পবিত্র কুরআনের আলোকে আঁধার রাতের মুসাফির সাহাবা চরিত
০১ লা জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৬
১৩ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:২১
যুক্তিভিত্তিক নীতি বলেঃ
আমরা হাদিসের কথা বাদ দিলেও পবিত্র কুরআন তো সবার কাছে একটি বিশস্তগ্রন্থ যে গ্রন্থে কোন সন্দেহ নাই। যদি কেউ এই মহান গ্রন্থে সন্দেহ করেন তাহলে তার ইমান থাকবে না। পবিত্র কুরআনে কোন কোন সময় কাউকে কাউকে প্রসংশা করেছেন আবার অনেককে কঠোরভাবে তিরস্কার করেছে। তাই পবিত্র কুরআনের স্পষ্ট ভাষ্য বিরোধী সকল হাদীসই জাল হাদীস অগ্রহনযোগ্য। কিন্তু কেমন মুসলমান পবিত্র কুরআনের স্পষ্ট ভাষ্যকে আপনাদের মনগোড়া ভ্রান্ত বিশ্বাসের উপর প্রাধান্য দিচ্ছেন এবং
প্রতিপক্ষকে তিপক্ষকে ইহুদী, মুশরিকদের সারিতে স্থান দিচ্ছেন ?! এভাবে প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে যুক্তির হাত থেকে পালিয়ে গাজী হওয়া মানসিকতা লালন করে কোন লাভ নেই।
সাহাবীগণও আমাদের মত মানুষ তাই তাদের মধ্যে যেমন ভালমানুষ ছিলেন তেমনী নোংড়া ও মুনাফিক মানুষও ছিল। আর এজন্য উচিত ভালো সাহাবাদের প্রসংশা করা মুনাফিকদের থেকে দুরে থাকা। এটা একটি সাধারণ যুক্তি যা অ-মুসলিমও গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ভালো সাহাবাদের প্রশংসা করেছেন এমন একটি নমুনা বাইয়াতে শাজারা সম্পর্কে বলা হয়ঃ " মহান আল্লাহ মুমিনদের উপর সন্তুষ্ট হলেন যখন তারা বৃক্ষতলে তোমার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করলো, তাদের অন্তরে যা ছিল তা তিনি অবগত ছিলেন; তাদেরকে তিনি দান করলেন প্রশান্তিএবং তাদেরকে পুরষ্কার দিলেন আসন্ন বিজয়।" (সূরা ফাতহ্-১৮)
এ আয়াতে প্রমাণিত হয় যেসকল সাহাবী বাইয়াতে শাজারায় উপস্থিন ছিলেন ঐ উপস্থিতি এবং বাইয়াতের জন্য প্রসংশিত হয়েছেন।
একইভাবে যারা পবিত্র কুরআনে বিশ্বাস করেন তাদেরকে লক্ষ্য করে মহান আল্লাহ মুনাফিক সাহাবাদের তিরস্কার করে বলেন :
" মরুবাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের কেউ কেউ মুনাফিক এবং মদিনাবাসীদের মধ্যেও কেউ কেউ, তারা কপটতায় অনঢ়। তুমি তাদেরকে জাননা কিন্তু আমি তাদেরকে চিনি। আমি তাদেরকে দ্বিতীয়বার শাস্তি দিব, অতঃপর তারা প্রত্যাবর্তিত হবে মহাশাস্তির দিকে। " (সূরা তওবা_১০১)
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে মহানবীর আশ-পাশে এবং মদীনায় যে মুনাফিকরা ছিল তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এর পর্ও কি কাঙ্গাল মুরশিদ আপনি পবিত্র কুরআনকে ত্যাগ করবেন আপনার ভ্রান্ত নীতিতে অটল থাকতে ?!
অদ্ভুত সাহাবী ছিলেন মহানবীর (স.)-এর যারা জুম্মার দিন মসজিদে নাবাবীতে খুতবা রত অবস্থায় মানবীকে ছেড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে যায় কেনা-কাটা ও ক্রীড়া-কৌতুকের জন্য। আমার তো মনে হয় না আমাদের সমাজের সাধারণ মুসলমানগণ জুম্মার দিনে মসজিদে যেয়ে খুতবা রত অবস্থায় ইমামকে রেখে কেনা-কাটার জন্য বাইলে চলে যাবেন। এপ্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেছেনঃ
যখন তারা ব্যবসা কিংবা ক্রীড়া কোতুক দেখলো তখন তারা তোমাকে (খুতবায়) দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে সে দিকে ছুটে গেল। ( সূরা জুমু'আ : ১১)
এই মুনাফিকরা মহানবীকে এই কষ্ট দিয়েছে ক্ষতি করেছে ফলে মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে মুমিনদের অবগত করার জন্য সুরা মুনাফিকুন নাযিল করেছেন। শুধু তাই নয় তাদের প্রতি হুমকীও দেয়া হয়েছে।
আল্লাহ অঙ্গিকার করেছেনঃ , মুনাফেক পুরুষ ও মুনাফেক নারীদের এবং কাফেরদের দোযখের আগুনে ফেলে রাখবে আজীবন। সেটাই তাদের জন্যে যথেষ্ট। আর আল্লাহ্ তাদের প্রতি অভিসমপাত করেছেন এবং তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আযাব। [সুরা তওবাহ্ : ৬৮]
হে নবী, কাফেরদের ও মুনাফেকদের সাথে যুদ্ধ করুন এবং তাদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করুন। তাদের ঠিকানা হল দোযখ এবং তাহল নিকৃষ্ট ঠিকানা । [সুরা তওবাহ্ : ৭৩]
কাঙ্গাল মুরশিদ ভাই পবিত্র কুরআনের এতগুলো আয়াতকে আপনি কি লক্ষ্য করেছেন ? এগুলোকেও কোন যুক্তিতে আপনি প্রত্যাখান করবেন ?!
আপনার পাশে বাংলা কুআন থাকলে মিলিয়ে দেখুন তবে গোড়ামী ছেড়ে দেন। কেননা গোড়ামী মানুষকে সত্য উপলব্ধি থেকে বিরত রাখে।
তাই মহানবীর পাশে বা সাথে যারা ছিলেন তারাই সাহাবী নয়
আর যদি এই নীতিকে মেনে নেয়া হয় যে মহানবীর সাহাচার্যের কারনেই তারা ঐ বিশেষ গৌরবের অধিকারী হবেন। তাহলে নিঃসন্দেহে রাসূলের সংস্পর্শ ও গৌরব রাসুলের (সাঃ) সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার গৌরবের চেয়ে বেশী নয়। কারণ, রাসূলের (সাঃ) স্ত্রীদের সাথে তাঁর সাহাচার্য ও সংস্পর্শ ছিলো সর্বোচ্চ মাত্রার। তথাপি, মহান আল্লাহ তাদের উদ্দেশ্যে বলেনঃ
হে নবী-পতি্নগণ! যে কাজ স্পষ্ট অশ্ল্লীল, তোমাদের মধ্যে কেউ তা করলে, তাকে দ্বিগুণ শাস্তি দেয়া হবে এবং এটা আল্ল্লাহর জন্য সহজ। তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্ল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি অনুগত হবে ও সৎকার্য করবে তাকে আমি পুরস্কার দিব দু'বার এবং তার জন্য আমি প্রস্তুত রেখেছি সম্মানজনক রিয্ক। হে নবী পতি্নগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও, যদি আল্ল্লাহকে ভয় কর। (সূরা আহযাবঃ ৩০-৩২)
মহান আল্লাহ মহানবীর দু'জন স্ত্রী সম্পর্কে বলেছেনঃ
যদি তোমরা উভয়ে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর (তবে ভাল), কারণ, তোমাদের হৃদয় (সত্য থেকে) বিচু্যত হয়ে পড়েছে। কিন্তু তোমরা যদি তাঁর (নবীর) বিরুদ্ধে পরস্পর সম্মিলিত হও, তবে (জেনে রাখ)নিশ্চতভাবে আল্লাহই তাঁর বন্ধু এবং জিবরাইল ও সৎকর্মপরায়ণ মু'মিনগণও, তাছাড়া অন্যান্য ফেরেশতা ও তাঁর সাহায্যকারী। (সূরা তাহরীম-৪)
অতএব নবীপতি্ন হলেও কেই ছাড় পাবে না। উক্ত কুরআনের আয়াত এটাই প্রমান করে। একথার স্পষ্ট যুক্তি স্বরূপ মহান আল্লাহ হযরত লুত ও হযরত নুহ (আ.)-এর স্ত্রীদ্বয়ের কথা স্মরণ করেছেন। আবার ফিরাউনের স্ত্রী আসিয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তাই ব্যক্তি সত্যের মানদন্ড নয় বরং সত্যই ব্যক্তি যাচাইয়ের মানদন্ড।
মহান আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ কাফেরদের জন্য নূহের স্ত্রী ও লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন, তারা ছিল আমার বান্দাদের মধ্যে দুই সৎকর্মপরায়ণ বান্দার অধীন। কিন্তু তারা তাদের প্রতি বিশ্বাস ঘাতকতা করেছিল। ফলে ঐ দু'জন সঙ্গী কোন কিছুতেই মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষীতা থেকে তাদেরকে মুক্ত করেনি। এবং তাদেরকে বলা হলঃ তোমরা উভয়ে দোযখে প্রবেশকারীদের সাথে দোযখে প্রবেশ কর।'
আল্লাহ মুমিনদের জন্য দিচ্ছেন ফিরাউনের পত্নীর দৃষ্টান্ত, প্রার্থনা করেছিলঃ হে আমার প্রতিপালক ! তোমার সনি্নধানে জান্নাতে আমার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করো এবং আমাকে উদ্ধার কর ফিরাউনের ও তার দুষ্কৃতি হতে এবং আমাকে উদ্ধার কর যালিম সমপ্রদায় হতে আরও দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন 'ইমরান তনয়া মারইয়ামের........।(সূরা তাহরীমঃ১০-১২)
আল্লাহর রাসূল (সাঃ) কিয়ামত দিবসে কোন কোন সাহাবার অবস্থা সম্পর্কে বলেনঃ কিয়ামত দিবসে আমার উম্মতের মধ্যে একদল লোককে আনা হবে এবং জাহান্নমের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে! আমি বলবোঃ হে আমার প্রভু! এরা আমার সাহাবী! বলা হবেঃ তুমি জান না যে তোমার পর কী বিদআত তারা করেছে! আমিও তাদেরকে বলবো যে, আল্লাহর সৎকর্মপরায়ণ বান্দা (ঈসা ইবনে মারিয়াম (আঃ)) বলেছিলেনঃ অত:পর যখন আপনি আমাকে লোকান্তরিত করলেন, তখন থেকে আপনিই তাদের সমপর্কে অবগত রয়েছেন। আপনি সর্ববিষয়ে পূর্ণ পরিজ্ঞাত।, (সূরা মায়েদা -১১৭)
অতএব, বলা হবে এ দলটি যখন তুমি তাদের থেকে পৃথক হয়েছিলে অনতিবিলম্বে দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে এবং তাদের অতীতে ফিরে গিয়েছিল। [সহি বোখারী সূরা মায়েদার তাফসীর, অধ্যায়ঃ ইয়া আয়ূ্যহার রাসূল বালি্লগ মা উনযিলা ইলাইক" ও সূরা আম্বিয়ার তাফসীর। সহি তিরমিযী কিয়ামতের বৈশিষ্ট্য অধ্যায়সমূহ হাশর সম্পর্কে রেওয়ায়েত সমূহ, সূরা তা'হা-এর তাফসীর।]
অপর এক রেওয়ায়েতে এসেছেঃ 'আমার সাহাবীদের মধ্যে একদল লোককে হাউজে কাওসারে আমার নিকট আনা হবে এবং আমি তাদেরকে চিনতে পারব। তাদেরকে আমার নিকট থেকে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলবো তারা আমার সাহাবী ! বলবেঃ আপনি জানেন না যে আপনার যাওয়ার পর এরা কী বিদআত প্রতিষ্ঠা করেছিল। [সহি বোখারী, কিতাবে দাওয়াত, বাবু ফিল হাউজ। 'ইবনে মাজা' কিতাবে মানাসিক, হাদীস নং ৫৮৩০, মুসনাদে আহমাদ খঃ১ পৃঃ৪৫৩,খঃ৩ পৃঃ২৮ খঃ৫ পৃঃ৪৮]
সহি মুসলিমে এরূপ বর্ণিত হয়েছেঃ আমার সাহাবীদের মধ্য থেকে একদল লোককে হাউজে কাওসারে আমার নিকট আনা হবে। আমি তাদেরকে আমার নিকট আসতে দেখব। তখন তাদেরকে আমার থেকে দুরে সারিয়ে নেয়া হবে। তখন আমি বলবো এরা আমার সাহাবী! তখন আমাকে বলা হবে! তুমি জাননা যে, তোমার যাওয়ার পর এরা কী বিদআত করেছিলো । [সহি মুসলিম , কিতাবে ফাযায়েল, বাবে এসবাতে হাউজে নাবিয়্যিনা, হাদীস৪০।]
Click This Link
নাফে মোহাম্মদ এনাম বলেছেন:
প্রিয়তে রাখলাম। প্লাস দিলাম। এবং পরে পড়ব।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। এ প্রসেঙ্গ আরো লেখা আসবে অপেক্ষা করুন।
রাঙা মীয়া বলেছেন:
কি উদ্দেশ্যে কোরআনের রেফারেন্স দিলেন ? ব্যাখ্যা করবেন কি
লেখক বলেছেন: যারা মুসলমান তারা এটাকে একটি অকাট্য দলিল হিসাবে গ্রহণ করবেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনারা আবার কারা আর কি জন্য ধন্যবাদ দিলেন ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
সুপ্ত সবুজ বলেছেন:
চিন্তার বিষয়।
লেখক বলেছেন: চিন্তা করা ভালো । চিন্তা করুন।
দ্রগবা বলেছেন:
এত লম্বা না করে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে লিখলে পড়তে সুবিধা হয়। আমি আবার বেশি লম্বা লেখা পড়তে গিয়া ধৈর্য্য অল্পতেই হারায়া ফেলি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য
ইউনুস খান বলেছেন:
ভাল হইছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

















.jpg)
