আগের পোস্ট ..............
সকল হয়ে গেছে কখন যেন .... সারা রাতের শারীরিক ও মানুষিক ধকলে সবাই যেন একটু ঘুমের দেশে শান্তি খুজতে গিয়েছিলো...।
হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেস হয়ে .. আরও একবার যে যার মত করে চেষ্টা করলো তাহমিনা কে বোঝাতে । কিন্তু তার একই কথা ....
--- আমি এখানে থাকবো না .. আমি বাড়ি যাবো .....।
এই বলে আবার কান্না জুড়ে দিলো ....। এসব দেখে কেউ আর জোরাজুরি করলো না । তারপর সবাই একটু মুখে কিছু দিয়ে তাহমিনার বাড়িতে নিয়ে যওয়ার সমস্ত বন্দোবস্ত করা হলো ..।
মিলন ছেলেটার ভাগ্যও বেশ খারাপই বলা চলে । নতুন বৌ এর পাশে পর্যন্ত কিছু সময়ের জন্য বসতে পারলো না ,,, তার সাথে কথা বলা তো দুরে থাক .।
অবশেষে ...... বিদায়ের ক্ষন এসে গেলো...। তাহমিনার কান্না ভেজা চোখে আর মলিন মুখে হালকা হাসির রেখা ফুটে উঠলো ....
সে যেন মুক্ত বিহঙ্গের মত ডানা মেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ।
গল্পের সেই দৈত্য রূপেই যেন আবির্ভুত হয়েছিলো মিলন নামের ঐ ছেলেটা তার কল্পনার রাজপুরিতে । তারপর তাকে আটকে রাখতে চেয়ে ছিলো তার নিজের আস্তানায় ...। কিন্তু এই গল্পের রাজ কুমার এখনও দেখা দেয়নি তাই রাজকন্যা তাহমিনা যেন নিজেই নিজেকে মুক্ত করে আনলো..।
তাহমিনাকে নিয়ে ওর বাবা মা আর বড় ভাই বিকালের আগেই তাদের নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসলো ..। .. তাহমিনা এক দৌড়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেল ... তারপর ..যে তাকে প্রশ্ন করে তাকেই বলে ....
---- জানো আমার বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলো জোর করে ..। আমিও অনেক কান্না কাটি করে ওখান থেকে চলে এলাম । আমাদের কি বাড়ি নেই আমরা পরের বাড়িতে থাকবো ....।
এমন আরও নানা কথা বলে সবাইকে আশ্চর্য হওয়ার চেয়ে বেশিই আনন্দ দিয়ে হাসিতে মাতিয়ে রাখলো..।
তাহমিনার এমন বাধ ভাঙা আনন্দ দেখে ওর বাবা ওর মা কে বললো ,,,
--- দেখ তোমার পাগলীর কাজ ..। এই মেয়েকে এখনই বিয়ে দিয়ে আমরা তাড়িয়ে দিতে চাচ্ছি ........
এমন কথা শুনে আর তাহমিনার উল্লাস উচ্ছাস দেখে বড় ভাইও যেন নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে মাথা নিচু করে ওখান থেকে চলে আসলো ..।
তারপর সবই হাত মুখ ধুয়ে ভাট খেতে গেল ....। তখন তাহমিনা বললো ..
--- আব্বা আমি আর বিয়ে করবো না .. আমাকে আর বিয়ে দিবা না .। আমি কিন্তু তোমাদের ছেড়ে কোথাও যাবো না ..। ভাত খেতে খেতে বল...।
তখন তাহমিনার মা তাকে বললো ..
---- মনি সবাই কে তো একদিন বিয়ে করতে হয় । এই যেমন তোর আব্বা আমাকে বিয়ে করে এই বাড়িতে নিয়ে এসেছে ...
তখন মায়ের কথা শুনে হাসতে হাসতে তাহমিনা বলে ....
---আচ্ছা .. আমি অনেক বড় হবো লেখাপড়া শিখবো তারপর আমাকে বিয়ে দিবা ..। এখন কিন্তু আর বিয়ে দিবা না ...
তারপর বাবা মা এর কাছ থেকে বিয়ে না দেওয়ার আশ্বাস আদায় করে নিয়ে ভাত খেয়ে তাহমিনা তার ঘরে চলে যায় ..।
অন্য দিকে মিলনদের বাড়িতে চলছে নান রকম কথার গুঞ্জন । পাড়াপড়শীদের কথা শুনে মিলনের মা চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে শুরু করেছে ঝগড়া ...। কিন্তু চেয়ারম্যান সাহেব বলছেন
--- দোষ তো তোমাদের । অতটুকু একটা মেয়েকে দেখে তোমাদের মাথা কি এতই খারাপ হয়ে গিয়েছিলো যে তাকেই বিয়ে করতে হবে ...। দোষ তোমার গুণধর ছেলের ..। কিছু তো করতেই পারে না উল্টো ঝামেলা পাকায় । একটা মেয়ে পর্যন্ত পছন্দ করা শিখলো না ..গাধার বাচ্চা কোথাকার .......
শেষের কথাটুকু ধরেই মিলনের মা বললো ...
--- ঠিকই বলেছো তুমি. !!... তোমার মত একটা গাধার কি আবার ঘোড়ার বাচ্চা হবে ...!!!! শোন এই একমাস দেখবো ....। যদি ঐ মেয়েকে ওরা বুঝিয়ে শুনিয়ে আমাদের এখানে না পাঠাতে পারে তবে আমরা আমাদের ছেলে কে অন্য জায়গা বিয়ে দেব ,, ওদের বলে দিও .....
{চলবে ........}

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

