্যাগাজিনের নাম এলে প্রথমেই উচ্চারিত হয় যে নামটি তা হলো টাইম। এই পত্রিকাসহ টাইম ওয়ার্নার গ্রুপে আছে লাইফ, স্পোর্টস ইলাসট্রেটেড, পিপল - এর মতো বিশ্বনন্দিত পত্রিকাসহ ৫০ টি জনপ্রিয় ম্যাগাজিন। টাইমসহ এ-ম্যাগাজিনগুলোর মাথার উপরে বসে এডিটর ইন চীফ হিসেবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন নরম্যান পার্লষ্টাইন। যিনি একজন ইহুদি।
বিশ্বজুড়ে শিশুকিশোরদের মনে রঙিন স্বপ্ন তৈরি করে যে প্রতিষ্ঠানটি তার নাম ওয়াল্ট ডিজনি কম্পানি। এই কম্পানির ওয়াল্ট ডিজনি টেলিভিশন, টাচষ্টোন টেলিভিশান, বুয়েনা ভিসটা (Buena Vista) টেলিভিশনের আছে কমপক্ষে ১০০ মিলিয়ন নিয়মিত দর্শক। সিনেমা তৈরিতে কাজ করছে ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্স, টাচষ্টোন পিকচার্স, হলিউড পিকচার্স, ক্যারাভান পিকচার্সসহ আরো অনেক কিছু। ইনডিপেনডেন্ট মুভি তৈরিতে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান Miramax Films-ও কিনে নিয়েছে ডিজনি। বিকল্প ধারার মুভি তৈরিতে Miramax অত্যন্ত জনপ্রিয়। ওয়াল্ট ডিজনি কম্পানির বর্তমান সিইও একজন ইহুদি। তার নাম মাইকেল আইসনার।
আমেরিকার আরেকটি প্রভাবশালী মিডিয়া গ্রুপের নাম ভিয়াকম (Viacom)। এর প্রধান সুমনার রেডষ্টোন-সহ বড়বড় অধিকাংশ পদেই আছেন ইহুদিরা। জনপ্রিয় সিবিএস টেলিভিশন নেটওয়ার্কসহ ৩৯টি টেলিভিশন ষ্টেশন, ২০০টি সহযোগী ষ্টেশন, ১৮৫টি রেডিও ষ্টেশন, সিনেমা তৈরির বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট পিকচার্স, - তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন। ভিয়াকমের আর এক ইহুদি কো-প্রেসিডেন্ট টম ফ্রেসটন-এর নিয়ন্ত্রণে আছে মিউজিক চ্যানেল এমটিভি। মুভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সাল মিলে গিয়েছে এনবিসি গ্রুপের সঙ্গে। এনবিসি খুবই প্রভাবশালী টিভি চ্যানেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এদের মূল সংগঠন সিগ্রাম (Seagram) সহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন ইহুদি মিডিয়া মুগল এডগার ব্রনফম্যান জুনিয়র। তার বাবা এডগার ব্রনফম্যান সিনিয়র হলেন ওয়ার্ল্ড জুইশ কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট।
ইরাকের বিরুদ্ধে আমেরিকার আগ্রাসনকে আমেরিকানদের কাছে বৈধ হিসেবে চিত্রায়িত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ফক্স নিউজ। বিশ্ববিখ্যাত মিডিয়া মুগল রুপার্ট মারডকের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই জুইশদের সমর্থন দিয়ে এসেছে। কথিত আছে, মারডকের মা ইহুদি ছিলেন।বাংলাদেশে জনপ্রিয় ষ্টারপ্লাস-সহ বিভিন্ন দেশে নানান ধরণের এমনকি বিপরীতধর্মী চ্যানেলও তিনি পরিচালনা করেন। ভারতের ষ্টার প্লাস চ্যানেলের লোগো এবং ইহুদিদের প্রধান ধর্মীয় প্রতীক ষ্টার অব ডেভিড এর সাদৃশ্য লক্ষ্যণীয়।
টিভি চ্যানেলগুলোর মধ্যে এবিসি, স্পোর্টস চ্যানেল, ইএসপিএন, ইতিহাস বিষয়ক হিস্টৃ চ্যানেলসহ আমেরিকার প্রভাবশালী অধিকাংশ টিভি-ই ইহুদিরা নিয়ন্ত্রণ করছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে।আমেরিকায় দৈনিক পত্রিকা বিক্রি হয় প্রতিদিন কমপক্ষে ৫৮ মিলিয়ন কপি। জাতীয় ও স্থানীয় মিলিয়ে দেড় হাজার পত্রিকা সেখানে প্রকাশিত হয়। এসব পত্রিকাসহ বিশ্বের অধিকাংশ পত্রিকা যে নিউজ সার্ভিসের সাহায্য নেয় তার নাম দি এসোসিয়েটেড প্রেস বা এপি (AP)। এ প্রতিষ্ঠানটি এখন নিয়ন্ত্রণ করছেন এর ইহুদি ম্যানেজিং এডিটর ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল সিলভারম্যান। তিনি প্রতিদিনের খবর কী যাবে, না-যাবে তা ঠিক করেন।
আমেরিকার পত্রিকাগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী তিনটি পত্রিকা হলো নিউইয়র্ক টাইমস্ , ওয়াল ষ্টৃট জার্ণাল এবং ওয়াশিংটন পোষ্ট। এ তিনটি পত্রিকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন ইহুদিদের হাতে।
ওয়াটারগেট কেলেংকারীর জন্য প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলো ওয়াশিংটন পোষ্ট। এর বর্তমান সিইও ডোনাল্ড গ্রেহাম ইহুদি মালিকানার তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে কাজ করছেন। উগ্রবাদী ইহুদী হিসেবে তিনি পরিচিত। ওয়াশিংটন পোষ্ট আরও অনেক পত্রিকা প্রকাশ করে। এর মধ্যে আর্মিদের জন্যই করে ১১টি পত্রিকা। এই গ্রুপের আরেকটি সাপ্তাহিক পত্রিকা পৃথিবী জুড়ে বিখ্যাত। পত্রিকাটির ইনটারন্যাশনাল এডিশনের সম্পাদক হিসেবে মুসলমান নাম ফরিদ জাকারিয়া দেখে বা কিছু ক্ষেত্রে এর উদারতার জন্য অনেকেই একে লিবারাল পত্রিকা বা ডেমক্রেট সমর্থক হিসেবে মনে করেন। টাইম এর পরে বিশ্বের দ্বিতীয় প্রভাবশালী এই সাপ্তাহিক পত্রিকাটির নাম নিউজউইক।
আমেরিকার রাজনৈতিক জগতে প্রভাবশালী নিউইয়র্ক টাইমস্-এর প্রকাশক প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ইহুদিরা হয়ে আসছেন। বর্তমান প্রকাশক ও চেয়ারম্যান আর্থার শুলজবার্জার প্রসিডেন্ট ও সিইও রাসেল টি লুইস এবং ভাইস চেয়ারম্যান মাইকেল গোলডেন সবাই ইহুদি।
বিশ্বের অর্থনীতি যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তাদের নিয়ন্ত্রণ করে ওয়াল ষ্টৃট জার্নাল। আঠার লাখেরও বেশী কপি চলা এই পত্রিকার ইহুদি প্রকাশক ও চেয়ারম্যান পিটার আর কান তেত্রিশটিরও বেশী পত্রিকা ও প্রকাশনা সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করেন।
আমেরিকান মুভি ইণ্ডাষ্টৃ-র শুধু নির্মাতা প্রতিষ্ঠানই নয়, এর মুভি নির্মাতা, পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যেও রয়েছে ইহুদিদের প্রাধান্য। বিশ্বখ্যাত অভিনেতা মার্লোন ব্রান্ডো কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, হলিউড চালায় ইহুদিরা। এর মালিকও ইহুদিরা।
বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ট্যালেনটেড পরিচালক হিসেবে পরিচিত ষ্টিভেন স্পিলবার্গ আরো দুই ইহুদি ব্যবসায়ী ডেভিড গেফিন ও জেফরি ক্যাজেনবার্গ-কে নিয়ে গড়ে তুলেছেন তার কোম্পানি ডৃমওয়ার্কস্ এসকেজি।
হলিউডে এমন অসংখ্য ব্যক্তি আছেন যারা জুইশ কমিউনিটি থেকে এসেছেন। পরিচালক বিলি ওয়াল্ডার, স্ট্যানলি কুবরিক, রোমান পোলানস্কি, উডি এলেন যেমন আছেন এই তালিকায় তেমনি আছেন কার্ক ডগলাস, মাইকেল ডগলাস, পিটার সেলার্স, জেসিকা টেনডি, এলিজাবেথ টেইলর, পল নিউম্যান, বিলি কৃস্টাল, ডাস্টিন হফম্যান, জেরি লুইস, রবিন উইলিয়ামস্। মায়ের দিক থেকে জুইশ কমিউনিটি থেকে এসেছেন রবার্ট ডি নিরো, হ্যারিসন ফোর্ড, ড্যানিয়েল ডে লুইস এর মতো সুপারষ্টাররা। এই তালিকা অনেক লম্বা। সহজে শেষ হবে না।
এসব ষ্টারের অংশগ্রহণই শুধু নয়, জুইশদের পক্ষে জনমত গঠনে হলিউড বা অন্যান্য অঞ্চলের মুভিগুলো ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এসব মুভির নির্মাণ কৌশল, গুণগত মান, বুদ্ধির প্রয়োগ ও বক্তব্য সবই উঁচু মাপের। ইহুদিদের নিয়ে যে বিষয়টি বেশী জায়গা করে নিয়েছে তা হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদি নির্যাতন বা হলোকস্ট (Holocaust) । বলা হয়, এ সময় প্রায় ৬০ লাখ ইহুদিকে হত্যা ও অসংখ্য ইহুদি নর-নারী ও শিশুকে নির্যাতন করে হিটলার-মুসোলিনির অক্ষ শক্তি। যুদ্ধ চলার সময়ই বিশ্বখ্যাত মুভি নির্মাতা চার্লি চ্যাপলিন দি গ্রেট ডিকটেটর নির্মাণ করে দুনিয়া কাপিয়ে দেন। হিটলার এবং গরীব ইহুদি নাপিত দুই চরিত্রে তিনি অভিনয় করেন। জুইশদের প্রতি তিনি অনুরক্ত কি-না এই ধরণের প্রশ্ন করা হলে চ্যাপলিন উত্তর দিয়েছিলেন, হিটলারের বিরোধী হওয়ার জন্য ইহুদি হওয়ার প্রয়োজন নেই।
যুদ্ধের ৬০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো হলোকস্ট নিয়ে অসংখ্য মুভি তৈরি হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে এ ধরনের একাধিক মুভি অস্কার পুরষ্কার পেয়েছে। রোমান পোলানস্কির দি পিয়ানিস্ট, ইটালিয়ান মুভি ডিরেক্টর রবার্টো বেনিনির আধুনিক ক্লাসিক মুভি হিসেবে বিবেচিত লাইফ ইজ বিউটিফুল, এর আগে স্পিলবার্গের শিলডার্স লিস্ট এর অন্যতম। স্পিলবার্গ বছর কয়েক আগে তৈরি করেছেন মিউনিখ নামের একটি মুভি যেখানে প্যালিস্টিনিয়ান গেরিলাদের হামলায় ইসরেলি এথলেটদের হত্যা করার বিষয়টি এসেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে টেন কমান্ডমেন্টস্ , ফিডলার অন দি রুফ , ফেটলেস , ডাউনফল-এর মতো মুভিগুলোতে ইহুদিদের দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠেছে।
এসব মুভির ক্ষমতা এত বেশী যে, তা যে কোন দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যেতে পারে। তারা যেভাবে চিন্তা করতে বলবে, সবাইকে সেভাবেই চিন্তা করতে হবে। শক্তি, বুদ্ধি এবং আবেগ সবকিছুই জুইশ কমিউনিটি মুঠোবন্দী করে রেখেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানিতে ব্যাপকভাবে ইহুদি নিধন শুরু হয়। এসময় অসংখ্য ইহুদি জার্মানি ছেড়ে পালিয়ে যায়। এদের মধ্যে আছেন গত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন। বিশ্ব জুড়ে ইহুদিদের উপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেছিলেন, - There are no German Jews, there are no Russian Jews, there are no American Jews …….. There are in fact only Jews.
অর্থাৎ জার্মান ইহুদি বলে কিছু নেই, রাশিয়ান বা আমেরিকান ইহুদি বলেও নয় .... আসলে ইহুদিরা সবাই এক। মাত্র ৫০/৬০ বছর পেরিয়ে এসেই কথার মানেটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। আসলেই জুইশরা সব এক। তবে তারা এখন নির্যাতিত হচ্ছে না। আর নিয়তির পরিহাস এই যে এখন তারা নির্যাতন করছে এবং বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করছে। মূলতঃ ফক্স নিউজ যিনি পরিচালনা করেন তার নাম পিটার শেরনিন। অবধারিতভাবেই তিনি ইহুদি। রুপার্ট মারডকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সারা বিশ্বের অসংখ্য পত্রপত্রিকা ও টিভি চ্যানেল। ঈজিপশিয়ান ফারাওদের (কোরানে, ফেরাউন-মুসা আঃ এর ঘটনা) সময় থেকে শুরু করে জার্মানির হিটলারের সময় পর্যন্ত তাদের বিতাড়িত হতে হয়েছে বিভিন্ন দেশ থেকে। তবে এখন যেমন ইহুদিদের সাথে মুসলমানদের সংঘাত চলছে এক সময় তা ছিল কৃশ্চিয়ান ও ইহুদি সংঘাত। স্পেনে মুসলমানদের রাজত্বে ইহুদিরা খুবই ভালো ছিল। তারা এ-সময় তাদের বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা করার ব্যাপক সুযোগ পায়। মুসলমানদের এই উদারতার কথা ফুটে উঠেছে ইহুদিদের লেখা ইতিহাস বইয়ের পাতায়।
শুরু থেকেই বিভিন্ন সমাজে ইহুদিদের ঘৃণিত, অবহেলিত ও খারাপভাবে দেখা হতো। প্রায় প্রতিটি জায়গায় তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকতো। উগ্র কৃশ্চিয়ানরা তাদের কখনোই সহ্য করতে পারেনি। এদের অনেকেই যিশুর হত্যাকারী হিসেবে ইহুদিদের চিত্রিত করেছে। অনেকেই তাদের অভিশপ্ত জাতি মনে করে।উপরের কথাগুলোর আলোকে ইহুদিদের প্রধানতম শত্রু খৃস্টানরা হওয়াই বাঞ্ছনীয় ছিলো, কিন্তু, মুসলমানদের সাথে তাদের দ্বন্দ্ব বা বৈরিতার কারণ কী?

আরব-ইসরাইল দ্বন্দ্বের কারণ

ইহুদি খৃস্টানদের মধ্যে স্বজাতির প্রতি উগ্র শ্রেষ্ঠত্বের (Racism) অনুরাগ জন্মে বাইবেলের বিকৃত পাঠ হতে। দেখুন নিচে:
But he who was of the bondwoman was born after the flesh; but he of the free woman was by promise. (Galatians: 4:23): Bible, King James Version: 18 Feb 1997)
Now we, brethren, as Isaac was, are the children of promise (Galatians: 4:28): Bible, King James Version: 18 Feb 1997)
So then, brethren, we are not children of the bondwoman, but of the free. (Galatians 4:31): Bible, King James Version: 18 Feb 1997) বাংলায় অনুবাদ ও বিস্তারিত লিখলে দাড়ায়, হজরত ইব্রাহিম (আঃ) (বাইবেলে, Abraham) - এর সারা ও হাজেরা (বাইবেলে, Sarah এবং Hagar) নাম্নী দু’জন স্ত্রী ছিলেন। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী ইহুদিদের ধারণা এই যে, সারা ছিলেন ইব্রাহীম (আঃ)-এর স্বাধীন স্ত্রী আর হাজেরা ছিলেন তাঁর বাঁদী। উল্লেখ্য যে ইহুদিরা সারার মাধ্যমে এবং আরবরা হাজেরার মাধ্যমে ইব্রাহীম (আঃ) এর বংশধর। কাজে কাজেই ইহুদি-খৃস্টানদের বদ্ধমূল ধারণা এই যে, স্বাধীন স্ত্রীর ছেলে হজরত ইসহাক (আঃ) (Issac)-এর বংশধর "ইয়াহুদিরা" হল উৎকৃষ্টতর আর বাঁদীর ছেলে ইসমাইলের বংশধর "আরবরা" নিকৃষ্টতর। প্রকৃতপক্ষে, হাজেরার বংশগত আভিজাত্য কম নয়। তিনি ছিলেন মিশরের সম্রাটের কন্যা। সম্রাট নম্রতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে স্বীয় কন্যাকে খাদেমা বলে হজরত সারার হাতে তুলে দিলেও পরে তো তিনি ইব্রাহীম (আঃ)-এর স্বাধীন স্ত্রী হয়েছিলেন। (ফয়জুল বারী/ বুখারী শরীফ)
বাইবেলেও এর স্বীকৃতি আছে। দেখুন : Gen.16 (3 , 15, 16 )

[3] And Sarai Abram's wife took Hagar her maid the Egyptian, after Abram had dwelt ten years in the land of Canaan, and gave her to her husband Abram to be his wife.
[15] And Hagar bare Abram a son: and Abram called his son's name, which Hagar bare, Ishmael.
[16] And Abram was fourscore and six years old, when Hagar bare Ishmael to Abram.
আর হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর আদি পিতা হজরত ইসমাইল (আঃ) সম্পর্কে নকল তৌরাতে বর্ণনা এসেছে এভাবে, -
[12] And he will be a wild man; his hand will be against every man, and every man's hand against him; and he shall dwell in the presence of all his brethren. (Gen 16:12)
(... একটি মানুষের আকৃতিতে বন্য গর্দভ। তার হাত ও কাজ পৃথিবীর যাবতীয় মানুষের বিরুদ্ধে এবং পৃথিবীর যাবতীয় মানুষের ঘৃণা ও প্রতিরোধ তার বিরুদ্ধে ..................... ) (Gen 16:12)
(ইহুদি রেসিজম এর একটি নমুনা)
কিন্তু, কোরআনে হজরত ইসমাইল (আঃ) এর চরিত্র সম্পর্কে আছে ভিন্ন বর্ণনা:
And mention in the Book (the Qur'ân) Ismâ'il (Ishmael). Verily! he was true to what he promised, and he was a Messenger, (and) a Prophet. (54) And he used to enjoin on his family and his people As-Salât (the prayers) and the Zakât, and his Lord was pleased with him. (19:54)
(এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা বর্ণনা করুন, তিনি প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং তিনি ছিলেন রসূল, নবী। তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে পছন্দনীয় ছিলেন।) (১৯:৫৪)
(86) And also some of their fathers and their progeny and their brethren, We chose them, and We guided them to a Straight Path. (6:86)
(আর ও তাদের কিছু সংখ্যক পিতৃপুরুষ, সন্তান-সন্ততি ও ভ্রাতাদেরকে; আমি তাদেরকে মনোনীত করেছি এবং সরল পথ প্রদর্শন করেছি।) (৬:৮৬)
(101) And, when he (his son) was old enough to walk with him, he said: "O my son! I have seen in a dream that I am slaughtering you (offer you in sacrifice to Allâh), so look what you think!" He said: "O my father! Do that which you are commanded, Inshâ' Allâh (if Allâh will), you shall find me of As-Sâbirun (the patient)." (37:101)
(অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখিযে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বললঃ পিতাঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন। ) (৩৭:১০১)
ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে স্বজাতির উগ্র শ্রেষ্ঠত্বের (Racism) আর একটি নমুনা দেখুনঃ
Deuteronomy 11:18-25, (তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্য তোমাদের সামনে জাতির পর জাতিকে পতন ঘটিয়ে দেবে। তোমরা তোমাদের চাইতে সংখ্যায় বৃহত্তর জাতিকে পদানত করবে, পৃথিবীর যে যে স্থানে তোমাদের পদচিহ্ন পড়বে, তোমরা সে সব স্থানের মালিকানা প্রাপ্ত হবে। তোমাদের ভূমিটির সীমানা হবে লেবাননের বনাঞ্চল হতে এবং নদী হতে ইয়োফ্রেতিশ (ইরাক) নদী পর্যন্ত। কোন জাতি তোমাদের সামনে দাড়াবে না, তোমাদের প্রভু জগৎবাসীর মনে তোমাদের সম্পর্কে ভীতি সৃষ্টি করে দেবেন ................ ।
অন্য দিকে, হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে বাইবেল কী বলছে দেখুনঃ

[হে মুসা] আমি উহাদের জন্য উহাদের (ইহুদিদের) ভ্রাতৃ [আরব] গণের মধ্য হইতে তোমার সদৃশ এক ভাববাদী [নবী] উৎপন্ন করিব (Deut 18:18)
[18] I will raise them up a Prophet from among their brethren, like unto thee, and will put my words in his mouth; and he shall speak unto them all that I shall command him. (Deut 18:18)
একই কথা ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়ও বর্ণিত হয়েছে বাইবেলে যেমন,
[22] For Moses truly said unto the fathers, A prophet shall the Lord your God raise up unto you of your brethren, like unto me; him shall ye hear in all things whatsoever he shall say unto you. (The Acts 3:22)
[37] This is that Moses, which said unto the children of Israel, A prophet shall the Lord your God raise up unto you of your brethren, like unto me; him shall ye hear. (The Acts7:37)
অথচ, প্রায় তিন হাজার বছর যাবৎ ইহুদিরা তাদের আরব ভাইদের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞার ভাব পোষণ করে আসছে; বিশেষ করে ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থগুলোতে উল্লিখিত প্রতিশ্রুত (Promised) নবী মোহাম্মদ (সাঃ) ইহুদি বংশ হতে না-এসে আরব জাতির মধ্য হতে আসায় ইহুদি-খৃস্টানদের বৈরী মনোভাব চরমে পৌঁছে গেল। তাই ইসমাইল (আঃ) এবং তাঁর বংশধর মোহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কিত বিষয় সমূহ বিকৃত করে, আর না-হয় মুছে ফেলে বাইবেল রদবদল করতে শুরু করে দিল। উল্লেখ্য বাইবেলের অনেকগুলো ভারশান (Version) বাজারে প্রচলিত আছে। অর্থাৎ “ বাইবেল ” মুসলমানদের মত একটি মাত্র ধর্মগ্রন্থ “কোরানের ” মতো নয়। ছোট্ট একটি রেফারেন্স দিলেই ব্যাপারটি পরিষ্কার হয়ে যাবে। খৃস্টধর্মতত্ত্ববিদ এবং প্যারিসের ক্যাথলিক ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ফাদার কানেনগিয়েসার বাইবেল সংকলিত হওয়ার বিবরণ দিয়েছেন নিম্নরুপেঃ
( “ বাইবেলের কোন বর্ণনাই আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করার মতো নয়। ওইসব রচনা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অথবা এসব রচনা বিরুদ্ধপক্ষীয়দের (মুসলমানসহ খৃস্টান-ইহুদিদের নানান দল উপদল) মোকাবেলায় রচিত........... ”)
-- বাইবেল, কোরান ও বিজ্ঞান: ডঃ মরিস বুকাইলি
(তাঁর রেফারেন্সঃ ইনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
পূর্বোক্ত কথার ধারাবাহিকতায় বলা যায়, ইহুদিরা মোহাম্মদ (সাঃ) জন্মের দিনক্ষণ সম্পর্কে অবগত ছিল; তাই তারা মক্কা ও মদীনায় ভিড় জমায়। সমস্ত মক্কা ও মদীনায় তখন আনন্দের ঝড়। এই ঘটনাটি কোরানে এসেছে এভাবেঃ বনী ইসরাইলের পণ্ডিতগণ পূর্ব হতে এ-সম্পর্কে পূর্ণ অবগত ছিল, এটা তাদের জন্য একটি নিদর্শন নয় কি? (২৬:১৯৭)
কিন্তু, যখন সময়ক্ষণ অনুসারে জন্মটি একটি “ একটি ইহুদি পরিবারে " নয় অর্থাৎ “ জেন্টাইল ” পরিবারে ঘটেছে - তা দেখে তারা (ইহুদিরা) চরম হতাশ হয়ে পড়ে। তারা প্রত্যাবর্তন করে। কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি হয় মোহাম্মদ (সাঃ)-এর নবুয়ত দাবীর পরপর। কোরআন এই সত্য ও তথ্যকে এভাবে তুলে ধরেছে - “ কত নিকৃষ্ট উহা যার বিনিময়ে তারা তাদের আত্মাকে বিক্রয় করে দিয়েছে এই জন্য যে, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, অহংকারের বশবর্তীতায় তাকে তারা প্রত্যাখান করতো এই কারণে যে আল্লাহ তাহার বান্দাদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। (২:৯০)
তারা (ইহুদিরা) ষড়যন্ত্রের পর ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে। সর্বশেষ ষড়যন্ত্র হয় খাইবারে নবী মোহাম্মদ (সাঃ)-কে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে। হজরত বিশর (রাঃ) ও মোহাম্মদ (সাঃ) এক সাথেই খাবার মুখে দেন। কামড় দেয়ার সাথে সাথেই বিশর (রাঃ) মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নবী মোহাম্মদ (সাঃ) মুখ হতে খাবার ফেলে দেন। যদিও আল্লাহ তাঁকে (সাঃ) বিষাক্ততা থেকে বাঁচিয়েছন - তবু মৃত্যু অবধি এই বিষের ক্রিয়া তাঁকে (সাঃ) বহন করতে হয় যা তিনি (সাঃ) মুসলমান জাতির কাছে একটি আপীল হিসেবে রেখে যান- “ হে আমার জাতি! জেনে রেখো! খাইবারে ইহুদিদের দেয়া বিষ যেন আমার হৃদয়-শিরাকে কেটে দিচ্ছে মৃত্যু শয্যায়”।
মুসলমান জাতি ইতিহাস ভুলে গেছে - এখন নবী মোহাম্মদ (সাঃ) এর আপীলের কথাগুলো আর তার মনে নেই। কালে এই মুসলমান জাতি ইহুদিদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়। এই ঘনিষ্ঠতা সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে নয় - আল্লাহ যে বস্তুকে জেহাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র কিংবা উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন- সেই স্বর্গীয় আমানত “সম্পদ” -কে দুনিয়াজুড়ে মুসলমান যেন এক মাদকাশক্তির নেশা-মত্ততায় দেদার ইহুদিদের হাতে তুলে দিতে থাকলো, যে জাতিটি তার কবর রচনার জন্য “ কিং ডেভিড এর সাম্রাজ্য ” প্রতিষ্ঠা প্রকল্পে ইতোমধ্যেই আফগানের পর ইরাক দখল করে নিয়েছে আমেরিকার হাত দিয়ে আর একই বাহন দ্বারা সমস্ত আরব রাষ্ট্রগুলোর হৃদমূলে ঘাঁটি স্থাপন করে নিয়েছে ১৯৯১ সনে। কিয়ামতের পূর্বে এ-ঘাঁটিগুলো আর উঠে আসবে না।
ইহুদিরা পৃথিবীতে মূল ছাড়া জাতি। কোরানের নীতি ব্যবহার করে তারা কোরানের ফর্মূলায় একটি জাতিসত্তায় পরিণত হয়েছে - শুধু তাই নয়, তারা সমস্ত দুনিয়ার মানুষকে এখন ভীতি প্রদর্শন করছে। বলা দরকার কোরআনের নীতি যে ব্যবহার করুক, সে উপকৃত হবে - এর জন্য ঈমান আনা জরুরি নয়। ঈহুদিরা এই নীতিটিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে রাষ্ট্র, নেতৃত্ব ও জগৎভীতি সৃষ্টির কৃতিত্বে এসেছে তার চিত্রটি ফুটে উঠে - “ আমি ইচ্ছা করলাম - দুনিয়াতে যাদের হীনবল করা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে এবং তাদের নেতৃত্ব দান করতে এবং তাদেরকে রাষ্ট্রের উত্তরাধিকারী করতে এবং পৃথিবীতে তাদেরকে ক্ষমতাসম্পন্ন করতে এবং ফিরআওন-হামান বাহিনীকে দেখিয়ে দিতে যাদের নিকট হতে ভীতির আশঙ্কা ছিল। ” (২৮: ৫-৬)
এই নীতি অনুসারে - যাদের হীনবল করা হয় ( ইহুদিরা এই বিপাকে পড়েছিলো ) , এবং দুর্বলতার কারণে নেতৃত্ব থাকে না, রাষ্ট্রের পরিচয় থাকে না ও পৃথিবীর ক্ষমতার মঞ্চে যাদের স্থান নেই - তারাও এই পৃথিবী শাসনের কৃতিত্বে আসতে পারে; দুনিয়ায় যারা ছিল অপরাপর শক্তির নিকট ভীত - তারা সৃষ্টি করতে পারে বিপরীত ভীতি প্রবাহ; অর্থাৎ পরিণামে তাদেরকে সকল রাষ্ট্রীয় শক্তিরা ভয় করবে- এই অবস্থা সৃষ্টি করা সম্ভব। আর এই নীতিকে কাজে লাগিয়েছে ইহুদি জাতি জেহাদেরই ফর্মূলায় - “ ওয়াতুজা হিদুনা ফি সাবিলিল্লাহি বিআমওয়ালিকুম ওয়াআনফুসিকুম ” ; বিজয়ের যুদ্ধের জন্য প্রয়োজন দু’টি বস্তু - একটি ‘ সম্পদ ’ অপরটি ‘ ব্যাক্তি ’। ১৫ মিলিয়ন ইহুদি - ১৫ মিলিয়ন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সৈনিক। আর দুনিয়ার সব সম্পদের মালিক আজ তারা। তারা আমেরিকারও মালিক। কোরআনকে তারা তাদের নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করে কৃতকার্য হয়েছে। ইহুদিরা কীভাবে কোরাআনের ফর্মূলা ধরেছে এবং তাদ্বারা একাট ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের মালিক হয়েছে এবং তথা হতে আমেরিকাকে ডিঙ্গিয়ে সমগ্র বিশ্বকে শাসন করবে তার চিত্রটি ক্ষুদ্রাকারে তুলে ধরছি।
বিশ্বব্যাপী ইহুদীদের মুসলিম বিদ্বেষী কমÐকান্ড
ইহুদি জাতি পৃথিবীতে যে সকল রাষ্ট্রসমূহের উপর অসামান্য প্রভাব ও প্রভুত্ব বিস্তার করেছে - তাদের একটি “ অষ্ট্রেলিয়া ” । এই দেশটিতে বসবাসরত ইহুদিরা নির্দিষ্ট এলাকায় তাদের যে সংগঠন সৃষ্টি করে - তার সর্বনিম্ন সংগঠনকে তারা বলে ‘স্টেইট’। প্রতিটি স্টেইটে বসবাসকারী ইহদিরা তাদের মাসিক আয়ের ৫% অংশ অত্যাবশ্যকীয়ভাবে “স্টেইট” নিকট জমা রাখে। তবে সচরাচর অধিক আয় সম্পন্নরা বাধ্যতামূলক এই দানের বাইরেও অর্থায়ন করে থাকেন। এই অর্থ সরাসরি বিশ্বজোড়া জায়নবাদী প্রচার ও পরিকল্পনা চরিতার্থকরণের জন্য ব্যয় হয়। এই অর্থ ইসরাইল রাষ্ট্রের সংহতিকরণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যয় হয়। এভাবে দীর্ঘদিনের সাধনায় আজ তারা এমন একটি অবস্থানে এসেছে যে বিশ্বের তথ্য, সম্পদ, যুদ্ধ, অর্থনীতি, ইত্যাদি সবই এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। খোদ আমেরিকা একটি ক্ষুদ্র ইসরাইল রাষ্ট্রের বাধ্যতার দাস। এটা হলো কোরআনের ফর্মূলায় মুসলমানদের উপর ধার্য্য “জাহাদু বি আমওয়ালি” - এর প্রতি পূর্ণ মান্যতা; তারা কোরাআনের ফর্মূলাকে নিজেদের ফর্মূলা করে নিয়েছে। পাশাপাশি “জাহাদু বি নাফসি” বা ধর্মের জন্য ব্যক্তির সেবাকে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রেও তারা অগ্রগামী। ১৫ মিলিয়ন ইহুদি - ১৫ মিলিয়ন সৈনিক ও যোদ্ধা। কিন্তু কতটা চমৎকার পদ্ধতিতে তারা “ওয়া’তাছিমু বি হাবলিল্লাহি জামিআ” এই নীতিটিকে অবলম্বন করছে তার একটি চিত্র আমরা প্রদর্শন করতে পারি।
সাধারণতঃ ওরা চাকুরির চাইতে ব্যবসার প্রতি বেশী আকর্ষণ বোধ করে। যখনই ‘স্টেইটে’ নতুন কোন ইহুদি ব্যবসা/দোকান খোলে, তখনই ‘স্টেইট’ হতে তার সমস্ত অধিবাসীগণের জন্য এটি ধার্য হয়ে যায় যে, এই নতুন ব্যবসায়ী যে নতুন ব্যবসা শুরু করেছে, ৩ মাসের জন্য প্রত্যেক ইহুদি নাগরিক ন্যুনতম ২০০ ডলারের পণ্য কিংবা সেবা ক্রয় করবে বাধ্যতামূলকভাবে। এই বাধ্যবাধকতা প্রসূত ‘খরিদ’ নতুন ইহুদি ব্যবসায়ীকে শুরু করার মুহূর্ত হতেই একটি সাবলীল সমর্থন ও শক্তি যোগায়; পরবর্তীতে যা তাকে সফল ব্যবসায়ী হয়ে আত্মপ্রকাশ করতে সাহায্য করে। ইন্নাল মু’মিণীনা ইখওয়াতুন, ফা আছলিহু বাইনা আখাওয়াইকুম (মুমিন পরষ্পরের ভাই- একে অপরের কল্যাণ সাধনে সচেষ্ট হও) , এই ফর্মূলাটি এ যুগের কোনো মুসলমান মান্য করেনি, ইহুদিরা পরিপূর্ণভাবে মান্য করে চলছে। “ আর যারা এই পথ প্রদর্শনকে মান্য করে চলবে- তাদের ভয় নেই, তারা দুঃখিত হবে না ” (২:৩৮) । ইহুদি জাতি এই পথ প্রদর্শন মান্য করে চলছে। তারা আজ ভীত নয়; দুঃখিতও নয়। বলা বাহুল্য যে, বর্ণিত ‘স্টেইট’ এর এক হাজার ইহুদি যদি ৩ মাসে সেই নব্য ব্যবসায়ীর নিকট হতে ১০০০ x ২০০ = ২ লাখ ডলারের ব্যবসা পেয়ে যায়, যা নিশ্চিত, তা অস্ট্রেলিয়ায় পরবর্তীতে তার টিকে যাবার সম্ভাবনা যথেষ্ট।
ব্যক্তি ও সামষ্টিক সমাজে ইহুদিরা কোরআনের নির্দেশ মান্য করে চলে। তাই প্রতিশ্রুতি অনুসারে তারা ভীতির শিকার নয় এবং তারা দুঃখিতও নয়। কাফির হয়েও তারা কোরআনকে বা কোরআনের নীতিকে তাদের কল্যানে ব্যবহার করেছে।
ইহুদিরা বিপুল অর্থ ব্যয় করে ইসলাম বিষয়ক এক্সপার্ট তৈরির জন্য। ২০০২-২০০৩ সালের বাজেটে আমেরিকা “ ইসলাম বিষয়ক এক্সপার্ট ” তৈরির জন্য বরাদ্দ করেছে ৩৫ বিলিয়ন ডলার, যা গণচীনের পূর্ণ সামরিক বাজেটের সমান। এই টাকায় বাংলাদেশের একুশ বছরের বাজেট সংকুলান হয়। এতোগুলো টাকা শুধু এক্সপার্ট তৈরির জন্য এবং গবেষণার জন্য। কী গবেষণা হয় এবং কী করে এক্সপার্টগণ ? তারা তৈরি করে সুইসাইড বম্বার। তাদের সুইসাইড বম্বার হিসেবে আত্মঘাতী বোমা ফাটানোর কাজটি করছে এক “ তরুণী ”! । তরুণীরা কেন ?!
ইসরাইল সাহাক (Israel Shahak) - এর লেখা হতে জানা যায় ( তিনি জেরুজালেম পোষ্টে লিখে থাকেন; হিব্রু সংস্করণে; কমই তার ইংলিশ প্রতিবেদন ছাপা হয় )। এই লেখাটি ১৯৮৫ সনের। তরুণীদের ধরে নিয়ে যায় ইসরেলি সেনাবাহিনীর লোকজন। তারপর তাকে বিবস্ত্র করা হয়। ছবি তোলা হয় বিভিন্ন পোজের। তারপর তাকে গণধর্ষণ করা হয়। এ অবস্থায় তরুণীটি যখন ভগ্ন হৃদয় এবং মর্মাহত, - তখন তার পিতা, ভাই অথবা এমন কোন সম্পর্কের, যার সঙ্গে বিবাহ চলে না - এমন কোনো ব্যক্তিকে ধরে এনে কৃত্রিম উপায়ে (ইনজেকশান বা মুখে খাওয়ার ঔষুধ) প্রচন্ডভাবে যৌনাবেগ সৃষ্টি করে রাখা হয়। তারপর বাধ্য করা হয় তাকে রেপ করার জন্য। অনিচ্ছায়, অজ্ঞানতায় “ রেপ ” করার কাজটির তুলে রাখা হয় অজস্র ছবি। তারপর “ সেট করা ” নাটকের অংশ হিসেবে তাকে উদ্ধার করে নেয় ইহুদি রাবাঈদের ( Jewish Rabbi ) কেউ। নাটকের অংশ হিসেবে তৈরি হয়ে আছে এমন “ মুসলমান ” সংগঠনের কাছে করা হয় হস্তান্তর । সেই মুসলমানরূপী ইহুদিরা বুঝিয়ে দেয় - এ জীবন আর রেখে কী হবে, খোদার জন্য শত্রু ঘায়েল করে শহীদ হয়ে যাও। উপদেশটি সৎ মনে হয়। গায়ে জড়িয়ে নেয় বোমা - সেই তরুণীটি। তাকে টার্গেট দেয়া হয় কোথায় যাবে, কে সাহায্য করবে, - এইসব। টার্গেট জানানো হয় “সেনাবাহিনী ”, কারণ, তাদের প্রতিই তরুণীটির বিদ্বেষ। কিন্তু, বাসে উঠার পর কিংবা বাজার এলাকায় গমন করার পর টিপে দেয়া হয় রিমোর্ট কন্ট্রোল। কেবল সাধারণ নিরপরাধ ইহুদি জনগণই মরে সুইসাইড বোমায়, কখনও সেনাবাহিনীর একটি সদস্যেরও কিছু হয় না। দু’ঘন্টার মধ্যে “ পোট্রেট কোয়ালিটির ” ছবি চলে যায় টেলিভিশনে। পূর্বেই ছবি রাখা হয়েছিল তার; নাম, ঠিকানা সব নির্ভুল। জগৎ শুনেছে, মুসলমান তরুণীর সুইসাইড বোমায় অনেকজন ইসরেলি নিরপরাধ জনগণ মারা হয়েছে। এ-লেখাটি যখন রচিত হয়, তখন (অক্টোবর ০৩) ইসরেল সিরিয়া আক্রমন করে সুইসাইড বোমা হামলার প্রতিবাদে। ১৯ জন ইসরেলি নাগরিক মারা গেছে। সেখানেও ছিল এমনি দুর্ভাগ্যের শিকার এক তরুণী। “সুইসাইড বোমা ” ইসলামের আদর্শকে বিশ্বের সামনে অনেক নিচু করেছে। তার অর্থ এই নয় যে সব সুইসাইড বোমা বর্ণিত পদ্ধতিতে ঘটে। মুসলমানরা অনেক ক্ষেত্রেই স্বেচ্ছাপ্রণোদিত উচ্ছ্বাসে তা করে থাকে। এর পেছনে যে অদৃশ্য যোগান, উৎসাহ-উদ্দীপনা, অর্থ, সুযোগ, উপকরণ - এসবের পেছনে আছে, সেই ৩৫ বিলিয়ন ডলারের সমর্থন। ব্যবহৃত হয় নির্বোধ মুসলমান - যারা মূলতঃ কোরআন বিচ্ছিন্ন।
২০০২-২০০৩ সালে চীনের সামরিক বাজেট ছিল ৩৫ বিলিয়ন ডলার যার পরিমাণ মাত্রাটি বড় হয়ে গেছে বলে আমেরিকা চীনের উপর আপত্তি তুলেছিল। অথচ, আগেই বলেছি , একই বছর আমেরিকা ইসলাম বিষয়ক গবেষণা ও এক্সপার্টিজ এর জন্য যে বাজেট করেছে তার পরিমাণও ৩৫ বিলিয়ন ডলার। কি হয়েছে আমেরিকার? সারা পৃথিবীতে শত ধর্ম রয়েছে, আর কারো বিষয়ে নয় - শুধু মুসলমানদের বেলায় তাদের এতটা যত্ন নেয়ার প্রয়োজন হয় কেন? যদিও এর উত্তরটি বিশাল তবু তার মূল " কিং ডেভিডের কিংডম অব ইসরাঈল " প্রতিষ্ঠার সুদূরপ্রসারী জায়নবাদী ব্যবস্থার মূলে প্রোথিত। ইহুদীরা অর্থের মালিক। ইহুদীরা ইসলামের চিরশত্রু । ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ। ইরাকে আমেরিকার আগ্রাসনের অন্য অর্থ হলো ইরাকে ইহুদিদের ভাড়াটে শক্তির আগ্রাসন। জন্মগতভাবেই তাদের মধ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে শত্রুতা আর ঘৃণার প্রেষণা কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে। এই প্রেষণায় তাড়িত হয়ে তারা দুনিয়াময় যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে যাবে। (৫:৬৪)। মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ ঘরে বাইরে। ঘরের যুদ্ধে ইহুদীদের ভাড়াটে সৈনিক হলো আজকের শহর কেন্দিক আধ্যাত্মিক সূফী সাধকের গোষ্টি। ওরা ইহুদিদের এজেন্ট। ওরা সাধক নয়, ওরা চর (Spy) এবং চোর । ওরা সূফী নয়, ওরা অর্থলোভী ভোগসেবী, চরিত্রহীন, প্রবঞ্চনাকারী শয়তানের প্রকাশ্য পুত্র। এই " সূফী সাধকরা " ইসলামের সর্বনাশ ঘটায়। মুসলমানদের সাধারণ জ্ঞানেই বুঝবার কথা যে, সুফী সাধকগণ নির্লোভ, নির্জনতা-প্রিয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা তাদের একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু বর্তমান সূফী সাধকরা ডিশ এন্টেনার যাবতীয় অনুষ্ঠান উপভোগকারী, এক্সরেটেড ভিডিও (Porn Movie) দর্শক, শহর কেন্দ্রিক প্রচার বিলাসী ও ভোগপ্রিয়। ওরা যা সৃষ্টি করেছে তা হলো ফিতনা। ফিতনা হলো ফ্যাসাদের জন্মদাতা। বিলাশবহুল গাড়ীতে চড়ে নবী (সাঃ) আচার ও আদর্শের শিক্ষা দেয়। যে নবী ৮ হাত x ১২ হাতের কুঁড়ে ঘরে জীবন ব্যয় করলেন ও রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ করলেন, সে নবীর আদর্শ কাদের দ্বারা এবং কী উপায়ে প্রচার হচ্ছে?
কাদিয়ানী মুসলিম জাতি ধ্বংসের ইহুদী হাতিয়ার
কাদিয়ানী একটি সম্প্রদায় যারা ইসলামের পরিচয় ও পোশাকে ইসলাম ধ্বংসের জন্য এক অতি শক্তিশালী ইহুদি হাতিয়ার। কাদিয়ানীরা ইহুদিদের স্বজাতিসম। ইহুদিদের মতই তারা কোরআন বিকৃতির সার্বিক প্রচেষ্টা করেছে। ইহুদিদের সাথে তাদের পার্থক্য হলো - ইহুদিরা যেখানে তৌরাত পরিবর্তন করে নিজেদের মনগড়া বক্তব্যের সংযোজন দ্বারা তৌরাতকে “ ওল্ড টেস্টামেন্টে ” পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে, সেখান কাদিয়ানীরা তা পারেনি। ইহুদি প্রভাবে আমেরিকা মুসলমান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ তৈরি ও গবেষণায় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে থাকে। ২০০২-২০০৩ সালে তাদের এই বাজেট ছিল ৩৫ বিলিয়ন ডলার। সীমাহীন অর্থ। এই বিপুল অর্থের একটি বড় সুবিধাভোগী দলের নাম কাদিয়ানী। ইসলামের আবরণে ইসলামের ভাষায় ইসলামের সুরে ইসলামের সর্বনাশের এরা জীবন্ত প্রত্যয়। ইসলামের দেশে ইসলামের বেশে এরা মুসলমান বেশধারী ইহুদি। কাদিয়ানীরা যেভাবে তাদের মতবাদের প্রসার ঘটানোর কার্য করে বেড়ায়, খৃস্টানরা অনুরূপভাবে অর্থ, প্রতিষ্ঠান ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা দিয়ে দরিদ্র মুসলমানকে খৃস্টান ধর্মে দীক্ষিত করে চলছে অতীত হতে।
রাসুল (সা<img src=" style="border:0;" /> কে নিয়ে ইহুদীদের আশাভঙ্গ ও বিশৃঙ্খল কমÐকান্ড
ইসলামের ইতিহাসে অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে হিজরতের পর। ইসলামের শেষ নবী চিরাচরিত কিবলা মক্কাকে পিছনে ফেলে দীর্ঘ ১৭ মাস মসজিদুল আকসাকে কিবলা ঘোষণা করেন এবং সে অনুসারে নিজে এবং অনুসারিগণ তথা সমস্ত মুসলমান মসজিদুল আকসার দিকে মুখ ঘুরিয়ে নেন। ইহুদি-খৃষ্টান মূলত মুসলমানদের এই প্রতিশ্রুত নতুন আইনেরই আওতাভূক্ত এক অভিন্ন জাতি; তাদের মূল ইসলামের আদি সত্তায় প্রোথিত এবং নামে ইহুদি ও খৃষ্টান হলেও তাদের আত্মার উৎস রয়েছে ইসলামে এবং নতুন অবতীর্ণ কোরআনের সাথে - এই সংবাদ তাদেরকে এই কেবলা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে পৌঁছে দেয়া হয়। প্রকৃতপক্ষে এর মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলো বনি ইসরাঈল। বনি ইসরাঈল অস্বীকার করেছে ঈসা (আঃ)-কে। তৌরাতের সাথে কোরাআনের সম্পর্কের বিষয়ে তারা পূর্ব হতেই অবগত এবং অপর পক্ষে খৃষ্টানগণ তাদেরই তৌরাতকে তাদের পুস্তকের অংশ হিসেবে মান্য করে। সুতরাং বনি ইসরাঈলের ঈমান আনয়ন খৃষ্টান ও অপরাপর পৌত্তলিকদের প্রভূতভাবে সাহায্য করতে পারে। বনি ইসরাঈল (এবং খৃষ্টানগণও) বিশেষভাবে হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জন্ম ও আগমনের বিষয়ে পূর্বাহ্নেই অবগত ছিলো। তারা নবীজী (সাঃ)-এর আগমন প্রতীক্ষায় মক্কায় ও ইয়াসরিবে (মদীনায়) দলে দলে ভিড় জমিয়েছিলো। আল্লাহপাক তাদের এই পূর্ব আয়োজন ও প্রস্তুতিকে কোরআনের বাণীতে মোহরান্কিত করে রেখেছেন - “ পূর্ববর্তী কিতাব সমূহে অবশ্যই ইহার (কোরআন) উল্লেখ আছে। (২৬:১৯৬)। বনি ইসরাঈলের পণ্ডিতগণ পূর্বাহ্ণেই ইহা অবগত আছে - ইহা কি উহাদিগের জন্য নিদর্শন নহে?” (২৬:১৯৭)
ইহুদিরা অত্যন্ত আত্মাভিমানি জাতিতে পরিণত হয়ে যায়। তারা দাম্ভিকতায় পৃথিবীতে যারপরনাই বাড়াবাড়ি করতে শুরু করে। তাদের দাম্ভিক প্রত্যাশা ছিলো - শেষ নবী তাদের বংশেই এবং ইহুদি ঔরসেই জন্ম নেবেন। বনি ইসরাঈলের এই দাম্ভিকতার কারণ ছিল যে ইতিহাসের শক্তিশালী নবীগণ তাদের মধ্যে এসেছে সুতরাং তারা পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ জাতি, আল্লাহ পাকের একমাত্র পছন্দপাত্র জাতি হিসেবে তারা পৃথিবীতে চির উন্নত। ইসরাঈলের বাইরে স্বর্গীয় দয়া নেই এবং শেষ নবী যা তৌরাতে বহুল প্রতিশ্রুত, সে নবীর জন্ম তাদের ভিন্ন অন্য কোন জাতিতে নয়।
অথচ ইতোমধ্যেই তারা হয়ে পড়েছে সীমা লংঘনকারী। যখন তারা দেখলো যে দিনক্ষণের নির্ধারিত জন্মটি ইহুদি পরিবারে নয়, একটি আরব পরিবারে, তখন তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়। শেষ নবীর আগমন নিয়ে মাতামাতি কেটে যায় কিন্তু সমস্যার সূচনা হয় কেবল যখন মুহাম্মদ (সাঃ) নবুয়তের বাণী প্রচার শুরু করেন। তারা মুহাম্মদুর রসুল (সাঃ)-কে অস্বীকার করে। আল্লাহপাক ঘটনাটি কোরআনে লিপিবদ্ধ করে দেন - “ উহা কত নিকৃষ্ট যাহার বিনিময়ে তাহারা তাহাদের আত্মাকে বিক্রয় করিয়াছে উহা এই যে, আল্লাহ যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন, ঈর্ষান্বিত হইয়া তাহারা তাহাকে প্রত্যাখ্যান করিত শুধু এই কারণে যে, আল্লাহ তাঁহার বান্দাদের মধ্য হইতে যাহাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। সুতরাং তাহারা ক্রোধের পাত্র হইল। (২:৯০)
ইহুদিদের রোষানল নবীজী (সাঃ)-কে বিভিন্ন হত্যা-ষড়যন্ত্রের শিকার করলো যদিও আল্লাহপাক প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তাঁর রাসুলকে প্রয়োজনীয় তথ্য পূর্বাহ্ণেই অবগত করেছিলেন এবং নিরাপত্তা বিধান করলেন। কিন্তু ইহুদিদের প্রতি আল্লাহপাকের করুণার দরজা বন্ধ করার পূর্বে নবীজী (সাঃ) কর্তৃক কিবলা পরিবর্তন ছিল এক বিশেষ ও সর্বশেষ ছাড়। ইহুদীরা এই শেষ সুঝোগটুকু গ্রহণ করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আল্লাহপাক কিবলাকে আবার কাবা ঘরের দিকে প্রবর্তন করেন। এই ঘটনা ইহুদী জাতির প্রতি ইসলামের উন্মুক্ত দরজাকে রুদ্ধ করে দেয়। তারা হয়ে পড়ে চিরদিনের জন্য অভিশপ্ত জাতি। তাদের বিষয়ে আল্লাহপাক কোরআনে সুস্পষ্ট ফয়সালা প্রকাশ করেন- “ অতঃপর আমি বনি ইসরাঈলকে বলিলাম- পৃথিবীতে তোমরা বসবাস করিতে থাক এবং যখন তোমাদের প্রতি আল্লাহর শেষ প্রতিজ্ঞা পূর্ণ হইবে তখন তিনি তোমাদের সকলকে “ফিইফা”-তে একত্রিত করিবেন”। (১৭:১০৪)

কী এই “ফিইফা”, কী এই “শেষ প্রতিজ্ঞা”? এ কী শেষ বিচারের প্রতিশ্রুতি এবং তাদের (ইহুদিদের) একত্রিকরণ, না-কি তার বাইরে অন্য কিছু?
প্রকৃতপক্ষে, এই আয়াতের সঠিক অধ্যয়ন ইহুদী সমস্যার চরিত্র বুঝতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করে। আমরা আয়াতখানি বুঝতে চেষ্টা করবো।
কোরআনের কোন সূরা যেভাবে সন্নিবদ্ধ করা হয়েছে সেভাবে কখনোই অবতীর্ণ হয়নি। বিশেষভাবে বড় সূরাগুলি। সময় ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। বিশ্বের বিস্ময়কর গ্রন্থ আল-কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে এক অভিনব পদ্ধতিতে। আজ একটি সূরার দু’টি আয়াত, কাল অন্য একটি সূরার পাঁচটি আয়াত, অনেকদিন পর অপর একখানি আয়াত যা অন্য একটি সূরার অন্তর্ভূক্ত, অনেকদিন পর হয় তো অন্য কোন একখানি আয়াতাংশ যা অপর কোন সূরার কিংবা পূর্বের কোন সূরার অংশ। এইভাবে ঝিগ্ঝাগ্ (Zigzag), মানবীয় শৃঙ্খলা হতে অতি ভিন্ন এবং ধারণার সাধ্যের অতীত এক পদ্ধতিতে মোট ২৩ বছরের বিস্ময়কর কোরআন, বিস্ময়কর অভিনবতায়, বিস্ময়কর সত্যে বিস্ময়করভাবে বিশ্বের বিস্ময়কর পরিস্থিতিতে বিস্ময়কর মানুষ মুহাম্মদ(সাঃ)-এর উপর অবতীর্ণ হয়। যিনি এই বিশাল গ্রন্থ লিপিবদ্ধ করেছেন একবারে এবং যার কোন দ্বিতীয় খসড়ার প্রয়োজন পড়েনি এবং যাতে একটি ভুলের ঘটনা ঘটেনি সেই বিশাল গ্রন্থের (মানবীয় দৃষ্টিত) প্রণেতা কিংবা সন্নিবেশকারী মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) একজন ইতিহাস স্বীকৃত নিরক্ষর উম্মী! উদাহরণস্বরূপ বলা যায় - “আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করিলাম” (৫:৩)। এই বাণীটুকু একটি পূর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র অবতীর্ণ বাণী যা বিদায় হজ্জে নবীজী (সাঃ) যখন উপস্থিত জনতার সাক্ষী গ্রহণ করার পর আকাশের দিকে তাকালেন- ঠিক তখনই তা অবতীর্ণ হয়েছিলো এইটুকুতেই। কিন্তু কোরআনে তা স্থান পেল এক বিস্ময়কর ভঙ্গিতে - তার পূর্বে এক সুবিশাল বক্তব্য এবং তার পর অন্য এক বক্তব্য, মাঝখানে স্থান পেল বিদায় হজ্জের এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা একটি বড় আয়াতের অংশ হিসেবে। আর সেই সুবিশাল আয়াত একটি সাধারণ খাদ্য আইন। কি বিস্ময়! অতএব, ১৭:১০৪ আয়াতকে পূর্ববর্তী আয়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করে যদি পাঠ করা হয়, তবে এই আয়াতের ঘোরতর ঘোষণা যেন প্রচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। প্রিয় পাঠক, The Holy Quran, A. Yusuf Ali-র ভাষ্যে এ আয়াতের টীকা কিংবা অন্যান্য তফসিরে প্রদত্ত টীকা সমূহে যে টানাপোড়েন প্রত্যক্ষ করা যায় তার দিকে দৃষ্টি রেখে ১৭:১০৪ আয়াতকে একটি স্বাবলম্বী আয়াত হিসেবে পাঠ করার জন্য অনুরোধ করছি।

কোরআন প্রতিশ্রুত ফি-ই-ফা কী? لَفِيفً۬اফি-ই-ফা-এর (fayafin) আভিধানিক অর্থ মরুভূমি। কিন্তু (faifa / faifan) শব্দটির আরো সুনির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করেছেন F. Steingass – dangerous desert কিংবা dangerous plain. সুতরাং ১৭:১০৪ আয়াতে বনি ইসরাঈলের একত্রিকরণের প্রতিশ্রুত বিষয়টি অবশ্যই একটি বিপজ্জনক একত্রিকরণ বা মূলত ইসরাঈল জাতির শেষ সর্বনাশের সঙ্গে জড়িত। ইসরাঈলকে কেন ফি-ই-ফা -তে একত্রিত করা হবে যার একটি উপাদান তাদের ধ্বংস? এর উত্তরটি কোরআন দিয়েছে পরিষ্কারভাবে। বনি ইসরাঈল পৃথিবীতে দু’টি বড় আকারের ফ্যাসাদ সৃষ্টি করবে - এ বিষয়ে পূর্বেই তাদেরকে সাবধান করা হয়েছিলো যেন তারা সতর্কতার সঙ্গে ক্ষতি পরিহার করার সুঝোগ পায়। এর একটি ছিলো তৌরাত ব্যাপক পরিবর্তন সাধন ও তৌরাতকে পরিবর্তন করার মাধ্যমে তাদের নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধি এবং ফলশ্রুতিতে মূলত মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও একটি নতুন ধর্মের উন্মেষ “ইহুদিবাদ”। হজরত সুলায়মান (আঃ)-এর মৃত্যুর পর তাঁর দুই সন্তান জেরিবোয়া ও রেহবোয়া ইসরাঈল সাম্রাজ্যকে জুডা ও ইসরাঈল এই দু’ই ভাগে বিভক্ত করে ফেলে। জুডার অন্তর্ভূক্ত হয় জেরুজালেম। জেরুজালেম ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। এতে ইসরাঈল সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় নগর ‘সীচেম’কে খ্যাতি ও গুরুত্ব প্রদান করা ধর্মীয় খৃষ্টদের এক গুরুতর দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। তজ্জন্য তারা নিজ হস্তে তৌরাত পরিবর্তন শুরু করে এবং নকল তৌরাত বিধি অনুসারে ধর্ম ও রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ শুরু করে। এই ঘটনায় জুডা তথা জেরুজালেমকেন্দ্রিক রাবাইগণও তাদের গুরুত্ব বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় আত্মনিয়োগ করে। দুইদলে তৌরাত পরিবর্তনের চলে ব্যাপক প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় খোদায়ী আইন মুছে যায় এবং মানুষের লিখিত আইন দ্বারা সমাজ, ধর্ম ও পৃথিবী ব্যাপকভাবে প্রভাবিত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মূলত আজকের ইরাক দখল ও অন্যান্য ঘটনা সেদিনের সেই নকল তৌরাত মানুষের হাতে পরিবর্তন সাধনেরই এক বাস্তব ফসলের ক্ষেত্র চিত্র। যখন স্রষ্ট্রার কল্যাণময় আইন মানুষ কর্তৃক অবলুপ্ত করা হয় এবং মানবীয় আইন ও বিধান দ্বারা তা প্রতিস্থাপিত হয় - তখন এ ঘটনাগুলোকে কোরআনের ভাষায় বলা হয় ফ্যাসাদ। ফ্যাসাদ মূলত খোদায়ী আইনকে প্রতিরোধই করে না- বরং খোদার অস্তিত্বকে সৃষ্টি হতে মুছে ফেলার যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও প্রয়োগ করে।
বনি ইসরাঈল কর্তৃক দ্বিতীয় ফ্যাসাদটি সংঘটিত হয় হজরত ঈসা (আঃ)-কে অমান্যকরণ ও তাঁকে হত্যা করার ষড়যান্ত্রিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে। এই ঘটনার ফলাফল হিসেবে জন্ম নেয় একটি শির্কবাদী ব্যবস্থা - খৃষ্টানবাদ। মূলত ইহুদি ও খৃষ্টান উভয়ের সীমামন্ডল ইসলাম ভিন্ন অন্য কিছুই হবার কথা ছিল না। যতদিন পর্যন্ত তারা তৌরাত অবলম্বন করেছিলো - তারা ছিল মুসলমান। নকল তৌরাত আবিষ্কারের মাধ্যমে তারা নতুন ধর্মের জন্ম দিয়েছে -যা হলো ইহুদিবাদ। এটি ছিলো প্রথম ফ্যাসাদ। পরবর্তী ফ্যাসাদ ছিলো তাদেরই অকল্যানের স্রোত প্রবাহে সৃষ্ট খৃষ্টানবাদ। উভয়বাদই মূলত ইসলামের সাক্ষাৎ বিরুদ্ধাচারণ এবং উভয়বাদের সর্বশেষ লক্ষ্য হলো পৃথিবী হতে আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর আইনের অস্তিত্ব, তাঁর বাণীর অস্তিত্বকে পূর্ণভাবে অবলুপ্ত করে তাদের নিজ হাতে তৈরি করা আইনে পৃথিবী শাষন করা। আর এই উভয়বাদের বিরুদ্ধেই হলো কোরআনের আগমন।
কোরআনের বাস্তব প্রায়োগিক পদ্ধতি একজন রাসুল (সাঃ)-এর দ্বারা ব্যবহারিক বলয়ে সাধারণ মানুষের জীবন ব্যবস্থায় কিভাবে যোগ্যতা ও কৃতকার্যতার সাথে কাজ করে, তার উদাহরণ সেই রাসুল (সাঃ) ইসলামকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করতে কোন অতিপ্রাকৃতিক ব্যবস্থার আশ্রয় নেন নি। তিনি ছিলেন একজন রাসুল (সাঃ) যাঁর জীবন ছিল অন্যান্য সাধারণ মানুষেরই মত, ক্ষুধা, দুঃখ, যন্ত্রণা, অসুস্থতা, ব্যর্থতা, যুদ্ধ, শান্তি, জ্ঞান, শিক্ষা, বিনয় ইত্যাদি যা কিছু কল্পনা করা যায় অপরাপর মানুষের জীবনের জন্য- সেই সমস্ত ব্যবহারের সমষ্টিতেই। এমনি স্বাভাবিক ব্যবহার, প্রয়োজন ও সীমাবদ্ধতাকে বিবেচনা করেই উৎসারিত হয়েছিল ইসলামের জীবন ব্যবস্থা। তারপর অর্ধ বিশ্ব বিজয় করেছিলো মুসলমান তাঁরই শেখানো পদ্ধতিতে। আল্লাহ্পাক এই রাসুলের (সাঃ) পদ্ধতিতেই ইসলামের বিজয় দেবেন এই প্রতিশ্রুতি করেছিলেন- “কাতাবাল্লাহু লাআগলিবান্না আনা ওয়া রাসুলী”- এই আয়াতে। বিজয় যখন অর্ধেক- তখন মুসলমান পথচ্যুত হল, পরিণামে পদচ্যুত হল। যদি বিপর্যয় আসে, মুক্তি কোন পথে তারও পদ্ধতি দেয়া হলো- ‘জিহাদ’। কিন্তু মুসলমান আর আল্লাহর সৈনিক হিসেবে নিজ অবস্থান রক্ষায় সমর্থ হলো না। যখন মুসলমান ব্যর্থ হলো- তখন দায়িত্ব চলে আসে স্বয়ং আল্লাহর; তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পূর্ণ বিজয়ের। যদি মুসলমান ব্যর্থ হয়ে যায়, তবে পরিণতিটির গতি প্রকৃতি কী হবে, তা-ও কোরআন ও হাদীছে বর্ণিত রয়েছে নিখুঁতভাবে। তারই ক্রমধারায় নেমে আসবে দু’টি ঘটনা বা ‘ফেনোম্যানন’ বা প্রপঞ্চ যার একটি দাজ্জাল এবং অপরটি ইয়াজুজ মা’জুজ। পৃথিবী দাজ্জালের ফিৎনায় ভেসে যাবে, ইসলাম ইয়াজুজ মা’জুজের হাতে মার খাবে। ইসলাম হতে জিহাদী চেতনা যখনই বিদায় নেবে, তখনই ইসলাম আক্রান্ত হবে এ দু’টি প্রপঞ্চ দ্বারা। মানুষ উদাসীন হতে হতে চরম সীমালংঘনকারী হয়ে যাবে- যা আজকের নিত্যদিনের দৃশ্য। আর দূর্ভাগ্যজনকভাবে সীমালংঘন উৎসবে যোগ দেবে মুসলমান। প্রকৃতপক্ষে ইসলাম ও অনৈসলাম এ দুয়ের পার্থক্য বিলীন হয়ে পড়বে এ দু’টি আঘাতে। স্রষ্টার অস্তিত্ব, প্রত্যাবর্তন, স্মরণ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, আনুগত্য, ভয় ইত্যাদি বিলুপ্ত হবে। ইসলাম যতটুকু বেঁচে থাকবে - ইসলাম হিসেবে নয়, একটি স্মৃতি হিসেবে। ইসলামের মৌলিকতা হারিয়ে গিয়ে অমৌলিক বিবেচনা সমূহ হবে ঘোরতর বিবেব্য বিষয়। ইসলামের প্রকৃতি প্রাকৃতিক গতিতে হারিয়ে বসবে মুসলমান, তাকে ধরে রাখতে প্রয়াসী হবে না আর। আল্লাহ পাক স্বয়ং তাতে হস্তক্ষেপ করবেন। মুসলমানদের পরিণাম যখন অতি সংকটজনক হবে, আবির্ভাব হবে ইমাম মাহদী (আঃ) এবং তারপর হজরত ঈসা (আঃ) যিনি অকাতরে শেষনবী (সাঃ) উম্মত হবার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। হজরত ঈসা (আঃ) এর আগমন ও তাঁর পরবর্তী ঘটনার ফলাফল হবে যে পৃথিবীতে ইসলাম ব্যতীত আর কোন মতবাদ থাকবে না। আল্লাহ পাকের প্রতিশ্রুতি পরিপূর্ণ হবে।
হজরত ঈসা (আঃ) পর শত বছর কিংবা আরো অনেক বছর পার হয়ে যাবে - ততদিনে মানুষ আবার পূর্ণ গোমরাহীতে ফিরে যাবে। সে সময়টি দ্রুত ধাবিত হবে মহাঘটনার দিকে - কিয়ামত বা কারিয়া। ধ্বংস হয়ে যাবে এই সুন্দর পৃথিবী। ইতিহাস শেষ হবে এখানেই। সূরা কাহ্ফ এর ৯৪ নম্বর আয়াতে ফ্যাসাদ ও ইয়াজুজ মা’জুজ সম্পর্কে প্রস্তাব এসেছে- ‘ইয়াজুজ ও মা’জুজ পৃতিবীতে চূড়ান্ত পর্যায়ের ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে চলেছে’।একদল মুশরিক মদীনায় অবস্থানরত রাবাইদের কাছে মুহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে প্রশ্ন করে- তিনি আদৌ সত্য নবী হতে পারেন কি-না। উত্তরে রাবাইগণ ৩টি প্রশ্ন করার পরামর্শ দেয় যার উত্তর একমাত্র নবীগণ ব্যতীত অপর কোন মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। তার একটি প্রশ্ন ছিল - গুহায় অবস্থানকারীদের সম্পর্কে, অপরটি ছিল একজন মহান বিশ্বজয়ী শক্তিশালী ব্যক্তি সম্পর্কে যার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে ইয়াজুজ ও ম’জুজ এ সঙ্গে এবং অপর প্রশ্নটি ছিল প্রাণ বা রূহ সম্পর্কে। প্রাণ বা রূহ সম্পর্কে যে প্রশ্নটি করা হয়েছিল তা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণ বিষয়ক তথ্য এবং তত্ত্ব। পৃথিবীর বিজ্ঞান এর চাইতে ভাল কোন উত্তর জানে না। গুহাবাসীগণের প্রশ্নটিতে মূল প্রতিপাদ্য বিষয়টি ছিল- সময় সংক্রান্ত। মহান দিগ্বীবিজয়ী সম্রাট যুলকারনাইন এর কারনাইন শব্দের অর্থ দু’টি শিং কিংবা দু’টি সময়কাল (epoch) ।সূরা কাহ্ফ-এ দু’টি প্রশ্নের জবাব এসেছে এবং দু’টি উত্তরেরই সংশ্লিষ্টতা রয়েছে একটি মৌলিক জিনিষের সঙ্গে - তা হলো সময়। যুলকারনাইনের ঐতিহাসিক সুস্পষ্টতা দূর্বোধ্য। যুলকারনাইনের কাহিনী অবতারণা করার পূর্বে হজরত মুসা (আঃ) জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তিকে অনুসরণ করে চলছিলেন এবং পথিমধ্যে অনেক দুর্বোধ্য ঘটনার সৃষ্টি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত জ্ঞানী ব্যক্তি হজরত মুসা (আঃ)-কে যে ব্যাখ্যা দান করেছেন, তা হতে একটি সত্য বেরিয়ে আসে যা হলো- আপাতদৃষ্টিতে যা যুক্তিসংগত মনে হচ্ছে না এমন ঘটনার মূলে অনেক যুক্তির দৃঢতা থাকতে পারে। এই ঘটনাগুলোর পরপরই ১৮:৮৩ আয়াত হতে যুলকারনাইনের ঘটনার সূত্রপাত হয়। যুলকারনাইনকে যদি রূপক অর্থে ধরে নেয়া হয় (আমরা প্রকৃতপক্ষে এই দিগ্ববিজয়ী বাদশাহের সম্পর্কে ঐতিহাসিকভাবে কিছুই জানি না এই জন্য যে তার কোন তথ্য নেই) যুলকারনাইনের আমাদেরকে কালের একটি ‘মডেল’ প্রদান করে এবং এই মডেলে সমকাল বা বর্তমানকালকে সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়। যুলকারনাইন ছিলেন শক্তির উদারহরণ, তাঁকে সকল উপকরণ দান করা হয়েছিল বলে কোরআন উল্লেখ করেছে। উপকরণসমূহ কী হতে পারে? তার উত্তর কোরআন দিয়েছে- “তাহাকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দিয়েছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের উপায় উপকরণ দান করিয়াছিলাম” (১৮:৮৪)। কালের মডেলটির উপযোগিতাও এই উপায় উপকরণের অন্তর্ভূক্ত হতে পারে। উভয় কালের জন্য যুলকারনাইনের ঘটনার উপযোগিতা থাকতে পারে।
যুলকারনাইনের কালের মডেলটি ছিল ৩টি বিশেষ সময়কালকে নিয়ে। “ চলিতে চলিতে সে যখন সূর্যের অস্তগমন অঞ্চলে পৌঁছিল তখন সে সূর্যকে এক পঙ্কিল জলাধারে অস্তগমন করিতে দেখিল এবং তথায় সে এক সম্প্রদায়কে দেখিতে পাইলেন। আমি বলিলাম, হে যুলকারনাইন! তুমি ইহাদিগওকে শাস্তি দিতে পার অথবা ইহাদিগের ব্যাপারে সদয় ভাব গ্রহণ করিতে পার (১৮:৮৬)। সে বলিল- যে কেউ সীমালংঘন করিবে আমি তাহাকে শাস্তি দিব, অতঃপর সে তাহার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিত হইবে এবং তিনি তাহাকে কঠিন শাস্তি দিবেন (১৮:৮৭)। তবে যে ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে তাহার জন্য প্রতিদান স্বরূপ আছে কল্যাণ এবং তাহার প্রতি ব্যবহারে আমি নম্র কথা বলিব (১৮:৮৮)। সূর্য সত্যের প্রতীক এবং জল স্বচ্ছতার প্রতীক। সাধারণত সূর্যকে যে জলাশয়ে ডুবতে দেখা যায়- সে হলো সমুদ্র। সমুদ্রের জল স্বচ্ছতার প্রতীক। সূর্যাস্তের সাধারণ দৃশ্যটি হলো সামনে স্বচ্ছ জলাধার এবং তাতে সূর্যের অস্তগমন। কোরআনে চিত্রায়িত যুলকারনাইনের অস্তগমন স্থানে পৌঁছা যদি কালের শেষে সময়ের চিত্র হয়, তবে ব্যক্ত তথ্যটি হলো যে - শেষকালে সত্য পঙ্কিল অস্বচ্ছতায় নিমজ্জিত হবে। সে সময়ের পৃথিবীবাসীগণের আদর্শিক অবস্থান হবে এমন যে তারা সীমালংঘনের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে, ফলত তারা যুলকারনাইন কর্তৃক ইহকালে শাস্তি প্রাপ্ত হবে এবং যুলকারনাইনের প্রতিপালক তাদেরকে পরকালে শাস্তি প্রদান করবেন। শুধুমাত্র বিনয় নম্র ব্যবহারের উপযুক্ত হবে তারা যার সৎকর্মপরায়ণ (ইসলামী আদর্শে প্রতিষ্ঠিত)। আমরা এমন একটি সম্ভাবনা দ্রুত এগিয়ে আসতে দেখছি। সামনে আসন্ন হজরত ঈসা (আঃ)-এর প্রত্যাবর্তন। তিনি সীমালংঘনকারীদের পৃথিবীতে শাস্তি দিবেন তাঁর প্রত্যাবর্তনের পর; এ শাস্তি পৃথিবীতেই সংঘটিত ঐশ্বরিক শাস্তি। অগ্নি, ভূমিধস, ক্ষুধা, মহামারী, ধোঁয়া ইত্যাদি সকল প্রকারের শাস্তি পৃথিবীতে তাদের জন্য যারা ইসলামকে লাঞ্ছিত করেছে। আর শেষ যুগে যারা ঈমানকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে তাদের জন্য রয়েছে প্রতিশ্রুত মহা সুখ সংবাদ। হজরত ঈসা (আঃ) এসে এমন একটি শক্তিশালী সংঘের সাথে যুদ্ধ করবেন সমস্ত পৃথিবী যাদের কাছে হবে পদানত। এই পৃথিবীতে তাদের মুখোমুখি হবার শক্তি কারো থাকবে না। ইহুদি ও খৃষ্টান অধ্যুষিত এই কুফ্ফার বাহিনীর জন্য রয়েছে পৃথিবীতে ভয়ানক শাস্তি (যা হজরত ঈসা (আঃ) এর পক্ষ হতে) এবং পরকালে তারা ইসলাম নির্মূল অভিযানে আত্মনিয়োগের জন্য পাবে প্রতিপালকের শাস্তি। আমরা জানি না যুলকারনাইনের চরিত্রটি শেষযুগে হজরত ঈসা (আঃ) এর রূপায়ন কি-না।
যুলকারনাইনের অপর যাত্রাটি পূর্বদিকে। যেহেতু সূর্যোদয়কালের সৃষ্টি ও সূর্যাস্তকালের শেষ এই রূপক উপমায় ব্যবহৃত হতে পারে সেহেতু সূর্যোদয় স্থলে কালের শুরুর চরিত্রটি আমরা ১৮:৯০ আয়াতে দেখতে পাই- “চলিতে চলিতে যখন সে সূর্যোদয় স্থলে পৌঁছিল, তখন সে দেখিল উহা এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদয় হইতেছে যাহাদিগের জন্য সূর্যতাপ হইতে কোন অন্তরাল আমি সৃষ্টি করি নাই” (১৮:৯০)। কালের শেষ অংশের বিপরীতে কালের শুরুর অংশটির বৈশিষ্ট্য কি, তা এ আয়াত ব্যাখ্যা করে। কালের শুরুর অংশে সমুদয় মানবমন্ডলী সত্যের সঙ্গে (সূর্য) এর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নিয়ে বিদ্যমান ছিল-এই সিদ্ধান্তে আমরা পৌঁছতে পারি। এই আয়াতের বৈশিষ্ট্য হলো যে যুলকারনাইনের এখানে কোন প্রত্যক্ষ ভুমিকা নেই- তিনি সুর্যোদয় অঞ্চলের জন্য একজন আগন্তুক বা দর্শক মাত্র- কোন প্রকার ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা নেই।
যুলকারনাইনের তৃতীয় যাত্রাটি একটি চিন্তাউদ্রেককারী ঘটনা। “চলিতে চলিতে সে যখন দুই পর্বত প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছিল, তথায় সে এক সম্প্রদায়কে পাইল যাহারা তাহার কথা একেবারেই বুঝিতে পারিতেছিল না” (১৮:৯৩) । উদয় অস্তাচলের বর্ণনার প্রেক্ষেতি কোথাও ভূমি সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়নি। দুই পর্বত প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থান দুই যুগের দুইটি সীমারেখা দ্বারা নির্ণীত! এই মধ্যবর্তী স্থানে একটি ঘটনা ঘটছে যা হলো- ইয়াজুজ ও মা’জুজ নামক দু’টি সম্প্রদায় ফ্যাসাদের জন্ম দিচ্ছে (১৮:৯৪)। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত একটি পদ্ধতি বা টেকনোলজি যা লোহা-তামা গলানোর আনুপাতিক (১৮:৯৬) সে সময় শ্রম একটি বিশেষ ভূমিকা রাখে - এ বিষয়ে আমরা সুস্পষ্ট ধারণা পাই। আমরা যদি সহজ ও সাধারণ দৃষ্টি প্রসারিত করি তবে সময়ের এ পর্যায়কে সম্ভবত ‘শিল্পের প্রকাশ প্রসার বিন্দু” বলে চিহ্নিত করতে পারি। অন্যভাবে বলা যায়- মানুষ যখন সংঘবদ্ধ শ্রমকে ইতিহাসে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে শিখেছে, সে সময়টিই হলো ইয়াজুজ ও মা’জুজ এর ফ্যাসাদ সৃষ্টিকাল, যার বিশ্বজোড়া তাৎপর্য থাকবে। চূড়ান্ততার সময়টি শিল্প বিপ্লব বিন্দু হিসেবেও হয়তো ভাবা যেতে পারে।
অন্যদিকে দুই পাহাড়ের প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থানিক মান পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব ও প্রভাবের দুঢতার সমানুপাতিক করা যায়। আর শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ দ্বারা প্রতিরক্ষার বিষয়টি তাদের সাথে সম্পর্কের বিচ্ছিন্নতার আনুপাতিক হতে পারে। যেখানে বাঁধটি হতে পারে কোরআন হাদীছের শক্তিশালী আইন ও নৈতিকতার দেয়ালের সমানুপাতিক। এটি হতে পারে সর্বকালীন দৃষ্টিভঙ্গি।
আমরা ‘ফ্যাসাদ’-এর কোরআন হতে ব্যাখ্যা নিতে চাই। সাধারণভাবে ফ্যাসাদের অর্থ হলো Corruption, False report, Mischief ইত্যাদি। কোরআন তার ভাব বলয়ে ফ্যাসাদের ব্যাখ্যা ভিন্নরূপে দেয় যার অর্থ দাঁড়ায় - যে কাজ শুধু আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণই করে না, কার্যত যা আল্লাহর অস্তিত্বকে মুছে দেবার লক্ষ্যে এগিয়ে যায় তার নাম ফ্যাসাদ। ফিরাউন যখন হজরত মুসাকে (আঃ) সমূলে ধ্বংস করার জন্য নীলনদে তৈরী হওয়া অলৌকিক রাস্তায় পিছু নিয়েছিলো, ঠিক তখনই দু’দিক হতে বিপুল পানি এসে ফিরাউন ও তার দলবলকে গ্রাস করে। ঐ সময় তার চোখের সম্মুখে সত্য উদ্ভাসিত হয়। সে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করার পূর্বে বাস্তবতা উপলব্ধি করে যে- “আমি বিশ্বাস করিলাম বনি ইসরাঈল যাঁহাতে বিশ্বাস করে। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই এবং আমি আত্মসমর্পনকারী মুসলমানের অন্তর্ভূক্ত হইলাম। (১০:৯০)। এর প্রত্যুত্তরে আল্লাহপাক কোরআনে জগৎবাসীকে ফ্যাসাদের সংজ্ঞা জানিয়ে দেন। “ইতোপূর্বে তুমি ছিলে সীমালংঘনকারী এবং ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভূক্ত” (১০:৯১)। ইতোপূর্বে ফেরাউন যে কাজ করেছিলো তা ছিল - আল্লাহর অস্তিত্বের প্রচারকারীকে সমূলে বিলুপ্ত করার জন্য নিজের সর্বময় শক্তি প্রয়োগ ও নিজে সশরীরে অংশগ্রগণ এবং তার মাত্রাটি ছিল এমন পর্যাযের যে মৃত্যু ঝুঁকি ভুলে গিয়েও যাবতীয় শক্তি দিয়ে আল্লাহর অস্তিত্বের দাবিকে পৃথিবী হতে মুছে ফেলার আগ্রহ ও বাস্তবিক অংশগ্রহণ। তাই হলো ফ্যাসাদ। “নিশ্চয় ইয়াজুজ ও মা’জুজ দেশে (বা পৃথিবীতে) ফ্যাসাদ সৃষ্টি করিতেছে।” (১৮:৯৪)। এর অপর অর্থ হতে পারে- ইয়াজুজ ও মা’জুজ পৃথিবীতে আল্লাহর অস্তিত্বকে বিলুপ্ত করে দেবার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের যাবতীয় কাজই হলো ফ্যাসাদ। ফলত ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী ইয়াজুজ-মা’জুজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে আর দুটি ঘটনার; একটি হলো সংঘটিত শ্রমের বিবেচনা ও অন্যটি হলো ধাতু শিল্পের বৈপ্লবিক ব্যবহার। এ ক্ষেত্রে বোঝার সুবিধার জন্য যদি আমরা শিল্প বিপ্লবকে সেই ক্ষণকাল হিসেবে স্থির করি তবে বিস্ময়করভাবে দেখতে পাই যে একটি “খেজা সম্প্রদায়” ককেসাস পার্বত্য অঞ্চলে শিল্প বিপ্লবের কিছুকাল পূর্বে সহসা ইহুদী ধর্ম গ্রহণ করে। একই অঞ্চল হতে এবং একই গোত্র হতে আর একটি দল খৃষ্টান হয়ে যায়। এরপর এই দুই গোত্রের লোকজন তদানীন্তন ইউরোপের প্রায় সর্বত্র ধর্মীয় প্রেষণায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সর্বশেষে শিল্প বিপ্লব বলতে যা বোঝায় তা উক্ত খেজা সম্পদায়ের ইহুদী দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়। ইহুদীদের নিকটবর্তী অপর দলটি ছিল এই ‘খেজা’ সম্প্রদায় হতে উৎসারিত খৃষ্টান। শিল্পের প্রভাব ও মালিকানায় সেই খেজা সম্প্রদায়ের ইহুদী প্রাধান্য (Dominance) সেই শুরুর কাল হতে বিদ্যমান ছিলো। এবং সে হতেই ইহুদী জাতি শিল্প ও বাণিজ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করে নেয়। ধন্যবাদ ডঃ ইমরান নূর হোসেন - প্রাপ্তিটির জন্য। এই খেজা বংশোদ্ভূত ককেশিয় ইহুদি এবং খৃষ্টানরা বনি ইসরাঈলের সাথে কিভাবে সম্পর্কিত?তারা কেউই আদি ইহুদি / খৃষ্টান নয় যাদের মূল ছিল বনি ইসরাঈল সম্প্রদায়ে। তারা বনি ইসরাঈলের সাথে কোনভাবেই সম্পর্কিত নয়। কিন্তু পরিণামে ইতিহাসে তারা বনি ইসরাঈলের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বনি ইসরাঈলরা কেউই পৃথিবীতে সম্পদের পাহাড় সৃষ্টি করেনি। সম্পদ ও বাণিজ্যের অসীম ক্ষমতা ধরা দিয়েছে শিল্প বিপ্লবে যাদের নের্তৃত্বে সেই খেজা সম্প্রদায়ভূক্ত ইহুদি ও খৃষ্টানদের হাতে। ইহুদী ও খৃষ্টানে ধর্মান্তরিত একটি গোত্র পরিণামে দু’টি পৃথক গোত্রে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গিয়েও কার্যত সেই বনি ইসরাঈলদের পৃথিবীতে ইসরাঈল সাম্রাজ্য গড়ে দেয়ার বিষয়ে শুধু সহযোগিতাই করছে না- তারা পবিত্রভূমি বাইতুল মুকাদ্দাসে অবস্থিত ইসলামের গৌরব ও দ্বিতীয় কিবলা মসজিদুল আকসাতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তার ধ্বংস সাধনের দৃঢ় প্রত্যয় প্রমাণ করেছে একদিকে; অন্যদিকে বনি ইসরাঈল, যাদেরকে আল্লাহপাক পবিত্রভূমি হতে বহিষ্কৃত ঘোষণা করেছেন, তাদেরকে সেই ভূমিতে নকল তৌরাতের (Old Testament) কুফরী নির্দেশ প্রতিষ্ঠা দেয়ার সকল আয়োজন প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে সফলভাবে। তাদের এই কাজটি খোদায়ী আইনের বিলুপ্তি ঘটানোর সহস্র চিহ্ণের একটি। অতএব আমরা সিদ্ধান্ত পেতে পারি যে শিল্প বিপ্লবের প্রধান দুটি ধারা খেজায়ী ইহুদী ও খেজায়ী খৃষ্টান সম্ভবত ইয়াজুজ মা’জুজের ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করেছে। বলাবাহুল্য তারাই কার্যত ইউরোপ এবং বিশেষভাবে যুক্তরাজ্য ও আমেরিকার অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে শীর্ষে বিখ্যাত জায়নবাদী ইহুদী ও জায়নবাদী খৃষ্টান হিসেবে চিহ্ণিত। কোরআনের কোন কোন অনুবাদে/তাফসীরে ইয়াজুজ-মা’জুজকে অতিপ্রাকৃতিক জীব হিসেবে রূপ দেয়া হয়েছে। সহীহ মুসলিম শরীফের হাদীছ অনুসারে ইয়াজুজ হলো বনি আদমেরই একদল উম্মত এবং মা’জুজ হলো বনি আদমেরই একদল উম্মত। ইয়াজুজ ও মা’জুজ আমাদের মতোই রক্তমাংশের মানুষ। অর্থাৎ তারা মানুষ।
ডঃ ইমরান নযর হোসেনের (Imran Nazar Hosein) সাড়াজাগানো গবেষণা হতে জানা যায় যে ‘ক্বারিয়াত” বিষয়ক হাদীছের প্রতি যদি দৃষ্টিপাত করা হয়, তবে শেষকাল, ইয়াজুজ-মা’জুজ ইত্যাদির সাথে সংশ্লিষ্ট মোট ৫৮টি হাদীছের বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য বিখ্যাত হাদীছ গ্রন্থে চিহ্ণিত করা যায়। সমস্ত হাদীছ সমূহেই ক্বারিয়াত দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছে জেরুজালেম শহরকে। কিন্তু কোরআন ক্বারিয়াতকে নির্দেশ করেছেন বৈশিষ্ট্যের দ্বারা- “ওয়ামালাকুম লা-তুক্বাতিলুনা ফী সাবিলিল্লাহি ওয়াল মুসতাদ’আফিনা মীনার রিজালী ওন্নেসায়ি ওয়াল বিলদানীল্লাযিনা ইয়াক্বেলনা রাব্বানা মীন হাযিহিল ক্বারইয়াতিয যালিমী আহ্লুহা" (৪:৭৫) অর্থাৎ যেখানে জেহাদ তোমাদের পৃথিবী জীবনের পরিচিতির অংশ, সেখানে তোমাদের কি হয়েছে যে তোমরা সে অভিযানে নিজেকে সম্পৃক্ত করবে না যখন একটি ক্বারিয়াত হতে বুকফাটা চিৎকার দিয়ে প্রার্থনা করছে একদল পুরুষ, নারী ও মানুষের শিশু আর বলছে হে আমাদের প্রভু আমাদেরকে এই যালিম-অত্যাচারের ক্বারিয়াত হতে মুক্ত করে দাও।

পৃথিবীর ইতিহাসে এমন উদাহরণ কেবল একটি। একটি ক্বারিয়াত বা শহরের নাম সমস্ত পৃথিবীর মানুষ জানে যেখান এত দীর্ঘসূত্রী তীব্র অত্যাচার ইতিহাসের কোনকালে ইতোপূর্বে ঘটেনি। সেখান পুরুষ ও যুবকরা শক্তিময় হয়েও নিরুপায়, নারীরা তীব্রতম অত্যাচারের ও পাশবিকতার শিকার আর অকাতরে ছেলেমেয়েদের জীবন ধূলির মূল্যে উড়ে যাচ্ছে। এই শহরের অত্যাচারের একদিকে তুলনা নেই ইতিহাসে; অন্য দিকে এই অত্যাচার ও চোখ ধাঁধানো অন্যায়ের বিরুদ্ধে নেই কোন বিচারের সম্ভাবনা কিংবা বিশ্ব বিবেকে প্রতিবাদ। এই ক্বারিয়াতকে আমরা চিহ্ণিত করতে পারি -যে জেরুজালেম তথা প্যালেষ্টাইন। বনি ইসরাঈল সারা পৃথিবীতে বিক্ষিপ্ত হয়ে ২ হাজার বছর অভিশপ্ত জীবন কাটিয়েছে। জাতি হিসেবে তারা শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার ছিল এক সময়। সেই শ্রেষ্ঠত্ব ও উন্নত অবস্থান হতে বনি ইসরাঈল পরিচয়হীন জীবন কাটিয়েছে এবং পৃথিবীতে অত্যাচার ও অবিচারের শিকার হয়েছে। তারপর অবলীলাক্রমে তারা জেরুজালেমকেন্দ্রীক জাতিগত সত্তা সৃষ্টি করেছে এবং তার প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনসাধারণ ও অধিবাসীগণকে (মুসলমান) তারা ইতিহাসের সবচাইতে জগন্যতম পদ্ধতিতে নিপীড়ন করে চলেছে। ইতিহাসের সবচাইতে বড় চিহ্ণিত নিপীড়ন হিটলার ইহুদীদের ওপর করেছিলো তাদের জার্মান জাতিসত্তার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার কারণে। তারা জার্মানিতে বসে জার্মানি হতেই ষড়যন্ত্র করেছিলো ইংরেজদের পক্ষে এবং জার্মানির বিপক্ষে। হিটলার তাদেরকে বর্বরতম পদ্ধতিতে হত্যা করে। এই নাৎসী বর্বরতা হতে সম্যক অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা লাভ করা হলেও এই ইহুদি জাতি সেই ক্বারিয়াত বা শহর অর্থাৎ জেরুজালেমে একত্রিত হবার সুঝোগ পায়- তখন তারা নাৎসী অত্যাচারকে হার মানায় এমনি পদ্ধতিতে তারা প্যালেষ্টাইনে অত্যাচার আরম্ভ করে। এই অত্যাচার পৃথিবীর অন্যান্য স্থানকালের অত্যাচার হতে বৈশিষ্ট্যে আলাদা। ইসরাঈলের বিরুদ্ধে ন্যায়-অন্যায় বোধ নেই, থাকতে নেই কিংবা প্রয়োজন নেই- পৃথিবীর সমস্ত বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে এ যেন এক গ্রহণযোগ্য বিষয়। ইতিহাসে ইতোপূর্বে এই প্রকৃতির অত্যাচার কখনো মানবজাতি প্রত্যক্ষ করনি। অত্যাচারের গতিমাত্রা ও অনন্যতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করার জন্যই এই অত্যাচারের প্রকৃতি দ্বারা কোরআন এই ক্বারিয়াত বা জনপদকে চিহ্ণিত করেছে- তা সন্দেহাতীতভাবে প্যালেষ্টাইন। কোরআন এই জেরুজালেমকেন্দ্রীক প্যালেস্টাইকেই আবার শেষকালে ইয়াজুজ-মা’জুজের সনাক্তকরণ মানদন্ড হিসেবে জগদ্বাসীর কাছে পরিচয় করে দিয়েছে। বলা দরকার যে ইয়াজুজ-মা’জুজ সম্পর্কে ইবনে খালদুন হতে প্রাপ্ত শিক্ষায় জ্ঞানী সম্প্রদায়ের সুবিশাল অংশ একে একটি হজরত ইসা (আঃ) পরবর্তী ঘটনা মনে করেন। মূলত এমন কতিপয় হাদীছ আছে যে, সব হাদীছসমূহকে ভুল বোঝা হয়েছে এই কারণে যে এখন থেকে মাত্র ১০ কিংবা ৫ বছর পূর্বেও ঐসব হাদীছের আবেদন সুষ্পষ্ট ছিল না। কারণ হিসেবে ঘটনার সাদৃশ্যহীনতা এবং আকস্মিক বৈচিত্র্য এবং যুক্তিযুক্ততা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্তের অভাব। বর্তমানে বিবিধ ঘটনাসমূহ ঘটার কারণেই কেবল ঐ হাদীছগুলোর নিখুঁত সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়েছে। হাদীছ সমূহ মূলত দাজ্জাল, ইয়াজুজ-মা’জুজ ও শেষকালে খৃষ্টান-ইহুদি আক্রমন ও মুসলমানদের নির্ঘাত পরাজয় সক্রান্ত।
কিন্তু কোরআন যে পদ্ধতি অবলম্বন করে তাতে কোনপ্রকার সহায়ক ছাড়াই সময়ের চরিত্র এবং শেষকালের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পরিষ্কার জ্ঞান পাওয়া সম্ভব এবং এ যুগে মুসলমানের কী কর্তব্য সে বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়। এ যুগে শেষকালের বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান হওয়া একটি অতীব জরুরী বিষয় এই জন্য যে তা কর্তব্য ও কর্মপদ্ধতিকে নির্বাচন করতে সাহায্য করে।
ইতোপূর্বে আমরা ফিইফা সম্পর্কে অবগত হয়েছি যে আল্লাহপাক বনি ইসরাঈলের বংশধরদের শেষ শাস্তির জন্য অভিশপ্ত ভূমি ফি-ই-ফা তে সকলকে একত্রিত করবেন। যখন বনি ইসরাঈল ফি-ইফাতে একত্রিত হয়ে যাবে- পৃথিবীতে আর কখনো ‘আরদুল মুকাদ্দাস’ অবশিষ্ট থাকবে না। কারণ পূর্বে যাকে আরদুল মুকাদ্দাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিলো ভালো সম্প্রদায়ের জন্য, তাকে এখন দুষ্ট প্রকৃতির বনি ইসরাঈলের জন্য ফিইফা-তে রূপান্তরিত করা হয়েছে। সুতরাং বনি ইসরাঈলের একত্রিত হওয়ার ঘটনাটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যার একটি হলো- তাদের একত্রিত হওয়ার দৃশ্যটি তাদেরই ধ্বংস হবার একটি বলিষ্ট প্রত্যয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর তারা প্যালেষ্টাইনে একত্রিত হয়েছে এবং এই ভূমিতে এক বিশেষ পদ্ধতিতে অত্যাচারের গিরিমালা তৈরি করেছে পৃথিবীর ইতিহাসে যার দ্বিতীয় নজির নেই। বৈশিষ্ট্যে ও উপাদানে এই অত্যাচার প্রক্রিয়াটি এমন যে তাদের অনন্য অমানবিক অত্যাচারের চক্রটিক ধারণ করে রেখেছে একটি শক্তি যা পৃথিবীর মানবতা, কল্যাণ, শান্তি ও ন্যায় বিচারের শিক্ষা দেয় এবং সমস্ত বিশ্বের পুলিশ হিসেবে কাজ করে। অন্যান্য জাতি কোন অন্যায় কিংবা সীমালংঘন করলে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি প্রয়োগ দ্বারা সে দেশটি তথাকথিত শান্তি ও ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু সে জাতিটি বনি ইসরাঈল তথা ইসরাঈল রাষ্ট্রের সীমালংঘনকে নির্লজ্জভাবে সাহায্য করে। ইরাককে আক্রমন করার সর্ববৃহৎ কারণসমূহের একটি ছিলো ১৪টি ইউএন রেজুলেশন ভঙ্গ করা। একই সময় ইসরাঈল ৯৬টি ইউএন রেজুলেশন অমান্য করেছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে পৃথিবীর একটি শব্দও উচ্চারিত হয়নি। ফিইফা-তে আগত ও জমায়েত হওয়া জাতিটি সমস্ত আরব ইতিহাসের সবচাইতে জগন্য পদ্ধতির হত্যা, পাশবিক অত্যাচার, লুন্ঠন, জবরদখল, আবাসিক অঞ্চলসমূহ জীবন্ত মানুষ সমবেত ডেমোলিশন ইত্যাদি জাতীয় অন্যায় করেও সামান্য সমালোচনার সামনে আসছে না। এই নিশ্চিত নিরাপত্তা ও হত্যা এবং ধ্বংসের লাইসেন্স যদিও আপাত দৃষ্টিতে একটি নিরাপদ পদ্ধতিতে এগিয়ে যাচ্ছে তথাপিও সৃষ্টির নিয়ম অনুযায়ী আর একটি নিশ্চিত সমাপ্তি রয়েছে এবং তার নিশ্চিত প্রতিফলনও রয়েছে। যেহেতু অত্যাচারের মাত্রাটি অতিশয় বর্বর, সেহেতু তাদের ভাগ্যও আশা করা যায় একটি পরিণতি যা হবে অতি নির্মম এবং ইতিহাসে উপমা হবার যোগ্য। আমরা বনি ইসরাঈলের একত্রিত হবার দৃশ্য দেখেছি, অস্বাভাবিক অত্যাচারের ঘটনাটি দেখছি এবং এই অস্বাভাবিকতা হতেই প্রতিক্রিয়াটি এখন কিংবা পরবর্তীতে আশা করা যায় তাদের জন্য অকল্যাণের আকাশ উন্মূক্ত করে ধরবে।
দ্বিতীয় তথ্যটি হলো একটি সমীকরণের মত। এই সমীকরণটি সময়কে বুঝতে সাহায্য করে, চিহ্ণিত করে দুটি জাতি সত্তাকে যারা এই পৃথিবীতে ফ্যাসাদ আবাদ করে বেড়ায়। এই সমীকরণটি চিহ্ণিত করে প্রকৃতই ইয়াজুজ-মা’জুজ নামক জাতি দুটিকে - “হারামুন ‘আলা ক্বারইয়াতিন আহলাক্বনাহা আন্নাহুম লা ইয়ারজিয়ো’ন (২১:৯৫) হাত্তা ইয়া ফুতিহাত ইয়াজুজ ওয়া মা’জুজ ওয়াহুম মীন কুল্লি হাদাবিন ইয়ানসিলূন” (২১:৯৬) অর্থাৎ ঐ ক্বারিয়াত (যার কেন্দ্রীয় ভূমি জেরুজালেম) হারাম করা হয়েছে তাদের জন্য যারা এখানে বসবাস করতো, আর তারা সেথায় প্রত্যাবর্তন করার সুযোগ পাবে না (২১:৯৫); ততদিন পর্যন্ত যতদিন না ইয়াজুজ-মা’জুজ নামক দুটি সম্প্রদায় তাদেরকে ঐ ক্বারিয়াতে আবার পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করবে; আর ইয়াজুজ-মা’জুজ এই সম্প্রদায়সমূহ পৃথিবীর সকল শীর্ষ অবস্থানে অধিষ্ঠিত রয়েছে যার কারণেই স্রষ্টার নিয়মের লংঘন ঘটিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে কেনান বা প্যালেষ্টাইনে প্রতিষ্ঠা দেবে তারা।
এই আয়াত সমূহের সমীকরণ সৃষ্টি করা হলে তা এই দাঁড়ায় জেরুজালেমই একমাত্র শহর যার অধিবাসীগণকে আল্লাহপাক ধ্বংস করেছেন এবং দুই বার তাদেরকে ঐ পূণ্যভূমি হতে বহিষ্কার করেছেন যার দ্বিতীয় নজির ইতিহাসে নেই। খৃষ্টপূর্ব ৫৮৭ বেবিলনীয়ান সেনাবাহিনী বুখতে নসর (Nebuchadnezzar) ইহুদীদের পদানত করে, তাদের মসজিদ ধ্বংস করে (এই মসজিদুল আকসা তাদেরও মসজিদ ছিল, সিনাগগ নয়) ও জেরুজালেম বিধ্বস্ত করে ইহুদীদের দাসে পরিণত করে। পারশিয়ানরা পরে বিজেতা হিসেবে আসে এবং তাদেরকে পুনর্গঠনে সাহায্য করে। খৃষ্টপূর্ব ৭০ অব্দে আবার তারা রোমান সেনাবাহিনী হাতে বিপর্যস্ত হয় (Titus); তারা ইহুদীদের আবার দাসে পরিণত করে কতিপয়কে এবং বিতাড়িত করে অন্যদের, তাদের উপাসনালয় ভেঙ্গে দেয় এবং সারা দুনিয়ায় তারা ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়। পৃথিবীর ২০০০ বছরের পূর্ব ইতিহাসে একমাত্র ইহুদী জাতির ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে যে তারা তাদের মাতৃভূমি হতে বিতাড়িত হবার পর সেখানে আর প্রত্যাবর্তন করতে সক্ষম হয়নি। জেরুজালেম নগর যেন তাদেরকে বহিষ্কার করেছে এবং দ্বার রুদ্ধ করে দিয়েছে। আমরা এখন দেখছি সেই বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়া ইহুদীরা আবার সমবেত হয়েছে একটি অখন্ড রাষ্ট্রীয় সত্তার একটি ভূমি খণ্ডে (প্যালেষ্টাইন) একটি সুনির্দিষ্ট ইতিহাস সৃষ্টিকারী ব্যবহার পদ্ধতিতে (গণ-অত্যাচার যার তুলনা নেই)। সুতরাং সমীকরণ করা হলে তা দাঁড়ায়-
বনি ইসরাঈল একত্রিকরণ ∞ ইয়াজুজ-মা’জুজের দুনিয়া জোড়া নিয়ন্ত্রণ।
অর্থাৎ ইয়াজুজ-মা’জুজ = দুনিয়ার শীর্ষতম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে যারা (রাষ্ট্র, জাতি, সম্প্রদায়, ব্যক্তি)
প্রচলিত তফসীরসমূহের কতকে ইয়াজুজ-মা’জুজ সম্পর্কে এমনও ধারণা দেয়া হয়েছে যে উঁচু উঁচু পাহাড় হতে লাফিয়ে লাফিয়ে নেমে আসবে একটি বিশেষ জীব যার লক্ষ্যবস্তু হবে মুসলমান। তারা এসে একসঙ্গে পৃথিবীর সমস্ত পানি চুষে খেয়ে ফেলবে। কোরআন এমন সব ব্যাখ্যায় কোন দায়িত্ব বহন করে না।
ইয়াজুজ-মা’জুজ সম্পর্কে সহীহ মুসলিমে পরিষ্কার ধারণা দেয়া হয়েছে যে- ইয়াজুজ-মা’জুজ বনি আদম বৈ কিছুই নয়। মূলত এরা কোন জীব নয়- ওরা মানুষেরই সম্প্রদায় একটি বিশেষ জাতি - বিশেষ প্রক্রিয়ায় সুচিহ্ণিত। আমরা ইয়াজুজ-মা’জুজ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত আলোচনা করবো। এ পর্যায়ে শুধু একটি বিষয়ে আমরা পরিষ্কার হতে চাই যে কোরআনে উল্লিখিত আয়াত দু’টিতে আমাদেরকে একটি সুষ্পষ্ট তথ্য দেয় সময়ের বিষয়ে- এই সময়টির মাপকাঠি হলো ‘ক্বারিয়াত-এ’ বনি ইসরাঈলের একত্রিত হওয়ার সময়টি। সেই সময়ে পৃথিবীর বুকে একটি উপসর্গ প্রাধান্যসহ কাজ করবে। এই উপসর্গটির নাম হলো ইয়াজুজ-মা’জুজ। অর্থাৎ যখন ২০০০ বছর পর ইহুদীরা একটি রাষ্ট্রের পত্তন করেছে- সে সময়টিতে পৃথিবী ইয়াজুজ-মা’জুজের নিয়ন্ত্রেণে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।
অর্থাৎ নভেম্বর ১৯৪৭ সনের পর হতে (Balfour Declaration) পৃথিবী ক্রমাগতই ইয়াজুজ-মা’জুজের নিয়ন্ত্রণের জালে আবদ্ধ হয়ে যায়। যারা ইহুদী জাতি সত্তাকে প্যালেষ্টাইনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করিয়েছে তারা হলো ইংরেজ জাতি (যার মূলে ইউরোপিয়ান ইহুদী) এবং যারা এই জাতির অস্তিত্বকে ক্রমাগত শক্তিশালী করে তুলেছে তারা হলো আমেরিকা। অতএব গ্রেট ব্রিটেন ও আমেরিকার সাথে সংশ্লিষ্ট জাতিসত্তাই হবে কোরআনের উপসর্গ অনুযায়ী ইয়াজুজ-মা’জুজ। যেহেতু (২১:৯৬) আয়াতে ইয়াজুজ-মা’জুজের শক্তির প্রবাহ পৃথিবীর সমস্ত শীর্ষস্থানসমূহ হতে প্রবাহিত হবার প্রস্তাব এসেছে। হাত্তা ইয়া ফুতিহাত ইয়াজুজ ওয়া মা’জুজ ওয়াহুম মীন কুল্লি হাদাবিন ইয়ানসিলূন” (২১:৯৬) তখন ইয়াজুজ-মা’জুজ যুগের সূচনা ঘটবে এবং তারা শক্তির প্রবাহ পাত ঘটাবে পৃথিবীর ক্ষমতা শীর্ষ বিন্দুসমূহ হতে। আর এ শর্তটি পূরণ করবে বনি ইসরাঈলের সেই ক্বারিয়াত-এ প্রত্যাবর্তনের কিংবা প্রতিষ্ঠিত করা দ্বারা। আর মুসলমানদের ভূমিকা হবে- স্বয়ং আল্লাহপাক ক্বারিয়াতের অত্যাচার প্রতিহত করার জন্য মুসলমানদের ৪:৭৫ আয়াতে সুস্পষ্ট সনাক্তকরণ নিদর্শন/নির্দেশনা? দিয়ে দেয়া সত্ত্বেও দুনিয়ার মুসলমান জাতি এই অত্যাচারের প্রশ্নে থাকবে অনভিপেক্ষ ও নীরব। [ তার সাথে জায়নবাদীরা পৃথিবীর শীর্ষ শক্তি বিন্দুগুলো নিয়ন্ত্রণ করে, সেই শক্তি প্রয়োগ দ্বারা অন্যায়ভাবে ইসরাঈলকে প্রতিষ্ঠিত করবে এমন একটি সময় যখন সেই ‘আরদুল মুকাদ্দাস’ পরিণত হয়েছে নরক অগ্নি বা ফি ই ফা-তে। এ সময়ের অপর বৈশিষ্ট্য হলো যে- পৃথিবী শান্তি হারিয়েছে। কারণ পবিত্র ভূমি এখন ফি-ই-ফা। আর এই পবিত্র ভূমি সকলকালে পৃথিবীর শান্তির মানদণ্ড- তাতে শান্তি থাকলে, বিশ্বে থাকবে শান্তি, তাতে অশান্তি বিরাজ করলে বিশ্ব ডুবে যাবে অশান্তিতে। আল্লাহপাক যাকে পবিত্র ভূমি ঘোষণা করেছেন- সহস্র সহস্র নবীকুলের পদধূলিতে ধন্য, সে ভূমিই ইসলামের সূতিকাগার। আজ সে ঐতিহ্যের মাটিতে জ্বলছে আগুন - এখন সে ফি-ই-ফা ] বলা বাহুল্য যে বৃটিশ সাম্রাজ্যের সর্বময় শক্তি দ্বারা ইসরাইলকে প্রতিষ্ঠা দান করার পর আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এখন প্রবল শক্তি প্রয়োগের দ্বারা কেবল ইসরাঈলের প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে জায়নবাদীদের ইচ্ছায় পূজা করে যাচ্ছে। ২১:৯৫ আয়াতের সঙ্গে ২১:৯৬ আয়াত অতিশয় সুদৃঢ়ভাবে সম্পর্কিত। মূলত আয়াত ৯৬ পূর্ববর্তী ৯৫ নম্বর আয়াতেরই ক্রমবিকাশ বা ফলোআপ। সাধারণ যুক্তিযুক্ত কারণেই অনুমেয় যে বনি ইসরাঈলদের ক্বারিয়াত নিষিদ্ধকরণ (২১:৯৫) ও পরে তা বনি ইসরাঈলদের প্রত্যাবর্তনের জন্য উন্মুক্ত হওয়া (২১:৯৬) - এ দুটি ঘটনার সাথে কোন অতিপ্রাকৃতিক জীবের উচ্চ পাহাড় হতে লাফালাফির প্রয়োজন নেই। আমরা যা দেখেছি- ক্বারিয়াত ২০০০ বছর বনি ইসরাঈলদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল এবং সে ক্বারিয়াতে আবার তাদের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। কোরআন যা বলেছে তা হলো- এ ক্বারিয়াতে প্রত্যাবর্তনকে যারা সম্ভব করে তুলবে তারা হলো ইয়াজুজ-মা’জুজ। (জায়নবাদী ইহুদী ও জায়নবাদী খৃষ্টান)।
তাদের প্রকৃতি সম্বন্ধে যা বলেছিলাম, তা হবে - তারা উচ্চতর অবস্থানে অধিষ্টিত থাকবে। “ওয়াহুম মীনকুল্লী হাদাবিই ইয়ানসিলূন” - এবং তারা সমস্ত উচ্চতর অবস্থান হতে উৎসারিত হবে। কী উৎসারিত হবে? ইয়াজুজ-মা’জুজের ‘ফুতিহাত’ কিংবা ইয়াজুজ-মা’জুজের প্রকাশ ও প্রভাব। পৃথিবীতে এই দৃশ্যটি এখন খুব সুস্পষ্ট। যারা বনি ইসরাঈলকে একত্র করেছে, সাহায্য করেছে, প্রতিরক্ষা প্রদান করেছে, তাদের প্রভাব সমস্ত উচ্চতর অবস্থান হতে উৎসারিত হচ্ছে- এ বিষয়টি বর্তমানে আমেরিকা ও গ্রেট ব্রিটেনের দিকে তাকালে আয়নার প্রতিফলনের মত দেখা যায়। অতএব উঁচু পাহাড় হতে লাফিয়ে লাফিয়ে নেমে আসা ইয়াজুজ-মা’জুজের দৃশ্য একটি কাল্পনিক চিত্র মাত্র। এর দায় কোরআন বহন করে না। পক্ষান্তরে পৃথিবীতে অর্থনৈতিক প্রভুত্বে, ক্ষমতায়, বিজ্ঞানে, প্রযুক্তিতে, নিয়ন্ত্রণে ইত্যাদির সর্বত্র শীর্ষ বিন্দুগুলোকে তারাই নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে যারা ইসরাঈলের ত্রাণকর্তা। তারাই ইয়াজুজ-মা’জুজ। একের সহযোগী অন্যজন।
হাদীছ বলেছে- তাদের সাথে থাকবে সাহায্যকারী- ‘আহলে ইয়াজুজ-মা’জুজ’। দুনিয়ার অপরাপর জাতিদের সমাবেশ। “কোয়ালিশন অব্ উইলিং” এবং “কোয়ালিশন ফোর্স”। এইসব ইসলাম বিধ্বংসী নেশামত্ত কোয়ালিশন সমূহের হাতকে বলিষ্ঠ করে যারা, তাদের সুবিশাল অংশ মুসলমান। সুনিশ্চিত আহলে ইয়াজুজ-মা’জুজের পরিবারভূক্ত আল্লাহ বিদ্রোহী ও নবী (সাঃ)-এর সম্পর্কে বিচ্ছিন্নকারী ধর্মে মুসলিম নামীয় প্রকাশ্যে শয়তান অনুসারী কুফ্ফার- "কাইফা ইয়াহদিল্লাহু ক্বাওমান কাফারু বা’দা ঈমানিহিম” - এ জাতি (মুসলমান) নিয়ে আল্লাহপাকের এই তো সুস্পষ্ট অভিযোগ! “উলাইকা জাজা’উহুম আন্না আলাইহিম লা নাতাল্লাহি, ওয়াল মালাইকাতি, ওয়ান্নাসি আজমাঈন- (৩:৮৭)। এরা তো এমন মুসলমান যাদের প্রতি অবধারিত আল্লাহর লা’নত, ফেরেশতাদের লা’নত এবং লা’নত মানবজাতির।
উপরের আলোচনা থেকে এটা পরিস্কার হয়েছে যে,কিভাবে একটি অভিশপ্ত নিপীড়িত জাতি থেকে ইহুদী সম্প্রদায় নিপীড়কের জাতির নেতৃÐত্বে পৌঁছেছে । কিন্তু এ নিপীড়কের বিশ্ব নেতৃত্বের ভূমিকায় তারা চিরদিন থাকবে না। সাম্প্রতি মাকিÐন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার বলেছেন-এটি বলতে দ্বিধা নেই যে, ১০ বছর পর ইসরাঈল নামে কোন রাষ্ট্র থাকবে না। তার সাথে সুর মিলিয়ে বলতে চায় পৃথিবীতে ইহুদী জাতির অব্যাহত মানবতা ধ্বংস মূলক কাজের মাধ্যমে তারা প্রায় ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে এসে পৌছেছে।তাই শান্তির পৃথিবী বিনিÐমানে ইহুদীবাদের বিরুদ্ধে মানবতাবাদী পৃথিবীবাসীর জেগে উঠার এখনই সময় ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29825681 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29825681 2013-04-30 11:13:10
৬ ই এপ্রিল কে ইসলাম-ঈমান রক্ষা দিবস হিসাবে পালন করা হোক আজ ৬ই এপ্রিল দেশের ঐতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক মুরতাদের পৃষ্টপোষক আওয়ামী মহাজোট সরকারের শত বাধা বিপত্তি হামলা গ্রেফতার নানা ভয় ভীতির মধ্যেই আজ শাপলা চত্বর যা বতমানে ইসলামী চত্বর নামে পরিচিত বহুল প্রতিক্ষীত ইসলামী লংমাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সমকালীন ইতিহাসে সবচেয়ে সাড়া জাগানো এই ইসলামী লংমাচ কে ঘিরে অভূতপব উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে দেশে।দেশ বরেণ্য ও সবজন শ্রদ্ধেয় আলেম আল্লামা আহমদ শফির নেতৃত্বে অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকে তের দফা দাবী নিয়ে এ লংমাচ ও মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ অবিস্মরণীয় লংমাচ ও মহাসমাবেশে আওয়ামী ও বাম সংগঠনগুলো ছাড়া বাকী সকল দল ও সংগঠন এতে সমথন জানিয়েছে। আওয়ামী লীগ যে ধমনিরেপেক্ষতার নামে আসলে মুরতাদ নাস্তিকদের পৃষ্টপোষক তা আজ প্রমাণিত। অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের এ লংমাচে সরকার বাধা দিয়ে নিজের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মেরেছে। এর মাধ্যমে তারা ইসলাম প্রিয় তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যা আওয়ামীলীগকে ভোটের রাজনীতিতে চরম ক্ষতিগ্রস্ত করবে।স্মরণকালের কোনো কমসূচিকে ঘিরে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠির এরকম একাট্টা হওয়া নজিরবিহীন। দেশের ইসলামী দল ও সংগঠনগুলো তাদের মধ্যকার ছোট কাট মতভেদ ভূলে ঈমান-আকিদা ও ইসলাম রক্ষার একই কাতারে শামিল হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় হরতাল অবরোধ হামলা ধরপাকড়সহ সবব্যাপী বাধা বিপত্তি সত্তেও লাখ লাখ আল্লাহ প্রেমী রাসুল প্রেমী ও ধমপ্রান মানুষের ছুটে এসেছেন রাজধানীর শাপলা চত্বর নামে ইসলামী চত্বরে। তৌহিদী জনতার বাধ ভাঙ্গা উচ্ছাসে রাজধানী যেন আজ ইসলামী জনতার প্রাণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পক্ষপাতদৃষ্ট মিডিয়াগুলো কয়েকশ লোকের সমাবেশকে গণজাগরণ বলে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইফ সম্প্রচার করলেও আজকের এ মহাগণজাগরণে তাদের কোন লাইফ সম্প্রচার নেই। বেসরকারী টিভি চ্যানেলের মধ্যে শুধুমাত্র দিগন্ত টিভি আর বাংলা ভিশন আজকের এ মহাগণজাগরণ সমাবেশকে লাইফ সসম্প্রচার করছে তাও সংবাদের আড়ালে।আর এতেও নাস্তিকদের পৃষ্টপোষকতাদানকারী সরকার নানা বাধা সৃষ্টি করে সসম্প্রচার করতে দিচ্ছে না। আমরা সরকারের এসব ঘৃণ্য অপচেষ্টার নিন্দা জানায়। আর সরকারের শুভ বুদ্ধি উদয়ের জন্য আল্লাহর কাছে প্রাথনা জানায়। কারণ তারা সরাসরি ইসলামী জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। আর আমরা মিডিয়াগুলোর এ পক্ষপাতদৃষ্ট আচরণ কে তীব্র ধিক্কার ও নিন্দা জানায়।মিডিয়া গুলো যদি এভাবে একতরফাভাবে নাস্তিক মুরতাদের পৃষ্টপোষকতায় মগ্ন থাকে তাহলে খুব শীঘ্রই ইসলাম প্রিয় জনতা এসব চ্যানেল বজন করতে বাধ্য হবে।আসলে গণজাগরণ কি তা সকল মিডিয়া সহ সবাইকে স্বচক্ষে দেখার জন্য আজকের লংসমাচে অংশগ্রহনের অনুরোধ জানায়। যে তের দফা দাবী নিয়ে তাদের তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
হেফাজতের ১৩ দফা দাবী গুলো হলো:
১। সংবিধানে ‘আল্লাহ্‌‌র উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন এবং কোরান-সুন্নাহ্‌ বিরোধী সকল আইন বাতিল করতে হবে।
২। আল্লাহ্‌, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করতে হবে।
৩। কথিত শাহবাগী আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদ এবং প্রিয় নবী (সা.)-র শানে জঘন্য কুৎসা রটনাকারী কুলাঙ্গার ব্লগার ও ইসলাম বিদ্বেষীদের সকল অপপ্রচার বন্ধসহ কঠোর শাস্তিদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪। ব্যক্তি ও বাক-স্বাধীনতার নামে সকল বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বলনসহ সকল বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে।
৫। ইসলামবিরোধী নারীনীতি, ধর্মহীন শিক্ষানীতি বাতিল করে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৬। সরকারিভাবে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রমূলক সকল অপ-তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
৭। মসজিদের নগরী ঢাকাকে মূর্তির নগরীতে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করতে হবে।
৮। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে বাধা-বিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং ওয়াজ-নসিহত ও ধর্মীয় কার্যকলাপে বাধাদান বন্ধ করতে হবে।
৯। রেডিও, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় দাড়ি-টুপি ও ইসলামী কৃষ্টি-কালচার নিয়ে হাসি-ঠাট্টা এবং নাটক-সিনেমায় খল ও নেতিবাচক চরিত্রে ধর্মীয় লেবাস-পোশাক পরিয়ে অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মনে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব সৃষ্টির অপপ্রয়াস বন্ধ করতে হবে।
১০। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এনজিও এবং খ্রিস্টান মিশনারীদের ধর্মান্তকরণসহ সকল অপ-তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
১১। রাসুলপ্রেমিক প্রতিবাদী আলেম-ওলামা, মাদরাসা ছাত্র এবং তৌহিদী জনতার ওপর হামলা, দমন-পীড়ন, নির্বিচার গুলিবর্ষণ এবং গণহত্যা বন্ধ করতে হবে।
১২। সারা দেশের কওমী মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক, ওলামা-মাশায়েখ এবং মসজিদের ইমাম-খতিবকে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দানসহ তাদের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে।
১৩। অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত সকল আলেম-ওলামা, মাদরাসা ছাত্র ও তৌহিদী জনতাকে মুক্তিদান, দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণসহ দুষ্কৃতকারীদেরকে বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
আসুন দেশের সকল তৌহিদী জনতা এসব ন্যায় সঙ্গত দাবী প্রতি সমথন জানিয়ে তাদের কাতারে শামিল হই। আজকে ইসলাম প্রিয় তৌহিদী জনতা যেভাবে জেগেছে তাতে দেশের সকল নাস্তিক মুরতাদসহ গণজাগরণ মঞ্চ নাম ধারী ভন্ডরা পালানোর পথ খুজে পাবে না। সরকার এখনো যদি নাস্তিকের পৃষ্টপোষকতায় মগ্ন থাকে তাহলে তাহলে এ তের দফা দাবী হয়তো সরকার পতনের এক দফা দাবীতে পরিণত হবে। তাই সময় থাকতে সরকারকে ইসলামী জনতার মহাগণজাগরণের পক্ষ নিয়ে নাস্তিক মুরতাদের পক্ষ ত্যাগ করে তের দফা দাবী মেনে নিন তা না হলে ইসলাম প্রিয় জনতার এ মহাগণজাগরণে আপনারাও পালানোর পথ পাবেন না। সরকার চাইলে এক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে পারত হেফাজতে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ভাবে সহযোগিতা দিয়ে জামাত কে ঠেকাতে পারত, কিন্তু তা না করে তারা বোকামীর পরিচয় দিল।বরং হেফাজতে ইসলামকে জামাতের অঙ্গসংগঠন বলে অপ্রপ্রচার করছে। যা হিতে বিপরীত হয়েছে সরকারের জন্য। কারণ সরকারকে ঘিরে রেখেছে নাস্তিক মুরতাদ ও বাম সংগঠনগুলো। তারাই আওয়ামী লীগকে ডুবাচ্ছে। অথচ ইতিহাস সাক্ষী শেখ মুজিবের আমলে এ বামরাই তার চামড়া নিয়ে ডুকডুকি বাচাতে চেয়েছিল। আর তখন শেখ মুজিবের রক্ষী বাহিনী প্রায় অধলক্ষ জাসদ বাসদসহ বামপন্থী নেতাকমী কে হত্যা করেছিল। আজকে ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধকে মুখোমুখি দাড় করিয়ে এ বামরাই হয়তো আওয়ামীগের সেই পুরনো খুনের প্রতিশোধ নিচ্ছ! ফলশ্রুতিতে দেশের জনপ্রিয় এ দলটি এখন ইসলাম বিদ্বেষী হিসেবে এবং নাস্তিক মুরতাদের পৃষ্টপোষক হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। তাই আওয়ামী লীগ সরকারকে এ ব্যপারে এখনই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ভারতীয় প্রভূদের উপর ভরসা করে আর পার পাওয়া যাবে না। ইতিমধ্যে ভারতীয় পত্রিকা আউটলুকে প্রকাশিত হয়েছে ভারত সরকার শেখ হাসিনা সরকারকে আবার ক্ষমতায় আনতে নানা ষড়যন্ত্রের জাল নিয়ে মাঠে নেমেছে আর হাসিনা সরকারও ভারতের পরিকল্পনা মতো ইসলামী জনতাকে পিষে মেরে আবার ক্ষমতায় যেতে চায়! কিন্তু এ পরিকল্পনা এতো সহজে ইসলামী জনতা বাস্তবায়িত হতে দেবে না। ইসলামী জনতার বিপক্ষে গিয়ে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর যেমন নিজের পতন রক্ষা করতে পারেনি, ঠিক তেমনি তার কন্যা শেখ হাসিনাও দেশের সিংহ ভাগ মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শেষ রক্ষা করতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে না?
সরকার ইতিমধ্যে খুন,গুম,দূনীতি,লুটপাট,মামলা হামলা এবং বিরোধী দল দমনে বিশ্বচ্যাম্পীয়ানে পরিনত হয়েছেন। গতবারে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা দেশকে দূনীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পীয়ান বানিয়েছিল আর এবার এর সাখে আরো যোগ হয়েছে খুন-গুম-মামলা-হামলা-বিরোধী দল দমন। তাদের অপকমে যখন পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে তখন নিজেদের রক্ষা এবং জনগণের দৃষ্টি সরাতে দেশের নানা বিতকিত কমকান্ডের জন্ম দিয়ে দেশকে এক ভয়ংকর পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। শুধু তাদের উন্ধনে বতমানে দেশে হক-বাতিল,আস্তিক-নাস্তিক,মুক্তিযোদ্ধা-যুদ্ধাপরাধী নামে গোটা দেশকে দু-ভাগে ভাগ করে দেশকে গৃহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়ে তারা বাচতে চায়। কিন্তু বিক্ষুদ্ধ সাগরে খড়কুড়ারে উপরে উঠে বেশিক্ষণ রক্ষা হবে না। দেশে বতমানে ১২ নম্বর ভয়ংকর দূযোগ চলছে যা তৈরি করেছেন তারা নিজেরাই। দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষার বদলে বাকশালী শাসন, দলীয়করণের মহারেকড সৃষ্টি, পুলিশকে জনগণের শক্রু বানানো এবং দলীয় অঙ্গসংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী কমকান্ডের পৃষ্টপোষকতা দিয়ে দেশে অসংখ্য ফান্কেস্টাইনের জন্ম দিয়েছেন এ সরকার আর তাদের হাতেই তাদের পতন হবে তা সুনিশ্চিত। ইতিমধ্যে তা শুরু হয়ে গেছে। গতকাল ঢাকায় একটি মাদ্রাসায় হেফাজতের কমীদের দমন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে আওয়ামী লীগের এক কমী খুন হলেন। তাই সময় থাকতে বিরোধী দলের সকল দাবীসহ হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবী অতি শীঘ্রই বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে গৃহ যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করুণ। তা না হলে শেষ রক্ষা হবে না। তাই তৌহিদী জনতার মহাগণজাগরণের এই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য আজকের এই দিনটিকে ইসলাম ও ঈমান রক্ষা দিবস হিসাবে পালন করি এবং দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29812089 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29812089 2013-04-06 13:49:23
পুংলিঙ্গ কেটে হিজড়া বানানোর ভয়ংকর কাহিনী দেহ ও মানস গঠনে পূর্ণতা পেলে প্রাণীমাত্রেই যে মৌলিক প্রণোদনায় সাড়া দিয়ে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়, সেটাই প্রাকৃতিক যৌন প্রবৃত্তি। অনুকুল পরিবেশে এই প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা যেকোন স্বাভাবিক প্রাণীর পক্ষেই অত্যন্ত সাধারণ একটা ঘটনা। মানব সমাজের প্রমিত বা ভদ্র উচ্চারণে এটাকেই প্রেম বা প্রণয়ভাব বলে আখ্যায়িত করি আমরা। পুরুষ (male) ও স্ত্রী (female), লিঙ্গভিত্তিক দুই ভাগে ভাগ হয়ে পড়া প্রাণীজগতে এই মৌলিক প্রণোদনার সমন্বিত সুফল ভোগ করেই বয়ে যায় প্রাণীজাত বংশধারা।আর এ ক্ষেক্রে মানুষের ভেতরে গড়ে ওঠে বিয়ের মাধ্যমে পরিবার প্রথা। অথচ প্রকৃতির কী আজব খেয়াল ! কখনো কখনো এই খেয়াল এতোটাই রূঢ় ও মর্মস্পর্শী হয়ে উঠে যে, এর কোনো সান্ত্বনা থাকে না। মানবসমাজে প্রকৃতির বিচিত্র খেয়ালের সেরকম এক অনিঃশেষ ও দুর্ভাগা শিকারের নাম ‘হিজড়া’(hijra)। সেই আদি-প্রণোদনায় এরা তাড়িত হয় ঠিকই, কিন্তু তাদের জন্মগত লিঙ্গ-বৈকল্যধারী অক্ষম ক্লীব (neuter) বা নপুংশক দেহ যা তৃপ্ত করতে সম্পূর্ণ অনুপযোগী ! এরা ট্রান্সজেন্ডার (trans-gender), না-পুরুষ না-স্ত্রী। অর্থাৎ এমন এক লৈঙ্গিক অবস্থা যা দৈহিক বা জেনেটিক কারণে মেয়ে বা ছেলে কোন শ্রেণীতেই পড়ে না।
হিজড়া
হিজড়া শব্দটি এসেছে আরবী হিজরত বা হিজরী শব্দ থেকে যার আভিধানিক অর্থ পরিবর্তন বা Migrate বা Transfer। এর ধারাবাহিকতায় আমাদের দেশে বিশেষ এক ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধীদের হিজড়া বলে মূলত শারিরীক লিঙ্গের ত্রুটির কারনে এদের সৃষ্টি। এদের প্রধান সমস্যা গুলো হল এদের লিঙ্গে নারী বা পুরূষের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য থাকে না। কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা যায় লিঙ্গ নির্ধারক অঙ্গ থাকে না। এসবের উপর নির্ভর করে তাদেরকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায।
হিজড়া এর প্রকারভেদ
শারীরিক ও মানসিক গঠনের উপর নির্ভর করে এদেরকে ৬ ভাগে ভাগ করা যায়। শারীরিক ভাবে পুরুষ কিন্তু মানষিক ভাবে নারী বৈশীষ্ট্য এর অধীকারী হিজড়াদের বলা হয় অকুয়া, অন্য হিজড়াদের ভরা হয় জেনানা, আর মানুষের হাতে সৃষ্ট বা ক্যাসট্রেড পুরুষদের বলা হয় চিন্নি।
কেন হিজড়া হয় এর বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা
এক্স এক্স প্যাটার্ন ডিম্বানুর সমন্বয়ে কন্যা শিশু আর এক্স ওয়াই প্যাটার্ন থেকে সৃষ্ট হয় ছেলে শিশু। ভ্রুনের পূর্ণতার স্তর গুলোতে ক্রোমোজোম প্যাটার্নের প্রভাবে ছেলে শিশুর মধ্যে অন্ডকোষ আর কন্যা শিশুর মধ্য ডিম্ব কোষ জন্ম নেয়। অন্ডকোষ থেকে নিসৃত হয় পুরুষ হরমোন এন্ড্রোজেন এবং ডিম্ব কোষ থেকে নিসৃত হয় এস্ট্রোজেন। ভ্রুনের বিকাশকালে নিষিক্তকরন ও বিভাজনের ফলে বেশকিছু অস্বাভাবিক প্যাটার্নের সৃষ্টি হয় যেমন এক্স এক্স ওয়াই অথবা এক্স ওয়াই ওয়াই। এর ফলে বিভিন্ন গঠনের হিজড়া শিশুর জন্ম হয়।
হিজড়া বানানোর ভয়ংকর কৌশল
আমরা যাদের হিজড়া বলে জানি বা চিনি তারা কি আসলেই হিজড়া? দেহাকৃতি হিজড়ার মতো হলেও তাদের অধিকাংশই এক সময় সাধারণ মানুষ ছিল। কিন্তু লিঙ্গ কর্তনের মধ্য দিয়ে হিজড়ার খাতায় নাম লেখায়।
রাজধানীর শ্যামলী, ঢাকা জেলাধীন ধামরাই ও খুলনার ফুলতলায় কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকে পেশাদার ও ডিগ্রিধারী চিকিৎসকদের দিয়েই পুংলিঙ্গ কেটে হিজড়া তৈরি করা হয়। এসব ক্লিনিক যেন এক একটি হিজড়া তৈরির কারখানা। হিজড়া নামের আড়ালে লিঙ্গ কর্তন করা হাজার হাজার পুরুষ ঢাকাসহ সারাদেশে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, খুন-খারাবিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। চাঁদাবাজির টাকায় গড়ে তুলেছে বাড়ি-গাড়ি। অঢেল সম্পদ। ঢাকায় বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় এই হিজড়ারা নিয়োগ দিয়ে রেখেছে নিজস্ব সোর্স। ওই সোর্সের মাধ্যমেই কোনো নবজাতক জন্ম গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তারা খবর পেয়ে যায়। আর সে তথ্যের ভিত্তিতে বেঁধে দেয় চাঁদার পরিমাণ। তারা দলবদ্ধভাবে নবজাতকের পরিবারের উপর হামলে পড়ে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোন চক্রের খপ্পরে পড়ে বা স্বেচ্ছায় লিঙ্গ কর্তনকারী হিজড়াদের সঙ্গে অপরাধীদেরও যোগসাজশ রয়েছে। হিজড়া পরিবারের কাছে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের শিকার এলাকার লোকজনও তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। ফলে এরা একবার যখন বাড়িঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে, তখন আর ফেরার উপায় থাকে না। এ কারণে বিভিন্ন চক্রের সঙ্গে মিশে যে কোন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। পতিতাবৃত্তির সঙ্গেও তাদের অনেকে জড়িয়ে পড়েছে। লিঙ্গ কাটা হিজড়াদের তাণ্ডবে জš§গতভাবে পৃথিবীতে আসা হিজড়ারাও কখনওবা অসহায় হয়ে পড়ে। সরকারের বিভিন্ন আইন-শৃংখলা বাহিনীও তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। আবার হিজড়াদের অসহায় জীবন নিয়ে তারা নিজেরাও খুব যে সুখী তা নয়। চক্রের পেছনে পড়ে তারা নিজেরাও সমাজ-সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন। না বলা কষ্টও রয়েছে তাদের। যুগান্তরের দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তাদের বিষয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুংলিঙ্গ কর্তন করে হিজড়ায় পরিণত করার বিষয়টি লিঙ্গ কর্তনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সার্জিক্যাল চিকিৎসকরাও স্বীকার করেছেন। সার্জিক্যাল ক্লিনিকে পুংলিঙ্গ কেটে বিশেষ বিশেষ ওষুধ সেবনের মধ্য দিয়ে তাদের লিঙ্গ কর্তন এবং শারীরিক অবয়বে পরিবর্তন আনা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, লিঙ্গ কর্তনকারী হিজড়াদের মধ্যে খোদ রাজধানীতেই রয়েছে প্রায় ২০ হাজার। রাজধানীসহ সারাদেশে অশিক্ষিত, অভাবী ছেলেদের পাশাপাশি যেসব ছেলের একটু মেয়েলি ঢং রয়েছে এবং যেসব ছেলে বা পুরুষ সমকামিতায় আসক্ত তারা নানা ফাঁদে পড়ে বা প্রলুব্ধ হয়ে হিজড়ার খাতায় নাম লেখায়। তাদের সংগ্রহের জন্য রয়েছে দালাল চক্র। আবার চিহ্নিত কিছু হিজড়া নেতাও ওইসব ছেলেদের হিজড়া বানাচ্ছে। যারা হিজড়া হচ্ছে তারা সবাই ৩০ বছর আগেই এই অপকর্ম সেরে ফেলছে। যেসব হিজড়া পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়া হয়েছে, তারা সবাই হিজড়া হওয়ার পর পাল্টে ফেলে বাবা-মায়ের দেয়া নাম। হিজড়ার এ তালিকায় থাকা অনেকের স্ত্রী-সন্তান, পরিবার-পরিজন থাকলেও সহজ পথে, অল্প সময়ে এবং নিরাপদে অর্থ আয়ের জন্য এ পথ বেছে নিয়েছে। তবে তাদের অনেকেই এখন অনুতপ্ত। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চাইলেও আর সম্ভব নয়। তাদের নিয়ে কাজ করে এমন বেসরকারি সংগঠন, সমাজবিজ্ঞানী ও হিজড়া সংগঠনের কর্মকর্তারাও এসব ঘটনা স্বীকার করেছেন। এমনকি লিঙ্গ কর্তনকারী চিকিৎসকরাও মিডিয়ার কাছে এসব নির্মম ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।

আপন, রহিমা, নাছিমা, জনা ও জয়াদের হিজড়া হওয়ার পেছনের কথা : জনার আগের নাম ছিল জাহাঙ্গীর। মানিকগঞ্জ জেলাধীন দৌলতপুর থানার দৌলতপুর পিএস পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র। দেখতে বেশ সুন্দর। নাদুস-নুদুস চেহারা। হঠাৎ করে একদিন নিখোঁজ। তার বাবা-মা দিশেহারা হয়ে পড়লেন ছেলে কোথায় গেল। সব স্বজনের বাসায় খোঁজ করা হল। কিন্তু সন্ধান মেলে না। থানায় দায়ের করা হলো সাধারণ ডায়েরি। কিন্তু পুলিশও তার কোন হদিস পায়নি। আড়াই বছর আগের ঘটনা। এক রাতে জাহাঙ্গীর মানিকগঞ্জের ধনাই গ্রামে বাবার বাড়ি এসে হাজির। কান্নাকাটি জুড়ে দিল। তার কান্না থামতেই চায় না। তাকে অনেক বুঝানোর পর সে জানায়, হিজড়াদের একটি চক্র তাকে স্কুলের সামনে থেকে ফুসলিয়ে খুলনা ফুলতলা নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাকে একটি ক্লিনিকে ঢোকানো হয়। চিকিৎসকের হাতে অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি। জাহাঙ্গীর আঁতকে ওঠে। তাকে উলঙ্গ করে অস্ত্রোপচার বেডে চিৎ করে শোয়ানো হয়। জাহাঙ্গীর বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ডাক্তারের হাতে-পায়ে ধরে কান্নাকাটি করে। কিন্তু হিজড়া বাহিনী পিছু ছাড়ে না। তারা চাপ দেয় ডাক্তারকে। ব্যস। জাহাঙ্গীরের পুংলিঙ্গ কাটা পড়ল। সে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। জ্ঞান ফেরার পর তাকে কিছুদিন চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর তার নামকরণ করা হল জনা। সেই থেকে সে জনা হিজড়া। জাহাঙ্গীরের এক ভাই কাইয়ুম। থাকেন ঢাকায়। কাজ করেন ১৯২, ফকিরাপুলের একটি ছাপাখানায়। সেখানে গিয়ে কাইয়ুমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি যুগান্তরকে বলেন, জাহাঙ্গীরের বয়স যখন ১৪ বছর তখন সে একটি চক্রের খপ্পরে পড়ে হিজড়াদের খাতায় নাম লেখায়। আমাদের ভাইদের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। সবার আদরের। কিন্তু তার লিঙ্গ কেটে হিজড়া হওয়ার পর সে আর বাড়িমুখী হয়নি। মাঝে মাঝে রাতে লুকিয়ে লুকিয়ে বাড়িতে আসে। মা-বাবাকে এক নজর দেখে আবার চলে যায়। তার জন্য আমাদের পুরো পরিবারকে আজ চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। জাহাঙ্গীরের সঙ্গে একই শ্রেণীতে পড়তো শাওন। সে জানায়, জাহাঙ্গীর ভালো ছাত্র ছিল। সে হিজড়া হয়েছে এটা শুনে আমরা সবাই খুব দুঃখ পেয়েছি। জাহাঙ্গীর এখন জনা হিজড়া নামে পরিচিত। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে নিজের ছবি পত্রিকায় না দেয়ার শর্তে বলে, এটা আমার ভাগ্যে ছিল। পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার কারণে আমার এই জীবনের আর কোন মূল্য নেই।

আপন হিজড়া : সোহেল মাহমুদ। এখন আপন হিজড়া। বয়স ২৭ বছর। তার পিতার নাম সিরু খাঁ। গ্রামের বাড়ি ভোলায়। বর্তমানে তার বাবা-মা ও ভাইবোন থাকেন দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ এলাকায়। সে থাকে শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পেছনে বাউনিয়া এলাকায়। ফায়দাবাদ এলাকার জয়নাল মাতব্বরের বাড়িতে ১ বছর আগে ভাড়ায় থাকত আপনরা। গত ১৫ মার্চ ফায়দাবাদের ওই বাড়িতে গিয়ে কথা হয় এলাকার আবদুস সালাম, লাইলী বেগম ও রেহেনাসহ কয়েকজনের সঙ্গে। তারা যুগান্তরকে জানান, আপনরা দুই ভাই ও ৪ বোন। তার বড় ভাই সুজন গাড়িচালক। এক বোন রেনু ৮ মাস আগে লেবাননে গেছে। আপন (সোহেল) যখন ৮ম শ্রেণীতে পড়তো, তখন সে হিজড়াদের সঙ্গে মেশা শুরু করে। লাইলী বলেন, একদিন আমার মেয়ে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে সোহেলকে হিজড়াদের সঙ্গে নাচতে দেখে আমাকে এসে ঘটনা বলে। সে দিনই আমি জানলাম সে হিজড়াদের সঙ্গে চলাফেরা করে। মাঝেমধ্যে হিজড়াদের বাসায় নিয়ে আসত। আমরা তখনও বুঝেনি সে হিজড়ার খাতাই নাম লেখাবে। প্রায় ৮/৯ বছর আগে সোহেল হিজড়া হয়েছে। হিজড়া হওয়ার পর সে বাড়ি থাকত না। হিজড়াদের সঙ্গে থাকত। মাঝেমধ্যে বোরকা পরে মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসত। এখন আর আপনকে দেখি না। কারণ তার মা-বাবা এলাকা ছেড়ে দিয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, আপনের বাবা-মা লোকলজ্জার কারণে ফায়দাবাদের অন্য একটি বাড়িতে ভাড়া নেয়। ৪২ নং ফায়দাবাদের ওই বাড়িটি আরিফ নামের এক ব্যক্তির। সেখানে গিয়ে জানা যায়, আপনের কারণে তার বাবা-মা সেখান থেকে বাসা পাল্টিয়ে আবদুল্লাপুর আদম আলী মার্কেটের কাছে ভাড়া নিয়েছে।
অনুসন্ধানকালে আপনের সন্ধান পাওয়া যায়। তখন তারা ৭/৮ জন মিলে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করে বাসায় ফিরছিল। ১৫ মার্চ দুপুরের ঘটনা। উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের জহুরা মার্কেটের সামনে কথা হয় আপন হিজড়ার সঙ্গে। সে যুগান্তরকে জানায়, বাউনিয়া এলাকায় একসঙ্গে তারা প্রায় ১৫ জন হিজড়া থাকে। তার দেয়া তথ্যমতে, একসঙ্গে থাকা সবাই লিঙ্গ কেটে হিজড়া হয়েছে। সে জানায়, আমিও ছেলে হয়েই জšে§ছিলাম। আমি আবদুল্লাহপুর মালেকাবানু আদর্শ বিদ্যা নিকেতনে পড়তাম। সেখান থেকে এসএসসি পাস করেছি। ২০০১ সালে আমি বাড়ি ছেড়ে হিজড়াদের সঙ্গে চলে আসি। এরপর ২০০৪ সালের দিকে খুলনার ফুলতলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে লিঙ্গ কেটে ফেলি। এখন আমি পুরোপুরি হিজড়া। তবে আমার বাবা-মা, ভাই-বোনের সঙ্গে এখনও সম্পর্ক আছে। আমার আয়ের একটা বড় অংশ বাবা-মাকে দিই। আপন বলে, রাস্তায় আমার মায়ের সঙ্গে দেখা হলে মা কথা বলে না। আমাকে দেখলে কাপড়ের আঁচল দিয়ে মুখ লুকায়। আমি হিজড়া হয়েছি এতে আমার মা-বাবা লজ্জা পায় সমাজে। আমার এক বোন লেবাননে থাকে। আরেক বোন উত্তরায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে। এসব বলতে বলতে চোখের পানি ছেড়ে দেয় আপন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাই রাতে। তাও আবার বোরকা পরে। মানুষ আমাকে দেখলে বাসায় এসে ভিড় জমায়। মা-বাবা, ভাই-বোনের সঙ্গে খোলামেলা মিশতে, তাদের সঙ্গে থাকতে খুব ইচ্ছা করে। কিন্তু এই ইচ্ছা আর পূরণ হওয়ার নয়।


রহিমা হিজড়ার কথা : নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি গ্রামে বাড়ি ছিল রহিমের। তারা দুই ভাই আর এক বোন। বেশ কয়েক বছর আগে রহিম থেকে রহিমা হয়ে যায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে। এখন পুরোদস্তুর মেয়ের মতো দেখালেও রহিমা লিঙ্গ কর্তন করা একজন হিজড়া। রহিম থেকে রহিমা হিজড়া। এরপর সে আর বাড়ি যায় না। থাকে রাজধানী সংলগ্ন কাঁচপুরে। গত ১০ মার্চ রহিমার সঙ্গে কথা হয়। রহিমা জানায়, বাবা-মায়ের ছোট ছেলে ছিলাম আমি। আমার নাম ছিল রহিম। শখ ছিল পাখি শিকারের ও নাচ-গানের। তরুণ বয়সেই আমি সমকামিতায় আসক্ত হয়ে পড়ি। তখন আমার বয়স ১৫ কি ১৬ বছর। নারায়ণগঞ্জের খালেক নামের এক হিজড়ার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। পরিচয়ের অল্পদিনের মধ্যে তার সঙ্গে অনেক বেশি অন্তরঙ্গ হয়ে পড়ি। আমাকে হিজড়া হওয়ার জন্য উৎসাহ দিতে লাগল খালেক। আমিও তার কথায় রাজি হয়ে যাই। সেই থেকে হিজড়া। সে জানায়, ভারতের বিহার প্রদেশের পাটনা-ছাপড়া এলাকায় গিয়ে সে তার লিঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে এসেছে। সেই সময় সে প্রচুর পরিমাণে ওষুধ সেবন করেছে। সে যুগান্তরকে জানায়, পরবর্তীতে আমি ভারতে গিয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় অপারেশন করে স্ত্রী লিঙ্গ বানিয়ে নিয়ে এসেছি। জীবনের এ পর্যায়ে এসে আজ আমি অনুতপ্ত। যে ভুল করেছি তার মাশুল দিতে হচ্ছে সারাজীবন। এখন আমি মা-বাবা, ভাই-বোন, আÍীয়-স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন। না আছে সংসার, না আছে আÍীয়-স্বজন।

নাছিমা হিজড়ার কথা : বাবা-মায়ের দেয়া নাম আসিফ। গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে। দুই ভাই, দুই বোন। বাবা দরিদ্র কৃষক। সংসারের অভাব ঘুচাতে ২০০১ সালে ঢাকায় আসে। তখন বয়স ছিল ১৬ বছর। কাজ নেয় ফকিরাপুলের একটি ছাপাখানায়। নাছিমা বলে, ছাপাখানায় কাজ করার সুবাদে পরিচয় হয় আরিফা নামের এক হিজড়ার সঙ্গে। আরিফা আমাকে নিয়ে যায় তাদের গুরু মায়ের কাছে। গুরু মা আমাকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে প্রেসের কাজ ছেড়ে হিজড়া সম্প্রদায়ে আসতে বলে। আর এজন্য তিনি সব খরচ বহন করবেন বলে জানায়। ২০০৩ সালের শুরুর দিকে গুরু মা আমাকে খুলনার ফুলতলার একটি ক্লিনিকের কর্মচারী রফিকের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে একটি ক্লিনিকে ঢুকানো হয়। ডাক্তার ইনজেকশন দিয়ে আমাকে অজ্ঞান করে। জ্ঞান ফেরার পর দেখি পুরুষাঙ্গ নেই। ব্যান্ডেজ করা। এরপর গুরু মা আমার নাম দেয় নাছিমা। বিভিন্ন ওষুধ খেয়ে আমি স্তন বড় করেছি। নাছিমা এখন মতিঝিল এলাকার হিজড়া। যাত্রাবাড়ী এলাকার হিজড়াদের নেতা দিপালীর এক শিষ্য বৃষ্টি। সেও গত ফেব্র“য়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় ধামরাই রোম আমেরিকান হাসপাতাল থেকে লিঙ্গ কাটায়।

আবুল হিজড়া : যাত্রাবাড়ী ধলপুর লিচুবাগানে থাকে আবুল হিজড়া। সে যাত্রাবাড়ী এলাকার হিজড়াদের দলনেতা। আবুল হিজড়ার ভাগ্নে রবিন যুগান্তরকে জানায়, আবুল হিজড়া আমার ছোট মামা। আমার আম্মার কাছে শুনেছি, মামা ২০ বছর বয়সে লিঙ্গ কেটে হিজড়া হয়ে যায়। এ কারণে মামা বিয়ে করতে পারেনি। একটি মেয়ে ও একটি ছেলে দত্তক নিয়ে মানুষ করছে। মনু হিজড়ার খপ্পরে পড়ে আবুল হিজড়া হয়েছে বলে জানা যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, স্ত্রী-সন্তান রয়েছে এমন হিজড়ার সংখ্যাও কম নয়। তাদেরই একজন মগবাজার এলাকার হান্নান। এমন আরেকজন হলো বাড্ডা এলাকার পলি হিজড়া। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। সেখানে তার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। বনশ্রী এলাকার বিউটি হিজড়ার আসল নাম ফালা হোসেন। গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে। সেখানে তার এক ছেলে ও স্ত্রী রয়েছে। বিউটি হিজড়া স্ত্রীর কাছে প্রতিমাসে টাকা পাঠায়। বরিশাল জেলার রাজ্জাক। কামরাঙ্গীরচর এলাকার রিজিয়া হিজড়া। তার দুই ছেলে আছে। গাজীপুর বোর্ডবাজার এলাকার লাইলীও স্ত্রী-সন্তান রেখে হিজড়ার খাতায় নাম লিখিয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। সেখানে তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে থাকে।

হিজড়াদের সঠিক পরিসংখ্যন নেই : হিজড়াদের কাজ করেন এমন সংগঠন বা সমিতির কাছে এমনকি রাষ্ট্রের কাছেও হিজড়াদের কোন পরিসংখ্যন নেই। হিজড়াদের সংগঠন বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় ৪০ হাজার থেকে দেড় লাখ এমএসএম (পুরুষ সমকামী) রয়েছে। সারাদেশে হিজড়ার সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ হাজার। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে ৫০ হাজার হিজড়া রয়েছে। অন্যদিকে সমাজ বিজ্ঞানী ড. আমানুল্লাহ ফেরদৌস যুগান্তরকে জানান, ডেমোগ্রাফি সূত্র অনুযায়ী বাংলাদেশে সমকামী ও হিজড়ার সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। এর মধ্যে ঢাকায় হিজড়ার সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি। ঢাকায় সমকামীর সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ।

যেখানে কাটাকাটি হয় : ঢাকা জেলার ধামরাই এলাকার রোম আমেরিকান হাসপাতাল নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রতিমাসে ৪/৫ জনকে পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়া বানানো হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীর শ্যামলী ও খুলনার ফুলতলার কয়েকটি ক্লিনিকেও লিঙ্গ কেটে হিজড়া করা হয়। হিজড়াদের দলনেতারা নানা প্রলোভন দেখিয়ে উঠতি বয়সের ছেলেদের ওইসব হাসপাতালে নিয়ে তাদের হিজড়া বানিয়ে নিজেদের দল ভারি করছে। রোম আমেরিকান হাসপাতালে পুরুষাঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে হিজড়া বানানো হয় এমন অভিযোগ পেয়ে যুগান্তরের পক্ষ থেকে ওই হাসপাতালে অনুসন্ধান চালানো হয়। ১২ মার্চ ধামরাই থানা বাসস্ট্যান্ডের কাছে গিয়ে জানা যায় লোমহর্ষক এ ঘটনার সত্যতা। থানা বাসস্ট্যান্ডে থেকে ৫০ গজ দূরে মানিকগঞ্জ-ঢাকা প্রধান সড়কের পাশেই ‘রোম আমেরিকান হাসপাতাল’ অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই হাসপাতালের মালিক ডাক্তার গোলাম রহমান শাহজাহান নিজেই হিজড়া বানান। কর্মচারী মোশারফ যুগান্তরকে জানান, প্রায়ই এ হাসপাতালে ছেলেরা এসে কিসব অপারেশন করে। এ জন্য ডাক্তার ১৫/২০ হাজার টাকা নেয়। হিজড়ারা তাদের নিয়ে আসে। গত ফেব্র“য়ারির মাঝামাঝিতে হিজড়াদের একটি গ্র“প একজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে আরেক গ্র“প এসে মারামারি করে। প্রায় ৫০/৬০ জন হিজড়া সেদিন হাসপাতালে এসেছিল। পরে জানা যায়, ওই ছেলেটির নাম রাখা হয়েছে বৃষ্টি। জানা যায়, ডা. গোলাম রহমান শাহজাহান গণবিশ্ববিদ্যালয়ের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। চাকরির পাশাপাশি এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। এলাকাবাসী মানিক জানান, ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে এ হাসপাতালটি থানা রোডের লুৎফর নায়েবীর ৩ তলায় শুরু করেন ডা. গোলাম রহমান শাহজাহান। আনিছ নামের এক ব্যক্তি জানান, ওই ক্লিনিকে সাধারণ কোন রোগী যান না। মূলত লিঙ্গ কেটে হিজড়া তৈরিই ওই ডাক্তারের মূল কাজ। সূত্র জানায়, একই কায়দায় খুলনা ফুলতলার একটি ক্লিনিকে লিঙ্গ কেটে হিজড়া বানানো হয়। এছাড়া রাজধানীর শ্যামলী এলাকায়ও একটি ক্লিনিক রয়েছে। সেখানে লিঙ্গ কাটতে গিয়ে এক যুবকের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। তবে ওই ক্লিনিকটি কিছুদিন আগে সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে রোম আমেরিকান হাসপাতালের কর্ণধার ডা. গোলাম রহমান শাহজাহান যুগান্তরের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি তো জোর করে কারও পুংলিঙ্গ কাটি না। ছেলেরা ইচ্ছাকৃতভাবেই এসে পুরুষাঙ্গ কাটতে বলে। তিনি নিজেই কিছু তথ্য দেন। তিনি জানান, প্রতিমাসে ৩/৪ জন ছেলেকে অপারেশনের জন্য হিজড়ারা ধরে নিয়ে আসে। এরা আমার কাছে রোগী। কত দিন ধরে এ ধরনের কাজ করছেন এবং এ পর্যন্ত কতজনের পুরুষাঙ্গ কেটেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে হাসপাতালের প্রতিষ্ঠা থেকেই পুরুষাঙ্গ কাটা হয়। প্রতিমাসে রোগী আসে। তবে এর সঠিক হিসাব জানা নেই। এসব অপারেশন করতে ১০ হাজার টাকা নিই। লিঙ্গ কাটতে গিয়ে কেউ মারা গেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার হাসপাতালে কেউ মারা যায়নি। শ্যামলীর একটি ক্লিনিকে পুরুষাঙ্গ কাটতে গিয়ে একজন মারা গেছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম অভিনব পন্থায় হিজড়া তৈরির খবর শুনে বিস্মিত হন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, পুংলিঙ্গ কেটে হিজড়া বানাচ্ছে এ ধরনের কোন অভিযোগ আমাদের কাছে নেই। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারও অঙ্গহানি করা পেনালকোডে ৩২৬ ধারায় অপরাধ।

বিশেষজ্ঞদের কথা : হরমোন বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ হাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়া হলে তাদের জীবনে ভয়াবহ ঝুঁকি থাকে। দেহের হাড় ক্ষয় হয়, শারীরিক শক্তি কমে যায়। এছাড়া নানা রোগের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, আমাদের সমাজে হিজড়া বলতে তাদের বোঝায় যারা শারীরিকভাবে পুরুষ কিন্তু মানসিকভাবে নিজেদের মেয়ে ভাবে, মেয়েদের পোশাক পরতে ও মেয়েদের মতো ব্যবহার করতে পছন্দ করে। এটা হরমোনজনিত বিষয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, জাতীয় এইডস বিশেষজ্ঞ ও সমাজ বিজ্ঞানী ড. আমানুল্লাহ ফেরদৌস যুগান্তরকে বলেন, লিঙ্গ কাটলে তাদের হিজড়া বলা যাবে না। তারা হল বিকলাঙ্গ। লিঙ্গ কাটার কারণে ওই ব্যক্তি পারিবারিক সমস্যা, সামাজিক সমস্যা, সাাংস্কৃতিক সমস্যা ও হীনমন্যতায় ভুগবে। সমাজ তাকে দূরে রাখবে। লিঙ্গ কাটা সমাজে মারাÍক ধরনের অপরাধ। এর সঙ্গে যে দুষ্টচক্র জড়িত তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হওয়ার কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে দুষ্টচক্রটি। রাষ্ট্রকে এর বিহিত করতে হবে, নইলে সমাজ অধপতনের দিকে ধাবিত হবে।
পুংলিঙ্গ কেটে হিজড়া হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার মহাসচিব অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা যুগান্তরকে বলেন, তার জানামতে, অনেক ছেলে স্বেচ্ছায় হিজড়া হচ্ছে। জয়া হিজড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ছেলে জয় পুংলিঙ্গ কেটে এখন জয়া। তাকে নিয়ে আমি টেলিভিশনে একটি প্রোগ্রামও করেছি। পরে জেনেছি তার হিজড়া হওয়ার কাহিনী। তাদের নিয়ে আলাদা কোন আইন নেই। উপরের রণনা গুলোতে ফুঠে উঠেছে হিজড়া বানানোর ভয়ংকর কাহিনী যা গোটা জাতিকে আতংকীত করে তুলে ।একজন সুস্থ তরুণ কে যখন অপহরণ করে জোর পূবক হিজড়া বানানো হয় তখন জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে! এটা মুসলিম জাতি হিসাবে আমাদের শক্তি কে, আমাদের অহংকারের প্রতিক যুব সমাজ কে ধ্বংসের চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।তাই এ ব্যাপারে তড়িত ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের অপরিহায দাবী। সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এসব অপকমকারীদের বিরুদ্ধে। সভ্যতা বিনাসী এসব অপরাধ ধমনে প্রয়োজনে সাড়াশি অভিযান চালাতে হবে। বন্ধ করে দিতে সে সব ক্লিনিকগুলোকে যারা টাকার বিনিময়ে এসব অপরাধে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। সে সব ডাক্তার নামের নর ঘাতকদের গ্রেফতার দৃষ্টান্ত মূলক শান্তি ব্যবস্থা করতে হবে। আর এ কাজে জড়িত হিজড়াদের ও কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এছাড়া জনসাধারণের সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। এভাবে সামগ্রিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সম্ভব এসব অপরাধকে দমনের।(সূত্র-দৈনিক যুগান্তর)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29810308 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29810308 2013-04-03 22:55:43
কারা সন্ত্রাসী, কাদের নিষিদ্ধ করা দরকার? আমাদের দেশে রাজনৈতিক আন্দোলন, রাজপথে সভা-সমাবেশ বা মিছিল নতুন কিছু নয়। এসব আন্দোলন-সংগ্রামে পুরনো রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সব সময় ছিল সক্রিয়, তাদের ভূমিকা ছিল অগ্রগামী। রাজপথে সহিংসতা, জ্বালাও-পোড়াও-এও পিছিয়ে নয় এই ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলটি। পুলিশের উপর হামলা, প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেয়া, বঙ্গভবনের অক্সিজেন বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা, প্রকাশ্য রাজপথে সাপের মতো পিটিয়ে মানুষ হত্যা, লাশের উপর নর্দন কুর্দন করা কোন দিক দিয়েই পিছিয়ে নেই আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দাবি আদায়ে কোনো কিছুকেই আওয়ামী লীগ বেআইনী ও অন্যায় মনে করে না।

'৯০-এর পরবর্তী বিএনপি সরকারের সময় রাজপথে আন্দোলন চলাকালে অফিসগামী কর্মকর্তাকে দিগম্বর করা, দাড়িটুপি পরিহিত ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা, ক্লিনিকে বোমাবর্ষণ, রাজনৈতিক দলের অফিসে হামলার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি রাজনৈতিক দলের মিছিল থেকে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। ক্ষমতায় এসেও এসব থেকে পিছিয়ে নেই তারা। বিশেষ করে বিশ্বজিৎকে প্রকাশ্য কুপিয়ে মারা, অস্ত্র হাতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা, পুলিশের সাথে যৌথভাবে অস্ত্রের মহড়া দেয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপর হামলা, এসিড দেয়ার মতো নৃশংসা করতে একটুও দ্বিধা করেনি রাজনৈতিক কর্মী নামধারী সন্ত্রাসীরা। আওয়ামী লীগ নিজ দল ছাড়া অন্য কোনো দলকেও কখনই বরদাশত করেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী গণহত্যার শিকার ১৭০ জনের মধ্যে শুধু জামায়াত ও শিবিরেরই রয়েছে ৯১ জন। এর আগে সরকারি দলের সন্ত্রাস ও পুলিশের গুলীতে শহীদ হয়েছে আরো ২০ জন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের গায়ে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে গুলী করেছে এবং চট্টগ্রামে পুলিশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন কর্মীর দু'চোখ তুলে ফেলে তাকে হত্যা করেছে। এ সরকার জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৩৬ হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু এসবের পরও জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা অস্ত্র হাতে রাজনীতি করেছে, কাউকে মেরেছে এমন বিষয় দেখা যায়নি। বরং তারা বার বার মার খেয়েছে। এই সরকারের আমলে তাদের যেমন রাজপথে নামতে দেয়া হয়নি, অফিস করতে দেয়া হয়নি, এমনকি বাসায় থাকতে দেয়া হচ্ছে না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্র হত্যাকে কেন্দ্র করে শিবিরের বিরচদ্ধে দেশব্যাপী চিরচনী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। খুনি কে তার কোন খোঁজ করা হয়নি। আর সারা দেশে ছাত্রলীগ হত্যা সন্ত্রাস আর চাপাতির তান্ডবের বিরচদ্ধে কোন অভিযান হয়নি।

মানুষ আক্রান্ত হলে তখন আত্মরক্ষার জন্য সামনে যা পায় তা নিয়েই প্রতিরোধের চেষ্টা করে। পুলিশ জনগণের সেবক। তাদের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু তারা তা না করে নির্যাতন নিপীড়ন চালালে জনগণের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে প্রতিবাদতো করতেই পারে।

গতকাল বুধবার দৈনিক আমারদেশ পত্রিকায় বিবিসি খ্যাত সাংবাদিক সিরাজুর রহমান লিখেন, ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখে লেখা এক কলামে আবারও একটা সুপরামর্শ দিয়েছিলাম সরকারকে। লিখেছিলাম, ‘জামায়াতে ইসলামকে নিষিদ্ধ করতে যাবেন না, ছাত্রশিবিরকে বেশি ঘাঁটাবেন না, তাদের প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে দূরে ঠেলে দেবেন না, তার পরিণতি ভয়াবহ হবে।’ কয়েকটি দৃষ্টান্ত দিয়ে আরও লিখেছিলাম, ‘নির্যাতন দিয়ে রাজনীতিকে নিস্তব্ধ করে দেয়া যায় না।’ দেখা যাচ্ছে, এ সরকারকে সৎ পরামর্শ দেয়া উলুবনে মুক্তা ছড়ানোর মতোই পন্ডশ্রম।

জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বেআইনী ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করার দাবী উঠেছে। পুলিশের সাথে সংঘাতের কারণে। কিন্তু আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ যেভাবে সন্ত্রাস করে, তাহলে তো তারা বহুবার নিষিদ্ধ হওয়ার কথা। অতীতের কর্মকান্ড বাদ দিলেও, গত ৪ বছরের কর্মকান্ড পর্যালোচনা করলেই তারা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা হেন কাজ নেই, যা তারা করেনি। নিষিদ্ধ করলে তাদেরই আগে করতে হবে।

সরকার দলীয় অন্তঃকোন্দলে খুন ১৫৩

সেন্টার ফর মিডিয়া অ্যান্ড ট্রেনিং (এমআরটির) জরিপ মতে, ৪ বছরে খুন হয়েছে ১৬৫৮৯ জন, রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ৭৯০ জন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ৪৪৯ জন ও গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ৫৮৮ জন । বর্তমান সরকারের ৪ বছরের খুনের গড় ১১ জনেরও বেশি। দলীয় পদ, ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারা করতে গিয়ে ক্ষমতাসীনদের অন্তঃকোন্দল সংঘর্ষ বেধেছে জায়গায় জায়গায়। শুধু আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর অন্ত:কোন্দলে নিহত হয়েছেন ১৫৩ জন। এ সরকারের আমলে আইন শৃংখলা বাহিনীকে রাজনৈতিক বিরোধী শিবিরকে দমনের জন্য অপব্যবহারের অভিযোগ উঠে সবচেয়ে বেশী । আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সরকারের চার বছরে মৃত্যু হয়েছে ৪৫৯ অর্থ্যাৎ প্রতিমাসে গড়ে প্রায় ১০ জন বিচার বহির্ভূত হত্যা কান্ডের স্বীকার হয়েছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই কথিত ক্রসফায়ার বা এনকাউন্টারে গুলীবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

গণহত্যার শিকার জামায়াত শিবিরের ৯১ নেতাকর্মী

গত ২৮ ফেব্রচয়ারি থেকে দেশব্যাপী গণহত্যা শুরচ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত ২৮ ফেব্রচয়ারি বৃহস্পতিবারই ঘটেছে ৭০ জনের মৃত্যু। পরদিন এ সংখ্যা ৭৫-এ দাঁড়ায়। এর আগে ১১ দিনে মৃত্যু ঘটেছে ১৭ জনের। ৬ দিনে ১১৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে। গত ১৩ মার্চ বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেন, সরকারের গণহত্যার শিকার হয়েছে ১৭০ জন।

এর মধ্যে শুধু জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৯১ জন নেতাকর্মী গণহত্যার শিকার হয়। দেশব্যাপী পুলিশ ও বিজিবি এ গণহত্যা চালায় বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে।

জামায়াত ও শিবিরের যারা গণহত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের তালিকা নিচে দেয়া হলো:

রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চল : সাঈদ রচবেল (ঠাকুরগাঁও শিবির কর্মী), মুজাহিদ (দিনাজপুর শিবিরের সাথী), ফয়েজ উদ্দিন (দিনাজপুর জামায়াত কর্মী), আতিকুল ইসলাম (নীলফামারী জামায়াত কর্মী), ফরিদ উদ্দিন (গাইবান্ধা জামায়াত কর্মী), জুয়েল মিয়া (গাইবান্ধা জামায়াত কর্মী), মজনু মিয়া (গাইবান্ধা জামায়াত কর্মী), মশিউর রহমান (রংপুর শিবিরের সাথী), মাহমুদুল হাসান (রংপুর শিবিরের সাথী), সাদিকুর রহমান (রংপুর শিবির কর্মী), আশিকুর রহমান আপন (রংপুর শিবির কর্মী), আজমল হুসাইন (রংপুর শিবির কর্মী), শাহেদ মিয়া (রংপুর জামায়াত কর্মী), মামুন মিয়া (রংপুর জামায়াত কমী)র্, জাহাঙ্গীর আলম (রংপুর জামায়াত কর্মী), ফরমান আলী (জয়পুরহাট, জামায়াত কর্মী), হিসাব উদ্দিন (জয়পুরহাট শিবির কর্মী), মজনু রহমান (জয়পুরহাট জামায়াত কর্মী), মহিদুল ইসলাম (জয়পুরহাট জামায়াত কর্মী), নাসির উদ্দিন (জয়পুরহাট, জামায়াত কর্মী) আবদুল হাকীম (জয়পুরহাট জামায়াত কর্মী) বদিউজ্জামান (জয়পুরহাট শিবিরের সাথী),

আমিরচল ইসলাম (রাজশাহী জামায়াত কর্মী), মুজাহিদ (রাজশাহী জামায়াত কর্মী), রফিকুল ইসলাম (রাজশাহী শিবির কর্মী), নাসির উদ্দিন (চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবির কর্মী) আবদুর রহীম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ জামায়াত কর্মী), আলাউদ্দিন (জামায়াত কমী পাবনা), সিরাজুল ইসলাম (জামায়াত কমী পাবনা), রচহুল আমীন (সিরাজগঞ্জ শিবির কর্মী), ওয়ারেছ আলী (সিরাজগঞ্জ শিবির কর্মী), মোক্তার হোসাইন (সিরাজগঞ্জ শিবির কর্মী), মাহমুদুর রহমান (সিরাজগঞ্জ শিবির কর্মী), মাহফুজুল হক (সিরাজগঞ্জ শিবির কর্মী), দুলু মিয়া (বগুড়া জামায়াত সমর্থক), জিয়াউর রহমান (বগুড়া জামায়াত সমর্থক), বাবু মিয়া (বগুড়া জামায়াত সমর্থক), আলমগীর হোসাইন (বগুড়া শিবিরের সাথী), শহীদুল ইসলাম (বগুড়া জামায়াত সমর্থক), হাফিজ উদ্দিন (বগুড়া জামায়াত সমর্থক), আবদুল­vহ কাফী (বগুড়া জামায়াত সমর্থক), আকলিমা বেওয়া (বগুড়া জামায়াত সমর্থক), মরজিনা বেগম (বগুড়া জামায়াত সমর্থক), আরজিনা বেগম (বগুড়া জামায়াত সমর্থক), বাদল মিয়া (বগুড়া জামায়াত কর্মী), টিটো মিয়া (বগুড়া জামায়াত কর্মী), আবু রূহানী (বগুড়া শিবিরের সদস্য), আবদুল­vহ (বগুড়া শিবির কর্মী), মিজানুর রহমান (বগুড়া জামায়াত কর্মী), সাবেত আলী (বগুড়া জামায়াত কর্মী), মোঃ আলাল (পাবনা জামায়াত সমর্থক), সিরাজুল ইসলাম (পাবনা জামায়াত সমর্থক), মুজাহিদ হোসেন (রাজশাহী), রফিকুল ইসলাম (রাজশাহী)।

ঢাকা অঞ্চল: আবদুর রাজ্জাক (গাজীপুর শিবিরের সদস্য) ও নাসির উদ্দিন (মানিকগঞ্জ জামায়াত কর্মী)।

সিলেট অঞ্চল: আজগর আলী খান (সিলেট শিবিরের সদস্য), লোকমান (মৌলভীবাজার জামায়াত সমর্থক)।

কুমিল­v ও নোয়াখালী অঞ্চল: আলাউদ্দিন (কুমিল­v জামায়াত সমর্থক), ইব্রাহিম (জামায়াত কর্মী), কুরবান আলী (নোয়াখালী জামায়াত সমর্থক), শহিদুল­vহ (নোয়াখালী জামায়াত সমর্থক)।

খুলনা অঞ্চল: শহিদুল ইসলাম (ঝিনাইদহ জামায়াত কর্মী), ইকবাল হুসাইন তুহিন (সাতক্ষীরা শিবির কর্মী), আমান (সাতক্ষীরা জামায়াত কর্মী), রবীউল ইসলাম (সাতক্ষীরা জামায়াত কর্মী), আবুল হাসান (সাতক্ষীরা জামায়াত কর্মী), আলী মোস্তফা (সাতক্ষীরা শিবিরের সাথী), শাহীনুর রহমান (সাতক্ষীরা শিবিরের সাথী), মাহবুবুর রহমান (সাতক্ষীরা শিবিরের সাথী), আরিফ বিল­vহ (সাতক্ষীরা শিবিরের সাথী), রচহুল আমীন (সাতক্ষীরা শিবিরের সাথী), শামসুর রহমান (সাতক্ষীরা), সাইফুল­vহ (সাতক্ষীরা), মাহমুদুল হক (বাগেরহাট)।

চট্টগ্রাম অঞ্চল: ইমরান খান (চট্টগ্রাম শিবিরের সাথী) মোঃ আবিদ (চট্টগ্রাম শিবির কর্মী) মোঃ শাবিবর (চট্টগ্রাম জামায়াত কর্মী), মোঃ আজমত (চট্টগ্রাম জামায়াত কর্মী), হাফেজ হারচন (চট্টগ্রাম জামায়াত কর্মী), উসমান (চট্টগ্রাম জামায়াত সমর্থক), আবু তাহের (চট্টগ্রাম জামায়াত সমর্থক), শহীদুল­vহ (চট্টগ্রাম জামায়াত সমর্থক), মিছবাহ উদ্দিন (চট্টগ্রাম জামায়াত সমর্থক), নূরচল হক (কক্সবাজার জামায়াত কর্মী), আবু সালেহ (কক্সবাজার জামায়াত সমর্থক), আবদুর রশিদ (কক্সবাজার জামায়াত কমী)র্, তোফায়েল (কক্সবাজার জামায়াত কর্মী), সাজ্জাদুর রহমান (কক্সবাজার শিবির কর্মী)।

৪০ হাজার নেতা-কর্মী গ্রেফতার\ আসামী ৫ লাখ

জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান গত ৬ মার্চ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ১৪ দলীয় জোট সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আক্রোশের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির। ইসলামী আন্দোলন করার কারণেই সরকারের চরম জুলুম-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির। এ সরকারের ৫৩ মাসের শাসনামলে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪০ হাজার নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। তাদের বিরচদ্ধে ১৮ হাজার মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৫ লাখ নেতা-কর্মীকে আসামী করেছে। ৪০০ জন নেতা-কর্মীকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। দুশ’ মহিলা ও ছাত্রীকে গ্রেফতার করেছে। তার মধ্যে ১৭৩ জন মহিলাকে রিমান্ডে নিয়ে সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে চোখ তুলে ফেলা হয়েছে। গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলী করা হয়েছে। অনেকের পায়ে গুলী করে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। এ সরকারের শাসনামলে মোট ২ শতাধিক মানুষকে গুলী করে হত্যা করা হয়েছে। সরকারের ইসলামবিরোধী অবস্থান, নাস্তিকদের পৃষ্ঠপোষকতা ও আল­vমা সাঈদীর মুক্তির দাবিতে গড়ে ওঠা জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেয়ার উদ্দেশ্যে ২৮ ফেব্রচয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত গুলী করে হত্যা করা হয়েছে ১৪৭ জনকে। ১০ হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছে। অসংখ্য পরিবারকে সর্বস্বান্ত করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জে আলেমসহ নিহত ৪ : ইসলাম ধর্ম অবমাননা ও হযরত মোহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদে ইসলামী দলগুলোর ডাকে গত ২৪ ফেব্রচয়ারি রোববারের হরতালে পুলিশের গুলীতে মাদরাসা শিক্ষকসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। গুলীবিদ্ধ হয়েছে নারী-শিশুসহ ২০ জন। প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীরা জানান, হরতাল সমর্থনে সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসেন। তারা সিংগাইর-মানিকগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে †¯­vগান দেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ হয়। এলাকাবাসীকে লক্ষ্য করে পুলিশ কয়েকশ’ রাউন্ড গুলীবর্ষণ করে। এতে চারজন নিহত হন। তারা হলেন গোবিন্দল মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ শাহ আলম (২৫), নাজিম উদ্দিন (২৬), আলমগীর (২৫) ও মাওলানা নাসির উদ্দিন (৩০)। মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলী মিয়া ওইদিন সাংবাদিকদের জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ৫০ রাউন্ড টিয়ারশেল এবং ৩০০ রাউন্ড গুলীবর্ষণ করা হয়।

টাঙ্গাইলে নিজেদের দেয়া আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে ছাত্রলীগ কর্মী সুমন

টাঙ্গাইল শহরের ভিক্টোরিয়া সড়কে অবস্থিত জামায়াত-সমর্থক এক ব্যক্তির কম্পিউটার সেন্টারে আগুনে পুড়ে নিহত ব্যক্তি ছাত্রলীগ কর্মী বলে জানা গেছে। ইমরান নামে ওই জামায়াত-সমর্থকের দোকান পুড়িয়ে দিতে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নিজেরাই পুড়ে ছাই হয়েছে। আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ছাত্রলীগের কর্মী সুমন সাহা ছাড়াও অন্তত ১০ নেতা-কর্মী অগ্নিদগ্ধ হয়। অপরদিকে এ ঘটনায় ২৪ ফেব্রচয়ারি সকালে অজ্ঞাত ৮০ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক হোসেন রাজিব।

গত ২৩ ফেব্রচয়ারি বিকালে শহরের ভিক্টোরিয়া সড়কে কসমস কম্পিউটার সেন্টারে অগ্নিকান্ডের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় ২০ থেকে ২৫ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী জয়বাংলা †¯­vগান দিয়ে কম্পিউটার সেন্টারে ঢুকে পড়ে। কসমস কম্পিউটার সেন্টারের মালিক শওকত হোসেন ইমরান জানান, শহরের পুরনো বাসস্ট্যান্ড এলাকা ও ভিক্টোরিয়া সড়কে আরও দুটি কম্পিউটার সেন্টার রয়েছে। এ দুটি কম্পিউটার সেন্টারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক বিরোধ চলছিল। ওই দুই সেন্টারের মালিকরা এর আগে বাংলাদেশ কারিগরি বোর্ডে তার বিরচদ্ধে দুবার মিথ্যা অভিযোগ জমা দিয়েছে। এ কারণে কসমস সেন্টার বর্ধিত বা স্থানান্তর করা যাচ্ছে না। বিরোধপূর্ণ ওই দুই কম্পিউটার সেন্টারের মালিকের ইন্ধনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ইমরান জানান, ঘটনার সময় সেন্টারে পাঁচ শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক ছিলেন। তাদের বের করে দিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করা হয়। তারপর আগুন ধরিয়ে দিলে নিজেদের দেয়া আগুনেই ছাত্রলীগ ক্যাডাররা ঝলসে যায়।

অগ্নিকান্ডে ছাত্রলীগের কর্মী সুমন সাহা ঘটনাস্থলেই পুড়ে মারা যায়। সে বাসাইল উপজেলার ভোরপাড়া গ্রামের জয় সাহার ছেলে। আহতরা হলো জেলা ছাত্রলীগের নেতা শহীদ সিদ্দিকী, শুভ, বাবু, রবিন, দ্বীপোজ্জ্বল, সবুজ ও সৌরভসহ অন্তত ১০ জন। এদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকায় পাঠানো হয়।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে পুলিশের সামনে পত্রিকা অফিসে হামলা

গত ১২ ফেব্রচয়ারি দৈনিক নয়াদিগন্তে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। কেউ কেউ নয়া দিগন্তের ব্যাপারে কয়েকদিন ধরে উস্কানিও দিয়ে আসছিলো। ‘জয়বাংলা' †¯­vগান দিয়ে দুপুরের দিকে মতিঝিলস্থ ইডেন কমপে­ক্সের নয়া দিগন্ত কার্যালয়ে এবং বিকেলে জুরাইনের ছাপাখানায় দুর্বৃত্তরা আগুন লাগায়। এ সময় ব্যাপক ভাংচুরও করে তারা। পুলিশের উপস্থিতিতেই নয়া দিগন্ত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। আগুনে নয়া দিগন্তের একটি গাড়ি পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং প্রেসের কাগজ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এদিকে চট্টগ্রামে পুলিশের উপস্থিতিতে আমার দেশ অফিসে ব্যাপক ভাংচুর-লুটপাটের পর আসবাব ও গুরচত্বপূর্ণ কাগজপত্র জ্বালিয়ে দিয়েছে ছাত্র ও যুবলীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। তাদের রোষ থেকে রেহাই পায়নি দিগন্ত টিভি ও দৈনিক সংগ্রাম অফিসও। অফিসে হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে আমার দেশ-এর পক্ষে দুপুর থেকে নিরাপত্তার কথা বললেও পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি; বরং হামলার শুরচতে কলাপসিবল গেট ভাঙার সময় থেকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কোতোয়ালি থানার ওসি সুদ্বীপ দাশ, এসআই উৎপলসহ শতাধিক পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার এক ঘণ্টা পর শতাধিক পুলিশ পাহারায় জামালখানের কথিত গণজাগরণ চত্বর থেকে সশস্ত্র অবস্থায় মিছিল বের করে বামদলসহ ছাত্র-যুবলীগের তিন শতাধিক ক্যাডার। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু †¯­vগান দিয়ে আমার দেশ-এ হামলা চালানো হয়। এ সময় তারা আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ সব সাংবাদিককে জবাই করে হত্যার হুমকি দেয়। সন্ত্রাসীরা ভবনের দু’জন নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে নিচতলার কলাপসিবল গেট ভেঙে দ্বিতীয় তলায় আমার দেশ অফিসে হামলা চালায়। তারা দুটি দরজা ভেঙে অফিসে প্রবেশ করে।

প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে অফিসে তান্ডব চালায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। অফিসের ভেতরে থাকা চারটি ল্যাপটপ, চারটি ডেক্সটপ কম্পিউটার, বিজ্ঞাপন বিভাগের ক্যাশ ড্রয়ারসহ সংবাদকর্মীদের ডেক্স ভেঙে লক্ষাধিক টাকা লুট করে তারা। অফিস থেকে পত্রিকার ফাইলসহ আসবাবপত্র বাইরে বের করে সেসবে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় দু’শতাধিক পুলিশ হামলাকারীদের নিরাপত্তা দেয়। একই ভবনে অবস্থিত অন্যান্য পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের সংবাদকর্মীরা সন্ত্রাসীদের তান্ডব নিয়ন্ত্রণ করতে বারবার পুলিশের সহায়তা চেয়েও ব্যর্থ হন।

আমার দেশ অফিসে হামলার আগে বিকাল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব এলাকার কথিত গণজাগরণ মঞ্চ এলাকা থেকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জঙ্গি মিছিল বের করে প্রথমেই তারা হামলা চালায় চেরাগীপাহাড় এলাকায় সংগ্রাম অফিসে। সংগ্রামে তান্ডব শেষে একই এলাকার দিগন্ত টিভি অফিসে যায়। একই কায়দায় দিগন্ত অফিস তছনছ শেষে বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে সর্বশেষ হামলা চালানো হয় আমার দেশ-এ।

যাত্রাবাড়ীতে ইসলামী সঙ্গীতের অনুষ্ঠানে হামলা

মহান একুশে উপলক্ষে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় আয়োজিত ইসলামী সঙ্গীত অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা অনুষ্ঠানের মঞ্চ ও চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে। গত ২১ ফেব্রচয়ারি বিকালে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও ছাত্রলীগের তান্ডবে আয়োজকরা শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি বাতিল করতে বাধ্য হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রাবাড়ীর মীরহাজীরবাগ চৌরাস্তায় বিকাল ৪টায় একুশে ফেব্রচয়ারি উপলক্ষে কলরব নামে একটি শিল্পীগোষ্ঠী ইসলামী সঙ্গীত, ভাষা শহীদদের মাগফিরাত কামনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।

বেলা আড়াইটার দিকে সেখানে পুলিশ ও স্থানীয় ছাত্রলীগ উপস্থিত হয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। তারা অনুষ্ঠানস্থলের মঞ্চ ও চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে। তখন সেখানে থাকা কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজকরা পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের কাছে ভাংচুরের কারণ জানতে চাইলে তারা তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পরে পুলিশ কলরবের শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজকদের গ্রেফতারের হুমকি দেয়। ছাত্রলীগ নেতারা আয়োজকদের গালিগালাজ করে এই বলে যে, জামায়াত-শিবিরের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। কোনো ইসলামী অনুষ্ঠান করতে দেয়া হবে না বলেও তারা জানিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর উপদেষ্টা রশীদ আহমেদ ফেরদৌস জানান, ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে পুলিশ ও স্থানীয় ছাত্রলীগ অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তারা মঞ্চ ও চেয়ার-টেবিল ভাংচুর চালায়।

বিভিন্ন স্থানে ইসলামী ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা

দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরের মালিকানাধীন ও পরিচালিত প্রতিষ্ঠান এবং ইসলামী ব্যাংকে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। বগুড়া শহরে ১৪ দলের মিছিল থেকে ইসলামী ব্যাংকের বুথে হামলা, ভাংচুর এবং মিছিলের পেছনে ফাঁকা গুলীবর্ষণের পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মিছিলকারী ছাত্রলীগ কর্মীরা শহরের কয়েকটি রাস্তা প্রদক্ষিণ শেষে নবাববাড়ী রোডের ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথে হামলা চালায়। তারা বুথটি বন্ধ পেয়ে তার সাইনবোর্ড ইটপাটকেল ছুঁড়ে নষ্ট করে। এ সময় পুলিশ সেখানে নীরব ছিল।

সরিষাবাড়ীতে ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ তারাকান্দি সারকারখানা শাখায় শুক্রবার রাতে সঙ্ঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যাংকের দরজা, জানালা, সাইনবোর্ড ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। সিলেটের বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগ কর্মীরা জামায়াতে ইসলামীর মালিকানাধীন পাঁচটি দোকান ভাংচুর ও তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। নওগাঁয় নয়া দিগন্ত, আমার দেশ, সংগ্রাম, ইনকিলাবসহ ঢাকা ও বগুড়া থেকে আসা সব পত্রিকায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একদল যুবক। শনিবার বেলা ১১টায় শহরের নওজোয়ান মাঠের সামনে পত্রিকাবাহী গাড়ি থেকে প্যাকেট নামিয়ে সড়কের ওপর নিয়ে আগুন দেয় তারা। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী শহরে যানজট সৃষ্টি হয়।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা জামায়াত অফিস ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগ। দেশব্যাপী ১৪ দলের বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৩ দলবিহীন আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে পাথরঘাটায় মিছিল বের করে। মিছিলটি ইমান আলী সড়কের মাথায় অবস্থিত জামায়াত অফিস অতিক্রমকালে শহিদুল­v, ওয়ালিদ মক্কি ও মারচফের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কিছু উচ্ছৃংখল কর্মী জামায়াত অফিস ভাঙচুর করে। এ সময় পৌরশহরের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি নাসির সরদারের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ ব্যাপক তান্ডব চালায়। বরিশাল নগরীর বাংলাবাজারে ইবনে সিনার জোনাল ডিপোতে হামলা ও ভাঙচুর করে তিন কর্মচারীকে মারধর করা হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের হাতে নিহত ৩৬

গত চার বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের হতে নিহত ছাত্রের সংখ্যা ৩৬ জন। সকল মিডিয়া গুলোতে ছাত্রলীগের একের পর এক অপকর্মের সচিত্র প্রতিবেদন প্রচার হতে থাকলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের অভিভাবকত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। তবে এর পরেও কী প্রতিকার হল। কি বিভৎসতা ! শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগ নিজদের ও প্রতিপক্ষের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে কমপক্ষে পাঁচশতবার। এর মধ্যে ছাত্রশিবিরের ৬ জন, ছাত্রদলের ১জন, ছাত্রমৈত্রীর ১জন নেতা কর্মী এবং অরাজনৈতিক তিনজন ছাত্র হত্যাসহ নিজদের অন্তঃকোন্দলে নিহত হয় অন্তত ৩৬ জন। দেশের সচেতন মহলের প্রশ্ন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফারচক হত্যাকান্ডের পর সারা দেশে শিবিরের নির্দোষ নেতা-কর্মীদের বিরচদ্ধে কথিত চিরনী অভিযানে শত শত ছাত্র গ্রেফতার করা হয়েছে। অথচ ৩৬ ছাত্রের খুনিরা প্রকাশ্যে দিবালোকে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাহলে সরকার দলীয় খুনিরা কি আইনের ঊর্ধ্বে? মাত্র কয়েক দিন আগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভিসি পদত্যাগের আন্দোলন শুরচ করলে ছাত্রলীগ আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর এসিড নিক্ষেপ করে। এতে দু’জন শিক্ষকসহ বেশ ক’জন ছাত্র-ছাত্রী মারাত্মকভাবে এসিড দ্বগ্ধ হন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিাষ্ঠানে শিক্ষকরা ছাত্রলীগ কর্তৃক আক্রান্ত হয়েছেন।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন- ভর্তিবাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্বসহ নানা অপকর্মের কারণে মহাজোট সরকারের সব অর্জন ¤­vন হতে চলছে; ছাত্রলীগের আগ্রাসী কর্মকান্ডে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও অসহায়।

এছাড়া ৯ ডিসেম্বর ২০১২ সালে ১৮ দলের ডাকে হরতাল চলা কালে ছাত্র শিবিরের কর্মী সন্দেহে নির্মম ভাবে চাপাতির আঘাতে নিহত হয়েছে টেইলর কর্মী বিশ্বজিৎ।

পুলিশের হামলা মামলার শিকার শিবির

ক্ষমতার মসনদে বসার পর মধ্য নবেম্বর পর্যন্ত শুধু শিবিরের বিরচদ্ধে সরকার সাজানো মামলা দিয়েছে প্রায় ২ হাজার। বিভিন্ন মামলায় আসামী করা হয়েছে ২ লাখের অধিক নেতা-কর্মীকে। বিভিন্ন সময়ে কারাবাস করেছেন বিশ হাজারের বেশি নেতা-কর্মী। শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তো এখন জেলে। এর বাইরে যারা এখন নেতৃত্বে আছেন তাদের বিরচদ্ধেও রয়েছে হুলিয়া। ৪০ জন নেতা-কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। হাইকোর্টের রচল জারির পরও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন মেধাবী ছাত্রনেতা ওয়ালিউল­vহ ও আল-মুকাদ্দাসকে এখনও কোর্টে হাজির করা হয়নি। তাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করে যাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৬শ’। অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে ছাত্রশিবিরের প্রায় শতাধিক কার্যালয়ে। ৮৫ ভাগ মুসলমানের দেশে পবিত্র কুরআনে আগুন জ্বালিয়েছে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা।

গ্রেফতার বাণিজ্য ও লুটপাটের মহোৎসব

গ্রেফতার ও তল­vশির নামে জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীদের বাসাবাড়ি ও মেসগুলো থেকে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগ সন্ত্রাসীরা কম্পিউটার, আলমারি প্রভৃতি দামি জিনিস লুট করে নিয়ে যাচ্ছে অবলীলায়। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও লুটপাট চালিয়েছে সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনগুলোর উচ্ছৃঙ্খল নেতা-কর্মীরা। বাসাবাড়ি, মেসে গ্রেফতার ও তল­vশির সময় অনেক সাধারণ ছাত্রকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে ‘শিবির’ ধরার কোটা পূরণ করার জন্য। সাধারণ অভিভাবক যাদের সন্তান মেসে থেকে পড়াশোনা করে তারা এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

রাজপথে কী ঘটছে আর কী প্রচার হচ্ছে?

সকল বাধা উপেক্ষা করে আজ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার বলে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথে আন্দোলন করছে। গত ৫ ও ৬ নবেম্বর দেশব্যাপী পূর্ব-ঘোষিত, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ছিল। কিন্তু সারা বিশ্বের মানুষ সেদিন বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেছে প্রতিটি কর্মসূচিতে সরকারের প্রত্যক্ষ নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী আচরণ করেছে। মিছিলে হামলা, লাঠিচার্জ, ব্যাপক টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও গুলী চালানো হয়েছে। এতে প্রায় দেড় সহস্রাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। গুলীবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে একজনের। ৫ জনের চোখ চিরদিনের জন্য নষ্ট হয়ে গেছে। এখনো অনেক ভাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে দিনাতিপাত করছেন। এই ঘটনার রেশ ধরে সারাদেশে প্রায় ৩৮০টি মামলা করা হয়েছে। এঘটনায় পুলিশ চার হাজারের বেশি নেতাকর্মী গ্রেফতার করেছে। অথচ সরকার কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় চাপ প্রয়োগ করে জামায়াত ও শিবিরকে বরং পুলিশের ওপর আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত করার হীন অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। পুলিশের মধ্যে অতি উৎসাহী কিছু দলীয় ক্যাডার ও পুলিশের পোশাকধারী ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা কর্মসূচিগুলোতে হামলা করছে প্রতিনিয়ত। গায়ে পুলিশের পোশাক ও পায়ে চামড়ার স্যান্ডেল পরিহিত অবস্থায় মিছিলের ওপর গুলীবর্ষণরত একাধিক যুবকের ছবি ইন্টারনেটে সার্চ দিলে পাওয়া যাবে। ডিউটিরত অবস্থায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তা চামড়ার স্যান্ডেল পরতে পারেন কি?

পুলিশকে কে পেটায়?

জাতীয় দৈনিকের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১২ সালের ২৪ ফেব্রচয়ারি বেনাপোলে ছাত্রলীগ পুলিশকে ধরে বেধড়ক পিটিয়েছে। একই বছরের ১১ নবেম্বর বগুড়ায় জামায়াত-শিবির বিরোধী মিছিল থেকে যুবলীগের সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে কোদাল দিয়ে পুলিশের মাথা ফাটিয়ে দেয়। ২৫ নবেম্বর চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ পুলিশের ওপর হামলা করেছে। ২২ নবেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরচল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতিকে ধরতে পুলিশ সূত্রাপুরে অভিযান চালাতে গেলে ছাত্রলীগের হামলায় ৬ জন পুলিশ আহত হন। গত ১৭ জানুয়ারি ইবিতে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষের সময় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সজিব পুলিশের হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে হামলা করে যা সকল মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যাবে ব্যক্তিগত স্বার্থে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পুলিশকে পেটাচ্ছে। এ ব্যাপারে পুলিশ ও প্রশাসন নির্বিকার। অথচ শিবিরের কর্মীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে প্রাণ রক্ষার তাগিদে প্রতিরোধ গড়ে তুললে সেটার নাম দেয়া হচ্ছে ‘জঙ্গি’ হামলা। দ্বৈতনীতিরও একটা সীমারেখা থাকা উচিত।

পুলিশের গায়ে আগুন নাটক

জয়পুরহাটে পুলিশের গুলীতে নিহত শহীদ বদিউজ্জামানের হত্যার প্রতিবাদে হরতাল চলাকালীন সময়ে পুলিশের গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ শিবিরের ওপর দেয়া হয়েছে। অথচ এটা যে সম্পূর্ণ সাজানো ও মিথ্যা তা পরে প্রমাণিত হয়েছে। কোনো টিভি চ্যানেল বা পত্রিকায় কথিত আহত পুলিশ সদস্যের কোনো ফুটেজ বা ছবি আপনারাও দেখেননি।

ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী সংগঠন

কিছু দিন পরপরই পত্রিকার শিরোনাম হয় ছাত্রলীগ। চাপাতিলীগ খ্যাত এই ছাত্রসংগঠনের দেশজুড়ে বর্বর তান্ডব কার না অজানা। খুন, হত্যা, টেন্ডারবাজি, ভর্তি-বাণিজ্য আর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নে এখন এক ত্রাসের নাম ছাত্রলীগ।

সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্র, সন্ত্রাস ও পুলিশের সহায়তায় একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে ছাত্রলীগ। একক নিয়ন্ত্রণের সুযোগে তারা যেমন ভিন্নমতের শিক্ষকদের ওপর হামলা-নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে, তেমনি অবৈধ অর্থ-বিত্তের মালিক হতে টেন্ডার ও চাঁদাবাজি এবং ভর্তি-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থের ভাগাভাগি নিয়েই চলে গ্রচপের আধিপত্য বিস্তারের পালা। আর তা নিয়েই অস্ত্রের ঝনঝনানি ও গোলাগুলীর সৃষ্টি হয়। এতে কখনও জীবন হারাচ্ছে সাধারণ ছাত্র, পথচারী এমনকি শিশু। আবার কখনও নিহত হন ছাত্রসংগঠনের কর্মী।

ছাত্রলীগের বেপরোয়া আচরণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে ক্ষমতার প্রথম বছরে সাংগঠনিক নেত্রীর পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সংগঠনটিকে ‘ভ্রাতৃপ্রতীম’ আখ্যা দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন থেকে অন্যসব ক্ষেত্রে আগের মতোই ভূমিকা রাখছেন তিনি। তবে ছাত্রলীগের লাগাম টেনে ধরতে আর কোনো নিয়ন্ত্রক নেই। গত চার বছরে শিক্ষাঙ্গনে নির্যাতক ও লুটেরার ভূমিকায় ছিল এ সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।

সর্বশেষ গত বছরের শেষ দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীরের আহবানে বিরোধী দল ও মত দমনে নামে ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা। পুলিশ-র‌্যাবকে সহযোগিতা করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাত্রলীগ-যুবলীগকে আহবান জানিয়েছিলেন। আর এতে ছাত্রলীগ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের শিকার হয়ে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ বছরের শিশু রাববী, ৯ ডিসেম্বর পুরানো ঢাকায় বিশ্বজিৎ, সিরাজগঞ্জে হযরত আলীসহ বেশক’জন মানুষ জীবন হারান। বছরের শুরচতে ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে হামলায় নিহত হন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক আবদুল মালেক জনি।

দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলা ও থানা শহরে প্রায় প্রতিদিনই চলছে ছাত্রলীগের তান্ডব। এসব তান্ডবে পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোও অসহায় হয়ে ছাত্রলীগের মার থেকে নিজেদের রক্ষা করে চলছে। তবে ছাত্রলীগের নিপীড়নের বিরচদ্ধে রচখে দাঁড়ায় ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সাধারণ গ্রামবাসী। ১০ বছরের শিশু রাববীর জীবন কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদে তারা ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের ওপর পাল্টা আঘাত হানে। প্রতিরোধের মুখে সশস্ত্র ক্যাডাররা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা বিশ্ববিদ্যালয়টির দুটি আবাসিক হলে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর চালায়। এভাবে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশ এলাকায় খুন, হত্যা, টেন্ডারবাজিসহ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসে ক্ষুব্ধ হয়ে আছে মানুষ।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত চার বছরে সারাদেশে ছাত্রলীগের হাতে ২৪ মেধাবী ছাত্র নির্মম হত্যার শিকার হন। কমপক্ষে চার শতাধিক বার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগ। শিক্ষকদের ওপর হামলা চালায় অর্ধশতাধিকবার। শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্ধারিতভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

বাংলাদেশ ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রচপের গোলাগুলীতে ১০ বছরের শিশু রাববী হত্যার ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তুলেছে। গত চার বছরে দুই ডজন মানুষ ছাত্রলীগের হাতে খুন হয়। গত এক বছরে তারা খুন করেছে ৯ জনকে। গত ৯ ডিসেম্বর পুরানো ঢাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে বিশ্বজিতকে হত্যার মধ্য দিয়ে ২০১২ সালকে বিদায় জানায় ছাত্রলীগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের সামনে সাংবাদিক পিটিয়ে ৫ জানুয়ারি সরকারের ক্ষমতার চার বছরের শেষ দিন উদযাপন করে তারা। আর রাজধানীর তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ফেল করা ছাত্রদের পাস করানোর দাবিতে তান্ডব চালিয়ে ৬ জানুয়ারি ক্ষমতার চার বছর পূর্তি উৎসব করে এ সংগঠনটি। এরপর ১৯ জানুয়ারি বাকৃবিতে রাববী হত্যা, ১০ ও ১২ জানুয়ারি রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বর্বর নির্যাতনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার শেষ বছরকে স্বাগত জানায় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। এখন প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে দেশজুড়ে তাদের ভয়ঙ্কর রূপ।

বাকৃবিতে ক্রসফায়ারে শিশু হত্যা : বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রচপের মধ্যে পরপর চারদিন সংঘর্ষ হয়। চলে বন্দুকযুদ্ধ। আর তাতে দু’পক্ষেও ক্রসফায়ারে জীবন হারান ১০ বছর বয়সী শিশু রাববী। মর্মান্তিক এ হত্যাকান্ডের জেরে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগকে প্রতিরোধ করে। তারা শহীদ জামাল হোসেন হল ও ঈশা খাঁ হলসহ চারটি হলে অগ্নিসংযোগ এবং ভাংচুর চালায়। এতে কমপক্ষে ৫০টি কক্ষ পুড়ে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়।

নিহত শিশু রাববীর বাবা টেম্পো চালক। বাকৃবির জববার মোড় এলাকায় তার দাদি গরচ চরাচ্ছিলেন। সে দাদিকে ডেকে আনতে গিয়ে ছাত্রলীগের বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। রাববী ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বয়রা এলাকার দরিদ্র দুলাল মিয়া ও মুনিরা বেগমের একমাত্র ছেলে। শিশু সন্ত্রানকে হারিয়ে বাবা-মা এখন নির্বাক। পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস : ছাত্রলীগের সন্ত্রাসে জিম্মি হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে ছাত্রলীগই সবকিছু। সংগঠনটির নেতা-কর্মীরাই প্রশাসন, কর্তৃপক্ষ ও নির্যাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। প্রতিনিয়ত চলছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নির্যাতন। শিক্ষকদের গণপিটুনি সেখানে থেমে থেমেই চলছে। প্রতিবাদ জানানোর কেউ নেই। শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছাত্রদলের কর্মীরা ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হন। সশস্ত্র ক্যাডাররা নিজেদের মজুদ অস্ত্রের পাশাপাশি পুলিশের শটগান কেড়ে নিয়ে ছাত্রদল কর্মীদের গুলী করে। এতে ইবি ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কমপক্ষে ৬০ জন আহত হয়।

এর আগে গত ১২ জানুয়ারি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। পুলিশের সামনেই দেশী-বিদেশী অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৪০ জন শিক্ষককে আহত করে তারা। এরআগে ১৯ নবেম্বরও শিক্ষকদের ওপর হামলা চালিয়েছিল তারা। ছাত্রলীগের ত্রাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছেন। এমনকি আহত শিক্ষকরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় ক্যাম্পাস কিংবা কুষ্টিয়ায় না গিয়ে ঝিনাইদহের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ইবি ছাত্রলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান তুহিনের নেতৃত্বে এ হামলা হওয়ায় পুলিশ প্রশাসনও শিক্ষকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিচ্ছেন না। শিক্ষক সমিতিতে ছাত্রলীগ তালা ঝুলিয়ে দেয়। রড দিয়ে শিক্ষকদের পেটানোর সময় ছাত্রলীগ ক্যাডারদের একটি মন্তব্য দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় তোলে। আর তা ছিল- ‘পেটানোর নাম যেহেতু হবেই, তাহলে একটি কষিয়ে পেটাই’, ‘যে রকম কুকুর, সে রকম মুগুর’সহ অনেক সন্ত্রাসী উক্তি করে তারা। পুলিশের সামনেই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগের এ হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে শিক্ষকদের আর্তচিৎকারে পুরো ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকে ছাত্রলীগের হাতে পুরোপুরি জিম্মি হয়ে আছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর এসিড সন্ত্রাস : গত ১০ জানুয়ারি রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা নৃশংস বর্বরতাকেও হার মানায়। ভিসিবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ওপর দেশীও অস্ত্র দিয়ে হামলার পাশাপাশি এসিড সন্ত্রাস চালায় তারা। এসিড দিয়ে ঝলসে দেয় কয়েক শিক্ষকের মুখমন্ডল ও শরীর। গুরচতর আহত ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ড. মতিউর রহমান ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। হামলার সময় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা ক্যাম্পাসে অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করলেও কাউকে গ্রেফতার করেনি। এমনকি হামলার সময় উপস্থিত পুলিশ কাউকে বাধাও দেয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

রংপুর মেডিকেলে মধ্যরাতে ছাত্রী নিপীড়ন : গত ৯ জানুয়ারি মধ্যরাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজানুর রহমান মিরাজ ও সাধারণ সম্পাদক সুমন প্রধানের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন ক্যাডার লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্রী হোস্টেলে প্রবেশ করে। এ সময় তারা ইন্টার্নি চিকিৎসক ও ছাত্রীদের মারধর, অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং কয়েকজন ছাত্রীর শ­xলতাহানি করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হন ১০ ছাত্রী ও ইন্টার্নি চিকিৎসক।

পিসি কলেজে শিক্ষকের ওপর হামলা : ৮ জানুয়ারি বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহ আলম ফরাজীর ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এ ঘটনার প্রতিবাদে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন ও মৌন মিছিল করে।

মাগুরায় পুলিশের সামনে ছাত্রলীগের টেন্ডার ছিনতাই : ৭ জানুয়ারি ছাত্রলীগের একটি সশস্ত্র গ্রচপ পুলিশের উপস্থিতিতে মাগুরা গণপূর্ত বিভাগের অর্ধ কোটি টাকার সিআইডি অফিস ভবন নির্মাণের দরপত্র ছিনতাই করে। টেন্ডার ছিনতাইয়ের পর আওয়ামী লীগ দলীয় দু’দল ঠিকাদার গ্রচপের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।

ফেল করা ছাত্রদের পাসের দাবিতে ঢাকা পলিটেকনিকে তান্ডব : ক্ষমতার চার বছর পূর্তির দিনে ফেল করা ছাত্রদের পাস করানোর দাবি নিয়ে তেজগাঁওয়ে অবস্থতি ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ব্যাপক তান্ডব চালায় ছাত্রলীগ। হামলায় শিক্ষক-কর্মচারীসহ ১০ জন আহত হন। ছাত্রলীগের তান্ডবের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে। কলেজের দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষায় বিভিন্ন বিভাগের ৫০৩ জন শিক্ষার্থী ফেল করে। এর মধ্যে কেউ এক বিষয়ে আবার কেউ দুই বিষয়ে রেফার্ড পায়। শিক্ষা অধিদফতরের নিয়ম অনুযায়ী ৪০ দিন পর এসব ছাত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু তাদের পাস করিয়ে দেয়ার দাবি নিয়ে ছাত্রলীগ এ হামলা চালায়।

একইদিনে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসে বসা নিয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রচপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে ও তাতে ৫ জন আহত হয়।

চার বছরে ছাত্রলীগের নানা সংঘর্ষ: গত চার বছরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৮৭টি সংঘর্ষ করেছে ছাত্রলীগ। তার মধ্যে বিভিন্ন থানা ও জেলা শাখায় হয় ৪৮টি। এতে প্রতিপক্ষের ছাত্র আহত হয়েছেন ৩ হাজার ১৪৫ জন। পুলিশ, সাংবাদিক, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, ছাত্রীর অভিভাবক বাদী হয়ে ও নিজেদের এক গ্রচপ অপর গ্রচপের বিরচদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে ৫৪২ জনের বিরচদ্ধে, যার মধ্যে ৪৯৫ জনকে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া অন্য সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন এলাকাবাসীর ওপর হামলা করে ৫৬টি।

২০০৯ সালের ১৩ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি শরিফুজ্জামান নোমানীকে হত্যার মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ খুনের কার্যক্রম শুরচ করে। এই ধারাবাহিকতা এতটাই লম্বা হয়েছে যে, তারা চার বছরে ২৪ জন ছাত্রকে হত্যা করেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখে তেজগাঁও পলিটেকনিক্যালে ছাত্রলীগের দু’গ্রচপের সংঘর্ষে আহত হয় ২০ জন। ১১ তারিখে রাবিতে ছাত্রদলের উপর হামলায় আহত হয় ৩০ জন। আগস্ট মাসে ইবিতে চাকরি বাণিজ্য নিয়ে ছাত্রলীগ তান্ডব চালায়। এতে আহত হয় ৪০ জন। ৬ তারিখে জমি দখলকে কেন্দ্র করে ৬ জনকে আহত করে। জুলাই মাসে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ২৭ জনকে আহত করে। ২৪ তারিখে খুলনায় ৮ কোটি টাকায় টেন্ডার জমাকে কেন্দ্র করে পুলিশ সাংবাদিকসহ ৫ জনকে আহত করে। ২৫ তারিখে কুড়িগ্রামে ফুলবাড়ীতে পুলিশের ২ এসআইকে আহত করে। ২৪ তারিখে যশোরের আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. আব্দুল গফুরকে কুপিয়ে আহত করে। ১৬ তারিখে রাবিতে দু’গ্রচপের সংঘর্ষে নিজ দলের কর্মী সোহেলকে হত্যা করে। ৮ তারিখে সিলেটের ঐতিহাসিক এমসি কলেজে আগুন লাগিয়ে ছাত্রাবাস পুড়িয়ে দেয়। ২ তারিখে বরিশাল মেডিকেলে ছাত্রদলের ওপর হামলা চালিয়ে ১০ জনকে আহত করে। ১ তারিখে সিলেটের দক্ষিণ ডিগ্রি কলেজে ৫ জন শিবির কর্মীসহ ৩৫ জনকে আহত করে। জুন মাসের ২৮ তারিখে নেত্রকোনায় রামদা মিছিল বের করে। ২২ তারিখে ঢাকা কলেজের ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে ৩ হাজার অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন মাদারীপুরে পুলিশের উপর হামলা করে ৬ পুলিশকে আহত করে। ৯ তারিখে শাবিপ্রবিতে ফাহিম মাহফুজ নামের কর্মীকে হত্যা করে। ৪ তারিখে যশোরের এমএম কলেজে মোশাররফ নামের ছাত্রকে আহত করে। মে মাসের ২২ তারিখে ঢাবিতে মারপিট করে টাকা ও ল্যাপটপ লুট করে নিয়ে যায়। ১৬ তারিখে রাজশাহীতে সানি হত্যা মামলায় ছাত্রলীগের ২ জনের মৃত্যুদন্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়। ১৪ তারিখে সিলেটের সালিয়াগ্রামের জমি দখল করতে গিয়ে ৫০ জন গ্রামবাসীকে আহত করে। পুলিশ ২০ জন নেতা-কর্মীকে আটক করে। এপ্রিল মাসের ১৩ তারিখে জবিতে দু’গ্রচপের সংঘর্ষে ৭ জনকে আহত করে ও ১৭ জনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২৮ তারিখে জাবিতে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ওপর হামলা করে ৭ জনকে গুরচতর আহত করে। ২৯ তারিখে ঢাকা কলেজে দু’গ্রচপের সংঘর্ষে ২৫ জনকে আহত করে। ২৫ তারিখে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ডাক্তারদের উপর হামলা করে। ১১ তারিখে চাঁদপুরের বিল­vল নামের নিজ দলীয় কর্মীকে হত্যা করে। ৮ তারিখে বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশনে হামলা চালায়। ২৯ মার্চ ঝালকাঠিতে ২০ লাখ টাকার টেন্ডার নিয়ে দু’গ্রচপের মাঝে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়। ২১ তারিখে ছাত্রলীগ পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের সাথে সংঘর্ষ করে ১ জন নিহত হয়। ২৮ তারিখে ফাও মদ খাওয়াকে কেন্দ্র করে তিতুমীর কলেজে হামলা চালায়। ১৩ তারিখে বিএনপির মহাসমাবেশে আগত লোকদের ওপর জায়গায় জায়গায় হামলা চালায়। ফেব্রচয়ারি মাসের ২৭ তারিখে রাজশাহীর পটিয়ায় ছাত্রী অপহরণ করে। এতে গ্রামবাসী ৩ জনকে ধরে পুলিশে দেয়। ১৪ তারিখে পিস্তলসহ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় উপ-বিজ্ঞান সম্পাদক মোস্তাকিম মোরশেদ গ্রেফতার হন। ১১ তারিখে সলিমুল­vহ মেডিকেল কলেজে হামলা চালিয়ে ৩৩টি রচম ভাংচুর করে ৭ জনকে আহত করে। ১৩ তারিখে দিনাজপুরের টেক্সটাইল কলেজ বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৪ তারিখে পটুয়াখালী জেলা পরিষদের ২৫০ কোটি টাকার টেন্ডার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পহেলা জানুয়ারিতে রাবিতে পুলিশ ও শিবির কর্মীকে কুপিয়ে যখম করে। ৪ তারিখে খুলনার আজম খান কলেজে ছাত্রদলের সাথে সংঘর্ষ বাধিয়ে ১১০ জনকে আহত করে। ২৪ তারিখে জাবিতে ছাত্রকল্যাণ সমিতির চাঁদাবাজিতে দু’গ্রচপের সংঘর্ষে ১৫ জনকে আহত করে। ২৫ তারিখে বরিশালে বিএনপির অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ১০ জনকে আহত করে। ১৭ তারিখে মৌলভীবাজারে ওরসের চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ৩০ জনকে আহত করে। ৯ তারিখে জাবিতে ৪ জন ছাত্রকে ৩ ও ৪ তলা থেকে নিচে ফেলে দিয়ে আহত করে। শাবিপ্রবিতে ৯ তারিখে জুবায়েরকে হত্যা ১২ তারিখে হামলা চালিয়ে ২০ জনকে আহত করে। ৪ তারিখে সাংবাদিক ও পুলিশসহ ২৫ জনকে আহত করে। ৭ তারিখে নাটোরে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে জেলা সাধারণ সম্পাদক আতিকুজ্জামান ও সরোয়ার জামান প্রিন্স গ্রেফতার হয়। ৫ তারিখে রংপুরের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ওপর হামলা চালিয়ে ২৫ জনকে আহত করে। ৩ তারিখে শাবিপ্রবি, কুয়েট, ঢাবি ও বুয়েটে হামলা চালিয়ে ৭০ জনকে আহত করে। ২৮ তারিখে ঢাকা পলিটেকনিক্যালে দু’গ্রচপের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়। ২৫ তারিখে মাগুরায় খাবার বিতরণকে কেন্দ্র করে নিজ দলীয় কর্মী আল আমীনকে হত্যা করে। ৩ তারিখে জবিতে ছাত্রজোটের ১৫ কর্মীকে আহত করে। ২ তারিখে কুয়েটে ৬ শিক্ষকসহ ২০জনকে আহত করে। ২ তারিখে রাবি, কুয়েট, ঢাবিতে হামলা চালিয়ে ৬০ জনকে আহত করে। ১ তারিখে রাবিতে পুলিশ ও শিবির কর্মীকে কুপিয়ে যখম করে। ২০১১ সালের ২৫ অক্টোবর ইবিতে শিবিরের ওপর হামলা চালিয়ে ২০ জন নেতা-কর্মীকে আহত করে। ২৬ ডিসেম্বরে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ৬ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়। ২৪ তারিখে খুলনার আজম খান কলেজে হামলা চালিয়ে ১৫ জনকে আহত করে। ১৯ তারিখে সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ১০ জনকে আহত করে। ২৫ তারিখে চট্টগ্রামে আদালত চত্বরে কর্নেল অলির ওপর হামলা চালিয়ে ৩০ জনকে আহত করে। ১২ তারিখে ছাত্রদল ও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ১২ জনকে আহত করে। নবেম্বরের ১৫ তারিখে বি-বাড়িয়ায় হামলা চালিয়ে ৮ পুলিশকে আহত করে। ১৪ তারিখে সিলেটের মদনমোহন কলেজে অবৈধভাবে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ভাংচুর চালায়। একই দিন বরিশালের কেশবপুরে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা চালিয়ে ১৫ জনকে আহত করে। ১০ তারিখে নাজিরপুর থানায় হামলা চালায়। ২৩ অক্টোবর ছাত্রদল কর্মী আবিদকে হত্যা করে। ১১ তারিখে ফেনীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১২ গ্রচপের ২২ কোটি টাকার টেন্ডার ছিনিয়ে নেয়। ৫ তারিখে শীতলক্ষ্যায় হামলা চালিয়ে ৬ জনকে আহত করে। ২ তারিখে এমবিবিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রতারণায় জড়িত থাকার অভিযোগ ৫২ জনের বিরচদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তা মেরামতের ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার টেন্ডার ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে যায়। ২২ তারিখে ঢাবিতে দু’গ্রচপের সংঘর্ষে ৯ জন আহত হয়। ২১ তারিখে তেজগাঁও পলিটেকনিক্যালে ফাও খেতে গিয়ে সংঘর্ষ বাধিয়ে রাইসুল নামের কর্মীকে নিজেরাই হত্যা করে। ১২ তারিখে বগুড়ায় ছাত্রদলের ওপর হামলা চালায়। আগস্ট মাসের ২৯ তারিখে গাজীপুর পৌরসভার ৪৩টি প্রকল্পের ১৮ কোটি টাকার টেন্ডার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ২৫ তারিখে বরিশাল জেলার সেতু বিক্রি করে দেয়। ১৮ তারিখে কিশোরগঞ্জ জেলার টেন্ডার ছিনতাই করে। ১৬ তারিখে ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবি নজরচল বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’গ্রচপের সংঘর্ষে ১১ জন আহত হয়। ১৫ তারিখে সিলেটের মেট্রো ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে হামলা ও ভাংচুর করে ৬ জনকে আহত করে। ৯ তারিখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ শিক্ষককে আহত করে।

শিক্ষক লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত : আওয়ামী সরকারের প্রায় চার বছরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের হাতে অন্তত ৮০ জন শিক্ষক লাঞ্ছিত ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ছাত্রলীগের হাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও আবাসিক হলে অন্তত ২০ শিক্ষক লাঞ্ছিত ও হামলার শিকার হয়েছে। লাঞ্ছনার শিকার হয়ে বেশ কয়েকটি হলের প্রভোস্ট পদত্যাগ করতে পর্যন্ত বাধ্য হন। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও লাঞ্ছিত করে চলেছে। ২০১১ সালের ২০ আগস্ট বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করে। ২৩ নবেম্বর ইউনিফর্ম ছাড়া এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে না দেয়ায় নোয়াখালী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জুলফিকার হায়দারকে ছাত্রলীগ নেতা সোহরাব ইকবাল লাঞ্ছিত করে। গত বছরের ২২ জানুয়ারি মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এফ রহমান হলের ছাত্রলীগ নেতাদের আবাসিক মেয়াদ শেষ হওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের হাতে তিন শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। শিক্ষকরা হলেন প্রাধক্ষ্য আজিজুর রহমান, হলের আবাসিক শিক্ষক মাহবুব কায়সার ও অধ্যাপক আশফাক হোসেন। ২২ মার্চ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মাছপাড়া ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যসহ তিনজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। এর আগে ২০১০ সালের ২৫ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ ক্যাডাররা লাঞ্ছিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষককে। একই বছরের ১০ মে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসে হামলা চালিয়ে এক শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত ও ১০ ছাত্রীকে আহত করে। ১১ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের দু’শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে।

শতাধিক সাংবাদিক লাঞ্ছিত : গত ৪ বছরে ঢাবি, জবি, জাবি, চবি, রাবি, কুবি, ইডেন কলেজ, ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন জেলা ও শহরে ছাত্রলীগের হাতে দেড় শতাধিকের বেশি সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়েছেন। নির্যাতিত হয়েছেন প্রায় আরো শতাধিক।

ছাত্রী উত্ত্যক্ত ও ধর্ষণ : গত ৪ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানে শতাধিক নারী ও ছাত্রী উত্ত্যক্ত, লাঞ্ছনা ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১০ সালে বৈশাখী অনুষ্ঠান ও থার্টিফাস্ট নাইটের অনুষ্ঠানে অন্তত ২০ নারী ও ছাত্রী লাঞ্ছিত হন ছাত্রলীগের হাতে। জাহাঙ্গীরনগরে ঘটেছে ছাত্রী উত্ত্যক্তের ঘটনা। বরিশাল বিএম কলেজের এক ছাত্রীর নগ্ন দৃশ্য এক ছাত্রলীগ কর্মী মোবাইলে ধারণ করায় ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করে। ২০১০ সালের ২৬ এপ্রিল দিনে-দুপুরে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এক ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। ২০১০ সালের ২ অক্টোবর বরিশালের মুলাদীতে ছাত্রলীগ কর্মীরা ধর্ষণ করেছে দু’বোনকে।

দেহব্যবসা : দেহ ব্যবসার সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা-নেত্রীদের জড়িত থাকার অভিযোগও ছিল গত ৪ বছরের আলোচিত ঘটনা। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা এবং কয়েকটি শাখা কমিটির নেতা-নেত্রীদের বিরচদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ছাত্রী হল, ইডেন সরকারি মহিলা কলেজ, বদরচন্নেসা মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেত্রীদের বিরচদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে। এছাড়া সংগঠনটির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাও ওই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, নিজ সংগঠন এবং এর বাইরে সুন্দরী মেয়েদের জোর করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসায় মনোরঞ্জনের জন্য পাঠানো হতো। আবার অনেকে দলে পদ পেতে নিজ ইচ্ছায় যেত। এছাড়া সরকারের মন্ত্রী, এমপি, প্রভাবশালী নেতা, ব্যবসায়ীদের মনোরঞ্জনের জন্য দেহব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগ।

টেন্ডার-চাঁদাবাজি : দেশের প্রায় সব বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও শহরে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজিতে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগ। চাঁদা না দেয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান ও দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়। রাজধানীর শিক্ষাভবন, গণপূর্ত ভবন, খাদ্য ভবন থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার টেন্ডার বাগিয়ে নেয় ছাত্রলীগ। নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি নিয়ে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষও হয়েছে। চাঁদা দিতে দেরি বা অপারগতা প্রকাশ করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন জেলা শহরের বড় বাজেটের উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া বিভিন্ন মার্কেট ও উৎসব থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের দৌরাত্ম্যে ৭০-৮০টি কলেজের উন্নয়ন অনিশ্চিত হয়ে যায়। ৬৫৫ কোটি ১২ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাগিয়ে নেয় ছাত্রলীগ। এসব অপকর্মে ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরচ করে পাতি নেতারাও জড়িয়ে পড়েন।

ভর্তি ও নিয়োগ বাণিজ্য : গত ৪ বছরে বিভিন্ন মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তি এবং নিয়োগ বাণিজ্য হয় রমরমা। বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মেডিকেলে ভর্তি এবং চাকরি দেয়ার নামে শত কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছে ছাত্রলীগ। একেকজন প্রার্থীর কাছ থেকে এজন্য ১ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। অনার্স ভর্তিতে বড় বড় অনার্স কলেজে প্রশাসনকে জিম্মি করে ছাত্রলীগ কোটার নামে হাজার হাজার ছাত্র ভর্তি করা হয়। ৩০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। রাজধানীতে ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, তিতুমীর কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ, কবি নজরচল কলেজ, বদরচন্নেসা কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ, খুলনা কমার্স কলেজ, বিএল কলেজ, রাজশাহী সিটি কলেজ, মহিলা নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহী কলেজ, বরিশালের বিএম কলেজ, সিটি কলেজ, চট্টগ্রামের সিটি কলেজ ও মুহসীন কলেজে ভর্তি বাণিজ্য ছিল আলোচিত। ভর্তি ও নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন ছাত্রলীগের পাতি নেতা থেকে শুরচ করে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পর্যন্ত।

পৈশাচিক কায়দায় বিশ্বজিৎকে হত্যা

গত ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলীয় জোটের অবরোধের দিন পুরান ঢাকা ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে বিএনপির মিছিল করলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ওই সময় বিএনপি সমর্থকরাসহ পথচারীরা আতঙ্কিত হয়ে প্রাণের ভয়ে দিকবিদিক দৌড়াতে থাকে। অন্যদের মতো পুরান ঢাকার বাসিন্দা দর্জি দোকানী বিশ্বজিৎ দাসও দৌড়াতে থাকে। কিন্তু ছাত্রলীগের ক্যাডাররা তাকে টার্গেট করে একটি মার্কেটের দোতলায় এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। রক্ষা পেতে বিশ্বজিৎ নিচে আসলে সেখানেও তাকে এলোপাতাড়ি চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও রড দিয়ে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে। মুমূর্ষু অবস্থায় মিটফোর্ড হাসপাতালে নিলে বিনা চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়। শিবির কর্মী ভেবে সেখানে দীর্ঘক্ষণ তার কোনো চিকিৎসা হয়নি।

এই হত্যাকান্ড নিয়েও রাজনীতি করতে ছাড়েনি সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো তদন্ত ছাড়াই এর দায়-দায়িত্ব বিএনপি ও জামায়াতের ওপর ছেড়ে দেয়। কিন্তু খুনিদের ছবি দলীয় পরিচয়সহ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়।

লগি-বৈঠা দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানকে হত্যা

২০১০ সালে অক্টোবর মাসে নাটোরের বনপাড়ায় বিএনপির পূর্বনির্ধারিত জনসভা উপলক্ষে শুক্রবার আয়োজিত মিছিলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল­v নূর বাবু নিহত, চার সাংবাদিকসহ আহত চলি­শ। আহত সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভাংচুর ও ছিনতাই করা হয়েছে। তারা এখন নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসারত।

শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে বনপাড়া পৌর বিএনপির উদ্যোগে মাসব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসাবে বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী এডভোকেট এম রচহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর আগমন উপলক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান ও বনপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি সানাউল­v নূর বাবুর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি উপজেলা চত্বর থেকে শুরচ হয়ে বনপাড়া বাজারে আসলে আগে থেকেই প্রস্ত্তত থাকা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জেলা আওয়ামী লীগের নেতা অধ্যাপক জাকির হোসেনের নেতৃত্বে লাঠি-সোটা ও বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অপর একটি মিছিল নিয়ে আক্রমণ করে। এ সময় বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান ও বনপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি সানাউল­v নূর বাবু গুরচতর আহত হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে কিছু সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হলেও পড়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

পৈশাচিক কায়দায় হাতুড়ি দিয়ে নির্যাতন

ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার সেক্রেটারি মুঈনুদ্দিন মৃধাকে হাতুড়ি দিয়ে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ। নির্মম নির্যাতনের পর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় সন্ত্রাসীরা। সজ্ঞাহীন অবস্থায় মুঈনুদ্দিন এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হরতালের সমর্থনে গত ৪ ফেব্রচয়ারি যাত্রাবাড়ী থানার উদ্যোগে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বের হয়ে ধুলাইপাড়ের দিকে যাওয়ার পথে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা মিছিলের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। তাদের বর্বরোচিত হামলায় ঢাকা মহানগরী শিবির সেক্রেটারি মুঈনুদ্দিন মৃধাসহ ২ জন গুরচতর আহত হয়। গুরচতর আহত শিবির নেতা মুঈনুদ্দিন মৃধাসহ ২ জনকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

এ সময় তারা মুঈনুদ্দিনকে হাতুড়ি দিয়ে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের ফলে মুঈনুদ্দিন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অবস্থা বেগতিক দেখে যুবলীগের কয়েকজন কর্মী তাকে কাঁধে নিয়ে যাত্রাবাড়ি থানায় নিয়ে যায়। যাত্রাবাড়ি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছে। চিকিৎসাধীন মুঈনুদ্দিনের অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক।

পাবনায় সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা

২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাবনায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী পদে নিয়োগ পরীক্ষা ভন্ডুল করে দেয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ সন্ত্রাসীরা। এ সময় সন্ত্রাসী হামলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিজয় ভূষণ পাল, কয়েকজন শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীসহ ১৫ জন আহত হয়। সন্ত্রাসীরা বিভাগীয় কমিশনার অফিসের ১টি গাড়িসহ জেলা প্রশাসনের ৪টি গাড়ি এবং পাবনা জেলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দরজা-জানালা ভাংচুর করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা পরীক্ষার খাতা ছিঁড়ে ফেলে এবং অগ্নিসংযোগ করে। জেলা প্রশাসন এই হামলা ও ভাংচুরের জন্য ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে দায়ী করেছে। এ ঘটনায় গোটা দেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পাবনা জেলা স্কুল ও সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরচ হয়। সকাল সোয়া ৯টার দিকে ৬০/৭০ জনের একদল যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে খাতা ও প্রশ্ন কেড়ে নেয় এবং শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীদের মারধর করে। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ তাদের বাধা দিতে গেলে যুবকরা পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং মারধর করে। এতে পাবনা সদর থানার এসআই শুকুরসহ ২ জন পুলিশ আহত হয়।

পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে কর্তব্যরত রাজশাহী বিভাগের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মোঃ মনির হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিজয় ভূষণ পাল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হালিমসহ কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট ও ঐ স্কুলের শিক্ষকের ওপরও হামলা চালায়। এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা তাদের রক্ষা করতে গেলে ঐসব সন্ত্রাসী যুবকদের হাতে আব্দুস শুকুর, আব্দুর মতিন, সিরাজুল ইসলামসহ প্রায় ১৫ জন আহত হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদসহ কয়েকজন শিক্ষক আত্মরক্ষার্থে একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে নিজেদের রক্ষা করে। অন্যরা দিগ্বিদিগ ছোটাছুটি করতে থাকে। তারা পরীক্ষা কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র খাতা কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং অনেকগুলো স্কুলের মাঠে নিয়ে এসে অগ্নিসংযোগ করে। প্রায় আধাঘণ্টা এ তান্ডব চালিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে মিছিল করে নিরাপদে বাইরে চলে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে আসে। উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীসহ ১৫ জন আহত হয়। এ সময় তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। সন্ত্রাসীরা জেলা স্কুলে ঢুকে পরীক্ষার্থীদের বের করে দেয় এবং পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়।

২৮ অক্টোবরের পৈশাচিকতা

২৮ অক্টোবর বারবার আমাদের মাঝে ফিরে আসে। কিন্তু ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের সেই লোমহর্ষক দিনের কথা কেউ কোনো দিন ভুলতে পারবে না। এ দিন দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় সূচিত হয়েছিল। প্রকাশ্য দিবালোকে লগি-বৈঠা দিয়ে তরতাজা যুবকদের পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয় এদিন।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সেদিন জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের ওপর পৈশাচিক হামলা চালিয়েছে ইতিহাসে তা নজিরবিহীন। অন্ধকার যুগের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে একুশ শতকের বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের বর্বর পাষন্ড নেতা-কর্মীরা। ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রেডিও-টিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। মূলত এ ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই দেশব্যাপী শুরচ হয় লগি-বৈঠার তান্ডব। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াত অফিসসহ নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি যেমন চালানো হয় পৈশাচিক হামলা, তেমনি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় অনেক অফিস, বাড়িঘর, পুরো দেশব্যাপী চলে তান্ডবতা।

২৮ অক্টোবর চারদলীয় জোট সরকারের ৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ ছিল বিকাল ৩টায়। সকাল থেকেই সভার মঞ্চ তৈরির কাজ চলছিল। হঠাৎ করেই বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা ও অস্ত্রধারীরা জামায়াতের সমাবেশ স্থলে হামলা চালায়। তাদের পৈশাচিক হামলায় মারাত্মক আহত হয় জামায়াত ও শিবিরের অসংখ্য নেতা-কর্মী। তাদের এই আক্রমণ ছিল সুপরিকল্পিত ও ভয়াবহ। এক পর্যায়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পল্টনের বিভিন্ন গলিতে ঢুকে পড়ে এবং নিরীহ জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বেধড়ক পেটাতে থাকে।

সেদিন পুরো পল্টনজুড়ে ছিল লগি-বৈঠা বাহিনীর তান্ডবলীলা। লগি-বৈঠা আর অস্ত্রধারীদের হাতে একের পর এক আহত হতে থাকে নিরস্ত্র জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা। তারা শিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলামকে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। লগি-বৈঠা দিয়ে একের পর এক আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিনকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা তার লাশের ওপর ওঠে নৃত্য-উল­vস করতে থাকে।

সেদিন আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা বাহিনী শুধু জামায়াতের সভা পন্ড করার জন্যই পৈশাচিক হামলা চালায়নি তারা জামায়াতকেই নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল, জামায়াতের সভামঞ্চে আগুন ধরিয়ে দিতে। প্রথম দফা হামলার পর তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে থাকে। আশপাশের ভবনের ছাদে উঠে বোমা ও বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রসহ অবস্থান নেয়। সভার শেষ দিকে মাওলানা নিজামীর বক্তব্য শুরচ হলে তারা তাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পুনরায় হামলা চালায়। একদিকে ভবনের ছাদ থেকে বৃষ্টিরমতো বোমা বর্ষণ করতে থাকে। অপরদিকে পল্টন মোড় থেকে গুলী ছুঁড়তে ছুঁড়তে লগি-বৈঠাধারীরা সমাবেশের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা তৈরি করে মানব ঢাল। এ সময় আওয়ামী অস্ত্রধারীদের ছোঁড়া গুলী মাথায় বিদ্ধ হয়ে রাজপথে লুটিয়ে পড়েন জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমান ও জুরাইনের জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিন। এ ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের ৬ জন নেতা-কর্মী শহীদ ও শতাধিক আহত হন।

হামলা ছিল পরিকল্পিত

জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে বিকেলে সমাবেশের জন্য সকাল থেকেই মঞ্চ তৈরির কাজ চলছিল। এ জন্য মঞ্চ তৈরির সাথে সংশি­ষ্ট ব্যক্তিরা ছাড়াও জামায়াত ও শিবিরের কয়েকজন নেতা-কর্মী কাছাকাছি অবস্থান করছিলো। এ সময় ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছিলো। তাই জামায়াত ও ১৪ দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি অবস্থানের কোনো সুযোগ ছিল না। বিকেলে সমাবেশ হওয়ার কারণে সকালে মঞ্চ তৈরির সংশি­ষ্ট লোক ছাড়া মিছিল করার মতো জামায়াত ও শিবিরের কোনো নেতা-কর্মী ছিলো না। হঠাৎ করেই সকাল ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিমের নেতৃত্বে লালবাগ থানা আওয়ামী লীগ লগি-বৈঠা হাতে বিশাল মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়ে আসে। মিছিলকারীরা ধর ধর বলে জামায়াত ও শিবিরের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় জিপিও এলাকায় অবস্থানরত ১৪ দলের শত শত কর্মী লগি-বৈঠা নিয়ে তাদের সাথে যোগ দেয়। ১৪ দলের কর্মীরা প্রকাশ্যে গুলী করা ছাড়াও লগি-বৈঠা নিয়ে জামায়াত-শিবির কর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একের পর এক আঘাত হানতে থাকে নিরীহ জামায়াত-শিবির কর্মীদের ওপর। মঞ্চ গুঁড়িয়ে দিতে এগিয়ে যেতে থাকে বায়তুল মোকাররম উত্তর সড়কের দিকে। এ হামলায় পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ডাঃ এইচ বি এম ইকবাল ও তার বাহিনী নিয়ে যোগ দেয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ডাঃ ইকবালকে যখন হাত নেড়ে নির্দেশ দিতে দেখা যায় তারপরই এক যুবককে ঘেরাও করে লগি-বৈঠা বাহিনী নির্মমভাবে পিটাতে থাকে। চতুর্দিক থেকে আঘাতে আঘাতে সে পড়ে যায় রাস্তার কিনারে। সাপের মতো লগি-বৈঠা দিয়ে তাকে পিটাতে থাকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার লাশের ওপর ওঠে নারকীয় কায়দায় উল­vস করে লগি-বৈঠা বাহিনী। বিকল্প পথে মঞ্চ দখলের জন্য বিজয়নগর, পল্টন মসজিদের গলি দিয়ে ঢুকে পড়ে লগি-বৈঠা বাহিনী। যেখানেই দাড়ি-টুপি দেখেছে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তারা। শিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলামকে তারা এ সময় পেয়ে যায় পল্টন মোড়ের কাছে। ঘিরে ধরে তাকে। লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে নরপিশাচরা। আঘাতে আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মুজাহিদ। তারপর ঐ পিশাচরা লগি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নিজেদের জিঘাংসা চরিতার্থ করে।

আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের মুহুর্মুহু গুলীবর্ষণ, বোমা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর আহতদের সারি বেড়েই চলছিল। আহতদের প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় জামায়াতের ঢাকা মহানগরী অফিসে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। গুরচতর আহতদের নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। দফায় দফায় হামলা চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এ সময় বারবার পুলিশকে অনুরোধ করা হলেও তারা রাস্তার পাশে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। অনেক পুলিশকে সেদিন বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর চত্বরের ভিতরে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

লগি-বৈঠার তান্ডবের দায় কার?

শেখ হাসিনা ১৮ সেপ্টেম্বর-২০০৬ প্রকাশ্য জনসভায় লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকায় অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপরই আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের কর্মীরা লগি-বৈঠা ও আগ্নেয়স্ত্র নিয়ে ২৭ অক্টোবর থেকেই সারা দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। ২৮ অক্টোবর তারা ব্যাপকভাবে সংগঠিত হয়ে জামায়াতের সমাবেশে হামলা চালায়। এর দায় তাহলে কার? শেখ হাসিনার এ ধরনের নির্দেশ নতুন নয়। ১৯৯৬-২০০১ কার্যকালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি চট্টগ্রামে ১টি লাশের পরিবর্তে ১০টি লাশ ফেলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের মুক্তাঙ্গনের সমাবেশ থেকে বারবার ঘোষণা দেয়া হচ্ছিল ‘জামায়াত-শিবিরের ওপর হামলা কর’ ওদেরকে খতম কর! ১৪ দলীয় জোট ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল, তোফায়েল আহমদ, আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন বার বার উত্তেজনাকর বক্তব্য দিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনীকে উৎসাহিত করছিল।

অফিসগামী কর্মকর্তাকে দিগম্বর \ রেহাই পায়নি দাড়ি-টুপি পরিহিত বৃদ্ধও

১৯৯৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ৭২ ঘণ্টা হরতাল চলাকালে অফিসগামী দু’ব্যক্তিকে রাস্তায় প্রকাশ্যে দিগম্বর করে ছাত্রলীগ। ২০ সেপ্টেম্বর রাজপথে লাঞ্ছিত, বিবস্ত্র শাহজাহান ও অনিল কুমার দেবনাথ ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দী দেয়। সেনাকল্যাণ ভবনে ইন্টারগে­vবাল ট্রেডিং কর্পোরেশনের সহকারী হিসাবরক্ষক শাহজাহানকে দোয়েল চত্বর এলাকায় দিগম্বর করা হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের টাইপিস্ট অনিল কুমার দেবনাথকে জগন্নাথ হলের পিছনে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় ঢাবির গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ আলমকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে। আলম ১৬৪-এ দেয়া জবানবন্দিতে ঘটনার কথা স্বীকার করেন।

শাহজাহান ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি সকাল ৮টার দিকে দোয়েল চত্বর এলাকা দিয়ে অফিসে যাওয়ার পথে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা পথ আগলে দিগম্বর করে। তিনি তাদের হাতে-পায়ে ধরে অনেক অনুনয় করেন। জোর করে কাপড় খুলে ফেললে তিনি প্রায় দেড় মিনিট দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে তার কাপড় ফেরত দেয়া হয়। জাতীয় দৈনিকগুলোতে এ সংবাদ প্রকাশিত হয়। ছাত্রলীগের হাত থেকে দাড়ি-টুপি পরিহিত ব্যক্তিরাও রেহাই পায়নি।

ক্লিনিকে হামলা : দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের ১১ নবেম্বর হরতাল চলাকালে তৎকালীন সংসদ উপনেতা অধ্যাপক এ কিউ এম বদরচদ্দোজা চৌধুরীর মগবাজারস্থ তার মালিকানাধীন ক্লিনিক কেসি মেমোরিয়াল ক্লিনিকে বোমা হামলা হয়। ৬-৭টি বোমা নিক্ষেপের পর ১ জন আহত হয়।

বোমায় ৩ শিশুর প্রাণ গেলো : ১১ নবেম্বর বোমা বানাতে গিয়ে ছাত্রলীগের ১ কর্মী নিহত ও আহত ৪ জন। ইস্কাটনের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিপন ছাত্রলীগ কর্মী ও মিরপুর বাংলা কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র। এদিকে রাস্তার পাশে খেলার সময় বোমা বিস্ফোরণে ৩ শিশু মারা যায়। তারা হলো তানিয়া (৭), পিতা আলমগীর, গোলাপবাগ, তানিয়া (৬), পিতা আবদুল মজিদ, গোলাপবাগ ও আহত আইনুল (৭) রাত ৯টায় হাসপাতালে মারা যায়। দৈনিক বাংলা পত্রিকায় এ সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সাহারা খাতুনের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা

১৯৯৫ সালের ১৪ নবেম্বর হরতাল চলাকালে রাজধানীর ফার্মগেট থেকে আওয়ামী লীগ নেত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুনের (ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী) নেতৃত্বে মিছিল বের হয়। মিছিলকারীরা পুলিশের প্রতি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। দৈনিক দেশজনতায় এ সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এদিন সকাল পৌনে ১১টার দিকে মগবাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের একটি মিছিল থেকে পুলিশের ওপর বোমা ও ইট ছুঁড়ে মারা হয়। এ সময় ২০/২৫টি বোমা নিক্ষেপ করে। ৫৫নং ওয়ার্ড কমিশনার আওয়ামী লীগ নেত্রী আসমা জেরিনের নেতৃত্বে এ জঙ্গি মিছিল হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৫/২০টি হাত বোমার খোসা উদ্ধার করে। এ সময় রমনা থানার সাব-ইন্সপেক্টর হারচন আহত হয়।

১২ নবেম্বর হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির হামলায় ১০ পুলিশসহ শতাধিক আহত হয়েছে। এর মধ্যে হাবিলদার সাদেক আলী, কনস্টেবল জাহাঙ্গীরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মিশনপাড়ায় বিএপির হরতালবিরোধী সমাবেশ চলাকালে ছাত্রলীগ ও জাতীয় পার্টির সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। তাদের গুলীতে অনেক আহত হয় বলে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায়।

১৫ আগস্ট পুলিশের ওপর হামলা : ১৯৯৩ সালের ১৫ আগস্ট মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে মতিঝিলে সমাবেশ করাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর মিছিল করে হামলা চালায় যুবলীগ। এতে পুলিশের ডিসি সাউথসহ ১৭ জন পুলিশ আহত হয়। দৈনিক ইত্তেফাক লিখে, ‘‘গতকাল রবিবার বিকালে আওয়ামী যুবলীগের সহিত পুলিশের সংঘর্ষে দু’শতাধিক লোক আহত হইয়াছে। পুলিশ জানাইয়াছে, ডিসি সাউথসহ ১৭ জন পুলিশ আহত হন।’’

এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ভাংচুর : ১৯৯০ সালের ১৬ অক্টোবর বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, ব্যাপক ভাংচুর, বোমাবাজি, জনতা-পুলিশ সংঘর্ষ, ৪টি রেল ইঞ্জিনসহ শতাধিক গাড়ি ভাংচুর, খুলনা ও সিলেটে সরকারি অফিস ভাংচুর, ময়মনসিংহে রেল স্টেশনে অগ্নিসংযোগ, সড়ক ও রেলপথে ব্যারিকেড, দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ৩৫টি ট্রেন গতিরোধের মধ্যদিয়ে মঙ্গলবার সারা দেশে অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়েছে। রাজশাহীতে ২৬ জন পুলিশ আহত হয়। ৮ দল, ৭ দল, ৫ দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ হরতালের আহবান করে। দৈনিক বাংলার বাণীতে প্রকাশিত সংবাদ থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।

দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ৯ জানুয়ারি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ৩১টি ট্রাক ভাংচুর, বোমা সংঘর্ষে ৬০ জন আহত হয়। তারপর দিন দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের হরতালের সময় সাড়ে ১১টায় পাথরঘাটায় হাত বোমায় উত্তম বিশ্বাস নামে এক কিশোর আহত হয়।

অসহযোগের প্রথম দিনেই হাঙ্গামা : ১৯৯৬ সালের ৯ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিনে বরিশালে বিএনপির সাথে তিন দলের কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। এ সময় দু’শতাধিক হাত বোমা, শতাধিক রাউন্ড গুলী ও প্রচুর ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। দৈনিক ইত্তেফাক লিখে, ‘‘পৌরসভার চেয়ারম্যান ও শহর বিএনপির সভাপতি আহসান হাবিব কামালের ওপর শুক্রবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের মিছিল হইতে হামলা ও গাড়ি ভস্মীভূত করার ঘটনার জের হিসাবে গতকালের সহিংস ঘটনা ঘটে।’’

থানায় হামলা ও ভাংচুর : ১১ মার্চ ৩য় দিনে মিরপুরে সংঘর্ষে ২জন সুবেদার এবং ১৭ জন পুলিশসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। এদিন পুরো মিরপুর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় লেখা হয়, মিরপুর ১০ নং গোল চক্কর এলাকায় যাত্রী ছাউনির নিচে থাকা পুলিশের ওপর প্রথম হামলা হয়। এ সময় পুলিশের একজন এসআই ও একজন কনস্টেবল গুরচতর আহত হয়। এ সময় ২ জন এসআই ও এক কনস্টেবলকে একটি বাসায় আটকে রাখা হয়। এ সময় মিরপুর থানায় হামলা হয়। ওসি এসি লাঞ্ছিত হয়। দৈনিক বাংলা এর সংবাদ শিরোনাম ছিল, ‘‘মিরপুর থানায় আবার হামলা \ গুলী বোমা ১৭ পুলিশ আহত’’।

১০ মার্চ রংপুরের তারাগঞ্জে বিডিআর টহল বন্ধ হয়ে যায়। তারাগঞ্জের টিএনও থানায় আশ্রয় নেয়। থানা ঘিরে রেখে কাউকে বের হতে দেয়া হয় না বলে দৈনিক সংবাদে এ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।

পুলিশের ওপর হামলা মন্ত্রী লাঞ্ছিত : ১৩ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ৫ম দিনে রাজধানীতে ৩ জন নিহত ও আহত শতাধিক। এদিন পিকেটারদের হাতে শ্রম মন্ত্রী লেঃ জেনারেল (অবঃ) মীর শওকত আলী লাঞ্ছিত হন। দৈনিক সংবাদ এ রিপোর্ট প্রকাশ করে। ১২ মার্চ ৪র্থ দিনে সংঘর্ষ, বোমাবাজি। ইত্তেফাকের রিপোর্টের শুরচটা ছিল, ‘‘বিরোধী দল আহূত লাগাতার অসহযোগ আন্দোলনের চতুর্থ দিনেও গতকাল (মঙ্গলবার) নগরীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সকল হাঙ্গামায় এবং বাসে বোমা নিক্ষেপে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়।’’ রিপোর্টে বলা হয়, এ দিন সড়ক যোগাযোগ ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ফার্মগেটে বিআরটিসি বাসে আগুন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে একটি যাত্রীবাহী বাসে বোমায় চালকসহ ১৫ জন আহত। মহাখালীতে বিডিআর বহনকারী বাসে ভাংচুর হয়।

বাসে পেট্রোল বোমা ভস্মীভূত মানুষ : ১৭ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ৯ম দিনে রাজধানীতে বাসে পেট্রোল বোমায় ২ জন নিহত, চট্টগ্রাম ও সিরাজগঞ্জে আরো ২ জন নিহত হয়েছে। রাজধানীর কলেজগেট এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে বোমায় এই ২ জন মারা যায়। এদিন মহাখালী, কলেজগেট, প্রেস ক্লাব, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ, ধাওয়া ও গুলীবর্ষণের ঘটনা ঘটে। বোমার আঘাত ও গুলীতে এদিন ৬২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়।

৯টায় কলেজ গেট এলাকায় মিনিবাসে পরপর বোমা নিক্ষেপ করা হলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে হেলপার তোফাজ্জল (৪০) চাকায় পিষ্ট ও একজন যাত্রী বোমার আঘাতে মারা যায়। প্রেস ক্লাবের সামনে ছাত্রলীগ মিছিল করে, গাড়ি ভাংচুর করে বোমা নিক্ষেপ করে। দৈনিক ইত্তেফাকে এ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। দৈনিক সংবাদ লিখে, এদিন চাঁদপুরে ডিসি অফিস ও ময়মনসিংহের জিআরপি থানায় বোমা হামলা হয়। দৈনিক সংগ্রাম লিখে, এদিন মহাখালীতে একটি ও সায়দাবাদে বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। চট্টগ্রামে বোমা হামলায় ১ জন নিহত হয়।

প্রকাশ্য গুলী বোমা আগুন : ১৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জে বিএনপির জনসভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে সহস্রাধিক বোমা ও শত শত গুলী বর্ষিত হয়। এ সময় পুরো শহর আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ মিছিল করে বিএনপির সমাবেশ স্থলে হামলা করে। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে গুলী করে, সাংবাদিকদের ছবি না তোলার হুমকি দেয়। সাংবাদিকদের সামনেই শাহেদের বুকে গুলী লাগে, রানা নামে এক কিশোর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বলে দৈনিক ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এদিন পান্থপথে একটি এম্বুলেন্স, বাংলামোটরে ১টি প্রাইভেট কার ও ২টি বেবিটেক্সি পোড়ানো হয়। মতিঝিলে একটি পেট্রোল পাম্পে আগুন লাগানো হয়।

ট্রেন চলাচলে অচলাবস্থা; সেনা বহরে হামলা : ২১ মার্চ দেশের ট্রেন চলাচলে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। সারা দেশে চলাচলকারী ৩ শতাধিক ট্রেনের মধ্যে মাত্র ১১টি ছাড়া হয়, তার মধ্যে সবগুলো সময় মতো পৌঁছতে পারেনি। সীতাকুন্ড স্টেশনে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকা অবস্থায়ই রাত ১০টার দিকে বারৈয়ারডালা স্টেশনের কন্ট্রোল প্যানেল, টেলিফোন সেট ও স্টেশনের দরজা জানালা ভাংচুর হয়। বিভিন্ন স্থানে ট্রেনের লাইন উপড়ে ফেলা হয়। নরসিংদী স্টেশনে ঢোকার মুখে ঢাকা হতে ভৈরব অভিমুখে ছেড়ে যাওয়া ঈশাখা এক্সপ্রেসে মিছিল করে প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে চালক ও সহকারী চালক আহত হয়। পরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। স্টেশনে থানা সেনা সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন। দৈনিক ইত্তেফাকে এ সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এদিন কিশোরগঞ্জে ও মাদারীপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে ভাংচুর হয়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে মিরপুরে সনি সিনেমা হলের সামনে পুলিশের জিপে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর ১০ নং গোল চক্কর এলাকায় সেনাবাহিনীর বহর লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এদিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভাংচুর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দৈনিক সংবাদে এ খবর প্রকাশিত হয়। এদিন রাজধানীতে ৪ ও নারায়ণগঞ্জে ৩ জন নিহত হয় বলে দৈনিক সংগ্রামে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।

অব্যাহত সহিংসতার প্রেক্ষিতে ২০ মার্চ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। এ দিনও ঢাকায় নিহত হয় ১ জন। মিরপুরে ৫/৬ ঘণ্টা পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয় বলে দৈনিক সংগ্রামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

বাসে পেট্রোল বোমা, রেল সেতুতে আগুন : ১৯৯৬ সালের ২৩ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ১৫তম দিনে ঘোড়াশালের রেল ব্রিজে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়, নরসিংদী খানাবাড়ী এলাকায় দেড়শ ফুট রেললাইন উপড়ে ফেলা হয়। এছাড়া ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও পয়ারপুর-বিদ্যাখালীর মাঝেও রেললাইন উপড়ে ফেলা হয়। ঝালকাঠিতে ডিসি অফিসসহ কয়েকটি সরকারি অফিস ভাংচুর করা হয়। এ সময় একজন পুলিশসহ ৭ জন আহত হয়। রাজধানীতে বেশ কয়েকটি বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে চালক, হেলপারসহ যাত্রীরা আহত হয়। এ সময় পুলিশ বিডিআরের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী মোতায়েন ছিল। বরিশালেরও পৌরসভা অফিস, থানা ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে হামলা ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। দৈনিক সংবাদে এ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।

১৪তম দিনে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল লাইনের সুতিয়াখালী-ফাতেমানগর স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশের ফিশপে­ট ভেঙ্গে ফেলা হয়, ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ রেল লাইনের মাঝামাঝি অংশে এবং গাজীপুরের কাছে ধীরাশ্রমে রেল লাইন উপড়ে ফেলা হয়েছে। ভোর ৬টায় গোপীবাগে একটি বেবী টেক্সিকে ধাওয়া করলে একজন নিহত হয়। ৮টার দিকে আরামবাগে একটি বেকারী খোলা হলে জাতীয় পার্টির কর্মীরা বাধা দেয়, তারপরও খোলা রাখলে তারা তা তছনছ করে দেয়। মিরপুর বিআরটিসির দোতলা বাস সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ছাড়া হলে বোমাবাজি করে বন্ধ করে দেয়া হয়। দৈনিক সংবাদে এ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এ দিন ২০ মার্চ সায়দাবাদে বোমাবাজির সময় বাস চাপায় আহত হাবিবুর রহমান (৪০) এ দিন মারা যায়। তিনি এজিবির কর্মকর্তা।

হরতালে বোমাবাজি : ১৯৯৬ সালের ৬ মার্চ হরতালের দিন ব্যাপক হাঙ্গামা বোমাবাজি আহত হয় অর্ধ শতাধিক। দৈনিক বাংলার সামনে বিএনপির মিছিলে গুলীবর্ষণ, বোমায় কয়েকজন আহত হয়। ৭৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী ময়মুন হককে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডেমরার এমপি সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে ৭০টি ট্রাকের মিছিল যাত্রাবাড়ী অতিক্রম করার সময় ব্যাপক বোমা বর্ষণ হয়। বহর থেমে যায়। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে বলে দৈনিক ইত্তেফাকে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।

অস্ত্রের মহড়া, বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংবাদপত্রের অফিসে হামলা : ১৯৯৯ সালের ১১ ফেব্রচয়ারি ৬০ ঘণ্টা হরতালে ব্যাপক সংঘর্ষ, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মহড়া, বিরোধী দলের অফিসে হামলা, ৬ জন নিহত হয়। জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানসহ রাজধানীতে ৩০ জন গুলীবিদ্ধ হন। এদিন মগবাজারস্থ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ও দৈনিক সংগ্রাম অফিসে হামলা চালায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ঢাকায় ছাত্রদল কর্মী নিহত সজল চৌধুরীর পিতা এডভোকেট শহিদুর রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের বিরচদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি বলেন, আমার ছেলেকে শেখ হাসিনার পেটোয়া বাহিনী হত্যা করেছে। সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় বিএনপির মিছিলে হাজী মকবুলের নেতৃত্বে শান্তি মিছিল থেকে গুলীতে সে মারা যায়।

এছাড়া হরতাল চলাকালে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিএনপির মিছিলে হরতাল বিরোধী মিছিল থেকে গুলীবর্ষণ করলে ছাত্রদল কর্মী ইউনুস (২০) গুলীবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এ দিন পল্টন মোড়ে জামায়াতের মিছিলে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। বোমা মারার পরপরই পুলিশ গুলীবর্ষণ করে। এতে হামিদুর রহমান আজাদসহ কয়েকজন বুলেটবিদ্ধ হন। এছাড়া ১৯৯৮ সালের ১৬ জুলাই হরতাল চলাকালে জামায়াতের তৎকালীন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আবদুল কাদের মোল­vর নেতৃত্বে মগবাজারস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মিছিল বের হলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।

বন্দুকের দোকান লুট, গুলীবর্ষণ : ২৭ জানুয়ারি যশোরে হরতাল চলাকালে আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে বোমা হামলা হয়। বন্দুকের দোকান লুট, জাপা কর্মী রাজকুমার নিহত হয়। পুলিশ তার লাশ মাটি চাপা দেয়। দৈনিক জনতা এ রিপোর্ট প্রকাশ করে। ১৮ ঘণ্টা হরতাল চলাকালে সারা দেশে ৩ জন নিহত ও আহত হয়েছে সহস্রাধিক। এছাড়া হরতাল চলাকালে মগবাজারে চাষী কল্যাণ সমিতির অফিসে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা। তারা এ সময় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জীপ (ঢাকা-ভ-৪৮৯)সহ ৮টি গাড়ি ভাংচুর করে। আশপাশের দোকান খোলার চাপ দেয়। না হলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

বিরোধী দলের হরতালে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস : ১৯৯৮ সালের ৯ নবেম্বর বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীসহ ৭ বিরোধী দলের ডাকা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের শুরচতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ব্যাপক সন্ত্রাস, ঢাকায় আওয়ামী লীগের বোমা ও গুলীতে ৪ জন নিহত। পুরান ঢাকার নাজিরা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ১১টার দিকে কোতোয়ালি থানার বিএনপির মিছিল মেয়র হানিফের নাজিরা বাজার বাসা অতিক্রম করা কালে জয়বাংলা †¯­vগান দিয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা হামলা ও গুলী করে। এখানে ২ জন নিহত হয়। ধোলাইপাড়ে নিহত হয় দুলাল সর্দার, নাজিরা বাজারে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলীতে নিহত হয় সালাম ও উমর ফারচক, কুড়িলে শফিক নিহত হয়। দু’দিনের হরতালে ৬ জন মারা যায়। ১৮ অক্টোবর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ৭ দলের ডাকে হরতালে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের গুলীতে ২ জন মারা যায়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা ও গুলীবর্ষণ করে। এ সময় সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াসহ শতাধিক নেতা-কর্মী গুরচতর আহত হয়।

ছাত্রলীগের জঙ্গি মিছিল : ২০০২ সালের ১৬ জুন হরতালে ছাত্রলীগ জঙ্গি মিছিল বের করে। পরদিন দৈনিক জনকণ্ঠে ছাপা হয়, সাড়ে ১০টার দিকে জিরো পয়েন্টের দিক থেকে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মারচফা আক্তার পপির নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি জঙ্গিরূপ ধারণ করে দলের অফিসের দিকে এগুলো প্রথমে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় নেতাদের সঙ্গে পুলিশের কথা কাটাকাটি হয়।’

বোমা মেরে মানুষ ঝলসে দেয়া : ২০০২ সালের ৬ এপ্রিল হরতালের সময় বোমায় ঝলসে যায় রাশেদ নামে এক ব্যক্তির শরীর। এদিন সকাল ৯টায় চকবাজার শাহী মসজিদের সামনে রিকশাযাত্রী রাশেদ (১৩) বোমায় ছিটকে পড়ে। এ সময় রিকশা চালক নজরচল ইসলাম (২৬) ও আহত হয়। ঢাকা মেডিকেলের ৩২ নং ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা হয়। দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, তার আগের রাতে ডিবি পুলিশ গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজার এলাকা ও হোটেল রমনায় অভিযান চালিয়ে ৫টি টাইম বোমা ১৪টি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করে। তার আগে বিবি এভিনিউতে আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে টহল পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গাড়িতে আগুন; চালক অগ্নিদগ্ধ : ২০০৫ সালের ৩০ জানুয়ারি হরতালের দ্বিতীয় দিনে ব্যাপক সহিংসতা চালায় আওয়ামী লীগ। ঢাকায় ২০টি গাড়ি ভাংচুর ও ৪টিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ধোলাইপারে হরতাল সমর্থকরা সিএনজি চালিত থ্রি হুইলারে (ঢাকা মেট্রো থ-১৬৪১) আগুন ধরিয়ে দিলে চালক সৌরভ অগ্নিদগ্ধ হয়। এ ছাড়া ২০০৪ সালের ২২ আগস্ট হরতাল চলাকালে খুলনায় কেসিসির ১৬টি গাড়িসহ ২৫টি গাড়ি, ৪টি ব্যাংক ভাংচুর করা হয়। মোড়ে মোড়ে সড়ক অবরোধ করে গাড়িগুলো ভাংচুর করা হয়।

ট্রেনে আগুন; স্টেশনে হামলা : ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট হরতাল চলাকালে ভৈরবে আন্তঃনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেসে অগ্নিসংযোগ, ১২টি বগি ভস্মীভূত, রেলস্টেশন কন্ট্রোল রচম ভাংচুর হয়। সকাল ১১-৩০ মিনিটে ভৈরব রেল সেতুর অদূরে আওয়ামী লীগ ব্যারিকেড সৃষ্টি করে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন গতিরোধ করে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হুমায়ুন কবীর ও ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান আহত হয়। পুলিশ ও বিডিআর মোতায়েন করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। এর ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটিরও বেশি বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানায়।

দোতলা বাসে আগুন; ৯ জন অগ্নিদগ্ধ : ২০০৪ সালের ৪ জুন হরতালের আগের রাতে শেরাটন হোটেলের সামনে বিআরটিসি দোতলা বাসে আগুনে ৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়। ১১ বছর বয়সী শিশুও নৃশংসতা থেকে রক্ষা পায়নি। আর ৭ দিন আগে টঙ্গীতে তৎকালীন বিরোধদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সরকার যদি সাত দিনের মধ্যে আহসান উল­vহ মাস্টারের হত্যাকারীদের বিচার করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সারাদেশে আগুন জ্বলবে। পরদিন দৈনিক ইত্তেফাকের শিরোনাম ছিল ‘নয় বাসযাত্রী জীবন্ত দগ্ধ’। দৈনিক সংগ্রাম লিখে, ‘আওয়ামী লীগের পিকেটারদের বোমায় ৯ বাস যাত্রী নিহত-আহত অর্ধশতাধিক’। দৈনিক আজকের কাগজের রিপোর্টে বলা হয়, ২০০৪ সালের ৫ মার্চ হরতালের আগের রাতে গুলিস্তানে বিআরটিসির দোতলা বাসে আগুন দেয়া হয়।

ঢাকা অবরোধ; দুই ওসিসহ পুলিশ আহত : ২০০৭ সালের ৯ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচি ছিল। তার আগে লাগাতার ৩ দিন ঢাকা অবরোধ চলে। এ দিন দৈনিক বাংলার মোড়, ইত্তেফাক মোড়, জয়কালী মন্দির, জিরো পয়েন্ট, গুলিস্তান মোড় পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় অবরোধকারীরা হাতবোমা, ককটেল ও গুলী চালায়। এ সময় পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়।

৭ জানুয়ারি অবরোধ চলাকালে আদাবরে দু’ওসিসহ ১৫ পুলিশ আহত হয়। টঙ্গীতে পেট্রোল ঢেলে টেক্সিক্যাবে আগুন ধরিয়ে দেয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা। আদাবরে দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। ৫ জন পুলিশ, ৩ জন ফটো সাংবাদিকসহ ৫০ জন আহত হয়। এছাড়া চকবাজার, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ৩৪ নং ওয়ার্ড কমিশনার আবুল হাশেম হাসুর নেতৃত্বে মিছিল বের করলে সংঘর্ষ শুরচ হয়। এ দিন মগবাজারে একটি প্রাইভেট কার, ফার্মগেটে ট্যাক্সিক্যাবে অগ্নিসংযোগ করা হয়। রংপুরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ৮ পুলিশসহ ৭০ জন আহত হয়। খুলনায় ট্রেনে অগ্নিসংযোগ। সেনা মোতায়েনের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। ২০০৬ সালের ৩ ডিসেম্বর অবরোধ চলাকালে আওয়ামী লীগ কর্মীদের গুলীতে সিলেটের বিশ্বনাথে ছাত্রদল নেতা ফয়েজ আহম অনু নিহত হয়। আহত হয় অর্ধ শতাধিক।

ট্রেনে আগুন; গাড়িরও রেহাই নাই : ১২ নবেম্বর দিনাজপুরগামী আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেসে টঙ্গীতে আওয়ামী লীগ কর্মীরা অবরোধ করে ব্যাপক ভাংচুর চালায়, ২ বগিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারী আবু হানিফ পিকেটারদের হামলায় নিহত হয়। এ সময় ব্যাপক ভাংচুর করা হয়।

২১ সেপ্টেম্বর তুমুল বৃষ্টিপাতের দিনেও আওয়ামী লীগের ভাংচুর, তান্ডব বন্ধ থাকেনি। এদিন মহিলা কর্মীরা গাড়ি ভাংচুর করে, পেট্রোল ঢেলে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ দিন আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন ও সুবিদ আলী ভূঁইয়ার নেতৃত্বে মহাখালীর আমতলিতে মিছিলের সময় ব্যাপক গাড়ি ভাংচুর করে।

পল­বীতে ইলিয়াস মোল­vর নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। মিরপুরে মাজার রোডে কামাল আহমদ মজুমদারের নেতৃত্বে বিআরটিসির দ্বিতলা বাসসহ অনেকগুলো গাড়ি ভাংচুর করা হয়। তার আগের দিনও ব্যাপক ভাংচুর, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

দু’পুলিশ সদস্য নিহত : ৩০ আগস্ট আওয়ামী লীগের মারমুখী পিকেটারদের ইটের আঘাতে পুলিশ নিহত। পল­বীতে নায়েক নারায়ণচন্দ্র বর্মন নিহত হয়। এ সময় বর্তমানে সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল­vহর নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। ২ জুলাই রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ চলাকালে সোনারগাঁও উপজেলার মোগড়াপাড়ায় ইটের আঘাতে পুলিশের এসআই আবুল বাশার নিহত হয়। এ সময় মিছিলে নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগ নেতা কায়সার হাসনাত। এদিন ঢাকা ও আশপাশে ব্যাপক গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ১৪ দল।

আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে ভাংচুর অগ্নিসংযোগ : ২০ জুন ১৪ দলের নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, ব্যাপক ভাংচুর হয়। রাসেল স্কয়ার থেকে আবদুর রাজ্জাক, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, মোহাম্মদ নাসিম, দিলীপ বড়ুয়া, মায়ার নেতৃত্বে মিছিল করে ২৭ নম্বরের সামনে আসে। এ সময় পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। রাফা প­vজায় ভাংচুর চালায় তারা। বর্তমান সংসদ সদস্য কামাল মজুমদারের নেতৃত্বে আগারগাঁও আবহাওয়া অফিসের সামনে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। ১২টা ৫০ মিনিটে হামলা চালায় তারা। এ সময় পুলিশ পিছু হটে।

১৩ জুন ১৪ দলের হরতালে ব্যাপক ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ চালায়। ভোর ৬টায় মতিয়া চৌধুরী ও মায়ার নেতৃত্বে প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে মিছিল বের করে। জিরো পয়েন্টের কাছে গিয়ে গাড়ি ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। এদিন সকাল ৯টায় মহাখালীতে আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম রহমতুল­vহ ও সাহারা খাতুনের নেতৃত্বে মিছিল বের হয়। এ সময় মিছিল থেকে ৪-৫টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে পুলিশসহ ১০-১২ জন আহত হয়। সাড়ে ১০টায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বাসার সামনে থেকে অপু উকিলের নেতৃত্বে মহিলারা মিছিল করার চেষ্টা করে। তারা এ সময় পুলিশের ওপর ইট ও পাথর ছুঁড়ে মারে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ আহত হয়।

১১ জুন ঢাকা অবরোধের সময় অরাজকতা, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর পুলিশসহ আহত ৩ শতাধিক। এদিন ঢাকার মগবাজার, বাংলামোটর, গাবতলী, মিরপুর মাজার রোড, টঙ্গী, কাচপুর, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, ধানমন্ডি, রাসেল স্কয়ার, পুরান ঢাকার চকবাজারে পুলিশ-বিডিআরের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ দিন অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাংচুর করা হয়। রূপগঞ্জে, কাচপুরে ঢাকা সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে আর্মড পুলিশ ও বিডিআরের ওপর চড়াও হয়। এ সময় ৩০ জন পুলিশসহ ২ শতাধিক মানুষ আহত হয়। এ সময় কাচপুরে মহিউদ্দিন খান আলমগীর, মেজর জেনারেল (অবঃ) শফিউল­vহ, মেজর (অবঃ) সুবিদ আলী ভূঁইয়া অবস্থান করে। যুবলীগ কর্মীরা ইস্কাটন থেকে মিছিল করে মগবাজার মোড়ে গাড়ি ভাংচুর করে। এখানে ৫ জন পুলিশ কনস্টেবলসহ ১০ জন আহত হয়। সাভার বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এখানে ছিলেন তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, আবু সাইয়িদ, তালুকদার খালেক প্রমুখ। এদিন রাফা প­vজার কাছে শাহজাহান খান, হাজী মকবুলের নেতৃত্বে রাসেল স্কয়ারের কাছে, ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। রাবার বুলেট, টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ২০ এপ্রিল ছিল ১৪ দলের হরতাল। এদিন পুলিশের ওপর মহিলাকর্মীদের চড়াও এবং গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। বিবি এভিনিউতে পুলিশের ওপর হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় সেখানে পীর ইয়ামেনী মাকেটের সামনে সমাবেশ করে। সভাপতিত্ব করেন ১৪ দলের ঢাকা মহানগর সমন্বয়ক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, জাসদের হাসানুল হক ইনু, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, মেহের আফরোজ চুমকি, নূরচন্নবী শাওন। সভা শেষে বিবি এভিনিউর কার্যালয়ে প্রবেশের সময় পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়।

মহিলা পুলিশকে গলা টিপে মারার চেষ্টা : হরতালের সময় মহিলা পুলিশকে গলাটিপে মারার ঘটনা সৃষ্টি হয় ২০০৫ সালের ২০ আগস্ট। এ দিন যুবমহিলা লীগের কর্মীরা ধানমন্ডির রাফা প­vজার সামনে পুলিশ সদস্যকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করে। প্রথমে তারা মহিলা পুলিশ সদস্যের হেলমেট ও লাঠি কেড়ে নেয়, তারপর এলোপাথাড়ি লাথি মারে, পরে গলা টিপে ধরে। যুবলীগ নেত্রী সাবিনা আকতার তুহিনের নেতৃত্বে এ হামলা হয়। এ সময় গাড়ি ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে।

সিএনজি চালকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন : ২০০৫ সালের ২১ মে হরতালের দিন খিলগাঁও থানার তিলপাপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সিএনজি চালক আমির হোসেনের (৪০) গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার ৫ দিন পর তিনি মারা যান। অনি ও ঋতুর বাবা, ববিতার স্বামী হারানোর কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি করে তোলে। তার বেবিট্যাক্সি নং- (ঢাকা মেট্টো-থ-১৪-৩৯৪৮)। মারা যাওয়ার আগে সে বলেছিল, জীবনে কোনো দিন আওয়ামী লীগকে ভোট দিমু না। তারা আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে। কী অপরাধ ছিল আমার? গাড়ি চালানো কী আমার অপরাধ? দুটি মেয়ের লেখাপড়া শেষ হয়ে যাবে এখন। আমার ঘটনার ব্যাপারে কী আওয়ামী লীগ নেতারা কোনো জবাব দিতে পারবেন?’ ১৮ ও ২১ মে এইচএসসি ও আলিম, ফাজিল ও কামিল পরীক্ষার দিন হরতাল দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এই হরতালের শেষ দিনেই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারে সিএনজি চালক আমির হোসেনকে।

শেরপুরে পুলিশ হত্যা : ২০০৫ সালের ৬ ফেব্রচয়ারি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার হরতাল চলাকালে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ইট ও লাঠির আঘাতে নালিতাবাড়ী থানার পুলিশ কনস্টেবল আশরাফ সিদ্দিকী মারা যায়। গুরচতর আহত হয় এসআই নূর ইসলাম, এস আই সিজানুর রহমান, কনস্টেবল মজিবুর রহমান। নালিতাবাড়ীর নকলা-নালিতাবাড়ী সড়কের যোগানিয়ার মোড়ে গাড়ি ভাংচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় আওয়ামী লীগ কর্মীরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তারা লাঠি ও ইট দিয়ে আশরাফ সিদ্দিকীকে পিটিয়ে মারে। অন্যদের গুরচতর আহত করে।

ব্যবসায়ীর গায়ে আগুন : একই দিনে (২০০৫ সালের ৬ ফেব্রচয়ারি) পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী হাজী বুলবুলের (৩৫) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। দুপুর ১২টার দিকে বংশালের মুকিম বাজার জামে মসজিদের সামনে হরতালকারীরা রিকশা আটকায়। এ সময় রিকশায় তাকেসহ কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। (daily songram) কাদের হাতে বিশ্বজিৎ খুন হলো? কারা সংসদে চেয়ার দিয়ে স্পিকার পিঠিয়ে মারে? কারা গনতন্ত্রকে হত্যা করে বাকশাল কায়েম করেছে? কারা খুন,গুম আর নিপীড়নের রেকর্ড করলো? তাদের নিষিদ্ধ করা হোক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29803801 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29803801 2013-03-24 18:24:52
৭ উপায় সম্পর্ক অটুট রাখার আবার ভালো বন্ধু কাউকে পেলেও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার অভাবে তিনি হারিয়ে যেতে পারেন জীবন থেকে। বন্ধুত্ব তৈরি হতে সময় লাগে। দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের প্রতি আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসার সমন্বয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয় বন্ধুত্ব। তবে বন্ধুত্ব নষ্ট হতে খুব বেশি দিন লাগে না। সামান্য বিষয় নিয়ে অবিশ্বাস কিংবা আস্থাহীনতার কারণে দীর্ঘদিনের অন্তরঙ্গ বন্ধুও হয়ে যেতে পারে প্রাণের শত্রু। যদিও কেউ কেউ বলতে পারেন- এমনটা হলে বুঝতে হবে, তাদের মাঝে সত্যিকারের বন্ধুত্বই ছিল না। সে বিতর্কে আমরা যাব না।

আজ আমরা বন্ধুত্ব শক্তিশালী করা ও অটুট রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করব। তবে তার আগে জানবো ভালো বন্ধুত্বের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে।

ভালো বন্ধুত্বের বৈশিষ্ট্য কী?
ক. পরষ্পরের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখে
খ. সর্বাবস্থায় পরস্পরকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকে
গ. আনন্দ কিংবা বেদনার বিষয়গুলো পরস্পর ভাগাভাগি করে নেয়
ঘ. পারষ্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে
ঙ. নিজেদের মধ্যে কোনো বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি হলে তা নিরসনে প্রস্তুত থাকে
চ. আজীবন বন্ধুত্ব বজায় রাখে, এমনকি নিজের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের উন্নতি হলেও

সম্পর্ক শক্তিশালী ও অটুট রাখবেন কিভাবে?
বন্ধুত্ব কিংবা সম্পর্ক শক্তিশালী ও অটুট রাখার অনেক পন্থা আছে। যা ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। তবে এখানে আমরা সাধারণ কিছু পরামর্শ দেব। যা আপনার সম্পর্ককে চিরদিন অটুট রাখতে সহায়তা করবে।

ক. আস্থা ও বিশ্বাস
আস্থা ও বিশ্বাস মানুষের মহৎ গুণ। এটি সম্পর্ক শক্তিশালী ও অটুট রাখার ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধু, স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকা সবার ক্ষেত্রেই এ কথা প্রযোজ্য। আপনার সাথে ভালো সম্পর্ক আছে, এমন কাউকে আপনি বিশ্বাস করলে, তিনিও একইভাবে আপনাকে বিশ্বাস করবেন। আর তখন সম্পর্ক শক্তিশালী হয়ে উঠবে। কিন্তু এই বিশ্বাস অবিশ্বাসে রূপ নেবে, যখন এতে সন্দেহ ও স্বার্থপরতা থাকবে। আর তা বেশি দিন চলতে থাকলে, যে কোনো সম্পর্কই ভেঙে যাবে। আর দু’জন হবেন দু’মেরুর বাসিন্দা। নিশ্চয়ই আমরা তা কেউ চাই না।
আপনি হয়তো বলতে পারেন, বন্ধু সব সময় আমার জন্য ভালো কিছু করবে- তা কিভাবে বিশ্বাস করবো? ভালো কথা। আমরা আবারো বলবো ভালো বন্ধুকে বিশ্বাস করুন। কারণ এটা নিশ্চিত যে, ভালো বন্ধু আপনার কখনো ক্ষতি করবে না।

খ. গুরুত্বপূর্ণ দিন মনে রাখুন
আপনার বন্ধুর জন্ম, বিবাহসহ স্মরণীয় দিনগুলো মনে রাখুন। এ দিনে তাকে সম্ভাষণ জানান। উপহারও পাঠাতে পারেন। অনেকে উপহার দেয়ার ক্ষেত্রে দামের বিষয়টি মুখ্য মনে করেন। আসলে ভালো বন্ধু টাকা দিয়ে বিবেচিত হয় না। আন্তরিকতাই মুখ্য। তাই উপহার দেয়ার ক্ষেত্রে আপনার সাধ্যের ব্যাপারটি খেয়াল রাখুন। আপনি সাধারণ একটি কার্ডও পাঠাতে পারেন।

গ. সমস্যার সময় সাহায্য করুন
এ বিষয়ে ব্যাখা দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। শুধু বলবো, বন্ধুকে যে কোনো উপায়ে যতভাবে সম্ভব সাহায্য করতে চেষ্টা করুন।

ঘ. যোগাযোগ রক্ষা করুন
Out of sight out of mind-ইংরেজি এ প্রবাদটি আমরা সবাই জানি। সেজন্য যেখানেই থাকুন না কেন- যোগাযোগ রক্ষা করুন। তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে ফোন বা ই-মেইলে যোগাযোগ করা খুবই সোজা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার তো আছেই। এছাড়া ব্লগে আপনার দিনলিপি লিখেও বন্ধুকে শেয়ার করতে পারেন।

ঙ. আনন্দগুলো ভাগাভাগি করুন
আপনার আনন্দের বিষয়গুলো বন্ধুর সাথে ভাগাভাগি করুন। তার চিন্তা-ভাবনাও শুনুন। বন্ধুর উল্লেখ্যযোগ্য অর্জনে বাহবা দিন ও মজা করুন। রাসুল সা:-এর সাহাবিরা যখন একত্রিত হতেন, তখন পরস্পর অনেক বিষয় শেয়ার করতেন। এমন কি তাদের আলোচনায় স্ত্রীদের সাথে সম্পর্কের বিষয়ও চলে আসত।

চ. সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখুন
অনেক সময় দুই বন্ধুর অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে ভালো বন্ধুত্বও নষ্ট হয়ে যায়। তাই বন্ধুর সাথে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে সচেতন থাকুন। পরষ্পরকে ছাড় দিন।

ছ. টাকা-পয়সার লেনদেন
টাকা পয়সার লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। সম্ভব হলে বন্ধুর কাছ থেকে টাকা ধার না করাই ভালো। তবে খুব প্রয়োজন হলে করতে পারেন। সেক্ষেত্রে যথাসময়ে পরিশোধ করতে চেষ্টা করুন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে বন্ধুদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি ও মন কষাকষির সৃষ্টি হয়। যার ধারাবাহিকতায় বন্ধুত্ব ভেঙে যায়।

পরিশেষে বলবো, সম্পর্ক তথা বন্ধুত্ব অটুট রাখতে চাই পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, দায়িত্বশীলতা ও সম্মানবোধ। যার মাধ্যমে সম্পর্ক হবে আরো বেশি শক্তিশালী ও দৃঢ়তর।
সূত্র-নয়া দিগন্ত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29796434 http://www.somewhereinblog.net/blog/JANAAT09YOUTH/29796434 2013-03-13 16:48:49